
বর্ষার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ডেঙ্গুর সংক্রমণ। আক্রান্তের তালিকায় এবার উদ্বেগ বাড়াচ্ছে শিশু। প্রতি পাঁচজন রোগীর একজনই ১৫ বছরের কম বয়সী। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এখনই কার্যকরভাবে এডিস মশা নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে আগস্ট-সেপ্টেম্বরেই পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা আরো বলছেন, গত ২৫ বছরেও ঢাকায় কার্যকরভাবে এডিস মশা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়নি। ঢাকার বাইরের স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা আরো সীমিত হওয়ায় ভবিষ্যতে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া খুবই কঠিন হবে।
এরই মধ্যে হাসপাতালের বেডে বাড়ছে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা। উদ্বেগের নতুন কারণ—শিশুদের মধ্যে সংক্রমণ। চলতি বছরে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন ৯ হাজার ৭৭০ জন। মারা গেছেন ৩২ জন। আক্রান্তদের মধ্যে প্রায় ১৯ শতাংশই ১৫ বছরের কম বয়সী।
সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ, ঢাকা মেডিকেলে কলেজসহ রাজধানীর হাসপাতালগুলোয় নারী ও পুরুষ ওয়ার্ডে ডেঙ্গু পজিটিভ নিয়ে প্রতিদিনই ভর্তি হচ্ছেন নতুন রোগী।
সরেজমিনে দেখা যায়, মোহাম্মদপুরের ১৩ বছর বয়সী মাদ্রাসা ছাত্র তৌহিদুল হাসপাতালের বেডে শুয়ে আছে। তার হাতে ক্যানুলা। শিশু তৌহিদুল বাবাকে প্রশ্ন করছে—কবে সে বাড়ি ফিরতে পারবে।
অপরদিকে, হাসপাতালে ভর্তি পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র আকিব। তার ধারণা, সে গোসল করতে গিয়ে এডিস মশার কামড় খেয়ে আক্রান্ত হয়েছে। এই শিশু জানায়, তার আর হাসপাতালে থাকতে ভালো লাগছে না।
এদিকে, অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে নিয়ে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আসার পর ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন হৃদয়। এই সময়ের মধ্যেই বাবাও হয়েছেন তিনি। এখন স্ত্রী, নবজাতক ও স্বজনদের নিয়ে হাসপাতালে সময় কাটছে তার।
রোগীর সংখ্যা বিশ্লেষণে দেখা গেছে, শিশু ও কর্মক্ষম মানুষের মধ্যে আক্রান্তের হার সবচেয়ে বেশি। ১৬ থেকে ৫০ বছর বয়সী আক্রান্তের সংখ্যা ছয় হাজার ৭৯৯ জন। যা মোট রোগীর প্রায় ৭০ শতাংশ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কর্মস্থলে নিয়মিত যাতায়াত, অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ এবং জমে থাকা পানিতে এডিস মশার বিস্তারই সংক্রমণ বাড়ার অন্যতম কারণ।
ডেঙ্গুর এই পরিসংখ্যান শুধু সংখ্যার গল্প নয়। এর প্রতিটি সংখ্যার পেছনে রয়েছে একটি পরিবার, একটি কর্মজীবন কিংবা একটি শিশুর অসুস্থতার করুণ গল্প। তাই হাসপাতালের চিকিৎসার পাশাপাশি মশার উৎস ধ্বংস করাকেই এখন সবচেয়ে বড় প্রতিরোধ হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।
Leave a Reply