কসবায় ভুয়া প্রবেশপত্রে এইচএসসি পরীক্ষার চেষ্টা, দুজনকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা - Gono television | বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল।
কসবায় ভুয়া প্রবেশপত্রে এইচএসসি পরীক্ষার চেষ্টা, দুজনকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা

কসবায় ভুয়া প্রবেশপত্রে এইচএসসি পরীক্ষার চেষ্টা, দুজনকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে ভুয়া এডমিট কার্ড বানিয়ে এইচএসসি পরীক্ষা দিতে গিয়ে এক ভুয়া পরীক্ষার্থী ও তার সহযোগীকে আটকের পর ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমান আদালত। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) কসবা পৌরশহরের টিআলী কলেজ কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে। কসবা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. ছামিউল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

 

জরিমানা দেওয়া দুজন হলেন, কসবা মহিলা কলেজের শিক্ষার্থী তাসফিয়া জান্নাত (১৮) এবং তার সহযোগী ইনজামুল হক (১৯)।

 

ভ্রাম্যমান আদালত জানায়, বৃহস্পতিবার টিআলী কলেজে এইচএসসি পরীক্ষা কেন্দ্রে প্রবেশের সময় ভুয়া এডমিট কার্ডধারী এক পরীক্ষার্থীকে দায়িত্বরত শিক্ষকদের সন্দেহ হয়। এ সময় শিক্ষার্থী ও তার সহযোগীকে আটক করা হয়। পরে যাচাই-বাছাই শেষে প্রবেশপত্র ভুয়া বলে নিশ্চিত হন কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও তফাজ্জল আলী ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ মো. আবুল কালাম আজাদ।

 

এ সময় কসবা উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট তানজিল কবিরের ভ্রাম্যমান আদালত ভুয়া পরীক্ষার্থী ও তার সহযোগীকে পৃথকভাবে ২০ হাজার টাকা করে মোট ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। অনাদায়ে ৩ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডেরও আদেশ দেওয়া হয়।

 

এ বিষয়ে কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও অধ্যক্ষ মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, প্রবেশপত্র যাচাইয়ের সময় কোড নম্বর ও পরীক্ষার বিষয় মিল না থাকায় আমরা বিষয়টি নিশ্চিত হই। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে অবহিত করা হয়।

 

এ বিষয়ে কসবা উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. ছামিউল ইসলাম বলেন, এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে এডমিট কার্ড জাল করা একটি ফৌজদারি অপরাধ। পরীক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় এ ধরনের প্রতারণা ক্ষমার অযোগ্য। ভবিষ্যতে এ ধরনের কাজে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


পাঁচ বছর আগে ঢাকার মহাখালী এলাকায় দ্বিতীয় বিয়ে করায় স্বামীকে হত্যার পর মরদেহ ৬ টুকরো করার দায়ে স্ত্রী ফাতেমা বেগম ওরফে শিল্পীকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

 

আজ বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) ঢাকার ১৬তম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ নাজমুন নাহার নিপু এ রায় দেন।

 

২০২১ সালে ঢাকার মহাখালী এলাকায় চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডটি ঘটে। এই ঘটনায় তখন বেশ আলোচনাও হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, দ্বিতীয় বিয়ে করাকে কেন্দ্র করে স্বামীকে হত্যা করেন স্ত্রী ফাতেমা বেগম ওরফে শিল্পী। পরে হত্যার ঘটনা গোপন করতে মরদেহ ৬ টুকরো করে বিভিন্ন স্থানে ফেলে দেওয়া হয়। মরদেহের ছয় টুকরার মধ্যে মূল দেহটি পড়ে ছিল মহাখালীর আমতলী সড়কে। দুই হাত ও দুই পা পুলিশ উদ্ধার করে মহাখালীর এনা বাস কাউন্টারের সামনের সড়ক থেকে। আর মরদেহের মাথা উদ্ধার করা হয় বনানী-১১ নম্বরের লেক থেকে। পরে প্রথম স্ত্রী ফাতেমা বেগম ওরফে শিল্পীকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

 

মামলার তদন্ত শেষে পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। সাক্ষ্য-প্রমাণ ও যুক্তিতর্ক শেষে আদালত অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আসামি ফাতেমা বেগম ওরফে শিল্পীকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন।

 

রাষ্ট্রপক্ষ বলছে, উপস্থাপিত সাক্ষ্য-প্রমাণ ও পারিপার্শ্বিক আলামতের ভিত্তিতে আসামির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে।

দ্বিতীয় বিয়ে করায় স্বামীকে হত্যার পর ৬ টুকরো, স্ত্রীকে মৃত্যুদণ্ড

২০২৬ সালের উচ্চ মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষার বাংলা বিষয়ের পরীক্ষায় সারাদেশে ২৪ হাজার ৭৮৪ জন পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিলেন। একইসঙ্গে অসদুপায় অবলম্বনের দায়ে ৭ জন পরীক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি।

 

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানান।

 

প্রথম দিনের পরীক্ষায় ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে বাংলা (আবশ্যিক) প্রথম পত্র পরীক্ষায় নিবন্ধিত ৮ লাখ ৫৬ হাজার ৯৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৮ লাখ ৩৮ হাজার ৮৬৪ জন অংশ নেন। অনুপস্থিত ছিলেন ১৭ হাজার ২৩৩ জন, যা মোট পরীক্ষার্থীর ২ দশমিক ০১ শতাংশ।

 

বোর্ডভিত্তিক অনুপস্থিত পরীক্ষার্থীর সংখ্যা হলো— ঢাকা বোর্ডে ৩ হাজার ৯৭১ জন, রাজশাহী বোর্ডে ২ হাজার ৪৬৭ জন, কুমিল্লা বোর্ডে ১ হাজার ৭৯৫ জন, যশোর বোর্ডে ২ হাজার ৭৮ জন, চট্টগ্রাম বোর্ডে ১ হাজার ৩৪০ জন, সিলেট বোর্ডে ১ হাজার ১২৭ জন, বরিশাল বোর্ডে ১ হাজার ৩৪৬ জন, দিনাজপুর বোর্ডে ১ হাজার ৯৩৭ জন এবং ময়মনসিংহ বোর্ডে ১ হাজার ১৮২ জন।

 

অসদুপায়ের দায়ে ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের মধ্যে কুমিল্লা বোর্ডে ১ জন, যশোর বোর্ডে ২ জন, দিনাজপুর বোর্ডে ১ জন এবং ময়মনসিংহ বোর্ডে ১ জনসহ মোট ৫ জন পরীক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তবে কোনো পরিদর্শককে বহিষ্কার করা হয়নি।

 

অন্যদিকে, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে কুরআন মাজিদ পরীক্ষায় ৮০ হাজার ৬৫৩ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেন। এ বোর্ডে ৪ হাজার ৪৭৮ জন পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিলেন এবং অসদুপায়ের দায়ে ১ জনকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

 

এদিকে, কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে বাংলা-২ পরীক্ষায় অংশ নেন ৮০ হাজার ৬০৩ জন পরীক্ষার্থী। এ বোর্ডে অনুপস্থিত ছিলেন ৩ হাজার ৭৩ জন এবং অসদুপায়ের দায়ে ১ জন পরীক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

 

এছাড়া ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে দেশের বাইরেও ৮টি কেন্দ্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

 

প্রসঙ্গত, চলতি বছর সারাদেশে সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ১ হাজার ৬২০টি কেন্দ্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এছাড়া মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ৪৬০টি এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ৬১১টি কেন্দ্রে পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে।

এইচএসসির প্রথম পরীক্ষায় অনুপস্থিত ২৪,৭৮৪ জন, বহিষ্কার ৭

ভূল্লী উপজেলায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশে এইচএসসি ও আলিম পরীক্ষা অনুষ্ঠিত

 

মোঃআশরাফুল ইসলাম

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি:

 

নবগঠিত ভূল্লী উপজেলায় দুটি কেন্দ্রে এইচএসসি, আলিম ও সমমানের পরীক্ষার প্রথম দিনের পরীক্ষা শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত কঠোর নিরাপত্তা ও নকলমুক্ত পরিবেশে পরীক্ষা গ্রহণ করা হয়।

 

উপজেলা প্রশাসন ও কেন্দ্র সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ভূল্লী উপজেলায় এবার দুটি কেন্দ্রে মোট ৫৪১ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিবে।

 

ভূল্লী ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রে মোট পরীক্ষার্থী ৩০৫ জন। এ কেন্দ্রে বাংলা প্রথম পত্র পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার কথা ছিল ২৩৬ জন পরীক্ষার্থীর। এর মধ্যে ২৩৩ জন পরীক্ষায় অংশ নেয় এবং ৩ জন পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিল।

 

অপরদিকে খোশবাজার কামিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে মোট পরীক্ষার্থী ২৩৬ জন। এ কেন্দ্রে আলিমের কুরআন মাজিদ বিষয়ে পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার কথা ছিল ১৯০ জন পরীক্ষার্থীর। এর মধ্যে ১৮২ জন পরীক্ষায় অংশ নেয় এবং ৮ জন পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিল।

 

পরীক্ষা চলাকালে কেন্দ্র দুটিতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক ছিল। জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন, শিক্ষা বিভাগ ও কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ সার্বক্ষণিক তদারকি করায় কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা, অসদুপায় অবলম্বন বা শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ পাওয়া যায়নি। পরীক্ষার্থীরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পরীক্ষা সম্পন্ন করেন।

 

দুই কেন্দ্র সচিব জানান, প্রথম দিনের এইচএসসি ও আলিম পরীক্ষা সম্পূর্ণ সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও নকলমুক্ত পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রশাসনের সার্বিক সহযোগিতা এবং কেন্দ্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মকর্তাদের আন্তরিকতায় পরীক্ষার্থীরা নির্বিঘ্নে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পেরেছে। আগামী পরীক্ষাগুলোও একইভাবে সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ ও নকলমুক্ত পরিবেশে সম্পন্ন করতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে।

ভূল্লী উপজেলায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশে এইচএসসি ও আলিম পরীক্ষা অনুষ্ঠিত

ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজায় অংশ নিতে ইরানের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেছেন বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

 

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকাল সাড়ে ৭টায় ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তিনি ইরানের উদ্দেশে যাত্রা করেন।

 

জানা যায়, জানাজায় অংশগ্রহণ শেষে আগামী ৪ জুলাই স্পিকার দেশে ফিরবেন।

 

উল্লেখ্য, আয়াতুল্লাহ খামেনি ১৯৩৯ সালের ১৯ এপ্রিল উত্তর-পূর্ব ইরানের মাশহাদে জন্মগ্রহণ করেন এবং ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি শাহাদাৎ বরণ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিলো ৮৬ বছর। তিনি ১৯৭৯ সালে ইরানে ইসলামী বিপ্লবের পর পরিবর্তিত শাসনব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় অবতীর্ণ হন। ১৯৮০ সালে অল্প সময়ের জন্য তিনি প্রতিরক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। ইরান-ইরাক যুদ্ধের সূচনার পর তিনি ইসলামী বিপ্লবী বাহিনীর তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। ১৯৮৯ সালে রুহুল্লাহ খোমেনির মৃত্যুর পর ইরানের বিশেষজ্ঞ পরিষদ তাঁকে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা নির্বাচন করে

খামেনির জানাজায় অংশ নিতে ইরানের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়লেন স্পিকার

ডেস্ক রিপোর্টঃ মোঃ ওমর ফারুক

২৫ জুন জাতীয় সংসদে বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে এনসিপির সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ বসুন্ধরা গ্রুপের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তোলেন। তিনি বসুন্ধরা গ্রুপের বিরুদ্ধে করা দুদকের মামলার অগ্রগতি না হওয়া, সরকারি দলের সাথে সম্ভাব্য ‘আন্ডারটেবিল সমঝোতা’ এবং গ্রুপটির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা না নেওয়ার কারণ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, কেউ বসুন্ধরা গ্রুপের বিরুদ্ধে কথা বললে তারা তাদের মালিকানাধীন সংবাদমাধ্যম ব্যবহার করে ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রচারণা চালানো শুরু করে। হাসনাতের এই বক্তব্যের পর থেকে গত চারদিনে হাসনাত আব্দুল্লাহর বিরুদ্ধে বসুন্ধরার মালিকানাধীন ৫টি সংবাদমাধ্যমে সংঘবদ্ধভাবে ধারাবাহিক সমন্বিত নেতিবাচক প্রচারণা চালানো হচ্ছে।

 

দ্য ডিসেন্ট বিশ্লেষণ করে দেখেছে, হাসনাত আব্দুল্লাহ এর সংসদের বক্তৃতার পর গত ২৮ জুন সকাল ৭টা থেকে আজ ১ জুলাই দুপুর ৩টা পর্যন্ত মোট ৪ দিনে (৮০ ঘণ্টায়) বসুন্ধরা গ্রুপের মালিকানাধীন পাঁচটি সংবাদমাধ্যম কালের কণ্ঠ, বাংলাদেশ প্রতিদিন, নিউজ ২৪, ডেইলি সান এবং বাংলানিউজ২৪ ডটকমে হাসনাত আব্দুল্লাহর বিরুদ্ধে সর্বমোট ৯৯টি নেতিবাচক কন্টেন্ট প্রচার করা হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রেই হুবহু একই প্রতিবেদন অল্প সময়ের ব্যবধানে ৫টি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।

 

সংসদে কী বলেছিলেন হাসনাত আবদুল্লাহ

গত ২৫ জুন বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন “আমরা দেখেছি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় বসুন্ধরার পুত্র আনভির দেশে ঢোকার সাহস পায় নাই। কিন্তু এই সরকার নির্বাচিত হয়ে আসার পরে আমরা দেখেছি সদর্পে এই সোবহানের পুত্র, এই ধর্ষক, দেশে ঢুকেছে।”

 

তিনি সেখানে বলেন, “অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় দুর্নীতি দমন কমিশন বসুন্ধরার বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। এই মামলার কি অগ্রগতি হয়েছে সেটা আমরা জানতে চাই। আমরা জানতে চাই আন্ডারটেবিল কোন ধরনের সমঝোতা হয়েছে কিনা। যদি সমঝোতা না হয়ে থাকে তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে বাধাটা কোথায় সেটা বাংলাদেশের মানুষের সামনে প্রকাশ করতে হবে।”

 

হাসনাত আরও বলেন, “অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এই বসুন্ধরা গ্রুপ যারা বিদেশে টাকা পাচার করেছে, মানুষের সম্পদ দখল করেছে এবং মিডিয়ার মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগের গুম খুন হত্যাকে যারা বৈধতা দিয়েছে তাদের খুঁটির জোর কোথায় সেটা আমরা জানতে চাই।” “ সরকার দলের অনেকেই মাঝে মাঝে আমাদের কাছে এসে দু:খ প্রকাশ করে যে আসলে আমরা জেল খেটেছি, আমরা কষ্ট করেছি, আমাদের সন্তানদের সাথে আমরা থাকতে পারিনাই, কিন্তু আমাদের দলেরই কিছু কিছু মানুষ বসুন্ধরার এডভাইজর হিসেবে কাজ করে। তাদের মিডিয়ার এডভাইজর হিসেবে কাজ করে।”

 

“যেই মিডিয়া তারেক রহমানকে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে দেশদ্রোহী হিসেবে ফ্রেমিং করেছে, সেই মিডিয়ার এডভাইজর হিসেবে আজকে বসুন্ধরা গ্রুপে আজকে এই সংসদ সরকারদলীয় সংসদ সদস্যদের অনেকেই তারা সেখানে যুক্ত”, বলেন তিনি।

 

“এই বসুন্ধরার বিরুদ্ধে যারা কথা বলে তাদের বিরুদ্ধে মিডিয়া লেলিয়ে দেওয়া হয়।”

 

“এতদিন ধরে যারা মিডিয়াকে, যারা নিয়ন্ত্রিত মিডিয়ার মাধ্যমে এই ফ্যাসিবাদের পক্ষে যারা বয়ান উৎপাদন করেছেন, তাদের বিরুদ্ধে উনি সুবিচার নিশ্চিত করবেন” তিনি দাবি করেন।

 

৪ দিনে ৫ মিডিয়ায় ৯৯টি কন্টেন্ট

দ্য ডিসেন্টের এই বিশ্লেষণে শুধুমাত্র বসুন্ধরা গ্রুপের পাঁচটি সংবাদমাধ্যম কালের কণ্ঠ, ডেইলি সান, বাংলাদেশ প্রতিদিন, বাংলানিউজ২৪ ও নিউজ২৪-এর ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে প্রকাশিত কনটেন্ট পর্যালোচনা করা হয়েছে। কনটেন্ট সংগ্রহের জন্য সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমগুলোর ওয়েবসাইট, ফেসবুক পেজ ও ইউটিউব চ্যানেলে প্রাসঙ্গিক কীওয়ার্ড ব্যবহার করে অনুসন্ধান করা হয়েছে। এই বিশ্লেষণের আওতায় প্রিন্ট সংস্করণ অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।

 

২৮ জুন সকাল ৭টা ৪ মিনিটে কালের কণ্ঠের ওয়েবসাইটে “হাসনাত আবদুল্লাহ : সাদা সাদা, কালা কালা” শিরোনামে প্রথম প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয়। এর আট মিনিট পর, সকাল ৭টা ১২ মিনিটে একই বিষয় নিয়ে একটি ফটোকার্ডও প্রকাশ করা হয়।

 

ওই সময় থেকে ১ জুলাই দুপুর ২টা পর্যন্ত, অর্থাৎ প্রায় ৭৯ ঘণ্টায়, বসুন্ধরা গ্রুপের এই পাঁচটি সংবাদমাধ্যমে হাসনাত আবদুল্লাহকে নিয়ে মোট ৯৯টি কনটেন্ট প্রকাশিত হয়।

 

পাঁচটি সংবাদমাধ্যমের মধ্যে কালের কণ্ঠে সর্বাধিক ৭৬টি কনটেন্ট প্রকাশিত হয়। এর মধ্যে ছিল ৩৫টি ভিডিও (ইউটিউব, ওয়েবসাইট ও ফেসবুক মিলিয়ে),১১টি সংবাদ প্রতিবেদন এবং ৩০টি ফটোকার্ড।

 

 

কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স

ফ্যাক্ট চেক

ডিজিটাল ইনভেস্টিগেশন

মিডিয়া ওয়াচ

ডিসইনফরমেশন এক্টর

অপিনিয়ন

আমাদের সম্পর্কে

ক্যারিয়ার

যোগাযোগ

শর্তাবলি

গোপনীয়তার নিয়মাবলি

Follow us:

মিডিয়া ওয়াচ

menu

বসুন্ধরার বিরুদ্ধে বক্তব্যের পর ৫টি মিডিয়ায় হাসনাতের বিরুদ্ধে ৮০ ঘণ্টায় ৯৯ কনটেন্ট

 

Roby Hossain

লেখক

রবি হোসাইন

১ জুলাই, ২০২৬

লিংক কপি করুন

২৫ জুন জাতীয় সংসদে বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে এনসিপির সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ বসুন্ধরা গ্রুপের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তোলেন। তিনি বসুন্ধরা গ্রুপের বিরুদ্ধে করা দুদকের মামলার অগ্রগতি না হওয়া, সরকারি দলের সাথে সম্ভাব্য ‘আন্ডারটেবিল সমঝোতা’ এবং গ্রুপটির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা না নেওয়ার কারণ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, কেউ বসুন্ধরা গ্রুপের বিরুদ্ধে কথা বললে তারা তাদের মালিকানাধীন সংবাদমাধ্যম ব্যবহার করে ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রচারণা চালানো শুরু করে। হাসনাতের এই বক্তব্যের পর থেকে গত চারদিনে হাসনাত আব্দুল্লাহর বিরুদ্ধে বসুন্ধরার মালিকানাধীন ৫টি সংবাদমাধ্যমে সংঘবদ্ধভাবে ধারাবাহিক সমন্বিত নেতিবাচক প্রচারণা চালানো হচ্ছে।

 

দ্য ডিসেন্ট বিশ্লেষণ করে দেখেছে, হাসনাত আব্দুল্লাহ এর সংসদের বক্তৃতার পর গত ২৮ জুন সকাল ৭টা থেকে আজ ১ জুলাই দুপুর ৩টা পর্যন্ত মোট ৪ দিনে (৮০ ঘণ্টায়) বসুন্ধরা গ্রুপের মালিকানাধীন পাঁচটি সংবাদমাধ্যম কালের কণ্ঠ, বাংলাদেশ প্রতিদিন, নিউজ ২৪, ডেইলি সান এবং বাংলানিউজ২৪ ডটকমে হাসনাত আব্দুল্লাহর বিরুদ্ধে সর্বমোট ৯৯টি নেতিবাচক কন্টেন্ট প্রচার করা হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রেই হুবহু একই প্রতিবেদন অল্প সময়ের ব্যবধানে ৫টি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।

 

সংসদে কী বলেছিলেন হাসনাত আবদুল্লাহ

গত ২৫ জুন বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন “আমরা দেখেছি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় বসুন্ধরার পুত্র আনভির দেশে ঢোকার সাহস পায় নাই। কিন্তু এই সরকার নির্বাচিত হয়ে আসার পরে আমরা দেখেছি সদর্পে এই সোবহানের পুত্র, এই ধর্ষক, দেশে ঢুকেছে।”

 

তিনি সেখানে বলেন, “অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় দুর্নীতি দমন কমিশন বসুন্ধরার বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। এই মামলার কি অগ্রগতি হয়েছে সেটা আমরা জানতে চাই। আমরা জানতে চাই আন্ডারটেবিল কোন ধরনের সমঝোতা হয়েছে কিনা। যদি সমঝোতা না হয়ে থাকে তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে বাধাটা কোথায় সেটা বাংলাদেশের মানুষের সামনে প্রকাশ করতে হবে।”

 

হাসনাত আরও বলেন, “অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এই বসুন্ধরা গ্রুপ যারা বিদেশে টাকা পাচার করেছে, মানুষের সম্পদ দখল করেছে এবং মিডিয়ার মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগের গুম খুন হত্যাকে যারা বৈধতা দিয়েছে তাদের খুঁটির জোর কোথায় সেটা আমরা জানতে চাই।” “ সরকার দলের অনেকেই মাঝে মাঝে আমাদের কাছে এসে দু:খ প্রকাশ করে যে আসলে আমরা জেল খেটেছি, আমরা কষ্ট করেছি, আমাদের সন্তানদের সাথে আমরা থাকতে পারিনাই, কিন্তু আমাদের দলেরই কিছু কিছু মানুষ বসুন্ধরার এডভাইজর হিসেবে কাজ করে। তাদের মিডিয়ার এডভাইজর হিসেবে কাজ করে।”

 

“যেই মিডিয়া তারেক রহমানকে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে দেশদ্রোহী হিসেবে ফ্রেমিং করেছে, সেই মিডিয়ার এডভাইজর হিসেবে আজকে বসুন্ধরা গ্রুপে আজকে এই সংসদ সরকারদলীয় সংসদ সদস্যদের অনেকেই তারা সেখানে যুক্ত”, বলেন তিনি।

 

“এই বসুন্ধরার বিরুদ্ধে যারা কথা বলে তাদের বিরুদ্ধে মিডিয়া লেলিয়ে দেওয়া হয়।”

 

“এতদিন ধরে যারা মিডিয়াকে, যারা নিয়ন্ত্রিত মিডিয়ার মাধ্যমে এই ফ্যাসিবাদের পক্ষে যারা বয়ান উৎপাদন করেছেন, তাদের বিরুদ্ধে উনি সুবিচার নিশ্চিত করবেন” তিনি দাবি করেন।

 

৪ দিনে ৫ মিডিয়ায় ৯৯টি কন্টেন্ট

দ্য ডিসেন্টের এই বিশ্লেষণে শুধুমাত্র বসুন্ধরা গ্রুপের পাঁচটি সংবাদমাধ্যম কালের কণ্ঠ, ডেইলি সান, বাংলাদেশ প্রতিদিন, বাংলানিউজ২৪ ও নিউজ২৪-এর ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে প্রকাশিত কনটেন্ট পর্যালোচনা করা হয়েছে। কনটেন্ট সংগ্রহের জন্য সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমগুলোর ওয়েবসাইট, ফেসবুক পেজ ও ইউটিউব চ্যানেলে প্রাসঙ্গিক কীওয়ার্ড ব্যবহার করে অনুসন্ধান করা হয়েছে। এই বিশ্লেষণের আওতায় প্রিন্ট সংস্করণ অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।

 

২৮ জুন সকাল ৭টা ৪ মিনিটে কালের কণ্ঠের ওয়েবসাইটে “হাসনাত আবদুল্লাহ : সাদা সাদা, কালা কালা” শিরোনামে প্রথম প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয়। এর আট মিনিট পর, সকাল ৭টা ১২ মিনিটে একই বিষয় নিয়ে একটি ফটোকার্ডও প্রকাশ করা হয়।

 

ওই সময় থেকে ১ জুলাই দুপুর ২টা পর্যন্ত, অর্থাৎ প্রায় ৭৯ ঘণ্টায়, বসুন্ধরা গ্রুপের এই পাঁচটি সংবাদমাধ্যমে হাসনাত আবদুল্লাহকে নিয়ে মোট ৯৯টি কনটেন্ট প্রকাশিত হয়।

 

পাঁচটি সংবাদমাধ্যমের মধ্যে কালের কণ্ঠে সর্বাধিক ৭৬টি কনটেন্ট প্রকাশিত হয়। এর মধ্যে ছিল ৩৫টি ভিডিও (ইউটিউব, ওয়েবসাইট ও ফেসবুক মিলিয়ে),১১টি সংবাদ প্রতিবেদন এবং ৩০টি ফটোকার্ড।

 

কোন সংবাদমাধ্যমে কতটি কনটেন্ট?

সংবাদমাধ্যমের নাম

 

কনটেন্টের সংখ্যা

 

কালের কণ্ঠ

 

৭৬

 

ডেইলি সান

 

 

বাংলাদেশ প্রতিদিন

 

 

বাংলানিউজ২৪

 

 

নিউজ২৪

 

 

সর্বমোট

 

৯৯

 

ডেইলি সানে মোট ৯টি কনটেন্ট প্রকাশিত হয়, যার মধ্যে ছিল ৬টি সংবাদ ও ৩টি ফটোকার্ড।

 

বাংলাদেশ প্রতিদিনে প্রকাশিত হয় মোট ৫টি কনটেন্ট, যার মধ্যে ছিল ৩টি সংবাদ ও ২টি ফটোকার্ড।

 

বাংলানিউজ২৪ এ প্রকাশিত হয় মোট ৫টি কনটেন্ট, যার মধ্যে ছিল ৪টি সংবাদ ও ১টি ফটোকার্ড।

 

অন্যদিকে নিউজ২৪ এ একই সময়পর্বে হাসনাত আব্দুল্লাহকে নিয়ে ৪টি সংবাদ প্রকাশিত হয়।

 

দিনভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, সবচেয়ে বেশি কনটেন্ট প্রকাশিত হয় ২৮ জুন। সেদিন পাঁচটি সংবাদমাধ্যমে মিলিয়ে মোট ৩৭টি কনটেন্ট প্রকাশিত হয়। পরদিন ২৯ জুন প্রকাশিত হয় ১৮টি কনটেন্ট। আর ৩০ জুন প্রকাশিত হয় ২৭টি কনটেন্ট। ১ জুলাই প্রতিবেদন লেখার সময় (দুপুর ২টা) পর্যন্ত আরও ১৭টি কনটেন্ট প্রকাশিত হয়েছে।

 

৯৯টি কনটেন্টে ঘুরেফিরে ৯টি ‘খবর’

২৮ জুন থেকে ১ জুলাই পর্যন্ত প্রকাশিত ৯৯টি কনটেন্ট বিশ্লেষণে দেখা যায়, এগুলোর বড় অংশই কোনো স্বতন্ত্র প্রতিবেদন নয়। একই বিষয় বা অভিযোগকে বিভিন্ন ফরম্যাটে সংবাদ, ভিডিও, ইংরেজি অনুবাদ এবং ফটোকার্ড হিসেবে বসুন্ধরা গ্রুপের পাঁচটি সংবাদমাধ্যমে একাধিকবার প্রকাশ করা হয়েছে।

 

বিশ্লেষণে অন্তত ৯টি স্বতন্ত্র বা মূল কনটেন্ট চিহ্নিত করা যায়, যেগুলো খণ্ডিত করেই অধিকাংশ কনটেন্ট তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো “হাসনাত আবদুল্লাহ: সাদা সাদা, কালা কালা”, “মব বিতর্কে হাসনাত আবদুল্লাহ”, “হাসনাতের দাপটে আক্রান্ত এক দিনমজুর পরিবার”, মো. তারেক রহমানের একটি ভিডিও বক্তব্য, রাশেদ খানের বক্তব্য, “হাসনাত আবদুল্লাহ সাংবাদিকদের কণ্ঠ রুদ্ধ করে দিয়েছিল” শিরোনামের ভিডিও এবং “চেতনাবোধ না থাকলে মানুষ হাসনাতদের প্রত্যাখ্যান করবে” শিরোনামের ভিডিও। পরবর্তীতে এর সাথে নতুন করে যুক্ত করা হয় বিএনপি নেতা এম এ আউয়াল খানের বক্তব্য (“নেতারা শুধু জয় দেখেছেন…”) এবং নির্দিষ্ট প্রকল্পের দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে “মসজিদের অর্থ বরাদ্দে ই-টেন্ডার নৈরাজ্য” সংক্রান্ত সংবাদ।

 

এই নয়টি মূল কনটেন্ট থেকেই বিভিন্ন শিরোনাম, ভাষা, প্ল্যাটফর্ম ও ফরম্যাটে বাকি কনটেন্টগুলো প্রকাশ করা হয়েছে।

 

দিনভিত্তিক প্রচার

২৮ জুন: এই দিন সবচেয়ে বেশি (৩৭টি) কনটেন্ট প্রকাশিত হয়। এদিন একই শিরোনাম, একই বিষয় এবং একই কনটেন্ট একাধিক সংবাদমাধ্যম ও প্ল্যাটফর্মে পুনঃপ্রচার করা হয়। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য “হাসনাত আবদুল্লাহ : সাদা সাদা, কালা কালা” শিরোনামে কালের কণ্ঠ, ডেইলি সান, বাংলাদেশ প্রতিদিন, বাংলানিউজ২৪ ও নিউজ২৪ বসুন্ধরা গ্রুপের এই পাঁচটি সংবাদমাধ্যমেই সংবাদ প্রকাশিত হয়। একই শিরোনাম কালের কণ্ঠে আবার ফটোকার্ড হিসেবেও প্রকাশ করা হয়।

 

একই দিনে “হাসনাত আব্দুল্লাহর বিরুদ্ধে যত অভিযোগ” ভিডিওটি কালের কণ্ঠের ইউটিউব, ওয়েবসাইট ও ফেসবুক এই তিনটি প্ল্যাটফর্মে প্রকাশ করা হয়। এছাড়া “হাসনাত আবদুল্লাহ সাংবাদিকদের কণ্ঠ রুদ্ধ করে দিয়েছিল” এবং “হাসনাত ও হান্নান মাসউদ বাজেট বাদ দিয়ে চানাচুর মার্কা আলোচনা করেছেন” এই দুটি ভিডিও ইউটিউব ও ফেসবুকে প্রকাশিত হয়।

 

২৯ জুন: আগের দিন প্রকাশিত একই অভিযোগ ও বক্তব্য নতুন প্ল্যাটফর্ম ও নতুন সংবাদমাধ্যমে পুনঃপ্রচার করা হয়। “হাসনাতের দাপটে আক্রান্ত এক দিনমজুর পরিবার” শিরোনামটি কালের কণ্ঠে ইউটিউব ভিডিও, সংবাদ ও ফটোকার্ড এই তিনটি ফরম্যাটে প্রকাশ করা হয়।

 

২৮ জুন কালের কণ্ঠে প্রকাশিত “স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় নিয়ন্ত্রণকারী হাসনাত-সারজিসরা ৬০০ শিশুর মৃত্যুর পেছনে দায়ী : মো. তারেক” শিরোনামটি পরদিন (২৯ জুন) বাংলাদেশ প্রতিদিন, বাংলানিউজ২৪ ও নিউজ২৪-এ প্রকাশিত হয়। একই দিনে ২৮ জুনের “হাসনাত ও হান্নান মাসউদ বাজেট বাদ দিয়ে চানাচুর মার্কা আলোচনা করেছেন” ভিডিওটি কালের কণ্ঠের ওয়েবসাইটেও নতুন করে প্রকাশ করা হয়।

 

৩০ জুন: এদিনও একই শিরোনাম ও একই ধরনের কনটেন্ট একাধিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। “মব বিতর্কে হাসনাত আবদুল্লাহ” শিরোনামের সংবাদটি কালের কণ্ঠ, বাংলানিউজ২৪, নিউজ২৪ এবং ডেইলি সানের বাংলা সংস্করণে প্রকাশিত হয়।

 

ইংরেজি দৈনিক ডেইলি সানে “Hasnat Abdullah: White outside, black inside”, “Day labourer’s family alleges brutal assault by supporters of Hasnat Abdullah” এবং “Tale of Hasnat Abdullah’s rise as a ‘mob emperor’” এই তিনটি শিরোনামে সংবাদ ও ফটোকার্ড প্রকাশ করা হয়।

 

একই সঙ্গে “Tale of Hasnat Abdullah’s rise as a ‘mob emperor'” শিরোনামে বাংলাদেশ প্রতিদিনেও সংবাদটি প্রকাশিত হয়। এছাড়া এই দিন নতুন করে বিএনপি নেতা এম এ আউয়ালের বক্তব্য নিয়ে “এনসিপির নেতারা শুধু জয় দেখেছেন, পরাজয় দেখেননি : আউয়াল খান” শিরোনামে কালের কণ্ঠে সংবাদ, একাধিক ভিডিও (ইউটিউব ও ফেসবুক) এবং ফটোকার্ড প্রচার করা হয়।

 

১ জুলাই: সর্বশেষ এই দিনে প্রচারণায় আরও কয়েকটি নতুন অভিযোগ যুক্ত করা হয়। বিশেষ করে “মসজিদের অর্থ বরাদ্দে হাসনাতের ই-টেন্ডার নৈরাজ্য” শিরোনামে কালের কণ্ঠে একটি সংবাদ, দুটি ভিডিও (ইউটিউব ও ফেসবুক) এবং অন্তত ছয়টি ভিন্ন ভিন্ন ফটোকার্ড প্রকাশ করা হয়।

 

পাশাপাশি “‘খেজুরের মতো হাসনাতের কাছে ল্যাম্পপোস্টসহ অন্যান্য কাজের হিসাব চান এলাকাবাসী’” শিরোনামের সংবাদটি কালের কণ্ঠ ও বাংলানিউজ২৪-এ প্রকাশিত হয় এবং কালের কণ্ঠে এ নিয়ে একাধিক ফটোকার্ড ছড়ানো হয়।

 

এছাড়া “হাসনাত-সারজিস কোন অতিগোপনীয় অভিযোগ নিয়ে দুদকে গিয়েছিলেন, তদন্ত চান রাশেদ খান” শিরোনামেও কালের কণ্ঠে

সংবাদ ও ফটোকার্ড প্রকাশিত হয়। এদিন আগের “মব বিতর্কে হাসনাত আবদুল্লাহ” সংবাদটি নিউজ২৪-এ পুনরায় প্রচার করা হয়।

 

 

 

বসুন্ধরার বিরুদ্ধে বক্তব্যের পর ৫টি মিডিয়ায় হাসনাতের বিরুদ্ধে ৮০ ঘণ্টায় ৯৯ কনটেন্ট

আগামীকাল বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) থেকে শুরু হচ্ছে চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা। প্রশ্নফাঁস ও নকল ঠেকাতে নেওয়া হয়েছে এবার বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

 

এ বছর ১১টি শিক্ষা বোর্ডে ফরম পূরণ করেছেন ১২ লাখ ৬৭ হাজার ৪৮৬ জন পরীক্ষার্থী। সবচেয়ে বেশি পরীক্ষার্থী ঢাকা বোর্ডে। এই বোর্ডে ৩১০টি কেন্দ্রে এইচএসসি পরীক্ষা দেবে তিন লাখ ৩৯৩ জন। দেশের দুই হাজার ৬৯৭টি কেন্দ্রে বসবেন শিক্ষার্থীরা। প্রথম দিন দেশের ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে বাংলা প্রথমপত্র পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। সকাল ১০টা থেকে পরীক্ষা শুরু হয়ে দুপুর ১টা পর্যন্ত চলবে।

 

পরীক্ষার্থীদের ৩০ মিনিট আগে কেন্দ্রে প্রবেশের জন্য বলা হয়েছে। এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও নকলমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে কেন্দ্র পরিচালনা, প্রশ্নপত্রের নিরাপত্তা, পরীক্ষার্থী প্রবেশ, কক্ষ ব্যবস্থাপনাসহ সব বিষয়ে বিস্তারিত নির্দেশনা দিয়েছে শিক্ষা বোর্ডগুলো।

 

এ বছর এইচএসসির লিখিত পরীক্ষা চলবে ২ জুলাই থেকে ৮ আগস্ট পর্যন্ত। এরপর ১৫ আগস্টের মধ্যে ব্যবহারিক পরীক্ষা শেষ হবে।

বৃহস্পতিবার শুরু এইচএসসি পরীক্ষা, প্রশ্নফাঁস ঠেকাতে কঠোর সতর্কতা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী সংসদ সদস্যের শপথের দিন জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথও নিয়েছিল জামায়াতে ইসলামী-এনসিপির নেতৃত্বাধীন বিরোধী দল। কিন্তু প্রচলিত আইন ও সাংবিধানিক ধারা মেনে এ ধরনের শপথ নেয়নি সরকারি দল বিএনপি, সমমনা দল ও স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যরা।

 

সংসদের প্রথম অধিবেশনে অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ১৩৩ টি অধ্যাদেশ উত্থাপিত হয়। তবে বিরোধীদের সংস্কার পরিষদ গঠনের প্রস্তাবের পরিবর্তে গঠন করা হয় বিশেষ কমিটি। প্রতিবাদে ওয়াক আউট করে বিরোধী দল।

 

এছাড়া, প্রবল আপত্তির মুখেও পাস হয় মানবাধিকার, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় ও বিচারক নিয়োগ রহিতকরণ বিল। বাতিল হয় গুম অধ্যাদেশ।

 

সংসদের পাশাপাশি রাজপথেও এ নিয়ে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছে বিরোধী দল। তবে এ নিয়ে সরকার ও বিরোধী দলের মতপার্থক্য থাকলেও এর সমাধান সংসদে হওয়া উচিত বলে মনে করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

 

তার মতে, আগামী অধিবেশনও জুলাই ইস্যুতে উত্তপ্ত থাকবে। দুই দলই সনদের বাস্তবায়ন চায়; কিন্তু উচ্চকক্ষ, মানবাধিকার, বিচার বিভাগ নিয়ে মতভেদ বেশি। এক্ষেত্রে সরকারকে উদার হওয়ার পরামর্শ স্পিকারের।

 

হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেছেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে হলে আইনের মাধ্যমে করতে হবে। সংবিধানে সংশোধনী আনতে হবে। যেটি কেবল জাতীয় সংসদেই করা সম্ভব। এই ব্যাপারে সরকারি দল ও বিরোধী দলের মধ্যে বোঝাপড়া হলে ভালো। জুলাই সনদে যতটুকু ছাড় দেওয়া যায়, ক্ষমতাসীন দলের সেটি দেওয়া উচিত। বিরোধী দলেরও বুঝতে হবে, সংখ্যাগরিষ্ঠতার কারণে সরকার যাতে তাদের কার্যক্রম নির্বিঘ্নে চালিয়ে যেতে পারে।

 

বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, গুম, মানবাধিকার আইন সংশোধনেরও আহ্বান জানিয়েছেন স্পিকার। তিনি বলেন, কোনো দল তো স্থায়ীভাবে সরকারি বা বিরোধী দল না। এখন যদি মানবাধিকারের ক্ষেত্রে সরকার উদ্যোগী না হয়, তাহলে ভবিষ্যতে যখন বিরোধী দলে পড়বে, তখন এটার মাসুল তাদেরকেও দিতে হবে। এটা মাথায় রেখেই ভালোভাবে মানবাধিকার আইন প্রণয়ন করতে হবে, যা অতীতের চেয়ে আরও ভালো একটি আইন।

 

জুলাই সনদ নিয়ে দ্বন্ধের সুযোগে আওয়ামী লীগের ফেরা এবং নতুন কোনও ষড়যন্ত্র যেন মাথাচাড়া দিতে না পারে, সেই বিষয়েও সতর্ক করছেন অভিজ্ঞ এই পার্লামেন্টারিয়ান ও রাজনীতিবিদ।

 

‘বাংলাদেশকে তছনছ করার জন্য যারা প্রতিদিনই ছক কষছে, তাদের অপচেষ্টাকে দূর করার জন্য একসময় মিলিতভাবে উদ্যোগ নিতে হবে, যেন সরকারি দল ও বিরোধী দল এই ব্যাপারে ঐক্যমত হয়ে মাফিয়া প্রত্যাবর্তনের বিরুদ্ধে লড়াই করবে। সুতরাং এই দুই দলের মধ্যে আরও সুসম্পর্ক থাকা উচিত’— যোগ করেন তিনি।

 

স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, জাতীয় স্বার্থে ঐকমত্যের বিকল্প নেই। দুই দলের সমঝোতার মাধ্যমে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন হলে শান্তিতে থাকবে মানুষ।

জুলাই সনদ ইস্যুতে উদার, শক্তিশালী মানবাধিকার আইন করার পরামর্শ স্পিকারের

ফুটবলে প্রতিদ্বন্দ্বিতার কথা উঠলেই সবার আগে আসে লিওনেল মেসি ও ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর নাম। জাতীয় দল কিংবা বিশ্বকাপ মঞ্চে আর্জেন্টিনা-ব্রাজিল দ্বৈরথও বরাবরই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে। তবে এবার বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে অপেক্ষা করছে ভিন্ন এক আবেগের লড়াই– রোনালদো বনাম লুকা মদ্রিচ।

 

আগামীকাল শুক্রবার (৩ জুলাই) বাংলাদেশ সময় ভোর ৫টায় টরন্টোতে মুখোমুখি হবে এই দুই তারকা।

 

বিশ্বকাপের রাউন্ড অব ৩২-এ পর্তুগালের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে ক্রোয়েশিয়া। এটি হতে পারে ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা দুই তারকার শেষ বিশ্বকাপ দ্বৈরথ।

 

ক্লাব ফুটবলে একসময় একই ড্রেসিংরুম ভাগাভাগি করেছেন রোনালদো ও মদ্রিচ। রিয়াল মাদ্রিদের জার্সিতে চ্যাম্পিয়নস লিগ, ক্লাব বিশ্বকাপ, লা লিগাসহ ইউরোপিয়ান ফুটবলের প্রায় সব বড় ট্রফিই উঠেছে তাদের হাতে। মাঠে একজন ছিলেন গোলের কারিগর, অন্যজন প্লেমেকার বা মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রক।

 

তবে এই দুই কিংবদন্তির ক্যারিয়ারে একটি বড় অপূর্ণতা রয়ে গেছে বিশ্বকাপ ট্রফি ছুঁয়ে দেখার স্বপ্ন। বয়সের বিবেচনায় এটিই হতে পারে দুজনের শেষ বিশ্বকাপ (যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে অবসরের কথা কেউই বলেননি)। তাই এই ম্যাচ শুধু নকআউট পর্বের একটি লড়াই নয়, দুই কিংবদন্তির স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখারও চ্যালেঞ্জ।

 

ম্যাচ শেষে একজন এগিয়ে যাবেন বিশ্বকাপ ট্রফি জয়ের স্বপ্ন নিয়ে। আরেকজনকে হয়তো শেষবারের মতো অলিখিতভাবেই বিদায় জানানো হবে বিশ্বকাপ মঞ্চ থেকে।

 

তাই নিশ্চিত বলা যায়, ফুটবলপ্রেমীরা শুধু দুদলের লড়াইই দেখবে না বরং তাদের চোখ থাকবে রোনালদো ও মদ্রিচের শেষ বিশ্বকাপ অধ্যায়ের দিকেই।

 

রোনালদো নাকি মদ্রিচ, কাকে বিদায় জানাবে বিশ্বকাপ

জ্বর কমে গেলেও সম্পূর্ণ সুস্থতা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত কোনো ডেঙ্গু রোগীকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র না দেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) ঢাকা মেডিকেল কলেজের প্যাথলজি বিভাগে আধুনিক মাইক্রোস্কোপ ও ল্যাবরেটরি যন্ত্রপাতি হস্তান্তর অনুষ্ঠানে তিনি এ নির্দেশনা দেন।

 

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সরকার গত দুই মাস ধরে দেশব্যাপী পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করছে। পাশাপাশি চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে এবং রোগীদের চিকিৎসায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

 

তিনি জানান, এডিস মশার লার্ভা ধ্বংসে নতুন প্রযুক্তি ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে বিশেষ ধরনের মেডিক্যাল ট্যাবলেট সংগ্রহ করা হচ্ছে, যা জমে থাকা পানিতে ব্যবহার করলে লার্ভা দ্রুত ধ্বংস হবে।

 

ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসায় বিশেষ সতর্কতার ওপর গুরুত্ব দিয়ে মন্ত্রী বলেন, প্লাজমা লিকেজের কারণে অনেক রোগীর মৃত্যু হয়। এ ঝুঁকি মোকাবিলায় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে একটি দৈনিক চিকিৎসা প্রটোকল তৈরি করা হয়েছে, যা চিকিৎসকদের মোবাইল ফোন ও ওয়েবসাইটের মাধ্যমে সরবরাহ করা হবে।

 

এ সময় তিনি জানান, দেশের চিকিৎসা শিক্ষা আধুনিকায়নে কাজ চলছে। ঢাকা মেডিকেল কলেজের প্যাথলজি বিভাগে সর্বাধুনিক মাইক্রোস্কোপ সংযোজনের ফলে এখন থেকে আরও দ্রুত ও নির্ভুলভাবে ক্যানসার শনাক্ত করা সম্ভব হবে।

সম্পূর্ণ সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত ডেঙ্গু রোগীকে ছাড়পত্র নয়: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

১৭-১৮ বছরেও পাকা হলো না শুকুরখোলা গ্রামের একমাত্র সড়ক, কাদা-পানিতে দুর্ভোগে ৮০-১০০ পরিবারের মানুষ

 

যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার ১১ নম্বর বাঁকড়া ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের শুকুরখোলা গ্রামের প্রায় ৮০ থেকে ১০০টি পরিবারের একমাত্র চলাচলের সড়কটি দীর্ঘ ১৭-১৮ বছরেও পাকা না হওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন এলাকাবাসী। সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কটি কাদা ও পানিতে তলিয়ে যায়। ফলে শিক্ষার্থী, কৃষক, চাকরিজীবী, নারী, শিশু ও বয়স্কসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষের চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

 

সম্প্রতি সরেজমিনে এলাকাটি পরিদর্শন করে দেখা যায়, পুরো সড়কজুড়ে বড় বড় গর্ত, কাদা ও জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। কোথাও হাঁটুসমান কাদা, কোথাও জমে থাকা পানির কারণে হেঁটে চলাচল করাও অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। মোটরসাইকেল, ভ্যান, অ্যাম্বুলেন্সসহ জরুরি যানবাহনও প্রায়ই এই সড়ক ব্যবহার করতে পারে না। বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করে।

 

স্থানীয়দের অভিযোগ, গত ১৭-১৮ বছরে এলাকায় একটি পাকা সড়কও নির্মাণ করা হয়নি। বিভিন্ন সময় জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরে একাধিকবার আবেদন জানানো হলেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। নির্বাচনের সময় উন্নয়নের নানা প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন ঘটেনি।

 

আমাদের এলাকায় অনেক রাজনৈতিক নেতা ও জনপ্রতিনিধির বসবাস রয়েছে। কিন্তু এলাকার উন্নয়নে তাদের দৃশ্যমান কোনো ভূমিকা আমরা দেখতে পাইনি। বছরের পর বছর ধরে একই দুর্ভোগের মধ্যে দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।”

 

গোলাম রাসুল

তিনি আরও বলেন, “বর্তমান সরকারের প্রতি আমাদের পূর্ণ আস্থা রয়েছে। আমরা বিশ্বাস করি, জনপ্রতিনিধিদের আন্তরিক উদ্যোগে শুকুরখোলা গ্রামের দীর্ঘদিনের এই দুর্ভোগের অবসান হবে। আমরা সরকারের কাছে বিলাসী কোনো প্রকল্প চাই না; শুধু একটি টেকসই পাকা সড়ক চাই, যাতে সাধারণ মানুষ নিরাপদে চলাচল করতে পারে।”

 

মো. গোলাম রসুল বলেন, “বর্তমানে আমাদের উপজেলায় জাতীয় সংসদের দুইজন মাননীয় সংসদ সদস্য রয়েছেন। সংরক্ষিত মহিলা আসন-১৪-এর সংসদ সদস্য মোছা. সাবিরা সুলতানা মুন্নি এবং যশোর-২ আসনের সংসদ সদস্য ড. মোশলে উদ্দীন ফরিদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। তারা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের মাধ্যমে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে আমরা আশাবাদী।”

 

এলাকাবাসীর দাবি, এটি কোনো নতুন সড়ক নয়; বহু বছর ধরে ব্যবহৃত একটি গুরুত্বপূর্ণ গ্রামীণ যোগাযোগপথ। প্রতিদিন শতাধিক মানুষ এই সড়ক দিয়ে যাতায়াত করেন। শিক্ষার্থীরা স্কুল-কলেজে যায়, কৃষকরা কৃষিপণ্য বাজারে নিয়ে যান এবং সাধারণ মানুষ চিকিৎসাসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজে এই পথ ব্যবহার করেন। কিন্তু দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় সড়কটি এখন কার্যত চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

 

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা দ্রুত উদ্যোগ নিয়ে শুকুরখোলা গ্রামের এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি টেকসইভাবে পাকা নির্মাণ করবেন। এতে একদিকে যেমন দীর্ঘদিনের জনদুর্ভোগের অবসান ঘটবে, অন্যদিকে সরকারের চলমান গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নের সুফলও এই এলাকার সাধারণ মানুষ ভোগ করতে পারবেন।

১৭-১৮ বছরেও পাকা হলো না শুকুরখোলা গ্রামের একমাত্র সড়ক, কাদা-পানিতে দুর্ভোগে ৮০-১০০ পরিবারের মানুষ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে ভুয়া এডমিট কার্ড বানিয়ে এইচএসসি পরীক্ষা দিতে গিয়ে এক ভুয়া পরীক্ষার্থী ও তার সহযোগীকে আটকের পর ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমান আদালত। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) কসবা পৌরশহরের টিআলী কলেজ কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে। কসবা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. ছামিউল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

 

জরিমানা দেওয়া দুজন হলেন, কসবা মহিলা কলেজের শিক্ষার্থী তাসফিয়া জান্নাত (১৮) এবং তার সহযোগী ইনজামুল হক (১৯)।

 

ভ্রাম্যমান আদালত জানায়, বৃহস্পতিবার টিআলী কলেজে এইচএসসি পরীক্ষা কেন্দ্রে প্রবেশের সময় ভুয়া এডমিট কার্ডধারী এক পরীক্ষার্থীকে দায়িত্বরত শিক্ষকদের সন্দেহ হয়। এ সময় শিক্ষার্থী ও তার সহযোগীকে আটক করা হয়। পরে যাচাই-বাছাই শেষে প্রবেশপত্র ভুয়া বলে নিশ্চিত হন কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও তফাজ্জল আলী ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ মো. আবুল কালাম আজাদ।

 

এ সময় কসবা উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট তানজিল কবিরের ভ্রাম্যমান আদালত ভুয়া পরীক্ষার্থী ও তার সহযোগীকে পৃথকভাবে ২০ হাজার টাকা করে মোট ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। অনাদায়ে ৩ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডেরও আদেশ দেওয়া হয়।

 

এ বিষয়ে কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও অধ্যক্ষ মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, প্রবেশপত্র যাচাইয়ের সময় কোড নম্বর ও পরীক্ষার বিষয় মিল না থাকায় আমরা বিষয়টি নিশ্চিত হই। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে অবহিত করা হয়।

 

এ বিষয়ে কসবা উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. ছামিউল ইসলাম বলেন, এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে এডমিট কার্ড জাল করা একটি ফৌজদারি অপরাধ। পরীক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় এ ধরনের প্রতারণা ক্ষমার অযোগ্য। ভবিষ্যতে এ ধরনের কাজে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কসবায় ভুয়া প্রবেশপত্রে এইচএসসি পরীক্ষার চেষ্টা, দুজনকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা

পাঁচ বছর আগে ঢাকার মহাখালী এলাকায় দ্বিতীয় বিয়ে করায় স্বামীকে হত্যার পর মরদেহ ৬ টুকরো করার দায়ে স্ত্রী ফাতেমা বেগম ওরফে শিল্পীকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

 

আজ বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) ঢাকার ১৬তম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ নাজমুন নাহার নিপু এ রায় দেন।

 

২০২১ সালে ঢাকার মহাখালী এলাকায় চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডটি ঘটে। এই ঘটনায় তখন বেশ আলোচনাও হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, দ্বিতীয় বিয়ে করাকে কেন্দ্র করে স্বামীকে হত্যা করেন স্ত্রী ফাতেমা বেগম ওরফে শিল্পী। পরে হত্যার ঘটনা গোপন করতে মরদেহ ৬ টুকরো করে বিভিন্ন স্থানে ফেলে দেওয়া হয়। মরদেহের ছয় টুকরার মধ্যে মূল দেহটি পড়ে ছিল মহাখালীর আমতলী সড়কে। দুই হাত ও দুই পা পুলিশ উদ্ধার করে মহাখালীর এনা বাস কাউন্টারের সামনের সড়ক থেকে। আর মরদেহের মাথা উদ্ধার করা হয় বনানী-১১ নম্বরের লেক থেকে। পরে প্রথম স্ত্রী ফাতেমা বেগম ওরফে শিল্পীকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

 

মামলার তদন্ত শেষে পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। সাক্ষ্য-প্রমাণ ও যুক্তিতর্ক শেষে আদালত অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আসামি ফাতেমা বেগম ওরফে শিল্পীকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন।

 

রাষ্ট্রপক্ষ বলছে, উপস্থাপিত সাক্ষ্য-প্রমাণ ও পারিপার্শ্বিক আলামতের ভিত্তিতে আসামির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে।

দ্বিতীয় বিয়ে করায় স্বামীকে হত্যার পর ৬ টুকরো, স্ত্রীকে মৃত্যুদণ্ড

২০২৬ সালের উচ্চ মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষার বাংলা বিষয়ের পরীক্ষায় সারাদেশে ২৪ হাজার ৭৮৪ জন পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিলেন। একইসঙ্গে অসদুপায় অবলম্বনের দায়ে ৭ জন পরীক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি।

 

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানান।

 

প্রথম দিনের পরীক্ষায় ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে বাংলা (আবশ্যিক) প্রথম পত্র পরীক্ষায় নিবন্ধিত ৮ লাখ ৫৬ হাজার ৯৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৮ লাখ ৩৮ হাজার ৮৬৪ জন অংশ নেন। অনুপস্থিত ছিলেন ১৭ হাজার ২৩৩ জন, যা মোট পরীক্ষার্থীর ২ দশমিক ০১ শতাংশ।

 

বোর্ডভিত্তিক অনুপস্থিত পরীক্ষার্থীর সংখ্যা হলো— ঢাকা বোর্ডে ৩ হাজার ৯৭১ জন, রাজশাহী বোর্ডে ২ হাজার ৪৬৭ জন, কুমিল্লা বোর্ডে ১ হাজার ৭৯৫ জন, যশোর বোর্ডে ২ হাজার ৭৮ জন, চট্টগ্রাম বোর্ডে ১ হাজার ৩৪০ জন, সিলেট বোর্ডে ১ হাজার ১২৭ জন, বরিশাল বোর্ডে ১ হাজার ৩৪৬ জন, দিনাজপুর বোর্ডে ১ হাজার ৯৩৭ জন এবং ময়মনসিংহ বোর্ডে ১ হাজার ১৮২ জন।

 

অসদুপায়ের দায়ে ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের মধ্যে কুমিল্লা বোর্ডে ১ জন, যশোর বোর্ডে ২ জন, দিনাজপুর বোর্ডে ১ জন এবং ময়মনসিংহ বোর্ডে ১ জনসহ মোট ৫ জন পরীক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তবে কোনো পরিদর্শককে বহিষ্কার করা হয়নি।

 

অন্যদিকে, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে কুরআন মাজিদ পরীক্ষায় ৮০ হাজার ৬৫৩ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেন। এ বোর্ডে ৪ হাজার ৪৭৮ জন পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিলেন এবং অসদুপায়ের দায়ে ১ জনকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

 

এদিকে, কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে বাংলা-২ পরীক্ষায় অংশ নেন ৮০ হাজার ৬০৩ জন পরীক্ষার্থী। এ বোর্ডে অনুপস্থিত ছিলেন ৩ হাজার ৭৩ জন এবং অসদুপায়ের দায়ে ১ জন পরীক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

 

এছাড়া ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে দেশের বাইরেও ৮টি কেন্দ্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

 

প্রসঙ্গত, চলতি বছর সারাদেশে সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ১ হাজার ৬২০টি কেন্দ্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এছাড়া মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ৪৬০টি এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ৬১১টি কেন্দ্রে পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে।

এইচএসসির প্রথম পরীক্ষায় অনুপস্থিত ২৪,৭৮৪ জন, বহিষ্কার ৭

অবৈধ দোকানের দখলে ঐতিহ্যবাহী নীলফামারীর বড় মাঠ, সংকুচিত হচ্ছেন বড় ক্রীড়াঙ্গন

মাইদুল ইসলাম: (জেলা প্রতিনিধি নীলফামারী)

এক সময় জেলার

ক্রীড়াচর্চার প্রাণকেন্দ্র ছিল নীলফামারী শহরের ঐতিহ্যবাহী বড় মাঠ। ভোর থেকে রাত পর্যন্ত এখানে হাঁটাহাঁটি ক্রিকেট ফুটবল, ভলিবল কাবাডি ও বিভিন্ন

ক্রীড়া আয়োজনের মধ্যে মুখর থাকত পুরো এলাকা। কিন্তু এখন সেই মাঠের একাংশ গড়ে উঠেছে শতাধিক অবৈধ দোকান। ফলে দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে মাঠের উন্মুক্ত পরিবেশ , সংকুচিত হচ্ছে খেলাধুলার পরিসর। সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মাঠের একপাশ জুড়ে সারিবদ্ধভাবে বসানো হয়েছে বিভিন্ন অস্থায়ী দোকান চা, ফাস্টফুড,

পান- সিগারেটসহ নানা ধরনের ব্যবসা চলছে সেখানে। দোকানগুলোর কারণে মাঠের উল্লেখযোগ্য অংশ দখল হয়ে গেছে। সেখানে একসময় ভলিবল ও কাবাডি খেলা হত, সেখানে এখন আর খেলাধুলার সুযোগ নেই। দুটি ক্রিকেট মাঠের মধ্যে একটি কার্যত ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। বিকেলে মাঠে অনুশীলনে আসা খেলোয়ারদের মধ্যে দেখা যায় হতাশা। একটি মাঠ ক্রিকেট পিচে একাধিক দলকে অনুশীলন করতে

হওয়ায় সৃষ্টি হয় ভিড় ও ভিড় ও সময় সংকট অনেকেই অনুশীলন না করে ফিরে যাচ্ছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, অবৈধ দোকান গুলোর কারণে প্রতিদিন মাঠে জমছে প্লাস্টিক, খাবারের উচ্ছিষ্ট ও নানা ধরনের ময়লা ও আবর্জনা। এতে মাঠের সৌন্দর্য নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি দর্শনার্থীদের চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়। দীর্ঘদিন ধরে এভাবে দখল চললেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। সাবেক ক্রিকেট খেলোয়ার আব্দুস সালাম বাবলা বলেন,’এই মাঠ থেকেই জেলার অনেক খেলোয়াড় উঠে এসেছে। এখন মাঠের বড় একটি অংশ অবৈধ দোকানের দখলে। এতে খেলাধুলার পরিবেশ নষ্ট হয়েছে। ক্রীড়াঙ্গনের স্বার্থে দ্রুত এসব দোকান উচ্ছেদ করা দরকার।” ক্রিকেট খেলোয়ার সোহাগ আলী বলেন, আগে দুটি ক্রিকেট পিচ ব্যবহার করা যেত। এখন একটি কার্যত দখলে চলে গেছে। কোন টুর্নামেন্ট চললে অনুশীলনের জন্য আর জায়গা থাকে না। মাঠ দখলমুক্ত হলে খেলোয়াড়রা স্বাভাবিকভাবে অনুশীলন করতে পারবে।”আরেক খেলোয়াড় নাজমুস সাকিব

জুন বলেন,”বড় মাঠ শুধু খেলোয়াড়দের নয় পুরো জেলার মানুষের সম্পদ। অবৈধ দোকান উচ্ছেদ করা হলে মাঠের পরিবেশ ফিরে আসবে এবং নতুন প্রজন্ম খেলাধুলার সুযোগ পাবে।’এ বিষয়ে জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য আবু মোহাম্মদ সোয়েম বলেন,”অবৈধ দোকান উচ্ছেদের বিষয়টি নিয়ে জেলা প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। প্রথমে দোকানিদের নোটিশ দিয়ে স্বেচ্ছায় সরে যাওয়ার জন্য সময় দেওয়া হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তারা স্থান ত্যাগ না করলে আইনানুক ব্যবস্থা নিয়ে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হবে।”জেলা ক্রীড়াপ্রেমী ও সচেতন নাগরিকদের প্রত্যাশা, নীলফামারীর ঐতিহ্যবাহী বড় মাঠকে অবৈধ দখলমুক্ত করে আবারও খেলাধুলা ও বিনোদনের উন্মুক্ত পরিবেশ ফিরিয়ে আনা হবে। কারণ একটি মাঠ শুধু খেলাধুলার স্থান নয়, এটি একটি জেলার সুস্থ প্রজন্ম গড়ে তোলার অন্যতম ভিত্তি।

অবৈধ দোকানের দখলে ঐতিহ্যবাহী নীলফামারীর বড় মাঠ, সংকুচিত হচ্ছেন বড় ক্রীড়াঙ্গন

স্টাফ রিপোর্টার

তানিন পিয়াস চৌধুরী

তাং:০২/০৭/২০২৬

 

হেডলাইন:নড়াইলে গাছে বেঁধে নির্যাতন প্রতিবন্ধী যুবকের মৃত্যু।

 

নড়াইল সদর উপজেলায় চোর সন্দেহে গাছে বেঁধে নির্যাতন করা সেই মানসিক প্রতিবন্ধী যুবক আনোয়ার হোসেন (৩২) খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।

 

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় খুলনাতে তিনি মারা যান।

নড়াইল সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অজয় কুমার কুন্ডু বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

 

আনোয়ার উপজেলার বাঁশগ্রাম ইউনিয়নের বাঁশগ্রামের মৃত কাওসার মোল্যার ছেলে।

 

মামলার এজাহার ও পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, আনোয়ার মানসিক প্রতিবন্ধী। গত ২৪ জুন সকালে তিনি বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর আর ফেরেননি। পরদিন সকালে পরিবারের সদস্যরা নড়াইল জেলা হাসপাতালে গিয়ে তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন দেখতে পান।

 

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, উপজেলার গোবরা মালোপাড়া এলাকার প্রসেনজিৎ বিশ্বাস, সৌরভ বিশ্বাস, অপূর্ব বিশ্বাস, আকাশ বিশ্বাস ও হৃদয় বিশ্বাসসহ কয়েকজন আনোয়ারকে চুরির অভিযোগে ধরে নিয়ে যান। পরে তাকে একটি গাছের সঙ্গে বেঁধে রাতভর মারধর করা হয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয় এক ইউপি সদস্যের মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তাকে উদ্ধার করে নড়াইল জেলা হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।

 

নড়াইল থেকে

তানিন পিয়াস চৌধুরী

গন টেলিভিশন

নড়াইলে গাছে বেঁধে নির্যাতন প্রতিবন্ধী যুবকের মৃত্যু

বিশ্বকাপের নকআউট পর্বের লড়াই সামনে রেখে শেষ মুহূর্তে ভ্রমণসূচিতে পরিবর্তন এনেছে আর্জেন্টিনা। মূল পরিকল্পনা বদলে বুধবার কানসাসে শেষ অনুশীলন সেরে বিকেলেই মায়ামির উদ্দেশে রওনা হয়েছে লিওনেল স্কালোনির দল। শুক্রবার শেষ ৩২-এর ম্যাচে হার্ড রক স্টেডিয়ামে তাদের প্রতিপক্ষ কেপ ভার্দে।

 

আর্জেন্টিনা সময় দুপুর ১টায় অনুষ্ঠিত অনুশীলনটি ছিল পুরোপুরি বন্ধ দরজার আড়ালে। নতুন ভেন্যুতে যাওয়ার আগে এটিই ছিল দলের শেষ সেশন, যেখানে সম্ভাব্য একাদশ চূড়ান্ত করার সুযোগ পান স্কালোনি। স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টায় কানসাস সিটি থেকে মায়ামির উদ্দেশে উড়াল দেওয়ার কথা থাকলেও, ফ্লাইটে বিলম্ব হওয়ায় নির্ধারিত সময়ের এক ঘণ্টারও বেশি পরে যাত্রা করে দলটি।

 

প্রাথমিক সূচি অনুযায়ী, ম্যাচের আগের দিন মায়ামিতে যাওয়ার কথা ছিল আর্জেন্টিনার। তবে শেষ পর্যন্ত কানসাসেই আরও একটি অনুশীলন করার সিদ্ধান্ত নেয় কোচিং স্টাফ। টুর্নামেন্টজুড়ে অনুসরণ করা রুটিন বজায় রাখতেই এই পরিবর্তন আনা হয়েছে। এর ফলে ফুটবল প্রস্তুতি শেষ করেই কেবল ভেন্যু পরিবর্তন করেছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

 

বৃহস্পতিবার মায়ামিতে শেষ অনুশীলন করবে স্কালোনির দল। এরপর শুক্রবার হার্ড রক স্টেডিয়ামে মাঠে নামবে আর্জেন্টিনা। এই স্টেডিয়ামটি দলের জন্য বিশেষ স্মৃতিবহ, কারণ এখানেই তারা অতীতে গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক শিরোপা জয়ের আনন্দ উদযাপন করেছিল।

 

একাদশে তিনটি ধোঁয়াশা

 

শুক্রবারের ম্যাচের আগে আর্জেন্টিনার সম্ভাব্য একাদশ নিয়ে এখনো তিনটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত বাকি রয়েছে। মঙ্গলবারের অনুশীলনে এ বিষয়ে কোনো ইঙ্গিত দেননি স্কালোনি। সংবাদমাধ্যমের জন্য উন্মুক্ত সময়ে সম্ভাব্য একাদশের খেলোয়াড়দের সঙ্গে বিকল্পদেরও একই দলে রেখে অনুশীলন করান তিনি।

 

বাম-ব্যাকে লড়াই হচ্ছে নিকোলাম তাগলিয়াফিকো ও ফকুন্দো মেদিনার মধ্যে। সেন্টার-ব্যাকে ইনজুরি কাটিয়ে ক্রিশ্চিয়ানো রোমেরো ফিরতে পারবেন কি না, সেটিই বড় প্রশ্ন। তিনি পুরোপুরি ফিট না হলে আবারও একাদশে থাকবেন নিকোলাস ওতামেনদি।

 

আক্রমণভাগে লিওনেল মেসির সঙ্গী কে হবেন, তা নিয়েও সিদ্ধান্ত হয়নি। এই জায়গায় লড়াই চলছে লাওতারো মার্তিনেজ ও হুলিয়ান আলভারেজের মধ্যে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে লাউতারোই কিছুটা এগিয়ে রয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

 

অন্যদিকে, কোচিং স্টাফ যদি মনে করে রোমেরো পুরোপুরি সুস্থ, তাহলে টটেনহ্যামের এই ডিফেন্ডার একাদশে ফিরবেন। একইভাবে ইনজুরি কাটিয়ে ফেরার পর টালিয়াফিকোরও শুরুর একাদশে থাকার স

ম্ভাবনা উজ্জ্বল।

কৌশলে পরিবর্তন, অনুশীলন শেষে মায়ামির পথে আর্জেন্টিনা

র‌্যাবের চৌকস অভিযানে জীপসহ প্রায় ১১ হাজার ইয়াবার চালান আটক

জামালপুর হামলা পাল্টা হামলার মধ্য দিয়ে জেলার সানন্দবাড়ী তে থমথমে অবস্থা বিরাজমান।

error: আপনি নিউজ চুরি করার চেষ্টা করছেন। বিশেষ প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন ০১৭৬৭৪৪৪৩৩৩
%d