আমরা বিএনপিকে এখনই আ. লীগের সাথে তুলনা করতে চাই না: সারজিস আলম - Gono television | বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল।
আমরা বিএনপিকে এখনই আ. লীগের সাথে তুলনা করতে চাই না: সারজিস আলম

আমরা বিএনপিকে এখনই আ. লীগের সাথে তুলনা করতে চাই না: সারজিস আলম

বিএনপিকে এখনই আ. লীগের সাথে তুলনা করতে চান না বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তর অঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম।

 

শনিবার (২৯ আগস্ট) দুপুরে কুমিল্লা নগরীর একটি পার্টি সেন্টারে আয়োজিত এনসিপি কুমিল্লা উত্তর ও দক্ষিণ জেলা এবং মহানগরের সাংগঠনিক সমন্বয় সভা রাজনৈতিক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

 

সারজিস বলেন, ৬ মাস যেতে না যেতেই মানুষ কিন্তু বিএনপিকে নিয়ে অন্য কিছু চিন্তা করতে শুরু করেছে। আমরা সেই তুলনা এখনি করতে চাই না। আমরা বিএনপিকে আ. লীগের সাথে তুলনা করতে চাই না। আওয়ামী লীগ ২০০৯ সালে পিলখানা হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। তারা ২০১৩ সালে শাপলা চত্বরে হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে।

 

তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগ ২৪ এর গণঅভ্যুত্থানে ১৪’শ এর বেশি মানুষের জীবন কেড়ে নিয়ে আরেকটা গণহত্যা ঘটিয়েছে। আওয়ামী লীগ হচ্ছে গণহত্যাকারী। আওয়ামী লীগ হচ্ছে খুনী। আওয়ামী লীগ হচ্ছে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়া একটা নরপিশাচ। তাই আমরা বিএনপিকে এখনই আওয়ামী লীগের সাথে তুলনা করতে চাই না। আগামীতেও করতে চাই না।


ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জামিয়া ইউনুছিয়া মাদ্রাসাশিক্ষকদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতৃবৃন্দ।

 

শনিবার (২৯ আগস্ট) সকালে, এনসিপি’র মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, ন্যাশনাল ওলামা অ্যালায়েন্সের আহ্বায়ক আশরাফ উদ্দিন মাহদি, কুমিল্লা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আতাউল্লাহ, জাতীয় যুবশক্তির সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার ফরহাদ সোহেল এবং এনসিপি’র সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ জিহান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

 

এ সময় এনসিপি নেতৃবৃন্দ জামিয়া ইউনুছিয়া, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মুহতামিম ও জেলা হেফাজতে ইসলামের আমির মাওলানা মুবারাকুল্লাহ, জামিয়ার মুহাদ্দিস ও জেলা হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মারুফ কাসেমী, জেলা হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাওলানা শরীফ উদ্দিন আফতাবী এবং জেলা হেফাজতে ইসলামের কোষাধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুল হাফিজের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।

 

সাক্ষাৎকালে পারস্পরিক সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি ও মহব্বত অটুট রাখার অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মাদ্রাসাশিক্ষকদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করলেন এনসিপি নেতারা

গার্মেন্টস শ্রমিকের সর্বনিম্ন মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবি শ্রমিক নেতা কবির হোসেনের

 

রাকিবুল ইসলাম রঞ্জু:

একজন শ্রমিকের জন্য তার পরিবার নিয়ে টিকে থাকতে হলে বর্তমানে সর্বনিম্ন ৩০ হাজার টাকা বেতন নির্ধারণ করা জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বিশিষ্ট শ্রমিক নেতা মোঃ কবির হোসেন। তিনি জানান, বর্তমান বাজারদর ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের উচ্চমূল্যের কারণে এই পরিমাণের চেয়ে কম বেতনে কোনো পরিবার চালানো কোনোভাবেই সম্ভব নয়।

 

সম্প্রতি গণ টেলিভিশনের সাথে আলাপ কালে মোঃ কবির হোসেন বলেন, “যে হারে জীবনযাত্রার ব্যয় ও বাসা ভাড়া বৃদ্ধি পেয়েছে, তাতে একজন সাধারণ শ্রমিকের পক্ষে বর্তমান মজুরি দিয়ে মাস চালানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে। পরিবারের সদস্যদের তিন বেলা খাবার, চিকিৎসা, সন্তানের পড়াশোনা এবং বাসা ভাড়া মেটাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের।”

 

তিনি আরও বলেন, “একজন শ্রমিকের সর্বনিম্ন ৩০ হাজার টাকা বেতন হলে তবেই তার পক্ষে পরিবার নিয়ে সম্মানজনকভাবে বেঁচে থাকা সম্ভব। এর নিচে বেতন দেওয়া হলে তা হবে শ্রমিকদের প্রতি চরম অবিচার, কারণ এর চেয়ে কম আয়ে এখন আর কোনোভাবেই টিকে থাকা সম্ভব নয়।”

 

শ্রমিকদের এই ন্যায্য দাবি মেনে নিয়ে অবিলম্বে সর্বনিম্ন ৩০ হাজার টাকা মজুরি কাঠামো ঘোষণা করার জন্য সরকার ও মালিকপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানান এই শ্রমিক নেতা।

গার্মেন্টস শ্রমিকের সর্বনিম্ন মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবি শ্রমিক নেতা কবির হোসেনের

নীলফামারীতে দলিল লেখকদের সাতদফা দাবী বাস্তবায়নে আইনমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি

স্টাফ রিপোর্টার

মাইদুল ইসলামঃ দলিল লেখক সমিতির সাত দফা দাবী বাস্তবায়নে আইনমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি দেয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দুপুরে জেলা প্রশাসক মাধ্যম এই স্মারকলিপি প্রেরণ করা হয়। এরআগে শহরের শহীদ মিনার এলাকাস্থ দলিল লেখক সমিতির জেলা কার্যালয় থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে গিয়ে সমাবেশে মিলিত হন দলিল লেখকরা। সংগঠনের সভাপতি শফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে বিক্ষোভ সভায় প্রধান ছিলেন সাধারণ সম্পাদক গোলাম রব্বানী। অন্যান্যদের মধ্যে সমিতির সাবেক সভাপতি মো. আব্দুল্লাহ্, দলিল লেখক আজগর আলী সরকার ও ডিমলা উপজেলার মাসুদ রানা বক্তব্য দেন।”স্মারকলিপিতে দলিল রেজিস্ট্রেশন পদ্ধতি আধুনিকায়নের নামে দলিল লেখকদের

পেশাচ্যুত না করা, সম্মানিক পাঁচ হাজার টাকা নির্ধারণ, লাইসেন্স প্রাপ্ত দলিল লেখক ব্যতীত অন্য কারো দলিল লেখনির সুযোগ না দেয়া। অনভিজ্ঞদের লাইসেন্স প্রদান না করা, সরকারি খরচে দলিল লেখকের বসার ব্যবস্থা ও নামাজের স্থান নির্ধারণ, দলিল লেখক কাউন্সিল গঠন এবং দলিল লেখকদের পেশাগত কারণে আসামী না করার উল্লেখ করা হয়। বাংলাদেশ দলিল লেখক সমিতি জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক গোলাম রব্বানী জানান, সাত দফা দাবী বাস্তবায়নে চলতি বছরের আটই ফেব্রুয়ারী ঢাকায় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয় এবং এতে একাত্মতা প্রকাশ করেন বিএনপি নেতারা। দাবি বাস্তবায়নে সারাদেশে লিফলেট বিতরণ ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। বলেন, আমরা চাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আমাদের দাবিগুলো মেনে নিয়ে দলিল লেখকদের পাশে দাঁড়াবেন।”স্মারকলিপি গ্রহণ করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) নুজহাত তাসনীম আওন।

নীলফামারীতে দলিল লেখকদের সাতদফা দাবী বাস্তবায়নে আইনমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি 

এইচএসসি ও দাখিল উত্তীর্ণদের বিরুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মোঃ আনোয়ার হোসেন মন্ডল অভিনন্দন বার্ত।

 

রাকিবুল ইসলাম রঞ্জু:

 

এইচএসসি ও সমমানের দাখিল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন আসন্ন বিরুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে জনপ্রিয় চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী, সাভার থানা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক,ও বিরুলিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক মোঃ আনোয়ার হোসেন মন্ডল।

 

এক অভিনন্দন বার্তায় তিনি কৃতকার্য শিক্ষার্থীদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ ও সুস্বাস্থ্য কামনা করে বলেন, “আজকের মেধাবী শিক্ষার্থীরাই আগামীর সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার মূল কারিগর। মেধা, অধ্যবসায় ও সততার মাধ্যমে তারা আগামী দিনে দেশ ও জাতির কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”

 

শিক্ষার্থীদের এই ধারাবাহিক সাফল্য বজায় রেখে সুনাগরিক হিসেবে নিজেদের গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের এই কৃতিত্বপূর্ণ অর্জনের পেছনে অবদান রাখা সকল অভিভাবক ও শিক্ষকমণ্ডলীর প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

 

যেসব শিক্ষার্থী প্রত্যাশিত ফলাফল অর্জন করতে পারেনি, তাদের ভেঙে না পড়ে নতুন উদ্যোমে কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে সামনে এগিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন সাবেক এই ছাত্রনেতা।

এইচএসসি ও দাখিল উত্তীর্ণদের বিরুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মোঃ আনোয়ার হোসেন মন্ডল অভিনন্দন বার্তা

আসন্ন সাভার পৌর নির্বাচনে ৯ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদপ্রার্থী হিসেবে জনপ্রিয়তার শীর্ষে পরিচ্ছন্ন রাজনীতিবিদ লায়ন মনজুরুল ইসলাম (মঞ্জু)

 

রাকিবুল ইসলাম রঞ্জু:

আসন্ন সাভার পৌরসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ৯নং ওয়ার্ডে বইছে নির্বাচনী হাওয়া। সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে প্রচার-প্রচারণা ও গণসংযোগে ব্যাপকভাবে এগিয়ে রয়েছেন বিশিষ্ট সমাজসেবক, শিক্ষানুরাগী পরিচ্ছন্ন রাজনীতিবিদ সাভার পৌর যুবদলের সাবেক সহ-সভাপতি , সাভার পৌর ৯ নং ওয়ার্ড বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক,লায়ন মোহাম্মদ মনজুরুল ইসলাম (মঞ্জু)। ওয়ার্ডের সর্বস্তরের মানুষের মাঝে তার সততা, নিষ্ঠা ও দীর্ঘদিনের সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডের কারণে তিনি বর্তমানে জনপ্রিয়তার শীর্ষে রয়েছেন।

 

স্থানীয় ভোটার ও সাধারণ জনগণের সাথে কথা বলে জানা গেছে, লায়ন মনজুরুল ইসলাম মঞ্জু দীর্ঘদিন ধরে ৯নং ওয়ার্ডের অবহেলিত মানুষের পাশে থেকে সুখ-দুঃখে কাজ করে যাচ্ছেন। যেকোনো দুর্যোগে তিনি অসহায় মানুষের মাঝে খাদ্য ও আর্থিক সহায়তা নিয়ে সবার আগে এগিয়ে এসেছেন।

 

এলাকাবাসীর মতে, সাভার পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ডকে একটি আধুনিক, মাদকমুক্ত ও আদর্শ ওয়ার্ড হিসেবে গড়ে তুলতে লায়ন মনজুরুল ইসলাম মঞ্জুর কোনো বিকল্প নেই। রাস্তাঘাটের উন্নয়ন, ড্রেনেজ ব্যবস্থার সংস্কার এবং তরুণ সমাজকে মাদকের হাত থেকে রক্ষা করতে তিনি দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন। তার এই পরিচ্ছন্ন রাজনৈতিক ভাবমূর্তি ও পরোপকারী মানসিকতার কারণে ওয়ার্ডের তরুণ প্রজন্ম থেকে শুরু করে প্রবীণদের মধ্যেও তাকে নিয়ে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যাচ্ছে।

 

নিজের প্রার্থিতা ও জনপ্রিয়তার বিষয়ে লায়ন মোহাম্মদ মনজুরুল ইসলাম (মঞ্জু) বলেন, “আমি পদের লোভে নয়, বরং ৯নং ওয়ার্ডের সাধারণ মানুষের সেবা করতেই কাউন্সিলর পদপ্রার্থী হিসেবে মাঠে নেমেছি। দীর্ঘদিন ধরে এই ওয়ার্ডের মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে থাকার চেষ্টা করেছি। আগামী দিনে যদি জনগণ আমাকে সুযোগ দেয়, তবে ৯নং ওয়ার্ডকে সাভার পৌরসভার মধ্যে একটি রোল মডেল ও আধুনিক ওয়ার্ড হিসেবে গড়ে তুলবো।”

 

নির্বাচনের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, ওয়ার্ডের মোড়ে মোড়ে, চায়ের দোকানে ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লায়ন মনজুরুল ইসলাম মঞ্জুর পক্ষে সমর্থন ও জোয়ার ততই বাড়ছে। স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, একটি পরিচ্ছন্ন ও সুশাসিত ওয়ার্ড গঠনে সাধারণ মানুষ এবার ব্যালটের মাধ্যমে সঠিক নেতাকেই বেছে নেবেন, অত্র ওয়ার্ডের সাধারণ জনগণ।

আসন্ন সাভার পৌর নির্বাচনে ৯ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদপ্রার্থী হিসেবে জনপ্রিয়তার শীর্ষে পরিচ্ছন্ন রাজনীতিবিদ লায়ন মনজুরুল ইসলাম (মঞ্জু)

বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারকে গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করছি। তিনি পেশাগত জীবনে এবং রাজনীতিবিদ হিসেবে সফল এবং কালারফুল। ব্যক্তি এবং দল হিসেবে আমি এবং আমরা তার ক্লায়েন্ট ছিলাম।

 

রোববার (১২ জুলাই) জাতীয় সংসদে সাবেক স্পিকার ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারকে স্মরণ করে তিনি এসব কথা বলেন।

 

বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, বিশেষ করে আমাদের কষ্টের দিনগুলোতে, সেই ওয়ান-ইলেভেন আমলে আইনের যাঁতাকলে যখন আমরা পিষ্ট, তখন প্রায়ই আমরা তার কাছে যেতাম, দ্বারস্থ হতাম। তিনি গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিয়েই শুধু আমাদের কাজ সারেননি, বরং আমাদের মজলুম নেতৃবৃন্দের পক্ষে তিনি আদালতে বারবার দাঁড়িয়েছেন।

 

তিনি আরও বলেন, এরকম তো আরও অনেকেই দাঁড়িয়েছেন, কিন্তু তিনি একদিক দিয়ে ভীষণ ব্যতিক্রম ছিলেন। প্রথমবার থেকেই আমরা চেষ্টা করেছি, কৃতজ্ঞতাস্বরূপ তাকে কিছু ফি দেওয়ার। শেষ পর্যন্ত আমরা এই কাজে সফল হইনি।

 

বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, তার এই অবদান স্মরণ করে আমার চোখে পানি আসছে। আমরা তার ঋণ পরিশোধ করতে পারবো না। তিনি স্পিকার হিসেবে পার্লামেন্টকে প্রাণবন্ত করে রাখতেন, আর আইনের অঙ্গনে তিনি অনেকের গুরু। তার চলন-বলন, সবকিছুই ছিল শিক্ষণীয়।

ব্যক্তি-দল হিসেবে জমির উদ্দিন সরকারের ক্লায়েন্ট ছিলাম: বিরোধীদলীয় নেতা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জামিয়া ইউনুছিয়া মাদ্রাসাশিক্ষকদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতৃবৃন্দ।

 

শনিবার (২৯ আগস্ট) সকালে, এনসিপি’র মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, ন্যাশনাল ওলামা অ্যালায়েন্সের আহ্বায়ক আশরাফ উদ্দিন মাহদি, কুমিল্লা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আতাউল্লাহ, জাতীয় যুবশক্তির সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার ফরহাদ সোহেল এবং এনসিপি’র সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ জিহান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

 

এ সময় এনসিপি নেতৃবৃন্দ জামিয়া ইউনুছিয়া, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মুহতামিম ও জেলা হেফাজতে ইসলামের আমির মাওলানা মুবারাকুল্লাহ, জামিয়ার মুহাদ্দিস ও জেলা হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মারুফ কাসেমী, জেলা হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাওলানা শরীফ উদ্দিন আফতাবী এবং জেলা হেফাজতে ইসলামের কোষাধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুল হাফিজের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।

 

সাক্ষাৎকালে পারস্পরিক সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি ও মহব্বত অটুট রাখার অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মাদ্রাসাশিক্ষকদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করলেন এনসিপি নেতারা

বিএনপিকে এখনই আ. লীগের সাথে তুলনা করতে চান না বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তর অঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম।

 

শনিবার (২৯ আগস্ট) দুপুরে কুমিল্লা নগরীর একটি পার্টি সেন্টারে আয়োজিত এনসিপি কুমিল্লা উত্তর ও দক্ষিণ জেলা এবং মহানগরের সাংগঠনিক সমন্বয় সভা রাজনৈতিক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

 

সারজিস বলেন, ৬ মাস যেতে না যেতেই মানুষ কিন্তু বিএনপিকে নিয়ে অন্য কিছু চিন্তা করতে শুরু করেছে। আমরা সেই তুলনা এখনি করতে চাই না। আমরা বিএনপিকে আ. লীগের সাথে তুলনা করতে চাই না। আওয়ামী লীগ ২০০৯ সালে পিলখানা হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। তারা ২০১৩ সালে শাপলা চত্বরে হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে।

 

তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগ ২৪ এর গণঅভ্যুত্থানে ১৪’শ এর বেশি মানুষের জীবন কেড়ে নিয়ে আরেকটা গণহত্যা ঘটিয়েছে। আওয়ামী লীগ হচ্ছে গণহত্যাকারী। আওয়ামী লীগ হচ্ছে খুনী। আওয়ামী লীগ হচ্ছে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়া একটা নরপিশাচ। তাই আমরা বিএনপিকে এখনই আওয়ামী লীগের সাথে তুলনা করতে চাই না। আগামীতেও করতে চাই না।

আমরা বিএনপিকে এখনই আ. লীগের সাথে তুলনা করতে চাই না: সারজিস আলম

 

সাংবিধানিক ও রাষ্ট্রীয় কাঠামোর সংস্কার, জুলাইয়ে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের বিচার, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের সমাধান, পরিবেশ সুরক্ষাসহ ৯টি দাবি জানিয়েছে ‘অল্টারনেটিভস’।

 

শনিবার (২৯ আগস্ট) রাজধানী সেগুনবাগিচায় আয়োজিত ‘দেশের অবস্থা’ শীর্ষক প্রেস মিটে সংগঠনটির জাতীয় সাংগঠনিক কমিটির পক্ষ থেকে এসব দাবি তুলে ধরা হয়।

 

প্রেস মিটে ৯ দফা দাবি ঘোষণা করেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক তথ্য উপদেষ্টা ও প্ল্যাটফর্মটির সংগঠক মাহফুজ আলম।

 

অল্টারনেটিভসের পক্ষ থেকে প্রচারিত বিবৃতিতে বলা হয়, জুলাইয়ের শহীদদের আত্মত্যাগ ও জনগণের আন্দোলনের পরও প্রত্যাশিত ‘নতুন বাংলাদেশ’ প্রতিষ্ঠিত হয়নি। তাদের মূল্যায়ন অনুযায়ী, কাঠামোগতভাবে ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থা পুরোপুরি পরিবর্তিত হয়নি, কেবল সরকারের পরিবর্তন হয়েছে।

 

এ অবস্থায় স্বাধীনভাবে কথা বলা, সংগঠিত হওয়া ও প্রতিবাদ অব্যাহত রাখার আহ্বান জানানো হয়।

 

অল্টারনেটিভসের ৯ দফা দাবি—

 

১. সাংবিধানিক ও রাষ্ট্রের কাঠামোগত সংস্কারের রূপরেখা প্রণয়ন এবং অর্থনৈতিক সংস্কারের মাধ্যমে ধনী-গরিবের বৈষম্য কমিয়ে অর্থনৈতিক পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।

 

২. জুলাই গণহত্যার বিচার, ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা ও নিপীড়নের শিকার ব্যক্তিদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ, রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে গ্রেফতার ব্যক্তিদের এবং আন্দোলনে অংশ নেওয়া বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষের স্বীকৃতির দাবি জানানো হয়েছে।

 

৩. মানবাধিকার কমিশন, গুম কমিশন ও এসআরবি আইন কার্যকর করার ক্ষেত্রে মানবাধিকার সুরক্ষা, নিরপেক্ষ তদন্ত, জবাবদিহি, ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার ও ক্ষতিপূরণ এবং আইনের শাসন নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে।

 

৪. বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট সমাধান, কুইক রেন্টাল ও অসম বিদ্যুৎ-জ্বালানি চুক্তির সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহির আওতায় আনা এবং আমদানি, লুটেরা পুঁজিপতি ও বিদেশি কোম্পানি-নির্ভরতা কমানোর দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি, নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসার ও জ্বালানি সার্বভৌমত্ব নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে।

 

৫. ‘স্বাস্থ্যসেবা কর্মী ও প্রতিষ্ঠান সুরক্ষা অধ্যাদেশ–২০২৫’ এবং ‘রোগী সুরক্ষা ও প্রতিকার অধ্যাদেশ–২০২৫’ আইন আকারে প্রণয়নের দাবি জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে, অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের দাম সুলভ রাখা, মানসম্মত উৎপাদন নিশ্চিত করা এবং ভারসাম্যপূর্ণ ওষুধনীতি প্রণয়নের দাবি রয়েছে।

 

৬. নারী কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়ন, যৌন নিপীড়ন ও শিশু নিপীড়ন প্রতিরোধ, ভিন্নমত ও বহুত্ববাদী সাংস্কৃতিক চর্চার পরিবেশ নিশ্চিত এবং ‘সাংস্কৃতিক ফ্যাসিবাদ’ মোকাবেলায় উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।

 

৭. শ্রম কমিশনের সুপারিশ ও শ্রম আইন ২০২৬ পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন, বন্ধ কলকারখানা চালু, উৎপাদন ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং চাকরিচ্যুত শ্রমিকদের পুনঃকর্মসংস্থানের দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি সার সংকট সমাধান, কৃষকদের দুরারোগ্য ব্যাধির চিকিৎসায় রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ এবং সরকারি পাটকল, চিনিকল ও অন্যান্য কারখানা বেসরকারি খাতে বরাদ্দের ক্ষেত্রে শ্রমিক ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর স্বার্থ ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে।

 

৮. শিক্ষাব্যবস্থা ঢেলে সাজাতে স্বাধীন শিক্ষা কমিশন গঠন, ছাত্র ও যুবসমাজের কর্মসংস্থান সংকট নিরসনে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দক্ষতা উন্নয়ন ও উদ্যোক্তাদের পৃষ্ঠপোষকতার দাবি জানানো হয়েছে। পাশাপাশি, দলীয় পক্ষপাতমুক্ত স্বচ্ছ নিয়োগ ব্যবস্থা এবং বেসরকারি খাতে নিরাপদ ও জেন্ডার-সংবেদনশীল কর্মপরিবেশ, ন্যায্য মজুরি ও চাকরির সুরক্ষা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।

 

৯. প্রাণ, প্রকৃতি ও পরিবেশ ধ্বংসকারী উন্নয়ন প্রকল্প বাতিল, জলবায়ু পরিবর্তনে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ভারসাম্যপূর্ণ উন্নয়ন ও জলবায়ু সহনশীল প্রকল্প বাস্তবায়নের দাবি জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে বন্যা, নদীভাঙন ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে বাস্তুচ্যুত মানুষের পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

জুলাই হত্যার বিচার ও রাষ্ট্র সংস্কারসহ ৯ দাবি অল্টারনেটিভসের

আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে গুম হওয়া ব্যক্তি ও তাদের পরিবারের প্রতি গভীর সহানুভূতি ও সহমর্মিতা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে গুমের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলোর বিচার ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে বিশ্বজুড়ে ঐক্য ও সংহতির আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

 

আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে এ কথা বলেন তিনি।

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্র বা সরকার কর্তৃক গুমের বিরুদ্ধে বিশ্ববিবেককে জাগ্রত রাখতে বিশ্বজুড়ে আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস পালিত হচ্ছে। এবারের দিবসের প্রতিপাদ্য—‘ভিক্টিমস ফার্স্ট, অ্যাকশন্স নাউ’।

 

তিনি বলেন, বিশ্বের নিকৃষ্টতম অপরাধগুলোর মধ্যে গুম বা এনফোর্সড ডিজঅ্যাপিয়ারেন্স সবচেয়ে ভয়ংকর অপরাধগুলোর একটি। এটি একটি বৈশ্বিক সমস্যা এবং মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন। বিশেষ করে স্বৈরতান্ত্রিক ব্যবস্থা ও রাজনৈতিক সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে এ ধরনের অমানবিক ঘটনা ঘটে।

 

বাংলাদেশের বিগত সরকারের বিরুদ্ধে গুম-অপহরণের অভিযোগ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, গণতান্ত্রিক ও রাজনৈতিক অধিকার দমন করতে গুম-অপহরণের পথ বেছে নেওয়া হয়েছিল। গুমের শিকার ব্যক্তিদের মাসের পর মাস কিংবা বছরের পর বছর আটকে রাখতে গোপন বন্দিশালা তৈরি করা হয়েছিল, যা জনপরিসরে ‘আয়নাঘর’ নামে পরিচিতি পায়।

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশি-বিদেশি মানবাধিকার সংস্থাগুলোর হিসাব অনুযায়ী, আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে ব্যবহার করে বিভিন্ন সময়ে কমপক্ষে সাত শতাধিক মানুষকে গুম করা হয়েছে। বর্তমান সরকার প্রতিটি গুমের ঘটনা তদন্ত করে বিচার কার্যক্রম শুরু করেছে।

 

তিনি জানান, ভবিষ্যতে গুম বা এনফোর্সড ডিজঅ্যাপিয়ারেন্স বন্ধে পৃথক আইনি কাঠামো প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে জাতীয় সংসদে ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল, ২০২৬’ এবং ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল, ২০২৬’ উত্থাপন করা হয়েছে।

 

গুমের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের দুর্ভোগের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, গুম কিংবা অপহরণ শুধু কোনো ব্যক্তির হারিয়ে যাওয়া নয়; এর সঙ্গে একটি পরিবারের স্বপ্ন, সাধ ও আকাঙ্ক্ষার মৃত্যু জড়িয়ে থাকে। স্বজনদের দিন কাটে অনিশ্চয়তার মধ্যে, যেখানে স্বাভাবিকভাবে শোক পালনেরও সুযোগ থাকে না।

 

২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় গণঅভ্যুত্থানে ফ্যাসিস্ট চক্রের পতনের পর সৌভাগ্যবান কেউ কেউ ফিরে এসেছেন। তবে ইলিয়াস আলী ও চৌধুরী আলমের মতো অসংখ্য মানুষের এখনও কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আইসিসির রোম সনদের ৭(২) অনুচ্ছেদে গুমকে মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। গুমের ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক বিচারের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারে বিশ্বজুড়ে ঐক্যের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

রাজধানীতে অনুমোদনহীন ডাবল ডেকার স্লিপার বাস চলাচলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একইসঙ্গে ঢাকায় অটোরিকশা চলাচল নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবস্থাপনায় পৃথক নীতিমালা প্রণয়নের সিদ্ধান্ত হয়েছে।

 

শনিবার (২৯ আগস্ট) প্রধানমন্ত্রীর তেজগাঁও কার্যালয়ে রাজধানীর যানজট নিরসন, ট্রাফিক ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে আয়োজিত বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

 

বৈঠকে ঢাকার যানজট পরিস্থিতি, গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও ফ্লাইওভারে যানবাহনের চাপ, গণপরিবহন ব্যবস্থাপনা, বাস টার্মিনাল, পার্কিং সুবিধা এবং ট্রাফিক ব্যবস্থার আধুনিকায়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

 

রাজধানীর গণপরিবহন ব্যবস্থাকে আরও সুশৃঙ্খল করতে ফুলবাড়িয়া বাস টার্মিনাল কেরানীগঞ্জে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ জন্য স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় জমি অধিগ্রহণ করা হবে।

 

ঝিলমিল প্রকল্পের ১৫ একর জমিতে আগামী চার মাসের মধ্যে একটি অস্থায়ী বাস টার্মিনাল নির্মাণের সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, গাবতলী বাস টার্মিনালের পেছনের অংশ সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। টার্মিনালের সক্ষমতা বাড়াতে সড়ক বিভাগ, ট্রাফিক পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

 

রাজধানীর যানজট কমাতে কারওয়ান বাজারের কিচেন মার্কেট গাবতলীতে স্থানান্তরের সিদ্ধান্তও হয়েছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ করতে বলা হয়েছে।

 

এ ছাড়া এক্সপ্রেসওয়ে ও ফ্লাইওভারের টোল প্লাজাগুলোতে ইলেকট্রনিক টোল কালেকশন (ইটিসি) ব্যবস্থা চালুর সিদ্ধান্ত হয়েছে।

 

যাত্রাবাড়ী-গুলিস্তান ফ্লাইওভারের আশপাশের দীর্ঘদিনের যানজট নিরসনে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) আগের প্রতিবেদন পর্যালোচনা করতে বলা হয়েছে। প্রয়োজনীয় সুপারিশসহ আগামী ১৫ দিনের মধ্যে নতুন প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

 

সচিবালয়কেন্দ্রিক যানবাহনের চাপ কমাতে ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে পার্কিংয়ের ব্যবস্থা করা সম্ভব কি না, তা খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

 

এছাড়া রাজধানীর বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

 

বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুস সালাম, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিবসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

অনুমোদনহীন স্লিপার বাসের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, আমি হোম মিনিস্টার। আমি নিজেই এনফোর্সড ডিসঅ্যাপিয়ারেন্সের শিকার। আমি চাইব না বাংলাদেশে আর কেউ গুম হোক। আমরা এমন একটি আইন চাই, যাতে প্রত্যেক ভুক্তভোগী আদালতে যেতে পারে, বিচার পায় এবং দায়ীদের শাস্তি নিশ্চিত হয়।

 

আন্তর্জাতিক গুমের শিকার ব্যক্তিদের স্মরণ দিবস উপলক্ষে শনিবার (২৯ আগস্ট) বিকালে রাজধানীর বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে ‘মায়ের ডাক’ আয়োজিত প্রদর্শনী ও প্যানেল আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

 

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রথম অধিবেশনে গুম কমিশন অধ্যাদেশ পাশ করা হয়নি, কারণ শুধু কমিশন গঠন করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। সরকার এমন একটি আইন সংসদে এনেছে, যেখানে গুমের শিকার ব্যক্তি বা তার পরিবার সরাসরি আদালতে গিয়ে বিচার চাইতে পারবে।

 

তিনি বলেন, গুম কত প্রকার, কোন অপরাধে কী শাস্তি হবে, তদন্ত করবে কারা, ভুক্তভোগীর কী কী অধিকার থাকবে—সবই আইনে নির্ধারণ করা হয়েছে। এমনকি নিখোঁজ ব্যক্তিকে খুঁজে না পাওয়া গেলে তার উত্তরাধিকারীরা সম্পত্তির অধিকার পাবেন এবং ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থাও থাকবে।

 

সালাহউদ্দিন আহমদ আরও বলেন, এই আইন নিয়ে যাদের মতামত আছে, তারা সংসদীয় কমিটিতে দিতে পারেন। আইন সংশোধনের সুযোগ সব সময় থাকবে। আমাদের আন্তরিকতার কোনো অভাব নেই।

র্যাব প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সরকার বাহিনীটি বিলুপ্ত না করে জবাবদিহিমূলক সংস্কারের পথ নিয়েছে। তিনি বলেন, আধুনিক সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় একটি এলিট ফোর্স দরকার। তবে আমরা তাদের জবাবদিহি, স্বচ্ছতা ও মানবাধিকার সুরক্ষার ব্যবস্থা নিশ্চিত করেছি।

 

তিনি দাবি করেন, গত ছয় মাসে সরকার একটি ‘ভঙ্গুর বাহিনী’ উত্তরাধিকার হিসেবে পেলেও তাদের মনোবল ও নৈতিকতা পুনর্গঠনের কাজ চলছে।

 

নিজের ৬১ দিনের গুমের অভিজ্ঞতা স্মরণ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, আমার গুমের ৬১ দিন—তার যতটা মিনিট, যতটা মুহূর্ত কেটেছে, তার প্রত্যেকটা যদি আমি লিখে রাখতে পারতাম, তাহলে জাদুঘরের সংকলন হতো কোনো কিতাব। প্রতিটি মুহূর্তে মনে হতো যে আগামী ভোর কি আমি দেখব? সকালের নাশতা দেওয়া হলে বুঝতাম সকাল হয়েছে। আর নখের দাগ দিয়ে দেয়ালে সংখ্যা লিখে লিখে দিন গুনতাম।

 

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, তাকে যে কক্ষে রাখা হয়েছিল সেটি ছিল অত্যন্ত ছোট। তার বর্ণনা অনুযায়ী, কক্ষটি আনুমানিক পাঁচ ফুট বাই দশ ফুটের মতো ছিল। সেখানে একটি কম্বল ও পাতলা একটি বালিশ ছাড়া তেমন কোনো সুবিধা ছিল না।

 

কক্ষের এক কোণে প্রস্রাব-পায়খানার ব্যবস্থা ছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেখান থেকে দুর্গন্ধ আসত। ওই পরিবেশে ঘুমাতেও সমস্যা হতো।

 

বক্তব্যে গুমের পর তাকে ভারতের শিলংয়ে নিয়ে যাওয়ার ঘটনাও তুলে ধরেন সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি জানান, দীর্ঘ সময় গাড়িতে করে নেওয়ার পর তাকে একটি নির্জন এলাকায় নামিয়ে দেওয়া হয়। তিনি বলেন, সেখানে তাকে ফুটপাতে দাঁড় করিয়ে রেখে বলা হয়েছিল, ‘ইউ আর ফ্রি নাও।’ পরে স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে তিনি পুলিশকে খবর দেওয়ার অনুরোধ করেন। পুলিশ এসে তাকে একটি বিট হাউসে নিয়ে যায় এবং পরে হাসপাতালে নেওয়া হয় বলে জানান তিনি।

আমি চাইব না বাংলাদেশে আর কেউ গুম হোক: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

জীবন রক্ষায় যাদের অবদান সবচেয়ে বেশি। কিন্তু তাদের বিরুদ্ধেই অভিযোগ পাহাড় সমান। কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ, ভুল চিকিৎসার, অপারেশনের পর শরীরে সার্জিক্যাল রুমাল কিংবা চিকিৎসা সরঞ্জাম রেখে দেয়ার। আবার কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ রোগীকে গুমের হুমকি দেয়ার।

 

এমন অভিযোগের সত্যতা যাচাই ও চিকিৎসকের পেশাগত অসদাচরণের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার অন্যতম দায়িত্ব বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের (বিএমডিসি)। তবে প্রশ্ন উঠছে, অভিযোগ আসলেই কি প্রতিকার মেলে?

 

এ বিষয়ে বিএমডিসির ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার ডা. লিয়াকত হোসেন বলেন, এ বিশাল কর্মযজ্ঞ পরিচালনা করতে গিয়ে আমরা হিমশিম খাচ্ছি।

 

বিএমডিসির কর্মকর্তারা বলছেন, কোনো চিকিৎসকের বিরুদ্ধে অভিযোগ আসলে তা কয়েক ধাপের মধ্য দিয়ে তদন্ত করা হয়। সব মিলিয়ে লেগে যায় মাসের ঘর থেকে কয়েক বছর পর্যন্ত।

 

তিনি আরও বলেন, ২০১০ সালের আইন এবং প্রবিধানে আমাকে যেভাবে বলে দেয়া হয়েছে, এর বাইরে গিয়ে আমি কোনো বিচার করতে পারব না। আইনি কাঠামোর মধ্যে না থাকলে, যার বিরুদ্ধে আপনি বিচার করবেন, সে কোর্টে গিয়ে আপনার বিরুদ্ধে মামলা করবে। বিএমডিসির বিরুদ্ধে মামলা করার অধিকার দেয়া আছে আইনে।

 

২০২৬ সালের পর থেকে বিএমডিসিতে মোট অভিযোগ এসেছে ২১৫টি। এর মধ্যে নিষ্পত্তি হয়েছে ১১২টির। বিভিন্ন ধাপে শাস্তি দেয়া হয়েছে ৩৯ জনকে। আর তদন্ত চলছে ১০৩টি অভিযোগ নিয়ে।

 

দেশে বর্তমানে সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে মেডিকেল কলেজের সংখ্যা ১১২। এমবিবিএস ডিগ্রিধারী চিকিৎসক দেড় লাখ আর ডেন্টাল চিকিৎসক ১৬ হাজারের বেশি। সবমিলিয়ে এত সংখ্যক ডাক্তারকে তদারকি করার জন্য বিএমডিসিতে কাজ করছেন মাত্র ৩০ জন। অথচ কর্মভার আর কাজের পরিধি বেড়েছে ১৫ থেকে ২০ গুণ।

 

তবে চিকিৎসকদের সংগঠন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক ডা. হারুন আল রশীদ বলেন, বর্তমান প্রেক্ষাপটে এই আইন দ্বারা আপনি কোনো ব্যবস্থা নিতে পারবেন না। যার কোনো ক্ষমতা নেই, মানুষ কিন্তু বিএমডিসির কাছে আর যাচ্ছে না। হতাশায় ফিরে যাচ্ছে। আমরা এই আইনটাকে যুগোপযোগী করার জন্য কিন্তু চেষ্টা করছি। মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আমাদের বেশ কয়েকটি মিটিং হয়েছে।

 

সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, স্বাস্থ্যখাতের এসব অনিয়ম আর বিচারের দীর্ঘসূত্রিতা দূর করা এত সহজ নয়।

 

সব মিলিয়ে বড় পরিবর্তন আনতে পর্যাপ্ত সময় প্রয়োজন উল্লেখ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, গত ১৭ বছরের জঞ্জাল স্বাস্থ্যকে আসলে একটা দুর্বল খাতে পরিণত করেছে। আমি আপনাদের মেনেই বলতেছি, একটু টাইম লাগবে। বাট ইট ইমপ্রুভ। যেহেতু আমাদের সৎ ইচ্ছা আছে, ইমপ্রুভ হবে ইনশাআল্লাহ।

 

এই দীর্ঘ প্রক্রিয়ার সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী হয়ে পড়েন অভিযোগকারী। কারণ অভিযোগ তদন্ত শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত চিকিৎসক তার পেশায় বহাল থাকেন। আর ভুক্তভোগী পরিবারকে অপেক্ষা করতে হয় সিদ্ধান্তের জন্য। অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার আগেই যদি দীর্ঘ সময় চলে যায়, সেই সময়ের ক্ষতিপূরণ কে দেবে?

আইনি দুর্বলতায় হচ্ছে না অভিযুক্ত চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা

সৌন্দর্য প্রতিযোগিতার মঞ্চ থেকে বলিউডে পা রাখা অভিনেত্রী দিয়া মির্জা অভিনয়ের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরেই দর্শকের কাছে পরিচিত মুখ। নানা ধরনের চরিত্রে এখনো নিয়মিত দেখা যায় তাকে।

 

তবে ২০০৪ সালে মুক্তি পাওয়া ‘তুমসা নেহি দেখা’ সিনেমার ‘মুঝে তুমসে মোহাব্বত হ্যায়’ গানটি দিয়াকে নতুনভাবে আলোচনায় এনেছিল।

 

ইমরান হাশমির সঙ্গে তার সেই গ্ল্যামারাস নাচ দর্শকের নজর কাড়লেও ক্যামেরার পেছনের অভিজ্ঞতা ছিল অভিনেত্রীর জন্য বেশ চ্যালেঞ্জিং।সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে সেই গানের শুটিংয়ের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন দিয়া মির্জা। তিনি জানান, সেটে উপস্থিত শত শত পুরুষের সামনে তাকে অন্তর্বাস পরে নাচের দৃশ্যের শুটিং করতে হয়েছিল। শুরুতে বিষয়টি নিয়ে তিনি বেশ দ্বিধায় ও অস্বস্তিতে ছিলেন।দিয়ার ভাষ্য, তখন নিজের শরীর নিয়ে খুব একটা আত্মবিশ্বাসী ছিলেন না তিনি। রক্ষণশীল পরিবেশে বেড়ে ওঠার কারণে এমন পোশাকে ক্যামেরার সামনে দাঁড়ানো তার জন্য সহজ ছিল না।

 

তবে শেষ পর্যন্ত সেই অভিজ্ঞতাই তার জীবনে আত্মবিশ্বাস ও মুক্তির অনুভূতি এনে দেয়।

 

দিয়া বলেন, এই শুটিংয়ের অভিজ্ঞতা আমাকে এমনভাবে মুক্ত করেছিল, যা আমি কখনো আশা করিনি। নৃত্যপরিচালক বৈভবী মার্চেন্টের জন্যই আমি এই গানের শুটিং আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে করতে পেরেছিলাম। সেটে যারা কাজ করছিলেন, প্রত্যেকেই আমাকে খুব নিরাপদ অনুভব করিয়েছিলেন।

 

পোশাক ও শুটিংয়ের অভিজ্ঞতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, একজন নারী হিসেবে এটি ছিল তার ক্যারিয়ারের অন্যতম কঠিন কাজ। কারণ শত শত মানুষের সামনে তাকে অন্তর্বাস পরে ক্যামেরার সামনে নাচতে হয়েছিল।

 

তবে কেন শেষ পর্যন্ত তিনি সেই দৃশ্যে কাজ করতে রাজি হয়েছিলেন, তার ব্যাখ্যাও দিয়েছেন অভিনেত্রী। তার মতে, একজন অভিনেতার জন্য চরিত্রের প্রয়োজন এবং চরিত্রের ভেতরের সত্যকে বোঝা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

 

দিয়া বলেন, বিষয়টি অস্বস্তিকর হতে পারত। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা হয়নি। কারণ আমি বুঝতে পেরেছিলাম, একজন অভিনেতার জন্য চরিত্রের সত্যিটা খুঁজে বের করা জরুরি এবং সেই চরিত্রের মাধ্যমে কী প্রকাশ করা হচ্ছে, সেটাও গুরুত্বপূর্ণ। তাই ঘরে ৫০০ জন মানুষ থাকুক বা ১ হাজার জন, সেটা আর আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ ছিল না।

 

হায়দরাবাদে রক্ষণশীল পরিবেশে বেড়ে ওঠা দিয়া জানান, একসময় নিজের শরীর নিয়ে তার যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসের অভাব ছিল। কিন্তু ‘তুমসা নেহি দেখা’ সিনেমার ওই গানের শুটিংই তাকে নিজের প্রতি আরও আত্মবিশ্বাসী করে তোলে।

 

দর্শকের কাছে এটি হয়তো ছিল একটি গ্ল্যামারাস গানের দৃশ্য। তবে দিয়া মির্জার কাছে সেই অভিজ্ঞতা ছিল নিজের সীমাবদ্ধতা ভেঙে বেরিয়ে আসা, আত্মবিশ্বাস ফিরে পাওয়া এবং এক ধরনের মুক্তির অনুভূতির স্মরণীয় অধ্যায়।

অভিনেত্রী দিয়া মির্জার গোপন ভিডিও ফাঁস, তোলপাড় নেটদুনিয়া!

লুট হওয়া ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে পুলিশের বিশেষ একটি ইউনিট গঠন করা হয়েছে। অস্ত্র উদ্ধারের তথ্য দিলে ১০ হাজার টাকা থেকে ২ লাখ টাকা পর্যন্ত পুরষ্কার দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ।

 

আজ শনিবার (২৯ আগস্ট) সকালে রাজারবাগ পুলিশ অডিটোরিয়ামে বাংলাদেশ পুলিশের ঊধ্বর্তন কর্মকর্তাদের সঙ্গে গেল তিন মাসের অপরাধ পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে যোগ দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ। এসময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ সদস্যরা কর্মক্ষেত্রে তাদের প্রযুক্তিগত সহায়তার বৃদ্ধির পাশাপাশি প্রয়োজনীয় নানা বিষয়ের চাহিদার কথা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন।

 

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অবৈধ ও লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধারে পুলিশ বিশেষভাবে কাজ করবে। অস্ত্র উদ্ধারে সহায়তাকারীদের উৎসাহিত করতে সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা পর্যন্ত পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, ধীরে ধীরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির আরও উন্নতি হবে সে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

অবৈধ ও লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধারে বিশেষ ইউনিট, তথ্যদাতাকে ২ লাখ টাকা পুরস্কার

গার্মেন্টস শ্রমিকের সর্বনিম্ন মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবি শ্রমিক নেতা কবির হোসেনের

 

রাকিবুল ইসলাম রঞ্জু:

একজন শ্রমিকের জন্য তার পরিবার নিয়ে টিকে থাকতে হলে বর্তমানে সর্বনিম্ন ৩০ হাজার টাকা বেতন নির্ধারণ করা জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বিশিষ্ট শ্রমিক নেতা মোঃ কবির হোসেন। তিনি জানান, বর্তমান বাজারদর ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের উচ্চমূল্যের কারণে এই পরিমাণের চেয়ে কম বেতনে কোনো পরিবার চালানো কোনোভাবেই সম্ভব নয়।

 

সম্প্রতি গণ টেলিভিশনের সাথে আলাপ কালে মোঃ কবির হোসেন বলেন, “যে হারে জীবনযাত্রার ব্যয় ও বাসা ভাড়া বৃদ্ধি পেয়েছে, তাতে একজন সাধারণ শ্রমিকের পক্ষে বর্তমান মজুরি দিয়ে মাস চালানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে। পরিবারের সদস্যদের তিন বেলা খাবার, চিকিৎসা, সন্তানের পড়াশোনা এবং বাসা ভাড়া মেটাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের।”

 

তিনি আরও বলেন, “একজন শ্রমিকের সর্বনিম্ন ৩০ হাজার টাকা বেতন হলে তবেই তার পক্ষে পরিবার নিয়ে সম্মানজনকভাবে বেঁচে থাকা সম্ভব। এর নিচে বেতন দেওয়া হলে তা হবে শ্রমিকদের প্রতি চরম অবিচার, কারণ এর চেয়ে কম আয়ে এখন আর কোনোভাবেই টিকে থাকা সম্ভব নয়।”

 

শ্রমিকদের এই ন্যায্য দাবি মেনে নিয়ে অবিলম্বে সর্বনিম্ন ৩০ হাজার টাকা মজুরি কাঠামো ঘোষণা করার জন্য সরকার ও মালিকপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানান এই শ্রমিক নেতা।

গার্মেন্টস শ্রমিকের সর্বনিম্ন মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবি শ্রমিক নেতা কবির হোসেনের

র‌্যাবের চৌকস অভিযানে জীপসহ প্রায় ১১ হাজার ইয়াবার চালান আটক

জামালপুর হামলা পাল্টা হামলার মধ্য দিয়ে জেলার সানন্দবাড়ী তে থমথমে অবস্থা বিরাজমান।

পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের ও আদালতে মিথ্যা হলফনামা দেয়ার অভিযোগে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কেবিন ক্রু খাদিজা সুলতানা শিমুর বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

 

বুধবার (১৫ জুলাই) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২-এর বিচারক মো. জাকির হোসাইন এ আদেশ দেন। আদালতের আদেশে বলা হয়েছে, শিমুর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর ১৩ ধারা এবং দণ্ডবিধির ১৮১, ১৮২ ও ১৯৩ ধারায় মামলা করা হবে। আদালত নিজেই এ মামলার বাদী হয়েছেন।

 

আদালতের নথি অনুযায়ী, খাদিজা সুলতানা শিমু মামলার বাদী হয়ে বেসরকারি একটি এয়ারলাইন্সের কর্মকর্তা মো. ওমর ফারুক চৌধুরীর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনের বিভিন্ন ধারায় উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলা করেন।

 

তদন্ত শেষে উত্তরা পশ্চিম থানার তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে জানান, অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি। প্রতিবেদনে বলা হয়, মামলার এজাহারে উল্লেখ করা ফেসবুক লিংক, ডিজিটাল আলামত ও অন্যান্য তথ্য যাচাই করে ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি প্রচারের কোনো প্রমাণ মেলেনি। ফলে ওই কর্মকর্তাকে মামলা থেকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়।

একই সঙ্গে তদন্ত কর্মকর্তা প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, ওমর ফারুক আগে শিমুর বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন দিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে আদালতে মামলা করেছিলেন। সেই মামলার দায় এড়াতেই শিমু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত বিভিন্ন লিংক উল্লেখ করে তার বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি ছড়ানোর অভিযোগ এনে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, হয়রানিমূলক ও মিথ্যা মামলা করেছেন বলে প্রাথমিক তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে। এ কারণে শিমুর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর ১৩ ধারায় আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার আবেদনও করেন তদন্ত কর্মকর্তা।

 

পরে গত ৯ জুলাই আদালত তদন্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করে ওমর ফারুককে মামলা থেকে অব্যাহতি দেন। আদালতের আদেশে বলা হয়, শিমু ক্ষতিসাধনের উদ্দেশ্যে আদালতে মিথ্যা মামলা দায়ের করেছেন এবং হলফ করে মিথ্যা সাক্ষ্য দিয়েছেন। মামলার নথিতে তার দেয়া হলফনামাও সংযুক্ত রয়েছে। এসব বিবেচনায় আদালত নিজেই বাদী হয়ে তার বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন ও দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়েরের নির্দেশ দেন।

 

তদন্তে যা উঠে এসেছে পুলিশের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, তদন্তকালে রেকর্ড, ডিজিটাল আলামত, ফেসবুক লিংক ও ফরেনসিক তথ্য যাচাই করে ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি প্রচারের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

 

তদন্তে আরও উঠে আসে, শিমু বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কেবিন ক্রু এবং ওমর ফারুক একটি বেসরকারি এয়ারলাইন্সের এয়ারক্রাফট মেইনটেন্যান্স কর্মকর্তা। ফেসবুকে পরিচয়ের পর তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

 

প্রতিবেদনে বলা হয়, বিয়ের আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন সময়ে ওমর ফারুকের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী নেয়ার অভিযোগে ওমর ফারুক আদালতে পৃথক মামলা করেন। এরপর সেই মামলার দায় থেকে নিজেকে রক্ষা করতেই শিমু পর্নোগ্রাফি আইনে অভিযোগ দায়ের করেন বলে তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে।

 

ওমর ফারুকের আগের মামলা গত ২০ জুলাই ওমর ফারুক চৌধুরী শিমুর বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন, ‘হানি ট্র্যাপ’ ও ব্ল্যাকমেইলের মাধ্যমে প্রায় ২২ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ঢাকার আদালতে মামলা করেন। আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে উত্তরা পশ্চিম থানাকে তদন্তের নির্দেশ দেন। পরে তিনি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষের কাছেও লিখিত অভিযোগ করেন।

 

সেই মামলায় অভিযোগ করা হয়, ২০২৪ সালে ফেসবুকে পরিচয়ের পর শিমু তাকে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন সময়ে টাকা নেন। জন্মদিনে দেড় লাখ টাকা মূল্যের একটি হীরার আংটিসহ বিয়ের খরচের জন্য মোট ২১ লাখ ৭৪ হাজার ৫১১ টাকা নেয়ার পরও বিয়ে না করে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে মামলায় দাবি করা হয়।

পর্নোগ্রাফি আইনে কেবিন ক্রু শিমুর বিরুদ্ধে মামলার নির্দেশ আদালতের

error: আপনি নিউজ চুরি করার চেষ্টা করছেন। বিশেষ প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন ০১৭৬৭৪৪৪৩৩৩
%d