
ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলার জাবরহাট ইউনিয়নের মানিকপীর এলাকায় টাঙ্গন নদীতে গোসল করতে নেমে নিখোঁজ হওয়া নাফিসা (১৬)-এর মরদেহ নিখোঁজের প্রায় ৩০ ঘণ্টা পর উদ্ধার করা হয়েছে।
শনিবার (২৭ জুন) বিকেলে উপজেলার বৈরচুনা-কাটাবাড়ি শিরাইল নামক এলাকায় নদীর তীরে তার মরদেহ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দিলে ফায়ার সার্ভিস এলাকার মানুষ মরদেহ উদ্ধার করে। এর আগে শুক্রবার দুপুরে পারিবারিক সদস্যদের সঙ্গে টাঙ্গন নদীতে গোসল করতে নেমে চারজন পানিতে তলিয়ে যান।
স্থানীয়রা তাৎক্ষণিক উদ্ধার অভিযান চালিয়ে দুজনকে জীবিত উদ্ধার করেন। পরে নাঈম (৭) নামে এক শিশুকে উদ্ধার করে পীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। একই ঘটনায় নাফিসা নিখোঁজ হন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জাবরহাট ইউনিয়নের মানিকপীর গ্রামের রশিদের মেয়ের বিয়ে সম্প্রতি দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলায় হয়। বৃহস্পতিবার তিনি স্বামীকে নিয়ে বাবার বাড়িতে বেড়াতে আসেন। শুক্রবার পরিবারের সদস্য ও স্বজনদের সঙ্গে নদীতে গোসল করতে গিয়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত নাঈম জাবরহাট ইউনিয়নের মানিকপীর গ্রামের সুয়েলের ছেলে। নাফিসা দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার জুলফিকার আলীর মেয়ে।
ঘটনার খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা উদ্ধার অভিযান শুরু করলেও নদীর গভীরতা, তীব্র স্রোত, কচুরিপানা ও পানির নিচে শ্যাওলা থাকায় উদ্ধারকাজে জটিলতা সৃষ্টি হয়। পরে রংপুর থেকে ডুবুরি দল এসে অভিযান চালায়। শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত অনুসন্ধান চালিয়েও নাফিসার সন্ধান না পাওয়ায় অন্ধকার নেমে আসায় অভিযান সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়।
শনিবার সকাল থেকে ডুবুরি দল নৌকার মাধ্যমে নদীর বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি চালালেও মরদেহের সন্ধান মেলেনি।
বিকেলে কাটাবাড়ি শিরাই এলাকায় নদীর তীরে একটি মরদেহ ভাসতে দেখা গেছে—এমন সংবাদ পেয়ে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে পৌঁছে নাফিসার মরদেহ উদ্ধার করে।
পীরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ইকবাল হোসেন প্রামানিক বলেন, “ঘটনার পর থেকেই পুলিশ ঘটনাস্থলে ছিল। শনিবার ডুবুরি দল সারাদিন উদ্ধার অভিযান চালিয়েছে। পরে কাটাবাড়ি শিরাই এলাকা থেকে নাফিসার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।”
Leave a Reply