আমাকে সংসদে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করা হয়েছে: রুমিন ফারহানা - Gono television | বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল।
আমাকে সংসদে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করা হয়েছে: রুমিন ফারহানা

আমাকে সংসদে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করা হয়েছে: রুমিন ফারহানা

সংসদে ভিন্নমত প্রকাশের সুযোগ না থাকার অভিযোগ তুলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসন থেকে নির্বাচিত স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা বলেছেন, বুধবার তিনি সংসদে যে আচরণের মুখোমুখি হয়েছেন, তা কোনোভাবেই গণতান্ত্রিক বা সংসদীয় রীতির মধ্যে পড়ে না।

 

তিনি বলেছেন, ‘আমার বক্তব্য শেষে কেউ পাল্টা বক্তব্য দিতে পারেন। কিন্তু গতকাল সংসদে আমার আশপাশ থেকে আমাকে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করা হয়েছে। এটা সংসদীয় রীতিনীতির মধ্যে পড়ে না।’

 

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) আমর্ড পুলিশ ব্যাটালিয়ন বিলের ওপর বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

 

রুমিন ফারহানা বলেন, ‘একটা সংসদে সরকারি দল, বিরোধীদল, স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য থাকেন। একেক জনের এক ধরনের মত থাকবে। ২০১৮ সালে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে সংসদে একা দাঁড়িয়ে কথা বলার সময়ও জঘন্যভাবে আক্রমণের মুখে পড়েছি। সংসদে শুধু না এর পক্ষে ভোট দেওয়ার জন্য বিরোধীদল সেজে বসে থাকার কোনো মানে দেখছি না।’

 

এর আগে বুধবারের ঘটনা প্রসঙ্গে রুমিন ফারহানা বলেন, ‘এত অসহিষ্ণু সংসদ দেখে মনে হচ্ছে আমরা যেন আবার আওয়ামী লীগের আমলে ফিরে গেছি। আওয়ামী লীগকে যখন এসব কথা বলতাম, তখন তারাও সংসদে হট্টগোল করত। এখন বিএনপি একই ধরনের আচরণ করছে।’


এর আগে গত ৩১ আগস্ট সকালে ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন আকস্মিকভাবে নারায়ণগঞ্জের কয়েকটি ভূমি অফিস পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনের সময় সংশ্লিষ্ট কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে কর্মস্থলে পাওয়া যায়নি। তবে তাদের অনুপস্থিত থাকা সত্ত্বেও ৩১ আগস্টের হাজিরা খাতায় আগের দিনই স্বাক্ষর করা ছিল বলে অভিযোগ ওঠে।

 

ঘটনাটি নজরে আসার পর সদর, ফতুল্লা ও সিদ্ধিরগঞ্জ রাজস্ব সার্কেলের মোট ১৮ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। এ বিষয়ে তদন্ত এখনো চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক।

 

কারণ দর্শানোর নোটিশে বলা হয়, যুক্তিসংগত কারণ ছাড়া কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকা কিংবা বিলম্বে উপস্থিত হওয়া সরকারি কর্মচারী (নিয়মিত উপস্থিতি) বিধিমালা, ২০১৯-এর সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। একই সঙ্গে অফিসে উপস্থিত না থেকেও হাজিরা খাতায় আগাম স্বাক্ষর করাকে গর্হিত অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

 

এ ধরনের কর্মকাণ্ড সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর ‘খ’ ধারায় বর্ণিত অপরাধের শামিল বলেও নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

নোটিশ পাওয়া কর্মকর্তা-কর্মচারীদের তিন কার্যদিবসের মধ্যে লিখিতভাবে কারণ দর্শাতে বলা হয়েছিল। জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্টরা অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) রিনাত ফৌজিয়ার কাছে আত্মপক্ষ সমর্থন করে লিখিত বক্তব্য দিয়েছেন।

 

কারণ দর্শানোর নোটিশ পাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন সদর উপজেলা ভূমি অফিসের কানুনগো আব্দুস সাত্তার, সার্ভেয়ার মো. আসাদুজ্জামান, নাজির কাম ক্যাশিয়ার মাসুম মিয়া, অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক মাহফুজা আক্তার, সার্টিফিকেট সহকারী সাদিয়া আক্তার, চেইনম্যান মীর মোজাম্মেল হক, অফিস সহায়ক আব্দুস সালাম (রূপম), অফিস সহায়ক ইউনূস আলী, অফিস সহায়ক মোক্তার হোসেন ও গাড়িচালক নাদিম হায়দার।

 

এ ছাড়া সিদ্ধিরগঞ্জ রাজস্ব সার্কেলের কানুনগো ফারুক আলম, সার্ভেয়ার জামাল উদ্দিন, মিউটেশন কাম সার্টিফিকেট সহকারী জান্নাত হোসেন, নাজির কাজী তানজিরুল হক, অফিস সহায়ক মোকলেছ শেখ ও চেইনম্যান রফিকুল ইসলাম এবং ফতুল্লা রাজস্ব সার্কেলের সার্ভেয়ার মিল্টন রায় ও অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক সাহাদাতও নোটিশ পেয়েছেন।

 

জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির বলেন, কারণ দর্শানোর নোটিশ পাওয়া কর্মকর্তাদের বিষয়ে তদন্ত চলছে। নোটিশ পাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে আরও কয়েকজনের বিষয়েও পরবর্তীতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

 

এদিকে সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাদিয়া আক্তারকে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার বিষয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হলেও তিনি এখনো একই পদে বহাল রয়েছেন।

 

জেলা প্রশাসন সূত্রে আরও জানা গেছে, সরকারি চাকরির বিধি অনুযায়ী কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীর একই কর্মস্থলে তিন বছরের বেশি থাকার সুযোগ নেই। নির্ধারিত সময়ের বেশি একই কর্মস্থলে কর্মরত কর্মকর্তাদের তালিকা তৈরির কাজ চলছে। পরবর্তী সময়ে তাদের বিষয়েও বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অফিসে না এসেই হাজিরা খাতায় আগাম স্বাক্ষর, দুই এসিল্যান্ড বদলি

নেত্রকোণার মোহনগঞ্জে জুয়ার আসর থেকে যুবদল নেতা, ফায়ার সার্ভিস ও বিজিবি সদস্যসহ আটজনকে আটক করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে তাদেরকে আদালতে পাঠানো হয়। এর আগে, বুধবার সন্ধ্যায় পৌরশহরের টেংগাপাড়া এলাকার একটি ঘরে জুয়া খেলার সময় তাদের আটক করা হয়।

 

আটক ব্যক্তিরা হলেন—টেংগাপাড়া এলাকার দেওয়ান কামরুল হাসান সায়েম (৪৩), মো. জিয়া উদ্দিন (৪০), হারুন অর রশিদ ওরফে তরুনুর রশিদ খান (৪৩), দৌলতপুরের মোহাম্মদ আলী রুবেল (৪৪), পাবই গ্রামের মো. আমীন (৪২), মো. সোহেল রানা (৪৪), ঝিকরওয়ালা গ্রামের মিনামুল (৩৫) ও সহিলদেও গ্রামের কমল মিয়া (৪৩)।

 

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে কয়েকজন সরকারি চাকরিতে কর্মরত। তাদের মধ্যে তরুনুর রশিদ ময়মনসিংহ ফায়ার সার্ভিসে লিডার পদে, সোহেল রানা বিজিবিতে এবং জিয়া উদ্দিন নির্বাচন অফিসে কর্মরত বলে জানা গেছে। এছাড়া কমল মিয়া উপজেলার সমাজ-সহিলদেও ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি পদে রয়েছেন।

 

পুলিশ জানায়, উপজেলার একটি স্থানে টাকার বিনিময়ে জুয়ার আসর বসানোর খবর পেয়ে গোপনে অভিযান চালানো হয়। এ সময় জুয়া খেলারত অবস্থায় আটজনকে আটক করা হয়।

 

মোহনগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুল ইসলাম হারুন জানান, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে জুয়া আইনে মামলা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে বিভিন্ন সরকারি সংস্থা বা বাহিনীর সদস্য থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

বারহাট্টা সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাব্বির হাসান বলেন, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে সরকারি চাকরিজীবী কেউ আছেন কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্তে এমন কাউকে পাওয়া গেলে তার পরিচয়সহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে জানানো হবে।

নেত্রকোণায় জুয়ার আসর থেকে যুবদল নেতা, ফায়ার সার্ভিস-বিজিবি সদস্যসহ আটক ৮

নওগাঁয় শিক্ষককে বাসায় ডেকে মারধর করে স্ট্যাম্প ও চেকে স্বাক্ষর করে টাকা আদায়, নারীসহ হানিট্র্যাপ চক্রের গ্রেপ্তার ৪

 

মোঃ সাইদুল ইসলাম হেলাল

বিশেষ প্রতিনিধিঃ

শিক্ষককে বাসায় ডেকে মারধর, টাকা আদায়, নারীসহ হানিট্র্যাপ চক্রের ৪ সদস্য গ্রেপ্তার

 

 

নওগাঁয় এক স্কুলশিক্ষককে বাসায় ডেকে নিয়ে মারধরের ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় এবং জোর করে স্ট্যাম্প ও চেকে স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগে কথিত হানিট্র্যাপ চক্রের এক নারী সদস্যসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় ভুক্তভোগীর কাছ থেকে নেওয়া ৩০০ টাকার স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর এবং দুই লাখ টাকার একটি চেক উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ মিডিয়া সেলে এ তথ্য জানান পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম।

 

 

 

 

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন, নওগাঁ সদর উপজেলার কোমাইগাড়ি পূর্বপাড়ার মোছা. চামেলী আক্তার মিলি (৪৫), আত্রাই উপজেলার বেড়াহাসন এলাকার রাকিব হাসান (২৯), বদলগাছী উপজেলার নিহনপুর পূর্বপাড়ার সোহরাব হোসেন (২৬) এবং বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলার ফুটানিগঞ্জ এলাকার নাঈম হোসেন (২৫)।

 

 

 

জানা যায়, জয়পুরহাটের আক্কেলপুর থানার এক স্কুলশিক্ষকের সঙ্গে পূর্বপরিচিত ছিলেন চামেলী আক্তার মিলি। প্রয়োজনের সময় তাদের মধ্যে মুঠোফোনে কথা হতো। গত ২৫ আগস্ট বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে মিলি ওই শিক্ষককে ফোন করে জরুরি কথা আছে জানিয়ে নওগাঁ শহরে তাঁর বাসায় আসতে বলেন। জরুরি বিষয়ের কথা শুনে সরল বিশ্বাসে ওই শিক্ষক মিলির বাসায় যান। সেখানে যাওয়ার পর মিলিসহ আরও দুই-তিনজন ব্যক্তি তাকে আটক করেন। একপর্যায়ে মারধরের ভয় দেখিয়ে তার কাছ থেকে নগদ পাঁচ হাজার টাকা নেওয়া হয়। পরে ৩০০ টাকার একটি সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর এবং দুই লাখ টাকার একটি চেক লিখে নেওয়ার পর তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

 

 

 

ঘটনার পর ভুক্তভোগী থানায় অভিযোগ দিলে নওগাঁ সদর থানায় মামলা করা হয়। এরপর পুলিশ অভিযান শুরু করে। প্রায় এক সপ্তাহের অভিযানের পর চক্রটির চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়। নওগাঁ সদর থানার অভিযানে গ্রেপ্তারের পর তাদের কাছ থেকে জোর করে স্বাক্ষর নেওয়া স্ট্যাম্প ও দুই লাখ টাকার চেক উদ্ধার করা হয়েছে।

 

 

 

পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা আন্তঃউপজেলা ভিত্তিতে একটি প্রতারক চক্র হিসেবে কাজ করতেন। তারা সুযোগ বুঝে বিভিন্ন ব্যক্তিকে নানা ধরনের প্রলোভনে ফেলে একটি নির্দিষ্ট স্থানে ডেকে নিতেন। পরে ভয়ভীতি দেখানো, ছবি ধারণ কিংবা ব্ল্যাকমেইলের মাধ্যমে তাদের কাছ থেকে টাকা আদায় করতো। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং চক্রটির সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

নওগাঁ  শিক্ষককে বাসায় ডেকে মারধর করে স্ট্যাম্প ও চেকে স্বাক্ষর করে টাকা আদায়, নারীসহ হানিট্র্যাপ চক্রের গ্রেপ্তার ৪

শ্যামনগরে পুকুরের পানিতে ডুবে দেড় বছরের শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু।

 

*শোক সংবাদ:*

 

শ্যামনগর (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি: জিয়াউর রহমান জিয়া,

শ্যামনগর উপজেলা প্রতিনিধি,

দৈনিক আমাদের দেশ।

 

সাতক্ষীরার শ্যামনগরে পুকুরের পানিতে ডুবে মোঃ ইব্রাহিম খলিল (১.৫) নামে এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।

 

আজ ১০ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার দুপুরে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত ইব্রাহিম বংশীপুর নিবাসী এবং ৮ নং ঈশ্বরীপুর ইউনিয়ন পরিষদের কম্পিউটার অপারেটর মাহবুব হোসেন রাসেলের একমাত্র পুত্র সন্তান।

 

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, সবার অগোচরে শিশুটি বাড়ির পাশের পুকুরে পড়ে যায়। পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার আগেই তার মৃত্যু হয়।

 

একমাত্র সন্তানের অকাল মৃত্যুতে পরিবার ও এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

শ্যামনগরে পুকুরের পানিতে ডুবে দেড় বছরের শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু।

অচেতন করে টাকা-মোবাইল নেওয়ার সময় অজ্ঞান পার্টির সদস্য গ্রেপ্তার

 

স্টাফ রিপোর্টার

মাইদুল ইসলাম

আন্তঃনগর সীমান্ত ট্রেনে এক যাত্রীকে অচেতন করে টাকা ও মোবাইল হাতিয়ে নেওয়ার সময় ফুল মিয়া (৫৬) নামে অজ্ঞান পার্টির এক সদস্যকে গ্রেফতার করেছে রেলওয়ে পুলিশ। বুধবার

(৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করে সৈয়দপুর রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জুলফিকার আলী। অসচেতন হয়ে যাওয়া যাত্রী হাজী মফিজুল রহমান সৈয়দপুর রেলওয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তিনি সীমান্ত এক্সপ্রেসের ‘ঙ’ বগির ৩৪ নম্বর আসনে ছিলেন তার বাড়ি ঝিনাইদহের কালিগঞ্জ উপজেলার হেলাফেলা গ্রামে। বুধবার

বিকেল ৩টা পর্যন্ত তার জ্ঞান ফেরেনি বলে জানিয়েছেন রেলওয়ে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, খুলনা থেকে ছেড়ে আসা চিলাহাটিগামী সীমন্ত এক্সপ্রেস ট্রেনটি দিনাজপুরের পার্বতীপুর রেলস্টেশন অতিক্রম করার পর মফিজুর রহমান ও অচেতন হয়ে পড়েন। বিষয়টি টের পেয়ে ট্রেনে দায়িত্ব পালনরত রেলওয়ে পুলিশ তার পাশের যাত্রী ফুল মিয়াকে আটক করে। পরে তার দেহে তল্লাশি করে মফিজুল রহমানের টাকা ও মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। পুলিশ আরও জানাই ২০২৫ সালে ২

৩০ আগস্ট একই ট্রেনে দুই নারী যাত্রীকে জুস পান করিয়ে অচেতন করার অভিযোগে ফুল মিয়াকে আটক করা হয়েছিল। ওই সময় অচেতন দুই নারী কানের দুল ও নাকের ফুল খুলে নেওয়ার অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে পাশের এক যাত্রী বিষয়টি বুঝতে পেরে ফুল মিয়াকে হাতেনাতে আটক করেন। পরে তার কাছে থাকা জুস পরীক্ষা করতে তাকেই পান করানো হলে তিনি নিজেই অচেতন হয় পড়েন। সৈয়দপুর রেলওয়ে থানার ওসি জুলফিকার আলী বলেন, উপপরিদর্শক (এএসআই)

মিজানুর রহমান বাদী হয়ে

ফুল মিয়াসহ তার অজ্ঞাত নামা দুই থেকে তিনজন সহযোগীর বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, ফুল মিয়ার বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন রেলওয়ে থানায় একাধিক মামলা রয়েছে।

অচেতন করে টাকা-মোবাইল নেওয়ার সময় অজ্ঞান পার্টির সদস্য গ্রেপ্তার 

ডোমারে পৃথক ঘটনায় দুইজনের মরদেহ উদ্ধার

 

স্টাফ রিপোর্টার

মাইদুল ইসলামঃ

 

নীলফামারীর ডোমার উপজেলায় পৃথক ঘটনায় দুই ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। একজনের মরদেহ বাড়ির গোয়ালঘর থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। অপরজন ট্রেনে কাটা পড়ে মারা গেছেন।

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টার দিকে উপজেলার বোড়াগাড়ী ইউনিয়নের পশ্চিম বোড়াগাড়ী গ্রামের নিজ বাড়ির গোয়ালঘর থেকে সুমন রায় (২১) নামে এক যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তিনি ওই গ্রামের বাবলু রায়ের ছেলে এবং পেশায় রাজমিস্ত্রি ছিলেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সুমন ঢাকায় রাজমিস্ত্রির কাজ করতেন। গত ৭ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে বাড়িতে ফেরেন তিনি। বুধবার সকালে প্রতিবেশীরা গোয়ালঘরে তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেন।

ডোমার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাবিবুল্লাহ বলেন, প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এর কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

এদিকে, বুধবার সকালে উপজেলার কাজীরহাট এলাকায় চিলাহাটি থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী চিলাহাটি এক্সপ্রেস ট্রেনে কাটা পড়ে ষাটোর্ধ্ব এক অজ্ঞাত ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, মঙ্গলবার রাতে ওই ব্যক্তিকে কাজীরহাট বাজার এলাকায় ঘোরাফেরা করতে দেখা যায়। তিনি মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন বলে স্থানীয়দের ধারণা।

সৈয়দপুর রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জুলফিকার আলী বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, নিহত ব্যক্তির পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে।

ডোমারে পৃথক ঘটনায় দুইজনের মরদেহ উদ্ধার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

দেশীয় অর্থায়নে পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়ন করা হবে বলে জানিয়েছেন পানি সম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী। তিনি বলেন, আগামী বছরের মার্চ মাসের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পের উদ্বোধনের ঘোষণা দেবেন।

 

শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার হাবাসপুর এলাকায় পদ্মা নদীর চর পরিদর্শনে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

 

পানি সম্পদ মন্ত্রী বলেন, পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে দেশের ২৪ জেলার মানুষ এর সুফল পাবেন। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন, মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি এবং কৃষিতে ব্যাপক পরিবর্তন আসবে। এর ফলে দেশের অর্থনীতিও আরও সমৃদ্ধ হবে।

 

তিনি বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া ২০০৪ সালে এই প্রকল্পের সমীক্ষা করেছিলেন। দীর্ঘ সময় পর ২০২৬ সালে পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প একনেকে অনুমোদন পেয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে এখন প্রকল্পটি বাস্তবায়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছে।

 

শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী আরও বলেন, সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের খাল খনন কর্মসূচিও নতুন করে শুরু করা হয়েছে। নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী এখন পর্যন্ত সারাদেশে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল পুনঃখনন করা হয়েছে।

 

পরিদর্শনকালে প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ও রাজবাড়ী-১ আসনের সংসদ সদস্য আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম এবং রাজবাড়ী-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. হারুন-অর-রশিদ উপস্থিত ছিলেন।

দেশীয় অর্থায়নেই সম্পন্ন হবে পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প: পানি সম্পদ মন্ত্রী

রাঙামাটির কাপ্তাই লেকে পানির উচ্চতা বিপজ্জনকভাবে বেড়ে যাওয়ায় বাঁধের স্পিলওয়ের ১৬টি জলকপাট তৃতীয়বারের মতো পুনরায় খুলে দেয়া হয়েছে।

 

শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে প্রতিটি জলকপাট ৬ ইঞ্চি করে খুলে পানি নিষ্কাশন শুরু হয়। বর্তমানে লেকে পানির উচ্চতা রয়েছে ১০৫.৫১ ফুট এমএসএল।

 

কাপ্তাই কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র সূত্রে জানা গেছে, লেকের পানি বাড়ায় রাঙামাটির বিভিন্ন এলাকায় বাড়িঘর প্লাবিত হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে পানি নিষ্কাশন করা হচ্ছে। লেকের পানির উচ্চতা ১০৫ ফুটে নেমে এলে জলকপাটগুলো বন্ধ করে দেয়া হবে।

 

কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, লেকের বর্তমান পানির উচ্চতা ১০৫.৫১ ফুট। পরিস্থিতি বিবেচনায় ১৬টি জলকপাট ৬ ইঞ্চি করে খোলা হয়েছে এবং পানির উচ্চতা ১০৫ ফুটে নেমে এলে এগুলো বন্ধ করা হবে।

 

উল্লেখ্য, কাপ্তাই লেকের সর্বোচ্চ পানি ধারণক্ষমতা ১০৯ ফুট এমএসএল। সম্ভাব্য দুর্যোগ এড়াতেই কর্তৃপক্ষ এই আগাম সতর্কতা অবলম্বন করছে।

খুলে দেয়া হয়েছে কাপ্তাই বাঁধের ১৬ জলকপাট

এর আগে গত ৩১ আগস্ট সকালে ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন আকস্মিকভাবে নারায়ণগঞ্জের কয়েকটি ভূমি অফিস পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনের সময় সংশ্লিষ্ট কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে কর্মস্থলে পাওয়া যায়নি। তবে তাদের অনুপস্থিত থাকা সত্ত্বেও ৩১ আগস্টের হাজিরা খাতায় আগের দিনই স্বাক্ষর করা ছিল বলে অভিযোগ ওঠে।

 

ঘটনাটি নজরে আসার পর সদর, ফতুল্লা ও সিদ্ধিরগঞ্জ রাজস্ব সার্কেলের মোট ১৮ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। এ বিষয়ে তদন্ত এখনো চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক।

 

কারণ দর্শানোর নোটিশে বলা হয়, যুক্তিসংগত কারণ ছাড়া কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকা কিংবা বিলম্বে উপস্থিত হওয়া সরকারি কর্মচারী (নিয়মিত উপস্থিতি) বিধিমালা, ২০১৯-এর সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। একই সঙ্গে অফিসে উপস্থিত না থেকেও হাজিরা খাতায় আগাম স্বাক্ষর করাকে গর্হিত অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

 

এ ধরনের কর্মকাণ্ড সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর ‘খ’ ধারায় বর্ণিত অপরাধের শামিল বলেও নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

নোটিশ পাওয়া কর্মকর্তা-কর্মচারীদের তিন কার্যদিবসের মধ্যে লিখিতভাবে কারণ দর্শাতে বলা হয়েছিল। জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্টরা অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) রিনাত ফৌজিয়ার কাছে আত্মপক্ষ সমর্থন করে লিখিত বক্তব্য দিয়েছেন।

 

কারণ দর্শানোর নোটিশ পাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন সদর উপজেলা ভূমি অফিসের কানুনগো আব্দুস সাত্তার, সার্ভেয়ার মো. আসাদুজ্জামান, নাজির কাম ক্যাশিয়ার মাসুম মিয়া, অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক মাহফুজা আক্তার, সার্টিফিকেট সহকারী সাদিয়া আক্তার, চেইনম্যান মীর মোজাম্মেল হক, অফিস সহায়ক আব্দুস সালাম (রূপম), অফিস সহায়ক ইউনূস আলী, অফিস সহায়ক মোক্তার হোসেন ও গাড়িচালক নাদিম হায়দার।

 

এ ছাড়া সিদ্ধিরগঞ্জ রাজস্ব সার্কেলের কানুনগো ফারুক আলম, সার্ভেয়ার জামাল উদ্দিন, মিউটেশন কাম সার্টিফিকেট সহকারী জান্নাত হোসেন, নাজির কাজী তানজিরুল হক, অফিস সহায়ক মোকলেছ শেখ ও চেইনম্যান রফিকুল ইসলাম এবং ফতুল্লা রাজস্ব সার্কেলের সার্ভেয়ার মিল্টন রায় ও অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক সাহাদাতও নোটিশ পেয়েছেন।

 

জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির বলেন, কারণ দর্শানোর নোটিশ পাওয়া কর্মকর্তাদের বিষয়ে তদন্ত চলছে। নোটিশ পাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে আরও কয়েকজনের বিষয়েও পরবর্তীতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

 

এদিকে সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাদিয়া আক্তারকে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার বিষয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হলেও তিনি এখনো একই পদে বহাল রয়েছেন।

 

জেলা প্রশাসন সূত্রে আরও জানা গেছে, সরকারি চাকরির বিধি অনুযায়ী কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীর একই কর্মস্থলে তিন বছরের বেশি থাকার সুযোগ নেই। নির্ধারিত সময়ের বেশি একই কর্মস্থলে কর্মরত কর্মকর্তাদের তালিকা তৈরির কাজ চলছে। পরবর্তী সময়ে তাদের বিষয়েও বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অফিসে না এসেই হাজিরা খাতায় আগাম স্বাক্ষর, দুই এসিল্যান্ড বদলি

প্রকৃতি ও পরিবেশ রক্ষার পাশাপাশি সব প্রাণীর প্রতি ভালোবাসা ও যত্নশীল হওয়ার জন্য শিক্ষার্থীদের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, সৃষ্টির সেরা জীব হিসেবে গাছপালা ও প্রাণিকুলের যত্ন নেওয়া মানুষের দায়িত্ব। কোনো প্রাণীকে আঘাত না করে তাদের প্রতি মমত্ববোধ দেখাতে হবে।

 

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদ ভবনে রাজশাহীর পুঠিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, ঢাকার সাভার উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়, তেজগাঁও মহিলা কলেজ এবং টঙ্গীর শফিউদ্দিন সরকার একাডেমি অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে তিনি এ কথা বলেন।

 

প্রধানমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের বেশি করে গাছ রোপন এবং চারপাশ পরিচ্ছন্ন ও পরিবেশ দূষণমুক্ত রাখার আহ্বান জানান। ছোটবেলা থেকেই প্রকৃতি, পরিবেশ ও প্রাণিকুলের প্রতি দায়িত্বশীল আচরণ করার অভ্যাস গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

 

শিক্ষার্থীদের পড়ালেখার পাশাপাশি নিয়মিত খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ারও তাগিদ দেন প্রধানমন্ত্রী। সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে গান, কবিতা আবৃত্তি, চিত্রাঙ্কন ও বাদ্যযন্ত্র চর্চায় অংশ নিতে তিনি তাদের উৎসাহিত করেন। এছাড়া, শিক্ষার্থীদের ক্বিরাত চর্চারও পরামর্শ দেন।

 

শারীরিক ও মানসিক বিকাশে খেলাধুলার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নিয়মিত খেলাধুলা শরীর সুস্থ রাখার পাশাপাশি শৃঙ্খলা, আত্মবিশ্বাস, মনোযোগ ও দলগতভাবে কাজ করার মানসিকতা গড়ে তোলে।

 

পুঠিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির ৩৬ জন ছাত্রী ও আটজন শিক্ষক এবং সাভার উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির ৫০ জন ছাত্রী ও চারজন শিক্ষক এদিন জাতীয় সংসদ ভবনে আসেন। এ ছাড়া, তেজগাঁও মহিলা কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ৪৬ জন ছাত্রী ও ১১ জন শিক্ষক এবং শফিউদ্দিন সরকার একাডেমি অ্যান্ড কলেজের অষ্টম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির ৪৭ জন শিক্ষার্থী ও ছয়জন শিক্ষক সংসদ ভবনে আসেন। তারা জাতীয় সংসদের অধিবেশন প্রত্যক্ষ করেন।

 

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাৎ ও কথা বলার সুযোগ পেয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন শিক্ষার্থীরা। তারা জানান, প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ ও দিকনির্দেশনা তাদের অনুপ্রাণিত করেছে এবং এ সাক্ষাৎ তাদের জীবনে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

প্রাণিকুলের প্রতি ভালোবাসা দেখাতে ও যত্নশীল হতে শিক্ষার্থীদের আহ্বান জানালেন প্রধানমন্ত্রী

নেত্রকোণার মোহনগঞ্জে জুয়ার আসর থেকে যুবদল নেতা, ফায়ার সার্ভিস ও বিজিবি সদস্যসহ আটজনকে আটক করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে তাদেরকে আদালতে পাঠানো হয়। এর আগে, বুধবার সন্ধ্যায় পৌরশহরের টেংগাপাড়া এলাকার একটি ঘরে জুয়া খেলার সময় তাদের আটক করা হয়।

 

আটক ব্যক্তিরা হলেন—টেংগাপাড়া এলাকার দেওয়ান কামরুল হাসান সায়েম (৪৩), মো. জিয়া উদ্দিন (৪০), হারুন অর রশিদ ওরফে তরুনুর রশিদ খান (৪৩), দৌলতপুরের মোহাম্মদ আলী রুবেল (৪৪), পাবই গ্রামের মো. আমীন (৪২), মো. সোহেল রানা (৪৪), ঝিকরওয়ালা গ্রামের মিনামুল (৩৫) ও সহিলদেও গ্রামের কমল মিয়া (৪৩)।

 

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে কয়েকজন সরকারি চাকরিতে কর্মরত। তাদের মধ্যে তরুনুর রশিদ ময়মনসিংহ ফায়ার সার্ভিসে লিডার পদে, সোহেল রানা বিজিবিতে এবং জিয়া উদ্দিন নির্বাচন অফিসে কর্মরত বলে জানা গেছে। এছাড়া কমল মিয়া উপজেলার সমাজ-সহিলদেও ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি পদে রয়েছেন।

 

পুলিশ জানায়, উপজেলার একটি স্থানে টাকার বিনিময়ে জুয়ার আসর বসানোর খবর পেয়ে গোপনে অভিযান চালানো হয়। এ সময় জুয়া খেলারত অবস্থায় আটজনকে আটক করা হয়।

 

মোহনগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুল ইসলাম হারুন জানান, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে জুয়া আইনে মামলা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে বিভিন্ন সরকারি সংস্থা বা বাহিনীর সদস্য থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

বারহাট্টা সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাব্বির হাসান বলেন, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে সরকারি চাকরিজীবী কেউ আছেন কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্তে এমন কাউকে পাওয়া গেলে তার পরিচয়সহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে জানানো হবে।

নেত্রকোণায় জুয়ার আসর থেকে যুবদল নেতা, ফায়ার সার্ভিস-বিজিবি সদস্যসহ আটক ৮

উজানের পাহাড়ি ঢল ও অতিবৃষ্টির কারণে পদ্মা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে কুষ্টিয়ার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে জেলার সীমান্তবর্তী দৌলতপুর উপজেলার দুটি ইউনিয়ন মারাত্মক বন্যাঝুঁকির মুখে পড়েছে।

 

স্থানীয় সূত্ররা জানান, পদ্মার পানি বাড়ায় দৌলতপুর উপজেলার রামকৃষ্ণপুর ও চিলমারী ইউনিয়নের বেশিরভাগ নিচু এলাকা তলিয়ে গেছে। বিশেষ করে চরাঞ্চলের বিস্তীর্ণ ফসলের জমি পানিতে ডুবে যাওয়ায় ব্যাপক কৃষিক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পানি প্রতিনিয়ত বাড়তে থাকায় সম্ভাব্য দুর্যোগের আশঙ্কায় সতর্ক অবস্থান নিচ্ছেন দুই ইউনিয়নের স্থানীয় বাসিন্দারা।

 

এদিকে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় চিলমারী ইউনিয়নে স্থানীয় অভিভাবক ও এলাকাবাসীর যৌথ সিদ্ধান্তে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠানো বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ ঘোষণার বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনও কোনো চূড়ান্ত নির্দেশনা জানানো হয়নি।

 

পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে চরাঞ্চলের আরও নতুন নতুন বসতি তলিয়ে পানিবন্দী মানুষের সংখ্যা বাড়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে প্রস্তুত রয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।

উজানের ঢলে পদ্মার পানি বৃদ্ধি, কুষ্টিয়ার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত

সংসদে ভিন্নমত প্রকাশের সুযোগ না থাকার অভিযোগ তুলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসন থেকে নির্বাচিত স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা বলেছেন, বুধবার তিনি সংসদে যে আচরণের মুখোমুখি হয়েছেন, তা কোনোভাবেই গণতান্ত্রিক বা সংসদীয় রীতির মধ্যে পড়ে না।

 

তিনি বলেছেন, ‘আমার বক্তব্য শেষে কেউ পাল্টা বক্তব্য দিতে পারেন। কিন্তু গতকাল সংসদে আমার আশপাশ থেকে আমাকে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করা হয়েছে। এটা সংসদীয় রীতিনীতির মধ্যে পড়ে না।’

 

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) আমর্ড পুলিশ ব্যাটালিয়ন বিলের ওপর বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

 

রুমিন ফারহানা বলেন, ‘একটা সংসদে সরকারি দল, বিরোধীদল, স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য থাকেন। একেক জনের এক ধরনের মত থাকবে। ২০১৮ সালে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে সংসদে একা দাঁড়িয়ে কথা বলার সময়ও জঘন্যভাবে আক্রমণের মুখে পড়েছি। সংসদে শুধু না এর পক্ষে ভোট দেওয়ার জন্য বিরোধীদল সেজে বসে থাকার কোনো মানে দেখছি না।’

 

এর আগে বুধবারের ঘটনা প্রসঙ্গে রুমিন ফারহানা বলেন, ‘এত অসহিষ্ণু সংসদ দেখে মনে হচ্ছে আমরা যেন আবার আওয়ামী লীগের আমলে ফিরে গেছি। আওয়ামী লীগকে যখন এসব কথা বলতাম, তখন তারাও সংসদে হট্টগোল করত। এখন বিএনপি একই ধরনের আচরণ করছে।’

আমাকে সংসদে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করা হয়েছে: রুমিন ফারহানা

মালয়েশিয়া বাংলাদেশ হাইকমিশনে ৫ বছরে সাড়ে চার’শ অভিযোগের মধ্যে , ৩৩০টির সমাধান।

 

 

 

মো:নুরুল ইসলাম সুজন কুয়ালালামপুর মালয়েশিয়া।।

 

 

 

সংসারের স্বচ্ছলতা ফেরাতে প্রিয় মানুষদের সঙ্গ ছেড়ে প্রতিবছর লাখ লাখ বাংলাদেশি বিদেশে পাড়ি জমালেও সবার ভাগ্য পরিবর্তন হয় না। মালয়েশিয়ায় বৈধভাবে কলিং ভিসায় গিয়ে হাজার হাজার বাংলাদেশি নিয়োগ-সংক্রান্ত ঋণের বোঝা, বকেয়া বেতন, অভিবাসন ও ভিসা-সংক্রান্ত জটিলতা, এবং দেশে ফেরত পাঠানোর পরও নানা সমস্যার মধ্য দিয়ে দিন পার করেন।

 

 

 

দেশটিতে ২০২২ সালে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত হাইকমিশন বেতন, ভিসা নবায়নসহ বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে প্রায় ৪৫০ টির মত অভিযোগ পেয়েছে। এর মধ্যে ৩৩০ টির অধিক অভিযোগ নিয়োগকর্তা ও কর্মীদের মধ্যে মধ্যস্থতা এবং মালয়েশিয়ার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও অন্যান্য অংশীজনের সহযোগিতার মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব হয়েছে জানিয়েছে দূতাবাস।

 

 

 

গত ৮ সেপ্টেম্বর মালয়েশিয়ার পেনাংয়ে Responsible Business Alliance—RBA আয়োজিত “From Commitment to Action: Best Practices of Human Rights Due Diligence Across Supply Chain” শীর্ষক প্যানেল আলোচনায় মালয়েশিয়ায় অভিবাসী কর্মীদের সুরক্ষায় Best Practices তুলে ধরে বাংলাদেশ হাইকমিশন।

 

 

 

এসময় বাংলাদেশ হাইকমিশনের ডেপুটি হাইকমিশনার মোসাম্মত শাহানারা মনিকা অভিবাসী কর্মীদের দৃষ্টিভঙ্গি এবং তাদের বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে বলেন, কর্মী, নিয়োগকর্তা, মালয়েশিয়ার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এবং অন্যান্য অংশীজনের মধ্যে সমন্বয় করে অভিযোগের সমাধান, ক্ষতিপূরণ ও প্রতিকার নিশ্চিতকরণ, কল্যাণমূলক সহায়তা এবং মর্যাদাপূর্ণভাবে দেশে ফেরত পাঠানোর ক্ষেত্রে হাইকমিশন কাজ করছে বলেও জানান তিনি।

মালয়েশিয়া বাংলাদেশ হাইকমিশনে ৫ বছরে সাড়ে চার’শ অভিযোগের মধ্যে , ৩৩০টির সমাধান

শিল্প-সংস্কৃতিতে অবদানের স্বীকৃতি, নীলফামারীতে সম্মাননা দিল শিল্প একাডেমি

 

স্টাফ রিপোর্টার

মইদুল ইসলাম

 

:নীলফামারীতে গুণী ব্যক্তি ও সৃজনশীল সাংস্কৃতিক সংগঠনকে সম্মাননা দিয়েছে জেলা শিল্পকলা একাডেমি। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সম্মাননা প্রদান করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান।

অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) নুজহাত তাসনীম আওনের সভাপতিত্বে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মীর সেলিম ফারুক, যুগ্ম আহ্বায়ক মোস্তফা প্রধান হক বাচ্চু, জেলা মহিলা দলের সভাপতি তাসনিম ফৌজিয়া ওপেল, জাসাস এর আহবায়ক আসলাম হায়াত মিল্টন,নীলফামারী প্রেসক্লাবের যুগ্ম সভাপতি হাসান রাব্বি প্রধান, সাবেক সাধারণ সম্পাদক নূর আলমসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন। সম্মাননা প্রদান শেষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

জেলা কালচারাল অফিসার নুঝাত তাবাসসুম রিমু জানান, বাংলাদেশের শিল্প ও সংস্কৃতির বিভিন্ন ক্ষেত্রে জেলা পর্যায়ে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ নীলফামারী জেলার গুণী ব্যক্তি ও সৃজনশীল সাংস্কৃতিক সংগঠনকে জেলা শিল্পকলা একাডেমির পক্ষ থেকে এ সম্মাননা দেওয়া হয়েছে।

শিল্প-সংস্কৃতিতে অবদানের স্বীকৃতি, নীলফামারীতে সম্মাননা দিল শিল্প একাডেমি

নওগাঁয় শিক্ষককে বাসায় ডেকে মারধর করে স্ট্যাম্প ও চেকে স্বাক্ষর করে টাকা আদায়, নারীসহ হানিট্র্যাপ চক্রের গ্রেপ্তার ৪

 

মোঃ সাইদুল ইসলাম হেলাল

বিশেষ প্রতিনিধিঃ

শিক্ষককে বাসায় ডেকে মারধর, টাকা আদায়, নারীসহ হানিট্র্যাপ চক্রের ৪ সদস্য গ্রেপ্তার

 

 

নওগাঁয় এক স্কুলশিক্ষককে বাসায় ডেকে নিয়ে মারধরের ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় এবং জোর করে স্ট্যাম্প ও চেকে স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগে কথিত হানিট্র্যাপ চক্রের এক নারী সদস্যসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় ভুক্তভোগীর কাছ থেকে নেওয়া ৩০০ টাকার স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর এবং দুই লাখ টাকার একটি চেক উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ মিডিয়া সেলে এ তথ্য জানান পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম।

 

 

 

 

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন, নওগাঁ সদর উপজেলার কোমাইগাড়ি পূর্বপাড়ার মোছা. চামেলী আক্তার মিলি (৪৫), আত্রাই উপজেলার বেড়াহাসন এলাকার রাকিব হাসান (২৯), বদলগাছী উপজেলার নিহনপুর পূর্বপাড়ার সোহরাব হোসেন (২৬) এবং বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলার ফুটানিগঞ্জ এলাকার নাঈম হোসেন (২৫)।

 

 

 

জানা যায়, জয়পুরহাটের আক্কেলপুর থানার এক স্কুলশিক্ষকের সঙ্গে পূর্বপরিচিত ছিলেন চামেলী আক্তার মিলি। প্রয়োজনের সময় তাদের মধ্যে মুঠোফোনে কথা হতো। গত ২৫ আগস্ট বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে মিলি ওই শিক্ষককে ফোন করে জরুরি কথা আছে জানিয়ে নওগাঁ শহরে তাঁর বাসায় আসতে বলেন। জরুরি বিষয়ের কথা শুনে সরল বিশ্বাসে ওই শিক্ষক মিলির বাসায় যান। সেখানে যাওয়ার পর মিলিসহ আরও দুই-তিনজন ব্যক্তি তাকে আটক করেন। একপর্যায়ে মারধরের ভয় দেখিয়ে তার কাছ থেকে নগদ পাঁচ হাজার টাকা নেওয়া হয়। পরে ৩০০ টাকার একটি সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর এবং দুই লাখ টাকার একটি চেক লিখে নেওয়ার পর তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

 

 

 

ঘটনার পর ভুক্তভোগী থানায় অভিযোগ দিলে নওগাঁ সদর থানায় মামলা করা হয়। এরপর পুলিশ অভিযান শুরু করে। প্রায় এক সপ্তাহের অভিযানের পর চক্রটির চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়। নওগাঁ সদর থানার অভিযানে গ্রেপ্তারের পর তাদের কাছ থেকে জোর করে স্বাক্ষর নেওয়া স্ট্যাম্প ও দুই লাখ টাকার চেক উদ্ধার করা হয়েছে।

 

 

 

পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা আন্তঃউপজেলা ভিত্তিতে একটি প্রতারক চক্র হিসেবে কাজ করতেন। তারা সুযোগ বুঝে বিভিন্ন ব্যক্তিকে নানা ধরনের প্রলোভনে ফেলে একটি নির্দিষ্ট স্থানে ডেকে নিতেন। পরে ভয়ভীতি দেখানো, ছবি ধারণ কিংবা ব্ল্যাকমেইলের মাধ্যমে তাদের কাছ থেকে টাকা আদায় করতো। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং চক্রটির সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

নওগাঁ  শিক্ষককে বাসায় ডেকে মারধর করে স্ট্যাম্প ও চেকে স্বাক্ষর করে টাকা আদায়, নারীসহ হানিট্র্যাপ চক্রের গ্রেপ্তার ৪

র‌্যাবের চৌকস অভিযানে জীপসহ প্রায় ১১ হাজার ইয়াবার চালান আটক

জামালপুর হামলা পাল্টা হামলার মধ্য দিয়ে জেলার সানন্দবাড়ী তে থমথমে অবস্থা বিরাজমান।

পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের ও আদালতে মিথ্যা হলফনামা দেয়ার অভিযোগে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কেবিন ক্রু খাদিজা সুলতানা শিমুর বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

 

বুধবার (১৫ জুলাই) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২-এর বিচারক মো. জাকির হোসাইন এ আদেশ দেন। আদালতের আদেশে বলা হয়েছে, শিমুর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর ১৩ ধারা এবং দণ্ডবিধির ১৮১, ১৮২ ও ১৯৩ ধারায় মামলা করা হবে। আদালত নিজেই এ মামলার বাদী হয়েছেন।

 

আদালতের নথি অনুযায়ী, খাদিজা সুলতানা শিমু মামলার বাদী হয়ে বেসরকারি একটি এয়ারলাইন্সের কর্মকর্তা মো. ওমর ফারুক চৌধুরীর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনের বিভিন্ন ধারায় উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলা করেন।

 

তদন্ত শেষে উত্তরা পশ্চিম থানার তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে জানান, অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি। প্রতিবেদনে বলা হয়, মামলার এজাহারে উল্লেখ করা ফেসবুক লিংক, ডিজিটাল আলামত ও অন্যান্য তথ্য যাচাই করে ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি প্রচারের কোনো প্রমাণ মেলেনি। ফলে ওই কর্মকর্তাকে মামলা থেকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়।

একই সঙ্গে তদন্ত কর্মকর্তা প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, ওমর ফারুক আগে শিমুর বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন দিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে আদালতে মামলা করেছিলেন। সেই মামলার দায় এড়াতেই শিমু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত বিভিন্ন লিংক উল্লেখ করে তার বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি ছড়ানোর অভিযোগ এনে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, হয়রানিমূলক ও মিথ্যা মামলা করেছেন বলে প্রাথমিক তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে। এ কারণে শিমুর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর ১৩ ধারায় আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার আবেদনও করেন তদন্ত কর্মকর্তা।

 

পরে গত ৯ জুলাই আদালত তদন্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করে ওমর ফারুককে মামলা থেকে অব্যাহতি দেন। আদালতের আদেশে বলা হয়, শিমু ক্ষতিসাধনের উদ্দেশ্যে আদালতে মিথ্যা মামলা দায়ের করেছেন এবং হলফ করে মিথ্যা সাক্ষ্য দিয়েছেন। মামলার নথিতে তার দেয়া হলফনামাও সংযুক্ত রয়েছে। এসব বিবেচনায় আদালত নিজেই বাদী হয়ে তার বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন ও দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়েরের নির্দেশ দেন।

 

তদন্তে যা উঠে এসেছে পুলিশের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, তদন্তকালে রেকর্ড, ডিজিটাল আলামত, ফেসবুক লিংক ও ফরেনসিক তথ্য যাচাই করে ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি প্রচারের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

 

তদন্তে আরও উঠে আসে, শিমু বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কেবিন ক্রু এবং ওমর ফারুক একটি বেসরকারি এয়ারলাইন্সের এয়ারক্রাফট মেইনটেন্যান্স কর্মকর্তা। ফেসবুকে পরিচয়ের পর তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

 

প্রতিবেদনে বলা হয়, বিয়ের আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন সময়ে ওমর ফারুকের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী নেয়ার অভিযোগে ওমর ফারুক আদালতে পৃথক মামলা করেন। এরপর সেই মামলার দায় থেকে নিজেকে রক্ষা করতেই শিমু পর্নোগ্রাফি আইনে অভিযোগ দায়ের করেন বলে তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে।

 

ওমর ফারুকের আগের মামলা গত ২০ জুলাই ওমর ফারুক চৌধুরী শিমুর বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন, ‘হানি ট্র্যাপ’ ও ব্ল্যাকমেইলের মাধ্যমে প্রায় ২২ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ঢাকার আদালতে মামলা করেন। আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে উত্তরা পশ্চিম থানাকে তদন্তের নির্দেশ দেন। পরে তিনি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষের কাছেও লিখিত অভিযোগ করেন।

 

সেই মামলায় অভিযোগ করা হয়, ২০২৪ সালে ফেসবুকে পরিচয়ের পর শিমু তাকে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন সময়ে টাকা নেন। জন্মদিনে দেড় লাখ টাকা মূল্যের একটি হীরার আংটিসহ বিয়ের খরচের জন্য মোট ২১ লাখ ৭৪ হাজার ৫১১ টাকা নেয়ার পরও বিয়ে না করে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে মামলায় দাবি করা হয়।

পর্নোগ্রাফি আইনে কেবিন ক্রু শিমুর বিরুদ্ধে মামলার নির্দেশ আদালতের

error: আপনি নিউজ চুরি করার চেষ্টা করছেন। বিশেষ প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন ০১৭৬৭৪৪৪৩৩৩
%d