কিংস অ্যারেনার সব আলো আজ নিজের দিকে টেনে নিলেন মোসাম্মৎ সাগরিকা। ফ্লাডলাইটের নিচে সাফ অনূর্ধ্ব-২০ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের অলিখিত ফাইনালে নেপালকে দর্শক বানিয়ে করেছেন একের পর এক গোল উদ্যাপন। ড্র করলেই চ্যাম্পিয়ন, এমন সমীকরণের ম্যাচে বাংলাদেশ নেপালকে ৪–০ গোলে হারিয়ে বয়সভিত্তিক সাফের শিরোপা ধরে রেখেছে। ৪টি গোলই করেছেন সাগরিকা। এ নিয়ে পঞ্চমবার এই প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বাংলাদেশ।নিষেধাজ্ঞায় বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব–২০ দলের আগের তিনটি ম্যাচে সাগরিকা ছিলেন দর্শক। তাঁকে ছাড়া সেই ম্যাচগুলো বাংলাদেশ জিতেছে ঠিকই, কিন্তু আক্রমণে দুর্বলতা চোখে পড়েছে প্রকটভাবে। নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে আজ সেই সাগরিকা নেমেই দেখালেন পায়ের জাদু। এক নয়, দুই নয়, নেপালের জালে ৪ গোল দিয়ে ম্যাচটাকে নিজের করে নিয়েছেন ১৭ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড।এমন ম্যাচে গোল করেও হয়তো আফসোস থেকে গেছে সাগরিকার। হয়তো ম্যাচের পর মনে হয়েছে ইশ্! যদি ছয়টি ম্যাচই খেলা যেত। তবু কম কিসে, তিন ম্যাচ খেলেই ৮ গোল করলেন, যার মধ্যে আবার দুই হ্যাটট্রিকও। ৭১ মিনিটে অফসাইডে না পড়লে পঞ্চম গোলটিও পেয়ে যেতেন সাগরিকা। তারপরও এক ম্যাচেই যেন সব দায় শোধ করে দিলেন সাগরিকা।ঘরের মাঠে ম্যাচের ৫১ মিনিটে রীতিমতো ম্যাজিক দেখান সাগরিকা। উমেলা মারমার বুদ্ধিদীপ্ত পাস ধরতে দারুণ মুনশিয়ানা দেখান তিনি। প্রতিপক্ষ দুই খেলোয়াড়কে ড্রিবল করে নিশানা ভেদ করেন ঠাকুরগাঁওয়ের মেয়ে। ৫৮ মিনিটে আরও একবার সাগরিকা–ঝলক দেখেন দর্শকেরা। বাংলাদেশ অর্ধ থেকে লম্বা শট নেন জয়নব বিবি। বাতাসে ভাসতে থাকা বল লুফে নিয়ে সোজা নেপাল গোলকিপারের মাথার ওপর দিয়ে জালে পাঠিয়ে সতীর্থদের নিয়ে হ্যাটট্রিকের আনন্দে মাতেন সাগরিকা। ৭৭ মিনিটে আরও একবার নেপালের জাল ছুঁয়ে উদ্যাপনে মাতেন তিনি। এর আগে শ্রীলঙ্কার সঙ্গে তিন গোল, নেপালের সঙ্গে প্রথম দেখায় এক গোল করেছিলেন সাগরিকা।নেপালের বিপক্ষে শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে আজ প্রথম একাদশে চার ফরোয়ার্ড নবীরণ খাতুন, উমেলা মারমা, সাগরিকা ও পূজা দাসকে নিয়ে একাদশ সাজান বাংলাদেশ কোচ পিটার বাটলার। মাঝমাঠে বরাবরের মতো আস্থা রাখা হয় মুনকি আক্তার ও স্বপ্না রানীর ওপর। দুজনের সঙ্গে শান্তি মার্ডি এবং ঐশী খাতুনকেও রেখেছেন খেলা তৈরির জন্য। মাঠের লড়াইয়েও সেই ছাপ স্পষ্ট দেখা যায় প্রথম দশ মিনিটে। এই সময়ে আশা–জাগানিয়া চারটি সুযোগ তৈরি করে বাংলাদেশ। যার একটি থেকে আসে সফলতাও।১১ দিনের প্রতিযোগিতায় ছয় ম্যাচের ছয়টিই জিতেছে বাংলাদেশ। নিজেদের প্রথম ম্যাচে শ্রীলঙ্কাকে ৯-১ গোলে উড়িয়ে টুর্নামেন্ট শুরু করেছিল মেয়েরা। দ্বিতীয় ম্যাচে বাংলাদেশের কাছে হারে নেপাল। এরপর টানা দুবার ভুটানকে হারায় স্বাগতিকেরা। লঙ্কানদের সঙ্গে দ্বিতীয় দেখায় বাংলাদেশ জেতে ৫-০ গোলে।
Leave a Reply