আমি চাইব না বাংলাদেশে আর কেউ গুম হোক: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী - Gono television | বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল।
আমি চাইব না বাংলাদেশে আর কেউ গুম হোক: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আমি চাইব না বাংলাদেশে আর কেউ গুম হোক: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, আমি হোম মিনিস্টার। আমি নিজেই এনফোর্সড ডিসঅ্যাপিয়ারেন্সের শিকার। আমি চাইব না বাংলাদেশে আর কেউ গুম হোক। আমরা এমন একটি আইন চাই, যাতে প্রত্যেক ভুক্তভোগী আদালতে যেতে পারে, বিচার পায় এবং দায়ীদের শাস্তি নিশ্চিত হয়।

 

আন্তর্জাতিক গুমের শিকার ব্যক্তিদের স্মরণ দিবস উপলক্ষে শনিবার (২৯ আগস্ট) বিকালে রাজধানীর বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে ‘মায়ের ডাক’ আয়োজিত প্রদর্শনী ও প্যানেল আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

 

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রথম অধিবেশনে গুম কমিশন অধ্যাদেশ পাশ করা হয়নি, কারণ শুধু কমিশন গঠন করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। সরকার এমন একটি আইন সংসদে এনেছে, যেখানে গুমের শিকার ব্যক্তি বা তার পরিবার সরাসরি আদালতে গিয়ে বিচার চাইতে পারবে।

 

তিনি বলেন, গুম কত প্রকার, কোন অপরাধে কী শাস্তি হবে, তদন্ত করবে কারা, ভুক্তভোগীর কী কী অধিকার থাকবে—সবই আইনে নির্ধারণ করা হয়েছে। এমনকি নিখোঁজ ব্যক্তিকে খুঁজে না পাওয়া গেলে তার উত্তরাধিকারীরা সম্পত্তির অধিকার পাবেন এবং ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থাও থাকবে।

 

সালাহউদ্দিন আহমদ আরও বলেন, এই আইন নিয়ে যাদের মতামত আছে, তারা সংসদীয় কমিটিতে দিতে পারেন। আইন সংশোধনের সুযোগ সব সময় থাকবে। আমাদের আন্তরিকতার কোনো অভাব নেই।

র্যাব প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সরকার বাহিনীটি বিলুপ্ত না করে জবাবদিহিমূলক সংস্কারের পথ নিয়েছে। তিনি বলেন, আধুনিক সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় একটি এলিট ফোর্স দরকার। তবে আমরা তাদের জবাবদিহি, স্বচ্ছতা ও মানবাধিকার সুরক্ষার ব্যবস্থা নিশ্চিত করেছি।

 

তিনি দাবি করেন, গত ছয় মাসে সরকার একটি ‘ভঙ্গুর বাহিনী’ উত্তরাধিকার হিসেবে পেলেও তাদের মনোবল ও নৈতিকতা পুনর্গঠনের কাজ চলছে।

 

নিজের ৬১ দিনের গুমের অভিজ্ঞতা স্মরণ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, আমার গুমের ৬১ দিন—তার যতটা মিনিট, যতটা মুহূর্ত কেটেছে, তার প্রত্যেকটা যদি আমি লিখে রাখতে পারতাম, তাহলে জাদুঘরের সংকলন হতো কোনো কিতাব। প্রতিটি মুহূর্তে মনে হতো যে আগামী ভোর কি আমি দেখব? সকালের নাশতা দেওয়া হলে বুঝতাম সকাল হয়েছে। আর নখের দাগ দিয়ে দেয়ালে সংখ্যা লিখে লিখে দিন গুনতাম।

 

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, তাকে যে কক্ষে রাখা হয়েছিল সেটি ছিল অত্যন্ত ছোট। তার বর্ণনা অনুযায়ী, কক্ষটি আনুমানিক পাঁচ ফুট বাই দশ ফুটের মতো ছিল। সেখানে একটি কম্বল ও পাতলা একটি বালিশ ছাড়া তেমন কোনো সুবিধা ছিল না।

 

কক্ষের এক কোণে প্রস্রাব-পায়খানার ব্যবস্থা ছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেখান থেকে দুর্গন্ধ আসত। ওই পরিবেশে ঘুমাতেও সমস্যা হতো।

 

বক্তব্যে গুমের পর তাকে ভারতের শিলংয়ে নিয়ে যাওয়ার ঘটনাও তুলে ধরেন সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি জানান, দীর্ঘ সময় গাড়িতে করে নেওয়ার পর তাকে একটি নির্জন এলাকায় নামিয়ে দেওয়া হয়। তিনি বলেন, সেখানে তাকে ফুটপাতে দাঁড় করিয়ে রেখে বলা হয়েছিল, ‘ইউ আর ফ্রি নাও।’ পরে স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে তিনি পুলিশকে খবর দেওয়ার অনুরোধ করেন। পুলিশ এসে তাকে একটি বিট হাউসে নিয়ে যায় এবং পরে হাসপাতালে নেওয়া হয় বলে জানান তিনি।


আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে গুম হওয়া ব্যক্তি ও তাদের পরিবারের প্রতি গভীর সহানুভূতি ও সহমর্মিতা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে গুমের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলোর বিচার ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে বিশ্বজুড়ে ঐক্য ও সংহতির আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

 

আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে এ কথা বলেন তিনি।

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্র বা সরকার কর্তৃক গুমের বিরুদ্ধে বিশ্ববিবেককে জাগ্রত রাখতে বিশ্বজুড়ে আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস পালিত হচ্ছে। এবারের দিবসের প্রতিপাদ্য—‘ভিক্টিমস ফার্স্ট, অ্যাকশন্স নাউ’।

 

তিনি বলেন, বিশ্বের নিকৃষ্টতম অপরাধগুলোর মধ্যে গুম বা এনফোর্সড ডিজঅ্যাপিয়ারেন্স সবচেয়ে ভয়ংকর অপরাধগুলোর একটি। এটি একটি বৈশ্বিক সমস্যা এবং মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন। বিশেষ করে স্বৈরতান্ত্রিক ব্যবস্থা ও রাজনৈতিক সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে এ ধরনের অমানবিক ঘটনা ঘটে।

 

বাংলাদেশের বিগত সরকারের বিরুদ্ধে গুম-অপহরণের অভিযোগ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, গণতান্ত্রিক ও রাজনৈতিক অধিকার দমন করতে গুম-অপহরণের পথ বেছে নেওয়া হয়েছিল। গুমের শিকার ব্যক্তিদের মাসের পর মাস কিংবা বছরের পর বছর আটকে রাখতে গোপন বন্দিশালা তৈরি করা হয়েছিল, যা জনপরিসরে ‘আয়নাঘর’ নামে পরিচিতি পায়।

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশি-বিদেশি মানবাধিকার সংস্থাগুলোর হিসাব অনুযায়ী, আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে ব্যবহার করে বিভিন্ন সময়ে কমপক্ষে সাত শতাধিক মানুষকে গুম করা হয়েছে। বর্তমান সরকার প্রতিটি গুমের ঘটনা তদন্ত করে বিচার কার্যক্রম শুরু করেছে।

 

তিনি জানান, ভবিষ্যতে গুম বা এনফোর্সড ডিজঅ্যাপিয়ারেন্স বন্ধে পৃথক আইনি কাঠামো প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে জাতীয় সংসদে ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল, ২০২৬’ এবং ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল, ২০২৬’ উত্থাপন করা হয়েছে।

 

গুমের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের দুর্ভোগের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, গুম কিংবা অপহরণ শুধু কোনো ব্যক্তির হারিয়ে যাওয়া নয়; এর সঙ্গে একটি পরিবারের স্বপ্ন, সাধ ও আকাঙ্ক্ষার মৃত্যু জড়িয়ে থাকে। স্বজনদের দিন কাটে অনিশ্চয়তার মধ্যে, যেখানে স্বাভাবিকভাবে শোক পালনেরও সুযোগ থাকে না।

 

২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় গণঅভ্যুত্থানে ফ্যাসিস্ট চক্রের পতনের পর সৌভাগ্যবান কেউ কেউ ফিরে এসেছেন। তবে ইলিয়াস আলী ও চৌধুরী আলমের মতো অসংখ্য মানুষের এখনও কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আইসিসির রোম সনদের ৭(২) অনুচ্ছেদে গুমকে মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। গুমের ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক বিচারের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারে বিশ্বজুড়ে ঐক্যের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে সদ্য গঠিত ‘মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি’তে বাংলাদেশের যোগদানের বিষয়টি সরকার বিবেচনা করছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-২ শামা ওবায়েদ। সম্প্রতি একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি সরকারের এই অবস্থানের কথা প্রকাশ করেন।

 

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানান, পরিবর্তিত বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে গঠিত এই প্রতিরক্ষা জোটে যুক্ত হওয়া দেশের অর্থনীতি, সার্বভৌমত্ব এবং জনগণের স্বার্থে কতটা প্রভাব ফেলবে—চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে তা গভীরভাবে মূল্যায়ন করা হবে।

 

তিনি উল্লেখ করেন, বিশ্বের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় বিভিন্ন দেশ আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক জোটে যুক্ত হচ্ছে। সার্ক, বিমসটেক, ইন্দো-প্যাসিফিক বা ব্রিকসের মতোই বিশ্বজুড়ে একাধিক কৌশলগত জোটের বিস্তার ঘটছে।

উল্লেখ্য, গত ৭ আগস্ট পবিত্র নগরী মক্কায় সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান এই ত্রিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা চুক্তিতে স্বাক্ষর করে। এই জোটটি ন্যাটোর আদলে গঠিত, যার মূল শর্ত হলো—সদস্য যেকোনো একটি দেশ আক্রান্ত হলে তা তিনটি দেশের ওপর যৌথ আক্রমণ হিসেবে গণ্য হবে। এটি কেবল সামরিক সহায়তার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং সদস্য দেশগুলোর অর্থায়ন, আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করাও এর অন্যতম লক্ষ্য। একই সঙ্গে আগ্রহী অন্যান্য দেশের জন্যও এতে যোগ দেওয়ার সুযোগ খোলা রাখা হয়েছে।

 

চুক্তির সম্ভাব্য লাভ-ক্ষতি ও বাংলাদেশের সম্পর্কের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে শামা ওবায়েদ বলেন, আমাদের পররাষ্ট্রনীতি এবং জাতীয় স্বার্থ বিবেচনা করেই পদক্ষপে নেওয়া হবে। এতে দেশের অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক প্রভাব এবং কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরি হবে কি না, তা প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে।

 

তিনি আরও স্মরণ করিয়ে দেন যে, যৌথ জোটভুক্ত সৌদি আরবের সঙ্গে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক শ্রমবাজারের সম্পর্ক রয়েছে, যেখানে প্রায় ৪০ লাখ প্রবাসী নিয়োজিত। পাশাপাশি তুরস্কের সঙ্গেও সম্প্রতি বাংলাদেশের কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক আলোচনা বেশ জোরদার হয়েছে। তাই সার্বিক দিক পর্যালোচনা করেই বাংলাদেশ সরকার এই মক্কা চুক্তির বিষয়ে তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবে।

সৌদি-তুর্কি-পাকিস্তান সামরিক জোটে বাংলাদেশ যোগ দেবে কি না, জানালেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

নেত্রকোনার কেন্দুয়ায় এক স্কুলছাত্রীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে বিএনপি নেতা বকুল মিয়ার বিরুদ্ধে। ওই ছাত্রী বর্তমানে ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা বলে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।

 

এ ঘটনায় বকুল মিয়াসহ পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরও কয়েকজনকে আসামি করে মামলা হয়েছে। মামলার দ্বিতীয় আসামি আবু মিয়াকে (৩৬) গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তবে প্রধান আসামি বকুল মিয়া পলাতক রয়েছেন। তাকে গ্রেফতার করতে খুঁজছে পুলিশ।

 

বুধবার (২৬ আগস্ট) রাতে কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তরিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এর আগে মঙ্গলবার রাতে ভুক্তভোগী ছাত্রীর বাবা বাদী হয়ে মামলাটি করেন। মামলার পর রাতেই অভিযান চালিয়ে আবু মিয়াকে গ্রেফতার করা হয়।

 

মামলার এজাহার ও ভুক্তভোগীর পরিবারের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ওই ছাত্রী স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী। সে ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ার সময় ২০২২ সালের ২০ নভেম্বর বিএনপি নেতা বকুল মিয়া তাকে একটি বাড়িতে নিয়ে ধর্ষণ করেন। এ সময় ঘটনার ভিডিও মোবাইল ফোনে ধারণ করা হয়। পরে ওই ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে বিভিন্ন সময় তাকে ধর্ষণ করা হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

এজাহারে আরও বলা হয়, ২০২৫ সালের মার্চ থেকে এপ্রিলের মধ্যে বকুল মিয়ার সহযোগী এক নারী ওই ছাত্রীকে একটি ভাড়া বাসায় নিয়ে যান। সেখানে বকুলের নেতৃত্বে একাধিক ব্যক্তি তাকে ধর্ষণ করেন। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ও তাকে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

 

পরিবারের দাবি, গত ১ আগস্ট ওই ছাত্রীর একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি পরিবারের সদস্যদের নজরে আসে। পরে ১৮ আগস্ট একটি বেসরকারি ক্লিনিকে পরীক্ষা করানো হলে চিকিৎসকেরা তাকে ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা বলে জানান।

 

ভুক্তভোগী ওই স্কুলছাত্রীর ভাষ্য, ‘ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে বকুল মিয়া ও আবু মিয়া আমাকে বিভিন্ন বাসায় নিয়ে যেত। তখন আমি কিছু বুঝতাম না। তারা অন্য লোকজন দিয়েও আমাকে ধর্ষণ করিয়েছে। আমি বিষয়টি প্রকাশ করায় তারা আমাকে মেরে ফেলতে পারে। আমি এর কঠিন বিচার চাই।’

 

অভিযোগের বিষয়ে কেন্দুয়া পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, ‘ঘটনাটি সম্পর্কে আমরা অবগত হয়েছি। আজ রাতেই বকুল মিয়ার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

 

কেন্দুয়া থানার ওসি মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, মামলার দ্বিতীয় আসামি আবু মিয়াকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেফতারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান চলছে।

দলবদ্ধ ধ/র্ষণে অন্তঃসত্ত্বা স্কুলছাত্রী, বিএনপি নেতাকে খুঁজছে পুলিশ

অবিলম্বে তৈরি পোশাক শ্রমিকদের জন্য নিম্নতম মজুরি বোর্ড পুনর্গঠন ও কার্যক্রম শুরুর দাবি

 

রাকিবুল ইসলাম রঞ্জু:

বাংলাদেশের তৈরি পোশাক (RMG) শিল্পে নিয়োজিত শ্রমিক-কর্মচারীদের বিদ্যমান নিম্নতম মজুরি পুনর্নির্ধারণের লক্ষ্যে অবিলম্বে নিম্নতম মজুরি বোর্ড পুনর্গঠন করে কার্যক্রম শুরু করার দাবি জানিয়েছে গার্মেন্টস শ্রমিক পরিষদ।

 

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, শ্রম মন্ত্রী, শ্রম সচিব, চেয়ারম্যান, নিম্নতম মজুরি বোর্ড, সভাপতি বিজিএমইএ, সভাপতি বিকেএমইএ কে স্মারকলিপি প্রদান করে ।

 

সংগঠনের আহ্বায়ক লাভলী ইয়াসমীন ও সদস্য সচিব নাহিদুল হাসান নয়ন এক বিবৃতিতে বলেন, দেশের রপ্তানি আয়, অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানের অন্যতম প্রধান ভিত্তি তৈরি পোশাক শিল্প। এই শিল্পের সাফল্যের পেছনে শ্রমিকদের শ্রম, দক্ষতা ও নিরলস পরিশ্রমের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। অথচ ক্রমবর্ধমান জীবনযাত্রার ব্যয়ের তুলনায় শ্রমিকদের বর্তমান মজুরি অত্যন্ত অপ্রতুল।

 

বিবৃতিতে অনুষ্ঠানে আরো উপস্তিত ছিলেন গার্মেন্টস শ্রমিক পরিষদ এর যুগ্ন-আহবায়ক মরিয়ম আক্তান, যুগ্ন-সদস্য সচিব মোরশেদ আলম, কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য শ্যাম দুলাল, বিভিন্ন ফেডারেশন এর কেন্দ্রীয় নেতা সর্ব বনাব আখি, দুলাল, রোজিনা অক্তার, রুপালী আক্তার, গোলাম মোস্তফা, সিরাজুল ইসলাম প্রমুখ।

 

বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬-এর ধারা ১৩৯(৬) অনুযায়ী নির্ধারিত নিম্নতম মজুরি প্রতি তিন বছর অন্তর পুনর্নির্ধারণের বিধান রয়েছে। ২০২৩ সালে তৈরি পোশাক শ্রমিকদের জন্য বর্তমান ১২,৫০০ টাকা নিম্নতম মজুরি নির্ধারণ করা হয় এবং সংশ্লিষ্ট গেজেট ২০ ডিসেম্বর ২০২৩ প্রকাশিত হয়। ফলে বর্তমান বাস্তবতায় নতুন করে মজুরি পুনর্নির্ধারণের প্রক্রিয়া এখনই শুরু করা জরুরি।

 

গার্মেন্টস শ্রমিক পরিষদ বলছে, গত কয়েক বছরে খাদ্য, বাসাভাড়া, চিকিৎসা, শিক্ষা, পরিবহন, পানি-বিদ্যুৎ-গ্যাসসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় সব খাতে ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। কিন্তু শ্রমিকদের আয় সেই অনুপাতে বৃদ্ধি পায়নি। ফলে বর্তমান মজুরিতে শ্রমিক ও তাদের পরিবারের মৌলিক প্রয়োজন পূরণ করা ক্রমেই কঠিন হয়ে পড়েছে।

 

বিশেষ করে খাদ্য ও পুষ্টির ব্যয় বৃদ্ধি শ্রমিক পরিবারের জীবনযাত্রায় মারাত্মক চাপ সৃষ্টি করেছে। অপর্যাপ্ত আয়ের কারণে অনেক শ্রমিককে ঋণগ্রস্ত হতে হচ্ছে, অতিরিক্ত সময় কাজ করতে হচ্ছে এবং খাদ্য, চিকিৎসা ও শিক্ষার মতো মৌলিক ব্যয় কমিয়ে জীবনযাপন করতে হচ্ছে। শিল্পাঞ্চলগুলোতে ক্রমবর্ধমান বাসাভাড়াও শ্রমিক পরিবারের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করছে।

 

বিবৃতিতে বলা হয়, “মজুরি কোনো দয়া বা অনুগ্রহ নয়; এটি শ্রমিকের ন্যায্য অধিকার।” শ্রমিক ও তার পরিবারের মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিশ্চিত করতে শুধু প্রচলিত ‘Minimum Wage’ নয়, বাস্তব জীবনযাত্রার ব্যয় বিবেচনায় Living Wage বা জীবনধারণ উপযোগী মজুরি নির্ধারণের দিকে এগিয়ে যেতে হবে।

 

গার্মেন্টস শ্রমিক পরিষদ নিম্নলিখিত দাবিসমূহ উত্থাপন করেছে—

তৈরি পোশাক শিল্পের শ্রমিকদের নিম্নতম মজুরি পুনর্নির্ধারণের লক্ষ্যে অবিলম্বে নিম্নতম মজুরি বোর্ড পুনর্গঠন করে কার্যক্রম শুরু করতে হবে।

মজুরি বোর্ডে প্রকৃত, স্বাধীন ও প্রতিনিধিত্বশীল শ্রমিক প্রতিনিধি নিশ্চিত করতে হবে।

খাদ্য, পুষ্টি, বাসাভাড়া, চিকিৎসা, শিক্ষা, পরিবহন, শিশু পরিচর্যা, ইউটিলিটি ব্যয়, মূল্যস্ফীতি ও সামাজিক প্রয়োজন বিবেচনায় নিয়ে নতুন মজুরি নির্ধারণ করতে হবে।

নতুন মজুরি কাঠামোকে Living Wage-কেন্দ্রিক করতে হবে, যাতে শ্রমিক ও তার পরিবারের মৌলিক প্রয়োজন পূরণ হয়।

মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নিয়মিত মজুরি সমন্বয়ের ব্যবস্থা বিবেচনা করতে হবে।

সাব-কন্ট্রাক্ট, ছোট ও অনিবন্ধিত কারখানাসহ তৈরি পোশাক শিল্পের সকল শ্রমিককে নতুন মজুরি কাঠামোর কার্যকর আওতায় আনতে হবে।

 

শ্রমিক সংগঠন, মালিকপক্ষ, সরকার ও সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের অংশগ্রহণে স্বচ্ছ ও তথ্যভিত্তিক মজুরি নির্ধারণ প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে হবে।

 

শ্রমিক পরিবারের প্রকৃত জীবনযাত্রার ব্যয় নিরূপণে একটি স্বচ্ছ, নির্ভরযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক জরিপ পরিচালনা করতে হবে।

 

নেতৃবৃন্দ বলেন, শ্রমিকের জীবনমান উন্নয়ন ছাড়া তৈরি পোশাক শিল্পের টেকসই উন্নয়ন ও দীর্ঘমেয়াদি প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। ন্যায্য ও জীবনধারণ উপযোগী মজুরি নিশ্চিত হলে শ্রমিকের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, শ্রমিক-মালিক সম্পর্কের উন্নয়ন এবং শিল্পের স্থিতিশীলতা আরও শক্তিশালী হবে।

 

তারা শ্রমিকের ন্যায্য অধিকার ও মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিশ্চিত করতে অবিলম্বে নিম্নতম মজুরি বোর্ড পুনর্গঠন, কার্যক্রম শুরু এবং জীবনধারণ উপযোগী নতুন মজুরি কাঠামো নির্ধারণের জন্য সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

অবিলম্বে তৈরি পোশাক শ্রমিকদের জন্য নিম্নতম মজুরি বোর্ড পুনর্গঠন ও কার্যক্রম শুরুর দাবি

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর শান্তি, ন্যায়, সহমর্মিতা, ক্ষমা ও মানবিকতার আদর্শ অনুসরণ করে ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে ন্যায় ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

 

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) দেওয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মহানবী (সা.)-এর জীবন ও আদর্শ অনুসরণ করে একটি শান্তিপূর্ণ, ন্যায়ভিত্তিক ও কল্যাণমুখী সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।

 

তিনি বলেন, মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর শুভাগমন মানবসভ্যতার ইতিহাসে এক অনন্য ও মহিমান্বিত ঘটনা। তার আবির্ভাব মানুষের জন্য সত্য ও আলোর এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছিল। তিনি মানুষকে তাওহিদের দিকে আহ্বান করার পাশাপাশি সত্য, ন্যায়, সাম্য, ভ্রাতৃত্ব, মানবিকতা ও শান্তির শিক্ষা দিয়েছেন। তাঁর পবিত্র জীবন ও কর্ম সমগ্র মানবজাতির জন্য চিরন্তন পথনির্দেশ ও অনুকরণীয় আদর্শ হয়ে আছে।

 

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে বাংলাদেশের সর্বস্তরের ধর্মপ্রাণ মুসলমানসহ বিশ্বের সমগ্র মুসলিম উম্মাহকে আন্তরিক মোবারকবাদ ও শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের দরবারে অশেষ শুকরিয়া আদায় করছি, যিনি মানবজাতির হেদায়েত ও কল্যাণের জন্য সর্বশেষ নবী ও রসূল, রহমাতুল্লিল আলামিন হজরত মুহাম্মদ (সা.)-কে পৃথিবীতে প্রেরণ করেছেন। তার প্রতি অগণিত দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক।’

 

পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেছেন, ‘নিশ্চয়ই তোমাদের জন্য আল্লাহর রসূলের মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ’ (সূরা আল-আহযাব, আয়াত: ২১)। মহানবী (সা.)-এর জীবন ছিল পবিত্র কুরআনের শিক্ষার বাস্তব ও জীবন্ত প্রতিফলন। সত্যবাদিতা, আমানতদারি, ন্যায়বিচার, ক্ষমাশীলতা, সহনশীলতা, দয়া ও পরোপকারের অনন্য দৃষ্টান্ত তিনি স্থাপন করেছেন। তার জীবনাচরণে আমরা যেমন আল্লাহর প্রতি গভীর আনুগত্যের শিক্ষা পাই, তেমনি মানুষের প্রতি ভালোবাসা, দায়িত্ববোধ ও মহানুভবতার অপূর্ব প্রকাশ দেখতে পাই।’

 

মহানবী (সা.) জাতি, বর্ণ, গোত্র, ভাষা ও সামাজিক অবস্থানের বিভেদ অতিক্রম করে মানুষের মর্যাদা ও অধিকার প্রতিষ্ঠায় জোর দিয়েছেন উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, তিনি এতিম, দরিদ্র, অসহায় ও বঞ্চিত মানুষের প্রতি দায়িত্বশীল ও সহমর্মী হওয়ার শিক্ষা দিয়েছেন। পরিবার, প্রতিবেশী, নারী, শিশু এবং সমাজের দুর্বল ও প্রান্তিক মানুষের অধিকার রক্ষার ওপর তিনি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন। তাঁর শিক্ষা মানুষে মানুষে বিভেদ নয়, বরং ভ্রাতৃত্ব, সম্প্রীতি ও পারস্পরিক দায়িত্ববোধের বন্ধনকে সুদৃঢ় করে।

 

তিনি বলেন, বর্তমান বিশ্ব নানা সংকট ও চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে অতিক্রম করছে। যুদ্ধ, সংঘাত, হিংসা, বৈষম্য, অসহিষ্ণুতা ও নৈতিক অবক্ষয় মানুষের শান্তি, নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক জীবনকে ব্যাহত করছে। এমন এক সময়ে মহানবী (সা.)-এর শান্তি, ন্যায়, সহমর্মিতা, ক্ষমা ও মানবিকতার শিক্ষা অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। তার জীবনাদর্শ অনুসরণ করে ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে ন্যায়, দায়িত্ববোধ ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে একটি শান্তিপূর্ণ ও কল্যাণমুখী সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের তরুণ প্রজন্মই দেশের ভবিষ্যৎ। তাদের মাদক, সন্ত্রাস, উগ্রতা ও অপরাধের পথ থেকে দূরে রেখে জ্ঞান, সৃজনশীলতা, নৈতিকতা, মানবিকতা ও দেশপ্রেমের চেতনায় গড়ে তুলতে মহানবী (সা.)-এর জীবন ও আদর্শ হতে পারে এক অনন্য প্রেরণার উৎস। তার আদর্শ তরুণদের সত্য ও ন্যায়ের পথে অবিচল থাকতে, অন্যের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে এবং সমাজ ও দেশের প্রতি দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনে উদ্বুদ্ধ করতে পারে।’

 

তিনি বলেন, ‘মহানবী (সা.)-এর শিক্ষা শুধু মুসলমানদের ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক জীবনের জন্য নয়, মানবিক ও নৈতিক মূল্যবোধের বিকাশের ক্ষেত্রেও গভীর তাৎপর্য বহন করে। তার আদর্শকে আমাদের ব্যক্তিজীবন, পারিবারিক জীবন ও সামাজিক আচরণে ধারণ করতে হবে। পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহমর্মিতা, সহনশীলতা ও ন্যায়বোধকে শক্তিশালী করার মধ্য দিয়েই আমরা একটি শান্তিপূর্ণ, ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারি।’

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মহান আল্লাহ তায়ালা আমাদের প্রিয় নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর সুমহান জীবনাদর্শ ও সুন্নাহ অনুসরণ করার তাওফিক দান করুন। তার শিক্ষা ও আদর্শ আমাদের ব্যক্তি ও সমাজজীবনে সত্য, ন্যায়, সাম্য, ভ্রাতৃত্ব ও মানবিকতার চেতনাকে আরও সুদৃঢ় করুক। বাংলাদেশসহ সমগ্র বিশ্বে শান্তি, ন্যায়, সাম্য, সমৃদ্ধি ও মানবিকতা প্রতিষ্ঠিত হোক-এই পবিত্র দিনে এটাই আমার আন্তরিক প্রার্থনা।’

 

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে তিনি দেশবাসীসহ সমগ্র মুসলিম উম্মাহর প্রতি আন্তরিক মোবারকবাদ ও শুভেচ্ছা জানান।

মহানবীর আদর্শ অনুসরণে শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলা ও হত্যাচেষ্টা মামলায় তেজগাঁও থানা শ্রমিকলীগের সভাপতি গ্রেপ্তার মো. আবুল কাশেম পাটোয়ারী ওরফে ‘হাতকাটা কাশেম’ এর পাঁচ দিনের রিমান্ডে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।

 

আজ মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) দুপুরে শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলামের আদালত এই আদেশ দেন।

 

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মুহাম্মদ শামসুদ্দোহা সুমন এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।

 

গত ১৭ আগস্ট রাজধানীর কারওয়ান বাজার এলাকা থেকে কাশেমকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন ১৮ আগস্ট আসামির জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। এরপর গত ২০ আগস্ট মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও তেজগাঁও থানার পুলিশ পরিদর্শক আবদুল হান্নান আসামিকে এই মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। আদালত আসামির উপস্থিতিতে শুনানির জন্য দিন রাখেন সোমবার।

 

এদিকে, আসামিপক্ষে আইনজীবী মনির হোসেন সুমন ও মাসুদ রানা রিমান্ড বাতিলপূর্বক জামিনের প্রার্থনা করেন। রাষ্ট্রপক্ষ থেকে এর বিরোধিতা করা হয়। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত আসামির পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

 

২০২৪ সালের ২২ আগস্ট খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলার অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১১৩ জনের বিরুদ্ধে তেজগাঁও থানায় মামলা করা হয়। ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক বেল্লাল হোসেন মামলাটি করেন।

 

মামলায় উল্লেখযোগ্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, তেজগাঁও থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুর রশিদ, সাধারণ সম্পাদক ও ওয়ার্ড কাউন্সিলর শামীম হাসান এবং ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সৈয়দ মিজানুর রহমান।

 

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০১৫ সালের ২০ এপ্রিল ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপির মেয়র প্রার্থী তাবিথ আউয়ালের নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেন খালেদা জিয়া। ওই সময় রাজধানীর কারওয়ান বাজারে বাপেক্স ভবনের সামনে তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে আওয়ামী লীগ ও এর বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা তার গাড়িবহরে হামলা চালান বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

 

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আব্দুল হান্নান জানান, কাশেম এই মামলাত ৪৯ নম্বর আসামি। তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। পরে তাকে রিমান্ডে নেওয়া হবে।

খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলা: শ্রমিকলীগ নেতা হাতকাটা কাশেম ৫ দিনের রিমান্ডে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জামিয়া ইউনুছিয়া মাদ্রাসাশিক্ষকদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতৃবৃন্দ।

 

শনিবার (২৯ আগস্ট) সকালে, এনসিপি’র মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, ন্যাশনাল ওলামা অ্যালায়েন্সের আহ্বায়ক আশরাফ উদ্দিন মাহদি, কুমিল্লা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আতাউল্লাহ, জাতীয় যুবশক্তির সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার ফরহাদ সোহেল এবং এনসিপি’র সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ জিহান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

 

এ সময় এনসিপি নেতৃবৃন্দ জামিয়া ইউনুছিয়া, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মুহতামিম ও জেলা হেফাজতে ইসলামের আমির মাওলানা মুবারাকুল্লাহ, জামিয়ার মুহাদ্দিস ও জেলা হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মারুফ কাসেমী, জেলা হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাওলানা শরীফ উদ্দিন আফতাবী এবং জেলা হেফাজতে ইসলামের কোষাধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুল হাফিজের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।

 

সাক্ষাৎকালে পারস্পরিক সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি ও মহব্বত অটুট রাখার অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মাদ্রাসাশিক্ষকদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করলেন এনসিপি নেতারা

বিএনপিকে এখনই আ. লীগের সাথে তুলনা করতে চান না বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তর অঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম।

 

শনিবার (২৯ আগস্ট) দুপুরে কুমিল্লা নগরীর একটি পার্টি সেন্টারে আয়োজিত এনসিপি কুমিল্লা উত্তর ও দক্ষিণ জেলা এবং মহানগরের সাংগঠনিক সমন্বয় সভা রাজনৈতিক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

 

সারজিস বলেন, ৬ মাস যেতে না যেতেই মানুষ কিন্তু বিএনপিকে নিয়ে অন্য কিছু চিন্তা করতে শুরু করেছে। আমরা সেই তুলনা এখনি করতে চাই না। আমরা বিএনপিকে আ. লীগের সাথে তুলনা করতে চাই না। আওয়ামী লীগ ২০০৯ সালে পিলখানা হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। তারা ২০১৩ সালে শাপলা চত্বরে হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে।

 

তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগ ২৪ এর গণঅভ্যুত্থানে ১৪’শ এর বেশি মানুষের জীবন কেড়ে নিয়ে আরেকটা গণহত্যা ঘটিয়েছে। আওয়ামী লীগ হচ্ছে গণহত্যাকারী। আওয়ামী লীগ হচ্ছে খুনী। আওয়ামী লীগ হচ্ছে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়া একটা নরপিশাচ। তাই আমরা বিএনপিকে এখনই আওয়ামী লীগের সাথে তুলনা করতে চাই না। আগামীতেও করতে চাই না।

আমরা বিএনপিকে এখনই আ. লীগের সাথে তুলনা করতে চাই না: সারজিস আলম

 

সাংবিধানিক ও রাষ্ট্রীয় কাঠামোর সংস্কার, জুলাইয়ে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের বিচার, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের সমাধান, পরিবেশ সুরক্ষাসহ ৯টি দাবি জানিয়েছে ‘অল্টারনেটিভস’।

 

শনিবার (২৯ আগস্ট) রাজধানী সেগুনবাগিচায় আয়োজিত ‘দেশের অবস্থা’ শীর্ষক প্রেস মিটে সংগঠনটির জাতীয় সাংগঠনিক কমিটির পক্ষ থেকে এসব দাবি তুলে ধরা হয়।

 

প্রেস মিটে ৯ দফা দাবি ঘোষণা করেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক তথ্য উপদেষ্টা ও প্ল্যাটফর্মটির সংগঠক মাহফুজ আলম।

 

অল্টারনেটিভসের পক্ষ থেকে প্রচারিত বিবৃতিতে বলা হয়, জুলাইয়ের শহীদদের আত্মত্যাগ ও জনগণের আন্দোলনের পরও প্রত্যাশিত ‘নতুন বাংলাদেশ’ প্রতিষ্ঠিত হয়নি। তাদের মূল্যায়ন অনুযায়ী, কাঠামোগতভাবে ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থা পুরোপুরি পরিবর্তিত হয়নি, কেবল সরকারের পরিবর্তন হয়েছে।

 

এ অবস্থায় স্বাধীনভাবে কথা বলা, সংগঠিত হওয়া ও প্রতিবাদ অব্যাহত রাখার আহ্বান জানানো হয়।

 

অল্টারনেটিভসের ৯ দফা দাবি—

 

১. সাংবিধানিক ও রাষ্ট্রের কাঠামোগত সংস্কারের রূপরেখা প্রণয়ন এবং অর্থনৈতিক সংস্কারের মাধ্যমে ধনী-গরিবের বৈষম্য কমিয়ে অর্থনৈতিক পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।

 

২. জুলাই গণহত্যার বিচার, ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা ও নিপীড়নের শিকার ব্যক্তিদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ, রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে গ্রেফতার ব্যক্তিদের এবং আন্দোলনে অংশ নেওয়া বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষের স্বীকৃতির দাবি জানানো হয়েছে।

 

৩. মানবাধিকার কমিশন, গুম কমিশন ও এসআরবি আইন কার্যকর করার ক্ষেত্রে মানবাধিকার সুরক্ষা, নিরপেক্ষ তদন্ত, জবাবদিহি, ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার ও ক্ষতিপূরণ এবং আইনের শাসন নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে।

 

৪. বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট সমাধান, কুইক রেন্টাল ও অসম বিদ্যুৎ-জ্বালানি চুক্তির সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহির আওতায় আনা এবং আমদানি, লুটেরা পুঁজিপতি ও বিদেশি কোম্পানি-নির্ভরতা কমানোর দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি, নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসার ও জ্বালানি সার্বভৌমত্ব নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে।

 

৫. ‘স্বাস্থ্যসেবা কর্মী ও প্রতিষ্ঠান সুরক্ষা অধ্যাদেশ–২০২৫’ এবং ‘রোগী সুরক্ষা ও প্রতিকার অধ্যাদেশ–২০২৫’ আইন আকারে প্রণয়নের দাবি জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে, অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের দাম সুলভ রাখা, মানসম্মত উৎপাদন নিশ্চিত করা এবং ভারসাম্যপূর্ণ ওষুধনীতি প্রণয়নের দাবি রয়েছে।

 

৬. নারী কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়ন, যৌন নিপীড়ন ও শিশু নিপীড়ন প্রতিরোধ, ভিন্নমত ও বহুত্ববাদী সাংস্কৃতিক চর্চার পরিবেশ নিশ্চিত এবং ‘সাংস্কৃতিক ফ্যাসিবাদ’ মোকাবেলায় উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।

 

৭. শ্রম কমিশনের সুপারিশ ও শ্রম আইন ২০২৬ পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন, বন্ধ কলকারখানা চালু, উৎপাদন ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং চাকরিচ্যুত শ্রমিকদের পুনঃকর্মসংস্থানের দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি সার সংকট সমাধান, কৃষকদের দুরারোগ্য ব্যাধির চিকিৎসায় রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ এবং সরকারি পাটকল, চিনিকল ও অন্যান্য কারখানা বেসরকারি খাতে বরাদ্দের ক্ষেত্রে শ্রমিক ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর স্বার্থ ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে।

 

৮. শিক্ষাব্যবস্থা ঢেলে সাজাতে স্বাধীন শিক্ষা কমিশন গঠন, ছাত্র ও যুবসমাজের কর্মসংস্থান সংকট নিরসনে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দক্ষতা উন্নয়ন ও উদ্যোক্তাদের পৃষ্ঠপোষকতার দাবি জানানো হয়েছে। পাশাপাশি, দলীয় পক্ষপাতমুক্ত স্বচ্ছ নিয়োগ ব্যবস্থা এবং বেসরকারি খাতে নিরাপদ ও জেন্ডার-সংবেদনশীল কর্মপরিবেশ, ন্যায্য মজুরি ও চাকরির সুরক্ষা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।

 

৯. প্রাণ, প্রকৃতি ও পরিবেশ ধ্বংসকারী উন্নয়ন প্রকল্প বাতিল, জলবায়ু পরিবর্তনে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ভারসাম্যপূর্ণ উন্নয়ন ও জলবায়ু সহনশীল প্রকল্প বাস্তবায়নের দাবি জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে বন্যা, নদীভাঙন ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে বাস্তুচ্যুত মানুষের পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

জুলাই হত্যার বিচার ও রাষ্ট্র সংস্কারসহ ৯ দাবি অল্টারনেটিভসের

আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে গুম হওয়া ব্যক্তি ও তাদের পরিবারের প্রতি গভীর সহানুভূতি ও সহমর্মিতা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে গুমের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলোর বিচার ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে বিশ্বজুড়ে ঐক্য ও সংহতির আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

 

আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে এ কথা বলেন তিনি।

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্র বা সরকার কর্তৃক গুমের বিরুদ্ধে বিশ্ববিবেককে জাগ্রত রাখতে বিশ্বজুড়ে আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস পালিত হচ্ছে। এবারের দিবসের প্রতিপাদ্য—‘ভিক্টিমস ফার্স্ট, অ্যাকশন্স নাউ’।

 

তিনি বলেন, বিশ্বের নিকৃষ্টতম অপরাধগুলোর মধ্যে গুম বা এনফোর্সড ডিজঅ্যাপিয়ারেন্স সবচেয়ে ভয়ংকর অপরাধগুলোর একটি। এটি একটি বৈশ্বিক সমস্যা এবং মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন। বিশেষ করে স্বৈরতান্ত্রিক ব্যবস্থা ও রাজনৈতিক সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে এ ধরনের অমানবিক ঘটনা ঘটে।

 

বাংলাদেশের বিগত সরকারের বিরুদ্ধে গুম-অপহরণের অভিযোগ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, গণতান্ত্রিক ও রাজনৈতিক অধিকার দমন করতে গুম-অপহরণের পথ বেছে নেওয়া হয়েছিল। গুমের শিকার ব্যক্তিদের মাসের পর মাস কিংবা বছরের পর বছর আটকে রাখতে গোপন বন্দিশালা তৈরি করা হয়েছিল, যা জনপরিসরে ‘আয়নাঘর’ নামে পরিচিতি পায়।

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশি-বিদেশি মানবাধিকার সংস্থাগুলোর হিসাব অনুযায়ী, আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে ব্যবহার করে বিভিন্ন সময়ে কমপক্ষে সাত শতাধিক মানুষকে গুম করা হয়েছে। বর্তমান সরকার প্রতিটি গুমের ঘটনা তদন্ত করে বিচার কার্যক্রম শুরু করেছে।

 

তিনি জানান, ভবিষ্যতে গুম বা এনফোর্সড ডিজঅ্যাপিয়ারেন্স বন্ধে পৃথক আইনি কাঠামো প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে জাতীয় সংসদে ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল, ২০২৬’ এবং ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল, ২০২৬’ উত্থাপন করা হয়েছে।

 

গুমের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের দুর্ভোগের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, গুম কিংবা অপহরণ শুধু কোনো ব্যক্তির হারিয়ে যাওয়া নয়; এর সঙ্গে একটি পরিবারের স্বপ্ন, সাধ ও আকাঙ্ক্ষার মৃত্যু জড়িয়ে থাকে। স্বজনদের দিন কাটে অনিশ্চয়তার মধ্যে, যেখানে স্বাভাবিকভাবে শোক পালনেরও সুযোগ থাকে না।

 

২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় গণঅভ্যুত্থানে ফ্যাসিস্ট চক্রের পতনের পর সৌভাগ্যবান কেউ কেউ ফিরে এসেছেন। তবে ইলিয়াস আলী ও চৌধুরী আলমের মতো অসংখ্য মানুষের এখনও কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আইসিসির রোম সনদের ৭(২) অনুচ্ছেদে গুমকে মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। গুমের ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক বিচারের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারে বিশ্বজুড়ে ঐক্যের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

রাজধানীতে অনুমোদনহীন ডাবল ডেকার স্লিপার বাস চলাচলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একইসঙ্গে ঢাকায় অটোরিকশা চলাচল নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবস্থাপনায় পৃথক নীতিমালা প্রণয়নের সিদ্ধান্ত হয়েছে।

 

শনিবার (২৯ আগস্ট) প্রধানমন্ত্রীর তেজগাঁও কার্যালয়ে রাজধানীর যানজট নিরসন, ট্রাফিক ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে আয়োজিত বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

 

বৈঠকে ঢাকার যানজট পরিস্থিতি, গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও ফ্লাইওভারে যানবাহনের চাপ, গণপরিবহন ব্যবস্থাপনা, বাস টার্মিনাল, পার্কিং সুবিধা এবং ট্রাফিক ব্যবস্থার আধুনিকায়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

 

রাজধানীর গণপরিবহন ব্যবস্থাকে আরও সুশৃঙ্খল করতে ফুলবাড়িয়া বাস টার্মিনাল কেরানীগঞ্জে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ জন্য স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় জমি অধিগ্রহণ করা হবে।

 

ঝিলমিল প্রকল্পের ১৫ একর জমিতে আগামী চার মাসের মধ্যে একটি অস্থায়ী বাস টার্মিনাল নির্মাণের সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, গাবতলী বাস টার্মিনালের পেছনের অংশ সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। টার্মিনালের সক্ষমতা বাড়াতে সড়ক বিভাগ, ট্রাফিক পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

 

রাজধানীর যানজট কমাতে কারওয়ান বাজারের কিচেন মার্কেট গাবতলীতে স্থানান্তরের সিদ্ধান্তও হয়েছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ করতে বলা হয়েছে।

 

এ ছাড়া এক্সপ্রেসওয়ে ও ফ্লাইওভারের টোল প্লাজাগুলোতে ইলেকট্রনিক টোল কালেকশন (ইটিসি) ব্যবস্থা চালুর সিদ্ধান্ত হয়েছে।

 

যাত্রাবাড়ী-গুলিস্তান ফ্লাইওভারের আশপাশের দীর্ঘদিনের যানজট নিরসনে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) আগের প্রতিবেদন পর্যালোচনা করতে বলা হয়েছে। প্রয়োজনীয় সুপারিশসহ আগামী ১৫ দিনের মধ্যে নতুন প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

 

সচিবালয়কেন্দ্রিক যানবাহনের চাপ কমাতে ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে পার্কিংয়ের ব্যবস্থা করা সম্ভব কি না, তা খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

 

এছাড়া রাজধানীর বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

 

বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুস সালাম, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিবসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

অনুমোদনহীন স্লিপার বাসের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, আমি হোম মিনিস্টার। আমি নিজেই এনফোর্সড ডিসঅ্যাপিয়ারেন্সের শিকার। আমি চাইব না বাংলাদেশে আর কেউ গুম হোক। আমরা এমন একটি আইন চাই, যাতে প্রত্যেক ভুক্তভোগী আদালতে যেতে পারে, বিচার পায় এবং দায়ীদের শাস্তি নিশ্চিত হয়।

 

আন্তর্জাতিক গুমের শিকার ব্যক্তিদের স্মরণ দিবস উপলক্ষে শনিবার (২৯ আগস্ট) বিকালে রাজধানীর বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে ‘মায়ের ডাক’ আয়োজিত প্রদর্শনী ও প্যানেল আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

 

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রথম অধিবেশনে গুম কমিশন অধ্যাদেশ পাশ করা হয়নি, কারণ শুধু কমিশন গঠন করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। সরকার এমন একটি আইন সংসদে এনেছে, যেখানে গুমের শিকার ব্যক্তি বা তার পরিবার সরাসরি আদালতে গিয়ে বিচার চাইতে পারবে।

 

তিনি বলেন, গুম কত প্রকার, কোন অপরাধে কী শাস্তি হবে, তদন্ত করবে কারা, ভুক্তভোগীর কী কী অধিকার থাকবে—সবই আইনে নির্ধারণ করা হয়েছে। এমনকি নিখোঁজ ব্যক্তিকে খুঁজে না পাওয়া গেলে তার উত্তরাধিকারীরা সম্পত্তির অধিকার পাবেন এবং ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থাও থাকবে।

 

সালাহউদ্দিন আহমদ আরও বলেন, এই আইন নিয়ে যাদের মতামত আছে, তারা সংসদীয় কমিটিতে দিতে পারেন। আইন সংশোধনের সুযোগ সব সময় থাকবে। আমাদের আন্তরিকতার কোনো অভাব নেই।

র্যাব প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সরকার বাহিনীটি বিলুপ্ত না করে জবাবদিহিমূলক সংস্কারের পথ নিয়েছে। তিনি বলেন, আধুনিক সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় একটি এলিট ফোর্স দরকার। তবে আমরা তাদের জবাবদিহি, স্বচ্ছতা ও মানবাধিকার সুরক্ষার ব্যবস্থা নিশ্চিত করেছি।

 

তিনি দাবি করেন, গত ছয় মাসে সরকার একটি ‘ভঙ্গুর বাহিনী’ উত্তরাধিকার হিসেবে পেলেও তাদের মনোবল ও নৈতিকতা পুনর্গঠনের কাজ চলছে।

 

নিজের ৬১ দিনের গুমের অভিজ্ঞতা স্মরণ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, আমার গুমের ৬১ দিন—তার যতটা মিনিট, যতটা মুহূর্ত কেটেছে, তার প্রত্যেকটা যদি আমি লিখে রাখতে পারতাম, তাহলে জাদুঘরের সংকলন হতো কোনো কিতাব। প্রতিটি মুহূর্তে মনে হতো যে আগামী ভোর কি আমি দেখব? সকালের নাশতা দেওয়া হলে বুঝতাম সকাল হয়েছে। আর নখের দাগ দিয়ে দেয়ালে সংখ্যা লিখে লিখে দিন গুনতাম।

 

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, তাকে যে কক্ষে রাখা হয়েছিল সেটি ছিল অত্যন্ত ছোট। তার বর্ণনা অনুযায়ী, কক্ষটি আনুমানিক পাঁচ ফুট বাই দশ ফুটের মতো ছিল। সেখানে একটি কম্বল ও পাতলা একটি বালিশ ছাড়া তেমন কোনো সুবিধা ছিল না।

 

কক্ষের এক কোণে প্রস্রাব-পায়খানার ব্যবস্থা ছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেখান থেকে দুর্গন্ধ আসত। ওই পরিবেশে ঘুমাতেও সমস্যা হতো।

 

বক্তব্যে গুমের পর তাকে ভারতের শিলংয়ে নিয়ে যাওয়ার ঘটনাও তুলে ধরেন সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি জানান, দীর্ঘ সময় গাড়িতে করে নেওয়ার পর তাকে একটি নির্জন এলাকায় নামিয়ে দেওয়া হয়। তিনি বলেন, সেখানে তাকে ফুটপাতে দাঁড় করিয়ে রেখে বলা হয়েছিল, ‘ইউ আর ফ্রি নাও।’ পরে স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে তিনি পুলিশকে খবর দেওয়ার অনুরোধ করেন। পুলিশ এসে তাকে একটি বিট হাউসে নিয়ে যায় এবং পরে হাসপাতালে নেওয়া হয় বলে জানান তিনি।

আমি চাইব না বাংলাদেশে আর কেউ গুম হোক: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

জীবন রক্ষায় যাদের অবদান সবচেয়ে বেশি। কিন্তু তাদের বিরুদ্ধেই অভিযোগ পাহাড় সমান। কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ, ভুল চিকিৎসার, অপারেশনের পর শরীরে সার্জিক্যাল রুমাল কিংবা চিকিৎসা সরঞ্জাম রেখে দেয়ার। আবার কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ রোগীকে গুমের হুমকি দেয়ার।

 

এমন অভিযোগের সত্যতা যাচাই ও চিকিৎসকের পেশাগত অসদাচরণের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার অন্যতম দায়িত্ব বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের (বিএমডিসি)। তবে প্রশ্ন উঠছে, অভিযোগ আসলেই কি প্রতিকার মেলে?

 

এ বিষয়ে বিএমডিসির ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার ডা. লিয়াকত হোসেন বলেন, এ বিশাল কর্মযজ্ঞ পরিচালনা করতে গিয়ে আমরা হিমশিম খাচ্ছি।

 

বিএমডিসির কর্মকর্তারা বলছেন, কোনো চিকিৎসকের বিরুদ্ধে অভিযোগ আসলে তা কয়েক ধাপের মধ্য দিয়ে তদন্ত করা হয়। সব মিলিয়ে লেগে যায় মাসের ঘর থেকে কয়েক বছর পর্যন্ত।

 

তিনি আরও বলেন, ২০১০ সালের আইন এবং প্রবিধানে আমাকে যেভাবে বলে দেয়া হয়েছে, এর বাইরে গিয়ে আমি কোনো বিচার করতে পারব না। আইনি কাঠামোর মধ্যে না থাকলে, যার বিরুদ্ধে আপনি বিচার করবেন, সে কোর্টে গিয়ে আপনার বিরুদ্ধে মামলা করবে। বিএমডিসির বিরুদ্ধে মামলা করার অধিকার দেয়া আছে আইনে।

 

২০২৬ সালের পর থেকে বিএমডিসিতে মোট অভিযোগ এসেছে ২১৫টি। এর মধ্যে নিষ্পত্তি হয়েছে ১১২টির। বিভিন্ন ধাপে শাস্তি দেয়া হয়েছে ৩৯ জনকে। আর তদন্ত চলছে ১০৩টি অভিযোগ নিয়ে।

 

দেশে বর্তমানে সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে মেডিকেল কলেজের সংখ্যা ১১২। এমবিবিএস ডিগ্রিধারী চিকিৎসক দেড় লাখ আর ডেন্টাল চিকিৎসক ১৬ হাজারের বেশি। সবমিলিয়ে এত সংখ্যক ডাক্তারকে তদারকি করার জন্য বিএমডিসিতে কাজ করছেন মাত্র ৩০ জন। অথচ কর্মভার আর কাজের পরিধি বেড়েছে ১৫ থেকে ২০ গুণ।

 

তবে চিকিৎসকদের সংগঠন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক ডা. হারুন আল রশীদ বলেন, বর্তমান প্রেক্ষাপটে এই আইন দ্বারা আপনি কোনো ব্যবস্থা নিতে পারবেন না। যার কোনো ক্ষমতা নেই, মানুষ কিন্তু বিএমডিসির কাছে আর যাচ্ছে না। হতাশায় ফিরে যাচ্ছে। আমরা এই আইনটাকে যুগোপযোগী করার জন্য কিন্তু চেষ্টা করছি। মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আমাদের বেশ কয়েকটি মিটিং হয়েছে।

 

সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, স্বাস্থ্যখাতের এসব অনিয়ম আর বিচারের দীর্ঘসূত্রিতা দূর করা এত সহজ নয়।

 

সব মিলিয়ে বড় পরিবর্তন আনতে পর্যাপ্ত সময় প্রয়োজন উল্লেখ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, গত ১৭ বছরের জঞ্জাল স্বাস্থ্যকে আসলে একটা দুর্বল খাতে পরিণত করেছে। আমি আপনাদের মেনেই বলতেছি, একটু টাইম লাগবে। বাট ইট ইমপ্রুভ। যেহেতু আমাদের সৎ ইচ্ছা আছে, ইমপ্রুভ হবে ইনশাআল্লাহ।

 

এই দীর্ঘ প্রক্রিয়ার সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী হয়ে পড়েন অভিযোগকারী। কারণ অভিযোগ তদন্ত শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত চিকিৎসক তার পেশায় বহাল থাকেন। আর ভুক্তভোগী পরিবারকে অপেক্ষা করতে হয় সিদ্ধান্তের জন্য। অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার আগেই যদি দীর্ঘ সময় চলে যায়, সেই সময়ের ক্ষতিপূরণ কে দেবে?

আইনি দুর্বলতায় হচ্ছে না অভিযুক্ত চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা

সৌন্দর্য প্রতিযোগিতার মঞ্চ থেকে বলিউডে পা রাখা অভিনেত্রী দিয়া মির্জা অভিনয়ের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরেই দর্শকের কাছে পরিচিত মুখ। নানা ধরনের চরিত্রে এখনো নিয়মিত দেখা যায় তাকে।

 

তবে ২০০৪ সালে মুক্তি পাওয়া ‘তুমসা নেহি দেখা’ সিনেমার ‘মুঝে তুমসে মোহাব্বত হ্যায়’ গানটি দিয়াকে নতুনভাবে আলোচনায় এনেছিল।

 

ইমরান হাশমির সঙ্গে তার সেই গ্ল্যামারাস নাচ দর্শকের নজর কাড়লেও ক্যামেরার পেছনের অভিজ্ঞতা ছিল অভিনেত্রীর জন্য বেশ চ্যালেঞ্জিং।সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে সেই গানের শুটিংয়ের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন দিয়া মির্জা। তিনি জানান, সেটে উপস্থিত শত শত পুরুষের সামনে তাকে অন্তর্বাস পরে নাচের দৃশ্যের শুটিং করতে হয়েছিল। শুরুতে বিষয়টি নিয়ে তিনি বেশ দ্বিধায় ও অস্বস্তিতে ছিলেন।দিয়ার ভাষ্য, তখন নিজের শরীর নিয়ে খুব একটা আত্মবিশ্বাসী ছিলেন না তিনি। রক্ষণশীল পরিবেশে বেড়ে ওঠার কারণে এমন পোশাকে ক্যামেরার সামনে দাঁড়ানো তার জন্য সহজ ছিল না।

 

তবে শেষ পর্যন্ত সেই অভিজ্ঞতাই তার জীবনে আত্মবিশ্বাস ও মুক্তির অনুভূতি এনে দেয়।

 

দিয়া বলেন, এই শুটিংয়ের অভিজ্ঞতা আমাকে এমনভাবে মুক্ত করেছিল, যা আমি কখনো আশা করিনি। নৃত্যপরিচালক বৈভবী মার্চেন্টের জন্যই আমি এই গানের শুটিং আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে করতে পেরেছিলাম। সেটে যারা কাজ করছিলেন, প্রত্যেকেই আমাকে খুব নিরাপদ অনুভব করিয়েছিলেন।

 

পোশাক ও শুটিংয়ের অভিজ্ঞতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, একজন নারী হিসেবে এটি ছিল তার ক্যারিয়ারের অন্যতম কঠিন কাজ। কারণ শত শত মানুষের সামনে তাকে অন্তর্বাস পরে ক্যামেরার সামনে নাচতে হয়েছিল।

 

তবে কেন শেষ পর্যন্ত তিনি সেই দৃশ্যে কাজ করতে রাজি হয়েছিলেন, তার ব্যাখ্যাও দিয়েছেন অভিনেত্রী। তার মতে, একজন অভিনেতার জন্য চরিত্রের প্রয়োজন এবং চরিত্রের ভেতরের সত্যকে বোঝা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

 

দিয়া বলেন, বিষয়টি অস্বস্তিকর হতে পারত। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা হয়নি। কারণ আমি বুঝতে পেরেছিলাম, একজন অভিনেতার জন্য চরিত্রের সত্যিটা খুঁজে বের করা জরুরি এবং সেই চরিত্রের মাধ্যমে কী প্রকাশ করা হচ্ছে, সেটাও গুরুত্বপূর্ণ। তাই ঘরে ৫০০ জন মানুষ থাকুক বা ১ হাজার জন, সেটা আর আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ ছিল না।

 

হায়দরাবাদে রক্ষণশীল পরিবেশে বেড়ে ওঠা দিয়া জানান, একসময় নিজের শরীর নিয়ে তার যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসের অভাব ছিল। কিন্তু ‘তুমসা নেহি দেখা’ সিনেমার ওই গানের শুটিংই তাকে নিজের প্রতি আরও আত্মবিশ্বাসী করে তোলে।

 

দর্শকের কাছে এটি হয়তো ছিল একটি গ্ল্যামারাস গানের দৃশ্য। তবে দিয়া মির্জার কাছে সেই অভিজ্ঞতা ছিল নিজের সীমাবদ্ধতা ভেঙে বেরিয়ে আসা, আত্মবিশ্বাস ফিরে পাওয়া এবং এক ধরনের মুক্তির অনুভূতির স্মরণীয় অধ্যায়।

অভিনেত্রী দিয়া মির্জার গোপন ভিডিও ফাঁস, তোলপাড় নেটদুনিয়া!

লুট হওয়া ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে পুলিশের বিশেষ একটি ইউনিট গঠন করা হয়েছে। অস্ত্র উদ্ধারের তথ্য দিলে ১০ হাজার টাকা থেকে ২ লাখ টাকা পর্যন্ত পুরষ্কার দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ।

 

আজ শনিবার (২৯ আগস্ট) সকালে রাজারবাগ পুলিশ অডিটোরিয়ামে বাংলাদেশ পুলিশের ঊধ্বর্তন কর্মকর্তাদের সঙ্গে গেল তিন মাসের অপরাধ পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে যোগ দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ। এসময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ সদস্যরা কর্মক্ষেত্রে তাদের প্রযুক্তিগত সহায়তার বৃদ্ধির পাশাপাশি প্রয়োজনীয় নানা বিষয়ের চাহিদার কথা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন।

 

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অবৈধ ও লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধারে পুলিশ বিশেষভাবে কাজ করবে। অস্ত্র উদ্ধারে সহায়তাকারীদের উৎসাহিত করতে সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা পর্যন্ত পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, ধীরে ধীরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির আরও উন্নতি হবে সে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

অবৈধ ও লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধারে বিশেষ ইউনিট, তথ্যদাতাকে ২ লাখ টাকা পুরস্কার

গার্মেন্টস শ্রমিকের সর্বনিম্ন মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবি শ্রমিক নেতা কবির হোসেনের

 

রাকিবুল ইসলাম রঞ্জু:

একজন শ্রমিকের জন্য তার পরিবার নিয়ে টিকে থাকতে হলে বর্তমানে সর্বনিম্ন ৩০ হাজার টাকা বেতন নির্ধারণ করা জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বিশিষ্ট শ্রমিক নেতা মোঃ কবির হোসেন। তিনি জানান, বর্তমান বাজারদর ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের উচ্চমূল্যের কারণে এই পরিমাণের চেয়ে কম বেতনে কোনো পরিবার চালানো কোনোভাবেই সম্ভব নয়।

 

সম্প্রতি গণ টেলিভিশনের সাথে আলাপ কালে মোঃ কবির হোসেন বলেন, “যে হারে জীবনযাত্রার ব্যয় ও বাসা ভাড়া বৃদ্ধি পেয়েছে, তাতে একজন সাধারণ শ্রমিকের পক্ষে বর্তমান মজুরি দিয়ে মাস চালানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে। পরিবারের সদস্যদের তিন বেলা খাবার, চিকিৎসা, সন্তানের পড়াশোনা এবং বাসা ভাড়া মেটাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের।”

 

তিনি আরও বলেন, “একজন শ্রমিকের সর্বনিম্ন ৩০ হাজার টাকা বেতন হলে তবেই তার পক্ষে পরিবার নিয়ে সম্মানজনকভাবে বেঁচে থাকা সম্ভব। এর নিচে বেতন দেওয়া হলে তা হবে শ্রমিকদের প্রতি চরম অবিচার, কারণ এর চেয়ে কম আয়ে এখন আর কোনোভাবেই টিকে থাকা সম্ভব নয়।”

 

শ্রমিকদের এই ন্যায্য দাবি মেনে নিয়ে অবিলম্বে সর্বনিম্ন ৩০ হাজার টাকা মজুরি কাঠামো ঘোষণা করার জন্য সরকার ও মালিকপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানান এই শ্রমিক নেতা।

গার্মেন্টস শ্রমিকের সর্বনিম্ন মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবি শ্রমিক নেতা কবির হোসেনের

র‌্যাবের চৌকস অভিযানে জীপসহ প্রায় ১১ হাজার ইয়াবার চালান আটক

জামালপুর হামলা পাল্টা হামলার মধ্য দিয়ে জেলার সানন্দবাড়ী তে থমথমে অবস্থা বিরাজমান।

পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের ও আদালতে মিথ্যা হলফনামা দেয়ার অভিযোগে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কেবিন ক্রু খাদিজা সুলতানা শিমুর বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

 

বুধবার (১৫ জুলাই) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২-এর বিচারক মো. জাকির হোসাইন এ আদেশ দেন। আদালতের আদেশে বলা হয়েছে, শিমুর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর ১৩ ধারা এবং দণ্ডবিধির ১৮১, ১৮২ ও ১৯৩ ধারায় মামলা করা হবে। আদালত নিজেই এ মামলার বাদী হয়েছেন।

 

আদালতের নথি অনুযায়ী, খাদিজা সুলতানা শিমু মামলার বাদী হয়ে বেসরকারি একটি এয়ারলাইন্সের কর্মকর্তা মো. ওমর ফারুক চৌধুরীর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনের বিভিন্ন ধারায় উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলা করেন।

 

তদন্ত শেষে উত্তরা পশ্চিম থানার তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে জানান, অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি। প্রতিবেদনে বলা হয়, মামলার এজাহারে উল্লেখ করা ফেসবুক লিংক, ডিজিটাল আলামত ও অন্যান্য তথ্য যাচাই করে ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি প্রচারের কোনো প্রমাণ মেলেনি। ফলে ওই কর্মকর্তাকে মামলা থেকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়।

একই সঙ্গে তদন্ত কর্মকর্তা প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, ওমর ফারুক আগে শিমুর বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন দিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে আদালতে মামলা করেছিলেন। সেই মামলার দায় এড়াতেই শিমু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত বিভিন্ন লিংক উল্লেখ করে তার বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি ছড়ানোর অভিযোগ এনে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, হয়রানিমূলক ও মিথ্যা মামলা করেছেন বলে প্রাথমিক তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে। এ কারণে শিমুর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর ১৩ ধারায় আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার আবেদনও করেন তদন্ত কর্মকর্তা।

 

পরে গত ৯ জুলাই আদালত তদন্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করে ওমর ফারুককে মামলা থেকে অব্যাহতি দেন। আদালতের আদেশে বলা হয়, শিমু ক্ষতিসাধনের উদ্দেশ্যে আদালতে মিথ্যা মামলা দায়ের করেছেন এবং হলফ করে মিথ্যা সাক্ষ্য দিয়েছেন। মামলার নথিতে তার দেয়া হলফনামাও সংযুক্ত রয়েছে। এসব বিবেচনায় আদালত নিজেই বাদী হয়ে তার বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন ও দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়েরের নির্দেশ দেন।

 

তদন্তে যা উঠে এসেছে পুলিশের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, তদন্তকালে রেকর্ড, ডিজিটাল আলামত, ফেসবুক লিংক ও ফরেনসিক তথ্য যাচাই করে ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি প্রচারের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

 

তদন্তে আরও উঠে আসে, শিমু বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কেবিন ক্রু এবং ওমর ফারুক একটি বেসরকারি এয়ারলাইন্সের এয়ারক্রাফট মেইনটেন্যান্স কর্মকর্তা। ফেসবুকে পরিচয়ের পর তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

 

প্রতিবেদনে বলা হয়, বিয়ের আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন সময়ে ওমর ফারুকের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী নেয়ার অভিযোগে ওমর ফারুক আদালতে পৃথক মামলা করেন। এরপর সেই মামলার দায় থেকে নিজেকে রক্ষা করতেই শিমু পর্নোগ্রাফি আইনে অভিযোগ দায়ের করেন বলে তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে।

 

ওমর ফারুকের আগের মামলা গত ২০ জুলাই ওমর ফারুক চৌধুরী শিমুর বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন, ‘হানি ট্র্যাপ’ ও ব্ল্যাকমেইলের মাধ্যমে প্রায় ২২ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ঢাকার আদালতে মামলা করেন। আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে উত্তরা পশ্চিম থানাকে তদন্তের নির্দেশ দেন। পরে তিনি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষের কাছেও লিখিত অভিযোগ করেন।

 

সেই মামলায় অভিযোগ করা হয়, ২০২৪ সালে ফেসবুকে পরিচয়ের পর শিমু তাকে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন সময়ে টাকা নেন। জন্মদিনে দেড় লাখ টাকা মূল্যের একটি হীরার আংটিসহ বিয়ের খরচের জন্য মোট ২১ লাখ ৭৪ হাজার ৫১১ টাকা নেয়ার পরও বিয়ে না করে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে মামলায় দাবি করা হয়।

পর্নোগ্রাফি আইনে কেবিন ক্রু শিমুর বিরুদ্ধে মামলার নির্দেশ আদালতের

error: আপনি নিউজ চুরি করার চেষ্টা করছেন। বিশেষ প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন ০১৭৬৭৪৪৪৩৩৩
%d