নওগাঁ পরিবেশ উন্নয়ন সংস্থার দুই বছর মেয়াদি নতুন কমিটি অনুমোদন : সভাপতি ফারুক হোসেন, সম্পাদক বেলাল - Gono television | বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল।
নওগাঁ পরিবেশ উন্নয়ন সংস্থার দুই বছর মেয়াদি নতুন কমিটি অনুমোদন : সভাপতি ফারুক হোসেন, সম্পাদক বেলাল

নওগাঁ পরিবেশ উন্নয়ন সংস্থার দুই বছর মেয়াদি নতুন কমিটি অনুমোদন : সভাপতি ফারুক হোসেন, সম্পাদক বেলাল

নওগাঁ পরিবেশ উন্নয়ন সংস্থার দুই বছর মেয়াদি নতুন কমিটি অনুমোদন : সভাপতি ফারুক হোসেন, সম্পাদক বেলাল

 

বিশেষ প্রতিনিধিঃ পরিবেশ সুরক্ষা, ব্যাপক হারে বৃক্ষরোপণ এবং সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে নওগাঁ পরিবেশ উন্নয়ন সংস্থা-এর নতুন কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন করা হয়েছে। সম্প্রতি সংস্থার প্রধান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সাধারণ সভায় সর্বসম্মতিক্রমে এবং বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আগামী দুই বছর মেয়াদি অর্থাৎ ২০২৮ সাল পর্যন্ত মেয়াদের এই নতুন কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়।

সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা ও বিশিষ্ট বৃক্ষপ্রেমী মাহমুদুন নবী বেলাল-এর সার্বিক পরিচালনায় গঠিত এই নতুন কমিটিতে সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন বিশিষ্ট সমাজসেবক দেওয়ান মোঃ ফারুক হোসেন। সাধারণ সম্পাদকের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পেয়েছেন পরিবেশ সংগঠক মাহমুদুন নবী বেলাল।

কমিটির অন্যান্য পদে দায়িত্বপ্রাপ্তরা হলেন— সহ-সভাপতি বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আসাদুজ্জামান খান চৌধুরী আপেল, সহ-সাধারণ সম্পাদক হাসান আলী এবং অর্থ সম্পাদক তানিয়া ফেরদৌসী। এ ছাড়া কার্যনির্বাহী সদস্য হিসেবে কমিটিতে স্থান পেয়েছেন বিশিষ্ট সমাজকর্মী গোলাম মোস্তফা মুন্টু ও তরুণ সংগঠক সজিব হোসেন।

সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা ও সাধারণ সম্পাদক বৃক্ষপ্রেমী মাহমুদুন নবী বেলাল বলেন, “নওগাঁর পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং সবুজায়ন নিশ্চিত করতেই এই সংগঠনের জন্ম। নতুন কমিটির সকল সদস্যকে সাথে নিয়ে আমরা আমাদের পরিবেশবান্ধব কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করব। বিশেষ করে আগামী দুই বছর ‘গ্রীণ নওগাঁ, ক্লীন নওগাঁ’ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আমরা মাঠপর্যায়ে কঠোর পরিশ্রম করব।”

নবনির্বাচিত সভাপতি দেওয়ান মোঃ ফারুক হোসেন বলেন, “জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলা এবং নওগাঁ জেলাকে একটি সবুজ, পরিচ্ছন্ন ও পরিবেশবান্ধব অঞ্চল হিসেবে গড়ে তুলতে এই কমিটি নিরলসভাবে কাজ করে যাবে। আগামী দিনে জেলার সর্বস্তরের মানুষকে সাথে নিয়ে পরিবেশ দূষণ রোধ ও প্লাস্টিক বর্জনের পাশাপাশি প্রত্যন্ত অঞ্চলে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি আরও জোরদার করা হবে।”

বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত নওগাঁ পরিবেশ উন্নয়ন সংস্থার এই নতুন ও গতিশীল কমিটিকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন স্থানীয় সুধীসমাজ, বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।


ভবিষ্যতে আকস্মিক গ্যাস সংকট মোকাবিলায় সরকার বৃহৎ পরিকল্পনা নিয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান। তিনি বলেন, সংকটের সময়ে শিল্পখাত যাতে গ্যাসের অভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেজন্য বেশ কিছু উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

 

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি এসব কথা বলেন।

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, গভীর সমুদ্রে নতুন একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এ টার্মিনালের মাধ্যমে গ্যাস সরবরাহের সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি সংকটকালীন সময়ে শিল্পকারখানায় নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করার পরিকল্পনা রয়েছে। ইপিজেড ও বিসিকের শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকে এক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

 

সংসদ নেতা বলেন, জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকারের নেওয়া পদক্ষেপগুলো ইতোমধ্যে দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে। সামনে এসব উদ্যোগের আরও সুফল দেখা যাবে। একই সঙ্গে আমদানি-নির্ভরতা কমিয়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে অগ্রাধিকার খাত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এ জন্য ২০৩০ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

 

ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারে উৎসাহ দিতে বিশেষ সুবিধার কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ২০২৭ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে যেসব গ্রাহক নিজেদের ব্যবহারের পর অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করবেন, তারা পরবর্তী তিন বছর প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের জন্য ১০ টাকা ৫০ পয়সা মূল্য পাবেন।

 

এদিকে সরকারি প্রকল্পের ব্যয় ও মেয়াদ বৃদ্ধির প্রবণতায় নানা দুর্বলতা ধরা পড়ার পর সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। নতুন প্রকল্প গ্রহণের আগে নির্ভুল সমীক্ষা, বাস্তবায়নের প্রস্তুতি দ্রুত সম্পন্ন করা এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে নিবিড় তদারকি বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

 

আওয়ামী লীগ আমলে নেওয়া মেগাপ্রকল্পগুলোর অতিরঞ্জিত ব্যয় ও দুর্নীতির অভিযোগের তদন্ত চলছে বলেও জানান তিনি। কয়েকটি প্রকল্পের তদন্ত ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। বিভিন্ন প্রকল্পের ব্যয় কমিয়ে কম খরচে জনগণ যাতে সর্বোচ্চ সুবিধা পায়, সরকার সে বিষয়টি নিশ্চিত করছে।

 

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, গত ১৭ বছরের দুর্নীতি ও দুঃশাসন নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকার যে শ্বেতপত্র প্রকাশ করেছিল, সেটিকে সামনে রেখে বর্তমান সরকার পর্যায়ক্রমে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে।

ভবিষ্যতে আকস্মিক গ্যাস সংকট নিরসনে বৃহৎ পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

দাপ্তরিক যোগাযোগ, নথিপত্র ও সারসংক্ষেপে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীর পদবির আগে ‘মহামান্য’, ‘মাননীয়’ বা অন্য কোনো সম্মানসূচক শব্দ ব্যবহার না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

 

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) এ বিষয়ে একটি পরিপত্র জারি করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

 

পরিপত্রে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতি এবং প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীর সঙ্গে দাপ্তরিক যোগাযোগ, নথিপত্র ও সারসংক্ষেপ উপস্থাপনের ক্ষেত্রে তাঁদের পদবির পূর্বে সম্মানসূচক শব্দ হিসেবে যথাক্রমে ‘মহামান্য’ ও ‘মাননীয়’ শব্দ লিখিতভাবে ব্যবহার না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

 

এতে আরও বলা হয়, সরকারি দাপ্তরিক কার্যক্রমে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীর পদবির আগে ‘মহামান্য’, ‘মাননীয়’ কিংবা অন্য কোনো সম্মানসূচক শব্দ লিখিতভাবে ব্যবহার না করার জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে অনুরোধ করা হয়েছে।

 

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এই পরিপত্রের মাধ্যমে সরকারি দপ্তরগুলোর দাপ্তরিক যোগাযোগ ও নথিপত্রে পদবি ব্যবহারের ক্ষেত্রে নতুন নির্দেশনা কার্যকর হলো।

রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীর পদবির আগে ‘মহামান্য’ ও ‘মাননীয়’ নয়

বৈধ ভিসা থাকার পরেও অবৈধ বলে লাশ পাঠালো বাংলাদেশ দূতাবাস

 

মো:নুরুল ইসলাম সুজন কুয়ালালামপুর মালয়েশিয়া।।

 

মালয়েশিয়ায় বৈধ ভিসা থাকা পরেও অবৈধ অভিসীর তকমা দিয়ে মরদেহ দেশে প্রেরণের ছাড়পত্র দিয়েছে দেশটিতে অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশন। মৃত প্রবাসীর পরিবার সূত্রে জানা গেছে গত ২৮ আগস্ট নরসিংদী সদরের হাটখোলা এলাকার মোঃ জাইদুল ইসলাম মালয়েশিয়ার নেগেরি সেম্বিলান রাজ্যের সেরেম্বান শহরে হার্ট অ্যাটাক করে মারা যান । তিনি মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুর থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার দূরে সেরেম্বান শহরে লিম চং ভেজি মার্ট লিম চং ভেজি মার্ট এসডিএন বিএইচডি কোম্পানিতে কর্মরত ছিলেন।

 

মৃত প্রবাসীর ভিসা যাচাই করে দেখা যায়, চলতি বছরের ১৭ অক্টোবর ভিসার মেয়াদ শেষ হবে । অথচ বাংলাদেশ হাইকমিশন থেকে এক বছর আগে অর্থাৎ ২০২৫ সালে ভিসার মেয়াদ শেষ হয়েছে দেখিয়ে অবৈধ অভিবাসীর তকমা দিয়ে মরদেহের ছাড়পত্র দিলে চলতি মাসের ২ তারিখে অবৈধ অভিবাসী হিসেবে জাইদুলের লাশ তার পরিবারের কাছে পাঠানো হয়। ভিসা থাকার পরেও অবৈধ অভিবাসীর তকমা দেয়ায় প্রবাসীদের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। দূতাবাস আসলে কাদের সেবায় নিয়োজিত?

 

এদিকে মরদেহ দেশে প্রেরণে প্রায় ২ লাখ টাকা খরচ হওয়ায় নিয়োগকর্তা মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে মৃত জাইদুলের ভিসা নেই দেখিয়ে ২০২৫ সালে ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়া কাগজপত্র দিয়ে মরদেহ প্রেরণের ছাড়পত্রের আবেদন করে দূতাবাসে। ছাড়পত্র দেয়ার আগেই এ বিষয়ে দূতাবাসরে সংশ্লিষ্ট শাখায় অবহিত করলেও কোন সুবিধার বিনিময়ে অবৈধ অভিবাসী হিসেবে ছাড়াপত্র দিয়েছে দূতাবাস সেই প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

 

উল্লেখ্য মালয়েশিয়ায় থাকা বৈধ কর্মীর ভিসা নবায়নের সময় ইন্সুরেন্স করতে হয় । পরবর্তীতে কর্মীর চিকিৎসাসহ কোন কারণে মৃত্যু হলে মরদেহ দেশে প্রেরণে ইন্স্যুরেন্স কোম্পানী থেকে ক্ষতি পূরণ পাওয়া যায়। দেশটির শ্রমআইন অনুযায়ী ইন্স্যুরেন্স বাধ্যতা মূলক থাকলেও নিয়োগকর্তা সেটি না করায় মরদেহ দেশে প্রেরণসহ আইনি জটিলতা এড়াতে মিথ্যার আশ্রয় নেয়। যদিও জাইদুল ইসলামের ভিসা মেয়াদ এখনো চলমান আছে জানিয়ে বিষয়টি দূতাবাসের লেবার উইংয়ে কর্মরত সাইফুল ইসলাম কে মোবাইল ফোনে আগেই অবহিত করা হয়। পূর্বে অবহিত করার পরেও কেন অবৈধ অভিবাসী হিসেবে ছাড়পত্র দেয়া হলো জানতে চাইলে সাইফুল ইসলাম জানান, ভিসা কিভাবে চেক করতে হয় সেটা আমাদের জানা নাই। এমনকি আগাম অবহিতকরণের বিষয়টিও তিনি অস্বীকার করেন।

 

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চেয়ে কয়েজন গণমাধ্যমকর্মী লেবার কাউন্সিলর সৈয়দ শরিফুল ইসলামের মোবাইলে একাধিকার কল দিলেও তিনি ফোনকল রিসিভ না করলে হাইকমিশনের লেবার মিনিস্টার মোঃ সিদ্দিকুর রহমান জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, বৈধ ভিসা থাকার পরেও অবৈধ হিসেবে যদি ছাড়পত্র দেয়া হয় তাহলে সে বিষয়ে তদন্ত করে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

উল্লেখ্য, লেবার কাউন্সিলর শরিফুলের বিরুদ্ধে আর্থিক সুবিধা নিয়ে অস্তিত্বহীন কোম্পানীতে হাজার হাজার কর্মী নিয়োগের এটাস্টেশন, ব্যক্তিগত সহকারীকে দিয়ে কোম্পানীর তালিকা করে কোম্পানীর মালিক কর্তৃক অর্থ নিয়ে ফাইল ছাড় করা, অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টার সামনে অভিযোগ করায় নিয়োগকর্তা কর্তৃক কর্মী নির্যাতন, সরকারি গাড়ি ব্যক্তিগত কাজে বেশি ব্যবহার, সরকারের আর্থিক ক্ষতিসহ নানা অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এসব নিয়ে বিভিন্ন সময় গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হলে নিজেকে বাঁচাতে কখনও অস্থায়ী নিয়োগ পাওয়া ড্রাইভারকে জোরপূর্বক চাকরির ইস্তফা দিয়ে বিদায় করা, কখনও ব্যক্তিগত সহকারীকে (কল্যাণসহকারী, অস্থায়ী) চাকরিচ্যুত করেছেন। এছাড়াও অভিযোগ রয়েছে, দূতাবাসের ডেপুটি হাইকমিশনার মোসাম্মৎ শাহানারা মনিকা ইউনিভার্সিটির বন্ধু হওয়ায় তার হস্তক্ষেপে নানা অপরাধ করেও রক্ষা পান তিনি। এমনকি জুনিয়র কর্মকর্তা হয়েও অফিসিয়াল ভাষা ভুলে ডেপুটিকে ”তুমি সম্বোধন” মিশনের ক্ষমতার দাপটও দেখান।

বৈধ ভিসা থাকার পরেও অবৈধ বলে লাশ পাঠালো বাংলাদেশ দূতাবাস

নওগাঁয় জাল নোট তৈরির অভিযোগে ৪৭ হাজার টাকার জাল নোটসহ গ্রেপ্তার এক

 

মোঃ সাইদুল ইসলাম হেলাল

বিশেষ প্রতিনিধিঃ

নওগাঁ সদর উপজেলার পয়না বাজারে কম্পিউটার ও প্রিন্টারের মাধ্যমে জাল টাকা তৈরির অভিযোগে তারিকুল ইসলাম মল্লিক (৩৮) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ। এ সময় তার কাছ থেকে এক হাজার টাকা মূল্যমানের ৪৭টি জাল নোট, একটি কম্পিউটার মনিটর, দুটি সিপিইউ, একটি কালার প্রিন্টার ও একটি স্ক্যানার জব্দ করা হয়েছে। আজ রোববার বিকেল সোয়া তিনটার দিকে পয়না বাজারে তারিকুল ইসলামের ‘মল্লিক ডিজিটাল স্টুডিও ল্যাব প্রিন্ট অ্যান্ড ফটোকপি টেলিকম’ নামের দোকান থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

 

পুলিশ জানায়, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামের নির্দেশনায় জেলা গোয়েন্দা শাখার একটি দল নওগাঁ সদর থানা এলাকায় বিশেষ অভিযান চালাচ্ছিল। এ সময় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে খবর আসে, পয়না বাজারের একটি দোকানে কম্পিউটারের মাধ্যমে জাল টাকা তৈরি করা হচ্ছে। খবর পেয়ে ডিবির অভিযানিক দল ওই দোকানে অভিযান চালায়। সেখানে উপস্থিত লোকজনের সামনে তারিকুল ইসলাম মল্লিকের দেহ তল্লাশি করে তার হেফাজত থেকে এক হাজার টাকা মূল্যমানের ৪৭টি জাল নোট উদ্ধার করা হয়। অভিযানকালে দোকানে থাকা একটি কম্পিউটার মনিটর, দুটি সিপিইউ, একটি কালার প্রিন্টার ও একটি স্ক্যানার জব্দ করে পুলিশ।

 

নওগাঁ সদর থানার অফিসার ইনচার্জ আসাদুজ্জামান বলেন, এ ঘটনায় তারিকুল ইসলাম মল্লিকের বিরুদ্ধে নওগাঁ সদর থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা করা হয়েছে। জাল নোট তৈরির সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না এবং এর মাধ্যমে জাল নোট বাজারে ছড়ানো হয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

নওগাঁয় জাল নোট তৈরির অভিযোগে ৪৭ হাজার টাকার জাল নোটসহ গ্রেপ্তার এক

ভাংচুর ও পুলিশের কাজে বাঁধা দেয়ার দুই মামলায় হাইকোর্টে জামিন পেয়েছেন বাংলাদেশ সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারী (চন্দন কুমার ধর)।

 

রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার ও বিচারপতি শেখ আবু তাহেরের দ্বৈত বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

 

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চিন্ময় কৃষ্ণ দাশের আইনজীবী অপূর্ব কুমার ভট্টাচার্য। তবে তার বিরুদ্ধে অন্যান্য মামলা চলমান থাকায় তিনি মুক্ত হতে পারবেন না বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবী।

 

অপূর্ব কুমার ভট্টাচার্য জানান, ২০২৪ সালের ২৬ নভেম্বর পুলিশি কাজে বাধা ও ভাঙচুরের অভিযোগে চট্টগ্রামের কোতোয়ালি থানায় এসব মামলা হয়। এ দুই মামলায় রুল মঞ্জুর করে জামিন দিয়েছেন। তবে আরও মামলা থাকায় তিনি মুক্তি পাচ্ছেন না।

দুই মামলায় হাইকোর্টে জামিন পেলেন ইস্কন নেতা চিন্ময় কৃষ্ণ দাশ

সাভার থানা জিয়া পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হলেন হাজী মোঃ মনিরুল হক

 

রাকিবুল ইসলাম রঞ্জু:

সাভার থানা জিয়া পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন বিরুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম আদালতের চেয়ারম্যান এবং আসন্ন বিরুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হাজী মোঃ মনিরুল হক।

 

স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে তাঁর এই নতুন দায়িত্বপ্রাপ্তিকে অত্যন্ত ইতিবাচক হিসেবে দেখা হচ্ছে। হাজী মোঃ মনিরুল হক দীর্ঘদিন ধরে এলাকার সাধারণ মানুষের কল্যাণে এবং দলীয় সাংগঠনিক কার্যক্রমে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছেন। বিরুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদে গ্রাম আদালতের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তাঁর সততা, ন্যায়পরায়ণতা ও জনবান্ধব কার্যক্রম এলাকাবাসীর মাঝে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে।

 

সাভার থানা জিয়া পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই তাঁকে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের পক্ষ থেকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানানো হচ্ছে।

 

নবনির্বাচিত সভাপতি হাজী মোঃ মনিরুল হক তাঁর প্রতিক্রিয়ায় সংগঠনের সকল স্তরের নেতাকর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি জানান, দেশ ও জনগণের স্বার্থ রক্ষায় জিয়া পরিষদের আদর্শকে সামনে রেখে দলকে আরও সুসংহত করতে তিনি সততা ও নিষ্ঠার সাথে কাজ করে যাবেন। একই সাথে আসন্ন বিরুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে জনগণের সেবা করার সুযোগ চেয়ে সকলের দোয়া ও সমর্থন প্রত্যাশা করেন তিনি।

সাভার থানা জিয়া পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হলেন হাজী মোঃ মনিরুল হক

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ভবিষ্যতে আকস্মিক গ্যাস সংকট মোকাবিলায় সরকার বৃহৎ পরিকল্পনা নিয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান। তিনি বলেন, সংকটের সময়ে শিল্পখাত যাতে গ্যাসের অভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেজন্য বেশ কিছু উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

 

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি এসব কথা বলেন।

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, গভীর সমুদ্রে নতুন একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এ টার্মিনালের মাধ্যমে গ্যাস সরবরাহের সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি সংকটকালীন সময়ে শিল্পকারখানায় নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করার পরিকল্পনা রয়েছে। ইপিজেড ও বিসিকের শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকে এক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

 

সংসদ নেতা বলেন, জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকারের নেওয়া পদক্ষেপগুলো ইতোমধ্যে দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে। সামনে এসব উদ্যোগের আরও সুফল দেখা যাবে। একই সঙ্গে আমদানি-নির্ভরতা কমিয়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে অগ্রাধিকার খাত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এ জন্য ২০৩০ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

 

ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারে উৎসাহ দিতে বিশেষ সুবিধার কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ২০২৭ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে যেসব গ্রাহক নিজেদের ব্যবহারের পর অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করবেন, তারা পরবর্তী তিন বছর প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের জন্য ১০ টাকা ৫০ পয়সা মূল্য পাবেন।

 

এদিকে সরকারি প্রকল্পের ব্যয় ও মেয়াদ বৃদ্ধির প্রবণতায় নানা দুর্বলতা ধরা পড়ার পর সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। নতুন প্রকল্প গ্রহণের আগে নির্ভুল সমীক্ষা, বাস্তবায়নের প্রস্তুতি দ্রুত সম্পন্ন করা এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে নিবিড় তদারকি বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

 

আওয়ামী লীগ আমলে নেওয়া মেগাপ্রকল্পগুলোর অতিরঞ্জিত ব্যয় ও দুর্নীতির অভিযোগের তদন্ত চলছে বলেও জানান তিনি। কয়েকটি প্রকল্পের তদন্ত ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। বিভিন্ন প্রকল্পের ব্যয় কমিয়ে কম খরচে জনগণ যাতে সর্বোচ্চ সুবিধা পায়, সরকার সে বিষয়টি নিশ্চিত করছে।

 

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, গত ১৭ বছরের দুর্নীতি ও দুঃশাসন নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকার যে শ্বেতপত্র প্রকাশ করেছিল, সেটিকে সামনে রেখে বর্তমান সরকার পর্যায়ক্রমে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে।

ভবিষ্যতে আকস্মিক গ্যাস সংকট নিরসনে বৃহৎ পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

ঢাকার ধামরাইয়ে ৬ বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগে মো. মাহিদুর রহমান মাহিম (১৯) নামে এক তরুণকে গ্রেপ্তার করেছে ধামরাই থানা-পুলিশ।

 

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন ধামরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নাজমুল হুদা খান। এর আগে সোমবার রাতে উপজেলার সুতিপাড়া ইউনিয়নের নওগাঁও গ্রাম থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। সোমবার নওগাঁও গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

 

গ্রেপ্তার মো. মাহিদুর রহমান মাহিম ধামরাই উপজেলার সুতিপাড়া ইউনিয়নের নওগাঁও গ্রামের মৃত হায়দার আলীর ছেলে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিশুর মা বাদী হয়ে ধামরাই থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেছেন।

 

ভুক্তভোগীর পরিবার ও মামলার সূত্রে জানা যায়, শিশুটি তার চার বছর বয়সী ছোট বোন ও সহপাঠী সাইমের সঙ্গে খেলতে মঙ্গলের বাড়ির পাশে যায়। এ সময় মাহিদুর রহমান মাহিম শিশুটিকে ও তার সঙ্গীদের গাবল বিলের নিচু জমিতে নিয়ে যায়। পরে শিশুটিকে মাটিতে ফেলে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। শিশুটির চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করেন।

 

ধামরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নাজমুল হুদা খান বলেন, সুতিপাড়া ইউনিয়নের নওগাঁও গ্রামে ৬ বছর বয়সী শিশুকে ধর্ষণের চেষ্টার মামলায় মাহিদুর রহমান মাহিমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

ধামরাইয়ে ৬ বছরের শিশু ধর্ষণের চেষ্টা, তরুণ গ্রেপ্তার

রাজবাড়ীর পাংশা থানা পুলিশের অভিযানে আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলিসহ হত্যা মামলার আসামি ও তার সহযোগী গ্রেপ্তার। পুলিশের দাবি অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড প্রস্তুত কালে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

 

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) রাত দেড়টার দিকে পাংশা উপজেলার হাবাসপুর ইউনিয়নের চরঝিকড়ী এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

 

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- পাংশা উপজেলার হাবাসপুর ইউনিয়নের কাচারীপাড়া গ্রামের মৃত মতিয়ার মিয়ার ছেলে মো. মনজুর মিয়া ওরফে মঞ্জু (৪০) এবং বাহাদুরপুর ইউনিয়নের বাহাদুরপুর গ্রামের মৃত হামিদ মোল্লার ছেলে মো. শরীফ মোল্লা (৩০)।

 

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বুধবার রাত দেড়টার দিকে হাবাসপুর ইউনিয়নের চরঝিকড়ী এলাকায় মো. তালেব মহুরির মেহগনি বাগানের উত্তর পাশে কালুখালী-হাবাসপুর বেড়িবাঁধের পাকা সড়কে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালায় পাংশা মডেল থানা পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে একটি সচল পাইপগান ও দুইটি তাজা শর্টগানের কার্তুজ উদ্ধার করা হয়।

 

পাংশা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মঈনুল ইসলাম জানান, মনজুর মিয়া ওরফে মঞ্জুর বিরুদ্ধে দুটি হত্যা, একটি অপহরণ ও চাঁদাবাজি, একটি ডাকাতির প্রস্তুতি এবং দুটি মারামারির মামলা রয়েছে। অপরদিকে, শরীফ মোল্লার বিরুদ্ধে একটি দস্যুতা এবং পুলিশকে আক্রমণের অভিযোগে তিনটি মামলা রয়েছে। প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ শেষে তাদের দুজনকেই রাজবাড়ীর বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হয়েছে।

রাজবাড়ীতে দুই হত্যা মামলার আসামি অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার

ইতালিতে হামলা ও হেনস্তার শিকার হয়েছেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন। এ ঘটনায় ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন আলোচিত উপস্থাপক দীপ্তি চৌধুরী।

 

তার মতে, রাজনৈতিক ছত্রছায়াহীন সাধারণ নাগরিক হওয়ার কারণেই এমন সহজ লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছেন বাঁধন।

 

নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে বাঁধনের ওপর হামলা অংশ নেওয়া কয়েকজন ব্যক্তির ছবি প্রকাশ করেছেন দীপ্তি চৌধুরী।

 

ক্যাপশনে অভিনেত্রীর ওপর আক্রমণের কারণ হিসেবে চারটি পয়েন্ট তুলে ধরেছেন তিনি।

 

দীপ্তি চৌধুরী লেখেন, ‘আজমেরী হক বাঁধনের অপরাধ- ১. একটি গণঅভ্যুত্থানে তার একটি স্টেন্ড পয়েন্ট ছিল- যা ছবির লোকগুলোসহ আরও হাজার হাজার মানুষের আদর্শের সঙ্গে মেলেনি।

 

২. বাঁধন রাষ্ট্র কর্তৃক শিশু হত্যার প্রতিবাদে রাজপথে ছিল, প্রোফাইল লাল করেছিল। ৩. বাঁধন কোনো রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় নেই।

 

৪. বাঁধন নারী; তাই সে সবচেয়ে সহজ টার্গেট।’

 

ওই স্ট্যাটাসে ক্ষোভ প্রকাশ করে এই উপস্থাপক আরও উল্লেখ করেন, বর্তমানে সরকারে থাকা প্রধানমন্ত্রী, এমপি-মন্ত্রী এবং বিরোধী দলীয় নেতা-নেত্রীদের প্রত্যেকেই ‘জুলাই যোদ্ধা’। কিন্তু রাজনৈতিক ছায়াহীন সাধারণ নাগরিকদের ‘জুলাই জঙ্গি’ গালি শুনতে হচ্ছে। আন্দোলনের সময় সাধারণ মানুষকে বড় সমর্থন হিসেবে বাহবা দেওয়া হলেও পরবর্তীতে সহযোদ্ধা হিসেবে তাদের আগলে রাখা হয় না বলে আক্ষেপ প্রকাশ করেন তিনি।

 

জুলাই অভ্যুত্থানের কৃতিত্ব ও অংশীদারিত্ব দাবি করা রাজনৈতিক দলগুলোর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দীপ্তি চৌধুরী লেখেন, ‘দেখার অপেক্ষায় আছি জুলাইয়ের অংশীদারিত্ব নিয়ে টানাটানি করা রাজনৈতিক দলগুলো এ বিষয়ে কী ব্যবস্থা নেয়।’

 

প্রসঙ্গত, ‘রেহানা মরিয়ম নূর’ চলচ্চিত্রে অনবদ্য অভিনয়ের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক খ্যাতি অর্জন করা আজমেরী হক বাঁধন বর্তমানে ঐতিহ্যবাহী ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করছেন। ৮৩তম ভেনিস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে রুবাইয়াত হোসেন পরিচালিত ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’ সিনেমার প্রদর্শনীতে অংশ নিতে ইতালিতে গেছেন তিনি।

 

বর্তমানে তিনি মেস্ত্রে শহরে অবস্থান করছেন। সোমবার রাতে ভাই ও তার পরিবারের সঙ্গে তিনি স্থানীয় একটি পার্কে গেলে এ হামলা ও হেনস্তার ঘটনা ঘটে।

 

বাঁধনের অভিযোগ, ২০২৪-এর জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার আন্দোলনে তার সক্রিয় ভূমিকার কারণেই অভিনেত্রীকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। হামলাকারীদের কয়েকজন নিজেদের কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের কর্মী এবং ‘বঙ্গবন্ধুর সৈনিক’ হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন বলে জানান তিনি।

রাজনৈতিক ছায়াহীন বলেই বাঁধন সহজ লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত: দীপ্তি চৌধুরী

দাপ্তরিক যোগাযোগ, নথিপত্র ও সারসংক্ষেপে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীর পদবির আগে ‘মহামান্য’, ‘মাননীয়’ বা অন্য কোনো সম্মানসূচক শব্দ ব্যবহার না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

 

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) এ বিষয়ে একটি পরিপত্র জারি করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

 

পরিপত্রে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতি এবং প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীর সঙ্গে দাপ্তরিক যোগাযোগ, নথিপত্র ও সারসংক্ষেপ উপস্থাপনের ক্ষেত্রে তাঁদের পদবির পূর্বে সম্মানসূচক শব্দ হিসেবে যথাক্রমে ‘মহামান্য’ ও ‘মাননীয়’ শব্দ লিখিতভাবে ব্যবহার না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

 

এতে আরও বলা হয়, সরকারি দাপ্তরিক কার্যক্রমে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীর পদবির আগে ‘মহামান্য’, ‘মাননীয়’ কিংবা অন্য কোনো সম্মানসূচক শব্দ লিখিতভাবে ব্যবহার না করার জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে অনুরোধ করা হয়েছে।

 

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এই পরিপত্রের মাধ্যমে সরকারি দপ্তরগুলোর দাপ্তরিক যোগাযোগ ও নথিপত্রে পদবি ব্যবহারের ক্ষেত্রে নতুন নির্দেশনা কার্যকর হলো।

রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীর পদবির আগে ‘মহামান্য’ ও ‘মাননীয়’ নয়

আশ্রয়দাতা ‘বাবার’ ঘরেই চুরি, গাজীপুরে গ্রেফতার ১নং আসামি

 

তালা ভেঙে স্বর্ণালংকার ও নগদ ২ লাখ ৩০ হাজার টাকা লুটের অভিযোগ

 

কালিগঞ্জ (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি:

যাকে মেয়ের মতো স্নেহ করতেন, সেই ভাড়াটিয়ার বিরুদ্ধেই উঠেছে আশ্রয়দাতা পরিবারের ঘরে চুরির অভিযোগ। বসতঘরের তালা ভেঙে স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা চুরির ঘটনায় দায়ের করা মামলার ১ নম্বর আসামি আরফিন আক্তার ছবিয়া (২০)কে অবশেষে গাজীপুরের কাশেমপুর থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মামলার অপর আসামি শাহিদ আলী (২২) এখনো পলাতক।

 

ঘটনাটি সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার মধুরেশপুর গ্রামের। মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মৎস্য চাষ ও ঘের ব্যবসায়ী আব্দুর রাজ্জাক (৬৪) তাঁর বাড়ির একটি অংশ ভাড়া দিয়েছিলেন। প্রায় দেড় বছর আগে আরফিন আক্তার ছবিয়া ও শাহিদ আলী সেখানে ভাড়াটিয়া হিসেবে ওঠেন। পরিবারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার কারণে আরফিনকে মেয়ের মতোই স্নেহ করতেন বাড়ির মালিক।

 

কিন্তু গত ১৭ এপ্রিল বিকেলে পরিবারের সদস্যদের অনুপস্থিতির সুযোগে ঘটে যায় চুরির ঘটনা-এমনই অভিযোগ বাদীর।

 

এজাহার সূত্রে জানা যায়, রতনপুর এলাকায় এক নিকটাত্মীয়ের মৃত্যুর সংবাদ পেয়ে বিকেল ৩টার দিকে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন আব্দুর রাজ্জাক। যাওয়ার আগে বসতঘরে তালা লাগিয়ে যান। রাত আনুমানিক ৯টার দিকে ফিরে এসে দেখেন, ঘরের দরজার তালা ভাঙা। ভেতরের স্টিলের শোকেসও ক্ষতিগ্রস্ত। তবে সবচেয়ে বড় বিষয়*বাড়িতে নেই দুই ভাড়াটিয়া আরফিন আক্তার ও শাহিদ আলী।

 

বাদীর অভিযোগ, ঘর থেকে ৮ আনা ওজনের স্বর্ণের চেইন, ১২ আনা ওজনের এক জোড়া স্বর্ণের দুল, ৪ আনা ওজনের স্বর্ণের আংটি, তিন ভরি রুপার নূপুর এবং নগদ ২ লাখ ৩০ হাজার টাকা নিয়ে যাওয়া হয়েছে। মামলায় চুরি যাওয়া মালামালের মোট আনুমানিক মূল্য ৬ লাখ ২৭ হাজার টাকা উল্লেখ করা হয়েছে।

 

ঘটনার পর দুই আসামি আত্মগোপনে চলে যান বলে অভিযোগ করেন আব্দুর রাজ্জাক। পরে তাঁর লিখিত এজাহারের ভিত্তিতে কালিগঞ্জ থানায় দণ্ডবিধির ৪৫৭/৩৮০/৩৪ ধারায় মামলা হয়। মামলাটি কালিগঞ্জ থানার মামলা নম্বর-০১, তারিখ ৬ জুন ২০২৬।

 

মামলার তদন্তে নেমে পুলিশ তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় আরফিন আক্তারের অবস্থান শনাক্ত করে। এরপর গাজীপুরের কাশেমপুর থানা পুলিশের সহযোগিতায় ৮ সেপ্টেম্বর গভীর রাতে কাশেমপুর থানাধীন সারদারগঞ্জ সাতবাড়ি এলাকায় অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকেই গ্রেপ্তার করা হয় মামলার ১ নম্বর আসামি আরফিন আক্তারকে।

 

পুলিশ জানিয়েছে, পলাতক আসামি শাহিদ আলীকে গ্রেপ্তার এবং চুরি যাওয়া মালামাল উদ্ধারে অভিযান চলছে। গ্রেপ্তার আরফিন আক্তারকে আইনগত প্রক্রিয়া শেষে আদালতে পাঠানো হবে।

আশ্রয়দাতা ‘বাবার’ ঘরেই চুরি, গাজীপুরে গ্রেফতার ১নং আসামি তালা ভেঙে স্বর্ণালংকার ও নগদ ২ লাখ ৩০ হাজার টাকা লুটের অভিযোগ

মালয়েশিয়ায় অবৈধভাবে বসবাসরত বাংলাদেশিদের জন্য বাংলাদেশ হাইকমিশনের বিশেষ বার্তা।

মো:নুরুল ইসলাম সুজন কুয়ালালামপুর মালয়েশিয়া।।

 

‘মাইগ্র্যান্ট রিপেট্রিয়েশন প্রোগ্রাম ২’-এর মাধ্যমে নথিবিহীন বিদেশিদের দেশে ফেরার সুযোগ দিচ্ছে মালয়েশিয়া সরকার। মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত ভিসাহীন বাংলাদেশিদের দেশে ফিরে যেতে তাগিদ দিয়েছে কুয়ালালামপুরে বাংলাদেশ হাইকমিশন।

 

মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগের ফেসবুক পেজে রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) বিকালে বাংলাদেশ হাইকমিশনের প্রথম সচিব (প্রেস) তরিকুল ইসলাম এক ভিডিও বার্তায় এ আহ্বান জানান।

 

ভিডিও বার্তায় তরিকুল ইসলাম বলেন, “আপনারা হয়তো জানেন, অনিয়মিত বা নথিবিহীন বিদেশি অভিবাসীদের জন্য বর্তমানে মালয়েশিয়া সরকারের ইমিগ্রেশন বিভাগের একটি বিশেষ কর্মসূচি চালু রয়েছে। এর নাম ‘মাইগ্র্যান্ট রিপেট্রিয়েশন প্রোগ্রাম ২’ বা ‘বিআরএম ২.০’। এই কর্মসূচির আওতায় মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত অনিয়মিত বা নথিবিহীন বিদেশি নাগরিক বা কর্মীরা আইনসম্মতভাবে ও নিরাপদে নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।

 

“প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে যারা এই কর্মসূচির আওতায় দেশে ফিরতে চান, তাদের সহজ প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করতে হবে। প্রথমত, বৈধ ও মেয়াদযুক্ত বাংলাদেশি পাসপোর্ট থাকতে হবে। যাদের বৈধ পাসপোর্ট নেই বা পাসপোর্টের মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে গেছে, তারা বিকল্প হিসেবে বাংলাদেশ হাইকমিশন থেকে একটি ট্রাভেল পারমিট বা টিপি নেবেন।

 

“এরপর দেশে ফেরার জন্য বৈধ ও নিশ্চিত বিমান টিকিট সংগ্রহ করতে হবে। মালয়েশিয়ার সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, টিকিটের যাত্রার তারিখ ইমিগ্রেশনে অ্যাপয়েন্টমেন্টের কমপক্ষে পাঁচ দিন পর এবং ১৪ দিনের মধ্যে হতে হবে।”

 

আবেদনকারীকে নির্ধারিত ইমিগ্রেশন অফিসে নিজে উপস্থিত হয়ে আবেদন করতে হবে জানিয়ে তরিকুল ইসলাম বলেন, “কোনো প্রতিনিধি বা তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে আবেদন করা যাবে না। আবেদনের সময় সঙ্গে রাখতে হবে—মূল পাসপোর্ট অথবা ট্রাভেল পারমিট, পাসপোর্টের বায়োডাটা পৃষ্ঠার কপি, সংশ্লিষ্ট ইমিগ্রেশন পাসের কপি, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে পুরোনো ও নতুন উভয় পাসপোর্ট এবং বাংলাদেশে ফেরার বৈধ ও নিশ্চিত বিমান টিকিট।

 

“সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, নির্ধারিত ফি ও প্রযোজ্য জরিমানা ইমিগ্রেশন বিভাগের অনুমোদিত পেমেন্ট পদ্ধতিতে পরিশোধ করতে হবে। আবেদন করার আগে সর্বশেষ ফি ও শর্তাবলি ইমিগ্রেশন বিভাগের কাছ থেকে নিশ্চিত করে নিতে হবে।”

 

অনিয়মিত বাংলাদেশিদের সতর্ক করে তরিকুল ইসলাম বলেন, “মনে রাখবেন, বিআরএম ২.০-এর আবেদন করতে কোনো দালাল, প্রতিনিধি বা তৃতীয় পক্ষকে টাকা দেওয়ার প্রয়োজন নেই। কেউ বিশেষ সুবিধা দেওয়ার কথা বলে টাকা চাইলে সতর্ক থাকুন। নিজের আবেদন নিজেই করুন এবং সরকারি নির্দেশনা অনুসরণ করুন।

 

“ভাই ও বোনেরা, আপনারা যদি এই কর্মসূচির আওতায় আইনসম্মতভাবে এবং নিরাপদে দেশে ফিরতে চান, তাহলে শেষ মুহূর্তের জন্য অপেক্ষা না করে সংশ্লিষ্ট ইমিগ্রেশন অফিস ও বাংলাদেশ হাইকমিশনের সঙ্গে যোগাযোগ করে সর্বশেষ তথ্য জেনে নিন।”

মালয়েশিয়ায় অবৈধভাবে বসবাসরত বাংলাদেশিদের জন্য বাংলাদেশ হাইকমিশনের বিশেষ বার্তা।

প্রবাসীদের অধিকার রক্ষা ও দেশের সংকটে করণীয় শীর্ষক পেনাংয়ে এনসিপি-ডায়াস্পোরা অ্যালায়েন্সের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

 

মো:নুরুল ইসলাম সুজন কুয়ালালামপুর মালয়েশিয়া।।

 

রবিবার ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ এনসিপি-ডায়াস্পোরা অ্যালায়েন্স, মালয়েশিয়া চ্যাপ্টারের পেনাং আঞ্চলিক কমিটির উদ্যোগে ‘প্রবাসীদের অধিকার এবং দেশের সংকটে আমাদের করণীয়’ শীর্ষক এক বিশেষ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত ৬ সেপ্টেম্বর, রবিবার, জুরুর অটো সিটি এলাকার কমিউনিটি সেন্টার এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

 

পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। কোরআন তেলাওয়াত করেন এনসিপি-ডায়াস্পোরা অ্যালায়েন্স, মালয়েশিয়া চ্যাপ্টারের যুগ্ম মুখ্য সংগঠক মোহাম্মদ ইমন। তেলাওয়াত শেষে জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়। এরপর পেনাং আঞ্চলিক কমিটির প্রধান সমন্বয়ক জনাব রাশেদুল ইসলাম শুভেচ্ছা বক্তব্য প্রদান করেন।

 

কুয়ালালামপুর আঞ্চলিক কমিটির প্রধান সমন্বয়ক জনাব সাজেদুল আলম এবং যুগ্ম সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস বিথী-এর যৌথ সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন এনসিপি-ডায়াস্পোরা অ্যালায়েন্স, মালয়েশিয়া চ্যাপ্টারের আহ্বায়ক প্রকৌশলী মোহাম্মদ এনামুল হক।

 

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (NCP) যুগ্ম সদস্য সচিব জনাব ফরিদুল হক। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (NCP) যুগ্ম সদস্য সচিব ও গ্লোবাল ডায়াস্পোরা অ্যালায়েন্সের সম্পাদক জনাব আলাউদ্দিন মোহাম্মদ এবং এনসিপি-ডায়াস্পোরা অ্যালায়েন্স, মালয়েশিয়া চ্যাপ্টারের সদস্য সচিব জনাব আলম রওশন।

 

প্রধান অতিথির বক্তব্যে জনাব ফরিদুল হক বলেন, “এই রাষ্ট্রের ভিত্তি হচ্ছে শ্রমজীবী মানুষ, মেহনতি কৃষক, বিদেশে কর্মরত আমাদের প্রবাসী শ্রমিক ভাই-বোনেরা এবং তাদের পাঠানো রেমিট্যান্স। অথচ রাষ্ট্রের এই মূল ভিত্তি যারা গড়ে তুলছেন, রাষ্ট্র পরিচালনা ও শাসনব্যবস্থায় তাদের যথাযথ মর্যাদা ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হয়নি।”

 

তিনি বলেন, “এই রাষ্ট্রে আমলাতন্ত্র, দুর্নীতিপরায়ণ ব্যবসায়ী এবং রাজনীতিবিদদের প্রভাব রয়েছে। ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনব্যবস্থা থেকে পাওয়া মানসিকতা ও কাঠামোর অনেকটাই এখনো আমাদের রাষ্ট্র পরিচালনায় বিদ্যমান। রাষ্ট্রের কর্মচারীরা জনগণকে রাষ্ট্রের মালিক হিসেবে না দেখে প্রজা হিসেবে বিবেচনা করেন। ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক মানসিকতার এই ধারাবাহিকতা থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে।”

 

ফরিদুল হক আরও বলেন, “রাষ্ট্রের মালিক জনগণ—এই মৌলিক ধারণাকে রাষ্ট্র পরিচালনার প্রতিটি স্তরে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। ঔপনিবেশিক মানসিকতা ও জনগণকে নিয়ন্ত্রণের পুরোনো ব্যবস্থা পরিবর্তন করে জবাবদিহিমূলক, জনবান্ধব ও নাগরিককেন্দ্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে হবে। এই প্রথা ও সিস্টেম পরিবর্তন ছাড়া কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ বিনির্মাণ সম্ভব নয়।”

 

তিনি দেশের অর্থনীতি ও উন্নয়নে প্রবাসীদের অবদানের যথাযথ স্বীকৃতি এবং রাষ্ট্রীয় নীতিনির্ধারণে প্রবাসীদের অংশগ্রহণ আরও বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

 

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জনাব আলাউদ্দিন মোহাম্মদ বলেন, বিদেশের মাটিতে একজন প্রবাসী কতটুকু সম্মান ও মর্যাদা পাবেন, তা অনেকাংশেই নির্ভর করে তার দেশের পরিচয় ও আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তির ওপর।

 

তিনি বলেন, “বিদেশে আমরা কতটুকু সম্মান পাবো, তা মূলত নির্ভর করে আমাদের কান্ট্রি অব অরিজিনের ওপর। আপনি ব্যক্তিগতভাবে যতই ভালো, যোগ্য বা সফল হন না কেন, বিদেশে আপনার ব্যক্তি পরিচয়ের চেয়ে অনেক সময় সামষ্টিক জাতীয় পরিচয় বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। আপনার দেশকে যদি তারা সম্মানজনক ও কাঙ্ক্ষিত একটি দেশ হিসেবে বিবেচনা করে, তাহলে সেই দেশের নাগরিক হিসেবেও আপনি সম্মানিত হবেন। কিন্তু দেশের পরিচয় দুর্বল হলে শুধু ব্যক্তি হিসেবে ভালো হওয়ার কারণে সবসময় আলাদাভাবে সেই সম্মান পাওয়া সম্ভব নয়।”

 

তিনি আরও বলেন, “এ কারণেই নিজের দেশকে ঠিক করতে না পারলে কোনো দেশেই আত্মমর্যাদার সঙ্গে জীবনযাপন করা কঠিন। দেশের সম্মান ও মর্যাদা রক্ষা করা শুধু দেশের মানুষের দায়িত্ব নয়; প্রবাসীরাও এর গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার।”

 

আলাউদ্দিন মোহাম্মদ বলেন, প্রবাসীদের শুধু রেমিট্যান্স প্রেরণকারী হিসেবে দেখলে হবে না। দেশের অর্থনীতি, বিনিয়োগ, জ্ঞান, দক্ষতা, আন্তর্জাতিক যোগাযোগ এবং বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উন্নয়নে প্রবাসীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তাই রাষ্ট্রীয় নীতিনির্ধারণে প্রবাসীদের মতামত ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাদের অধিকার ও মর্যাদা রক্ষায় কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা প্রয়োজন।

 

প্রবাসীদের অধিকার ও দেশের সংকট নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা

 

সভায় বক্তারা প্রবাসীদের ন্যায্য অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করা, প্রবাসীদের বিভিন্ন সমস্যা ও সংকটের কার্যকর সমাধান, দেশের চলমান সংকট উত্তরণে প্রবাসীদের দায়িত্ব ও করণীয় এবং জাতীয় অর্থনীতি ও উৎপাদনে প্রবাসীদের আরও কার্যকর ও জোরালো ভূমিকা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।

 

বক্তারা বলেন, প্রবাসীরা শুধু রেমিট্যান্সের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখেন না; তাদের জ্ঞান, দক্ষতা, অভিজ্ঞতা, বিনিয়োগ এবং আন্তর্জাতিক যোগাযোগও দেশের উন্নয়ন ও ভাবমূর্তি গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তাই প্রবাসীদের অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করার পাশাপাশি দেশের উন্নয়ন ও রাষ্ট্র বিনির্মাণে তাদের আরও সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত করা প্রয়োজন।

 

সভায় আরও বক্তব্য রাখেন কুয়ালালামপুর আঞ্চলিক কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক জনাব তানভীরুল ইসলাম, সেলাঙ্গর আঞ্চলিক কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক জনাব সোহেল হোসেন, পেনাং আঞ্চলিক কমিটির সহ-সমন্বয়ক জনাব শেখ আবদুল মতিন, পেনাং আঞ্চলিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক জনাব রুকন বেপারী এবং পেনাং আঞ্চলিক কমিটির ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক জনাব সোহেল রানাসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

 

এ সময় এনসিপি-ডায়াস্পোরা অ্যালায়েন্স, মালয়েশিয়া চ্যাপ্টার, কুয়ালালামপুর, সেলাঙ্গর ও পেনাং আঞ্চলিক কমিটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

 

পরিশেষে, এনসিপি-ডায়াস্পোরা অ্যালায়েন্স, মালয়েশিয়ার যুগ্ম সচিব জনাব মুশফিক চৌধুরী-এর গুরুত্বপূর্ণ সমাপনী বক্তব্যের মধ্য দিয়ে অত্যন্ত সফল, প্রাণবন্ত ও সৌহার্দ্যপূর্ণ এই মতবিনিময় সভার সমাপ্তি ঘটে।

প্রবাসীদের অধিকার রক্ষা ও দেশের সংকটে করণীয় শীর্ষক পেনাংয়ে এনসিপি-ডায়াস্পোরা অ্যালায়েন্সের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

নীলফামারীতে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিার্থীদের সংবর্ধনা দিল ছাত্রশিবির

 

স্টাফ রিপোর্টার

মাইদুল ইসলামঃ

 

নীলফামারীতে এসএসসি

ও দাখিল পরীক্ষা জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিার্থীদের সংবর্ধনা দিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির নীলফামারী জেলা শহর শাখা।

আজ মঙ্গলবার

(৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নীলফামারী শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের সদর উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৩০০ জন কৃতী শিক্ষার্থীকে ক্রেস্ট, ফুল ও সামগ্রী উপহার দিয়ে বরণ করে নেন ছাত্রশিবির নেতৃবৃন্দ।

 

ইসলামী ছাত্রশিবির নীলফামারী শহর শাখার সভাপতি সেলিম উদ্দিনের সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারি সিরাজুল ইসলামের সঞ্চালনায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় ছাত্র কল্যাণ সম্পাদক রেজাউল করিম শাকিল। প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় সাহিত্য সম্পাদক সাইদুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ, নীলফামারী শহর জামায়াতের আমীর অধ্যাপক আনোয়ারুল ইসলাম, সদর উপজেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারী আহমাদ রায়হান ও ছাত্রশিবিরের রংপুর মহানগর শাখার সাবেক সভাপতি নুরুল হুদা।

 

 

সংবর্ধনা অনুষ্টানে বক্তারা বলেন “মেধাবীদের হাত ধরেই একটি স্বনির্ভর ও ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ে উঠবে। শুধু জিপিএ-৫ পেলেই চলবে না, বরং নৈতিকতা ও সুশিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে সামনের দিনগুলোতে দেশের সেবায় আত্মনিয়োগ করতে হবে।”

বক্তারা আরো বলেন, এসএসসি বা দাখিল পরীা হলো উ”চশিার প্রথম ধাপ। আগামী দিনে কাঙ্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি ও ক্যারিয়ার গঠনের জন্য এখন থেকেই সুনির্দিষ্ট

নির্ধারণ করে কঠোর পরিশ্রম করতে হবে। সততা ও দক্ষতার সমন্বয়ে নিজেদের সৎ, দ ও ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে আহ্বান জানিয়েছেন।

নীলফামারীতে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিার্থীদের সংবর্ধনা দিল ছাত্রশিবির

কাশিমপুর কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পেলেন বিদিশা সিদ্দিক

 

মোঃ সাহাজুদ্দিন সরকার, ক্রাইম রিপোর্টার, গাজীপুর।

 

প্রতারণা মামলায় দুই বছরের কারাদণ্ড হওয়া বিদিশা সিদ্দিক জামিনে মুক্তি পেয়েছেন তিনি সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের স্ত্রী।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) বিকাল সোয়া ৫টার দিকে গাজীপুরের কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পান তিনি।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মোঃ নজরুল ইসলাম।

 

তিনি বলেন, মঙ্গলবার সকালে বিদিশার জামিনের কাগজপত্র কারাগারে এসে পৌঁছে। তা যাচাই বাছাই শেষে মুক্তি দেওয়া হয়।

বিকাল সোয়া ৫টার দিকে কারাগার থেকে বেরিয়ে যান তিনি।’

 

গত রবিবার বিদিশা সিদ্দিকের করা আবেদনের শুনানি নিয়ে বিচারপতি মোঃ খায়রুল আলম ও বিচারপতি মোঃ রাফিজুল ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ জামিনের আদেশ দেন।

 

প্রতারণার ওই মামলায় ২৫ আগস্ট রাত সাড়ে ৮টার দিকে রাজধানীর গুলশানের একটি রেস্তোরাঁ থেকে দুই বছরের সাজাপ্রাপ্ত বিদিশাকে গ্রেফতার করা হয়। পরদিন বিদিশাকে আদালতে হাজির করা হয়। সেদিন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত বিদিশার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। এর পর থেকে কারাগারে ছিলেন।

 

এর আগে ফ্ল্যাট বিক্রি নিয়ে প্রতারণার অভিযোগে করা ওই মামলায় গত ২০ মে বিদিশাকে দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত। রায়ে আদালত কারাদণ্ডের পাশাপাশি বিদিশাকে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে এক মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। রায়ের দিন অনুপস্থিত থাকায় বিদিশার বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানা জারি করেছিলেন আদালত।

 

বিচারিক আদালতের দণ্ডাদেশের ওই রায়ের বিরুদ্ধে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে আপিল করেন বিদিশা। পাশাপাশি জামিন চেয়ে আবেদন করেন। শুনানি নিয়ে ২ সেপ্টেম্বর ঢাকা মহানগর দায়রা জজ মো. শাহজাহান কবির জামিন আবেদন নাকচ করে দেন। জামিন আবেদন নাকচের আদেশের বিরুদ্ধে ও জামিন চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করেন বিদিশা। পরে তাকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানো হয়।

কাশিমপুর কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পেলেন বিদিশা সিদ্দিক

র‌্যাবের চৌকস অভিযানে জীপসহ প্রায় ১১ হাজার ইয়াবার চালান আটক

জামালপুর হামলা পাল্টা হামলার মধ্য দিয়ে জেলার সানন্দবাড়ী তে থমথমে অবস্থা বিরাজমান।

পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের ও আদালতে মিথ্যা হলফনামা দেয়ার অভিযোগে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কেবিন ক্রু খাদিজা সুলতানা শিমুর বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

 

বুধবার (১৫ জুলাই) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২-এর বিচারক মো. জাকির হোসাইন এ আদেশ দেন। আদালতের আদেশে বলা হয়েছে, শিমুর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর ১৩ ধারা এবং দণ্ডবিধির ১৮১, ১৮২ ও ১৯৩ ধারায় মামলা করা হবে। আদালত নিজেই এ মামলার বাদী হয়েছেন।

 

আদালতের নথি অনুযায়ী, খাদিজা সুলতানা শিমু মামলার বাদী হয়ে বেসরকারি একটি এয়ারলাইন্সের কর্মকর্তা মো. ওমর ফারুক চৌধুরীর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনের বিভিন্ন ধারায় উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলা করেন।

 

তদন্ত শেষে উত্তরা পশ্চিম থানার তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে জানান, অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি। প্রতিবেদনে বলা হয়, মামলার এজাহারে উল্লেখ করা ফেসবুক লিংক, ডিজিটাল আলামত ও অন্যান্য তথ্য যাচাই করে ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি প্রচারের কোনো প্রমাণ মেলেনি। ফলে ওই কর্মকর্তাকে মামলা থেকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়।

একই সঙ্গে তদন্ত কর্মকর্তা প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, ওমর ফারুক আগে শিমুর বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন দিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে আদালতে মামলা করেছিলেন। সেই মামলার দায় এড়াতেই শিমু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত বিভিন্ন লিংক উল্লেখ করে তার বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি ছড়ানোর অভিযোগ এনে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, হয়রানিমূলক ও মিথ্যা মামলা করেছেন বলে প্রাথমিক তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে। এ কারণে শিমুর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর ১৩ ধারায় আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার আবেদনও করেন তদন্ত কর্মকর্তা।

 

পরে গত ৯ জুলাই আদালত তদন্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করে ওমর ফারুককে মামলা থেকে অব্যাহতি দেন। আদালতের আদেশে বলা হয়, শিমু ক্ষতিসাধনের উদ্দেশ্যে আদালতে মিথ্যা মামলা দায়ের করেছেন এবং হলফ করে মিথ্যা সাক্ষ্য দিয়েছেন। মামলার নথিতে তার দেয়া হলফনামাও সংযুক্ত রয়েছে। এসব বিবেচনায় আদালত নিজেই বাদী হয়ে তার বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন ও দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়েরের নির্দেশ দেন।

 

তদন্তে যা উঠে এসেছে পুলিশের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, তদন্তকালে রেকর্ড, ডিজিটাল আলামত, ফেসবুক লিংক ও ফরেনসিক তথ্য যাচাই করে ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি প্রচারের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

 

তদন্তে আরও উঠে আসে, শিমু বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কেবিন ক্রু এবং ওমর ফারুক একটি বেসরকারি এয়ারলাইন্সের এয়ারক্রাফট মেইনটেন্যান্স কর্মকর্তা। ফেসবুকে পরিচয়ের পর তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

 

প্রতিবেদনে বলা হয়, বিয়ের আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন সময়ে ওমর ফারুকের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী নেয়ার অভিযোগে ওমর ফারুক আদালতে পৃথক মামলা করেন। এরপর সেই মামলার দায় থেকে নিজেকে রক্ষা করতেই শিমু পর্নোগ্রাফি আইনে অভিযোগ দায়ের করেন বলে তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে।

 

ওমর ফারুকের আগের মামলা গত ২০ জুলাই ওমর ফারুক চৌধুরী শিমুর বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন, ‘হানি ট্র্যাপ’ ও ব্ল্যাকমেইলের মাধ্যমে প্রায় ২২ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ঢাকার আদালতে মামলা করেন। আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে উত্তরা পশ্চিম থানাকে তদন্তের নির্দেশ দেন। পরে তিনি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষের কাছেও লিখিত অভিযোগ করেন।

 

সেই মামলায় অভিযোগ করা হয়, ২০২৪ সালে ফেসবুকে পরিচয়ের পর শিমু তাকে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন সময়ে টাকা নেন। জন্মদিনে দেড় লাখ টাকা মূল্যের একটি হীরার আংটিসহ বিয়ের খরচের জন্য মোট ২১ লাখ ৭৪ হাজার ৫১১ টাকা নেয়ার পরও বিয়ে না করে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে মামলায় দাবি করা হয়।

পর্নোগ্রাফি আইনে কেবিন ক্রু শিমুর বিরুদ্ধে মামলার নির্দেশ আদালতের

error: আপনি নিউজ চুরি করার চেষ্টা করছেন। বিশেষ প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন ০১৭৬৭৪৪৪৩৩৩
%d