
গাজীপুরে ধর্ষণ মামলার আসামী কর্তৃক তরুণীকে অপহরণ ও হত্যার হুমকি, আদালতে মামলা
বিশেষ প্রতিনিধি, গাজীপুর
গাজীপুরের কাশিমপুরে আগের ধর্ষণ মামলা প্রত্যাহার না করায় (১৭) বছর বয়সী এক তরুণীকে জোরপূর্বক অপহরণ করে অজ্ঞাত স্থানে আটকে রাখার অভিযোগ উঠেছে। মামলা প্রত্যাহার না করলে ওই তরুণীকে হত্যা, লাশ গুম অথবা মানব পাচারকারীদের কাছে বিক্রি করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন তাঁর মা।
এ ঘটনায় তরুণীর মা আমেনা বেগম (৫৩) বাদী হয়ে গাজীপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা করেছেন। মামলায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধিত ২০০৩)-এর ৭ ও ৩০ ধারার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলার এজাহার ও নথিতে কাশিমপুরের সারদাগঞ্জ সাতবাড়ী এলাকার মেহেদী হাসান (২১), হৃদয় হাসান (২২), জাহিদুল ইসলাম (৩৮) ও জাকির (৩৮)সহ স্থানীয় আরও চার-পাঁচজন অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। এ ছাড়া সাতক্ষীরার জেলার ডাকাতি, মাদক, পাচার, চাঁদাবাজি, ব্ল্যাকমেলসহ বিভিন্ন অপরাধের ঘটনায় একাধিক মামলার আসামি মোছা. মাছুরা বেগম (৩৫) ও মো. হাফিজুর রহমানকেও মানব পাচার চক্রের সক্রিয় সদস্য হিসেবে অভিযোগে যুক্ত করা হয়েছে।
আগের ধর্ষণ মামলা প্রত্যাহারের চাপ,
মামলার নথি অনুযায়ী, প্রধান আসামি মেহেদী হাসানের বিরুদ্ধে কাশিমপুর থানায় আগে একটি ধর্ষণ মামলা হয়েছিল। মামলাটি বর্তমানে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন। ওই মামলায় মেহেদী হাসান উচ্চ আদালত থেকে জামিনে মুক্ত হওয়ার পর ভুক্তভোগীর পরিবারকে মামলা প্রত্যাহারের জন্য ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছিল বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
পরিবারের পক্ষ থেকে মেয়েটির, নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে অন্যত্র বিয়ে দেওয়া হয়। এতে আসামিরা আরও ক্ষিপ্ত হন বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
বাড়ি থেকে তরুণীকে তুলে নেওয়ার অভিযোগ, মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১৮ এপ্রিল বিকেলে তরুণী তাঁর মায়ের বাড়িতে বেড়াতে আসেন। এ সময় আসামিরা বসতবাড়িতে অনধিকার প্রবেশ করে তাঁকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যান এবং অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে রাখেন। এরপর থেকে পরিবারের সদস্যরা বিভিন্নভাবে তাঁর সন্ধান ও উদ্ধারের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
ফোনে হত্যার হুমকির অভিযোগ,
অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ৩১ জুলাই মেহেদী হাসান তাঁর মুঠোফোন থেকে তরুণীর মায়ের নম্বরে ফোন করেন। এ সময় ধর্ষণ মামলা প্রত্যাহার না করলে মেয়েকে ফেরত দেওয়া হবে না বলে হুমকি দেওয়া হয়। একই সঙ্গে তাঁকে হত্যা করে লাশ গুম অথবা মানব পাচারকারীদের কাছে বিক্রি করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন আমেনা বেগম।
থানায় অভিযোগ, পরে আদালতে মামলা, ভুক্তভোগীর পরিবারের দাবি, অপহরণ ও হুমকির ঘটনা জানিয়ে কাশিমপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলেও পুলিশ মামলা গ্রহণ বা তরুণীকে উদ্ধারে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। পরে বাধ্য হয়ে আদালতের দ্বারস্থ হন তাঁর মা।
গাজীপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে দায়ের করা মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি নিখোঁজ তরুণীকে দ্রুত উদ্ধার এবং প্রয়োজনীয় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আবেদন করা হয়েছে।
Leave a Reply