ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড়, মে মাসে কালবৈশাখী-দাবদাহের শঙ্কা - Gono television | বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল।
ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড়, মে মাসে কালবৈশাখী-দাবদাহের শঙ্কা

ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড়, মে মাসে কালবৈশাখী-দাবদাহের শঙ্কা

তাপপ্রবাহে জনজীবন যখন চরম ভোগান্তির পর দেশজুরে বৃষ্টি ও বজ্রবৃষ্টি শুরু হয়েছে গত কয়েক দিন। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কৃষি। দেশের বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। তবে মে মাসে ঘূর্ণিঝড়, তীব্র কালবৈশাখী ঝড়, বজ্রপাত ও শিলাবৃষ্টির শঙ্কার কথা জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর।

 

সংস্থাটির মে মাসের দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, চলতি মাসে বঙ্গোপসাগরে এক থেকে দুটি লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে। এর মধ্যে অন্তত একটি নিম্নচাপ বা ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে।

 

এ ছাড়া মে মাসে দেশে ১-৩টি মৃদু (৩৬-৩৭.৯ সেলসিয়াস)/মাঝারি (৩৮-৩৯.৯ সেলসিয়াস) যার মধ্যে ১টি তীব্র (৪০-৪১.৯ সেলসিয়াস) তাপপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে।

 

দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, মে মাসে দেশে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।

ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড়, মে মাসে কালবৈশাখী-দাবদাহের শঙ্কা

তাপপ্রবাহে জনজীবন যখন চরম ভোগান্তির পর দেশজুরে বৃষ্টি ও বজ্রবৃষ্টি শুরু হয়েছে।

তাপপ্রবাহে জনজীবন যখন চরম ভোগান্তির পর দেশজুরে বৃষ্টি ও বজ্রবৃষ্টি শুরু হয়েছে গত কয়েক দিন। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কৃষি। দেশের বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। তবে মে মাসে ঘূর্ণিঝড়, তীব্র কালবৈশাখী ঝড়, বজ্রপাত ও শিলাবৃষ্টির শঙ্কার কথা জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর।

 

সংস্থাটির মে মাসের দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, চলতি মাসে বঙ্গোপসাগরে এক থেকে দুটি লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে। এর মধ্যে অন্তত একটি নিম্নচাপ বা ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে।

 

এ ছাড়া মে মাসে দেশে ১-৩টি মৃদু (৩৬-৩৭.৯ সেলসিয়াস)/মাঝারি (৩৮-৩৯.৯ সেলসিয়াস) যার মধ্যে ১টি তীব্র (৪০-৪১.৯ সেলসিয়াস) তাপপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে।

 

দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, মে মাসে দেশে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।

এ সময়ে দেশে বিক্ষিপ্তভাবে শিলাসহ ৫-৮ দিন হালকা/মাঝারি, যার মধ্যে ২-৩ দিন তীব্র কালবৈশাখী ঝড়সহ বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা রয়েছে। তবে এ মাসে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা স্বাভাবিক থাকতে পারে।

 

দেশের প্রধান নদ-নদীগুলোতে স্বাভাবিক প্রবাহ বিরাজমান থাকতে পারে। তবে বিচ্ছিন্ন ভারি বৃষ্টিপাতে দেশের উত্তরাঞ্চল, উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের নদীসমূহের পানি সমতল সময় বিশেষে বৃদ্ধি পেতে পারে বলে আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে।


কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম হাওড়ে পাকা ধানের জমি পানিতে তলিয়ে যেতে দেখে হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে আক্তার হোসেন (৬০) নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে তার পরিবার।নিহত আক্তার হোসেন দেওঘর ইউনিয়নের আলীনগর পশ্চিমপাড়ার বাসিন্দা। স্থানীয় ইউপি সদস্য মোছা. নাছিমা আক্তার জানান, জমির ধান পানির নিচে তলিয়ে যেতে দেখে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন।

 

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, আক্তার হোসেন প্রায় ৩ একর জমিতে বোরোধান আবাদ করেছিলেন। টানা বৃষ্টি ও উজানের ঢলে হাওড়ের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ায় তার অধিকাংশ ধান নষ্ট হয়ে যায়। কিছু ধান কাটা হলেও পরিবহন সমস্যার কারণে ঘরে তুলতে পারেননি।

 

স্বজনদের দাবি, প্রায় দেড় লাখ টাকা ঋণ নিয়ে চাষাবাদ করায় ধান নষ্ট হয়ে যাওয়ার ঘটনায় তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। বিকেলে জমিতে গিয়ে পরিস্থিতি দেখে অসুস্থ হয়ে পড়লে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়।

 

এদিকে জেলা কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, টানা বৃষ্টি ও উজানের ঢলে কিশোরগঞ্জের হাওড়াঞ্চলে নতুন করে আরও ২ হাজার হেক্টর জমির ধান তলিয়ে গেছে। এ নিয়ে মোট ক্ষতিগ্রস্ত জমির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৯ হাজার ৪৫ হেক্টর।

 

সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে ইটনা ও অষ্টগ্রাম উপজেলার হাওড় এলাকায়।

হাওড়ে ধান তলিয়ে যাওয়ার শোক সইতে না পেরে কৃষকের মৃত্যু

দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে। ওই অঞ্চলের নদ-নদীর পানির সমতা বাড়ছে।

 

শনিবার (২ মে) এমন পূর্বাভাস দিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।

 

পাউবো’র সহকারী প্রকৌশলী মোস্তফা কামাল জিহান জানান, সুনামগঞ্জ জেলার নলজুর নদী জগন্নাথপুর পয়েন্টে, নেত্রকোনা জেলার ভূগাই-কংস নদী জারিয়াজাঞ্জাইল পয়েন্টে, সোমেশ্বরী নদী কমলাকান্দা পয়েন্টে, মগরা নদী নেত্রকোনা ও আটপাড়া পয়েন্টে এবং হবিগঞ্জ জেলার সুতাং নদী সুতাং-রেলওয়ে ব্রিজ পয়েন্টে প্রাক-মৌসুমি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

 

দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের হাওর অববাহিকার প্রধান নদীগুলোর মধ্যে সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানির সমতল গত ২৪ ঘণ্টায় স্থিতিশীল রয়েছে, ভুলাই-কংস নদীর পানির সমতল কিছুটা হ্রাস পেয়েছে এবং ধনু-বাউলাই নদীসমূহের পানির সমতল কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে।

 

গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের উজানে মাঝারি থেকে মাঝারি-ভারী এবং অভ্যন্তরে হাওর অববাহিকায় ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাত পরিলক্ষিত হয়েছে।

 

বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর ও বৈশ্বিক আবহাওয়া সংস্থাগুলোর তথ্যানুযায়ী, এ অঞ্চলে আগামী ৩ দিন মাঝারি থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস রয়েছে।

উত্তর-পূর্বাঞ্চলের হাওর অববাহিকার সিলেট, সুনামগঞ্জ জেলার সুরমা-কুশিয়ারা নদীর পানির সমতল আগামী ৩ দিন বৃদ্ধি পেতে পারে।

 

৩য় দিন কুশিয়ারা নদীর কোথাও কোথাও পানির সমতল প্রাক-মৌসুমি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে, ফলে সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার হাওর সংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।

নেত্রকোনা জেলার ভুগাই-কংস ও সোমেশ্বরী নদীগুলোর পানির সমতল আগামী ৩ দিন স্থিতিশীল থাকতে এবং নেত্রকোনা জেলার ভুগাই-কংস অববাহিকার হাওর সংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে। নেত্রকোনা ও কিশোরগঞ্জ জেলার ধনু-বাউলাই নদীগুলোর পানির সমতল আগামী ৩দিন বৃদ্ধি পেতে পারে। বাউলাই নদী খালিয়াজুড়ি পয়েন্টে আগামী ৪৮ ঘণ্টায় প্রাক-মৌসুমি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে, ফলে নেত্রকোনা জেলার বাউলাই নদীর অববাহিকার হাওর সংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।

 

হবিগঞ্জ জেলার খোয়াই ও সুতাং এবং মৌলভীবাজার জেলার মনু ও জুড়ি নদীর পানির সমতল আগামী ৩ দিন বৃদ্ধি পেতে পারে। খোয়াই ও জুড়ি নদী আগামী ২৪ ঘণ্টায় দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে প্রাক-মৌসুমি বিপদসীমার ওপর প্রবাহিত হতে পারে, মনু নদীর পানির সতর্কসীমায় প্রবাহিত হতে পারে। ফলে মৌলভীবাজার জেলার হাওর সংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে এবং হবিগঞ্জ জেলায় বন্যা পরিস্থিতি অবনতি হতে পারে।

উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বন্যার আরও অবনতি হতে পারে

ভারী বৃষ্টিতে রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন সড়কে পানি জমে ব্যাপক জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। আজ শুক্রবার (১ মে) ভোর ৫টার কিছু পর থেকে সকাল ৭টা পর্যন্ত টানা অঝোর বৃষ্টিতে নগরীর বহু এলাকা পানির নিচে চলে যায়।

ঘটনাস্থলে গিয়ে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বৃষ্টির কারণে ঢাকার বিভিন্ন সড়ক ও অলিগলিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। এর মধ্যে রাজধানীর মালিবাগ, শান্তিনগর, রাজারবাগ, সায়েদাবাদ, শনির আখড়া, পুরান ঢাকা, বংশাল, নাজিমুদ্দিন রোড, ধানমন্ডি, মিরপুর-১৩, হাতিরঝিলের কিছু অংশ, আগারগাঁও থেকে জাহাঙ্গীর গেট সংলগ্ন নতুন সড়ক, খামারবাড়ি থেকে ফার্মগেট, ফার্মগেট-তেজগাঁও ট্রাক স্ট্যান্ড এলাকা, মোহাম্মদপুরের কিছু অংশ, মেরুল বাড্ডা, ডিআইটি প্রজেক্ট এলাকা, ইসিবি ও কালশিসহ বিভিন্ন এলাকায় কয়েক ফুট পর্যন্ত পানি জমে যায়।

অবশ্য সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পানি নামতে শুরু করায় অনেক সড়কে জলাবদ্ধতা কিছুটা কমেছে। তবে সকাল থেকেই জলাবদ্ধতার কারণে যানবাহনগুলো ধীরগতিতে চলাচল করেছে এবং পায়ে হেঁটে মানুষের চলাচলও তুলনামূলক কম দেখা গেছে।

ছুটির দিন হওয়ায় সকালে যানবাহনের চাপ কম থাকায় ভোগান্তি কিছুটা সীমিত ছিল। তবুও সকাল ৮টার পরও অনেক সড়কে পানি আটকে থাকতে দেখা গেছে।

এ বিষয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন-এর মুখপাত্র রাসেল রহমান বলেন, বৃষ্টিপাতের ফলে সৃষ্ট অস্থায়ী জলাবদ্ধতা নিরসনে ভোর থেকে নিরলসভাবে কাজ করে চলেছে ডিএসসিসির বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের কর্মীরা। আশা করছি খুব অল্প সময়ে সব সড়ক থেকে পানি নেমে যাবে।

এ দিকে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর গতকাল পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টার জন্য দেশের ছয় বিভাগে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে। বিভাগগুলো হলো ময়মনসিংহ, ঢাকা, সিলেট, চট্টগ্রাম ও খুলনা। এসব অঞ্চলের কোথাও কোথাও ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি হতে পারে বলে সতর্কবার্তায় জানানো হয়েছে।

গত রোববার থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টি শুরু হওয়ায় অন্তত এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলা তাপপ্রবাহ কমে এসেছে। গতকাল দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩১.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম।

বৃষ্টিপাতের হিসাব অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সর্বোচ্চ ৬০ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয় চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে। এর আগের দিন পটুয়াখালীর খেপুপাড়ায় সর্বোচ্চ ১২১ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছিল।

বৃষ্টিতে ডুবেছে ঢাকা, সড়কে ব্যাপক জলাবদ্ধতা

দেশজুড়ে ঝড়-বৃষ্টি, পাহাড়ি ঢলে হাওড়ে হাহাকার

পানির নিচে কৃষকের স্বপ্ন

কয়েকদিন আগেও যেখানে ছিল পাকা ধানের সোনালি ঢেউ, সেখানে আজ হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি। যতটুকু বাঁচানো যায় সেই চেষ্টা কৃষকের।

ধার করা টাকায় বীজ কিনেছিলেন। রোদে পুড়ে, কাদায় মেখে মাসের পর মাস পরিশ্রম করেছিলেন। ধান পেকে সোনার রং ধরেছিল মাঠে। আর কটা দিন-তারপরই ঘরে উঠত ফসল, শোধ হতো ঋণ, চলত সংসার। কিন্তু তার আগেই যেন আকাশ ভেঙে পড়ল কৃষকের মাথায়। পাহাড়ি ঢল নামল উজান থেকে। চোখের সামনে তলিয়ে গেল সারা বছরের স্বপ্ন। হাওড় পারের কৃষক এখন শুধু তাকিয়ে আছেন পানির দিকে-যেখানে কয়েকদিন আগেও ছিল সোনালি ধানের মাঠ।

 

টানা বৃষ্টি, উজানের ঢল আর নদীর উপচে পড়া পানিতে এবার একসঙ্গে বিপর্যস্ত হয়েছে দেশের বিস্তীর্ণ কৃষি অঞ্চল। নেত্রকোনা, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার থেকে শুরু করে উত্তরের রংপুর, দিনাজপুরসহ দেশের প্রায় সর্বত্রই একই হাহাকার। এছাড়া কালবৈশাখীতে দেশের বিভিন্ন স্থানে ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। বৈদ্যুতিক খুঁটি উপড়ে গেছে, ছিঁড়েছে তার। এতে কয়েকটি স্থানে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। ৯ জেলায় বজ পাত ও দেওয়াল চাপায় ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে।

 

টানা বর্ষণে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। পাঁচ জেলায় বন্যা হতে পারে বলে জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র। জেলাগুলো হলো-নেত্রকোনা, হবিগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, সিলেট ও মৌলভীবাজার। নেত্রকোনার ভুগাই-কংস নদী জারিয়াজাগুইল পয়েন্টে, সোমেশ্বরী নদী কমলাকান্দা পয়েন্টে, মগরা নদী নেত্রকোনা পয়েন্টে ও মৌলভীবাজারের মনু নদী মৌলভীবাজার পয়েন্টে বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। নদী উত্তাল থাকায় বুধবার লক্ষ্মীপুর-ভোলা নৌ রুটের ফেরি চলাচল বন্ধ রেখেছে কর্তৃপক্ষ।

 

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, সারা দেশে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা আরও বাড়তে পারে। ৩ মে পর্যন্ত ঢাকাসহ দেশের সব বিভাগেই মাঝারি থেকে ভারি বৃষ্টিপাত হতে পারে। সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

 

নেত্রকোনা, কলমাকান্দা ও দুর্গাপুর : গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় মৌসুমের সর্বোচ্চ ৬০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এর সঙ্গে উজানের ঢল মিলিয়ে হাওড় ও নদ-নদীর পানি দ্রুত বাড়ছে। ফলে অনেক জায়গায় পাকা ধান পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে, আর যেগুলো কাটা হয়েছে সেগুলোও শুকাতে না পেরে নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। খালিয়াজুরী উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানান, এখন পর্যন্ত হাওড়ের প্রায় ৫৮ শতাংশ ধান কাটা হয়েছে। বাকি ধান এখনো মাঠে রয়েছে, যা পুরোপুরি আবহাওয়ার ওপর নির্ভর করছে।

 

মোহনগঞ্জ উপজেলার গাগলাজুর এলাকার কৃষক মানিক সরকার বলেন, সোমবারও জমিতে পাকা ধান ছিল। রাতের বৃষ্টিতে সকালে এসে দেখি সব পানির নিচে। সাত বিঘার মধ্যে মাত্র এক বিঘার ধান তুলতে পেরেছি। কৃষ্ণপুর গ্রামের কৃষক শাহিন মিয়া বলেন, সকালে উঠে দেখি খলায় রাখা ধান পানিতে ভেসে গেছে। এখন কী করব বুঝতে পারছি না। হাওড়ের ফসল রক্ষা বাঁধগুলোও এখন চরম ঝুঁকিতে রয়েছে। মোহনগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন হাওড়ে বাঁধ দুর্বল হয়ে পড়েছে। স্থানীয়রা স্বেচ্ছাশ্রমে বাঁধ পাহারা দিচ্ছেন।

 

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাদির হোসেন শামীম বলেন, সব প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটিকে (পিআইসি) বাঁধ পাহারার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজন হলে দ্রুত জিও ব্যাগ ফেলার প্রস্তুতিও রাখা হয়েছে।

 

কলমাকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এসএম মিকাইল ইসলাম বলেন, হাওড়ের ধান কাটাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। দুর্গাপুরের সোমেশ্বরী নদীতে পানি বাড়তে শুরু করেছে। উপজেলা কৃষি দপ্তর থেকে কৃষকদের দ্রুত ধান কাটার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

 

হবিগঞ্জ : বানিয়াচং উপজেলার সুবিদপুর গ্রামের বাসিন্দা এসএম সুরুজ আলী জানান, আর কয়েকদিন থাকলে এসব ধানে পচন ধরতে পারে। কিন্তু ধান কাটার জন্য শ্রমিকও পাচ্ছেন না। কোনো উপায় না পেয়ে তিনি নিজেই বুধবার সকাল থেকে নিজের ছেলেকে নিয়ে ধান কাটতে শুরু করেছেন। তিনি বলেন, ধানের দামও নেই। কেউ কিনতেও চায় না। এবার লাভ তো নয়ই, লোকসান গুনেও কুলানো যাবে না।

 

ধানের পাইকারি ব্যবসায়ী হামিদুল হক আখঞ্জী জানান, ধানের সরকারি মূল্য নির্ধারণ না হওয়ায় ধান ক্রয় করা সম্ভব হচ্ছে না। তিনি বলেন, বেশি দামে যদি ধান ক্রয় করি আর সরকার পরে দাম কমিয়ে নির্ধারণ করে তবে তো লোকসানে বিক্রি করতে হবে। তাই আপাতত পর্যাপ্ত পরিমাণ ধান ক্রয় করতে পারছেন না ব্যবসায়ীরা।

 

অতিরিক্ত উপপরিচালক (উদ্যান) কৃষিবিদ দীপক কুমার পাল বলেন, বুধবার পর্যন্ত জেলায় ২৭১০ হেক্টর জমির ধান পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। আমরা কৃষকদের বলছি দ্রুত ধান কাটতে, কিন্তু বাস্তবতা হলো ধান কেটে তারা কোথায় রাখবে। বৃষ্টির কারণে তো শুকাতে পারবে না। আর না শুকাতে পারলে তো ধান পচে যাবে। তাই ধান কাটায় তাদেরও আগ্রহ কম। তিনি বলেন, পানির কারণে হারভেস্টার মেশিন হাওড়ে নামানো যাচ্ছে না।

 

মৌলভীবাজার ও বড়লেখা : রাজনগরের কাউয়াদীঘি হাওড়ের অর্ধেকেরও বেশি পাকা ও আধা-পাকা বোরো ধান তলিয়ে গেছে। কৃষকদের অভিযোগ, কাশিমপুর পাম্প হাউজের গাফিলতি ও সেচ পাম্পগুলো নিয়মিত সচল না রাখায় এমন অবস্থা হয়েছে। তবে পানি উন্নয়ন বোর্ড বারবার বলে আসছে তারা নিয়মিত সেচ দিচ্ছে। এদিকে শ্রমিক সংকট, বৃষ্টিতে পানি বাড়ার পাশাপাশি বজ পাতের ভয়ে মাঠে ধান কাটতে নামতে পারছেন না কৃষকরা। এ নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন তারা। এবার রাজনগর উপজেলায় ১৪ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো চাষ হয়েছে। এর মধ্যে কাউয়াদীঘি হাওড়ে ৬ হাজার ২৩৭ হেক্টর রয়েছে। রক্তা গ্রামের কৃষক তজমুল আলী বলেন, ১ হাজার, ১২শ টাকা দিয়েও শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। হাওড়ের উলাউলি, কাটারি, বদিরবাড়া, মাঝের ছাউলিয়া, কুশুয়া, মাছুরমুখ গিরিমসহ হাওড়ের বেশ কয়েকটি বিলের পাকা ধান একেবারে তলিয়ে গেছে।

দেশজুড়ে ঝড়-বৃষ্টি, পাহাড়ি ঢলে হাওড়ে হাহাকার পানির নিচে কৃষকের স্বপ্ন

প্রতিবেদন ওমর ফারুক

রাজধানীসহ দেশের আট বিভাগেই বৃহস্পতিবার সকাল ১১টা পর্যন্ত ভারী বর্ষণের সতর্কবার্তা জারি করেছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর।

বুধবার (২৯ এপ্রিল) এ তথ্য জানান আবহাওয়াবিদ মো. শাহীনুল ইসলাম।

 

আবহাওয়া অধিদফতরের এই কর্মকর্তা জানান, এই সময়ের মধ্যে ভারী বৃষ্টির পাশাপাশি বজ্রপাতেরও আশঙ্কা রয়েছে।

 

তিনি বলেন, দেশের নদীবন্দর ও সমুদ্রবন্দরগুলোতে ৩ নম্বর সতর্কসংকেত বহাল রয়েছে। সেই সঙ্গে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত মাছধরার ট্রলারগুলোকে উপকূলের কাছাকাছি থাকতে বলা হয়েছে।

 

আবহাওয়াবিদ আরও জানান, আগামী ৪ থেকে ৫ দিন দেশে ভারী বর্ষণ, বজ্রপাত ও কালবৈশাখী ঝড়ের প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে। তবে আগামী ৫ মে থেকে বৃষ্টিপাত কমে তাপমাত্রা ধীরে ধীরে বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

 

এ পরিস্থিতিতে অপ্রয়োজনে বাইরে বের না হওয়া, বজ্রপাতের সময় খোলা জায়গা এড়িয়ে চলা এবং নৌযান চলাচলে সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছে আবহাওয়া অধি

দপ্তর।

 

সারাদেশে ভারী বর্ষণের সতর্কবার্তা

দেশে চলমান বৃষ্টিপাত আরও কয়েকদিন অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর। সংস্থাটি বলছে, এই পরিস্থিতি আগামী ৫ মে পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে।

 

বুধবার (২৯ এপ্রিল) রাজধানীতে রাতের ঘন কালো মেঘ কেটে ভোরের আলো ফুটতেই শুরু হয় বৃষ্টি। শুরুতে আবহাওয়ায় কিছুটা স্বস্তি থাকলেও পরে টানা মুষলধারে বর্ষণে পরিস্থিতি পাল্টে যায়। সড়কে যান চলাচল ধীর হয়ে পড়ায় নির্ধারিত গন্তব্যে পৌঁছাতে ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীরা।

 

আবহাওয়া অধিদফতর জানিয়েছে, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টির প্রবণতা অব্যাহত থাকবে। ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের কিছু কিছু এলাকায় অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝড়ো হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।

একইসঙ্গে ময়মনসিংহ, ঢাকা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে অতি ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে।

এছাড়া সারাদেশে দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি।

বৃষ্টি থামবে কবে, জানাল আবহাওয়া অফিস

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

বাংলাদেশ পুলিশে কর্মরত বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারের ১৭ উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠিয়েছে সরকার। এদের মধ্যে ১৬ জন ডিআইজি ও ১ জন অতিরিক্ত ডিআইজি পদমর্যাদার কর্মকর্তা আছেন।

 

রোববার (৩ মে) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে এই আদেশ দেওয়া হয়েছে। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে প্রজ্ঞাপনে সই করেছেন মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী।

 

প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ৪৫ ধারার বিধান অনুযায়ী জনস্বার্থে এই কর্মকর্তাদের অবসর প্রদান করা হয়েছে। তারা বিধি অনুযায়ী অবসরজনিত সব সুবিধাদি প্রাপ্য হবেন।

 

অবসরে পাঠানো কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছেন- অ্যান্টি টেরোরিজম ইউনিটের ডিআইজি মফিজ উদ্দিন আহম্মেদ, হাইওয়ে পুলিশের ডিআইজি ইমতিয়াজ আহমেদ, সিআইডির ডিআইজি মো. হাবিবুর রহমান, পুলিশ অধিদপ্তরের ডিআইজি (টিআর) সালেহ্ মোহাম্মদ তানভীর, জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা অধিদপ্তরের (এনএসআই) পরিচালক মো. হারুন-অর-রশীদ এবং ঢাকা পুলিশ স্টাফ কলেজের ডিআইজি এস এম আক্তারুজ্জাতালিকায় আরও আছেন— নোয়াখালী পিটিসির কমান্ড্যান্ট মো. হায়দার আলী খান, খুলনা পিটিসির কমান্ড্যান্ট মো. মাহবুবুর রহমান ভূইয়া, ট্যুরিস্ট পুলিশের ডিআইজি মো. রুহুল আমিন, হাইওয়ে পুলিশের ডিআইজি মো. রফিকুল হাসান গনি, নৌ-পুলিশের ডিআইজি মো. মিজানুর রহমান এবং রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মো. মজিদ আলী।

 

এছাড়া পুলিশ অধিদপ্তরের ডিআইজি কাজী জিয়া উদ্দিন, রেলওয়ে পুলিশের ডিআইজি মো. গোলাম রউফ খান, রংপুর পিটিসির কমান্ড্যান্ট শেখ মোহাম্মদ রেজাউল হায়দার এবং হাইওয়ে পুলিশের ডিআইজি রখফার সুলতানা খানমকেও অবসরে পাঠানো হয়েছে।

 

একই আদেশে রেলওয়ে পুলিশের পুলিশ সুপার (সুপারনিউমারারি অতিরিক্ত ডিআইজি) ফারহাত আহমেদকেও চাকরি থেকে অবসর দেওয়া হয়।

 

জনস্বার্থে জারি করা এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।

১৭ উচ্চপদস্থ পুলিশ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠাল সরকার

তাপপ্রবাহে জনজীবন যখন চরম ভোগান্তির পর দেশজুরে বৃষ্টি ও বজ্রবৃষ্টি শুরু হয়েছে গত কয়েক দিন। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কৃষি। দেশের বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। তবে মে মাসে ঘূর্ণিঝড়, তীব্র কালবৈশাখী ঝড়, বজ্রপাত ও শিলাবৃষ্টির শঙ্কার কথা জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর।

 

সংস্থাটির মে মাসের দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, চলতি মাসে বঙ্গোপসাগরে এক থেকে দুটি লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে। এর মধ্যে অন্তত একটি নিম্নচাপ বা ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে।

 

এ ছাড়া মে মাসে দেশে ১-৩টি মৃদু (৩৬-৩৭.৯ সেলসিয়াস)/মাঝারি (৩৮-৩৯.৯ সেলসিয়াস) যার মধ্যে ১টি তীব্র (৪০-৪১.৯ সেলসিয়াস) তাপপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে।

 

দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, মে মাসে দেশে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।

ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড়, মে মাসে কালবৈশাখী-দাবদাহের শঙ্কা

তাপপ্রবাহে জনজীবন যখন চরম ভোগান্তির পর দেশজুরে বৃষ্টি ও বজ্রবৃষ্টি শুরু হয়েছে।

তাপপ্রবাহে জনজীবন যখন চরম ভোগান্তির পর দেশজুরে বৃষ্টি ও বজ্রবৃষ্টি শুরু হয়েছে গত কয়েক দিন। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কৃষি। দেশের বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। তবে মে মাসে ঘূর্ণিঝড়, তীব্র কালবৈশাখী ঝড়, বজ্রপাত ও শিলাবৃষ্টির শঙ্কার কথা জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর।

 

সংস্থাটির মে মাসের দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, চলতি মাসে বঙ্গোপসাগরে এক থেকে দুটি লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে। এর মধ্যে অন্তত একটি নিম্নচাপ বা ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে।

 

এ ছাড়া মে মাসে দেশে ১-৩টি মৃদু (৩৬-৩৭.৯ সেলসিয়াস)/মাঝারি (৩৮-৩৯.৯ সেলসিয়াস) যার মধ্যে ১টি তীব্র (৪০-৪১.৯ সেলসিয়াস) তাপপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে।

 

দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, মে মাসে দেশে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।

এ সময়ে দেশে বিক্ষিপ্তভাবে শিলাসহ ৫-৮ দিন হালকা/মাঝারি, যার মধ্যে ২-৩ দিন তীব্র কালবৈশাখী ঝড়সহ বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা রয়েছে। তবে এ মাসে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা স্বাভাবিক থাকতে পারে।

 

দেশের প্রধান নদ-নদীগুলোতে স্বাভাবিক প্রবাহ বিরাজমান থাকতে পারে। তবে বিচ্ছিন্ন ভারি বৃষ্টিপাতে দেশের উত্তরাঞ্চল, উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের নদীসমূহের পানি সমতল সময় বিশেষে বৃদ্ধি পেতে পারে বলে আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে।

ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড়, মে মাসে কালবৈশাখী-দাবদাহের শঙ্কা

 

প্রতিবেদনঃ ওমর ফারুক

মে মাসে ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ভোক্তাপর্যায়ে এক হাজার ৯৪০ টাকা অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। রোববার (৩ মে) এ ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। আজ সন্ধ্যা ৬টা থেকেই নতুন দাম কার্যকর হবে। সংস্থাটি জানায়, মে মাসের জন্য ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৯৪০ টাকায় অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। এর আগে গত মাসে দুইবার সমন্বয় করা হয় এলপি গ্যাসের দাম।

গত ২ এপ্রিল ৩৮৭ টাকা বাড়িয়ে ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম নির্ধারণ করা হয় এক হাজার ৭২৮ টাকা। এরপর গত ১৯ এপ্রিল ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম ২১২ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৯৪০ টাকা নির্ধারণ করে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন।

এদিকে, আজ (রোববার) মে মাসের জন্য ভোক্তাপর্যায়ে ২ পয়সা বাড়িয়ে অটোগ্যাসের মূসকসহ দাম প্রতি লিটার ৮৯ টাকা ৫২ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর আগে গত মাসে দুইবার সমন্বয় করা হয় অটোগ্যাসের দাম। গত ২ এপ্রিল ভোক্তাপর্যায়ে ১৭ টাকা ৯৪ পয়সা বাড়িয়ে অটোগ্যাসের মূসকসহ দাম প্রতি লিটার ৭৯ টাকা এর গত ১৯ এপ্রিল ভোক্তাপর্যায়ে ৯ টাকা ৭৩ পয়সা বাড়িয়ে অটোগ্যাসের মূসকসহ দাম প্রতি লিটার ৮৯ টাকা ৫০ পয়সা নির্ধারণ করেছিল বিইআরসি।

 

এলপি গ্যাসের দাম নির্ধারণ করল বিইআরসি

মো: জাহাঙ্গীর আলম

শ্যামনগর প্রতিনিধি :

“ডাঃ অনিমেষ কাদের হাতে বন্দী? পরিবারে উৎকণ্ঠা, মুক্তিপণ দাবি ২০ লাখ টাকা

 

শ্যামনগর উপজেলার কৈখালী ইউনিয়নের বৈশখালী গ্রামের বাসিন্দা, মৃত নিতাই পরামন্যর পুত্র পশু চিকিৎসক ডাঃ অনিমেষ পরামান্য নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় পরিবারে চরম উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে।

 

পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ০২ মে সকালে প্রতিদিনের মতো চিকিৎসা কাজে বাড়ি থেকে বের হন ডাঃ অনিমেষ। কিন্তু রাত পর্যন্ত তিনি বাড়িতে ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। পরে রাতে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন থেকে অজ্ঞাত পরিচয়ের এক ব্যক্তি ফোন করে তার স্ত্রীর কাছে ২০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে।

 

এ ঘটনায় পরিবারটি এখন দিশেহারা ও আতঙ্কিত অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে। স্বজনরা দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এবং ডাঃ অনিমেষকে সুস্থ অবস্থায় উদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন।

 

এলাকাবাসীর মধ্যেও এ ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

প্রশাসন ও উদ্ধোমহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

শ্যামনগর উপজেলার কৈখালী ইউনিয়নের পশু চিকিৎসক নিখোঁজ মুক্তিপণ দাবি ২০ লাখ টাকা।

প্রতিবেদন: ওমর ফারুক

আজ ৩ মে বিশ্বজুড়ে পালিত হচ্ছে বিশ্ব গণমাধ্যম দিবস। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, দায়বদ্ধতা এবং সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার গুরুত্ব তুলে ধরতেই প্রতি বছর এই দিনটি পালন করা হয়।

১৯৯৩ সালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ আনুষ্ঠানিকভাবে ৩ মে-কে বিশ্ব গণমাধ্যম স্বাধীনতা দিবস হিসেবে ঘোষণা করে। এর আগে ১৯৯১ সালে নামিবিয়ার উইন্ডহুকে গৃহীত উইন্ডহুক ঘোষণা-এর মাধ্যমে স্বাধীন ও বহুমুখী গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানানো হয়, যা পরবর্তীতে এই দিবস ঘোষণার ভিত্তি তৈরি করে।

বর্তমান সময়ে গণমাধ্যম সমাজের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে সত্য ও নিরপেক্ষ তথ্য মানুষের কাছে পৌঁছে দিচ্ছে। নানা চ্যালেঞ্জের মধ্যেও সাংবাদিকরা পেশাগত দায়িত্ব পালন করে গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে অবদান রাখছেন।

বিশ্ব গণমাধ্যম দিবস উপলক্ষে গণ টেলিভিশন-এর পক্ষ থেকে দেশের সকল সাংবাদিক, গণমাধ্যমকর্মী ও দর্শকদের জানানো হয়েছে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে সমাজের কল্যাণে কাজ করে যাওয়ার প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

আজ বিশ্ব গণমাধ্যম দিবস

ময়মনসিংহের মুক্তাগাছার নতুন বাজার এলাকায় একটি বালুবাহী ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে কাঁচাবাজার সংলগ্ন দোকানে ঢুকে পড়েছে। এ ঘটনায় জাহাঙ্গীর নামের এক যুবক নিহত হয়েছেন।

 

শনিবার (২ মে) রাত পৌনে ১২টার দিকে উপজেলার নতুন বাজারের নুর আলমের মুদির দোকানে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

 

জাহাঙ্গীর (৩২) উপজেলার পাইকাশিমুলের বাসিন্দা মো. ইউসুফ আলীর ছেলে।

 

দুর্ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দা দোকান মালিক নুর আলম, আমির, কামাল আহত হয়েছেন। তাদের উদ্ধার করে মুক্তাগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়েছে।

 

প্রত‍্যক্ষদর্শীরা জানান, কিছু বুঝে উঠার আগেই সোজা মুদি দোকানের ভেতরে ঢুকে পড়ে দ্রুতগতির ট্রাকটি। দোকানের ভেতরে ৩ জন কেনাকাটা করছিলেন। জাহাঙ্গীরকে ধাক্কা দিলে তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান। দোকান মালিক নুর আলমসহ ৩ জন গুরুতর আহত হন। তাদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়েছে।

 

এ বিষয়ে মুক্তাগাছা থানার ওসি মো. কামারুল ইসলাম জানান, ধারণা করা হচ্ছে, বালুবাহী ট্রাকটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে এ দুর্ঘটনা ঘটিয়েছে। লাশ উদ্ধার করা হয়েছে এবং ট্রাকটি আটক করা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত চলছে এবং আইনি কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন।

নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মুদি দোকানে ট্রাক, নিহত ১

গণঅধিকার ও যুব অধিকার পরিষদের অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী যোগ দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টিতে (এনসিপি)। শনিবার (২ মে) দুপুরে বরিশাল প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে দলে যোগ দেন। এসময় তাদের ফুল দিয়ে বরিশাল জেলা এনসিপির আহ্বায়ক আবু সাঈদ মুসা বরণ করে নেন। এসময় বিভিন্ন দল থেকে আগ্রহী নেতাকর্মীদের মধ্যে শতাধিক ব্যক্তি এদিন সদস্য ফরম পূরণ করে দলে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন বলে জানান মুসা।

 

এদিকে এনসিপিতে যোগ দেওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে উল্লেখ্যযোগ্যরা হলেন- গণঅধিকার পরিষদ বরিশাল জেলার বাবুগঞ্জ উপজেলা শাখার সভাপতি সিরাজুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক মাসুম হাওলাদার, বাবুগঞ্জ উপজেলা যুব অধিকার পরিষদ সভাপতি জাহিদুল ইসলাম রিয়াদ, কেদারপুর ইউনিয়ন শাখার সাধারণ সম্পাদক আনিসুর রহমান খানসহ উজিরপুর, গৌরনদী, মেহেন্দিগঞ্জ ও মুলাদী উপজেলার বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা রয়েছেন।

 

এসময় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন- এনসিপি বরিশাল জেলার সদস্য সচিব আবু সাঈদ খান ফেরদৌস, সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব আবেদ আহমেদ রনি, জাতীয় নারী শক্তির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মুখ্য সংগঠক নাফিসা মুসতারি, সাংগঠনিক সম্পাদক আসিফ আলী ও ইমরান হোসেন, দপ্তর সম্পাদক নাজমুল হাসান প্রমুখ।

গণঅধিকার পরিষদের অর্ধশতাধিক নেতাকর্মীর এনসিপিতে যোগদান

কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম হাওড়ে পাকা ধানের জমি পানিতে তলিয়ে যেতে দেখে হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে আক্তার হোসেন (৬০) নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে তার পরিবার।নিহত আক্তার হোসেন দেওঘর ইউনিয়নের আলীনগর পশ্চিমপাড়ার বাসিন্দা। স্থানীয় ইউপি সদস্য মোছা. নাছিমা আক্তার জানান, জমির ধান পানির নিচে তলিয়ে যেতে দেখে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন।

 

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, আক্তার হোসেন প্রায় ৩ একর জমিতে বোরোধান আবাদ করেছিলেন। টানা বৃষ্টি ও উজানের ঢলে হাওড়ের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ায় তার অধিকাংশ ধান নষ্ট হয়ে যায়। কিছু ধান কাটা হলেও পরিবহন সমস্যার কারণে ঘরে তুলতে পারেননি।

 

স্বজনদের দাবি, প্রায় দেড় লাখ টাকা ঋণ নিয়ে চাষাবাদ করায় ধান নষ্ট হয়ে যাওয়ার ঘটনায় তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। বিকেলে জমিতে গিয়ে পরিস্থিতি দেখে অসুস্থ হয়ে পড়লে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়।

 

এদিকে জেলা কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, টানা বৃষ্টি ও উজানের ঢলে কিশোরগঞ্জের হাওড়াঞ্চলে নতুন করে আরও ২ হাজার হেক্টর জমির ধান তলিয়ে গেছে। এ নিয়ে মোট ক্ষতিগ্রস্ত জমির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৯ হাজার ৪৫ হেক্টর।

 

সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে ইটনা ও অষ্টগ্রাম উপজেলার হাওড় এলাকায়।

হাওড়ে ধান তলিয়ে যাওয়ার শোক সইতে না পেরে কৃষকের মৃত্যু

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে রাজধানীর মোহাম্মদপুরে ছাত্রদল কর্মী আশিক গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনায় করা হত্যাচেষ্টা মামলায় পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৪০ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দিয়েছে পুলিশ।

 

তবে অভিযোগে সংশ্লিষ্টতা না পাওয়ায় ১২৭ জনকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেয়ার সুপারিশ করেছেন তদন্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদপুর থানার এসআই ফেরদৌস জামান।

 

শেখ হাসিনা ছাড়াও চার্জশিটভুক্ত আসামিদের মধ্যে উল্লেখযোগ্যরা হলেন— আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাবেক সংসদ সদস্য সাদেক খান।

 

জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই মোহাম্মদপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় গুলিতে আহত হওয়ার ঘটনায় ছাত্রদল কর্মী শেখ মোহাম্মদ আশিক বাদী হয়ে মোহাম্মদপুর থানায় এ মামলা করেন। মামলায় শেখ হাসিনাসহ ১২৯ জনের নাম উল্লেখ ছাড়াও অজ্ঞাতনামা আরও দেড়শ’ জনকে আসামি করা হয়েছিল।

 

মামলার অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, শেখ হাসিনা, ওবায়দুল কাদের, আসাদুজ্জামান খান কামাল ও জাহাঙ্গীর কবির নানকসহ অন্যদের ষড়যন্ত্র ও পূর্ব-নির্দেশনা অনুযায়ী অভিযোগপত্রভুক্ত অপর আসামিরা পরস্পর অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র করে সারাদেশে ছাত্র-জনতার যৌক্তিক আন্দোলনকে সহিংসভাবে থামানোর লক্ষ্যে সচেষ্ট ছিল।

শেখ হাসিনা-কাদেরসহ ৪০ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট, ১২৭ জনকে অব্যাহতির সুপারিশ

জনপ্রশাসনের কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি সরকার যেরকম চিরস্থায়ী নয়, জনপ্রশাসনের কোনো পদ কারও জন্য চিরস্থায়ী নয়। প্রতিটি পদকেই গুরুত্বপূর্ণ এবং অনিবার্য ভাবুন। দেশের যেকোনো স্থানেই যেকোনো সময়ে জনপ্রশাসনের যেকোনো পদে দায়িত্ব পালনের জন্য নিজেদেরকে মানসিকভাবে প্রস্তুত করে রাখুন।

 

রোববার (৩ এপ্রিল) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত চার দিনব্যাপী জেলা প্রশাসক সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

 

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জনগণের সামনে একটি বিষয় প্রমাণিত হয়েছে, সেখানে জনরায়ের প্রতিফলন ঘটেছে। জনপ্রশাসনের পক্ষে সুষ্ঠু নির্বাচন পরিচালনা করা সম্ভব, সঠিকভাবে কাজ করলে অবশ্যই জনগণের রায় প্রতিফলিত হয়।

 

তিনি আরও বলেন, দেশের জনপ্রশাসনে পদোন্নতি কিংবা পোস্টিংয়ের জন্য যতগুলো প্রশাসনিক পদ রয়েছে, প্রতিটি পদই রাষ্ট্র এবং সরকারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। শুধুমাত্র পদোন্নতি কিংবা নিজেদের পছন্দের জায়গায় পোস্টিংয়ের জন্য পেশাদারিত্বের সঙ্গে আপোস করলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সাময়িকভাবে হয়তো লাভবান হতে পারেন। তবে সেটি সামগ্রিকভাবে জনপ্রশাসনের দক্ষতা এবং নিরপেক্ষতার ওপরে একটা নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ফ্যাসিবাদী শাসন আমলে দুর্নীতি লুটপাট রাষ্ট্র এবং জনগণকে ঋণগ্রস্ত করে ফেলেছিল। ৩০ লক্ষ কোটি টাকা ঋণের বোঝা নিয়েই বর্তমান সরকার যাত্রা শুরু করেছে। স্বাভাবিকভাবেই জনগণ সরকারের প্রতিটি কাজের মাধ্যমে তাদের আকাঙ্ক্ষার একটি বাস্তব প্রতিফলন দেখতে চাইবে।

 

বর্তমানে যুদ্ধ পরিস্থিতি সরকারের সামনে একটি চ্যালেঞ্জ উল্লেখ করে তিনি আরও বলেণ, যুদ্ধ পরিস্থিতি থেকে এই মুহূর্তে পৃথিবীর কোনো দেশই রক্ষা পায়নি, সব দেশই কমবেশি অ্যাফেক্টেড (ক্ষতিগ্রস্ত) হয়েছে, বাংলাদেশও হয়েছে। তবে জনগণের ভোগান্তি না বাড়িয়ে আমরা সকলে মিলে কীভাবে পরিস্থিতির মোকাবেলা করা যায়, সকলের সহযোগিতায় সেই চেষ্টা অব্যাহত রেখেছি।

সরকারের মতো জনপ্রশাসনের কোনো পদও চিরস্থায়ী নয়: প্রধানমন্ত্রী

র‌্যাবের চৌকস অভিযানে জীপসহ প্রায় ১১ হাজার ইয়াবার চালান আটক

জামালপুর হামলা পাল্টা হামলার মধ্য দিয়ে জেলার সানন্দবাড়ী তে থমথমে অবস্থা বিরাজমান।

error: আপনি নিউজ চুরি করার চেষ্টা করছেন। বিশেষ প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন ০১৭৬৭৪৪৪৩৩৩
%d