ওসির কান্ড। ভেঙ্গে গেল শিক্ষিকার সংসার? তদন্ত নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন
ওসির কান্ড। ভেঙ্গে গেল শিক্ষিকার সংসার? তদন্ত নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন

ওসির কান্ড। ভেঙ্গে গেল শিক্ষিকার সংসার? তদন্ত নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন

ওসির কান্ড। ভেঙ্গে গেল শিক্ষিকার সংসার? তদন্ত নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন

 

স্টাফ রিপোর্টার

জেলা নীলফামারী

(০৮/আগস্ট/২৬ইং)

বিবাহ বিচ্ছেদের কাগজ আজও হাতে পানি স্ত্রী। অথচ রংপুরের তারাগঞ্জ থানার ওসি একদল ফোর্স নিয়ে গিয়ে তালাক হয়ে গেছে জানিয়ে সেই স্ত্রীকে স্বামীর বাড়ি হতে জোড়পূর্বক বের করে দিয়েছিলেন। এমন বাস্তবতার ঘটনাটি ঘটেছে রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলায়। ভুক্তভোগী সেই নারী পুলিশের ওসির বিরুদ্ধে পুলিশের

মহাপরিদর্শক (আইজিপি)

ও রংপুর রেঞ্জের ডিআইজির নিকট লিখিত অভিযোগ করেছেন সচেতন মহল বলেছেন। দাম্পত্য জীবনে থানার ওসির এমন আচরণ কোনভাবে কাম্য নয়। এখানে তিনি একপক্ষ অবলম্বন করে হয়তো আর্থিক ফায়দা লুটে ওই নারীর দাম্পত্য জীবনকে ধুলোয় মিশিয়ে দিয়েছেন। অভিযোগে জানা যায়, নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার কাশীরাম বেলপুকুর ইউনিয়নের কিসমত ডাঙ্গি হেডপাড়া গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা মৃত মাহাতাব উদ্দিন সরকারের মেয়ে একটি স্কুলের শিক্ষিকা মমতা বেগমের সঙ্গে পারিবারিকভাবে ২০২৩ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি বিয়ে হয়ে রংপুর জেলার তারাগঞ্জ উপজেলার আলমপুর ইউনিয়নের ভীমপুর ডাঙ্গাপাড়া গ্রামের আব্দুস সাত্তার ভম্বলের ছেলে আতিকুল ইসলামের সঙ্গে। বিয়ের পর তাদের দাম্পত্য জীবন সুখের ছিল। শিক্ষিকার স্বামী আতিকুল ঢাকায় একটি বেসরকারি ব্যাংকে চাকরি করেন। শিক্ষিকা মমতা স্বামীর তারাগঞ্জ বাড়ি হতেই যাতায়াতের মাধ্যমে স্কুলে চাকরি করতেন। স্বামীর বাড়ির বসত ঘর মেরামত ও নতুন করে তিনি (মমতা) সাজিয়ে তুলেন কিন্তু হঠাৎ করে গত ২০২৫ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর মমতার শ্বশুরবাড়ির লোকজন মমতাকে জানায়, তোমার স্বামী আতিকুল তোমাকে তালাক দিয়েছে তুমি শ্বশুর বাড়ি হতে বের হয়ে যাও। তালাক কিসের কারনে হল আমি তো কিছুই জানিনা বা তালাকের কোন নোটিশ হাতে পেলাম না। তাহলে তালাক হয় কেমন করে এমন প্রশ্ন তুললে মমতাকে শ্বশুরবাড়ির লোকজন বিশেষ করে মেজ ভাসুর ও তার ভাসুরের স্ত্রী শারীরিক নির্যাতন করতে থাকে। এমনকি স্বামীর সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করতে গিয়েও মমতা ব্যর্থ হয়। বাধ্য হয় মমতা তারাগঞ্জ থানার তৎকালীন অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এম এ ফারুক এর সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করে সহযোগিতা চায়। কিন্তু ওসি সহযোগিতা না করে মমতাকে শ্বশুরবাড়ি হতে বের হয়ে যেতে বলেন। মমতা শশুর বাড়িতে নির্যাতন সহ্য করে অবস্থান করেন। এ অবস্থায় পরের দিন ( ২০২৫ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর ) বিকালে তারাগঞ্জ থানার উক্ত ওসি একদল ফোর্স নিয়ে মমতার শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে হাজির হয়ে মমতাকে বাড়ি ছাড়া নির্দেশ দেন। মমতা রাজি না হলে ওসি জানায় তালাক হয়ে গেছে আপনি বাড়ি ছাড়েন। এখানেও মমতা প্রতিবাদ করে জানান কিভাবে তালাক হয় আমি কোন তালাকের নোটিশ পাইনি। আমার স্বামীকে নিয়ে আসেন আমি তার মুখে জানতে চাই। ওসি কোন কথার কর্ণপাত না করে মহিলা পুলিশের সহযোগিতায় রাত সাড়ে ৮ টার দিকে মমতাকে জোরপূর্বক শ্বশুরবাড়ির হতে বের করে তারা থানায় নিয়ে আসেন এ সময় ওসি মমতা বেগমের মোবাইল ফোনটিও কেড়ে নেন। পরে ভয়ভীতি দেখিয়ে মমতার আত্মীয়-স্বজনকে ডেকে এনে মমতাকে তার বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে দেন। অভিযোগ উঠেছে তালাকের আইনগত প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হওয়ার আগেই তারাগঞ্জ থানার তৎকালীন অফিসার ইনচার্জ (ওসি) পুলিশ সদস্যদের নিয়ে ওই শিক্ষিকাকে স্বামীর বাড়ি থেকে বের করে আনলেন কি করে। পরে এ ঘটনায় রংপুর রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ে অভিযোগ করা হলে তদন্ত প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ভুক্তভোগী ও কয়েকজন সাক্ষী। ভুক্তভোগী শিক্ষিকা মোছাঃ মমতা বেগমের দাবি, তারাগঞ্জ থানার তৎকালিন ওসি পুলিশ নিয়ে তার স্বামীর বাড়িতে যান সেখানে তাকে বলা হয়,”তোমার স্বামী তোমাকে তালাক দিয়েছে, তুমি এই বাড়ি থেকে বের হয়ে যাও। না হলে তোমাকে গ্রেফতার করা হবে।”এরপর মহিলা পুলিশ দিয়ে তাকে বাড়ি থেকে জোরপূর্বক বের করে থানায় নেওয়া হয়। যাওয়ার সময় তার মোবাইল ফোনও নিয়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। মমতা বেগমের ভাষ্য, তিনি ওসিকে বারবার জানান যে তিনি কোন তালাকনামার নোটিশের কপি পান নি এবং তার সামনেও স্বামী তাকে তালাক দেননি। তিনি আরো বলেন, প্রচলিত আইন অনুযায়ী তালাক কার্যকর হওয়ার আগ পর্যন্ত নির্দিষ্ট সময় স্বামীর বাড়িতে থাকার অধিকার রয়েছে। এরপরও তাকে জোরপূর্বক বাড়ি ছাড়তে বাধ্য করা হয়। সরজমিন অনুসন্ধানে গেলে ইউনিয়ন বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক মোঃ মশিউর রহমান বলেন, পুলিশ শিক্ষিকাকে ভয় দেখিয়ে থানায় নিয়ে যায়। পরে তার পরিবারের সদস্যদের ডেকে লিখিত নিয়ে তাকে বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। যা সেই ওসি অন্যায় ভাবে করেছে। তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর এসআই মাসুদ আলমপুর ইউনিয়নের বিএনপি নেতা মোঃ মশিউর রহমানকে তাকে শ্বশুরবাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার জন্য পাঠানো হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি। মমতা জানাই, ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে ১ অক্টোবর পর্যন্ত তার স্বামীর বাড়ির শয়ন কক্ষটি তালাবদ্ধ ছিল। তিনি দুইদিন এক রাত বারান্দায় বসে ছিলেন। নিজের কক্ষের তালা খুলে দেওয়ার জন্য ওই ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য দেলোয়ার হোসেন এবং থানার তৎকালীন ওসির কাছে ফোন করে সহযোগিতা চাইলেও কেউ তাকে সহযোগিতা করেনি বলে মমতা অভিযোগ করেন। মমতার অভিযোগ, পহেলা অক্টোবর ২০২৫ তারিখে তারাগঞ্জ থানার তৎকালীন ওসি নিজে পুলিশ সদস্যদের একটি বহর নিয়ে তার শ্বশুর বাড়িতে যান এবং তাকে জোরপূর্বক সেখান থেকে বের করে নিয়ে আসেন। মমতা বেগমের অভিযোগ, তার পক্ষে যেসব সাক্ষী ছিলেন, তদন্তের সময় তাদেরকে ডাকা হয়নি। ফলে ঘটনার প্রকৃত তথ্য তদন্তে উঠে আসেনি। একই গ্রামের বাসিন্দা আরজিনা বেগম বলেন, মহিলা পুলিশ দিয়েই শিক্ষিকাকে বাড়ি থেকে নিয়ে যাওয়া হয়। স্থানীয় ইউপি সদস্য দেলোয়ার হোসেন বলেন,”মেয়েটি বলছিল, সে কোন তালাকের কাগজ পায়নি এবং স্বামী তার সামনে তালাক দেয়নি। অন্যদিকে ছেলের দাবি ছিল, সে তালাক দিয়েছে। এ অবস্থায় আমার করার তেমন কিছুই ছিল না।”তবে শিক্ষিকা মমতা বেগম অভিযোগ করেন, ওই ইউপি সদস্য এবং তার স্বামীর মেজ ভাই ও ভাবি সহ পরিবারের কয়েকজন সদস্যের পরামর্শেই তাকে নির্যাতন করা হয় এবং পুলিশ এসে তাকে থেকে জোরপূর্বক বের করে দেয়। এ বিষয়ে মমতা বেগমের বড় ভাসুর আখতারুল এর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “ওসি নিয়ে গেছে। এ বিষয়ে আমরা কোন কথা বলতে চাই না।” এ ঘটনা রংপুর রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন মমতা বেগম। অভিযোগের পর একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তবে তদন্তের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। তার অভিযোগ, তদন্ত কমিটি ঘটনাস্থলে না গিয়ে অফিসে বসেই সাক্ষ্য গ্রহণ করেছে। সাক্ষীদের আলাদাভাবে জিজ্ঞাসাবাদ না করে একসঙ্গে বসিয়ে বক্তব্য নেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। ইউনিয়ন বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক মোঃ মশিউর রহমান ও অভিযোগ করেন, তার বক্তব্য যথাযথভাবে লিপিবদ্ধ করা হয়নি। তিনি বলেন,”আমার জীবনেও এ ধরনের সাক্ষ্য গ্রহণেও দেখিনি ওসির দোষ ঢাকতে চারজনকে একসঙ্গে বসিয়ে স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে। আমি যা বলেছি, তা পুরোপুরি তদন্ত কমিটি লিপিবদ্ধ করেনি। শিক্ষিকা মমতা স্বামীর বাড়ি ছেড়ে যেতে চাইনি। অথচ তারা মেয়েটিকে নির্যাতন করে উল্টো মিথ্যা অজুহাত দেয় মেয়েটা আত্মহত্যা করবে। তিনি আরো বলেন,”যদি পুলিশ ঐদিন মেয়েটিকে (মমতা বেগম) বাড়ি থেকে জোর করে বের করে নিয়ে না যেত তাহলে হয়তো তার সংসারটা টিকে যেতো। এখানে ওসির সঙ্গে মমতার স্বামীর মেজ ভাই ও তার ফুটচাল করে। এ বিষয়ে তারাগঞ্জ থানার সাবেক অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এম এ ফারুক অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন,”মমতা যে অভিযোগ করেছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা তার শ্বশুরবাড়ির লোকজন আমাকে জানায়, হে আত্মহত্যা করতে চাইছে। এজন্য আমি তাকে উদ্ধার করে পরিবারের সদস্যদের হাতে তুলে দেই। তাকে ভয়-ভীতি দেখিয়ে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ সঠিক নয়” অন্যদিকে স্কুল শিক্ষিকা মমতা বেগমের স্বামী মোঃ আতিকুল ইসলাম (আতিক) বলেন,”আমি মমতা বেগমকে তালাক দিয়েছি। তিনি এ বিষয়ে আর কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি। এ ব্যাপারে রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি আমিনুল ইসলামের সঙ্গে কথা বলা হলে তিনি বলেন ওই ওসিকে তারাগঞ্জ থানা হতে প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। তার বিরুদ্ধে তদন্ত করা হয়েছিল। তদন্ত কমিটি ওসিকে নির্দোষ হিসাবে প্রতিবেদন দেয়। তবে শিক্ষিকা মমতা বেগম তদন্ত প্রতিবেদনে প্রত্যাখ্যান করে পুনরায় তদন্তের জন্য আবেদন করেছেন। আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছি। এদিকে এ ঘটনাকে ঘিরে এলাকাজুড়ে নানা আলোচনা চলছে। আইনজীবীদের মতে পারিবারিক বিরোধ ও তালাক সংক্রান্ত বিষয়ে পুলিশের ভূমিকা অবশ্যই আইনের সীমার মধ্যে থাকতে হবে। কোন পক্ষের আইনগত অধিকার ক্ষুন্ন হয়েছে কি না, তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া জরুরী বিষয়ে তারাগঞ্জ থানার সাবেক ও সি এম এ ফারুকের ভূমিকা নিরপেক্ষ ছিল না। এদিকে শিক্ষিকার তালাকের নোটিশ নিয়ে রহস্য দেখা দিয়েছে। সৈয়দপুর উপজেলার ষ

কাশীরামবেলপুকুর সাব পোস্ট অফিসে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, একটি রেজিস্ট্রি চিঠি মমতা বেগমের নামে এসেছিল কিন্তু চিঠিটি মমতা বেগম গ্রহণ না করায় তা প্রাপকের নিকট ফেরত পাঠানো হয় এই চিঠির বিষয়টি তদন্ত করতে মমতা বেগম রংপুর বিভাগীয় পোস্টমাস্টার জেনারেলের নিকট আবেদন করেন। আবেদনের প্রেক্ষিতে একটি তদন্ত টিম গঠন করে তা তদন্ত করা হয়। তদন্ত করেন নীলফামারী সৈয়দপুর উপবিভাগ পোস্ট অফিস পরিদর্শক মোঃ মঞ্জুর রহমান। তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয় উক্ত পোস্ট অফিসের ডাক পিয়ন চিঠির প্রাপক মমতার বেগমের সাথে দেখা না করেই নোটিশ লিখে দেন প্রাপক চিঠি গ্রহণ করেননি। এতে প্রমাণিত হয় মমতা বেগমের শ্বশুরবাড়ির লোকজন পোস্ট অফিসের ডাক পিয়নের সাথে আঁতাত করে তালাকের চিঠি বিলি করাননি। যাতে করে ৯০ দিন অতিবাহিত হলে তারা কার্যকর হয়ে যাবে। এ ঘটনায় তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী উক্ত ডাক পিয়ন কে চাকুরি হতে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। মমতা বেগম জানান, তিনি আজ পর্যন্ত তালাকের নোটিশ হাতে পাননি। অথচ তারাগঞ্জ থানার তৎকালীন ও সীতাকে তালাক হয়েছে জানিয়ে হেনস্তা করে শ্বশুরবাড়ি হতে বের করে আনেন। মমতা বেগম সেই ওসির কঠোর শাস্তি দাবী করেন।


ঠাকুরগাঁও সুগার মিলে টেন্ডার নিয়ে কৃষকদের ক্ষোভ, তদন্তের নির্দেশ জেলা প্রশাসকের।

মোঃ আশরাফুল ইসলাম

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি:

 

ঠাকুরগাঁও সুগার মিলের জমি লিজ দেওয়ার টেন্ডারে সর্বোচ্চ দরদাতাদের বাদ দিয়ে কম দরদাতাদের লিজ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

এ ঘটনায় টেন্ডারে অংশ নেওয়া কৃষকদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে পুরো টেন্ডার বাতিল করে পুনরায় টেন্ডার আহ্বানের দাবি জানিয়ে জেলা প্রশাসক বরাবরে লিখিত অভিযোগ করেছেন কৃষকরা।

 

লিখিত অভিযোগ ও টেন্ডার সংক্রান্ত কাগজপত্র থেকে জানা যায়, ঠাকুরগাঁও সুগার মিল কর্তৃপক্ষ গেল ১৩ সেপ্টেম্বর মিলের আওতাধীন সালন্দর-জামালপুর, মোহন কৃষি খামার, বোচাপুকুর, হাবিবপুর ও কহরপাড়া খামারের বিভিন্ন ব্লকের মোট ৩৭৮ দশমিক ৫০ একর জমি আখ রোপণ ও সাথি ফসল হিসেবে আলু চাষের জন্য লিজ দিতে দরপত্র আহ্বান করে।

 

বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, দরপত্র বিক্রি ও জমা দেওয়ার পর ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে দরপত্র খোলা হয়। এতে অংশ নেন বিভিন্ন এলাকার কৃষক ও দরদাতারা।

 

তবে টেন্ডারে অংশ নেওয়া কৃষকদের অভিযোগ, বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছিল, একজন দরদাতা সর্বোচ্চ ১০ একর জমি লিজ নিতে পারবেন। কোনো দরদাতা ১০ একরের বেশি জমির জন্য দরপত্র দাখিল করলে মিল কর্তৃপক্ষ ১০ একরের বেশি জমি লিজ না দিয়ে প্রয়োজন অনুযায়ী তা কমিয়ে ১০ একর দেওয়ার সুযোগ রাখে। কিন্তু বাস্তবে ১০ একরের বেশি জমির জন্য দরপত্র ক্রয় ও অংশগ্রহণকারী কৃষকদের সবাইকে বাদ দেওয়া হয়েছে। কৃষকদের প্রশ্ন, ১০ একরের বেশি জমির জন্য দরপত্র দাখিল করলেই যদি পুরো দরপত্র বাতিল হিসেবে গণ্য হয়, তাহলে বিজ্ঞপ্তিতেই বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা উচিত ছিল। তাদের দাবি, এ কারণে অনেক কৃষক সর্বোচ্চ দর দিয়েও লিজ পাওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।

 

অভিযোগকারীরা আরও বলেন, অনেক কৃষক জমির জন্য সর্বোচ্চ দর দিয়েছেন। অথচ তাদের বাদ দিয়ে অপেক্ষাকৃত কম দর দেওয়া ব্যক্তিকে লিজ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এতে সরকারের লাখ লাখ টাকা রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে দাবি তাদের। কেন সর্বোচ্চ দরদাতাদের বাদ দিয়ে কম দরদাতাদের লিজ দেওয়া হলো এবং এর পেছনে কোনো অনৈতিক লেনদেন হয়েছে কি না তা তদন্তের মাধ্যমে বের করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

 

এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ কৃষকরা গত ০১ অক্টোবর জেলা প্রশাসক বরাবরে লিখিত অভিযোগ করেন। লিখিত অভিযোগে তারা দাবি করেন টেন্ডার প্রক্রিয়ার কাগজপত্র ও দরপত্র মূল্যায়ন নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট ইজারা কার্যক্রম স্থগিত রেখে সম্পূর্ণ টেন্ডার বাতিল করে পুনরায় নতুন করে টেন্ডার আহ্বান জানান।

কৃষকদের এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ঠাকুরগাঁও সুগার মিলের প্রশাসনিক ব্যবস্থাপক শুভাস চন্দ্র সিংহ। তিনি বলেন, ‘শুধু মাত্র একটি জায়গায় ভুল হয়েছে, বাকি সব বিষয় ঠিক ছিল। এখানে কোনো অনিয়ম হয়নি।

এ বিষয়ে ঠাকুরগাঁওয়ের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রফিকুল হক বলেন, ‘কৃষকদের অভিযোগ পেয়েছি। তদন্তের জন্য নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।

ঠাকুরগাঁও সুগার মিলে টেন্ডার নিয়ে কৃষকদের ক্ষোভ, তদন্তের নির্দেশ জেলা প্রশাসকের

পুলিশের কাছ থেকে মাদক মামলার আসামি ছিনতাই এর চেষ্টা

স্টাফ রিপোর্টার

মাইদুল ইসলাম

 

নীলফামারীর ডিমলায় মাদক মামলায় গ্রেপ্তার আসামি মো. সুজন ইসলামকে পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টার ঘটনায় পুলিশের কাজে বাধা দেওয়ার মামলায় ৩৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার (৩ অক্টোবর) বিকেলে ২০ জনকে আটকের পর রোববার (৪ অক্টোবর) ভোরে অভিযান চালিয়ে আরও ১৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ডিমলা থানার মাদক মামলায় গ্রেপ্তার আসামি মো. সুজন ইসলামকে আদালতে সোপর্দ করার জন্য শনিবার বিকেল ৩টার দিকে জেলা গোয়েন্দা শাখার কার্যালয় থেকে পুলিশ সদস্যরা নিয়ে রওনা হন। এ সময় নীলফামারী পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে একদল লোক সমবেত হয়ে আসামিকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে।

পুলিশের দাবি, তারা আসামি বহনকারী পুলিশ দলের পথরোধ করে কর্তব্য পালনে বাধা দেয়। এ সময় পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে অশোভন আচরণ ও উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করা হয় এবং পুলিশ সদস্যদের ওপর আক্রমণ করে আসামিকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। পরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।

এ ঘটনায় শনিবার ২০ জনকে আটক করা হয়। একই ঘটনায় অজ্ঞাতনামা আরও ২০০ থেকে ৩০০ জনকে আসামি করে নীলফামারী সদর থানায় মামলা করা হয়েছে।

মামলার এজাহারে ১৪৩, ৩৪১, ১৮৬, ৩৫৩, ১২০(খ), ১১৪ ও ৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

 

পরে ঘটনাস্থলের ভিডিও ও স্থিরচিত্র বিশ্লেষণ করে জড়িতদের শনাক্তের চেষ্টা চালায় পুলিশ। পুলিশ সুপার মো. ফরহাদ হোসেন খাঁনের নির্দেশে রোববার রাত ১টা ৫ মিনিট থেকে ভোর ৩টা ৪৫ মিনিট পর্যন্ত ডিমলা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালানো হয়। এ সময় আরও ১৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার ৩৪ জন হলেন—ডিমলার দোহলপাড়ার আবু সাঈদ (৩০), ছাতনাই কলোনী মিয়াপাড়ার শফিকুল ইসলাম ওরফে লেবু (৪৫), পূর্ব ছাতনাই মিয়াপাড়ার নুরুজ্জামান (৫০), ছাতনাই বালাপাড়ার আফজাল হোসেন (৪৫), খগাখড়িবাড়ীর সাইফুল ইসলাম (৩২), পূর্ব ছাতনাই ওমরপাড়ার হৃদয় ইসলাম (২২), সৈয়দপুরের বোতলাগাড়ীর সাকিরা (২০), দোহলপাড়ার মিরাজ ইসলাম (১৮), ওমরপাড়ার মিলন ইসলাম (১৯), আরিফুল ইসলাম (১৯), বন্দর খড়িবাড়ীর সাগর দেবনাথ (২২), ওমরপাড়ার নাঈম ইসলাম (১৯), বন্দর খড়িবাড়ীর মশিউর আলম (৩৬), নাইমুল ইসলাম (২২), ছাতনাই কলোনীর সামিনুর ইসলাম (৪৫) ও আঃ সালাম (২৫), দোহলপাড়ার মঞ্জুয়ারা বেগম (৪০), বন্দর খড়িবাড়ীর লিপন ইসলাম (১৯), ডিমলা টিএনটি রোডের মিম হোসেন (২০), পূর্বছাতনাই কলোনীর শুভ ইসলাম (১৯), দোহলপাড়ার আশিকুল ইসলাম (৩৫), গুলজার রহমান (৪৫), খগাখড়িবাড়ীর শহিদুল ইসলাম (৪৫), বড়বাড়ি খগাখড়িবাড়ীর আলাউদ্দিন (৫০), ডংগর বাজার খগাখড়িবাড়ীর মাহফুজার রহমান (১৯) ও সোহেল (২১), বন্দর খড়িবাড়ীর আনোয়ার হোসেন (১৯) ও ইসলাম (৬৫), সাগর রহমান (২৩), ডংগর বাজারের কবিরুল ইসলাম (২৫), খগাখড়িবাড়ীর মহিকুল ইসলাম (২৫), বন্দর বাজার ডংগর খড়িবাড়ীর নুরবান (৫০), খগাখড়িবাড়ী চাবুলের পাড়ার দুলালী বেগম (৩৫) এবং দেহলপাড়ার রিমু (৩৫)।

পুলিশ জানিয়েছে, নীলফামারী সদর থানার মামলা নম্বর-৮, তারিখ ৩ অক্টোবর ২০২৬, জিআর নম্বর-৩৯৫/২৬-এর আসামিদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

পুলিশের কাছ থেকে মাদক মামলার আসামি ছিনতাই এর চেষ্টা

মোঃ সামিউল আলমের বিরুদ্ধে ভুয়া চিকিৎসাসেবা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে

 

স্টাফ রিপোর্টার

মাইদুল ইসলাম

 

নীলফামারী সদর উপজেলার সংগলশী ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের উত্তরা ইপিজেড মোড় এলাকার রিয়াজউদ্দীন কমপ্লেক্সে ‘বৃষ্টি ফার্মেসি এন্ড ড্রেসিং সেন্টার’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করছেন মো. ছামিউল আলম। তাঁর ভিজিটিং কার্ড ও প্রেসক্রিপশনে বিভিন্ন রোগের চিকিৎসা, ড্রেসিং এবং অপারেশন-সংক্রান্ত সেবার প্রচারণা থাকায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পেশাগত যোগ্যতা, চিকিৎসা নিবন্ধন ও প্রতিষ্ঠানটির অনুমোদন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

 

সাংবাদিকদের হাতে আসা ভিজিটিং কার্ড ও প্রেসক্রিপশনে নাকের হাড় বাঁকা বা মাংস বৃদ্ধি, শিরার সমস্যা, কানের সমস্যা, চোখ, দাঁত ও জিহ্বার সমস্যা, কাটা বা পোড়া দাগ, চর্মরোগ, টনসিল, নখের সমস্যা, পায়ের তালু সমান হওয়া, হাত-পায়ের তালু ঘামা এবং মলদ্বারের সমস্যাসহ মোট ১৩ ধরনের চিকিৎসাসেবার উল্লেখ রয়েছে।

 

 

 

সরেজমিনে প্রতিষ্ঠানটিতে গিয়ে দেখা যায়, চিকিৎসা নিতে বেশ কয়েকজন রোগী সিরিয়ালে অপেক্ষা করছেন। তাদের মধ্যে বেশির ভাগই প্রতিরক্ষা বাহিনীতে নিয়োগের মেডিকেল পরীক্ষায় অংশ নিতে আসা রোগী ছিলেন। এদের মধ্যে মোঃ: সাব্বির ইসলাম নামে এক রোগী জানান, তিনি সেনাবাহিনীর মাঠে অংশ নেবেন। তাঁর ভাষ্য, ছামিউল আলম তাঁকে দেখে নাকে মাংস বৃদ্ধি হয়েছে এবং অপারেশন করতে হবে বলে জানান। অপারেশনের খরচ কত হবে, তা নিয়ে আলোচনা করতেই তিনি সেখানে এসেছেন বলে জানান ওই রোগী।

 

বক্তব্য নিতে গিয়ে বাধার অভিযোগ

 

অভিযোগের বিষয়ে মো. ছামিউল আলমের বক্তব্য জানতে সাংবাদিকরা সরেজমিনে যোগাযোগ করলে তিনি সরাসরি কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি বলে অভিযোগ রয়েছে। এ সময় প্রতিষ্ঠানটি যে ভবনে পরিচালিত হচ্ছে, সেই রিয়াজউদ্দীন কমপ্লেক্সের মালিক কালামের স্ত্রী শাহীনা বেগম ও তাঁর ছেলে আয়াতুল্লাহর কাছ থেকেও বিষয়টি সম্পর্কে তথ্য জানার চেষ্টা করা হয়। তবে তাঁরাও সাংবাদিকদের তথ্য সংগ্রহে বাধা দেন এবং প্রয়োজনীয় তথ্য দিতে অনাগ্রহ প্রকাশ করেন।

 

এসব সেবা দেওয়ার বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা, নীলফামারী সদর, ডা. আবু হেনা মোস্তফা কামালের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, “মো. ছামিউল আলমের প্রেসক্রিপশনে যে ১৩টি সেবা দেওয়ার কথা উল্লেখ আছে, তার একটি সেবাও তাঁর দেওয়ার নিয়ম নেই।” তাঁর দাবি, এসব সেবা দেওয়া সম্পূর্ণ বেআইনি এবং এতে রোগীর ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। তিনি আরও জানান, ‘বৃষ্টি ফার্মেসি এন্ড ড্রেসিং সেন্টার’ নীলফামারী জেলার সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের তালিকায় নিবন্ধিত বা অনুমোদিত নয়।

 

 

 

এদিকে স্থানীয়দের পক্ষ থেকে রিয়াজউদ্দীন কমপ্লেক্সকে ঘিরে আরও কিছু অভিযোগের কথা জানা গেছে। অভিযোগ রয়েছে, সেখানে উত্তরা ইপিজেডে কর্মরত কয়েকজন চীনা নাগরিক ভাড়া থাকেন এবং অল্পবয়সী বাংলাদেশি মেয়েদের নিয়ে অনৈতিক কর্মকাণ্ড চলে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে প্রতিবেদনের সময় পর্যন্ত স্বাধীনভাবে কোনো সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ফলে অভিযোগগুলোর বিষয়ে নিশ্চিত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাচ্ছে না।

 

 

স্থানীয়দের দাবি, ‘বৃষ্টি ফার্মেসি এন্ড ড্রেসিং সেন্টার’-এর নিবন্ধন, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পেশাগত যোগ্যতা এবং চিকিৎসা ও অপারেশন-সংক্রান্ত সেবা দেওয়ার আইনগত অনুমোদন রয়েছে কি না—তা স্বাস্থ্য বিভাগের মাধ্যমে তদন্ত করে দেখা হোক। অনিয়ম বা অনুমোদনহীন চিকিৎসাসেবার প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

 

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও মো. ছামিউল আলমের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে সংযুক্ত করা হবে।

মোঃ সামিউল আলমের বিরুদ্ধে ভুয়া চিকিৎসাসেবা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে

ভূল্লীতে জুট মিলের নোংরা পানিতে সরকারি সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত, ভোগান্তিতে জনসাধারণ

 

মোঃ আশরাফুল ইসলাম

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি:

 

ঠাকুরগাঁও জেলার ভূল্লী উপজেলায় আউলিয়াপুর এলাকায় সেলিম রেজা জুট মিলের নোংরা পানিতে সরকারি সড়কের কার্পেট উঠে গিয়ে সড়কটির বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও পথচারীরা।

 

স্থানীয়দের অভিযোগ, জুট মিলের পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা সঠিক না থাকায় নোংরা পানি সড়কের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে এভাবে পানি চলাচলের কারণে সড়কের কার্পেট উঠে গিয়ে বিভিন্ন স্থানে গর্ত ও খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। ফলে যানবাহন ও পথচারীদের চলাচলে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

 

এ বিষয়ে সেলিম রেজা জুট মিল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, মিলের পানি নিষ্কাশনের ড্রেন অন্যদিকে নেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। এতে ভবিষ্যতে সড়কের ওপর পানি পড়ার সমস্যা কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।

 

স্থানীয়রা দ্রুত পানি নিষ্কাশনের কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত সরকারি সড়কটি সংস্কারের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

ভূল্লীতে জুট মিলের নোংরা পানিতে সরকারি সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত, ভোগান্তিতে জনসাধারণ

নওগাঁর ধামইরহাটে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রাণ গেল যুবকের ৫ ঘন্টায় গ্রেফতার -৭

 

মোঃ সাইদুল ইসলাম হেলাল

বিশেষ প্রতিনিধিঃ

নওগাঁর ধামইরহাটে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের ছুরিকাঘাতে মর্মান্তিক যুবকের মৃত্যু এবং ৫ ঘন্টায় মুল আসামি সহ ০৭জন গ্রেফতার হয়েছে।

২ রা অক্টোবর ( শুক্রবার) সন্ধ্যা ৭ টার সময় উপজেলার জাহানপুর ইউনিয়নের অন্তর্গত বডশিবপুর মাস্টার পাডায় এই ঘটনা ঘটে। স্হানীয় জনগনের সুত্রে জানা যায় যে, ছাগল করলার গাছ খওয়াকে কেন্দ্র করে আবুল কাসেমের সাথে প্রতিপক্ষের কথা কাটাকাটি ও মারামারি হয়। একপর্যায়ে প্রতিপক্ষের লোকজন কাসেমকে ছুরিকাঘাত করে। এতে আবুল কাসেম(৪০) গুরুতর আহত হয়। পরে স্হানীয় লোকজন উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পূর্বে সে মারা যায়। একই ঘটনায় আবুল কাসেমের পক্ষে আহত তার স্ত্রী সহ ৪ জনকে উদ্ধার করে জয়পুরহাট সদর হাসপাতালে ভর্তি করায়। তার স্ত্রী আশংকা জনক হওয়ায় বগুড়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়। অপর ৩ জন জয়পুরহাট সদর হাসপাতালে চিকিৎসা ধীন আছে। ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। থানা পুলিশ খবর পেয়ে দ্রুতভাবে ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এই ঘটনার ভিকটিম এর ছেলে আবুসাঈ বাদী হয়ে ৭ জনকে আসামি করে ধামইরহাট থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করে। মামলা রুজু পরপরই নওগাঁ পুলিশ সুপার নির্দেশনায় ধামইরহাট থানার অফিসার ইনচার্জ মিন্টু রহমান এর নেতৃত্বে ধামইরহাট থানার একটি চৌকস টিম জয়পুরহাট জেলার পাচঁবিবি উপজেলার বিভিন্ন জায়গায় রাতভর অভিযান চালিয়ে মামলার রুজুর ৫ ঘন্টার মধ্যে এজাহার নামীয় আসামি ১! মোঃ রকিবুল ইসলাম (২৮) পিতা আব্দুল। হাকিম ২! আব্দুল হাকিম(৬০) পিতা মৃত আব্দুল গফুর ৩! কফিল উদ্দীন (৬৫) পিতা মৃত আব্দুল গফুর ৪! আকলিমা (৩৫) স্বামী ফেরদৌস ৫! হামিদা বেগম (৩৮) পিতা মৃত ইসমাইল ৬! ফরিদা বেগম (৫০) স্বামী আব্দুল হাকিম ৭! জিয়াসমিন (২১) স্বামী রফিকুল উভয়ের সাং বডশিবপুর মাস্টার পাডা কে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। আসামীগনকে আদালতে প্রেরন প্রক্রিয়া ধীন।

 

নওগাঁর ধামইরহাটে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রাণ গেল যুবকের ৫ ঘন্টায় গ্রেফতার -৭ 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

র‌্যাবের চৌকস অভিযানে জীপসহ প্রায় ১১ হাজার ইয়াবার চালান আটক

জামালপুর হামলা পাল্টা হামলার মধ্য দিয়ে জেলার সানন্দবাড়ী তে থমথমে অবস্থা বিরাজমান।

পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের ও আদালতে মিথ্যা হলফনামা দেয়ার অভিযোগে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কেবিন ক্রু খাদিজা সুলতানা শিমুর বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

 

বুধবার (১৫ জুলাই) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২-এর বিচারক মো. জাকির হোসাইন এ আদেশ দেন। আদালতের আদেশে বলা হয়েছে, শিমুর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর ১৩ ধারা এবং দণ্ডবিধির ১৮১, ১৮২ ও ১৯৩ ধারায় মামলা করা হবে। আদালত নিজেই এ মামলার বাদী হয়েছেন।

 

আদালতের নথি অনুযায়ী, খাদিজা সুলতানা শিমু মামলার বাদী হয়ে বেসরকারি একটি এয়ারলাইন্সের কর্মকর্তা মো. ওমর ফারুক চৌধুরীর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনের বিভিন্ন ধারায় উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলা করেন।

 

তদন্ত শেষে উত্তরা পশ্চিম থানার তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে জানান, অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি। প্রতিবেদনে বলা হয়, মামলার এজাহারে উল্লেখ করা ফেসবুক লিংক, ডিজিটাল আলামত ও অন্যান্য তথ্য যাচাই করে ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি প্রচারের কোনো প্রমাণ মেলেনি। ফলে ওই কর্মকর্তাকে মামলা থেকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়।

একই সঙ্গে তদন্ত কর্মকর্তা প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, ওমর ফারুক আগে শিমুর বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন দিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে আদালতে মামলা করেছিলেন। সেই মামলার দায় এড়াতেই শিমু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত বিভিন্ন লিংক উল্লেখ করে তার বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি ছড়ানোর অভিযোগ এনে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, হয়রানিমূলক ও মিথ্যা মামলা করেছেন বলে প্রাথমিক তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে। এ কারণে শিমুর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর ১৩ ধারায় আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার আবেদনও করেন তদন্ত কর্মকর্তা।

 

পরে গত ৯ জুলাই আদালত তদন্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করে ওমর ফারুককে মামলা থেকে অব্যাহতি দেন। আদালতের আদেশে বলা হয়, শিমু ক্ষতিসাধনের উদ্দেশ্যে আদালতে মিথ্যা মামলা দায়ের করেছেন এবং হলফ করে মিথ্যা সাক্ষ্য দিয়েছেন। মামলার নথিতে তার দেয়া হলফনামাও সংযুক্ত রয়েছে। এসব বিবেচনায় আদালত নিজেই বাদী হয়ে তার বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন ও দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়েরের নির্দেশ দেন।

 

তদন্তে যা উঠে এসেছে পুলিশের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, তদন্তকালে রেকর্ড, ডিজিটাল আলামত, ফেসবুক লিংক ও ফরেনসিক তথ্য যাচাই করে ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি প্রচারের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

 

তদন্তে আরও উঠে আসে, শিমু বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কেবিন ক্রু এবং ওমর ফারুক একটি বেসরকারি এয়ারলাইন্সের এয়ারক্রাফট মেইনটেন্যান্স কর্মকর্তা। ফেসবুকে পরিচয়ের পর তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

 

প্রতিবেদনে বলা হয়, বিয়ের আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন সময়ে ওমর ফারুকের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী নেয়ার অভিযোগে ওমর ফারুক আদালতে পৃথক মামলা করেন। এরপর সেই মামলার দায় থেকে নিজেকে রক্ষা করতেই শিমু পর্নোগ্রাফি আইনে অভিযোগ দায়ের করেন বলে তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে।

 

ওমর ফারুকের আগের মামলা গত ২০ জুলাই ওমর ফারুক চৌধুরী শিমুর বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন, ‘হানি ট্র্যাপ’ ও ব্ল্যাকমেইলের মাধ্যমে প্রায় ২২ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ঢাকার আদালতে মামলা করেন। আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে উত্তরা পশ্চিম থানাকে তদন্তের নির্দেশ দেন। পরে তিনি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষের কাছেও লিখিত অভিযোগ করেন।

 

সেই মামলায় অভিযোগ করা হয়, ২০২৪ সালে ফেসবুকে পরিচয়ের পর শিমু তাকে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন সময়ে টাকা নেন। জন্মদিনে দেড় লাখ টাকা মূল্যের একটি হীরার আংটিসহ বিয়ের খরচের জন্য মোট ২১ লাখ ৭৪ হাজার ৫১১ টাকা নেয়ার পরও বিয়ে না করে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে মামলায় দাবি করা হয়।

পর্নোগ্রাফি আইনে কেবিন ক্রু শিমুর বিরুদ্ধে মামলার নির্দেশ আদালতের

ভোলার মনপুরায় নির্বাচনী মাঠে জনআতঙ্ক, দীপক বাহিনীর হাতে আহত ৫

ভোলার মনপুরায় নির্বাচনী মাঠে জনআতঙ্কে, থমথমে পুরো মনপুরা। আসন্ন 2 নং হাজিরহাট ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনী প্রচারণা কালীন সময় প্রার্থী নিজামুদ্দিন হাওলাদারের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের বেধড়ক মারধর করার অভিযোগ উঠে এসেছে। প্রার্থীকে বেধড়ক মারধর করায় গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি আছেন, নাছির(২৩), আল আমিন(২৫),জিদনী (১৮),অনি (২৩)কাশেম(২৮),অজয়(২৬)

আহতদের পরিবার জানিয়েছেন আহতদের অবস্থা গুরুতর, চিকিৎসার জন্য জেলাতে নেওয়া প্রয়োজন হতে পারে।।

মেম্বার প্রার্থী নাসির অভিযোগ করে বলেন , স্থানীয় প্রশাসন অত্যন্ত দুর্বল অবস্থায় রয়েছে,মাঠ প্রশাসন নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছেন, দীপক রাশি বাহিনী এরপর এক সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে, আমি নির্বাচন প্রতারণা চলাকালীন সময়ে অতর্কিত দীপক বাহিনীর মূল হোতা সন্ত্রাসী মাকসুদের নেতৃত্বে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র সহ আমাকেও আমার তুই ছেলের উপর হামলা চালান।। এতে করে আমিও আমার ছোট ছেলে আমিন গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে রয়েছি।। মনপুরা পুলিশ প্রশাসনের নিকট আমি অভিযোগ করেছি।ওসি মনপুরা এখন পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেন নাই। তিনি আরো বলেন সন্ত্রাসী ফারুক ফরাজী, ইলিয়াছ চৌধূরী, ইলিয়াস ফরাজী, ফুহাদ আওলাদ মাতাব্বর, মনির ফরাজী, খোকন পর এক নানা সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।

চেয়ারম্যান প্রার্থী নুরুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন নির্বাচনকে বানচাল করার জন্য একের পর এক সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালিয়ে গেলেও ওসি মনপুরা এখন পর্যন্ত কোন ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে নাই, চিরে যদি সন্ত্রাসীদের দমন না করা হয় তাহলে নির্বাচন হবে মনপুরা হবে ঝুঁকিপূর্ণ, নির্বাচনে মাঠ প্রশাসন নিয়ন্ত্রনহীন হয়ে পড়বেন।। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আকিব ওসমান মাঠ প্রশাসন নিয়ন্ত্রণে কাজ করলেও এখন পর্যন্ত মনপুরা মাঠ নিয়ন্ত্রণে আনতে পরিপূর্ণ ব্যর্থ হয়েছেন।।

অপর চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী নিজাম উদ্দিন হাওলাদার অভিযোগ করে বলেন পরোক্ষভাবে প্রত্যক্ষভাবে দীপক বাহিনী এ ধরনের ঘটনা চলেছেন, অতর্কিত হামলা, চোরাগুপ্তা হামলা সহ নানা ধরনের কর্মের সাথে পার্থী শাহরিয়া দীপক সরাসরি জড়িত রয়েছেন।।

মুঠোফোনে প্রার্থী শাহরিয়ার চৌধুরী দীপক এর নিকট জানতে চাইলে তিনি সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে ব্যস্ততা দেখিয়ে ফোন কাটিয়ে দেন।

বিষয়টি নিয়ে ওসি মনপুরা কে বারবার ফোন করলেও এখন এখন পর্যন্ত মুঠোফোনে পাওয়া যায়নি।।

বিষয়টি নিয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হাকিম ওসমান এর সাথে কথা বললে তিনি বলেন আমি অতি দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করছি, মনপুরাকে মামলা গ্রহণের জন্য নির্দেশ প্রদান করেছি।। অচিরেই মনপুরায় মাঠ প্রশাসন নিয়ন্ত্রণে আনাতে আমি নিরস কাজ করছি।।

উল্লেখ্য এই যে মনপুরা উপজেলা একের পর এক আচরণবিধি লঙ্ঘন করায় প্রার্থী শাহরিয়ার দীপক বিরুদ্ধে শাহরিয়ার বিরুদ্ধে আচরণবিধি লঙ্ঘনের লিখিত অভিযোগ হয়েছে যা পত্র-পত্রিকা ও গণমাধ্যমে বেশ কয়েকবার প্রকাশিত হয়েছে।। আজকের চোরাগুপ্তা হামলা সহ নানা অতর্কিত সন্ত্রাসী হামলার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।।। কোন পর্যন্ত কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করতে মনপুরা থানা সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছেন।।

আসছে বিস্তারিত……. সাথে থাকুন

ভোলার মনপুরায় নির্বাচনী মাঠে জনআতঙ্ক, দীপক বাহিনীর হাতে আহত ৫

এস এম খলিলুর রহমান
ব্যুরো চীফ হবিগঞ্জ জেলা ॥

নবীগঞ্জ পৌর এলাকার গয়াহরি গ্রামে নিরীহ ব্যক্তি বিজিত দাশ মেটনের উপর সন্ত্রাসী হামলার দায়েরী মামলার অন্যতম আসামী কাউন্সিলর যুবরাজ গোপসহ অপর আসামীদের গ্রেফতার না করায় পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন বাদিনী সুপ্রিয়া রানী দাশ। শনিবার (১২ জুন) সকালে নবীগঞ্জ প্রেসক্লাব কার্যালয়ে অনুষ্টিত সাংবাদিক সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সুপ্রিয়া রানী দাশ বলেন, গেল পৌর নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কাউন্সিলর যুবরাজ গোপ তার পরিবারের উপর ক্ষিপ্ত হন। এরজের ধরে বিগত ২৬ এপ্রিল সন্ধ্যায় নবীগঞ্জ পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ডস্থ গয়াহরি গ্রামে জ্যোতিষ দাশের বাড়ি সামনে রাস্তার উপর পেয়ে আমার স্বামী বিজিত দাশ মেটনকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ক্ষতবিক্ষত করেন আমাদের ওয়ার্ড কাউন্সিলর যুবরাজ গোপ, জ্যোতিষ দাশ, সীমা রানী দাশ, উৎফল দাশ ও লিপ্টু দাশসহ একদল লোক। তাদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে আমার স্বামী গুরুতর আহত হয়ে সিলেট ও ঢাকা হাসপাতালে চিকিৎসা গ্রহন করি। আমার স্বামী আহত হয়ে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছিল। পুলিশ ঘটনার খবর পেয়ে আমার স্বামীর রক্তাক্ত অবস্থা দেখে তাৎক্ষনিকভাবে জ্যোতিষ দাশকে গ্রেফতার করে। পরে ৫৪ ধারায় জেল হাজতে প্রেরন করে পুলিশ। এ ব্যাপারে আমি নবীগঞ্জ থানায় মামলা নিয়ে গেলে পুলিশ আদালতের আশ্রয় নিতে পরামর্শ দেন। পরবর্তীতে আমি বাদী হয়ে হবিগঞ্জ আদালতে উল্লেখিত দুর্বৃত্তদের আসামী করে মামলা দায়ের করি। মামলাটি আদালতের নির্দেশে এফআইআর হিসেবে নবীগঞ্জ থানায় রুজু হয়। মামলা রুজু হলেও মামলার অন্যতম আসামী যুবরাজ গোপসহ অপরাপর আসামীদেরকে পুলিশ গ্রেফতার করতে পারেনি। অথচ যুবরাজ গোপ প্রকাশ্যে নবীগঞ্জ শহরে ও বাড়িতে ঘুরে বেড়াচ্ছে। আমি অসহায় একজন মহিলা, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই লুৎফুর রহমানকে বারবার তাগিদ দেয়া সত্ত্বেও আসামী গ্রেফতার করিতে তিনি গড়িমশি করছেন। এদিকে আমার স্বামীর বর্তমান শারীরিক অবস্থা এখন পর্যন্ত ভাল নয়। বিছানায় শয্যাসায়ী আছেন। দারিদ্রতার কারনে আমার স্বামীর চিকিৎসা করাইতে গিয়ে ইতিমধ্যে ভিটে বাড়ি বিক্রি করতে হয়েছে। সামাজিক বিচার থেকে বঞ্চিত হয়ে আইনের আশ্রয় নিয়েও আমাদের এত বিড়ম্বনা পোহাতে হবে, তা জানা ছিলনা।
বর্তমানে আমার আহত স্বামী বিজিত দাশ কথা বার্তা বলতে পারছেন না, বাম চোখেঁ দেখতেও পান না। ঘটনাটি এলাকার সকল মানূষ অবগত রয়েছেন।
ন্যায় বিচারের স্বার্থে আমার দায়েরী মামলার অন্যতম আসামী যুবরাজ গোপসহ অপর আসামীদের গ্রেফতার পুর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য সাংবাদিকদের মাধ্যমে পুলিশের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

নবীগঞ্জে আসামী গ্রেফতার না করায় পুলিশের বিরুদ্ধে বাদিনীর সংবাদ সম্মেলন

error: আপনি নিউজ চুরি করার চেষ্টা করছেন। বিশেষ প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন ০১৭৬৭৪৪৪৩৩৩