
সময় লাগে? কেন ৯০ দিন চলে যায়? আমরা (সাধারণ মানুষ) মনে করি, পুলিশ তো চার্জশিট দিছিলো। আসামীরা কোর্ট থেকে বের হয়ে গেছে… কিন্তু পুলিশ যদি চার্জশিটে ফাঁকফোঁকড় রেখে দেয়, তাহলে তো হবেই। অর্থাৎ, বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আমাদের সদিচ্ছার অভাব আছে।
এসময় তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে এখন ধর্ষণের পর মেরে ফেলার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। কারণ শিশু বেঁচে গেলে সে তাকে অত্যাচারের কথা বলে ফেলতে পারে।
এছাড়া, এই ধরনের অনেক ঘটনাই সামনে আসে না জানিয়ে তিনি বলেন, মূল জটিলতা হয় পরিবারে। সদস্যরা বলে, যা ঘটার ঘটেছে, এটা আমাদের জন্য লজ্জাজনক, এবার ধামাচাপা দাও। তারা ভাবে মেয়ের বিয়ে হবে না, আমরা তো এখানেই থাকবো।
অ্যাডভোকেট সালমা আলীর সাথেও এ প্রসঙ্গে কথা হয় বিবিসি বাংলা’র।
তার মতে, বাংলাদেশে মেয়েশিশুর জন্য ঝুঁকি সব জায়গায়। ঘরে বাইরে কোথাও নিরাপত্তা নেই। তবে এই ধরনের ঘটনায় পরিবার এগুলোকে গোপন করার চেষ্টা করে। আর বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দ্বিতীয়বার সহিংসতার শিকার হওয়ার ভয়ে থানায় যাওয়ার বিষয়টা নিরুৎসাহিত করা হয়।”
‘আর আমাদের থানাগুলোতে পরিবেশ যেরকম হওয়ার কথা, সেরকম নেই। আমাদের ভালো পুলিশ অফিসার নেই। থানায় নারীবান্ধব পরিবেশ নেই,’ যোগ করেন তিনি।
মানবাধিকারকর্মীদের মতে, শিশু নির্যাতনের ঘটনায় দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে বিশেষায়িত আদালত ও পর্যাপ্ত অবকাঠামো প্রয়োজন।
তাদের ভাষ্য, দৃশ্যমান শাস্তি নিশ্চিত হলে অপরাধীদের মধ্যে ভয় তৈরি হবে।
এছাড়া, শিশুদের নিরাপত্তায় পরিবারের পাশাপাশি স্কুল, কমিউনিটি ও রাষ্ট্রের সমন্বিত ভূমিকা জরুরি। এদের মাঝে সমন্বয়ের অভাব, জনবল সংকট ও পর্যাপ্ত মনিটরিং না থাকায় অনেক ক্ষেত্রেই এ ধরণের ঘটনায় কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয় না।
এ ক্ষেত্রে গণমাধ্যম, মানবাধিকার সংগঠন ও নারী অধিকার সংগঠনগুলোরও সক্রিয় ভূমিকা রাখাটা প্রয়োজন বলে মনে করেন তারা।
Leave a Reply