জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী আজ - Gono television | বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল।
জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী আজ

জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী আজ

আজ শনিবার (৩০ মে) বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী। ১৯৮১ সালের এই দিনে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে সেনাবাহিনীর কিছু বিপথগামী সদস্যের হাতে নিহত হন তিনি।

 

১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতারকেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠ করেন জিয়াউর রহমান। তিনি মুক্তিযুদ্ধে ১ নম্বর সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার এবং ব্রিগেড ফোর্স ‘জেড ফোর্স’- এর অধিনায়ক ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদানের জন্য পান ‘বীর উত্তম’ খেতাব। এছাড়া বাংলাদেশের বর্তমান ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন তিনি।

 

১৯৩৬ সালের ১৯ জানুয়ারি বগুড়ার গাবতলী উপজেলার বাগমারা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন জিয়াউর রহমান। তিনি ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর সিপাহি-জনতার বিপ্লবের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসেন। পরবর্তীতে বাংলাদেশের অষ্টম রাষ্ট্রপতি হন তিনি।

 

বাংলাদেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রবর্তন করেন জিয়াউর রহমান। তার শাসনামলে বাংলাদেশের কৃষিতে যুগান্তকারী পরিবর্তন আসে খালকাটা কর্মসূচির মাধ্যমে। তিনি বাংলাদেশের শ্রমশক্তি রফতানির সূচনা করেন। এছাড়া, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো নিয়ে গঠিত সার্ক প্রতিষ্ঠারও স্বপ্নদ্রষ্টা ছিলেন তিনি।

 

জিয়াউর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষ্যে, ২৫ মে থেকে ১ জুন পর্যন্ত আট দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বিএনপি। কর্মসূচির অংশ হিসেবে সারাদেশে কালো পতাকা উত্তোলন, আলোচনা সভা, আলোকচিত্র প্রদর্শনী, দোয়া মাহফিল ও দুস্থদের মাঝে খাদ্য ও বস্ত্র বিতরণ করা হবে।

 

আজ শনিবার (৩০ মে) ভোর ৬টায় নয়া পল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ সারাদেশের দলীয় কার্যালয়গুলোতে পতাকা অর্ধনমিতকরণ ও কালো পতাকা উত্তোলন করবে বিএনপি। এরপর বেলা ১১টায় শেরেবাংলা নগরে জিয়াউর রহমানের সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও ফাতেহা পাঠ করবেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তার সঙ্গে উপস্থিত থাকবেন দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা। এছাড়া, বিকেল ৩টায় দরিদ্রদের মাঝে খাদ্য ও বস্ত্র বিতরণ করবে দলটি।


সবাই মিলে দেশ গড়ার দায়িত্ব নিতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, দেশ কারও একার না। দেশ যেমন কোনো সরকারের একার না, যেমন কোনো রাজনৈতিক দলের একার না, কোনো পরিবার বা কোনো ব্যক্তির একার না। দেশটি হচ্ছে লাখো-কোটি মানুষের, প্রত্যেকের। তাই এই দেশকে গড়ে তুলতে আমাদের প্রত্যেককে সচেতন হতে হবে।

 

শনিবার (৩০ মে) বিকেলে রাজধানীর জুরাইনে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপি আয়োজিত শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে খাদ্য ও বস্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন।

 

এলাকার মানুষকে উদ্দেশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনি যদি এই এলাকার মানুষ হয়ে থাকেন, আপনি চেষ্টা করবেন আবর্জনা যেখানে-সেখানে না ফেলার জন্য। আবর্জনা সঠিকভাবে ফেলার জন্য। কারণ আজকে যদি মনে করেন, আপনি যে আবর্জনাটা এখানে ফেলেন, এইটুকু আবর্জনা, এক কেজি, আধা কেজি আবর্জনা বা দুই কেজি আবর্জনা– কী হবে? কিন্তু আপনি চিন্তা করেন, এখানে যতগুলো মানুষ, এখানে কয়েক হাজার মানুষ আমরা জড়ো হয়েছি। প্রত্যেকে যদি ১ কেজি করে ময়লা একটা জায়গায় ফেলে, তাহলে কত কেজি ময়লা হবে? না হলে ১০ হাজার কেজি ময়লা হয়ে যাবে। মানে ১০ টন ময়লা।

 

তিনি বলেন, তাহলে পরিচ্ছন্নতা কর্মী তারাও তো মানুষ। তারা হয়ত গরিব মানুষ। তাদেরও পরিষ্কার করতে কষ্ট হয়। কিন্তু আমরা সবাই মিলে যদি চেষ্টা করি, তাহলে আপনি নিজের শহরকে যেমন পরিষ্কার রাখতে পারবেন, সেই পরিচ্ছন্নতা কর্মীও অল্পতেই জায়গাটাকে পরিষ্কার করে ফেলতে পারবে। ঠিক একইভাবে তারও কষ্ট কম হবে। আপনার সন্তানরা, আপনি নিজে, আপনার বাবা-মা, পরিবারের সদস্যরাও একটি পরিষ্কার ও সুন্দর পরিবেশের মধ্যে থাকতে পারবেন।

 

বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, কমবেশি সবাই তো এই ঢাকা শহরেই বাস করেন। এই এলাকায় বাস করেন, তাই না? এখন চিন্তা করেন, এলাকা যদি পরিষ্কার থাকে, তাহলে তো আপনার নিজের কাছেই ভালো লাগবে। ভালো লাগবে না? টিভির পর্দায় যখন অন্যান্য দেশের ছবি দেখেন, সুন্দর রাস্তাঘাট দেখেন, পরিষ্কার রাস্তাঘাট দেখেন, তখন একটু হিংসা হয় না মনের মধ্যে? যে, আমাদের রাস্তাঘাট কেন এত ময়লা হয়? আমার তো হয় ভাই। আমার কিন্তু হিংসা হয় যে, ওই দেশের রাস্তাঘাট এত পরিষ্কার। আমার দেশের রাস্তাঘাট কেন পরিষ্কার না? এখন ওই দেশের যে রাস্তাঘাট পরিষ্কার, এটা তো বাইরে থেকে কেউ এসে করে দিয়ে যায় না। যে দেশের রাস্তাঘাট পরিষ্কার, সে দেশের সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা যেমন পরিষ্কার করে, একইভাবে সে দেশের জনগণও কিন্তু যেখানে-সেখানে ময়লা ফেলে না। এখন আপনি সরকারের কেউ না। এই কাজটি করার জন্য কিন্তু সরকারের কেউ হওয়ার দরকার নেই। এমপি হওয়ার দরকার নেই। মন্ত্রী হওয়ার দরকার নেই। মেয়র হওয়ার দরকার নেই। ওয়ার্ড কমিশনার হওয়ার দরকার নেই। একজন নাগরিক হিসেবে আপনি এই কাজটি করতে পারেন। ময়লাটা আপনার পকেটে নিয়ে নেন। যদি টিস্যু পেপার থাকে, কিছু থাকে, ময়লা নেন। বাদাম খাবেন, তখন বাদামের খোসাটা এমনভাবে এক জায়গায় ফেলেন, যাতে জায়গাটা ময়লা না হয়।

দেশ কারও একার না, তাই গড়ার দায়িত্বও সবার: প্রধানমন্ত্রী

মহান স্বাধীনতার ঘোষক, বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকীর আজকের দিনটিকে গণমানুষের জন্য অত্যন্ত দুঃখভারাক্রান্ত ও স্মৃতিময় দিন হিসেবে উল্লেখ করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। শনিবার (৩০ মে) রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।

 

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের মূল আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী একটি বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণে সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে যেতে হবে।

 

মন্ত্রী বলেন, ‘আজকের দিনটি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এবং এ দেশের সমগ্র গণমানুষের জন্য অত্যন্ত দুঃখভারাক্রান্ত ও স্মৃতিময় একটি দিন। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান আমৃত্যু বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং অগ্রগতির অতন্দ্র প্রহরী হিসেবে অনন্য ভূমিকা পালন করে গেছেন। ১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতার ঘোষণার মধ্য দিয়ে তাঁর যে ঐতিহাসিক উত্থান ঘটেছিল, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে গিয়েই তিনি শাহাদাত বরণ করেছেন।’

 

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং গণতন্ত্রের মূল ঠিকানা হচ্ছে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার প্রদর্শিত পথ। আমরা এই গভীর শোককে শক্তিতে পরিণত করেছি।’ তিনি বলেন, ‘শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান আমাদের শিখিয়েছেন কীভাবে সমস্ত মানুষের মধ্যে ইস্পাতকঠিন ঐক্য সৃষ্টি করে জাতীয় সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যেতে হয়। আমরা তাঁর প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের ভিত্তিতে বহুদলীয় গণতন্ত্রের আদর্শের রাজনীতি করি।’

 

গণতন্ত্রের প্রতি বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘যত দিন বাংলাদেশ থাকবে, তত দিন এই দেশটিকে সম্পূর্ণ গণতান্ত্রিক ধারায় পরিচালিত করা হবে। ৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের যে চেতনা, তার আলোকেই দেশের গণতন্ত্রের ভিত্তিকে আরও সুদৃঢ় ও শক্তিশালী করা হবে।’ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ সময় দেশের গণতন্ত্র রক্ষায় খালেদা জিয়ার সীমাহীন ত্যাগ ও সংগ্রামের কথা সশ্রদ্ধচিত্তে স্মরণ করেন।

গণমানুষের জন্য আজ অত্যন্ত দুঃখভারাক্রান্ত ও স্মৃতিময় দিন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আদর্শ নিয়েই আমরা রাজনীতিতে এসেছি, এমনটাই মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

 

শনিবার (৩০ মে) দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে দুঃস্থ মানুষদের মধ্যে খাদ্যসামগ্রী ও বস্ত্র বিতরণ শেষে তিনি এ মন্তব্য করেন।

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকের এই দিনে আমরা শপথ নিতে চাই, সমাজে যার যার অবস্থান থেকে অসহায় ও দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়াবো।

 

পাশাপাশি, মানবিকতা-সহমর্মিতা ও দায়িত্ববোধের মাধ্যমে একটি সুন্দর সমাজ গড়ে তুলতে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

 

এরপর, যাত্রাবাড়ীতে গিয়ে খাদ্যসামগ্রী ও বস্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকীতে আমরা তাঁর আদর্শ থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে অসহায় ও দুস্থ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছি। শুধু রাজনৈতিক দল বা সরকারের ওপর নির্ভর না করে সমাজের প্রতিটি সামর্থ্যবান মানুষ যদি নিজের অবস্থান থেকে একজন অসহায় মানুষের সহায়তায় এগিয়ে আসে, তাহলে ধীরে ধীরে দেশের চেহারা এবং মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করা সম্ভব।

 

এর আগে, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষ্যে রাজধানীর ইসিবি চত্বর, কুড়িল বিশ্বরোড এবং খিলগাঁও এলাকায় খাবার ও বস্ত্র বিতরণ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আদর্শ নিয়েই আমরা রাজনীতিতে এসেছি: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আগমনকে ঘিরে রাজধানীর নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে বেড়েই চলেছে নেতাকর্মীদের ভিড় ।

 

শনিবার (৩০ মে) দুপুর ১টা থেকে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদতবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত বিভিন্ন কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই সেখানে বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা জড়ো হতে থাকেন।

 

দুপুর আনুমানিক ১টা থেকে বিএনপি ও এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন—যুবদল, শ্রমিকদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, ছাত্রদল, জাসাস ও জিয়া মঞ্চের নেতাকর্মীরা ব্যানার ও ফেস্টুন নিয়ে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেন। এ সময় পুরো এলাকা উৎসবমুখর পরিবেশে পরিণত হয়। নেতাকর্মীদের নানা স্লোগানে এলাকা মুখরিত হয়ে ওঠে।

 

বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের নির্দেশনায়, জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদতবার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানীর ১৬টি স্থানে একযোগে এ কর্মসূচি পরিচালিত হচ্ছে। কর্মসূচির অংশ হিসেবে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে অসহায় ও দুস্থ মানুষের মাঝে খাদ্য ও বস্ত্র বিতরণ করা হচ্ছে।

 

যুবদলের কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক নুরুল ইসলাম সোহেল বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শ অনুসরণ করে এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এর মূল উদ্দেশ্য হলো সমাজের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানো।

 

এদিকে, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশনা ও অংশগ্রহণকে কেন্দ্র করে নয়াপল্টন এলাকায় নেতাকর্মীদের উপস্থিতি আরও বৃদ্ধি পায়, ফলে পুরো এলাকা দিনভর সরগরম থাকে।

 

দলীয় নেতারা জানিয়েছেন, জিয়াউর রহমানের জনকল্যাণমূলক রাজনৈতিক আদর্শকে স্মরণ করেই এই কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

প্রধানমন্ত্রীর আগমন ঘিরে নেতাকর্মীদের ভিড়, সরগরম নয়াপল্টন

দেশকে এগিয়ে নিতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শনিবার (৩০ মে) রাজধানীর শেরে বাংলা নগরে সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাত-বার্ষিকীতে তার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তিনি এ আহ্বান জানান।

 

মির্জা ফখরুল বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে ‘ফ্যাসিবাদের জাঁতাকলে’ পিষ্ট থাকায় দেশের মানুষ স্বাধীনভাবে এই দিনটি পালন করতে পারেনি। তবে বর্তমান সময়ে এসে মানুষ তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি স্বাধীন পরিবেশে নিজেদের নেতাকে স্মরণ করার সুযোগ পেয়েছে।

 

বিএনপি মহাসচিব উল্লেখ করেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান আধুনিক ও সুশাসনভিত্তিক বাংলাদেশ গঠনের যে স্বপ্ন দেখেছিলেন, তা বর্তমান প্রেক্ষাপটেও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। পুরোনো শাসনব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন ঘটিয়ে একটি কার্যকর ও আধুনিক রাষ্ট্র কাঠামোর ভিত্তি তিনিই স্থাপন করেছিলেন। মির্জা ফখরুলের ভাষায়, জিয়াউর রহমানের রেখে যাওয়া সামগ্রিক উন্নয়ন ও রাষ্ট্রচিন্তার দর্শন দেশের অগ্রগতির জন্য এখনো একটি গুরুত্বপূর্ণ এবং কার্যকর দিকনির্দেশনা হিসেবে কাজ করছে।

 

তিনি আরও বলেন, দেশের চলমান বিভিন্ন সংস্কার কার্যক্রমও অনেক ক্ষেত্রে সেই রাষ্ট্রচিন্তার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। বিএনপি ভবিষ্যতেও জিয়াউর রহমানের দেখানো পথ ও আদর্শ অনুসরণ করে রাষ্ট্র পরিচালনার একটি সুশাসনভিত্তিক টেকসই কাঠামো গড়ে তুলতে চায়।

 

দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সম্পর্কে তিনি বলেন, তিনিও জিয়াউর রহমানের আদর্শ ও পথনির্দেশনা পুরোপুরি অনুসরণ করে এগিয়ে যাচ্ছেন এবং সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে নিরলস কাজ করছেন। জিয়াউর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরাও মাজারে গিয়ে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং দিনটি ঘিরে দলীয়ভাবে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হয়।

মানুষ শহীদ জিয়ার শাহাদাত-বার্ষিকী স্বাধীনভাবে পালন করতে পারেনি’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতাদের কোরবানির পশুর সংখ্যা ও অর্থের উৎস নিয়ে সমালোচনামূলক মন্তব্য করেছেন বিএনপি ও সাবেক গণঅধিকার পরিষদের নেতা মুহাম্মদ রাশেদ খাঁন।

তিনি বলেন, ‘জামায়াত-এনসিপির টাকা মানেই জান্নাতের টাকা! তাই এই হালাল টাকা নিয়ে প্রশ্ন তুললে জাহান্নামে যেতে হবে, এই ভয়ে বিপ্লবীরা মুখে কুলুপ এঁটে বসে আছে!’

 

শনিবার (৩০ মে) দুপুরে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই মন্তব্য করেন।

 

তার পোস্টে তিনি লেখেন, ‘জামায়াত এমপি নুরুল ইসলাম বুলবুল ৬৫টি গরু কুরবানি করেছে। নোয়াখালী-৫ আসনের এমপি প্রার্থী অধ্যক্ষ মোহাম্মদ বেলায়েত হেসেন ১০০টি গরু কোরবানি দিয়েছে। কিন্তু বিএনপি সরকারের মন্ত্রী শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি ৬টি গরু কোরবানি দিয়েছে। এনিয়ে তো রীতিমতো সাংবাদিক সম্মেলন করে অর্থের উৎস জানতে চাওয়া হয়েছে!’

 

এ বিষয়ে তিনি আরও লেখেন, ‘সর্বত্র বিএনপি ও জামায়াত-এনসিপি জোটের খরচের তারতম্য প্রায় এরকমই। নির্বাচনেও খরচের পার্থক্যও প্রায় এমন ছিল। জামায়াত-এনসিপির টাকা মানেই জান্নাতের টাকা! তাই এই হালাল টাকা নিয়ে প্রশ্ন তুললে জাহান্নামে যেতে হবে, এই ভয়ে বিপ্লবীরা মুখে কুলুপ এঁটে বসে আছে!’

 

জামায়াত-এনসিপির টাকা মানেই জান্নাতের টাকা! -রাশেদ খাঁন

কুমিল্লা জেলা পরিষদের প্রশাসকের বক্তব্যের জবাব দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা হাসনাত আবদুল্লাহ। কুমিল্লা–৪ (দেবীদ্বার) আসনের এই সংসদ সদস্য একটি গণমাধ্যমকে বলেছেন, জেলা পরিষদের প্রশাসক যে টাকার কথা বলেছেন, সেটি উপজেলার জন্য বরাদ্দ বাজেট। ওই অর্থ কোনো ব্যক্তিকে দেওয়া হয়নি।

 

এর আগে শনিবার (৩০ মে) দুপুরে কুমিল্লা শিল্পকলা একাডেমিতে এক অনুষ্ঠানে জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. মোস্তাক মিয়া অভিযোগ করেন, অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা থাকাকালে এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া কুমিল্লা জেলা পরিষদ থেকে ১৫ কোটি টাকা নিয়েছেন। একইভাবে এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ ১০ কোটি টাকা নিয়েছেন বলে তিনি দাবি করেন।

 

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে ওই আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। মোস্তাক মিয়া কুমিল্লা বিএনপির বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।রাজনৈতিক জীবনী বই

 

অভিযোগের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, জেলা পরিষদের প্রশাসক যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা মূলত উপজেলার জন্য বরাদ্দ বাজেটকে কেন্দ্র করে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করেছে। তিনি বলেন, “এই টাকা আমাকে দেওয়া হয়নি। এটি কোনো ব্যক্তিকে দেওয়ার বিষয় নয়, বরং উপজেলা পর্যায়ে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।”

 

তিনি আরও জানান, দেবীদ্বার উপজেলায় কোন খাতে কত টাকা ব্যয় হয়েছে, তার বিস্তারিত তালিকা জেলা প্রশাসনের কাছে রয়েছে। একইভাবে উপজেলা প্রশাসনের কাছেও ব্যয়ের পূর্ণ হিসাব রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন এবং তা প্রকাশের আহ্বান জানান।

 

হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, স্থানীয় উন্নয়নের জন্য প্রয়োজন হলে তিনি সব ধরনের সহযোগিতা করতে প্রস্তুত। “আমি আমার উপজেলার মানুষের জন্য কোথাও যদি ভিক্ষা চাইতেও হয়, সেটি করতে আমার আপত্তি নেই। কারণ, আমি নিজের জন্য নয়, মানুষের জন্য কাজ করি,” বলেন তিনি।

 

তিনি আরও বলেন, এটি স্থানীয় সরকার বিভাগের বিশেষ বরাদ্দ, যা এডিপি প্রকল্পের মাধ্যমে জেলা পরিষদের মাধ্যমে ব্যয় করা হয়েছে। দেবীদ্বার উপজেলাকে এ খাতে প্রায় ৫ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

 

জেলা পরিষদ প্রশাসকের বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, বিষয়টি এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে যেন অর্থ ব্যক্তিগতভাবে নেওয়া হয়েছে। অথচ এটি সম্পূর্ণভাবে উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ এবং রাজস্ব খাতের সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক নেই।

উপজেলার বাজেটের টাকা তো আমাকে দেওয়া হয়নি: হাসনাত আবদুল্লাহ

খুলনায় ভাড়া বাসা থেকে নানি ও দুই না‌তির মরদেহ উদ্ধার করেছে পু‌লিশ। শ‌নিবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে মহানগরীর সোনডাঙ্গা থানার দারুস আমান মস‌জিদ এলাকার বিলপাড় রোডের বা‌সিন্দা শরীফুল ইসলামের বা‌ড়ি থেকে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।এ ঘটনায় নিহত শিশু দুইটির মা ফাতেমা বেগম মেরীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নিয়েছে পু‌লিশ। পু‌লিশের পাশাপা‌শি র‌্যাব ও সিআইডির টিম ঘটনাস্থল প‌রিদর্শন করেছে।

 

নিহতরা হলেন, বেবী বেগম এবং তার দুই না‌তি মোস্তাকীম ও শামীম।

 

নিহত দুই শিশুর মা ফাতেমা বেগম মেরী জানান, তার দ্বিতীয় পক্ষের স্বামী রফিকুল তার আগের ঘরের সন্তানদের ভালো চোখে দেখতো না। গত শুক্রবার রাতে তিনি বাড়িতে আসেন এবং তার সাথেই থাকেন। সকালে বাইরে থেকে তালা দিয়ে চলে যান। এরপর তার মা ও দুই সন্তানকে না দেখে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করতে থাকেন। বিকেলে পাশের রুম থেকে গন্ধ আসলে সবাইকে জানান।পু‌লিশ ও স্থানীয়রা জানায়, মেরীর খালা তার বোন বেবী বেগমকে খুঁজতে ঘটনাস্থলে আসেন। ঘর থেকে দুর্গন্ধ বের হতে থাকলে জাতীয় জরু‌রি সেবা ৯৯৯-এ ফোন দেন। এর আগে স্থ‌ানীয়রা ঘরের দরজা ভেঙে চৌ‌কির (খাট) নীচ‌ থেকে নানি বেবী বেগম ও ট্রাংকের ওপর থেকে নাতি শামীমের মরদেহ দেখতে পান। পরে পু‌লিশ ছোট ছেলে মুস্তা‌কিমের মরদেহ খুঁজতে থাকেন। পরে সিআইডির টিম এসে ওয়ারড্রব থেকে মরদেহ উদ্ধার করে।

 

এদিকে সোনাডাঙ্গা থানা পুলিশ, ডিবি এবং সিআিইডির বিশেষ টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ক্রাইম সিন থেকে আলামত সংগ্রহ করেছে। মরদেহ তিনজনের সুরতাহাল শেষ করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে ময়নাতদন্তের জন্য নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

 

জানা গেছে, চার বছর পূর্বে ফাতেমা বেগমের প্রথম স্বামী মাসুম বেপারীর (৪৫) সাথে বিবাহ বিচ্ছেদ হয়। বিচ্ছেদের পর তাদের সন্তান শামীম এবং মুস্তাকিম তার মা ফাতেমা বেগমের সাথে বসবাস করতে থাকেন। এর ভিতরে আন্তঃজেলা ট্রাক ড্রাইভার রফিকুলের সাথে বিয়ে হলে সেও প্রায় ফাতেমা বেগম এর মায়ের বাসায় এসে থাকতেন।খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, নগরীর সোনাডাঙ্গা থানা এলাকার দারুল আমান মহল্লায় শরিফুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তির ভাড়া বাসায় তিনটি মরদেহ পাওয়া গেছে। এর মধ্যে দুটি শিশু মুস্তাকিম ও শামিম এবং তাদের নানী বেবী বেগমের মরদেহ রয়েছে। এ ঘটনায় নিহত শিশু সন্তান দুটির মা ফাতেমা বেগম মেরীকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

 

তার দেওয়া তথ্যমতে, তার দ্বিতীয় স্বামী রফিকুল এই ঘটনার সাথে জড়িত। এ ঘটনায় পুলিশ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত শুরু করেছে। রফিকুল খুলনা নগরীর মহেশ্বরপাশা এলাকার আলমগীর হোসেনের ছেলে। তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

খুলনায় একই ঘরের ট্রাংক-খাট-ওয়ারড্রব থেকে নানি ও দুই না‌তির মরদেহ উদ্ধার

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা থাকার সময়ে এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া কুমিল্লা জেলা পরিষদ থেকে নিয়েছেন ১৫ কোটি টাকা। অপরদিকে এনসিপি নেতা বর্তমান এমপি হাসনাত আবদুল্লাহ ১০ কোটি টাকা নিয়েছেন। এই দাবি করেছেন পরিষদের বর্তমান প্রশাসক মো. মোস্তাক মিয়া। এরইমধ্যে বিষয়টি নিয়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।

 

আজ শনিবার (৩০ মে) দুপুরে কুমিল্লা শিল্পকলা একাডেমিতে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠানে এই দাবি করেন তিনি।

 

কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা ও মহানগর বিএনপি এই কর্মসূচির আয়োজন করে। মোস্তাক মিয়া বিএনপির কুমিল্লা বিভাগীয় সহসাংগঠনিকের পদে রয়েছেন। আজকের আলোচনা সভায় তিনি বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

 

বক্তব্যে মোস্তাক মিয়া বলেন, ‘আমার জেলা পরিষদ থেকে মুরাদনগরের আসিফ মাহমুদ ১৫ কোটি টাকা নিয়ে গেছেন। তিনি আমাদের নিজস্ব রাজস্বের টাকা ১৫ কোটি টাকা নিয়ে গেছেন। আরেকজন হাসনাত আবদুল্লাহ। তিনি নিয়ে গেছেন ১০ কোটি টাকা। এটা হলো সমন্বয়ের অবস্থা। তারা চেয়েছিলেন যে বাংলাদেশে বৈষম্যবিরোধী একটা সমন্বয়ের রাজনীতি, কিন্তু তাদের মধ্যে সেটা ছিল না।’

 

জেলা পরিষদ প্রশাসক বলেন, ‘আজ বাংলাদেশ সরকার আপনাদের ভোটে নির্বাচিত। জনগণের ভোটে নির্বাচিত আমাদের প্রিয় নেতা তারেক রহমান আজ প্রধানমন্ত্রী, তিনি এই সরকারের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। ধ্বংস হওয়া অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধারের জন্য আজ আমাদের প্রিয় নেতা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কাজ করছেন। তাঁর কাঁধে দায়িত্বে পড়েছে—যেই অর্থনীতি ধ্বংস করেছিল, এটাকে পুনরুদ্ধারের জন্য। সেটা নিয়ে উনি কাজ করছেন।’

 

কুমিল্লার আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ।

 

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও বক্তব্য দেন কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা (টিপু)। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল কাইয়ুম। এতে বিএনপি, এর অঙ্গসংগঠনের নেতারাসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।

রাজস্ব তহবিল থেকে আসিফ ১৫ ও হাসনাত ১০ কোটি টাকা নিয়ে গেছেন: কুমিল্লা জেলা পরিষদ প্রশাসক

গাজীপুরের কাশিমপুরে নৌকা ভ্রমণে গিয়ে নদীতে পরে নিখোঁজ ১ জন।

 

মোঃ সাহাজুদ্দিন সরকার,

ক্রাইম রিপোর্টার গাজীপুর।

 

গাজীপুর নগরীর কাশিমপুর তুরাগ নদীতে নৌভ্রমণে গিয়ে একদল যুবকের আনন্দযাত্রা মুহূর্তেই আতঙ্কে পরিণত হয়েছে। নৌকায় ডিজে গান বাজানোর সময় ভারসাম্য হারিয়ে নদীতে পড়ে নিখোঁজ হয়েছেন রাসেল (২২) নামের এক যুবক।

শনিবার ৩০ মে সন্ধ্যার পূর্ব মুহুর্তে মহানগরীর কাশিমপুর থানাধীন ৬নং ওয়ার্ডের জেলেপাড়া এলাকার তুরাগ নদীতে এ ঘটনা ঘটে। নিখোঁজ রাসেল কাশিমপুরের ৩ নং ওয়ার্ডের গোবিন্দবাড়ী এলাকার ফজল আলীর ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাসেলসহ কয়েকজন বন্ধু মিলে নৌকায় করে তুরাগ নদীতে ঘুরতে বের হন। নৌভ্রমণের সময় ডিজে গান বাজিয়ে আনন্দ-উল্লাস চলছিল। একপর্যায়ে রাসেল ভারসাম্য হারিয়ে নদীতে পড়ে যান। সঙ্গে থাকা যুবকেরা তাৎক্ষণিকভাবে তাকে উদ্ধারের চেষ্টা করলেও নদীর পানিতে তলিয়ে গিয়ে তিনি নিখোঁজ হন।

 

ঘটনার পরপরই জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করে বিষয়টি জানানো হয়। তবে প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, খবর দেওয়ার প্রায় দুই ঘণ্টা অতিবাহিত হলেও কোনো উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়নি। এতে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।নিখোঁজ যুবকের সন্ধানে স্থানীয় বাসিন্দা, স্বজন, জেলে ও নৌকার মাঝিরা নিজ উদ্যোগে নদীতে উদ্ধার তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন।

প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত রাসেলের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

 

এদিকে ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে তুরাগ নদীর তীরে উৎসুক জনতার ভিড় জমে। স্বজনদের আহাজারি ও উৎকণ্ঠায় এলাকাজুড়ে শোকাবহ পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। দ্রুত উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করে নিখোঁজ রাসেলকে খুঁজে বের করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

গাজীপুরের কাশিমপুরে নৌকা ভ্রমণে গিয়ে নদীতে পরে নিখোঁজ ১ জন

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা জানানো শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গাড়িবহর বেরিয়ে যাওয়ার সময় নিরাপত্তায় নিয়োজিত সদস্যদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের ঘটনায় ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহিম ভূইয়াকে সাংগঠনিক পদ থেকে অব্যাহতি প্রদান করেছে ছাত্রদল।

 

শনিবার (৩০ মে) ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক (সহ-সভাপতি পদমর্যাদা) মো. জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

 

এতে বলা হয়, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সিদ্ধান্ত মোতাবেক, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহিম ভূইয়াকে সাংগঠনিক পদ থেকে অব্যাহতি প্রদান করা হলো। একইসাথে উক্ত কমিটির সিনিয়র যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম রফিককে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব প্রদান করা হলো। সাংগঠনিক গতিশীলতা ও ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখার স্বার্থে অবিলম্বে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে।

 

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির শনিবার এই সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেন।

 

উল্লেখ্য, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষ্যে শনিবার (৩০ মে) সকালে বাবার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে বের হওয়ার সময় প্রধানমন্ত্রীর প্রটোকল টিমের সদস্যদের সঙ্গে ছাত্রদলের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহিম ভুঁইয়াসহ কয়েকজন নেতাকর্মীর বাগবিতণ্ডার ঘটনা ঘটে। পরে এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

প্রধানমন্ত্রীর প্রটোকল টিমের সাথে বাগবিতণ্ডা, পদ হারালেন ছাত্রদল নেতা

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে মাদক কেনাবেচায় বাধা দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে রায়হান (১৫) নামে এক কিশোর নিহত হয়েছেন।শুক্রবার (৩০ মে) গভীর রাতে উপজেলার সৈয়দটুলা উত্তরপাড়া গ্রামে এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। নিহত রায়হান উত্তরপাড়া এলাকার ছুটুন মিয়ার ছেলে। এ সময় আহত হয়েছেন দুই পক্ষের অন্তত ১৫ জন।

 

স্থানীয়রা জানান, শুক্রবার রাত ১০টার দিকে উত্তরপাড়া এলাকার সজীব মিয়া স্থানীয় এক যুবককে ইয়াবা কিনে আনার জন্য ৩০০ টাকা দেয়। কিন্তু ওই যুবক তা না করে টাকা দিয়ে বিস্কুট কিনে খেয়ে ফেলে। এ নিয়ে সজীব মিয়া ক্ষুব্ধ হয়। একপর্যায়ে তা হাতাহাতি ও মারামারিতে রূপ নেয়। বিষয়টি টের পেয়ে মাদকের বিরুদ্ধে কাজ করা স্থানীয় যুবক কামাল, জসিম, দেওয়ান উদ্দিনসহ কয়েকজন মাদক কেনাবেচার বিষয়টি জানতে চান। এ সময় সজীব মিয়ার পক্ষ নিয়ে ক্ষিপ্ত হয় এলাকার শাহীন ও রতন মিয়া নামে আরও দুই যুবক।

সরাইল থানার ওসি মনজুর কাদের ভুঁইয়া বলেন, মাদকসংক্রান্ত বিষয়ের জের ধরে দুই পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পরে পুলিশি হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে। সংঘর্ষে রায়হান নামে একজন নিহত হয়েছেন। তার মরদেহ হাসপাতালে রয়েছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

 

এ নিয়ে তর্ক বিতর্কের এক পর্যায়ে রাত সাড়ে ১২টার দিকে উভয়পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়ায়। রাতের আঁধারে টর্চ লাইটের আলো জ্বালিয়ে ঘন্টাব্যাপী চলা সংঘর্ষে গ্রামজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে রায়হান গুরুতর আহত হয়। পরে তাকে উদ্ধার করে সরাইল উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। সংঘর্ষের ঘটনায় উভয়পক্ষের অন্তত আরও ১৫ জন আহত হন।

 

ইয়াবা কেনার টাকা দিয়ে বিস্কুট কিনে খাওয়ায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সংঘর্ষ, কিশোর নিহত

চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে ফেসবুক আইডি ব্লক করাকে কেন্দ্র করে বিবাদের মধ্যে গিয়ে বড় ভাইয়ের হাতে ছোট ভাই খুন হয়েছেন। শনিবার (৩০ মে) বেলা ১১টার দিকে উপজেলার বাগান বাজার ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বালুটিলায় ঘটনাটি ঘটে।

 

এ ঘটনায় নিহত মুহাম্মদ জয়নাল আবেদীনের (৩২) বড় ভাই মুহাম্মদ জাফরকে (৩৫) আটক করেছে পুলিশ।

 

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, ফেসবুক আইডি ব্লক করাকে কেন্দ্র করে শাহাজাহানের সঙ্গে গ্রামের জাফরের বিরোধ হয়। এ নিয়ে বাড়ির পাশের চায়ের দোকানে তাদের মধ্যে প্রথমে কথা কাটাকাটি এবং পরে মারামারি শুরু হয়। এ সময় দুপক্ষকে থামাতে এগিয়ে যান জাফরের ছোট ভাই জয়নাল। একপর্যায়ে জাফর ছুরি দিয়ে জয়নালকে আঘাত করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

 

বিভিন্ন পারিবারিক বিষয় নিয়ে দুই ভাইয়ের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে মনোমালিন্য ছিল বলে জানান স্থানীয়রা।

 

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে জয়নালের মরদেহ উদ্ধার করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়।

 

ভূজপুর থানার ওসি বিপুল চন্দ্র দে সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ফেসবুক আইডি ব্লক করাকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে এ ঘটনা ঘটেছে। নিহত ব্যক্তির বড় ভাই জাফরকে আটক করা হয়েছে। আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ফেসবুক আইডি ব্লক করাকে কেন্দ্র করে ভাইয়ের হাতে ভাই খুন

বগুড়ায় নারী প্রশিক্ষণার্থীদের উত্ত্যক্ত করার অভিযোগে এক নারী প্রশিক্ষণার্থীর হাতে জুতাপেটার শিকার হয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-র এক নেতা। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর দলীয়ভাবে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

 

অভিযুক্ত আলী আজম সাব্বিরকে দলের সব দায়িত্ব ও কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দিয়েছে এনসিপি। একই সঙ্গে অভিযোগের বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে তাকে তিন দিনের সময় দিয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশও দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার রাতে এনসিপি বগুড়া জেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক শওকত ইমরানের স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

 

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, আলী আজম সাব্বির এনসিপির শিবগঞ্জ উপজেলা সমন্বয় টিমের সমন্বয়কারী সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

 

এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, এক নারী সাব্বিরকে জুতা দিয়ে আঘাত করছেন। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

 

জানা যায়, আলী আজম সাব্বির বগুড়া কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের (টিটিসি) ড্রাইভিং প্রশিক্ষণ কোর্সের একজন প্রশিক্ষণার্থী। তার বিরুদ্ধে কয়েকজন নারী প্রশিক্ষণার্থীর সঙ্গে অশালীন আচরণ, মোবাইল ফোনে আপত্তিকর বার্তা পাঠানো এবং অশ্লীল ভাষায় কথা বলার অভিযোগ ওঠে।

 

অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৪ মে কয়েকজন নারী প্রশিক্ষণার্থী তাকে টিটিসির একটি কক্ষে আটকে রাখেন। পরে এক নারী প্রশিক্ষণার্থী তাকে জুতা দিয়ে মারেন। এ সময় তিনি নিজের আচরণের জন্য ক্ষমা চান বলে জানা গেছে।

 

বগুড়া টিটিসির প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও জ্যেষ্ঠ প্রশিক্ষক রাশেদুল হাসান শাহীন জানান, ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুতর। অভিযুক্তের কাছ থেকে লিখিত অঙ্গীকারনামা নেওয়া হয়েছে এবং তিনি নিজের দোষ স্বীকার করেছেন। আগামী ১ জুন প্রতিষ্ঠান খোলার পর অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

তিনি আরও জানান, বিষয়টি ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন, পুলিশ ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।

 

এদিকে এনসিপি বগুড়া জেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক শওকত ইমরান বলেন, অভিযোগটি সংগঠনের নজরে আসার পরপরই আলী আজম সাব্বিরকে দলের সব দায়িত্ব ও কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি অভিযোগের বিষয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে তাকে তিন দিনের সময় দেওয়া হয়েছে।

উত্ত্যক্ত করায় এনসিপি নেতাকে জুতাপেটা, দল থেকে অব্যাহতি

সবাই মিলে দেশ গড়ার দায়িত্ব নিতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, দেশ কারও একার না। দেশ যেমন কোনো সরকারের একার না, যেমন কোনো রাজনৈতিক দলের একার না, কোনো পরিবার বা কোনো ব্যক্তির একার না। দেশটি হচ্ছে লাখো-কোটি মানুষের, প্রত্যেকের। তাই এই দেশকে গড়ে তুলতে আমাদের প্রত্যেককে সচেতন হতে হবে।

 

শনিবার (৩০ মে) বিকেলে রাজধানীর জুরাইনে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপি আয়োজিত শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে খাদ্য ও বস্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন।

 

এলাকার মানুষকে উদ্দেশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনি যদি এই এলাকার মানুষ হয়ে থাকেন, আপনি চেষ্টা করবেন আবর্জনা যেখানে-সেখানে না ফেলার জন্য। আবর্জনা সঠিকভাবে ফেলার জন্য। কারণ আজকে যদি মনে করেন, আপনি যে আবর্জনাটা এখানে ফেলেন, এইটুকু আবর্জনা, এক কেজি, আধা কেজি আবর্জনা বা দুই কেজি আবর্জনা– কী হবে? কিন্তু আপনি চিন্তা করেন, এখানে যতগুলো মানুষ, এখানে কয়েক হাজার মানুষ আমরা জড়ো হয়েছি। প্রত্যেকে যদি ১ কেজি করে ময়লা একটা জায়গায় ফেলে, তাহলে কত কেজি ময়লা হবে? না হলে ১০ হাজার কেজি ময়লা হয়ে যাবে। মানে ১০ টন ময়লা।

 

তিনি বলেন, তাহলে পরিচ্ছন্নতা কর্মী তারাও তো মানুষ। তারা হয়ত গরিব মানুষ। তাদেরও পরিষ্কার করতে কষ্ট হয়। কিন্তু আমরা সবাই মিলে যদি চেষ্টা করি, তাহলে আপনি নিজের শহরকে যেমন পরিষ্কার রাখতে পারবেন, সেই পরিচ্ছন্নতা কর্মীও অল্পতেই জায়গাটাকে পরিষ্কার করে ফেলতে পারবে। ঠিক একইভাবে তারও কষ্ট কম হবে। আপনার সন্তানরা, আপনি নিজে, আপনার বাবা-মা, পরিবারের সদস্যরাও একটি পরিষ্কার ও সুন্দর পরিবেশের মধ্যে থাকতে পারবেন।

 

বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, কমবেশি সবাই তো এই ঢাকা শহরেই বাস করেন। এই এলাকায় বাস করেন, তাই না? এখন চিন্তা করেন, এলাকা যদি পরিষ্কার থাকে, তাহলে তো আপনার নিজের কাছেই ভালো লাগবে। ভালো লাগবে না? টিভির পর্দায় যখন অন্যান্য দেশের ছবি দেখেন, সুন্দর রাস্তাঘাট দেখেন, পরিষ্কার রাস্তাঘাট দেখেন, তখন একটু হিংসা হয় না মনের মধ্যে? যে, আমাদের রাস্তাঘাট কেন এত ময়লা হয়? আমার তো হয় ভাই। আমার কিন্তু হিংসা হয় যে, ওই দেশের রাস্তাঘাট এত পরিষ্কার। আমার দেশের রাস্তাঘাট কেন পরিষ্কার না? এখন ওই দেশের যে রাস্তাঘাট পরিষ্কার, এটা তো বাইরে থেকে কেউ এসে করে দিয়ে যায় না। যে দেশের রাস্তাঘাট পরিষ্কার, সে দেশের সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা যেমন পরিষ্কার করে, একইভাবে সে দেশের জনগণও কিন্তু যেখানে-সেখানে ময়লা ফেলে না। এখন আপনি সরকারের কেউ না। এই কাজটি করার জন্য কিন্তু সরকারের কেউ হওয়ার দরকার নেই। এমপি হওয়ার দরকার নেই। মন্ত্রী হওয়ার দরকার নেই। মেয়র হওয়ার দরকার নেই। ওয়ার্ড কমিশনার হওয়ার দরকার নেই। একজন নাগরিক হিসেবে আপনি এই কাজটি করতে পারেন। ময়লাটা আপনার পকেটে নিয়ে নেন। যদি টিস্যু পেপার থাকে, কিছু থাকে, ময়লা নেন। বাদাম খাবেন, তখন বাদামের খোসাটা এমনভাবে এক জায়গায় ফেলেন, যাতে জায়গাটা ময়লা না হয়।

দেশ কারও একার না, তাই গড়ার দায়িত্বও সবার: প্রধানমন্ত্রী

র‌্যাবের চৌকস অভিযানে জীপসহ প্রায় ১১ হাজার ইয়াবার চালান আটক

জামালপুর হামলা পাল্টা হামলার মধ্য দিয়ে জেলার সানন্দবাড়ী তে থমথমে অবস্থা বিরাজমান।

error: আপনি নিউজ চুরি করার চেষ্টা করছেন। বিশেষ প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন ০১৭৬৭৪৪৪৩৩৩
%d