অতি ভারি বৃষ্টির পূর্বাভাস, সমুদ্র বন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত - Gono television | বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল।
অতি ভারি বৃষ্টির পূর্বাভাস, সমুদ্র বন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত

অতি ভারি বৃষ্টির পূর্বাভাস, সমুদ্র বন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত

আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ঢাকাসহ সারা দেশে ভারি বৃষ্টিপাতের পূর্বাবাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর। একই সাথে মৌসুমী বায়ু সক্রিয় থাকায় লঘুচাপের কারণে দেশের দক্ষিণ উপকূলীয় ও সমূদ্র অঞ্চলে তিন নম্বর সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।মঙ্গলবার (১৭ জুন) দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে মৌসুমী বায়ুপ্রবাহ সক্রিয় থাকায় দেশের রংপুর, রাজশাহী ছাড়া বাকি বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় ভারি থেকে অতি ভারি বষর্ণ হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস। এছাড়া বিক্ষিপ্তভাবে পুরো দেশেই বৃষ্টিপাত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন আবহাওয়া অধিদফতরের আবহাওয়াবিদ তরিফুল নেওয়াজ কবির। তিনি আরও বলেন, উপকূল ও সকল সমুদ্র বন্দরকে তিন নম্বর সতকর্তা সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছ। এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ছিল সন্দীপে ৭৬ মিলিমিটার এবং ঢাকায় সাত মিলিমিটার। সারা দেশ আরও কিছু দিন ভারি বৃষ্টি পাত হতে পারে। তবে দক্ষিণাঞ্চলের তুলনায় উত্তর ও উত্তর পশ্চিমাঞ্চলে কম বৃষ্টিপাত হবে। ফলে অনেকটাই কমবে ভ্যাপসা গরম। এদিকে আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে যে, বাংলাদেশের দক্ষিণপশ্চিমাঞ্চল ও তৎসংলগ্ন এলাকায় একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হয়েছে। লঘুচাপের বর্ধিতাংশ উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। মৌসুমী বায়ু দেশের দক্ষিণাঞ্চলে সক্রিয় এবং তা অন্যত্র মোটামুটি সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে প্রবল অবস্থায় রয়েছে। বৃষ্টিপাত-ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় এবং রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের অনেক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ বিদ্যুৎ চমকানো/হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সাথে সারা দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি থেকে অতি ভারি বর্ষণ হতে পারে। তাপমাত্রা- সারাদেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।


টানা তিন দফা উত্থানের পর দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। এবার ভরিতে ২ হাজার ১৫৮ টাকা কমিয়ে ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৩৪ হাজার ৬২১ টাকা নির্ধারণ করেছে সংগঠনটি।

 

শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সকালে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বাজুস। নতুন এ দাম আজ সকাল ১০টা থেকেই কার্যকর হয়েছে।

 

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) মূল্য কমেছে। ফলে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় ভ্যাটসহ স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।

 

নতুন দর অনুযায়ী, দেশের বাজারে ভ্যাটসহ প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৩৪ হাজার ৬২১ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ২৪ হাজার ৬৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৯২ হাজার ৩৯৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৫৭ হাজার ১৭২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

 

বাজুস জানিয়েছে, পরবর্তী সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে এই দাম কার্যকর থাকবে। তবে অলঙ্কারের ডিজাইন অনুযায়ী মজুরি প্রযোজ্য। স্বর্ণালঙ্কার ও রৌপলঙ্কারের বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে ভ্যাট যুক্ত থাকায় গ্রাহকদের কাছ থেকে আলাদাভাবে ভ্যাট আদায় করা যাবে না। এছাড়া সুনির্দিষ্ট ভ্যাট, মজুরি ও পাথর বাদ দিয়ে অলঙ্কার এক্সচেঞ্জ ও পারচেজের ক্ষেত্রে বাজুসের আগের নিয়ম বহাল থাকবে।

 

এর আগে, সবশেষ গত ১৩ আগস্ট সকালে স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছিল বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন। সেদিন ভরিতে ১ হাজার ১৩৩ টাকা বাড়িয়ে ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৩৬ হাজার ৭৭৯ টাকা নির্ধারণ করা হয়।

 

এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ২৬ হাজার ১৬৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৯৪ হাজার ২৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৫৮ হাজার ৬৩০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। যা কার্যকর হয়েছিল সেদিন সকাল ১০টা থেকেই।

 

এ নিয়ে চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে ১০৩ বার সমন্বয় করা হয়েছে স্বর্ণের দাম। যেখানে দাম ৫১ দফা বাড়ানো হয়েছে, কমানো হয়েছে ৫১ দফা ও ১ দফা ভ্যাট সমন্বয় করা হয়েছে। আর গত ২০২৫ সালে দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল; যেখানে ৬৪ বার দাম বাড়ানো হয়েছিল, আর কমানো হয়েছিল ২৯ বার

টানা তিন দফা বাড়ার পর দেশে স্বর্ণের দামে পতন

গাজীপুর জজ কোর্টের সামনে সরকারি আইনজীবী (এজিপি) অ্যাডভোকেট রুহুল আমিন ও অ্যাডভোকেট মাহীন হাসান শুভর ওপর হামলার ঘটনায় আদালতে মামলা দায়েরের পর অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। একই সঙ্গে নিজেদের ও পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

 

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) গাজীপুর জেলা আইনজীবী সমিতির লাইব্রেরি কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানান তারা।

 

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গত ৯ আগস্ট সন্ধ্যা ৬টার দিকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের পাশে জজ কোর্টের সামনের সড়কে অতর্কিতভাবে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়। হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র ও হেলমেট দিয়ে অ্যাডভোকেট রুহুল আমিনকে হত্যার উদ্দেশ্যে মাথা ও চোখ লক্ষ্য করে আঘাত করেন বলে অভিযোগ করা হয়। এতে রুহুল আমিন ও মাহীন হাসান শুভ আহত হন। পরে তাদের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

 

ভুক্তভোগীরা জানান, হামলার পর আইনজীবী ও স্থানীয় লোকজন কয়েকজন অভিযুক্তকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন। তবে অজ্ঞাত কারণে পুলিশ তাদের ছেড়ে দেয় বলে অভিযোগ করেন তারা।

 

পরে চিকিৎসা শেষে অ্যাডভোকেট রুহুল আমিন বৃহস্পতিবার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করেন। মামলাটি ১০২১/২০২৬ নম্বরে রুজু করা হয়। পরে আদালত অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন।

 

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা আদালতের জারি করা পরোয়ানা দ্রুত কার্যকর করে অভিযুক্তদের গ্রেফতার ও আদালতে সোপর্দ করার দাবি জানান। একই সঙ্গে ভুক্তভোগী, মামলার বাদী এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তারা।

 

তারা বলেন, মামলা দায়ের করায় আসামিরা ক্ষিপ্ত হয়ে তাদের জীবননাশের হুমকি দিচ্ছেন। এ অবস্থায় ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

 

আইনজীবীরা বলেন, হামলার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। তা না হলে ভবিষ্যতে আইনজীবীসহ সাধারণ নাগরিকদের ওপর এ ধরনের হামলার ঘটনা আরও বাড়তে পারে। বিচার বিভাগের প্রতি আস্থা রেখে তারা সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করেন।

 

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন অ্যাডভোকেট রুহুল আমিন (এজিপি), গাজীপুর জেলা আইনজীবী সমিতির ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম, অ্যাডভোকেট মোজাম্মেল, অ্যাডভোকেট কামরুল হাসান রাসেল, অ্যাডভোকেট আল আমিন ইসলাম আশিক, অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ, অ্যাডভোকেট ওলিউল ইসলাম টুটুল, অ্যাডভোকেট আলমগীর হোসেন ও অ্যাডভোকেট মাহীন হাসান শুভ।

আইনজীবীর ওপর হামলার ঘটনায় পরোয়ানা, নিরাপত্তা চাইলেন ভুক্তভোগীরা

দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মৃত্যুবার্ষিকী: রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে আলোচিত এক অধ্যায়ের স্মরণ

আজ ১৪ আগস্ট। ২০২৩ সালের এই দিনে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সাবেক নায়েবে আমির ও বহুল আলোচিত ধর্মীয় বক্তা আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৪ বছর।

তাঁর মৃত্যু বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবন, ধর্মীয় বক্তা হিসেবে জনপ্রিয়তা এবং ১৯৭১ সালের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় বিচার—সব মিলিয়ে সাঈদী ছিলেন বাংলাদেশের রাজনীতির অন্যতম আলোচিত ও বিতর্কিত ব্যক্তিত্ব।

শেষ সময়ের চিকিৎসা

২০২৩ সালের ১৩ আগস্ট কারাগারে অসুস্থ হয়ে পড়লে দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকে প্রথমে গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে ঢাকার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থানান্তর করা হয়।

পরদিন ১৪ আগস্ট রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাঁর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে। তাঁর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর অনুসারী ও সমর্থকদের মধ্যে শোকের প্রতিক্রিয়া দেখা যায়।

রাজনৈতিক ও ধর্মীয় জীবনে সাঈদী

দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী ধর্মীয় বক্তা হিসেবে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন। দেশের বিভিন্ন স্থানে তাঁর ওয়াজ ও ধর্মীয় বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি একটি বড় শ্রোতাগোষ্ঠীর কাছে পরিচিত হয়ে ওঠেন।

এর পাশাপাশি তিনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। তিনি জাতীয় সংসদের সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন এবং পরবর্তী সময়ে দলটির নায়েবে আমিরের দায়িত্বে ছিলেন।

ধর্মীয় বক্তা ও রাজনৈতিক নেতা হিসেবে তাঁর দীর্ঘ কর্মজীবন বাংলাদেশের সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিসরে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলেছিল।

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা ও বিচার

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মামলা হয়।

২০১৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দেন। তাঁর বিরুদ্ধে হত্যা, নির্যাতন, লুটপাট ও ধর্ষণসহ বিভিন্ন মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে বিচার হয়।

পরবর্তীতে ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিরুদ্ধে তিনি আপিল করেন। ২০১৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ তাঁর মৃত্যুদণ্ড পরিবর্তন করে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেন।

এই বিচার ও রায়কে কেন্দ্র করে বাংলাদেশে ব্যাপক রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া, বিক্ষোভ ও সহিংসতার ঘটনা ঘটে। একই সঙ্গে সাঈদীকে ঘিরে দেশজুড়ে তৈরি হয় তীব্র রাজনৈতিক ও সামাজিক মতবিভাজন।

মৃত্যুর পর প্রতিক্রিয়া

সাঈদীর মৃত্যুর সংবাদ প্রকাশের পর তাঁর অনুসারী ও সমর্থকদের মধ্যে শোকের প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। বিভিন্ন স্থানে তাঁকে স্মরণ করে দোয়া ও অন্যান্য কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

অন্যদিকে তাঁর রাজনৈতিক ভূমিকা এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় দণ্ডিত হওয়ার বিষয়টি সামনে এনে বিভিন্ন মহল থেকে ভিন্ন প্রতিক্রিয়াও জানানো হয়।

ফলে তাঁর মৃত্যুর পরও তাঁকে ঘিরে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে আলোচনা অব্যাহত থাকে।

মৃত্যুবার্ষিকীতে স্মরণ

আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর জীবন ছিল একই সঙ্গে ধর্মীয়, রাজনৈতিক ও বিচারিক ইতিহাসের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত। ধর্মীয় বক্তা হিসেবে তাঁর জনপ্রিয়তা যেমন ব্যাপক ছিল, তেমনি তাঁর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলাকে ঘিরে ছিল তীব্র বিতর্ক।

আজ তাঁর মৃত্যুবার্ষিকীতে তাঁর অনুসারীরা তাঁকে শ্রদ্ধা ও দোয়ার মাধ্যমে স্মরণ করছেন। একই সঙ্গে তাঁর জীবন ও রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়ে নতুন করে আলোচনা হচ্ছে।

ইতিহাসের কোনো আলোচিত ব্যক্তিত্বকে মূল্যায়নের ক্ষেত্রে আবেগের পাশাপাশি আদালতের নথি, ঐতিহাসিক তথ্য ও যাচাইযোগ্য সূত্রকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। সাঈদীর জীবন ও রাজনৈতিক অধ্যায়ও বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ইতিহাসের এমনই একটি আলোচিত অধ্যায়, যা নিয়ে আজও বিভিন্ন মহলে আলোচনা রয়েছে।

আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মৃত্যুবার্ষিকী: আলোচিত এক অধ্যায়ের স্মরণ

স্বামীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলার দায়ে স্ত্রীকে ১০ দিনের কারাদন্ড

 

আতিকুর রহমান আশিক , মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি

 

মানিকগঞ্জে স্বামীর বিরুদ্ধে মিথ্যা যৌতুক মামলা দায়ের করার দায়ে লাভলী আক্তার নামে এক নারীকে ১০ দিনের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই মামলায় অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় স্বামী আরিফুল ইসলাম রতনকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে। মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা দায়েরের বিরুদ্ধে আদালতে এ রায় গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেবে বলে মনে করছেন আইনজীবীরা।

 

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২ এর বিচারক দোলন বিশ্বাস এ রায় দেন।

 

মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালে স্বামী আরিফুল ইসলাম রতনের বিরুদ্ধে যৌতুক নিরোধ আইন, ২০১৮-এর ৩ ধারায় মামলা করেন স্ত্রী লাভলী আক্তার। মামলায় অভিযোগ করা হয়, ২০২২ সালের ১৫ এপ্রিল আরিফুল পাঁচ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে তাকে মারধর করেন। পরে আরও একটি ঘটনায় যৌতুক দাবির অভিযোগ আনা হয়।

তবে অভিযোগে উল্লেখিত দুই ঘটনার সময়ই আরিফুল ইসলাম বিদেশে ছিলেন। তিনি ২০২১ সালের ৮ এপ্রিল চাকরির উদ্দেশ্যে সৌদি আরবে যান এবং দেশে ফেরেন ২০২৫ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি।

 

গত ২৭ জুলাই সাক্ষ্য-প্রমাণে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় আরিফুল ইসলাম রতনকে বেকসুর খালাস দেন আদালত। পরে মামলাটি মিথ্যা প্রমাণিত হওয়ায় বাদীর বিরুদ্ধে যৌতুক নিরোধ আইন, ২০১৮-এর ৬ ধারায় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আসামিপক্ষের আইনজীবী আদালতে পিটিশন দাখিল করেন।

 

এর পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার শুনানি শেষে আদালত বাদী লাভলী আক্তারকে যৌতুক নিরোধ আইন, ২০১৮-এর ৬ ধারায় ১০ দিনের কারাদণ্ড দেন।

 

আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট জাকির হোসেন কোহিনুর বলেন, সাক্ষ্য-প্রমাণ শেষে আদালত আসামিকে খালাস দেন। পরে মিথ্যা মামলা দায়েরের বিষয়টি বিবেচনায় যৌতুক নিরোধ আইনের ৬ ধারায় বাদীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে আদালতে আবেদন করা হয়। বৃহস্পতিবার শুনানি শেষে আদালত বাদীকে ১০ দিনের কারাদণ্ড দিয়েছেন।

 

বাদী পক্ষের আইনজীবী সমাপ্তি আক্তার বলেন, ১০ দিনের সাজা হওয়ায় আপিলের শর্তে জামিনের আবেদন করা হয়। পরে আদালত এক মাসের মধ্যে আপিল করার শর্তে এক হাজার টাকা বন্ডের লাভলী আক্তারের জামিন মঞ্জুর করেন।

 

মানিকগঞ্জ জজ কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মাহাবুবুল ইসলাম বলেন, মিথ্যা মামলা করে কাউকে হয়রানি করলে মামলার বাদীকেও যে শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে, এই রায় তার একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা। এ ধরনের রায় হলে সমাজে ঢালাওভাবে মিথ্যা মামলা দায়েরের প্রবণতা অনেকাংশে কমে আসতে পারে।

স্বামীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলার দায়ে স্ত্রীকে ১০ দিনের কারাদন্ড 

পটুয়াখালীর বাউফলের নদীবেষ্টিত চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের চর রায়সাহেব এলাকায় হামলার ঘটনার জামায়াত নেতাসহ ৩ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এর আগে, হামলার শিকার বিএনপি সমর্থক মাঈনুদ্দিন (২৫) বাদি হয়ে বাউফল থানায় হত্যা চেষ্টার মামলা দায়ের করেন।

 

বুধবার (১২আগস্ট) দুপুরের অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে দ্রুতই তাদের আদালতে সোপর্দ করা হয়।

 

গ্রেফতার আসামিরা হলেন— চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়ন শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সেক্রেটারি সাইফুল শরীফ (৪০), ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ড জামায়াতের সভাপতি সোহাগ হাওলাদার (২৮) ও জামায়াত সমর্থক আল-আমিন (২৮)।

 

পুলিশ জানায়, চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের রায়সাহেব এলাকার লালচরে মহিষের পাল জেলেদের মাছ ধরার চাই নষ্ট করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিরোধ সৃষ্টি হয়। বিরোধের মিমাংসার জন্য সোমবার (১০ আগস্ট) রাতে রায় সাহেব এলাকায় সালিস বৈঠকের আয়োজন করা হয়। সালিশ বৈঠকে মহিষ খামারিদের পক্ষে অবস্থান নেয় জামায়াতের নেতা-কর্মীরা। অপরদিকে, জেলেদের পক্ষে অবস্থান নেন বিএনপির সমর্থক ভুক্তভোগী মাইনুদ্দিন।

 

সালিশ চলাকালে দু’পক্ষই বাকবিতন্ডায় জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে জামায়াত নেতা-কর্মীদের হামলা চালিয়ে মাঈনুদ্দিন, শাহিন, সোহেল রাড়ি, মামুন, ইউনুস, মমতাজ ও রানী বেগমসহ ৭ জন আহত করেন।

 

এদের মধ্যে গুরুতর আহত শাহিন রাড়ি ও মাঈনুদ্দিনকে উদ্ধার করে বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। অন্যান্যদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।

 

এ বিষয়ে বাউফল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সিরাজুল ইসলাম বলেন, হামলার মামলায় তিন আসামিকে গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত আছে।

বাউফলে বিএনপি সমর্থকদের কু/পিয়ে জখম, জামায়াতের ৩ নেতা-কর্মী গ্রেফতার

শ্যামনগরে ভুল করে গ্যাস ট্যাবলেট খেয়ে কিশোরীর মৃত্যু, বিয়ের ১ দিন আগেই শোকের ছায়া।

সংবাদদাতা: জিয়াউর রহমান জিয়া,

শ্যামনগর উপজেলা প্রতিনিধি,

 

 

*শ্যামনগর, সাতক্ষীরা প্রতিনিধি*

*তারিখ: ১২/০৮/২০২৬*

 

সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার কাশিমাড়ী ইউনিয়নের জয়নগর গ্রামে ভুল করে ইঁদুর মারার গ্যাস ট্যাবলেট খেয়ে *সোহানা পারভীন (১৭)* নামে এক কিশোরীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।

 

আগামীকাল বৃহস্পতিবার পারিবারিকভাবে তার বিয়ের কথা ছিল। বিয়ের আনন্দের আগেই এমন ঘটনায় পুরো এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

 

পারিবারিক ও থানা সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে নিজ বাড়িতে ভুলক্রমে ইঁদুর মারার জন্য ব্যবহৃত গ্যাস ট্যাবলেট খেয়ে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন সোহানা। পরে পরিবারের সদস্যরা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে হাসপাতালে নেওয়ার পথেই তার মৃত্যু হয়।

 

নিহত সোহানা পারভীন জয়নগর গ্রামের আব্দুল মান্নানের মেয়ে।

 

এ বিষয়ে শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাফিউল ইসলাম পাটোয়ারী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় মরদেহ পারিবারিকভাবে দাফন করা হয়েছে।

 

একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ভুলে একটি সম্ভাবনাময় জীবন অকালে ঝরে যাওয়ায় এলাকাবাসীর মাঝে গভীর শোক ও দুঃখের সৃষ্টি হয়েছে।

 

ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।

বিয়ের ১ দিন আগেই শোকের ছায়া ,ভুল করে গ্যাস ট্যাবলেট খেয়ে কিশোরীর মৃত্যু

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

বাড়িতে ছাগল ঢুকা কেন্দ্র করে ঠাকুরগাঁওয়ে হামলা ও শ্লীলতাহানি, ইউপি সদস্যসহ আসামী ১০।

 

মোঃ আশরাফুল ইসলাম

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি

 

ঠাকুরগাঁওয়ে ভূল্লী উপজেলার ৩নং আউলিয়াপুর ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ভুজেন চন্দ্র রায়সহ ১০ জনের বিরুদ্ধে হামলা, মারধর, ভাঙচুর, শ্লীলতাহানি ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন পরেশ চন্দ্র রায়।

 

লিখিত অভিযোগে পরেশ চন্দ্র রায় দাবি করেন, অভিযুক্তদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক ও জমি-সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছিল। এর জের ধরে ছাগল বাড়ীতে প্রবেশ করাকে কেন্দ্র করে গত ৯ আগস্ট দুপুর আনুমানিক ১টা ৩০ মিনিটে ভুজেন চন্দ্র রায়সহ অভিযুক্তরা সংঘবদ্ধ হয়ে তাদের বাড়িতে প্রবেশ করেন।

 

অভিযোগে বলা হয়, এ সময় অভিযুক্তরা ঘরের গাছের শক্ত ডাল দিয়ে পরেশ চন্দ্র রায়ের বাবা মোটাই শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করেন। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। একই ঘটনায় পরিবারের নারী সদস্যদেরও মারধর ও শ্লীলতাহানির অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযোগকারীর দাবি, তার মেয়েকে টানাহেঁচড়া করে শ্লীলতাহানি করা হয় এবং পরিবারের অন্য সদস্যদেরও মারধর করা হয়।

 

 

অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, হামলার সময় অভিযুক্তরা পরিবারের সদস্যদের বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখান এবং প্রাণনাশের হুমকি দেন। স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

 

অভিযুক্তরা হলেন, ১। ইউপি সদস্য ভুজেন চন্দ্র, ২। পশুরাম রায়, ৩। দারগা নাথ, ৪। আশীষ, ৫। সমারু, সকলের পিতা গনেশ চন্দ্র রায়, ৬। জগন্নাথ, ৭। পরিতোষ, উভয়ের পিতা- দারগা নাথ, ৮। প্রদীপ, ৯। মালা রানী, ১০। সুকনী রানী সকলের সাং- কচুবাড়ী হাটপাড়া, ভূল্লী,  ঠাকুরগাঁও।

 

ঘটনার বিষয়ে কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তি সাক্ষ্য দিতে পারবেন বলেও অভিযোগকারী উল্লেখ করেন।

 

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট থানায় অভিযোগের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারী পরেশ চন্দ্র রায়।

 

এ ঘটনায় অভিযুক্ত ইউপি সদস্য ভুজেন এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগটি ভিক্তিহীন বলে দাবি করেন।

 

এ বিষয়ে তদন্ত কর্মকর্তা ভূল্লী থানার সাব ইন্সপেক্টর আব্দুল মোত্তালেব জানান, অভিযোগটি রেকর্ড করা হয়েছে। এ ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকিদের গ্রেপ্তার করতে অভিযান চলমান আছে।

বাড়িতে ছাগল ঢুকা কেন্দ্র করে ঠাকুরগাঁওয়ে হামলা ও শ্লীলতাহানি, ইউপি সদস্যসহ আসামী ১০

শ্যামনগরে বিনামূল্যে গবাদিপশুর টিকাদান কর্মসূচি

পিপিআর ও ক্ষুরা রোগ প্রতিরোধে তিন শতাধিক গরু, ছাগল ও ভেড়াকে টিকা প্রদা

 

শ্যামনগর (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি: বিনামূল্যে গবাদিপশুর টিকাদান কর্মসূচি পিপিআর ও ক্ষুরা রোগ প্রতিরোধে তিন শতাধিক গরু, ছাগল ও ভেড়াকে টিকা প্রদান। প্রাণিসম্পদের সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ, খামারিদের আর্থিক ক্ষতি কমানো এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল প্রাণিসম্পদ ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার লক্ষ্যে সাতক্ষীরার শ্যামনগরে গরুর ক্ষুরা রোগ (Foot and Mouth Disease-FMD) এবং ছাগল-ভেড়ার পিপিআর রোগ (Peste des Petits Ruminants-PPR) প্রতিরোধে বিনামূল্যে টিকাদান কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) উপজেলার কৈখালী ইউনিয়নের যাদবপুর হাটখোলায় Climate Action at Local Level (CALL) প্রকল্পের আওতায় দিনব্যাপী এ কর্মসূচির আয়োজন করে Local Development Agriculture and Research Society (LEDARS)। কর্মসূচিতে অর্থায়ন করছে Global Alliance for Improved Nutrition (GAIN)।

দিনব্যাপী পরিচালিত এ কর্মসূচিতে স্থানীয় খামারিদের তিন শতাধিক গরু, ছাগল ও ভেড়াকে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে FMD ও PPR টিকা প্রদান করা হয়। একই সঙ্গে প্রাণিসম্পদের সংক্রামক রোগ প্রতিরোধ, নির্ধারিত সময়ে টিকা প্রয়োগের গুরুত্ব, রোগের প্রাথমিক লক্ষণ শনাক্তকরণ এবং নিরাপদ ও আধুনিক খামার ব্যবস্থাপনা বিষয়ে খামারিদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও কারিগরি সহায়তা দেওয়া হয়।

কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন কৈখালী ইউনিয়ন ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য জনাব শাহীনুর রহমান, এআইটি অনিমেষ পরামান্য, ভ্যাকসিনেটর সিকান্দার, ইউনিয়ন MSP কমিটির সদস্য জনাব দিপক কুমার মন্ডল, যাদবপুর জলবায়ু সহনশীল দলের সভাপতি তাছলিমা খাতুনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও সংশ্লিষ্টরা। এছাড়া CALL প্রকল্পের প্রকল্প কর্মকর্তা জনাব সুব্রত কুমার গাইন উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানের সার্বিক তত্ত্বাবধান ও সমন্বয় করেন CALL প্রকল্পের মাঠ সহায়ক মোঃ কানিজুর রহমান।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলেন, ক্ষুরা রোগ (FMD) ও পিপিআর (PPR) প্রাণিসম্পদ খাতের অন্যতম ক্ষতিকর সংক্রামক রোগ। এসব রোগে আক্রান্ত হলে গবাদিপশুর উৎপাদনশীলতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায় এবং গুরুতর ক্ষেত্রে পশুর মৃত্যুঝুঁকিও তৈরি হয়। এতে খামারিরা বড় ধরনের অর্থনৈতিক ক্ষতির সম্মুখীন হন। তাই নির্ধারিত সময়ে নিয়মিত ও পরিকল্পিতভাবে টিকাদান করা এসব রোগ প্রতিরোধের অন্যতম কার্যকর উপায়। তারা আরও বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে প্রাণিসম্পদের রোগঝুঁকি ও উৎপাদন ব্যবস্থাপনায় নানা ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি হচ্ছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় CALL প্রকল্পের মাধ্যমে জলবায়ু সহনশীল কৃষি ও প্রাণিসম্পদ ব্যবস্থাপনা জোরদারে বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে খামারিদের বিনামূল্যে টিকাদান, সচেতনতামূলক প্রচারণা এবং প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

শ্যামনগরে বিনামূল্যে গবাদিপশুর টিকাদান কর্মসূচি পিপিআর ও ক্ষুরা রোগ প্রতিরোধে তিন শতাধিক গরু, ছাগল ও ভেড়াকে টিকা প্রদান

সাউথ বাংলা ব্যাংকের মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামি কলারোয়া উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক এম এ হাকিম সবুজ গ্রেপ্তার

 

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি: সাউথ বাংলা এগ্রিকালচার অ্যান্ড কমার্স ব্যাংক পিএলসির একটি মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামি এবং কলারোয়া উপজেলা বিএনপির যুবদলের আহ্বায়ক এম এ হাকিম সবুজকে গ্রেপ্তার করেছে কলারোয়া থানা পুলিশ।

 

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সন্ধ্যায় কলারোয়া উপজেলার একটি মোবাইল সার্ভিসিংয়ের দোকান থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।

 

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সাউথ বাংলা এগ্রিকালচার অ্যান্ড কমার্স ব্যাংক পিএলসির দায়ের করা মামলায় আদালত থেকে এম এ হাকিম সবুজের বিরুদ্ধে সাজা হয়। ওই মামলায় আদালতের রায় অনুযায়ী তিনি সাজাপ্রাপ্ত আসামি হিসেবে পলাতক ছিলেন বলে পুলিশ জানায়।

 

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কলারোয়া থানা পুলিশ তার অবস্থান শনাক্ত করে। পরে পুলিশের একটি দল অভিযান চালিয়ে কলারোয়া উপজেলার একটি মোবাইল সার্ভিসিংয়ের দোকান থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে।

 

গ্রেপ্তারের পর তাকে থানায় নেওয়া হয়। পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তাকে আদালতে পাঠানো হবে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

 

এ বিষয়ে কলারোয়া থানা পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আদালতের সাজা পরোয়ানা অনুযায়ী অভিযান চালিয়ে এম এ হাকিম সবুজকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

 

এদিকে, এম এ হাকিম সবুজের গ্রেপ্তারের খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে। তিনি কলারোয়া উপজেলা বিএনপির যুবদলের আহ্বায়ক হিসেবে রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় ছিলেন।

 

তবে মামলার বিস্তারিত ধারা, আদালতের রায়ের তারিখ এবং সাজার মেয়াদ সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট আদালত ও পুলিশের নথি যাচাই করে বিস্তারিত জানা যাবে।

সাউথ বাংলা ব্যাংকের মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামি কলারোয়া উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক এম এ হাকিম সবুজ গ্রেপ্তার

পিরোজপুরের নেছারাবাদে প্রবাসীর বাড়িতে চুরির সময় স্থানীয়দের হাতে নাঈম (২৫) নামে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের এক নেতা আটক হয়েছেন। আটকের আগে ওই যুবকের ছুরিকাঘাতে প্রবাসীর স্ত্রী, মেয়ে ও এক প্রতিবেশীসহ তিনজন আহত হন।

 

আহতদের উদ্ধার করে নেছারাবাদ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

 

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সকাল ১০টার দিকে স্বরূপকাঠী পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে।

 

আটক নাঈম একই এলাকার মো. রফিক মিয়ার ছেলে।

 

স্থানীয়দের অভিযোগ, নাঈম নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রবাসী ইলিয়াস হোসেনের বাড়ির পাশে থাকা একটি সুপারি গাছ বেয়ে উঠে নাঈম ঘরে প্রবেশ করেন। এ সময় ঘরে থাকা ইলিয়াস হোসেনের স্ত্রী নাজমা আক্তার তাকে দেখে ফেলেন। নাজমা মোবাইল ফোনে বিষয়টি জানানোর চেষ্টা করলে নাঈম তাকে বাধা দেন। একপর্যায়ে হাতে থাকা ছুরি দিয়ে নাজমাকে আঘাত করা হয়। নাজমার চিৎকার শুনে তার মেয়ে এগিয়ে এলে তাকেও আঘাত করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে প্রতিবেশী জাহাঙ্গীর হোসেনের ছেলে নুহিন মিয়া তাদের উদ্ধারে এগিয়ে এলে তাকেও ছুরিকাঘাত করে আহত করা হয়। আহতদের চিৎকার শুনে স্থানীয়রা ছুটে এসে নাঈমকে আটক করেন। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।

 

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন নাজমা আক্তার বলেন, ঘরে কাজ করার সময় হঠাৎ দেখি নাঈম সুপারি গাছ বেয়ে ঘরে ঢুকেছে। আমি মোবাইলে ফোন করতে গেলে সে বাধা দেয়। পরে চিৎকার করলে ছুরি দিয়ে আমাকে আঘাত করে। আমার মেয়ে ও প্রতিবেশী নুহিন এগিয়ে এলে তাদেরও আহত করা হয়।

 

নেছারাবাদ থানার ওসি মো. মেহেদী হাসান জানান, পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডে দস্যুতার সময় স্থানীয়রা নাঈম নামে এক যুবককে আটক করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে হেফাজতে নেয়। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে দস্যুতার অভিযোগে মামলা করা হয়েছে। পরে তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

চুরি করতে গিয়ে ছু/রি/কাঘাতে প্রবাসীর স্ত্রী-মেয়েকে জখম, নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা আটক

টানা তিন দফা উত্থানের পর দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। এবার ভরিতে ২ হাজার ১৫৮ টাকা কমিয়ে ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৩৪ হাজার ৬২১ টাকা নির্ধারণ করেছে সংগঠনটি।

 

শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সকালে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বাজুস। নতুন এ দাম আজ সকাল ১০টা থেকেই কার্যকর হয়েছে।

 

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) মূল্য কমেছে। ফলে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় ভ্যাটসহ স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।

 

নতুন দর অনুযায়ী, দেশের বাজারে ভ্যাটসহ প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৩৪ হাজার ৬২১ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ২৪ হাজার ৬৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৯২ হাজার ৩৯৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৫৭ হাজার ১৭২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

 

বাজুস জানিয়েছে, পরবর্তী সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে এই দাম কার্যকর থাকবে। তবে অলঙ্কারের ডিজাইন অনুযায়ী মজুরি প্রযোজ্য। স্বর্ণালঙ্কার ও রৌপলঙ্কারের বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে ভ্যাট যুক্ত থাকায় গ্রাহকদের কাছ থেকে আলাদাভাবে ভ্যাট আদায় করা যাবে না। এছাড়া সুনির্দিষ্ট ভ্যাট, মজুরি ও পাথর বাদ দিয়ে অলঙ্কার এক্সচেঞ্জ ও পারচেজের ক্ষেত্রে বাজুসের আগের নিয়ম বহাল থাকবে।

 

এর আগে, সবশেষ গত ১৩ আগস্ট সকালে স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছিল বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন। সেদিন ভরিতে ১ হাজার ১৩৩ টাকা বাড়িয়ে ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৩৬ হাজার ৭৭৯ টাকা নির্ধারণ করা হয়।

 

এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ২৬ হাজার ১৬৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৯৪ হাজার ২৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৫৮ হাজার ৬৩০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। যা কার্যকর হয়েছিল সেদিন সকাল ১০টা থেকেই।

 

এ নিয়ে চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে ১০৩ বার সমন্বয় করা হয়েছে স্বর্ণের দাম। যেখানে দাম ৫১ দফা বাড়ানো হয়েছে, কমানো হয়েছে ৫১ দফা ও ১ দফা ভ্যাট সমন্বয় করা হয়েছে। আর গত ২০২৫ সালে দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল; যেখানে ৬৪ বার দাম বাড়ানো হয়েছিল, আর কমানো হয়েছিল ২৯ বার

টানা তিন দফা বাড়ার পর দেশে স্বর্ণের দামে পতন

গাজীপুর জজ কোর্টের সামনে সরকারি আইনজীবী (এজিপি) অ্যাডভোকেট রুহুল আমিন ও অ্যাডভোকেট মাহীন হাসান শুভর ওপর হামলার ঘটনায় আদালতে মামলা দায়েরের পর অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। একই সঙ্গে নিজেদের ও পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

 

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) গাজীপুর জেলা আইনজীবী সমিতির লাইব্রেরি কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানান তারা।

 

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গত ৯ আগস্ট সন্ধ্যা ৬টার দিকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের পাশে জজ কোর্টের সামনের সড়কে অতর্কিতভাবে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়। হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র ও হেলমেট দিয়ে অ্যাডভোকেট রুহুল আমিনকে হত্যার উদ্দেশ্যে মাথা ও চোখ লক্ষ্য করে আঘাত করেন বলে অভিযোগ করা হয়। এতে রুহুল আমিন ও মাহীন হাসান শুভ আহত হন। পরে তাদের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

 

ভুক্তভোগীরা জানান, হামলার পর আইনজীবী ও স্থানীয় লোকজন কয়েকজন অভিযুক্তকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন। তবে অজ্ঞাত কারণে পুলিশ তাদের ছেড়ে দেয় বলে অভিযোগ করেন তারা।

 

পরে চিকিৎসা শেষে অ্যাডভোকেট রুহুল আমিন বৃহস্পতিবার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করেন। মামলাটি ১০২১/২০২৬ নম্বরে রুজু করা হয়। পরে আদালত অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন।

 

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা আদালতের জারি করা পরোয়ানা দ্রুত কার্যকর করে অভিযুক্তদের গ্রেফতার ও আদালতে সোপর্দ করার দাবি জানান। একই সঙ্গে ভুক্তভোগী, মামলার বাদী এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তারা।

 

তারা বলেন, মামলা দায়ের করায় আসামিরা ক্ষিপ্ত হয়ে তাদের জীবননাশের হুমকি দিচ্ছেন। এ অবস্থায় ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

 

আইনজীবীরা বলেন, হামলার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। তা না হলে ভবিষ্যতে আইনজীবীসহ সাধারণ নাগরিকদের ওপর এ ধরনের হামলার ঘটনা আরও বাড়তে পারে। বিচার বিভাগের প্রতি আস্থা রেখে তারা সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করেন।

 

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন অ্যাডভোকেট রুহুল আমিন (এজিপি), গাজীপুর জেলা আইনজীবী সমিতির ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম, অ্যাডভোকেট মোজাম্মেল, অ্যাডভোকেট কামরুল হাসান রাসেল, অ্যাডভোকেট আল আমিন ইসলাম আশিক, অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ, অ্যাডভোকেট ওলিউল ইসলাম টুটুল, অ্যাডভোকেট আলমগীর হোসেন ও অ্যাডভোকেট মাহীন হাসান শুভ।

আইনজীবীর ওপর হামলার ঘটনায় পরোয়ানা, নিরাপত্তা চাইলেন ভুক্তভোগীরা

শেরপুরে যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে নির্যাতনের মামলায় মো. সোহাগ মিয়া (২৯) নামে এক পুলিশ সদস্যকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

 

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) বিকালে আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করেন সোহাগ মিয়া। শুনানি শেষে শেরপুর সদর সিআর আমলি আদালতের বিচারক ও সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সুলতান মাহমুদ মিলন তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

 

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আদালতের পুলিশ পরিদর্শক মো. জিয়াউর রহমান। তিনি জানান, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী সোহাগ মিয়াকে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তিনি বর্তমানে বান্দরবান জেলা পুলিশ লাইন্সে কর্মরত।

 

মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালের ১৫ ডিসেম্বর শেরপুর সদর উপজেলার সূর্য্যদী মধ্যপাড়া গ্রামের মৃত আবুল হাসেনের ছেলে পুলিশ কনস্টেবল সোহাগ মিয়ার সঙ্গে পার্শ্ববর্তী বয়ড়া পরাণপুর গ্রামের মো. আজাদ মিয়ার মেয়ে মোছা. লাকী আক্তারের বিয়ে হয়। তাদের দাম্পত্য জীবনে দুটি সন্তানের জন্ম হয়।

 

লাকী আক্তারের অভিযোগ, বিয়ের সময় মোটা অঙ্কের যৌতুক দেওয়ার পরও সোহাগ মিয়া আরও যৌতুকের জন্য তাকে নির্যাতন করতেন। গত ২৪ জুন ৫ লাখ টাকা যৌতুকের দাবিতে লাকী আক্তারকে মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দেন সোহাগ মিয়া।

 

এর পরিপ্রেক্ষিতে ২৯ জুন স্বামীর বিরুদ্ধে শেরপুরের আদালতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০২৫-এর ১১(গ) ধারায় মামলা করেন লাকী আক্তার। ওই মামলায় বৃহস্পতিবার সোহাগ মিয়া আদালতে স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত তার জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

 

আদালতের পুলিশ পরিদর্শক মো. জিয়াউর রহমান বলেন, যৌতুক মামলায় পুলিশ কনস্টেবল সোহাগ মিয়াকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী তাকে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

স্ত্রী নির্যাতনের মামলায় পুলিশ সদস্য কারাগারে

আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও জননিরাপত্তা বিধানসহ ভালো কাজের স্বীকৃতি হিসেবে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) বিভিন্ন পর্যায়ের পুলিশ সদস্যদের পুরস্কৃত করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) ডিএমপি সদর দপ্তরে জুলাই মাসের মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভায় ভালো কাজের স্বীকৃতি হিসেবে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির ও ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ

 

জুলাই-২০২৬ মাসে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অপরাধ বিভাগের মধ্যে শ্রেষ্ঠ হয়েছে মিরপুর বিভাগ। মূল্যায়নে শ্রেষ্ঠ থানার স্বীকৃতি অর্জন করেছে মিরপুর থানা। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে উত্তরা-পশ্চিম থানা এবং তৃতীয় স্থান বাড্ডা থানা।

 

অপরদিকে, সহকারী পুলিশ কমিশনারদের মধ্যে ডেমরা জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার মো. শামীম হোসেন প্রথম স্থান অর্জন করেছেন। দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছেন মোহাম্মদপুর জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার মো. আবদুল্লাহ আল মামুন পিপিএম।

 

শ্রেষ্ঠ এসআই প্রথম স্থান অর্জন করেছেন পল্লবী থানার এসআই মো. সাইফুল ইসলাম। দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছেন ভাটারা থানার এসআই দেবাশীষ মন্ডল এবং তৃতীয় স্থান অর্জন করেছেন পল্টন মডেল থানার এসআই অমিত কুমার বিশ্বাস। এএসআইদের মধ্যে প্রথম স্থান অর্জন করেছেন যাত্রাবাড়ী থানার এএসআই নাজমুল ইসলাম এবং দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছে মোহাম্মদপুর থানার এএসআই নাদের আলী।

 

গোয়েন্দা বিভাগের মধ্যে শ্রেষ্ঠ হয়েছে গোয়েন্দা-ওয়ারী বিভাগ। শ্রেষ্ঠ টিম লিডার নির্বাচিত হয়েছেন গোয়েন্দা-ওয়ারী বিভাগের ওয়ারী জোনাল টিমের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মো. ফজলুল করিম পিপিএম-সেবা।

 

আরও পড়ুন: সরকারি বেতন ১০০ শতাংশ বাড়ানোর সুপারিশ, মন্ত্রিসভার অনুমোদনের অপেক্ষা

 

ট্রাফিক বিভাগের মধ্যে শ্রেষ্ঠ হয়েছে ট্রাফিক-ওয়ারী বিভাগ। শ্রেষ্ঠ ট্রাফিক সার্জেন্টদের মধ্যে প্রথম স্থান অর্জন করেছে মিরপুর-ট্রাফিক জোনের সার্জেন্ট মো. সামসুদ্দীন সরকার এবং দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছে যাত্রাবাড়ী-ট্রাফিক জোনের সার্জেন্ট মো. শাহরিয়ার খান।

 

অপরাধ পর্যালোচনা সভায় অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (লজিস্টিকস্, ফিন্যান্স অ্যান্ড প্রকিউরমেন্ট), অতিরিক্ত দায়িত্বে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (অ্যাডমিন) মো. মাসুদ করিম, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (প্রটেকশন অ্যান্ড ডিপ্লোমেটিক সিকিউরিটি) মো. আবুল বাশার তালুকদার, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (এস্টেট, ডেভেলপমেন্ট ও আইসিটি),অতিরিক্ত দায়িত্বে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম এন্ড অপারেশনস্) মোহাম্মদ ওসমান গণি, পিপিএম।

 

অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম) মোহাম্মদ শামসুল হক, যুগ্ম পুলিশ কমিশনারগণ, উপ-পুলিশ কমিশনারগণ, অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনারগণ, সহকারী পুলিশ কমিশনারগণ, ডিএমপির সকল থানার অফিসার ইনচার্জগণ ও বিভিন্ন পদমর্যাদার পুলিশ কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

ভালো কাজের স্বীকৃতিতে ডিএমপির কর্মকর্তাদের পুরস্কার

দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মৃত্যুবার্ষিকী: রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে আলোচিত এক অধ্যায়ের স্মরণ

আজ ১৪ আগস্ট। ২০২৩ সালের এই দিনে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সাবেক নায়েবে আমির ও বহুল আলোচিত ধর্মীয় বক্তা আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৪ বছর।

তাঁর মৃত্যু বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবন, ধর্মীয় বক্তা হিসেবে জনপ্রিয়তা এবং ১৯৭১ সালের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় বিচার—সব মিলিয়ে সাঈদী ছিলেন বাংলাদেশের রাজনীতির অন্যতম আলোচিত ও বিতর্কিত ব্যক্তিত্ব।

শেষ সময়ের চিকিৎসা

২০২৩ সালের ১৩ আগস্ট কারাগারে অসুস্থ হয়ে পড়লে দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকে প্রথমে গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে ঢাকার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থানান্তর করা হয়।

পরদিন ১৪ আগস্ট রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাঁর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে। তাঁর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর অনুসারী ও সমর্থকদের মধ্যে শোকের প্রতিক্রিয়া দেখা যায়।

রাজনৈতিক ও ধর্মীয় জীবনে সাঈদী

দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী ধর্মীয় বক্তা হিসেবে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন। দেশের বিভিন্ন স্থানে তাঁর ওয়াজ ও ধর্মীয় বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি একটি বড় শ্রোতাগোষ্ঠীর কাছে পরিচিত হয়ে ওঠেন।

এর পাশাপাশি তিনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। তিনি জাতীয় সংসদের সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন এবং পরবর্তী সময়ে দলটির নায়েবে আমিরের দায়িত্বে ছিলেন।

ধর্মীয় বক্তা ও রাজনৈতিক নেতা হিসেবে তাঁর দীর্ঘ কর্মজীবন বাংলাদেশের সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিসরে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলেছিল।

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা ও বিচার

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মামলা হয়।

২০১৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দেন। তাঁর বিরুদ্ধে হত্যা, নির্যাতন, লুটপাট ও ধর্ষণসহ বিভিন্ন মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে বিচার হয়।

পরবর্তীতে ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিরুদ্ধে তিনি আপিল করেন। ২০১৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ তাঁর মৃত্যুদণ্ড পরিবর্তন করে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেন।

এই বিচার ও রায়কে কেন্দ্র করে বাংলাদেশে ব্যাপক রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া, বিক্ষোভ ও সহিংসতার ঘটনা ঘটে। একই সঙ্গে সাঈদীকে ঘিরে দেশজুড়ে তৈরি হয় তীব্র রাজনৈতিক ও সামাজিক মতবিভাজন।

মৃত্যুর পর প্রতিক্রিয়া

সাঈদীর মৃত্যুর সংবাদ প্রকাশের পর তাঁর অনুসারী ও সমর্থকদের মধ্যে শোকের প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। বিভিন্ন স্থানে তাঁকে স্মরণ করে দোয়া ও অন্যান্য কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

অন্যদিকে তাঁর রাজনৈতিক ভূমিকা এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় দণ্ডিত হওয়ার বিষয়টি সামনে এনে বিভিন্ন মহল থেকে ভিন্ন প্রতিক্রিয়াও জানানো হয়।

ফলে তাঁর মৃত্যুর পরও তাঁকে ঘিরে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে আলোচনা অব্যাহত থাকে।

মৃত্যুবার্ষিকীতে স্মরণ

আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর জীবন ছিল একই সঙ্গে ধর্মীয়, রাজনৈতিক ও বিচারিক ইতিহাসের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত। ধর্মীয় বক্তা হিসেবে তাঁর জনপ্রিয়তা যেমন ব্যাপক ছিল, তেমনি তাঁর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলাকে ঘিরে ছিল তীব্র বিতর্ক।

আজ তাঁর মৃত্যুবার্ষিকীতে তাঁর অনুসারীরা তাঁকে শ্রদ্ধা ও দোয়ার মাধ্যমে স্মরণ করছেন। একই সঙ্গে তাঁর জীবন ও রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়ে নতুন করে আলোচনা হচ্ছে।

ইতিহাসের কোনো আলোচিত ব্যক্তিত্বকে মূল্যায়নের ক্ষেত্রে আবেগের পাশাপাশি আদালতের নথি, ঐতিহাসিক তথ্য ও যাচাইযোগ্য সূত্রকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। সাঈদীর জীবন ও রাজনৈতিক অধ্যায়ও বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ইতিহাসের এমনই একটি আলোচিত অধ্যায়, যা নিয়ে আজও বিভিন্ন মহলে আলোচনা রয়েছে।

আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মৃত্যুবার্ষিকী: আলোচিত এক অধ্যায়ের স্মরণ

স্বামীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলার দায়ে স্ত্রীকে ১০ দিনের কারাদন্ড

 

আতিকুর রহমান আশিক , মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি

 

মানিকগঞ্জে স্বামীর বিরুদ্ধে মিথ্যা যৌতুক মামলা দায়ের করার দায়ে লাভলী আক্তার নামে এক নারীকে ১০ দিনের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই মামলায় অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় স্বামী আরিফুল ইসলাম রতনকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে। মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা দায়েরের বিরুদ্ধে আদালতে এ রায় গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেবে বলে মনে করছেন আইনজীবীরা।

 

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২ এর বিচারক দোলন বিশ্বাস এ রায় দেন।

 

মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালে স্বামী আরিফুল ইসলাম রতনের বিরুদ্ধে যৌতুক নিরোধ আইন, ২০১৮-এর ৩ ধারায় মামলা করেন স্ত্রী লাভলী আক্তার। মামলায় অভিযোগ করা হয়, ২০২২ সালের ১৫ এপ্রিল আরিফুল পাঁচ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে তাকে মারধর করেন। পরে আরও একটি ঘটনায় যৌতুক দাবির অভিযোগ আনা হয়।

তবে অভিযোগে উল্লেখিত দুই ঘটনার সময়ই আরিফুল ইসলাম বিদেশে ছিলেন। তিনি ২০২১ সালের ৮ এপ্রিল চাকরির উদ্দেশ্যে সৌদি আরবে যান এবং দেশে ফেরেন ২০২৫ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি।

 

গত ২৭ জুলাই সাক্ষ্য-প্রমাণে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় আরিফুল ইসলাম রতনকে বেকসুর খালাস দেন আদালত। পরে মামলাটি মিথ্যা প্রমাণিত হওয়ায় বাদীর বিরুদ্ধে যৌতুক নিরোধ আইন, ২০১৮-এর ৬ ধারায় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আসামিপক্ষের আইনজীবী আদালতে পিটিশন দাখিল করেন।

 

এর পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার শুনানি শেষে আদালত বাদী লাভলী আক্তারকে যৌতুক নিরোধ আইন, ২০১৮-এর ৬ ধারায় ১০ দিনের কারাদণ্ড দেন।

 

আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট জাকির হোসেন কোহিনুর বলেন, সাক্ষ্য-প্রমাণ শেষে আদালত আসামিকে খালাস দেন। পরে মিথ্যা মামলা দায়েরের বিষয়টি বিবেচনায় যৌতুক নিরোধ আইনের ৬ ধারায় বাদীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে আদালতে আবেদন করা হয়। বৃহস্পতিবার শুনানি শেষে আদালত বাদীকে ১০ দিনের কারাদণ্ড দিয়েছেন।

 

বাদী পক্ষের আইনজীবী সমাপ্তি আক্তার বলেন, ১০ দিনের সাজা হওয়ায় আপিলের শর্তে জামিনের আবেদন করা হয়। পরে আদালত এক মাসের মধ্যে আপিল করার শর্তে এক হাজার টাকা বন্ডের লাভলী আক্তারের জামিন মঞ্জুর করেন।

 

মানিকগঞ্জ জজ কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মাহাবুবুল ইসলাম বলেন, মিথ্যা মামলা করে কাউকে হয়রানি করলে মামলার বাদীকেও যে শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে, এই রায় তার একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা। এ ধরনের রায় হলে সমাজে ঢালাওভাবে মিথ্যা মামলা দায়েরের প্রবণতা অনেকাংশে কমে আসতে পারে।

স্বামীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলার দায়ে স্ত্রীকে ১০ দিনের কারাদন্ড 

র‌্যাবের চৌকস অভিযানে জীপসহ প্রায় ১১ হাজার ইয়াবার চালান আটক

জামালপুর হামলা পাল্টা হামলার মধ্য দিয়ে জেলার সানন্দবাড়ী তে থমথমে অবস্থা বিরাজমান।

পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের ও আদালতে মিথ্যা হলফনামা দেয়ার অভিযোগে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কেবিন ক্রু খাদিজা সুলতানা শিমুর বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

 

বুধবার (১৫ জুলাই) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২-এর বিচারক মো. জাকির হোসাইন এ আদেশ দেন। আদালতের আদেশে বলা হয়েছে, শিমুর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর ১৩ ধারা এবং দণ্ডবিধির ১৮১, ১৮২ ও ১৯৩ ধারায় মামলা করা হবে। আদালত নিজেই এ মামলার বাদী হয়েছেন।

 

আদালতের নথি অনুযায়ী, খাদিজা সুলতানা শিমু মামলার বাদী হয়ে বেসরকারি একটি এয়ারলাইন্সের কর্মকর্তা মো. ওমর ফারুক চৌধুরীর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনের বিভিন্ন ধারায় উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলা করেন।

 

তদন্ত শেষে উত্তরা পশ্চিম থানার তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে জানান, অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি। প্রতিবেদনে বলা হয়, মামলার এজাহারে উল্লেখ করা ফেসবুক লিংক, ডিজিটাল আলামত ও অন্যান্য তথ্য যাচাই করে ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি প্রচারের কোনো প্রমাণ মেলেনি। ফলে ওই কর্মকর্তাকে মামলা থেকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়।

একই সঙ্গে তদন্ত কর্মকর্তা প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, ওমর ফারুক আগে শিমুর বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন দিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে আদালতে মামলা করেছিলেন। সেই মামলার দায় এড়াতেই শিমু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত বিভিন্ন লিংক উল্লেখ করে তার বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি ছড়ানোর অভিযোগ এনে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, হয়রানিমূলক ও মিথ্যা মামলা করেছেন বলে প্রাথমিক তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে। এ কারণে শিমুর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর ১৩ ধারায় আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার আবেদনও করেন তদন্ত কর্মকর্তা।

 

পরে গত ৯ জুলাই আদালত তদন্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করে ওমর ফারুককে মামলা থেকে অব্যাহতি দেন। আদালতের আদেশে বলা হয়, শিমু ক্ষতিসাধনের উদ্দেশ্যে আদালতে মিথ্যা মামলা দায়ের করেছেন এবং হলফ করে মিথ্যা সাক্ষ্য দিয়েছেন। মামলার নথিতে তার দেয়া হলফনামাও সংযুক্ত রয়েছে। এসব বিবেচনায় আদালত নিজেই বাদী হয়ে তার বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন ও দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়েরের নির্দেশ দেন।

 

তদন্তে যা উঠে এসেছে পুলিশের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, তদন্তকালে রেকর্ড, ডিজিটাল আলামত, ফেসবুক লিংক ও ফরেনসিক তথ্য যাচাই করে ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি প্রচারের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

 

তদন্তে আরও উঠে আসে, শিমু বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কেবিন ক্রু এবং ওমর ফারুক একটি বেসরকারি এয়ারলাইন্সের এয়ারক্রাফট মেইনটেন্যান্স কর্মকর্তা। ফেসবুকে পরিচয়ের পর তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

 

প্রতিবেদনে বলা হয়, বিয়ের আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন সময়ে ওমর ফারুকের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী নেয়ার অভিযোগে ওমর ফারুক আদালতে পৃথক মামলা করেন। এরপর সেই মামলার দায় থেকে নিজেকে রক্ষা করতেই শিমু পর্নোগ্রাফি আইনে অভিযোগ দায়ের করেন বলে তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে।

 

ওমর ফারুকের আগের মামলা গত ২০ জুলাই ওমর ফারুক চৌধুরী শিমুর বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন, ‘হানি ট্র্যাপ’ ও ব্ল্যাকমেইলের মাধ্যমে প্রায় ২২ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ঢাকার আদালতে মামলা করেন। আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে উত্তরা পশ্চিম থানাকে তদন্তের নির্দেশ দেন। পরে তিনি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষের কাছেও লিখিত অভিযোগ করেন।

 

সেই মামলায় অভিযোগ করা হয়, ২০২৪ সালে ফেসবুকে পরিচয়ের পর শিমু তাকে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন সময়ে টাকা নেন। জন্মদিনে দেড় লাখ টাকা মূল্যের একটি হীরার আংটিসহ বিয়ের খরচের জন্য মোট ২১ লাখ ৭৪ হাজার ৫১১ টাকা নেয়ার পরও বিয়ে না করে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে মামলায় দাবি করা হয়।

পর্নোগ্রাফি আইনে কেবিন ক্রু শিমুর বিরুদ্ধে মামলার নির্দেশ আদালতের

error: আপনি নিউজ চুরি করার চেষ্টা করছেন। বিশেষ প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন ০১৭৬৭৪৪৪৩৩৩
%d