
সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে প্রতিদিনই আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে রোগীর চাপ। জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে চিকিৎসাসেবা নিতে আসা শত শত মানুষকে দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে হচ্ছে। রোগীর তুলনায় পর্যাপ্ত চিকিৎসক না থাকায় কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হওয়ার অভিযোগ করেছেন রোগী ও তাদের স্বজনেরা।
রোববার (২ আগস্ট) সকালে হাসপাতাল ঘুরে দেখা যায়, বহির্বিভাগ ও জরুরি বিভাগে রোগীদের দীর্ঘ সারি। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও অনেক রোগী চিকিৎসকের দেখা পাচ্ছেন না। একজন চিকিৎসককে অনেক রোগী সামলাতে হচ্ছে, ফলে রোগীদের পর্যাপ্ত সময় দিয়ে চিকিৎসাসেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
শুধু বহির্বিভাগ নয়, হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডেও অতিরিক্ত রোগীর চাপ দেখা গেছে। শয্যাসংকট থাকায় অনেক রোগীকে বাধ্য হয়ে মেঝেতে শুয়েই চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।
চিকিৎসা নিতে আসা একাধিক রোগী জানান, হাসপাতালে প্রয়োজনীয় সংখ্যক চিকিৎসক ও বিশেষজ্ঞ ডাক্তার না থাকায় তারা কাঙ্ক্ষিত সেবা পাচ্ছেন না। অনেকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে চিকিৎসা না পেয়েই ক্ষোভ নিয়ে ফিরে যাচ্ছেন।
এদিকে রোববার সকাল থেকে হাসপাতাল প্রাঙ্গণে জাতীয় পতাকা উত্তোলন না করায় প্রশাসনিক দায়িত্বজ্ঞান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। সচেতন নাগরিকদের অভিযোগ, সরকারি বিধিমালা অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের স্পষ্ট নিয়ম থাকলেও তা মানা হয়নি। বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা শুরু হলে দুপুর আনুমানিক ২টার দিকে তাড়াহুড়ো করে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
এ বিষয়ে সমাজকর্মী হোসেন আলী বলেন, সরকারি প্রতিষ্ঠানে যথাসময়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব। এতে অবহেলা হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং প্রশাসনিকভাবে বিষয়টি খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
পতাকা না তোলা ও চিকিৎসক সংকটের বিষয়ে জানতে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. আব্দুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি। তিনি সিভিল সার্জনের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন।
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ও সিভিল সার্জন ডা. আব্দুস সালাম বলেন, আমি বর্তমানে ছুটিতে আছি। আমার অনুপস্থিতিতে দায়িত্ব আবাসিক মেডিকেল অফিসারকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।
গত ২৬ জুলাই স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন সাতক্ষীরা সদর হাসপাতাল পরিদর্শনে আসেন। সে সময় তিনি সরকারি হাসপাতালগুলোর দীর্ঘদিনের চিকিৎসক সংকট নিরসনে নতুন উদ্যোগ গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছিলেন। তবে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সেই পরিদর্শনের এক সপ্তাহের মাথাতেই হাসপাতালের তীব্র চিকিৎসক সংকট ও প্রশাসনিক উদাসীনতার চিত্র ফুটে উঠল।
Leave a Reply