বাংলাদেশ - Gono television | বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল।

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী বলেছেন, ‘এই বিএনপি জিয়াউর রহমানের বিএনপি নয়, খালেদা জিয়ার বিএনপিও নয়। এটি ক্রমেই একটি মাফিয়া-গোষ্ঠীনির্ভর রাজনৈতিক কাঠামোয় পরিণত হচ্ছে, এমন অভিযোগ ও আশঙ্কা এখন জনমনে গভীরভাবে জায়গা করে নিচ্ছে।’

 

বুধবার (১২ আগস্ট) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে এসব কথা বলেন তিনি।

 

স্ট্যাটাসে নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী লেখেন, ‘জনগণের গলার কাঁটা বিএনপি আজ জনগণের জন্য গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই কাঁটা গভীরভাবে বিঁধে যাওয়ার আগেই সরিয়ে ফেলতে হবে; নইলে দীর্ঘমেয়াদে এই ক্ষত বয়ে বেড়াতে হবে

।’

অনেকে বিএনপিকে আরও সময় ও সুযোগ দেওয়ার কথা বলছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘মাত্র পাঁচ মাস হয়েছে, তাদের আরও সময় ও সুযোগ দেওয়া উচিত। আমি মোটেই একমত নই। কারণ গণঅভ্যুত্থানের পর থেকেই তাদের কর্মকাণ্ড ও রাজনৈতিক চরিত্র সম্পর্কে যথেষ্ট ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।’

 

বিএনপির রাজনীতির সমালোচনা করে এনসিপির এই নেতা বলেন, ‘আওয়ামী লীগ ও ভারতনির্ভরতার পুরোনো রাজনীতির পুনরাবৃত্তি দেশের সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে গভীর উদ্বেগ তৈরি করছে।’

 

সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম নিয়েও প্রশ্ন তোলেন নাসীরুদ্দীন। তিনি লেখেন, ‘সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের ব্যর্থতা নিয়েও মানুষের প্রশ্ন বাড়ছে—শিক্ষামন্ত্রী ব্যর্থ, অর্থমন্ত্রী ব্যর্থ, স্বাস্থ্যমন্ত্রী ব্যর্থ, জ্বালানি মন্ত্রণালয়ে দ্বিগুণ ব্যর্থতা, আর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ব্যস্ত এস আলমের হিসাব-নিকাশে!’

 

দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘এরই মধ্যে দেশে নতুন করে জঙ্গি নাটকের আশঙ্কা, পাহাড়ে অস্থিরতা এবং সম্ভাব্য খাদ্যসংকট, সব মিলিয়ে পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে।’

 

বিএনপির বর্তমান রাজনৈতিক চরিত্র নিয়েও মন্তব্য করে নাসীরুদ্দীন বলেন, ‘এই বিএনপি জিয়াউর রহমানের বিএনপি নয়, খালেদা জিয়ার বিএনপিও নয়। এটি ক্রমেই একটি মাফিয়া-গোষ্ঠীনির্ভর রাজনৈতিক কাঠামোয় পরিণত হচ্ছে, এমন অভিযোগ ও আশঙ্কা এখন জনমনে গভীরভাবে জায়গা করে নিচ্ছে।’

 

 

 

 

স্ট্যাটাসের শেষ দিকে তিনি লেখেন, ‘ক্ষত ছোট থাকতেই চিকিৎসা জরুরি। ক্ষত গভীর হয়ে গেলে তার বোঝা শুধু একটি দল নয়, পুরো জাতিকেই দীর্ঘদিন বহন করতে হয়।’

 

‘বাংলাদেশের স্বার্থে, সার্বভৌমত্বের স্বার্থে এবং জনগণের ভবিষ্যতের স্বার্থে, সময় থাকতে এই রাজনৈতিক গলার কাঁটা সরানো জরুরি’—বলে মন্তব্য শেষ করেন এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক।

বিএনপি ক্রমেই মাফিয়া-গোষ্ঠীনির্ভর দলে পরিণত হচ্ছে: নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী বলেছেন, ‘এই বিএনপি জিয়াউর রহমানের বিএনপি নয়, খালেদা জিয়ার বিএনপিও নয়। এটি ক্রমেই একটি মাফিয়া-গোষ্ঠীনির্ভর রাজনৈতিক কাঠামোয় পরিণত হচ্ছে, এমন অভিযোগ ও বিস্তারিত

নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীর ছোট ভাই ও ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক সহকারী কমিশনার মো. গোলাম রুহানী ও সাবেক যুগ্ম কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকারসহ পুলিশের উর্ধ্বতন ৬ কর্মকর্তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে।

 

বুধবার (১২ আগস্ট) রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী স্বাক্ষরিত ছয়টি পৃথক প্রজ্ঞাপনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

 

বরখাস্ত হতে যাওয়া অন্য পুলিশ কর্মকর্তারা হলেন— সুদীপ কুমার চক্রবর্তী, রাজন কুমার দাস, কাজী আশরাফুল আজীম ও মো. ইকবাল হোসাইন।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

 

সূত্র জানায়, তাদের বিরুদ্ধে কর্মস্থলে অননুমোদিতভাবে অনুপস্থিত থাকা এবং পলায়নের অভিযোগে বিভাগীয় মামলা করা হয়। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পর তাদের চাকরি থেকে বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

 

ছয় কর্মকর্তার মধ্যে ডিএমপির সাবেক যুগ্ম কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার সাময়িক বরখাস্ত হয়ে বরিশালে রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ে সংযুক্ত ছিলেন। সাবেক ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীর ছোট ভাই মো. গোলাম রুহানী বর্তমানে সাময়িক বরখাস্ত ও পলাতক।

 

সুদীপ কুমার চক্রবর্তী সাময়িক বরখাস্ত হয়ে বরিশাল রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয়ে সংযুক্ত ছিলেন। রাজন কুমার দাস সাময়িক বরখাস্ত ও পলাতক। জুলাই আন্দোলনের সময় ‘গুলি করি, মরে একটা, আহত হয় একটা। একটাই যায় স্যার, বাকিডি যায় না’- মন্তব্য করা মো. ইকবাল হোসাইন সাময়িক বরখাস্ত হয়ে খুলনা রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয়ে সংযুক্ত ছিলেন। কাজী আশরাফুল আজীম সাময়িক বরখাস্ত হয়ে চট্টগ্রাম রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ে সংযুক্ত

ছিলেন।

 

চাকরি হারালেন গোলাম রুহানী-বিপ্লব কুমার, প্রজ্ঞাপন জারি

নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীর ছোট ভাই ও ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক সহকারী কমিশনার মো. গোলাম রুহানী ও সাবেক যুগ্ম কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকারসহ পুলিশের বিস্তারিত

পিলখানা হত্যাকাণ্ডে ভারতের সম্পৃক্ততার তথ্য জানার কারণেই অবসরপ্রাপ্ত মেজর জাহিদুল ইসলামকে পরিকল্পিতভাবে টার্গেট করা হয়েছিল বলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিস্ফোরক অভিযোগ উঠেছে।

 

অভিযোগে বলা হয়েছে, তাকে ‘জঙ্গি’ সাজিয়ে হত্যা করা হয় এবং পরে তার স্ত্রী ও দুই শিশুকন্যাকে দীর্ঘ চার মাসের বেশি সময় গুম রেখে নির্যাতন চালানো হয়। এ ঘটনায় সাবেক আইজিপিসহ কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিচারিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

 

স্বামীকে জঙ্গি বলে আদালতে স্বীকারোক্তি দিতে জেবুন্নাহারের ওপর চালানো হয় মধ্যযুগীয় নির্যাতন। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অবশেষে এই জঘন্যতম হত্যা ও গুমের বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে। বৃহস্পতিবার এ মামলার প্রধান আসামি পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজি) একেএম শহীদুল হককে গ্রেফতার দেখিয়ে একদিনের জিজ্ঞাসাবাদের নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।

ট্রাইব্যুনালে করা অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০০৯ সালে সরকারের বাছাই করা সেনা কর্মকর্তাদের পিলখানায় পোস্টিং দেওয়া হয়। সেই তালিকায় মেজর জাহিদেরও নাম ছিল। তিনি এতে আগ্রহী ছিলেন না; তাই যোগদান করেননি। তখন পিলখানায় জাহিদের কোর্সমেট শহীদ ক্যাপ্টেন মো. মাজহারুল হায়দারের পোস্টিং ছিল। ওই বছরের ২৫ ফেব্রুয়ারি পিলখানায় সেনা কর্মকর্তাদের ওপর এক মর্মান্তিক হত্যাযজ্ঞ চালানো হয়। ঘটনার দিন শহীদ ক্যাপ্টেন মাজহারুল জাহিদকে ফোনে বলেছিলেন, আমাদের সব অফিসারকে মেরে ফেলেছে।

 

কারা মেরেছে জানতে চাইলে ক্যাপ্টেন মাজহার বলেন, কিছু হিন্দিভাষী ব্যক্তি, যারা বিডিআর-এর পোশাক পরা ছিল। যাদের কখনোই পিলখানায় আগে দেখিনি। মেজর জাহিদ তখন বগুড়া ক্যান্টনমেন্টে ছিলেন। ঘটনা শুনে তিনি হতভম্ব হয়ে ক্যান্টনমেন্টের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিষয়টি জানান। জাহিদ পিলখানা হত্যাকাণ্ড নিয়ে বিভিন্ন সময় কথা বলেছেন। তিনি মাজহারুলের কাছ থেকে অনেক কিছুই জেনে গিয়েছিলেন। তাই হাসিনা সরকার তাকে টার্গেট করে নজরদারিতে রাখত।

অভিযোগ থেকে আরও জানা যায়, সেনাবাহিনীতে অযোগ্য অফিসারের পদোন্নতি এবং নানা বিশৃঙ্খলা জাহিদ কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছিলেন না। একপর্যায়ে তিনি দেখলেন, চাটুকার ও অযোগ্য অফিসারদের পদোন্নতি দেওয়া হচ্ছে। এ অবস্থায় তিনি ২০১৫ সালে চাকরি ছেড়ে পরিবার নিয়ে উত্তরায় ভাড়া বাসায় উঠেন।

 

জঙ্গি নাটক সাজিয়ে হত্যা : চাকরি ছেড়ে দেওয়ার পর গোয়েন্দারা জাহিদের ওপর সার্বক্ষণিক নজরদারি শুরু হয়। একপর্যায়ে পরিবার নিয়ে দেশের বাইরে চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন জাহিদ। বাসা বদল করে উত্তরা থেকে রূপনগরে চলে যান। কিন্তু হাসিনা সরকার জঙ্গি নাটক সাজিয়ে তাকে হত্যার পরিকল্পনা করে। সেই মোতাবেক ২০১৬ সালের ২ সেপ্টেম্বর রাত ১১টার দিকে জাহিদকে হাত বেঁধে বাসার নিচে নিয়ে যায় রূপনগর থানা পুলিশের একটি দল। এরপর নির্মমভাবে তাকে হত্যা করা হয়।

এর আগে রাত ১০টার দিকে আসামিরা জেবুন্নাহারকে তার দুই শিশুসন্তানসহ চোখ বেঁধে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায়। তখন জেবুন্নাহার জানতে চান, তার স্বামী কোথায়? পুলিশ তখন বলতে থাকে, তিনি ও তার স্বামী জঙ্গি, এই স্বীকারোক্তি না দিলে তাকেও তার স্বামীর কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হবে। তখন তিনি বুঝতে পারেন, তার স্বামীকে হত্যা করা হয়েছে। পরে পুলিশের কোনো একজন জানান, তারাই মেজর জাহিদকে হত্যা করেছে।

 

ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ: গত বছরের ১০ আগস্ট আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর বরাবর পৃথক অভিযোগ করেন জেবুন্নাহার। অভিযোগে সাবেক আইজিপি একেএম শহীদুল হক, ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) তৎকালীন প্রধান মো. মনিরুল ইসলাম, কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইমের (সিটিটিসি) তৎকালীন প্রধান মো. আসাদুজ্জামান, মিরপুর বিভাগের তৎকালীন উপকমিশনার (ডিসি) মাসুদ আহমেদ, রূপনগর থানার তৎকালীন ওসি শাহীদ আলম, ডিসি ডিবি কৃষ্ণ পদ রায় ও রূপনগর থানা-পুলিশের তৎকালীন অজ্ঞাতনামা সদস্যদের আসামি করা হয়েছে।

 

প্রধান আসামি একেএম শহীদুল হককে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। পরে এ মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে তাকে একদিনের জিজ্ঞাসাবাদের নির্দেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন বিচারিক প্যানেল এ নির্দেশ দিয়েছেন।

 

স্ত্রীর ওপর নির্মম নির্যাতন: জাহিদের স্ত্রী জেবুন্নাহারকে ডিবি কার্যালয়ে জিজ্ঞাসাবাদের নামে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হয়। নেওয়া হয় মিথ্যা জবানবন্দি। একই সঙ্গে নিহত মেজর জাহিদের বিরুদ্ধে একটি এবং জেবুন্নাহারের বিরুদ্ধে ২টি সাজানো জঙ্গি মামলা দেওয়া হয়। ২০২৪ সালের ৩১ আগস্ট তিনি জামিনে মুক্তি পান।

পিলখানা হত্যাকাণ্ডের তথ্য জানতেন বলেই ‘জঙ্গি’ সাজিয়ে হত্যা

পিলখানা হত্যাকাণ্ডে ভারতের সম্পৃক্ততার তথ্য জানার কারণেই অবসরপ্রাপ্ত মেজর জাহিদুল ইসলামকে পরিকল্পিতভাবে টার্গেট করা হয়েছিল বলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিস্ফোরক অভিযোগ উঠেছে।   অভিযোগে বলা হয়েছে, তাকে ‘জঙ্গি’ সাজিয়ে হত্যা বিস্তারিত

ঠাকুরগাঁওয়ে ১৫ বছর পর শিশু ধর্ষণ মামলার রায় তিনজনের আমৃত্যু কারাদণ্ড, তিনজনের যাবজ্জীবন

 

মোঃ আশরাফুল ইসলাম

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি

 

 

ঠাকুরগাঁওয়ে ২০১১ সালে সংঘটিত এক শিশু ধর্ষণ মামলার দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে রায় ঘোষণা করেছেন আদালত। ঘটনার প্রায় ১৫ বছর পর দেওয়া এ রায়ে তিনজনকে প্রাকৃতিক মৃত্যু পর্যন্ত আমৃত্যু কারাদণ্ড এবং অপর তিনজনকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ছয় আসামির প্রত্যেককে অর্থদণ্ড করা হয়েছে। আদালত আদেশে বলেছেন, আদায় করা অর্থ ভুক্তভোগীর ক্ষতিপূরণ হিসেবে প্রদান করতে হবে।

 

 

রোববার (১৯ জুলাই) ঠাকুরগাঁওয়ের শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) আলী মনসুর বহুল প্রতীক্ষিত এ মামলার রায় ঘোষণা করেন।

আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০১১ সালের ২১ অক্টোবর বিকেলে ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরী তার এক বান্ধবীর বাড়িতে বেড়াতে যান। সন্ধ্যার দিকে বাড়ি ফেরার সময় ঠাকুরগাঁও-পঞ্চগড় সড়কের পাশে একটি পেট্রোলপাম্পসংলগ্ন এলাকায় পৌঁছালে কয়েকজন যুবক তাঁর গতিরোধ করে।

 

 

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, প্রথমে দুই যুবক কিশোরীর মুখ চেপে ধরে তাঁকে জোর করে পেট্রোলপাম্পের পেছনের একটি নির্জন স্থানে নিয়ে যায়। পরে মোবাইল ফোনে আরও কয়েকজনকে ডেকে আনা হয়। সেখানে তিনজন পালাক্রমে কিশোরীকে ধর্ষণ করে এবং অপর তিনজন এ অপরাধ সংঘটনে সহযোগিতা করে।

 

 

একপর্যায়ে কিশোরীর চিৎকার শুনে পাশ দিয়ে যাওয়া এক ব্যক্তি ঘটনাস্থলের দিকে এগিয়ে এলে আসামিরা পালিয়ে যায়। পরে ওই ব্যক্তি ভুক্তভোগীকে কাপড়ের ব্যবস্থা করে তাঁর পরিচিতদের কাছে পৌঁছে দেন। পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি জানতে পেরে তাঁকে চিকিৎসার জন্য ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন।

 

 

ঘটনার তিন দিন পর, ২০১১ সালের ২৫ অক্টোবর ভুক্তভোগীর বাবা ঠাকুরগাঁও সদর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করলে মামলার বিচার শুরু হয়। দীর্ঘ সময় ধরে সাক্ষ্যগ্রহণ, আলামত উপস্থাপন এবং উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে আদালত এ রায় দেন।

 

 

রায়ে আদালত নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধিত ২০০৩)-এর ৯(৩) ধারায় আসামি মো. আনিছ ওরফে রানা, মো. সাইফুল ইসলাম ও মো. দুলালকে দোষী সাব্যস্ত করে প্রাকৃতিক মৃত্যু পর্যন্ত আমৃত্যু কারাদণ্ড দেন। একই সঙ্গে তাঁদের প্রত্যেককে ২ লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড করা হয়েছে।

 

এছাড়া অপর তিন আসামি মো. আনিছুর, মো. খতিবুর ওরফে খতু এবং মো. লালুকে একই আইনের ৯(৩)/৩০ ধারায় যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তাঁদের প্রত্যেককে ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

 

রায়ে আদালত উল্লেখ করেন, আমৃত্যু কারাদণ্ডপ্রাপ্ত তিন আসামি ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৫এ ধারার সুবিধা পাবেন না। অর্থাৎ বিচারাধীন অবস্থায় হাজতে কাটানো সময় তাঁদের দণ্ডের সঙ্গে সমন্বয় করা হবে না। পাশাপাশি তাঁরা জেল কোড অনুযায়ী কোনো ধরনের সাজা মওকুফ বা রেমিশনের সুবিধাও পাবেন না।

 

 

অন্যদিকে যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত তিন আসামি আইন অনুযায়ী বিচারাধীন অবস্থায় কারাভোগের সময় ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৫এ ধারার সুবিধা পাবেন।

আদালত আরও নির্দেশ দেন, দণ্ডিতদের কাছ থেকে আদায় করা অর্থ ভুক্তভোগীর ক্ষতিপূরণ হিসেবে গণ্য হবে। যদি দণ্ডিতরা অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ হন, তাহলে তাঁদের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি বিক্রি করে সেই অর্থ আদায় করতে হবে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

রায় কার্যকরের অংশ হিসেবে আদালত পাঁচ দণ্ডিত আসামিকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। তবে আমৃত্যু কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি মো. আনিছ ওরফে রানা পলাতক থাকায় তাঁর বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানাসহ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। আদালত উল্লেখ করেন, তিনি গ্রেপ্তার বা আত্মসমর্পণের পর থেকে তাঁর সাজা কার্যকর হবে।

 

 

২০১১ সালে সংঘটিত এ ঘটনাটি সে সময় ঠাকুরগাঁও জেলায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছিল। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে ঘোষিত এ রায়ে মামলার ভুক্তভোগী ও তাঁর পরিবারের জন্য ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় সম্পন্ন হলো।

 

 

রায় ঘোষণার পর সরকার পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ বদরুল চৌধুরী বলেন, “আদালত সাক্ষ্য-প্রমাণ ও উপস্থাপিত তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনা করে এ রায় দিয়েছেন। দীর্ঘদিন পর হলেও ভুক্তভোগী ন্যায়বিচার পেয়েছেন। এ রায় নারী ও শিশু নির্যাতনের মতো জঘন্য অপরাধ দমনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং সমাজে একটি ইতিবাচক বার্তা দেবে।”

ঠাকুরগাঁওয়ে ১৫ বছর পর শিশু ধর্ষণ মামলার রায় তিনজনের আমৃত্যু কারাদণ্ড, তিনজনের যাবজ্জীবন

ঠাকুরগাঁওয়ে ১৫ বছর পর শিশু ধর্ষণ মামলার রায় তিনজনের আমৃত্যু কারাদণ্ড, তিনজনের যাবজ্জীবন   মোঃ আশরাফুল ইসলাম ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি     ঠাকুরগাঁওয়ে ২০১১ সালে সংঘটিত এক শিশু ধর্ষণ মামলার দীর্ঘ বিস্তারিত

ফরিদপুরে অ্যাপেন্ডিসাইটিসের অপারেশনের পর এক কলেজছাত্রীর মৃত্যুকে ঘিরে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

 

স্বজনদের অভিযোগ, চিকিৎসকের ভুল অপারেশনের কারণেই ১৭ বছর বয়সী আয়েশা আফরিনের মৃত্যু হয়েছে। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এ অভিযোগ অস্বীকার করে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে জানিয়েছে।

 

নিহত আয়েশা আফরিন (১৭) সদরপুর উপজেলার আকোটের চর ইউনিয়নের কৈলাশের ডাঙ্গী গ্রামের প্রবাসী লিটন মাতুব্বরের মেয়ে। তিনি ফরিদপুর সরকারি ইয়াসিন কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন।

 

স্বজনদের অভিযোগ অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) বিকেল ৫টার দিকে অ্যাপেন্ডিসাইটিসের ব্যথা নিয়ে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে অবস্থিত আল জারা প্রাইভেট হাসপাতালে তাকে নেওয়া হয়। রাত ৯টার দিকে তাকে ভর্তি করা হয় এবং রাত সাড়ে ১০টার দিকে অপারেশন থিয়েটারে নেওয়া হয়।

 

পরিবারের দাবি, অপারেশনের পরপরই আয়েশার শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে। পরে রাত ৩টার দিকে তাকে শহরের টেপাখোলা এলাকার রেজোয়ান মোল্লা হাসপাতালের আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

 

নিহতের মা আলেয়া বেগম অভিযোগ করে বলেন, “আমার মেয়েকে সুস্থ অবস্থায় অ্যাপেন্ডিসাইটিসের অপারেশন করাতে হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিলাম। কিন্তু চিকিৎসকের ভুলের কারণে আজ আমার মেয়েকে হারাতে হয়েছে। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের কঠোর শাস্তি চাই।”

 

স্বজনদের অভিযোগ, অপারেশনটি করেন ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও সার্জারি বিশেষজ্ঞ ডা. আতিকুল আহসান। ঘটনার পর থেকে তাকে হাসপাতালে পাওয়া যায়নি।

 

এ বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অভিযোগ অস্বীকার করে জানায়, বিষয়টি সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের সঙ্গে সম্পর্কিত। তবে এ সময় হাসপাতালের কোনো কর্মকর্তা ক্যামেরার সামনে বক্তব্য দিতে রাজি হননি।

 

অভিযোগের বিষয়ে ডা. আতিকুল আহসানের সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও জানিয়েছে, ঘটনার পর থেকে তাকে হাসপাতালে পাওয়া যাচ্ছে না।

 

এ ঘটনায় নিহতের স্বজনদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। তারা হাসপাতাল প্রাঙ্গণে বিক্ষোভ করেন এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে স্থানীয়দের সহায়তায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

 

এ ঘটনায় এখনো কোনো মামলা হয়েছে কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে নিহতের স্বজনরা জানিয়েছেন, তারা এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেবেন।

 

অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের পর প্রকৃত ঘটনা উদঘাটিত হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

ফরিদপুরে ‘ভুল অপারেশনে’ কলেজছাত্রীর মৃত্যুর অভিযোগ, চিকিৎসক পলাতক

ফরিদপুরে অ্যাপেন্ডিসাইটিসের অপারেশনের পর এক কলেজছাত্রীর মৃত্যুকে ঘিরে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।   স্বজনদের অভিযোগ, চিকিৎসকের ভুল অপারেশনের কারণেই ১৭ বছর বয়সী আয়েশা আফরিনের মৃত্যু হয়েছে। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এ অভিযোগ বিস্তারিত

দুই হাত প্রসারিত করে বুক পেতে দেওয়া সেই অবিনাশী আবু সাঈদ এবং স্বৈরাচার পতনের মহাকাব্যিক অধ্যায়ের আজ দুই বছর। ২০২৪ সালের ১৬ জুলাইয়ে রাজপথে রক্ত ঝরানো সেইসব বীরদের স্মরণে আজ পালিত হচ্ছে ঐতিহাসিক ‘জুলাই শহীদ দিবস’। ছাত্র-জনতার জাগরণের সেই রক্তঝরা দিনটিকেই আজ বিনম্র শ্রদ্ধায় ও শোকের আবহে স্মরণ করছে বাংলাদেশ।

 

শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা, শোক ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে আজ রাষ্ট্রের বিভিন্ন পর্যায়ে দিবসটি পালনের বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিল এবং স্মরণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে শহীদদের আত্মত্যাগের তাৎপর্য তুলে ধরা হচ্ছে।

 

২০২৪ সালের ১৫ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলনরত সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর বর্বরোচিত হামলার প্রতিবাদে ১৬ জুলাই দেশব্যাপী বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দিয়েছিল বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। এই কর্মসূচি চলাকালেই দেশের বিভিন্ন স্থানে পুলিশ ও তৎকালীন ক্ষমতাসীন দলের ক্যাডারদের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

 

সেদিন রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ টিয়ার গ্যাস ও নির্বিচারে লাঠিচার্জ করে। একপর্যায়ে পুলিশের শটগানের গুলির সামনে দুই হাত প্রসারিত করে বীরদর্পে দাঁড়িয়ে যান ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ। বুক পেতে দেওয়া আবু সাঈদের এই সাহসিকতার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে মুহূর্তের মধ্যেই বৈশ্বিক আলোড়ন সৃষ্টি করে। আবু সাঈদের এই শাহাদাত বরণের দৃশ্যই মূলত ছাত্র-জনতার আন্দোলনের অবিনাশী প্রতীক হয়ে ওঠে।

 

একই দিনে চট্টগ্রামে সংঘর্ষে নির্মমভাবে শহীদ হন কলেজ শিক্ষার্থী ও ছাত্রদল নেতা ওয়াসিম আকরাম, ওমরগণি এমইএস কলেজের শিক্ষার্থী ফয়সাল আহমেদ এবং ফার্নিচার দোকানের কর্মচারী মো. ফারুক। এছাড়া রাজধানীর সায়েন্সল্যাব এলাকায় সংঘর্ষে শহীদ হন হকার মো. শাহজাহান ও যুবদল নেতা সবুজ আলী। নির্ভরযোগ্য বিভিন্ন সূত্রে ১৬ জুলাই সারা দেশে অন্তত ৬ জন শহীদ হওয়ার তথ্য নিশ্চিত হওয়া যায়।

 

১৬ জুলাই হত্যাকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও রেলপথ অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা। পরিস্থিতি পুরোপুরি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে তৎকালীন সরকার ঢাকা, চট্টগ্রাম, রংপুর, রাজশাহী, বগুড়াসহ বিভিন্ন বিভাগীয় শহরে বিজিবি মোাতেয়েন করে। একই রাতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় দেশের সব স্কুল-কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় ও অধিভুক্ত প্রতিষ্ঠান অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করে শিক্ষার্থীদের আবাসিক হল ত্যাগের নির্দেশ দেয় এবং ১৮ জুলাইয়ের এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত করা হয়।

 

১৬ জুলাই ছিল ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বাঁক বদলের দিন। আবু সাঈদের বীরত্বপূর্ণ আত্মত্যাগ আন্দোলনের গতিপথকে কোটা সংস্কারের বৃত্ত থেকে বের করে রাষ্ট্রব্যবস্থা সংস্কার, গণতন্ত্র ও নাগরিক অধিকারের বৃহত্তর লড়াইয়ে রূপান্তর করে। এই আত্মত্যাগকে স্মরণ করে এবং নতুন বাংলাদেশের ন্যায়বিচার ও মানবাধিকারের অঙ্গীকারকে পুনর্ব্যক্ত করতে ১৬ জুলাই জাতীয়ভাবে ‘ঐতিহাসিক জুলাই শহীদ দিবস’ হিসেবে পালিত হচ্ছে।

আজ ঐতিহাসিক জুলাই শহীদ দিবস

দুই হাত প্রসারিত করে বুক পেতে দেওয়া সেই অবিনাশী আবু সাঈদ এবং স্বৈরাচার পতনের মহাকাব্যিক অধ্যায়ের আজ দুই বছর। ২০২৪ সালের ১৬ জুলাইয়ে রাজপথে রক্ত ঝরানো সেইসব বীরদের স্মরণে আজ বিস্তারিত

শাড়ি নিয়ে প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় ছোটপর্দার অভিনেত্রী তানজিন তিশাকে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

 

রোববার (১২ জুলাই) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানার আদালত অভিনেত্রীর বিরুদ্ধে সমন জারি করেন। আগামী ১৩ আগস্ট তাকে আদালতে হাজির হতে বলা হয়েছে। বাদীপক্ষের আইনজীবী সলিমুল্লাহ সরকার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

 

এর আগে, গত ৫ নভেম্বর ‘অ্যাপোনিয়ার ফ্যাশন’-এর এক্সিকিউটিভ মো. আমিনুল ইসলাম তানজিন তিশার বিরুদ্ধে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানার আদালতে মামলাটি করেন।

 

মামলার অভিযোগে বলা হয়, তানজিন তিশা ‘অ্যাপোনিয়া’ নামের একটি অনলাইন পেজ থেকে ২৮ হাজার ৮০০ টাকা মূল্যের একটি শাড়ি পছন্দ করেন। পরে গত ১৮ জানুয়ারি শাড়িটি তার বাসায় পৌঁছে দেওয়া হয়।

 

অভিযোগ অনুযায়ী, শর্ত ছিল শাড়িটি পরে তিনি পেজটির প্রচারণা করবেন। এ বিষয়ে তিনি ভয়েস ও টেক্সট মেসেজের মাধ্যমে আশ্বাসও দিয়েছিলেন। তবে দীর্ঘ সময় পার হলেও তিনি শাড়িটি পরে কোনো প্রচারণা করেননি এবং গত ছয় মাসের বেশি সময় ধরে পেজ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগও রাখেননি বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

 

বাদীর অভিযোগ, তানজিন তিশা প্রতারণার মাধ্যমে বিশ্বাসভঙ্গ করেছেন। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করেন এবং ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশকে (ডিবি) তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।

 

আইনজীবী সলিমুল্লাহ সরকার জানান, ডিবির তদন্ত প্রতিবেদনে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার পর আদালত তানজিন তিশার বিরুদ্ধে সমন জারি করেছেন।

 

তিনি আরও জানান, আইনি নোটিশ পাঠানোর পরও কোনো সাড়া না পাওয়ায় ২০২৫ সালের নভেম্বর মামলাটি করা হয়।

তানজিন তিশাকে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ

শাড়ি নিয়ে প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় ছোটপর্দার অভিনেত্রী তানজিন তিশাকে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।   রোববার (১২ জুলাই) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানার আদালত অভিনেত্রীর বিস্তারিত

দেশের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং কলেজের ঈদুল আজহা ও গ্রীষ্মকালীন অবকাশের ছুটি শেষ হচ্ছে আগামীকাল বৃহস্পতিবার (৪ জুন)। তবে ৫ ও ৬ জুন শুক্র ও শনিবার সাপ্তাহিক বন্ধ থাকায় আগামী রোববার (৭ জুন) স্কুল-কলেজে ক্লাস শুরু হবে।

 

শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ঘোষিত বাৎসরিক ছুটির তালিকা ও শিক্ষাপঞ্জি থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

 

ছুটির তালিকা অনুযায়ী, প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ছুটি শুরু হয়েছে গত ২৩ মে থেকে। ওইদিন অফিস আদেশের মাধ্যমে ছুটি ঘোষণা করে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। ফলে ২৩ মে থেকে ৪ জুন পর্যন্ত ছুটি পাচ্ছে বিদ্যালয়গুলো। ৫ ও ৬ জুন সাপ্তাহিক বন্ধের পর আগামী রোববার থেকে সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ক্লাস শুরু হবে।

 

সরকারি ও বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কলেজে ছুটি শুরু হয়েছিল ২৪ মে। এ ছুটি শেষ হচ্ছে ৪ জুন। এরপর ৫ ও ৬ জুন সাপ্তাহিক ছুটি শেষে ৭ জুন এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ক্লাস শুরু হবে।

 

তবে মাদরাসার শিক্ষার্থীরা আরও বেশি ছুটি পাচ্ছে। ইবতেদায়ি, দাখিল, আলিম, ফাজিল ও কামিল মাদরাসাগুলোয় ২২ মে ছুটি শুরু হয়েছিল, যা চলবে ১১ জুন পর্যন্ত।

 

এরপর ১২ ও ১৩ জুন (শুক্র ও শনিবার) সাপ্তাহিক ছুটি। ফলে আগামী ১৪ জুন মাদরাসায় ক্লাস শুরু হবে। মাদরাসার শিক্ষার্থীরা ঈদ ও গরমে ২৩

ঈদ-গ্রীষ্মকালীন ছুটি শেষে স্কুল-কলেজে ক্লাস শুরু রোববার

দেশের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং কলেজের ঈদুল আজহা ও গ্রীষ্মকালীন অবকাশের ছুটি শেষ হচ্ছে আগামীকাল বৃহস্পতিবার (৪ জুন)। তবে ৫ ও ৬ জুন শুক্র ও শনিবার সাপ্তাহিক বন্ধ থাকায় বিস্তারিত

ঈদে ২৪ ঘণ্টা খোলা থাকবে সিএনজি স্টেশন

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে দেশের সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলো টানা ১৩ দিন ২৪ ঘণ্টা খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ।   এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বাংলাদেশ তেল, বিস্তারিত

সাতক্ষীরায় নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২০২৬ এর সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণ

মো: তুহিন হোসেন সাতক্ষীরা জেলা প্রতিনিধি:

“ক্রীড়া হলে পেশা, পরিবার পাবে ভরসা” এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে সাতক্ষীরায় নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২০২৬ এর সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার (১০ মে) বিকালে সাতক্ষীরা জেলা স্টেডিয়ামে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ও জেলা প্রশাসন ও জেলা ক্রীড়া অফিস সাতক্ষীরার আয়োজনে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) বিষ্ণুপদ পাল এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক মিজ্ কাউসার আজিজ।

সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন , অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক শেখ মঈনুল ইসলাম মঈন, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট রিপন বিশ্বাস, সাতক্ষীরা পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আসাদুজ্জামান, সদর উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা অর্ণব দত্ত, জেলা তথ্য অফিসার মোঃ জাহারুল ইসলাম, জেলা ক্রীড়া অফিসার মোঃ মাহবুবুর রহমান প্রমুখ। নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের ৮ টি ইভেন্টের বিভিন্ন প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। এ সময় সাতক্ষীরা জেলা ও উপজেলা প্রশাসনিক কর্মকর্তা, জেলা ক্রীড়া অফিসের কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন উপজেলা থেকে আগত অতিথি এবং গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গরা উপস্থিত ছিলেন। সমগ্র অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সাতক্ষীরা জেলা তথ্য অফিসের উচ্চমান সহকারী মোঃ মনিরুজ্জামান।

সাতক্ষীরায় নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২০২৬ এর সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণ

সাতক্ষীরায় নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২০২৬ এর সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণ মো: তুহিন হোসেন সাতক্ষীরা জেলা প্রতিনিধি: “ক্রীড়া হলে পেশা, পরিবার পাবে ভরসা” এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে সাতক্ষীরায় নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২০২৬ এর বিস্তারিত

বিএনপি’র ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে সাভার থানা বিএনপির সভাপতি সাইফুদ্দিন সাইফুলের শুভেচ্ছা বার্ত।

 

 

রাকিবুল ইসলাম রঞ্জু:

 

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সাভার থানা বিএনপির সকল নেতাকর্মী, সমর্থক ও দেশবাসীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন সাভার থানা বিএনপির সভাপতি সাইফুদ্দিন সাইফুল।

 

এক শুভেচ্ছা বার্তায় সাইফুদ্দিন সাইফুল বলেন, “শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বীর উত্তমের হাতে গড়া বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) জন্মলগ্ন থেকেই এ দেশের মানুষের বাকস্বাধীনতা, গণতন্ত্র এবং সার্বভৌমত্ব রক্ষায় নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।”

 

তিনি আরও উল্লেখ করেন, দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের পথ ধরে দলটি আজ দেশের অন্যতম জনপ্রিয় রাজনৈতিক শক্তিতে পরিণত হয়েছে। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই মাহেন্দ্রক্ষণে তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফেরাত কামনা করেন এবং বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের যোগ্য নেতৃত্বে এদের উন্নয়নের রোল মডেল হবে বলে আশা ব্যক্তয় করেন।

 

সাভার থানা বিএনপির সভাপতি সাভার এলাকার তৃণমূলের নেতাকর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, “দলের সকল কঠিন সময়ে সাভারের নেতাকর্মীরা যেভাবে ঐক্যবদ্ধভাবে লড়াই-সংগ্রাম করেছেন,

 

তিনি সাভার থানা বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সকল স্তরের নেতাকর্মীদের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর বিভিন্ন কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে পালন করার আহ্বান জানান।

বিএনপি’র ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে সাভার থানা বিএনপির সভাপতি সাইফুদ্দিন সাইফুলের শুভেচ্ছা বার্তা

রাজবাড়ী শহরে ব্যবসায়িক বিরোধের জেরে জাকিয়া সুলতানা নামে এক নারী উদ্যোক্তাকে প্রকাশ্যে লাঞ্ছিত ও মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে জেলাজুড়ে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়। শনিবার দুপুরে রাজবাড়ী শহরের কাপড় বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ জাকিয়া সুলতানাকে উদ্ধার করে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে যায়।

 

ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, রাজবাড়ী সদর থানা পুলিশের উপস্থিতিতে ওই নারীকে রাস্তা দিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় পেছন থেকে এক যুবক এসে তাকে লাথি মারেন। পরে আরও কয়েক যুবক এগিয়ে এসে তাকে এলোপাতাড়ি মারধর ও লাথি মারতে থাকেন।

 

ভুক্তভোগী জাকিয়া রাজবাড়ী কাপড় বাজারের ‘আস্থা পোশাক শিল্প’ নামের একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের মালিক। তার দাবি, প্রতিষ্ঠানের সাবেক এক কর্মচারী বৃষ্টি হিসাব প্রদান না করে অন্য একটি দোকানে চলে গেলে বিষয়টি নিয়ে রাজবাড়ী বাজার কল্যাণ সমিতির কাছে লিখিত অভিযোগ জানানোর পর থেকেই তাকে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করার হুমকি দেওয়া হচ্ছিল।

 

অন্যদিকে, রাজবাড়ী বাজার কল্যাণ সমিতির আহ্বায়ক কাজী বেনজীর আহমেদ জাকিয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে পালটা দাবি করেন, জাকিয়া ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় মিথ্যা, নানা রকম অভিযোগ তুলেছেন।

 

শনিবার তিনি কয়েকশ মানুষ নিয়ে ব্যবসায়ীদের ওপর চড়াও হলে আমরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনি। পরে তারা সবাই চলেও যায়, কারা লাথি মেরেছে তা আমি জানি না, পরে বিষয়টি জেনেছি।

 

জাকিয়া সুলতানা যুগান্তরকে বলেন, শনিবার যখন পুলিশ আমাকে উদ্ধার করে নিয়ে যাচ্ছিল তখন পেছন থেকে অজ্ঞাত কয়েক যুবক আমার ওপর হামলা চালায়। যারা লাথি মেরেছে, তাদের কাউকে আমি চিনি না। তবে আমি তাদের খোঁজার চেষ্টা করছি। আপনাকে যারা লাথি মেরেছে তাদের বিরুদ্ধে আপনি আইনগত কোনো ব্যবস্থা নেবেন কিনা-এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি আপনাদের সহযোগিতা নিয়ে সাংবাদিক সম্মেলন করব। অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে অভিযুক্ত কর্মচারী বৃষ্টি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

 

এ বিষয়ে রাজবাড়ী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উত্তম কুমার ঘোষ বলেন, ব্যবসাসংক্রান্ত দ্বন্দ্বের জেরে বাজারের ব্যবসায়ীরা জাকিয়া সুলতানাকে ঘিরে ধরেছিলেন। খবর পেয়ে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। পরে দুপক্ষের মধ্যে সমঝোতার মাধ্যমে বিষয়টি সমাধান করা হয়েছে।

রাজবাড়ীতে পুলিশের সামনে নারী উদ্যোক্তাকে লাথি

সম্প্রতি নেপালে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ দুর্যোগে উদ্বেগ প্রকাশ করে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) অধ্যয়নরত নেপালি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এ সময় দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের পরিবারের প্রতি সহমর্মিতা জানিয়ে তাদের সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ফরিদুল ইসলাম।

 

রবিবার (৩০ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৫টায় উপাচার্যের কনফারেন্স রুমে নেপালি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এ সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় ভয়াবহ দুর্যোগে নিহত ও আহতদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

 

উপাচার্য অধ্যাপক মো. ফরিদুল ইসলাম বলেন, নেপালে সংঘটিত ভয়াবহ দুর্যোগের ঘটনায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের পক্ষ থেকে গভীর দুঃখ ও শোক প্রকাশ করছি। এই মর্মান্তিক ঘটনায় আপনারা যেমন ব্যথিত ও মর্মাহত, আমরাও তেমনি কষ্ট পেয়েছি। নেপাল আমাদের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ও বন্ধুত্বপূর্ণ রাষ্ট্র। আপনাদের এই দুঃসময়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আপনাদের পাশে আছে।

 

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, আপনারা নেপাল থেকে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করতে এসেছেন। আপনারা শুধু বিদেশি শিক্ষার্থী নন, আমাদের অতিথি ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সদস্য। তাই সংকটময় সময়ে আপনাদের পাশে দাঁড়ানো আমাদের দায়িত্ব। নেপালে থাকা পরিবার ও স্বজনদের নিয়ে আপনারা উদ্বিগ্ন থাকাটাই স্বাভাবিক। দেশে যোগাযোগে কোনো সমস্যা হলে, সহায়তার প্রয়োজন হলে কিংবা ব্যক্তিগত কোনো সমস্যায় পড়লে অবশ্যই আমাদের জানাবেন। ছাত্র উপদেষ্টা দপ্তর আপনাদের প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতায় পাশে থাকবে।

 

এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. এ এইচ এম খুরশীদ আলম জানান, শিক্ষার্থীরা যেকোনো প্রয়োজনে আমাদের জানালে আমরা সঙ্গে সঙ্গে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করব। তাদের সার্বিক বিষয়ে আমরা নিয়মিত যোগাযোগ রাখছি।

 

এ সময় উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মামুনুর রশীদ বলেন, নেপাল আমাদের প্রতিবেশী ও বন্ধুত্বপূর্ণ দেশ। আপনারা পরিবার ও আত্মীয়স্বজন ছেড়ে এখানে পড়াশোনা করতে এসেছেন। তাই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনে যারা আছি, আমরা আপনাদের অভিভাবকের মতো দায়িত্ব নিতে চাই। নেপালে ঘটে যাওয়া এই প্রাকৃতিক মহাবিপর্যয়ের মধ্যে আপনাদের পড়াশোনা বা পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে কোনো সমস্যা হচ্ছে কি না, তা জানার জন্যই আপনাদের সঙ্গে কথা বলা। আমরা আমাদের জায়গা থেকে আশ্বস্ত করতে চাই, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সবসময় আপনাদের পাশে আছে এবং যেকোনো প্রয়োজনে আপনারা আমাদের সহযোগিতা পাবেন।

 

নেপালি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. আব্দুল আলীম বলেন, নেপালে ঘটে যাওয়া প্রাকৃতিক দুর্যোগে আমরাও আপনাদের মতো ব্যথিত। আপনারা পরিবার ও স্বজনদের ছেড়ে দূরদেশে পড়াশোনা করছেন। এ অবস্থায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আপনাদের অভিভাবক হিসেবে সবসময় পাশে রয়েছে। যেকোনো সমস্যা বা প্রয়োজনে প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তা গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে। এই সংকটময় সময়ে আপনারা নিজেদের একা মনে করবেন না; বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সবসময় আপনাদের পাশে থাকবে।

 

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মাহবুবর রহমান, ডরমিটরির পরিচালক ড. মো. আবু বকর পিকে, ডরমিটরির ওয়ার্ডেন, সহকারী প্রক্টরসহ বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত ২২ জন নেপালি শিক্ষার্থী।

রাবিতে অধ্যয়নরত নেপালি শিক্ষার্থীদের সহযোগিতার আশ্বাস উপাচার্যের

শিক্ষার্থীদের ভাষাগত দক্ষতা অর্জনে সরকার শিক্ষক নিয়োগ দেবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। রবিবার (৩০ আগস্ট) পররাষ্ট্রমন্ত্রী খ‌লিলুর রহমা‌নের স‌ঙ্গে সৌজন্য সাক্ষা‌তের পর গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানান তিনি।

 

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর উপ‌দেষ্টা মাহাদী আমি‌নের নেতৃ‌ত্বে সম্প্রতি আমা‌দের এক‌টি প্রতি‌নি‌ধিদল চীন সফর ক‌রে‌ছেন। আমরা শিক্ষা খা‌তে চী‌নের স‌ঙ্গে ক‌য়েক‌টি সম‌ঝোতা স্মারক সই ক‌রে‌ছি। শিক্ষা খা‌তে আমরা চী‌নের স‌ঙ্গে সম্পর্ক গ‌ড়ে তুল‌তে চাই। তা‌দের ইন্ড্রা‌স্টি ও একা‌ডে‌মিয়ার স‌ঙ্গে সম্পর্ক খুব শ‌ক্তিশালী। তা‌দের শিক্ষার স‌ঙ্গে ইন্ড্রা‌স্টির যে সহ‌যো‌গিতা যে ম‌ডেল র‌য়ে‌ছে, সে‌টি আমরা অনুসরণ কর‌তে চাই।

 

তিনি ব‌লেন, আমা‌দের প্রতি‌নি‌ধিদ‌লের চীন সফর শে‌ষে শিক্ষার্থীদের কারিগরি দক্ষতায় বিশেষ সম্ভাবনার পরিকল্পনা করেছে সরকার। এজন্য ভাষাগত দক্ষতা উন্নয়নে শিক্ষক নিয়োগ করবে সরকার। ভিসা জটিলতা দূর করতে মন্ত্রিপরিষদে কমিটি গঠন করা হয়েছে।

শিক্ষার্থীদের ভাষা শেখাতে নতুন করে শিক্ষক নিয়োগ দেবে সরকার

আট বছরেও স্থায়ী ক্যাম্পাস নেই নীলফামারী মেডিকেল কলেজে

কলেজে দ্রুত অবকাঠামো উন্নয়নের আশ্বাস স্বাস্থ্য শিক্ষা মহাপরিচালকের

 

স্টাফ রিপোর্টার

মাইদুল ইসলাম:

প্রতিষ্ঠার আট বছর পেরিয়ে গেলেও নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস পায়নি নীলফামারী মেডিকেল কলেজ। বর্তমানে অন্য একটি প্রতিষ্ঠানের জন্য নির্মিত অবকাঠামোতে চলছে কলেজের একাডেমিক কার্যক্রম। যদিও সেখানে শ্রেণিকক্ষ, হোস্টেলসহ প্রয়োজনীয় কিছু সুবিধা রয়েছে, তবু দীর্ঘমেয়াদে মেডিকেল কলেজের পূর্ণাঙ্গ শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রয়োজন স্থায়ী ক্যাম্পাস ও নিজস্ব অবকাঠামো। কলেজটির প্রস্তাবিত স্থায়ী ক্যাম্পাসের জন্য জায়গা নির্ধারণ ও নকশার কাজ এগোলেও পূর্ণাঙ্গ অবকাঠামো এখনো বাস্তবায়িত হয়নি। কলেজের নিজস্ব তথ্যেও প্রস্তাবিত মেডিকেল কলেজ, হাসপাতাল ও নার্সিং কলেজের জন্য ২৮ একর জমির কথা উল্লেখ রয়েছে।

এ অবস্থার মধ্যেই রোববার (৩০ আগস্ট) বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে নীলফামারী মেডিকেল কলেজের ৮ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও কলেজ ডে অনুষ্ঠিত হয়েছে। দিনটি উপলক্ষে সকালে কলেজ প্রাঙ্গণ থেকে বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের করা হয়। র‌্যালিটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে কলেজের হলরুমে আলোচনা সভা ও দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাজমুল হোসেন বলেন, “শিক্ষা ও চিকিৎসা খাতকে সরকার অগ্রাধিকার দিয়েছে। দেশের মানবসম্পদ উন্নয়ন ও জনগণের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে এ দুটি খাতের উন্নয়নে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ রাখা হয়েছে।”

তিনি বলেন, একটি মেডিকেল কলেজ শুধু চিকিৎসক তৈরির প্রতিষ্ঠান নয়; একটি অঞ্চলের স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নেও এর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। নীলফামারী মেডিকেল কলেজের অবকাঠামোগত উন্নয়নের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। স্থায়ী ক্যাম্পাস, একাডেমিক ভবন ও হোস্টেলসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তুলে শিক্ষার্থীদের জন্য আধুনিক ও মানসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, ২০১৮ সালে প্রতিষ্ঠিত নীলফামারী মেডিকেল কলেজের শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয় ২০১৯ সালে। বর্তমানে কলেজটি নটখানা এলাকায় নির্মিত ম্যাটসের ভবনে অস্থায়ী ক্যাম্পাস হিসেবে কার্যক্রম চালাচ্ছে। কলেজের নিজস্ব তথ্য অনুযায়ী, সেখানে শিক্ষার্থীদের জন্য আবাসন ও একাডেমিক সুবিধা রয়েছে এবং নীলফামারী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট আধুনিক সদর হাসপাতালে শিক্ষার্থীদের ক্লিনিক্যাল শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে।

এর আগে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক নীলফামারী মেডিকেল কলেজ পরিদর্শন করে বলেছিলেন, কলেজটির নিজস্ব উপযুক্ত অবকাঠামো এখনো তৈরি হয়নি। তবে অন্য কয়েকটি নতুন মেডিকেল কলেজের তুলনায় বর্তমানে ব্যবহৃত ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের হোস্টেল ও একাডেমিক সুবিধা তুলনামূলক ভালো রয়েছে। একই সঙ্গে স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণের দাবিও শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা তাঁর কাছে তুলে ধরেছিলেন।

সম্প্রতি স্বাস্থ্য শিক্ষা খাতের উন্নয়ন পরিকল্পনায় নীলফামারীসহ স্থায়ী ক্যাম্পাসবিহীন সরকারি মেডিকেল কলেজগুলোর অবকাঠামো উন্নয়নের বিষয়টি নতুন করে সামনে এসেছে। সরকারের সংশোধিত পরিকল্পনায় ছয়টি মেডিকেল কলেজের স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণের কাজ শুরু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে কোন ছয়টি কলেজ অগ্রাধিকার পাবে, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মেডিকেল শিক্ষার মান নিশ্চিত করতে শুধু শ্রেণিকক্ষ ও পাঠ্যক্রম যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন পর্যাপ্ত ক্লিনিক্যাল সুবিধা, আধুনিক ল্যাবরেটরি, গ্রন্থাগার, আবাসন এবং শিক্ষার্থীদের জন্য উপযুক্ত একাডেমিক পরিবেশ। ফলে দীর্ঘদিন অস্থায়ী অবকাঠামোর ওপর নির্ভর না করে দ্রুত স্থায়ী ক্যাম্পাস ও পূর্ণাঙ্গ অবকাঠামো নির্মাণ জরুরি।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (মানবসম্পদ ও ব্যবস্থাপনা) ও প্রকল্প পরিচালক ডা. মো. মাছুদুর রহমান এবং পরিচালক (চিকিৎসা শিক্ষা) অধ্যাপক ডা. সাকি মো. জাকিউল আলম।

এ ছাড়া ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) রংপুর বিভাগীয় সাংগঠনিক কমিটির আহ্বায়ক ও ড্যাব কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি ডা. নিখিলেন্দ্র শংকর গুহ রায়, রংপুর মেডিকেল কলেজ শাখা ড্যাবের আহ্বায়ক ও সার্জারি বিভাগের অধ্যাপক ডা. মো. জাবেদ আখতার, রংপুর মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মো. আনোয়ার হোসেনসহ সংশ্লিষ্টরা বক্তব্য দেন।

অনুষ্ঠানে নীলফামারী মেডিকেল কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. রবিউল ইসলাম শাহ, সাবেক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মোস্তাফিজুর রহমান আকন্দ, রংপুর মেডিকেল কলেজের উপাধ্যক্ষ ডা. মো. জহুরুল হক, দিনাজপুর মেডিকেল কলেজের উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মো. সারোয়ার মুর্শেদ আলম, নীলফামারীর সিভিল সার্জন ডা. মো. আব্দুর রাজ্জাক, ড্যাব নীলফামারীর আহ্বায়ক ডা. মো. সোহেলুর রহমান সোহেল ও সদস্যসচিব ডা. রেদোয়ান জুবায়ের রিয়াদসহ বিভিন্ন মেডিকেল কলেজ ও স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

দিনব্যাপী আয়োজনে কলেজের শিক্ষক, চিকিৎসক ও শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। আলোচনা সভা শেষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে ৮ম কলেজ ডের কর্মসূচি শেষ হয়।

আট বছরেও স্থায়ী ক্যাম্পাস নেই নীলফামারী মেডিকেল কলেজে কলেজে দ্রুত অবকাঠামো উন্নয়নের আশ্বাস স্বাস্থ্য শিক্ষা মহাপরিচালকের

ঠাকুরগাঁওয়ে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ডের জেলা কার্যালয় উদ্বোধন।

 

মোঃ আশরাফুল ইসলাস

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি:

 

 

ঠাকুরগাঁওয়ে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ড জেলা শাখার নতুন কার্যালয়ের শুভ উদ্বোধন হয়েছে। শনিবার সন্ধ্যায় পৌর শহরের আশ্রমপাড়া এলাকায় আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যালয়টির উদ্বোধন করা হয়।

নতুন কার্যালয় শুভ উদ্বোধন করেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলী।

এ সময় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, জেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা নুর করিম।

কার্যালয় উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ড ঠাকুরগাঁও জেলা শাখার আহ্বায়ক মীর জাহিদের সভাপতিত্বে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

 

সভায় বক্তব্য রাখেন, জেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি বীরমুক্তিযোদ্ধা নূর করিম, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলী, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক তারেক আদনান, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ডের সদস্য সচিব নজরুল ইসলাম রনিসহ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

 

আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মুক্তিযোদ্ধাদের আদর্শকে ধারণ করে দেশ ও জাতির কল্যাণে কাজ করতে হবে। মুক্তিযোদ্ধাদের অসীম সাহস, আত্মত্যাগ ও বীরত্বের বিনিময়ে আমরা স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ পেয়েছি। তাঁদের অবদান কখনো ভোলার নয় এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মও যেন মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জানতে পারে, সে বিষয়ে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

 

বক্তারা আরও বলেন, মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান ও মর্যাদা রক্ষা করা এবং তাঁদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানো আমাদের সবার দায়িত্ব। মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে সমুন্নত রেখে মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তানদের ঐক্যবদ্ধভাবে দেশের কল্যাণে কাজ করতে হবে।

 

এ সময় বক্তারা বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ডের কার্যক্রম আরও গতিশীল করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। নতুন কার্যালয়ের মাধ্যমে সংগঠনের সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও শক্তিশালী ও বেগবান হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তারা।

 

অনুষ্ঠানে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ডের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী, মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্য, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

 

আলোচনা সভা শেষে আমন্ত্রিত অতিথিদের বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ড ঠাকুরগাঁও জেলা শাখার পক্ষ থেকে সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।

ঠাকুরগাঁওয়ে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ডের জেলা কার্যালয় উদ্বোধন

পরিবহন নেই, চিকিৎসাসেবাও নেই। অথচ এসব খাতসহ সরকারি পরিপত্রে অনুমোদন না থাকা বিভিন্ন খাতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে জামালপুর সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজ প্রশাসনের বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয়, অনুমোদিত কিছু খাতেও একাধিকবার অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। সব মিলিয়ে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বছরে প্রায় ৬৭ লাখ টাকা অতিরিক্ত আদায় করা হচ্ছে বলে হিসাব বিশ্লেষণে উঠে এসেছে।

 

সরকারি পরিপত্র উপেক্ষা করে পরিবহন, আইসিটি, চিকিৎসা, অতিথি শিক্ষক, উন্নয়ন তহবিল, পরিচয়পত্র, ব্যবস্থাপনা, ক্রীড়া ও সংস্কৃতি, রোভার স্কাউট, বিএনসিসি এবং নিরাপত্তা ও কর্মচারী খাতে এসব অর্থ নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এ নিয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে।

 

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের ২০২৫ সালের ২২ এপ্রিলের ৩৭.০০.০০০০.১৫১.০৯.০০৩.২৩.১২৩ নম্বর স্মারকে ‘সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের নিকট হতে আদায়কৃত অর্থের আয়-ব্যয় সংক্রান্ত সংশোধিত নীতিমালা’ প্রণয়ন করা হয়। ওই পরিপত্রের তফসিল ‘খ’ বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, কলেজটিতে অনুমোদন না থাকা কয়েকটি খাতে অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে অনুমোদিত কিছু খাতেও একাধিকবার টাকা নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ।

 

কলেজের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে প্রথম বর্ষ সম্মান শ্রেণিতে ভর্তির যোগ্যতা অর্জন করেছেন ২ হাজার ১৪৮ জন শিক্ষার্থী। এর মধ্যে কলা ও বাণিজ্য বিভাগের ১ হাজার ৪৬৩ জন এবং বিজ্ঞান বিভাগের ৬৮৫ জন। সম্মান, ডিগ্রি, মাস্টার্স ও প্রিলিমিনারি টু মাস্টার্স মিলিয়ে এইচএসসি বাদে কলেজটিতে শিক্ষার্থী রয়েছেন প্রায় ১১ হাজার ২

 

২২ জন।

পরিবহন নেই, তবু ২২ লাখ টাকা

অভিযোগের মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন উঠেছে পরিবহন ফি নিয়ে। পরিপত্র অনুযায়ী, শিক্ষার্থীদের জন্য পরিবহন ব্যবস্থা থাকলেই কেবল এ খাতে অর্থ আদায় করা যাবে। কিন্তু কলেজে শিক্ষার্থীদের নিজস্ব কোনো পরিবহন ব্যবস্থা না থাকার পরও তাদের কাছ থেকে ২০০ টাকা করে নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

 

এ হিসাবে কলেজের প্রায় ১১ হাজার ২২২ শিক্ষার্থীর কাছ থেকে বছরে প্রায় ২২ লাখ ৪৪ হাজার ৪০০ টাকা পরিবহন ফি আদায় করা হচ্ছে বলে হিসাব পাওয়া গেছে।

 

অনুমোদন নেই, তবুও আইসিটি ফি

সরকারি পরিপত্রে ‘আইসিটি ফি’ নামে কোনো অনুমোদিত খাত না থাকলেও শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ১২০ টাকা করে আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। বিভিন্ন বর্ষ ও কোর্স মিলিয়ে এ খাতে বছরে প্রায় ১৩ লাখ ৪৬ হাজার ৬৪০ টাকা আদায় করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।

বাস নেই, তবু পরিবহন ফি, আছে ‘অতিথি শিক্ষক ফি’—বছরে অতিরিক্ত ৬৭ লাখ টাকা আদায়ের অভিযোগ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জামিয়া ইউনুছিয়া মাদ্রাসাশিক্ষকদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতৃবৃন্দ।

 

শনিবার (২৯ আগস্ট) সকালে, এনসিপি’র মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, ন্যাশনাল ওলামা অ্যালায়েন্সের আহ্বায়ক আশরাফ উদ্দিন মাহদি, কুমিল্লা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আতাউল্লাহ, জাতীয় যুবশক্তির সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার ফরহাদ সোহেল এবং এনসিপি’র সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ জিহান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

 

এ সময় এনসিপি নেতৃবৃন্দ জামিয়া ইউনুছিয়া, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মুহতামিম ও জেলা হেফাজতে ইসলামের আমির মাওলানা মুবারাকুল্লাহ, জামিয়ার মুহাদ্দিস ও জেলা হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মারুফ কাসেমী, জেলা হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাওলানা শরীফ উদ্দিন আফতাবী এবং জেলা হেফাজতে ইসলামের কোষাধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুল হাফিজের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।

 

সাক্ষাৎকালে পারস্পরিক সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি ও মহব্বত অটুট রাখার অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মাদ্রাসাশিক্ষকদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করলেন এনসিপি নেতারা

বিএনপিকে এখনই আ. লীগের সাথে তুলনা করতে চান না বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তর অঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম।

 

শনিবার (২৯ আগস্ট) দুপুরে কুমিল্লা নগরীর একটি পার্টি সেন্টারে আয়োজিত এনসিপি কুমিল্লা উত্তর ও দক্ষিণ জেলা এবং মহানগরের সাংগঠনিক সমন্বয় সভা রাজনৈতিক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

 

সারজিস বলেন, ৬ মাস যেতে না যেতেই মানুষ কিন্তু বিএনপিকে নিয়ে অন্য কিছু চিন্তা করতে শুরু করেছে। আমরা সেই তুলনা এখনি করতে চাই না। আমরা বিএনপিকে আ. লীগের সাথে তুলনা করতে চাই না। আওয়ামী লীগ ২০০৯ সালে পিলখানা হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। তারা ২০১৩ সালে শাপলা চত্বরে হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে।

 

তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগ ২৪ এর গণঅভ্যুত্থানে ১৪’শ এর বেশি মানুষের জীবন কেড়ে নিয়ে আরেকটা গণহত্যা ঘটিয়েছে। আওয়ামী লীগ হচ্ছে গণহত্যাকারী। আওয়ামী লীগ হচ্ছে খুনী। আওয়ামী লীগ হচ্ছে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়া একটা নরপিশাচ। তাই আমরা বিএনপিকে এখনই আওয়ামী লীগের সাথে তুলনা করতে চাই না। আগামীতেও করতে চাই না।

আমরা বিএনপিকে এখনই আ. লীগের সাথে তুলনা করতে চাই না: সারজিস আলম

 

সাংবিধানিক ও রাষ্ট্রীয় কাঠামোর সংস্কার, জুলাইয়ে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের বিচার, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের সমাধান, পরিবেশ সুরক্ষাসহ ৯টি দাবি জানিয়েছে ‘অল্টারনেটিভস’।

 

শনিবার (২৯ আগস্ট) রাজধানী সেগুনবাগিচায় আয়োজিত ‘দেশের অবস্থা’ শীর্ষক প্রেস মিটে সংগঠনটির জাতীয় সাংগঠনিক কমিটির পক্ষ থেকে এসব দাবি তুলে ধরা হয়।

 

প্রেস মিটে ৯ দফা দাবি ঘোষণা করেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক তথ্য উপদেষ্টা ও প্ল্যাটফর্মটির সংগঠক মাহফুজ আলম।

 

অল্টারনেটিভসের পক্ষ থেকে প্রচারিত বিবৃতিতে বলা হয়, জুলাইয়ের শহীদদের আত্মত্যাগ ও জনগণের আন্দোলনের পরও প্রত্যাশিত ‘নতুন বাংলাদেশ’ প্রতিষ্ঠিত হয়নি। তাদের মূল্যায়ন অনুযায়ী, কাঠামোগতভাবে ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থা পুরোপুরি পরিবর্তিত হয়নি, কেবল সরকারের পরিবর্তন হয়েছে।

 

এ অবস্থায় স্বাধীনভাবে কথা বলা, সংগঠিত হওয়া ও প্রতিবাদ অব্যাহত রাখার আহ্বান জানানো হয়।

 

অল্টারনেটিভসের ৯ দফা দাবি—

 

১. সাংবিধানিক ও রাষ্ট্রের কাঠামোগত সংস্কারের রূপরেখা প্রণয়ন এবং অর্থনৈতিক সংস্কারের মাধ্যমে ধনী-গরিবের বৈষম্য কমিয়ে অর্থনৈতিক পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।

 

২. জুলাই গণহত্যার বিচার, ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা ও নিপীড়নের শিকার ব্যক্তিদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ, রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে গ্রেফতার ব্যক্তিদের এবং আন্দোলনে অংশ নেওয়া বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষের স্বীকৃতির দাবি জানানো হয়েছে।

 

৩. মানবাধিকার কমিশন, গুম কমিশন ও এসআরবি আইন কার্যকর করার ক্ষেত্রে মানবাধিকার সুরক্ষা, নিরপেক্ষ তদন্ত, জবাবদিহি, ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার ও ক্ষতিপূরণ এবং আইনের শাসন নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে।

 

৪. বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট সমাধান, কুইক রেন্টাল ও অসম বিদ্যুৎ-জ্বালানি চুক্তির সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহির আওতায় আনা এবং আমদানি, লুটেরা পুঁজিপতি ও বিদেশি কোম্পানি-নির্ভরতা কমানোর দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি, নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসার ও জ্বালানি সার্বভৌমত্ব নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে।

 

৫. ‘স্বাস্থ্যসেবা কর্মী ও প্রতিষ্ঠান সুরক্ষা অধ্যাদেশ–২০২৫’ এবং ‘রোগী সুরক্ষা ও প্রতিকার অধ্যাদেশ–২০২৫’ আইন আকারে প্রণয়নের দাবি জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে, অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের দাম সুলভ রাখা, মানসম্মত উৎপাদন নিশ্চিত করা এবং ভারসাম্যপূর্ণ ওষুধনীতি প্রণয়নের দাবি রয়েছে।

 

৬. নারী কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়ন, যৌন নিপীড়ন ও শিশু নিপীড়ন প্রতিরোধ, ভিন্নমত ও বহুত্ববাদী সাংস্কৃতিক চর্চার পরিবেশ নিশ্চিত এবং ‘সাংস্কৃতিক ফ্যাসিবাদ’ মোকাবেলায় উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।

 

৭. শ্রম কমিশনের সুপারিশ ও শ্রম আইন ২০২৬ পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন, বন্ধ কলকারখানা চালু, উৎপাদন ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং চাকরিচ্যুত শ্রমিকদের পুনঃকর্মসংস্থানের দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি সার সংকট সমাধান, কৃষকদের দুরারোগ্য ব্যাধির চিকিৎসায় রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ এবং সরকারি পাটকল, চিনিকল ও অন্যান্য কারখানা বেসরকারি খাতে বরাদ্দের ক্ষেত্রে শ্রমিক ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর স্বার্থ ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে।

 

৮. শিক্ষাব্যবস্থা ঢেলে সাজাতে স্বাধীন শিক্ষা কমিশন গঠন, ছাত্র ও যুবসমাজের কর্মসংস্থান সংকট নিরসনে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দক্ষতা উন্নয়ন ও উদ্যোক্তাদের পৃষ্ঠপোষকতার দাবি জানানো হয়েছে। পাশাপাশি, দলীয় পক্ষপাতমুক্ত স্বচ্ছ নিয়োগ ব্যবস্থা এবং বেসরকারি খাতে নিরাপদ ও জেন্ডার-সংবেদনশীল কর্মপরিবেশ, ন্যায্য মজুরি ও চাকরির সুরক্ষা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।

 

৯. প্রাণ, প্রকৃতি ও পরিবেশ ধ্বংসকারী উন্নয়ন প্রকল্প বাতিল, জলবায়ু পরিবর্তনে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ভারসাম্যপূর্ণ উন্নয়ন ও জলবায়ু সহনশীল প্রকল্প বাস্তবায়নের দাবি জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে বন্যা, নদীভাঙন ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে বাস্তুচ্যুত মানুষের পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

জুলাই হত্যার বিচার ও রাষ্ট্র সংস্কারসহ ৯ দাবি অল্টারনেটিভসের

র‌্যাবের চৌকস অভিযানে জীপসহ প্রায় ১১ হাজার ইয়াবার চালান আটক

জামালপুর হামলা পাল্টা হামলার মধ্য দিয়ে জেলার সানন্দবাড়ী তে থমথমে অবস্থা বিরাজমান।

পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের ও আদালতে মিথ্যা হলফনামা দেয়ার অভিযোগে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কেবিন ক্রু খাদিজা সুলতানা শিমুর বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

 

বুধবার (১৫ জুলাই) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২-এর বিচারক মো. জাকির হোসাইন এ আদেশ দেন। আদালতের আদেশে বলা হয়েছে, শিমুর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর ১৩ ধারা এবং দণ্ডবিধির ১৮১, ১৮২ ও ১৯৩ ধারায় মামলা করা হবে। আদালত নিজেই এ মামলার বাদী হয়েছেন।

 

আদালতের নথি অনুযায়ী, খাদিজা সুলতানা শিমু মামলার বাদী হয়ে বেসরকারি একটি এয়ারলাইন্সের কর্মকর্তা মো. ওমর ফারুক চৌধুরীর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনের বিভিন্ন ধারায় উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলা করেন।

 

তদন্ত শেষে উত্তরা পশ্চিম থানার তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে জানান, অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি। প্রতিবেদনে বলা হয়, মামলার এজাহারে উল্লেখ করা ফেসবুক লিংক, ডিজিটাল আলামত ও অন্যান্য তথ্য যাচাই করে ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি প্রচারের কোনো প্রমাণ মেলেনি। ফলে ওই কর্মকর্তাকে মামলা থেকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়।

একই সঙ্গে তদন্ত কর্মকর্তা প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, ওমর ফারুক আগে শিমুর বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন দিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে আদালতে মামলা করেছিলেন। সেই মামলার দায় এড়াতেই শিমু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত বিভিন্ন লিংক উল্লেখ করে তার বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি ছড়ানোর অভিযোগ এনে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, হয়রানিমূলক ও মিথ্যা মামলা করেছেন বলে প্রাথমিক তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে। এ কারণে শিমুর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর ১৩ ধারায় আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার আবেদনও করেন তদন্ত কর্মকর্তা।

 

পরে গত ৯ জুলাই আদালত তদন্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করে ওমর ফারুককে মামলা থেকে অব্যাহতি দেন। আদালতের আদেশে বলা হয়, শিমু ক্ষতিসাধনের উদ্দেশ্যে আদালতে মিথ্যা মামলা দায়ের করেছেন এবং হলফ করে মিথ্যা সাক্ষ্য দিয়েছেন। মামলার নথিতে তার দেয়া হলফনামাও সংযুক্ত রয়েছে। এসব বিবেচনায় আদালত নিজেই বাদী হয়ে তার বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন ও দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়েরের নির্দেশ দেন।

 

তদন্তে যা উঠে এসেছে পুলিশের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, তদন্তকালে রেকর্ড, ডিজিটাল আলামত, ফেসবুক লিংক ও ফরেনসিক তথ্য যাচাই করে ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি প্রচারের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

 

তদন্তে আরও উঠে আসে, শিমু বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কেবিন ক্রু এবং ওমর ফারুক একটি বেসরকারি এয়ারলাইন্সের এয়ারক্রাফট মেইনটেন্যান্স কর্মকর্তা। ফেসবুকে পরিচয়ের পর তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

 

প্রতিবেদনে বলা হয়, বিয়ের আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন সময়ে ওমর ফারুকের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী নেয়ার অভিযোগে ওমর ফারুক আদালতে পৃথক মামলা করেন। এরপর সেই মামলার দায় থেকে নিজেকে রক্ষা করতেই শিমু পর্নোগ্রাফি আইনে অভিযোগ দায়ের করেন বলে তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে।

 

ওমর ফারুকের আগের মামলা গত ২০ জুলাই ওমর ফারুক চৌধুরী শিমুর বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন, ‘হানি ট্র্যাপ’ ও ব্ল্যাকমেইলের মাধ্যমে প্রায় ২২ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ঢাকার আদালতে মামলা করেন। আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে উত্তরা পশ্চিম থানাকে তদন্তের নির্দেশ দেন। পরে তিনি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষের কাছেও লিখিত অভিযোগ করেন।

 

সেই মামলায় অভিযোগ করা হয়, ২০২৪ সালে ফেসবুকে পরিচয়ের পর শিমু তাকে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন সময়ে টাকা নেন। জন্মদিনে দেড় লাখ টাকা মূল্যের একটি হীরার আংটিসহ বিয়ের খরচের জন্য মোট ২১ লাখ ৭৪ হাজার ৫১১ টাকা নেয়ার পরও বিয়ে না করে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে মামলায় দাবি করা হয়।

পর্নোগ্রাফি আইনে কেবিন ক্রু শিমুর বিরুদ্ধে মামলার নির্দেশ আদালতের

error: আপনি নিউজ চুরি করার চেষ্টা করছেন। বিশেষ প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন ০১৭৬৭৪৪৪৩৩৩