
পুরনো বন্ধুত্বের নতুন অধ্যায়: সুবিদখালী র,ই, পাইলটে ২০০৮ ব্যাচের বর্ণাঢ্য পুনর্মিলনী
নিজস্ব প্রতিনিধি।
পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে সুবিদখালী সরকারি রহমান ইসহাক পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ২০০৮ ব্যাচের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে এক আনন্দঘন ও স্মৃতিময় পুনর্মিলনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। দীর্ঘদিন পর এক ছাদের নিচে মিলিত হয়ে বিদ্যালয় জীবনের নানা স্মৃতি রোমন্থন করেন প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা।
অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন জেলা ও বিদেশে অবস্থানরত অনেক প্রাক্তন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন। সকাল থেকে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। রেজিস্ট্রেশন, পরিচয়পর্ব, স্মৃতিচারণ, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও সম্মাননা প্রদানসহ দিনব্যাপী নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে পুনর্মিলনী অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়।
অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের সাবেক ও বর্তমান শিক্ষকবৃন্দ, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং বিভিন্ন পেশায় কর্মরত প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। তারা বিদ্যালয়ের শিক্ষা, শৃঙ্খলা ও নৈতিক মূল্যবোধ গঠনে শিক্ষকদের অবদানের কথা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।
বক্তারা বলেন, বিদ্যালয় শুধু শিক্ষা অর্জনের স্থান নয়, এটি একজন মানুষের জীবনের ভিত্তি গড়ে দেয়। দীর্ঘ ১৮ বছর পর সহপাঠীদের সঙ্গে মিলিত হওয়ার এই আয়োজন সকলের মাঝে নতুন উদ্দীপনা ও আনন্দের সঞ্চার করেছে। ভবিষ্যতেও এই বন্ধন অটুট রাখতে নিয়মিত এমন আয়োজন করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তারা।
পুনর্মিলনী উপলক্ষে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণকে বর্ণিল সাজে সাজানো হয়। অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা একে অপরের খোঁজখবর নেন, পুরোনো দিনের স্মৃতি ভাগাভাগি করেন এবং বিদ্যালয় জীবনের নানা মজার ঘটনা স্মরণ করে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।
অনুষ্ঠানের আয়োজকরা জানান, ২০০৮ ব্যাচের শিক্ষার্থীদের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক আরও দৃঢ় করা, সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডে একসঙ্গে কাজ করা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য ইতিবাচক উদাহরণ সৃষ্টি করাই এই পুনর্মিলনীর মূল উদ্দেশ্য।
দিনব্যাপী এই আয়োজন শেষে সকলের অংশগ্রহণে গ্রুপ ছবি ধারণ করা হয় এবং বিদ্যালয়ের উন্নয়ন ও শিক্ষার্থীদের কল্যাণে ভবিষ্যতে একযোগে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।
পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা বলেন, “সময়ের ব্যবধানে আমরা যে যেখানে থাকি না কেন, এই বিদ্যালয় এবং সহপাঠীদের সঙ্গে আমাদের আত্মিক সম্পর্ক কখনোই মুছে যাবে না। এই পুনর্মিলনী আমাদের সেই বন্ধনকে আরও দৃঢ় করেছে।”
অনুষ্ঠানটি আনন্দ, আবেগ, স্মৃতি ও সৌহার্দ্যের এক অনন্য মিলনমেলায় পরিণত হয়, যা অংশগ্রহণকারীদের মনে দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
Leave a Reply