
পবিত্র ঈদুল আজহার ছুটিতে নাড়ির টানে বাড়ির উদ্দেশে বের হওয়া ঘরমুখো মানুষের চাপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শিল্পাঞ্চল আশুলিয়ার গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়েছে। সোমবার (২৫ মে) বিকেলে আশুলিয়ায় ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক ও নবীনগর-চন্দ্রা সড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে প্রায় ১১ কিলোমিটার সড়কে যানজটের সৃষ্টি হওয়ায় ভোগান্তিতে পড়ে ঘরমুখো মানুষরা।
ঈদের ছুটিতে একযোগে সবাই গ্রামের উদ্দেশে রাস্তায় নেমে এলে অতিরিক্ত যানবাহনের চাপে এবং যত্রতত্র গাড়ি থামিয়ে যাত্রী উঠনামা করানোয় এই যানজটের সৃষ্টি হয়।
সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে বিকেলে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নবীনগর ও নবীনগর-চন্দ্রা সড়কের নবীনগর থেকে বাইপাইল এবং জিরানী থেকে বাড়ইপাড়া পর্যন্ত সড়কে তীব্র যানজটের খবর পাওয়া গেছে।
এ সময় ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নবীনগর-চন্দ্রা সড়কের বাইপাইল পর্যন্ত প্রায় ৮ কিলোমিটার সড়কে যানজটের সৃষ্টি হয় এবং নবীনগর-চন্দ্রা সড়কের জিরানী থেকে বাড়ইপাড়া পর্যন্ত ৩ কিলোমিটার সড়কে যানজট সৃষ্টি হয়।
সাভার পরিবহনের যাত্রী মুন্না হোসেন বলেন, আমি গাবতলী থেকে বিকেল ৪টার দিকে রওনা হয়েছি চন্দ্রা যাওয়ার উদ্দেশে।
কিন্তু সাড়ে ৫টার দিকে আশুলিয়ার বাইপাইলে এসে যানজটে বসে আছি বলে জানান তিনি।
সেলফী পরিবহনের চালক মো. মারুফ বলেন, দুপুরের পর থেকে সড়কে যাত্রীদের চাপ বেড়েছে। তাই বাসের চাপও বৃদ্ধি পেয়েছে। জাহাঙ্গীরনগর বিশমাইল এলাকায় মহাসড়কের ওপর যত্রতত্রভাবে গাড়ি থামিয়ে যাত্রী উঠানামা করায় যানজটের শুরু হয়। সেখানে দীর্ঘক্ষণ আটকে থেকে নবীনগর পার হতেই আধাঘণ্টার ওপর সময় চলে গেছে।
এদিকে মহাসড়কের যানজটের প্রভাব পড়েছে আশাপাশের সংযোগ সড়কেও। এতে করে মানুষ প্রয়োজনীয় কাজেও যেতে না পারায় ক্ষোভ প্রকাশ করে। এ ছাড়া দীর্ঘক্ষণ যানজটে আটকে থেকে শিশু, বৃদ্ধসহ সাধারণ যাত্রীরা গরমে অতিষ্ঠ হয়ে পড়ে। ঈদযাত্রার প্রথম দিনেই এমন ভোগান্তিতে পড়ে হতাশ সাধারণ যাত্রীরা।
সাভার হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ শাহজাহান বলেন, বিভিন্ন স্থানে গাড়ি থামিয়ে যাত্রী ওঠানোর কারণে যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা থেকে যানজট শুরু হয়ে বাইপাইল পর্যন্ত গেছে। তবে যানজট নিরসনে পুলিশ বিভিন্ন পয়েন্টে কাজ করে যাচ্ছে বলে জানান তিনি।
Leave a Reply