খোয়াই নদীর ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ পরিদর্শন, দ্রুত মেরামতের নির্দেশ পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রীর - Gono television | বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল।
খোয়াই নদীর ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ পরিদর্শন, দ্রুত মেরামতের নির্দেশ পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রীর

খোয়াই নদীর ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ পরিদর্শন, দ্রুত মেরামতের নির্দেশ পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রীর

মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জের বিভিন্ন নদী ও বাঁধের অবস্থা সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন। পরিদর্শনকালে তিনি চলমান নদীতীর প্রতিরক্ষা প্রকল্পের কাজের অগ্রগতি ও মান যাচাইয়ের পাশাপাশি সাম্প্রতিক ‘ফ্ল্যাশ ফ্লাডে’ ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ দ্রুত মেরামতের নির্দেশ দেন। ‍

 

আজ মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৯টায় প্রতিমন্ত্রী মৌলভীবাজার জেলার কুশিয়ারা নদীর উভয় তীরে চলমান নদীতীর প্রতিরক্ষা প্রকল্পের কাজ পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি প্রকল্পের অগ্রগতি, কাজের মান এবং নদীভাঙন প্রতিরোধে গৃহীত কার্যক্রম সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছ থেকে বিস্তারিত অবহিত হন।

 

প্রতিমন্ত্রী প্রকল্পের কাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যথাযথ মান বজায় রেখে সম্পন্ন করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি নদীভাঙন প্রতিরোধে কার্যকর ও টেকসই ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেন।

 

পরে হবিগঞ্জ সদর উপজেলার লস্করপুর ইউনিয়নের কালিগঞ্জ এলাকায় খোয়াই নদীর ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ পরিদর্শন করেন তিনি। সাম্প্রতিক ফ্ল্যাশ ফ্লাডে ক্ষতিগ্রস্ত খোয়াই নদী রক্ষা বাঁধের বিভিন্ন অংশ সরেজমিনে ঘুরে দেখে প্রতিমন্ত্রী তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত অংশ মেরামতের নির্দেশ দেন।

 

একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের ক্ষয়ক্ষতি রোধে এবং খোয়াই নদী রক্ষা বাঁধের স্থায়ী ও টেকসই সমাধানের লক্ষ্যে দ্রুত সম্ভাব্যতা সমীক্ষা পরিচালনার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেন।

 

এ সময় প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর জরুরি নির্দেশনা মোতাবেক ফ্ল্যাশ ফ্লাডে ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ দেখতে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য এসেছি। নদী ও বাঁধের সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে টেকসই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

পরিদর্শনকালে স্থানীয় হুইপ জি কে গউছ, পানি উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক, হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসক, সংশ্লিষ্ট চিফ ইঞ্জিনিয়ার, সুপারিনটেনডেন্ট ইঞ্জিনিয়ারসহ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

 

প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সমন্বিতভাবে কাজ করে ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধের জরুরি মেরামত দ্রুত সম্পন্ন করার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি ও কার্যকর নদী ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেন


সৌদি আরবে অগ্নিকাণ্ডে বাংলাদেশের নিহত ৯ জনের মরদেহ আসছে ২৭ আগস্ট, এর মধ্যে ৭ জনই নওগাঁর

 

মোঃ সাইদুল ইসলাম হেলাল

বিশেষ প্রতিনিধিঃ

 

সৌদি আরবের রিয়াদে সোফা কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারানো ১৬ জন বাংলাদেশি কর্মীর মধ্যে পরিচয় শনাক্ত হওয়া ৯ জনের মরদেহ আগামী ২৭ আগস্ট (বৃহস্পতিবার) শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছাবে। নিহতদের মধ্যে ৭ জনই নওগাঁর আত্রাই উপজেলার বাসিন্দা।

 

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের ২৫ আগস্টের এক সরকারি চিঠির সূত্রে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

 

চিঠিতে জানানো হয়, গত ৯ আগস্ট রিয়াদের একটি সোফা তৈরি কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে ১৬ জন বাংলাদেশি কর্মী নিহত হন। পরবর্তীতে সৌদি কর্তৃপক্ষ ফিঙ্গারপ্রিন্ট পরীক্ষা করার মাধ্যমে তাদের মধ্যে ৯ জনের পরিচয় নিশ্চিত করে।

 

সকল আনুষ্ঠানিকতা শেষে বাংলাদেশ বিমানের BG-340 ফ্লাইটে আগামী ২৭ আগস্ট বিকেল ৪টায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মরদেহগুলো পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

 

নিহত ৯ জনের পরিচয় শনাক্ত হওয়া ৯ জনের মধ্যে নওগাঁ জেলার আত্রাই উপজেলারই সাতজন, নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলার একজন এবং রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার একজন রয়েছেন।

 

নওগাঁ (আত্রাই উপজেলা): মৃত ফরিদ, মৃত রুবেল প্রামাণিক, মৃত সোহেল রানা, মৃত কলিমউদ্দিন ইসলাম, মৃত মোহন আলী, মৃত সুমন আলী ও মৃত আব্দুল জলিল সরকার।

নাটোর (নলডাঙ্গা উপজেলার): মৃত রবিউল ইসলাম।

রাজশাহী (বাগমারা উপজেলার): মৃত শ্যামল উদ্দিন মাঝি।

মরদেহ গ্রহণ ও স্বজনদের কাছে হস্তান্তরের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারদের নির্দেশনা দিয়েছে মন্ত্রণালয়। তবে অগ্নিকাণ্ডে নিহত বাকি ৭ জনের পরিচয় শনাক্তকরণ ও মরদেহ আনার বিষয়ে ওই চিঠিতে কিছু উল্লেখ করা হয়নি।

সৌদি আরবে অগ্নিকাণ্ডে বাংলাদেশের নিহত ৯ জনের মরদেহ আসছে ২৭ আগস্ট, এর মধ্যে ৭ জনই নওগাঁর

গাইবান্ধায় কাবিলের বাজার মদিনাতুল উলুম হাফিজিয়া মাদ্রাসায় ১২ রবিউল আউয়াল উপলক্ষে প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত

 

শাহ্ পারভেজ সংগ্রাম,গাইবান্ধা প্রতিনিধি

গাইবান্ধা সদর উপজেলার কাবিলের বাজার মদিনাতুল উলুম হাফিজিয়া কওমী মাদ্রাসায় পবিত্র ১২ই রবিউল আউয়াল উপলক্ষে এক উৎসবমুখর পরিবেশে প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

অত্র মাদ্রাসার প্রধান মুহতামিম মুফতি ইদ্রিস বিন আনোয়ারের সভাপতিত্বে ও মুফতি আমিনুল ইসলামের প্রাণবন্ত সঞ্চালনায় আয়োজিত এ প্রতিযোগিতায় মুল বিষয় হিসেবে অন্তর্ভুক্ত ছিল রাসুলুল্লাহ (সা:)-এর মিলাদুন্নবী ও সিরাতুন্নবী (সা:), আখলাকুন্নবী (সা:) সম্পর্কিত হাদিস, নাতে রাসুল (সা:), আসমাউল হুসনা এবং বিষয়ভিত্তিক কিরাতে কুরআন তেলাওয়াত।

 

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, মাদ্রাসার সভাপতি মো: এ.টি.এম সাবুদ মিয়া।প্রতিযোগিতা পরিচালনায় প্রধান বিচারক ছিলেন মাদ্রাসার নায়েবে মুহতামিম মাও: রাকিবুল ইসলাম এবং বিচারকমণ্ডলীর সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন,মাওঃ আশরাফ আলী মুফতী সাইফুল ইসলাম সাইফী হাফেজ মেহেদী হাসান কারী হুসাইন কারি ফরিদুল হাফেজ মাসুদ কারী মাসুদ কারী গোলাম রববানী।

 

অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীরা নাতে রাসূল (সা:)-এর মধুর সুর ও আসমাউল হুসনার পরিবেশনা পুরো মাদ্রাসার আবহকে এক রুহানি ও আধ্যাত্মিক শান্তিতে ভরিয়ে তোলে।মিলাদুন্নবী ও সিরাতুন্নবী (সা:)-এর গুরুত্ব এবং আখলাকুন্নবী (সা:) সম্পর্কিত হাদিস প্রতিযোগিতার মাধ্যমে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা মহানবী (সা:)-এর উত্তম আদর্শ ও জীবনচরিত সম্পর্কে গভীরভাবে জানার সুযোগ পেয়েছে।

 

উল্লেখ্য, বর্তমানে মাদ্রাসার নূরানী একাডেমী বিভাগসহ সকল বিভাগে নতুন শিক্ষাবর্ষে ভর্তি কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

গাইবান্ধায় কাবিলের বাজার মদিনাতুল উলুম হাফিজিয়া মাদ্রাসায় ১২ রবিউল আউয়াল উপলক্ষে প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত

নাটোরের গুরুদাসপুরে নদীতে ডুবে মারা যাওয়া দুই শিশুর সুরতহাল প্রতিবেদন করতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন পুলিশের এক উপপরিদর্শক (এসআই) ও এক কনস্টেবল। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) রাত ৮টার দিকে উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের ওয়াপদা বাজারসংলগ্ন ঈদগাহ মাঠে দুই শিশুর জানাজার সময় এ ঘটনা ঘটে। পরে অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে তাদের উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

 

এদিকে তদন্তে ত্রুটি পাওয়ার অভিযোগে ওই দুই পুলিশ সদস্যকে একই রাতে সাময়িক বরখাস্ত করে নাটোর পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নাটোরের পুলিশ সুপার শরিফুল ইসলাম।

 

বরখাস্ত হওয়া দুই পুলিশ সদস্য হলেন গুরুদাসপুর থানার এসআই আবুল বাসার (৪৫) ও কনস্টেবল রাকিব হোসেন (৩৬)।

 

পুলিশ সুপার শরিফুল ইসলাম বলেন, মৃত দুই শিশুর সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির জন্য এসআই আবুল বাসার ও কনস্টেবল রাকিব ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন। তাদের তদন্তে নানা ধরনের ত্রুটি পাওয়া গেছে। এ কারণে তাদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

 

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার বিকেলে গুরুদাসপুর উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের শ্যামপুর গ্রামে নন্দকুঁজা নদীতে ডুবে দুই শিশু মারা যায়। নিহতরা হলো—চন্দ্রপুর গ্রামের ফজলুর রহমানের ছেলে ফারহান ইসলাম এবং একই গ্রামের বাবুল ইসলামের ছেলে লাম ইসলাম। তারা দুজনই চন্দ্রপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী।

 

স্থানীয়রা জানান, দুপুরে খাওয়ার পর দুই শিশু নদীর তীরের একটি আমবাগানে খেলছিল। একপর্যায়ে তারা নদীর কিনারায় গোসল করতে নামে। দুজনের কেউই সাঁতার জানত না। নদীর স্রোতে তারা তলিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে নাটোর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দুজনকেই মৃত ঘোষণা করেন।

 

সন্ধ্যায় দুই শিশুর মরদেহ ওয়াপদা বাজারসংলগ্ন ঈদগাহ মাঠে নেওয়া হয়। সেখানে জানাজার প্রস্তুতি চলছিল। এ সময় সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির জন্য এসআই আবুল বাসার ও কনস্টেবল রাকিব সেখানে যান।

 

স্থানীয় বিএনপি নেতা সামসুল হকের দাবি, সুরতহাল করার সময় পুলিশ সদস্যরা মরদেহ দুটি থানায় নেওয়ার কথা বলেন। এ সময় কাফনের কাপড় সরিয়ে মরদেহ অনাবৃত করা হয়েছে—এমন অভিযোগ ওঠে। এতে জানাজায় উপস্থিত লোকজন ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন।

 

একপর্যায়ে উত্তেজিত কয়েকজন দুই পুলিশ সদস্যের ওপর চড়াও হন। তাদের কিল-ঘুষি মারার পাশাপাশি ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হয়। আত্মরক্ষার জন্য দুই পুলিশ সদস্য ওয়াপদা বাজারের একটি দোকানে আশ্রয় নেন।

 

সামসুল হক বলেন, পুলিশের আচরণে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়। একপর্যায়ে প্রায় দেড় হাজার মানুষ দোকানটি ঘিরে ফেলেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে দুই পুলিশ সদস্য স্থানীয়দের কাছে ক্ষমা চান। এরপরও তারা হামলার শিকার হন।

 

পরে হামলার শিকার দুই পুলিশ সদস্য থানায় খবর দেন। খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। এ ঘটনায় এলাকায় গ্রেপ্তার আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লেও এখন পর্যন্ত থানায় কোনো অভিযোগ দায়ের হয়নি এবং কাউকে আটকও করা হয়নি বলে পুলিশ জানিয়েছে।

 

গুরুদাসপুর থানার তদন্ত কর্মকর্তা এস এম রিয়াজুল হাসান বলেন, দুই পুলিশ সদস্যের ওপর হামলার খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। পরে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা ও সমঝোতার মাধ্যমে তাদের উদ্ধার করা হয়।

 

এ বিষয়ে গুরুদাসপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল হান্নানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

 

এদিকে একসঙ্গে দুই শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় পরিবার ও এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। জানাজার সময় পুলিশের সঙ্গে স্থানীয়দের এ সংঘর্ষের ঘটনায়ও এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।

জানাজার সময় তদন্ত করতে গিয়ে হামলার শিকার দুই পুলিশ, রাতেই বরখাস্ত

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সোনালী ব্যাংকের ভেতরে ক্যাশ কাউন্টারের সামনে থেকে এক গ্রাহকের ৭ লাখ ৮০ হাজার টাকা চুরি করেছে একটি চোর চক্র।

 

সোমবার (২৫ আগস্ট) দুপুরে সোনালী ব্যাংকের ব্রাহ্মণবাড়িয়া করপোরেট শাখায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ব্যাংকের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে এবং আতঙ্ক ছড়িয়েছে সাধারণ গ্রাহকদের মধ্যে।

 

প্রত্যক্ষদর্শী ও ব্যাংক কর্তৃপক্ষ জানায়, সকাল ১১টার দিকে এক গ্রাহক ৭ লাখ ৮০ হাজার টাকা জমা দিতে ব্যাংকে আসেন। টাকার ব্যাগটি ক্যাশ কাউন্টারের সামনে রেখে পাশের একটি টেবিলে বসে জমা দেওয়ার ভাউচার পূরণ করছিলেন তিনি।

 

এ সময় সুযোগ বুঝে চক্রটির এক সদস্য ক্যাশ কাউন্টারের সামনে থেকে টাকার ব্যাগটি নিয়ে দ্রুত ব্যাংক থেকে বেরিয়ে যায়। পরে বিষয়টি বুঝতে পেরে ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে জানান ওই গ্রাহক।

 

জানা গেছে, চোর চক্রের কয়েকজন সদস্য গ্রাহকের বেশে ব্যাংকের ভেতরে প্রবেশ করেছিল। তাদের মধ্যে একজন সুযোগ বুঝে টাকার ব্যাগটি নিয়ে বেরিয়ে যায়।

 

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। চক্রটির সদস্যদের শনাক্ত করতে ব্যাংকের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

 

সোনালী ব্যাংকের ব্রাহ্মণবাড়িয়া করপোরেট শাখার প্রধান মো. শরীফুল হক বলেন, গ্রাহক টাকার ব্যাগটি ক্যাশ কাউন্টারের সামনে রেখে ভাউচার লিখছিলেন। এ সময় টাকার দিকে তার নজর না থাকায় চোর চক্রটি কৌশলে ব্যাগটি নিয়ে ব্যাংক থেকে বেরিয়ে যায়।

 

তিনি আরও বলেন, সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে চোর চক্রের সদস্যদের শনাক্তের চেষ্টা করছে পুলিশ। গ্রাহকের অসাবধানতার কারণেই এ অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে বলেও জানান তিনি।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সোনালী ব্যাংকের ভেতর থেকে গ্রাহকের ৭ লাখ ৮০ হাজার টাকা চুরি

রাজবাড়ীর পাংশায় ৩০ পিস ইয়াবাসহ কালুখালী উপজেলার মাজবাড়ী ইউনিয়নের দুই সংরক্ষিত নারী ইউপি সদস্যকে গ্রেফতার করেছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ।

 

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) রাত সাড়ে ১০টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন রাজবাড়ী ডিবি পুলিশের ওসি মো. মফিজুল ইসলাম।

 

পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার বিকেলে জেলা গোয়েন্দা শাখার এসআই শিমুল শেখের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল পাংশা মডেল থানা এলাকায় অভিযান চালায়। এ সময় পাংশা পৌরসভার কলেজ রোডে ‘উড ওয়ার্ড ফার্নিচার’ দোকানের সামনে পাকা সড়ক থেকে ৩০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। একইসঙ্গে মাদক ব্যাবসার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে দুই নারীকে গ্রেফতার করা হয়।

 

গ্রেফতার দুজন হলেন— কালুখালী উপজেলার মোহনপুর এলাকার আব্দুল মান্নান মন্ডলের স্ত্রী মোছা. হামিদা খাতুন (৪৭) এবং চর কুলটিয়া এলাকার কদর আলী মন্ডলের স্ত্রী সাজেদা বেগম (৪০)।

 

হামিদা খাতুন মাজবাড়ী ইউনিয়নের ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত নারী সদস্য। অন্যদিকে সাজেদা বেগম একই ইউনিয়নের ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত নারী সদস্য।

 

ডিবি পুলিশের ওসি মো. মফিজুল ইসলাম জানান, গ্রেফতারের পর তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

 

এ বিষয়ে মাজবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কাজী শরিফুল ইসলাম বলেন, তার পরিষদের দুই নারী সদস্য ইয়াবাসহ গ্রেফতার হয়েছেন বলে তিনি শুনেছেন। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।

রাজবাড়ীতে ইয়াবাসহ দুই নারী ইউপি সদস্য গ্রেফতার

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) জিএস সালাহউদ্দিন আম্মারের দায় নেবে না ইসলামী ছাত্রশিবির। মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন মার্কেট চত্বরে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানায় সংগঠনটি।

 

দাপ্তরিক খরচের বাজেট নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে রাবি শিবির সভাপতি মুজাহিদ ফয়সাল বলেন, জিএস দাপ্তরিক কাজের কথা বলে তিন লাখ ৭০ হাজার টাকা তুলে বিভিন্ন দপ্তরের নামে খরচ দেখিয়েছেন, যা আমাদের কাছে অবাস্তব মনে হয়েছে। আমাদের প্রতিনিধিদের হিসাব অনুযায়ী, অন্য সব দফতর মিলে সর্বসাকুল্যে ৫০-৬০ হাজার টাকার বেশি খরচ হওয়ার কথা নয়। এভাবে অন্যান্য দফতরের ওপর দায় চাপিয়ে তিনি ব্যক্তিগত অনিয়ম এড়াতে পারেন না। কোন দফতরে কত টাকা খরচ হয়েছে, এর তথ্য-প্রমাণসহ সুনির্দিষ্ট হিসাব প্রকাশের দাবি জানাচ্ছি। সালাহউদ্দিন আম্মার আমাদের প্যানেলের না হওয়ায় তার কর্মকাণ্ড ও আর্থিক হিসাবের কোনো দায় ছাত্রশিবির নেবে না।

 

সংবাদ সম্মেলনে, রাকসু নির্বাচনের তপশিল ঘোষণাসহ পাঁচ দফা দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। তাদের অন্য দাবিগুলো হচ্ছে, বিশ্ববিদ্যালয়ে শতভাগ আবাসিকতা নিশ্চিত করতে সুস্পষ্ট রোডম্যাপ প্রণয়ন, অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের জন্য আবাসন ভাতা চালু, পূর্ণাঙ্গ ও আধুনিক মেডিকেল সেন্টার প্রতিষ্ঠা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট কার্যকর করতে হবে।

 

রাকসু নির্বাচনকে একাডেমিক ক্যালেন্ডারে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানিয়ে লিখিত বক্তব্যে শিবির সভাপতি বলেন, ইতোমধ্যেই রাকসু নির্বাচনের ১০ মাস অতিবাহিত হচ্ছে। এখনই যদি পরবর্তী রাকসু নির্বাচনের প্রস্তুতি গ্রহণ করা না যায়, তবে যথাসময়ে রাকসু বাস্তবায়নে শিক্ষার্থীদের চাওয়া পূরণ করা সম্ভব হবে না। তাই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নিক। শিক্ষার্থীরা যাতে প্রতিবছর রাকসু নির্বাচন পায়, এটি নিশ্চিত করতে একাডেমিক ক্যালেন্ডারে রাকসু নির্বাচনকে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানাই।

 

১০ মাসে রাকসু’র অর্জনের বিষয়ে তিনি বলেন, আপনারা দেখবেন, ক্যাম্পাসে ট্যাগিং-ফ্রেমিং বা নারী শিক্ষার্থীদের বুলিং কিন্তু আগের মতো হচ্ছে না। আগের মতো ক্যাম্পাসে মাদকের ছড়াছড়ি নেই। ক্যাম্পাসের রাজনৈতিক সহাবস্থান নিশ্চিত হয়েছে এবং আসন বাণিজ্যের কবর রচিত হয়েছে। গেস্টরুম কালচার, গণরুম কালচার নেই। ক্যাম্পাসগুলোতে মেধা এবং সিনিয়রিটির ভিত্তিতে আসন বণ্টন হচ্ছে, যেটি সবচেয়ে বড় একটি পরিবর্তন।

 

এ সময় সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন শিবিরের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসানসহ বিভিন্ন হলের নির্বাচিত রাকসু প্রতিনিধি ও সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

রাকসুর জিএস আম্মারের দায় নেবে না শিবির

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সৌদি আরবে অগ্নিকাণ্ডে বাংলাদেশের নিহত ৯ জনের মরদেহ আসছে ২৭ আগস্ট, এর মধ্যে ৭ জনই নওগাঁর

 

মোঃ সাইদুল ইসলাম হেলাল

বিশেষ প্রতিনিধিঃ

 

সৌদি আরবের রিয়াদে সোফা কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারানো ১৬ জন বাংলাদেশি কর্মীর মধ্যে পরিচয় শনাক্ত হওয়া ৯ জনের মরদেহ আগামী ২৭ আগস্ট (বৃহস্পতিবার) শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছাবে। নিহতদের মধ্যে ৭ জনই নওগাঁর আত্রাই উপজেলার বাসিন্দা।

 

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের ২৫ আগস্টের এক সরকারি চিঠির সূত্রে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

 

চিঠিতে জানানো হয়, গত ৯ আগস্ট রিয়াদের একটি সোফা তৈরি কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে ১৬ জন বাংলাদেশি কর্মী নিহত হন। পরবর্তীতে সৌদি কর্তৃপক্ষ ফিঙ্গারপ্রিন্ট পরীক্ষা করার মাধ্যমে তাদের মধ্যে ৯ জনের পরিচয় নিশ্চিত করে।

 

সকল আনুষ্ঠানিকতা শেষে বাংলাদেশ বিমানের BG-340 ফ্লাইটে আগামী ২৭ আগস্ট বিকেল ৪টায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মরদেহগুলো পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

 

নিহত ৯ জনের পরিচয় শনাক্ত হওয়া ৯ জনের মধ্যে নওগাঁ জেলার আত্রাই উপজেলারই সাতজন, নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলার একজন এবং রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার একজন রয়েছেন।

 

নওগাঁ (আত্রাই উপজেলা): মৃত ফরিদ, মৃত রুবেল প্রামাণিক, মৃত সোহেল রানা, মৃত কলিমউদ্দিন ইসলাম, মৃত মোহন আলী, মৃত সুমন আলী ও মৃত আব্দুল জলিল সরকার।

নাটোর (নলডাঙ্গা উপজেলার): মৃত রবিউল ইসলাম।

রাজশাহী (বাগমারা উপজেলার): মৃত শ্যামল উদ্দিন মাঝি।

মরদেহ গ্রহণ ও স্বজনদের কাছে হস্তান্তরের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারদের নির্দেশনা দিয়েছে মন্ত্রণালয়। তবে অগ্নিকাণ্ডে নিহত বাকি ৭ জনের পরিচয় শনাক্তকরণ ও মরদেহ আনার বিষয়ে ওই চিঠিতে কিছু উল্লেখ করা হয়নি।

সৌদি আরবে অগ্নিকাণ্ডে বাংলাদেশের নিহত ৯ জনের মরদেহ আসছে ২৭ আগস্ট, এর মধ্যে ৭ জনই নওগাঁর

গাইবান্ধায় কাবিলের বাজার মদিনাতুল উলুম হাফিজিয়া মাদ্রাসায় ১২ রবিউল আউয়াল উপলক্ষে প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত

 

শাহ্ পারভেজ সংগ্রাম,গাইবান্ধা প্রতিনিধি

গাইবান্ধা সদর উপজেলার কাবিলের বাজার মদিনাতুল উলুম হাফিজিয়া কওমী মাদ্রাসায় পবিত্র ১২ই রবিউল আউয়াল উপলক্ষে এক উৎসবমুখর পরিবেশে প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

অত্র মাদ্রাসার প্রধান মুহতামিম মুফতি ইদ্রিস বিন আনোয়ারের সভাপতিত্বে ও মুফতি আমিনুল ইসলামের প্রাণবন্ত সঞ্চালনায় আয়োজিত এ প্রতিযোগিতায় মুল বিষয় হিসেবে অন্তর্ভুক্ত ছিল রাসুলুল্লাহ (সা:)-এর মিলাদুন্নবী ও সিরাতুন্নবী (সা:), আখলাকুন্নবী (সা:) সম্পর্কিত হাদিস, নাতে রাসুল (সা:), আসমাউল হুসনা এবং বিষয়ভিত্তিক কিরাতে কুরআন তেলাওয়াত।

 

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, মাদ্রাসার সভাপতি মো: এ.টি.এম সাবুদ মিয়া।প্রতিযোগিতা পরিচালনায় প্রধান বিচারক ছিলেন মাদ্রাসার নায়েবে মুহতামিম মাও: রাকিবুল ইসলাম এবং বিচারকমণ্ডলীর সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন,মাওঃ আশরাফ আলী মুফতী সাইফুল ইসলাম সাইফী হাফেজ মেহেদী হাসান কারী হুসাইন কারি ফরিদুল হাফেজ মাসুদ কারী মাসুদ কারী গোলাম রববানী।

 

অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীরা নাতে রাসূল (সা:)-এর মধুর সুর ও আসমাউল হুসনার পরিবেশনা পুরো মাদ্রাসার আবহকে এক রুহানি ও আধ্যাত্মিক শান্তিতে ভরিয়ে তোলে।মিলাদুন্নবী ও সিরাতুন্নবী (সা:)-এর গুরুত্ব এবং আখলাকুন্নবী (সা:) সম্পর্কিত হাদিস প্রতিযোগিতার মাধ্যমে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা মহানবী (সা:)-এর উত্তম আদর্শ ও জীবনচরিত সম্পর্কে গভীরভাবে জানার সুযোগ পেয়েছে।

 

উল্লেখ্য, বর্তমানে মাদ্রাসার নূরানী একাডেমী বিভাগসহ সকল বিভাগে নতুন শিক্ষাবর্ষে ভর্তি কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

গাইবান্ধায় কাবিলের বাজার মদিনাতুল উলুম হাফিজিয়া মাদ্রাসায় ১২ রবিউল আউয়াল উপলক্ষে প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত

ঠাকুরগাঁওয়ে পিকআপ ও অটোরিকশার ত্রিমুখী সংঘর্ষ নিহত ২ আহত ৪

 

মোঃ আশরাফুল ইসলাম

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি:

 

ঠাকুরগাঁওয়ের ভূল্লীতে পিকআপ, মোটরসাইকেল ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে দুই নারী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও চারজন আহত হয়েছেন। বুধবার (২৬ আগস্ট) সকাল ৮টার দিকে পঞ্চগড়-ঠাকুরগাঁও মহাসড়কের ভূল্লী উপজেলাধীন কচুবাড়ী পোস্ট অফিস পাড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

 

নিহতরা হলেন—ভূল্লী উপজেলার বড় বালিয়া এলাকার শাহজাহান আলীর স্ত্রী আনোয়ারা বেগম (৪৫) এবং অজ্ঞাতনামা এক পুরুষ (প্রায় ৪০) মারা যান।

 

আহতরা হলেন— মোটরসাইকেলচালক লক্ষ্মীরহাট বাজার এলাকার ইদ্রিস আলীর ছেলে মো. হারুনুর রশিদ (৩৮), অটোরিকশাচালক কিসমত কেশুরবাড়ি এলাকার হাফিজুল ইসলামের ছেলে মো. সাহিরুল ইসলাম (২৩), বড় বালিয়া এলাকার মোছা. জরিনা (৪০) এবং ঠিকানা অজ্ঞাত মো. শফিকুল ইসলাম। আহতদের মধ্যে গুরুতর অবস্থায় হারুনুর রশিদ, সাহিরুল ইসলাম ও অন্যদের উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

 

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার সকালে ঢাকা থেকে পঞ্চগড়ের উদ্দেশে ছেড়ে আসা একটি মালবাহী পিকআপ কচুবাড়ী পোস্ট অফিস পাড়া এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি মোটরসাইকেল ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে তিনটি যানবাহনই ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং কয়েকজন যাত্রী ও চালক গুরুতর আহত হন।

 

দুর্ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করেন। পরে তাদের ঠাকুরগাঁও ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আনোয়ারা বেগম ও লাইলী বেগমের মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত হারুনুর রশিদ ও সাহিরুল ইসলামকে পরে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

 

খবর পেয়ে ভূল্লী থানার পুলিশ এবং বোদা হাইওয়ে থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। তারা দুর্ঘটনাকবলিত যানবাহন সরিয়ে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করেন।

 

এ ঘটনায় পিকআপের চালক মো. হাবিবুর রহমান (২৪)কে আটক করেছে পুলিশ। তিনি নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলার বিষকাকুড়ি গ্রামের মো. আব্দুল হামিদের ছেলে। পুলিশ পিকআপসহ তাকে ভূল্লী থানায় নিয়ে গেছে।

 

ভূল্লী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নূরে আলম সিদ্দিকী বলেন, “কচুবাড়ী এলাকায় পিকআপ, মোটরসাইকেল ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার মধ্যে সংঘর্ষে দুই নারী নিহত হয়েছেন। আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। পিকআপের চালককে গাড়িসহ আটক করা হয়েছে। দুর্ঘটনার বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।”

পুলিশ জানিয়েছে, বর্তমানে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ঠাকুরগাঁওয়ে পিকআপ ও অটোরিকশার ত্রিমুখী সংঘর্ষ নিহত ২ আহত ৪

নাটোরের গুরুদাসপুরে নদীতে ডুবে মারা যাওয়া দুই শিশুর সুরতহাল প্রতিবেদন করতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন পুলিশের এক উপপরিদর্শক (এসআই) ও এক কনস্টেবল। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) রাত ৮টার দিকে উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের ওয়াপদা বাজারসংলগ্ন ঈদগাহ মাঠে দুই শিশুর জানাজার সময় এ ঘটনা ঘটে। পরে অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে তাদের উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

 

এদিকে তদন্তে ত্রুটি পাওয়ার অভিযোগে ওই দুই পুলিশ সদস্যকে একই রাতে সাময়িক বরখাস্ত করে নাটোর পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নাটোরের পুলিশ সুপার শরিফুল ইসলাম।

 

বরখাস্ত হওয়া দুই পুলিশ সদস্য হলেন গুরুদাসপুর থানার এসআই আবুল বাসার (৪৫) ও কনস্টেবল রাকিব হোসেন (৩৬)।

 

পুলিশ সুপার শরিফুল ইসলাম বলেন, মৃত দুই শিশুর সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির জন্য এসআই আবুল বাসার ও কনস্টেবল রাকিব ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন। তাদের তদন্তে নানা ধরনের ত্রুটি পাওয়া গেছে। এ কারণে তাদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

 

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার বিকেলে গুরুদাসপুর উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের শ্যামপুর গ্রামে নন্দকুঁজা নদীতে ডুবে দুই শিশু মারা যায়। নিহতরা হলো—চন্দ্রপুর গ্রামের ফজলুর রহমানের ছেলে ফারহান ইসলাম এবং একই গ্রামের বাবুল ইসলামের ছেলে লাম ইসলাম। তারা দুজনই চন্দ্রপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী।

 

স্থানীয়রা জানান, দুপুরে খাওয়ার পর দুই শিশু নদীর তীরের একটি আমবাগানে খেলছিল। একপর্যায়ে তারা নদীর কিনারায় গোসল করতে নামে। দুজনের কেউই সাঁতার জানত না। নদীর স্রোতে তারা তলিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে নাটোর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দুজনকেই মৃত ঘোষণা করেন।

 

সন্ধ্যায় দুই শিশুর মরদেহ ওয়াপদা বাজারসংলগ্ন ঈদগাহ মাঠে নেওয়া হয়। সেখানে জানাজার প্রস্তুতি চলছিল। এ সময় সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির জন্য এসআই আবুল বাসার ও কনস্টেবল রাকিব সেখানে যান।

 

স্থানীয় বিএনপি নেতা সামসুল হকের দাবি, সুরতহাল করার সময় পুলিশ সদস্যরা মরদেহ দুটি থানায় নেওয়ার কথা বলেন। এ সময় কাফনের কাপড় সরিয়ে মরদেহ অনাবৃত করা হয়েছে—এমন অভিযোগ ওঠে। এতে জানাজায় উপস্থিত লোকজন ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন।

 

একপর্যায়ে উত্তেজিত কয়েকজন দুই পুলিশ সদস্যের ওপর চড়াও হন। তাদের কিল-ঘুষি মারার পাশাপাশি ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হয়। আত্মরক্ষার জন্য দুই পুলিশ সদস্য ওয়াপদা বাজারের একটি দোকানে আশ্রয় নেন।

 

সামসুল হক বলেন, পুলিশের আচরণে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়। একপর্যায়ে প্রায় দেড় হাজার মানুষ দোকানটি ঘিরে ফেলেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে দুই পুলিশ সদস্য স্থানীয়দের কাছে ক্ষমা চান। এরপরও তারা হামলার শিকার হন।

 

পরে হামলার শিকার দুই পুলিশ সদস্য থানায় খবর দেন। খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। এ ঘটনায় এলাকায় গ্রেপ্তার আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লেও এখন পর্যন্ত থানায় কোনো অভিযোগ দায়ের হয়নি এবং কাউকে আটকও করা হয়নি বলে পুলিশ জানিয়েছে।

 

গুরুদাসপুর থানার তদন্ত কর্মকর্তা এস এম রিয়াজুল হাসান বলেন, দুই পুলিশ সদস্যের ওপর হামলার খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। পরে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা ও সমঝোতার মাধ্যমে তাদের উদ্ধার করা হয়।

 

এ বিষয়ে গুরুদাসপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল হান্নানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

 

এদিকে একসঙ্গে দুই শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় পরিবার ও এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। জানাজার সময় পুলিশের সঙ্গে স্থানীয়দের এ সংঘর্ষের ঘটনায়ও এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।

জানাজার সময় তদন্ত করতে গিয়ে হামলার শিকার দুই পুলিশ, রাতেই বরখাস্ত

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সোনালী ব্যাংকের ভেতরে ক্যাশ কাউন্টারের সামনে থেকে এক গ্রাহকের ৭ লাখ ৮০ হাজার টাকা চুরি করেছে একটি চোর চক্র।

 

সোমবার (২৫ আগস্ট) দুপুরে সোনালী ব্যাংকের ব্রাহ্মণবাড়িয়া করপোরেট শাখায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ব্যাংকের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে এবং আতঙ্ক ছড়িয়েছে সাধারণ গ্রাহকদের মধ্যে।

 

প্রত্যক্ষদর্শী ও ব্যাংক কর্তৃপক্ষ জানায়, সকাল ১১টার দিকে এক গ্রাহক ৭ লাখ ৮০ হাজার টাকা জমা দিতে ব্যাংকে আসেন। টাকার ব্যাগটি ক্যাশ কাউন্টারের সামনে রেখে পাশের একটি টেবিলে বসে জমা দেওয়ার ভাউচার পূরণ করছিলেন তিনি।

 

এ সময় সুযোগ বুঝে চক্রটির এক সদস্য ক্যাশ কাউন্টারের সামনে থেকে টাকার ব্যাগটি নিয়ে দ্রুত ব্যাংক থেকে বেরিয়ে যায়। পরে বিষয়টি বুঝতে পেরে ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে জানান ওই গ্রাহক।

 

জানা গেছে, চোর চক্রের কয়েকজন সদস্য গ্রাহকের বেশে ব্যাংকের ভেতরে প্রবেশ করেছিল। তাদের মধ্যে একজন সুযোগ বুঝে টাকার ব্যাগটি নিয়ে বেরিয়ে যায়।

 

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। চক্রটির সদস্যদের শনাক্ত করতে ব্যাংকের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

 

সোনালী ব্যাংকের ব্রাহ্মণবাড়িয়া করপোরেট শাখার প্রধান মো. শরীফুল হক বলেন, গ্রাহক টাকার ব্যাগটি ক্যাশ কাউন্টারের সামনে রেখে ভাউচার লিখছিলেন। এ সময় টাকার দিকে তার নজর না থাকায় চোর চক্রটি কৌশলে ব্যাগটি নিয়ে ব্যাংক থেকে বেরিয়ে যায়।

 

তিনি আরও বলেন, সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে চোর চক্রের সদস্যদের শনাক্তের চেষ্টা করছে পুলিশ। গ্রাহকের অসাবধানতার কারণেই এ অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে বলেও জানান তিনি।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সোনালী ব্যাংকের ভেতর থেকে গ্রাহকের ৭ লাখ ৮০ হাজার টাকা চুরি

রাজবাড়ীর পাংশায় ৩০ পিস ইয়াবাসহ কালুখালী উপজেলার মাজবাড়ী ইউনিয়নের দুই সংরক্ষিত নারী ইউপি সদস্যকে গ্রেফতার করেছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ।

 

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) রাত সাড়ে ১০টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন রাজবাড়ী ডিবি পুলিশের ওসি মো. মফিজুল ইসলাম।

 

পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার বিকেলে জেলা গোয়েন্দা শাখার এসআই শিমুল শেখের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল পাংশা মডেল থানা এলাকায় অভিযান চালায়। এ সময় পাংশা পৌরসভার কলেজ রোডে ‘উড ওয়ার্ড ফার্নিচার’ দোকানের সামনে পাকা সড়ক থেকে ৩০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। একইসঙ্গে মাদক ব্যাবসার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে দুই নারীকে গ্রেফতার করা হয়।

 

গ্রেফতার দুজন হলেন— কালুখালী উপজেলার মোহনপুর এলাকার আব্দুল মান্নান মন্ডলের স্ত্রী মোছা. হামিদা খাতুন (৪৭) এবং চর কুলটিয়া এলাকার কদর আলী মন্ডলের স্ত্রী সাজেদা বেগম (৪০)।

 

হামিদা খাতুন মাজবাড়ী ইউনিয়নের ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত নারী সদস্য। অন্যদিকে সাজেদা বেগম একই ইউনিয়নের ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত নারী সদস্য।

 

ডিবি পুলিশের ওসি মো. মফিজুল ইসলাম জানান, গ্রেফতারের পর তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

 

এ বিষয়ে মাজবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কাজী শরিফুল ইসলাম বলেন, তার পরিষদের দুই নারী সদস্য ইয়াবাসহ গ্রেফতার হয়েছেন বলে তিনি শুনেছেন। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।

রাজবাড়ীতে ইয়াবাসহ দুই নারী ইউপি সদস্য গ্রেফতার

ঢাকায় ভুটানের রাজার যাত্রাবিরতি, সৌজন্য সাক্ষাৎ করলেন রাষ্ট্রপতি

ভুটানের রাজা জিগমে খেসার নামগে ওয়াংচুককে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে স্বাগত জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

 

ভুটানের রাজাকে বহনকারী একটি বিশেষ বিমান সিঙ্গাপুর থেকে ভুটান যাওয়ার পথে বুধবার (২৬ আগস্ট) ভোরে ঢাকায় যাত্রাবিরতি করে। বিমানবন্দরে প্রায় এক ঘণ্টার অবস্থানকালে ভিভিআইপি লাউঞ্জে রাষ্ট্রপতি ভুটানের রাজার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। তারা পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে সৌহার্দ্যপূর্ণ আলোচনা করেন।

 

এ সময় রাষ্ট্রপতি ভুটানের রাজা ও রাজপরিবারের সদস্যদের সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশে রাষ্ট্রীয় সফরের জন্য আমন্ত্রণ জানান। জবাবে ভুটানের রাজা বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীকে তাদের সুবিধাজনক সময়ে ভুটান সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।

 

ভুটানের রাজা ওয়াংচুক রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের জন্য মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভ কামনা জানিয়েছেন। রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশের জনগণ ও সরকারের পক্ষ থেকে ভুটানের রাজা ও রাজপরিবারের সদস্যদের প্রতি উষ্ণ শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। জবাবে ভুটানের রাজাও বাংলাদেশের জনগণ ও সরকারের প্রতি শুভকামনা জ্ঞাপন করেন।

 

আলাপকালে রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলাদেশ ও ভুটানের মধ্যে গভীর ও ঐতিহাসিক সম্পর্ক বিদ্যমান। তিনি বলেন, ভুটান সবসময় আমাদের হৃদয়ে বিশেষ স্থান করে আছে। কারণ, ১৯৭১ সালের ৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেওয়া বিশ্বের প্রথম দেশ ভুটান।

 

বাংলাদেশের প্রতি ভুটানের বর্তমান রাজার পিতা, রাজা জিগমে সিংগে ওয়াংচুকের বিশেষ মমত্ববোধ ও শুভ কামনাও রাষ্ট্রপতি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।

 

দুই দেশের অভিন্ন উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির আকাঙ্ক্ষার কথা তুলে ধরে ভুটানের রাজা শিক্ষা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা আরও বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন।

 

ভুটানের রাজা তার দূরদর্শী ‘গেলেফু মাইন্ডফুলনেস সিটি’ প্রকল্প সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন এবং এ উদ্যোগে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ ও সহযোগিতা কামনা করেন। রাষ্ট্রপতি প্রকল্পটির প্রতি গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেন এবং এর প্রশংসা করেন। তিনি বলেন– পারস্পরিক কল্যাণ, সমৃদ্ধি ও টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে এ অঞ্চলের রূপান্তরমূলক উদ্যোগগুলো এগিয়ে নিতে বাংলাদেশ ভুটানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে প্রস্তুত।

 

সৌজন্য সাক্ষাতে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, বাংলাদেশে নিযুক্ত ভুটানের রাষ্ট্রদূত এবং বাংলাদেশ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

 

ভুটানের রাজাকে বহনকারী বিশেষ বিমানটি সকাল সাড়ে ৬টার দিকে ভুটানের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করে।

ঢাকায় ভুটানের রাজার যাত্রাবিরতি, সৌজন্য সাক্ষাৎ করলেন রাষ্ট্রপতি

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) জিএস সালাহউদ্দিন আম্মারের দায় নেবে না ইসলামী ছাত্রশিবির। মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন মার্কেট চত্বরে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানায় সংগঠনটি।

 

দাপ্তরিক খরচের বাজেট নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে রাবি শিবির সভাপতি মুজাহিদ ফয়সাল বলেন, জিএস দাপ্তরিক কাজের কথা বলে তিন লাখ ৭০ হাজার টাকা তুলে বিভিন্ন দপ্তরের নামে খরচ দেখিয়েছেন, যা আমাদের কাছে অবাস্তব মনে হয়েছে। আমাদের প্রতিনিধিদের হিসাব অনুযায়ী, অন্য সব দফতর মিলে সর্বসাকুল্যে ৫০-৬০ হাজার টাকার বেশি খরচ হওয়ার কথা নয়। এভাবে অন্যান্য দফতরের ওপর দায় চাপিয়ে তিনি ব্যক্তিগত অনিয়ম এড়াতে পারেন না। কোন দফতরে কত টাকা খরচ হয়েছে, এর তথ্য-প্রমাণসহ সুনির্দিষ্ট হিসাব প্রকাশের দাবি জানাচ্ছি। সালাহউদ্দিন আম্মার আমাদের প্যানেলের না হওয়ায় তার কর্মকাণ্ড ও আর্থিক হিসাবের কোনো দায় ছাত্রশিবির নেবে না।

 

সংবাদ সম্মেলনে, রাকসু নির্বাচনের তপশিল ঘোষণাসহ পাঁচ দফা দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। তাদের অন্য দাবিগুলো হচ্ছে, বিশ্ববিদ্যালয়ে শতভাগ আবাসিকতা নিশ্চিত করতে সুস্পষ্ট রোডম্যাপ প্রণয়ন, অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের জন্য আবাসন ভাতা চালু, পূর্ণাঙ্গ ও আধুনিক মেডিকেল সেন্টার প্রতিষ্ঠা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট কার্যকর করতে হবে।

 

রাকসু নির্বাচনকে একাডেমিক ক্যালেন্ডারে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানিয়ে লিখিত বক্তব্যে শিবির সভাপতি বলেন, ইতোমধ্যেই রাকসু নির্বাচনের ১০ মাস অতিবাহিত হচ্ছে। এখনই যদি পরবর্তী রাকসু নির্বাচনের প্রস্তুতি গ্রহণ করা না যায়, তবে যথাসময়ে রাকসু বাস্তবায়নে শিক্ষার্থীদের চাওয়া পূরণ করা সম্ভব হবে না। তাই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নিক। শিক্ষার্থীরা যাতে প্রতিবছর রাকসু নির্বাচন পায়, এটি নিশ্চিত করতে একাডেমিক ক্যালেন্ডারে রাকসু নির্বাচনকে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানাই।

 

১০ মাসে রাকসু’র অর্জনের বিষয়ে তিনি বলেন, আপনারা দেখবেন, ক্যাম্পাসে ট্যাগিং-ফ্রেমিং বা নারী শিক্ষার্থীদের বুলিং কিন্তু আগের মতো হচ্ছে না। আগের মতো ক্যাম্পাসে মাদকের ছড়াছড়ি নেই। ক্যাম্পাসের রাজনৈতিক সহাবস্থান নিশ্চিত হয়েছে এবং আসন বাণিজ্যের কবর রচিত হয়েছে। গেস্টরুম কালচার, গণরুম কালচার নেই। ক্যাম্পাসগুলোতে মেধা এবং সিনিয়রিটির ভিত্তিতে আসন বণ্টন হচ্ছে, যেটি সবচেয়ে বড় একটি পরিবর্তন।

 

এ সময় সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন শিবিরের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসানসহ বিভিন্ন হলের নির্বাচিত রাকসু প্রতিনিধি ও সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

রাকসুর জিএস আম্মারের দায় নেবে না শিবির

যশোরের কেশবপুরে বাবার মরদেহ বাড়ির বারান্দায় রেখে সংঘর্ষে জড়ানো সেই দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে এবার বৃদ্ধ মাকে ভিটেবাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অসহায় বৃদ্ধা নুরজাহানের ঠাঁই হয়েছে প্রায় ১২ কিলোমিটার দূরে মেয়ের বাড়িতে।

 

মঙ্গলবার সকালের দিকে কেশবপুর উপজেলার সন্যাসগাছা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পরপর দুই ঘটনায় কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্যের সষ্টি হয়েছে।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার সকালে নুরজাহান বেগমের স্বামী খালেক মানের মরদেহ বাড়ির বারান্দায় রাখা ছিল। স্বজনরা যখন দাফনের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, তখন কবরের জায়গা দেওয়া নিয়ে দুই ছেলে মাহবুর রহমান ও আসাবুর রহমানের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়। একপর্যায়ে তারা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। এতে উভয় পক্ষের পাঁচজন আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। এ ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই বৃদ্ধা নুরজাহান বেগমকে ভিটেবাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে তার ছেলেদের বিরুদ্ধে। স্বামীকে হারানোর শোকের মধ্যেই বাড়ি ছাড়তে বাধ্য হয়ে শেষ পর্যন্ত মেয়ে নাছিমা বেগমের বাড়িতে আশ্রয় নেন তিনি। নিজ বাড়ি থেকে প্রায় ১২ কিলোমিটার দূরে পাঁজিয়া ইউনিয়নের গড়ভাঙ্গা গ্রামে বর্তমান মেয়ের বাড়িতে রয়েছেন বলে তার মেয়েজামাই নজরুল ইসলাম জানান।

 

আসাবুর রহমানের ছেলে আল আমিন জানান, চিকিৎসার জন্য তার বাবা বাইরে আছেন। বড় চাচা মামলা করেছেন শুনে বাড়ি আসেননি। তবে তার দাদি কোথায় আছেন তা তার জানা নেই।

 

এ বিষয়ে গৌরীঘোনা ইউনিয়ন পরিষদের সন্যাসগাছা ওয়ার্ডের সদস্য পংকজ চক্রবর্তী জানান, ঘটনাটি শুনেছি। স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

 

কেশবপুর থানার ওসি রোকসানা খাতুন বলেন, সন্যাসগাছার ঘটনায় মাকে বাড়িতে ঢুকতে না দেওয়ার বিষয়টি জানি না। তবে তিনি অভিযোগ করলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বাড়িতে বাবার লাশ রেখে সংঘর্ষ কেশবপুরে এবার মাকে বাড়িছাড়া করল সেই দুই ভাই

র‌্যাবের চৌকস অভিযানে জীপসহ প্রায় ১১ হাজার ইয়াবার চালান আটক

জামালপুর হামলা পাল্টা হামলার মধ্য দিয়ে জেলার সানন্দবাড়ী তে থমথমে অবস্থা বিরাজমান।

পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের ও আদালতে মিথ্যা হলফনামা দেয়ার অভিযোগে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কেবিন ক্রু খাদিজা সুলতানা শিমুর বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

 

বুধবার (১৫ জুলাই) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২-এর বিচারক মো. জাকির হোসাইন এ আদেশ দেন। আদালতের আদেশে বলা হয়েছে, শিমুর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর ১৩ ধারা এবং দণ্ডবিধির ১৮১, ১৮২ ও ১৯৩ ধারায় মামলা করা হবে। আদালত নিজেই এ মামলার বাদী হয়েছেন।

 

আদালতের নথি অনুযায়ী, খাদিজা সুলতানা শিমু মামলার বাদী হয়ে বেসরকারি একটি এয়ারলাইন্সের কর্মকর্তা মো. ওমর ফারুক চৌধুরীর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনের বিভিন্ন ধারায় উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলা করেন।

 

তদন্ত শেষে উত্তরা পশ্চিম থানার তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে জানান, অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি। প্রতিবেদনে বলা হয়, মামলার এজাহারে উল্লেখ করা ফেসবুক লিংক, ডিজিটাল আলামত ও অন্যান্য তথ্য যাচাই করে ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি প্রচারের কোনো প্রমাণ মেলেনি। ফলে ওই কর্মকর্তাকে মামলা থেকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়।

একই সঙ্গে তদন্ত কর্মকর্তা প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, ওমর ফারুক আগে শিমুর বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন দিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে আদালতে মামলা করেছিলেন। সেই মামলার দায় এড়াতেই শিমু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত বিভিন্ন লিংক উল্লেখ করে তার বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি ছড়ানোর অভিযোগ এনে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, হয়রানিমূলক ও মিথ্যা মামলা করেছেন বলে প্রাথমিক তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে। এ কারণে শিমুর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর ১৩ ধারায় আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার আবেদনও করেন তদন্ত কর্মকর্তা।

 

পরে গত ৯ জুলাই আদালত তদন্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করে ওমর ফারুককে মামলা থেকে অব্যাহতি দেন। আদালতের আদেশে বলা হয়, শিমু ক্ষতিসাধনের উদ্দেশ্যে আদালতে মিথ্যা মামলা দায়ের করেছেন এবং হলফ করে মিথ্যা সাক্ষ্য দিয়েছেন। মামলার নথিতে তার দেয়া হলফনামাও সংযুক্ত রয়েছে। এসব বিবেচনায় আদালত নিজেই বাদী হয়ে তার বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন ও দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়েরের নির্দেশ দেন।

 

তদন্তে যা উঠে এসেছে পুলিশের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, তদন্তকালে রেকর্ড, ডিজিটাল আলামত, ফেসবুক লিংক ও ফরেনসিক তথ্য যাচাই করে ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি প্রচারের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

 

তদন্তে আরও উঠে আসে, শিমু বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কেবিন ক্রু এবং ওমর ফারুক একটি বেসরকারি এয়ারলাইন্সের এয়ারক্রাফট মেইনটেন্যান্স কর্মকর্তা। ফেসবুকে পরিচয়ের পর তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

 

প্রতিবেদনে বলা হয়, বিয়ের আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন সময়ে ওমর ফারুকের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী নেয়ার অভিযোগে ওমর ফারুক আদালতে পৃথক মামলা করেন। এরপর সেই মামলার দায় থেকে নিজেকে রক্ষা করতেই শিমু পর্নোগ্রাফি আইনে অভিযোগ দায়ের করেন বলে তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে।

 

ওমর ফারুকের আগের মামলা গত ২০ জুলাই ওমর ফারুক চৌধুরী শিমুর বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন, ‘হানি ট্র্যাপ’ ও ব্ল্যাকমেইলের মাধ্যমে প্রায় ২২ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ঢাকার আদালতে মামলা করেন। আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে উত্তরা পশ্চিম থানাকে তদন্তের নির্দেশ দেন। পরে তিনি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষের কাছেও লিখিত অভিযোগ করেন।

 

সেই মামলায় অভিযোগ করা হয়, ২০২৪ সালে ফেসবুকে পরিচয়ের পর শিমু তাকে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন সময়ে টাকা নেন। জন্মদিনে দেড় লাখ টাকা মূল্যের একটি হীরার আংটিসহ বিয়ের খরচের জন্য মোট ২১ লাখ ৭৪ হাজার ৫১১ টাকা নেয়ার পরও বিয়ে না করে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে মামলায় দাবি করা হয়।

পর্নোগ্রাফি আইনে কেবিন ক্রু শিমুর বিরুদ্ধে মামলার নির্দেশ আদালতের

error: আপনি নিউজ চুরি করার চেষ্টা করছেন। বিশেষ প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন ০১৭৬৭৪৪৪৩৩৩
%d