৬ দফা দাবিতে লংমার্চে ১১ দলীয় ঐক্য, ব্যাপক সাংগঠনিক প্রস্তুতি - Gono television | বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল।
৬ দফা দাবিতে লংমার্চে ১১ দলীয় ঐক্য, ব্যাপক সাংগঠনিক প্রস্তুতি

৬ দফা দাবিতে লংমার্চে ১১ দলীয় ঐক্য, ব্যাপক সাংগঠনিক প্রস্তুতি

গণভোটের গণরায় ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নসহ ৬ দফা দাবি আদায়ে ধারাবাহিক কর্মসূচির অংশ হিসেবে এবার লংমার্চের পথে ১১ দলীয় ঐক্য। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) থেকে ঢাকা-চট্টগ্রাম দিয়ে শুরু হওয়া লংমার্চ কর্মসূচি শেষ হবে ঢাকা-সিলেট অভিমুখী লংমার্চের মধ্য দিয়ে।

 

লংমার্চ কর্মসূচি সফল করতে এরই মধ্যে ব্যাপক সাংগঠনিক প্রস্তুতি নিয়েছে ১১ দলীয় ঐক্যভুক্ত দলগুলো।

 

নেতাদের দাবি, লংমার্চ কেবল রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়, জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করতেই পথে নেমেছে ১১ দলীয় জোট।

 

লংমার্চের বিষয়ে ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীদের সঙ্গে আমরা দফায় দফায় বৈঠক করেছি। এর প্রতিক্রিয়া কী? প্রস্তুতি কী? সাফল্যের সম্ভাবনা, ঝুঁকি—সামগ্রিক বিশ্লেষণ করে আমরা যেটা পেয়েছি, বিপুল পরিমাণ জনগণ এতে অংশগ্রহণ করবে। পাবলিক একেবারে বিস্ফোরণমুখী একটা পরিস্থিতিতে আছে। কারণ, তার তো সমস্যা হলো মূল জায়গায়।

 

এদিকে জাতীয় নাগরিক পার্টির সমন্বয়ক নাসিরুদ্দিন পাটওয়ারী বলেন, ১১ দলীয় ঐক্যের পক্ষ থেকে অথবা জাতীয় নাগরিক পার্টির পক্ষ থেকে লংমার্চ করতে চাইনি। সরকার এই পর্যায়ে আমাদেরকে নিয়ে এসেছে। এবং জনগণের যে ৭০ শতাংশ রায়, সেটা যেমন ৭০-এ যে নির্বাচন হয়েছিল, সে সময় মানুষ একটা ম্যান্ডেট দিয়েছিল। মূলত জনগণের রায় যখন বাস্তবায়ন না হয়, তখন রাজনৈতিক দল, জনগণ সবাই মিলে সেটা বাস্তবায়নের জন্য উঠে পড়ে লাগে।

 

এদিকে জাতীয় নাগরিক পার্টির সমন্বয়ক নাসিরুদ্দিন পাটওয়ারী বলেন, ১১ দলীয় ঐক্যের পক্ষ থেকে অথবা জাতীয় নাগরিক পার্টির পক্ষ থেকে লংমার্চ করতে চাইনি। সরকার এই পর্যায়ে আমাদেরকে নিয়ে এসেছে। ৭০-এ যে নির্বাচন হয়েছিল, সে সময় মানুষ একটা ম্যান্ডেট দিয়েছিল। মূলত জনগণের রায় যখন বাস্তবায়ন না হয়, তখন রাজনৈতিক দল, জনগণ—সবাই মিলে সেটা বাস্তবায়নের জন্য উঠে পড়ে লাগে।

 

তিনি আরও বলেন, আমরা মনে করি যে, মানুষ রাস্তায় নামবে। তাদের প্রয়োজনে যে ৭০ শতাংশ মানুষ ভোট দিয়েছে, তারাও যদি দাবি আদায়ের জন্য রাস্তায় নামে, তাহলে হরতাল-অবরোধ—এই ধরনের যে সংস্কৃতিটা ছিল, বিএনপি অথবা আওয়ামী লীগের এই দ্বিদলীয় জায়গায়, সেটা থেকে বের হয়ে আমরা নতুন সংস্কৃতিতে এই দাবিটা সরকারকে মানাতে বাধ্য করতে পারব।

 

তবে হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, লংমার্চের ঘোষণা দিয়েছি। এইটা একটা মাঝারি টাইপের প্রোগ্রাম। এটা নট সফট, নট হার্ড। এটা একটা ব্যালেন্সড, পাবলিক ওরিয়েন্টেড, জনসম্পৃক্ত জনমত গঠনের কর্মসূচি। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আমরা জনগণের দাবিগুলো উত্থাপন করার জন্য এই প্রোগ্রামটা নিয়েছি।

 

তবে আন্দোলনের ধরন নিয়ে নিজেদের অবস্থানও স্পষ্ট করেছে বিরোধী দল। নেতারা জানান, অতীতের মতো জ্বালাও-পোড়াও কিংবা ভাঙচুরের রাজনীতিতে না গিয়ে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির মাধ্যমেই দাবি আদায়ই তাদের লক্ষ্য।


ঘুমের মধ্যে সাপের কামড়ে প্রাণ গেল শিক্ষার্থীর

 

স্টাফ রিপোর্টার

মাইদুল ইসলামঃ নীলফামারীতে ঘুমের মধ্যে সাপের কামড়ে মোন্নাফ শাহ রহমান মানিক (১৩) নামে এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার

(৪ সেপ্টেম্বর) সকালে সদর উপজেলার পঞ্চপুকুর ইউনিয়নের বগিলা গাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত মোন্নাফ ওই এলাকার মশিউর রহমানের ছেলে। সে নীলফামারী ক্যাডেট একাডেমির সপ্তম শ্রেণীর শিক্ষার্থী ছিল। পরিবারের সদস্যরা জানান, বৃহস্পতিবার রাতে খাওয়া শেষ করে নিজ কক্ষে ঘুমাতে যায় মোন্নাফ। শুক্রবার সকালে তাঁর পক্ষ থেকে শব্দ শুনতে পান পরিবারের সদস্যরা। ডাকাডাকি করেও দরজা না খোলায় তার ঘরের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। এ সময় মোন্নাফ বিছানায় ছটফট করতে দেখা যায়। তার মুখ দিয়ে ফেনাও বের হচ্ছিল। গুরুতর অবস্থায় তাকে দ্রুত নীলফামারী জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। রংপুর নেওয়ার পথেই তার মৃত্যু হয়। স্থানীয়দের ধারণা, রাতে ঘুমের মধ্যেই কোন বিষাক্ত সাপ মোন্নাফকে কামড় দেয়। এটা ঘুমিয়ে থাকায় বিষয়টি পরিবারের সদস্যদের নজরে আসেনি। সকালে অসুস্থ অবস্থায় তাকে উদ্ধারের পর হাসপাতালে নেওয়া হলে শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ ওয়াহেদুল ইসলাম সরকার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, কিশোরটি একা ঘুমিয়েছিল। অসুস্থ হয়ে পড়লেও পরিবারের কেউ বিষয়টি টের পাননি। সকালে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলেও রংপুর নেওয়ার পথে সে মৃত্যুবরণ করেন।

ঘুমের মধ্যে সাপের কামড়ে প্রাণ গেল শিক্ষার্থীর 

দেশজুড়ে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আরও ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এতে চলতি বছর মশাবাহিত রোগটিতে এ পর্যন্ত মোট প্রাণহানি ১১১ জনে দাঁড়াল।

 

এ ছাড়া গত একদিনে ডেঙ্গু নিয়ে নতুন করে ১ হাজার ১৫২ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

 

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গু-বিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

 

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, চলতি বছরে ডেঙ্গুতে এখন পর্যন্ত ১১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে আগস্ট মাসেই মারা গেছে ৪৩ জন। এ ছাড়া জানুয়ারিতে দুই, ফেব্রুয়ারিতে দুই, মে মাসে এক, জুনে ১৩ ও জুলাইয়ে ৩৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। সেপ্টেম্বরে এখন পর্যন্ত মারা গেছে ১৪ জন।

 

গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকার হাসপাতালগুলোতে ১০১, দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকার হাসপাতালগুলোতে ১৩৫ ও ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের বাইরে ২২৭ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছে। অন্যান্য বিভাগের মধ্যে বরিশালে ১১৯, চট্টগ্রামে ১৯৪, খুলনায় ২৪৭, ময়মনসিংহে ৮৭, রাজশাহীতে ১০৯, রংপুরে ২৭ ও সিলেটে ছয়জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।

 

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গু নিয়ে মোট ৩৯ হাজার ৫৩২ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। তাদের মধ্যে ৩৬ হাজার ৪৬৭ জন সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে। বর্তমানে দেশে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি আছে ২ হাজার ৯৫৪ জন।

একদিনে ডেঙ্গুতে ৪ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১,২৫২

বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলায় পথচারী প্রতিবন্ধী এক নারীকে বাঁচাতে গিয়ে জনপ্রশাসন ও খাদ্য প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারীকে বহনকারী গাড়ি দুর্ঘটনার কবলে পড়েছে। এই ঘটনায় গাড়িতে থাকা প্রতিমন্ত্রী ও তার স্ত্রী কিছুটা আহত হয়েছেন। তবে বড় ধরনের কোন সমস্যা না হওয়ায় অন্য একটি গাড়িতে তারা জয়পুরহাটে নিজ বাড়িতে চলে যান।

 

শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার কিচক-গোবিন্দপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ জানায়, এক বৃদ্ধা সড়ক পার হচ্ছিলেন। তাকে বাঁচাতে গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশের জমিতে পড়ে যায়। গাড়িতে থাকা প্রতিমন্ত্রী ও তার পরিবারের সদস্যরা নিরাপদে রয়েছেন।

 

শিবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহীনুজ্জামান জানান, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ও তার পরিবারের সদস্যরা ঢাকা থেকে জয়পুরহাটে যাচ্ছিলেন। পথে কিচক-গোবিন্দপুর এলাকায় আচমকা এক বৃদ্ধা সড়ক পার হচ্ছিলেন। তাকে বাঁচাতে গিয়েই প্রতিমন্ত্রীকে বহনকারী গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশের জমিতে পড়ে যায়।

 

ওসি বলেন, এ ঘটনায় ওই নারী সামান্য আহত হয়েছেন। তবে গাড়িতে থাকা প্রতিমন্ত্রী ও তার পরিবারের সদস্যরা সুস্থ রয়েছেন।

বৃদ্ধাকে বাঁচাতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রীর গাড়ি, অল্পের জন্য রক্ষা

খামারে খাবার দিয়ে ঘুমাতে যান আমিনুর, সকালে উঠে দেখেন তিন শতাধিক মুরগির মৃত্যু।

 

 

বিশেষ প্রতিনিধি,

মামুন হাওলাদার

 

বাগেরহাটের শরণখোলায় একটি মুরগির খামারে ঢুকে বনবিড়ালের (বাঘডাশ) আক্রমণে এক রাতেই প্রায় ৩০০টি ব্রয়লার মুরগির মৃত্যু হয়েছে। এতে চরম ক্ষতির মুখে পড়েছেন খামারি।

 

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) রাতে উপজেলার খোন্তাকাটা গ্রামের প্রবাসী ফেরত আমিনুর সরদারের খামারে এই ঘটনাটি ঘটে।

 

ক্ষতিগ্রস্ত খামারি আমিনুর সরদার জানান, সৌদি আরব থেকে দেশে ফিরে তিনি নিজ বাড়িতে একটি ব্রয়লার মুরগির খামার গড়ে তোলেন। প্রতিদিনের মতো বুধবার রাতেও খামারের প্রায় এক হাজার মুরগিকে নিয়ম অনুযায়ী খাবার ও পানি দিয়ে তিনি ঘুমাতে যান।

 

ধারণা করা হচ্ছে, শেষরাতের দিকে খাঁচা বা নেটের ফাঁকা অংশ দিয়ে একটি বনবিড়াল ভেতরে ঢোকে এবং মুরগিগুলোর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে।

বৃহস্পতিবার সকালে খামারে ঢুকে সারিবদ্ধভাবে ৩০০টি মুরগি মৃত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন তিনি।

মৃত প্রতিটি মুরগির শরীরের বিভিন্ন স্থানে কামড় ও আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এক রাতের এই তাণ্ডবে তার অর্ধ লক্ষাধিক টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি।

খামারে খাবার দিয়ে ঘুমাতে যান আমিনুর, সকালে উঠে দেখেন তিন শতাধিক মুরগির মৃত্যু।

নওগাঁ ধামইরহাটে চাঞ্চল্যকর মুস্তাকিন হত্যা: মামলা দায়ের করার ১২ ঘণ্টার মধ্যেই ৫ জন গ্রেপ্তার

 

 

মোঃ সাইদুল ইসলাম হেলাল

বিশেষ প্রতিনিধিঃ

নওগাঁর ধামইরহাটে ২০০ টাকা মূল্যের মাছ ধরার জাল বন্ধক রাখাকে কেন্দ্র করে ঘটে যাওয়া তরুণ মুস্তাকিন (২০) হত্যা মামলার প্রধান পাঁচ আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। একই সাথে ঘটনার সাথে জড়িত আলামত হিসেবে রক্তমাখা সাবল উদ্ধার করে পুলিশ।

 

মামলা রুজুর মাত্র ১২ ঘণ্টার মধ্যে নওগাঁ জেলা পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় ধামইরহাট থানা পুলিশ এই অভিযান পরিচালনা করে।

 

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বড় শিবপুর যদুপাড়া গ্রামের বেলাল হোসেনের ছেলে ডিসিষ্ট৫ মোস্তাকিনের সাথে মাছ মারার তৌরা জাল ২০০ টাকা বন্ধক রাখা নিয়ে আসামিদের বিরোধ সৃষ্টি হয়। এর জেরে আসামিরা মোস্তাকিনের নিজ বাড়ির খলিয়ানে ঢুকে তাকে এবং তার মাকে মারপিট করে গুরুতর৫ রক্তাক্ত জখম করে। পরবর্তীতে স্থানীয়রা উদ্ধার করে জয়পুরহাট সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে দায়িত্বরত চিকিৎসক মোস্তাকিনকে মৃত ঘোষণা করেন।

 

ঘটনার পরপরই নওগাঁ জেলার পুলিশ সুপার জনাব মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম এর কঠোর নির্দেশনায় ধামইরহাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জনাব মোঃ মিন্টু রহমানের নেতৃত্বে পুলিশের একটি চৌকস টিম অভিযানে নামে। ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখ ভোর ০৪:৩০ ঘটিকায় সাহাপুর আঙ্গুরাত কলোনি এলাকায় অভিযান চালিয়ে ঘটনার সাথে সরাসরি জড়িত পাঁচ আসামিকে গ্রেফতার করা হয়।৫

 

গ্রেফতারকৃত আসামিরা হলেন:

মো: রতন হোসেন (২২), পিতা: আব্দুল জলিল

মো: সাইদুল ইসলাম (২৪), পিতা: আব্দুল জলিল

আইনের সাথে সংঘাতে জড়িত শিশু মোঃ হাসান (১৪), পিতা: আব্দুল জলিল

মোসাম্মৎ রোকেয়া বেগম (৫৫)

মোছাম্মত জাকিয়া বেগম (১৯)

গ্রেফতারের পর আসামি সাইদুলের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তার নিজ বাড়ি থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত রক্তমাখা সাবল উদ্ধার করা হয়। এ বিষয়ে ধামইরহাট থানায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

নওগাঁ ধামইরহাটে চাঞ্চল্যকর মুস্তাকিন হত্যা: মামলা দায়ের করার ১২ ঘণ্টার মধ্যেই ৫ জন গ্রেপ্তার 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ঘুমের মধ্যে সাপের কামড়ে প্রাণ গেল শিক্ষার্থীর

 

স্টাফ রিপোর্টার

মাইদুল ইসলামঃ নীলফামারীতে ঘুমের মধ্যে সাপের কামড়ে মোন্নাফ শাহ রহমান মানিক (১৩) নামে এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার

(৪ সেপ্টেম্বর) সকালে সদর উপজেলার পঞ্চপুকুর ইউনিয়নের বগিলা গাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত মোন্নাফ ওই এলাকার মশিউর রহমানের ছেলে। সে নীলফামারী ক্যাডেট একাডেমির সপ্তম শ্রেণীর শিক্ষার্থী ছিল। পরিবারের সদস্যরা জানান, বৃহস্পতিবার রাতে খাওয়া শেষ করে নিজ কক্ষে ঘুমাতে যায় মোন্নাফ। শুক্রবার সকালে তাঁর পক্ষ থেকে শব্দ শুনতে পান পরিবারের সদস্যরা। ডাকাডাকি করেও দরজা না খোলায় তার ঘরের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। এ সময় মোন্নাফ বিছানায় ছটফট করতে দেখা যায়। তার মুখ দিয়ে ফেনাও বের হচ্ছিল। গুরুতর অবস্থায় তাকে দ্রুত নীলফামারী জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। রংপুর নেওয়ার পথেই তার মৃত্যু হয়। স্থানীয়দের ধারণা, রাতে ঘুমের মধ্যেই কোন বিষাক্ত সাপ মোন্নাফকে কামড় দেয়। এটা ঘুমিয়ে থাকায় বিষয়টি পরিবারের সদস্যদের নজরে আসেনি। সকালে অসুস্থ অবস্থায় তাকে উদ্ধারের পর হাসপাতালে নেওয়া হলে শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ ওয়াহেদুল ইসলাম সরকার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, কিশোরটি একা ঘুমিয়েছিল। অসুস্থ হয়ে পড়লেও পরিবারের কেউ বিষয়টি টের পাননি। সকালে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলেও রংপুর নেওয়ার পথে সে মৃত্যুবরণ করেন।

ঘুমের মধ্যে সাপের কামড়ে প্রাণ গেল শিক্ষার্থীর 

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ধর্ম বা অন্য কোনো বিভাজনের ভিত্তিতে নয়, বরং দেশের প্রতিটি মানুষ নাগরিকত্বের ভিত্তিতেই সমান অধিকার ও নিরাপত্তা ভোগ করবে। বাংলাদেশে বসবাসকারী কোনো জনগোষ্ঠী বা সম্প্রদায়ের মানুষকে আর ‘সংখ্যালঘু’ হিসেবে পরিচিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। তিনি বলেন, আমাদের সবার প্রধান ও প্রথম পরিচিতি হওয়া উচিত ‘আমরা সবাই বাংলাদেশী’।

 

আজ শুক্রবার রাজধানীর ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির মেলাঙ্গনে ‘কেন্দ্রীয় জন্মাষ্টমী উৎসব ১৪৩৩’ উপলক্ষ্যে ঐতিহাসিক কেন্দ্রীয় জন্মাষ্টমী মিছিলের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন। মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটি ও বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ এর আয়োজন করে।

 

অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি বলেন, আমাদের নেতা স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন ‘সবার আগে বাংলাদেশ’। যদি তাই হয়, তবে আমরা প্রত্যেকে ‘সবার আগে বাংলাদেশী’। আমাদের ধর্মীয়, সামাজিক কিংবা নৃগোষ্ঠীগত পরিচয় এর পরে আসবে। রাষ্ট্র পরিচালনায় সরকারের মূল নীতিই হলো সবার জন্য বাংলাদেশ।

 

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অতীতে অনেকে মনে করত, সনাতন ধর্মাবলম্বীরা একটি নির্দিষ্ট দলের ‘ভোট ব্যাংক’। এটি দিয়ে তারা রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে চেয়েছিল। কিন্তু দেশের সচেতন জনগণ সেই ভুল ধারণা ও কৃত্রিম মিথ ভেঙে চুরমার করে দিয়েছে।

 

তিনি বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর গত ছয় মাসে দেশের সব ধর্মের মানুষের ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং আচার সুনিশ্চিত করা হয়েছে।

 

সালাহউদ্দিন আহমদ আরও বলেন, জনগণই বিচারক। তারা ইতোমধ্যে রায় দিয়েছেন এবং আগামীতেও গণতন্ত্রকে সুদৃঢ় রাখতে এবং সব ধরনের অসুর শক্তি ও উগ্রবাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ থাকবেন।

 

সংবিধান ও ধর্মীয় অধিকারের গুরুত্ব তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্র প্রতিটি নাগরিকের ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে বাধ্য। সংবিধানের চেতনা অনুযায়ী ধর্মের ভিত্তিতে কোনো প্রকার বৈষম্য করা যাবে না।

 

তিনি আরও বলেন, সব ধর্মীয় উপাসনালয় এবং সেখানে দায়িত্বপ্রাপ্তদের পূর্ণ নিরাপত্তা ও স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে। সরকার এসব কথা কেবল সংবিধানে সীমাবদ্ধ রাখতে চায় না, বাস্তবেও সাম্য ও সম্প্রীতি নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর।

 

ভাষার ব্যবহারে পরিবর্তন আনার আহ্বান জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, আমরা সচরাচর ‘সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি’ শব্দটি ব্যবহার করি। কিন্তু আমি মনে করি ‘সাম্প্রদায়িক’ শব্দটির আর প্রয়োজন নেই। এখন থেকে বলতে হবে আমরা ধর্মীয় ও সামাজিক সম্প্রীতি, সহাবস্থান এবং শান্তি বজায় রাখব। এই ইতিবাচক চর্চাই সমাজকে আরও সুন্দর করবে।

 

মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির সভাপতি গোপাল চন্দ্র দেবনাথের সভাপতিত্বে সমাবেশ ও মিছিলে উদ্বোধক হিসেবে বক্তব্য দেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুস সালাম।

 

সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীবিষয়ক বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার এবং ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান।

 

অন্যের মধ্যে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ভাইস চেয়ারম্যান তপন চন্দ্র মজুমদার, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক (খুলনা বিভাগ) জয়ন্ত কুমার কুণ্ডু, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি বাসুদেব ধর ও সাধারণ সম্পাদক সন্তোষ শর্মা।

 

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির সাধারণ সম্পাদক শুভাশীষ কুমার বিশ্বাস (সাধন)। অনুষ্ঠানের শুরুতে মঙ্গল প্রদীপ জ্বালিয়ে মিছিলের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম। জন্মাষ্টমীর মিছিলটি পলাশী মোড় (ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির মেলাঙ্গন) থেকে শুরু হয়ে বাহাদুর পার্কে গিয়ে শেষ হয়।

রাষ্ট্র পরিচালনায় সরকারের মূল নীতিই হলো সবার জন্য বাংলাদেশ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ফেনীর ফাজিলপুরে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উলটে যাওয়া কাভার্ড ভ্যানের ভেতর প্রায় চার ঘণ্টা আটকে থাকার পর চালক মো. শামীমকে (২৫) জীবিত উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিস।

 

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) ভোরে ফাজিলপুরের খাইয়ারা সংলগ্ন জেনিথ পাম্পের বিপরীত এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। সকাল ৯ টার দিকে চালককে উদ্ধার করা হয়।

 

উদ্ধার হওয়া চালক শামীম পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার ইদ্রিস আকনের ছেলে।

 

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ‘রহিম ইন্ডাস্ট্রিজ’-এর প্রায় ২১ টন স্ক্র্যাপ ও লোহার মালামাল নিয়ে কাভার্ড ভ্যানটি ঢাকার কাঁচপুরের উদ্দেশে যাচ্ছিল। ফাজিলপুর এলাকায় পৌঁছালে দ্রুতগতির একটি যাত্রীবাহী বাসের চাপে চালক নিয়ন্ত্রণ হারালে কাভার্ড ভ্যানটি সড়কের পাশে উলটে যায়।

 

এ সময় চালকের সহকারী বের হতে পারলেও ভ্যানের ভেতরে আটকা পড়েন শামীম। পরে টহলরত হাইওয়ে পুলিশের সদস্যরা দুর্ঘটনাকবলিত গাড়িটি দেখতে পেয়ে কাছে যান। এ সময় তারা ভেতর থেকে চালকের চিৎকার ও আকুতি শুনতে পান। পরে পুলিশ দ্রুত ফায়ার সার্ভিসে খবর দেয়।

 

ফেনী সদর ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক মো. আবদুল্লাহ হারুন পাশার নেতৃত্বে একটি উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। প্রায় চার ঘণ্টার চেষ্টায় দুমড়েমুচড়ে যাওয়া কাভার্ড ভ্যানের ভেতর থেকে শামীমকে জীবিত ও নিরাপদে উদ্ধার করা হয়। পরে তাকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়।

 

ফাজিলপুর হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) এম. এ. ইমরান হোসেন বলেন, সকালে টহলের সময় কাভার্ড ভ্যানটি উলটে থাকতে দেখে আমরা এগিয়ে যাই। পরে চালকের চিৎকার শুনে তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বুঝতে পারি। সঙ্গে সঙ্গে ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেওয়া হয়।

 

ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক মো. আবদুল্লাহ হারুন পাশা বলেন, কাভার্ড ভ্যানে প্রায় ২১ টন ভারি লোহার মালামাল ছিল। দুর্ঘটনায় গাড়িটি দুমড়েমুচড়ে যাওয়ায় চালককে বের করতে বেশ বেগ পেতে হয়েছে। দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর তাকে জীবিত উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো সম্ভব হয়েছে।

দুর্ঘটনার ৪ ঘণ্টা পর কাভার্ড ভ্যানের ভেতর থেকে চালক উদ্ধার

দেশজুড়ে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আরও ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এতে চলতি বছর মশাবাহিত রোগটিতে এ পর্যন্ত মোট প্রাণহানি ১১১ জনে দাঁড়াল।

 

এ ছাড়া গত একদিনে ডেঙ্গু নিয়ে নতুন করে ১ হাজার ১৫২ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

 

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গু-বিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

 

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, চলতি বছরে ডেঙ্গুতে এখন পর্যন্ত ১১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে আগস্ট মাসেই মারা গেছে ৪৩ জন। এ ছাড়া জানুয়ারিতে দুই, ফেব্রুয়ারিতে দুই, মে মাসে এক, জুনে ১৩ ও জুলাইয়ে ৩৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। সেপ্টেম্বরে এখন পর্যন্ত মারা গেছে ১৪ জন।

 

গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকার হাসপাতালগুলোতে ১০১, দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকার হাসপাতালগুলোতে ১৩৫ ও ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের বাইরে ২২৭ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছে। অন্যান্য বিভাগের মধ্যে বরিশালে ১১৯, চট্টগ্রামে ১৯৪, খুলনায় ২৪৭, ময়মনসিংহে ৮৭, রাজশাহীতে ১০৯, রংপুরে ২৭ ও সিলেটে ছয়জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।

 

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গু নিয়ে মোট ৩৯ হাজার ৫৩২ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। তাদের মধ্যে ৩৬ হাজার ৪৬৭ জন সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে। বর্তমানে দেশে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি আছে ২ হাজার ৯৫৪ জন।

একদিনে ডেঙ্গুতে ৪ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১,২৫২

গণভোটের গণরায় ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নসহ ৬ দফা দাবি আদায়ে ধারাবাহিক কর্মসূচির অংশ হিসেবে এবার লংমার্চের পথে ১১ দলীয় ঐক্য। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) থেকে ঢাকা-চট্টগ্রাম দিয়ে শুরু হওয়া লংমার্চ কর্মসূচি শেষ হবে ঢাকা-সিলেট অভিমুখী লংমার্চের মধ্য দিয়ে।

 

লংমার্চ কর্মসূচি সফল করতে এরই মধ্যে ব্যাপক সাংগঠনিক প্রস্তুতি নিয়েছে ১১ দলীয় ঐক্যভুক্ত দলগুলো।

 

নেতাদের দাবি, লংমার্চ কেবল রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়, জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করতেই পথে নেমেছে ১১ দলীয় জোট।

 

লংমার্চের বিষয়ে ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীদের সঙ্গে আমরা দফায় দফায় বৈঠক করেছি। এর প্রতিক্রিয়া কী? প্রস্তুতি কী? সাফল্যের সম্ভাবনা, ঝুঁকি—সামগ্রিক বিশ্লেষণ করে আমরা যেটা পেয়েছি, বিপুল পরিমাণ জনগণ এতে অংশগ্রহণ করবে। পাবলিক একেবারে বিস্ফোরণমুখী একটা পরিস্থিতিতে আছে। কারণ, তার তো সমস্যা হলো মূল জায়গায়।

 

এদিকে জাতীয় নাগরিক পার্টির সমন্বয়ক নাসিরুদ্দিন পাটওয়ারী বলেন, ১১ দলীয় ঐক্যের পক্ষ থেকে অথবা জাতীয় নাগরিক পার্টির পক্ষ থেকে লংমার্চ করতে চাইনি। সরকার এই পর্যায়ে আমাদেরকে নিয়ে এসেছে। এবং জনগণের যে ৭০ শতাংশ রায়, সেটা যেমন ৭০-এ যে নির্বাচন হয়েছিল, সে সময় মানুষ একটা ম্যান্ডেট দিয়েছিল। মূলত জনগণের রায় যখন বাস্তবায়ন না হয়, তখন রাজনৈতিক দল, জনগণ সবাই মিলে সেটা বাস্তবায়নের জন্য উঠে পড়ে লাগে।

 

এদিকে জাতীয় নাগরিক পার্টির সমন্বয়ক নাসিরুদ্দিন পাটওয়ারী বলেন, ১১ দলীয় ঐক্যের পক্ষ থেকে অথবা জাতীয় নাগরিক পার্টির পক্ষ থেকে লংমার্চ করতে চাইনি। সরকার এই পর্যায়ে আমাদেরকে নিয়ে এসেছে। ৭০-এ যে নির্বাচন হয়েছিল, সে সময় মানুষ একটা ম্যান্ডেট দিয়েছিল। মূলত জনগণের রায় যখন বাস্তবায়ন না হয়, তখন রাজনৈতিক দল, জনগণ—সবাই মিলে সেটা বাস্তবায়নের জন্য উঠে পড়ে লাগে।

 

তিনি আরও বলেন, আমরা মনে করি যে, মানুষ রাস্তায় নামবে। তাদের প্রয়োজনে যে ৭০ শতাংশ মানুষ ভোট দিয়েছে, তারাও যদি দাবি আদায়ের জন্য রাস্তায় নামে, তাহলে হরতাল-অবরোধ—এই ধরনের যে সংস্কৃতিটা ছিল, বিএনপি অথবা আওয়ামী লীগের এই দ্বিদলীয় জায়গায়, সেটা থেকে বের হয়ে আমরা নতুন সংস্কৃতিতে এই দাবিটা সরকারকে মানাতে বাধ্য করতে পারব।

 

তবে হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, লংমার্চের ঘোষণা দিয়েছি। এইটা একটা মাঝারি টাইপের প্রোগ্রাম। এটা নট সফট, নট হার্ড। এটা একটা ব্যালেন্সড, পাবলিক ওরিয়েন্টেড, জনসম্পৃক্ত জনমত গঠনের কর্মসূচি। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আমরা জনগণের দাবিগুলো উত্থাপন করার জন্য এই প্রোগ্রামটা নিয়েছি।

 

তবে আন্দোলনের ধরন নিয়ে নিজেদের অবস্থানও স্পষ্ট করেছে বিরোধী দল। নেতারা জানান, অতীতের মতো জ্বালাও-পোড়াও কিংবা ভাঙচুরের রাজনীতিতে না গিয়ে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির মাধ্যমেই দাবি আদায়ই তাদের লক্ষ্য।

৬ দফা দাবিতে লংমার্চে ১১ দলীয় ঐক্য, ব্যাপক সাংগঠনিক প্রস্তুতি

ফেনীর ছাগলনাইয়ায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে লং ভেহিকল, যাত্রীবাহী বাস ও কাভার্ডভ্যানের ত্রিমুখী সংঘর্ষে তিনজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন আরও চারজন।

 

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সকাল ৬টা ৫৫ মিনিটের দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ছাগলনাইয়া থানাধীন পুরাতন মুহুরীগঞ্জ এলাকার দৌলতপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে চট্টগ্রামমুখী লেনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

 

আহতদের ফেনী সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। এ ঘটনায় মহাসড়কে কিছু সময়ের জন্য যান চলাচল ব্যাহত হলেও বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।

 

পুলিশ জানায়, মহাসড়কের চট্টগ্রামমুখী লেনে একটি লং ভেহিকল, ইউনিক পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস ও একটি কাভার্ডভ্যানের মধ্যে ত্রিমুখী সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই দুজন নিহত হন। গুরুতর আহত আরও একজনকে হাসপাতালে নেয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

 

নিহত তিনজনের মরদেহ ফেনী সদর হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে নিহতদের পরিচয় জানা যায়নি।

 

দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দুর্ঘটনাকবলিত তিনটি যানবাহন হেফাজতে নেয়। বর্তমানে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।

 

ফাজিলপুর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু নোমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

ফেনীতে কাভার্ডভ্যান, লরি ও বাসের ত্রিমুখী সংঘর্ষে নিহত ৩

বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলায় পথচারী প্রতিবন্ধী এক নারীকে বাঁচাতে গিয়ে জনপ্রশাসন ও খাদ্য প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারীকে বহনকারী গাড়ি দুর্ঘটনার কবলে পড়েছে। এই ঘটনায় গাড়িতে থাকা প্রতিমন্ত্রী ও তার স্ত্রী কিছুটা আহত হয়েছেন। তবে বড় ধরনের কোন সমস্যা না হওয়ায় অন্য একটি গাড়িতে তারা জয়পুরহাটে নিজ বাড়িতে চলে যান।

 

শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার কিচক-গোবিন্দপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ জানায়, এক বৃদ্ধা সড়ক পার হচ্ছিলেন। তাকে বাঁচাতে গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশের জমিতে পড়ে যায়। গাড়িতে থাকা প্রতিমন্ত্রী ও তার পরিবারের সদস্যরা নিরাপদে রয়েছেন।

 

শিবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহীনুজ্জামান জানান, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ও তার পরিবারের সদস্যরা ঢাকা থেকে জয়পুরহাটে যাচ্ছিলেন। পথে কিচক-গোবিন্দপুর এলাকায় আচমকা এক বৃদ্ধা সড়ক পার হচ্ছিলেন। তাকে বাঁচাতে গিয়েই প্রতিমন্ত্রীকে বহনকারী গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশের জমিতে পড়ে যায়।

 

ওসি বলেন, এ ঘটনায় ওই নারী সামান্য আহত হয়েছেন। তবে গাড়িতে থাকা প্রতিমন্ত্রী ও তার পরিবারের সদস্যরা সুস্থ রয়েছেন।

বৃদ্ধাকে বাঁচাতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রীর গাড়ি, অল্পের জন্য রক্ষা

খামারে খাবার দিয়ে ঘুমাতে যান আমিনুর, সকালে উঠে দেখেন তিন শতাধিক মুরগির মৃত্যু।

 

 

বিশেষ প্রতিনিধি,

মামুন হাওলাদার

 

বাগেরহাটের শরণখোলায় একটি মুরগির খামারে ঢুকে বনবিড়ালের (বাঘডাশ) আক্রমণে এক রাতেই প্রায় ৩০০টি ব্রয়লার মুরগির মৃত্যু হয়েছে। এতে চরম ক্ষতির মুখে পড়েছেন খামারি।

 

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) রাতে উপজেলার খোন্তাকাটা গ্রামের প্রবাসী ফেরত আমিনুর সরদারের খামারে এই ঘটনাটি ঘটে।

 

ক্ষতিগ্রস্ত খামারি আমিনুর সরদার জানান, সৌদি আরব থেকে দেশে ফিরে তিনি নিজ বাড়িতে একটি ব্রয়লার মুরগির খামার গড়ে তোলেন। প্রতিদিনের মতো বুধবার রাতেও খামারের প্রায় এক হাজার মুরগিকে নিয়ম অনুযায়ী খাবার ও পানি দিয়ে তিনি ঘুমাতে যান।

 

ধারণা করা হচ্ছে, শেষরাতের দিকে খাঁচা বা নেটের ফাঁকা অংশ দিয়ে একটি বনবিড়াল ভেতরে ঢোকে এবং মুরগিগুলোর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে।

বৃহস্পতিবার সকালে খামারে ঢুকে সারিবদ্ধভাবে ৩০০টি মুরগি মৃত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন তিনি।

মৃত প্রতিটি মুরগির শরীরের বিভিন্ন স্থানে কামড় ও আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এক রাতের এই তাণ্ডবে তার অর্ধ লক্ষাধিক টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি।

খামারে খাবার দিয়ে ঘুমাতে যান আমিনুর, সকালে উঠে দেখেন তিন শতাধিক মুরগির মৃত্যু।

হারানো মোবাইল ফোন ফিরে পেলেন ৩০ জন, প্রশংসায় নীলফামারী সাইবার সেল

 

 

স্টাফ রিপোর্টার

মাইদুল ইসলাম

 

 

নীলফামারীতে জেলা পুলিশের সাইবার সেলের প্রযুক্তিনির্ভর অনুসন্ধানে হারিয়ে যাওয়া ৩০টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে। পরে উদ্ধার করা এসব মোবাইল ফোন প্রকৃত মালিকদের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে নীলফামারী জেলা পুলিশ।

 

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) নীলফামারী পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে উদ্ধার করা মোবাইল ফোনগুলো মালিকদের হাতে তুলে দেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মোহসিন এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) এ বি এম ফয়জুল ইসলাম।

 

জেলা পুলিশ সূত্র জানায়, প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক পুলিশিং কার্যক্রম জোরদারের লক্ষ্যে গত ১৩ জুন পুলিশ সুপার মো. ফরহাদ হোসেন খাঁনের দিকনির্দেশনায় নীলফামারী জেলা পুলিশে সাইবার সেল প্রতিষ্ঠা করা হয়। এরপর থেকে সাইবার সেলের দক্ষ সদস্যরা বিভিন্ন থানায় করা সাধারণ ডায়েরির (জিডি) তথ্যের ভিত্তিতে হারানো মোবাইল ফোন উদ্ধারে কাজ করছেন। পাশাপাশি ডিজিটাল প্রতারণা ও সাইবার অপরাধ প্রতিরোধেও কার্যক্রম পরিচালনা করছে সেলটি।

 

পুলিশের দাবি, তথ্যপ্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার ও প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণের মাধ্যমে বিভিন্ন সময়ে হারিয়ে যাওয়া মোবাইল ফোনের অবস্থান শনাক্ত করে সেগুলো উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া ৩০টি ফোনের মধ্যে বিভিন্ন নামী-দামি ব্র্যান্ডের হ্যান্ডসেট রয়েছে।

 

মোবাইল ফোন ফিরে পেয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন মালিকরা। তারা জানান, হারানো ফোন ফিরে পাওয়ার আশা অনেকটাই ছেড়ে দিয়েছিলেন। জেলা পুলিশের সাইবার সেলের তৎপরতায় ফোনগুলো ফিরে পেয়ে তারা সন্তোষ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

 

জেলা পুলিশ জানিয়েছে, সাধারণ মানুষের হারানো সম্পদ উদ্ধারের পাশাপাশি সাইবার অপরাধ নিয়ন্ত্রণে প্রযুক্তিনির্ভর পুলিশিং আরও জোরদার করা হবে। এ লক্ষ্যে সাইবার সেলের কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

হারানো মোবাইল ফোন ফিরে পেলেন ৩০ জন, প্রশংসায় নীলফামারী সাইবার সেল

শ্রীপুরের গোয়ালদাহ হাট পরিদর্শনে ইউএনও নাজমুল ইসলাম

 

মুজাহিদ শেখ, শ্রীপুর (মাগুরা) প্রতিনিধি:

 

মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার ৫ নম্বর দারিয়াপুর ইউনিয়নের একমাত্র ইজারাভুক্ত ঐতিহ্যবাহী গোয়ালদাহ হাট পরিদর্শন করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ নাজমুল ইসলাম।

 

পরিদর্শনকালে তিনি হাটের সার্বিক পরিস্থিতি, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, জলবদ্ধতা এবং ক্রেতা-বিক্রেতাদের নানা সমস্যার কথা সরেজমিনে ঘুরে দেখেন। বিশেষ করে হাটের প্রধান সড়কগুলোতে জমে থাকা কাদাপানি ও খানাখন্দের কারণে সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের যাতায়াতে যে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে, সে বিষয়টি গুরুত্বের সাথে লক্ষ্য করেন তিনি।

 

পরিদর্শন শেষে ইউএনও বলেন, “হাটের জলাবদ্ধতা নিরসন ও রাস্তাঘাটের সুব্যবস্থা করার মাধ্যমে হাটে আগত ক্রেতা-বিক্রেতাদের জন্য একটি সুষ্ঠু ও সুন্দর পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”

 

এ সময় দারিয়াপুর ইউনিয়ন প্যানেল চেয়ারম্যান গোলাম মওলা,ইউপি সচিব কাঞ্চন বিশ্বাস, বাজারের সভাপতি আলশাদ পাইলট, সাধারণ সম্পাদক সুমন বিশ্বাস,বাজারের বিশিষ্ট ব্যবসায়ি সাইফুল ইসলাম, মো সজিব বিশ্বাস,সহ স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, বাজার ও এলাকার বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

শ্রীপুরের গোয়ালদাহ হাট পরিদর্শনে ইউএনও নাজমুল ইসলাম

র‌্যাবের চৌকস অভিযানে জীপসহ প্রায় ১১ হাজার ইয়াবার চালান আটক

জামালপুর হামলা পাল্টা হামলার মধ্য দিয়ে জেলার সানন্দবাড়ী তে থমথমে অবস্থা বিরাজমান।

পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের ও আদালতে মিথ্যা হলফনামা দেয়ার অভিযোগে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কেবিন ক্রু খাদিজা সুলতানা শিমুর বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

 

বুধবার (১৫ জুলাই) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২-এর বিচারক মো. জাকির হোসাইন এ আদেশ দেন। আদালতের আদেশে বলা হয়েছে, শিমুর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর ১৩ ধারা এবং দণ্ডবিধির ১৮১, ১৮২ ও ১৯৩ ধারায় মামলা করা হবে। আদালত নিজেই এ মামলার বাদী হয়েছেন।

 

আদালতের নথি অনুযায়ী, খাদিজা সুলতানা শিমু মামলার বাদী হয়ে বেসরকারি একটি এয়ারলাইন্সের কর্মকর্তা মো. ওমর ফারুক চৌধুরীর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনের বিভিন্ন ধারায় উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলা করেন।

 

তদন্ত শেষে উত্তরা পশ্চিম থানার তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে জানান, অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি। প্রতিবেদনে বলা হয়, মামলার এজাহারে উল্লেখ করা ফেসবুক লিংক, ডিজিটাল আলামত ও অন্যান্য তথ্য যাচাই করে ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি প্রচারের কোনো প্রমাণ মেলেনি। ফলে ওই কর্মকর্তাকে মামলা থেকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়।

একই সঙ্গে তদন্ত কর্মকর্তা প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, ওমর ফারুক আগে শিমুর বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন দিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে আদালতে মামলা করেছিলেন। সেই মামলার দায় এড়াতেই শিমু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত বিভিন্ন লিংক উল্লেখ করে তার বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি ছড়ানোর অভিযোগ এনে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, হয়রানিমূলক ও মিথ্যা মামলা করেছেন বলে প্রাথমিক তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে। এ কারণে শিমুর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর ১৩ ধারায় আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার আবেদনও করেন তদন্ত কর্মকর্তা।

 

পরে গত ৯ জুলাই আদালত তদন্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করে ওমর ফারুককে মামলা থেকে অব্যাহতি দেন। আদালতের আদেশে বলা হয়, শিমু ক্ষতিসাধনের উদ্দেশ্যে আদালতে মিথ্যা মামলা দায়ের করেছেন এবং হলফ করে মিথ্যা সাক্ষ্য দিয়েছেন। মামলার নথিতে তার দেয়া হলফনামাও সংযুক্ত রয়েছে। এসব বিবেচনায় আদালত নিজেই বাদী হয়ে তার বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন ও দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়েরের নির্দেশ দেন।

 

তদন্তে যা উঠে এসেছে পুলিশের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, তদন্তকালে রেকর্ড, ডিজিটাল আলামত, ফেসবুক লিংক ও ফরেনসিক তথ্য যাচাই করে ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি প্রচারের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

 

তদন্তে আরও উঠে আসে, শিমু বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কেবিন ক্রু এবং ওমর ফারুক একটি বেসরকারি এয়ারলাইন্সের এয়ারক্রাফট মেইনটেন্যান্স কর্মকর্তা। ফেসবুকে পরিচয়ের পর তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

 

প্রতিবেদনে বলা হয়, বিয়ের আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন সময়ে ওমর ফারুকের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী নেয়ার অভিযোগে ওমর ফারুক আদালতে পৃথক মামলা করেন। এরপর সেই মামলার দায় থেকে নিজেকে রক্ষা করতেই শিমু পর্নোগ্রাফি আইনে অভিযোগ দায়ের করেন বলে তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে।

 

ওমর ফারুকের আগের মামলা গত ২০ জুলাই ওমর ফারুক চৌধুরী শিমুর বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন, ‘হানি ট্র্যাপ’ ও ব্ল্যাকমেইলের মাধ্যমে প্রায় ২২ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ঢাকার আদালতে মামলা করেন। আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে উত্তরা পশ্চিম থানাকে তদন্তের নির্দেশ দেন। পরে তিনি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষের কাছেও লিখিত অভিযোগ করেন।

 

সেই মামলায় অভিযোগ করা হয়, ২০২৪ সালে ফেসবুকে পরিচয়ের পর শিমু তাকে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন সময়ে টাকা নেন। জন্মদিনে দেড় লাখ টাকা মূল্যের একটি হীরার আংটিসহ বিয়ের খরচের জন্য মোট ২১ লাখ ৭৪ হাজার ৫১১ টাকা নেয়ার পরও বিয়ে না করে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে মামলায় দাবি করা হয়।

পর্নোগ্রাফি আইনে কেবিন ক্রু শিমুর বিরুদ্ধে মামলার নির্দেশ আদালতের

error: আপনি নিউজ চুরি করার চেষ্টা করছেন। বিশেষ প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন ০১৭৬৭৪৪৪৩৩৩
%d