শীর্ষখবর - Gono television | বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল।

 

ঝিনাইদহে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)র মুখ্য সংগঠক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (২২ মে) দুপুরে এ ঘটনা ঘটে।

 

ঝিনাইদহে পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী জেলা প্রশাসকের বাসভবনের ঠিক বিপরীতে পৌর কালেক্টর জামে মসজিদে জুমআর নামাজ আদায় শেষে বের হওয়ার পরপরই ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মী পুলিশের উপস্থিতিতেই হামলা শুরু করে। প্রথমে ডিম, ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করা হয়, এরপর হকিস্টিক দিয়ে অতর্কিতভাবে আঘাত করা হয়। তিনজনের মাথা ফাটিয়ে দেওয়া হয় এবং বেশ কয়েকজন আহত হন। আমাকে লক্ষ্য করেও কিল-ঘুষি মারা হয়।

 

এ সময় হামলাকারীরা মোবাইল ফোন, ক্যামেরা এবং মানিব্যাগ ছিনিয়ে নেয়।

 

ঘটনার পর আমরা বর্তমানে থানায় অবস্থান করছি এবং মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছি।ছাত্রদল, যুবদল, বিএনপি আবার থানার সামনে হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলা

  ঝিনাইদহে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)র মুখ্য সংগঠক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (২২ মে) দুপুরে এ ঘটনা ঘটে।   ঝিনাইদহে পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী জেলা প্রশাসকের বাসভবনের ঠিক বিস্তারিত

দিনে দিনে সিলেট বিভাগে হামের পরিস্থিতি আশঙ্কাজনক রূপ ধারণ করেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় এ বিভাগে হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও ৫ শিশুর মৃত্যু হয়।

 

এরমধ্যে সিলেটের ১জন, সুনামগঞ্জের ৩ জন ও হবিগঞ্জের ১ জন রয়েছেন। এনিয়ে বিভাগে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে ৪৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। বর্তমানে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি রয়েছেন ২৮৩ জন রোগী। শুক্রবার (২২ মে) সিলেট বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয় থেকে এই তথ্য জানা গেছে।

 

গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া ৫ শিশু হলেন- হবিগঞ্জের নবীগঞ্জের আব্দুল মালিকের ৫ মাস বয়সী মেয়ে রাইসা, সুনামগঞ্জের ছাতকের ইশাক আলীর ৬ বছর বয়সী ছেলে আলী আফসান, দিরাইর মুসাদ্দিক মিয়ার ১০ মাস বয়সী মেয়ে মুসলিমা, সদরের ৪ বছর ২ মাস বয়সী শামিমা ও সিলেট সদরের বাহরাম আহমেদের ১ বছর ২ মাস বয়সী ছেলে মো. রাশেদ আহমেদ। তাদের মধ্যে রাইসা ও আলী আফসান সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে, মুসলিমা ও রাশেদ সিলেট শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে এবং সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে শামিমা মারা যান।

 

গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৭৪ জন রোগী। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৩২ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন সিলেট শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে। বর্তমানে বিভাগের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে মোট ২৮৩ জন সন্দেহজনক হাম রোগী চিকিৎসাধীন।

 

এর মধ্যে শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ৮০ জন, ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৫৯ জন এবং সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ৫৫ জন ভর্তি আছে। এ ছাড়া মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ১৪ জন, হবিগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ১৯ জনসহ বিভিন্ন হাসপাতালে রোগীরা চিকিৎসা নিচ্ছে।

সিলেটে হাম উপসর্গে একদিনে প্রাণ গেল ৫ শিশুর

দিনে দিনে সিলেট বিভাগে হামের পরিস্থিতি আশঙ্কাজনক রূপ ধারণ করেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় এ বিভাগে হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও ৫ শিশুর মৃত্যু হয়।   এরমধ্যে সিলেটের ১জন, বিস্তারিত

১১ নারীকে ধর্ষণের পর নির্মমভাবে হত্যার ঘটনায় কুখ্যাত সিরিয়াল কিলার রসু খাঁ গ্রেপ্তারের দেড় যুগ পরও বেঁচে আছেন— এমন এক চরম সত্যের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আবারও প্রশ্ন উঠছে আমাদের বিচার ব্যবস্থার দীর্ঘসূত্রিতা নিয়ে।

 

সম্প্রতি রাজধানীর পল্লবীতে ৭ বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় যখন দেশজুড়ে ক্ষোভের আগুন জ্বলছে, তখন অপরাধীদের দ্রুত বিচার ও সাজা কার্যকর না হওয়ার বিষয়টি নতুন করে সামনে এসেছে।

 

তদন্তে দেরি, রায়ের দীর্ঘসূত্রিতা এবং একের পর এক আপিলের বেড়াজালে বছরের পর বছর আটকে থাকছে চাঞ্চল্যকর সব মামলার সাজা। গত বছর ঘটে যাওয়া ৮ বছর বয়সী আছিয়া হত্যাকাণ্ডের আসামির ফাঁসির রায় হলেও সেটি এখনও আপিলেই ঝুলে আছে। আর দেশের ইতিহাসের অন্যতম ভয়ংকর সিরিয়াল কিলার রসু খাঁ গ্রেপ্তারের ১৮ বছর পেরিয়ে গেলেও তার চূড়ান্ত শাস্তি এখনও কার্যকর করা যায়নি।

 

চাঁদপুর সদরের মদনা গ্রামের বাসিন্দা রসু খাঁ শুরুতে ছিলেন একজন সাধারণ ছিঁচকে চোর। ২০০৯ সালের ৭ অক্টোবর টঙ্গী থেকে একটি মসজিদের ফ্যান চুরির মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। কিন্তু জিজ্ঞাসাবাদের মুখে বেরিয়ে আসে এক গা শিউরে ওঠা অধ্যায়। রসু খাঁ নিজেই স্বীকার করেন— তিনি একে একে ১১ জন নারীকে ধর্ষণ ও খুন করেছেন। তার লক্ষ্য ছিল ১০১টি হত্যাকাণ্ড ঘটানো!

 

প্রেমে ব্যর্থ হয়ে এবং টঙ্গীতে এক পোশাকশ্রমিকের সঙ্গে প্রেম করতে গিয়ে গণপিটুনির শিকার হওয়ার পর নারীদের প্রতি তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিশোধস্পৃহা তৈরি হয় তার মনে। এরপরই তিনি শপথ নেন, ১০১ জন নারীকে হত্যা করে মাজারে গিয়ে তওবা করবেন। সবাইকে প্রেমের অভিনয় ও বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ফাঁদে ফেলতেন রসু। ২০০৭ সালের শুরুতে নিজের শ্যালকের স্ত্রী রীনাকে হত্যার মধ্য দিয়ে তার এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড শুরু হয়।

 

রসু খাঁর লালসার শিকার হওয়া নারীদের প্রায় সবাই ছিলেন ১৬ থেকে ৩৫ বছর বয়সী পোশাকশ্রমিক। এদের মধ্যে ফরিদগঞ্জে ৬ জন, চাঁদপুর সদরে ৪ জন এবং হাইমচরে ১ জনকে নির্মমভাবে হত্যা করেন তিনি। শিকার হওয়া নারীদের বেশিরভাগেরই সঠিক পরিচয় না পাওয়ায় পরবর্তীতে মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে পুলিশকে বেশ বেগ পেতে হয়। তার বিরুদ্ধে মোট ১০টি মামলা দায়ের করা হয়েছিল, যার মধ্যে ৯টি হত্যা এবং ১টি নারী ও শিশু নির্যাতন আইনের মামলা।

 

২০০৯ সালের ২০ জুলাই রাতে ফরিদগঞ্জের হাসা খালের পাশে পারভীন নামে এক পোশাকশ্রমিককে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করেন রসু খাঁ ও তার সহযোগীরা। এই মামলায় ২০১৮ সালের ৬ মার্চ চাঁদপুরের আদালত রসু খাঁসহ তিনজনকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেন।

 

পরবর্তীতে এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা হলে দীর্ঘ শুনানি শেষে ২০২৪ সালের ৯ জুলাই হাইকোর্ট রসু খাঁর মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন। তবে হাইকোর্টের রায়ের পরও আজ পর্যন্ত তার ফাঁসি কার্যকর করা হয়নি। অন্যদিকে, তার বিরুদ্ধে থাকা বাকি মামলাগুলোর অগ্রগতিও নামমাত্র।

 

৫২ বছর বয়সী রসু খাঁ বর্তমানে গাজীপুরের কাশিমপুর হাইসিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগারের কনডেম সেলে (ফাঁসির সেল) বন্দি আছেন। কিছুদিন আগে তাকে কুমিল্লার কারাগার থেকে সেখানে স্থানান্তর করা হয়।

 

জানা গেছে, রসু খাঁ বর্তমানে সম্পূর্ণ সুস্থ ও স্বাভাবিক আছেন। কারাগারের নিয়ম অনুযায়ী তাকে ভেতরের সাধারণ খাবারই খেতে দেওয়া হয়। তবে গ্রেপ্তার হওয়ার পর এই দীর্ঘ ১৮ বছরে কোনো স্বজন বা শুভাকাঙ্ক্ষী তাকে কারাগারে দেখতে আসেননি।

 

দেশের মানুষ এখন একটাই প্রশ্ন তুলছেন— এমন জঘন্য অপরাধের অকাট্য প্রমাণ এবং আদালতের রায়ের পরও কেন বছরের পর বছর বেঁচে থাকে রসু খাঁর মতো সিরিয়াল কিলাররা? দ্রুত সাজা কার্যকর না হলে এই ধরনের অপরাধ প্রবণতা কীভাবে কমবে, সেই জবাবই খুঁজছে সাধারণ মানুষ।

১১ নারীকে ধর্ষণের পর হত্যা: দেড় যুগ পরও বিচার হয়নি সিরিয়াল কিলার রসু খাঁর

১১ নারীকে ধর্ষণের পর নির্মমভাবে হত্যার ঘটনায় কুখ্যাত সিরিয়াল কিলার রসু খাঁ গ্রেপ্তারের দেড় যুগ পরও বেঁচে আছেন— এমন এক চরম সত্যের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আবারও প্রশ্ন উঠছে আমাদের বিচার ব্যবস্থার বিস্তারিত

রাজধানীর পল্লবীতে সাত বছরের শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় এবার মুখ খুললেন বাংলাদেশ জাতীয় দলের ক্রিকেটার তানজিম হাসান সাকিব।

 

বৃহস্পতিবার (২১ মে) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে আলোচিত এই বিষয় নিয়ে মন্তব্য করেন তিনি।আল্লাহর দেওয়া বিধান মধ্যযুগীয় নয় বরং সকল যুগের জন্য পরিপূর্ণ সমাধান। বুঝের অভাবের কারণে মানুষ এটা বুঝতে পারে না।

 

প্রসঙ্গত, এর আগে রামিসার ধর্ষককে প্রকাশ্যে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ বলেন, আমরা এখন মধ্যযুগে নাই, আমরা আধুনিক যুগে। আইন সংস্কারটা একটা চলমান প্রক্রিয়া। সমাজের চাহিদা অনুসারে এবং সময়ের চাহিদা অনুসারে সকল আইনকে আপটুডেট করতে হয়, এগুলো ইমশোনালি করা যায় না।

আল্লাহর দেওয়া বিধান মধ্যযুগীয় নয়, সকল যুগের সমাধান

রাজধানীর পল্লবীতে সাত বছরের শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় এবার মুখ খুললেন বাংলাদেশ জাতীয় দলের ক্রিকেটার তানজিম হাসান সাকিব।   বৃহস্পতিবার (২১ মে) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া বিস্তারিত

রাজধানীর পল্লবীতে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় রোববার (২৪ মে)-এর মধ্যে পুলিশ চার্জশিট জমা দেবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

 

বৃহস্পতিবার (২১ মে) রাতে মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের সঙ্গে নিয়ে নিহত শিশুটির পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সাক্ষাৎ শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাংবাদিকদের এ কথা জানান।

 

তিনি বলেন, আগামী রোববারের মধ্যে পুলিশ এ মামলার চার্জশিট আদালতে জমা দেবে। মামলাটির বিচার কার্যক্রম দ্রুত শুরু করা হবে।

 

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, এ ধরনের মামলার দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে প্রয়োজন হলে আইন সংশোধনও করবে সরকার।

 

ভুক্তভোগী পরিবারটির আরেক মেয়ের লেখাপড়াসহ সার্বিক দায়িত্ব প্রধানমন্ত্রী নিয়েছেন বলেও জানান তিনি।

 

প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং থেকে জানানো হয়, প্রধানমন্ত্রী শিশুটির পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। একই সঙ্গে তিনি দ্রুত ও সুষ্ঠু তদন্ত নিশ্চিত করার আশ্বাস দেন।

রামিসা হত্যাকাণ্ড ‘রোববারের মধ্যে চার্জশিট জমা দেবে পুলিশ’

রাজধানীর পল্লবীতে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় রোববার (২৪ মে)-এর মধ্যে পুলিশ চার্জশিট জমা দেবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।   বৃহস্পতিবার (২১ মে) রাতে মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের সঙ্গে নিয়ে নিহত শিশুটির বিস্তারিত

রাজধানীর পল্লবীতে আলোচিত রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা ঘটনায় ক্ষোভে ফুঁসে উঠেছে এলাকাবাসী। হত্যাকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তি ও দ্রুত বিচার দাবিতে বৃহস্পতিবার (২১ মে) দিবাগত রাতে মিরপুর ১০ নম্বর গোলচত্বর অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন স্থানীয়রা।

 

বিক্ষোভের ফলে ওই এলাকায় যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। এ সময় আন্দোলনকারীরা ‘জাস্টিস ফর রামিসা’, ‘ফাঁসি চাই’সহ বিভিন্ন স্লোগানে পুরো এলাকা মুখরিত করে তোলেন।

 

বিক্ষোভকারীরা বলেন, দেশে বিচারপ্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতার কারণেই এমন নৃশংস ঘটনা বারবার ঘটছে। তারা দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন করে আসামিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। অনেকেই ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের দাবিও তোলেন।

 

এর আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিহত শিশুর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে গভীর সমবেদনা জানান এবং দ্রুত ও সুষ্ঠু তদন্তের আশ্বাস দেন।

 

গত মঙ্গলবার (১৯ মে) সকালে রাজধানীর পল্লবীর একটি বাসা থেকে রামিসার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় দেশজুড়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়।

 

মামলার প্রধান আসামি জাকির হোসেন ওরফে সোহেল রানাকে নারায়ণগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, পরে তিনি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

রামিসা হত্যাকারীদের বিচার দাবিতে মধ্যরাতে উত্তাল মিরপুর

রাজধানীর পল্লবীতে আলোচিত রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা ঘটনায় ক্ষোভে ফুঁসে উঠেছে এলাকাবাসী। হত্যাকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তি ও দ্রুত বিচার দাবিতে বৃহস্পতিবার (২১ মে) দিবাগত রাতে মিরপুর ১০ নম্বর গোলচত্বর অবরোধ করে বিস্তারিত

ছোটপর্দার নিয়মিত মুখ অভিনেত্রী প্রিয়ন্তী উর্বী। সম্প্রতি তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া একটি স্ট্যাটাসে নিজের শৈশবের ভয়াবহ এক অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেছেন, যেখানে অভিনেত্রী ছোটবেলায় আপত্তিকর স্পর্শের শিকার হয়েছিলেন বলে জানান।

 

সম্প্রতি রাজধানীর মিরপুরে নিষ্পাপ শিশু রামিসাকে নৃশংসভাবে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনার প্রেক্ষিতে ক্ষোভে ফুঁসছে গোটা দেশ। সব শ্রেণির মানুষের পাশাপাশি নিজেদের জায়গা থেকে শোবিজ অঙ্গণের অনেক তারকাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন। সেই ধারাবাহিকতায় নিজের অভিজ্ঞতা ভাগ করেন উর্বী।

 

ফেসবুক স্ট্যাটাসে এই অভিনেত্রী লিখেছেন, ‘কিছু ঘটনা মানুষ ভুলে যায় না, শুধু চুপ করে বাঁচতে শিখে। আমিও শিখেছিলাম। তাই নিজেকে সব সময় ব্যস্ত রাখি, যেন মাথার ভেতরের শব্দগুলো একটু শান্ত হয়।

 

কিন্তু যখনই কোনো শিশুর অ্যাবিউডজ কিংবা রেপের খবর দেখি, আমি ভেতর থেকে ভেঙে পড়ি। কারণ, ছোটবেলায় আমিও ইনঅ্যাপ্রোপিয়েট টাচ (আপত্তিকর স্পর্শ) এর শিকার হয়েছিলাম।’

 

শৈশবের সেই তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা মনে করে অভিনেত্রী বলেন, ‘তখন বুঝতাম না, ঠিক কী হচ্ছে, শুধু মনে হতো, এটা স্বাভাবিক না। আব্বু-আম্মু তো কখনো এভাবে ধরেনি। আজ ভাবি, ৪-৫ বছরের একটা বাচ্চার মনে কতটা ভয় ঢুকে যায় এসব থেকে। কত প্রশ্ন, কত অস্বস্তি, কত-না বলা কান্না জমে থাকে বছরের পর বছর।’

 

ধর্ষকের কঠিন শাস্তি হওয়া উচিত উল্লেখ করে তিনি লেখেন, ‘আমি আজও বিশ্বাস করি রেপিস্ট আর অ্যাবিউজারদের কঠিন শাস্তি হওয়া উচিত। কারণ, তারা শুধু একটা মানুষকে না, একটা শিশুর নিরাপত্তাবোধ, বিশ্বাস আর শৈশবকে মেরে ফেলে। আর একটা জিনিস আমি খুব বিশ্বাস করি, মানুষের কর্মের ফল একদিন না একদিন এই পৃথিবীতেই ফিরে আসে। আল্লাহ সব দেখেন।’

 

সবট্যাটাসের শেষাংশে অভিনেত্রী যোগ করেন, ‘আজ খুব আব্বুকে মিস করছি। শুটিং, কাজ, ব্যস্ততা সবকিছুর মাঝেও মাঝে মাঝে মনে হয়, কোথাও হারিয়ে যাই, এমন একটা জায়গায় যেখানে কেউ আমাকে চেনে না। হয়তো সেখানে একটু শান্তি পাওয়া যেত।’

ছোটবেলায় আমিও আপত্তিকর স্পর্শের শিকার হয়েছিলাম: উর্বী

ছোটপর্দার নিয়মিত মুখ অভিনেত্রী প্রিয়ন্তী উর্বী। সম্প্রতি তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া একটি স্ট্যাটাসে নিজের শৈশবের ভয়াবহ এক অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেছেন, যেখানে অভিনেত্রী ছোটবেলায় আপত্তিকর স্পর্শের শিকার হয়েছিলেন বলে জানান। বিস্তারিত

শিশু রামিসা হত্যার প্রতিবাদে সাতক্ষীরায় মানববন্ধন ও গণপ্রতিবাদ অনুষ্ঠিত

 

মো: তুহিন হোসেন সাতক্ষীরা প্রতিনিধি :

 

রামিসা হত্যাসহ সারাদেশে খুন, অপহরণ, নির্যাতন ও ধর্ষণের ঘটনার প্রতিবাদে এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সাতক্ষীরায় মানববন্ধন ও গণপ্রতিবাদ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২১ মে) সকাল ১০টায় সাতক্ষীরা প্রেসক্লাব গেটে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন মানবাধিকার কর্মী ও স্বদেশের নির্বাহী পরিচালক মাধব চন্দ্র দত্ত। এ সময় বক্তব্য রাখেন হেড সংস্থার পরিচালক লুইস রানা গাইন, মহিলা অধিদপ্তরের প্রতিনিধি তাসলিমা লিঙ্কি, যুব প্রতিনিধি তরিকুল ইসলাম অন্তর, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক জোছনা দত্ত এবং ভূমিহীন নেতা আব্দুস সামাদ প্রমুখ।

এছাড়া মানববন্ধন ও গণপ্রতিবাদে বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নেন। অংশগ্রহণকারী সংগঠনগুলোর মধ্যে ছিল— স্বদেশ, প্রথম আলো বন্ধুসভা, মেরিট শিক্ষা পরিবার, সৃজনী মহিলা লোককেন্দ্র, সুশীলন, উত্তরণ, এডাব, এইচআরডিএফ, সিএসএইচ কোয়ালিশন, সিডো, ক্রিসেন্ট, এইচআরডি নেটওয়ার্ক, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ, ব্রেকিং দ্য সাইলেন্স, বারসিক, সুন্দরবন ফাউন্ডেশন এবং সাতক্ষীরা জেলা নাগরিক কমিটি।

বক্তারা বলেন, দেশে শিশু ও নারী নির্যাতন, খুন, অপহরণ ও ধর্ষণের ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। শিশু রামিসা হত্যার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তারা। একইসঙ্গে সারাদেশে নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান বক্তারা।

কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন প্রতিবাদী স্লোগান দেন এবং অপরাধীদের বিচারের দাবিতে ব্যানার ও ফেস্টুন প্রদর্শন করেন।

শিশু রামিসা হত্যার প্রতিবাদে সাতক্ষীরায় মানববন্ধন ও গণপ্রতিবাদ অনুষ্ঠিত

শিশু রামিসা হত্যার প্রতিবাদে সাতক্ষীরায় মানববন্ধন ও গণপ্রতিবাদ অনুষ্ঠিত   মো: তুহিন হোসেন সাতক্ষীরা প্রতিনিধি :   রামিসা হত্যাসহ সারাদেশে খুন, অপহরণ, নির্যাতন ও ধর্ষণের ঘটনার প্রতিবাদে এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে বিস্তারিত

রাজধানীর রামপুরায় মাদ্রাসা শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ ও আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মো. শিহাব হোসেন নামে ওই মাদ্রাসার এক শিক্ষার্থীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

 

বুধবার (২০ মে) রাতে পাবনার বেড়া থানার খাকছাড়া গ্রাম থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

 

পুলিশের মতিঝিল বিভাগের উপ-কমিশনার মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

 

মঙ্গলবার রাতে রামপুরার বনশ্রী সি-ব্লকে ‘আলোকিত কুরআন ইন্টারন্যাশনাল হিফজ মাদ্রাসা’ থেকে গামছা দিয়ে ফাঁস দেওয়া অবস্থায় মো. আব্দুল্লাহ নামে (১০) এক শিশুর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। সুরতহাল করে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

 

শিশু আব্দুল্লাহকে ধর্ষণ ও আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে তার মা টুকু আরা খাতুন বুধবার রামপুরা থানায় শিহাব ও অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করে একটি মামলা করেন।

 

উপ-কমিশনার হারুন অর রশিদ বলেন, লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুতের সময় পায়ুপথে অস্বাভাবিক যৌনাচারের লক্ষণ দেখা যায়। পরে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া যায়।

 

তিনি বলেন, শিশুটি ফাঁস নেওয়ার আগেই অভিযুক্ত শিহাব মাদ্রাসা থেকে বের হয়ে গ্রামের বাড়ি চলে যান। সেখান থেকেই তাকে গ্রেফতার করা হয়।

 

জিজ্ঞাসাবাদে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ জানায়, শিহাব হোসেনের বিরুদ্ধে ইতোপূর্বে মাদ্রাসার চার ছাত্রকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ রয়েছে। এ কারণে মাদ্রাসার তরফে তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়।

রামপুরায় শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের পর আত্মহত্যার প্ররোচনা, পাবনায় অভিযুক্ত গ্রেফতার

রাজধানীর রামপুরায় মাদ্রাসা শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ ও আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মো. শিহাব হোসেন নামে ওই মাদ্রাসার এক শিক্ষার্থীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।   বুধবার (২০ মে) রাতে পাবনার বেড়া থানার খাকছাড়া গ্রাম বিস্তারিত

রাজধানীর পল্লবীতে সাত বছরের শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে দ্রুত বিচার ও তদন্ত সম্পন্নের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেছেন, এ ধরনের নৃশংস ঘটনা কোনোভাবেই ‘আনচ্যালেঞ্জড’ থাকতে দেওয়া হবে না এবং দ্রুত বিচার সম্পন্ন করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে চায় সরকার।

 

আজ বৃহস্পতিবার (২১ মে) আইন মন্ত্রণালয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

 

আইনমন্ত্রী বলেছেন, মাগুরার আসিয়া, ঢাকার রামিসার ঘটনা মানুষ হিসেবে মনুষ্যত্বকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। এমন অপরাধ কোনোভাবেই আনচ্যালেঞ্জড যেতে দেবো না।

 

তিনি আরও বলেন, রামিসার বাবা যে মন্তব্য করেছেন, তা তার জায়গা থেকে অমূলক নয় এবং বিচার ব্যবস্থায় মামলার জট নিরসনে সরকার পদক্ষেপ নেবে।

 

তিনি জানান, এক সপ্তাহের মধ্যে রামিসার মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। নারী ও শিশু দমন ট্রাইবুনালে রামিসার মামলার বিচার হবে। দ্রুত বিচার ট্রাইবুনালে নেওয়ার প্রয়োজন নেই।

 

মন্ত্রী আরও বলেন, যত দ্রুত সম্ভব রামিসার মামলার বিচার হবে। সমাজের বিচার ব্যবস্থার ওপর অনাস্থা কমানোর জন্য এই মামলা হবে একটি উদাহরণ। সরকার এই মামলাকে ফাস্ট ট্র্যাকে নিয়ে বিচার করবে।

 

তিনি সতর্ক করে বলেন, অপরাধীদের দ্রুত শাস্তি দিতে না পারলে সমাজে ‘ব্যাড মেসেজ’ যাবে। এ কারণে বিচার প্রক্রিয়াকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

 

আইনমন্ত্রী আরও জানান, এখন থেকে কোনো ধর্ষণ মামলা প্রত্যাহারের জন্য বিবেচনাতেই আসবে না—আজকে আইন মন্ত্রণালয় থেকে এই সিদ্ধান্ত হয়েছে। বিচার প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করতে যা কিছু করা দরকার সবই করা হবে।

 

তিনি আরও বলেন, দ্রুততম সময়ে বিচার করতে চাই। আসিয়ার মামলা এক মাসের মধ্যে শেষ করেছিলাম- সে উদাহরণ আমাদের সামনে আছে।

 

রায় কার্যকর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মামলার রায় কার্যকর করা সুপ্রিম কোর্টের এখতিয়ার, সেখানে সরকারের সরাসরি হস্তক্ষেপ নেই। তবে দ্রুত রায় কার্যকরের জন্য সরকার সুপ্রিম কোর্টকে অনুরোধ করতে পারে বলেও জানান তিনি।

 

আইনমন্ত্রী বলেন, মাগুরার আসিয়া, ঢাকার রামিসার ঘটনা মানুষ হিসেবে আমাদের মনুষ্যত্বকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। এমন অপরাধ কোনোভাবেই আনচ্যালেঞ্জড হতে দেবো না।

 

তিনি পুনরায় জোর দিয়ে বলেন, রামিসার বাবার উদ্বেগ অমূলক নয় এবং বিচার ব্যবস্থার দীর্ঘসূত্রতা কমাতে সরকার কাজ করবে।

 

সবশেষে তিনি বলেন, শিশু রামিসার ঘটনার বিচার করে আমরা একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে চাই। বিচার প্রক্রিয়াকে অতিদ্রুত করতে পারলে রামিসার বাবার প্রশ্নের জবাবও দিতে পারব।

শিশু রামিসা হত্যার বিচার করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে চাই: আইনমন্ত্রী

রাজধানীর পল্লবীতে সাত বছরের শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে দ্রুত বিচার ও তদন্ত সম্পন্নের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেছেন, এ ধরনের নৃশংস বিস্তারিত

দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মৃত্যুবার্ষিকী: রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে আলোচিত এক অধ্যায়ের স্মরণ

আজ ১৪ আগস্ট। ২০২৩ সালের এই দিনে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সাবেক নায়েবে আমির ও বহুল আলোচিত ধর্মীয় বক্তা আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৪ বছর।

তাঁর মৃত্যু বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবন, ধর্মীয় বক্তা হিসেবে জনপ্রিয়তা এবং ১৯৭১ সালের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় বিচার—সব মিলিয়ে সাঈদী ছিলেন বাংলাদেশের রাজনীতির অন্যতম আলোচিত ও বিতর্কিত ব্যক্তিত্ব।

শেষ সময়ের চিকিৎসা

২০২৩ সালের ১৩ আগস্ট কারাগারে অসুস্থ হয়ে পড়লে দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকে প্রথমে গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে ঢাকার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থানান্তর করা হয়।

পরদিন ১৪ আগস্ট রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাঁর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে। তাঁর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর অনুসারী ও সমর্থকদের মধ্যে শোকের প্রতিক্রিয়া দেখা যায়।

রাজনৈতিক ও ধর্মীয় জীবনে সাঈদী

দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী ধর্মীয় বক্তা হিসেবে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন। দেশের বিভিন্ন স্থানে তাঁর ওয়াজ ও ধর্মীয় বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি একটি বড় শ্রোতাগোষ্ঠীর কাছে পরিচিত হয়ে ওঠেন।

এর পাশাপাশি তিনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। তিনি জাতীয় সংসদের সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন এবং পরবর্তী সময়ে দলটির নায়েবে আমিরের দায়িত্বে ছিলেন।

ধর্মীয় বক্তা ও রাজনৈতিক নেতা হিসেবে তাঁর দীর্ঘ কর্মজীবন বাংলাদেশের সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিসরে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলেছিল।

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা ও বিচার

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মামলা হয়।

২০১৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দেন। তাঁর বিরুদ্ধে হত্যা, নির্যাতন, লুটপাট ও ধর্ষণসহ বিভিন্ন মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে বিচার হয়।

পরবর্তীতে ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিরুদ্ধে তিনি আপিল করেন। ২০১৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ তাঁর মৃত্যুদণ্ড পরিবর্তন করে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেন।

এই বিচার ও রায়কে কেন্দ্র করে বাংলাদেশে ব্যাপক রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া, বিক্ষোভ ও সহিংসতার ঘটনা ঘটে। একই সঙ্গে সাঈদীকে ঘিরে দেশজুড়ে তৈরি হয় তীব্র রাজনৈতিক ও সামাজিক মতবিভাজন।

মৃত্যুর পর প্রতিক্রিয়া

সাঈদীর মৃত্যুর সংবাদ প্রকাশের পর তাঁর অনুসারী ও সমর্থকদের মধ্যে শোকের প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। বিভিন্ন স্থানে তাঁকে স্মরণ করে দোয়া ও অন্যান্য কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

অন্যদিকে তাঁর রাজনৈতিক ভূমিকা এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় দণ্ডিত হওয়ার বিষয়টি সামনে এনে বিভিন্ন মহল থেকে ভিন্ন প্রতিক্রিয়াও জানানো হয়।

ফলে তাঁর মৃত্যুর পরও তাঁকে ঘিরে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে আলোচনা অব্যাহত থাকে।

মৃত্যুবার্ষিকীতে স্মরণ

আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর জীবন ছিল একই সঙ্গে ধর্মীয়, রাজনৈতিক ও বিচারিক ইতিহাসের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত। ধর্মীয় বক্তা হিসেবে তাঁর জনপ্রিয়তা যেমন ব্যাপক ছিল, তেমনি তাঁর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলাকে ঘিরে ছিল তীব্র বিতর্ক।

আজ তাঁর মৃত্যুবার্ষিকীতে তাঁর অনুসারীরা তাঁকে শ্রদ্ধা ও দোয়ার মাধ্যমে স্মরণ করছেন। একই সঙ্গে তাঁর জীবন ও রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়ে নতুন করে আলোচনা হচ্ছে।

ইতিহাসের কোনো আলোচিত ব্যক্তিত্বকে মূল্যায়নের ক্ষেত্রে আবেগের পাশাপাশি আদালতের নথি, ঐতিহাসিক তথ্য ও যাচাইযোগ্য সূত্রকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। সাঈদীর জীবন ও রাজনৈতিক অধ্যায়ও বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ইতিহাসের এমনই একটি আলোচিত অধ্যায়, যা নিয়ে আজও বিভিন্ন মহলে আলোচনা রয়েছে।

আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মৃত্যুবার্ষিকী: আলোচিত এক অধ্যায়ের স্মরণ

স্বামীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলার দায়ে স্ত্রীকে ১০ দিনের কারাদন্ড

 

আতিকুর রহমান আশিক , মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি

 

মানিকগঞ্জে স্বামীর বিরুদ্ধে মিথ্যা যৌতুক মামলা দায়ের করার দায়ে লাভলী আক্তার নামে এক নারীকে ১০ দিনের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই মামলায় অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় স্বামী আরিফুল ইসলাম রতনকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে। মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা দায়েরের বিরুদ্ধে আদালতে এ রায় গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেবে বলে মনে করছেন আইনজীবীরা।

 

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২ এর বিচারক দোলন বিশ্বাস এ রায় দেন।

 

মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালে স্বামী আরিফুল ইসলাম রতনের বিরুদ্ধে যৌতুক নিরোধ আইন, ২০১৮-এর ৩ ধারায় মামলা করেন স্ত্রী লাভলী আক্তার। মামলায় অভিযোগ করা হয়, ২০২২ সালের ১৫ এপ্রিল আরিফুল পাঁচ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে তাকে মারধর করেন। পরে আরও একটি ঘটনায় যৌতুক দাবির অভিযোগ আনা হয়।

তবে অভিযোগে উল্লেখিত দুই ঘটনার সময়ই আরিফুল ইসলাম বিদেশে ছিলেন। তিনি ২০২১ সালের ৮ এপ্রিল চাকরির উদ্দেশ্যে সৌদি আরবে যান এবং দেশে ফেরেন ২০২৫ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি।

 

গত ২৭ জুলাই সাক্ষ্য-প্রমাণে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় আরিফুল ইসলাম রতনকে বেকসুর খালাস দেন আদালত। পরে মামলাটি মিথ্যা প্রমাণিত হওয়ায় বাদীর বিরুদ্ধে যৌতুক নিরোধ আইন, ২০১৮-এর ৬ ধারায় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আসামিপক্ষের আইনজীবী আদালতে পিটিশন দাখিল করেন।

 

এর পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার শুনানি শেষে আদালত বাদী লাভলী আক্তারকে যৌতুক নিরোধ আইন, ২০১৮-এর ৬ ধারায় ১০ দিনের কারাদণ্ড দেন।

 

আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট জাকির হোসেন কোহিনুর বলেন, সাক্ষ্য-প্রমাণ শেষে আদালত আসামিকে খালাস দেন। পরে মিথ্যা মামলা দায়েরের বিষয়টি বিবেচনায় যৌতুক নিরোধ আইনের ৬ ধারায় বাদীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে আদালতে আবেদন করা হয়। বৃহস্পতিবার শুনানি শেষে আদালত বাদীকে ১০ দিনের কারাদণ্ড দিয়েছেন।

 

বাদী পক্ষের আইনজীবী সমাপ্তি আক্তার বলেন, ১০ দিনের সাজা হওয়ায় আপিলের শর্তে জামিনের আবেদন করা হয়। পরে আদালত এক মাসের মধ্যে আপিল করার শর্তে এক হাজার টাকা বন্ডের লাভলী আক্তারের জামিন মঞ্জুর করেন।

 

মানিকগঞ্জ জজ কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মাহাবুবুল ইসলাম বলেন, মিথ্যা মামলা করে কাউকে হয়রানি করলে মামলার বাদীকেও যে শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে, এই রায় তার একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা। এ ধরনের রায় হলে সমাজে ঢালাওভাবে মিথ্যা মামলা দায়েরের প্রবণতা অনেকাংশে কমে আসতে পারে।

স্বামীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলার দায়ে স্ত্রীকে ১০ দিনের কারাদন্ড 

গার্মেন্টস শ্রমিকদের জন্য নিম্নতম মজুরী বোর্ড ঘোষণার দাবিতে মাননীয় শ্রম মন্ত্রীর নিকট স্মারকলিপি পেশ করা হবে

গার্মেন্টস শ্রমিক ও শিল্প রক্ষা জাতীয় মঞ্চ

 

রাকিবুল ইসলাম রঞ্জু:

 

১৩ আগষ্ট ২০২৬’ তারিখ সকাল ১১ টায় গার্মেন্টস শ্রমিক ও শিল্প রক্ষা জাতীয় মঞ্চের উদ্যোগে বাংলাদেশ শিশুকল্যাণ পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে আগামী ১৬ আগষ্ট গার্মেন্টস শ্রমিকদের জন্য নিম্নতম মজুরী বোর্ড ঘোষণার দাবিতে মাননীয় শ্রম মন্ত্রীর নিকট স্মারকলিপি পেশ করা হবে বলে ঘোষণা করা হয়।

 

সংবাদ সম্মেলনের সভাপতিত্ব করেন মঞ্চের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল হোসাইন। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মঞ্চের সদস্য সচিব শ্রমিক নেতা রফিকুল ইসলাম সুজন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন মঞ্চের কেন্দ্রীয় নেতা জনাব মোঃ সফিকুল ইসলাম, কামরুন নাহার, তপন সাহা, কামরুজ্জামান ফিরোজ, আবু কালাম, মিজানুর রহমান শিকদার, সাজিয়া রহমান, মাহমুদা হোসেন মিলি প্রমূখ।

 

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, সরকার পে-স্কেল ঘোষণার মধ্য দিয়ে শ্রমিক কর্মচারীদের মধ্যে চরম বৈষম্যে সৃষ্টি করেছেন। বর্তমান শাসন ব্যবস্থায় আমলাতন্ত্র কতখানি শক্তিশালী ভূমিকা পালন করে তার প্রমাণ হচ্ছে পে-স্কেল। ঘোষিত পে-স্কেলে একজন সচিব এর বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লক্ষ ২৫ হাজার টাকা অপর দিকে একজন অফিস সহকারী (পিয়ন) তার বেতন ধরা হয়েছে ৪১ হাজার টাকা। অথচ যারা উৎপাদন করে সেই শ্রমিক বিশেষকরে গার্মেন্টস শ্রমিকদের মজুরী হচ্ছে ১২ হাজার ৫ শত টাকা। এর মধ্য দিয়ে সরকার সমাজে প্রবল বৈষম্য সৃষ্টি করেছে। এই বৈষম্য দুর করতে শ্রমিকের জন্য জাতীয় নিম্নতম মজুরী ৩০ হাজার টাকা এবং গার্মেন্টস শ্রমিকদের জন্য অবিলম্বে নিম্নতম মজুরী বোর্ড ঘোষণা করে শ্রমিকদের বাঁচার মত মজুরী ঘোষণা করতে হবে। বর্তমান উর্দ্ধমূখী বাজার ব্যবস্থায় গার্মেন্টস শ্রমিকরা যে মজুরী পান তা দিয়ে তাদের জীবন চলেনা। ফলে শিল্পের শ্রমক অসন্তষ লেগেই রয়েছে। শিল্পের উৎপাদনের সুষ্ঠ পরিবেশ ও উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হলে গার্মেন্টস শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরী বৃদ্ধির বিকল্প নাই। সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, বিগত ২০২৩ সালের ঘোষিত মজুরী আগামী নভেম্বরে শেষ হয়ে যাবে। ডিসেম্বর ২০২৬ সাল থেকে নতুন মজুরী কার্যকর হওয়ার কথা। এখন মাত্র চার মাস সময় আছে সরকার কাল বিলম্ব না করে দ্রুত সময়ের মধ্যে ন্যূনতম মজুরী বোর্ড ঘোষণা করতে হবে এবং বোর্ডের গার্মেন্টস শ্রমিক সংগঠনের মধ্য থেকে নির্বাচিত করতে হবে। সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখিত দাবিতে আগামী ১৬ আগষ্ট মাননীয় শ্রমমন্ত্রী মহোদয়ের নিকট স্মারকলিপি পেশ করা হবে। একই সাথে উক্ত স্মারকলিপি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সহ সংশ্লিষ্ট সকল মহলকে অবগতির জন্য পাঠানো হবে।

গার্মেন্টস শ্রমিকদের জন্য নিম্নতম মজুরী বোর্ড ঘোষণার দাবিতে মাননীয় শ্রম মন্ত্রীর নিকট স্মারকলিপি পেশ করা হবে

গাইবান্ধায় অপরাধমুক্ত সমাজ গড়ার অঙ্গীকার, সচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত

 

শাহ্ পারভেজ সংগ্রাম,গাইবান্ধা প্রতিনিধি

গাইবান্ধায় র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন র‌্যাবের উদ্যোগে মাদক ও সামাজিক অপরাধ প্রতিরোধ বিষয়ক সচেতনতামূলক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে সিপিসি-৩ গাইবান্ধা র‌্যাব-১৩ ক্যাম্পের আয়োজনে শিল্পকলা একাডেমির হলরুমে এই সচেতনতা মুলক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

 

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও সিপিসি-৩ ও র‌্যাব-১৩ এর ভারপ্রাপ্ত কোম্পানি কমান্ডার মোহাম্মদ রেজাউল হকের সভাপতিত্বে এতে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান মোল্লা। বিশেষ অতিথি ছিলেন পুলিশ সুপার জসিম উদ্দিন ও গাইবান্ধা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুর রশিদ, শিক্ষাবিদ অধ্যাপক মাজহারুল মান্নান । এছাড়াও বিভিন্ন কলেজের শিক্ষার্থী, রেড ক্রিসেন্ট ও রোভার স্কাউটসের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। দেড় ঘন্টাব্যাপী মতবিনিময় সভায় বক্তারা বলেন, মাদক কেবল একজন ব্যক্তিকে ধ্বংস করে না, বরং একটি পরিবার ও সমাজকে ভেতর থেকে পঙ্গু করে দেয়।

 

মাদক ও বিভিন্ন সামাজিক অপরাধ প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি অভিভাবক, শিক্ষক ও জনপ্রতিনিধি সহ সকল পেশার মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগে বিপদগামী মাদকাসক্ত তরুণদের আলোর পথে ফিরিয়ে আনার গুরুত্ব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

 

অপরদিকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশ্বস্ত করে জানানো হয়, সরকারের নির্দেশনায় মাদক ও অপরাধ দমনে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার, নিয়মিত সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনাসহ মাদক ও সামাজিক অপরাধ নির্মুলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নানা পদক্ষেপের কথা তুলে ধরা হয়।

 

সভা শেষে মতবিনিময় সভায় অংশগ্রহনকরা শিক্ষার্থীদের মাঝে খেলার সামগ্রী বিতরন করা হয়।

গাইবান্ধায় অপরাধমুক্ত সমাজ গড়ার অঙ্গীকার, সচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত

শাড়ি নিয়ে প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গের মামলায় আত্মসমর্পন করে জামিন পেয়েছেন অভিনেত্রী তানজিন তিশা। আজবৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জুয়েল রানার আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন চান তিশা। শুনানি নিয়ে আদালত জামিনের আদেশ দেন বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবী নিহার হোসেন ফারুক।গত ১২ জুলাই তিশাকে আদালতে হাজির হতে সমন জারি করা হয়েছিল।

 

জামিন পেয়ে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় তানজিন তিশা বললেন, ২৭ হাজার টাকার একটা শাড়ি নাকি আত্মসাৎ করেছি। আমার ১৫ বছরের একটা ক্যারিয়ার। এটা কারোর কাছে কাম্য নয়, একটা শাড়ির জন্য আদালতে আসবো। আইনকে শ্রদ্ধা করি বলেই আদালতে এসেছি। তবে মামলায় অনেকগুলো মিথ্যা কথা বলা হয়েছে। আমি শাড়ি আত্মসাৎ বা প্রতারণা এমন কিছুই করিনি।

 

তিনি আরও উল্লেখ করেন, একটা কথা বলতে চাই, মামলার বাদী একজন নারী। তিনি নিজের স্বামীর ক্ষমতা দেখিয়ে আমার সঙ্গে এটা (মামলা) করেছে। অনেক ধরনের হুমকি দিয়েছে। আগামীতে সবকিছু তুলে ধরব। আমার নামে যে মামলা করেছে তাকে চিনি না।

 

এদিন তিনি আদালতে আত্মসমর্পণ করেন৷ এরপর তার আইনজীবী নিহার হোসেন ফারুক জামিন চেয়ে আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত তার জামিন মঞ্জুর করেন। পরে জামিন পেয়ে তিনি আদালত প্রাঙ্গন ছাড়েন। এসময় উৎসুক জনতা তাকে দেখতে ভীড় জমান।

 

মামলার অভিযোগে বলা হয়, অনলাইন ফ্যাশন পেজ ‘অ্যাপোনিয়া’ থেকে প্রায় ২৮ হাজার ৮০০ টাকা মূল্যের একটি শাড়ি নিয়ে সেটির প্রচারণা ও মূল্য পরিশোধের বিষয়ে প্রতিশ্রুতি দিলেও পরে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করেন তানজিন তিশা। এ ঘটনায় ২০২৫ সালে অনলাইন ফ্যাশন পেজের এডমিন আমিনুল ইসলাম প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগে আদালতে মামলাটি দায়ের করেন। ওই সময় আদালত বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করে ডিবি পুলিশকে ঘটনাটি তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন। তদন্ত শেষে তানজিল তিশার বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে বলে প্রতিবেদন জমা দেন পুলিশ। সেই প্রতিবেদনের আদালত আমলে গ্রহণ করে গত ১২ জুলাই তিশাকে আদালতে হাজির হতে সমন জারি করা হয়।

আত্মসমর্পণ করে জামিন পেলেন তানজিন তিশা

পটুয়াখালীর বাউফলের নদীবেষ্টিত চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের চর রায়সাহেব এলাকায় হামলার ঘটনার জামায়াত নেতাসহ ৩ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এর আগে, হামলার শিকার বিএনপি সমর্থক মাঈনুদ্দিন (২৫) বাদি হয়ে বাউফল থানায় হত্যা চেষ্টার মামলা দায়ের করেন।

 

বুধবার (১২আগস্ট) দুপুরের অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে দ্রুতই তাদের আদালতে সোপর্দ করা হয়।

 

গ্রেফতার আসামিরা হলেন— চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়ন শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সেক্রেটারি সাইফুল শরীফ (৪০), ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ড জামায়াতের সভাপতি সোহাগ হাওলাদার (২৮) ও জামায়াত সমর্থক আল-আমিন (২৮)।

 

পুলিশ জানায়, চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের রায়সাহেব এলাকার লালচরে মহিষের পাল জেলেদের মাছ ধরার চাই নষ্ট করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিরোধ সৃষ্টি হয়। বিরোধের মিমাংসার জন্য সোমবার (১০ আগস্ট) রাতে রায় সাহেব এলাকায় সালিস বৈঠকের আয়োজন করা হয়। সালিশ বৈঠকে মহিষ খামারিদের পক্ষে অবস্থান নেয় জামায়াতের নেতা-কর্মীরা। অপরদিকে, জেলেদের পক্ষে অবস্থান নেন বিএনপির সমর্থক ভুক্তভোগী মাইনুদ্দিন।

 

সালিশ চলাকালে দু’পক্ষই বাকবিতন্ডায় জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে জামায়াত নেতা-কর্মীদের হামলা চালিয়ে মাঈনুদ্দিন, শাহিন, সোহেল রাড়ি, মামুন, ইউনুস, মমতাজ ও রানী বেগমসহ ৭ জন আহত করেন।

 

এদের মধ্যে গুরুতর আহত শাহিন রাড়ি ও মাঈনুদ্দিনকে উদ্ধার করে বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। অন্যান্যদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।

 

এ বিষয়ে বাউফল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সিরাজুল ইসলাম বলেন, হামলার মামলায় তিন আসামিকে গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত আছে।

বাউফলে বিএনপি সমর্থকদের কু/পিয়ে জখম, জামায়াতের ৩ নেতা-কর্মী গ্রেফতার

চাঁদপুরে সাগরিকা এক্সপ্রেস ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে এক শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) বিকেলে জেলার রেলওয়ে স্টেশনের ছায়াবানী রেল ক্রসিংয়ের পূর্ব পাশে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

 

নিহত তায়েবা আক্তার (১৪) চাঁদপুর সদর উপজেলার বিষ্ণুদী মাদরাসা রোড এলাকার বিষ্ণুদী ইসলামিয়া সিনিয়র আলিম মাদরাসার নবম শ্রেণির ছাত্রী। তার বাবার নাম তাজুল ইসলাম ও মা আমেনা বেগম।

 

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ট্রেনটি ছায়াবানী রেল ক্রসিং পার হয়ে পূর্ব পাশে পৌঁছালে তায়েবা রেললাইন পার হওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় চলন্ত ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে চাঁদপুর রেলওয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

 

চাঁদপুর রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাজিব কর বলেন, ঘটনাস্থল থেকে ওই শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তার অভিভাবকেরা থানায় এসেছেন। পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

চাঁদপুরে ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে শিক্ষার্থীর মৃত্যু

জাতীয় সংসদের সরকারদলীয় চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি বলেছেন, ‘আমাদের দল বিএনপি থেকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। দলীয় জোট থেকে মনোনীত হয়েছেন আমাদের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আমরা তাকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে আগামী ২০ তারিখে নির্বাচিত করতে চাই, ইনশাআল্লাহ।’

 

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) রাজধানীর আগারগাঁও নির্বাচন কমিশনে (ইসি) মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর সাংবাদিকদের চিফ হুইপ এসব কথা বলেন।

 

নুরুল ইসলাম মনি বলেন, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মনোনয়নপত্রের প্রস্তাবক ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. মঈন খান এবং সমর্থক ছিলেন স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।

 

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত হবে জানিয়ে চিফ হুইপ বলেন, প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে নির্বাচনের দায়িত্ব পালন করবেন। সংসদ সদস্যরা ভোট দিয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত করবেন।

 

তিনি বলেন, ১১ দলীয় জোট থেকে কর্নেল অলি আহমদও রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন পেয়েছেন। তার পক্ষ থেকেও মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হয়েছে।ফলে আগামী ২০ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হবে।

 

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলে বিএনপির মহাসচিব পদে কে আসবেন— এ প্রশ্নের উত্তরে চিফ হুইপ বলেন, ‘আমাদের আর কোনো সিদ্ধান্ত এই মুহূর্তে বলার নেই।’

‘আমরা মির্জা ফখরুলকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত করতে চাই’

বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও ব্যবসা সম্প্রসারণের জন্য মার্কিন কোম্পানিগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশ সরকার মার্কিন কোম্পানিগুলোর পুঁজি, প্রযুক্তি, দক্ষতা ও বৈশ্বিক অভিজ্ঞতাকে স্বাগত জানায়। তাদের সফলতার জন্য সরকার সব ধরনের সহযোগিতা করবে।

 

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) মার্কিন ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকে দেওয়া বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশে এসে দেশের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখার জন্য ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের তিনি স্বাগত জানাচ্ছেন। তিনি আশা করেন, তাদের সফর বাংলাদেশে বিদ্যমান সম্ভাবনা সম্পর্কে তাদের স্পষ্ট ধারণা দেবে।

 

নিজের ব্যবসায়ী জীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাজনীতিতে আসার আগে তিনিও ব্যবসা দিয়ে কর্মজীবন শুরু করেছিলেন। ব্যবসা বিকশিত হওয়ার জন্য সঠিক নীতি ও পরিবেশ প্রয়োজন—এটা তিনি তার অভিজ্ঞতা থেকে শিখেছেন।

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের ছয় মাস বয়সি, ভবিষ্যৎমুখী সরকার চায় মার্কিন কোম্পানিগুলো বাংলাদেশে বিনিয়োগ করুক এবং ব্যবসা সম্প্রসারণ করুক।’

 

তিনি বলেন, ‘আমরা আপনাদের পুঁজি, প্রযুক্তি, দক্ষতা ও বৈশ্বিক অভিজ্ঞতাকে স্বাগত জানাই। আপনাদের সাফল্য নিশ্চিত করতে আমরা সহযোগিতা করতে প্রস্তুত এবং এটি আপনাদের প্রতি আমার ব্যক্তিগত অঙ্গীকার।’

মার্কিন কোম্পানিগুলোকে বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও ব্যবসা সম্প্রসারণের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

মেহেরপুরের গাংনীতে এসএসসি পরীক্ষায় টানা দুবার ইংরেজি বিষয়ে অকৃতকার্য হওয়ার পর রামিদুজ্জামান টুটুল (১৭) নামের এক শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছে। পরিবারের সদস্যদের বকাঝকার পর অভিমান করে সে আত্মহত্যা করেছে বলে স্থানীয়দের ধারণা।

 

রামিদুজ্জামান টুটুল গাংনী উপজেলার কোদাইলকাটি পশ্চিম পাড়ার মিন্টু হোসেনের ছেলে এবং কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার খলিশাখুন্ডি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিল।

 

টুটুলের দাদা আনিচ উদ্দিন বলেন, ‘আমি প্রতিদিন মাঠে যাওয়ার আগে টুটুলকে ঘুম থেকে ডেকে তুলি। আজও সকাল ছয়টার দিকে ডাকতে গিয়ে তাকে ঘরের ভেতর ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পাই। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাকে নামিয়ে দেখা যায়, সে আর বেঁচে নেই।’

 

প্রতিবেশী জহুরুল ইসলাম বলেন, ‘টুটুল এমনিতেই খুব ভদ্র ছেলে। গ্রামের কারও সঙ্গে কখনো খারাপ আচরণ করেনি। তবে গত বছর এসএসসি পরীক্ষা দিয়ে অকৃতকার্য হয়েছিল। এ বছরও ইংরেজি বিষয়ে পরীক্ষা দিয়ে অকৃতকার্য হয়েছে। এ নিয়ে পরিবারের লোকজন তাকে কিছুটা বকাঝকা করেছিলেন। এরপর সে অভিমান করে এমন ঘটনা ঘটিয়েছে বলে ধারণা করছি।’

 

ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করে কুমারীডাঙ্গা পুলিশ ক্যাম্পের এএসআই মহাসিন আলী বলেন, ‘আমাদের পুলিশ ক্যাম্পের কাছেই কোদাইলকাটি পশ্চিম পাড়ায় এক শিক্ষার্থীর মৃত্যুর খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে প্রাথমিক তদন্ত করা হয়েছে। এ বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা নেবেন।’

এসএসসিতে ইংরেজিতে দুবার ফেল, বকাঝকার পর সকালে মিলল শিক্ষার্থীর লা/শ

র‌্যাবের চৌকস অভিযানে জীপসহ প্রায় ১১ হাজার ইয়াবার চালান আটক

জামালপুর হামলা পাল্টা হামলার মধ্য দিয়ে জেলার সানন্দবাড়ী তে থমথমে অবস্থা বিরাজমান।

পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের ও আদালতে মিথ্যা হলফনামা দেয়ার অভিযোগে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কেবিন ক্রু খাদিজা সুলতানা শিমুর বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

 

বুধবার (১৫ জুলাই) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২-এর বিচারক মো. জাকির হোসাইন এ আদেশ দেন। আদালতের আদেশে বলা হয়েছে, শিমুর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর ১৩ ধারা এবং দণ্ডবিধির ১৮১, ১৮২ ও ১৯৩ ধারায় মামলা করা হবে। আদালত নিজেই এ মামলার বাদী হয়েছেন।

 

আদালতের নথি অনুযায়ী, খাদিজা সুলতানা শিমু মামলার বাদী হয়ে বেসরকারি একটি এয়ারলাইন্সের কর্মকর্তা মো. ওমর ফারুক চৌধুরীর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনের বিভিন্ন ধারায় উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলা করেন।

 

তদন্ত শেষে উত্তরা পশ্চিম থানার তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে জানান, অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি। প্রতিবেদনে বলা হয়, মামলার এজাহারে উল্লেখ করা ফেসবুক লিংক, ডিজিটাল আলামত ও অন্যান্য তথ্য যাচাই করে ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি প্রচারের কোনো প্রমাণ মেলেনি। ফলে ওই কর্মকর্তাকে মামলা থেকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়।

একই সঙ্গে তদন্ত কর্মকর্তা প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, ওমর ফারুক আগে শিমুর বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন দিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে আদালতে মামলা করেছিলেন। সেই মামলার দায় এড়াতেই শিমু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত বিভিন্ন লিংক উল্লেখ করে তার বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি ছড়ানোর অভিযোগ এনে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, হয়রানিমূলক ও মিথ্যা মামলা করেছেন বলে প্রাথমিক তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে। এ কারণে শিমুর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর ১৩ ধারায় আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার আবেদনও করেন তদন্ত কর্মকর্তা।

 

পরে গত ৯ জুলাই আদালত তদন্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করে ওমর ফারুককে মামলা থেকে অব্যাহতি দেন। আদালতের আদেশে বলা হয়, শিমু ক্ষতিসাধনের উদ্দেশ্যে আদালতে মিথ্যা মামলা দায়ের করেছেন এবং হলফ করে মিথ্যা সাক্ষ্য দিয়েছেন। মামলার নথিতে তার দেয়া হলফনামাও সংযুক্ত রয়েছে। এসব বিবেচনায় আদালত নিজেই বাদী হয়ে তার বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন ও দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়েরের নির্দেশ দেন।

 

তদন্তে যা উঠে এসেছে পুলিশের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, তদন্তকালে রেকর্ড, ডিজিটাল আলামত, ফেসবুক লিংক ও ফরেনসিক তথ্য যাচাই করে ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি প্রচারের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

 

তদন্তে আরও উঠে আসে, শিমু বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কেবিন ক্রু এবং ওমর ফারুক একটি বেসরকারি এয়ারলাইন্সের এয়ারক্রাফট মেইনটেন্যান্স কর্মকর্তা। ফেসবুকে পরিচয়ের পর তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

 

প্রতিবেদনে বলা হয়, বিয়ের আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন সময়ে ওমর ফারুকের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী নেয়ার অভিযোগে ওমর ফারুক আদালতে পৃথক মামলা করেন। এরপর সেই মামলার দায় থেকে নিজেকে রক্ষা করতেই শিমু পর্নোগ্রাফি আইনে অভিযোগ দায়ের করেন বলে তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে।

 

ওমর ফারুকের আগের মামলা গত ২০ জুলাই ওমর ফারুক চৌধুরী শিমুর বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন, ‘হানি ট্র্যাপ’ ও ব্ল্যাকমেইলের মাধ্যমে প্রায় ২২ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ঢাকার আদালতে মামলা করেন। আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে উত্তরা পশ্চিম থানাকে তদন্তের নির্দেশ দেন। পরে তিনি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষের কাছেও লিখিত অভিযোগ করেন।

 

সেই মামলায় অভিযোগ করা হয়, ২০২৪ সালে ফেসবুকে পরিচয়ের পর শিমু তাকে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন সময়ে টাকা নেন। জন্মদিনে দেড় লাখ টাকা মূল্যের একটি হীরার আংটিসহ বিয়ের খরচের জন্য মোট ২১ লাখ ৭৪ হাজার ৫১১ টাকা নেয়ার পরও বিয়ে না করে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে মামলায় দাবি করা হয়।

পর্নোগ্রাফি আইনে কেবিন ক্রু শিমুর বিরুদ্ধে মামলার নির্দেশ আদালতের

error: আপনি নিউজ চুরি করার চেষ্টা করছেন। বিশেষ প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন ০১৭৬৭৪৪৪৩৩৩