টাঙ্গাইলে পরী মনি'র বিচারের দাবিতে মানববন্ধন -গণ টিভি - Gono television | বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল।
টাঙ্গাইলে পরী মনি’র বিচারের দাবিতে মানববন্ধন -গণ টিভি

টাঙ্গাইলে পরী মনি’র বিচারের দাবিতে মানববন্ধন -গণ টিভি

আমিনুল ইসলামঃ

পরীমনির দায়েরকৃত মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও তুহিন সিদ্দিকী অমির মুক্তির দাবিতে টাঙ্গাইলের বাসাইলে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।

শনিবার সকাল ১১ টায় ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের গুল্যাহ এলাকায় স্থানীয় ও এলাকাবাসীর ব্যানারে ঘন্টাব্যাপি এ মানববন্ধন পালন করা হয়।

মানববন্ধন চলাকালে বক্তব্য রাখেন, বাসাইল উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কাজী অলিদ ইসলাম, হাবলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান খোরশেদ আলম, স্থানীয় ইউপি সদস্য আকবর আলী, এলাকাবাসী হায়েত আলী, হাজেরা বেগম প্রমুখ।

মানববন্ধনে বিভিন্ন এলাকার এক সহশ্রাধিক নারী পুরুষ অংশ নেয়।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, পরীমনির নতুন নায়িকা। তারপরও তিনি কোটি কোটি টাকার মালিক। এই টাকার উৎস কোথায়? ২০ বছরের মধ্যে আমরা কেউ কোনদিন অভিযোগ পাইনি অমি নারী পাচার করেছে বা কাউকে বিদেশে পাঠানোর নামে প্রতারণা করেছে। অমি একজন ভাল মানুষ। সে ও তার বাবা সমাজ সেবক। তাদের পরিবারের মাধ্যমে মসজিদ, মাদ্রাসা, অসহায় মানুষদের ঘর দেয়া থেকে শুরু করে অনেক সেবা এলাকার মানুষ পাচ্ছে। তারা স্তিমিত হলে এলাকার মানুষ অনেক সেবা থেকে বঞ্চিত হবে। অমি মানব পাচারের সাথে জড়িত নয়। তাকে মিথ্যা ভাবে ফাঁসানো হয়েছে। এই মামলা থেকে তাকে প্রত্যাহার করে মুক্তি দিতে হবে। অন্যথায় টাঙ্গাইল থেকে কঠোর আন্দোলনের ডাক দেওয়া হবে।

প্রসঙ্গত, ৯ জুন মধ্যরাতে সাভারে অবস্থিত ঢাকা বোট ক্লাবে চিত্রনায়িকা পরীমনিকে ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যাচেষ্টা করা হয় বলে পরীমনি অভিযোগ করেন। ঘটনার চার দিন পর রাত ৮টার দিকে ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিয়ে এবং রাত ১১টার দিকে সংবাদ সম্মেলন করে এ ঘটনা প্রকাশ করেন নায়িকা পরীমনি। পরদিন ১৪ জুন সকালে ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদ ও অমিসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে সাভার থানায় মামলা করেন তিনি। ওই দিন বিকেলে উত্তরা থেকে নাসির ও অমিসহ পাঁচজনকে আটক করা হয়। এরপর ডিবির গুলশান জোনাল টিমের এসআই মানিক কুমার সিকদার বাদী হয়ে তাদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করেন। ওই মামলায় ১৫ জুন ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট নিভানা খায়ের জেসি নাসির ও অমির সাতদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।


 

ডেস্ক রিপোর্টঃ মোঃ ওমর ফারুক

 

থাকেন সরকারি আশ্রায়ন প্রকল্পে। পেশায় ভ্যানচালক। স্ত্রীসহ এক ছেলে এবং এক মেয়ে রয়েছে তার। বিশ্বকাপ ফুটবল শুরু হলেই বদলে যান তিনি। স্থানীয় একটি এনজিও থেকে ৫০ হাজার ঋণ নিয়ে আর্জেনটিনা এ ভক্ত সেজেছেন নিজে। সাজিয়েছেন ভ্যান রিকশা সেই সাথে কিনেছেন ১৬টি আর্জেন্টিনার পতাকা।

 

বিশ্বকাপ ফুটবল উন্মাদনায় আর্জেন্টিনার এ ভক্তের নাম সুমন গৌড়। থাকেন ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ পৌর সদরের দত্তপাড়া সরকারি আশ্রয়ন প্রকল্পে। এলাকায় তিনি মেসি সুমন নামে সমধিক পরিচিত। তার রয়েছে স্ত্রী এক মেয়ে এক ছেলে।

বিশ্বকাপ ফুটবল এলেই যেন বদলে যায় তার জীবন।

 

আর্জেন্টিনার নীল-সাদা পতাকা, ব্যানার, ফেস্টুন আর নানা সাজসজ্জায় নিজের বসতিপাড়া সাজিয়ে তুলছেন তিনি। দূর থেকে দেখলে মনে হবে যেন ছোট্ট একটি আর্জেন্টিনা গ্রাম।

 

তবে এই আয়োজনের পেছনের গল্প আরও বিস্ময়কর। আর্জেন্টিনাকে সমর্থন জানাতে স্ত্রী আরতি রাণী ও ছোট ভাইয়ের স্ত্রী পূর্ণিমার নামে গ্রামীণ ব্যাংক থেকে ৫০ হাজার টাকা ঋণ নিয়েছেন সুমন। সেই অর্থ ব্যয় করছেন পতাকা, ব্যানার, রং ও বিভিন্ন সাজসজ্জার কাজে।

 

শুধু তাই নয়, বিশ্বকাপ চলাকালে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের জন্য বিরিয়ানি রান্না করে আপ্যায়নের পরিকল্পনাও রয়েছে তার।

 

নিজস্ব কোনো জমিজমা নেই সুমনের। সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্পের একটি ঘরে স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে বসবাস করেন। জীবিকা নির্বাহ করেন ভ্যান রিকশা চালিয়ে। সংসারে অভাব-অনটন থাকলেও ফুটবলের প্রতি ভালোবাসা আর আর্জেন্টিনার প্রতি আবেগ তাকে থামাতে পারেনি।

 

সুমন বলেন, ছোটবেলা থেকেই আমি আর্জেন্টিনার সমর্থক। এখন সবাই আমাকে সুমন না, ‘মেসি সুমন’ নামেই চেনে। বিশ্বকাপ এলেই আমি চেষ্টা করি আর্জেন্টিনার জন্য কিছু করতে। এটা আমার ভালোবাসা।

 

সুমনের স্ত্রী আরতি রাণী বলেন, ‘অনেক বছর ধরেই স্বামীর আর্জেন্টিনাপ্রেম দেখে আসছি। সংসারে অভাব আছে, তবুও বিশ্বকাপ এলে তিনি সবকিছু ভুলে যান। এত টাকা খরচ করে এসব করা পাগলামি মনে হলেও স্ত্রী হিসেবে মেনে নিয়েছি।’

 

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সুমন খুবই দরিদ্র মানুষ। ভ্যান চালিয়ে কোনোমতে সংসার চালান। কিন্তু বিশ্বকাপ ফুটবল এলেই ঋণ নিয়ে এলাকায় সাজসজ্জা করেন, খাওয়াদাওয়ার আয়োজন করেন। এ কারণেই সবাই তাকে ‘মেসি সুমন’ নামে চেনে।

স্ত্রীর নামে ৫০ হাজার টাকা ঋণ তুলে আর্জেন্টিনার পতাকা-ব্যানারে রাঙালেন ভ্যানচালক

 

বুধবার (১০ জুন) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম এ মামলার রায় দেবেন।

 

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১১ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি তামিমা সুলতানা তাম্মির সঙ্গে রাকিব হোসেনের বিয়ে হয়। তাদের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। বাদীর দাবি, ওই বৈবাহিক সম্পর্ক আইনগতভাবে শেষ হওয়ার আগেই ২০২১ সালে ক্রিকেটার নাসির হোসেনকে বিয়ে করেন তামিমা। ওই বছরের ফেব্রুয়ারিতে নাসির ও তামিমার বিয়ের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি আলোচনায় আসে। পরে ২৪ ফেব্রুয়ারি ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে মামলা করেন রাকিব হোসেন।

 

তবে শুরু থেকেই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন নাসির হোসেন ও তামিমা সুলতানা। তাদের দাবি, আগের বৈবাহিক সম্পর্ক আইন অনুযায়ী শেষ হওয়ার পরই তারা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন।

 

বাদীপক্ষের আইনজীবী ইসরাত হাসান ইসরাত হাসান বলেন, আমরা চাই, আসামিদের শাস্তির মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হোক। পাঁচ বছরের বেশি সময় ধরে মামলার বিচার চলেছে। বিভিন্ন বিষয় চ্যালেঞ্জ করে তারা উচ্চ আদালতে রিভিশন করেছে। ১০ জন সাক্ষীর মাধ্যমে মামলার অভিযোগ প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছি।

 

তিনি আরও বলেন, সর্বোচ্চ শাস্তির মাধ্যমে ন্যায়বিচার নিশ্চিত হবে আশা করছি। নাসির হোসেনের বিরুদ্ধে দুই ধারায় ও তামিমার বিরুদ্ধে তিন ধারায় অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে নাসিরের সর্বোচ্চ সাত বছর ও তামিমার সর্বোচ্চ ২১ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে।

 

অপরদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু বলেন, আমাদের আশা পজিটিভ। আসামিরা খালাস পাবেন আশা করছি। তারা কেন খালাস পাবেন যুক্তিতর্কে তুলে ধরেছি।

 

রায় শুনতে নাসির-তামিমা আদালতে আসবেন কি না জানতে চাইলে বলেন, আশা করি, আসবেন।

 

মামলার বাদী রাকিব বলেন, ইনশাআল্লাহ, ন্যায় বিচার হোক। এ ধরনের কাজ যেন আর না হয়। রায়ের মাধ্যমে একটা ম্যানেজ যাক সমাজে। আমার সাথে যেমনটা ঘটেছে, যেন আর কারও সঙ্গে এমনটা না হয়।

 

এ বিষয়ে নাসির হোসেনের বক্তব্য শুনতে তার মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তা বন্ধ পাওয়া যায়।

নাসির-তামিমা মামলার রায় আজ, অভিযোগ প্রমাণে হতে পারে কোন সাজা?

ফরিদপুরের চরভদ্রাসনে পদ্মা নদীতে যাত্রীবাহী স্পিডবোট আটকে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (৯ জুন) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার চর ঝাউকান্দা ইউনিয়ন সীমান্তে পদ্মা নদীতে এ ঘটনা ঘটে।

 

এ ঘটনায় আট থেকে ১০ জনের একটি ডাকাতদল এক ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে নগদ টাকা, মুঠোফোন এবং স্পিডবোটের চার লক্ষাধিক টাকার ইঞ্জিনসহ যন্ত্রপাতি খুলে নিয়ে গেছে।

 

ডাকাতির শিকার ব্যবসায়ী চরভদ্রাসন সদর ইউনিয়নের মৌলভীরচর কারিকরডাঙ্গী গ্রামের বাসিন্দা কোমর মোল্লার ছেলে লিটন মোল্লা (৩২)। তাকে স্থানীয় জেলেরা উদ্ধার করে ঢাকার দোহার উপজেলার একটি হাসপাতালে ভর্তি করেন। ডাকাতির সময় স্পিডবোট রেখে কাশবনে পালিয়ে রক্ষা পান স্পিডবোটের চালক সঞ্জিত খালাসী (৩৯)। তিনি চরভদ্রাসন সদর ইউনিয়নের খালাসীডাঙ্গী গ্রামের বাসিন্দা অভি খালাসীর ছেলে। পরে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে চরভদ্রাসনে আনে।

 

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার বিকেলে আটজন গরু ব্যবসায়ীকে চরভদ্রাসন উপজেলা সদরের গোপালপুর ঘাট থেকে ঢাকা জেলার দোহার উপজেলার মৈনট ঘাটে নামিয়ে দেন স্পিডবোটচালক সঞ্জিত খালাসী। ওই আট ব্যবসায়ী গতকাল ফরিদপুর শহরের টেপাখোলা গরুর হাট থেকে ব্যবসা কার্যক্রম শেষ করে ঢাকায় বাড়িতে ফিরছিলেন। তাদের মৈনট ঘাটে নামিয়ে আবার গোপালপুর ঘাটে ফেরার পথে স্পিডবোটে একমাত্র যাত্রী ছিলেন লিটন মোল্লা। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে স্পিডবোটটি ঢাকা জেলা সীমান্ত থেকে চরভদ্রাসন সীমান্তে প্রবেশ করলে স্থানীয় ফারুক মোল্লার চরের পাশে একটি ডাবল ইঞ্জিনের স্পিডবোট নিয়ে সঞ্জিতের স্পিডবোটকে ধাওয়া করে।পরে পেছন থেকে এসে স্পিডবোটটির গতিরোধের চেষ্টা করে ডাকাতদল। পরে সঞ্জিত স্পিডবোটটি ফারুক মোল্লার চরে ভিড়িয়ে নিজে কাশবনে পালিয়ে যান। এ সময় বোটের একমাত্র যাত্রী লিটন মোল্লাকে ডাকাতরা অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে মুঠোফোন ও নগদ কয়েক হাজার টাকা নিয়ে যায়। পাশাপাশি স্পিডবোটের ইঞ্জিনসহ যন্ত্রাংশও খুলে নিয়ে যায়। ডাকাতদল চলে যাওয়ার সময় লিটনের বাম বাহুতে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করে ফেলে যায়। পরে স্থানীয় জেলেরা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।

 

 

তিনি আরও বলেন, আমরা খোঁজ নিচ্ছি। সংঘবদ্ধ ডাকাতদলের বিরুদ্ধে অবশ্যই আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পদ্মা নদীতে স্পিডবোট আটকে ডাকাতি

মানিকগঞ্জে ব্রাজিলের পতাকা টানাতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ফয়সাল (১৮) নামের এক কিশোরের মৃত্যু হয়েছে।

 

মঙ্গলবার (০৯ জুন) সদর উপজেলার ভাটবাউর এলাকার তাসনুভা ফিলিং স্টেশনের আম গাছে পতাকা টানাতে গিয়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

 

নিহত ফয়সাল ভাটবাউর এলাকার মুন্নু মিয়ার ছেলে। তিনি ফয়সাল ফিলিং স্টেশনে চাকরি করতেন।

 

পুলিশ ও স্থানিয়দের সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার বিকেলে ফয়সাল ফুটবল বিশ্বকাপ খেলাকে কেন্দ্র করে তার প্রিয় দল ব্রাজিলকে সমর্থন করে পতাকা টানানোর জন্য আমগাছে উঠেন। গাছের পাশ দিয়েই বিদ্যুৎতের তার ছিল।

 

ফয়সাল পতাকা টানানোর সময় তার গায়ে বিদ্যুৎতের তারের সঙ্গে শরীর লেগে বিদ্যুৎ স্পৃষ্ট হয়ে গাছ থেকে পড়ে যায়। পরে আশে পাশের লোকজন ফয়সালকে উদ্ধার করে জেলার ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক ফয়সালকে মৃত ঘোষণা করেন।

 

সদর থানার ওসি মো. মনির হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ফয়সাল ব্রাজিলের পতাকা টানাতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা গেছেন। আমরা তার মৃতদেহ উদ্ধার করে হাসপাতালের মর্গে রেখেছি। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রীয়াধীন।

ব্রাজিলের পতাকা টানাতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট কিশোরের মৃত্যু

ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান খুরশিদ আলমের পতত্যাগের দাবিতে আজ নীলফামারীতে অবস্থান কর্মসূচি

 

মাইদুল ইসলাম: (জেলা প্রতিনিধি নীলফামারী)

ইসলামী ব্যাংকের সদস্য নিয়োগপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোঃ খুরশিদ আলমের অপসারণ ও গ্রাহকদের উপর পুলিশ হামলার প্রতিবাদে নীলফামারীতে অবস্থান কর্মসূচি পালিত হয়েছে। আজ মঙ্গলবার

(৯ জুন) সকাল ১১ টায় ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরাম নীলফামারী জেলা শাখার উদ্যোগে ঘন্টা ব্যাপী এই কর্মসূচি পালিত হয়। এসময় ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরাম নীলফামারী জেলা শাখার সদস্য ময়নুল ইসলামের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন সচেতন গ্রাহক ফোরামের যুগ্ন আহবায়ক নূর মোহাম্মদ সিদ্দিকী, সদস্য সচিব আরিফ আল মামুন, সদস্য মাওলানা নাজমুল হুদা, নূর মোহাম্মদ প্রমুখ। বক্তারা বলেন ইসলামী ব্যাংকের

শতশত গ্রাহক মরতে রাজি আছে, কিন্তু ব্যাংক লুটেরাদের হাতে গ্রাহকদের আমানত তুলে দিতে রাজি নয়। অবিলম্বে ইসলামী ব্যাংক থেকে ফ্যাসিবাদের দোসর খুরশিদ আলমের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ বাতিল করতে হবে। তা না হলে ইসলামী ব্যাংকের কোটি কোটি গ্রাহক রাজপথে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলবে। ইসলামী ব্যাংক নীলফামারী শাখা কার্যালয়ের সামনে অনুষ্ঠিত অবস্থান কর্মসূচিতে ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহক ছাড়াও বিভিন্ন শ্রেণী পেশার বিপুল সংখ্যক মানুষ অংশ নেয়।

ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান খুরশিদ আলমের পতত্যাগের দাবিতে আজ নীলফামারীতে অবস্থান কর্মসূচি 

কাশিমপুরে অপহরণ মামলায় স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা আটক।

 

মোঃ সাহাজুদ্দিন সরকার, ক্রাইম রিপোর্টার গাজীপুর ।

 

গাজীপুর মহানগরীর কাশিমপুর বাগবাড়ি এলাকার আলোচিত মতিন অপহরণের ঘটনায় ৩ নং ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবকদল নেতা এস.কে রানা ওরফে সোহেল রানাকে আটক করছে থানা পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২৭ মার্চ দুপুরের দিকে মহানগরীর সুরাবাড়ি এলাকা থেকে মতিন নামের এক ব্যক্তিকে অপহরণ করে একটি সাদা প্রাইভেটকার যোগে সারদাগঞ্জ এলাকায় অবস্থান করে অপহরণ চক্রটি। পরে চক্রর সদস্যরা অপহৃত মতিনকে মুক্তির বিনিময়ে তার পরিবারের কাছে ১০ লক্ষ টাকা দাবি করে মুঠোফোনে ফোন দেয়।

এসময় অপর এক মামলার আসামীকে আটকের উদ্দেশ্যে কাশিমপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মোল্লা মোঃ খালিদ হোসেন একই এলাকায় গেলে নির্জন স্থানে প্রাইভেটকার ও অপহরণকারীদের দেখে সন্দেহ হলে তাদেরকে ধাওয়া দেয়। পরে অপহৃত ব্যক্তিকে উদ্ধার করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি জানান, অপহরণকারী চক্রটি ১০ লক্ষ টাকা মুক্তিপণের বিনিময়ে তাকে ছেড়ে দিবে বলে পরিবারকে দ্রুত টাকা পাঠানোর জন্য চাপ দেয়। কিন্তু থানা পুলিশের দ্রুত তৎপরতায় তাদের পরিকল্পনা ভেস্তে যায়।

এ বিষয়ে কাশিমপুর থানায় একটি অপহরণ মামলা দায়ের হলে এজাহারভুক্ত আসামী ৩ নং ওয়ার্ড বিএনপির ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক বিল্লাল দেওয়ানকে আটক করে। বর্তমানে তিনি জামিনে রয়েছেন বলেও জানা যায়।

সোমবার (৮ জুন) একই ঘটনায় ৩নং ওয়ার্ড বিএনপির সদস্য ও স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা এস.কে রানা ওরফে সোহেল রানাকে হাতীমারার বর্ষাডাঙা এলাকা থেকে আটক করা হয়।

এ বিষয়ে কাশিমপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মোল্লা মোঃ খালিদ হোসেন জানান, অপহরণের ঘটনায় স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা সোহেল রানা সহ অপর দুটি মামলায় আরও দুইজন আসামীকে আটক করে আজ বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

কাশিমপুরে অপহরণ মামলায় স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা আটক

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি আবদুল্লাহ আল ফাহাদের বিরুদ্ধে একটি প্রাইভেট কারের চালককে মারধর করে গাড়ি ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। আজ মঙ্গলবার (৯ জুন) দুপুরে পৌর শহরে সদর রোডে এ ঘটনা ঘটে। এতে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং একপর্যায়ে সড়কে যানজটেরও সৃষ্টি হয়। এ ঘটনায় কারণ দর্শানো নোটিশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল।

 

প্রত্যক্ষদর্শী ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ব্যবসায়ী রাজিব হোসেন তার এক বন্ধুকে নিয়ে ব্যক্তিগত গাড়িতে করে কালাইয়া পূবালী ব্যাংকে টাকা জমা দেওয়ার উদ্দেশে যাচ্ছিলেন। গাড়িটি চালক মো. শাহিন মিয়া চালাচ্ছিলেন। শাহিনের দাবি যানজট সৃষ্টি হলে গাড়ির পেছন দিক থেকে ফাহাদ তার মোটরসাইকেল দিয়ে কয়েক দফা ধাক্কা দেন। শাহিন ধাক্কা দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে ফাহাদ মোটরসাইকেল সড়কের পাশে রেখে তাকে মারধর শুরু করেন।

 

ঘটনাস্থলে উপস্থিত সাংবাদিকরা ভিডিও ধারণ করতে গেলে তাদের বাধা দেওয়া হয় বলে অভিযোগ ওঠে। সাংবাদিকদের দাবি, তাদের উদ্দেশে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয় এবং ভিডিও ধারণ বন্ধ করতে হুমকি দেওয়া হয়। এ ঘটনায় ছাত্রদল কর্মী সাজিদের নামও উঠে এসেছে। তার বিরুদ্ধে সাংবাদিকদের ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং ভিডিও ধারণ বন্ধে চাপ প্রয়োগের অভিযোগ রয়েছে।

 

প্রাইভেটকারের চালক অভিযোগ করে বলেন, তার গাড়ি অভিযুক্তের গাড়ির পাশ দিয়ে যাওয়ার পর আব্দুল আল ফাহাদ ক্ষুব্ধ হন। পরে তাকে থামিয়ে কথা বলার সময় মারধর করা হয় এবং গাড়ির কাগজপত্র দেখতে চাওয়া হয়।

 

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আব্দুল আল ফাহাদ। নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে দেওয়া বক্তব্যে তিনি দাবি করেন, ঘটনার সময় তিনি স্ত্রীকে নিয়ে যাত্রাপথে ছিলেন। একটি প্রাইভেটকার তার গাড়ির খুব কাছ দিয়ে যাওয়ায় স্ত্রীর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। এ বিষয়ে কথা বলতে গেলে ওই গাড়ির চালক তার হাত ধরেন বলে তিনি দাবি করেন। এরপর তিনি গাড়ির কাগজপত্র দেখতে চান। মারধর, সাংবাদিকদের হুমকি এবং গালিগালাজের অভিযোগ তিনি নাকচ করেন।

 

এদিকে ছাত্রদল কর্মী সাজিদ বলেন, ঘটনার সময় উপজেলা ছাত্রদল সভাপতির সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, সভাপতির স্ত্রী গর্ভবতী ছিলেন এবং ওই পরিস্থিতিতে যে কেউ উত্তেজিত হয়ে পড়তে পারতেন। তবে সাংবাদিকদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও তিনি অস্বীকার করেন।

ড্রাইভারকে মারধর ও গাড়ি ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উপজেলা ছাত্রদল সভাপতির বিরুদ্ধে

 

ডেস্ক রিপোর্টঃ মোঃ ওমর ফারুক

 

থাকেন সরকারি আশ্রায়ন প্রকল্পে। পেশায় ভ্যানচালক। স্ত্রীসহ এক ছেলে এবং এক মেয়ে রয়েছে তার। বিশ্বকাপ ফুটবল শুরু হলেই বদলে যান তিনি। স্থানীয় একটি এনজিও থেকে ৫০ হাজার ঋণ নিয়ে আর্জেনটিনা এ ভক্ত সেজেছেন নিজে। সাজিয়েছেন ভ্যান রিকশা সেই সাথে কিনেছেন ১৬টি আর্জেন্টিনার পতাকা।

 

বিশ্বকাপ ফুটবল উন্মাদনায় আর্জেন্টিনার এ ভক্তের নাম সুমন গৌড়। থাকেন ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ পৌর সদরের দত্তপাড়া সরকারি আশ্রয়ন প্রকল্পে। এলাকায় তিনি মেসি সুমন নামে সমধিক পরিচিত। তার রয়েছে স্ত্রী এক মেয়ে এক ছেলে।

বিশ্বকাপ ফুটবল এলেই যেন বদলে যায় তার জীবন।

 

আর্জেন্টিনার নীল-সাদা পতাকা, ব্যানার, ফেস্টুন আর নানা সাজসজ্জায় নিজের বসতিপাড়া সাজিয়ে তুলছেন তিনি। দূর থেকে দেখলে মনে হবে যেন ছোট্ট একটি আর্জেন্টিনা গ্রাম।

 

তবে এই আয়োজনের পেছনের গল্প আরও বিস্ময়কর। আর্জেন্টিনাকে সমর্থন জানাতে স্ত্রী আরতি রাণী ও ছোট ভাইয়ের স্ত্রী পূর্ণিমার নামে গ্রামীণ ব্যাংক থেকে ৫০ হাজার টাকা ঋণ নিয়েছেন সুমন। সেই অর্থ ব্যয় করছেন পতাকা, ব্যানার, রং ও বিভিন্ন সাজসজ্জার কাজে।

 

শুধু তাই নয়, বিশ্বকাপ চলাকালে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের জন্য বিরিয়ানি রান্না করে আপ্যায়নের পরিকল্পনাও রয়েছে তার।

 

নিজস্ব কোনো জমিজমা নেই সুমনের। সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্পের একটি ঘরে স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে বসবাস করেন। জীবিকা নির্বাহ করেন ভ্যান রিকশা চালিয়ে। সংসারে অভাব-অনটন থাকলেও ফুটবলের প্রতি ভালোবাসা আর আর্জেন্টিনার প্রতি আবেগ তাকে থামাতে পারেনি।

 

সুমন বলেন, ছোটবেলা থেকেই আমি আর্জেন্টিনার সমর্থক। এখন সবাই আমাকে সুমন না, ‘মেসি সুমন’ নামেই চেনে। বিশ্বকাপ এলেই আমি চেষ্টা করি আর্জেন্টিনার জন্য কিছু করতে। এটা আমার ভালোবাসা।

 

সুমনের স্ত্রী আরতি রাণী বলেন, ‘অনেক বছর ধরেই স্বামীর আর্জেন্টিনাপ্রেম দেখে আসছি। সংসারে অভাব আছে, তবুও বিশ্বকাপ এলে তিনি সবকিছু ভুলে যান। এত টাকা খরচ করে এসব করা পাগলামি মনে হলেও স্ত্রী হিসেবে মেনে নিয়েছি।’

 

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সুমন খুবই দরিদ্র মানুষ। ভ্যান চালিয়ে কোনোমতে সংসার চালান। কিন্তু বিশ্বকাপ ফুটবল এলেই ঋণ নিয়ে এলাকায় সাজসজ্জা করেন, খাওয়াদাওয়ার আয়োজন করেন। এ কারণেই সবাই তাকে ‘মেসি সুমন’ নামে চেনে।

স্ত্রীর নামে ৫০ হাজার টাকা ঋণ তুলে আর্জেন্টিনার পতাকা-ব্যানারে রাঙালেন ভ্যানচালক

 

জিএসটি গুচ্ছভুক্ত ২০ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাথমিক ভর্তির প্রথম পর্যায় শেষ হচ্ছে আজ বুধবার (১০ জুন) শেষ হচ্ছে। গত ৭ হতে এ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। জিএসটি ওয়েবসাইটের মাধ্যমে ভর্তি ও সশরীরে কাগজপত্র জমা দিয়ে ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে বলেছে কর্তৃপক্ষ।

 

জিএসটির ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, জিএসটি (সাধারণ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি) গুচ্ছভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের প্রথম পর্যায়ের প্রাথমিক ভর্তি প্রক্রিয়া ৭ জুন হতে ১০ জুনের মধ্যে জিএসটি ওয়েবসাইটের (https://gstadmission.ac.bd/) মাধ্যমে নির্ধারিত সময়সূচী অনুযায়ী সম্পন্ন করতে হবে।

 

প্রাথমিক ভর্তি ফি (৫০০০ টাকা) প্রদান: ০৭ জুন দুপুর ১২টা হতে ১০ জুন রাত ১১টা ৫৯মিনিট পর্যন্ত।

 

মূল কাগজপত্র জমা: ৮ জুন হতে ১১ জুন প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত এসএসসি ও এইচএসসি বা সমমান পরীক্ষার মূল নম্বরপত্রসমূহ (একটি এফোর সাইজ খামে ভরে খামের উপর আবেদনকারীর জিএসটি রোল নম্বর লিখে খামসহ) জিএসটি গুচ্ছভুক্ত ২০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের যে কোন একটিতে সশরীরে উপস্থিত হয়ে জমা দিতে হবে।

 

গুচ্ছভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে রয়েছে- ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।

 

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়, রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়, ইউনিভার্সিটি অব ফ্রন্টিয়ার টেকনোলজি, নেত্রকোণা বিশ্ববিদ্যালয়, জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, কিশোরগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়, সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, পিরোজপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়।

জিএসটি গুচ্ছের প্রথম পর্যায়ের প্রাথমিক ভর্তি শেষ হচ্ছে আজ

 

বুধবার (১০ জুন) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম এ মামলার রায় দেবেন।

 

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১১ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি তামিমা সুলতানা তাম্মির সঙ্গে রাকিব হোসেনের বিয়ে হয়। তাদের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। বাদীর দাবি, ওই বৈবাহিক সম্পর্ক আইনগতভাবে শেষ হওয়ার আগেই ২০২১ সালে ক্রিকেটার নাসির হোসেনকে বিয়ে করেন তামিমা। ওই বছরের ফেব্রুয়ারিতে নাসির ও তামিমার বিয়ের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি আলোচনায় আসে। পরে ২৪ ফেব্রুয়ারি ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে মামলা করেন রাকিব হোসেন।

 

তবে শুরু থেকেই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন নাসির হোসেন ও তামিমা সুলতানা। তাদের দাবি, আগের বৈবাহিক সম্পর্ক আইন অনুযায়ী শেষ হওয়ার পরই তারা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন।

 

বাদীপক্ষের আইনজীবী ইসরাত হাসান ইসরাত হাসান বলেন, আমরা চাই, আসামিদের শাস্তির মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হোক। পাঁচ বছরের বেশি সময় ধরে মামলার বিচার চলেছে। বিভিন্ন বিষয় চ্যালেঞ্জ করে তারা উচ্চ আদালতে রিভিশন করেছে। ১০ জন সাক্ষীর মাধ্যমে মামলার অভিযোগ প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছি।

 

তিনি আরও বলেন, সর্বোচ্চ শাস্তির মাধ্যমে ন্যায়বিচার নিশ্চিত হবে আশা করছি। নাসির হোসেনের বিরুদ্ধে দুই ধারায় ও তামিমার বিরুদ্ধে তিন ধারায় অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে নাসিরের সর্বোচ্চ সাত বছর ও তামিমার সর্বোচ্চ ২১ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে।

 

অপরদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু বলেন, আমাদের আশা পজিটিভ। আসামিরা খালাস পাবেন আশা করছি। তারা কেন খালাস পাবেন যুক্তিতর্কে তুলে ধরেছি।

 

রায় শুনতে নাসির-তামিমা আদালতে আসবেন কি না জানতে চাইলে বলেন, আশা করি, আসবেন।

 

মামলার বাদী রাকিব বলেন, ইনশাআল্লাহ, ন্যায় বিচার হোক। এ ধরনের কাজ যেন আর না হয়। রায়ের মাধ্যমে একটা ম্যানেজ যাক সমাজে। আমার সাথে যেমনটা ঘটেছে, যেন আর কারও সঙ্গে এমনটা না হয়।

 

এ বিষয়ে নাসির হোসেনের বক্তব্য শুনতে তার মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তা বন্ধ পাওয়া যায়।

নাসির-তামিমা মামলার রায় আজ, অভিযোগ প্রমাণে হতে পারে কোন সাজা?

 

জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে নারায়ণগঞ্জে ১০ জনকে হত্যার ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক এমপি শামীম ওসমানসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে সূচনা বক্তব্য উপস্থাপনের মধ্য দিয়ে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরুর দিন ধার্য রয়েছে আজ।

 

বুধবার (১০ জুন) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে সূচনা বক্তব্য উপস্থাপন করবে প্রসিকিউশন

 

এ মামলায় সব আসামিই পলাতক রয়েছেন। শামীম ওসমান ছাড়া অন্যরা হলেন—শামীম ওসমানের ছেলে ইমতিনান ওসমান অয়ন, ভাতিজা আজমেরী ওসমান, অয়নের শ্যালক মিনহাজ উদ্দিন আহমেদ ভিকি, নারায়ণগঞ্জ রাইফেলস ক্লাবের সাবেক সভাপতি তানভীর আহমেদ টিটু, বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ডিবিসির নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি রাজু আহমেদ, ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর আব্দুল করিম বাবু, ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর কামরুল হাসান মুন্না, নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক শাহ নিজাম উদ্দিন আহমেদ, যুবলীগ নেতা শাহাদাত হোসেন সাজনু, ছাত্রলীগ নেতা হাবিবুর রহমান রিয়াদ ও সোহানুর রহমান শুভ্র।

 

এর আগে, ১৩ মে প্রসিকিউশনের আনা তিনটি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে ১২ জনের বিরুদ্ধে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-১। একইসঙ্গে সূচনা বক্তব্যসহ সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আজকের দিন ধার্য করা হয়।

তিনটি অভিযোগ অনুযায়ী, প্রথম অভিযোগে ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার চাষাঢ়া, ফতুল্লা থানাধীন সাইনবোর্ডসহ আশপাশের এলাকায় কিশোর আদিল, ইয়াছিন, শিক্ষার্থী পারভেজ, পোশাককর্মী রাসেল, ছয় বছরের শিশু রিয়াসহ ছয়জনকে হত্যা করা হয়। দ্বিতীয় অভিযোগ অনুযায়ী ২১ জুলাই ফতুল্লা থানাধীন ভূইগড় বাসস্ট্যান্ডের সামনে আবদুর রহমান ও মোহাম্মদ রাকিবকে হত্যা করা হয়। এছাড়া তৃতীয় অভিযোগে ৫ আগস্ট বদিউজ্জামান ও আবুল হাসানকে হত্যার কথা উল্লেখ করে প্রসিকিউশন।

 

মানবতাবিরোধী অপরাধে শামীম ওসমানসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু আজ

মানবতাবিরোধী অপরাধে শামীম ওসমানসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু আজ

ফরিদপুরের চরভদ্রাসনে পদ্মা নদীতে যাত্রীবাহী স্পিডবোট আটকে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (৯ জুন) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার চর ঝাউকান্দা ইউনিয়ন সীমান্তে পদ্মা নদীতে এ ঘটনা ঘটে।

 

এ ঘটনায় আট থেকে ১০ জনের একটি ডাকাতদল এক ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে নগদ টাকা, মুঠোফোন এবং স্পিডবোটের চার লক্ষাধিক টাকার ইঞ্জিনসহ যন্ত্রপাতি খুলে নিয়ে গেছে।

 

ডাকাতির শিকার ব্যবসায়ী চরভদ্রাসন সদর ইউনিয়নের মৌলভীরচর কারিকরডাঙ্গী গ্রামের বাসিন্দা কোমর মোল্লার ছেলে লিটন মোল্লা (৩২)। তাকে স্থানীয় জেলেরা উদ্ধার করে ঢাকার দোহার উপজেলার একটি হাসপাতালে ভর্তি করেন। ডাকাতির সময় স্পিডবোট রেখে কাশবনে পালিয়ে রক্ষা পান স্পিডবোটের চালক সঞ্জিত খালাসী (৩৯)। তিনি চরভদ্রাসন সদর ইউনিয়নের খালাসীডাঙ্গী গ্রামের বাসিন্দা অভি খালাসীর ছেলে। পরে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে চরভদ্রাসনে আনে।

 

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার বিকেলে আটজন গরু ব্যবসায়ীকে চরভদ্রাসন উপজেলা সদরের গোপালপুর ঘাট থেকে ঢাকা জেলার দোহার উপজেলার মৈনট ঘাটে নামিয়ে দেন স্পিডবোটচালক সঞ্জিত খালাসী। ওই আট ব্যবসায়ী গতকাল ফরিদপুর শহরের টেপাখোলা গরুর হাট থেকে ব্যবসা কার্যক্রম শেষ করে ঢাকায় বাড়িতে ফিরছিলেন। তাদের মৈনট ঘাটে নামিয়ে আবার গোপালপুর ঘাটে ফেরার পথে স্পিডবোটে একমাত্র যাত্রী ছিলেন লিটন মোল্লা। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে স্পিডবোটটি ঢাকা জেলা সীমান্ত থেকে চরভদ্রাসন সীমান্তে প্রবেশ করলে স্থানীয় ফারুক মোল্লার চরের পাশে একটি ডাবল ইঞ্জিনের স্পিডবোট নিয়ে সঞ্জিতের স্পিডবোটকে ধাওয়া করে।পরে পেছন থেকে এসে স্পিডবোটটির গতিরোধের চেষ্টা করে ডাকাতদল। পরে সঞ্জিত স্পিডবোটটি ফারুক মোল্লার চরে ভিড়িয়ে নিজে কাশবনে পালিয়ে যান। এ সময় বোটের একমাত্র যাত্রী লিটন মোল্লাকে ডাকাতরা অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে মুঠোফোন ও নগদ কয়েক হাজার টাকা নিয়ে যায়। পাশাপাশি স্পিডবোটের ইঞ্জিনসহ যন্ত্রাংশও খুলে নিয়ে যায়। ডাকাতদল চলে যাওয়ার সময় লিটনের বাম বাহুতে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করে ফেলে যায়। পরে স্থানীয় জেলেরা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।

 

 

তিনি আরও বলেন, আমরা খোঁজ নিচ্ছি। সংঘবদ্ধ ডাকাতদলের বিরুদ্ধে অবশ্যই আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পদ্মা নদীতে স্পিডবোট আটকে ডাকাতি

জ্বালানি খাতে বাংলাদেশকে বড় অঙ্কের ঋণ দিচ্ছে জাপান। এ খাতে অর্থনৈতিক সহনশীলতা বাড়ানো এবং স্থিতিশীল জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে ঢাকাকে ঋণ হিসেবে ৩১ কোটি ২০ লাখ ডলার দিচ্ছে টোকিও।

 

মঙ্গলবার (০৯ জুন) জাপানের সঙ্গে সহজ শর্তের এ ঋণ সংক্রান্ত দুটি নথিতে স্বাক্ষর করেছে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি)। ঢাকায় জাপান দূতাবাস সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

 

দূতাবাস জানিয়েছে, জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিতে জরুরি সহায়তার বিষয়ক ‘এক্সচেঞ্জ অব নোটস’- এ স্বাক্ষর করেন জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনিচি। ঋণচুক্তিতে সই করেন ঢাকায় জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) প্রধান প্রতিনিধি তাকাহাসি জুনকো। ইআরডি সচিব শাহ্‌রিয়ার কাদের ছিদ্দিকী বাংলাদেশের পক্ষে দুই নথিতে স্বাক্ষর করেন।

 

দূতাবাসের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এই দুই চুক্তির আওতায় বাংলাদেশকে ৫০ বিলিয়ন ইয়েনের অফিসিয়াল ডেভেলপমেন্ট অ্যাসিস্ট্যান্স (ওডিএ) দেবে জাপান, যার আনুমানিক পরিমাণ ৩১২ মিলিয়ন ডলার।

 

জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদাকে উদ্ধৃত করে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এই চুক্তি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে দাঁড়ানো বাংলাদেশের সঙ্গে জাপানের অবিচল অংশীদারত্বের স্পষ্ট প্রতিফলন। দুদেশের কৌশলগত অংশীদারত্ব আওতায় এবং জাপানের অবাধ ও উন্মুক্ত ইন্দো-প্যাসিফিক লক্ষ্য অর্জনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ মুখ্য অংশীদার।

জ্বালানি খাতে বাংলাদেশকে ৩১ কোটি ডলার ঋণ দিচ্ছে জাপান

মানিকগঞ্জে ব্রাজিলের পতাকা টানাতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ফয়সাল (১৮) নামের এক কিশোরের মৃত্যু হয়েছে।

 

মঙ্গলবার (০৯ জুন) সদর উপজেলার ভাটবাউর এলাকার তাসনুভা ফিলিং স্টেশনের আম গাছে পতাকা টানাতে গিয়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

 

নিহত ফয়সাল ভাটবাউর এলাকার মুন্নু মিয়ার ছেলে। তিনি ফয়সাল ফিলিং স্টেশনে চাকরি করতেন।

 

পুলিশ ও স্থানিয়দের সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার বিকেলে ফয়সাল ফুটবল বিশ্বকাপ খেলাকে কেন্দ্র করে তার প্রিয় দল ব্রাজিলকে সমর্থন করে পতাকা টানানোর জন্য আমগাছে উঠেন। গাছের পাশ দিয়েই বিদ্যুৎতের তার ছিল।

 

ফয়সাল পতাকা টানানোর সময় তার গায়ে বিদ্যুৎতের তারের সঙ্গে শরীর লেগে বিদ্যুৎ স্পৃষ্ট হয়ে গাছ থেকে পড়ে যায়। পরে আশে পাশের লোকজন ফয়সালকে উদ্ধার করে জেলার ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক ফয়সালকে মৃত ঘোষণা করেন।

 

সদর থানার ওসি মো. মনির হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ফয়সাল ব্রাজিলের পতাকা টানাতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা গেছেন। আমরা তার মৃতদেহ উদ্ধার করে হাসপাতালের মর্গে রেখেছি। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রীয়াধীন।

ব্রাজিলের পতাকা টানাতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট কিশোরের মৃত্যু

নেত্রকোণা সদর উপজেলার চল্লিশা ইউনিয়নে ভাত দিতে দেরি হওয়াকে কেন্দ্র করে মাকে শাবল দিয়ে আঘাত করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে ছেলের বিরুদ্ধে। ঘটনার পর অভিযুক্ত ছেলে শ্যামল রাজভরকে (২৪) স্থানীয়রা আটক করে পুলিশে।

 

মঙ্গলবার (৯ জুন) বিকেলে চল্লিশা ইউনিয়ন পরিষদসংলগ্ন মগরা নদীর তীরবর্তী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

 

নিহত নারী আবুনি রাজভর (৫০) সদর উপজেলার চল্লিশা ইউনিয়নের বাসিন্দা শ্যামলাল রাজভরের স্ত্রী।

 

স্থানীয়রা জানান, আবুনি রাজভর তার পরিবারের সঙ্গে ইউনিয়ন পরিষদের বিপরীত পাশে মগরা নদীর তীরে একটি টিনশেড ঘরে বসবাস করতেন। দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত শ্যামল মানসিকভাবেও কিছুটা ভারসাম্যহীন ছিল। মঙ্গলবার দুপুরে শ্যামল তার মায়ের কাছে ভাত খেতে চায়। এ সময় আবুনি রাজভর তাকে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করতে বললে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে এবং মাকে গালিগালাজ করতে থাকে। একপর্যায়ে ঘরে থাকা একটি লোহার শাবল দিয়ে মায়ের মাথায় আঘাত করে। গুরুতর আহত

 

স্থানীয় লোকজন দ্রুত তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার উদ্যোগ নিলেও ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পরে এলাকাবাসী অভিযুক্ত শ্যামলকে আটক করে পুলিশে খবর দেয়।

 

নেত্রকোণা থানার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সজল কুমার সরকার বলেন, নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নেত্রকোণা ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা হাসপাতাল মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। অভিযুক্ত শ্যামল রাজভরকে থানা হেফাজতে রাখা হয়েছে এবং এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

নেত্রকোণায় খাবার দিতে দেরি হওয়ায় শাবলের আঘাতে মাকে হত্যা

সস্তায় ফ্ল্যাট কেনার স্বপ্ন শেষ পর্যন্ত এক চীনা নাগরিকের জন্য দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে। ২০১৩ সালে এক ব্যক্তি চীনে বহুতল ভবনের ৩৪তম তলায় ফ্ল্যাট কিনেছিলেন। কিন্তু কয়েক বছর পর জানতে পারেন, ভবনটিতে আছেই মাত্র ৩২টি তলা। অর্থাৎ যে ফ্ল্যাটের জন্য বিপুল পরিমাণ অর্থ পরিশোধ করেছিলেন ওই ব্যক্তি, বাস্তবে সেটির কোনও অস্তিত্বই নেই। এক দশকের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও তিনি এখনও ফ্ল্যাট পাননি, ফেরত পাননি অর্থও।

 

 

সংবাদমাধ্যম সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শেন পদবির ওই ব্যক্তি ২০১৩ সালে চীনের শানসি প্রদেশের শি’আনের কাছাকাছি একটি গ্রামে ফ্ল্যাটটি কিনেছিলেন। কয়েক বছর পর তিনি জানতে পারেন, তিনি তথাকথিত ‘গ্রে মার্কেট’ আবাসন প্রতারণার শিকার হয়েছেন।

 

 

শেন ৯০ বর্গমিটার আয়তনের একটি ফ্ল্যাট কিনেছিলেন এবং সেটি ভবনের ৩৪তম তলায় থাকার কথা। প্রতি বর্গমিটারের দাম ছিল ২ হাজার ৬৪৬ ইউয়ান, যা ওই এলাকার গড় বাজারদরের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ। বাংলাদেশি মুদ্রায় ফ্ল্যাটটির মূল্য ছিল প্রায় ৪৮ লাখ টাকা। এত কম দামের কারণ ছিল প্রকল্পটির তথাকথিত ‘সীমিত সম্পত্তি অধিকার’ বা ‘লিমিটেড প্রোপার্টি রাইটস’ মর্যাদা।

 

অর্থাৎ এটি এমন এক ধরনের আবাসন ব্যবস্থা, যা রাষ্ট্রীয় নগর জমির পরিবর্তে গ্রামীণ সমষ্টিগত মালিকানাধীন জমিতে অবৈধভাবে নির্মাণ করা হয়। এসব প্রকল্প সাধারণত প্রয়োজনীয় সরকারি অনুমোদন ছাড়াই নির্মিত হয় এবং নিয়মিত আবাসন প্রকল্পের মতো আইনি সুরক্ষা পায় না। এগুলো আইনিভাবে পুনরায় বিক্রি করাও যায় না এবং চীনের সম্পত্তি আইনে তা স্বীকৃতও নয়। তবে কম দামের কারণে অনেক ক্রেতা এখনও এসব প্রকল্পে আগ্রহ দেখান।

 

 

২০১৩ সালে শেন ১ লাখ ১৭ হাজার ৭০০ ইউয়ান ডাউন পেমেন্ট হিসেবে পরিশোধ করেন। তার দাবি, প্রকল্পের নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ক্রেতাদের আশ্বস্ত করেছিল যে পরে প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও সনদ সংগ্রহ করা হবে। কিন্তু এ ধরনের প্রকল্পে সাধারণত সেই আইনি নথি পাওয়া সম্ভব হয় না।

 

 

ফ্ল্যাটটি ২০১৫ সালে বুঝিয়ে দেয়ার কথা ছিল। তবে নির্মাণকাজে বিলম্ব হওয়ায় সময়সীমা পিছিয়ে যায়। ২০১৭ সালে নির্মাতা প্রতিষ্ঠান শেনকে জানায়, নির্মিত ভবনটিতে মাত্র ৩২টি তলা রয়েছে। ফলে তিনি যে ফ্ল্যাট কিনেছিলেন, সেটি বাস্তবে নেই।

 

প্রথমে কোম্পানিটি তাকে ৩২তম তলায় বিকল্প একটি ফ্ল্যাট দেয়ার প্রস্তাব দেয়। কিন্তু তখন তিনি বাকি অর্থ পরিশোধ করতে পারেননি। দুই মাস পর সেই ফ্ল্যাটও অন্য এক ক্রেতার কাছে বিক্রি করে দেয়া হয়। অন্যদিকে ফ্ল্যাট না পেয়ে শেন অর্থ ফেরতের দাবি জানান। তখন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান জানায়, তারা আর্থিক সংকটে রয়েছে এবং পুরো অর্থ ফেরত দিতে পারবে না।

 

 

২০২০ সালে তিনি ২০ হাজার ইউয়ান এবং ২০২২ সালে আরও ৫০ হাজার ইউয়ান ফেরত পান। এরপর নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। পরে তিনি বিষয়টি সালিসি প্রক্রিয়ায় নিয়ে যান। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নির্মাতা প্রতিষ্ঠানকে তার ডাউন পেমেন্টের বাকি ৪৭ হাজার ৭০০ ইউয়ান ফেরত দেয়ার নির্দেশ দেয়। এর সঙ্গে ২৭ হাজার ইউয়ান সুদও পরিশোধ করতে বলা হয়।

 

 

রায়ে আরও বলা হয়, নির্ধারিত অর্থ পরিশোধ না করলে অতিরিক্ত ৪৭ হাজার ইউয়ান ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। তবে চলতি বছরের মে মাস পর্যন্ত শেন ওই বকেয়া অর্থ পাননি।

 

মূলত ফ্ল্যাট কেনার এক দশকেরও বেশি সময় পরও শেন এখনও থাকার জায়গা পাননি এবং সম্পূর্ণ অর্থও ফেরত পাননি। ঘটনাটি চীনে আবারও কম দামের কিন্তু আইনি সুরক্ষাবিহীন আবাসন প্রকল্পে বিনিয়োগের ঝুঁকির বিষয়টি সামনে নিয়ে এসেছে।

৩৪ তলায় কিনেছিলেন ফ্ল্যাট, পরে ক্রেতা জানলেন ভবনই ৩২ তলা

র‌্যাবের চৌকস অভিযানে জীপসহ প্রায় ১১ হাজার ইয়াবার চালান আটক

জামালপুর হামলা পাল্টা হামলার মধ্য দিয়ে জেলার সানন্দবাড়ী তে থমথমে অবস্থা বিরাজমান।

error: আপনি নিউজ চুরি করার চেষ্টা করছেন। বিশেষ প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন ০১৭৬৭৪৪৪৩৩৩
%d