যুক্তরাষ্ট্রে সস্তা পোশাকে এগিয়ে চীন, বৈচিত্র্যে পিছিয়ে বাংলাদেশ - Gono television | বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল।
যুক্তরাষ্ট্রে সস্তা পোশাকে এগিয়ে চীন, বৈচিত্র্যে পিছিয়ে বাংলাদেশ

যুক্তরাষ্ট্রে সস্তা পোশাকে এগিয়ে চীন, বৈচিত্র্যে পিছিয়ে বাংলাদেশ

Oplus_131072

যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে এককভাবে পোশাক রপ্তানিতে শীর্ষে রয়েছে চীন। চীনের বড় শক্তি সস্তা পোশাক আর পোশাকের বৈচিত্র্য। চীনের চেয়ে দামি পোশাক রপ্তানি করলেও শুধু বৈচিত্র্যের কারণে দ্বিতীয় অবস্থানে ভিয়েতনাম। যদিও চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে দেশটি চীনকে টপকে গেছে। বাংলাদেশের বড় শক্তি সুতার কাপড়ের পোশাক রপ্তানি। তবে তুলাবিহীন পোশাকে বৈচিত্র্য কম। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের মতো বড় বাজারে বাংলাদেশ ঘুরেফিরে তৃতীয় অবস্থানে আটকে আছে।
যুক্তরাষ্ট্র গত বছর বিশ্বের ২০০ দেশ থেকে ৮ হাজার ১৩২ কোটি ডলারের ৬৩৯ ক্যাটাগরি বা ধরনের পোশাক আমদানি করেছে। এর মধ্যে চীন সবচেয়ে কম দামে অর্থাৎ প্রতি পিস ২ দশমিক ৬২ মার্কিন ডলার দামে তৈরি পোশাক রপ্তানি করেছে। তারপরই রয়েছে বাংলাদেশ, ৩ দশমিক ৯১ ডলার। সস্তা পোশাক রপ্তানিতে দ্বিতীয় অবস্থানে থাকলেও বৈচিত্র্যের ধরনে অনেক পিছিয়ে বাংলাদেশ। চীন ৬২৮টি, ভিয়েতনাম ৫২১ ও ভারত ৫৫৯ ধরনের পোশাক রপ্তানি করলেও বাংলাদেশ করেছে ৪৬১ ধরনের তৈরি পোশাক। যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য কমিশনের তথ্যভান্ডার থেকে এমন তথ্য মিলেছে।বাণিজ্য–ঘাটতি কমাতে যুক্তরাষ্ট্র যেসব দেশ থেকে পণ্য আমদানি করে, সেসব দেশের ওপর গত ২ এপ্রিল ন্যূনতম ১০ শতাংশ পাল্টা শুল্ক বা রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ আরোপ করেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ৫৭ দেশের ওপর বিভিন্ন হারে বাড়তি পাল্টা শুল্ক বসানো হয়। ৯ এপ্রিল পাল্টা শুল্ক কার্যকরের দিন অনেকটা ‘ইউটার্ন’ করে তা তিন মাসের জন্য স্থগিত করেন ট্রাম্প। যদিও সব দেশের ওপর ন্যূনতম ১০ শতাংশ পাল্টা শুল্ক কার্যকর করা হয়।
সস্তা পোশাকে শীর্ষে চীন, দ্বিতীয় বাংলাদেশ
যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি তথ্যভান্ডারের সংরক্ষিত শীর্ষ পাঁচ রপ্তানিকারক দেশের পরিসংখ্যান তুলনা করে দেখা যায়, গত বছর চীন গড়ে প্রতি পিস পোশাক ২ ডলার ৬২ সেন্টে যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি করেছে। ভিয়েতনাম প্রতি পিস পোশাক রপ্তানি করেছে ৪ ডলার ৬২ সেন্টে। বাংলাদেশের প্রতি পিসের রপ্তানি মূল্য ছিল ৩ ডলার ৬৩ সেন্ট। যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে শীর্ষ পাঁচ রপ্তানিকারক দেশের মধ্যে বেশি দরে পোশাক রপ্তানি করেছে ইন্দোনেশিয়া। তারা প্রতি পিস পোশাক রপ্তানি করেছে ৫ ডলার ৪৬ সেন্ট। মোজা ও গ্লাভস ছাড়া এই হিসাব করা হয়েছে।
চার ধরনের পোশাকের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, চীন গড়ে প্রতি পিস ট্রাউজার বা প্যান্টজাতীয় পোশাক রপ্তানি করছে ৩ ডলার ৭৮ সেন্টে। বাংলাদেশের রপ্তানি প্রতি পিস ৫ ডলার ১৮ সেন্ট। এ ক্ষেত্রে চীন গত বছর ২২৯ কোটি ডলারের ট্রাউজার রপ্তানি করেছে, বাংলাদেশের রপ্তানি ৩০৭ কোটি ডলারের। অবশ্য ভিয়েতনাম প্রতি পিস ট্রাউজার ৫ ডলার ৮৪ সেন্টে রপ্তানি করেছে। দেশটি গত বছর যুক্তরাষ্ট্রে ৩৮৯ কোটি ডলারের ট্রাউজার রপ্তানি করেছে।
শার্ট রপ্তানিতেও চীনের চেয়ে বেশি দাম পাচ্ছে বাংলাদেশ। গত বছর বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ৮০ কোটি ডলারের শার্ট রপ্তানি করে। প্রতি পিস শার্টের গড় রপ্তানি মূল্য ছিল ৪ ডলার ৮৮ সেন্ট। চীন গড়ে ৪ ডলার ৬২ সেন্টে প্রতি পিস শার্ট রপ্তানি করেছে। অবশ্য ভিয়েতনাম বেশি দামে শার্ট রপ্তানি করেছে, প্রতি পিস ৬ ডলার ৮৯ সেন্ট। আর ইন্দোনেশিয়ার রপ্তানি করা শার্টের গড় মূল্য ছিল ৬ ডলার ৯০ সেন্ট।
টি-শার্ট ও সোয়েটার রপ্তানিতে দামের ক্ষেত্রে চীনের চেয়ে পিছিয়ে আছে বাংলাদেশ। সবচেয়ে সস্তা টি-শার্ট রপ্তানি করে বাংলাদেশ। প্রতি পিসের গড় রপ্তানি মূল্য ১ ডলার ৬৬ সেন্ট। চীনের রপ্তানি করা টি–শার্টের গড় মূল্য ১ ডলার ৭৬ সেন্ট। ভিয়েতনাম প্রতি পিস টি–শার্ট ২ ডলার ৭৪ সেন্টে রপ্তানি করে। অন্যদিকে বাংলাদেশ থেকে রপ্তানি হওয়া প্রতি পিস সোয়েটারের গড় মূল্য ৩ ডলার ৯৪ সেন্ট। বাংলাদেশের প্রধান দুই প্রতিযোগী চীন ও ভিয়েতনাম সোয়েটারে এগিয়ে।
বৈচিত্র্যে এগিয়ে চীন-ভিয়েতনাম
যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে গত বছর বাংলাদেশ ৪৬১ ধরনের তৈরি পোশাক (আট সংখ্যার এইচএসকোড) রপ্তানি করেছে। এই সংখ্যা চীনের ৬২৮, ভিয়েতনামের ৫২১ ও ভারতের ৫৫৯। পোশাক ও কাপড়ভেদে ধরন বিভাজন করা হয়। বাংলাদেশ পিছিয়ে থাকার পেছনে মূল কারণ পোশাকে কম বৈচিত্র্য।
যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে সবচেয়ে বেশি রপ্তানি হয় ম্যান মেইড ফাইবার (এমএমএফ) বা কৃত্রিম তন্তুর কাপড়ে তৈরি পোশাক। এই পোশাক রপ্তানিতে শীর্ষে রয়েছে চীন। গত বছর দেশটি ১ হাজার ৩৩১ ডলারের কৃত্রিম তন্তুর পোশাক রপ্তানি করেছে। অন্যদিকে ভিয়েতনাম রপ্তানি করেছে ৯৩৫ কোটি ডলারের পোশাক।
বাংলাদেশের অবস্থান ঠিক উল্টো। গত বছর বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রে যত পোশাক রপ্তানি করেছে তার ২৯ শতাংশ ছিল কৃত্রিম তন্তুর পোশাক। তৈরি পোশাক রপ্তানিতে বাংলাদেশের পেছনে থাকা ভারতের হার আরও কম, ২৬ শতাংশ। তার মানে বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি হওয়ার মোট তৈরি পোশাকের ৭১ শতাংশ তুলার (কটন) তৈরি, ভারতের এই হার ৭৪ শতাংশ। তার মানে বাংলাদেশ-ভারত উভয় দেশই কৃত্রিম তন্তুর পোশাক রপ্তানিতে চীন-ভিয়েতনামের চেয়ে পিছিয়ে।
তৈরি পোশাকের বৈচিত্র্যের কারণে চীন-ভিয়েতনাম কীভাবে এগিয়ে গেছে তার একটি উদাহরণ দেওয়া যাক। চীন গত বছর যুক্তরাষ্ট্রে ১১৬ কোটি ডলারের মোজা রপ্তানি করেছে। বেশির ভাগই নন কটন। বাংলাদেশ এই পণ্য রপ্তানি করেছে ৫ লাখ ডলারের। ভিয়েতনামের রপ্তানি প্রায় ১২ কোটি ডলার।
কৃত্রিম তন্তুর তৈরি সোয়েটারজাতীয় পোশাক রপ্তানিতে শীর্ষে চীন ও ভিয়েতনাম। গত বছর চীন ৮৬ ও ভিয়েতনাম ৭৫ কোটি ডলারের সোয়েটার রপ্তানি করেছে, যেখানে বাংলাদেশের রপ্তানি মাত্র ১৫ কোটি ৬৪ লাখ ডলার। গ্লাভস রপ্তানিতেও এগিয়ে চীন। গত বছর প্রায় ৭২ কোটি ডলারের গ্লাভস রপ্তানি করেছে দেশটি, যেখানে বাংলাদেশ করেছে ২ কোটি ডলারের কম।
তথ্যভান্ডার অনুযায়ী, ৩৪১ ধরনের পোশাকে শীর্ষ স্থানে রয়েছে চীন। ভিয়েতনাম ৮৯ ধরনের পোশাকে শীর্ষে। এই পোশাকের বড় অংশই কৃত্রিম তন্তুর। বাংলাদেশ শীর্ষে রয়েছে ২৫ ধরনের পোশাকে। তার বেশির ভাগই কটন পোশাক।
বিষয়টি নিশ্চিত করে স্প্যারো গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) শোভন ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, চীনের রপ্তানিকারকেরা ৫০০ থেকে ৩ হাজার পিসের ক্রয়াদেশের পোশাক তৈরি করে। পাশাপাশি লাখ লাখ পিসের বড় ক্রয়াদেশের কাজও করে। বাংলাদেশের কারখানাগুলোর চীনের মতো বড় ক্রয়াদেশের পোশাক উৎপাদন করার সক্ষমতা থাকলেও ছোট ক্রয়াদেশে মুনাফা করতে পারে না। অনেক চীনা কোম্পানি যুক্তরাষ্ট্রে গুদামে পোশাক মজুত করে ক্রেতাদের সরবরাহ করে। সব মিলিয়েই তাই চীন আমাদের থেকে কম দামে পোশাক উৎপাদন করতে পারে।
শক্তির জায়গা দুর্বল হচ্ছে
গত বছর যুক্তরাষ্ট্র ৬৩৯ ধরনের পোশাক আমদানি করেছে। এর মধ্যে শীর্ষ স্থানে রয়েছে কটন ট্রাউজার। এই পণ্য সবচেয়ে বেশি রপ্তানি করেছে বাংলাদেশ। গত বছর ১৪৪ কোটি ডলারের কটন ট্রাউজার রপ্তানি করেছে বাংলাদেশ। শীর্ষে থাকা পণ্যটির রপ্তানি গত বছরের চেয়ে সামান্য কম। তার মানে বাংলাদেশের শক্তির জায়গা দুর্বল হতে শুরু করেছে।
পরিমাণ ও শতাংশের হারের তুলনা করে দেখা গেছে, কটন পোশাক রপ্তানিতে বাংলাদেশের বড় প্রতিদ্বন্দ্বী ভারত। দুই দেশেরই তুলার কাপড়ের পোশাকে নির্ভরতা বেশি। অন্যদিকে পরিমাণের হিসাবে তুলার কাপড়ের পোশাক রপ্তানিতে শীর্ষে রয়েছে ভিয়েতনাম। দেশটি গত বছর কটন পোশাক রপ্তানি করেছে ৫৭৬ কোটি ডলারের। বাংলাদেশের রপ্তানি ছিল ৫৭০ কোটি ডলারের।
বৈশ্বিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান প্রাইসওয়াটারহাউসকুপারসের (পিডব্লিউসি) এক গবেষণায় বলেছে, ২০৩০ সালের মধ্যে বৈশ্বিক পোশাক রপ্তানি বেড়ে ১ হাজার ১২১ বিলিয়ন বা ১ লাখ ১২ হাজার ১০০ কোটি মার্কিন ডলার ছাড়াবে। সেখানে কৃত্রিম তন্তু দিয়ে তৈরি পণ্যের হিস্যা হবে ৬০ শতাংশ। এখানে বাংলাদেশ অনেক পিছিয়ে।
পরামর্শক প্রতিষ্ঠানটি বলছে, প্রতিযোগী দেশগুলোর মধ্যে বর্তমানে (২০২২ সালের হিসাব) চীন, ভিয়েতনাম, তুরস্ক ও ইতালি কৃত্রিম তন্তুর পোশাক রপ্তানিতে বাংলাদেশের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে। এর মধ্যে মোট পোশাক রপ্তানির বিপরীতে কৃত্রিম তন্তুর পোশাকে চীনের হিস্যা ৬২ শতাংশ, ভিয়েতনামের ৫৬ শতাংশ, তুরস্কের ৪৮ শতাংশ ও ইতালির ৪৪ শতাংশ। অন্যদিকে বাংলাদেশের মোট তৈরি পোশাক রপ্তানির ২৭ শতাংশ কৃত্রিম তন্তুর পণ্য।
করণীয় কী
তৈরি পোশাক রপ্তানিতে বৈচিত্র্য বাড়াতে হলে কৃত্রিম তন্তুতে জোর দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন বেসরকারি গবেষণাপ্রতিষ্ঠান সিপিডির গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, কৃত্রিম তন্তুর পোশাকের রপ্তানি বাড়ানো গেলে রপ্তানি আয় বাড়বে। এ ধরনের পোশাকের দাম তুলনামূলক বেশি। বৈশ্বিক বাজার হিস্যাও দিন দিন বাড়ছে। যদিও আমাদের স্থানীয় উদ্যোক্তারা তুলা থেকে কৃত্রিম তন্তুর পোশাকে যাওয়ার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত নন। ফলে যাঁরা প্রস্তুত, তাঁদের বিনিয়োগে উৎসাহ দিতে হবে।
খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, পণ্যের বৈচিত্র্য আনতে হলে বিনিয়োগেও বৈচিত্র্য আনতে হবে। বর্তমানে সব পণ্য ও বাজারে প্রণোদনা দেয় সরকার। দেশি সুতা ব্যবহারেও প্রণোদনা দেওয়া হয়। এই প্রণোদনাকাঠামো পরিবর্তন করতে হবে। কৃত্রিম তন্তুর পোশাক রপ্তানিতে প্রণোদনা দিতে হবে। তাহলে কৃত্রিম তন্তুর তৈরি পোশাকের রপ্তানি বাড়বে।


শারীরিক অসুস্থতার কারণে রাজধানীর ইব্রাহিম কার্ডিয়াক হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। তাকে দেখতে হাসপাতালে গিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

 

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৯টায় ইব্রাহিম কার্ডিয়াক হাসপাতালে যান তিনি। এসময় তিনি চিকিৎসকদের কাছে ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন।

 

বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান এ তথ্য জানান।

 

জানা গেছে, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু গত কয়েকদিন ধরেই জ্বর, সর্দি-কাশি ও শ্বাসকষ্টের সমস্যায় ভুগছিলেন। রাত সাড়ে ১০টার দিকে তাকে ইব্রাহিম কার্ডিয়াক হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। পরে তাকে সিসিইউতে স্থানান্তর করা হয়েছে।

অসুস্থ জ্বালানিমন্ত্রী টুকুকে দেখতে হাসপাতালে রাষ্ট্রপতি

সোমবার (৩১ আগস্ট) দুপুরে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সভাকক্ষে সাম্প্রতিক চীন সফর নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

 

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘এসএসসি পরীক্ষার সময়সূচি নির্ধারণে সামগ্রিক বিষয় বিবেচনা করা হয়েছে। জানুয়ারিতে পরীক্ষা শুরু করলে তা এক মাস ধরে চলবে এবং ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত গড়াবে। এরপর ১০ ফেব্রুয়ারি থেকে রমজান শুরু হয়ে ১০ মার্চ পর্যন্ত চলবে। ফলে এ সময়ের মধ্যে পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব নয়।’

 

শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, ‘এইচএসসি পরীক্ষাকে একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নিয়ে আসাই সরকারের মূল লক্ষ্য। দেশে সাধারণত বর্ষা বা বৃষ্টির মৌসুমে এইচএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এখন পরীক্ষাটিকে একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নিয়ে আসার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।’

 

তিনি বলেন, ‘বিদেশে যেসব শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষার জন্য যায়, তাদের ক্ষেত্রেও দেশের শিক্ষাব্যবস্থার সময়সূচির সঙ্গে বিষয়টি সমন্বয় করা হয়। সবকিছু বিবেচনায় বাংলাদেশের জন্য ফেব্রুয়ারি মাসকে এইচএসসি পরীক্ষার সবচেয়ে উপযুক্ত সময় মনে করা হচ্ছে। তবে রমজানের কারণে এবার ফেব্রুয়ারিতে পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।’

 

রমজানের আগে পরীক্ষা এগিয়ে আনার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের অনুরোধে পরীক্ষা এগিয়ে আনার বিষয়টি বিবেচনা করা হয়েছিল। কিন্তু দেখা গেছে, দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের ক্লাস ও সিলেবাস শেষ হলেও নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা রিভিউ করার পর্যাপ্ত সুযোগ হচ্ছে না। এই রিভিউ প্রক্রিয়াও শিক্ষার্থীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।’

 

তিনি আরও বলেন, ‘রমজানের পরে পরীক্ষা নেওয়া হলে সেটি আবার অনেকটা বিলম্বিত হয়ে যায়। রমজান একটি বাস্তবতা হওয়ায় এর সঙ্গে সময়সূচি সমন্বয় করতে হবে। আবার জানুয়ারিতে পরীক্ষা নিলে নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা রিভিউয়ের জন্য পর্যাপ্ত সময় পাবে না।’

 

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘সবকিছু বিবেচনা করে এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করেই পরীক্ষা এগিয়ে আনার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। কিন্তু রমজানের কারণে এবার তা সম্ভব হচ্ছে না। সরকার শিক্ষার্থীদের কোনোভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে চায় না। তাদের পর্যাপ্ত সময় দিতে হবে, বিশেষ করে পড়াশোনা রিভিউয়ের জন্য। এ কারণে সব দিক বিবেচনা করে আবারও সিদ্ধান্ত হয়েছে, এসএসসি পরীক্ষা রমজানের পরেই নেওয়া হবে।’

 

রমজানের আগে পরীক্ষা নেওয়ার দাবির বিষয়ে ড. মিলন বলেন, ‘কেউ কেউ রমজানের আগেই পরীক্ষা নেওয়ার কথা বলেছেন। কিন্তু বাস্তব পরিস্থিতিতে তা সম্ভব হচ্ছে না।’

 

এইচএসসি পরীক্ষা আরও পেছানোর আশঙ্কা নিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘আপাতত পরীক্ষা পেছানোর কোনো কারণ দেখা যাচ্ছে না। জাতীয় পর্যায়ে কোনো বিশেষ পরিস্থিতি তৈরি না হলে বর্তমানে পরীক্ষা পেছানোর কোনো কারণ নেই। শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতির জন্য যথেষ্ট সময় দেওয়া হয়েছে। প্রায় দেড় বছর আগেই তাদের পরীক্ষার বিষয়ে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং তারা সে অনুযায়ী প্রস্তুতি নিচ্ছে।’

 

এসময় প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন এবং কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. দাউদ মিয়া উপস্থিত ছিলেন।

রোজার পরেই এসএসসি পরীক্ষা, আপাতত পেছানোর পরিকল্পনা নেই: শিক্ষামন্ত্রী

নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামের হাতে সম্মাননা ট্রফি তুলে দেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো.আলী হোসেন ফকির

 

মোঃ সাইদুল ইসলাম হেলাল

বিশেষ প্রতিনিধিঃ

আন্তজেলা সিরিয়াল অপরাধী গোলাম মোর্শেদ ওরফে মোর্শেদ আলমকে গ্রেফতারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখায় নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামকে আইজিপি সম্মাননা পুরস্কার দেওয়া হয়েছে।

 

বাংলাদেশ পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে আয়োজিত ত্রৈমাসিক সম্মেলনে বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামের হাতে সম্মাননা ট্রফি তুলে দেন।

 

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের বিভিন্ন সময়ে নওগাঁর ধামইরহাট, বদলগাছী ও পত্নীতলা উপজেলায় একাধিক নারীকে হামলা করে আহত ও হত্যার ঘটনা ঘটে। একই ধরনের অপরাধের ঘটনা ঘটে দিনাজপুর ও জয়পুরহাট জেলাতেও। এসব ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন ও জড়িত ব্যক্তিকে শনাক্ত করতে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামের নেতৃত্বে নওগাঁ জেলা পুলিশ তদন্ত শুরু করে।

 

পুলিশের দাবি, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা ও বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণের মাধ্যমে গত ১১ জুন গাজীপুর থেকে আন্তজেলা সিরিয়াল অপরাধী গোলাম মোর্শেদকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তিনি পুলিশের কাছে এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন এবং আদালতে জবানবন্দি দেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

 

অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার স্বীকৃতিস্বরূপ পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামকে এ আইজিপি সম্মাননা প্রদান করা হয়।

 

জেলা পুলিশের কর্মকর্তারা মনে করছেন, এ সম্মাননা নওগাঁ জেলা পুলিশের সদস্যদের মনোবল বাড়ানোর পাশাপাশি অপরাধ দমন ও রহস্য উদ্ঘাটনে তাদের তৎপরতা আরও বাড়াবে।

নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামের হাতে সম্মাননা ট্রফি তুলে দেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো.আলী হোসেন ফকির

রাজবাড়ী শহরে ব্যবসায়িক বিরোধের জেরে জাকিয়া সুলতানা নামে এক নারী উদ্যোক্তাকে প্রকাশ্যে লাঞ্ছিত ও মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে জেলাজুড়ে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়। শনিবার দুপুরে রাজবাড়ী শহরের কাপড় বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ জাকিয়া সুলতানাকে উদ্ধার করে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে যায়।

 

ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, রাজবাড়ী সদর থানা পুলিশের উপস্থিতিতে ওই নারীকে রাস্তা দিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় পেছন থেকে এক যুবক এসে তাকে লাথি মারেন। পরে আরও কয়েক যুবক এগিয়ে এসে তাকে এলোপাতাড়ি মারধর ও লাথি মারতে থাকেন।

 

ভুক্তভোগী জাকিয়া রাজবাড়ী কাপড় বাজারের ‘আস্থা পোশাক শিল্প’ নামের একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের মালিক। তার দাবি, প্রতিষ্ঠানের সাবেক এক কর্মচারী বৃষ্টি হিসাব প্রদান না করে অন্য একটি দোকানে চলে গেলে বিষয়টি নিয়ে রাজবাড়ী বাজার কল্যাণ সমিতির কাছে লিখিত অভিযোগ জানানোর পর থেকেই তাকে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করার হুমকি দেওয়া হচ্ছিল।

 

অন্যদিকে, রাজবাড়ী বাজার কল্যাণ সমিতির আহ্বায়ক কাজী বেনজীর আহমেদ জাকিয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে পালটা দাবি করেন, জাকিয়া ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় মিথ্যা, নানা রকম অভিযোগ তুলেছেন।

 

শনিবার তিনি কয়েকশ মানুষ নিয়ে ব্যবসায়ীদের ওপর চড়াও হলে আমরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনি। পরে তারা সবাই চলেও যায়, কারা লাথি মেরেছে তা আমি জানি না, পরে বিষয়টি জেনেছি।

 

জাকিয়া সুলতানা যুগান্তরকে বলেন, শনিবার যখন পুলিশ আমাকে উদ্ধার করে নিয়ে যাচ্ছিল তখন পেছন থেকে অজ্ঞাত কয়েক যুবক আমার ওপর হামলা চালায়। যারা লাথি মেরেছে, তাদের কাউকে আমি চিনি না। তবে আমি তাদের খোঁজার চেষ্টা করছি। আপনাকে যারা লাথি মেরেছে তাদের বিরুদ্ধে আপনি আইনগত কোনো ব্যবস্থা নেবেন কিনা-এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি আপনাদের সহযোগিতা নিয়ে সাংবাদিক সম্মেলন করব। অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে অভিযুক্ত কর্মচারী বৃষ্টি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

 

এ বিষয়ে রাজবাড়ী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উত্তম কুমার ঘোষ বলেন, ব্যবসাসংক্রান্ত দ্বন্দ্বের জেরে বাজারের ব্যবসায়ীরা জাকিয়া সুলতানাকে ঘিরে ধরেছিলেন। খবর পেয়ে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। পরে দুপক্ষের মধ্যে সমঝোতার মাধ্যমে বিষয়টি সমাধান করা হয়েছে।

রাজবাড়ীতে পুলিশের সামনে নারী উদ্যোক্তাকে লাথি

আট বছরেও স্থায়ী ক্যাম্পাস নেই নীলফামারী মেডিকেল কলেজে

কলেজে দ্রুত অবকাঠামো উন্নয়নের আশ্বাস স্বাস্থ্য শিক্ষা মহাপরিচালকের

 

স্টাফ রিপোর্টার

মাইদুল ইসলাম:

প্রতিষ্ঠার আট বছর পেরিয়ে গেলেও নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস পায়নি নীলফামারী মেডিকেল কলেজ। বর্তমানে অন্য একটি প্রতিষ্ঠানের জন্য নির্মিত অবকাঠামোতে চলছে কলেজের একাডেমিক কার্যক্রম। যদিও সেখানে শ্রেণিকক্ষ, হোস্টেলসহ প্রয়োজনীয় কিছু সুবিধা রয়েছে, তবু দীর্ঘমেয়াদে মেডিকেল কলেজের পূর্ণাঙ্গ শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রয়োজন স্থায়ী ক্যাম্পাস ও নিজস্ব অবকাঠামো। কলেজটির প্রস্তাবিত স্থায়ী ক্যাম্পাসের জন্য জায়গা নির্ধারণ ও নকশার কাজ এগোলেও পূর্ণাঙ্গ অবকাঠামো এখনো বাস্তবায়িত হয়নি। কলেজের নিজস্ব তথ্যেও প্রস্তাবিত মেডিকেল কলেজ, হাসপাতাল ও নার্সিং কলেজের জন্য ২৮ একর জমির কথা উল্লেখ রয়েছে।

এ অবস্থার মধ্যেই রোববার (৩০ আগস্ট) বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে নীলফামারী মেডিকেল কলেজের ৮ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও কলেজ ডে অনুষ্ঠিত হয়েছে। দিনটি উপলক্ষে সকালে কলেজ প্রাঙ্গণ থেকে বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের করা হয়। র‌্যালিটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে কলেজের হলরুমে আলোচনা সভা ও দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাজমুল হোসেন বলেন, “শিক্ষা ও চিকিৎসা খাতকে সরকার অগ্রাধিকার দিয়েছে। দেশের মানবসম্পদ উন্নয়ন ও জনগণের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে এ দুটি খাতের উন্নয়নে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ রাখা হয়েছে।”

তিনি বলেন, একটি মেডিকেল কলেজ শুধু চিকিৎসক তৈরির প্রতিষ্ঠান নয়; একটি অঞ্চলের স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নেও এর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। নীলফামারী মেডিকেল কলেজের অবকাঠামোগত উন্নয়নের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। স্থায়ী ক্যাম্পাস, একাডেমিক ভবন ও হোস্টেলসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তুলে শিক্ষার্থীদের জন্য আধুনিক ও মানসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, ২০১৮ সালে প্রতিষ্ঠিত নীলফামারী মেডিকেল কলেজের শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয় ২০১৯ সালে। বর্তমানে কলেজটি নটখানা এলাকায় নির্মিত ম্যাটসের ভবনে অস্থায়ী ক্যাম্পাস হিসেবে কার্যক্রম চালাচ্ছে। কলেজের নিজস্ব তথ্য অনুযায়ী, সেখানে শিক্ষার্থীদের জন্য আবাসন ও একাডেমিক সুবিধা রয়েছে এবং নীলফামারী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট আধুনিক সদর হাসপাতালে শিক্ষার্থীদের ক্লিনিক্যাল শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে।

এর আগে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক নীলফামারী মেডিকেল কলেজ পরিদর্শন করে বলেছিলেন, কলেজটির নিজস্ব উপযুক্ত অবকাঠামো এখনো তৈরি হয়নি। তবে অন্য কয়েকটি নতুন মেডিকেল কলেজের তুলনায় বর্তমানে ব্যবহৃত ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের হোস্টেল ও একাডেমিক সুবিধা তুলনামূলক ভালো রয়েছে। একই সঙ্গে স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণের দাবিও শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা তাঁর কাছে তুলে ধরেছিলেন।

সম্প্রতি স্বাস্থ্য শিক্ষা খাতের উন্নয়ন পরিকল্পনায় নীলফামারীসহ স্থায়ী ক্যাম্পাসবিহীন সরকারি মেডিকেল কলেজগুলোর অবকাঠামো উন্নয়নের বিষয়টি নতুন করে সামনে এসেছে। সরকারের সংশোধিত পরিকল্পনায় ছয়টি মেডিকেল কলেজের স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণের কাজ শুরু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে কোন ছয়টি কলেজ অগ্রাধিকার পাবে, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মেডিকেল শিক্ষার মান নিশ্চিত করতে শুধু শ্রেণিকক্ষ ও পাঠ্যক্রম যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন পর্যাপ্ত ক্লিনিক্যাল সুবিধা, আধুনিক ল্যাবরেটরি, গ্রন্থাগার, আবাসন এবং শিক্ষার্থীদের জন্য উপযুক্ত একাডেমিক পরিবেশ। ফলে দীর্ঘদিন অস্থায়ী অবকাঠামোর ওপর নির্ভর না করে দ্রুত স্থায়ী ক্যাম্পাস ও পূর্ণাঙ্গ অবকাঠামো নির্মাণ জরুরি।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (মানবসম্পদ ও ব্যবস্থাপনা) ও প্রকল্প পরিচালক ডা. মো. মাছুদুর রহমান এবং পরিচালক (চিকিৎসা শিক্ষা) অধ্যাপক ডা. সাকি মো. জাকিউল আলম।

এ ছাড়া ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) রংপুর বিভাগীয় সাংগঠনিক কমিটির আহ্বায়ক ও ড্যাব কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি ডা. নিখিলেন্দ্র শংকর গুহ রায়, রংপুর মেডিকেল কলেজ শাখা ড্যাবের আহ্বায়ক ও সার্জারি বিভাগের অধ্যাপক ডা. মো. জাবেদ আখতার, রংপুর মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মো. আনোয়ার হোসেনসহ সংশ্লিষ্টরা বক্তব্য দেন।

অনুষ্ঠানে নীলফামারী মেডিকেল কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. রবিউল ইসলাম শাহ, সাবেক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মোস্তাফিজুর রহমান আকন্দ, রংপুর মেডিকেল কলেজের উপাধ্যক্ষ ডা. মো. জহুরুল হক, দিনাজপুর মেডিকেল কলেজের উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মো. সারোয়ার মুর্শেদ আলম, নীলফামারীর সিভিল সার্জন ডা. মো. আব্দুর রাজ্জাক, ড্যাব নীলফামারীর আহ্বায়ক ডা. মো. সোহেলুর রহমান সোহেল ও সদস্যসচিব ডা. রেদোয়ান জুবায়ের রিয়াদসহ বিভিন্ন মেডিকেল কলেজ ও স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

দিনব্যাপী আয়োজনে কলেজের শিক্ষক, চিকিৎসক ও শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। আলোচনা সভা শেষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে ৮ম কলেজ ডের কর্মসূচি শেষ হয়।

আট বছরেও স্থায়ী ক্যাম্পাস নেই নীলফামারী মেডিকেল কলেজে কলেজে দ্রুত অবকাঠামো উন্নয়নের আশ্বাস স্বাস্থ্য শিক্ষা মহাপরিচালকের

মাইক্রোবাসকে সাইড না দেওয়াকে কেন্দ্র করে ইমরান হোসেন নামে এক পুলিশ সদস্যকে প্রকাশ্যে চড়-থাপ্পড় মারার অভিযোগ উঠেছে মাগুরা মাইক্রোবাস মালিক সমিতির সভাপতি নাইমুজ্জামান নয়নের বিরুদ্ধে।

 

শুক্রবার (২৮ আগস্ট) বিকালে মাগুরা শহরের মাইক্রোবাস স্ট্যান্ড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

 

ইমরান হোসেন মাগুরা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের কন্ট্রোলরুমে কর্মরত বলে জানা গেছে।

 

প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, শুক্রবার বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে মোটরসাইকেলে বসে থাকা পুলিশ সদস্য ইমরান হোসেনকে দুই পুলিশ কর্মকর্তার সামনেই চড়-থাপ্পড় মারছেন নাইমুজ্জামান নয়ন। একই সময়ে নিজের মোবাইল ফোনে ঘটনার ভিডিও ধারণ করেন তিনি।

 

এর আগে ছড়িয়ে পড়া আরেকটি ভিডিওতে দেখা যায়, নয়ন মাইক্রোবাস স্ট্যান্ড এলাকার লোকজনকে সেখানে আসার আহ্বান জানাচ্ছেন এবং পুলিশ সদস্য ইমরানের মোটরসাইকেলের চাবি নিয়ে নিচ্ছেন। এ সময় ঘটনাস্থলে থাকা মাগুরা সদর থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) শরিফুল ও এএসআই মাসুদ নিজেদের পুলিশ কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে চাবি নিতে বাধা দেন।

 

একপর্যায়ে নয়নের সঙ্গে থাকা মাগুরা পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক জাকির হোসেন ওই দুই এএসআইয়ের সঙ্গে বাগবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। পরে নয়ন মোটরসাইকেলে বসে থাকা ইমরানকে পরপর দুটি থাপ্পড় মারেন বলে ভিডিওতে দেখা যায়।

 

১ মিনিট ২৩ সেকেন্ডের ওই ভিডিওটি শুক্রবার রাত থেকে বিভিন্ন ফেসবুক অ্যাকাউন্টে ছড়িয়ে পড়ে। এ নিয়ে পুলিশের মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে।

 

ঘটনার পর সন্ধ্যায় নাইমুজ্জামান নয়নকে সদর থানায় নেওয়া হয় বলে জানা গেছে। তবে কিছু সময় পর মাগুরা পৌর বিএনপির সভাপতি মাসুদ হাসান খান কিজিলসহ কয়েকজন নেতা থানায় উপস্থিত হয়ে তাকে ছাড়িয়ে নিয়ে যান বলে স্থানীয় সূত্রের দাবি।

 

তবে নয়নকে আটকের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন মাগুরা সদর থানার ওসি আব্দুল্লাহ আল মামুন। তিনি বলেন, তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে আসা হয়েছিল। পরে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

 

হামলার শিকার পুলিশ সদস্য ইমরান হোসেনের বক্তব্য জানতে তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তা সম্ভব হয়নি।

 

অভিযোগের বিষয়ে নাইমুজ্জামান নয়ন বলেন, ঠিকাদারি কাজ শেষে মাইক্রোবাস চালিয়ে বাড়ি ফিরছিলাম। শহরের ঢাকা রোডের কাঁচাবাজার এলাকায় পৌঁছালে যানজটে আটকা পড়ি। সামনে থাকা ওই পুলিশ সদস্যকে বারবার হর্ন দিলেও তিনি সাইড দেননি। এ নিয়ে তার সঙ্গে তর্ক-বিতর্ক হয়। তিনি বাজে শব্দ করায় তার মোটরসাইকেলের চাবি নিয়ে একটি থাপ্পড় দিয়েছি।

 

তিনি আরও বলেন, মায়ের অসুস্থতা নিয়ে আমি বেশ উৎকণ্ঠার মধ্যে ছিলাম। সারাদিন না খেয়ে কাজ শেষে ফেরার সময় রাস্তায় সাইড না পেয়ে মেজাজ ঠিক রাখতে পারিনি। তবে থাপ্পড় মারা ভুল হয়েছে।

 

এদিকে প্রকাশ্যে একজন পুলিশ সদস্যকে চড়-থাপ্পড় মারার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় বিষয়টি নিয়ে পুলিশের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার বিষয়ে আইনগতভাবে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তা নিয়ে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে আলোচনা চলছে বলে পুলিশের একাধিক সূত্র জানিয়েছে।

মাগুরায় পুলিশ সদস্যকে প্রকাশ্যে চড় মাইক্রোবাস মালিক সমিতির সভাপতির

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*বুড়িগোয়ালিনীতে মুরগির খোঁয়াড়ে অজগরের হানা, ৬টি হাঁস-মুরগি খেলো, ফরেস্ট স্টাফরা উদ্ধার করে সুন্দরবনে অবমুক্তির প্রস্তুতি*।

 

সংবাদদাতা: জিয়াউর রহমান জিয়া,

শ্যামনগর উপজেলা প্রতিনিধি,

“দৈনিক আমাদের দেশ”।

 

সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নে একটি মুরগির খোঁয়াড়ে সুন্দরবন থেকে আসা বিশাল আকৃতির অজগর সাপ ঢুকে ৬টি হাঁস-মুরগি খেয়ে ফেলেছে। পরে বুড়িগোয়ালিনী ফরেস্ট স্টেশনের স্টেশন কর্মকর্তা ও সিপিজির সদস্যরা সাপটি উদ্ধার করেন।

 

মঙ্গলবার রাতে উপজেলার বুড়িগোয়ালিনী গ্রামের *আতিয়ার রহমানের ছেলে মুক্তার গাজীর* মুরগির কোটার মধ্যে এ ঘটনা ঘটে।

 

স্থানীয়রা জানান, রাতে হঠাৎ মুরগির খোঁয়াড় থেকে মুরগির ডাকাডাকি শুনে মুক্তার গাজী ও তার পরিবারের লোকজন গিয়ে দেখেন একটি বড় অজগর সাপ খোঁয়াড়ের ভেতরে ঢুকে হাঁস-মুরগি খাচ্ছে। এ সময় তারা চিৎকার করলে সাপটি খোঁয়াড়ের মধ্যেই কুণ্ডলী পাকিয়ে বসে থাকে।

 

খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে *বুড়িগোয়ালিনী ফরেস্ট স্টেশনের স্টেশন কর্মকর্তা এরফান উদ্দিন* এবং *সিপিজি সদস্যরা* ঘটনাস্থলে গিয়ে অজগর সাপটিকে উদ্ধার করেন।

 

স্টেশন কর্মকর্তা এরফান উদ্দিন বলেন, “ধারণা করা হচ্ছে খাবারের সন্ধানে সুন্দরবন থেকে সাপটি লোকালয়ে চলে এসেছে। সাপটি প্রায় ৮-৯ ফুট লম্বা। উদ্ধারের পর সাপটিকে নিরাপদে রাখা হয়েছে। পরবর্তীতে সুন্দরবনের গভীর জঙ্গলে অবমুক্ত করা হবে।

 

এ ঘটনার পর এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লেও ফরেস্ট স্টাফদের দ্রুত পদক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। বন বিভাগের পক্ষ থেকে এলাকাবাসীকে রাতে ঘরবাড়ি ও খোঁয়াড় নিরাপদে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

বুড়িগোয়ালিনীতে মুরগির খোঁয়াড়ে অজগরের হানা, ৬টি হাঁস-মুরগি খেলো, ফরেস্ট স্টাফরা উদ্ধার করে সুন্দরবনে অবমুক্তির প্রস্তুতি

শ্যামনগরে ১৩ ইটভাটার মধ্যে ১০টির নেই পরিবেশগত ছাড়পত্।

‎ইয়াছিন মোড়ল- (শ্যামনগর সাতক্ষীরা)

‎সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলায় পরিবেশ অধিদপ্তরের আওতাধীন মোট ১৩টি ইটভাটা রয়েছে। এর মধ্যে মাত্র ৩টি ইটভাটার পরিবেশগত ছাড়পত্র/নবায়ন ২০২৫ পর্যন্ত রয়েছে, আর বাকি ১০টি ইটভাটা অবৈধ, নেই পরিবেশগত ছাড়পত্র/নবায়ন। পরিবেশ অধিদপ্তর, সাতক্ষীরা জেলা কার্যালয় থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

‎পরিবেশ ছাড়পত্রবিহীন এসব অধিকাংশ অবৈধ ইটভাটার কোনো সরকারি অনুমোদন বা লাইসেন্সও নেই। সম্প্রতি উচ্চ আদালত এক আদেশে দেশের সব অবৈধ ইটভাট বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন। তারপরও অবৈধ ইটভাটা বন্ধে উচ্চ আদালতের নির্দেশনা উপেক্ষা করে এসব অবৈধ ইটভাটা পুরোদমে তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। জনবসতিপূর্ণ এলাকা ও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাশেই গড়ে তোলা এ সকল অবৈধ ইটভাটার বিষাক্ত ধোঁয়ায় মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে ক্লাস করে থাকে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা।

‎উপজেলার রামজীবনপুর দাখিল মাদ্রাসার

‎শিক্ষার্থীরা জানান, চলতি মৌসুমে ক্লাসের সময় ইটভাটার কালো ধোঁয়া সরাসরি তাদের নাক দিয়ে শরীরে প্রবেশ করে। চোখে বালু ও ধোঁয়া ঢুকে যায়। ফলে নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হয়। চোখেও সমস্যা হয়। ইটভাটার ট্রাক ও ভেকুসহ বিভিন্ন মেশিনের শব্দে ক্লাসের সময় তারা শিক্ষকদের কথা শুনতে পারে না।

‎এছাড়া স্থানীয় প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের নজরদারি না থাকায় অবৈধ এসব ভাটায় ব্যবহৃত হয়ে থাকে কাঠ, সোয়াবিনের গাঁথ, তুষকাঠ ও টায়ার বিষাক্ত কালি  জ্বালানিতে  ব্যবহার করা হয়। অভিযোগ ভুক্তভোগী স্থানীয় বাসিন্দাদের।

‎উপজেলার মৎস্য আড়ৎ এবং বাজারের নিকটবর্তী বসবাসকারী কয়েকজন ব্যক্তি বলেন, আমাদের ৩০ বছরের বসতভিটা এখানে। আগে একটি ভাটা ছিল। এখন চারপাশে চারটি ইটভাটা। ধুলাবালি আর ধোয়ায় ঘরবাড়ি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ঘরের ভেতর ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে বাস করছি। ইটভাটার ধোঁয়া ও বালুকণার কারণে বাড়িতে কোন গাছ-গাছালি বা খেতে ফসল ফলানো যাচ্ছে না।

‎পরিবেশ অধিদপ্তরের নথিতেই যখন শ্যামনগরের ১০টি ইটভাটার হালনাগাদ পরিবেশগত ছাড়পত্র/নবায়ন নেই, অবৈধ ভাবে চিহ্নিত করা হয়েছে,  তখন এসব ইটভাটার মধ্যে যেগুলো এখনও চালু রয়েছে—সেগুলোর কার্যক্রম কীভাবে চলছে, তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে।

‎উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ জিয়াউর রহমান বলেন, জনবসতিপূর্ণ এলাকায় পরিচালিত ইট ভাটা থেকে নির্গত বিষাক্ত ধোঁয়ায় ব্রংকাইটিস, শ্বাসকষ্টসহ শ্বসনতন্ত্রের বিভিন্ন রোগের প্রকোপ স্বাভাবিক ভাবেই বেড়ে যায়। এতে বৃদ্ধ এবং শিশুদের মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকি থাকে। ফলে এ বিষয়ে আমাদের সচেতন হতে হবে।

‎বিশেষ করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাশে থাকা  ইটের ভাটা গুলো সরিয়ে নিলে  শিশুদের স্বাস্থ্য ঝুঁকি কমে যাবে।

‎এ ব্যাপারে শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামসুজ্জাহান কনকের সাথে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছি, ফোন রিসিভ করেননি তিনি ।

শ্যামনগরে ১৩ ইটভাটার মধ্যে ১০টির নেই পরিবেশগত ছাড়পত্র

ভূল্লী নদীতে গোসল করতে গিয়ে প্রাণ গেল ৫ বছরের শিশু

 

মোঃ আশরাফুল ইসলাম

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি:

 

ঠাকুরগাঁওয়ের ভূল্লীতে ভূল্লী নদীর পানিতে ডুবে হোসাইন আহমেদ (৫) নামে এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।

 

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) দুপুর দেড়টার দিকে ভূল্লী উপজেলার শুখান পুখুরী ইউনিয়নের বাংরোড (মন্ডলপাড়া) এলাকায় ভূল্লী নদীর বাংরোড সুইচ গেটে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

 

নিহত হোসাইন আহমেদ ওই এলাকার মো. জাহাঙ্গীর আলমের ছেলে।

 

স্থানীয়দের বরাত দিয়ে জানা গেছে, দুপুরে হোসাইন আহমেদ কয়েকজন সমবয়সী শিশুর সঙ্গে বাড়ির পাশের ভূল্লী নদীর বাংরোড সুইচ গেটে গোসল করতে যায়। গোসলের একপর্যায়ে অসাবধানতাবশত পানির গভীরে চলে গিয়ে ডুবে যায় সে। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে। তবে উদ্ধারের পর তার মৃত্যু হয়।

 

শিশুটির মৃত্যুর খবরে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

 

খবর পেয়ে ভূল্লী থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে বিষয়টি খতিয়ে দেখে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করে।

ভূল্লী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নূরে আলম সিদ্দিকী বলেন, নদীর পানিতে ডুবে এক শিশুর মৃত্যুর খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

ভূল্লী নদীতে গোসল করতে গিয়ে প্রাণ গেল ৫ বছরের শিশুর

প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ

 

 

গত ১/০৯/২০২৬ ইং তারিখে আশুলিয়ার ইয়ারপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক মো: সেলিম রেজার বিরুদ্ধে দূর্নীতির অভিযোগ শিরোনামে “দৈনিক ঘোষণা ” অনলাইন পএিকা” বিভিন্ন নামে বেনামে পেজ ও আইডি থেকে শীর্ষক সংবাদ ও ভিডিও মাল্টিমিডিয়া ফেসবুক পেইজের উক্ত সংবাদ ও ভিডিও প্রকাশের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। এমন কোন ঘটনা পরিষদে ঘটেনি। তবে যে ভিডিওতে টাকা লেনদেনের চিত্র দেখানো হয়েছে, সেটি নিছক পরিষদের ফ্রিজ কেনার সরকারি টাকা। সচিব মহোদয় ব্যস্ত থাকার কারণে প্রশাসককে বলেন ওয়ালটন শো-রুম এর ম্যানেজার আসছে স্যার আপনি টাকা টা ম্যানেজার কে বুঝিয়ে দেন। তখন প্রশাসক টাকাটা গুনে ম্যানেজারকে বুঝিয়ে দেন। এটা সরকারি টাকা। ব্যক্তিগত কোন লেনদেন বা দূর্নীতির টাকা নয়। তাই উক্ত সংবিধানের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। ভবিষ্যতে গঠন মূলক, সত্য, সংবাদ প্রকাশ করবে বলে আশা ব্যক্ত করছি। প্রতিবাদে : সকল কমকর্তা / কর্মচারীগণ ইয়ারপুর , ইউনিয়ন পরিষদ, সাভার, ঢাকা।

প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ

শারীরিক অসুস্থতার কারণে রাজধানীর ইব্রাহিম কার্ডিয়াক হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। তাকে দেখতে হাসপাতালে গিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

 

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৯টায় ইব্রাহিম কার্ডিয়াক হাসপাতালে যান তিনি। এসময় তিনি চিকিৎসকদের কাছে ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন।

 

বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান এ তথ্য জানান।

 

জানা গেছে, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু গত কয়েকদিন ধরেই জ্বর, সর্দি-কাশি ও শ্বাসকষ্টের সমস্যায় ভুগছিলেন। রাত সাড়ে ১০টার দিকে তাকে ইব্রাহিম কার্ডিয়াক হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। পরে তাকে সিসিইউতে স্থানান্তর করা হয়েছে।

অসুস্থ জ্বালানিমন্ত্রী টুকুকে দেখতে হাসপাতালে রাষ্ট্রপতি

বাড়ইপাড়া শাখার শ্রমিক ইউনিয়নের কমিটি গঠন, সভাপতি হুমায়ুন কবির, সম্পাদক রফিকুল।

 

মোঃ সাহাজুদ্দিন সরকার,

ক্রাইম রিপোর্টার, গাজীপুর।

 

গাজীপুর জেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের বাড়ইপাড়া শাখার ১৫ সদস্য বিশিষ্ট নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে।

তিন বছরের জন্য গঠিত এই কমিটিতে সভাপতি হুমায়ূন কবির ও সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলামকে নির্বাচিত করা হয়।

গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার কালিয়াকৈর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় গাজীপুর জেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের প্রধান কার্যালয়ে এ কমিটি ঘোষণা করা হয়।

এ নতুন কমিটি ঘোষণা করেন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ও গাজীপুর জেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক, হুমায়ুন কবীর খান। এই কমিটির অন্যরা হলেন- কার্যকরী সভাপতি নুরুল ইসলাম, সিনিয়র সহ-সভাপতি জামাল উদ্দিন, সহ-সভাপতি-১ লেহাজ উদ্দিন, সহ-সভাপতি-২ রমজান আলী, যুগ্ম সম্পাদক ফারুক হোসেন, সহ-সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম, সাংগঠনিক সম্পাদক সুলতান উদ্দিন, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আনোয়ার হোসেন, কোষাধ্যক্ষ আব্দুল হালিম, দপ্তর সম্পাদক আজহার উল ইসলাম, প্রচার সম্পাদক তাহের হোসেন, সড়ক সম্পাদক আব্দুল আজিজ শরীফ, সহ-সড়ক সম্পাদক শ্রী সুব্রত চন্দ্র বর্মণসহ ১৫ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়। এর আগে গাজীপুর জেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মিনার উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন- বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ও গাজীপুর জেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবীর খান, গাজীপুর জেলা অটো টেম্পু মালিক সমিতির সভাপতি শাহজাহান সিরাজ, সাধারণ সম্পাদক কোহিনুর ইসলাম, গাজীপুর জেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জসিম দেওয়ানসহ আরো অনেকেই উপস্থিত ছিলেন ।

বাড়ইপাড়া শাখার শ্রমিক ইউনিয়নের কমিটি গঠন, সভাপতি হুমায়ুন কবির, সম্পাদক রফিকুল

গাজীুপরের কাশিমপুরে দুই ব্যাটারি কারখানায় অভিযান, ২ লাখ টাকা জরিমানা ।

 

 

মোঃ সাহাজুদ্দিন সরকার, ক্রাইম রিপোর্টার, গাজীপুর।

 

গাজীপুর মহানগরের কাশিমপুরে অনুমোদনহীন দুটি চায়না মালিকানাধীন ব্যাটারি কারখানায় অভিযান চালিয়ে মোট ২ লাখ টাকা জরিমানা আদায় করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

 

জেলা এনএসআই গাজীপুর কার্যালয়ের তথ্যের ভিত্তিতে মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত কাশিমপুর থানাধীন এলাকায় পৃথক এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

 

প্রথমে দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত কাশিমপুর থানার ১ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ পানিশাইল এলাকায় ‘টংগুইদা’ নামের একটি কারখানায় অভিযান চালানো হয়।

জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, গাজীপুরের সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ সালেহুর রহমানের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে প্রতিষ্ঠানটিতে বিএসটিআইয়ের অনুমোদন ছাড়াই ব্যাটারি উৎপাদন ও বাজারজাত করার সত্যতা পাওয়া যায়।

 

এ সময় বিএসটিআই আইন, ২০১৮-এর ১৫(২৭) ধারা অনুযায়ী ৫০ হাজার টাকা এবং ওজন ও পরিমাপ মানদণ্ড আইন, ২০১৮-এর ৪০, ২৪ ও ৫৫ ধারায় আরও ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। প্রতিষ্ঠানটির কাছ থেকে মোট ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।

 

পরে বিকেল ৪টা ১৫ মিনিট থেকে ৫টা ১০ মিনিট পর্যন্ত একই থানার ১ নম্বর ওয়ার্ডের মাধবপুর এলাকায় ‘টাইগার ব্যাটারী’ নামের আরেকটি চাইনিজ মালিকানাধীন কারখানায় অভিযান চালানো হয়। অভিযানে প্রতিষ্ঠানটির প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও কাগজপত্র ছাড়াই কার্যক্রম পরিচালনার সত্যতা পাওয়া যায়।

 

এ ঘটনায় বিএসটিআই আইন, ২০১৮-এর ৩১ ধারা অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটির কর্তৃপক্ষকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় এবং তাৎক্ষণিকভাবে আদায় করা হয়।

 

ভ্রাম্যমাণ আদালতের পৃথক দুটি অভিযানে মোট ২ লাখ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।

 

অভিযানের মাধ্যমে অনুমোদন ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছাড়া ব্যাটারি উৎপাদন ও বাজারজাতকরণের বিরুদ্ধে প্রশাসনের নজরদারি অব্যাহত থাকবে বলে আশ্বস্ত করেছেন ।

গাজীুপরের কাশিমপুরে দুই ব্যাটারি কারখানায় অভিযান, ২ লাখ টাকা জরিমানা

গাইবান্ধায় জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পাল

 

শাহ্ পারভেজ সংগ্রাম, গাইবান্ধা প্রতিনিধি

গাইবান্ধায় উৎসব মুখর পরিবেশে নানা আয়োজনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপির) ৪৮ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করা হয়েছে। দিবসটি পালন উপলক্ষে মঙ্গলবার দুপুরে জেলা বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

 

জেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক ও প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন কমিটির আহব্বায়ক মাহমুদুন নবী টিটুলের সভাপতিত্বে ও শহর বিএনপির সভাপতি ও প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর সদস্য সচিব শহিদুজ্জামান শহিদের সঞ্চলনায় আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী ড. মো. শামীম কায়সার লিংকন(এমপি)।

 

প্রধান বক্তা ছিলেন গাইবান্ধা ১, ২, ৩ ও ৫ আসনের সংরক্ষিত সংসদ সদস্য মমতাজ আলো। বিশেষ অতিথি ছিলেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির রংপুর বিভাগের সহ- সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম। এছাড়া যুবদল, ছাত্রদল, সেচ্ছাসেবকদল,তাতীদল,কৃষকদল সহ জেলা ও উপজেলা বিএনপির বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

 

এসময় বক্তারা বলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)একটি সুশৃঙ্খল সংগঠন। দীর্ঘ ১৭বছরের ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলন-সংগ্রামে দলটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

 

আরও বলেন, সংগঠনকে ঐক্য এবং শক্তিশালী করে তারেক রহমানের হাতকে শক্তিশালী করতে হবে এবং দেশের মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখতে হবে।

 

আলোচনা শেষে একটি বর্ণাঢ্য আনন্দ শোভাযাত্রা বের হয়ে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক গুলো প্রদক্ষিন করে পুনোরায় সেখানে গিয়ে শেষ হয়। এরপর দলীয় নেতাকর্মীরা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও দলটির চেয়ারপার্সন প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়ার প্রতিকৃতিতে পুষ্পমাল্য অর্পন করেন।

গাইবান্ধায় জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন

নওগাঁর মান্দায় ‘ব্ল্যাকহোল ক্লাব’-এর কিশোর গ্যাংয়ের শুটার গান অস্ত্রসহ দুই সদস্য গ্রেপ্তার

 

মোঃ সাইদুল ইসলাম হেলাল

বিশেষ প্রতিনিধিঃ

 

নওগাঁর মান্দা উপজেলার কসব ইউনিয়নের তুরুকবাড়িয়া এলাকায় ‘ব্ল্যাকহোল ক্লাব’ নামে কিশোর গ্যাং তৈরি করে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টির অভিযোগে সুলতান ও পারভেজ নামে দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাদের কাছ থেকে একটি দেশীয় তৈরি ওয়ান শুটার গান, ধারালো ডেগার, খেলনা পিস্তল, সুইচ গিয়ার চাকুসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র, মোবাইল ফোন ও নগদ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।

 

পুলিশ জানায়, সুলতান ও পারভেজ বেশ কিছুদিন ধরে তুরুকবাড়িয়া এলাকায় ‘ব্ল্যাকহোল ক্লাব’ নামে একটি কিশোর গ্যাং পরিচালনা করে আসছিলেন। ওই গ্যাংয়ে স্থানীয় কিশোরদের যোগ দিতে বাধ্য করা হতো। কেউ তাদের সঙ্গে যোগ দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে মারধরসহ বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখানো হতো বলে অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি তারা এলাকায় বিভিন্ন বেআইনি কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিলেন।

 

এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৫ আগস্ট রাত আনুমানিক ৮টা ২০ মিনিটে সুলতান ও পারভেজসহ তাদের সহযোগীরা তুরুকবাড়িয়া এলাকার সাফিয়াল জাবের নিরবকে হত্যার উদ্দেশ্যে গুলি করেন বলে অভিযোগ ওঠে। ঘটনার পর মান্দা থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি গুলির খোসা উদ্ধার করে। পরদিন ২৬ আগস্ট রাতেও এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টির উদ্দেশ্যে তারা পুনরায় গুলি ছোড়ে বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় মান্দা থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়।

 

ঘটনার পর নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামের নির্দেশনায় জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি), মান্দা থানা, রানীনগর থানা এবং মান্দা সার্কেলের এএসপি শাওনের নেতৃত্বে একটি বিশেষ দল গঠন করা হয়। পরে প্রযুক্তিগত তথ্য ও বিভিন্ন ডাটা বিশ্লেষণের মাধ্যমে অভিযুক্তদের অবস্থান শনাক্ত করে সমন্বিতভাবে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় রানীনগর ও আত্রাই থানা পুলিশের সহযোগিতাও নেওয়া হয়।

 

পুলিশের তথ্যপ্রযুক্তি বিশ্লেষণে জানা যায়, সুলতান ও পারভেজ ঢাকা পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। এরপর তাদের গতিরোধ করতে নওগাঁ জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে অন্যান্য জেলার পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় গত ৩১ আগস্ট রাতে পুলিশের একটি বিশেষ দল বগুড়ার শেরপুর থানা এলাকার ফুড ভিলেজের সামনে ঢাকাগামী একতা পরিবহনের একটি বাসে অভিযান চালিয়ে সুলতান ও পারভেজকে গ্রেপ্তার করে।

 

পরে গ্রেপ্তার দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদ এবং তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বগুড়া, সিরাজগঞ্জ, নওগাঁ ও মান্দার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে তারা নিজেদের কাছে অস্ত্র থাকার কথা স্বীকার করেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

 

এরপর ১ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাত ১টা ২৫ মিনিটে সুলতান ও পারভেজকে সঙ্গে নিয়ে তাদের দেখানো মতে সুলতানের বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। এ সময় বাড়ির একটি কক্ষের চালের কার্নিশের ওপর কাগজে মোড়ানো অবস্থায় একটি দেশীয় তৈরি ওয়ান শুটার গান, একটি খেলনা পিস্তল ও একটি ধারালো ডেগার জব্দ করা হয়।

 

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযানে একটি দেশীয় তৈরি লোহার পিস্তল আকৃতির ওয়ান শুটার গান, উভয় পাশে ধারালো একটি ডেগার, একটি খেলনা পিস্তল, একটি সুইচ গিয়ার চাকু, দুটি পুরোনো চাকু ও একটি খুর চাকু, তিনটি মোবাইল ফোন এবং নগদ ১৬ হাজার ৮৫০ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার করা ডেগারটির হাতলসহ দৈর্ঘ্য ১৮ ইঞ্চি এবং হাতল ছাড়া দৈর্ঘ্য ১২ ইঞ্চি বলে জানিয়েছে পুলিশ।

 

পুলিশের প্রাথমিক পর্যালোচনায় জানা যায়, সুলতান ও পারভেজের বিরুদ্ধে মান্দা থানায় বহুল আলোচিত চৌকিদারের ছেলের হত্যা মামলা, সাইবার সুরক্ষা আইন ও মারামারিসহ মোট চারটি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে হত্যা মামলায় তারা দুজনই প্রায় আট মাস কারাগারে ছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

 

পুলিশ আরও জানায়, অভিযুক্তরা প্রায়ই নিজেদের কাছে সুইচ গিয়ার চাকু রাখতেন এবং তা দিয়ে মানুষকে আঘাত করার অভিযোগ রয়েছে।

 

নওগাঁ জেলা পুলিশ জানিয়েছে, জেলার কোথাও কোনো ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, কিশোর গ্যাং, অস্ত্রের ব্যবহার কিংবা জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করার চেষ্টা বরদাশত করা হবে না। সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

মোঃ সাইদুল ইসলাম হেলাল

বিশেষ প্রতিনিধিঃ

মোবাইল নং- ০১৭২৪২৫৫৭০৬

তাং- ০১-০৯-২০২৬

নওগাঁর মান্দায় ‘ব্ল্যাকহোল ক্লাব’-এর কিশোর গ্যাংয়ের শুটার গান অস্ত্রসহ দুই সদস্য গ্রেপ্তার

ঠাকুরগাঁওয়ে ১৪৫ পিস ইয়াবা ও নগদ ১০ লাখ টাকা সহ স্বামী-স্ত্রী আটক।

 

মোঃ আশরাফুল ইসলাম

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি

 

ঠাকুরগাঁও জেলা পুলিশের বিশেষ অভিযানের অংশ হিসেবে হরিপুর থানা পুলিশ কর্তৃক পরিচালিত মাদকবিরোধী অভিযানে ১৪৫ (একশত পঁয়তাল্লিশ) পিস অবৈধ মাদকদ্রব্য ইয়াবা ট্যাবলেট ও মাদক বিক্রয়ের ১০,০০,০০০/- (দশ লক্ষ) টাকা উদ্ধারসহ ০২ জন মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ সময় মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত একটি ১৬০ সিসি হোন্ডা এক্সব্লেড মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়েছে।

 

ঠাকুরগাঁও জেলার সম্মানিত পুলিশ সুপার মহোদয়ের সার্বিক দিক-নির্দেশনায় হরিপুর থানার অফিসার ইনচার্জের নেতৃত্বে পুলিশের একটি চৌকস দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ৩১ আগস্ট ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, সময় রাত ১১.৩০ ঘটিকায় জানতে পারে যে, হরিপুর থানাধীন ০৬ নং ভাতুরিয়া ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডস্থ মহেন্দ্রগাঁও (জিগা) গ্রাম হতে মহেন্দ্রগাঁও (জিগা) বিলগামী নয়াবাঁশ নামক স্থানে একটি মোটরসাইকেলসহ এক ব্যক্তি ইয়াবা বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে অবস্থান করছে।

 

প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশের আভিযানিক দল সেখানে পৌঁছালে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে অবস্থানরত ব্যক্তি তার ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি ফেলে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করে। এ সময় পুলিশ সদস্যরা ধাওয়া করে আসামি ১। মোঃ নাজির হোসেন (৫৫), পিতা-মৃত আঃ সামাদ, সাং-রাউতনগর (মিশনপাড়া), ৩নং হোসেনগাঁও ইউনিয়ন, থানা-রানীশংকৈল, জেলা-ঠাকুরগাঁওকে আটক করেন।

 

আটকের পর বিধি মোতাবেক তল্লাশি করে আটককৃত আসামির হেফাজত হতে সর্বমোট ১৪৫ (একশত পঁয়তাল্লিশ) পিস অবৈধ মাদকদ্রব্য ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত ইয়াবা ট্যাবলেট সম্পর্কে আটক আসামি মোঃ নাজির হোসেনকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ কৌশল নিয়ে ঘটনাস্থলে অবস্থান করে। পরবর্তীতে তার স্ত্রী মোছাঃ নাজমা বেগম (৪৮) সেখানে উপস্থিত হলে তার সঙ্গে থাকা শপিং ব্যাগ তল্লাশি করে মাদক বিক্রয়লব্ধ নগদ ১০,০০,০০০/- (দশ লক্ষ) টাকা উদ্ধার করা হয়।

 

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ ও প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, গ্রেফতারকৃত মোঃ নাজির হোসেন ও মোছাঃ নাজমা বেগম দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে ইয়াবা ট্যাবলেট সংগ্রহ করে হরিপুর থানা এলাকাসহ আশপাশের এলাকায় বিক্রয় করে আসছিল। এছাড়া, মোছাঃ নাজমা বেগম মাদক বিক্রয়ের জন্য অর্থের যোগান, পৃষ্ঠপোষকতা ও সহযোগিতা করে আসছিল বলে জানা যায়। তাদের সঙ্গে মাদক ব্যবসায় সহায়তাকারী, মাদক সরবরাহকারী ও মাদক ক্রেতাসহ একাধিক অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে।

 

মাদকের উৎস ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। উক্ত ঘটনায় পলাতক ও গ্রেফতারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে হরিপুর থানায় মামলা রুজু করা হয়েছে।ঠাকুরগাঁও জেলা পুলিশ মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করে অভিযান অব্যাহত রেখেছে। মাদকদ্রব্যের অবৈধ ব্যবসা, পরিবহন ও বিস্তারের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনতে জেলা পুলিশের এ ধরনের মাদকবিরোধী অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে

ঠাকুরগাঁওয়ে ১৪৫ পিস ইয়াবা ও নগদ ১০ লাখ টাকা সহ স্বামী-স্ত্রী আটক

র‌্যাবের চৌকস অভিযানে জীপসহ প্রায় ১১ হাজার ইয়াবার চালান আটক

জামালপুর হামলা পাল্টা হামলার মধ্য দিয়ে জেলার সানন্দবাড়ী তে থমথমে অবস্থা বিরাজমান।

পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের ও আদালতে মিথ্যা হলফনামা দেয়ার অভিযোগে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কেবিন ক্রু খাদিজা সুলতানা শিমুর বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

 

বুধবার (১৫ জুলাই) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২-এর বিচারক মো. জাকির হোসাইন এ আদেশ দেন। আদালতের আদেশে বলা হয়েছে, শিমুর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর ১৩ ধারা এবং দণ্ডবিধির ১৮১, ১৮২ ও ১৯৩ ধারায় মামলা করা হবে। আদালত নিজেই এ মামলার বাদী হয়েছেন।

 

আদালতের নথি অনুযায়ী, খাদিজা সুলতানা শিমু মামলার বাদী হয়ে বেসরকারি একটি এয়ারলাইন্সের কর্মকর্তা মো. ওমর ফারুক চৌধুরীর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনের বিভিন্ন ধারায় উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলা করেন।

 

তদন্ত শেষে উত্তরা পশ্চিম থানার তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে জানান, অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি। প্রতিবেদনে বলা হয়, মামলার এজাহারে উল্লেখ করা ফেসবুক লিংক, ডিজিটাল আলামত ও অন্যান্য তথ্য যাচাই করে ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি প্রচারের কোনো প্রমাণ মেলেনি। ফলে ওই কর্মকর্তাকে মামলা থেকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়।

একই সঙ্গে তদন্ত কর্মকর্তা প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, ওমর ফারুক আগে শিমুর বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন দিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে আদালতে মামলা করেছিলেন। সেই মামলার দায় এড়াতেই শিমু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত বিভিন্ন লিংক উল্লেখ করে তার বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি ছড়ানোর অভিযোগ এনে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, হয়রানিমূলক ও মিথ্যা মামলা করেছেন বলে প্রাথমিক তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে। এ কারণে শিমুর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর ১৩ ধারায় আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার আবেদনও করেন তদন্ত কর্মকর্তা।

 

পরে গত ৯ জুলাই আদালত তদন্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করে ওমর ফারুককে মামলা থেকে অব্যাহতি দেন। আদালতের আদেশে বলা হয়, শিমু ক্ষতিসাধনের উদ্দেশ্যে আদালতে মিথ্যা মামলা দায়ের করেছেন এবং হলফ করে মিথ্যা সাক্ষ্য দিয়েছেন। মামলার নথিতে তার দেয়া হলফনামাও সংযুক্ত রয়েছে। এসব বিবেচনায় আদালত নিজেই বাদী হয়ে তার বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন ও দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়েরের নির্দেশ দেন।

 

তদন্তে যা উঠে এসেছে পুলিশের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, তদন্তকালে রেকর্ড, ডিজিটাল আলামত, ফেসবুক লিংক ও ফরেনসিক তথ্য যাচাই করে ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি প্রচারের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

 

তদন্তে আরও উঠে আসে, শিমু বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কেবিন ক্রু এবং ওমর ফারুক একটি বেসরকারি এয়ারলাইন্সের এয়ারক্রাফট মেইনটেন্যান্স কর্মকর্তা। ফেসবুকে পরিচয়ের পর তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

 

প্রতিবেদনে বলা হয়, বিয়ের আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন সময়ে ওমর ফারুকের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী নেয়ার অভিযোগে ওমর ফারুক আদালতে পৃথক মামলা করেন। এরপর সেই মামলার দায় থেকে নিজেকে রক্ষা করতেই শিমু পর্নোগ্রাফি আইনে অভিযোগ দায়ের করেন বলে তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে।

 

ওমর ফারুকের আগের মামলা গত ২০ জুলাই ওমর ফারুক চৌধুরী শিমুর বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন, ‘হানি ট্র্যাপ’ ও ব্ল্যাকমেইলের মাধ্যমে প্রায় ২২ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ঢাকার আদালতে মামলা করেন। আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে উত্তরা পশ্চিম থানাকে তদন্তের নির্দেশ দেন। পরে তিনি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষের কাছেও লিখিত অভিযোগ করেন।

 

সেই মামলায় অভিযোগ করা হয়, ২০২৪ সালে ফেসবুকে পরিচয়ের পর শিমু তাকে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন সময়ে টাকা নেন। জন্মদিনে দেড় লাখ টাকা মূল্যের একটি হীরার আংটিসহ বিয়ের খরচের জন্য মোট ২১ লাখ ৭৪ হাজার ৫১১ টাকা নেয়ার পরও বিয়ে না করে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে মামলায় দাবি করা হয়।

পর্নোগ্রাফি আইনে কেবিন ক্রু শিমুর বিরুদ্ধে মামলার নির্দেশ আদালতের

error: আপনি নিউজ চুরি করার চেষ্টা করছেন। বিশেষ প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন ০১৭৬৭৪৪৪৩৩৩
%d