ঈদযাত্রায় একদিনে ৭ জেলায় ১২ জনের প্রাণহানি - Gono television | বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল।
ঈদযাত্রায় একদিনে ৭ জেলায় ১২ জনের প্রাণহানি

ঈদযাত্রায় একদিনে ৭ জেলায় ১২ জনের প্রাণহানি

পবিত্র ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষের ঘরে ফেরার টান শুরু হয়েছে। তবে এই ঈদযাত্রার আনন্দ বিষাদে রূপ নিয়েছে দেশের বেশ কয়েকটি পরিবারে। মঙ্গলবার (২৬ মে) সকাল থেকে রাত পর্যন্ত দেশের সাতটি জেলায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় নারী ও শিশুসহ অন্তত ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এসব দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন আরও কয়েকজন।

 

সবচেয়ে বড় দুর্ঘটনাগুলো ঘটেছে সিরাজগঞ্জ ও বরিশালে। দুই জেলাতেই তিনজন করে মোট ছয়জন প্রাণ হারিয়েছেন। এ ছাড়া সাতক্ষীরায় দুজন এবং খুলনা, ফরিদপুর, জামালপুর ও চাঁদপুরে একজন করে নিহত হয়েছেন। আমাদের প্রতিবেদক ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর:

 

সিরাজগঞ্জ

 

সিরাজগঞ্জের সলঙ্গা থানাধীন সিআরবিসি এলাকায় ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়কে বাস ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে তিন পুরুষ যাত্রী নিহত হয়েছেন। গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে এই দুর্ঘটনা ঘটে। সলঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসলাম আলী দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। হাটিকুমরুল হাইওয়ে থানার ওসি মো. ইসমাইল হোসেন জানান, নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে তাঁদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি।

 

বরিশাল

 

বরিশালের গৌরনদী উপজেলার বাটাজোর এলাকায় রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা একটি মোটরসাইকেলকে দ্রুতগতির একটি বাস ধাক্কা দিলে একই পরিবারের তিনজন নিহত হন। গতকাল দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন—উজিরপুর উপজেলা সদরের বাসিন্দা ফিরোজ মাহমুদ (৩৭), তাঁর স্ত্রী মনিয়া বেগম এবং তাঁদের শিশুকন্যা জান্নাত। স্থানীয়রা জানান, ফিরোজ ঢাকা থেকে পরিবার নিয়ে মোটরসাইকেলে বাড়ি ফিরছিলেন। দুর্ঘটনার পর ক্ষুব্ধ জনতা ঘাতক বাসটি ভাঙচুর করে এবং প্রায় দুই ঘণ্টা মহাসড়ক অবরোধ করে রাখে। গৌরনদী হাইওয়ে থানার ওসি মো. মহসীন জানান, বাসটি জব্দ করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে যান চলাচল স্বাভাবিক করা হয়েছে।

 

সাতক্ষীরা

 

সাতক্ষীরার খুলনা-পাইকগাছা সড়কের তেতুলিয়া জামে মসজিদের সামনে পিকআপ ভ্যানের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী দুই চাচাতো ভাই নিহত হয়েছেন। গতকাল সকাল ৬টার দিকে এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন—তালা উপজেলার প্রসাদপুর গ্রামের নাসিম আলী ফকির (৩২) ও মেহেদী হাসান ফকির (২৫)। তালা থানার ওসি শহিদুল ইসলাম জানান, ঘটনাস্থলেই নাসিম মারা যান এবং গুরুতর আহত মেহেদীকে খুলনা নেওয়ার পথে তাঁর মৃত্যু হয়।

 

খুলনা

 

কয়রার বাগালী ইউনিয়নে কোরবানির পশু বহনকারী একটি নসিমন উল্টে মিজানুর রহমান (৩৬) নামে এক ওষুধ ব্যবসায়ীর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় তাঁর সাত বছরের ছেলে হাবিবসহ আরও তিনজন আহত হয়েছেন। কয়রা থানার ওসি মো. শাহ আলম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

 

ফরিদপুর

 

ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের ফরিদপুর সদর উপজেলার ব্রাহ্মণকান্দা বাজার এলাকায় ভোর সাড়ে ৪টার দিকে অজ্ঞাত গাড়ির ধাক্কায় মিম খাতুন (২৬) নামের এক নারী নিহত হয়েছেন। করিমপুর হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সাজ্জাদ হোসেন জানান, ঘাতক গাড়িটি শনাক্তের চেষ্টা চলছে।

 

জামালপুর

 

জামালপুর-ময়মনসিংহ মহাসড়কের শরিফপুর ইউনিয়নে বালুবাহী ড্রামট্রাক ও পিকআপ ভ্যানের সংঘর্ষের সময় চাপায় পিষ্ট হয়ে রত্না ভানু (৪৭) নামের এক পথচারী নারী নিহত হয়েছেন। জামালপুর সদর থানার ওসি মিজানুর রহমান জানান, নিহত নারী মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন।

 

চাঁদপুর

 

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ-রামগঞ্জ সড়কে নানির সঙ্গে রাস্তা পার হওয়ার সময় ট্রাকের ধাক্কায় মিম আক্তার (৮) নামের এক মাদরাসা শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। হাজীগঞ্জ থানার ওসি আব্দুল মান্নান জানান, ঘাতক ট্রাকটি জব্দ করা হয়েছে।


ফরিদপুরে ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়েতে গ্যাসের সিলিন্ডার ভর্তি ট্রাকের পেছনে প্রাইভেটকারের ধাক্কায় চালকসহ চারজন নিহত হয়েছেন।

 

মঙ্গলবার (২ জুন) ভোর পৌনে ৪টার দিকে ভাঙ্গা উপজেলার মালিগ্রাম এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। হতাহতদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি।

 

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার ভোর ৩টা ৪৫ মিনিটের দিকে এক্সপ্রেসওয়ের ভাঙ্গামুখী একটি প্রাইভেটকার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সামনে থাকা একটি গ্যাসের সিলিন্ডার ভর্তি ট্রাকের পেছনে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে প্রাইভেটকারটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং প্রাইভেটকারে থাকা চালকসহ ছয়জন যাত্রী গুরুতর আহত হন।

 

খবর পেয়ে হাইওয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রাইভেটকারের চালক ও তিন যাত্রীসহ মোট চারজনকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহতদের মধ্যে দুইজন পুরুষ ও দুইজন নারী রয়েছেন।

 

শিবচর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান বলেন, দুর্ঘটনাকবলিত প্রাইভেটকার ও ট্রাকটি পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া চলমান।

ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়েতে ট্রাকের পেছনে প্রাইভেট কারের ধাক্কা, নিহত ৪

নেত্রকোণায় বাস ও অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে মা-বাবা ও দুই কন্যা নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় অটোরিকশা চালক গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

 

রোববার (৩১ মে) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে নেত্রকোণা-ময়মনসিংহ সড়কের চল্লিশা ঝাউসি এলাকার বাইপাস মোড়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

 

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ময়মনসিংহ থেকে নেত্রকোণাগামী একটি যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে বাইপাস সড়ক অতিক্রম করার সময় একটি যাত্রীবাহী অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই একই পরিবারের চারজনের মৃত্যু হয়।

 

নিহতরা হলেন সদর উপজেলার রৌহা ইউনিয়নের আমলী কেশবপুর গ্রামের আয়নাল হক, তার স্ত্রী নুরজাহান বেগম এবং তাদের দুই কন্যা সন্তান স্মৃতি ও ইতি।

 

এ ঘটনায় গুরুতর আহত অটোরিকশা চালক রেহানকে উদ্ধার করে প্রথমে নেত্রকোণা আধুনিক সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে তার অবস্থার অবনতি হলে তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এ স্থানান্তর করা হয়।

 

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, নতুন বাইপাস সড়ক নির্মাণ হলেও প্রধান সড়কের সংযোগস্থলে পর্যাপ্ত গতিনিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, স্পিড ব্রেকার ও সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড না থাকায় প্রায়ই দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। তাদের দাবি, দ্রুত কার্যকর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে ভবিষ্যতে আরও প্রাণহানির ঘটনা ঘটতে পারে।

 

দুর্ঘটনার পর ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা কিছু সময়ের জন্য সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। এতে নেত্রকোণা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের উভয় পাশে যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ এবং জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং যান চলাচল স্বাভাবিক করেন।

 

ঘটনার পর এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। একই পরিবারের চার সদস্যের প্রাণহানিতে স্বজন ও স্থানীয়দের মধ্যে গভীর শোক বিরাজ করছে।

সড়কে শেষ হলো পরিবারটির গল্প, নিহত বাবা-মা ও দুই মেয়ে

বগুড়ার কাহালু উপজেলায় দুটি বেপরোয়া গতির মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এই মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় এক মোটরসাইকেলে থাকা তিন বন্ধু ঘটনাস্থলেই নিহত হয়েছেন। এ সময় বিপরীত দিক থেকে আসা অপর মোটরসাইকেলের দুই আরোহী গুরুতর আহত হয়েছেন।

 

শুক্রবার (২৯ মে) সন্ধ্যা সোয়া ৬টার দিকে উপজেলার বীরকেদার ইউনিয়নের বারোমাইল নামক এলাকায় বগুড়া-নওগাঁ আঞ্চলিক মহাসড়কে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে।

 

দুর্ঘটনায় অকালে প্রাণ হারানো তিন বন্ধু হলেন—নওগাঁ সদর উপজেলার খাস নওগাঁ এলাকার আবুল কালাম আজাদের ছেলে রাহিম বিজয় (২৩), একই উপজেলার চকদেব নুনিয়াপট্টি এলাকার ইউসুফ হোসেনের ছেলে মো. অপূর্ব (১৮) এবং সমগোত্রীয় এলাকার সুরুজ বাঁশফোড়ের ছেলে প্রেম বাঁশফোড় (২০)।

 

কাহালু থানা পুলিশ, প্রত্যক্ষদর্শী ও ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার পবিত্র ঈদুল আজহার দ্বিতীয় দিনের সন্ধ্যায় তিন বন্ধু রাহিম বিজয়, অপূর্ব ও প্রেম বাঁশফোড় একটি মোটরসাইকেলে চড়ে নওগাঁ থেকে বগুড়া সদরের একটি বিনোদন পার্কের উদ্দেশ্যে যাচ্ছিলেন। ঈদ আনন্দের অংশ হিসেবে সাইলেন্সার পাইপ পরিবর্তন করা তাদের মোটরসাইকেলটি বিকট শব্দে উচ্চগতিতে এঁকেবেঁকে সড়ক দিয়ে চলছিল।মোটরসাইকেলটি পথিমধ্যে সন্ধ্যা সোয়া ৬টার দিকে কাহালু উপজেলার বীরকেদার ইউনিয়নের বারোমাইল নামক স্থানে পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা অন্য একটি দ্রুতগতির মোটরসাইকেলের সঙ্গে এর মুখোমুখি প্রচণ্ড সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের তীব্রতায় দুটি মোটরসাইকেলে থাকা তিন বন্ধুসহ মোট পাঁচজন আরোহী ছিটকে পিচঢালা সড়কের ওপর পড়েন। এতে মাথায় ও শরীরে গুরুতর আঘাত পেয়ে ঘটনাস্থলেই তিন বন্ধুর মৃত্যু হয়। অন্যদিকে, অপর মোটরসাইকেলে থাকা অন্য দুই আরোহী মারাত্মক জখম ও আহত হন।

 

কাহালু ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের ওয়্যারহাউস ইন্সপেক্টর সবুজ হোসেন দুর্ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, সড়ক দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই নিহত তিন যুবকের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। খবর পাওয়ার পরপরই ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আহত দুইজনকে উদ্ধার করে স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেছেন। এ ছাড়া নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার জন্য কাহালু থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

 

কাহালুর বীরকেদার ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সেলিম উদ্দিন বলেন, দ্রুতগতির দুটি মোটরসাইকেলের মধ্যে সামনাসামনি সংঘর্ষের ফলেই এই রক্তক্ষয়ী দুর্ঘটনাটি ঘটেছে, যেখানে ৩ জন প্রাণ হারিয়েছেন এবং ২ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

 

কাহালু থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ব্রজেন মাহাতো সার্বিক আইনগত প্রক্রিয়া নিয়ে জানান, দুর্ঘটনায় নিহত নওগাঁর বাসিন্দা তিন বন্ধুর মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে আইনগত আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার পর নিহতদের মরদেহ তাদের নিজ নিজ পরিবারের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হবে।

ঈদ আনন্দে ঘুরতে বেরিয়ে সড়ক দুর্ঘটনা, প্রাণ গেল ৩ বন্ধুর

চট্টগ্রামের কর্ণফুলীতে ঈগল পরিবহনের একটি বাস ও থ্রি-হুইলার (লেগুনা) মুখোমুখি সংঘর্ষে তিনজন নিহত এবং অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন।

 

বৃহস্পতিবার (২৮ মে) রাত সাড়ে ৮টার দিকে কর্ণফুলীর ভেল্লাপাড়া ব্রিজ সংলগ্ন তালতল ক্রসিং এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

 

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপ-পরিদর্শক (এসআই) আলাউদ্দিন তালুকদার জানান, হাসপাতালে আনার পর এখন পর্যন্ত তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। আহতদের মধ্যে অন্তত ২০ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। নিহতদের পরিচয় এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

 

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, ঈগল পরিবহনের একটি বাস অতিরিক্ত গতিতে উল্টো পথে কর্ণফুলী ক্রসিংয়ের দিকে যাচ্ছিল। এ সময় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি লেগুনার সঙ্গে বাসটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের তীব্রতায় লেগুনাটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং এতে থাকা যাত্রীরা গুরুতর আহত হন।

দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠান। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করেন।

 

কর্ণফুলী থানার সেকেন্ড অফিসার নুরুল ইসলাম বলেন, “দুর্ঘটনার খবর পেয়ে আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছাই। বাস ও লেগুনা জব্দ করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত তিনজনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।”

চট্টগ্রামে বাস-লেগুনার মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ৩

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

পশ্চিমবঙ্গের সদ্য সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এক বিস্ফোরক বক্তব্য ঘিরে নতুন করে আলোড়ন শুরু হয়েছে ভারত ও বাংলাদেশের রাজনৈতিক মহলে।

 

কলকাতার ঝর্ণা মঞ্চে মঙ্গলবার (২ জুন) বিজেপির বিরুদ্ধে অবস্থান কর্মসূচি থেকে তিনি দাবি করেছেন, গত বছরের ডিসেম্বরে বাংলাদেশে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র হাদি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত কয়েকজন ব্যক্তি মেঘালয় হয়ে পশ্চিমবঙ্গে পালিয়ে এসেছিল। পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের বিশেষ টাস্ক ফোর্স তাদের গ্রেফতার করলেও পরবর্তীতে বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে কিছু বলতে নিষেধ করা হয়।

 

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, দেশের স্বার্থে, নিরাপত্তার স্বার্থে এবং দুই দেশের সম্পর্কের স্বার্থে তিনি এতদিন এ বিষয়ে মুখ খোলেননি। তবে বর্তমানে যে রাজনৈতিক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তাতে অনেক অপ্রকাশিত বিষয় সামনে আনার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, গ্রেফতারের পর বিষয়টি নিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে অবহিত করা হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে রাজ্য পুলিশ প্রশাসনকে এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য না করার নির্দেশ দেওয়া হয়। তিনি বলেন, চাইলে তিনি অনেক আগেই বিষয়টি নিয়ে সরব হতে পারতেন, কিন্তু দেশের বৃহত্তর স্বার্থে তা করেননি।

 

তার বক্তব্যের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ অংশ ছিল বাংলাদেশ প্রসঙ্গ। মমতা বলেন, তিনি যদি এ বিষয়ে বিস্তারিত বলতে শুরু করেন, তাহলে বাংলাদেশেও বড় ধরনের রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। সেই কারণেই তিনি এখনও সংযত অবস্থান বজায় রেখেছেন।

 

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর মুখে এ ধরনের মন্তব্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ সীমান্ত নিরাপত্তা, আন্তঃরাষ্ট্র সম্পর্ক এবং গোয়েন্দা তৎপরতা সংক্রান্ত বিষয় সাধারণত প্রকাশ্য রাজনৈতিক মঞ্চে খুব কমই উঠে আসে। এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এল, যখন পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি ও তৃণমূল কংগ্রেসের সংঘাত নতুন মাত্রা পেয়েছে। সম্প্রতি সোনারপুরে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর হামলার অভিযোগকে কেন্দ্র করে দুই দলের মধ্যে তীব্র রাজনৈতিক লড়াই শুরু হয়েছে।

 

তৃণমূলের অভিযোগ, বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের পরিকল্পিতভাবে নিশানা করা হচ্ছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তার বক্তব্যে অভিযোগ করেন, পশ্চিমবঙ্গে কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলোকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হচ্ছে। বিরোধী মতকে দমিয়ে রাখার চেষ্টা চলছে। তার দাবি, দীর্ঘদিন ধৈর্য ধরে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করলেও এখন আর নীরব থাকার সুযোগ নেই। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, কয়েকদিন আগেই তিনি ঘোষণা করেছিলেন যে সংবিধান ও গণতন্ত্র রক্ষার প্রশ্নে তিনি রাস্তায় নামবেন। সেই ঘোষণার ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবারের কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে সরাসরি রাজনৈতিক আক্রমণ শানান তিনি। রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে, মমতার এই বক্তব্য কেবল পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। বাংলাদেশ প্রসঙ্গ এবং সীমান্ত নিরাপত্তা সংক্রান্ত দাবি সামনে আসায় বিষয়টি জাতীয় পর্যায়েও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসতে পারে। এদিকে বিজেপির পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত এই নির্দিষ্ট অভিযোগের বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে রাজনৈতিক মহলে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে, মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের পেছনে কী তথ্য রয়েছে এবং আগামী দিনে তিনি এ বিষয়ে আরও কোনও তথ্য প্রকাশ করেন কি না, তা নিয়ে।

 

কলকাতার রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন একটাই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে। দীর্ঘদিন নীরব থাকার পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কেন এখন এই প্রসঙ্গ সামনে আনলেন। সেই উত্তর খুঁজতেই ব্যস্ত রাজনৈতিক মহল।

শহীদ হাদি হত্যাকাণ্ড নিয়ে মুখ খুললেন মমতা

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হলেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান।

 

আজ মঙ্গলবার (২ জুন) জাতিসংঘের সদর দফতরে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বি সাইপ্রাসের প্রার্থী আন্দ্রেয়াস এস কাকোরিসকে হারিয়ে বিজয়ী হয়েছেন তিনি।

 

জাতিসংঘের সদর দফতরে স্থানীয় সময় সকাল ১০টায় ভোটগ্রহণ শুরু হয়। এতে ১৯০ টি সদস্য রাষ্ট্র ভোট দেন। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান পেয়েছেন ৯৯ টি ভোট এবং সাইপ্রাসের প্রার্থী আন্দ্রেয়াস এস কাকোরিস পেয়েছেন ৯১ টি ভোট। আগামী ৮ সেপ্টেম্বর শুরু হতে যাওয়া জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশন-এর সভাপতিত্ব এবং অধিবেশনের কার্যক্রম পরিচালনা করবেন ড. খলিলুর রহমান।

 

এবারের নির্বাচনে ড. খলিলুর রহমানের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার মাধ্যমে দ্বিতীয়বারের মতো জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ অধিবেশনের সভাপতি পদে বসলো বাংলাদেশ।

 

এর আগে, ১৯৮৬ সালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৪১তম অধিবেশনে সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছিলেন বাংলাদেশের সাবেক পররাষ্ট্রসচিব ও রাজনীতিবিদ হুমায়ুন রশিদ চৌধুরী।

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান

ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান খুরশিদ আলমের পদত্যাগের দাবিতে নীলফামারীতে মানববন্ধন

 

মাইদুল ইসলাম: (জেলা প্রতিনিধি নীলফামারী)

০২/জুন/২০২৬: ইসলামী ব্যাংকের সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোঃ খুরশিদ আলমের পদত্যাগের দাবীতে নীলফামারীতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ মঙ্গলবার (২ জুন ) দুপুর ১২টায় ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরাম নীলফামারী জেলা শাখার উদ্যোগে ঘন্টা ব্যাপী এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরাম নীলফামারী জেলা শাখার সদস্য সচিব আরিফ আল মামুনের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন সচেতন গ্রাহক ফোরামের আহ্বায়ক মোস্তাকিমুল ইসলাম, সদস্য মাওলানা নাজমুল হুদা, ময়নুল ইসলাম, এনামুল হক প্রমুখ। বক্তারা বলেন অবিলম্বে ইসলামী ব্যাংক থেকে ব্যাংক লুটেরা এস আলম গ্রুপের উত্তরসূরিদের অপসারণ করতে হবে এবং ফ্যাসিবাদদের দোসর খুরশিদ আলমের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ বাতিল করতে হবে। তা না হলে ইসলামী ব্যাংকের কোটি কোটি গ্রাহক রাজপথে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলবে। ইসলামী ব্যাংক নীলফামারী শাখা কার্যালয়ের সামনে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহক ছাড়াও বিভিন্ন শ্রেণী পেশার বিপুল সংখ্যক মানুষ অংশ নেয়।

ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান খুরশিদ আলমের পদত্যাগের দাবিতে নীলফামারীতে মানববন্ধন

সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৬ শিশু প্রাণ হারিয়েছে। তবে এ সময়ে হামের নিশ্চিত সংক্রমণে কারো মৃত্যু হয়নি।

 

এ নিয়ে মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৫৯৪।

 

মঙ্গলবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া এক বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়।

 

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এ হিসাব সোমবার সকাল ৮টা থেকে আজ সকাল ৮টা পর্যন্ত। হামে নিশ্চিত মৃত্যুর সংখ্যা ৯০। আর হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ৫০৪ জন।

 

গত ২৪ ঘণ্টায় ৪২ নিশ্চিত হামের সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। এ পর্যন্ত নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছে ৯ হাজার ১৩৬ জন।

 

একই সময়ে এক হাজার ২৯২ শিশুর শরীরে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে। এতে করে মোট সন্দেহভাজন সংক্রমণের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭৩ হাজার ৩৬২ জনে।

হামের উপসর্গে প্রাণ হারাল আরও ৬ শিশু

দেশের ব্যাংক খাতে গত তিন মাসে ৩১ হাজার ৪৮৭ কোটি টাকা খেলাপি ঋণ বেড়েছে। আর মার্চ শেষে দেশের ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছাড়িয়েছে ৫ লাখ ৮৮ হাজার কোটি টাকা।

 

মঙ্গলবার (২ জুন) বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

 

এছাড়া দেশে চলতি মাসে খেলাপি ঋণ বেড়েছে তিন হাজার ৭৫৩ কোটি টাকা। নীতি সহায়তা ও নির্বাচনের আগে প্রার্থীরা ঋণ পুনঃতপশিল করে নেওয়ার পরেও খেলাপি ঋণ বাড়ার ঘটনা ঘটল।

 

মার্চ শেষে দেশে মোট খেলাপির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে পাঁচ লাখ ৮৮ হাজার ৭০৪ কোটি টাকায়। যা মোট বিতরণকৃত ঋণের ৩২ দশমিক ২৬ শতাংশ।

 

তিন মাসে খেলাপির হার বেড়েছে ১ দশমিক ৬৬ শতাংশ। আর গত বছরের ডিসেম্বর শেষে খেলাপির হার ছিল ৩০ দশমিক ৬ শতাংশ।

তিন মাসে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ৩১ হাজার কোটি টাকা

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, সীমান্তে যেকোনো ধরনের অবৈধ পুশইন বা পুশব্যাকের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ অবস্থান নিয়েছে। তবে বৈধ প্রক্রিয়ায় পরিচয় যাচাই শেষে কোনো বাংলাদেশি নাগরিককে ফেরত পাঠানোর বিষয় হলে তা আইনানুগভাবে বিবেচনা করা হবে।

 

মঙ্গলবার (২ জুন) সচিবালয়ে নিজ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

 

ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) মহাপরিচালক পর্যায়ের আসন্ন বৈঠকে সীমান্তসংক্রান্ত সব বিষয় উত্থাপন করা হবে বলেও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

 

এসময় সীমান্তে হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘বর্ডার কিলিং’ বলতে সাধারণত সীমান্ত বা শূন্যরেখায় এক দেশের বাহিনীর হাতে অন্য দেশের নাগরিক নিহত হওয়ার ঘটনাকে বোঝায়। কোনো ব্যক্তি অবৈধভাবে অন্য দেশের ভূখণ্ডে প্রবেশ করে সেখানে আইন ভঙ্গ করলে সংশ্লিষ্ট দেশ তাদের নিজস্ব আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে পারে।

 

সংবাদ সম্মেলনে জঙ্গল সলিমপুরের সন্ত্রাসীদের নির্মূলে সরকারের কোনো বিশেষ পরিকল্পনা আছে কিনা? এমন প্রশ্নের উত্তরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমরা আমাদের পরিকল্পনাটা এখনই ফাঁস করতে চাই না। কারণ এগুলো তথ্য ফাঁস হয়ে গেলে আমাদের রেসকিউ অভিযান ও অপারেশনে অসুবিধা হয়।

সীমান্তে অবৈধ পুশইন-পুশব্যাকের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়া হয়েছে

২০২৭ সালের এসএসসি পরীক্ষার সূচি পরিবর্তন হতে পারে: শিক্ষামন্ত্রী

স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, ডেঙ্গু রোগীদের ফ্রি চিকিৎসা দেওয়া হবে। ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সারা দেশে কঠোরভাবে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে।

 

মঙ্গলবার (২ জুন) দুপুরে সচিবালয়ে বেসরকারি হাসপাতাল এবং ডায়গনস্টিক সেন্টারের মালিকদের সাথে ডেঙ্গু প্রতিরোধ নিয়ে এক সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

 

তিনি বলেন, ডেঙ্গু রোগীদের জন্য বেসরকারি মেডিকেল কলেজগুলোতে ১০ শতাংশ শয্যা (বেড) ফাঁকা রাখা হবে। পাশাপাশি পরীক্ষায় ৮০ শতাংশ ছাড় পাবে রোগীরা। সেই সঙ্গে তাদের বিনা মূল্যে চিকিৎসা দেওয়া হবে। তবে খাবার ও ওষুধের খরচ রোগীকেই বহন করতে হবে।

 

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, মশার লার্ভা ধ্বংসের জন্য বিশেষ ওষুধ ব্যবহার করা হবে। এখন পর্যন্ত চারজন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন। এটা একটা জাতীয় সমস্যা এটা মোকাবেলায় শুধু সরকার নয়, সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।

 

ডেঙ্গু প্রতিরোধে আগামী শনিবার থেকে সারাদেশে তিনমাসের সচেতনতা কার্যক্রম শুরু হবে বলেও জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। সঠিকভাবে যেন এই রোগের চিকিৎসা দিতে পারেন এজন্য চিকিৎসকদের ডেঙ্গু প্রোটোকলের উপর প্রশিক্ষণ দেয়া হবে।

 

একইসাথে সিটি কর্পোরেশন এলাকার প্রতিটি বাড়ি ও প্রতিষ্ঠানে মশার প্রজনন যেন না হয় সে বিষয়ে কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে কাজ করা হবে।

ডেঙ্গুতে বেড ও চিকিৎসা ফ্রি, পরীক্ষার খরচে ৮০ শতাংশ ছাড়ের নির্দেশ

ফেনীতে এক বাবার আবেদন: মেয়ের নিরাপত্তায় বৈধ শটগান চাই

 

 

প্রতিনিধি:রহিম আলী জাবেদ

 

ফেনীর সোনাগাজীতে কন্যা সন্তানের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে বৈধভাবে একটি শটগানের লাইসেন্স ও অস্ত্র বরাদ্দ চেয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেছেন এক ব্যক্তি। সম্প্রতি

 

আবেদনপত্রটির ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।

 

আবেদনকারী তানজিরুল ইসলাম সজীব উপজেলার চরদরবেশ ইউনিয়নের বাসিন্দা। গত ৩১ মে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে পাঠানো আবেদনে তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমানে তার সাত বছর বয়সী

 

একটি কন্যা সন্তান রয়েছে। দেশের বর্তমান সামাজিক পরিস্থিতি এবং বিভিন্ন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার প্রেক্ষাপটে সন্তানের নিরাপত্তা নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন।

 

আবেদনে তিনি বলেন, একজন দায়িত্বশীল বাবা হিসেবে পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আত্মরক্ষার স্বার্থে একটি বৈধ আগ্নেয়াস্ত্র প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন। এ কারণে দেশের প্রচলিত আইন ও বিধিবিধান অনুসরণ করে একটি শটগানের লাইসেন্স ও অস্ত্র বরাদ্দের আবেদন জানিয়েছেন।

 

এতে আরও বলা হয়, অস্ত্রের অপব্যবহার রোধে তিনি সর্বোচ্চ সতর্ক থাকবেন এবং সংশ্লিষ্ট সব আইন ও শর্ত মেনে চলবেন।

 

এদিকে আবেদনপত্রটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকেই এটিকে একজন পিতার সন্তানের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখছেন। অন্যদিকে কেউ কেউ মনে করছেন, ব্যক্তিগত অস্ত্রের পরিবর্তে সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও আইনের শাসন আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন।

 

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশে আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স পেতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও জেলা প্রশাসনের নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যাচাই-বাছাই শেষে আইন অনুযায়ী যোগ্য বিবেচিত ব্যক্তিদের লাইসেন্স প্রদান করা হয়।

ফেনীতে এক বাবার আবেদন: মেয়ের নিরাপত্তায় বৈধ শটগান চাই

ফেনীতে হেযবুত তাওহীদের কার্যক্রম বন্ধে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চান উজালিয়ার বাসিন্দারা

 

প্রতিনিধি:

 

ফেনী পাঁচগাছিয়া ইউনিয়নের উজালিয়া এলাকায় সম্প্রতি বিতর্কিত সংগঠন হেযবুত তাওহীদের কার্যক্রম বৃদ্ধি পাওয়ায় সাধারণ মানুষের মাঝে উদ্বেগ ও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় আলেম-উলামা ও সচেতন মহল অভিযোগ করেছেন, সংগঠনটির বক্তব্য ও কার্যক্রম ইসলামের মূলধারার আকীদা-বিশ্বাসের সাথে সম্পূর্ণ সাংঘর্ষিক।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৬ ই মে ফেনী জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে উগ্রবাদী সংগঠন হেযবুত তাওহীদ একটি কর্মী সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়, সেখান থেকেই মুলত কর্মীরা এলাকায় এসে বিভিন্ন সভা, লিফলেট বিতরণ ও প্রচারণামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। এ নিয়ে সাধারণ মুসল্লি, মাদরাসা শিক্ষক ও ধর্মপ্রাণ মানুষের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

 

এলাকার কয়েকজন মুসল্লি জানান, তাদের কিছু বক্তব্য সাধারণ মানুষের ঈমান-আকীদার মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি করছে। আমরা চাই প্রশাসন বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখুক।

 

স্থানীয় মসজিদের ইমাম বলেন, বাংলাদেশের মুসলমানরা যুগ যুগ ধরে কুরআন-সুন্নাহভিত্তিক আকীদা অনুসরণ করে আসছে। বিভ্রান্তিকর মতবাদ ছড়িয়ে সমাজে ফেতনা সৃষ্টি করা কোনোভাবেই কাম্য নয়।”

 

এ বিষয়ে স্থানীয় এলাকাবাসী ও ধর্মীয় ব্যক্তিবর্গ প্রশাসনের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, এলাকায় যেন বিতর্কিত এই হেযবুত তাওহীদ নামক সংগঠন বিভ্রান্তিকর কোন কার্যক্রম পরিচালনা না করে সেদিকে নজরদারি বাড়ানো প্রয়োজন।

ফেনীতে হেযবুত তাওহীদের কার্যক্রম বন্ধে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চান উজালিয়ার বাসিন্দারা

র‌্যাবের চৌকস অভিযানে জীপসহ প্রায় ১১ হাজার ইয়াবার চালান আটক

জামালপুর হামলা পাল্টা হামলার মধ্য দিয়ে জেলার সানন্দবাড়ী তে থমথমে অবস্থা বিরাজমান।

error: আপনি নিউজ চুরি করার চেষ্টা করছেন। বিশেষ প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন ০১৭৬৭৪৪৪৩৩৩
%d