বগুড়ায় দুই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ, নিহত ৪ - Gono television | বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল।
বগুড়ায় দুই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ, নিহত ৪

বগুড়ায় দুই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ, নিহত ৪

বগুড়ার কাহালুতে দুই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে ৪ জন নিহত হয়েছেন। শনিবার (১ আগস্ট) সকাল ১০টার দিকে বগুড়া-নওগাঁ আঞ্চলিক সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

 

তাৎক্ষণিকভাবে নিহতদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি।

 

কাহালু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

 

বিস্তারিত আসছে…


ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে যাত্রীবাহী একটি বাস খাদে পড়ে অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন।

 

রোববার (২ আগস্ট) বিকেল ৪টার দিকে উপজেলার চুমুরদী ইউনিয়নের বাবলাতলা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

 

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ঢাকা থেকে বরিশালগামী দশমিনা পরিবহনের একটি বাস বাবলাতলা এলাকায় পৌঁছালে হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশের খাদে পড়ে যায়। এতে বাসে থাকা অন্তত ৩০ জন যাত্রী আহত হন।

 

খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্য ও স্থানীয়রা দ্রুত উদ্ধারকাজ শুরু করেন। পরে আহতদের উদ্ধার করে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

 

ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হেলালউদ্দিন জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যদের সঙ্গে যৌথভাবে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করে। আহতদের উদ্ধার করে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি।

নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে পুকুরে ডুবল বাস, আহত ৩০

টাঙ্গাইলের মধুপুরে যাত্রীবাহী বাস ও বালুবাহী ট্রাকের তীব্র মুখোমুখি সংঘর্ষে ৩ জন নিহত এবং অন্তত ৭ জন গুরুতর আহত হয়েছেন।

 

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) দিবাগত রাত সাড়ে ১০টার দিকে টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ আঞ্চলিক মহাসড়কের মধুপুর উপজেলার রক্তিপাড়া এলাকায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটে। তাৎক্ষণিকভাবে নিহতদের পরিচয় পাওয়া যায়নি।

 

পুলিশ ও স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, টাঙ্গাইলগামী একটি বালু বোঝাই ট্রাকের সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা জামালপুরগামী একটি যাত্রীবাহী বাসের মুখোমুখি মুখোমুখি ধাক্কা লাগে। এতে বাস ও ট্রাকের একাংশ দুমড়েমুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই ৩ জন প্রাণ হারান। দুর্ঘটনায় আহত হন অন্তত ৭ জন যাত্রী। পরে স্থানীয় উদ্ধারকারীরা এগিয়ে এসে আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে মধুপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে ভর্তি করেন।

 

মধুপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একেএম ফজলুল হক জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার কাজ চালায়। নিহতদের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে এবং আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহগুলো স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

টাঙ্গাইলের মধুপুরে বাস-ট্রাক মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ৩

ভোলার লালমোহনে যাত্রীবাহী বাসের চাপায় মাইশা আক্তার নামে ৬ বছরের এক শিশুর নির্মম মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় সড়ক অবরোধ করে করেছে স্থানীয়রা।

 

শনিবার (২৫ জুলাই) বিকালে উপজেলার পশ্চিম চরউমেদ ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সৈনিক বাজার এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।

 

নিহত মাইশা ওই এলাকার বিল্লাল হোসেনের মেয়ে।

 

স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, বিকালে সৈনিক বাজার এলাকায় রাস্তা পার হচ্ছিল শিশু মাইশা। এ সময় ভোলা থেকে চরফ্যাশনগামী একটি দ্রুতগতির যাত্রীবাহী বাস তাকে সজোরে চাপা দেয়। বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারায় শিশুটি। তবে দুর্ঘটনার পরপরই চালক বাসটি নিয়ে দ্রুত গতিতে পালিয়ে যায়।

এ খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে তীব্র উত্তেজনা দেখা দেয়। ক্ষুব্ধ স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা লাঠিসোঁটা নিয়ে সড়কে নেমে আসেন এবং সৈনিক বাজার এলাকায় গাছের গুঁড়ি ফেলে সড়ক অবরোধ করেন। এর ফলে ভোলা-চরফ্যাশন আঞ্চলিক মহাসড়কের উভয় পাশে শত শত যানবাহন আটকে পড়ে এবং তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।

 

লালমোহন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. অলিউল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, `দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে। শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ঘাতক বাস ও চালককে সনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।

 

এ বিষয়ে তদন্ত করে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা করা হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।

লালমোহনে বাসচাপায় শিশুর মৃত্যু, সড়ক অবরোধ

চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় স্ত্রীকে হাসপাতালে রেখে নামাজ পড়ে ফেরার পথে মহাসড়ক পার হওয়ার সময় পরপর দুটি মোটরসাইকেলের ধাক্কায় মো. আলমগীর নামে এক হোটেল ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন।

 

শুক্রবার (২৪ জুলাই) রাতে উপজেলার সাউন্ড হেলথ হাসপাতালের নতুন ভবনের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ১২টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

 

নিহত আলমগীর (৫৫) উপজেলার আমিরাবাদ ইউনিয়নের তজু মুন্সির গ্যারেজ এলাকার বাসিন্দা। তিনি সাউন্ড হেলথ হাসপাতালের নতুন ভবনের সামনে একটি হোটেল পরিচালনা করতেন।

 

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আলমগীরের স্ত্রী সাউন্ড হেলথ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। স্ত্রীকে হাসপাতালে রেখে নামাজ পড়তে মসজিদে যান তিনি। পরে হাসপাতালে ফেরার পথে মহাসড়ক পার হচ্ছিলেন। এ সময় কক্সবাজারমুখী একটি দ্রুতগতির মোটরসাইকেল তাকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে তিনি সড়কে ছিটকে পড়লে পেছন থেকে আসা আরেকটি মোটরসাইকেল তার শরীরের ওপর দিয়ে চলে যায়। এতে গুরুতর আহত হন তিনি।

 

প্রত্যক্ষদর্শীরা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে সাউন্ড হেলথ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

 

দোহাজারী হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রুহুল আমিন বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে একটি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়েছে।

 

তবে চালককে পাওয়া যায়নি। পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে নিহতের লাশ ময়নাতদন্ত ছাড়াই দাফনের জন্য হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে ও জানান তিনি।

স্ত্রীকে হাসপাতালে রেখে নামাজে গিয়েছিলেন স্বামী, ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু

পাবনার আতাইকুলা থানা এলাকায় লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্সের সঙ্গে যাত্রীবাহী বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে অ্যাম্বুলেন্সের চালকসহ ২ জন নিহত হয়েছেন। এঘটনায় আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন। তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

 

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সকাল ৬টার দিকে ঢাকা-পাবনা মহাসড়কের আতাইকুলার সড়াডাঙ্গী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন- অ্যাম্বুলেন্সে থাকা লাশের স্বজন বুলু খাতুন এবং অ্যাম্বুলেন্সের চালক রাজ শেখ (৩০)। রাজ শেখ পাবনা পৌর এলাকার উত্তর শালগাড়ীর জামাল শেখের ছেলে।

 

বিষয়টি নিশ্চিত করে পাবনার মাধপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুবুর রহমান রহমান জানান, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে থেকে একটি মেয়ের লাশ নিয়ে পাবনার সাঁথিয়ায় বাড়িতে ফিরতেছিল। এসময় বিপরীত দিক থেকে আসা পাবনা এক্সপ্রেস নামের বাসের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে অ্যাম্বুলেন্সের চালকসহ ঘটনাস্থলেই দুইজন নিহত হয়েছেন।

 

তিনি আরো জানান, নিহত ২ জন এবং অ্যাম্বুলেন্সে থাকা মরদেহ উদ্ধার করে পাবনা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। আহতদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত অ্যাম্বুলেন্স এবং বাস উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে।

পাবনায় অ্যাম্বুলেন্সের সঙ্গে বাসের সংঘর্ষ, নিহত ২

রাজধানীর উত্তরায় সড়ক দুর্ঘটনায় দুই সংবাদকর্মী নিহত হয়েছেন। আজ বৃহস্পতিবার ভোরে বিশ্বকাপ ফুটবলের সেমিফাইনাল ম্যাচ দেখে মোটরসাইকেলে বাসায় ফেরার পথে একটি দ্রুতগামী বাস তাদের চাপা দেয়।

 

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) ভোর রাতে উত্তরার জসীমউদ্দীন মোড় থেকে রাজলক্ষ্মীর মাঝামাঝি এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

 

নিহতরা হলেন- দৈনিক প্রাণের বাংলাদেশের স্টাফ রিপোর্টার মোহাম্মদ রবিউল আলম রাজু এবং সংবাদ দিগন্তের স্টাফ রিপোর্টার শাকিবুল হাসান।

 

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার ভোরে তারা মোটরসাইকেলযোগে উত্তরার জসীমউদ্দীন মোড় থেকে রাজলক্ষ্মীর মাঝামাঝি এলাকায় পৌঁছালে একটি বাস তাদের সজোরে চাপা দিয়ে চলে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই তারা গুরুতর আহত হন। পরে তাদের দ্রুত উদ্ধার করে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দুজনকেই মৃত ঘোষণা করেন।

 

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে, দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান এবং ঘাতক বাসটি শনাক্ত করতে সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনাসহ প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

আর্জেন্টিনার খেলা দেখে ফেরার পথে বাসচাপায় ২ সংবাদকর্মী নিহত

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

বিএনপির নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি বাস্তবায়নে কার্ড প্রস্তুত ও উপকারভোগী বাছাই কার্যক্রমেই ব্যয় হতে যাচ্ছে প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে শুধু প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠান আয়োজনেই ৫০ কোটি টাকা ব্যয়ের প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

 

সরকার যখন ব্যয় কমানোর কথা বলছে, সে সময় শুধু কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানেই বিপুল পরিমাণ বাজেটকে ‘খাজনার চেয়ে বাজনা বেশি’ বলে মন্তব্য করেছেন সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার।

 

তিনি বলেন, ‘৫০ কোটি টাকা তো অনেক, এ টাকা দিয়ে বহু মানুষকে সহায়তা দেওয়া যেত। অনুষ্ঠান আয়োজনে যদি বিপুল খরচ করা হয়, তাহলে কর্মসূচির উদ্দেশ্য ব্যর্থ হয়।’

 

অবশ্য প্রকল্প পরিচালক মো. মোশাররফ হোসেন বলছেন, ‘অনুষ্ঠানের খরচ বাবদ ৫০ কোটি টাকা রাখা হয়েছে ঠিকই। তবে এর মানে এই নয় যে পুরো টাকাই খরচ হবে।’

 

এরই মধ্যে পরীক্ষামূলকভাবে কার্ড বিতরণ শুরু করেছে সরকার। সেখানে শুরুতেই উপকারভোগী নির্বাচনে অনিয়ম সামনে এসেছে। টাইমস অব বাংলাদেশের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী এলাকা ঢাকার কড়াইল বস্তিতে প্রকৃত নিম্নআয়ের অনেক পরিবার বাদ পড়লেও বাড়ির মালিকসহ তুলনামূলকভাবে সচ্ছল ব্যক্তিরাও ফ্যামিলি কার্ড পেয়েছেন।

 

পরিকল্পনা কমিশন সূত্র জানায়, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন সমাজসেবা অধিদপ্তরের বাস্তবায়নাধীন ‘সোশ্যাল প্রটেকশন ফর ইম্প্রুভড রেজিলিয়েন্স, ইনক্লুশন অ্যান্ড টার্গেটিং’ (এসএসপিআইআরআইটি) প্রকল্পের প্রথম সংশোধনীর আওতায় ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি যুক্ত করা হয়েছে। প্রকল্পটির সংশোধিত প্রস্তাব সম্প্রতি পরিকল্পনা কমিশনের প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভায় পর্যালোচনা শেষে কয়েকটি খাতে ব্যয় কমিয়ে অনুমোদনের সুপারিশ করা হয়েছে।

 

‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি দ্রুত বাস্তবায়নের লক্ষ্য থাকলেও ২০২৬-২৭ অর্থবছরের মূল বাজেটে এর জন্য কোনো বরাদ্দ রাখা হয়নি। এজন্য সমাজসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহ মোহাম্মদ মাহবুব গত ১৮ জুলাই সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিবকে চিঠি দিয়ে থোক বরাদ্দ থেকে চলতি অর্থবছরেই ১ হাজার ৫১১ কোটি ৩৪ লাখ টাকা স্থানান্তরের অনুরোধ জানান।

 

এর পরদিন সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব মোহাম্মদ সেলিম হোসেন পরিকল্পনা কমিশন, অর্থ বিভাগ এবং অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগকে (ইআরডি) এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানান।

 

ব্যয় প্রস্তাব অনুযায়ী, স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ড প্রস্তুত ও বিতরণের জন্য চলতি অর্থবছরে ৫৫০ কোটি ৮২ হাজার টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। দেশব্যাপী তথ্য সংগ্রহের জন্য ৬৬ হাজার ৮১৫টি ট্যাব এবং পাঁচটি সুপার কম্পিউটার কেনার পরিকল্পনা রয়েছে। এ খাতে ব্যয় প্রস্তাব করা হয়েছে ২২১ কোটি ৩২ লাখ ৮৯ হাজার টাকা।

 

কার্ড কর্মসূচি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে আট বিভাগে সেমিনারের জন্য ৮০ লাখ টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। ডেটা সংগ্রহ, এন্ট্রি ও প্রসেসিং এবং ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি বাস্তবায়নসংক্রান্ত বিভিন্ন প্রশিক্ষণের জন্য ৪ কোটি ৭০ লাখ টাকা এবং মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম তদারকিতে সমাজসেবা অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের ভ্রমণ ভাতা বাবদ ৮ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে।

 

প্রকল্পের আওতায় ৬০ হাজার জরিপকারী নিয়োগ দিয়ে দেশব্যাপী প্রকৃত সুবিধাভোগীর শনাক্ত করা হবে। জরিপ, তথ্য সংগ্রহ, ডেটা এন্ট্রি ও প্রসেসিংয়ের জন্য জনবলের পেছনে ব্যয় ধরা হয়েছে ৬৭৬ কোটি ৫০ লাখ টাকা।

 

সমাজসেবা অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, ২০৩০ সালের জুন পর্যন্ত মেয়াদের এসএসপিআইআরআইটি প্রকল্পটি মূলত ২০২৫ সালে ৯০৪ কোটি ১৭ লাখ টাকা ব্যয়ে অনুমোদন করা হয়। তবে সরকার আলাদা কোনো প্রকল্প গ্রহণ না করে বিদ্যমান প্রকল্পের আওতায় ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়ায় প্রথম সংশোধনীতে প্রকল্প ব্যয় বাড়িয়ে ২ হাজার ৮১৩ কোটি ৭৮ লাখ টাকা করা হয়। পরে বিভিন্ন খাতে ব্যয় পুনর্বিন্যাস করে ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়ন অংশে ১ হাজার ৯০৯ কোটি টাকা করে প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটি।

 

প্রকল্প সংশোধনের আওতায় অতিরিক্ত আটটি ডাটা এন্ট্রি সেবা এবং পাঁচটি কম্পিউটিং সেবা আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে নেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে। পাশাপাশি প্রকল্পের কার্যক্রম সম্প্রসারণের কারণে দুটি জিপ ও আটটি মাইক্রোবাসসহ মোট ১০টি যানবাহন ভাড়ায় ব্যবহারের প্রস্তাব করা হয়েছে।

 

কর্মকর্তারা জানান, ফ্যামিলি কার্ড সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি। গত অর্থবছরে দেশের ৬৫টি ইউনিটে পরীক্ষামূলকভাবে এটি বাস্তবায়ন করা হয়। চলতি অর্থবছরে কর্মসূচিটি সারা দেশে সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। সেই লক্ষ্যেই দেশব্যাপী একটি সমন্বিত জরিপ পরিচালনার মাধ্যমে প্রকৃত সুবিধাভোগী পরিবার চিহ্নিত করা হবে।

 

প্রকল্প পরিচালক মো. মোশাররফ হোসেন টাইমস অব বাংলাদেশ’কে বলেন, ‘প্রয়োজনীয় বরাদ্দ চেয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে চিঠি দেওয়া হয়েছে।’

 

স্মার্ট কার্ড প্রস্তুত ও বিতরণে ৫৫০ কোটি টাকা কতজনের জন্য ব্যয় করা হবে-এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘প্রথম অর্থবছরে ৪১ লাখ মানুষকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার টার্গেট রয়েছে। এরপর ধাপে ধাপে কার্ড দেওয়া হবে।’

 

তিনি জানান, দ্রুত মানুষের হাতে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দিতে ইতিমধ্যে জরিপের জন্য তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। আগস্ট মাসের মধ্যেই জরিপের কাজ শেষ করা হবে। জরিপ কাজে পরিসংখ্যান ব্যুরোর টেকনিক্যাল সহযোগিতা নেয়া হচ্ছে।

 

সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সচিবের অনুমতি ছাড়া কথা বলতে রাজি হননি।

 

শুরুতেই অনিয়মের অভিযোগ

প্রকল্পটি বাস্তবায়নের আগে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে পরীক্ষামূলক পর্যায়ে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। টাইমস-এর অনুসন্ধানে রাজধানী ঢাকার কড়াইল বস্তির একাধিক বাসিন্দা অভিযোগ করেন, প্রকৃত নিম্নআয়ের অনেক পরিবার বাদ পড়লেও তুলনামূলকভাবে সচ্ছল কিছু পরিবার ফ্যামিলি কার্ড পেয়েছেন।

 

কড়াইল বস্তি ঢাকায় প্রধানমন্ত্রীর সংসদীয় আসনের অংশ, তার প্রথম নির্বাচনী জনসভাও এখানেই হয়েছিল। সেই জনসভায় ক্ষমতায় এলে ফ্যামিলি কার্ড চালুর প্রতিশ্রুতি দেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

 

এই বস্তির অটোরিকশাচালক মো. শান্ত টাইমসকে বলেন, অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে নিয়ে কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানে গেলেও তিনি কোনো সহায়তা পাননি। তার অভিযোগ, ‘আমার বাড়িওয়ালা ফ্যামিলি কার্ড পেয়েছেন, কিন্তু যাদের সত্যিই এই টাকার প্রয়োজন, তারা কার্ড পায়নি।’

 

সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার টাইমসকে বলেন, ‘ইউনিয়ন পরিষদ আইনে একটা ওয়ার্ড সভার বিধান আছে। ২০০৭ সালে সেটি যুক্ত করা হয়। ওই বিধানের মূল কথা হলো সভার মাধ্যমে ইউনিয়ন পরিষদের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হবে। একই সঙ্গে সরকারি যত সেবা আছে, সেগুলোর জন্য উপকারভোগী চিহ্নিত করা হবে প্রকাশ্য বৈঠকে, যাতে নেতারা তাদের লোকজনের নাম ঢুকিয়ে দিতে না পারে। কিন্তু সরকারের কার্যক্রমে এসব উপেক্ষা করা হয়। অথচ এটা বাস্তবায়ন করলে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা যায়।’

 

সরকারি নীতিমালায় ভূমিহীন, গৃহহীন, নারীপ্রধান ও অন্যান্য প্রান্তিক পরিবারকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা থাকলেও স্থানীয়দের দাবি, বাস্তবে সেই মানদণ্ড অনুসরণ করা হয়নি। মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, প্রথম ধাপে ১৪টি এলাকায় ৩৭ হাজার ৫৬৭টি নারীপ্রধান পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে প্রায় ১৫ হাজার উপকারভোগী কড়াইল, সাততলা ও ভাসানটেক এলাকার। তবে কড়াইলের আলাদা কোনো পরিসংখ্যান প্রকাশ করা হয়নি।

 

 

ফ্যামিলি কার্ড: জরিপেই ব্যয় ২০০০ কোটি টাকা

গাইবান্ধায় জেনারেল হাসপাতাল হঠাৎ পরিদর্শন করলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী

 

শাহ্ পারভেজ সংগ্রাম,গাইবান্ধা প্রতিনিধি

গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতাল হটাৎ পরিদর্শন করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার শাখাওয়াত হোসেন। রবিবার (২ আগষ্ট) দুপুরে জেনারেল হাসপাতাল পরিদর্শন করেন তিনি।

 

পরিদর্শনে তিনি হাসপাতালের সেবার মান, চিকিৎসকদের উপস্থিতি, হাসপাতালের অবকাঠামো ও ব্যবস্থাপনা সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন। পাশাপাশি রোগীদের সঙ্গে কথা বলে চিকিৎসাসেবা, ওষুধ সরবরাহ এবং হাসপাতালের সার্বিক পরিস্থিতির খোঁজ খবর নেন।

এসময় উপস্থিত ছিলেন সদর-২ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল করিম সরকার, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান মোল্লা, জেলা বিএনপির সভাপতি ও জেলা পরিষদের প্রশাসক সৈয়দ ময়নুল হাসান সাদিক, জেলা পুলিশ সুপার জসিম উদ্দিন, সিভিল সার্জন রফিকুজ্জামান, জেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক মাহমুদুল নবী টিটুলসহ অন্যরা।

 

এদিকে মন্ত্রীর পরিদর্শনের সময় হাসপাতালের নানা অনিয়ম তুলে ধরে প্রতিষ্ঠানটির মুল ফটকের সামনে সচেতন নাগরিক ও এলাকাবাসীর ব্যানারে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

পরে মন্ত্রী গিয়ে মানববন্ধনকারীদের অভিযোগ গুলো খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।

এরপর উপস্থিত সাংবাদিকদের হাসপাতালটির নানা অব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, গত দীর্ঘ সতেরো বছরে স্বাস্থ্য খাতকে অবহেলা করা হয়েছে। আমাদের সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র সাড়ে ৫ মাস হয়েছে। তবুও আমরা চেষ্টা করছি ডাক্তারদের নিয়মানুবর্তীতা বৃদ্ধি ও দুর্নীতি বন্ধ করার। তিনি আরো বলেন, হাসপাতালটিতে নানা অব্যবস্থাপনা রয়েছে। সব কিছু নোট করে নিয়েছি। ঢাকায় গিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

সেই সাথে দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা ৯ তলা বিশিষ্ট হাসপাতালের নির্মিত ভবনটির কার্যক্রম শুরুর বিষয়ে বলেন, জনবল ও ভবনটির যন্ত্রপাতির পর্যাপ্ত পরিমান ঘাটতি রয়েছে। ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন ভবনটির যাবতীয় যন্ত্রপাতি সরবারহ ও জনবল নিয়োগ দিয়ে পুরোদমে কার্যক্রম শুরু করা হবে বলে জানান তিনি।

 

এর আগে সকাল ১১টার দিকে মন্ত্রী গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শনে করেন। এসময় সরকারি ওষুধ সাধারণ রোগিদের না দেওয়ার অপরাধে উপ-সহাকরী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার হেদায়েতুল ইসলাম চৌধুরী ও মেডিকেল অফিসার ডা. জিল্লুর রহমান নামে দুইজনকে সাময়িক বরখাস্ত করার নির্দেশ দেন।

গাইবান্ধায় জেনারেল হাসপাতাল হঠাৎ পরিদর্শন করলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী

নীলফামারীতে মদিনা ডায়াগনস্টিক ক্লিনিক এন্ড কনসালটেশন ১০ শয্যার

আধুনিক হাসপাতাল উদ্বোধন, বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবায় নতুন সংযোজন

 

স্টাফ রিপোর্ট

মাইদুল ইসলাম

নীলফামারীতে মদিনা ডায়াগনস্টিক ক্লিনিক এন্ড কনসালটেশনের ১০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের শুভ উদ্বোধন হয়েছে। রবিবার

(২ আগস্ট) নীলফামারী জেনারেল হাসপাতালের নিকটে নতুন এই হাসপাতালের উদ্বোধন করেন নীলফামারী-২ আসনের সংসদ সদস্য এ্যাড. আলফারুক আব্দুল লতিফ। এ সময় উপস্থিত ছিলেন হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শামীমা সুলতানা লিনা, অ্যানেস্হেসিওলজিস্ট ডা. আতিয়ার রহমান, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক (অব) ডা.মো. আব্দুল মজিদ নীলফামারী জেনারেল হাসপাতালের সিনিয়র কনসালটেন্ট

(গাইনি ও অবস্) ডা. মনিরুজ্জামান মনি, মদিনা ডায়াগনস্টিক ক্লিনিক এন্ড কনসালটেশনের মেডিকেল অফিসার ডা. জাইরিন তাবাচ্ছুমসহ

আরও অনেকে। প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য আলফারুক আব্দুল

লতিফ বলেন, “নীলফামারীর মানুষের সুচিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে সরকারি প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি বেসরকারি হাসপাতালগুলোকেও দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে। মদিনা ডায়াগনস্টিক ক্লিনিক এন্ড কনসালটেশনের নতুন এ হাসপাতাল নীলফামারীর মানুষের চিকিৎসাসেবা ও

ভবিষ্যৎ কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় সংসদ সদস্য নিজেই হাসপাতালটির সফলতা কামনায় দোয়া পরিচালনা করেন।

নীলফামারীতে মদিনা ডায়াগনস্টিক ক্লিনিক এন্ড কনসালটেশন ১০ শয্যার আধুনিক হাসপাতাল উদ্বোধন, বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবায় নতুন সংযোজন 

 

হবিগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতাকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় জেলা ছাত্রদলের সভাপতি শাহ রাজীব আহমেদ রিংগনসহ ১১ জনের জামিন মঞ্জুর করেছেন আদালত।

 

রোববার (২ আগস্ট) দুপুরে হবিগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক আবদুল মান্নান তাদের জামিন মঞ্জুর করেন।

 

গত মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) হবিগঞ্জে এনসিপির জুলাই পদযাত্রায় হামলার ঘটনা ঘটে। এতে এনসিপি নেতা সারজিস আলমসহ বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হন।

 

এই ঘটনায় গত ৩০ জুলাই হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রদল সভাপতি রাজীব আহমেদ রিংগনসহ ১১ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা বেশ কয়েকজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়। মামলাটি দায়ের করেন হবিগঞ্জ জেলা যুবশক্তির আহ্বায়ক তন্ময় তাহের রুবেল।

 

আজ রোববার আসামিরা আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করলে শুনানি শেষে আদালত তাদের জামিন মঞ্জুর করেন।

হবিগঞ্জে এনসিপির নেতাকর্মীদের ওপর হামলায় মামলা: জামিন পেলেন ১১ ছাত্রদল কর্মী

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ১৭ বছর ধরে বিরোধী দলে থেকে যারা নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন, ক্ষমতায় এসে তারাই আবার বিগত সরকারের ফ্যাসিবাদের খাসলত ও পথ ধারণ করছেন।

রোববার (২ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘জান দিব, জুলাই দিব না’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি।

 

জামায়াত আমির বলেন, বর্তমানে বিরোধী মত দমনে ষড়যন্ত্র, অপপ্রচার ও বলপ্রয়োগের যে চর্চা দেখা যাচ্ছে, তা বিগত সরকারের হুবহু ফটোকপি ছাড়া আর কিছুই নয়।

 

তিনি বলেন, সাড়ে ১৭ বছর ধরে বাংলাদেশের মানুষ, বিশেষ করে বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, আলেম-ওলামা, সাংবাদিক, সুশীল সমাজ ও সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ কেমন চরম নির্যাতনের মধ্য দিয়ে দিন কাটিয়েছেন, তা বর্তমান ক্ষমতাসীনদের চিন্তা করা উচিত। কিন্তু একটি রক্তভেজা গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে মুক্তি পাওয়ার পরও আগের সরকারের দমন-পীড়নের সেই একই আচরণ ধারণ করা হচ্ছে।

 

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ২০২৪ সালের ১ আগস্ট যখন তাদের দলকে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল, তখন বিএনপি, এলডিপিসহ গণতান্ত্রিক দলগুলো এর তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছিল। কিন্তু যারা ক্ষমতা চিরস্থায়ী করার জন্য সে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, তাদের পতন হতে মাত্র কয়েক দিন সময় লেগেছে। এটি আল্লাহর বিচার ও কুদরতের নিদর্শন।

বিগত ফ্যাসিবাদের দেখানো পথেই হাঁটছে সরকার: জামায়াত আমির

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে যাত্রীবাহী একটি বাস খাদে পড়ে অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন।

 

রোববার (২ আগস্ট) বিকেল ৪টার দিকে উপজেলার চুমুরদী ইউনিয়নের বাবলাতলা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

 

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ঢাকা থেকে বরিশালগামী দশমিনা পরিবহনের একটি বাস বাবলাতলা এলাকায় পৌঁছালে হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশের খাদে পড়ে যায়। এতে বাসে থাকা অন্তত ৩০ জন যাত্রী আহত হন।

 

খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্য ও স্থানীয়রা দ্রুত উদ্ধারকাজ শুরু করেন। পরে আহতদের উদ্ধার করে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

 

ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হেলালউদ্দিন জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যদের সঙ্গে যৌথভাবে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করে। আহতদের উদ্ধার করে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি।

নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে পুকুরে ডুবল বাস, আহত ৩০

দুবাইয়ে সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের জামিন ইস্যুতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ বলেছেন, দুবাই আদালত থেকে শর্তসাপেক্ষে জামিন পেয়েছে বেনজীর আহমেদ, এটি আমরা শুনেছি। দুবাই রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে কথা বলেছি। আমরা সার্টিফাই কপি সংগ্রহের চেষ্টা করছি। তার জামিন আদেশ বাতিলের জন্য বাংলাদেশ সরকার দুবাইয়ে ল ফার্ম (আইনি পরামর্শক) নিয়োগ করেছে।

 

রোববার (২ আগস্ট) বিকেলে রাজশাহী পুলিশ লাইন্সে রাজশাহী রেঞ্জ ও মেট্রোপলিটন পুলিশের অফিসার ও ফোর্সের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভা শেষে তিনি সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।

 

আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে বেনজীর আহমেদকে দ্রুত দেশে ফেরত আনা যাবে বলে এ সময় প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

 

বাংলাদেশের সাবেক এ আইজিপি আইনি প্রক্রিয়া শেষে গত বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) দুবাইয়ের কারাগার থেকে মুক্ত হন বলে জানা গেছে। যা গণমাধ্যমের মাধ্যমে আজ রোববার প্রকাশ্যে এসেছে।

 

বাংলাদেশের দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা একটি মামলায় বেনজীর আহমেদ দুবাইয়ে গ্রেফতার হন। দুবাই পুলিশ ও আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোলের সহায়তায় তাকে গ্রেফতার করা হয়। গত ১২ জুন এক চিঠির মাধ্যমে বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষকে এ বিষয়ে অবহিত করে দুবাই পুলিশ।

 

এর আগে, বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন ও অর্থপাচারের অভিযোগে একাধিক মামলা করে দুদক। এসব অভিযোগের তদন্তের অংশ হিসেবেই তার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পদক্ষেপ নেওয়া হয়।

 

বেনজীর আহমদের প্রত্যর্পণে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে পাঠানো এ সংক্রান্ত নথিপত্র এবং আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে দুবাইয়ের আদালতে উভয়পক্ষের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। তবে শর্তসাপেক্ষে জামিন মিলে বেনজীর আহমেদের। জামিনের শর্ত অনুযায়ী, তার পাসপোর্ট আদালতের হেফাজতে থাকবে এবং অনুমতি ছাড়া তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাত ত্যাগ করতে পারবেন না।

বেনজীরের জামিন বাতিলে ল ফার্ম নিয়োগ দেওয়া হয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তার কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন বলেছেন, জুলাই সনদ যেভাবে স্বাক্ষরিত হয়েছে সেভাবেই তা বাস্তবায়ন করবে সরকার। জুলাইয়ের গণহত্যার বিচারও নিশ্চিত করা হবে।

 

রোববার বিকালে রাজধানীর বিয়াম ফাউন্ডেশন অডিটোরিয়ামে জুলাই রেভ্যুলেশনারি অ্যালায়েন্স (জেআরএ) আয়োজিত ‘জুলাই বিপ্লববিষয়ক প্রথম সম্মেলনে’ এ কথা বলেন তিনি।

 

মাহদী আমিন বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদরা যে সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচারের বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখেছিলেন, সেই আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নই বর্তমান সরকারের অন্যতম লক্ষ্য।

 

প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, তারা এমন একটি সত্যিকার অর্থে সার্বভৌম বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন, যেখানে মেধার যথাযথ মূল্যায়ন হবে এবং কোনো ধরনের বৈষম্য থাকবে না। এই আদর্শ বাস্তবায়নে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।

 

তিনি আরও বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহত অনেকে আজও স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেননি। কেউ দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন, কেউ স্থায়ীভাবে পঙ্গুত্ববরণ করেছেন। তাদের অনেকে এখনও চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এসব আহত ব্যক্তি এবং শহীদ পরিবারের পাশে নির্বাচিত সরকার সর্বোচ্চ আন্তরিকতা, দায়িত্ববোধ ও সহমর্মিতা নিয়ে দাঁড়াতে চায় এবং দীর্ঘমেয়াদে তাদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

 

মাহদী আমিন বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণের পর জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা, আদর্শ ও মূল্যবোধকে ধারণ করে একটি বৈষম্যহীন, মানবিক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তবে দীর্ঘ ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসনের প্রভাব অল্প সময়ে সম্পূর্ণভাবে দূর করা সম্ভব নয়। তবুও শহীদদের আত্মত্যাগ এবং তাদের পরিবারের প্রত্যাশা অনুযায়ী একটি ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

 

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, আমরা এমন একটা বাংলাদেশ তখন দেখেছিলাম যেখানে ডানপন্থী, বামপন্থী, মধ্যমপন্থী, ইসলামপন্থী বলে কারো কোনো পরিচয় ছিল না। সবার পরিচয় ছিল আমরা বাংলাদেশ পন্থী। আমরা সবাই মিলে সেই বাংলাদেশই চেয়েছিলাম, যেখানে মানবাধিকার থাকবে, আইনের অনুশাসন থাকবে, বাকস্বাধীনতা থাকবে। সবাই সে বাংলাদেশ চেয়েছিলাম যেখানে মানবাধিকার লঙ্ঘন হবে না, গুম-খুন-হামলা মামলা হবে না। আজকের গণতান্ত্রিক বাংলাদেশে যে গণ আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে জুলাই গণঅভ্যুত্থান হয়েছিল,সেটাই প্রতিষ্ঠিত করতে চাই।

 

তিনি বলেন, আমাদের অনেক আহত ভাই-বোনেরা রয়েছেন যাদের অনেকের আর চোখ নেই, অনেকের হাত বা পা হারিয়েছে। অনেকে আহত হয়েছে আজও সুস্থ হন নাই। নির্বাচিত সরকারের দিক থেকে আমরা সর্বোচ্চ আন্তরিকতা নিয়ে ভালোবাসা নিয়ে আমাদের শহীদ পরিবারগুলোর পাশে থাকতে চাই। যারা আহত হয়েছেন তাদের পাশে সহযোগিতা নিয়ে থাকতে চাই। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নির্বাচিত হয়ে রাষ্ট্র পরিচালনায় আসার পর জুলাইয়ের যে আকাঙ্ক্ষা, জুলাইয়ের যে আদর্শ, জুলাইয়ের যে মূল্যবোধ সেটাকে ধারণ করে একটা নতুন বৈষম্যহীন এবং মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে নেতৃত্ব দিচ্ছেন।

স্বাক্ষরিত জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ও গণহত্যার বিচার নিশ্চিত করবে সরকার

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ হলে শিবির-ছাত্রদল মুখোমুখি অবস্থান করায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।

 

রোববার (২ আগস্ট) বিকেল সাড়ে চারটার দিকে এ ঘটনা ঘটে।তবে কী কারণে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে তা এখনো জানা যায়নি।

 

এদিকে ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম ফেসবুকে লেখেন, ‘শহীদুল্লাহ হলে ছাত্রদল প্রভোস্ট অফিসে হামলা করছে, সামলাতে না পেরে রিজাইন দিয়েছেন প্রভোস্ট। তিনিও বিএনপিপন্থি এবং প্রভোস্ট স্ট্যান্ডিং কমিটির আহবায়ক। ক্যাম্পাসের নতুন ত্রাস, ছাত্রদলের সন্ত্রাস!’

 

এর প্রতিবাদে আজ বিকাল সাড়ে ৬টায় মধুর ক্যান্টিন থেকে প্রতিবাদ মিছিলের ঘোষণা করেছে দলটি।’

 

তবে ছাত্রদলের পক্ষ থেকে এখনো কোনো কর্মসূচির কথা জানা যায়নি।

ঢাবিতে শিবির-ছাত্রদল মুখোমুখি অবস্থান, উত্তেজনা

  • রাজধানীর কলাবাগানে স্ত্রী ও শাশুড়িকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনার নেপথ্যের কারণ জানিয়েছে নিহতের পরিবার। মূলত গ্রামে বিয়েবাড়িতে হওয়া তর্কের জের ধরে ঢাকার বাসায় আবারও একই বিষয় নিয়ে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে স্বামী শিপন তার স্ত্রী ফারজানা আক্তার রাত্রী (২১) ও শাশুড়ি ফিরোজা বেগমকে কুপিয়ে হত্যা করেন। যা পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করা রিদয় ইসলাম শিপন স্বীকার করেছেন।

রোববার (০২ আগস্ট) সকালে কাঠালবাগানের আল আমিন মসজিদের ৫৫/২ সড়কের বাসায় এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। খুনের পর শিপন নিজেই থানায় হাজির হয়ে বিষয়টি পুলিশকে অবগত করেন। এরপর তারা গিয়ে সে বাসা থেকে মেয়ের এবং ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে মায়ের লাশ উদ্ধার করে।

 

এ ঘটনায় নিহত ফারজানা আক্তার রাত্রীর বাবা ফারুক হোসেন জানান, তাদের বাড়ি শরীয়তপুরের গোসাইরহাট উপজেলায়। গেল শুক্রবারের আগের শুক্রবার মা ও মেয়ে গ্রামের বাড়িতে গিয়েছিলেন। গত পরশু শুক্রবার ছিল তার (ফারুকের) ভাতিজার বিয়ের অনুষ্ঠান। বিয়ের আগের দিন সেখানে গিয়েছিলেন শিপন। তবে বিয়ের দিন সকালে ফারজানা ও তার স্বামী শিপনের মধ্যে কোনো একটি বিষয় নিয়ে ঝগড়াঝাঁটি হয়। এর জেরে বিয়ের অনুষ্ঠানে খাওয়া-দাওয়া না করেই শিপন ঢাকায় চলে আসেন। কিন্তু বাসায় এসে আজ কী ঘটেছিল, তা তিনি জানেন না।

তিনি আরও জানান, খবর পেয়ে সকাল নয়টার দিকে তিনি বাসায় ঢুকে দেখতে পান, মেয়ে ফারজানা আক্তার রাত্রী ঘরের মেঝেতে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। পাশে তার স্ত্রী ফিরোজা বেগম মুমূর্ষু অবস্থায় কাতরাচ্ছেন। পরে মেয়ে ফারজানার মরদেহ ফেলে রেখেই তিনি ফিরোজা বেগমকে নিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চলে যান। এরপর সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

 

এদিকে পুলিশের কাছে গিয়ে নিজেই আটক হওয়া স্বামী শিপন জানিয়েছেন, তার সঙ্গে স্ত্রীর আজ সকালে পুরোনো বিষয় নিয়ে তর্ক হয়। তর্কের সময় তার শাশুড়ি এসে মেয়ের সঙ্গে তর্কে যোগ দেন এবং তার পক্ষ নিয়ে কথা বলা শুরু করেন। এতে শিপন ক্ষিপ্ত হয়ে ঘরে থাকা ফল কাটার ছুরি এনে প্রথমে স্ত্রীকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করেন। এ সময় শাশুড়ি বাধা দিতে আসলে তাকেও কুপিয়ে আহত করেন। তবে স্ত্রী এ ঘটনার পর মারা গেলেও শাশুড়ি জীবিত ছিলেন। এরপর তিনি বাসা থেকে বেরিয়ে আসেন।

স্ত্রী-শাশুড়িকে হ/ত্যা করে পালানো যুবকের থানায় আত্মসমর্পণ

র‌্যাবের চৌকস অভিযানে জীপসহ প্রায় ১১ হাজার ইয়াবার চালান আটক

জামালপুর হামলা পাল্টা হামলার মধ্য দিয়ে জেলার সানন্দবাড়ী তে থমথমে অবস্থা বিরাজমান।

পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের ও আদালতে মিথ্যা হলফনামা দেয়ার অভিযোগে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কেবিন ক্রু খাদিজা সুলতানা শিমুর বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

 

বুধবার (১৫ জুলাই) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২-এর বিচারক মো. জাকির হোসাইন এ আদেশ দেন। আদালতের আদেশে বলা হয়েছে, শিমুর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর ১৩ ধারা এবং দণ্ডবিধির ১৮১, ১৮২ ও ১৯৩ ধারায় মামলা করা হবে। আদালত নিজেই এ মামলার বাদী হয়েছেন।

 

আদালতের নথি অনুযায়ী, খাদিজা সুলতানা শিমু মামলার বাদী হয়ে বেসরকারি একটি এয়ারলাইন্সের কর্মকর্তা মো. ওমর ফারুক চৌধুরীর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনের বিভিন্ন ধারায় উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলা করেন।

 

তদন্ত শেষে উত্তরা পশ্চিম থানার তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে জানান, অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি। প্রতিবেদনে বলা হয়, মামলার এজাহারে উল্লেখ করা ফেসবুক লিংক, ডিজিটাল আলামত ও অন্যান্য তথ্য যাচাই করে ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি প্রচারের কোনো প্রমাণ মেলেনি। ফলে ওই কর্মকর্তাকে মামলা থেকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়।

একই সঙ্গে তদন্ত কর্মকর্তা প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, ওমর ফারুক আগে শিমুর বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন দিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে আদালতে মামলা করেছিলেন। সেই মামলার দায় এড়াতেই শিমু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত বিভিন্ন লিংক উল্লেখ করে তার বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি ছড়ানোর অভিযোগ এনে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, হয়রানিমূলক ও মিথ্যা মামলা করেছেন বলে প্রাথমিক তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে। এ কারণে শিমুর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর ১৩ ধারায় আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার আবেদনও করেন তদন্ত কর্মকর্তা।

 

পরে গত ৯ জুলাই আদালত তদন্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করে ওমর ফারুককে মামলা থেকে অব্যাহতি দেন। আদালতের আদেশে বলা হয়, শিমু ক্ষতিসাধনের উদ্দেশ্যে আদালতে মিথ্যা মামলা দায়ের করেছেন এবং হলফ করে মিথ্যা সাক্ষ্য দিয়েছেন। মামলার নথিতে তার দেয়া হলফনামাও সংযুক্ত রয়েছে। এসব বিবেচনায় আদালত নিজেই বাদী হয়ে তার বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন ও দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়েরের নির্দেশ দেন।

 

তদন্তে যা উঠে এসেছে পুলিশের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, তদন্তকালে রেকর্ড, ডিজিটাল আলামত, ফেসবুক লিংক ও ফরেনসিক তথ্য যাচাই করে ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি প্রচারের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

 

তদন্তে আরও উঠে আসে, শিমু বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কেবিন ক্রু এবং ওমর ফারুক একটি বেসরকারি এয়ারলাইন্সের এয়ারক্রাফট মেইনটেন্যান্স কর্মকর্তা। ফেসবুকে পরিচয়ের পর তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

 

প্রতিবেদনে বলা হয়, বিয়ের আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন সময়ে ওমর ফারুকের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী নেয়ার অভিযোগে ওমর ফারুক আদালতে পৃথক মামলা করেন। এরপর সেই মামলার দায় থেকে নিজেকে রক্ষা করতেই শিমু পর্নোগ্রাফি আইনে অভিযোগ দায়ের করেন বলে তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে।

 

ওমর ফারুকের আগের মামলা গত ২০ জুলাই ওমর ফারুক চৌধুরী শিমুর বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন, ‘হানি ট্র্যাপ’ ও ব্ল্যাকমেইলের মাধ্যমে প্রায় ২২ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ঢাকার আদালতে মামলা করেন। আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে উত্তরা পশ্চিম থানাকে তদন্তের নির্দেশ দেন। পরে তিনি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষের কাছেও লিখিত অভিযোগ করেন।

 

সেই মামলায় অভিযোগ করা হয়, ২০২৪ সালে ফেসবুকে পরিচয়ের পর শিমু তাকে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন সময়ে টাকা নেন। জন্মদিনে দেড় লাখ টাকা মূল্যের একটি হীরার আংটিসহ বিয়ের খরচের জন্য মোট ২১ লাখ ৭৪ হাজার ৫১১ টাকা নেয়ার পরও বিয়ে না করে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে মামলায় দাবি করা হয়।

পর্নোগ্রাফি আইনে কেবিন ক্রু শিমুর বিরুদ্ধে মামলার নির্দেশ আদালতের

error: আপনি নিউজ চুরি করার চেষ্টা করছেন। বিশেষ প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন ০১৭৬৭৪৪৪৩৩৩
%d