
রোববার (০২ আগস্ট) সকালে কাঠালবাগানের আল আমিন মসজিদের ৫৫/২ সড়কের বাসায় এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। খুনের পর শিপন নিজেই থানায় হাজির হয়ে বিষয়টি পুলিশকে অবগত করেন। এরপর তারা গিয়ে সে বাসা থেকে মেয়ের এবং ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে মায়ের লাশ উদ্ধার করে।
এ ঘটনায় নিহত ফারজানা আক্তার রাত্রীর বাবা ফারুক হোসেন জানান, তাদের বাড়ি শরীয়তপুরের গোসাইরহাট উপজেলায়। গেল শুক্রবারের আগের শুক্রবার মা ও মেয়ে গ্রামের বাড়িতে গিয়েছিলেন। গত পরশু শুক্রবার ছিল তার (ফারুকের) ভাতিজার বিয়ের অনুষ্ঠান। বিয়ের আগের দিন সেখানে গিয়েছিলেন শিপন। তবে বিয়ের দিন সকালে ফারজানা ও তার স্বামী শিপনের মধ্যে কোনো একটি বিষয় নিয়ে ঝগড়াঝাঁটি হয়। এর জেরে বিয়ের অনুষ্ঠানে খাওয়া-দাওয়া না করেই শিপন ঢাকায় চলে আসেন। কিন্তু বাসায় এসে আজ কী ঘটেছিল, তা তিনি জানেন না।
তিনি আরও জানান, খবর পেয়ে সকাল নয়টার দিকে তিনি বাসায় ঢুকে দেখতে পান, মেয়ে ফারজানা আক্তার রাত্রী ঘরের মেঝেতে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। পাশে তার স্ত্রী ফিরোজা বেগম মুমূর্ষু অবস্থায় কাতরাচ্ছেন। পরে মেয়ে ফারজানার মরদেহ ফেলে রেখেই তিনি ফিরোজা বেগমকে নিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চলে যান। এরপর সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এদিকে পুলিশের কাছে গিয়ে নিজেই আটক হওয়া স্বামী শিপন জানিয়েছেন, তার সঙ্গে স্ত্রীর আজ সকালে পুরোনো বিষয় নিয়ে তর্ক হয়। তর্কের সময় তার শাশুড়ি এসে মেয়ের সঙ্গে তর্কে যোগ দেন এবং তার পক্ষ নিয়ে কথা বলা শুরু করেন। এতে শিপন ক্ষিপ্ত হয়ে ঘরে থাকা ফল কাটার ছুরি এনে প্রথমে স্ত্রীকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করেন। এ সময় শাশুড়ি বাধা দিতে আসলে তাকেও কুপিয়ে আহত করেন। তবে স্ত্রী এ ঘটনার পর মারা গেলেও শাশুড়ি জীবিত ছিলেন। এরপর তিনি বাসা থেকে বেরিয়ে আসেন।
Leave a Reply