সম্পূর্ণ সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত ডেঙ্গু রোগীকে ছাড়পত্র নয়: স্বাস্থ্যমন্ত্রী - Gono television | বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল।
সম্পূর্ণ সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত ডেঙ্গু রোগীকে ছাড়পত্র নয়: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

সম্পূর্ণ সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত ডেঙ্গু রোগীকে ছাড়পত্র নয়: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

জ্বর কমে গেলেও সম্পূর্ণ সুস্থতা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত কোনো ডেঙ্গু রোগীকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র না দেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) ঢাকা মেডিকেল কলেজের প্যাথলজি বিভাগে আধুনিক মাইক্রোস্কোপ ও ল্যাবরেটরি যন্ত্রপাতি হস্তান্তর অনুষ্ঠানে তিনি এ নির্দেশনা দেন।

 

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সরকার গত দুই মাস ধরে দেশব্যাপী পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করছে। পাশাপাশি চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে এবং রোগীদের চিকিৎসায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

 

তিনি জানান, এডিস মশার লার্ভা ধ্বংসে নতুন প্রযুক্তি ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে বিশেষ ধরনের মেডিক্যাল ট্যাবলেট সংগ্রহ করা হচ্ছে, যা জমে থাকা পানিতে ব্যবহার করলে লার্ভা দ্রুত ধ্বংস হবে।

 

ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসায় বিশেষ সতর্কতার ওপর গুরুত্ব দিয়ে মন্ত্রী বলেন, প্লাজমা লিকেজের কারণে অনেক রোগীর মৃত্যু হয়। এ ঝুঁকি মোকাবিলায় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে একটি দৈনিক চিকিৎসা প্রটোকল তৈরি করা হয়েছে, যা চিকিৎসকদের মোবাইল ফোন ও ওয়েবসাইটের মাধ্যমে সরবরাহ করা হবে।

 

এ সময় তিনি জানান, দেশের চিকিৎসা শিক্ষা আধুনিকায়নে কাজ চলছে। ঢাকা মেডিকেল কলেজের প্যাথলজি বিভাগে সর্বাধুনিক মাইক্রোস্কোপ সংযোজনের ফলে এখন থেকে আরও দ্রুত ও নির্ভুলভাবে ক্যানসার শনাক্ত করা সম্ভব হবে।


ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী সংসদ সদস্যের শপথের দিন জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথও নিয়েছিল জামায়াতে ইসলামী-এনসিপির নেতৃত্বাধীন বিরোধী দল। কিন্তু প্রচলিত আইন ও সাংবিধানিক ধারা মেনে এ ধরনের শপথ নেয়নি সরকারি দল বিএনপি, সমমনা দল ও স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যরা।

 

সংসদের প্রথম অধিবেশনে অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ১৩৩ টি অধ্যাদেশ উত্থাপিত হয়। তবে বিরোধীদের সংস্কার পরিষদ গঠনের প্রস্তাবের পরিবর্তে গঠন করা হয় বিশেষ কমিটি। প্রতিবাদে ওয়াক আউট করে বিরোধী দল।

 

এছাড়া, প্রবল আপত্তির মুখেও পাস হয় মানবাধিকার, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় ও বিচারক নিয়োগ রহিতকরণ বিল। বাতিল হয় গুম অধ্যাদেশ।

 

সংসদের পাশাপাশি রাজপথেও এ নিয়ে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছে বিরোধী দল। তবে এ নিয়ে সরকার ও বিরোধী দলের মতপার্থক্য থাকলেও এর সমাধান সংসদে হওয়া উচিত বলে মনে করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

 

তার মতে, আগামী অধিবেশনও জুলাই ইস্যুতে উত্তপ্ত থাকবে। দুই দলই সনদের বাস্তবায়ন চায়; কিন্তু উচ্চকক্ষ, মানবাধিকার, বিচার বিভাগ নিয়ে মতভেদ বেশি। এক্ষেত্রে সরকারকে উদার হওয়ার পরামর্শ স্পিকারের।

 

হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেছেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে হলে আইনের মাধ্যমে করতে হবে। সংবিধানে সংশোধনী আনতে হবে। যেটি কেবল জাতীয় সংসদেই করা সম্ভব। এই ব্যাপারে সরকারি দল ও বিরোধী দলের মধ্যে বোঝাপড়া হলে ভালো। জুলাই সনদে যতটুকু ছাড় দেওয়া যায়, ক্ষমতাসীন দলের সেটি দেওয়া উচিত। বিরোধী দলেরও বুঝতে হবে, সংখ্যাগরিষ্ঠতার কারণে সরকার যাতে তাদের কার্যক্রম নির্বিঘ্নে চালিয়ে যেতে পারে।

 

বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, গুম, মানবাধিকার আইন সংশোধনেরও আহ্বান জানিয়েছেন স্পিকার। তিনি বলেন, কোনো দল তো স্থায়ীভাবে সরকারি বা বিরোধী দল না। এখন যদি মানবাধিকারের ক্ষেত্রে সরকার উদ্যোগী না হয়, তাহলে ভবিষ্যতে যখন বিরোধী দলে পড়বে, তখন এটার মাসুল তাদেরকেও দিতে হবে। এটা মাথায় রেখেই ভালোভাবে মানবাধিকার আইন প্রণয়ন করতে হবে, যা অতীতের চেয়ে আরও ভালো একটি আইন।

 

জুলাই সনদ নিয়ে দ্বন্ধের সুযোগে আওয়ামী লীগের ফেরা এবং নতুন কোনও ষড়যন্ত্র যেন মাথাচাড়া দিতে না পারে, সেই বিষয়েও সতর্ক করছেন অভিজ্ঞ এই পার্লামেন্টারিয়ান ও রাজনীতিবিদ।

 

‘বাংলাদেশকে তছনছ করার জন্য যারা প্রতিদিনই ছক কষছে, তাদের অপচেষ্টাকে দূর করার জন্য একসময় মিলিতভাবে উদ্যোগ নিতে হবে, যেন সরকারি দল ও বিরোধী দল এই ব্যাপারে ঐক্যমত হয়ে মাফিয়া প্রত্যাবর্তনের বিরুদ্ধে লড়াই করবে। সুতরাং এই দুই দলের মধ্যে আরও সুসম্পর্ক থাকা উচিত’— যোগ করেন তিনি।

 

স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, জাতীয় স্বার্থে ঐকমত্যের বিকল্প নেই। দুই দলের সমঝোতার মাধ্যমে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন হলে শান্তিতে থাকবে মানুষ।

জুলাই সনদ ইস্যুতে উদার, শক্তিশালী মানবাধিকার আইন করার পরামর্শ স্পিকারের

দেশের প্রায় ৩২ হাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় আর কোনো আইনি বাধা রইল না।

 

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) প্রধান শিক্ষক নিয়োগ সংক্রান্ত একটি মামলায় প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমানের নেতৃত্বাধীন আপিল বেঞ্চ এ রায় দেন।

 

আদালতে মামলাজটের কারণে এতোদিন আটকে ছিল প্রায় ৩২ হাজার প্রধান শিক্ষক পদের নিয়োগ। আজকের এই রায়ের ফলে প্রধান শিক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আর কোনো আইনি জটিলতা থাকছে না।

 

গত ১৮ জুন এই সিভিল আপিলের ওপর শুনানি শেষ করে আপিল বিভাগ।

 

এর আগে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছিলেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের সংকট দূর করতে ৩২ হাজার ৫০০ প্রধান শিক্ষক নিয়োগের উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। তবে আদালতের স্থগিতাদেশের কারণে নিয়োগ কার্যক্রম আটকে রয়েছে। এ জটিলতা নিরসনে কাজ করছে সরকার।

৩২ হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নিয়োগে বাধা নেই: আপিল বিভাগ

জুয়া, অনলাইন জুয়া, ম্যাচ ফিক্সিং ও স্পট ফিক্সিংয়ের অপরাধে সর্বোচ্চ সাত বছরের কারাদণ্ডের বিধান রেখে সংসদে জুয়া প্রতিরোধ বিল পাস হয়েছে। বিদ্যমান দ্য পাবলিক গ্যাম্বলিং অ্যাক্ট, ১৮৬৭ রহিত করে নতুন আইনটি করা হচ্ছে।

 

আজ মঙ্গলবার (৩০ জুন) স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জাতীয় সংসদে জুয়া প্রতিরোধ বিল, ২০২৬ পাসের জন্য সংসদে উত্থাপন করেন। পরে কণ্ঠভোটে বিলটি পাস হয়।

 

বিলে অনলাইন ও দূরবর্তী জুয়া, বাজি বা পণ (বেটিং), বাজিকর, ম্যাচ ফিক্সিং বা স্পট ফিক্সিংসহ মোট ২৪ ধরনের বিষয় সংজ্ঞায়ন করে অপরাধের প্রকৃতিভেদে ১৪ ধরনের সাজার (অর্থদণ্ড/কারাদণ্ড/উভয় দণ্ড) বিধান রাখা হয়েছে।

 

বিলে বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জুয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ত হলে দুই বছর কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।

 

অনলাইন জুয়া বা দূরবর্তী জুয়ার অপরাধ করলে পাঁচ বছর কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ এক কোটি টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।

 

কেউ অনলাইন বেটিংয়ে সম্পৃক্ত হলে সর্বোচ্চ সাত বছর কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ পাঁচ কোটি টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।

 

ম্যাচ ফিক্সিং ও স্পট ফিক্সিংয়ের সাজা হবে সর্বোচ্চ সাত বছরের কারাদণ্ড বা অনূর্ধ্ব এক কোটি টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ড।

 

বিলে জুয়া, জুয়ার স্থান, জুয়ার সামগ্রী, ডিজিটাল সম্পদ, ডিজিটাল গ্যাম্বলিং প্ল্যাটফর্ম, ডিজিটাল ওয়ালেট, টোটালাইজেটর, অনলাইন ও দূরবর্তী জুয়া—এসবেরও সংজ্ঞায়ন করা হয়েছে।

জুয়া প্রতিরোধ আইন পাস: অনলাইন বেটিংয়ে ৭ বছর জেল, ৫ কোটি টাকা জরিমানা

রাজধানীর উপকণ্ঠে অবস্থিত পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পের পুরো এলাকা ঢাকা জেলায় অন্তর্ভুক্ত করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এর পাশাপাশি চট্টগ্রামে নতুন একটি থানা এবং চট্টগ্রাম, কুমিল্লা ও ময়মনসিংহে তিনটি নতুন উপজেলা গঠনের প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি (নিকার)।

 

আজ বুধবার (১ জুলাই) প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত নিকার ১২১তম সভায় এ অনুমোদন দেওয়া হয়।

 

প্রসঙ্গত, ঢাকা ছাড়াও পূর্বাচল নতুন শহরের বড় একটি অংশ নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলায় পড়েছে, আবার কিছু অংশ পড়েছে গাজীপুরের কালীগঞ্জে। তিন জেলায় বিভক্ত হওয়ায় এ প্রকল্পের প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনায় জটিলতা হচ্ছিল।

 

সেই সমস্যা দূর করতে প্রকল্পটির পুরো এলাকা ঢাকা জেলায় অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব দিয়েছিল গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। যা আজ অনুমোদন পেল।

 

আর চট্টগ্রামের হাটহাজারী থানাকে বিভক্ত করে ‘হালদা থানা’ করা হবে। একই সঙ্গে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির ছয়টি ইউনিয়ন নিয়ে ‘ফটিকছড়ি উত্তর’ নামে নতুন উপজেলা গঠন হতে যাচ্ছে।

 

এছাড়া, কুমিল্লার মুরাদনগরকে বিভক্ত করে ‘বাঙ্গারা’ নামে নতুন উপজেলা এবং ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ের পাগলা থানার আটটি ইউনিয়ন নিয়ে ‘আদর্শনগর’ নামে নতুন উপজেলা গঠন হবে।

ঢাকায় যুক্ত হবে পূর্বাচল; নতুন একটি থানা ও তিন উপজেলা গঠনের সিদ্ধান্ত

সব দেশের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ক অনন‍্য। এক দেশের সাথে ভাল সম্পর্ক হলে তা অন‍্য দেশের সাথে সম্পর্কে প্রভাব ফেলবে না —বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। তিনি বলেন, আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে সব দেশের সাথে সু সম্পর্ক রেখে আমাদের দেশের স্বার্থ হাসিল করা।

 

বুধবার (১ জুলাই) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি।

 

তিনি বলেন, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামিনীর জানাযায় অংশ নিতে স্পিকারের ইরান গমনের বিষয়টি ঢাকা ও তেহরানের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের প্রতিফলন। বিরোধী দলের কেউ ইরানে ব্যক্তিগতভাবে গেলে এটি তাদের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। বিগত ১৭ বছরে যে দেশগুলোতে টাকা পাচার হয়েছে সে নামগুলো আপনারাও জানেন। সে সকল দেশের সাথে আমাদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কও জোরদার আছে।

 

তিনি আরও বলেন, দশটি দেশ থেকে পাচার হওয়া টাকা ফেরাতে বাংলাদেশের সাথে যে চুক্তি এটি আমাদের জন্য বড় অগ্রগতি। টাকা ফেরতের বিষয়ে একটি প্রপার মেকানিজম আছে। এটা রাতারাতি হওয়ার মতো কোন বিষয় না। টাকা ফেরতের কাজ চলমান আছে।

 

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফর নিয়ে প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বলেন, চীন আমাদের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে শক্তিশালী অংশীদার। তাদের সাথে আমাদের দেশের সম্পর্ক বরাবরই ভাল ছিল। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই সফরের মধ্য দিয়ে তা আরো জোরদার হয়েছে। আমরা আমাদের দেশে চীনা বিনিয়োগ বাড়ার আশা করছি।

 

চীনের প্রস্তাবিত টু প্লাস টু বৈঠক ও করিডোরের প্রস্তাব পর্যালোচনা করছে বাংলাদেশ। দেশের স্বার্থ রক্ষা হলে তা বাস্তবায়ন করা হবে বলেও জানান তিনি।

সব দেশের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ক অনন‍্য: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

জাতীয় সংসদে কতা বলছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় সংসদে ‘জুয়া প্রতিরোধ আইন, ২০২৬’ পাস হয়েছে। নতুন এ আইনের মাধ্যমে ১৮৬৭ সালের প্রায় দেড়শ বছরের পুরনো ‘The Public Gambling Act, 1867’ রহিতকরণ করা হয়েছে।

 

একইসঙ্গে- জুয়া, অনলাইন জুয়া, দূরবর্তী জুয়া, বেটিং (বাজি বা পণ), বাজিকর (Bookmaker), ম্যাচ ফিক্সিং, স্পট ফিক্সিং, ডিজিটাল গ্যাম্বলিং প্ল্যাটফর্ম, ডিজিটাল ওয়ালেট, ক্রিপ্টোকারেন্সি, ভুয়া সিম, ঘোস্ট সিম, ভুয়া এমএফএস অ্যাকাউন্ট, মিরর সাইট, ভিপিএনসহ মোট ২৪ ধরনের বিষয়কে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে।

 

মঙ্গলবার (৩০ জুন) জাতীয় সংসদে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে বিলটি উত্থাপন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

 

নতুন আইনে অপরাধের ধরন অনুযায়ী ১৪ ধরনের কারাদণ্ড, অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। এর আগে গত ২৩ জুন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জাতীয় সংসদে বিলটি উত্থাপন করেন।

 

পরে বিলটি পরীক্ষা করে পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য আইন মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়। কমিটির সুপারিশের পর মঙ্গলবার বিলটি কণ্ঠভোটে পাস হয়।

 

বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ সংবলিত বিবৃতিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিদ্যমান ‘The Public Gambling Act, 1867’ দেড়শ বছরেরও বেশি পুরোনো আইন এবং বর্তমান সময়ের প্রযুক্তিনির্ভর জুয়ার ধরন মোকাবিলায় এটি আর যথেষ্ট নয়। সংবিধানের ১৮(২) অনুচ্ছেদে রাষ্ট্রকে জুয়া নিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ২০১৮ সালের জেলা প্রশাসক সম্মেলনে আইনটি যুগোপযোগী করে শাস্তির পরিমাণ বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছিল।

 

তিনি বলেন, বর্তমানে অনলাইন জুয়া, স্পোর্টস বেটিং, ভার্চুয়াল ক্যাসিনো, ক্রিপ্টোকারেন্সিভিত্তিক জুয়া, ভুয়া সিম, ভুয়া মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) অ্যাকাউন্ট, বায়োমেট্রিক জালিয়াতি, ভিপিএন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থার মাধ্যমে সংঘটিত জুয়া, অর্থপাচার ও প্রতারণা দেশের সামাজিক শৃঙ্খলা, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, জননিরাপত্তা এবং তরুণ সমাজের জন্য গুরুতর হুমকি হয়ে উঠেছে। এসব অপরাধ প্রতিরোধ এবং রাষ্ট্রের নৈতিক ও অর্থনৈতিক ভারসাম্য রক্ষায় আধুনিক ও সমন্বিত আইন প্রণয়ন প্রয়োজন হওয়ায় নতুন আইনটি আনা হয়েছে।

অনলাইন জুয়া প্রতিরোধে সংসদে নতুন আইন পাস

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী সংসদ সদস্যের শপথের দিন জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথও নিয়েছিল জামায়াতে ইসলামী-এনসিপির নেতৃত্বাধীন বিরোধী দল। কিন্তু প্রচলিত আইন ও সাংবিধানিক ধারা মেনে এ ধরনের শপথ নেয়নি সরকারি দল বিএনপি, সমমনা দল ও স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যরা।

 

সংসদের প্রথম অধিবেশনে অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ১৩৩ টি অধ্যাদেশ উত্থাপিত হয়। তবে বিরোধীদের সংস্কার পরিষদ গঠনের প্রস্তাবের পরিবর্তে গঠন করা হয় বিশেষ কমিটি। প্রতিবাদে ওয়াক আউট করে বিরোধী দল।

 

এছাড়া, প্রবল আপত্তির মুখেও পাস হয় মানবাধিকার, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় ও বিচারক নিয়োগ রহিতকরণ বিল। বাতিল হয় গুম অধ্যাদেশ।

 

সংসদের পাশাপাশি রাজপথেও এ নিয়ে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছে বিরোধী দল। তবে এ নিয়ে সরকার ও বিরোধী দলের মতপার্থক্য থাকলেও এর সমাধান সংসদে হওয়া উচিত বলে মনে করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

 

তার মতে, আগামী অধিবেশনও জুলাই ইস্যুতে উত্তপ্ত থাকবে। দুই দলই সনদের বাস্তবায়ন চায়; কিন্তু উচ্চকক্ষ, মানবাধিকার, বিচার বিভাগ নিয়ে মতভেদ বেশি। এক্ষেত্রে সরকারকে উদার হওয়ার পরামর্শ স্পিকারের।

 

হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেছেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে হলে আইনের মাধ্যমে করতে হবে। সংবিধানে সংশোধনী আনতে হবে। যেটি কেবল জাতীয় সংসদেই করা সম্ভব। এই ব্যাপারে সরকারি দল ও বিরোধী দলের মধ্যে বোঝাপড়া হলে ভালো। জুলাই সনদে যতটুকু ছাড় দেওয়া যায়, ক্ষমতাসীন দলের সেটি দেওয়া উচিত। বিরোধী দলেরও বুঝতে হবে, সংখ্যাগরিষ্ঠতার কারণে সরকার যাতে তাদের কার্যক্রম নির্বিঘ্নে চালিয়ে যেতে পারে।

 

বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, গুম, মানবাধিকার আইন সংশোধনেরও আহ্বান জানিয়েছেন স্পিকার। তিনি বলেন, কোনো দল তো স্থায়ীভাবে সরকারি বা বিরোধী দল না। এখন যদি মানবাধিকারের ক্ষেত্রে সরকার উদ্যোগী না হয়, তাহলে ভবিষ্যতে যখন বিরোধী দলে পড়বে, তখন এটার মাসুল তাদেরকেও দিতে হবে। এটা মাথায় রেখেই ভালোভাবে মানবাধিকার আইন প্রণয়ন করতে হবে, যা অতীতের চেয়ে আরও ভালো একটি আইন।

 

জুলাই সনদ নিয়ে দ্বন্ধের সুযোগে আওয়ামী লীগের ফেরা এবং নতুন কোনও ষড়যন্ত্র যেন মাথাচাড়া দিতে না পারে, সেই বিষয়েও সতর্ক করছেন অভিজ্ঞ এই পার্লামেন্টারিয়ান ও রাজনীতিবিদ।

 

‘বাংলাদেশকে তছনছ করার জন্য যারা প্রতিদিনই ছক কষছে, তাদের অপচেষ্টাকে দূর করার জন্য একসময় মিলিতভাবে উদ্যোগ নিতে হবে, যেন সরকারি দল ও বিরোধী দল এই ব্যাপারে ঐক্যমত হয়ে মাফিয়া প্রত্যাবর্তনের বিরুদ্ধে লড়াই করবে। সুতরাং এই দুই দলের মধ্যে আরও সুসম্পর্ক থাকা উচিত’— যোগ করেন তিনি।

 

স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, জাতীয় স্বার্থে ঐকমত্যের বিকল্প নেই। দুই দলের সমঝোতার মাধ্যমে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন হলে শান্তিতে থাকবে মানুষ।

জুলাই সনদ ইস্যুতে উদার, শক্তিশালী মানবাধিকার আইন করার পরামর্শ স্পিকারের

ফুটবলে প্রতিদ্বন্দ্বিতার কথা উঠলেই সবার আগে আসে লিওনেল মেসি ও ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর নাম। জাতীয় দল কিংবা বিশ্বকাপ মঞ্চে আর্জেন্টিনা-ব্রাজিল দ্বৈরথও বরাবরই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে। তবে এবার বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে অপেক্ষা করছে ভিন্ন এক আবেগের লড়াই– রোনালদো বনাম লুকা মদ্রিচ।

 

আগামীকাল শুক্রবার (৩ জুলাই) বাংলাদেশ সময় ভোর ৫টায় টরন্টোতে মুখোমুখি হবে এই দুই তারকা।

 

বিশ্বকাপের রাউন্ড অব ৩২-এ পর্তুগালের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে ক্রোয়েশিয়া। এটি হতে পারে ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা দুই তারকার শেষ বিশ্বকাপ দ্বৈরথ।

 

ক্লাব ফুটবলে একসময় একই ড্রেসিংরুম ভাগাভাগি করেছেন রোনালদো ও মদ্রিচ। রিয়াল মাদ্রিদের জার্সিতে চ্যাম্পিয়নস লিগ, ক্লাব বিশ্বকাপ, লা লিগাসহ ইউরোপিয়ান ফুটবলের প্রায় সব বড় ট্রফিই উঠেছে তাদের হাতে। মাঠে একজন ছিলেন গোলের কারিগর, অন্যজন প্লেমেকার বা মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রক।

 

তবে এই দুই কিংবদন্তির ক্যারিয়ারে একটি বড় অপূর্ণতা রয়ে গেছে বিশ্বকাপ ট্রফি ছুঁয়ে দেখার স্বপ্ন। বয়সের বিবেচনায় এটিই হতে পারে দুজনের শেষ বিশ্বকাপ (যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে অবসরের কথা কেউই বলেননি)। তাই এই ম্যাচ শুধু নকআউট পর্বের একটি লড়াই নয়, দুই কিংবদন্তির স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখারও চ্যালেঞ্জ।

 

ম্যাচ শেষে একজন এগিয়ে যাবেন বিশ্বকাপ ট্রফি জয়ের স্বপ্ন নিয়ে। আরেকজনকে হয়তো শেষবারের মতো অলিখিতভাবেই বিদায় জানানো হবে বিশ্বকাপ মঞ্চ থেকে।

 

তাই নিশ্চিত বলা যায়, ফুটবলপ্রেমীরা শুধু দুদলের লড়াইই দেখবে না বরং তাদের চোখ থাকবে রোনালদো ও মদ্রিচের শেষ বিশ্বকাপ অধ্যায়ের দিকেই।

 

রোনালদো নাকি মদ্রিচ, কাকে বিদায় জানাবে বিশ্বকাপ

জ্বর কমে গেলেও সম্পূর্ণ সুস্থতা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত কোনো ডেঙ্গু রোগীকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র না দেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) ঢাকা মেডিকেল কলেজের প্যাথলজি বিভাগে আধুনিক মাইক্রোস্কোপ ও ল্যাবরেটরি যন্ত্রপাতি হস্তান্তর অনুষ্ঠানে তিনি এ নির্দেশনা দেন।

 

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সরকার গত দুই মাস ধরে দেশব্যাপী পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করছে। পাশাপাশি চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে এবং রোগীদের চিকিৎসায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

 

তিনি জানান, এডিস মশার লার্ভা ধ্বংসে নতুন প্রযুক্তি ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে বিশেষ ধরনের মেডিক্যাল ট্যাবলেট সংগ্রহ করা হচ্ছে, যা জমে থাকা পানিতে ব্যবহার করলে লার্ভা দ্রুত ধ্বংস হবে।

 

ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসায় বিশেষ সতর্কতার ওপর গুরুত্ব দিয়ে মন্ত্রী বলেন, প্লাজমা লিকেজের কারণে অনেক রোগীর মৃত্যু হয়। এ ঝুঁকি মোকাবিলায় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে একটি দৈনিক চিকিৎসা প্রটোকল তৈরি করা হয়েছে, যা চিকিৎসকদের মোবাইল ফোন ও ওয়েবসাইটের মাধ্যমে সরবরাহ করা হবে।

 

এ সময় তিনি জানান, দেশের চিকিৎসা শিক্ষা আধুনিকায়নে কাজ চলছে। ঢাকা মেডিকেল কলেজের প্যাথলজি বিভাগে সর্বাধুনিক মাইক্রোস্কোপ সংযোজনের ফলে এখন থেকে আরও দ্রুত ও নির্ভুলভাবে ক্যানসার শনাক্ত করা সম্ভব হবে।

সম্পূর্ণ সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত ডেঙ্গু রোগীকে ছাড়পত্র নয়: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

১৭-১৮ বছরেও পাকা হলো না শুকুরখোলা গ্রামের একমাত্র সড়ক, কাদা-পানিতে দুর্ভোগে ৮০-১০০ পরিবারের মানুষ

 

যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার ১১ নম্বর বাঁকড়া ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের শুকুরখোলা গ্রামের প্রায় ৮০ থেকে ১০০টি পরিবারের একমাত্র চলাচলের সড়কটি দীর্ঘ ১৭-১৮ বছরেও পাকা না হওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন এলাকাবাসী। সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কটি কাদা ও পানিতে তলিয়ে যায়। ফলে শিক্ষার্থী, কৃষক, চাকরিজীবী, নারী, শিশু ও বয়স্কসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষের চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

 

সম্প্রতি সরেজমিনে এলাকাটি পরিদর্শন করে দেখা যায়, পুরো সড়কজুড়ে বড় বড় গর্ত, কাদা ও জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। কোথাও হাঁটুসমান কাদা, কোথাও জমে থাকা পানির কারণে হেঁটে চলাচল করাও অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। মোটরসাইকেল, ভ্যান, অ্যাম্বুলেন্সসহ জরুরি যানবাহনও প্রায়ই এই সড়ক ব্যবহার করতে পারে না। বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করে।

 

স্থানীয়দের অভিযোগ, গত ১৭-১৮ বছরে এলাকায় একটি পাকা সড়কও নির্মাণ করা হয়নি। বিভিন্ন সময় জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরে একাধিকবার আবেদন জানানো হলেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। নির্বাচনের সময় উন্নয়নের নানা প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন ঘটেনি।

 

আমাদের এলাকায় অনেক রাজনৈতিক নেতা ও জনপ্রতিনিধির বসবাস রয়েছে। কিন্তু এলাকার উন্নয়নে তাদের দৃশ্যমান কোনো ভূমিকা আমরা দেখতে পাইনি। বছরের পর বছর ধরে একই দুর্ভোগের মধ্যে দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।”

 

গোলাম রাসুল

তিনি আরও বলেন, “বর্তমান সরকারের প্রতি আমাদের পূর্ণ আস্থা রয়েছে। আমরা বিশ্বাস করি, জনপ্রতিনিধিদের আন্তরিক উদ্যোগে শুকুরখোলা গ্রামের দীর্ঘদিনের এই দুর্ভোগের অবসান হবে। আমরা সরকারের কাছে বিলাসী কোনো প্রকল্প চাই না; শুধু একটি টেকসই পাকা সড়ক চাই, যাতে সাধারণ মানুষ নিরাপদে চলাচল করতে পারে।”

 

মো. গোলাম রসুল বলেন, “বর্তমানে আমাদের উপজেলায় জাতীয় সংসদের দুইজন মাননীয় সংসদ সদস্য রয়েছেন। সংরক্ষিত মহিলা আসন-১৪-এর সংসদ সদস্য মোছা. সাবিরা সুলতানা মুন্নি এবং যশোর-২ আসনের সংসদ সদস্য ড. মোশলে উদ্দীন ফরিদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। তারা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের মাধ্যমে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে আমরা আশাবাদী।”

 

এলাকাবাসীর দাবি, এটি কোনো নতুন সড়ক নয়; বহু বছর ধরে ব্যবহৃত একটি গুরুত্বপূর্ণ গ্রামীণ যোগাযোগপথ। প্রতিদিন শতাধিক মানুষ এই সড়ক দিয়ে যাতায়াত করেন। শিক্ষার্থীরা স্কুল-কলেজে যায়, কৃষকরা কৃষিপণ্য বাজারে নিয়ে যান এবং সাধারণ মানুষ চিকিৎসাসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজে এই পথ ব্যবহার করেন। কিন্তু দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় সড়কটি এখন কার্যত চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

 

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা দ্রুত উদ্যোগ নিয়ে শুকুরখোলা গ্রামের এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি টেকসইভাবে পাকা নির্মাণ করবেন। এতে একদিকে যেমন দীর্ঘদিনের জনদুর্ভোগের অবসান ঘটবে, অন্যদিকে সরকারের চলমান গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নের সুফলও এই এলাকার সাধারণ মানুষ ভোগ করতে পারবেন।

১৭-১৮ বছরেও পাকা হলো না শুকুরখোলা গ্রামের একমাত্র সড়ক, কাদা-পানিতে দুর্ভোগে ৮০-১০০ পরিবারের মানুষ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে ভুয়া এডমিট কার্ড বানিয়ে এইচএসসি পরীক্ষা দিতে গিয়ে এক ভুয়া পরীক্ষার্থী ও তার সহযোগীকে আটকের পর ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমান আদালত। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) কসবা পৌরশহরের টিআলী কলেজ কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে। কসবা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. ছামিউল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

 

জরিমানা দেওয়া দুজন হলেন, কসবা মহিলা কলেজের শিক্ষার্থী তাসফিয়া জান্নাত (১৮) এবং তার সহযোগী ইনজামুল হক (১৯)।

 

ভ্রাম্যমান আদালত জানায়, বৃহস্পতিবার টিআলী কলেজে এইচএসসি পরীক্ষা কেন্দ্রে প্রবেশের সময় ভুয়া এডমিট কার্ডধারী এক পরীক্ষার্থীকে দায়িত্বরত শিক্ষকদের সন্দেহ হয়। এ সময় শিক্ষার্থী ও তার সহযোগীকে আটক করা হয়। পরে যাচাই-বাছাই শেষে প্রবেশপত্র ভুয়া বলে নিশ্চিত হন কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও তফাজ্জল আলী ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ মো. আবুল কালাম আজাদ।

 

এ সময় কসবা উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট তানজিল কবিরের ভ্রাম্যমান আদালত ভুয়া পরীক্ষার্থী ও তার সহযোগীকে পৃথকভাবে ২০ হাজার টাকা করে মোট ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। অনাদায়ে ৩ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডেরও আদেশ দেওয়া হয়।

 

এ বিষয়ে কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও অধ্যক্ষ মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, প্রবেশপত্র যাচাইয়ের সময় কোড নম্বর ও পরীক্ষার বিষয় মিল না থাকায় আমরা বিষয়টি নিশ্চিত হই। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে অবহিত করা হয়।

 

এ বিষয়ে কসবা উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. ছামিউল ইসলাম বলেন, এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে এডমিট কার্ড জাল করা একটি ফৌজদারি অপরাধ। পরীক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় এ ধরনের প্রতারণা ক্ষমার অযোগ্য। ভবিষ্যতে এ ধরনের কাজে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কসবায় ভুয়া প্রবেশপত্রে এইচএসসি পরীক্ষার চেষ্টা, দুজনকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা

পাঁচ বছর আগে ঢাকার মহাখালী এলাকায় দ্বিতীয় বিয়ে করায় স্বামীকে হত্যার পর মরদেহ ৬ টুকরো করার দায়ে স্ত্রী ফাতেমা বেগম ওরফে শিল্পীকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

 

আজ বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) ঢাকার ১৬তম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ নাজমুন নাহার নিপু এ রায় দেন।

 

২০২১ সালে ঢাকার মহাখালী এলাকায় চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডটি ঘটে। এই ঘটনায় তখন বেশ আলোচনাও হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, দ্বিতীয় বিয়ে করাকে কেন্দ্র করে স্বামীকে হত্যা করেন স্ত্রী ফাতেমা বেগম ওরফে শিল্পী। পরে হত্যার ঘটনা গোপন করতে মরদেহ ৬ টুকরো করে বিভিন্ন স্থানে ফেলে দেওয়া হয়। মরদেহের ছয় টুকরার মধ্যে মূল দেহটি পড়ে ছিল মহাখালীর আমতলী সড়কে। দুই হাত ও দুই পা পুলিশ উদ্ধার করে মহাখালীর এনা বাস কাউন্টারের সামনের সড়ক থেকে। আর মরদেহের মাথা উদ্ধার করা হয় বনানী-১১ নম্বরের লেক থেকে। পরে প্রথম স্ত্রী ফাতেমা বেগম ওরফে শিল্পীকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

 

মামলার তদন্ত শেষে পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। সাক্ষ্য-প্রমাণ ও যুক্তিতর্ক শেষে আদালত অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আসামি ফাতেমা বেগম ওরফে শিল্পীকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন।

 

রাষ্ট্রপক্ষ বলছে, উপস্থাপিত সাক্ষ্য-প্রমাণ ও পারিপার্শ্বিক আলামতের ভিত্তিতে আসামির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে।

দ্বিতীয় বিয়ে করায় স্বামীকে হত্যার পর ৬ টুকরো, স্ত্রীকে মৃত্যুদণ্ড

২০২৬ সালের উচ্চ মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষার বাংলা বিষয়ের পরীক্ষায় সারাদেশে ২৪ হাজার ৭৮৪ জন পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিলেন। একইসঙ্গে অসদুপায় অবলম্বনের দায়ে ৭ জন পরীক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি।

 

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানান।

 

প্রথম দিনের পরীক্ষায় ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে বাংলা (আবশ্যিক) প্রথম পত্র পরীক্ষায় নিবন্ধিত ৮ লাখ ৫৬ হাজার ৯৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৮ লাখ ৩৮ হাজার ৮৬৪ জন অংশ নেন। অনুপস্থিত ছিলেন ১৭ হাজার ২৩৩ জন, যা মোট পরীক্ষার্থীর ২ দশমিক ০১ শতাংশ।

 

বোর্ডভিত্তিক অনুপস্থিত পরীক্ষার্থীর সংখ্যা হলো— ঢাকা বোর্ডে ৩ হাজার ৯৭১ জন, রাজশাহী বোর্ডে ২ হাজার ৪৬৭ জন, কুমিল্লা বোর্ডে ১ হাজার ৭৯৫ জন, যশোর বোর্ডে ২ হাজার ৭৮ জন, চট্টগ্রাম বোর্ডে ১ হাজার ৩৪০ জন, সিলেট বোর্ডে ১ হাজার ১২৭ জন, বরিশাল বোর্ডে ১ হাজার ৩৪৬ জন, দিনাজপুর বোর্ডে ১ হাজার ৯৩৭ জন এবং ময়মনসিংহ বোর্ডে ১ হাজার ১৮২ জন।

 

অসদুপায়ের দায়ে ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের মধ্যে কুমিল্লা বোর্ডে ১ জন, যশোর বোর্ডে ২ জন, দিনাজপুর বোর্ডে ১ জন এবং ময়মনসিংহ বোর্ডে ১ জনসহ মোট ৫ জন পরীক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তবে কোনো পরিদর্শককে বহিষ্কার করা হয়নি।

 

অন্যদিকে, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে কুরআন মাজিদ পরীক্ষায় ৮০ হাজার ৬৫৩ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেন। এ বোর্ডে ৪ হাজার ৪৭৮ জন পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিলেন এবং অসদুপায়ের দায়ে ১ জনকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

 

এদিকে, কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে বাংলা-২ পরীক্ষায় অংশ নেন ৮০ হাজার ৬০৩ জন পরীক্ষার্থী। এ বোর্ডে অনুপস্থিত ছিলেন ৩ হাজার ৭৩ জন এবং অসদুপায়ের দায়ে ১ জন পরীক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

 

এছাড়া ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে দেশের বাইরেও ৮টি কেন্দ্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

 

প্রসঙ্গত, চলতি বছর সারাদেশে সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ১ হাজার ৬২০টি কেন্দ্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এছাড়া মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ৪৬০টি এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ৬১১টি কেন্দ্রে পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে।

এইচএসসির প্রথম পরীক্ষায় অনুপস্থিত ২৪,৭৮৪ জন, বহিষ্কার ৭

অবৈধ দোকানের দখলে ঐতিহ্যবাহী নীলফামারীর বড় মাঠ, সংকুচিত হচ্ছেন বড় ক্রীড়াঙ্গন

মাইদুল ইসলাম: (জেলা প্রতিনিধি নীলফামারী)

এক সময় জেলার

ক্রীড়াচর্চার প্রাণকেন্দ্র ছিল নীলফামারী শহরের ঐতিহ্যবাহী বড় মাঠ। ভোর থেকে রাত পর্যন্ত এখানে হাঁটাহাঁটি ক্রিকেট ফুটবল, ভলিবল কাবাডি ও বিভিন্ন

ক্রীড়া আয়োজনের মধ্যে মুখর থাকত পুরো এলাকা। কিন্তু এখন সেই মাঠের একাংশ গড়ে উঠেছে শতাধিক অবৈধ দোকান। ফলে দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে মাঠের উন্মুক্ত পরিবেশ , সংকুচিত হচ্ছে খেলাধুলার পরিসর। সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মাঠের একপাশ জুড়ে সারিবদ্ধভাবে বসানো হয়েছে বিভিন্ন অস্থায়ী দোকান চা, ফাস্টফুড,

পান- সিগারেটসহ নানা ধরনের ব্যবসা চলছে সেখানে। দোকানগুলোর কারণে মাঠের উল্লেখযোগ্য অংশ দখল হয়ে গেছে। সেখানে একসময় ভলিবল ও কাবাডি খেলা হত, সেখানে এখন আর খেলাধুলার সুযোগ নেই। দুটি ক্রিকেট মাঠের মধ্যে একটি কার্যত ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। বিকেলে মাঠে অনুশীলনে আসা খেলোয়ারদের মধ্যে দেখা যায় হতাশা। একটি মাঠ ক্রিকেট পিচে একাধিক দলকে অনুশীলন করতে

হওয়ায় সৃষ্টি হয় ভিড় ও ভিড় ও সময় সংকট অনেকেই অনুশীলন না করে ফিরে যাচ্ছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, অবৈধ দোকান গুলোর কারণে প্রতিদিন মাঠে জমছে প্লাস্টিক, খাবারের উচ্ছিষ্ট ও নানা ধরনের ময়লা ও আবর্জনা। এতে মাঠের সৌন্দর্য নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি দর্শনার্থীদের চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়। দীর্ঘদিন ধরে এভাবে দখল চললেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। সাবেক ক্রিকেট খেলোয়ার আব্দুস সালাম বাবলা বলেন,’এই মাঠ থেকেই জেলার অনেক খেলোয়াড় উঠে এসেছে। এখন মাঠের বড় একটি অংশ অবৈধ দোকানের দখলে। এতে খেলাধুলার পরিবেশ নষ্ট হয়েছে। ক্রীড়াঙ্গনের স্বার্থে দ্রুত এসব দোকান উচ্ছেদ করা দরকার।” ক্রিকেট খেলোয়ার সোহাগ আলী বলেন, আগে দুটি ক্রিকেট পিচ ব্যবহার করা যেত। এখন একটি কার্যত দখলে চলে গেছে। কোন টুর্নামেন্ট চললে অনুশীলনের জন্য আর জায়গা থাকে না। মাঠ দখলমুক্ত হলে খেলোয়াড়রা স্বাভাবিকভাবে অনুশীলন করতে পারবে।”আরেক খেলোয়াড় নাজমুস সাকিব

জুন বলেন,”বড় মাঠ শুধু খেলোয়াড়দের নয় পুরো জেলার মানুষের সম্পদ। অবৈধ দোকান উচ্ছেদ করা হলে মাঠের পরিবেশ ফিরে আসবে এবং নতুন প্রজন্ম খেলাধুলার সুযোগ পাবে।’এ বিষয়ে জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য আবু মোহাম্মদ সোয়েম বলেন,”অবৈধ দোকান উচ্ছেদের বিষয়টি নিয়ে জেলা প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। প্রথমে দোকানিদের নোটিশ দিয়ে স্বেচ্ছায় সরে যাওয়ার জন্য সময় দেওয়া হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তারা স্থান ত্যাগ না করলে আইনানুক ব্যবস্থা নিয়ে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হবে।”জেলা ক্রীড়াপ্রেমী ও সচেতন নাগরিকদের প্রত্যাশা, নীলফামারীর ঐতিহ্যবাহী বড় মাঠকে অবৈধ দখলমুক্ত করে আবারও খেলাধুলা ও বিনোদনের উন্মুক্ত পরিবেশ ফিরিয়ে আনা হবে। কারণ একটি মাঠ শুধু খেলাধুলার স্থান নয়, এটি একটি জেলার সুস্থ প্রজন্ম গড়ে তোলার অন্যতম ভিত্তি।

অবৈধ দোকানের দখলে ঐতিহ্যবাহী নীলফামারীর বড় মাঠ, সংকুচিত হচ্ছেন বড় ক্রীড়াঙ্গন

স্টাফ রিপোর্টার

তানিন পিয়াস চৌধুরী

তাং:০২/০৭/২০২৬

 

হেডলাইন:নড়াইলে গাছে বেঁধে নির্যাতন প্রতিবন্ধী যুবকের মৃত্যু।

 

নড়াইল সদর উপজেলায় চোর সন্দেহে গাছে বেঁধে নির্যাতন করা সেই মানসিক প্রতিবন্ধী যুবক আনোয়ার হোসেন (৩২) খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।

 

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় খুলনাতে তিনি মারা যান।

নড়াইল সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অজয় কুমার কুন্ডু বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

 

আনোয়ার উপজেলার বাঁশগ্রাম ইউনিয়নের বাঁশগ্রামের মৃত কাওসার মোল্যার ছেলে।

 

মামলার এজাহার ও পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, আনোয়ার মানসিক প্রতিবন্ধী। গত ২৪ জুন সকালে তিনি বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর আর ফেরেননি। পরদিন সকালে পরিবারের সদস্যরা নড়াইল জেলা হাসপাতালে গিয়ে তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন দেখতে পান।

 

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, উপজেলার গোবরা মালোপাড়া এলাকার প্রসেনজিৎ বিশ্বাস, সৌরভ বিশ্বাস, অপূর্ব বিশ্বাস, আকাশ বিশ্বাস ও হৃদয় বিশ্বাসসহ কয়েকজন আনোয়ারকে চুরির অভিযোগে ধরে নিয়ে যান। পরে তাকে একটি গাছের সঙ্গে বেঁধে রাতভর মারধর করা হয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয় এক ইউপি সদস্যের মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তাকে উদ্ধার করে নড়াইল জেলা হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।

 

নড়াইল থেকে

তানিন পিয়াস চৌধুরী

গন টেলিভিশন

নড়াইলে গাছে বেঁধে নির্যাতন প্রতিবন্ধী যুবকের মৃত্যু

বিশ্বকাপের নকআউট পর্বের লড়াই সামনে রেখে শেষ মুহূর্তে ভ্রমণসূচিতে পরিবর্তন এনেছে আর্জেন্টিনা। মূল পরিকল্পনা বদলে বুধবার কানসাসে শেষ অনুশীলন সেরে বিকেলেই মায়ামির উদ্দেশে রওনা হয়েছে লিওনেল স্কালোনির দল। শুক্রবার শেষ ৩২-এর ম্যাচে হার্ড রক স্টেডিয়ামে তাদের প্রতিপক্ষ কেপ ভার্দে।

 

আর্জেন্টিনা সময় দুপুর ১টায় অনুষ্ঠিত অনুশীলনটি ছিল পুরোপুরি বন্ধ দরজার আড়ালে। নতুন ভেন্যুতে যাওয়ার আগে এটিই ছিল দলের শেষ সেশন, যেখানে সম্ভাব্য একাদশ চূড়ান্ত করার সুযোগ পান স্কালোনি। স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টায় কানসাস সিটি থেকে মায়ামির উদ্দেশে উড়াল দেওয়ার কথা থাকলেও, ফ্লাইটে বিলম্ব হওয়ায় নির্ধারিত সময়ের এক ঘণ্টারও বেশি পরে যাত্রা করে দলটি।

 

প্রাথমিক সূচি অনুযায়ী, ম্যাচের আগের দিন মায়ামিতে যাওয়ার কথা ছিল আর্জেন্টিনার। তবে শেষ পর্যন্ত কানসাসেই আরও একটি অনুশীলন করার সিদ্ধান্ত নেয় কোচিং স্টাফ। টুর্নামেন্টজুড়ে অনুসরণ করা রুটিন বজায় রাখতেই এই পরিবর্তন আনা হয়েছে। এর ফলে ফুটবল প্রস্তুতি শেষ করেই কেবল ভেন্যু পরিবর্তন করেছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

 

বৃহস্পতিবার মায়ামিতে শেষ অনুশীলন করবে স্কালোনির দল। এরপর শুক্রবার হার্ড রক স্টেডিয়ামে মাঠে নামবে আর্জেন্টিনা। এই স্টেডিয়ামটি দলের জন্য বিশেষ স্মৃতিবহ, কারণ এখানেই তারা অতীতে গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক শিরোপা জয়ের আনন্দ উদযাপন করেছিল।

 

একাদশে তিনটি ধোঁয়াশা

 

শুক্রবারের ম্যাচের আগে আর্জেন্টিনার সম্ভাব্য একাদশ নিয়ে এখনো তিনটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত বাকি রয়েছে। মঙ্গলবারের অনুশীলনে এ বিষয়ে কোনো ইঙ্গিত দেননি স্কালোনি। সংবাদমাধ্যমের জন্য উন্মুক্ত সময়ে সম্ভাব্য একাদশের খেলোয়াড়দের সঙ্গে বিকল্পদেরও একই দলে রেখে অনুশীলন করান তিনি।

 

বাম-ব্যাকে লড়াই হচ্ছে নিকোলাম তাগলিয়াফিকো ও ফকুন্দো মেদিনার মধ্যে। সেন্টার-ব্যাকে ইনজুরি কাটিয়ে ক্রিশ্চিয়ানো রোমেরো ফিরতে পারবেন কি না, সেটিই বড় প্রশ্ন। তিনি পুরোপুরি ফিট না হলে আবারও একাদশে থাকবেন নিকোলাস ওতামেনদি।

 

আক্রমণভাগে লিওনেল মেসির সঙ্গী কে হবেন, তা নিয়েও সিদ্ধান্ত হয়নি। এই জায়গায় লড়াই চলছে লাওতারো মার্তিনেজ ও হুলিয়ান আলভারেজের মধ্যে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে লাউতারোই কিছুটা এগিয়ে রয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

 

অন্যদিকে, কোচিং স্টাফ যদি মনে করে রোমেরো পুরোপুরি সুস্থ, তাহলে টটেনহ্যামের এই ডিফেন্ডার একাদশে ফিরবেন। একইভাবে ইনজুরি কাটিয়ে ফেরার পর টালিয়াফিকোরও শুরুর একাদশে থাকার স

ম্ভাবনা উজ্জ্বল।

কৌশলে পরিবর্তন, অনুশীলন শেষে মায়ামির পথে আর্জেন্টিনা

র‌্যাবের চৌকস অভিযানে জীপসহ প্রায় ১১ হাজার ইয়াবার চালান আটক

জামালপুর হামলা পাল্টা হামলার মধ্য দিয়ে জেলার সানন্দবাড়ী তে থমথমে অবস্থা বিরাজমান।

error: আপনি নিউজ চুরি করার চেষ্টা করছেন। বিশেষ প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন ০১৭৬৭৪৪৪৩৩৩
%d