শীর্ষখবর - Gono television | বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল।

তরুণ প্রজন্মের আকাঙ্ক্ষা পূরণে প্রয়োজনে আবারও রাজপথে নামার হুঁশিয়ারি দিয়ে শিবির সভাপতি বলেন, তরুণ প্রজন্ম যে সংস্কার ও গণভোটের আকাঙ্ক্ষা নিয়ে আন্দোলন করেছে, তা অনতিবিলম্বে বাস্তবায়ন করতে হবে। সরকারের বোধোদয় না হলে সাধারণ জনগণ ও ছাত্রসমাজ আবারও রাজপথে তীব্র প্রতিবাদ গড়ে তুলবে। ক্যাম্পাসগুলোতে র‍্যাগিং, সিট দখল এবং ভর্তি বাণিজ্য বন্ধ করে সেগুলোকে আদর্শ ও নৈতিকতার ‘মার্কেট প্লেস’ (মার্কেট প্লেস অফ ভ্যালুজ) হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাদ্দাম হোসেন। একই সাথে তিনি জুলাই-পরবর্তী বাংলাদেশে ছাত্র রাজনীতির আমূল পরিবর্তনের ওপর জোর দেন।

 

সোমবার (১৩ জুলাই) দুপুরে নোয়াখালী জেলা শহরের একটি কনভেনশন হলে নোয়াখালী সরকারি কলেজের নবীন শিক্ষার্থীদের বরণ ও ক্যারিয়ার গাইডলাইন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

 

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সাদ্দাম হোসেন বলেন, “সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে নবীন শিক্ষার্থীরা আসার পর জ্যেষ্ঠদের দ্বারা র‍্যাগিং বা হেনস্তার শিকার হন। এই নেতিবাচক সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে ইসলামী ছাত্রশিবির শিক্ষার্থীদের ক্যারিয়ার কাউন্সিলিং, সফট ও হার্ড স্কিল ডেভেলপমেন্ট এবং ইথিক্যাল ডেভেলপমেন্ট নিয়ে কাজ করছে।”

 

ছাত্র রাজনীতির বর্তমান প্রেক্ষাপট সমালোচনা করে তিনি বলেন, “রাজনীতি এখন অনেকের কাছে এক ধরণের ব্যবসা হয়ে দাঁড়িয়েছে। জুলাই-পরবর্তী বাংলাদেশে এই ধরনের চেতনা আর চলবে না। এখন ছাত্রদের কাছে যেতে হবে আইডিওলজি, থিম এবং নতুনত্ব নিয়ে।”

 

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে উপাচার্য (ভিসি) ও প্রশাসক নিয়োগের প্রসঙ্গ টেনে শিবির সভাপতি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “সাদা দল বা নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দল না করলে কেউ ভিসি হতে পারবেন না—এমন নগ্ন দলীয়করণ আমরা জুলাই-পরবর্তীতে দেখতে চাই নাই। দলীয় এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য রাজনৈতিক ব্যাকগ্রাউন্ডের ব্যক্তিকে ভিসি বানানো হয়েছে। সহস্রাধিক শহীদ এই ফ্যাসিবাদ ও স্বৈরশাসনমুক্ত ক্যাম্পাসের জন্য জীবন দেননি।”

 

বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থা ও বেকারত্ব সংকটের সমালোচনা করে সাদ্দাম হোসেন বলেন, “শিক্ষার মান বাড়লেও মানবিক মূল্যবোধের কোনো পরিবর্তন ঘটেনি। বর্তমানে দেশে ৪১ লক্ষ বেকার রয়েছে। প্রতিবছর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ৪ লক্ষ শিক্ষার্থী বের হলেও তাদের কর্মসংস্থানের কোনো ব্যবস্থা করা হচ্ছে না এবং এই পরিবর্তনে সরকারের কার্যকরী কোনো ভূমিকা দেখা যাচ্ছে না।”

 

তিনি আরও বলেন, সমাজব্যবস্থায় দ্বান্দ্বিক বস্তুবাদিতা পশ্চিমা সংস্কৃতিকে টিকিয়ে রাখলেও তা মানুষের জন্য প্রকৃত কল্যাণ বয়ে আনে না। আল্লাহর আইনই একমাত্র মানুষের কল্যাণ স্থাপন করে এবং পুরো পৃথিবীতে রাজনৈতিক, শিক্ষা, সমাজ, আইন ও দেশ পরিচালনাসহ সকল ব্যবস্থাপনায় ইসলামই একমাত্র মুক্তির পথ।

 

নোয়াখালী সরকারি কলেজ ছাত্রশিবিরের সভাপতি মোহাম্মদ আল-আমিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন— কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও নোয়াখালী জেলা জামায়াতের আমীর ইসহাক খন্দকার, নোয়াখালী সরকারি কলেজের সাবেক শিবির সভাপতি অধ্যক্ষ বেলায়েত হোসেন এবং ছাত্রশিবির নোয়াখালী শহর সভাপতি আব্দুল্লাহ আল মাহবুবসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। অনুষ্ঠানের শেষ অংশে প্রধান অতিথি নতুন শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন এবং ক্যারিয়ার গঠনে দিকনির্দেশনামূলক পরামর্শ প্রদান করেন।

ছাত্রসমাজ আবারও রাজপথে তীব্র প্রতিবাদ গড়ে তুলবে: শিবির সভাপতি

তরুণ প্রজন্মের আকাঙ্ক্ষা পূরণে প্রয়োজনে আবারও রাজপথে নামার হুঁশিয়ারি দিয়ে শিবির সভাপতি বলেন, তরুণ প্রজন্ম যে সংস্কার ও গণভোটের আকাঙ্ক্ষা নিয়ে আন্দোলন করেছে, তা অনতিবিলম্বে বাস্তবায়ন করতে হবে। সরকারের বোধোদয় বিস্তারিত

পত্নীতলায় ১৪ বিজিবির অভিযানে ৭৫ বোতল ভারতীয় ইস্কাফ সিরাপ উদ্ধার

 

মোঃ সাইদুল ইসলাম হেলাল

বিশেষ প্রতিনিধিঃ

নওগাঁর পত্নীতলা সীমান্তে অভিযান চালিয়ে ৭৫ বোতল ভারতীয় নেশাজাতীয় ইস্কাফ সিরাপ উদ্ধার করেছে পত্নীতলা ব্যাটালিয়ন (১৪ বিজিবি)।

 

সোমবার দিবাগত রাত ১২টা ২০ মিনিটে আগ্রাদ্বিগুন বিওপির টহল কমান্ডার নায়েব সুবেদার মো. সোয়েব আলী মুন্সীর নেতৃত্বে একটি বিশেষ টহল দল সীমান্ত পিলার ২৫৬/৬-এস থেকে আনুমানিক ৩০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে মহেশপুর মাঠ এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে।

 

এ সময় বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে চোরাকারবারিরা মালামাল ফেলে পালিয়ে যায়। পরে ঘটনাস্থলে তল্লাশি চালিয়ে মালিকবিহীন অবস্থায় ৭৫ বোতল ভারতীয় নেশাজাতীয় ইস্কাফ সিরাপ উদ্ধার করা হয়।

 

বিজিবি জানায়, উদ্ধারকৃত মাদকদ্রব্য ধামইরহাট থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তরের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

 

পত্নীতলা ব্যাটালিয়ন (১৪ বিজিবি)-এর অধিনায়ক জানান, নওগাঁ ও জয়পুরহাট সীমান্তবর্তী দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় অবৈধ সীমান্ত পারাপার প্রতিরোধ, দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং আন্তঃসীমান্তীয় সব ধরনের অপরাধ দমনে বিজিবির অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

 

মোঃ সাইদুল ইসলাম হেলাল

বিশেষ প্রতিনিধিঃ

মোবাইল নং- ০১৭২৪২৫৫৭০৬

তারিখঃ ১৩-৭-২০২৬

পত্নীতলায় ১৪ বিজিবির অভিযানে ৭৫ বোতল ভারতীয় ইস্কাফ সিরাপ উদ্ধার

পত্নীতলায় ১৪ বিজিবির অভিযানে ৭৫ বোতল ভারতীয় ইস্কাফ সিরাপ উদ্ধার   মোঃ সাইদুল ইসলাম হেলাল বিশেষ প্রতিনিধিঃ নওগাঁর পত্নীতলা সীমান্তে অভিযান চালিয়ে ৭৫ বোতল ভারতীয় নেশাজাতীয় ইস্কাফ সিরাপ উদ্ধার করেছে বিস্তারিত

‘পরিস্থিতি খুবই ভয়াবহ, কিছুই খেতে পারছি না, চুলাও জ্বলছে না’

 

 

 

 

 

ষ্টাফ: রিপোর্টার

রুবেল হোসাইন

 

‘এখানে পরিস্থিতি খুবই ভয়াবহ। কিছুই খেতে পারছি না। চারদিকে এত পানি যে এখনও চুলায় আগুন জ্বালিয়ে রান্না করা সম্ভব হচ্ছে না। সবাই অনাহারে দিন কাটাচ্ছে। পুরো এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে, আর অনেকের ঘরবাড়িও ভেঙে গেছে।’ আজ রোববার এভাবে বন্যা পরিস্থিতি বর্ণনা করছিলেন কক্সবাজারের চকরিয়ার কাকারা ইউনিয়নের শাকের মোহাম্মদচর পূর্বপাড়ার বাসিন্দা মোহাম্মদ হোছাইন।

 

চকরিয়ার কাকারা ইউনিয়নের মতোই পেকুয়া, মাতামুহুরি, রামু ও সদর উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এসব এলাকার প্রায় ৬০ শতাংশ জনপদ এখনও পানির নিচে। ডুবে আছে হাজারও ঘরবাড়ি।

 

পেকুয়া উপজেলার টৈটং ইউনিয়নের দক্ষিণ সোনাইছড়ি ভেলুয়াপাড়ায় ছোট একটি মাটির ঘরে এক ছেলে, ছেলের বউ আর দুই নাতি নিয়ে বসবাস করছিলেন সাফুরা খাতুন। তিনি বলেন, ‘গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টি এবং বন্যার পানিতে পুরো ঘরটি ভেঙে গেছে। এক সপ্তাহ ধরে চুলায় আগুন জ্বালাতে পারছি না। প্রতিবেশীরা কয়েক বেলা খাবার পাঠালেও এখনো সরকারি কোনো সহযোগিতা আসেনি। এভাবে অনাহারে অর্ধাহারে দিন কাটছে।’

 

কাকারা এলাকার বাসিন্দা আব্দুর রশিদ বলেন, ‘আমরা প্রতিবছরই এই জলাবদ্ধতার কারণে চরম দুর্ভোগের শিকার হই। আমাদের বাড়িঘর পানিতে তলিয়ে যায়, আর আমরা উঁচু মাচার ওপর আশ্রয় নিয়ে থাকতে বাধ্য হই। প্রতিনিয়ত প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ওঠানামা করাতে আমাদের অনেক কষ্ট হয়। এত কষ্টের মধ্যেও বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা থাকে না। প্রতিটি দিন আমাদের জন্য এক কঠিন সংগ্রাম হয়ে দাঁড়িয়েছে।’

 

একই এলাকার ইকবাল হোসেন বলেন, ‘বর্তমানে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন বিশুদ্ধ পানি ও পর্যাপ্ত শুকনো খাবার। প্রতিটি বাড়ি পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। রান্নাবান্না করার কোনো সুযোগ নেই। তাই জরুরি ভিত্তিতে তাদের কাছে খাবার ও নিরাপদ পানির ব্যবস্থা করা অত্যন্ত জরুরি।’

 

ইয়াছিন আরাফাত নামের আরেক বাসিন্দা বলেন, ‘চকরিয়া উপজেলাকে অবিলম্বে দুর্গত এলাকা ঘোষণা করা উচিত। একইসঙ্গে সরকারের সব পর্যায় থেকে জরুরি ভিত্তিতে ত্রাণ সহায়তা পৌঁছে দেওয়া প্রয়োজন। বিশেষ করে শুকনো খাবার, ওষুধ, বিশুদ্ধ পানি ও অন্যান্য জরুরি সামগ্রী ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছে দ্রুত পৌঁছে দিতে হবে। উপজেলার কাকারা, লক্ষ্যারচর, কুয়ারবিলসহ সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পাঁচটি ইউনিয়নে অবিলম্বে সরকারের বিশেষ সহায়তা নিশ্চিত করা জরুরি।’

 

কক্সবাজারে বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও এখনও পানিবন্দি লক্ষাধিক মানুষ। ঘরে খাবার নেই। চুলা জ্বলছে না। জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান জানিয়েছেন, ‘বিগত বছরে গড় বৃষ্টিপাতের রেকর্ড অনুযায়ী, জুলাই মাসে কক্সবাজারে গড়ে ৯২৪ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে, গত সাত দিনেই জেলায় ৮২৩ মিলিমিটারের বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে। অর্থাৎ, পুরো জুলাই মাসে যে পরিমাণ বৃষ্টি হওয়ার কথা, তার প্রায় ৯০ শতাংশই মাত্র সাত দিনের মধ্যে হয়েছে। ফলে অতিরিক্ত পানি দ্রুত নিষ্কাশন সম্ভব হচ্ছে না।’

 

জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, অতিবৃষ্টি ও মাতামুহুরি নদী দিয়ে নেমে আসা পানির ঢল চকরিয়া, পেকুয়া, মাতামুহুরি ও রামু এলাকা প্লাবিত হয়েছে। কক্সবাজার জেলার ৭১টি ইউনিয়নের মধ্যে প্রায় ৬৯টি ইউনিয়ন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং প্রায় দুই থেকে আড়াই লাখ মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে।

 

জেলা কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, কক্সবাজার জেলার ৯ উপজেলায় এ পর্যন্ত ৪৩ হাজার ২১০ হেক্টর ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

 

জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান বলেন, ‘তবে স্বস্তির বিষয় হলো, শনিবার থেকে বৃষ্টিপাত অনেকটাই কমে এসেছে এবং পানি দ্রুত নেমে যাচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় সরকারের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে ৩০ লাখ টাকা এবং ৪৫০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। দেওয়া হচ্ছে শুকনো খাবারও।’

 

প্রধানমন্ত্রীও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে সার্বিক পরিস্থিতির খোঁজ নিয়েছেন এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন জানিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, ‘প্রশাসন, বিভিন্ন সরকারি দপ্তর, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ সবাই মিলে পরিস্থিতি মোকাবিলায় একযোগে কাজ করছে। স্লুইসগেট নিয়ে যে বিভ্রান্তি রয়েছে, তা সঠিক নয়। গত দুই দিন ধরে সব স্লুইসগেট খোলা রয়েছে। শুধু জোয়ারের সময় সমুদ্রের পানি যাতে ভেতরে প্রবেশ করতে না পারে, সেজন্য সাময়িকভাবে গেট বন্ধ করা হয়। ভাটার সময় আবার সেগুলো খুলে দেওয়া হয়। বর্তমানে কোথাও কোনো স্লুইস গেট বন্ধ নেই।’

 

শিশুসহ ৩ জনের মৃত্যু

এদিকে শনিবার রাতে কক্সবাজার শহরে পাহাড়ধসে রোজিনা বেগম নামে এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। তিনি শহরের পূর্ব কলাতলী ঝরঝরিপাড়ার বাসিন্দা আব্দুল মজিদের স্ত্রী।

 

এছাড়া চকরিয়ায় বন্যার পানিতে ডুবে সজিব জলদাশ (১২) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। রোববার দুপুর ৩টার দিকে উপজেলার কৈয়ারবিল ইউনিয়নের খোজাখালী জলদাসপাড়া এলাকা থেকে ওই শিশুর ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সে ওই গ্রামের তুফান জলদাশের ছেলে।

 

এর আগে শনিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে পেকুয়ায় বন্যার পানিতে ডুবে ২১ মাস বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। ‎মারা যাওয়া শিশুর নাম মুশফিকুর রহিম। সে ওই এলাকার সৌদি আরব প্রবাসী মো. নাছিরের ছেলে।

 

এ নিয়ে জেলায় পাহাড়ধস, পানিতে ডুবে ও দেয়ালচাপায় প্রাণহানি বেড়ে ২৮ জনে দাঁড়িয়েছে

পরিস্থিতি খুবই ভয়াবহ, কিছুই খেতে পারছি না, চুলাও জ্বলছে না

‘পরিস্থিতি খুবই ভয়াবহ, কিছুই খেতে পারছি না, চুলাও জ্বলছে না’           ষ্টাফ: রিপোর্টার রুবেল হোসাইন   ‘এখানে পরিস্থিতি খুবই ভয়াবহ। কিছুই খেতে পারছি না। চারদিকে এত বিস্তারিত

জানা যায়, রাজবাড়ী পৌরসভার ২ নম্বর রেলগেট থেকে জেলা সদর হাসপাতাল পর্যন্ত সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে রয়েছে। সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত, ভাঙাচোরা অংশ ও অপর্যাপ্ত পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার কারণে বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টির পানি জমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। অনেক সময় রাস্তার গর্ত পানির নিচে তলিয়ে থাকায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেড়ে যায়।

 

শুধু হাসপাতাল সড়কই নয়, সামান্য বৃষ্টিতেই রাজবাড়ী শহরের কারিগরি বিদ্যালয় এলাকা, সদর হাসপাতাল ও জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সামনে, সারের গুদাম, বিদ্যুৎ কার্যালয়, আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা দল কার্যালয়, কাজীকান্দা, সেগুনবাগিচা, বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় মোড় এবং জাতীয় ব্যাংক মোড়সহ বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। তবে হাসপাতাল সড়কের দুরবস্থা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

 

হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও তাদের স্বজনরা জানান, জরুরি বিভাগে পৌঁছাতে অনেক সময় পানি মাড়িয়ে যেতে হয়। এতে রোগীদের কষ্ট যেমন বাড়ছে, তেমনি স্বাস্থ্যঝুঁকিও তৈরি হচ্ছে।

রাজবাড়ী জেলা সদর হাসপাতালের প্রধান সংযোগ সড়কটির বেহাল দশার কারণে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন রোগী, স্বজন ও সাধারণ মানুষ। ভাঙাচোরা রাস্তা, বড় বড় গর্ত আর সামান্য বৃষ্টিতেই সৃষ্টি হওয়া হাঁটুসমান জলাবদ্ধতার কারণে জরুরি রোগীদের হাসপাতালে নিতে গিয়ে প্রতিনিয়ত ঝুঁকির মুখে পড়তে হচ্ছে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, চিকিৎসা পাওয়ার আগেই হাসপাতালগামী এই সড়কে শুরু হয় রোগীদের চরম ভোগান্তি।

 

আগে চিকিৎসা দরকার হাসপাতাল সড়কের!

জানা যায়, রাজবাড়ী পৌরসভার ২ নম্বর রেলগেট থেকে জেলা সদর হাসপাতাল পর্যন্ত সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে রয়েছে। সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত, ভাঙাচোরা অংশ ও অপর্যাপ্ত পানি বিস্তারিত

কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে এক মাদ্রাসাছাত্রের বিরুদ্ধে পঞ্চম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। রোববার (১২ জুলাই) সকালে উপজেলার সদকি ইউনিয়নের বানিয়াপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

 

অভিযুক্ত রিফাত প্রামাণিক (১৭) ওই এলাকার বাসিন্দা এবং স্থানীয় একটি মাদ্রাসা থেকে এবার এসএসএসসি (সমমান) পরীক্ষা দিয়েছেন।

 

পুলিশ, পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী ছাত্রী সকালে বাড়ির পাশে একটি মসজিদের মক্তবে পড়তে গিয়েছিল। পড়া শেষে প্রবল বৃষ্টির কারণে সে মক্তবেই আটকে পড়ে। ওই ছাত্রীর সঙ্গে অভিযুক্ত রিফাতের বোন ও মক্তবে পড়ে। রিফাত প্রথমে মক্তব থেকে নিজের বোনকে বাড়িতে দিয়ে আসে। পরে সে আবারও মক্তবে ফিরে গিয়ে ওই ছাত্রীকে পাশের একটি জরাজীর্ণ ঘরে নিয়ে আটকে রেখে ধর্ষণ করে। এসময় ওই ছাত্রীর কান্নাকাটি শুনে স্থানীয় এক ব্যক্তি এগিয়ে এলে অভিযুক্ত রিফাত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।

 

পরে পরিবারের সদস্যরা ভুক্তভোগী ছাত্রীকে প্রথমে কুমারখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন।

 

কুমারখালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জামাল উদ্দিন জানান, অভিযোগ পেয়েছি। মামলা প্রক্রিয়াধীন। খুব দ্রুতই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হবে।

মক্তব থেকে ডেকে এনে পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণ

কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে এক মাদ্রাসাছাত্রের বিরুদ্ধে পঞ্চম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। রোববার (১২ জুলাই) সকালে উপজেলার সদকি ইউনিয়নের বানিয়াপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।   অভিযুক্ত রিফাত প্রামাণিক (১৭) ওই বিস্তারিত

ভারি বর্ষণ আর উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে বিপর্যস্ত চট্টগ্রাম, কক্সবাজারসহ ৩ পার্বত্য জেলা। চট্টগ্রাম বিভাগে এখন পর্যন্ত অর্ধশতাধিক মানুষের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

 

এখনও বন্যার পানিতে তলিয়ে আছে চকরিয়া, পেকুয়া, মাতামুহুরীসহ বিভিন্ন উপজেলার নিম্নাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা। প্রত্যন্ত অঞ্চলের লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দী। তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে খাবার ও বিশুদ্ধ পানির। প্রশাসনের পক্ষ থেকে ত্রাণ সহায়তা দেওয়া হলেও তা অপ্রতুল বলছেন বানভাসীরা। তবে, গতকাল দুপুর থেকে ভারি বৃষ্টি না হওয়ায় কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে বানভাসি মানুষগুলোর মাঝে। গত ২৪ ঘণ্টায় বানের পানিতে ডুবে বৃদ্ধ ও শিশুসহ ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন একজন।

 

এদিকে, বান্দরবানে বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। সকাল থেকে বৃষ্টি কমে আসায় জেলা শহরের কয়েকটি নিম্নাঞ্চল থেকে পানি নামতে শুরু করেছে। নতুন করে বৃষ্টি না হওয়ায় সাঙ্গু, মাতামুহুরী ও বাঁকখালী নদীর পানি কমতে শুরু করেছে। তবে, প্লাবিত এলাকায় দেখা দিয়েছে খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সংকট। যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন দুর্গত এলাকার বাসিন্দারা। বানভাসীদের ত্রাণ সহায়তায় মাঠে রয়েছে প্রশাসন, সেনাবাহিনী ও বিজিবি।

 

আর রাঙ্গামাটিতে বন্যা ও পাহাড়ধস পরিস্থিতির এখনও উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়নি। এখনও বিচ্ছিন্ন রয়েছে যোগাযোগ ব্যবস্থা। বাঘাইছড়ি ও বিলাইছড়ির ফারুয়া এলাকায় পানি কিছুটা কমতে শুরু করলেও জেলার অনেক এলাকা এখনও পানির নিচে। দুর্গত মানুষের মাঝে খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি ও ত্রাণের সংকট রয়েছে। দুর্গম এলাকায় নৌকায় খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি ও ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দিতে কাজ করছে সেনাবাহিনী ও বিজিবি। এছাড়াও, এখন পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ৩ জনের এবং নিখোঁজ রয়েছেন ১ জন।

বন্যায় বিপর্যস্ত চট্টগ্রামের জনজীবন, খাবার-বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট

ভারি বর্ষণ আর উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে বিপর্যস্ত চট্টগ্রাম, কক্সবাজারসহ ৩ পার্বত্য জেলা। চট্টগ্রাম বিভাগে এখন পর্যন্ত অর্ধশতাধিক মানুষের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।   এখনও বন্যার পানিতে তলিয়ে বিস্তারিত

গাইবান্ধায় ঘুমন্ত চাচাকে গলা কেটে হত্যার অভিযোগ ভাতিজার বিরুদ্ধে

 

শাহ্ পারভেজ সংগ্রাম, গাইবান্ধা প্রতিনিধি

গাইবান্ধায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে চাচাকে গলা কেটে হত্যার অভিযোগ উঠেছে আপন ভাতিজার বিরুদ্ধে। জেলার ফুলছড়ি উপজেলার কঞ্চিপাড়া ইউনিয়নের কেতকিরহাট মাঝিপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত ভাতিজা পলাতক রয়েছে।

 

নিহত শাহ জালালের স্ত্রী পারুল বেগম জানান, রবিবার গভীর রাতে কৌশলে দরজা খুলে ঘরে প্রবেশ করে আপন ভাতিজা গোলাম হোসেন। ধারালো অস্ত্র দিয়ে আপন চাচা শাহ জালালের গলা কেটে ফেলে। গোঙানীর শব্দ শুনে শাহ জালালের স্ত্রী পারুল বেগম পাশের ঘর থেকে উঠে আসলে গোলাম হোসেন পালিয়ে যায়। পরে ঘটনাস্থলেই মারা যান শাহ জালাল।

নিহত শাহ জালালের ছেলে পাঞ্চু মিয়া জানায়,

যাতে কেউ তাকে ধরতে না পারে, সেজন্য তার বাবাকে হত্যার আগে বাহির থেকে প্রতিবেশীদের ঘরের দরজা আটকে দেয় গোলাম হোসেন।

 

স্থানীয়রা জানান, অভিযুক্ত গোলাম হোসেন দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত। পারিবারিক কলহের জের ধরে গোলাম হোসেন তার আপন চাচাকে হত্যা করে বলে দাবী নিহতের পরিবারের। এর আগে প্রায়ই গোলাম তার স্ত্রীকে মারধর করতো, চাচা শাহ জালালসহ প্রতিবেশীরা প্রতিবাদ করলে তখন থেকেই গোলাম ক্ষুব্ধ ছিলেন। পরে গোলামের নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে তার স্ত্রী সন্তানদের নিয়ে ঢাকায় চলে যায়। পরে গোলামও ঢাকায় যায়। শনিবার হঠাৎ ঢাকা থেকে এসে পরদিনই চাচাকে হত্যা করে গোলাম।

 

খবর পেয়ে রবিবার সকালে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন ফুলছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দুরুল হুদা ও সিআইডির কর্মকর্তারা। ঘটনাস্থল থেকে একটি ধারালো ছুরি জব্দ করেছে পুলিশ। এঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানান ফুলছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দুরুল হুদা। তিনি জানান, নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্ত ভাতিজা গোলাম হোসেনকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

গাইবান্ধায় ঘুমন্ত চাচাকে গলা কেটে হত্যার অভিযোগ ভাতিজার বিরুদ্ধে

গাইবান্ধায় ঘুমন্ত চাচাকে গলা কেটে হত্যার অভিযোগ ভাতিজার বিরুদ্ধে   শাহ্ পারভেজ সংগ্রাম, গাইবান্ধা প্রতিনিধি গাইবান্ধায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে চাচাকে গলা কেটে হত্যার অভিযোগ উঠেছে আপন ভাতিজার বিরুদ্ধে। জেলার ফুলছড়ি বিস্তারিত

টানা কয়েক ঘণ্টার ভারী বর্ষণে রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় ভয়াবহ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। প্রধান সড়ক, অলিগলি ও গুরুত্বপূর্ণ মোড় পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে নগরজীবন। কোথাও হাঁটু, আবার কোথাও কোমরসমান পানি জমে থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।

ভারী বৃষ্টির কারণে রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে যানবাহন চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। পানির নিচে ডুবে গেছে অসংখ্য ব্যক্তিগত গাড়ি, মাইক্রোবাস, সিএনজি ও মোটরসাইকেল। অনেক যানবাহন মাঝপথে বিকল হয়ে পড়ায় দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। জরুরি প্রয়োজনে বের হওয়া মানুষকে কোমরসমান পানি মাড়িয়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে দেখা গেছে।

জলাবদ্ধতার কারণে অফিসগামী চাকরিজীবী, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ীসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে চরম ভোগান্তির মুখে পড়তে হয়েছে। অনেক এলাকায় দোকানপাট ও নিচতলার বাসাবাড়িতে পানি ঢুকে পড়ায় ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে গণপরিবহন সংকটের কারণে অনেক যাত্রীকে দীর্ঘ সময় সড়কে অপেক্ষা করতে হয়েছে।

নগরবাসীর অভিযোগ, সামান্য সময়ের ভারী বৃষ্টিতেই রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক পানির নিচে চলে যাওয়া ড্রেনেজ ব্যবস্থার দুর্বলতারই প্রতিফলন। প্রতি বর্ষা মৌসুমেই একই ধরনের জলাবদ্ধতার পুনরাবৃত্তি হলেও স্থায়ী সমাধান মিলছে না বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তারা। দ্রুত পানি নিষ্কাশন ও দীর্ঘমেয়াদি কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা গড়ে তোলার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

আবহাওয়ার এমন পরিস্থিতিতে অপ্রয়োজনীয় বাইরে বের না হওয়া, জলাবদ্ধ এলাকায় সতর্কতার সঙ্গে চলাচল করা এবং বৈদ্যুতিক ঝুঁকি এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় জনদুর্ভোগ অব্যাহত থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

রাজধানী ঢাকায় টানা ভারী বৃষ্টিতে জনজীবন বিপর্যস্ত, তীব্র জলাবদ্ধতায় স্থবির নগরজীবন

টানা কয়েক ঘণ্টার ভারী বর্ষণে রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় ভয়াবহ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। প্রধান সড়ক, অলিগলি ও গুরুত্বপূর্ণ মোড় পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে নগরজীবন। কোথাও হাঁটু, আবার বিস্তারিত

দেশের এক কণা বালুতেও কারও আধিপত্য মেনে নেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বিরোধী দলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

 

শনিবার (১১ জুলাই) দুপুরে রংপুর জেলা স্কুল মাঠে আয়োজিত সমাবেশে এসব কথা বলেন তিনি।

 

তিনি অভিযোগ করেন, সীমান্তে প্রতিবেশী ভারতের নানা তৎপরতা থাকলেও সরকার এ বিষয়ে নীরব রয়েছে। সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, বাংলাদেশের জনগণের প্রত্যাশা ও অনুভূতি বোঝার চেষ্টা করা উচিত।

 

সমাবেশে বক্তারা বলেন, গণভোট এবং জুলাই সনদ অনুযায়ী সংস্কার বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত তাদের আন্দোলন চলবে।

 

এ সময় এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন, দেশের বিভিন্ন গণঅভ্যুত্থানের সঙ্গে বিএনপি প্রতারণা করেছে।

 

সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন এনসিপির সদস্য সচিব আক্তার হোসেন, এলডিপির চেয়ারম্যান অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল অলি আহমেদ (বীর বিক্রম) এবং ১১ দলীয় ঐক্যের অন্যান্য শীর্ষ নেতারা।

দেশের এক কণা বালুতেও কারও আধিপত্য মেনে নেওয়া হবে না-ডা. শফিকুর রহমান

দেশের এক কণা বালুতেও কারও আধিপত্য মেনে নেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বিরোধী দলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।   শনিবার (১১ জুলাই) দুপুরে রংপুর জেলা বিস্তারিত

মাদারীপুর সদর মডেল থানার পুলিশ হেফাজত থেকে গ্রিল ভেঙে পালিয়ে যাওয়া নারী আসামি হাসিনা বেগমকে (৩৫) পুনরায় গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার (১১ জুলাই) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে ঢাকার কেরানীগঞ্জ মডেল থানার জিয়ানগর এলাকার একটি বাসায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়।

 

পুলিশ জানায়, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় হাসিনা বেগমের অবস্থান শনাক্ত করার পর মাদারীপুর সদর মডেল থানার একটি বিশেষ দল কেরানীগঞ্জে অভিযান পরিচালনা করে। পরে তাকে গ্রেপ্তার করে শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মাদারীপুরে নিয়ে আসা হয়। বেলা দেড়টার দিকে আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

 

এর আগে বৃহস্পতিবার রাত দেড়টার দিকে মাদারীপুর সদর মডেল থানার অস্থায়ী ভবনের বারান্দার একটি কক্ষের গ্রিল ভেঙে পালিয়ে যান হাসিনা। ওই রাতে অসামাজিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ইটেরপুল পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা তাকে আটক করেছিলেন। থানার মূল ভবন নির্মাণাধীন থাকায় ওসির সরকারি বাসভবনের নিচতলায় অস্থায়ীভাবে থানার কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। সেখানে হাজতখানা না থাকায় পুলিশি হেফাজতে একটি কক্ষে রাখা হয়েছিল তাকে।

 

মাদারীপুর সদর মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) এস এম শাহারিয়ার জানান, পুলিশি হেফাজত থেকে পালানোর ঘটনায় হাসিনা বেগমের বিরুদ্ধে পৃথক মামলা করা হয়েছে।

 

এদিকে এ ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে এসআই রমজান আলীসহ দুই পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও সদর সার্কেল) ফারিহা রফিকনার নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে তিন কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

থানার গ্রিল ভেঙে পালানো নারী আসামি কেরানীগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার

মাদারীপুর সদর মডেল থানার পুলিশ হেফাজত থেকে গ্রিল ভেঙে পালিয়ে যাওয়া নারী আসামি হাসিনা বেগমকে (৩৫) পুনরায় গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার (১১ জুলাই) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে ঢাকার কেরানীগঞ্জ মডেল বিস্তারিত

পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠাতে ভারত কোন আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করবে, সে সিদ্ধান্ত ভারতের নিজস্ব বিষয় বলে মন্তব্য করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।

 

রোববার (১৬ আগস্ট) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।

 

সম্প্রতি ভারতের সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে প্রত্যর্পণের ক্ষেত্রে ভারতের আদালতের অনুমোদনের প্রয়োজন হতে পারে।

তিনি বলেন, শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে সম্পন্ন করা হয়েছে। এখন ভারতীয় কর্তৃপক্ষ কোন পদক্ষেপ নেবে এবং কোন প্রক্রিয়ায় তাকে বাংলাদেশে পাঠাবে, তা তাদের বিষয়। আদালতের অনুমোদন নেবে, নাকি সরকারের সিদ্ধান্তে তাকে পাঠাবে—সেটি ভারতর বিষয়।

 

ভারতের সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন নিয়ে এর বেশি মন্তব্য করতে চাননি চিফ প্রসিকিউটর। তিনি বলেন, ভারতীয় আইনে এ ধরনের প্রত্যর্পণের ক্ষেত্রে কী প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে, সেটি বাংলাদেশের পক্ষ থেকে নির্ধারণ করার বিষয় নয়।

 

তিনি বলেন, শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দেশে একাধিক মামলা বিচারাধীন এবং একটিতে তিনি ইতোমধ্যে দণ্ডপ্রাপ্ত হয়েছেন। তাই তাকে দ্রুত দেশে এনে আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি করা অত্যন্ত জরুরি। তিনি নিজেও বলেছেন ডিসেম্বরে তিনি আসবেন। আমরা মনে করি, তাকে এর আগেই ইন্ডিয়ান গভর্নমেন্টের পাঠানো উচিত।

 

শেখ হাসিনাকে ফেরানোর বিষয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে আইনি ও কূটনৈতিক পর্যায়ে আলোচনা চলছে বলেও জানান মো. আমিনুল ইসলাম। শেষ পর্যন্ত তাকে হস্তান্তরের বিষয়টি ভারতের আইন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত এবং দুই দেশের পারস্পরিক প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করবে।

শেখ হাসিনাকে কীভাবে ফেরাবে ভারত, সিদ্ধান্ত তাদেরই: চিফ প্রসিকিউটর

সারা দেশের ন্যায় গাইবান্ধায় জাতীয় মৎস পক্ষ-২০২৬ পালন

 

শাহ্ পারভেজ সংগ্রাম গাইবান্ধা প্রতিনিধি

রুপালী মৎস স্বনির্ভর দেশ” সবার আগে বাংলাদেশ” এই প্রতিপাদ্য নিয়ে গাইবান্ধায় জাতীয় মৎস সপ্তাহ দিবস-২০২৬ এর পালন করা হয়েছে । এই উপলক্ষে রোববার দুপুরে জেলা প্রশাসন ও মৎস অধিদপ্তরের আয়োজনে শিল্পকলা একাডেমির মিলনায়তনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

 

জেলা মৎস কর্মকর্তা মোহাম্মদ আব্দুর রাশেদের সভাপতিত্বে ও সিনিয়র উপজেলা মৎস কর্মকর্তার মার্জানের সঞ্চালনায় উপস্থিত ছিলেন সদর-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. আব্দুল করিম সরকার, জেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক মাহমুদুন নবী টিটুল,সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মোশাররফ হোসেন বাবু, সাধারণ সম্পাদক মকছুদার রহমান, পৌর বিএনপির সভাপতি শহিদুজ্জামান শহিদ, সরকারি কলেজের অধ্যাপক আব্দুর রশিদ সরকার। এছাড়া জেলার মৎস খামারীরা ও বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

 

এসময় বক্তারা বলেন, দেশে কর্মসংস্থান, খাদ্য নিরাপত্তা, পুষ্টি, দারিদ্র্য দুর করে কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ও বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে মৎস্য খাত গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে। এ খাতকে আরো আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও রফতানিমুখী করতে সরকার ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। পাশাপাশি এ খাত নিয়ে সরকারের সাফল্য ও ভবিষ্যত নানা পরিকল্পনার কথা তুলে ধরা হয়।

 

আলোচনা শেষে আগত অতিথিরা মৎস চাষে অবদান রাখায়,চিংড়ি, কার্প জাতীয় মাছ, পাঙ্গাশ, কৈ, তেলাপিয়া মাছ উৎপাদনসহ মোট ছয়টি ক্যাটাগরিতে জেলার ৬ জন মৎস খামারী কে সনদ ও সম্মননা স্মারক প্রদান করেন।

 

এরপর একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের হয়ে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক গুলো প্রদক্ষিন করে পৌর পার্কে গিয়ে শেষ হয়। এরপর সেখানে ফেষ্টুন ও বেলুন উড়িয়ে তিন দিন ব্যাপী(১৬-১৮ আগষ্ট) দিবসটির কর্মসুচীর উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক । উদ্বোধন শেষে জেলা পৌর পার্কের জলাশয়ে মাছের পোনা অবমুুক্ত করা হয়।

সারা দেশের ন্যায় গাইবান্ধায় জাতীয় মৎস পক্ষ-২০২৬ পালন

“শ্যামনগরের কৈখালীর রাস্তা সংস্কার না করার প্রতিবাদে রাস্তায় ধান রোপণ করে প্রতিবাদ করেন স্থানীয় যুব সমা”

মো: জাহাঙ্গীর আলম

শ্যামনগর প্রতিনিধি :

 

কৈখালী ইউনিয়নের অবহেলিত আলহাজ্ব মরহুম আদম গাজীর কেয়ার রাস্তা নামে পরিচিত রাস্তাটি দীর্ঘদিন ধরে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে আছে।

সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তাটিতে সৃষ্টি হয়েছে প্রচণ্ড কাদার। ফলে পথচারী ও স্থানীয় এলাকাবাসীকে প্রতিনিয়ত চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

দীর্ঘদিন ধরে রাস্তাটির সংস্কার না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। অবশেষে স্থানীয় যুবক ও এলাকাবাসী ব্যতিক্রমী প্রতিবাদ হিসেবে রাস্তাটির কাদাময় অংশে ধানের চারা রোপণ করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।

তাদের দাবি, দ্রুত রাস্তাটি সংস্কার করে সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক চলাচলের উপযোগী করা হোক। জনদুর্ভোগ লাঘবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।

শ্যামনগরের কৈখালীর রাস্তা সংস্কার না করার প্রতিবাদে রাস্তায় ধান রোপণ করে প্রতিবাদ করেন স্থানীয় যুব সমাজ

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফরের অনুকূল পরিবেশ নেই বলে মনে করছে সরকার।

 

রোববার (১৬ আগস্ট) দুপুরে এক সংক্ষিপ্ত ব্রিফিংয়ে এ কথা জানান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র একে এম শহীদুল করিম।

 

মুখপাত্র বলেন, ‘তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে উভয় দেশ কয়েক সপ্তাহ ধরে পরস্পরের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করছে। তবে, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে দণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনা গত ৫ আগস্ট নতুন দিল্লিতে যেভাবে প্রকাশ্য সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেছেন, তাতে এই প্রক্রিয়ার পরিবেশ বিনষ্ট হয়েছে।

 

শহীদুল করিম আরও বলেন, ‘দ্বিপক্ষীয় প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী শেখ হাসিনা এবং অন্য পলাতক অপরাধীদের দ্রুত ফেরত পাঠাতে এবং শহীদ শরীফ ওসমান হাদী হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত ঘাতকদের বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তর করতে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ জানিয়েছি। বাংলাদেশ এই জবাবের অপেক্ষায় আছে।’

 

এ সময় সরকারের পক্ষ থেকে পুনর্ব্যক্ত করা হয়, সার্বভৌম সমতা, জাতীয় মর্যাদা, একে অপরের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা এবং পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে প্রতিবেশীদেরসহ অন্য সব দেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক উন্নয়নে আমরা আমাদের “বাংলাদেশ ফার্স্ট” (বাংলাদেশ প্রথম) নীতি অব্যাহত রাখব।’

ভারত সফরের অনুকূল পরিবেশ নেই: পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র

সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতে গ্যাসের সংকট না থাকলে তারা ঝুঁকি নিয়ে এলপিজি ব্যবহার করতেন না দাবি করে অটোরিকশা চালক দিদার ইসলামের।

 

তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের বলেন, গ্যাসের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। অনেক সময় সারা দিনেও গ্যাস পাওয়া যায় না। গাড়ি না চালালে পরিবারের খরচ চলবে কীভাবে? তারমধ্যে রয়েছে কিস্তি। তাই বাধ্য হয়ে বিকল্প হিসেবে এলপিজি ব্যবহার করছি।

 

হাটহাজারী ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের সিনিয়র স্টেশন অফিসার মোহাম্মদ আব্দুল মান্নান বলেন, এলপি গ্যাস অত্যন্ত দাহ্য। সিলিন্ডারে ত্রুটি, অসতর্কতা কিংবা পরিবহনের সময় আগুনের সংস্পর্শে এলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। বিশেষ করে যাত্রীবাহী অটোরিকশায় এভাবে সিলিন্ডার বহন অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।

 

এ ব্যাপারে জানতে চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি-রাঙ্গামাটি মহাসড়কের দায়িত্বে নিয়োজিত রাউজান হাইওয়ে থানার ওসি মোহাম্মদ আশরাফ উদ্দিনের মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি তিনি সাড়া দেননি।

মহাসড়কে রান্নার সিলিন্ডারে চলছে সিএনজিচালিত অটোরিকশা, বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা

বিয়ের দাবিতে বিষের বোতলসহ সৌদি প্রবাসী এক যুবকের বাড়িতে অনশন শুরু করেন এক তরুণী। বিয়ে না করলে সেই বিষপান করে আত্মহত্যার হুমকি দেন তিনি। অবশেষে ১২ ঘন্টা পর বাধ্য হয়ে কবুল বলে বিয়ের কাজ সারলেন সৌদি প্রবাসী ওই যুবক।

 

ঘটনাটি ঘটেছে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার গুমানীগঞ্জ ইউনিয়নের অনন্তপুর নয়াপাড়া গ্রামে। অনশনের বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে জানাজানি হয়।

 

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন গুমানিগঞ্জ ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মাহতাব মন্ডল। তিনি মুঠোফোনে বলেন, শুক্রবার রাত ১১টায় তরুণী বিয়ের দাবিতে অনশন শুরু করে। পরে গ্রামের গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মধ্যস্থতায় শনিবার সকালে তাদের বিয়ে সম্পন্ন করা হয়।

 

এলাকাবাসী জানায়, অনন্তপুর নয়াপাড়া গ্রামের তাজুল ইসলামের ছেলে সৌদি প্রবাসী রাশেদুল ইসলামের(৪০) সঙ্গে সুরভি খাতুন (২৬) নামের এক তরুণীর প্রেমের সম্পর্ক ছিল। দীর্ঘ দিনেও বিয়ে না করায় শুক্রবার দিবাগত রাত ১১টার দিকে হাতে বিষের বোতল নিয়ে রাশেদুল ইসলামের বাড়িতে বিয়ের দাবিতে অবস্থান নেন ওই তরুণী। বিয়ে না করলে আত্মহত্যা করবেন বলে হুমকি দেন। এ সময় তিনি বাড়ির প্রধান ফটকের সামনে বসে কান্নাকাটি শুরু করেন।

 

খবরটি ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় লোকজন সেখানে ভিড় জমাতে থাকেন। এ নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে স্থানীয় মুরুব্বি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ঘটনাস্থলে গিয়ে মধ্যস্থতা করে বিয়ের ব্যবস্থা করেন। অতঃপর সৌদি থেকেই কবুল বলে বিয়ের কাজ সারেন সৌদি প্রবাসী ওই যুবক।

 

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে গোবিন্দগঞ্জ থানার ওসি মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক বলেন, এ বিষয়ে কেউ থানায় অভিযোগ দেয়নি। তবে শনিবার তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে বলে শুনেছি।

বিষের বোতল নিয়ে প্রবাসীর বাড়িতে তরুণীর অনশন

রাজধানীর কুড়িল চৌরাস্তা-সংলগ্ন একটি সিএনজি পাম্পে গ্যাস নেওয়ার সময় প্রাইভেটকারের গ্যাস সিলিন্ডারে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এতে ওই গাড়ি ও পাম্পের দুটি গ্যাস চেম্বার পুড়ে গেছে।

 

রোববার (১৬ আগস্ট) ভোররাতের দিকে ‘প্রগতি ফিলিং স্টেশন লিমিটেড’ নামের ওই সিএনজি পাম্পে এ দুর্ঘটনা ঘটে। তবে এই ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

 

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ওই প্রাইভেটকারটিতে সিএনজি গ্যাস নেওয়ার সময় হঠাৎ গ্যাস সিলিন্ডারটিতে বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণের পর সিলিন্ডারটি তীব্র বেগে ছিটকে পাশের ডিটিএক্স বিল্ডিংয়ে গিয়ে পড়ে। এতে ওই ভবনের কয়েকটি কাচ ভেঙে যায়। একই সময়ে সিএনজি পাম্পেও আগুন ধরে যায়।

পুলিশ জানিয়েছে, ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই পাম্পে উপস্থিত লোকজন আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন। এ ঘটনায় প্রাইভেটকারটি এবং ফিলিং স্টেশনের দু’টি গ্যাস চেম্বার পুড়ে গেছে।এ বিষয়ে ভাটারা থানার ওসি মাজারুল ইসলাম বলেন, ‘ভোররাতে প্রাইভেটকারে গ্যাস নেওয়ার সময় পেছন থেকে আরেকটি প্রাইভেটকার ধাক্কা দিলে মুহূর্তেই ওই গাড়িতে আগুন ধরে যায়। পরে সিএনজি স্টেশনের লোকজন এবং ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।’

 

ওসি আরও জানান, বিস্ফোরণ ও আগুনের এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

কুড়িলে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে পুড়ল প্রাইভেটকার ও সিএনজি পাম্প

যারা রাজপথে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত করতে চাইবে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে তাদের কঠোরভাবে প্রতিরোধ করা হবে বলে হুঁশিয়ার করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

 

রোববার (১৬ আগস্ট) দুপুরে কিশোরগঞ্জ পৌঁছে পাকুন্দিয়ায় উপজেলার মির্জাপুর চেয়ারম্যান বাড়ি ঘাট এলাকায় আয়োজিত জনসভায় তিনি এ কথা বলেন।

 

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, পতিত স্বৈরাচারের রেখে যাওয়া ধ্বংসস্তূপ থেকে দেশ পুনর্গঠনের কাজ চলছে। এ অবস্থায় যারা রাজপথে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত করতে চাইবে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে তাদের কঠোরভাবে প্রতিরোধ করা হবে।

যেকোনো সংকট মোকাবিলায় দেশবাসীকে ধৈর্য ধারণের আহ্বান জানিয়ে সরকারপ্রধান বলেন, সংকটের সুযোগ নিয়ে কিছু ব্যক্তি রাজপথে বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা করছে। এতে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা ও ব্যবসা-বাণিজ্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

 

‘‘আজকে শপথ গ্রহণ করি, সকলে প্রতিজ্ঞা করি যে দেশের স্বার্থের বিরুদ্ধে যারা কাজ করবে, যারা বিশৃঙ্খলা তৈরি করবে যারা জনগণের স্বার্থে নেওয়া বিভিন্ন কর্মসূচি বাধাগ্রস্ত করবে তাদেরকে জনগণের সকল শক্তি নিয়ে প্রতিরোধ করবে। এখন দেশের মানুষ এখন দেশের শান্তি চায়, দেশের মানুষ এখন আইনের শাসন চায় দেশের মানুষ কর্মসংস্থান চায়, দেশের মানুষ তার সন্তানদের জন্য শিক্ষা চায়, দেশের মানুষ তার পরিবারের জন্য স্বাস্থ্য ব্যবস্থা চায়… এই কাজগুলো যদি করতে হয় আমাদেরকে তাহলে ধৈর্য ধরতে হবে। একই সাথে আমাদেরকে সতর্ক থাকতে হবে যারা বিশৃঙ্খলা তৈরি করছে তাদের ব্যাপারে।”

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে আগামীতে একটি ওয়েলফেয়ার স্টেট গঠন করা, একটি কল্যাণমুখী রাষ্ট্র গঠন করা এবং সে কারণে আমরা কি কি পদক্ষেপ গ্রহণ করছি। ফ্যামিলি কার্ডসহ বিভিন্ন কর্মসূচি আমরা শুরু করেছি। যা আপনাদের সামনে আমি তুলে ধরেছি।

 

‘‘এখানে আপনারা হাজার হাজার মানুষ সমর্থন দিয়ে বলেছেন যে এই পরিকল্পনাগুলো যদি বাস্তবায়িত হয় তাহলে বাংলাদেশের মানুষ উপকৃত হবে। তাই তো নাকি? ঠিক। আপনাদেরকে বলতে চাই আপনারা যে সমর্থন দিয়েছিলেন ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে সেই সমর্থনের উপরে আপনারা আস্থা ধরে রাখুন। “

রাজপথে বিশৃঙ্খলা করলে কঠোরভাবে প্রতিরোধ করা হবে: প্রধানমন্ত্রী

আগামী পাঁচ বছরের জন্য নিজেকে কুষ্টিয়া সদর আসনের ‘প্রধানমন্ত্রী’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন সংসদ সদস্য (এমপি) মুফতি মো. আমির হামজা।

 

শনিবার (১৫ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া (ভাইরাল) একটি ভিডিওতে নিজের সংসদীয় এলাকার (কুষ্টিয়া-৩) জনসাধারণের উদ্দেশে দেয়া এক বক্তব্যে এই মন্তব্য করতে দেখা যায় তাকে।

 

ভিডিওতে দেখা যায়, স্থানীয় জনগণের সামনে আমির হামজা নিজের সংসদীয় আসনের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের প্রক্রিয়া নিয়ে কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘আগামী পাঁচ বছরে কুষ্টিয়া সদর আসনের জন্য আমিই প্রধানমন্ত্রী। বাজেটগুলো সরকার দেবে, ওটা দেবে আমির হামজার হাতে। এটা কি কোনো ফেরেশতার হাতে দেবে?’

 

উন্নয়ন কাজের কৃতিত্ব নিয়ে জনসাধারণের উদ্দেশে প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘ফেরেশতারা কী বলে? আর মানুষ নাচে যে উন্নয়ন কাজ করে দিয়েছে। সে কি তার বাবার টাকা নিয়ে এসে করবে? এই পাগলামিগুলো আর বিশ্বাস করা যাবে না।’

আগামী ৫ বছর কুষ্টিয়া সদরের প্রধানমন্ত্রী আমি: আমির হামজা

জামায়াত-শিবির বাড়াবাড়ি করলে আজীবন গুপ্ত থাকার ব্যবস্থা করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী এবং গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর। তিনি অভিযোগ করে বলেছেন, রগকাটা জামায়াত-শিবির তার স্বরূপে ফিরেছে।

 

গতকাল শনিবার (১৫ আগস্ট) রাতে নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি এ মন্তব্য করেন।

 

ফেসবুক পোস্টে নুর অভিযোগ করে বলেন, কুষ্টিয়ায় গণঅধিকার পরিষদের শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ সমাবেশে জামায়াতের কর্মীরা রামদা, হকিস্টিক, ছুরি ও চাপাতি নিয়ে হামলা চালিয়েছেন। এতে কুষ্টিয়া জেলা গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল খালেক, ছাত্র অধিকার পরিষদের কুষ্টিয়া সরকারি কলেজ শাখার সভাপতি সোহান আহমেদসহ অর্ধশতাধিক নেতা-কর্মী গুরুতর আহত হয়েছেন বলে জানান তিনি।

 

তিনি আরও বলেন, ‘রগকাটা জামাত-শিবির তার স্বরূপে ফিরেছে। কুষ্টিয়া গণঅধিকার পরিষদের শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ সমাবেশে জামায়াতের সন্ত্রাসীরা রামদা, হকিস্টিক, ছুরি, চাপাতি নিয়ে উপর্যুপরি হামলা করেছে।’

 

নুর আরও বলেন, ‘জামাত-শিবিরের এই সন্ত্রাসী হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। একই সঙ্গে জামাত-শিবিরকে স্মরণ করিয়ে দিতে চাই, গত দেড় দশক যেভাবে গুপ্ত ছিলেন, বাড়াবাড়ি করলে আজীবন গুপ্ত থাকার ব্যবস্থা করা

হবে।’

 

জামায়াত-শিবির বাড়াবাড়ি করলে আজীবন গুপ্ত থাকার ব্যবস্থা করা হবে

র‌্যাবের চৌকস অভিযানে জীপসহ প্রায় ১১ হাজার ইয়াবার চালান আটক

জামালপুর হামলা পাল্টা হামলার মধ্য দিয়ে জেলার সানন্দবাড়ী তে থমথমে অবস্থা বিরাজমান।

পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের ও আদালতে মিথ্যা হলফনামা দেয়ার অভিযোগে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কেবিন ক্রু খাদিজা সুলতানা শিমুর বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

 

বুধবার (১৫ জুলাই) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২-এর বিচারক মো. জাকির হোসাইন এ আদেশ দেন। আদালতের আদেশে বলা হয়েছে, শিমুর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর ১৩ ধারা এবং দণ্ডবিধির ১৮১, ১৮২ ও ১৯৩ ধারায় মামলা করা হবে। আদালত নিজেই এ মামলার বাদী হয়েছেন।

 

আদালতের নথি অনুযায়ী, খাদিজা সুলতানা শিমু মামলার বাদী হয়ে বেসরকারি একটি এয়ারলাইন্সের কর্মকর্তা মো. ওমর ফারুক চৌধুরীর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনের বিভিন্ন ধারায় উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলা করেন।

 

তদন্ত শেষে উত্তরা পশ্চিম থানার তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে জানান, অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি। প্রতিবেদনে বলা হয়, মামলার এজাহারে উল্লেখ করা ফেসবুক লিংক, ডিজিটাল আলামত ও অন্যান্য তথ্য যাচাই করে ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি প্রচারের কোনো প্রমাণ মেলেনি। ফলে ওই কর্মকর্তাকে মামলা থেকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়।

একই সঙ্গে তদন্ত কর্মকর্তা প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, ওমর ফারুক আগে শিমুর বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন দিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে আদালতে মামলা করেছিলেন। সেই মামলার দায় এড়াতেই শিমু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত বিভিন্ন লিংক উল্লেখ করে তার বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি ছড়ানোর অভিযোগ এনে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, হয়রানিমূলক ও মিথ্যা মামলা করেছেন বলে প্রাথমিক তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে। এ কারণে শিমুর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর ১৩ ধারায় আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার আবেদনও করেন তদন্ত কর্মকর্তা।

 

পরে গত ৯ জুলাই আদালত তদন্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করে ওমর ফারুককে মামলা থেকে অব্যাহতি দেন। আদালতের আদেশে বলা হয়, শিমু ক্ষতিসাধনের উদ্দেশ্যে আদালতে মিথ্যা মামলা দায়ের করেছেন এবং হলফ করে মিথ্যা সাক্ষ্য দিয়েছেন। মামলার নথিতে তার দেয়া হলফনামাও সংযুক্ত রয়েছে। এসব বিবেচনায় আদালত নিজেই বাদী হয়ে তার বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন ও দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়েরের নির্দেশ দেন।

 

তদন্তে যা উঠে এসেছে পুলিশের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, তদন্তকালে রেকর্ড, ডিজিটাল আলামত, ফেসবুক লিংক ও ফরেনসিক তথ্য যাচাই করে ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি প্রচারের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

 

তদন্তে আরও উঠে আসে, শিমু বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কেবিন ক্রু এবং ওমর ফারুক একটি বেসরকারি এয়ারলাইন্সের এয়ারক্রাফট মেইনটেন্যান্স কর্মকর্তা। ফেসবুকে পরিচয়ের পর তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

 

প্রতিবেদনে বলা হয়, বিয়ের আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন সময়ে ওমর ফারুকের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী নেয়ার অভিযোগে ওমর ফারুক আদালতে পৃথক মামলা করেন। এরপর সেই মামলার দায় থেকে নিজেকে রক্ষা করতেই শিমু পর্নোগ্রাফি আইনে অভিযোগ দায়ের করেন বলে তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে।

 

ওমর ফারুকের আগের মামলা গত ২০ জুলাই ওমর ফারুক চৌধুরী শিমুর বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন, ‘হানি ট্র্যাপ’ ও ব্ল্যাকমেইলের মাধ্যমে প্রায় ২২ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ঢাকার আদালতে মামলা করেন। আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে উত্তরা পশ্চিম থানাকে তদন্তের নির্দেশ দেন। পরে তিনি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষের কাছেও লিখিত অভিযোগ করেন।

 

সেই মামলায় অভিযোগ করা হয়, ২০২৪ সালে ফেসবুকে পরিচয়ের পর শিমু তাকে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন সময়ে টাকা নেন। জন্মদিনে দেড় লাখ টাকা মূল্যের একটি হীরার আংটিসহ বিয়ের খরচের জন্য মোট ২১ লাখ ৭৪ হাজার ৫১১ টাকা নেয়ার পরও বিয়ে না করে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে মামলায় দাবি করা হয়।

পর্নোগ্রাফি আইনে কেবিন ক্রু শিমুর বিরুদ্ধে মামলার নির্দেশ আদালতের

error: আপনি নিউজ চুরি করার চেষ্টা করছেন। বিশেষ প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন ০১৭৬৭৪৪৪৩৩৩