
ডেস্ক রিপোর্টঃ মোঃ ওমর ফারুক
২৫ জুন জাতীয় সংসদে বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে এনসিপির সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ বসুন্ধরা গ্রুপের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তোলেন। তিনি বসুন্ধরা গ্রুপের বিরুদ্ধে করা দুদকের মামলার অগ্রগতি না হওয়া, সরকারি দলের সাথে সম্ভাব্য ‘আন্ডারটেবিল সমঝোতা’ এবং গ্রুপটির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা না নেওয়ার কারণ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, কেউ বসুন্ধরা গ্রুপের বিরুদ্ধে কথা বললে তারা তাদের মালিকানাধীন সংবাদমাধ্যম ব্যবহার করে ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রচারণা চালানো শুরু করে। হাসনাতের এই বক্তব্যের পর থেকে গত চারদিনে হাসনাত আব্দুল্লাহর বিরুদ্ধে বসুন্ধরার মালিকানাধীন ৫টি সংবাদমাধ্যমে সংঘবদ্ধভাবে ধারাবাহিক সমন্বিত নেতিবাচক প্রচারণা চালানো হচ্ছে।
দ্য ডিসেন্ট বিশ্লেষণ করে দেখেছে, হাসনাত আব্দুল্লাহ এর সংসদের বক্তৃতার পর গত ২৮ জুন সকাল ৭টা থেকে আজ ১ জুলাই দুপুর ৩টা পর্যন্ত মোট ৪ দিনে (৮০ ঘণ্টায়) বসুন্ধরা গ্রুপের মালিকানাধীন পাঁচটি সংবাদমাধ্যম কালের কণ্ঠ, বাংলাদেশ প্রতিদিন, নিউজ ২৪, ডেইলি সান এবং বাংলানিউজ২৪ ডটকমে হাসনাত আব্দুল্লাহর বিরুদ্ধে সর্বমোট ৯৯টি নেতিবাচক কন্টেন্ট প্রচার করা হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রেই হুবহু একই প্রতিবেদন অল্প সময়ের ব্যবধানে ৫টি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।
সংসদে কী বলেছিলেন হাসনাত আবদুল্লাহ
গত ২৫ জুন বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন “আমরা দেখেছি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় বসুন্ধরার পুত্র আনভির দেশে ঢোকার সাহস পায় নাই। কিন্তু এই সরকার নির্বাচিত হয়ে আসার পরে আমরা দেখেছি সদর্পে এই সোবহানের পুত্র, এই ধর্ষক, দেশে ঢুকেছে।”
তিনি সেখানে বলেন, “অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় দুর্নীতি দমন কমিশন বসুন্ধরার বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। এই মামলার কি অগ্রগতি হয়েছে সেটা আমরা জানতে চাই। আমরা জানতে চাই আন্ডারটেবিল কোন ধরনের সমঝোতা হয়েছে কিনা। যদি সমঝোতা না হয়ে থাকে তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে বাধাটা কোথায় সেটা বাংলাদেশের মানুষের সামনে প্রকাশ করতে হবে।”
হাসনাত আরও বলেন, “অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এই বসুন্ধরা গ্রুপ যারা বিদেশে টাকা পাচার করেছে, মানুষের সম্পদ দখল করেছে এবং মিডিয়ার মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগের গুম খুন হত্যাকে যারা বৈধতা দিয়েছে তাদের খুঁটির জোর কোথায় সেটা আমরা জানতে চাই।” “ সরকার দলের অনেকেই মাঝে মাঝে আমাদের কাছে এসে দু:খ প্রকাশ করে যে আসলে আমরা জেল খেটেছি, আমরা কষ্ট করেছি, আমাদের সন্তানদের সাথে আমরা থাকতে পারিনাই, কিন্তু আমাদের দলেরই কিছু কিছু মানুষ বসুন্ধরার এডভাইজর হিসেবে কাজ করে। তাদের মিডিয়ার এডভাইজর হিসেবে কাজ করে।”
“যেই মিডিয়া তারেক রহমানকে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে দেশদ্রোহী হিসেবে ফ্রেমিং করেছে, সেই মিডিয়ার এডভাইজর হিসেবে আজকে বসুন্ধরা গ্রুপে আজকে এই সংসদ সরকারদলীয় সংসদ সদস্যদের অনেকেই তারা সেখানে যুক্ত”, বলেন তিনি।
“এই বসুন্ধরার বিরুদ্ধে যারা কথা বলে তাদের বিরুদ্ধে মিডিয়া লেলিয়ে দেওয়া হয়।”
“এতদিন ধরে যারা মিডিয়াকে, যারা নিয়ন্ত্রিত মিডিয়ার মাধ্যমে এই ফ্যাসিবাদের পক্ষে যারা বয়ান উৎপাদন করেছেন, তাদের বিরুদ্ধে উনি সুবিচার নিশ্চিত করবেন” তিনি দাবি করেন।
৪ দিনে ৫ মিডিয়ায় ৯৯টি কন্টেন্ট
দ্য ডিসেন্টের এই বিশ্লেষণে শুধুমাত্র বসুন্ধরা গ্রুপের পাঁচটি সংবাদমাধ্যম কালের কণ্ঠ, ডেইলি সান, বাংলাদেশ প্রতিদিন, বাংলানিউজ২৪ ও নিউজ২৪-এর ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে প্রকাশিত কনটেন্ট পর্যালোচনা করা হয়েছে। কনটেন্ট সংগ্রহের জন্য সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমগুলোর ওয়েবসাইট, ফেসবুক পেজ ও ইউটিউব চ্যানেলে প্রাসঙ্গিক কীওয়ার্ড ব্যবহার করে অনুসন্ধান করা হয়েছে। এই বিশ্লেষণের আওতায় প্রিন্ট সংস্করণ অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।
২৮ জুন সকাল ৭টা ৪ মিনিটে কালের কণ্ঠের ওয়েবসাইটে “হাসনাত আবদুল্লাহ : সাদা সাদা, কালা কালা” শিরোনামে প্রথম প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয়। এর আট মিনিট পর, সকাল ৭টা ১২ মিনিটে একই বিষয় নিয়ে একটি ফটোকার্ডও প্রকাশ করা হয়।
ওই সময় থেকে ১ জুলাই দুপুর ২টা পর্যন্ত, অর্থাৎ প্রায় ৭৯ ঘণ্টায়, বসুন্ধরা গ্রুপের এই পাঁচটি সংবাদমাধ্যমে হাসনাত আবদুল্লাহকে নিয়ে মোট ৯৯টি কনটেন্ট প্রকাশিত হয়।
পাঁচটি সংবাদমাধ্যমের মধ্যে কালের কণ্ঠে সর্বাধিক ৭৬টি কনটেন্ট প্রকাশিত হয়। এর মধ্যে ছিল ৩৫টি ভিডিও (ইউটিউব, ওয়েবসাইট ও ফেসবুক মিলিয়ে),১১টি সংবাদ প্রতিবেদন এবং ৩০টি ফটোকার্ড।
কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স
ফ্যাক্ট চেক
ডিজিটাল ইনভেস্টিগেশন
মিডিয়া ওয়াচ
ডিসইনফরমেশন এক্টর
অপিনিয়ন
আমাদের সম্পর্কে
ক্যারিয়ার
যোগাযোগ
শর্তাবলি
গোপনীয়তার নিয়মাবলি
Follow us:
মিডিয়া ওয়াচ
menu
বসুন্ধরার বিরুদ্ধে বক্তব্যের পর ৫টি মিডিয়ায় হাসনাতের বিরুদ্ধে ৮০ ঘণ্টায় ৯৯ কনটেন্ট
Roby Hossain
লেখক
রবি হোসাইন
১ জুলাই, ২০২৬
লিংক কপি করুন
২৫ জুন জাতীয় সংসদে বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে এনসিপির সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ বসুন্ধরা গ্রুপের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তোলেন। তিনি বসুন্ধরা গ্রুপের বিরুদ্ধে করা দুদকের মামলার অগ্রগতি না হওয়া, সরকারি দলের সাথে সম্ভাব্য ‘আন্ডারটেবিল সমঝোতা’ এবং গ্রুপটির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা না নেওয়ার কারণ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, কেউ বসুন্ধরা গ্রুপের বিরুদ্ধে কথা বললে তারা তাদের মালিকানাধীন সংবাদমাধ্যম ব্যবহার করে ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রচারণা চালানো শুরু করে। হাসনাতের এই বক্তব্যের পর থেকে গত চারদিনে হাসনাত আব্দুল্লাহর বিরুদ্ধে বসুন্ধরার মালিকানাধীন ৫টি সংবাদমাধ্যমে সংঘবদ্ধভাবে ধারাবাহিক সমন্বিত নেতিবাচক প্রচারণা চালানো হচ্ছে।
দ্য ডিসেন্ট বিশ্লেষণ করে দেখেছে, হাসনাত আব্দুল্লাহ এর সংসদের বক্তৃতার পর গত ২৮ জুন সকাল ৭টা থেকে আজ ১ জুলাই দুপুর ৩টা পর্যন্ত মোট ৪ দিনে (৮০ ঘণ্টায়) বসুন্ধরা গ্রুপের মালিকানাধীন পাঁচটি সংবাদমাধ্যম কালের কণ্ঠ, বাংলাদেশ প্রতিদিন, নিউজ ২৪, ডেইলি সান এবং বাংলানিউজ২৪ ডটকমে হাসনাত আব্দুল্লাহর বিরুদ্ধে সর্বমোট ৯৯টি নেতিবাচক কন্টেন্ট প্রচার করা হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রেই হুবহু একই প্রতিবেদন অল্প সময়ের ব্যবধানে ৫টি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।
সংসদে কী বলেছিলেন হাসনাত আবদুল্লাহ
গত ২৫ জুন বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন “আমরা দেখেছি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় বসুন্ধরার পুত্র আনভির দেশে ঢোকার সাহস পায় নাই। কিন্তু এই সরকার নির্বাচিত হয়ে আসার পরে আমরা দেখেছি সদর্পে এই সোবহানের পুত্র, এই ধর্ষক, দেশে ঢুকেছে।”
তিনি সেখানে বলেন, “অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় দুর্নীতি দমন কমিশন বসুন্ধরার বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। এই মামলার কি অগ্রগতি হয়েছে সেটা আমরা জানতে চাই। আমরা জানতে চাই আন্ডারটেবিল কোন ধরনের সমঝোতা হয়েছে কিনা। যদি সমঝোতা না হয়ে থাকে তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে বাধাটা কোথায় সেটা বাংলাদেশের মানুষের সামনে প্রকাশ করতে হবে।”
হাসনাত আরও বলেন, “অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এই বসুন্ধরা গ্রুপ যারা বিদেশে টাকা পাচার করেছে, মানুষের সম্পদ দখল করেছে এবং মিডিয়ার মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগের গুম খুন হত্যাকে যারা বৈধতা দিয়েছে তাদের খুঁটির জোর কোথায় সেটা আমরা জানতে চাই।” “ সরকার দলের অনেকেই মাঝে মাঝে আমাদের কাছে এসে দু:খ প্রকাশ করে যে আসলে আমরা জেল খেটেছি, আমরা কষ্ট করেছি, আমাদের সন্তানদের সাথে আমরা থাকতে পারিনাই, কিন্তু আমাদের দলেরই কিছু কিছু মানুষ বসুন্ধরার এডভাইজর হিসেবে কাজ করে। তাদের মিডিয়ার এডভাইজর হিসেবে কাজ করে।”
“যেই মিডিয়া তারেক রহমানকে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে দেশদ্রোহী হিসেবে ফ্রেমিং করেছে, সেই মিডিয়ার এডভাইজর হিসেবে আজকে বসুন্ধরা গ্রুপে আজকে এই সংসদ সরকারদলীয় সংসদ সদস্যদের অনেকেই তারা সেখানে যুক্ত”, বলেন তিনি।
“এই বসুন্ধরার বিরুদ্ধে যারা কথা বলে তাদের বিরুদ্ধে মিডিয়া লেলিয়ে দেওয়া হয়।”
“এতদিন ধরে যারা মিডিয়াকে, যারা নিয়ন্ত্রিত মিডিয়ার মাধ্যমে এই ফ্যাসিবাদের পক্ষে যারা বয়ান উৎপাদন করেছেন, তাদের বিরুদ্ধে উনি সুবিচার নিশ্চিত করবেন” তিনি দাবি করেন।
৪ দিনে ৫ মিডিয়ায় ৯৯টি কন্টেন্ট
দ্য ডিসেন্টের এই বিশ্লেষণে শুধুমাত্র বসুন্ধরা গ্রুপের পাঁচটি সংবাদমাধ্যম কালের কণ্ঠ, ডেইলি সান, বাংলাদেশ প্রতিদিন, বাংলানিউজ২৪ ও নিউজ২৪-এর ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে প্রকাশিত কনটেন্ট পর্যালোচনা করা হয়েছে। কনটেন্ট সংগ্রহের জন্য সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমগুলোর ওয়েবসাইট, ফেসবুক পেজ ও ইউটিউব চ্যানেলে প্রাসঙ্গিক কীওয়ার্ড ব্যবহার করে অনুসন্ধান করা হয়েছে। এই বিশ্লেষণের আওতায় প্রিন্ট সংস্করণ অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।
২৮ জুন সকাল ৭টা ৪ মিনিটে কালের কণ্ঠের ওয়েবসাইটে “হাসনাত আবদুল্লাহ : সাদা সাদা, কালা কালা” শিরোনামে প্রথম প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয়। এর আট মিনিট পর, সকাল ৭টা ১২ মিনিটে একই বিষয় নিয়ে একটি ফটোকার্ডও প্রকাশ করা হয়।
ওই সময় থেকে ১ জুলাই দুপুর ২টা পর্যন্ত, অর্থাৎ প্রায় ৭৯ ঘণ্টায়, বসুন্ধরা গ্রুপের এই পাঁচটি সংবাদমাধ্যমে হাসনাত আবদুল্লাহকে নিয়ে মোট ৯৯টি কনটেন্ট প্রকাশিত হয়।
পাঁচটি সংবাদমাধ্যমের মধ্যে কালের কণ্ঠে সর্বাধিক ৭৬টি কনটেন্ট প্রকাশিত হয়। এর মধ্যে ছিল ৩৫টি ভিডিও (ইউটিউব, ওয়েবসাইট ও ফেসবুক মিলিয়ে),১১টি সংবাদ প্রতিবেদন এবং ৩০টি ফটোকার্ড।
কোন সংবাদমাধ্যমে কতটি কনটেন্ট?
সংবাদমাধ্যমের নাম
কনটেন্টের সংখ্যা
কালের কণ্ঠ
৭৬
ডেইলি সান
৯
বাংলাদেশ প্রতিদিন
৫
বাংলানিউজ২৪
৫
নিউজ২৪
৪
সর্বমোট
৯৯
ডেইলি সানে মোট ৯টি কনটেন্ট প্রকাশিত হয়, যার মধ্যে ছিল ৬টি সংবাদ ও ৩টি ফটোকার্ড।
বাংলাদেশ প্রতিদিনে প্রকাশিত হয় মোট ৫টি কনটেন্ট, যার মধ্যে ছিল ৩টি সংবাদ ও ২টি ফটোকার্ড।
বাংলানিউজ২৪ এ প্রকাশিত হয় মোট ৫টি কনটেন্ট, যার মধ্যে ছিল ৪টি সংবাদ ও ১টি ফটোকার্ড।
অন্যদিকে নিউজ২৪ এ একই সময়পর্বে হাসনাত আব্দুল্লাহকে নিয়ে ৪টি সংবাদ প্রকাশিত হয়।
দিনভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, সবচেয়ে বেশি কনটেন্ট প্রকাশিত হয় ২৮ জুন। সেদিন পাঁচটি সংবাদমাধ্যমে মিলিয়ে মোট ৩৭টি কনটেন্ট প্রকাশিত হয়। পরদিন ২৯ জুন প্রকাশিত হয় ১৮টি কনটেন্ট। আর ৩০ জুন প্রকাশিত হয় ২৭টি কনটেন্ট। ১ জুলাই প্রতিবেদন লেখার সময় (দুপুর ২টা) পর্যন্ত আরও ১৭টি কনটেন্ট প্রকাশিত হয়েছে।
৯৯টি কনটেন্টে ঘুরেফিরে ৯টি ‘খবর’
২৮ জুন থেকে ১ জুলাই পর্যন্ত প্রকাশিত ৯৯টি কনটেন্ট বিশ্লেষণে দেখা যায়, এগুলোর বড় অংশই কোনো স্বতন্ত্র প্রতিবেদন নয়। একই বিষয় বা অভিযোগকে বিভিন্ন ফরম্যাটে সংবাদ, ভিডিও, ইংরেজি অনুবাদ এবং ফটোকার্ড হিসেবে বসুন্ধরা গ্রুপের পাঁচটি সংবাদমাধ্যমে একাধিকবার প্রকাশ করা হয়েছে।
বিশ্লেষণে অন্তত ৯টি স্বতন্ত্র বা মূল কনটেন্ট চিহ্নিত করা যায়, যেগুলো খণ্ডিত করেই অধিকাংশ কনটেন্ট তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো “হাসনাত আবদুল্লাহ: সাদা সাদা, কালা কালা”, “মব বিতর্কে হাসনাত আবদুল্লাহ”, “হাসনাতের দাপটে আক্রান্ত এক দিনমজুর পরিবার”, মো. তারেক রহমানের একটি ভিডিও বক্তব্য, রাশেদ খানের বক্তব্য, “হাসনাত আবদুল্লাহ সাংবাদিকদের কণ্ঠ রুদ্ধ করে দিয়েছিল” শিরোনামের ভিডিও এবং “চেতনাবোধ না থাকলে মানুষ হাসনাতদের প্রত্যাখ্যান করবে” শিরোনামের ভিডিও। পরবর্তীতে এর সাথে নতুন করে যুক্ত করা হয় বিএনপি নেতা এম এ আউয়াল খানের বক্তব্য (“নেতারা শুধু জয় দেখেছেন…”) এবং নির্দিষ্ট প্রকল্পের দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে “মসজিদের অর্থ বরাদ্দে ই-টেন্ডার নৈরাজ্য” সংক্রান্ত সংবাদ।
এই নয়টি মূল কনটেন্ট থেকেই বিভিন্ন শিরোনাম, ভাষা, প্ল্যাটফর্ম ও ফরম্যাটে বাকি কনটেন্টগুলো প্রকাশ করা হয়েছে।
দিনভিত্তিক প্রচার
২৮ জুন: এই দিন সবচেয়ে বেশি (৩৭টি) কনটেন্ট প্রকাশিত হয়। এদিন একই শিরোনাম, একই বিষয় এবং একই কনটেন্ট একাধিক সংবাদমাধ্যম ও প্ল্যাটফর্মে পুনঃপ্রচার করা হয়। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য “হাসনাত আবদুল্লাহ : সাদা সাদা, কালা কালা” শিরোনামে কালের কণ্ঠ, ডেইলি সান, বাংলাদেশ প্রতিদিন, বাংলানিউজ২৪ ও নিউজ২৪ বসুন্ধরা গ্রুপের এই পাঁচটি সংবাদমাধ্যমেই সংবাদ প্রকাশিত হয়। একই শিরোনাম কালের কণ্ঠে আবার ফটোকার্ড হিসেবেও প্রকাশ করা হয়।
একই দিনে “হাসনাত আব্দুল্লাহর বিরুদ্ধে যত অভিযোগ” ভিডিওটি কালের কণ্ঠের ইউটিউব, ওয়েবসাইট ও ফেসবুক এই তিনটি প্ল্যাটফর্মে প্রকাশ করা হয়। এছাড়া “হাসনাত আবদুল্লাহ সাংবাদিকদের কণ্ঠ রুদ্ধ করে দিয়েছিল” এবং “হাসনাত ও হান্নান মাসউদ বাজেট বাদ দিয়ে চানাচুর মার্কা আলোচনা করেছেন” এই দুটি ভিডিও ইউটিউব ও ফেসবুকে প্রকাশিত হয়।
২৯ জুন: আগের দিন প্রকাশিত একই অভিযোগ ও বক্তব্য নতুন প্ল্যাটফর্ম ও নতুন সংবাদমাধ্যমে পুনঃপ্রচার করা হয়। “হাসনাতের দাপটে আক্রান্ত এক দিনমজুর পরিবার” শিরোনামটি কালের কণ্ঠে ইউটিউব ভিডিও, সংবাদ ও ফটোকার্ড এই তিনটি ফরম্যাটে প্রকাশ করা হয়।
২৮ জুন কালের কণ্ঠে প্রকাশিত “স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় নিয়ন্ত্রণকারী হাসনাত-সারজিসরা ৬০০ শিশুর মৃত্যুর পেছনে দায়ী : মো. তারেক” শিরোনামটি পরদিন (২৯ জুন) বাংলাদেশ প্রতিদিন, বাংলানিউজ২৪ ও নিউজ২৪-এ প্রকাশিত হয়। একই দিনে ২৮ জুনের “হাসনাত ও হান্নান মাসউদ বাজেট বাদ দিয়ে চানাচুর মার্কা আলোচনা করেছেন” ভিডিওটি কালের কণ্ঠের ওয়েবসাইটেও নতুন করে প্রকাশ করা হয়।
৩০ জুন: এদিনও একই শিরোনাম ও একই ধরনের কনটেন্ট একাধিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। “মব বিতর্কে হাসনাত আবদুল্লাহ” শিরোনামের সংবাদটি কালের কণ্ঠ, বাংলানিউজ২৪, নিউজ২৪ এবং ডেইলি সানের বাংলা সংস্করণে প্রকাশিত হয়।
ইংরেজি দৈনিক ডেইলি সানে “Hasnat Abdullah: White outside, black inside”, “Day labourer’s family alleges brutal assault by supporters of Hasnat Abdullah” এবং “Tale of Hasnat Abdullah’s rise as a ‘mob emperor’” এই তিনটি শিরোনামে সংবাদ ও ফটোকার্ড প্রকাশ করা হয়।
একই সঙ্গে “Tale of Hasnat Abdullah’s rise as a ‘mob emperor'” শিরোনামে বাংলাদেশ প্রতিদিনেও সংবাদটি প্রকাশিত হয়। এছাড়া এই দিন নতুন করে বিএনপি নেতা এম এ আউয়ালের বক্তব্য নিয়ে “এনসিপির নেতারা শুধু জয় দেখেছেন, পরাজয় দেখেননি : আউয়াল খান” শিরোনামে কালের কণ্ঠে সংবাদ, একাধিক ভিডিও (ইউটিউব ও ফেসবুক) এবং ফটোকার্ড প্রচার করা হয়।
১ জুলাই: সর্বশেষ এই দিনে প্রচারণায় আরও কয়েকটি নতুন অভিযোগ যুক্ত করা হয়। বিশেষ করে “মসজিদের অর্থ বরাদ্দে হাসনাতের ই-টেন্ডার নৈরাজ্য” শিরোনামে কালের কণ্ঠে একটি সংবাদ, দুটি ভিডিও (ইউটিউব ও ফেসবুক) এবং অন্তত ছয়টি ভিন্ন ভিন্ন ফটোকার্ড প্রকাশ করা হয়।
পাশাপাশি “‘খেজুরের মতো হাসনাতের কাছে ল্যাম্পপোস্টসহ অন্যান্য কাজের হিসাব চান এলাকাবাসী’” শিরোনামের সংবাদটি কালের কণ্ঠ ও বাংলানিউজ২৪-এ প্রকাশিত হয় এবং কালের কণ্ঠে এ নিয়ে একাধিক ফটোকার্ড ছড়ানো হয়।
এছাড়া “হাসনাত-সারজিস কোন অতিগোপনীয় অভিযোগ নিয়ে দুদকে গিয়েছিলেন, তদন্ত চান রাশেদ খান” শিরোনামেও কালের কণ্ঠে
সংবাদ ও ফটোকার্ড প্রকাশিত হয়। এদিন আগের “মব বিতর্কে হাসনাত আবদুল্লাহ” সংবাদটি নিউজ২৪-এ পুনরায় প্রচার করা হয়।
Leave a Reply