ষ্টাফ রিপোর্টারঃ
খুলনা জেলার রুপসা উপজেলায় খাজাডাঙ্গা গ্রামে ছালাম মোল্লা নামক এক ব্যক্তিকে গরু চুরির অপবাদ সাজিয়ে ফকিরহাট থানায় মিথ্যা মামলা ও তার বসতবাড়ি থেকে নগদ টাকা, স্বর্ণ এবং তিনটি গরু নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ তুলে ফকিরহাট থানার সাবেক ওসি এসআই সহ পাঁচজনকে আসামি করে খুলনা জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলি আদালতে মামলা দায়ের।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়,
মামলার বাদী ছালাম মোল্লা (৫৫) দক্ষিণ খাজাডাঙ্গা রুপসা খুলনা, তার উপর ঘটে যাওয়া অমানবিক নির্যাতন গরু চুরি অপবাদ সাজিয়ে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগ তুলে আদালতে মামলা দায়ের করেছেন আসামি ১. এস এম আলমগীর কবির সাবেক ওসি ফকিরহাট থানা,২.মো মেহেদী হাসান মিশান এস আই ফকিরহাট থানা, ৩.আলিম এস আই ফকিরহাট থানা, ৪.অসীত কুমার দাস,৫. গাউস সরদার ।
ঘটনার বিবরণ ১৮.১ .২০২৫ তারিখ রাত্র অনুমান ১০ টার সময় বাদী সালাম মোল্লাকে রূপসার খাজাডাঙ্গা বাজার থেকে ফকিরহাট থানা পুলিশ ধরে নিয়ে যায় এবং থানায় নিয়ে ব্যাপক মারধরের ফলে তিনি অচেতন হয়ে পড়েন তিনি থানায় থাকা অবস্থায় ১৯.১. ২০২৫ তারিখ রাত্র অনুমান ০৩ ঘটিকার সময় ১-৫ নং আসামি সহ আরো অজ্ঞাত ৮/৯জন তার বসত বাড়িতে প্রবেশ করে জোরপূর্বক গেটের দরজা খুলিয়ে ঘর থেকে সবাইকে বের করে দিয়ে সিসি ক্যামেরা বন্দ করে বাদীর ওয়ারড্রব থেকে তার নগদ গচ্ছিত ৮৬ হাজার টাকা ১ টি স্বর্ণের চেইন ও ৩ টি ব্যাংকের চেক বহি নেয় এবং বাদীর স্ত্রীকে বলে বেশি বাড়াবাড়ি করবি না আমরা থানা থেকে এসেছি বাড়াবাড়ি করলে তোকেও তোর স্বামীর সাথে আসামি করে চালান দিব। এক পর্যায়ে গোয়াল ঘরে থাকা তিনটি গরুও তারা নিয়ে যায় কিন্তু বাদীর স্ত্রী মহিলা মানুষ সে সাদা পোশাকে থাকা পুলিশদেরকে চিনতে পারে নাই। পরবর্তীতে বাদীর অসহায় স্ত্রী বিলকিস বেগম বাগেরহাট পুলিশ সুপারের কাছে বিষয়টি বলার জন্য যায় কিন্তু তাকে ওই পুলিশ সদস্যরা ভয়ভীতি দেখিয়ে ওখানে ঢুকতে দেয়নি। তারা এই বিষয়ে বিভিন্ন জায়গা-ধর না দিয়েও এর কোন প্রতিকার পায়নি অবশেষে আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন। বাদী পক্ষের জনগণের কাছে প্রশ্ন আমি যদি গরু চুরি করি তাহলে যার গরু সে আমার নামে মামলা করবে পুলিশ কেন বাদী হয়ে মামলা করবে। তাদের আশা আদালতের মাধ্যমে এর সুষ্ঠু সমাধান পাবেন।
এলাকাবাসীর সূত্রে জানা যায় ছালাম মোল্লা ফকিরহাটের বালিয়াডাঙ্গা গ্রাম থেকে ২০২০ সালে এসে এই খাজাডাঙ্গায় পাকা বাড়ি করেন তখন থেকেই এই এলাকার কিছু আওয়ামী লীগ নেতার নজরে পড়েন তিনি এবং সে কারণেই তাকে ভাঙ্গিয়ে খাইত এ সমস্ত নেতারা। ছালাম মোল্লা পেশায় একজন ট্রাক ড্রাইভার নিজের গাড়ি চালাতেন। ৫ আগস্ট পরবর্তীতে যখন এই ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন হয় তখন স্থানীয় বিএনপি নেতাদের সাথে তার সম্পর্ক হয় এটা ওই আওয়ামী লীগ নেতারা মেনে নিতে পারেননি তাই তাদের পোষ্য পুলিশ বাহিনী দিয়ে গরু চুরির মিথ্যা মামলা সাজিয়ে তার উপর অমানবিক নির্যাতন এবং অর্থ নৈতিকভাবে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত করেছে যা নিরপেক্ষ তদন্ত করলে প্রকৃত সত্য সবার সামনে ফুটে উঠবে এমনটিই বলেন এলাকার সাধারণ মানুষ। এলাকাবাসী আরো বলেন শুধু মামলা, টাকা, স্বর্ণ ও গরু নিয়েই ক্ষ্যান্ত হননি তারা ট্রাকটিও নিয়ে যান পরবর্তীতে কোর্ট থেকে জামিনী ছাড়িয়ে আনেন। স্থানীয় সাব্বির সরদার এর কাছে গরু চুরির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন এই তিনটি গরুর ভিতর একটি আমার কাছ থেকে ক্রয় করেছে আর বাকি দুটি বেতাগা হাট থেকে ক্রয় করেছে তখন আমি সঙ্গে ছিলাম এবং এর বৈধ পাশ আছে উনার কাছে। তাছাড়া যদি কারো গরু চুরি করত তাহলে তো সে বাদী হয়ে থানায় মামলা দিত। স্থানীয় আর এক বাসিন্দা ইকরাম মোড়ল বলেন আমরা এলাকাবাসী সবাই দেখেছি তিনি হাট থেকেই গরু কিনে এনেছেন এবং একটি গরু সাব্বির সরদারের কাছ থেকে ক্রয় করেছেন কেন তাকে এভাবে প্রশাসন হয়রানি করল জানিনা। রোমানা খাতুন নামক এক মহিলা বলেন এই ছালাম মোল্লা একজন ভালো মানুষ উনি নিজের গাড়ি নিজেই চালান এবং আশেপাশের প্রত্যেকটা মানুষকেই কম বেশি সহযোগিতা করেন তাকে গরু চুরির মিথ্যা অভিযোগে ফাসিয়ে এ অমানবিক নির্যাতন এবং অর্থনৈতিক ক্ষতিগ্রস্ত কেন করল আমরা এর বিচার চাই। তিনি বলেন কারো গরু চুরি করলে তো সে মামলা দিবে পুলিশ কেন বাদী হয়ে মামলা দিল।
এ বিষয়ে ছালাম মোল্লাকে জিজ্ঞাসা বাদ করা হলে তিনি বলেন আমার উপর এই অমানবিক নির্যাতন ও অর্থনৈতিক ক্ষতিগ্রস্তের অভিযোগ এনে আমি আদালতে মামলা দায়ের করেছি এবং মামলার কপি আইন মন্ত্রণালয়, খুলনা রেঞ্জ ডিআইজি, খুলনা পুলিশ সুপার ও বাগেরহাট পুলিশ সুপার বরাবর দাখিল করেছি আমি উনাদের কাছে এর বিচার চাই। এ বিষয়ে এলাকার সচেতন মহল ও সাধারণ মানুষ এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে প্রকৃত দোষীদের সনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার জন্য প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।
Leave a Reply