
এর আগে গত ৩১ আগস্ট সকালে ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন আকস্মিকভাবে নারায়ণগঞ্জের কয়েকটি ভূমি অফিস পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনের সময় সংশ্লিষ্ট কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে কর্মস্থলে পাওয়া যায়নি। তবে তাদের অনুপস্থিত থাকা সত্ত্বেও ৩১ আগস্টের হাজিরা খাতায় আগের দিনই স্বাক্ষর করা ছিল বলে অভিযোগ ওঠে।
ঘটনাটি নজরে আসার পর সদর, ফতুল্লা ও সিদ্ধিরগঞ্জ রাজস্ব সার্কেলের মোট ১৮ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। এ বিষয়ে তদন্ত এখনো চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক।
কারণ দর্শানোর নোটিশে বলা হয়, যুক্তিসংগত কারণ ছাড়া কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকা কিংবা বিলম্বে উপস্থিত হওয়া সরকারি কর্মচারী (নিয়মিত উপস্থিতি) বিধিমালা, ২০১৯-এর সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। একই সঙ্গে অফিসে উপস্থিত না থেকেও হাজিরা খাতায় আগাম স্বাক্ষর করাকে গর্হিত অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
এ ধরনের কর্মকাণ্ড সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর ‘খ’ ধারায় বর্ণিত অপরাধের শামিল বলেও নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।
নোটিশ পাওয়া কর্মকর্তা-কর্মচারীদের তিন কার্যদিবসের মধ্যে লিখিতভাবে কারণ দর্শাতে বলা হয়েছিল। জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্টরা অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) রিনাত ফৌজিয়ার কাছে আত্মপক্ষ সমর্থন করে লিখিত বক্তব্য দিয়েছেন।
কারণ দর্শানোর নোটিশ পাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন সদর উপজেলা ভূমি অফিসের কানুনগো আব্দুস সাত্তার, সার্ভেয়ার মো. আসাদুজ্জামান, নাজির কাম ক্যাশিয়ার মাসুম মিয়া, অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক মাহফুজা আক্তার, সার্টিফিকেট সহকারী সাদিয়া আক্তার, চেইনম্যান মীর মোজাম্মেল হক, অফিস সহায়ক আব্দুস সালাম (রূপম), অফিস সহায়ক ইউনূস আলী, অফিস সহায়ক মোক্তার হোসেন ও গাড়িচালক নাদিম হায়দার।
এ ছাড়া সিদ্ধিরগঞ্জ রাজস্ব সার্কেলের কানুনগো ফারুক আলম, সার্ভেয়ার জামাল উদ্দিন, মিউটেশন কাম সার্টিফিকেট সহকারী জান্নাত হোসেন, নাজির কাজী তানজিরুল হক, অফিস সহায়ক মোকলেছ শেখ ও চেইনম্যান রফিকুল ইসলাম এবং ফতুল্লা রাজস্ব সার্কেলের সার্ভেয়ার মিল্টন রায় ও অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক সাহাদাতও নোটিশ পেয়েছেন।
জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির বলেন, কারণ দর্শানোর নোটিশ পাওয়া কর্মকর্তাদের বিষয়ে তদন্ত চলছে। নোটিশ পাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে আরও কয়েকজনের বিষয়েও পরবর্তীতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এদিকে সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাদিয়া আক্তারকে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার বিষয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হলেও তিনি এখনো একই পদে বহাল রয়েছেন।
জেলা প্রশাসন সূত্রে আরও জানা গেছে, সরকারি চাকরির বিধি অনুযায়ী কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীর একই কর্মস্থলে তিন বছরের বেশি থাকার সুযোগ নেই। নির্ধারিত সময়ের বেশি একই কর্মস্থলে কর্মরত কর্মকর্তাদের তালিকা তৈরির কাজ চলছে। পরবর্তী সময়ে তাদের বিষয়েও বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
Leave a Reply