খুলনায় কেডিএসের মাসব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি-২০২৬ উদ্বোধন - Gono television | বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল।
খুলনায় কেডিএসের মাসব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি-২০২৬ উদ্বোধন

খুলনায় কেডিএসের মাসব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি-২০২৬ উদ্বোধন

খুলনা ডেভেলপমেন্ট সোসাইটি (কেডিএস)-এর উদ্যোগে মাসব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি-২০২৬ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শনিবার (৪ জুলাই) সকাল ৮টায় খুলনার মাদানী নগর মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কেডিএসের চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম শিমুল। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন কেডিএসের মহাসচিব এম. এ. সবুর মোড়ল। সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ছিলেন প্রকল্প কমিটির চেয়ারম্যান মো. রায়হান উল ইসলাম এবং সদস্য সচিব মো. জিম্মাতুল ইসলাম।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাদানী নগর মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা মো. ইমদাদুল্লাহ কাসেমী বাদা। বিশেষ অতিথি ছিলেন মসজিদে বিলাল (রা.)-এর ইমাম ও খতিব মাওলানা মো. ইশতিয়াক আহমদ এবং আনোয়ারুল উলুম ইসলামিয়া মাদ্রাসার মুহতামিম মাওলানা মো. মেহেদী হাসান।

অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত করা হয়। পরে স্বাগত বক্তব্যে সভাপতি আব্দুস সালাম শিমুল বৃক্ষরোপণের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, কেডিএসের ব্যবস্থাপনায় খুলনা সিটিসহ বৃহত্তর খুলনা অঞ্চলে পর্যায়ক্রমে আগামী কয়েক বছরে ৩ লক্ষ কাঁঠালের চারা রোপণের একটি সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এ প্রকল্প সফলভাবে বাস্তবায়নে সরকারি কর্তৃপক্ষ, বেসরকারি সংস্থা এবং সাধারণ মানুষের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

প্রধান অতিথি তাঁর বক্তব্যে বৃক্ষরোপণের পরিবেশগত, মানবিক ও ধর্মীয় গুরুত্ব তুলে ধরে সবাইকে বেশি বেশি গাছ লাগানোর আহ্বান জানান।

এসময় বিশেষ অতিথিদ্বয় ছাড়াও আরও বক্তব্য দেন কেডিএসের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান মো. সাখাওয়াত হোসেন স্বপন, শিশির রঞ্জন মল্লিক, ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক এ. বি. এম. আদেল মুকুল, মো. জাহাঙ্গীর শিকদার, মো. আলতাফ হোসেন, এস. এম. আব্দুর রহিম, সদসম্যন্ডলীর মধ্যে মো. কেরামত আলী, মো. চুন্নু খন্দকার, মো. নাসির উদ্দিন, এস. এম. নাজমুল হাসান, দৈনিক আমাদের দেশ-এর সম্পাদক মো. আনিসুর রহমান, মিঠুন সরকার, দীপ চৌধুরী, মো. রফিকুল ইসলাম, মো. সামরাজ ফরাজী সহ অনেকে।

অনুষ্ঠান শেষে অতিথিবৃন্দ মাদানী নগর মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে প্রতীকীভাবে কাঁঠালের চারা রোপণের মাধ্যমে মাসব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।


প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের যথাযথ মূল্যায়ন ও পুনর্বাসন করা সরকারের পবিত্র দায়িত্ব। তাদের হত্যাকারীদের বিচার এ দেশের মাটিতেই হবে।

 

শনিবার জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণে আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত জুলাই জাতীয় সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ কথা বলেন।

 

শহীদদের আত্মত্যাগকে স্মরণ করে তারেক রহমান বলেন, জুলাই শহীদদের আত্মত্যাগ এবং আহতদের অবদানকে স্মরণীয় করে রাখতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তাদের পরিবার ও যোদ্ধাদের সর্বোচ্চ সম্মান, স্বীকৃতি ও জীবনমান নিশ্চিতকরণ, পূর্ণাঙ্গ পুনর্বাসন ও সহায়তা প্রদানে সরকার কাজ করছে।

 

জুলাই শহীদদের হত্যাকারীদের বিচার এ দেশের মাটিতেই হবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘আমি প্রথমেই বলেছি, রাষ্ট্র-দেশ তার যথাসাধ্য দিয়ে আপনাদের মূল্যায়নের চেষ্টা করবে, আপনাদের আত্মত্যাগকে মূল্যায়ন করবে। কিন্তু একই সঙ্গে আপনাদের আত্মত্যাগকে যে রকম মূল্যায়ন করবে, আপনাদের বিরুদ্ধে যে অন্যায় হয়েছে, যেভাবে আপনার আপনজনকে হত্যা করা হয়েছে, অবশ্যই তার জন্য দায়ীদের বিচার হবে এই দেশের আইনে।’

 

পাশাপাশি বিচারের নামে কারও প্রতি যেন অবিচার না হয়, সে বিষয়ে সচেতন থাকার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কারণ, যে আপনজনকে আপনি হারিয়েছেন, সে যদি দেখতে পারে তার প্রতি যে অন্যায় হয়েছে সেই অন্যায়ের বিচার করতে গিয়ে আমরা অবিচার করে ফেলেছি; নিশ্চয়ই সেই মানুষটি ওপার থেকে শান্তি পাবে না। সে জন্য অবশ্যই আমাদের খেয়াল রাখতে হবে যে আইন অনুযায়ী আইনের যে সকল নিয়ম, সবগুলো বজায় রেখে, দরকার হলে আমরা একটু সময় নেব। কিন্তু যে অন্যায়কারী, যে হত্যাকারী তার যাতে সঠিক বিচার হয়।’

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘এই অনুষ্ঠান চলাকালে আমি বারবার ভাবছিলাম এই মুহূর্তে যদি আমি আমার মাকে জিজ্ঞেস করতে পারতাম, আপনার ওপর যে অবিচার ও অন্যায় হয়েছে, আপনি কি চান আমি এসবের প্রতিশোধ নিই? আমার বিশ্বাস মা বলতেন, এই মুহূর্তে তোমার কাজ সকলকে ঐক্যবদ্ধ করে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। আমি জানি, আমার ভাইকে জিজ্ঞেস করলে তিনিও আমাকে একই উত্তর দিতেন।’

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি জানি, এখানে মা উপস্থিত আছেন। উনি দেখেছেন কীভাবে সন্তানকে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়েছে, গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। এখানে ভাই উপস্থিত আছেন, সে দেখেছে কীভাবে তার ভাইকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে।’ ‘আপনাদের এই কষ্টের বিপরীতে শুধু একটি কথাই আমি বলতে চাই, আপনাদের যে কষ্ট, সেই কষ্টটি আমিও বুঝি, অনুভব করতে পারি।’

 

তারেক রহমান আরও বলেন, ‘স্বৈরাচারের সময় থেকে শুরু করে ৫ আগস্ট জুলাই আন্দোলনে অনেকেই, বহু, হাজারো লাখো মানুষ শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছে। সেই নির্যাতনের যে কষ্ট আপনাদের এখনো ভোগ করে বেড়াতে হচ্ছে; সে রকম শারীরিক কষ্ট, মানসিক কষ্ট প্রতিটি কষ্ট আমাকেও ভোগ করতে, বয়ে বেড়াতে হচ্ছে। এ কারণে আপনাদের সেই কষ্ট সেটি মানসিক হোক, সেটি শারীরিক হোক, আমি কিছুটা হলেও অনুভব করতে সক্ষম।’

 

জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনির সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, গৃহায়ণমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আজম খান, প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন, প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন, ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদলের সভাপতি আবু হুরায়রা, কওমি ছাত্র ফোরামের সভাপতি মাওলানা জামিল সিদ্দিকী, আয়োজক সংগঠন ‘আমরা জুলাই যোদ্ধা’র সভাপতি আমিনুল ইসলাম ইমন, সাধারণ সম্পাদক আল মিরাজ, জুলাই-২৪ শহীদ পরিবার সোসাইটির সভাপতি গোলাম রহমান ও সাধারণ সম্পাদক রবিউল আওয়াল বক্তব্য দেন

জুলাইয়ে শহীদ-আহতদের মূল্যায়ন ও পুনর্বাসন করা সরকারের পবিত্র দায়িত্ব

দেশের সাইবার আইনকে সময়োপযোগী ও আরও কার্যকর করতে প্রয়োজনীয় আইনি সংস্কার করা হবে। এ লক্ষ্যে আইনজীবীদের কাছ থেকে দ্রুত মতামত, পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে সরকার বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।

 

শুক্রবার (৩ জুলাই) দুপুরে সুপ্রিম কোর্টে ল রিপোর্টার্স ফোরামের বার্ষিক সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

 

তথ্যমন্ত্রী বলেন, গণমাধ্যম রাষ্ট্র ও সমাজের আয়না হলেও আমাদের গণমাধ্যমের সেই আয়না এখনও নিখুঁত নয়। তাই দায়িত্বশীল ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা নিশ্চিত করতে হবে।

 

সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের পক্ষে গণমাধ্যমে বয়ান তৈরির প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, কোনো ঐতিহাসিক ঘটনার পক্ষে বা বিপক্ষে বয়ান তৈরি করতে গিয়ে কেউ যদি প্রচলিত আইন লঙ্ঘন করেন, তাহলে তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সাইবার আইনকে সময়োপযোগী করতে প্রয়োজনীয় আইনি সংস্কার করা হবে

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী সংসদ সদস্যের শপথের দিন জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথও নিয়েছিল জামায়াতে ইসলামী-এনসিপির নেতৃত্বাধীন বিরোধী দল। কিন্তু প্রচলিত আইন ও সাংবিধানিক ধারা মেনে এ ধরনের শপথ নেয়নি সরকারি দল বিএনপি, সমমনা দল ও স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যরা।

 

সংসদের প্রথম অধিবেশনে অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ১৩৩ টি অধ্যাদেশ উত্থাপিত হয়। তবে বিরোধীদের সংস্কার পরিষদ গঠনের প্রস্তাবের পরিবর্তে গঠন করা হয় বিশেষ কমিটি। প্রতিবাদে ওয়াক আউট করে বিরোধী দল।

 

এছাড়া, প্রবল আপত্তির মুখেও পাস হয় মানবাধিকার, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় ও বিচারক নিয়োগ রহিতকরণ বিল। বাতিল হয় গুম অধ্যাদেশ।

 

সংসদের পাশাপাশি রাজপথেও এ নিয়ে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছে বিরোধী দল। তবে এ নিয়ে সরকার ও বিরোধী দলের মতপার্থক্য থাকলেও এর সমাধান সংসদে হওয়া উচিত বলে মনে করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

 

তার মতে, আগামী অধিবেশনও জুলাই ইস্যুতে উত্তপ্ত থাকবে। দুই দলই সনদের বাস্তবায়ন চায়; কিন্তু উচ্চকক্ষ, মানবাধিকার, বিচার বিভাগ নিয়ে মতভেদ বেশি। এক্ষেত্রে সরকারকে উদার হওয়ার পরামর্শ স্পিকারের।

 

হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেছেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে হলে আইনের মাধ্যমে করতে হবে। সংবিধানে সংশোধনী আনতে হবে। যেটি কেবল জাতীয় সংসদেই করা সম্ভব। এই ব্যাপারে সরকারি দল ও বিরোধী দলের মধ্যে বোঝাপড়া হলে ভালো। জুলাই সনদে যতটুকু ছাড় দেওয়া যায়, ক্ষমতাসীন দলের সেটি দেওয়া উচিত। বিরোধী দলেরও বুঝতে হবে, সংখ্যাগরিষ্ঠতার কারণে সরকার যাতে তাদের কার্যক্রম নির্বিঘ্নে চালিয়ে যেতে পারে।

 

বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, গুম, মানবাধিকার আইন সংশোধনেরও আহ্বান জানিয়েছেন স্পিকার। তিনি বলেন, কোনো দল তো স্থায়ীভাবে সরকারি বা বিরোধী দল না। এখন যদি মানবাধিকারের ক্ষেত্রে সরকার উদ্যোগী না হয়, তাহলে ভবিষ্যতে যখন বিরোধী দলে পড়বে, তখন এটার মাসুল তাদেরকেও দিতে হবে। এটা মাথায় রেখেই ভালোভাবে মানবাধিকার আইন প্রণয়ন করতে হবে, যা অতীতের চেয়ে আরও ভালো একটি আইন।

 

জুলাই সনদ নিয়ে দ্বন্ধের সুযোগে আওয়ামী লীগের ফেরা এবং নতুন কোনও ষড়যন্ত্র যেন মাথাচাড়া দিতে না পারে, সেই বিষয়েও সতর্ক করছেন অভিজ্ঞ এই পার্লামেন্টারিয়ান ও রাজনীতিবিদ।

 

‘বাংলাদেশকে তছনছ করার জন্য যারা প্রতিদিনই ছক কষছে, তাদের অপচেষ্টাকে দূর করার জন্য একসময় মিলিতভাবে উদ্যোগ নিতে হবে, যেন সরকারি দল ও বিরোধী দল এই ব্যাপারে ঐক্যমত হয়ে মাফিয়া প্রত্যাবর্তনের বিরুদ্ধে লড়াই করবে। সুতরাং এই দুই দলের মধ্যে আরও সুসম্পর্ক থাকা উচিত’— যোগ করেন তিনি।

 

স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, জাতীয় স্বার্থে ঐকমত্যের বিকল্প নেই। দুই দলের সমঝোতার মাধ্যমে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন হলে শান্তিতে থাকবে মানুষ।

জুলাই সনদ ইস্যুতে উদার, শক্তিশালী মানবাধিকার আইন করার পরামর্শ স্পিকারের

জ্বর কমে গেলেও সম্পূর্ণ সুস্থতা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত কোনো ডেঙ্গু রোগীকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র না দেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) ঢাকা মেডিকেল কলেজের প্যাথলজি বিভাগে আধুনিক মাইক্রোস্কোপ ও ল্যাবরেটরি যন্ত্রপাতি হস্তান্তর অনুষ্ঠানে তিনি এ নির্দেশনা দেন।

 

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সরকার গত দুই মাস ধরে দেশব্যাপী পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করছে। পাশাপাশি চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে এবং রোগীদের চিকিৎসায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

 

তিনি জানান, এডিস মশার লার্ভা ধ্বংসে নতুন প্রযুক্তি ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে বিশেষ ধরনের মেডিক্যাল ট্যাবলেট সংগ্রহ করা হচ্ছে, যা জমে থাকা পানিতে ব্যবহার করলে লার্ভা দ্রুত ধ্বংস হবে।

 

ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসায় বিশেষ সতর্কতার ওপর গুরুত্ব দিয়ে মন্ত্রী বলেন, প্লাজমা লিকেজের কারণে অনেক রোগীর মৃত্যু হয়। এ ঝুঁকি মোকাবিলায় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে একটি দৈনিক চিকিৎসা প্রটোকল তৈরি করা হয়েছে, যা চিকিৎসকদের মোবাইল ফোন ও ওয়েবসাইটের মাধ্যমে সরবরাহ করা হবে।

 

এ সময় তিনি জানান, দেশের চিকিৎসা শিক্ষা আধুনিকায়নে কাজ চলছে। ঢাকা মেডিকেল কলেজের প্যাথলজি বিভাগে সর্বাধুনিক মাইক্রোস্কোপ সংযোজনের ফলে এখন থেকে আরও দ্রুত ও নির্ভুলভাবে ক্যানসার শনাক্ত করা সম্ভব হবে।

সম্পূর্ণ সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত ডেঙ্গু রোগীকে ছাড়পত্র নয়: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

দেশের প্রায় ৩২ হাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় আর কোনো আইনি বাধা রইল না।

 

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) প্রধান শিক্ষক নিয়োগ সংক্রান্ত একটি মামলায় প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমানের নেতৃত্বাধীন আপিল বেঞ্চ এ রায় দেন।

 

আদালতে মামলাজটের কারণে এতোদিন আটকে ছিল প্রায় ৩২ হাজার প্রধান শিক্ষক পদের নিয়োগ। আজকের এই রায়ের ফলে প্রধান শিক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আর কোনো আইনি জটিলতা থাকছে না।

 

গত ১৮ জুন এই সিভিল আপিলের ওপর শুনানি শেষ করে আপিল বিভাগ।

 

এর আগে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছিলেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের সংকট দূর করতে ৩২ হাজার ৫০০ প্রধান শিক্ষক নিয়োগের উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। তবে আদালতের স্থগিতাদেশের কারণে নিয়োগ কার্যক্রম আটকে রয়েছে। এ জটিলতা নিরসনে কাজ করছে সরকার।

৩২ হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নিয়োগে বাধা নেই: আপিল বিভাগ

জুয়া, অনলাইন জুয়া, ম্যাচ ফিক্সিং ও স্পট ফিক্সিংয়ের অপরাধে সর্বোচ্চ সাত বছরের কারাদণ্ডের বিধান রেখে সংসদে জুয়া প্রতিরোধ বিল পাস হয়েছে। বিদ্যমান দ্য পাবলিক গ্যাম্বলিং অ্যাক্ট, ১৮৬৭ রহিত করে নতুন আইনটি করা হচ্ছে।

 

আজ মঙ্গলবার (৩০ জুন) স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জাতীয় সংসদে জুয়া প্রতিরোধ বিল, ২০২৬ পাসের জন্য সংসদে উত্থাপন করেন। পরে কণ্ঠভোটে বিলটি পাস হয়।

 

বিলে অনলাইন ও দূরবর্তী জুয়া, বাজি বা পণ (বেটিং), বাজিকর, ম্যাচ ফিক্সিং বা স্পট ফিক্সিংসহ মোট ২৪ ধরনের বিষয় সংজ্ঞায়ন করে অপরাধের প্রকৃতিভেদে ১৪ ধরনের সাজার (অর্থদণ্ড/কারাদণ্ড/উভয় দণ্ড) বিধান রাখা হয়েছে।

 

বিলে বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জুয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ত হলে দুই বছর কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।

 

অনলাইন জুয়া বা দূরবর্তী জুয়ার অপরাধ করলে পাঁচ বছর কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ এক কোটি টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।

 

কেউ অনলাইন বেটিংয়ে সম্পৃক্ত হলে সর্বোচ্চ সাত বছর কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ পাঁচ কোটি টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।

 

ম্যাচ ফিক্সিং ও স্পট ফিক্সিংয়ের সাজা হবে সর্বোচ্চ সাত বছরের কারাদণ্ড বা অনূর্ধ্ব এক কোটি টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ড।

 

বিলে জুয়া, জুয়ার স্থান, জুয়ার সামগ্রী, ডিজিটাল সম্পদ, ডিজিটাল গ্যাম্বলিং প্ল্যাটফর্ম, ডিজিটাল ওয়ালেট, টোটালাইজেটর, অনলাইন ও দূরবর্তী জুয়া—এসবেরও সংজ্ঞায়ন করা হয়েছে।

জুয়া প্রতিরোধ আইন পাস: অনলাইন বেটিংয়ে ৭ বছর জেল, ৫ কোটি টাকা জরিমানা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কুমিল্লা সদর দক্ষিণের বিজয়পুর বাজারে ভারসাম্যহীন ভাসমান এক ঘুমন্ত নারীকে ধর্ষণের অভিযোগে ল্যাংরা খোকনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

 

শনিবার (৪ জুলাই) সন্ধ্যায় পার্শ্ববর্তী বরুড়া উপজেলার ঝলম থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

 

কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ রকিবুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

 

জানা গেছে, কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার বিজয়পুর বাজার এলাকার ওই ভারসাম্যহীন নারী সারা দিন বাজারে ঘোরাঘুরি করে আশপাশের দোকানগুলোর সামনে কিংবা ফুটপাতে রাতযাপন করত।

 

সম্প্রতি ভারসাম্যহীন ওই নারী বিজয়পুর বাজারস্থ একটি কনফেকশনারী দোকানের সামনে রাতযাপন করছিল। গভীর রাতে দুর্গাপুর গ্রামের ল্যাংরা খোকন ওরফে জুয়ারি খোকন ঘুমন্ত অবস্থায় তাকে ধর্ষণ করে।

 

পরে আজ শনিবার সকাল থেকে ধর্ষণের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনার সিসি টিভি ফুটেজ এবং স্থানীয়দের তথ্যানুযায়ী অভিযুক্ত খোকনকে গ্রেফতারে অভিযানে নামে পুলিশের একাধিক টিম। পরে সন্ধ্যায় কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার ঝলম এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

স্থানীয়রা জানান, ল্যাংরা খোকন জুয়া, নারী কেলেঙ্কারি থেকে শুরু করে বিভিন্ন অপকর্মের সঙ্গে জড়িত। এগুলো ছাড়াও তিনি দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় জুয়ার বোর্ড চালাচ্ছে। একটি রাজনৈতিক মহলের ছত্রছায়ায় খোকন একের পর এক অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে।

 

এদিকে শিকারপুর নামক স্থান থেকে ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। তাকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।

 

সহকারী পুলিশ সুপার (কুমিল্লা সদর দক্ষিণ সার্কেল) মোস্তাইন বিল্লাহ ফেরদৌস জানান, ধর্ষণের খবরের পরপরই পুলিশের একাধিক টিম অভিযানে নামে। সন্ধ্যায় পার্শ্ববর্তী বরুড়া উপজেলার ঝলম থেকে খোকনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এছাড়া ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করা হয়েছে। তাকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হবে।

কুমিল্লায় ঘুমন্ত নারীকে ধর্ষণ, অভিযুক্ত গ্রেফতার

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের যথাযথ মূল্যায়ন ও পুনর্বাসন করা সরকারের পবিত্র দায়িত্ব। তাদের হত্যাকারীদের বিচার এ দেশের মাটিতেই হবে।

 

শনিবার জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণে আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত জুলাই জাতীয় সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ কথা বলেন।

 

শহীদদের আত্মত্যাগকে স্মরণ করে তারেক রহমান বলেন, জুলাই শহীদদের আত্মত্যাগ এবং আহতদের অবদানকে স্মরণীয় করে রাখতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তাদের পরিবার ও যোদ্ধাদের সর্বোচ্চ সম্মান, স্বীকৃতি ও জীবনমান নিশ্চিতকরণ, পূর্ণাঙ্গ পুনর্বাসন ও সহায়তা প্রদানে সরকার কাজ করছে।

 

জুলাই শহীদদের হত্যাকারীদের বিচার এ দেশের মাটিতেই হবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘আমি প্রথমেই বলেছি, রাষ্ট্র-দেশ তার যথাসাধ্য দিয়ে আপনাদের মূল্যায়নের চেষ্টা করবে, আপনাদের আত্মত্যাগকে মূল্যায়ন করবে। কিন্তু একই সঙ্গে আপনাদের আত্মত্যাগকে যে রকম মূল্যায়ন করবে, আপনাদের বিরুদ্ধে যে অন্যায় হয়েছে, যেভাবে আপনার আপনজনকে হত্যা করা হয়েছে, অবশ্যই তার জন্য দায়ীদের বিচার হবে এই দেশের আইনে।’

 

পাশাপাশি বিচারের নামে কারও প্রতি যেন অবিচার না হয়, সে বিষয়ে সচেতন থাকার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কারণ, যে আপনজনকে আপনি হারিয়েছেন, সে যদি দেখতে পারে তার প্রতি যে অন্যায় হয়েছে সেই অন্যায়ের বিচার করতে গিয়ে আমরা অবিচার করে ফেলেছি; নিশ্চয়ই সেই মানুষটি ওপার থেকে শান্তি পাবে না। সে জন্য অবশ্যই আমাদের খেয়াল রাখতে হবে যে আইন অনুযায়ী আইনের যে সকল নিয়ম, সবগুলো বজায় রেখে, দরকার হলে আমরা একটু সময় নেব। কিন্তু যে অন্যায়কারী, যে হত্যাকারী তার যাতে সঠিক বিচার হয়।’

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘এই অনুষ্ঠান চলাকালে আমি বারবার ভাবছিলাম এই মুহূর্তে যদি আমি আমার মাকে জিজ্ঞেস করতে পারতাম, আপনার ওপর যে অবিচার ও অন্যায় হয়েছে, আপনি কি চান আমি এসবের প্রতিশোধ নিই? আমার বিশ্বাস মা বলতেন, এই মুহূর্তে তোমার কাজ সকলকে ঐক্যবদ্ধ করে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। আমি জানি, আমার ভাইকে জিজ্ঞেস করলে তিনিও আমাকে একই উত্তর দিতেন।’

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি জানি, এখানে মা উপস্থিত আছেন। উনি দেখেছেন কীভাবে সন্তানকে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়েছে, গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। এখানে ভাই উপস্থিত আছেন, সে দেখেছে কীভাবে তার ভাইকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে।’ ‘আপনাদের এই কষ্টের বিপরীতে শুধু একটি কথাই আমি বলতে চাই, আপনাদের যে কষ্ট, সেই কষ্টটি আমিও বুঝি, অনুভব করতে পারি।’

 

তারেক রহমান আরও বলেন, ‘স্বৈরাচারের সময় থেকে শুরু করে ৫ আগস্ট জুলাই আন্দোলনে অনেকেই, বহু, হাজারো লাখো মানুষ শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছে। সেই নির্যাতনের যে কষ্ট আপনাদের এখনো ভোগ করে বেড়াতে হচ্ছে; সে রকম শারীরিক কষ্ট, মানসিক কষ্ট প্রতিটি কষ্ট আমাকেও ভোগ করতে, বয়ে বেড়াতে হচ্ছে। এ কারণে আপনাদের সেই কষ্ট সেটি মানসিক হোক, সেটি শারীরিক হোক, আমি কিছুটা হলেও অনুভব করতে সক্ষম।’

 

জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনির সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, গৃহায়ণমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আজম খান, প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন, প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন, ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদলের সভাপতি আবু হুরায়রা, কওমি ছাত্র ফোরামের সভাপতি মাওলানা জামিল সিদ্দিকী, আয়োজক সংগঠন ‘আমরা জুলাই যোদ্ধা’র সভাপতি আমিনুল ইসলাম ইমন, সাধারণ সম্পাদক আল মিরাজ, জুলাই-২৪ শহীদ পরিবার সোসাইটির সভাপতি গোলাম রহমান ও সাধারণ সম্পাদক রবিউল আওয়াল বক্তব্য দেন

জুলাইয়ে শহীদ-আহতদের মূল্যায়ন ও পুনর্বাসন করা সরকারের পবিত্র দায়িত্ব

বিশ্বকাপ শুরুর আগে কেউই হয়তো হিসেবে রাখেনি কেপ ভার্দের নাম। প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে সুযোগ দেশটি স্বাভাবিকভাবেই ছিল আন্ডারডগ। কিন্তু তারাই মাঠে রেখেছে তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতার ছাপ। রাউন্ড অব ৩২ থেকে বিদায় নিলেও, বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে নাভিশ্বাস তুলে ছেড়েছে পশ্চিম আফ্রিকার এই দেশ।

 

টুর্নামেন্টজুড়ে কেপ ভার্দের অবিশ্বাস্য পারফরম্যান্সের বড় কারিগর দলটির গোলকিপার ভোজিনিয়া। তার মতে, আর্জেন্টিনার বিপক্ষে রাউন্ড অব ৩২-র ম্যাচেও জয়ী দলের মতোই খেলেছে কেপ ভার্দে। কিন্তু ভাগ্য পাশে না পাওয়া মেলেনি জয়।

মায়ামি স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় শনিবার ভোরের ম্যাচে কেপ ভার্দেকে ৩-২ গোলে হারিয়েছে বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। নির্ধারিত সময়ে ১-১ গোলে সমতা থাকার পর অতিরিক্ত ৩০ মিনিটে গিয়ে জিতেছে লিওনেল স্কালোনির শিষ্যরা।

 

অথচ নির্ধারিত সময়েই জিতে যেতে পারত আর্জেন্টিনা। কিন্তু বারবার তাদের গোলের জন্য জোরাল সব আক্রমণ প্রতিহত করে দিয়েছেন ভোজিনহা। বিপজ্জনক জায়গা থেকে লিওনেল মেসির কথা একাধিক ফ্রি কিক তিনি ফিরিয়েছেন অসামান্য ক্ষিপ্রতায়।

 

সব মিলিয়ে ম্যাচে ৮টি সেভ করেছেন ভোজিনিয়া। বিশ্বকাপের ৪ ম্যাচে তার সেভ মোট ১৮টি। এর সঙ্গে দলের অন্যান্যরাও দারুণ ফুটবল খেললে আর্জেন্টিনাকে ১১৩ মিনিট পর্যন্ত আটকে রাখতে সক্ষম হয় কেপ ভার্দে।

অতিরিক্ত ৩০ মিনিটের দ্বিতীয়ার্ধে গিয়ে মেসির কর্নার থেকে উড়ে আসা বলে প্রথম ক্রিস্তিয়ান রোমেরো ও কেপ ভার্দের ফুটবলারের মাথায় লেগে বল জালে জড়ালে ম্যাচ জিতে যায় আর্জেন্টিনা। মাত্র কয়েক মিনিটের জন্য টাইব্রেকারে ম্যাচটি নিতে পারেনি কেপ ভার্দে।

 

ম্যাচ শেষে পরাজয়ের আক্ষেপ থাকলেও, নিজেদের পারফরম্যান্সে গর্ব করার কথাই বলেন ভোজিনিয়া। ফিফায় দেওয়া সাক্ষাৎকারে প্রতিক্রিয়া জানান কেপ ভার্দের প্রাচীর বনে যাওয়া এই গোলকিপার।

 

“আমার মনে হয়, ম্যাচটি জেতার জন্য আমরা যথেষ্ট ভালো খেলেছিলাম। দুর্ভাগ্যবশত, ফুটবল এমনই। আর্জেন্টিনা সেট পিস থেকে তৃতীয় গোলটি করে, কিন্তু আমরা বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের সাথে সমান তালে পাল্লা দিয়ে খেলেছি।”

 

এসময় আর্জেন্টিনার প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধা থাকার কথাও বলেন ভোজিনিয়া।

 

“মেসি এবং আর্জেন্টিনার প্রতিটি খেলোয়াড়ের প্রতি আমাদের অগাধ শ্রদ্ধা রয়েছে। তবে মাঠে নামার পর, প্রতিপক্ষের দক্ষতা সম্পর্কে জানা থাকলেও, আমাদের নিজেদের এবং আমাদের খেলার ওপরই মনোযোগ দিতে হয়।”

আর্জেন্টিনার বিপক্ষে বিজয়ীর মতোই খেলেছি: ভোজিনিয়া

ফিফা বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর লড়াইয়ে আগামী ৫ জুলাই মুখোমুখি হবে ব্রাজিল ও নরওয়ে। অন্যদিকে ৭ জুলাই মাঠে নামবে আর্জেন্টিনা ও মিসর। গুরুত্বপূর্ণ এই দুই ম্যাচের আগে ইতিহাস কিন্তু দুই দক্ষিণ আমেরিকান পরাশক্তির জন্য ভিন্ন বার্তা দিচ্ছে।

 

পরিসংখ্যান বলছে, ব্রাজিল ও নরওয়ে এর আগে আন্তর্জাতিক ফুটবলে চারবার মুখোমুখি হয়েছে। অবাক করার বিষয় হলো, এই চার দেখায় একবারও জয়ের দেখা পায়নি পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। নরওয়ের কাছে দুটি ম্যাচে হেরেছে ব্রাজিল, আর বাকি দুটি ম্যাচ ড্র হয়েছে। অর্থাৎ হেড-টু-হেড রেকর্ডে এখন পর্যন্ত নরওয়ের বিপক্ষে জয়শূন্য ব্রাজিল।

 

এমন পরিসংখ্যান নিঃসন্দেহে ব্রাজিল শিবিরের জন্য দুশ্চিন্তার কারণ হতে পারে। যদিও বর্তমান দলের শক্তি, খেলোয়াড়দের ফর্ম এবং টুর্নামেন্টের পরিস্থিতি অতীতের পরিসংখ্যানকে বদলে দিতে পারে, তবুও ইতিহাসের পাতায় নরওয়ের বিপক্ষে ব্রাজিলের রেকর্ড মোটেও স্বস্তিদায়ক নয়।

 

অন্যদিকে আর্জেন্টিনার সামনে রয়েছে মিসরের চ্যালেঞ্জ। এই দুই দল এর আগে মাত্র একবার মুখোমুখি হয়েছিল। সেই ম্যাচে দাপুটে ফুটবল খেলেই বড় ব্যবধানে জয় তুলে নিয়েছিল আর্জেন্টিনা। ফলে অতীতের রেকর্ড বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের আত্মবিশ্বাস আরও বাড়িয়ে দেবে বলেই মনে করছেন ফুটবল বিশ্লেষকেরা।

 

তবে ফুটবলে পরিসংখ্যান সব সময় শেষ কথা বলে না। প্রতিটি ম্যাচই নতুন, আর নকআউট পর্বে একটি ভুলই বদলে দিতে পারে পুরো সমীকরণ। তারপরও ইতিহাসের বিচারে শেষ ষোলোর আগে আর্জেন্টিনা যেমন পাচ্ছে আত্মবিশ্বাসের বাড়তি রসদ, তেমনি ব্রাজিলকে তাড়া করে ফিরছে নরওয়ের বিপক্ষে জয়হীন অতীত।

 

ব্রাজিল ও নরওয়ের পরিসংখ্যান:

*মোট ম্যাচ: ৪টি

*ব্রাজিলের জয়: ০টি

*নরওয়ের জয়: ২টি

*ড্র: ২টি

 

ম্যাচগুলোর ফলাফল:

*১৯৮৮ (আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ): ব্রাজিল ১-১ নরওয়ে

*১৯৯৭ (আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ): নরওয়ে ৪-২ ব্রাজিল

*১৯৯৮ (ফিফা বিশ্বকাপ, গ্রুপ পর্ব): নরওয়ে ২-১ ব্রাজিল

*২০০৬ (আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ): ব্রাজিল ১-১ নরওয়ে

 

আর্জেন্টিনা ও মিসরের পরিসংখ্যান:

*মোট ম্যাচ: ১টি

*আর্জেন্টিনার জয়: ১টি

*মিসরের জয়: ০টি

*ড্র: ০টি

 

সর্বশেষ সাক্ষাৎ: ২০০৮ সালের আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ

ফল: আর্জেন্টিনা ২-০ মিসর

পরিসংখ্যানে আর্জেন্টিনার জন্য সুখবর, ব্রাজিল শিবিরে বড় দুঃসংবাদ

জুলাই আন্দোলনকে অবমাননা ও অপপ্রচারের অভিযোগে অভিনেত্রী মেহের আফরোজ শাওন, মাহিয়া মাহি ও শান্তা ফারজানার বিরুদ্ধে রাজধানীর শাহবাগ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে রাষ্ট্রসংলাপ ফোরাম।

 

গতকাল শুক্রবার (৩ জুলাই) সকালে সংগঠনটির তিন নেতা এ অভিযোগ জমা দেন। বিষয়টি জানা গেছে আজ শনিবার।

 

এ নিয়ে শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান জানান, অভিযোগটি সাইবার-সংক্রান্ত হওয়ায় তদন্তের জন্য গোয়েন্দা পুলিশের সাইবার বিভাগে পাঠানো হয়েছে।

 

অভিযোগে বলা হয়েছে, জুলাই আন্দোলনে নিহত, আহত এবং আন্দোলনের স্মৃতিচিহ্ন নিয়ে অবমাননাকর বক্তব্য ও কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে অপপ্রচার চালানো হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন অভিযোগকারীরা।

শাওন-মাহির বিরুদ্ধে শাহবাগ থানায় অভিযোগ

বিশ্বকাপে কেপ ভার্দের বিপক্ষে রাউন্ড অব ৩২’র ম্যাচে রুদ্ধশ্বাস লড়াই শেষে জয় পেয়েছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। ম্যাচ শেষে দলের পারফরম্যান্স নিয়ে খোলামেলা মূল্যায়ন করেছেন অধিনায়ক লিওনেল মেসি। তার মতে, প্রতিপক্ষকে সহজভাবে দেখার কোনো সুযোগই ছিল না এবং শুরু থেকেই তারা জানতেন কঠিন এক পরীক্ষার মুখোমুখি হতে যাচ্ছেন।

 

মেসি বলেন, কেপ ভার্দের অপরাজিত যাত্রা মোটেও কাকতালীয় ছিল না। স্পেন কিংবা উরুগুয়ের মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষেও তারা ভালো ফল করেছে, তাই ম্যাচটি যে কঠিন হবে, সে বিষয়ে আর্জেন্টিনা আগেই সতর্ক ছিল। তার ভাষায়, প্রথম গোলটি করাই ছিল সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। গোল পাওয়ার পর মনে হয়েছিল ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রেখে আরও স্বচ্ছন্দে খেলা যাবে। কিন্তু বাস্তবে ঘটেছে ঠিক উল্টোটা।

 

আর্জেন্টাইন অধিনায়ক স্বীকার করেছেন, ম্যাচের বিভিন্ন সময়ে তার দল বলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে। রক্ষণভাগ কিছুটা বেশি নিচে নেমে যাওয়ায় প্রতিপক্ষকে কাঙ্ক্ষিতভাবে চাপে রাখা সম্ভব হয়নি। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে কেপ ভার্দে সমতাসূচক গোলও আদায় করে নেয়। তবে এমন পরিস্থিতির জন্য দল মানসিকভাবে প্রস্তুত ছিল বলেও জানিয়েছেন তিনি।

 

মেসির মতে, নকআউট পর্বের ফুটবলে কোনো ম্যাচই সহজ নয়। এখানে কোনো দলই প্রতিপক্ষকে বিনা লড়াইয়ে কিছু ছেড়ে দেয় না। কেবল নামের কারণে কোনো দলকে দুর্বল মনে করা হতে পারে, কিন্তু মাঠের বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন। তাই কেপ ভার্দের বিপক্ষে কঠিন লড়াই তাকে বিস্মিত করেনি।

প্রথম গোলের পর দলে কী ঘটেছিল, জানালেন মেসি

কেপ ভার্দের এই স্বপ্নযাত্রার নেপথ্যে মাঠ ও মাঠের বাইরে সবচেয়ে বড় তারকা ভোজিনিয়া। ৪০ বছর বয়সী অখ্যাত এই গোলকিপার স্পেনের বিপক্ষে বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই পুরো দুনিয়াকে নিজেকে চিনিয়েছেন তার অতি মানবীয় পারফরম্যান্স দিয়ে। একের পর এক আক্রমণ রুখে দিয়ে হতাশায় স্প্যানিশদের হতাশায় ফেলে দেন তিনি। পুরো ম্যাচে ৭টি সেভ করে ম্যাচের সেরাও নির্বাচিত হন ভোজিনিয়া।

 

আর্জেন্টিনার বিপক্ষে আজ ৮টি সেভ করে এবারের বিশ্বকাপে নিজের মোট সেভের সংখ্যা ১৮-তে নিয়ে গেছেন ভোজিনিয়া। চলতি টুর্নামেন্টে তার চেয়ে বেশি সেভ করেছেন শুধু কুরাসাওয়ের এলোয় রুম (২০) এবং প্যারাগুয়ের অরল্যান্ডো গিল (১৯)।

 

বিশ্বকাপের ইতিহাসে ৪০ বা তার বেশি বয়সী গোলকিপারদের মধ্যে কেবল পিটার শিলটন (১৯৯০ সালে ইংল্যান্ডের হয়ে ২৮টি) এবং দিনো জফ (১৯৮২ সালে ইতালির হয়ে ২৭টি) এক টুর্নামেন্টে এর চেয়ে বেশি সেভ করতে পেরেছেন।

 

পরিসংখ্যান যে সবসময় মাঠের আসল গল্প বলতে পারে না—তার সবচেয়ে বড় উদাহরণ কেপ ভার্দের এবারের বিশ্বকাপ অভিযান। টুর্নামেন্টে তারা কোনো ম্যাচ জেতেনি, অথচ তাদের পারফরম্যান্স ছিল চোখে পড়ার মতো।

 

সাবেক চ্যাম্পিয়ন স্পেন ও উরুগুয়ের সঙ্গে ড্র এবং সৌদি আরবকে রুখে দিয়ে কেপ ভার্দে জায়গা করে নিয়েছিল শেষ ৩২-এ। এমন দুর্দান্ত পারফরম্যান্স কি দলটির সমর্থকরা কখনো কল্পনা করতে পেরেছিল?

 

এরপর আজ নকআউট পর্বে লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ম্যাচটিকে তারা টেনে নিয়েছে অতিরিক্ত সময়ে। ঘড়ির কাটায় ১১১তম মিনিট, ম্যাচ তখন ২-২ সমতায়, মনে হচ্ছিল পেনাল্টি শুট আউট নির্ধারণ হবে ম্যাচের ফল কিন্তু ভাগ্য সহায় হলো না কেপ ভার্দের। বোর্গেসের আত্মঘাতী গোলে আবারও এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা। শেষ পর্যন্ত এই গোলেই ম্যাচের ফলাফল নির্ধারণ করে দেয়।

 

ফলাফলে লেখা থাকবে কেপ ভার্দেকে ৩-২ গোলে হারিয়েছে আর্জেন্টিনা। কিন্তু পুরো বিশ্ব ইতিমধ্যেই দেখেছে আফ্রিকার এই দ্বীপরাষ্ট্রের লড়াকু মানসিকতা। বারবার পিছিয়ে পড়েও চোখে চোখ রাঙিয়ে কেপ ভার্দে কিভাবে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে তিনবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে।

 

এক ম্যাচে ৮টি সেভ করে নতুন আফ্রিকান রেকর্ডও গড়েছেন ভোজিনিয়া। ২০১৪ বিশ্বকাপে জার্মানির বিপক্ষে আলজেরিয়ার রাইস এম’বোলহির পর নকআউট পর্বে কোনো আফ্রিকান গোলকিপারের এটি সর্বোচ্চ সেভের কীর্তি।

 

২০১০ সালের চ্যাম্পিয়ন স্পেন, দুইবারের চ্যাম্পিয়ন উরুগুয়ে এবং বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা—সবার বিপক্ষেই চোখে চোখ রেখে লড়াই করেছে কেপভার্দে। পুরো টুর্নামেন্টে তারা ৪টি গোল করেছে, হজম করেছে ৫টি, ৩টি ম্যাচ ড্র করেছে এবং মাত্র ১টিতে হেরেছে।

 

ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ের ৬৭ নম্বরে থাকা কেপ ভার্দে এবারের বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় চমক। অথচ দেশটির মাত্র ৪,০৩৩ বর্গ কিলোমিটার, জনসংখ্যা মাত্র পাঁচ লাখ উনত্রিশ হাজার।

 

ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে খেলতে নেমে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিল কেপ ভার্দে। ম্যাচের শুরুতেই রায়ান মেন্ডেস আর্জেন্টিনার রক্ষণকে বেশ ভালোই পরীক্ষা নেন। তবে ধীরে ধীরে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেয় লাতিন আমেরিকার জায়ান্টরা।

 

ম্যাচের ৩১ মিনিটে লিসান্দ্রো মার্টিনেজের পাস থেকে বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে দুর্দান্ত এক শটে বল জালের ছাদে পাঠান লিওনেল মেসি। এটি ছিল টুর্নামেন্টে তার সপ্তম গোল।

 

প্রথমার্ধে আর্জেন্টিনা সুবিধাজনক অবস্থানে থাকলেও বিরতির পর বদলে যায় কেপ ভার্দে। মেন্ডেসের পাস থেকে ডেরয় ডুয়ার্তে কঠিন কোণ থেকে দারুণ ফিনিশিংয়ে গোল করে দলকে ১-১ সমতায় ফেরান। এটি ছিল বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে কেপ ভার্দের ইতিহাসে প্রথম গোল।

 

নির্ধারিত সময়ে আর কোনো গোল না হওয়ায় ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। ৯২ মিনিটে কর্নার থেকে লিসান্দ্রো মার্টিনেজ গোল করে আর্জেন্টিনাকে আবারও এগিয়ে নেন। পিছিয়ে পড়েও দমে যায়নি কেপ ভার্দে। ১০৩ মিনিটে সিডনি লোপেস কাবরাল এক বাঁকানো শটে গোল করে ম্যাচ আবার ২-২ সমতায় আনেন।

 

১১১ মিনিটে মেসির নেওয়া কর্নার থেকে রোমেরো জোরালো হেড করেন, যা কেপ ভার্দের ডিফেন্ডার দিনেই বোর্গেসের গায়ে সামান্য লেগে দিক পরিবর্তন করে জালে জড়ায়। এই আত্মঘাতী গোলেই ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা।

 

ম্যাচের একেবারে শেষ মুহূর্তে ফ্রি-কিক থেকে লোপেস কাবরালের একটি বুলেট গতির শট অসাধারণ দক্ষতায় রুখে দেন আর্জেন্টিনার গোলকিপার এমিলিয়ানো মার্তিনেজ। নাহলে ম্যাচটি টাইব্রেকারে গড়াত। এই সেভের মাধ্যমেই আর্জেন্টিনার শেষ-১৬ নিশ্চিত হয়।

 

বিদায় নিলেও বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের হৃদয় জয় করে মাথা উঁচু করেই মাঠ ছেড়েছে কেপ ভার্দে। সেই সঙ্গে বিশ্ব চিনেছে ভোজিনিয়া নামের এক লড়াকু বীরকে।

বিশ্বকাপে কেপ ভার্দের রূপকথা এবং ৪০ বছরের এক প্রাচীর

সিন্ডিকেটের স্বেচ্ছাচারিতায় চলছে ঠাকুরগাঁও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি// ঠিকাদার নিয়োগে ব্যপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ

 

মোঃ আশরাফুল ইসলাম

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি

 

পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি (পবিস) বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের অধীনে গ্রামীণ এলাকায় বিদ্যুৎ বিতরণের দায়িত্বপ্রাপ্ত স্থানীয় একটি সমবায় সংস্থা। “আলো ঘরে ঘরে, প্রগতি দেশে দেশে” এ স্লোগানকে সামনে রেখে কাজ করার কথা থাকলেও ঠাকুরগাঁও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে গ্রাহক পর্যায়ে ঘুষ বাণিজ্য, অতিরিক্ত ও ‘ভূতুড়ে’ বিল আদায়, টেন্ডারে অনিয়ম এবং দীর্ঘ লোডশেডিং ও ঠিকাদার নিয়োগ বানিজ্যের মত নানাবিধ দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে।

 

সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ঠাকুরগাঁও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিতে মিনি ঠিকাদার তালিকাভুক্তকরণ ও নবায়ন প্রক্রিয়ায় স্বজনপ্রীতি, গোপনীয়তা এবং আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ স্থানীয় ঠিকাদারদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত। যোগ্যতাসম্পন্ন স্থানীয় ঠিকাদারদের বাদ দিয়ে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে জেলার বাহিরের নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের কাজ পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। নানা দুর্নীতির কারনে একদিকে যেমন প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে গ্রামীন জনগণের সেবায় নিয়োজিত এ প্রতিষ্ঠানটি অপরদিকে কাজেও গতি হারা্েচ্ছ সরকারের “আলো ঘরে ঘরে”বাস্তবায়িত প্রকল্পটি।

 

জানাযায়,ঠাকুরগাঁও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিতে স্বল্প দৈর্ঘ্য, লাইন নির্মাণ, রক্ষনাবেক্ষন ও আপগ্রেডেশন কাজের জন্য গত বছরের মাঝামাঝি মিনি ঠিকাদার প্রাথমিক তালিকাভুক্তির বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। সিন্ডিকেটের মাধ্যমে পূর্বের তালিকাভুক্ত কিছু ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের মালিকগণ তাহাদের পছন্দমতো ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ছাড়া অন্য কোন প্রতিষ্ঠানকে তালিকাভুক্ত করতে বাধার সৃষ্টি করে। তালিকাভুক্তির ১৭২ টি আবেদনের বিপরীতে আগের জিএম আসাদুজ্জামান খান প্রথমে ৩১ টি এবং পরবর্তীতে আরো ৮ টি সহ মোট ৩৯ টি প্রতিষ্ঠানের নাম অন্তভৃুক্ত করে যাদের অধিকাংশই জেলার বাহিরের এবং অনেক দূরের প্রতিষ্ঠান। এ বিষয়ে নানা প্রশ্ন উঠলে ১৭২ টি প্রতিষ্ঠানের স্বচ্ছতা যাচাইয়ের মাধ্যমে তালিকায় অন্তর্ভুক্তির জন্য পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি রংপুর জোনের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী রেজাউল করিম একটি নির্দেশনা দিলেও তা অমান্য করে সম্প্রতি গোপনেই ৩৯ টি প্রতিষ্ঠানের নাম চুরান্ত করে ঠাকুরগাঁও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি।

অবৈধ উপায়ে অর্থের বিনিময়ে পছন্দের গুটিকয়েক ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে সাময়িক তালিকাভুক্তির কারণে ভোগান্তিতে পড়বে ঠাকুরগাঁও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির দুইটি জেলা অথ্যাৎ ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড় জেলার সাধারণ জনগণ । সিন্ডিকেট সহ গুটিকয়েক এসব প্রতিষ্ঠানের কাছে জিম্মি থাকবে দুই জেলার প্রায় ২০ লক্ষ মানুষ।

 

আরাফাত এন্টারপ্রাইজ নামের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের স্বত্তাধিকারী ভুক্তভোগী এনামুল হক অভিযোগ করে বলেন, আমি স্বচ্ছতার সাথে অনেক বছর ধরেই এ প্রতিষ্ঠানে টেন্ডারের মাধ্যমে কাজ করে আসছি। কোনদিন কাজের মান নিয়ে প্রশ্নের সম্মুখিন হইনি। এবারো নিয়ম মেনে প্রয়োজনীয় বিল পরিশোধ করে সব কাগজপত্র জমা দেই। আমাকে বাদ দিয়ে দূরের জেলার কোন প্রতিষ্ঠান কিভাবে তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয় তা আমার জানা নেই। সহকারী জেনারেল র্মানেজার (এজিএম ই এন্ড সি) নাহিদ ইসলাম আমাকে বড় বিএনপি নেতার সুপারিশ আনতে বলেন। তারপর নাকি কিছু করা যেতে পারে।

 

এ বিষয়ে ঠাকুরগাঁও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) আশরাফুল আলম খান বলেন, মিনি ঠিকাদার নিয়োগের সার্কুলারটা অতীত এবং আগেই ক্লোজ হয়ে গিয়েছে। ১৭২ আবেদনের প্রেক্ষিতে ৩৯ টি প্রতিষ্ঠান ইনলিস্টেট হয়েছে। অতীতে কিভাবে কি হযেছে তা আমার জানা নেই। তবে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে যাচাই বাছাইয়ে স্বচ্ছতা বা বাছাই কমিটির পক্ষপাতিত্বের বিষয়ে তিনি কোন সদুত্তর দেয়নি।

সিন্ডিকেটের স্বেচ্ছাচারিতায় চলছে ঠাকুরগাঁও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি// ঠিকাদার নিয়োগে ব্যপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ

বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ইংল্যান্ড ও মেক্সিকোর ম্যাচ এগিয়ে আনার আলোচনা হলেও শেষ পর্যন্ত সেই পরিকল্পনা থেকে সরে এসেছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। ফলে ইংল্যান্ড-মেক্সিকোর পাশাপাশি ব্রাজিল-নরওয়ে ম্যাচও পূর্বনির্ধারিত সময়েই হবে।

 

শুক্রবার রাতে বিবিসি জানায়, আবহাওয়ার পূর্বাভাস বিবেচনায় নিয়ে ইংল্যান্ড-মেক্সিকো ম্যাচের সময় পরিবর্তনের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করছে ফিফা। সবশেষ তথ্য অনুযায়ী, ইংল্যান্ড ও মেক্সিকো—দুই দেশের ফুটবল ফেডারেশনের আপত্তির মুখে শেষ পর্যন্ত সূচি অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

 

পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী ম্যাচটি হবে মেক্সিকো সিটির ঐতিহাসিক আজতেকা স্টেডিয়ামে। আবহাওয়ার পূর্বাভাসে ম্যাচ শুরুর সময় বজ্রঝড় ও ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনার কথা বলা হলেও, সেটি সূচি পরিবর্তনের কারণ হচ্ছে না।

 

বিবিসির তথ্য অনুযায়ী, ফিফা শুরুতে ম্যাচটি কয়েক ঘণ্টা এগিয়ে এনে স্থানীয় সময় দুপুর ১২টায় (বাংলাদেশ সময় রোববার রাত ১২টা) শুরু করার বিষয়টি বিবেচনা করেছিল। তবে সময় পরিবর্তনের ওই প্রস্তাবের কারণ আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়নি বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।

 

সূচি পরিবর্তন হলে শুধু ইংল্যান্ড-মেক্সিকো ম্যাচই নয়, এর প্রভাব পড়ত ব্রাজিল-নরওয়ে ম্যাচের সময়সূচিতেও। যদি ইংল্যান্ড-মেক্সিকো ম্যাচ ৬ ঘণ্টা এগিয়ে আসত সেক্ষেত্রে ৩০ মিনিট থেকে ১ ঘণ্টা পিছিয়ে দেওয়া হত ব্রাজিল-নরওয়ে ম্যাচ। তবে খেলোয়াড়দের প্রস্তুতি, সমর্থকদের ভ্রমণ পরিকল্পনা এবং আয়োজনসংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় বিবেচনায় রেখে শেষ পর্যন্ত আগের সূচিই বহাল রাখা হয়েছে।

 

ইংল্যান্ড ও মেক্সিকোর ম্যাচটি হবে বাংলাদেশ সময় সোমবার ভোর ৬টায়। এর আগে নিউ জার্সিতে ব্রাজিল ও নরওয়ের শেষ ষোলোর লড়াই মাঠে গড়াবে রোববার দিবাগত রাত ২টায়, পূর্বনির্ধারিত সময়েই।

 

বদলাচ্ছে না ইংল্যান্ড ও ব্রাজিলের ম্যাচের সূচি

র‌্যাবের চৌকস অভিযানে জীপসহ প্রায় ১১ হাজার ইয়াবার চালান আটক

জামালপুর হামলা পাল্টা হামলার মধ্য দিয়ে জেলার সানন্দবাড়ী তে থমথমে অবস্থা বিরাজমান।

error: আপনি নিউজ চুরি করার চেষ্টা করছেন। বিশেষ প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন ০১৭৬৭৪৪৪৩৩৩
%d