সাংবাদিকের ছবি পোস্ট করে অপপ্রচার ও হুমকির অভিযোগ, আমির উদ্দিন বাবুর বিরুদ্ধে আদালতে মামলা  - Gono television | বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল।
সাংবাদিকের ছবি পোস্ট করে অপপ্রচার ও হুমকির অভিযোগ, আমির উদ্দিন বাবুর বিরুদ্ধে আদালতে মামলা 

সাংবাদিকের ছবি পোস্ট করে অপপ্রচার ও হুমকির অভিযোগ, আমির উদ্দিন বাবুর বিরুদ্ধে আদালতে মামলা 

সাংবাদিকের ছবি পোস্ট করে অপপ্রচার ও হুমকির অভিযোগ, আমির উদ্দিন বাবুর বিরুদ্ধে আদালতে মামলা

 

বিশেষ প্রতিনিধি:

নওগাঁর পোরশায় ভূমি অফিস সংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশের জেরে সাংবাদিকের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করে চাঁদাবাজসহ বিভিন্ন অপবাদ দেওয়ার অভিযোগে আমির উদ্দিন বাবুর বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

 

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) নওগাঁর আদালতে মামলাটি দায়ের করেন সাংবাদিক সবুজ হোসেন।

 

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, সংবাদ প্রকাশের পর আমির উদ্দিন বাবু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাংবাদিকদের ছবি প্রকাশ করে বিভিন্ন মিথ্যা ও মানহানিকর অপপ্রচার চালান। একই সঙ্গে সংবাদ সংগ্রহের জন্য ওই এলাকায় গেলে সাংবাদিকদের মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে।

 

বাদীপক্ষের অভিযোগ, সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়া এবং সামাজিকভাবে হেয় করার উদ্দেশ্যেই এসব অপপ্রচার ও হুমকি দেওয়া হয়েছে।

 

সাংবাদিক সবুজ হোসেন বলেন, “সাংবাদিকতার দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে কোনো ধরনের হুমকি, হয়রানি বা মানহানিকর অপপ্রচার মেনে নেওয়া হবে না। এ ঘটনায় ন্যায়বিচারের প্রত্যাশায় আদালতের আশ্রয় নিয়েছি।”

 

এদিকে, মামলায় করা অভিযোগের বিষয়ে আমির উদ্দিন বাবুর বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। অভিযোগের সত্যতা ও দায়-দায়িত্ব আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে।


মানিকগঞ্জের বেউথা নদীর পাড় থেকে মুখে কসটেপ বাঁধা অবস্থায় হৃদয় (১৭) নামে এক কিশোরকে জীবিত উদ্ধা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাত আনুমানিক ৮টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

 

 

আতিকুর রহমান আশিক

মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি

 

 

উদ্ধার হওয়া কিশোর হৃদয়ের বাড়ি চর তিল্লি এলাকায়। তার বাবার নাম মোহাম্মদ মনোয়ার হোসেন।

 

জানা গেছে, মানিকগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড এলাকায় হৃদয়ের সঙ্গে দুই ব্যক্তি কথা বলেন। তারা মোটরসাইকেলে স্টিকার লাগানোর কথা বলে তার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এরপর কীভাবে তাকে বেউথা নদীর পাড়ে নেওয়া হয় এবং তার মুখে কসটেপ লাগানো হয়, তা নিয়ে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে।

 

ঘটনার খবর পেয়ে ডিউটি অফিসার আজম বিষয়টি জানতে পারেন। পরে মানিকগঞ্জ জেলা যুবদলের সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মো. রাকিবুল ইসলাম বিশ্বাস বাবু দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান। মো. আব্দুর রশিদ ও ফজলুর সহযোগিতায় তাকে উদ্ধার করা হয়।

 

পরে গুরুতর অবস্থায় হৃদয়কে মানিকগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে বর্তমানে তার চিকিৎসা চলছে।

 

তবে কারা, কী উদ্দেশ্যে ওই কিশোরকে নদীর পাড়ে নিয়ে গিয়েছিল এবং ঘটনার পেছনে কোনো অপহরণ বা অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না—তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

বিষয়টি তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

মানিকগঞ্জের বেউথা নদীর পাড় থেকে মুখে কসটেপ বাঁধা অবস্থায় হৃদয় (১৭) নামে এক কিশোর জীবিত উদ্ধার

ইতালি প্রবাসী হবু বরের চাওয়ামতো অশ্লীল ছবি না দেওয়ায় এক তরুণীর বিয়ে ভেঙে গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। পরে অভিমানে ইঁদুরের বিষ খেয়ে আত্মহত্যা করেছেন ওই তরুণী।

 

বুধবার (২৬ আগস্ট) কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলার শ্রীনগর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

 

ভুক্তভোগী তরুণী উপজেলার শ্রীনগর এলাকার জীবন মিয়ার মেয়ে মীম বেগম (২০)। অভিযুক্ত হবু স্বামী একই ইউনিয়নের শিরার বাড়ির দুলাল মিয়ার ছেলে ইতালী প্রবাসী পাভেল মিয়া (২২)।

 

স্থানীয় ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, সাত মাস আগে শ্রীনগর ইউনিয়নের জীবন মিয়ার মেয়ে মীম বেগমের সঙ্গে একই এলাকার দুলাল মিয়ার ছেলে পাভেল মিয়ার বিয়ের কথা দুই পরিবারের মাঝে পাকাপাকি হয়। ওইদিনই পাভেলের পরিবার মীম বেগমকে একটি আংটি পরিয়ে দেয়। পাভেল ইতালি থেকে ওই তরুণীর সঙ্গে সাত মাস ধরে মোবাইলফোনে যোগাযোগ রাখেন।

 

সম্পর্ক গভীরতায় পাভেল মীমের কাছে ফোনে অনৈতিক আবদার করে নগ্ন ছবি পাঠাতে বলেন। সেই চাওয়া না মেটানোয় দুজনের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে পাভেল আংটি ও কিছু নগদ টাকা ফেরত দিয়ে বিয়ে ভেঙে দেন। এ ঘটনায় অভিমানে মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) রাতে ওই তরুণী ইঁদুর মারার বিষ খান।

 

পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে বাজিতপুর জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার দুপুরে মারা যান।

 

এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্তের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও সম্ভব হয়নি। তবে স্থানীয় ইউপি সদস্য মানিক মিয়া বলেন, ‘বিয়ের কথা হয়েছে আমি জানতাম। ওই তরুণীর মৃত্যুর খবরের পর স্থানীয়দের মাধ্যমে জানতে পেরেছি, অনৈতিক দাবির কারণেই তাদের মধ্যে ঝগড়া হয়ে বিয়ে ভেঙে যায়।’

 

ভৈরব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। স্বজনদের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

অশ্লীল ছবি না পাঠানোয় বিয়ে ভাঙলো হবু বর, তরুণীর আত্মহত্যা

নেত্রকোনার কেন্দুয়ায় এক স্কুলছাত্রীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে বিএনপি নেতা বকুল মিয়ার বিরুদ্ধে। ওই ছাত্রী বর্তমানে ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা বলে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।

 

এ ঘটনায় বকুল মিয়াসহ পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরও কয়েকজনকে আসামি করে মামলা হয়েছে। মামলার দ্বিতীয় আসামি আবু মিয়াকে (৩৬) গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তবে প্রধান আসামি বকুল মিয়া পলাতক রয়েছেন। তাকে গ্রেফতার করতে খুঁজছে পুলিশ।

 

বুধবার (২৬ আগস্ট) রাতে কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তরিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এর আগে মঙ্গলবার রাতে ভুক্তভোগী ছাত্রীর বাবা বাদী হয়ে মামলাটি করেন। মামলার পর রাতেই অভিযান চালিয়ে আবু মিয়াকে গ্রেফতার করা হয়।

 

মামলার এজাহার ও ভুক্তভোগীর পরিবারের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ওই ছাত্রী স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী। সে ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ার সময় ২০২২ সালের ২০ নভেম্বর বিএনপি নেতা বকুল মিয়া তাকে একটি বাড়িতে নিয়ে ধর্ষণ করেন। এ সময় ঘটনার ভিডিও মোবাইল ফোনে ধারণ করা হয়। পরে ওই ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে বিভিন্ন সময় তাকে ধর্ষণ করা হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

এজাহারে আরও বলা হয়, ২০২৫ সালের মার্চ থেকে এপ্রিলের মধ্যে বকুল মিয়ার সহযোগী এক নারী ওই ছাত্রীকে একটি ভাড়া বাসায় নিয়ে যান। সেখানে বকুলের নেতৃত্বে একাধিক ব্যক্তি তাকে ধর্ষণ করেন। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ও তাকে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

 

পরিবারের দাবি, গত ১ আগস্ট ওই ছাত্রীর একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি পরিবারের সদস্যদের নজরে আসে। পরে ১৮ আগস্ট একটি বেসরকারি ক্লিনিকে পরীক্ষা করানো হলে চিকিৎসকেরা তাকে ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা বলে জানান।

 

ভুক্তভোগী ওই স্কুলছাত্রীর ভাষ্য, ‘ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে বকুল মিয়া ও আবু মিয়া আমাকে বিভিন্ন বাসায় নিয়ে যেত। তখন আমি কিছু বুঝতাম না। তারা অন্য লোকজন দিয়েও আমাকে ধর্ষণ করিয়েছে। আমি বিষয়টি প্রকাশ করায় তারা আমাকে মেরে ফেলতে পারে। আমি এর কঠিন বিচার চাই।’

 

অভিযোগের বিষয়ে কেন্দুয়া পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, ‘ঘটনাটি সম্পর্কে আমরা অবগত হয়েছি। আজ রাতেই বকুল মিয়ার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

 

কেন্দুয়া থানার ওসি মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, মামলার দ্বিতীয় আসামি আবু মিয়াকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেফতারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান চলছে।

দলবদ্ধ ধ/র্ষণে অন্তঃসত্ত্বা স্কুলছাত্রী, বিএনপি নেতাকে খুঁজছে পুলিশ

নেত্রকোনার কেন্দুয়ায় এক স্কুলছাত্রীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে বিএনপি নেতা বকুল মিয়ার বিরুদ্ধে। ওই ছাত্রী বর্তমানে ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা বলে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।

 

এ ঘটনায় বকুল মিয়াসহ পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরও কয়েকজনকে আসামি করে মামলা হয়েছে। মামলার দ্বিতীয় আসামি আবু মিয়াকে (৩৬) গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তবে প্রধান আসামি বকুল মিয়া পলাতক রয়েছেন। তাকে গ্রেফতার করতে খুঁজছে পুলিশ।

 

বুধবার (২৬ আগস্ট) রাতে কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তরিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এর আগে মঙ্গলবার রাতে ভুক্তভোগী ছাত্রীর বাবা বাদী হয়ে মামলাটি করেন। মামলার পর রাতেই অভিযান চালিয়ে আবু মিয়াকে গ্রেফতার করা হয়।

 

মামলার এজাহার ও ভুক্তভোগীর পরিবারের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ওই ছাত্রী স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী। সে ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ার সময় ২০২২ সালের ২০ নভেম্বর বিএনপি নেতা বকুল মিয়া তাকে একটি বাড়িতে নিয়ে ধর্ষণ করেন। এ সময় ঘটনার ভিডিও মোবাইল ফোনে ধারণ করা হয়। পরে ওই ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে বিভিন্ন সময় তাকে ধর্ষণ করা হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

এজাহারে আরও বলা হয়, ২০২৫ সালের মার্চ থেকে এপ্রিলের মধ্যে বকুল মিয়ার সহযোগী এক নারী ওই ছাত্রীকে একটি ভাড়া বাসায় নিয়ে যান। সেখানে বকুলের নেতৃত্বে একাধিক ব্যক্তি তাকে ধর্ষণ করেন। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ও তাকে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

 

পরিবারের দাবি, গত ১ আগস্ট ওই ছাত্রীর একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি পরিবারের সদস্যদের নজরে আসে। পরে ১৮ আগস্ট একটি বেসরকারি ক্লিনিকে পরীক্ষা করানো হলে চিকিৎসকেরা তাকে ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা বলে জানান।

 

ভুক্তভোগী ওই স্কুলছাত্রীর ভাষ্য, ‘ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে বকুল মিয়া ও আবু মিয়া আমাকে বিভিন্ন বাসায় নিয়ে যেত। তখন আমি কিছু বুঝতাম না। তারা অন্য লোকজন দিয়েও আমাকে ধর্ষণ করিয়েছে। আমি বিষয়টি প্রকাশ করায় তারা আমাকে মেরে ফেলতে পারে। আমি এর কঠিন বিচার চাই।’

 

অভিযোগের বিষয়ে কেন্দুয়া পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, ‘ঘটনাটি সম্পর্কে আমরা অবগত হয়েছি। আজ রাতেই বকুল মিয়ার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

 

কেন্দুয়া থানার ওসি মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, মামলার দ্বিতীয় আসামি আবু মিয়াকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেফতারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান চলছে।

দলবদ্ধ ধ/র্ষণে অন্তঃসত্ত্বা স্কুলছাত্রী, বিএনপি নেতাকে খুঁজছে পুলিশ

নেপালে আকস্মিক বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৯৮ জনে দাঁড়িয়েছে। নিখোঁজ রয়েছে শত শত মানুষ। বুধবারের (২৬ আগস্ট) আকস্মিক এই বন্যায় রাস্তাঘাট, সেতু ও বেশ কয়েকটি বিদ্যুৎ প্রকল্প পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে।

 

নেপালে এখন অবস্থান করছেন ঢাকাই সিনেমার জনপ্রিয় নায়িকা অপু বিশ্বাস। তবে তিনি নিরাপদে আছেন বলে গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন। দেশে ফেরার অপেক্ষায় থাকা অপু নিজের জন্য চিন্তা না করে দোয়া চেয়েছেন।

 

বুধবার সন্ধ্যায় অপু বিশ্বাস বলেন, ‘আমি পোখারাতে আছি। যেখানে আছি নিরাপদে আছি। তবে পোখারা থেকে কাঠমান্ডু যাওয়ার হাইওয়ে রাস্তায় ভয়াবহভাবে বিপর্যস্ত হয়েছে। জানতে পেরেছি, এই রাস্তা ঠিক হতে মাসখানেক সময় লাগবে। আমাদের গাড়ি ঠিক করা হয়েছে। আগামীকাল কাঠমান্ডু যাব। ফ্লাইটে অনেক চাপ চলছে। কাঠমান্ডু থেকে পরশুদিনের (শুক্রবার) ফ্লাইটে ঢাকা ফিরব।’

 

নেপালের পরিস্থিতি নিয়ে অপু বিশ্বাস বলেন, ‘আমার জন্য চিন্তা না করবেন না। সবার কাছে দোয়া চাই, যেন নিরাপদে দেশে আমার সন্তানের কাছে ফিরতে পারি।’

 

চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে ‘শিকার’ সিনেমার শুটিংয়ে নেপাল গিয়েছেন অপু বিশ্বাস। সিনেমাটিতে অপুর বিপরীতে অভিনয় করছেন মুর্তজা পলাশ। এতে আরো অভিনয় করছেন কলকাতার অভিনেতা রজতাভ দত্ত, শ্যাম ভট্টাচার্য প্রমুখ।

 

ঢালিউড অপু বিশ্বাস

নেপালে ভালো আছি চিন্তা করবেন না: অপু বিশ্বাস

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

শরণখোলায় মাদ্রাসার ছাত্রকে গুরুতর মারধরের অভিযোগ উঠেছে শিক্ষকের বিরুদ্ধে।

 

বিশেষ প্রতিনিধি:

মামুন হাওলাদার

 

শরণখোলা উপজেলা সদরে অবস্থিত দারুস সুন্নাহ মাদ্রাসার ছাত্র আজিজুল (৭) শিক্ষকের মারধরে গুরুতর আহত হয়েছে। তাকে চিকিৎসার জন্য বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

 

শরণখোলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শিশু আজিজুলের দাদী সেলিনা বেগম বৃহস্পতিবার (২৭ আগষ্ট) সন্ধ্যায় কান্না জড়িত কণ্ঠে সাংবাদিকদের কাছে বলেন, তার নাতি আজিজুল উপজেলা সদর রায়েন্দা বাজার দারুস সুন্নাহ মাদ্রাসায় আবাসিক ছাত্র হিসেবে লেখা পড়া করে। গত ২৫ আগষ্ট আজিজুল পড়া না পারায় মাদ্রাসার শিক্ষক কামরুল ইসলাম তাকে বেদম মারধর করে। মারধরে আজিজুলের শরীরে বিভিন্ন জায়গায় কালো কালো দাগের সৃষ্টি হয়েছে। শরীরে বেদনার কারণে আজিজুল রাতে ঘুমাতে পারেনা বলে তাকে বৃহস্পতিবার দুপুর শরণখোলা হাসপাতালে ভর্তি করেছি। শিশু আজিজুল শরণখোলা উপজেলার পশ্চিম খাদা গ্রামের সুজন হাওলাদার ও মারুফা বেগম দম্পতির পুত্র। কর্মসূত্রে আজিজুলের পিতা মাতা ঢাকায় থাকে। বাড়ীতে দাদী সেলিনা বেগম আজিজুলের দেখা শোনা করে । দাদী সেলিনা বেগম শিক্ষক কামরুলের বিচার দাবী করেন।

 

দারুস সুন্নাহ মাদ্রাসার পরিচালক মাওলানা সিফাতুল্লাহ বলেন, শিশু ছাত্রকে মারধরের ঘটনাটি অনাকাংখিত ও দুঃখজনক। বিষয়টি নিয়ে ছাত্রের অভিভাবকদের সাথে মিমাংসা করার কথা চলছে।

অন্যদিকে সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে সাংবাদিকদের ক্যামেরার উপর হামলা চালায় ওই মাদ্রাসার শিক্ষক রাজ্জাক

শরণখোলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের মেডিকেল অফিসার ডাঃ মাসুম বিল্লাহ বলেন, শিশু আজিজুলকে বেলা দেড়টার দিকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শিশুর শরীরে বিভিন্ন স্থানে মারধরের কালো কালো দাগ সৃষ্টি হয়েছে।

 

শরণখোলা থানার অফিসার ইনচার্জ রোকেয়া খানম বলেন, শিক্ষকের মারধরে শিশু ছাত্র নির্যাতনের খবর পেয়ে হাসপাতালে খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।

শরণখোলায় মাদ্রাসার ছাত্রকে গুরুতর মারধরের অভিযোগ উঠেছে শিক্ষকের বিরুদ্ধে। 

মানিকগঞ্জের বেউথা নদীর পাড় থেকে মুখে কসটেপ বাঁধা অবস্থায় হৃদয় (১৭) নামে এক কিশোরকে জীবিত উদ্ধা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাত আনুমানিক ৮টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

 

 

আতিকুর রহমান আশিক

মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি

 

 

উদ্ধার হওয়া কিশোর হৃদয়ের বাড়ি চর তিল্লি এলাকায়। তার বাবার নাম মোহাম্মদ মনোয়ার হোসেন।

 

জানা গেছে, মানিকগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড এলাকায় হৃদয়ের সঙ্গে দুই ব্যক্তি কথা বলেন। তারা মোটরসাইকেলে স্টিকার লাগানোর কথা বলে তার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এরপর কীভাবে তাকে বেউথা নদীর পাড়ে নেওয়া হয় এবং তার মুখে কসটেপ লাগানো হয়, তা নিয়ে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে।

 

ঘটনার খবর পেয়ে ডিউটি অফিসার আজম বিষয়টি জানতে পারেন। পরে মানিকগঞ্জ জেলা যুবদলের সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মো. রাকিবুল ইসলাম বিশ্বাস বাবু দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান। মো. আব্দুর রশিদ ও ফজলুর সহযোগিতায় তাকে উদ্ধার করা হয়।

 

পরে গুরুতর অবস্থায় হৃদয়কে মানিকগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে বর্তমানে তার চিকিৎসা চলছে।

 

তবে কারা, কী উদ্দেশ্যে ওই কিশোরকে নদীর পাড়ে নিয়ে গিয়েছিল এবং ঘটনার পেছনে কোনো অপহরণ বা অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না—তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

বিষয়টি তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

মানিকগঞ্জের বেউথা নদীর পাড় থেকে মুখে কসটেপ বাঁধা অবস্থায় হৃদয় (১৭) নামে এক কিশোর জীবিত উদ্ধার

ইতালি প্রবাসী হবু বরের চাওয়ামতো অশ্লীল ছবি না দেওয়ায় এক তরুণীর বিয়ে ভেঙে গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। পরে অভিমানে ইঁদুরের বিষ খেয়ে আত্মহত্যা করেছেন ওই তরুণী।

 

বুধবার (২৬ আগস্ট) কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলার শ্রীনগর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

 

ভুক্তভোগী তরুণী উপজেলার শ্রীনগর এলাকার জীবন মিয়ার মেয়ে মীম বেগম (২০)। অভিযুক্ত হবু স্বামী একই ইউনিয়নের শিরার বাড়ির দুলাল মিয়ার ছেলে ইতালী প্রবাসী পাভেল মিয়া (২২)।

 

স্থানীয় ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, সাত মাস আগে শ্রীনগর ইউনিয়নের জীবন মিয়ার মেয়ে মীম বেগমের সঙ্গে একই এলাকার দুলাল মিয়ার ছেলে পাভেল মিয়ার বিয়ের কথা দুই পরিবারের মাঝে পাকাপাকি হয়। ওইদিনই পাভেলের পরিবার মীম বেগমকে একটি আংটি পরিয়ে দেয়। পাভেল ইতালি থেকে ওই তরুণীর সঙ্গে সাত মাস ধরে মোবাইলফোনে যোগাযোগ রাখেন।

 

সম্পর্ক গভীরতায় পাভেল মীমের কাছে ফোনে অনৈতিক আবদার করে নগ্ন ছবি পাঠাতে বলেন। সেই চাওয়া না মেটানোয় দুজনের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে পাভেল আংটি ও কিছু নগদ টাকা ফেরত দিয়ে বিয়ে ভেঙে দেন। এ ঘটনায় অভিমানে মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) রাতে ওই তরুণী ইঁদুর মারার বিষ খান।

 

পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে বাজিতপুর জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার দুপুরে মারা যান।

 

এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্তের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও সম্ভব হয়নি। তবে স্থানীয় ইউপি সদস্য মানিক মিয়া বলেন, ‘বিয়ের কথা হয়েছে আমি জানতাম। ওই তরুণীর মৃত্যুর খবরের পর স্থানীয়দের মাধ্যমে জানতে পেরেছি, অনৈতিক দাবির কারণেই তাদের মধ্যে ঝগড়া হয়ে বিয়ে ভেঙে যায়।’

 

ভৈরব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। স্বজনদের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

অশ্লীল ছবি না পাঠানোয় বিয়ে ভাঙলো হবু বর, তরুণীর আত্মহত্যা

সাভারের আশুলিয়ায় ভুয়া পত্রিকা অফিসের আড়ালে পরিচালিত একটি কারখানায় অভিযান চালিয়ে আনুমানিক দুই কোটি টাকা মূল্যের অবৈধ ও নিম্নমানের ভারতীয় কনডম ও জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী জব্দ করেছে উপজেলা প্রশাসন।

 

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় আশুলিয়ার বাইপাইল এলাকায় সাভার উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাইফুল ইসলামের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

 

উপজেলা প্রশাসন জানায়, বাইপাইল এলাকায় ভুয়া সংবাদপত্রের সাইনবোর্ড ও একাধিক সামাজিক সংগঠনের পরিচয়ের আড়ালে একটি প্রতিষ্ঠানে অবৈধ ও নকল জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী মোড়কজাত ও মজুত করা হচ্ছিল।

 

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশের সহযোগিতায় সেখানে অভিযান চালানো হয়। এ সময় বিপুল পরিমাণ কনডম ও অন্যান্য জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী জব্দ করা হয়। এসব পণ্যের কাঁচামাল ভারত থেকে আমদানি করা হতো বলে জানা গেছে।

 

অভিযান পরিচালনাকারী ম্যাজিস্ট্রেট ও সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম জানান, প্রতিষ্ঠানটি কোনো অনুমোদিত বা বৈধ প্রতিষ্ঠান নয়। এখানে অবৈধভাবে নিম্নমানের জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী মোড়কজাত ও মজুত করা হচ্ছিল। এসব পণ্যের অধিকাংশই পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত থেকে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে আনা হতো। এতে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছিল। পাশাপাশি পণ্যের মান যাচাইয়ের সুযোগ না থাকায় এগুলো জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।

 

তিনি জানান, এর আগে একই প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে চার লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছিল এবং ভবনটি সিলগালা করে দেওয়া হয়। পরে বৈধভাবে ব্যবসা পরিচালনার শর্তে সিলগালা খুলে দেওয়া হয়। কিন্তু মালিকপক্ষ নিয়ম না মেনে গোপনে পুনরায় যৌন উত্তেজক ওষুধ ও নকল কনডম প্রস্তুত ও মোড়কজাতসহ বিভিন্ন অবৈধ কার্যক্রম চালিয়ে আসছিল।

 

ইউএনও সাইফুল ইসলাম আরও জানান, অভিযান শেষে জব্দ করা বিপুল পরিমাণ মালামাল ট্রাকে তুলে বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। জব্দ করা পণ্যের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় দুই কোটি টাকা।

 

তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠানের মূল অভিযুক্ত ও কর্ণধার শাহাদত হোসেন শান্তু অভিযানের সময় ঢাকায় অবস্থান করায় তাকে ঘটনাস্থল থেকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। এ সময় প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীরাও পালিয়ে যায়।

 

জড়িতদের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত ও সংশ্লিষ্ট আইনে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানান ইউএনও।

 

প্রশাসনের অভিযানে ২ কোটি টাকার কনডম জব্দ

নেত্রকোনার মদন উপজেলায় ১১ বছর বয়সী এক মাদ্রাসাছাত্রীকে ধর্ষণের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় প্রধান আসামি মাদ্রাসাশিক্ষক আমান উল্লাহ মাহমুদী ওরফে সাগরসহ দুজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেছে পুলিশ।

 

বৃহস্পতিবার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মদন থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আক্তারুজ্জামান আদালতে এ অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

 

অভিযোগপত্রভুক্ত অপর আসামি হলেন আমান উল্লাহর ভাই মাইমুন ওরফে মামুন মিয়া (৩২)।

 

তাদের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৯(১) ধারা এবং দণ্ডবিধির ৫০৬ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

 

পুলিশ জানায়, সিআইডির ডিএনএ পরীক্ষায় শিশুটির জন্ম দেওয়া নবজাতকের সঙ্গে প্রধান আসামি আমান উল্লাহ মাহমুদীর ডিএনএ ৯৯ দশমিক ৯৯ শতাংশ মিলে যাওয়ার পর অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।

 

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) বিকেলে অভিযোগপত্র দাখিলের বিষয়টি নিশ্চিত করেন নেত্রকোনা জেলা আদালতের কোর্ট ইন্সপেক্টর মোহাম্মদ রিয়াদ মাহমুদ।

 

মামলার রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ও নেত্রকোনা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট নুরুল কবির রুবেল বলেন, আদালতের নির্দেশে ঢাকার সিআইডি ল্যাবে পাঠানো নমুনার চূড়ান্ত প্রতিবেদন সম্প্রতি আদালতে পৌঁছেছে। ডিএনএ প্রোফাইলিংয়ের ফলাফলে নবজাতকের সঙ্গে আমান উল্লাহ মাহমুদীর পিতৃত্বের সম্ভাবনা ৯৯ দশমিক ৯৯ শতাংশ নিশ্চিত হয়েছে।

 

এর আগে আদালতের নির্দেশে গত ২৮ জুলাই সিলেটের একটি সেফ হোম থেকে নবজাতকের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে সিআইডি। এর আগে গত ১৭ মে অভিযুক্ত আমান উল্লাহর ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়। গত ২ জুলাই সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ওই ১১ বছর বয়সী শিশু একটি কন্যাসন্তানের জন্ম দেয়।

 

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২৩ এপ্রিল শিশুটির মা মদন থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে আমান উল্লাহ মাহমুদীর বিরুদ্ধে মামলা করেন। এজাহারে অভিযোগ করা হয়, আমান উল্লাহ শিশুটিকে একাধিকবার ধর্ষণ করেন। এতে শিশুটি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে।

 

পরে গত ৭ মে আদালত আমান উল্লাহকে তিন দিনের রিমান্ডে পাঠান। রিমান্ড শেষে ১০ মে তাকে আদালতে হাজির করা হলে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সুষ্ঠু তদন্ত ও অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য ডিএনএ পরীক্ষার আবেদন করেন। আদালত ওই আবেদন মঞ্জুর করেন।

 

এদিকে শিশুটির নিরাপত্তা ও ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে তার মা আদালতে সুরক্ষার আবেদন করেন। পরে ১২ মে আদালত শিশুটিকে সমাজসেবা অধিদপ্তর পরিচালিত সিলেটের একটি সেফ হোমে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

 

অভিযোগপত্র দাখিলের মধ্য দিয়ে মামলাটির তদন্তপর্ব শেষ হয়েছে। এখন অভিযোগপত্রের ওপর আদালতের পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম শেষে মামলাটি বিচারিক পর্যায়ে এগিয়ে যাবে।

১১ বছরের শিশুকে ধ/র্ষ/ ণ মাদ্রাসাশিক্ষক আমান উল্লাহসহ দুজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট

চাঁদপুর থেকে নিখোঁজ স্বর্ণ ব্যবসায়ী পিন্টুসহ তার পরিবারের সদস্যদের চট্টগ্রামের পটিয়া এলাকা থেকে আটক করেছে পুলিশ।

 

শুক্রবার (২৮ আগস্ট) ভোর ৫টার দিকে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করে চাঁদপুর সদর মডেল থানা পুলিশ।

 

জানা যায়, নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে স্বর্ণ ব্যবসায়ী পিন্টু আত্মগোপনে ছিলেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ তার অবস্থান নিশ্চিত হয়ে চট্টগ্রামের পটিয়া এলাকায় অভিযান চালায় এবং তার পরিবারের চার সদস্যকে আটক করে।

 

চাঁদপুর সদর মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) কালামের নেতৃত্বে পুলিশ এ অভিযান পরিচালনা করে। তিনি জানান, আটকের পর তাদের চাঁদপুরে নিয়ে আসার প্রক্রিয়া চলছে। এ ঘটনায় বিস্তারিত তথ্যের জন্য পুলিশি তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

 

এর আগে বুধবার (২৬ আগস্ট) সন্ধ্যায় চাঁদপুর মডেল থানার ওসি ফয়েজ আহমেদ জানান, পিন্টু দাসসহ তার পরিবারের চার সদস্য আত্মগোপনে ছিলেন। বিষয়টি না জেনে অনেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের ‘নিখোঁজ’ হওয়ার খবর ছড়াচ্ছেন। তবে পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় কোনো নিখোঁজ ডায়েরি করা হয়নি।

 

আত্মগোপনে থাকা পরিবারের সদস্যরা হলেন- পিন্টু দাস, তার স্ত্রী রিমি, বড় ছেলে প্রিয়ম এবং ছোট ছেলে রুপম দাস। তাদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনও বন্ধ রয়েছে বলে জানা গেছে।

 

পিন্টু দাসের আত্মীয় উপমা দে জানান, পিন্টু, তার স্ত্রী ও দুই ছেলেকে নিয়ে চাঁদপুর শহরের একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন। বিভিন্ন কারণে তিনি ঋণগ্রস্ত ছিলেন বলে স্থানীয়ভাবে জানা গেছে।

 

স্থানীয় একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পিন্টু বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে স্বর্ণ বন্ধক রেখে টাকা দেওয়ার ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে- স্বর্ণ বন্ধক নিয়ে টাকা দেওয়ার পর নির্ধারিত সময়ে তা ফেরত দিতে পারেননি তিনি। পাশাপাশি বিভিন্ন সমিতি থেকেও ব্যবসার জন্য ঋণ নেওয়ায় তিনি আর্থিক সংকটে পড়েন।

 

একাধিকবার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের স্থান পরিবর্তনের পর সর্বশেষ শহরের কুমিল্লা সড়কের আখন্দ মার্কেটের নিচতলায় ‘এস কে শিল্পালয়’ নামে প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করতেন পিন্টু দাস। অভিযোগ রয়েছে, সেখানে স্বর্ণের বাজারমূল্যের তুলনায় অনেক কম টাকা দিয়ে স্বর্ণ বন্ধক রাখা হতো।

 

রঘুনাথপুরের বাসিন্দা মনসুর খানের ছেলে রাসেল খান অভিযোগ করেন, তিনি পিন্টু দাসের কাছে আড়াই ভরি স্বর্ণালংকার ৫০ হাজার টাকায় বন্ধক রেখেছিলেন। পরে ৫০ হাজার টাকা ফেরত দিয়ে স্বর্ণালংকার নিতে গেলে পিন্টু দাস তাকে পরদিন আসতে বলেন। এরপর তিনি জানতে পারেন, পিন্টু দাস পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বাসা ছেড়ে চলে গেছেন।

 

রাসেল খান জানান, স্বর্ণ ফেরত ও টাকা না পাওয়ায় তিনি গত ২৪ আগস্ট পিন্টু দাসের বিরুদ্ধে চাঁদপুর মডেল থানায় অভিযোগ করেছেন।

 

এদিকে দক্ষিণ গুণরাজদীর বাসিন্দা জাহিদুল ইসলাম ১২ আনা এবং শুভঙ্কর মজুমদার ১০ আনা স্বর্ণ পিন্টু দাসের কাছে বন্ধক রাখার দাবি করেছেন। তারাও বন্ধক রাখা স্বর্ণ ফেরত পাওয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

আত্মগোপনে থাকা সেই স্বর্ণ ব্যবসায়ী সপরিবারে আটক

নেপালে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪৭২ জনে দাঁড়িয়েছে। এ ছাড়া এখনো প্রায় ১৪০০ মানুষ নিখোঁজ রয়েছে। তাদের সন্ধানে তৃতীয় দিনও উদ্ধারকারী দলগুলো অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে উদ্ধারকাজ এগোলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

 

নেপালি পুলিশ এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। খবর হিন্দুস্তান টাইমসের

 

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুধবার (২৬ আগস্ট) নেপালের ভোতেকোশি ও ত্রিশূলী নদী অঞ্চলে ভয়াবহ বন্যার ঢল ও ভূমিধসের পর এই বিপর্যয় ঘটে। এতে বাড়িঘর, সড়ক, সেতুসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।এ ছাড়া বৃহস্পতিবার রাত পর্যন্ত নেপালে থাকা ২৯০ জন ভারতীয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তবে ৮৪ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়াদের মধ্যে ত্রিশূলী-১ প্রকল্পের ৬৩ জন কর্মী এবং তামিলনাড়ুর ২১ জন রয়েছেন।

 

নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল জানিয়েছেন, বন্যার পর প্রায় ৩০০ ভারতীয় পর্যটক নিখোঁজ হয়েছেন। নেপাল ট্যুরিজম বোর্ডের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এখনো ১৭৮ জন ভারতীয় নিখোঁজ রয়েছেন।

 

নেপাল ও তিব্বতে মিলিয়ে মোট ৮২৬ জন নিখোঁজ থাকার খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ বিদেশিদের মধ্যে ভারত ছাড়াও অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য, মালয়েশিয়া, নেদারল্যান্ডস, পর্তুগাল, দক্ষিণ আফ্রিকা, দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক রয়েছেন।

 

নতুন বন্যার সতর্কতা চীনের

 

নেপালে ভয়াবহ বন্যার ক্ষত কাটিয়ে ওঠার আগেই নতুন করে বন্যার আশঙ্কার কথা জানিয়েছে চীন।

 

চীনের পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নেপালে ছোচেন খোলা ও পুরেপু সাংপো নদীর মিলনস্থলের কাছে একটি প্রাকৃতিক বাঁধের কারণে জলাধার বা ‘ব্যারিয়ার লেক’ তৈরি হয়েছে।

নেপালে ভয়াবহ বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪৭২, নিখোঁজ ১৪০০

 

নীলফামারীতে যৌতুকের জন্য গৃহবধূকে হত্যার অভিযোগ, চারজনের নামে মামলা

স্টাফ রিপোর্টার

মাইদুল ইসলাম

বৃহস্পতিবার

২৭/আগস্ট ২০২৬ইং

নীলফামারীতে নাছরিন নাহার (৩৫)‌ নামে এক গৃহবধূকে হত্যার অভিযোগে চারজনের নামে হত্যা মামলা

দায়ের করা হয়েছে। এর আগে বুধবার মধ্যরাতে সদর উপজেলার কুন্দুপুকুর ইউনিয়নের লালপাড়া এলাকাস্থ আব্দুল মান্নানের বাড়ি থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় ওই নারীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নাছরিন নাহার নীলফামারী শহরের কলেজ পাড়া এলাকার আব্দুল জব্বারের মেয়ে এবং লালপাড়া এলাকার আব্দুল মান্নানের স্ত্রী। মামলা সূত্রে জানাযায়, চার বছর আগে

কুন্দুপুকুর লালপাড়া এলাকার মৃত. আব্দুল মজিদের ছেলে আব্দুল মান্নানের সাথে বিয়ে হয় নাছরিনের। প্রথম স্ত্রী মারা যাওয়ায় নাছরিনকে দ্বিতীয় বিয়ে করেন আব্দুল মান্নান। বিয়ের সময় জামাতাকে পাঁচ লাখ টাকা যৌতুক হিসেবে দেয় মেয়ের পরিবার। কিছুদিন থেকে আরও তিন লাখ টাকা যৌতুকের জন্য নাছরিনকে চাপ দিচ্ছিলো মান্নান ও তার পরিবার। এরেই জের ধরে বুধবার রাতে (২৬ আগস্ট) জামাতা আব্দুল মান্নান, বড় ভাই দেলোয়ার হোসেন, প্রথম স্ত্রীর ছেলে আলমগীর হোসেন ও তার স্ত্রী আরিফা বেগম মারধোর করে গলায় ফাঁস দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। পরে তার মরদেহ ঝুলিয়ে রেখে আত্মহত্যা বলে প্রচারণা শুরু করা হয়। নাছরিনের পিতা আব্দুল জব্বার অভিযোগ করে বলেন, ৩ লাখ টাকা যৌতুকের জন্য চাপ দিচ্ছিল ছেলের পরিবার। কয়েক দফায় শারীরীক মানসিক নির্যাতন করা হয়। এ নিয়ে বিচার শালিশও করা হয়। ঘটনার দিন আবারও যৌতুকের জন্য চাপ দেওয়া হলে মেয়ে এর প্রতিবাদ জানানোয় তাকে হত্যা করা হয়। আব্দুল জব্বার বলেন, এটা পরিকল্পিত হত্যাকান্ড। আমি এর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। বিষয়টি নিশ্চিত করে নীলফামারী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জিল্লুর রহমান বলেন, রাতেই মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসা হয়। ময়না তদন্ত শেষে পরিবারের কাছে মরা দেহ হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় নাছরিন নাহারের বাবা আব্দুল জব্বার বাদী হয়ে নীলফামারী জেলা সদর থানায় মামলা করেছেন।

নীলফামারীতে যৌতুকের জন্য গৃহবধূকে হত্যার অভিযোগ, চারজনের নামে মামলা 

বিয়ের দাবিতে ছেলের বাড়িতে ১৫ বছরের কিশোরীর অনশন

 

স্টাফ রিপোর্টার

মাইদুল ইসলাম

নীলফামারী সদর উপজেলার ১১ নং সোনারায় ইউনিয়নের সোনারায় চক দুবুলিয়া গ্রামের ডাঙ্গাপাড়ায় বিয়ের দাবিতে এক কিশোরীর অনশনের ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বৃহস্পতিবার

(২৭/আগস্ট/২৬ইং) কিশোরীর দাবি, একই এলাকার জাবেদ আলীর ছেলে আব্দুল্লাহর সঙ্গে তার দীঘদীনের প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে এবং তাদের মধ্যে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক হয়েছে। বর্তমানে সে ২ মাসের অন্তঃসত্ত্বা বলেও দাবি করেছে কিশোরী মোসলেমা।

 

সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, জাবেদ আলীর ছেলে আব্দুল্লার বাড়িতে বিয়ের দাবিতে অনশন করছেন একই গ্রামের মশিউর রহমানের মেয়ে মোসলেমা (১৫) তার দাবি, আব্দুল্লাহ তাকে বিয়ে করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু বর্তমানে বিয়েতে সম্মতি না দেওয়ায় তিনি ওই বাড়িতে অবস্থান নিয়ে অনশন করছেন।

 

কিশোরী মোসলেমা (১৫)ভাষ্য অনুযায়ী, আব্দুল্লাহ তাকে একটি মুঠোফোন উপহার দেয় সবসময় কথা বলার জন্য। এবং এই মুঠোফোন দিয়ে আব্দুল্লাহ তার সাথে যোগাযোগ করতো, সম্পর্ক গভীর হলে আব্দুল্লাহ তার সাথে শারিরীক সম্পর্ক শুরু করে। একাধিকবার যৌন মিলনের ফলে বর্তমানে তিনি ২ মাসের অন্তঃসত্ত্বা বলেও দাবি করেছেন। তবে তার গর্ভধারণের বিষয়টি চিকিৎসা পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হয়েছে কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

 

এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আব্দুল্লাহ ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় ইংরেজি বিষয়ে অকৃতকার্য হয়ে বর্তমান ঢাকায় অবস্থান করছেন। অন্যদিকে মোসলেমা আক্তার অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী। ফলে তাদের দুজনেরই বিয়ের আইনগত বয়স হয়নি বলে স্থানীয়ভাবে জানা গেছে।

 

ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় নানা আলোচনা ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। অপ্রাপ্তবয়স্কদের বিয়ে দেওয়া আইনত দণ্ডনীয় হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হস্তক্ষেপ প্রয়োজন বলে মনে করছেন সচেতন মহল। একই সঙ্গে কিশোরীর অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার দাবি সত্য হলে তার স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে দেখার দাবি উঠেছে।

 

এ বিষয়ে আব্দুল্লাহ ও তার পরিবারের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। অভিযোগের সত্যতা, কিশোরীর গর্ভধারণ এবং সংশ্লিষ্টদের বয়স সম্পর্কে সরকারি বা চিকিৎসা সূত্রের নিশ্চিত তথ্য পাওয়া গেলে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে।

বিয়ের দাবিতে ছেলের বাড়িতে ১৫ বছরের কিশোরীর অনশন

নওগাঁ ৬ বছরের শিশু ধর্ষণ: পুলিশি অভিযানে গ্রেফতার ২ কিশোরের স্বীকারোক্ত

 

মোঃ সাইদুল ইসলাম হেলাল

বিশেষ প্রতিনিধি

নওগাঁর রানীনগরে ৬ বছরের এক শিশুকন্যাকে পালাক্রমে ধর্ষণের অভিযোগে দুই বখাটে কিশোরকে গ্রেফতার করেছে থানা পুলিশ। গ্রেফতারকৃতরা হলো—মোঃ ইফতিয়াক (১৫) ও মোঃ মাৎরুফ (১৬)।

 

ঘটনা সূত্রে জানা যায়, গত ২৬ আগস্ট ২০২৬ তারিখ বিকেল আনুমানিক ৪:০০ ঘটিকার সময় ওই শিশুকন্যাটি পালাক্রমে ধর্ষণের শিকার হয়। এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা মাত্রই নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম এর প্রত্যক্ষ নির্দেশনায় রানীনগর থানা পুলিশের একটি বিশেষ টিম দ্রুত অভিযানে নামে। পরবর্তীতে স্থানীয় জনগণের সহায়তায় ঘটনায় জড়িত অভিযুক্ত দুই কিশোরকে গ্রেফতার করা হয়।

 

এ ঘটনায় রানীনগর থানায় ২০০০ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(৩) ধারায় একটি মামলা (মামলা নং-১২, তারিখ: ২৭/০৮/২০২৬ খ্রিঃ) রুজু করা হয়েছে।

 

গ্রেফতারের পর রানীনগর থানা ও জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে পৃথক জিজ্ঞাসাসাবাদে অভিযুক্ত দুই কিশোর পুলিশের নিকট শিশুটিকে ধর্ষণের কথা প্রাথমিকভবে স্বীকার করেছে।

 

এ বিষয়ে নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম জানান, নারী ও শিশুদের ওপর সংঘটিত যেকোনো ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে জেলা পুলিশ শূন্য সহনশীলতা (জিরো টলারেন্স) নীতি অনুসরণ করবে এবং অপরাধীদের আইন অনুযায়ী কঠোর হস্তে দমন করা হবে।

নওগাঁ ৬ বছরের শিশু ধ/ র্ষ/ণ: পুলিশি অভিযানে গ্রেফতার ২ কিশোরের স্বীকারোক্তি

র‌্যাবের চৌকস অভিযানে জীপসহ প্রায় ১১ হাজার ইয়াবার চালান আটক

জামালপুর হামলা পাল্টা হামলার মধ্য দিয়ে জেলার সানন্দবাড়ী তে থমথমে অবস্থা বিরাজমান।

পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের ও আদালতে মিথ্যা হলফনামা দেয়ার অভিযোগে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কেবিন ক্রু খাদিজা সুলতানা শিমুর বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

 

বুধবার (১৫ জুলাই) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২-এর বিচারক মো. জাকির হোসাইন এ আদেশ দেন। আদালতের আদেশে বলা হয়েছে, শিমুর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর ১৩ ধারা এবং দণ্ডবিধির ১৮১, ১৮২ ও ১৯৩ ধারায় মামলা করা হবে। আদালত নিজেই এ মামলার বাদী হয়েছেন।

 

আদালতের নথি অনুযায়ী, খাদিজা সুলতানা শিমু মামলার বাদী হয়ে বেসরকারি একটি এয়ারলাইন্সের কর্মকর্তা মো. ওমর ফারুক চৌধুরীর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনের বিভিন্ন ধারায় উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলা করেন।

 

তদন্ত শেষে উত্তরা পশ্চিম থানার তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে জানান, অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি। প্রতিবেদনে বলা হয়, মামলার এজাহারে উল্লেখ করা ফেসবুক লিংক, ডিজিটাল আলামত ও অন্যান্য তথ্য যাচাই করে ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি প্রচারের কোনো প্রমাণ মেলেনি। ফলে ওই কর্মকর্তাকে মামলা থেকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়।

একই সঙ্গে তদন্ত কর্মকর্তা প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, ওমর ফারুক আগে শিমুর বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন দিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে আদালতে মামলা করেছিলেন। সেই মামলার দায় এড়াতেই শিমু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত বিভিন্ন লিংক উল্লেখ করে তার বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি ছড়ানোর অভিযোগ এনে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, হয়রানিমূলক ও মিথ্যা মামলা করেছেন বলে প্রাথমিক তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে। এ কারণে শিমুর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর ১৩ ধারায় আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার আবেদনও করেন তদন্ত কর্মকর্তা।

 

পরে গত ৯ জুলাই আদালত তদন্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করে ওমর ফারুককে মামলা থেকে অব্যাহতি দেন। আদালতের আদেশে বলা হয়, শিমু ক্ষতিসাধনের উদ্দেশ্যে আদালতে মিথ্যা মামলা দায়ের করেছেন এবং হলফ করে মিথ্যা সাক্ষ্য দিয়েছেন। মামলার নথিতে তার দেয়া হলফনামাও সংযুক্ত রয়েছে। এসব বিবেচনায় আদালত নিজেই বাদী হয়ে তার বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন ও দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়েরের নির্দেশ দেন।

 

তদন্তে যা উঠে এসেছে পুলিশের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, তদন্তকালে রেকর্ড, ডিজিটাল আলামত, ফেসবুক লিংক ও ফরেনসিক তথ্য যাচাই করে ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি প্রচারের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

 

তদন্তে আরও উঠে আসে, শিমু বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কেবিন ক্রু এবং ওমর ফারুক একটি বেসরকারি এয়ারলাইন্সের এয়ারক্রাফট মেইনটেন্যান্স কর্মকর্তা। ফেসবুকে পরিচয়ের পর তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

 

প্রতিবেদনে বলা হয়, বিয়ের আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন সময়ে ওমর ফারুকের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী নেয়ার অভিযোগে ওমর ফারুক আদালতে পৃথক মামলা করেন। এরপর সেই মামলার দায় থেকে নিজেকে রক্ষা করতেই শিমু পর্নোগ্রাফি আইনে অভিযোগ দায়ের করেন বলে তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে।

 

ওমর ফারুকের আগের মামলা গত ২০ জুলাই ওমর ফারুক চৌধুরী শিমুর বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন, ‘হানি ট্র্যাপ’ ও ব্ল্যাকমেইলের মাধ্যমে প্রায় ২২ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ঢাকার আদালতে মামলা করেন। আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে উত্তরা পশ্চিম থানাকে তদন্তের নির্দেশ দেন। পরে তিনি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষের কাছেও লিখিত অভিযোগ করেন।

 

সেই মামলায় অভিযোগ করা হয়, ২০২৪ সালে ফেসবুকে পরিচয়ের পর শিমু তাকে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন সময়ে টাকা নেন। জন্মদিনে দেড় লাখ টাকা মূল্যের একটি হীরার আংটিসহ বিয়ের খরচের জন্য মোট ২১ লাখ ৭৪ হাজার ৫১১ টাকা নেয়ার পরও বিয়ে না করে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে মামলায় দাবি করা হয়।

পর্নোগ্রাফি আইনে কেবিন ক্রু শিমুর বিরুদ্ধে মামলার নির্দেশ আদালতের

error: আপনি নিউজ চুরি করার চেষ্টা করছেন। বিশেষ প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন ০১৭৬৭৪৪৪৩৩৩
%d