ঠাকুরগাঁওয়ে ৫০ বিজিবির অভিযানে কষ্টিপাথরের মূর্তি ও ২০০ বছরের পুরোনো স্ট্যাম্প উদ্ধার। - Gono television | বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল।
ঠাকুরগাঁওয়ে ৫০ বিজিবির অভিযানে কষ্টিপাথরের মূর্তি ও ২০০ বছরের পুরোনো স্ট্যাম্প উদ্ধার।

ঠাকুরগাঁওয়ে ৫০ বিজিবির অভিযানে কষ্টিপাথরের মূর্তি ও ২০০ বছরের পুরোনো স্ট্যাম্প উদ্ধার।

ঠাকুরগাঁওয়ে ৫০ বিজিবির অভিযানে কষ্টিপাথরের মূর্তি ও ২০০ বছরের পুরোনো স্ট্যাম্প উদ্ধার।

মোঃ আশরাফুল ইসলাম

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি:

 

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার লক্ষীপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে আসামিবিহীন কষ্টিপাথরের মূর্তি, প্রাচীন আমলের সামগ্রী ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ব্যবহৃত প্রায় ২০০ বছরের পুরোনো স্ট্যাম্প উদ্ধার করেছে ঠাকুরগাঁও ব্যাটালিয়ন (৫০ বিজিবি)। উদ্ধার করা এসব সামগ্রীর সিজার মূল্য প্রায় ৩৬ লাখ ৫৩ হাজার ৫০০ টাকা।

 

শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত ১২টা ১০ মিনিটের দিকে নিজস্ব গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ব্যাটালিয়ন সদর থেকে আনুমানিক ১৫ কিলোমিটার দূরে ঠাকুরগাঁও সদর থানার লক্ষীপুর এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করে ৫০ বিজিবি। অভিযানে নেতৃত্ব দেন ঠাকুরগাঁও ব্যাটালিয়ন (৫০ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল খ. আখলাকুর রহমান, জি, আর্টিলারি।

 

৫০ বিজিবি জানায়, অভিযানে আসামিবিহীন অবস্থায় ১৪ কেজি ৪০০ গ্রাম ওজনের একটি কষ্টিপাথরের মূর্তি, ২২ কেজি ১০০ গ্রাম ওজনের তিনটি কষ্টিপাথরের টুকরা, প্রাচীন আমলের দুটি মদের খালি বোতল, ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ব্যবহৃত প্রায় ২০০ বছরের পুরোনো দুটি স্ট্যাম্প এবং একটি শঙ্খ উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার করা কষ্টিপাথরের সামগ্রীর মোট ওজন ৩৬ কেজি ৫০০ গ্রাম।

 

উদ্ধার করা সামগ্রীর সর্বমোট সিজার মূল্য ৩৬ লাখ ৫৩ হাজার ৫০০ টাকা বলে জানিয়েছে ৫০ বিজিবি।

 

৫০ বিজিবি জানায়, সীমান্তে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি চোরাচালান প্রতিরোধে নিয়মিত বিভিন্ন কৌশলী পরিকল্পনার মাধ্যমে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির আওতায় এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

 

একই সঙ্গে সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান, মাদকদ্রব্য, মানব পাচার ও অবৈধ অনুপ্রবেশ প্রতিরোধে স্থানীয় জনগণের সহযোগিতা কামনা করেছে ঠাকুরগাঁও ব্যাটালিয়ন (৫০ বিজিবি)। সীমান্তের নিরাপত্তা ও সামাজিক শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে যেকোনো তথ্য দিয়ে বিজিবিকে সহায়তা করার জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।


ক্ষমতা ও সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে চব্বিশের অভ্যুত্থান ভুলে গেলে সরকারকে মনে করিয়ে দিতে চাই তরুণরা জাগ্রত আছে— বলে মন্তব্য করেছেন এনসিপি নেতা ও সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে ফেসবুকে এক পোস্টের মাধ্যমে এ কথা বলেন তিনি।

 

তিনি পোস্টে বলেন, নিয়োগ কার্যক্রম ত্বরান্বিত করার নামে বিএনপি সরকার আরেকটি বাজে কাজ করতে যাচ্ছে। ১০ম গ্রেডের নিয়োগ পিএসসির কাছ থেকে সরিয়ে নিয়ে নিজেদের কমিটি গঠন করে নিয়োগ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

 

অন্যান্য ১০ম গ্রেডের পদের মত উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা নিয়োগও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান পিএসসির মাধ্যমে নিয়োগ চলছে অনেক বছর ধরেই। মন্ত্রণালয় শূন্য পদের সংখ্যা জানায়। পিএসসি পরীক্ষা নিয়ে যোগ্য প্রার্থীরা তালিকা প্রকাশ করে। মন্ত্রণালয় নিয়োগ দেয়। ফলে নিয়োগটা ভালোভাবেই চলছে।

 

বিএনপি সরকার সব নিয়োগ সরকারের নিয়ন্ত্রণে নিতে চাইছে উল্লেখ করে হাসনাত বলেন, পিএসসির অধীনে যে নিয়োগ হয় সেটা তরান্বিত (!) করতে জনপ্রশান প্রতিমন্ত্রী নেতৃত্বে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রী মূখ্য সচিব এবং জনপ্রশাসন সচিবকে নিয়ে কমিটি করেছে। প্রজ্ঞাপনে বলা হচ্ছে, এই কমিটি নিয়োগ কার্যক্রম তরান্বিত করতে কাজ করবে।

 

কেনো পিএসসি কী পারছে না? পিএসসি কী কোথায় বলেছে, ‘আমরা পারছি না’। খালি চোখেই বোঝা যাচ্ছে, সরকার নিয়োগকে নিয়ন্ত্রণ করতে চাইছে। উদ্দেশ্য হতে পারে পছন্দের ব্যক্তিদের নিয়োগ করা কিংবা দুর্নীতির মাধ্যমে নিয়োগ করা।

 

তিনি আরও বলেন, কিন্তু তারা কী চব্বিশ ভুলে গেছে? সরকারি চাকরির নিয়োগে বৈষম্য করার কারণেই কিন্তু এই দেশের ছাত্ররা আন্দোলনের সূত্রপাত করেছিল। যা থেকে কালজয়ী অভ্যুত্থান হয়েছে।

 

নিয়োগে হাত দিয়ে দুর্নীতি করে লাভবান হওয়ার যে চিন্তা করছেন, এটা কিন্তু কখনোই ইতিবাচক ফল বয়ে আনবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সরকারকে মনে করিয়ে দিতে চাই, তরুণরা জাগ্রত আছে: হাসনাত আব্দুল্লাহ

ইতালিতে হামলা ও হেনস্তার শিকার হয়েছেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন। এ ঘটনায় ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন আলোচিত উপস্থাপক দীপ্তি চৌধুরী।

 

তার মতে, রাজনৈতিক ছত্রছায়াহীন সাধারণ নাগরিক হওয়ার কারণেই এমন সহজ লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছেন বাঁধন।

 

নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে বাঁধনের ওপর হামলা অংশ নেওয়া কয়েকজন ব্যক্তির ছবি প্রকাশ করেছেন দীপ্তি চৌধুরী।

 

ক্যাপশনে অভিনেত্রীর ওপর আক্রমণের কারণ হিসেবে চারটি পয়েন্ট তুলে ধরেছেন তিনি।

 

দীপ্তি চৌধুরী লেখেন, ‘আজমেরী হক বাঁধনের অপরাধ- ১. একটি গণঅভ্যুত্থানে তার একটি স্টেন্ড পয়েন্ট ছিল- যা ছবির লোকগুলোসহ আরও হাজার হাজার মানুষের আদর্শের সঙ্গে মেলেনি।

 

২. বাঁধন রাষ্ট্র কর্তৃক শিশু হত্যার প্রতিবাদে রাজপথে ছিল, প্রোফাইল লাল করেছিল। ৩. বাঁধন কোনো রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় নেই।

 

৪. বাঁধন নারী; তাই সে সবচেয়ে সহজ টার্গেট।’

 

ওই স্ট্যাটাসে ক্ষোভ প্রকাশ করে এই উপস্থাপক আরও উল্লেখ করেন, বর্তমানে সরকারে থাকা প্রধানমন্ত্রী, এমপি-মন্ত্রী এবং বিরোধী দলীয় নেতা-নেত্রীদের প্রত্যেকেই ‘জুলাই যোদ্ধা’। কিন্তু রাজনৈতিক ছায়াহীন সাধারণ নাগরিকদের ‘জুলাই জঙ্গি’ গালি শুনতে হচ্ছে। আন্দোলনের সময় সাধারণ মানুষকে বড় সমর্থন হিসেবে বাহবা দেওয়া হলেও পরবর্তীতে সহযোদ্ধা হিসেবে তাদের আগলে রাখা হয় না বলে আক্ষেপ প্রকাশ করেন তিনি।

 

জুলাই অভ্যুত্থানের কৃতিত্ব ও অংশীদারিত্ব দাবি করা রাজনৈতিক দলগুলোর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দীপ্তি চৌধুরী লেখেন, ‘দেখার অপেক্ষায় আছি জুলাইয়ের অংশীদারিত্ব নিয়ে টানাটানি করা রাজনৈতিক দলগুলো এ বিষয়ে কী ব্যবস্থা নেয়।’

 

প্রসঙ্গত, ‘রেহানা মরিয়ম নূর’ চলচ্চিত্রে অনবদ্য অভিনয়ের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক খ্যাতি অর্জন করা আজমেরী হক বাঁধন বর্তমানে ঐতিহ্যবাহী ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করছেন। ৮৩তম ভেনিস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে রুবাইয়াত হোসেন পরিচালিত ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’ সিনেমার প্রদর্শনীতে অংশ নিতে ইতালিতে গেছেন তিনি।

 

বর্তমানে তিনি মেস্ত্রে শহরে অবস্থান করছেন। সোমবার রাতে ভাই ও তার পরিবারের সঙ্গে তিনি স্থানীয় একটি পার্কে গেলে এ হামলা ও হেনস্তার ঘটনা ঘটে।

 

বাঁধনের অভিযোগ, ২০২৪-এর জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার আন্দোলনে তার সক্রিয় ভূমিকার কারণেই অভিনেত্রীকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। হামলাকারীদের কয়েকজন নিজেদের কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের কর্মী এবং ‘বঙ্গবন্ধুর সৈনিক’ হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন বলে জানান তিনি।

রাজনৈতিক ছায়াহীন বলেই বাঁধন সহজ লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত: দীপ্তি চৌধুরী

সারাদেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ২৪ ঘণ্টায় নয়জনের মৃত্যু হয়েছে। যা চলতি বছরে একদিনে সর্বোচ্চ মৃত্যুর রেকর্ড। এই সময়ের মধ্যে নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে আর এক হাজার ৫৭১ জন।

 

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুবিষয়ক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

 

এ নিয়ে চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়াল ১৩০ জন। অন্যদিকে মোট শনাক্তের সংখ্যা হয়ে গেল ৪৫ হাজার ৩৯৪ জন।

 

এর আগে, গতকাল (৭ সেপ্টেম্বর) ৪ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছিল, নতুন ভর্তি ডেঙ্গু রোগীদের মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকার ১৩৯ জন, দক্ষিণ সিটির ১৪৩ জন এবং দুই সিটির বাইরে ঢাকা বিভাগের ২২৫ জন রয়েছেন।

 

এ ছাড়া বরিশাল বিভাগে ১৫৩ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ১৯৮ জন, খুলনায় ২৩৫ জন, ময়মনসিংহে ৮১ জন, রংপুরে ৩৬ জন, রাজশাহীতে ৯৯ জন এবং সিলেটে ৫ জন ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় ৯ জনের মৃত্যু

নওগাঁর ৩ টা বিলে ২৬০ কেজি পোনামাছ অবমুক্ত: ‘আমিষের চাহিদা পূরণ ও কর্মসংস্থানের সৃষ্টিই মূল লক্ষ্য’— এমপি ধলু

মোঃ সাইদুল ইসলাম হেলাল

বিশেষ প্রতিনিধিঃ

নওগাঁয় ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরে রাজস্ব বাজেটের আওতায় ৩টি বিলে ২৬০ কেজি পোনামাছ অবমুক্ত করা হয়েছে। আজ শনিবার দুপুরে নওগাঁ সদর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য দপ্তরের আয়োজনে সদর উপজেলার হাঁসাইগাড়ি ইউনিয়নের হাঁসাইগাড়ি বিল, গুটার বিলসহ আরেকটি মুক্ত জলাশয়ে এই পোনামাছ অবমুক্ত করা হয়।পোনামাছ অবমুক্তকরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নওগাঁ-৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য মোঃ জাহিদুল ইসলাম ধলু।

 

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য মোঃ জাহিদুল ইসলাম ধলু বলেন, “আমাদের দেশ মৎস্য সম্পদে সমৃদ্ধ। বর্তমান সরকারের লক্ষ্য প্রাকৃতিক জলাশয় রক্ষা করে দেশীয় মাছের উৎপাদন বাড়ানো। এই পোনামাছ অবমুক্তকরণের মাধ্যমে আমাদের মুক্ত জলাশয়গুলো আবার মাছে ভরে উঠবে। এতে স্থানীয় মৎস্যজীবীদের কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি জনগণের আমিষের চাহিদাও পূরণ হবে।” তিনি স্থানীয় মৎস্যজীবী ও এলাকাবাসীকে অবমুক্তকৃত পোনামাছগুলো বড় হওয়ার সুযোগ দিতে এবং অবৈধ কারেন্ট জালের ব্যবহার থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান।

 

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলার উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোঃ নূরুল আমিন, সদর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা দিপংকর পাল (অ.দা), নওগাঁ সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শ.ম.আ আল কাফি তুহিন, জেলা যুবদলের আহবায়ক মাসুদ হায়দার টিপু, হাঁসাইগাড়ি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও সাবেক চেয়ারম্যান জালাল হোসেন এবং বক্তারপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সারোয়ার কামাল চঞ্চল প্রমুখ।অনুষ্ঠানে স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী এবং এলাকার সাধারণ মৎস্যজীবীরা উপস্থিত ছিলেন। মৎস্য দপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, সরকারি এই নিয়মিত উদ্যোগের ফলে বিলগুলোতে মাছের বংশবৃদ্ধি ত্বরান্বিত হবে এবং গ্রামীণ অর্থনীতি আরও গতিশীল হবে।

নওগাঁর ৩ টা বিলে ২৬০ কেজি পোনামাছ অবমুক্ত: ‘আমিষের চাহিদা পূরণ ও কর্মসংস্থানের সৃষ্টিই মূল লক্ষ্য’— এমপি ধলু

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ধর্ম বা অন্য কোনো বিভাজনের ভিত্তিতে নয়, বরং দেশের প্রতিটি মানুষ নাগরিকত্বের ভিত্তিতেই সমান অধিকার ও নিরাপত্তা ভোগ করবে। বাংলাদেশে বসবাসকারী কোনো জনগোষ্ঠী বা সম্প্রদায়ের মানুষকে আর ‘সংখ্যালঘু’ হিসেবে পরিচিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। তিনি বলেন, আমাদের সবার প্রধান ও প্রথম পরিচিতি হওয়া উচিত ‘আমরা সবাই বাংলাদেশী’।

 

আজ শুক্রবার রাজধানীর ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির মেলাঙ্গনে ‘কেন্দ্রীয় জন্মাষ্টমী উৎসব ১৪৩৩’ উপলক্ষ্যে ঐতিহাসিক কেন্দ্রীয় জন্মাষ্টমী মিছিলের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন। মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটি ও বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ এর আয়োজন করে।

 

অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি বলেন, আমাদের নেতা স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন ‘সবার আগে বাংলাদেশ’। যদি তাই হয়, তবে আমরা প্রত্যেকে ‘সবার আগে বাংলাদেশী’। আমাদের ধর্মীয়, সামাজিক কিংবা নৃগোষ্ঠীগত পরিচয় এর পরে আসবে। রাষ্ট্র পরিচালনায় সরকারের মূল নীতিই হলো সবার জন্য বাংলাদেশ।

 

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অতীতে অনেকে মনে করত, সনাতন ধর্মাবলম্বীরা একটি নির্দিষ্ট দলের ‘ভোট ব্যাংক’। এটি দিয়ে তারা রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে চেয়েছিল। কিন্তু দেশের সচেতন জনগণ সেই ভুল ধারণা ও কৃত্রিম মিথ ভেঙে চুরমার করে দিয়েছে।

 

তিনি বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর গত ছয় মাসে দেশের সব ধর্মের মানুষের ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং আচার সুনিশ্চিত করা হয়েছে।

 

সালাহউদ্দিন আহমদ আরও বলেন, জনগণই বিচারক। তারা ইতোমধ্যে রায় দিয়েছেন এবং আগামীতেও গণতন্ত্রকে সুদৃঢ় রাখতে এবং সব ধরনের অসুর শক্তি ও উগ্রবাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ থাকবেন।

 

সংবিধান ও ধর্মীয় অধিকারের গুরুত্ব তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্র প্রতিটি নাগরিকের ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে বাধ্য। সংবিধানের চেতনা অনুযায়ী ধর্মের ভিত্তিতে কোনো প্রকার বৈষম্য করা যাবে না।

 

তিনি আরও বলেন, সব ধর্মীয় উপাসনালয় এবং সেখানে দায়িত্বপ্রাপ্তদের পূর্ণ নিরাপত্তা ও স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে। সরকার এসব কথা কেবল সংবিধানে সীমাবদ্ধ রাখতে চায় না, বাস্তবেও সাম্য ও সম্প্রীতি নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর।

 

ভাষার ব্যবহারে পরিবর্তন আনার আহ্বান জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, আমরা সচরাচর ‘সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি’ শব্দটি ব্যবহার করি। কিন্তু আমি মনে করি ‘সাম্প্রদায়িক’ শব্দটির আর প্রয়োজন নেই। এখন থেকে বলতে হবে আমরা ধর্মীয় ও সামাজিক সম্প্রীতি, সহাবস্থান এবং শান্তি বজায় রাখব। এই ইতিবাচক চর্চাই সমাজকে আরও সুন্দর করবে।

 

মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির সভাপতি গোপাল চন্দ্র দেবনাথের সভাপতিত্বে সমাবেশ ও মিছিলে উদ্বোধক হিসেবে বক্তব্য দেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুস সালাম।

 

সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীবিষয়ক বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার এবং ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান।

 

অন্যের মধ্যে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ভাইস চেয়ারম্যান তপন চন্দ্র মজুমদার, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক (খুলনা বিভাগ) জয়ন্ত কুমার কুণ্ডু, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি বাসুদেব ধর ও সাধারণ সম্পাদক সন্তোষ শর্মা।

 

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির সাধারণ সম্পাদক শুভাশীষ কুমার বিশ্বাস (সাধন)। অনুষ্ঠানের শুরুতে মঙ্গল প্রদীপ জ্বালিয়ে মিছিলের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম। জন্মাষ্টমীর মিছিলটি পলাশী মোড় (ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির মেলাঙ্গন) থেকে শুরু হয়ে বাহাদুর পার্কে গিয়ে শেষ হয়।

রাষ্ট্র পরিচালনায় সরকারের মূল নীতিই হলো সবার জন্য বাংলাদেশ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

হারানো মোবাইল ফোন ফিরে পেলেন ৩০ জন, প্রশংসায় নীলফামারী সাইবার সেল

 

 

স্টাফ রিপোর্টার

মাইদুল ইসলাম

 

 

নীলফামারীতে জেলা পুলিশের সাইবার সেলের প্রযুক্তিনির্ভর অনুসন্ধানে হারিয়ে যাওয়া ৩০টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে। পরে উদ্ধার করা এসব মোবাইল ফোন প্রকৃত মালিকদের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে নীলফামারী জেলা পুলিশ।

 

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) নীলফামারী পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে উদ্ধার করা মোবাইল ফোনগুলো মালিকদের হাতে তুলে দেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মোহসিন এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) এ বি এম ফয়জুল ইসলাম।

 

জেলা পুলিশ সূত্র জানায়, প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক পুলিশিং কার্যক্রম জোরদারের লক্ষ্যে গত ১৩ জুন পুলিশ সুপার মো. ফরহাদ হোসেন খাঁনের দিকনির্দেশনায় নীলফামারী জেলা পুলিশে সাইবার সেল প্রতিষ্ঠা করা হয়। এরপর থেকে সাইবার সেলের দক্ষ সদস্যরা বিভিন্ন থানায় করা সাধারণ ডায়েরির (জিডি) তথ্যের ভিত্তিতে হারানো মোবাইল ফোন উদ্ধারে কাজ করছেন। পাশাপাশি ডিজিটাল প্রতারণা ও সাইবার অপরাধ প্রতিরোধেও কার্যক্রম পরিচালনা করছে সেলটি।

 

পুলিশের দাবি, তথ্যপ্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার ও প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণের মাধ্যমে বিভিন্ন সময়ে হারিয়ে যাওয়া মোবাইল ফোনের অবস্থান শনাক্ত করে সেগুলো উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া ৩০টি ফোনের মধ্যে বিভিন্ন নামী-দামি ব্র্যান্ডের হ্যান্ডসেট রয়েছে।

 

মোবাইল ফোন ফিরে পেয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন মালিকরা। তারা জানান, হারানো ফোন ফিরে পাওয়ার আশা অনেকটাই ছেড়ে দিয়েছিলেন। জেলা পুলিশের সাইবার সেলের তৎপরতায় ফোনগুলো ফিরে পেয়ে তারা সন্তোষ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

 

জেলা পুলিশ জানিয়েছে, সাধারণ মানুষের হারানো সম্পদ উদ্ধারের পাশাপাশি সাইবার অপরাধ নিয়ন্ত্রণে প্রযুক্তিনির্ভর পুলিশিং আরও জোরদার করা হবে। এ লক্ষ্যে সাইবার সেলের কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

হারানো মোবাইল ফোন ফিরে পেলেন ৩০ জন, প্রশংসায় নীলফামারী সাইবার সেল

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

মালয়েশিয়া এনসিপি-ডায়াস্পোরা অ্যালায়েন্স এর বিশেষ উঠান বৈঠক।

মো:নুরুল ইসলাম সুজন কুয়ালালামপুর মালয়েশিয়া।।

 

১১ই সেপ্টেম্বর ২০২৬ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টায় এনসিপি-ডায়াস্পোরা অ্যালায়েন্স মালয়েশিয়া চ্যাপ্টারের এর উদ্যোগে এক বিশেষ উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

 

এনসিপি মালয়েশিয়ার যুগ্ম সচিব জনাব মুশফিক আহমেদ এর সঞ্চালনায়

উক্ত উঠান বৈঠকে প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় নাগরিক পার্টি(NCP)র যুগ্ম সদস্য সচিব জনাব ফরিদুল হক এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি(NCP)র যুগ্ম সদস্য সচিব এবং গ্লোবাল ডায়াস্পোরা অ্যালায়েন্সের সম্পাদক জনাব আলাউদ্দিন মোহাম্মদ।

 

আজকের উঠান বৈঠক ছিলো একটি ব্যতিক্রমধর্মী প্রোগ্রাম।

এখানে মালয়েশিয়া এনসিপির বিভিন্ন আঞ্চলিক কমিটির নেতৃবৃন্দ সহ বিভিন্ন সামাজিক ব্যক্তিত্ব উপস্থিত ছিলেন।

উপস্থিত আমন্ত্রিত অতিথিরা এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের কাছে দেশ গঠনে,নতুন বন্দোবস্ত বাস্তবায়নে,দেশের অবকাঠামো উন্নয়নে এনসিপির পরবর্তী ভাবনা ভিশন সম্পর্কে বিভিন্ন প্রশ্ন রাখেন।

 

আজকের অনুষ্ঠানের প্রধান দুই আলোচক সবার প্রশ্নের চুলচেড়া বিশ্লেষণ করেন।

প্রশ্নোত্তর পর্বে প্রবাসীরা কেন এনসিপির সঙ্গে যোগদান করবে?

 

এই প্রশ্নের জবাবে ফরিদুল হক বলেন—

 

“প্রবাসীরা এনসিপির সঙ্গে যোগদান করবে একটি সমৃদ্ধ, কল্যাণমুখী ও মর্যাদাপূর্ণ বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যাশায়। এমন একটি বাংলাদেশ, যে বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে তারা গর্ববোধ করবে এবং ভবিষ্যতে নির্ভয়ে ও সম্মানের সঙ্গে দেশে ফিরে আসতে পারবে। তারা চায়, তাদের আগামী প্রজন্ম যেন একটি নিরাপদ, সুন্দর ও সম্ভাবনাময় বাংলাদেশে বেড়ে উঠতে পারে।

 

প্রবাসীরা এনসিপির সঙ্গে থাকবে, কারণ তারা বিশ্বাস করে—এনসিপির নেতৃত্বে রাষ্ট্রের সংস্কার, মৌলিক পরিবর্তন এবং কাঠামোগত সংস্কারের মাধ্যমে একটি দুর্নীতিমুক্ত, জবাবদিহিমূলক ও ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।

 

প্রবাসীরা আরও চায়, তাদের প্রতি রাষ্ট্রের যে দীর্ঘদিনের অবহেলা ও বৈষম্য রয়েছে, তার অবসান হোক। প্রবাসীদের অধিকার, সম্মান ও মর্যাদা নিশ্চিত হোক এবং দেশের অর্থনীতি ও উন্নয়নে তাদের অবদান যথাযথ স্বীকৃতি পাক।

 

এই প্রত্যাশা থেকেই প্রবাসীরা এনসিপির সঙ্গে যুক্ত হবে—একটি নতুন, বৈষম্যহীন, দুর্নীতিমুক্ত ও মর্যাদাপূর্ণ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে।”

 

ফরিদুল হক তাঁর বক্তব্যে বলেন—

 

“প্রধানমন্ত্রীকে দশবার ‘মাননীয়’ বলতেও আমরা রাজি আছি, যদি তিনি সত্যিকার অর্থে দেশে দুর্নীতি বন্ধ করতে পারেন, অনিয়ম বন্ধ করতে পারেন এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদের চুরি-লুটপাট বন্ধ করতে পারেন।

 

একজন প্রধানমন্ত্রীর সত্যিকার কাজ হবে দেশের অনিয়ম ও দুর্নীতি দূর করা, সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা এবং দেশকে উন্নতি ও সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া।

মালয়েশিয়া এনসিপি-ডায়াস্পোরা অ্যালায়েন্স এর বিশেষ উঠান বৈঠক।

গাজীপুরের কালিয়াকৈরে জিপিএ-৫ পাওয়া ২৫ শিক্ষার্থীকে আর্থিক সহায়তা।

 

মোঃ সাহাজুদ্দিন সরকার, ক্রাইম রিপোর্টার, গাজীপুর।

 

গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলায় এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া ২৫ জন শিক্ষার্থীকে কলেজে ভর্তি ফি বাবদ আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে।

 

বাংলাদেশ টেপ বল ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি সারোয়ার হোসেন আকুল প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে ৫ হাজার টাকা করে মোট ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা প্রদান করেন।

 

মেধাবী শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষায় উৎসাহিত করা এবং কলেজে ভর্তির ক্ষেত্রে সহযোগিতা করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান আয়োজকরা।

 

এ সময় শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় মনোযোগী হয়ে ভবিষ্যতে দেশ ও সমাজের কল্যাণে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়।

 

পাশাপাশি পূর্ব চন্দ্র স্পোর্টিং ক্লাব ও গণপাঠাগারের সদস্য হওয়ার জন্য সকল শিক্ষার্থীকে আহ্বান জানানো হয়। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলা ও জ্ঞানচর্চায় সম্পৃক্ত করতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

গাজীপুরের কালিয়াকৈরে জিপিএ-৫ পাওয়া ২৫ শিক্ষার্থীকে আর্থিক সহায়তা

গাইবান্ধায় রাতের আঁধারে ডাকাতি, ছুরি ঠেকিয়ে লুটে নিল স্বর্ণ-নগদ টাকা

 

শাহ্ পারভেজ সংগ্রাম,গাইবান্ধা প্রতিনিধি

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার নাকাইহাট ইউনিয়নের বাজুনিয়া পাড়ায় গভীর রাতে এক বাড়িতে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় বাড়িতে থাকা নারীদের গলায় ছুরি ধরে ভয়ভীতি দেখিয়ে প্রায় ১৫ ভরি স্বর্ণালংকার, নগদ ৬ লাখ টাকা এবং জমির গুরুত্বপূর্ণ দলিলসহ বিভিন্ন মালামাল লুট করে নিয়ে গেছে ডাকাত দল।

 

পরিবারসূত্রে জানা যায়,বৃহস্পতিবার আনুমানিক রাত ৩ টার দিকে নাকাইহাট ইউনিয়নের বাজুনিয়া পাড়ার মোহাম্মদ হাজির বাড়িতে একদল ডাকাত হানা দেয়। ডাকাতরা বাড়িতে প্রবেশ করে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে পরিবারের সদস্যদের জিম্মি করে ফেলে। এ সময় বাড়িতে থাকা নারীদের গলায় ছুরি ধরে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।

 

পরে ডাকাতরা ঘরে থাকা প্রায় ১৫ ভরি স্বর্ণালংকার, নগদ ৬ লাখ টাকা, জমির দলিলসহ গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র ও অন্যান্য মালামাল লুট করে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

 

ঘটনার পর এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়রা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দ্রুত ডাকাতদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।

গাইবান্ধায় রাতের আঁধারে ডাকাতি, ছুরি ঠেকিয়ে লুটে নিল স্বর্ণ-নগদ টাকা

ঠাকুরগাঁওয়ে ৫০ বিজিবির অভিযানে কষ্টিপাথরের মূর্তি ও ২০০ বছরের পুরোনো স্ট্যাম্প উদ্ধার।

মোঃ আশরাফুল ইসলাম

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি:

 

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার লক্ষীপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে আসামিবিহীন কষ্টিপাথরের মূর্তি, প্রাচীন আমলের সামগ্রী ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ব্যবহৃত প্রায় ২০০ বছরের পুরোনো স্ট্যাম্প উদ্ধার করেছে ঠাকুরগাঁও ব্যাটালিয়ন (৫০ বিজিবি)। উদ্ধার করা এসব সামগ্রীর সিজার মূল্য প্রায় ৩৬ লাখ ৫৩ হাজার ৫০০ টাকা।

 

শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত ১২টা ১০ মিনিটের দিকে নিজস্ব গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ব্যাটালিয়ন সদর থেকে আনুমানিক ১৫ কিলোমিটার দূরে ঠাকুরগাঁও সদর থানার লক্ষীপুর এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করে ৫০ বিজিবি। অভিযানে নেতৃত্ব দেন ঠাকুরগাঁও ব্যাটালিয়ন (৫০ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল খ. আখলাকুর রহমান, জি, আর্টিলারি।

 

৫০ বিজিবি জানায়, অভিযানে আসামিবিহীন অবস্থায় ১৪ কেজি ৪০০ গ্রাম ওজনের একটি কষ্টিপাথরের মূর্তি, ২২ কেজি ১০০ গ্রাম ওজনের তিনটি কষ্টিপাথরের টুকরা, প্রাচীন আমলের দুটি মদের খালি বোতল, ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ব্যবহৃত প্রায় ২০০ বছরের পুরোনো দুটি স্ট্যাম্প এবং একটি শঙ্খ উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার করা কষ্টিপাথরের সামগ্রীর মোট ওজন ৩৬ কেজি ৫০০ গ্রাম।

 

উদ্ধার করা সামগ্রীর সর্বমোট সিজার মূল্য ৩৬ লাখ ৫৩ হাজার ৫০০ টাকা বলে জানিয়েছে ৫০ বিজিবি।

 

৫০ বিজিবি জানায়, সীমান্তে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি চোরাচালান প্রতিরোধে নিয়মিত বিভিন্ন কৌশলী পরিকল্পনার মাধ্যমে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির আওতায় এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

 

একই সঙ্গে সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান, মাদকদ্রব্য, মানব পাচার ও অবৈধ অনুপ্রবেশ প্রতিরোধে স্থানীয় জনগণের সহযোগিতা কামনা করেছে ঠাকুরগাঁও ব্যাটালিয়ন (৫০ বিজিবি)। সীমান্তের নিরাপত্তা ও সামাজিক শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে যেকোনো তথ্য দিয়ে বিজিবিকে সহায়তা করার জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

ঠাকুরগাঁওয়ে ৫০ বিজিবির অভিযানে কষ্টিপাথরের মূর্তি ও ২০০ বছরের পুরোনো স্ট্যাম্প উদ্ধার।

জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি বলেছেন, জুলাই সনদে যেসব বিষয়ে স্বাক্ষর হয়েছে, সেগুলো সবই বাস্তবায়ন করা হবে। এ জন্য যেখানে সংবিধান সংশোধনের প্রয়োজন হবে, সেখানে সংবিধান সংশোধন করেই তা বাস্তবায়ন করা হবে।

 

তিনি বলেন, ‘জুলাই সনদের ব্যাপারে আমাদের অবস্থান একদম পরিষ্কার। আমরা দাড়ি, কমা, সেমিকোলনসহ যা কিছু স্বাক্ষর হয়েছে, তার সবটাই বাস্তবায়ন করব। বাস্তবায়ন করতে হলে সংবিধান সংশোধন করতে হবে। সংবিধান সংশোধন ছাড়া বিকল্প কোনো পথ নেই।’

 

শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সংসদ ভবনে জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন পরবর্তী প্রেস ব্রিফিংয়ে চিফ হুইপ এসব কথা বলেন।

 

এ সময় হুইপ এম রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, মো. আখতারুজ্জামান মিয়া এবং এ.বি.এম আশরাফ উদ্দিন (নিজান) উপস্থিত ছিলেন।

 

চিফ হুইপ বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সরকার বিরোধী দলের সঙ্গে একত্রে কাজ করতে চায়। তিনি বলেন, সংবিধান সংশোধনের ক্ষেত্রে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসতে হবে। সংবিধান প্রণীত হওয়ার পর বিভিন্ন সময়ে সংশোধনের নজির রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রয়োজন অনুযায়ী সংবিধান সংশোধন করা সম্ভব এবং বর্তমান সরকারও জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সে পথেই এগোতে চায়।

 

তিনি বলেন, তৃতীয় অধিবেশন মাত্র নয়টি কর্মদিবস চলেছে। ২৭ আগস্ট অধিবেশন শুরু হয়ে ১০ সেপ্টেম্বর শেষ হয়েছে। এ সময়ে ছয়টি বিল উত্থাপিত এবং ছয়টি বিল পাস হয়েছে। সংসদের কার্যপ্রণালির বিভিন্ন বিধিতে নোটিশ ও আলোচনা হয়েছে। বিধি ৬৮-এ দুটি নোটিশের ওপর আলোচনা, বিধি ৭১-এ ১৪টি বিষয় নিয়ে আলোচনা এবং দুই মিনিটের বক্তব্যের বিধিতে ১২৪টি নোটিশের ওপর আলোচনা হয়েছে।

 

চিফ হুইপ জানান, প্রধানমন্ত্রীকে প্রশ্ন করার জন্য ১৪৪টি প্রশ্নের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী নিজে ১৫টির উত্তর দিয়েছেন। মন্ত্রিসভার সদস্যরা সব মিলিয়ে ২ হাজার ৬৭৬টি প্রশ্নের মধ্যে ১ হাজার ৬৭৮টির উত্তর দিয়েছেন।

 

তিনি বলেন, তৃতীয় অধিবেশনে পাস হওয়া গুরুত্বপূর্ণ আইনগুলোর মধ্যে সম্পত্তি হস্তান্তর এবং সম্পত্তিতে আজীবন ভোগদখলের অধিকার সংক্রান্ত আইন অন্যতম। এ আইন বৃদ্ধ বাবা-মায়ের সুরক্ষা নিশ্চিত করবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

 

চিফ হুইপ বলেন, অনেক ক্ষেত্রে বাবা-মা সন্তানদের সম্পত্তি দিয়ে দেওয়ার পর বৃদ্ধ বয়সে অসহায় হয়ে পড়েন এবং কেউ কেউ বৃদ্ধাশ্রমে বসবাস করতে বাধ্য হন। নতুন আইনের মাধ্যমে সম্পত্তি হস্তান্তরের পরও বাবা-মায়ের জীবদ্দশায় ওই সম্পত্তি ভোগের অধিকার নিশ্চিত করার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

 

এ আইন নিয়ে বিরোধিতার সমালোচনা করে তিনি বলেন, বাবা-মায়ের প্রতি দায়িত্ব ও সম্মান নিশ্চিত করার বিষয়টি কোনোভাবেই উপেক্ষা করা উচিত নয়। ধর্মীয় বিধানের কথা যারা বলছেন, তাদের প্রতি প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, বাবা-মাকে সম্মান ও সুরক্ষা দেওয়ার বিষয়টিও ধর্মীয় মূল্যবোধের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

জুলাই সনদে স্বাক্ষরিত সব বিষয় বাস্তবায়ন করা হবে: চিফ হুইপ

রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধি পাওয়ায় আগামীকাল শনিবার থেকে সারাদেশে শুরু হচ্ছে তিন মাসব্যাপী ‘ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান-২০২৬’।

 

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামীকাল সকাল ৯টায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় দেশব্যাপী এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন।

 

তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়েছে।

 

জনস্বার্থে প্রধানমন্ত্রীর এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটি বাংলাদেশ টেলিভিশন, বাংলাদেশ বেতার এবং দেশের সকল বেসরকারি টিভি চ্যানেলে সরাসরি সম্প্রচারের জন্য বিজ্ঞপ্তিতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি বিনীত অনুরোধ জানানো হয়েছে।

 

সূত্র: বাসস

সারাদেশে ৩ মাসব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধ অভিযান শুরু কাল, উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

দেশীয় অর্থায়নে পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়ন করা হবে বলে জানিয়েছেন পানি সম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী। তিনি বলেন, আগামী বছরের মার্চ মাসের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পের উদ্বোধনের ঘোষণা দেবেন।

 

শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার হাবাসপুর এলাকায় পদ্মা নদীর চর পরিদর্শনে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

 

পানি সম্পদ মন্ত্রী বলেন, পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে দেশের ২৪ জেলার মানুষ এর সুফল পাবেন। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন, মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি এবং কৃষিতে ব্যাপক পরিবর্তন আসবে। এর ফলে দেশের অর্থনীতিও আরও সমৃদ্ধ হবে।

 

তিনি বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া ২০০৪ সালে এই প্রকল্পের সমীক্ষা করেছিলেন। দীর্ঘ সময় পর ২০২৬ সালে পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প একনেকে অনুমোদন পেয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে এখন প্রকল্পটি বাস্তবায়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছে।

 

শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী আরও বলেন, সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের খাল খনন কর্মসূচিও নতুন করে শুরু করা হয়েছে। নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী এখন পর্যন্ত সারাদেশে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল পুনঃখনন করা হয়েছে।

 

পরিদর্শনকালে প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ও রাজবাড়ী-১ আসনের সংসদ সদস্য আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম এবং রাজবাড়ী-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. হারুন-অর-রশিদ উপস্থিত ছিলেন।

দেশীয় অর্থায়নেই সম্পন্ন হবে পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প: পানি সম্পদ মন্ত্রী

রাঙামাটির কাপ্তাই লেকে পানির উচ্চতা বিপজ্জনকভাবে বেড়ে যাওয়ায় বাঁধের স্পিলওয়ের ১৬টি জলকপাট তৃতীয়বারের মতো পুনরায় খুলে দেয়া হয়েছে।

 

শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে প্রতিটি জলকপাট ৬ ইঞ্চি করে খুলে পানি নিষ্কাশন শুরু হয়। বর্তমানে লেকে পানির উচ্চতা রয়েছে ১০৫.৫১ ফুট এমএসএল।

 

কাপ্তাই কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র সূত্রে জানা গেছে, লেকের পানি বাড়ায় রাঙামাটির বিভিন্ন এলাকায় বাড়িঘর প্লাবিত হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে পানি নিষ্কাশন করা হচ্ছে। লেকের পানির উচ্চতা ১০৫ ফুটে নেমে এলে জলকপাটগুলো বন্ধ করে দেয়া হবে।

 

কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, লেকের বর্তমান পানির উচ্চতা ১০৫.৫১ ফুট। পরিস্থিতি বিবেচনায় ১৬টি জলকপাট ৬ ইঞ্চি করে খোলা হয়েছে এবং পানির উচ্চতা ১০৫ ফুটে নেমে এলে এগুলো বন্ধ করা হবে।

 

উল্লেখ্য, কাপ্তাই লেকের সর্বোচ্চ পানি ধারণক্ষমতা ১০৯ ফুট এমএসএল। সম্ভাব্য দুর্যোগ এড়াতেই কর্তৃপক্ষ এই আগাম সতর্কতা অবলম্বন করছে।

খুলে দেয়া হয়েছে কাপ্তাই বাঁধের ১৬ জলকপাট

এর আগে গত ৩১ আগস্ট সকালে ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন আকস্মিকভাবে নারায়ণগঞ্জের কয়েকটি ভূমি অফিস পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনের সময় সংশ্লিষ্ট কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে কর্মস্থলে পাওয়া যায়নি। তবে তাদের অনুপস্থিত থাকা সত্ত্বেও ৩১ আগস্টের হাজিরা খাতায় আগের দিনই স্বাক্ষর করা ছিল বলে অভিযোগ ওঠে।

 

ঘটনাটি নজরে আসার পর সদর, ফতুল্লা ও সিদ্ধিরগঞ্জ রাজস্ব সার্কেলের মোট ১৮ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। এ বিষয়ে তদন্ত এখনো চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক।

 

কারণ দর্শানোর নোটিশে বলা হয়, যুক্তিসংগত কারণ ছাড়া কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকা কিংবা বিলম্বে উপস্থিত হওয়া সরকারি কর্মচারী (নিয়মিত উপস্থিতি) বিধিমালা, ২০১৯-এর সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। একই সঙ্গে অফিসে উপস্থিত না থেকেও হাজিরা খাতায় আগাম স্বাক্ষর করাকে গর্হিত অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

 

এ ধরনের কর্মকাণ্ড সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর ‘খ’ ধারায় বর্ণিত অপরাধের শামিল বলেও নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

নোটিশ পাওয়া কর্মকর্তা-কর্মচারীদের তিন কার্যদিবসের মধ্যে লিখিতভাবে কারণ দর্শাতে বলা হয়েছিল। জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্টরা অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) রিনাত ফৌজিয়ার কাছে আত্মপক্ষ সমর্থন করে লিখিত বক্তব্য দিয়েছেন।

 

কারণ দর্শানোর নোটিশ পাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন সদর উপজেলা ভূমি অফিসের কানুনগো আব্দুস সাত্তার, সার্ভেয়ার মো. আসাদুজ্জামান, নাজির কাম ক্যাশিয়ার মাসুম মিয়া, অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক মাহফুজা আক্তার, সার্টিফিকেট সহকারী সাদিয়া আক্তার, চেইনম্যান মীর মোজাম্মেল হক, অফিস সহায়ক আব্দুস সালাম (রূপম), অফিস সহায়ক ইউনূস আলী, অফিস সহায়ক মোক্তার হোসেন ও গাড়িচালক নাদিম হায়দার।

 

এ ছাড়া সিদ্ধিরগঞ্জ রাজস্ব সার্কেলের কানুনগো ফারুক আলম, সার্ভেয়ার জামাল উদ্দিন, মিউটেশন কাম সার্টিফিকেট সহকারী জান্নাত হোসেন, নাজির কাজী তানজিরুল হক, অফিস সহায়ক মোকলেছ শেখ ও চেইনম্যান রফিকুল ইসলাম এবং ফতুল্লা রাজস্ব সার্কেলের সার্ভেয়ার মিল্টন রায় ও অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক সাহাদাতও নোটিশ পেয়েছেন।

 

জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির বলেন, কারণ দর্শানোর নোটিশ পাওয়া কর্মকর্তাদের বিষয়ে তদন্ত চলছে। নোটিশ পাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে আরও কয়েকজনের বিষয়েও পরবর্তীতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

 

এদিকে সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাদিয়া আক্তারকে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার বিষয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হলেও তিনি এখনো একই পদে বহাল রয়েছেন।

 

জেলা প্রশাসন সূত্রে আরও জানা গেছে, সরকারি চাকরির বিধি অনুযায়ী কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীর একই কর্মস্থলে তিন বছরের বেশি থাকার সুযোগ নেই। নির্ধারিত সময়ের বেশি একই কর্মস্থলে কর্মরত কর্মকর্তাদের তালিকা তৈরির কাজ চলছে। পরবর্তী সময়ে তাদের বিষয়েও বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অফিসে না এসেই হাজিরা খাতায় আগাম স্বাক্ষর, দুই এসিল্যান্ড বদলি

প্রকৃতি ও পরিবেশ রক্ষার পাশাপাশি সব প্রাণীর প্রতি ভালোবাসা ও যত্নশীল হওয়ার জন্য শিক্ষার্থীদের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, সৃষ্টির সেরা জীব হিসেবে গাছপালা ও প্রাণিকুলের যত্ন নেওয়া মানুষের দায়িত্ব। কোনো প্রাণীকে আঘাত না করে তাদের প্রতি মমত্ববোধ দেখাতে হবে।

 

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদ ভবনে রাজশাহীর পুঠিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, ঢাকার সাভার উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়, তেজগাঁও মহিলা কলেজ এবং টঙ্গীর শফিউদ্দিন সরকার একাডেমি অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে তিনি এ কথা বলেন।

 

প্রধানমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের বেশি করে গাছ রোপন এবং চারপাশ পরিচ্ছন্ন ও পরিবেশ দূষণমুক্ত রাখার আহ্বান জানান। ছোটবেলা থেকেই প্রকৃতি, পরিবেশ ও প্রাণিকুলের প্রতি দায়িত্বশীল আচরণ করার অভ্যাস গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

 

শিক্ষার্থীদের পড়ালেখার পাশাপাশি নিয়মিত খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ারও তাগিদ দেন প্রধানমন্ত্রী। সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে গান, কবিতা আবৃত্তি, চিত্রাঙ্কন ও বাদ্যযন্ত্র চর্চায় অংশ নিতে তিনি তাদের উৎসাহিত করেন। এছাড়া, শিক্ষার্থীদের ক্বিরাত চর্চারও পরামর্শ দেন।

 

শারীরিক ও মানসিক বিকাশে খেলাধুলার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নিয়মিত খেলাধুলা শরীর সুস্থ রাখার পাশাপাশি শৃঙ্খলা, আত্মবিশ্বাস, মনোযোগ ও দলগতভাবে কাজ করার মানসিকতা গড়ে তোলে।

 

পুঠিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির ৩৬ জন ছাত্রী ও আটজন শিক্ষক এবং সাভার উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির ৫০ জন ছাত্রী ও চারজন শিক্ষক এদিন জাতীয় সংসদ ভবনে আসেন। এ ছাড়া, তেজগাঁও মহিলা কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ৪৬ জন ছাত্রী ও ১১ জন শিক্ষক এবং শফিউদ্দিন সরকার একাডেমি অ্যান্ড কলেজের অষ্টম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির ৪৭ জন শিক্ষার্থী ও ছয়জন শিক্ষক সংসদ ভবনে আসেন। তারা জাতীয় সংসদের অধিবেশন প্রত্যক্ষ করেন।

 

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাৎ ও কথা বলার সুযোগ পেয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন শিক্ষার্থীরা। তারা জানান, প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ ও দিকনির্দেশনা তাদের অনুপ্রাণিত করেছে এবং এ সাক্ষাৎ তাদের জীবনে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

প্রাণিকুলের প্রতি ভালোবাসা দেখাতে ও যত্নশীল হতে শিক্ষার্থীদের আহ্বান জানালেন প্রধানমন্ত্রী

র‌্যাবের চৌকস অভিযানে জীপসহ প্রায় ১১ হাজার ইয়াবার চালান আটক

জামালপুর হামলা পাল্টা হামলার মধ্য দিয়ে জেলার সানন্দবাড়ী তে থমথমে অবস্থা বিরাজমান।

পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের ও আদালতে মিথ্যা হলফনামা দেয়ার অভিযোগে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কেবিন ক্রু খাদিজা সুলতানা শিমুর বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

 

বুধবার (১৫ জুলাই) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২-এর বিচারক মো. জাকির হোসাইন এ আদেশ দেন। আদালতের আদেশে বলা হয়েছে, শিমুর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর ১৩ ধারা এবং দণ্ডবিধির ১৮১, ১৮২ ও ১৯৩ ধারায় মামলা করা হবে। আদালত নিজেই এ মামলার বাদী হয়েছেন।

 

আদালতের নথি অনুযায়ী, খাদিজা সুলতানা শিমু মামলার বাদী হয়ে বেসরকারি একটি এয়ারলাইন্সের কর্মকর্তা মো. ওমর ফারুক চৌধুরীর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনের বিভিন্ন ধারায় উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলা করেন।

 

তদন্ত শেষে উত্তরা পশ্চিম থানার তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে জানান, অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি। প্রতিবেদনে বলা হয়, মামলার এজাহারে উল্লেখ করা ফেসবুক লিংক, ডিজিটাল আলামত ও অন্যান্য তথ্য যাচাই করে ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি প্রচারের কোনো প্রমাণ মেলেনি। ফলে ওই কর্মকর্তাকে মামলা থেকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়।

একই সঙ্গে তদন্ত কর্মকর্তা প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, ওমর ফারুক আগে শিমুর বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন দিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে আদালতে মামলা করেছিলেন। সেই মামলার দায় এড়াতেই শিমু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত বিভিন্ন লিংক উল্লেখ করে তার বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি ছড়ানোর অভিযোগ এনে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, হয়রানিমূলক ও মিথ্যা মামলা করেছেন বলে প্রাথমিক তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে। এ কারণে শিমুর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর ১৩ ধারায় আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার আবেদনও করেন তদন্ত কর্মকর্তা।

 

পরে গত ৯ জুলাই আদালত তদন্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করে ওমর ফারুককে মামলা থেকে অব্যাহতি দেন। আদালতের আদেশে বলা হয়, শিমু ক্ষতিসাধনের উদ্দেশ্যে আদালতে মিথ্যা মামলা দায়ের করেছেন এবং হলফ করে মিথ্যা সাক্ষ্য দিয়েছেন। মামলার নথিতে তার দেয়া হলফনামাও সংযুক্ত রয়েছে। এসব বিবেচনায় আদালত নিজেই বাদী হয়ে তার বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন ও দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়েরের নির্দেশ দেন।

 

তদন্তে যা উঠে এসেছে পুলিশের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, তদন্তকালে রেকর্ড, ডিজিটাল আলামত, ফেসবুক লিংক ও ফরেনসিক তথ্য যাচাই করে ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি প্রচারের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

 

তদন্তে আরও উঠে আসে, শিমু বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কেবিন ক্রু এবং ওমর ফারুক একটি বেসরকারি এয়ারলাইন্সের এয়ারক্রাফট মেইনটেন্যান্স কর্মকর্তা। ফেসবুকে পরিচয়ের পর তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

 

প্রতিবেদনে বলা হয়, বিয়ের আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন সময়ে ওমর ফারুকের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী নেয়ার অভিযোগে ওমর ফারুক আদালতে পৃথক মামলা করেন। এরপর সেই মামলার দায় থেকে নিজেকে রক্ষা করতেই শিমু পর্নোগ্রাফি আইনে অভিযোগ দায়ের করেন বলে তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে।

 

ওমর ফারুকের আগের মামলা গত ২০ জুলাই ওমর ফারুক চৌধুরী শিমুর বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন, ‘হানি ট্র্যাপ’ ও ব্ল্যাকমেইলের মাধ্যমে প্রায় ২২ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ঢাকার আদালতে মামলা করেন। আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে উত্তরা পশ্চিম থানাকে তদন্তের নির্দেশ দেন। পরে তিনি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষের কাছেও লিখিত অভিযোগ করেন।

 

সেই মামলায় অভিযোগ করা হয়, ২০২৪ সালে ফেসবুকে পরিচয়ের পর শিমু তাকে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন সময়ে টাকা নেন। জন্মদিনে দেড় লাখ টাকা মূল্যের একটি হীরার আংটিসহ বিয়ের খরচের জন্য মোট ২১ লাখ ৭৪ হাজার ৫১১ টাকা নেয়ার পরও বিয়ে না করে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে মামলায় দাবি করা হয়।

পর্নোগ্রাফি আইনে কেবিন ক্রু শিমুর বিরুদ্ধে মামলার নির্দেশ আদালতের

error: আপনি নিউজ চুরি করার চেষ্টা করছেন। বিশেষ প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন ০১৭৬৭৪৪৪৩৩৩
%d