বাধা পেরিয়ে সংসদ ভবনের কাছে ককরোচ পার্টির সদস্যরা, উত্তপ্ত দিল্লি - Gono television | বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল।
বাধা পেরিয়ে সংসদ ভবনের কাছে ককরোচ পার্টির সদস্যরা, উত্তপ্ত দিল্লি

বাধা পেরিয়ে সংসদ ভবনের কাছে ককরোচ পার্টির সদস্যরা, উত্তপ্ত দিল্লি

লাঠি, কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করেও ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) সংসদ অভিযান থামাতে পারেনি দিল্লি পুলিশ। পুলিশের বাধা কাটিয়েই সোমবার দুপুরে সংসদ ভবনের কাছে পৌঁছে যান বিক্ষোভকারীরা।

 

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, বিক্ষোভকারীদের মিছিল এগিয়ে আসতেই নিরাপত্তার কারণে সংসদের প্রধান ফটক বন্ধ করে দেওয়া হয়।

 

খবরে বলা হয়, সোমবার থেকেই সংসদের বাদল অধিবেশন শুরু হয়েছে। সংসদ ভবনে প্রধানমন্ত্রী, কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা সদস্যরাসহ বিভিন্ন দলের সংসদ সদস্যরা উপস্থিত রয়েছেন।

 

এই পরিস্থিতিতে সিজেপির সংসদ অভিযান নিয়ে আগে থেকেই সতর্ক ছিল দিল্লি পুলিশ। সংসদ ভবনের দিকে যাওয়ার পথে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে শ্রমশক্তি ভবনের কাছে লাঠিচার্জ করে পুলিশ। কাঁদানে গ্যাসের শেলও ছোড়া হয়। তার পরেও অবশ্য বিক্ষোভকারীদের একাংশ সংসদ ভবনের দিকে এগোতে থাকেন।

 

বেশ কয়েক জন বিক্ষোভকারীকে আটক করে পুলিশ। তাদের বাসে উঠিয়ে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। সিজেপি নেতাদের অভিযোগ, শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে দমনমূলক আচরণ করেছে পুলিশ।

 

সোমবার (২০ জুলাই) ভারতের পার্লামেন্টের বর্ষাকালীন অধিবেশন শুরুর দিনে লং মার্চের উদ্দেশ্যে যন্তর মন্তরে হাজার হাজার শিক্ষার্থী ও অ্যাক্টিভিস্ট একত্রিত হন। আন্দোলনকারীদের পদযাত্রা রুখতে পুরো এলাকা ব্যারিকেড দিয়ে ঘিরে ফেলে দিল্লি পুলিশ। মোতায়েন করা হয় শত শত নিরাপত্তা কর্মী।

 

সকালে সেন্ট্রাল দিল্লির বিক্ষোভস্থল থেকে মিছিল নিয়ে তারা পার্লামেন্টের দিকে এগোতে চাইলে পুলিশ বাধা দেয়। বেশকিছু স্থানে বসানো নিরাপত্তা ব্যারিকেড ভেঙে ফেলার চেষ্টা করলে পুলিশের সঙ্গে তীব্র ধস্তাধস্তি শুরু হয়। এতে বেশ কয়েকজন আন্দোলনকারী ও পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।

 

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্যমতে, প্রায় ২০ হাজার মানুষ (যাদের অধিকাংশই ছাত্র-যুবক) সোমবারের কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছিল।

 

এক বিবৃতিতে দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, পরিস্থিতি পেশাদারত্বের সঙ্গে সামাল দেওয়া হচ্ছে। কোনো ধরনের গুজবে কান না দেওয়ার জন্য সাধারণ মানুষকে অনুরোধ জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

 

ভারতের প্রধান বিচারপতির একটি মন্তব্যের প্রতিক্রিয়া হিসেবে গত মে মাসে ৩০ বছর বয়সি অভিজিৎ দীপকে নামে এক ব্যক্তি সিজেপি গঠন করেন, যা অতি দ্রুত সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে ওঠে এবং বিরোধী রাজনৈতিক দল, শিল্পী ও সুশীল সমাজের সমর্থন লাভ করে।

 

এর আগে গত শনিবার পুলিশ অনশনরত ৫৯ বছর বয়সি প্রখ্যাত জলবায়ু ও শিক্ষা আন্দোলনকর্মী সোনম ওয়াংচুককে অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে যন্তর মন্তর থেকে হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করায় আজ সোমবারের কর্মসূচিতে বাড়তি উত্তেজনা যোগ হয়।


ভারতের পার্লামেন্ট অভিমুখে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) পদযাত্রাকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে রাজধানী নয়াদিল্লি।

 

সোমবার (২০ জুলাই) পুলিশের অনুমতি না থাকা সত্ত্বেও সেখানে জড়ো হয় ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলনকারীরা।

 

এ সময় আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে নিরাপত্তা বাহিনী কাঁদানে গ্যাসের শেল ব্যবহার করেছে। একই সঙ্গে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেন্ট্রাল দিল্লির কিছু অংশে মোবাইল ইন্টারনেটও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

 

মেডিকেল কলেজগুলোর জাতীয় প্রবেশিকা পরীক্ষা—নিটটের কথিত অনিয়মের বিরুদ্ধে এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে এই ‘চলো সংসদ’ পদযাত্রার ডাক দেওয়া হয়। যন্তর-মন্তর বিক্ষোভস্থলে জড়ো হওয়া প্রধানত তরুণদের এই জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ লাঠি ও ডান্ডাও ব্যবহার করেছে। পার্লামেন্টের দিকে অগ্রসর হওয়ার সময় বিক্ষোভকারীরা ব্যারিকেড ভেঙে ফেলার চেষ্টা করলে কিছু আন্দোলনকারী এবং পুলিশ সদস্য সামান্য আহত হয়েছেন।

 

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সিজেপি তার সমর্থকদের ‘শান্ত থাকার’ আহ্বান জানিয়েছে। দলটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এমনকি আপনাদের যদি নির্দিষ্ট কিছু জায়গায় আটকে দেওয়া হয়, তবুও শান্ত থাকুন এবং শান্তি বজায় রাখুন। আমরা কেবল শান্তি ও ভালোবাসা দিয়ে এতে জয়ী হব।

 

পুলিশ রোববার এই আন্দোলনের অনুমতি দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল এবং বড় ধরনের জমায়েত নিষিদ্ধ করেছিল। তারা সতর্কও করেছিল, এই নিষেধাজ্ঞা অমান্যকারী যে কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

 

এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে পুলিশ জানায়, পূর্বানুমতিসহ যন্তর-মন্তরের নির্ধারিত বিক্ষোভস্থল ছাড়া অন্য কোথাও প্রতিবাদ পদযাত্রা, মিছিল, বিক্ষোভ এবং পাঁচ বা ততোধিক ব্যক্তির সমাবেশ কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। দিল্লি পুলিশ সকল নাগরিককে আইনকে শ্রদ্ধা করার, যে কোনো অননুমোদিত সমাবেশ বা মিছিলে অংশগ্রহণ করা থেকে বিরত থাকার এবং জনশান্তি, নিরাপত্তা ও সুরক্ষা বজায় রাখতে সহযোগিতা করার আহ্বান জানাচ্ছে।

 

দিল্লি মেট্রো স্টেশনগুলোতে বিশৃঙ্খলা

 

নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত দিল্লির পাঁচটি মেট্রো স্টেশন বন্ধ ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ। স্টেশনগুলো হলো—রাজীব চক, জনপথ, প্যাটেল চক, কেন্দ্রীয় সচিবালয় এবং সেবা তীর্থ।

এগুলো বন্ধ করে দেওয়ার পর বেশ কয়েকটি মেট্রো স্টেশনে তীব্র বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। এর ফলে শত শত যাত্রী আটকা পড়েন অথবা তাদের গন্তব্যে পৌঁছানোর জন্য দীর্ঘ পথ ব্যবহারে বাধ্য হন। দিল্লির অন্যতম ব্যস্ত ইন্টারচেঞ্জ মেট্রো স্টেশন রাজীব চকে যাত্রীদের বন্ধ প্রবেশ ও বাহির পথের গেটগুলোর কাছে ভিড় করতে দেখা গেছে।

 

সিজেপির বিক্ষোভ

 

ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের ‘পরজীবী’ এবং ‘তেলাপোকা’ মন্তব্যকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া বিতর্কের পর গত মে মাসে অভিজিৎ দিপকে একটি ব্যঙ্গাত্মক ডিজিটাল সংগঠন হিসেবে ককরোচ জনতা পার্টি চালু করেছিলেন। মাত্র কয়েক দিনের মধ্যে এটি ইন্টারনেট দুনিয়ায় ঝড় তোলে এবং বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে লাখ লাখ অনুসারী অর্জন করে। এটি বিভিন্ন বিরোধী রাজনৈতিক নেতা, অধিকারকর্মী, শিল্পী এবং ক্রীড়াবিদদের সমর্থনও আকর্ষণ করে।

 

৩০ বছর বয়সি দিপকে, যিনি গত দুই বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছিলেন, তিনি প্রশ্নপত্র ফাঁসসহ প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষাগুলোতে কথিত অনিয়মের পর শিক্ষা খাতে সংস্কারের দাবিতে দিল্লির বিক্ষোভের নেতৃত্ব দিতে জুনে ভারতে ফিরে আসেন। পরে তার সঙ্গে যোগ দেন অধিকারকর্মী সোনম ওয়াংচুক, যিনি গত ২৮ জুন যন্তর-মন্তরে আমরণ অনশনে বসেন।

 

তবে ৫৯ বছর বয়সি ওয়াংচুককে তার স্বাস্থ্যগত অবস্থার কথা উল্লেখ করে গত শনিবার পুলিশ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সোমবার (২০ জুলাই) হাসপাতাল থেকে দেওয়া এক হাতে লেখা নোটে ওয়াংচুক বলেন, সরকার যদি শিক্ষা ব্যবস্থায় কথিত প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং অন্যান্য ব্যর্থতার দায় স্বীকার করে অথবা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের এমপি ও নেতারা যদি তাকে আশ্বাস দেন যে তারা পার্লামেন্টে এই বিষয়টি উত্থাপন করবেন, তবেই কেবল তার অনশন ভাঙবে।

রণক্ষেত্র দিল্লি, বন্ধ ইন্টারনেট

ইউক্রেনের প্রধানমন্ত্রী ইউলিয়া সভিরিদেঙ্কো পদত্যাগ করেছেন। দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সরকারের কার্যক্রমে নতুন গতি আনতে মন্ত্রিসভায় ব্যাপক রদবদলের উদ্যোগ নেওয়ার পর তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন।

মঙ্গলবার ইউক্রেনের পার্লামেন্ট প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগপত্র গ্রহণ করে। এর ফলে নতুন প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভা গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সরকার পুনর্গঠনের মাধ্যমে যুদ্ধকালীন প্রশাসনকে আরও কার্যকর ও দক্ষ করার লক্ষ্য রয়েছে বলে জানিয়েছে প্রেসিডেন্টের কার্যালয়।

ইউলিয়া সভিরিদেঙ্কো দায়িত্ব পালনকালে দেশের অর্থনীতি, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং যুদ্ধকালীন প্রশাসনিক কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তবে নতুন পরিস্থিতির আলোকে সরকারে পরিবর্তন আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

নতুন প্রধানমন্ত্রী কে হবেন, সে বিষয়ে শিগগিরই আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হতে পারে।

পদত্যাগ করলেন প্রধানমন্ত্রী

বিশ্বের বৃহত্তম সামরিক সদর দপ্তর ‘অক্টাগন’ উদ্বোধন করল মিশর

 

জাহেদুল ইসলাম আল রাইয়ান

 

আধুনিক সামরিক অবকাঠামো ও কৌশলগত সক্ষমতাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ সামরিক কমান্ড কমপ্লেক্স ‘দ্য অক্টাগন’ (The Octagon) আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেছে মিশর। শনিবার (৪ জুলাই) দেশটির নতুন প্রশাসনিক রাজধানীতে নির্মিত এ অত্যাধুনিক কমপ্লেক্স উদ্বোধন করেন মিশরের প্রেসিডেন্ট ও সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি। মিশর সরকার একে বিশ্বের বৃহত্তম ও সর্বাধুনিক সামরিক কমান্ড এবং জাতীয় নিরাপত্তা সদর দপ্তর হিসেবে দাবি করছে।

 

মিশরীয় সরকারি সূত্র ও স্থানীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, রাজধানী কায়রো থেকে প্রায় ৪৫ কিলোমিটার পূর্বে গড়ে ওঠা নতুন প্রশাসনিক রাজধানীতে নির্মিত এই কমপ্লেক্সটি ‘স্টেট স্ট্র্যাটেজিক কমান্ড সেন্টার’ প্রকল্পের কেন্দ্রবিন্দু। এর লক্ষ্য হলো সশস্ত্র বাহিনীর কমান্ড, নিয়ন্ত্রণ, সমন্বয় ও কৌশলগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ ব্যবস্থাকে সর্বাধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে আরও কার্যকর ও দ্রুততর করা।

 

প্রায় ৯২ বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে বিস্তৃত এই বিশাল স্থাপনাটি আয়তনের দিক থেকে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ সামরিক অবকাঠামো। মিশরের দাবি অনুযায়ী, এটি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা সদর দপ্তর পেন্টাগন-এর চেয়েও বড়।

 

‘অক্টাগন’ নামকরণের পেছনে রয়েছে এর ব্যতিক্রমী স্থাপত্যশৈলী। অষ্টভুজ আকৃতির একাধিক ভবনের সমন্বয়ে নির্মিত এই কমপ্লেক্সের নির্মাণকাজ শুরু হয় ২০১৬ সালে। এটি মিশরের দীর্ঘমেয়াদি সামরিক আধুনিকায়ন পরিকল্পনার অন্যতম প্রধান প্রকল্প হিসেবে বাস্তবায়িত হয়েছে।

 

নতুন এই সামরিক সদর দপ্তরে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও সশস্ত্র বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড ছাড়াও রয়েছে অত্যাধুনিক কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সেন্টার, তথ্য বিশ্লেষণ ইউনিট, কৌশলগত যোগাযোগ ব্যবস্থা, সংকট ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র, আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও উন্নত প্রযুক্তিনির্ভর সামরিক পরিচালনা অবকাঠামো।

 

শুধু সামরিক কমান্ড নয়, এই বিশাল কমপ্লেক্সকে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রশাসনিক নগরীর রূপও দেওয়া হয়েছে। কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য নির্মাণ করা হয়েছে আবাসিক এলাকা, হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হোটেল, শপিং সেন্টার, বিনোদন ও বিভিন্ন সেবামূলক স্থাপনা। ফলে এটি একাধারে সামরিক, প্রশাসনিক ও লজিস্টিক ব্যবস্থাপনার সমন্বিত কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠেছে।

 

মিশর সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, ‘অক্টাগন’ প্রকল্পের মাধ্যমে সশস্ত্র বাহিনীর কৌশলগত সক্ষমতা বৃদ্ধি, বিভিন্ন নিরাপত্তা সংস্থার মধ্যে সমন্বয় জোরদার এবং প্রযুক্তিনির্ভর কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠাই মূল উদ্দেশ্য। এর মাধ্যমে জাতীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর হবে এবং ভবিষ্যতের বহুমাত্রিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দেশটির সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।

 

ইতোমধ্যে নতুন প্রশাসনিক রাজধানীতে অধিকাংশ মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম স্থানান্তর সম্পন্ন করেছে মিশর। সেই ধারাবাহিকতায় ‘দ্য অক্টাগন’ এর উদ্বোধনকে কেবল একটি সামরিক স্থাপনার সূচনা নয়, বরং রাষ্ট্র পরিচালনা, প্রতিরক্ষা আধুনিকায়ন এবং আঞ্চলিক কৌশলগত প্রভাব বৃদ্ধির লক্ষ্যে মিশরের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকার পরিবর্তিত নিরাপত্তা বাস্তবতায় এই প্রকল্প মিশরের সামরিক ও ভূরাজনৈতিক অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করার প্রতীক হিসেবেও বিবেচিত হবে।

 

লেখক কলামিস্ট ও শিক্ষার্থী, আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়,কায়রো,মিশর

বিশ্বের বৃহত্তম সামরিক সদর দপ্তর ‘অক্টাগন’ উদ্বোধন করল মিশর

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির রাষ্ট্রীয় জানাজা শুরুর আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান। ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর সদর দপ্তর খাতাম আল-আম্বিয়ার দায়িত্বপ্রাপ্ত কমান্ডার আলি আবদুল্লাহ বলেছেন, জানাজা চলাকালে যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরাইল কোনো ধরনের হামলা চালালে তার ‘চরম প্রতিশোধ’ নেওয়া হবে।

 

তিনি বলেন, আমরা ইরানের শত্রুদের, বিশেষ করে আমেরিকা ও জায়নবাদীদের যে কোনো ভুল পদক্ষেপ থেকে বিরত থাকার সতর্কবার্তা দিচ্ছি। দেশের বিরুদ্ধে হামলা বা আগ্রাসনের কঠোর জবাব দিতে আমাদের সশস্ত্র বাহিনী পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে।

 

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরু করলে ওই দিনই নিহত হন আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। চার মাসেরও বেশি সময় তার লাশ সংরক্ষণের পর রোববার ভোর থেকে রাজধানী তেহরানে রাষ্ট্রীয় জানাজা শুরু হচ্ছে। এতে ভারতসহ বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রনেতা ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

 

খামেনিকে আগামী ৯ জুলাই তার নিজ শহর মাশহাদে দাফন করা হবে। তেহরানসহ মোট পাঁচটি শহরে জানাজা বিভিন্ন আনুষ্ঠানিকতা অনুষ্ঠিত হবে। এসব অনুষ্ঠানে দেড় কোটিরও বেশি মানুষের উপস্থিতি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিপুল এই জনসমাগমকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য মার্কিন বা ইসরাইলি হামলার আশঙ্কাও উড়িয়ে দিচ্ছে না তেহরান।

যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে খামেনির ছেলে মোজতবা খামেনিকে সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে বেছে নেওয়া হলেও তিনি মার্কিন হামলায় গুরুতর আহত হন। নিরাপত্তাজনিত কারণে তিনি বাবার জানাজায় সরাসরি অংশ নেবেন না বলে বৃহস্পতিবার জানিয়েছে ইরান।

 

কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, খামেনির শেষকৃত্যকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী অবস্থান জোরালোভাবে তুলে ধরার কৌশল হিসেবে ব্যবহার করছে তেহরান। বিশেষ করে মাশহাদে দাফনের অনুষ্ঠানকে ঘিরে হামলার আশঙ্কার কথাও তারা উল্লেখ করছেন।

 

এদিকে শেষকৃত্যের সময় নির্বাচন নিয়েও নানা আলোচনা চলছে। কারণ, তেহরানে খামেনির জানাজা শুরু হওয়ার সময়ই যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বে দেশটির ২৫০তম স্বাধীনতা দিবসের (সেমিকুইনসেন্টেনিয়াল) আনুষ্ঠানিকতা পালিত হবে। পর্যবেক্ষকদের মতে, পাঁচ দিনব্যাপী বিশাল আয়োজনের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের দৃষ্টি আকর্ষণ করে ওয়াশিংটনের সমান্তরালে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরার চেষ্টা করছে তেহরান। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের নেতৃত্বে এই বৃহৎ আয়োজনকে ঘিরে ইতোমধ্যে নানা রাজনৈতিক জল্পনাও তৈরি হয়েছে।

 

খামেনির জানাজায় হামলা হলে চরম প্রতিশোধ, হুঁশিয়ারি তেহরানের

ইরানের মাশহাদ শহরের ইমাম রেজার মাজারের একটি লাল পতাকা নিহত সুপ্রিম লিডার আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির কফিনের ওপর রাখা হয়েছে। শোক ও বিদায় আয়োজনের অংশ হিসেবে এই প্রতীকী পদক্ষেপ নেওয়া হয়। খবর আল-জাজিরার।

 

আগামী ৯ জুলাই আলী খামেনিকে ওই মাজারে সমাহিত করা হবে। যুদ্ধের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলি হামলায় তিনি নিহত হওয়ার পর এই তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।

 

জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যপ্রাচ্য ও ইসলামিক রাজনীতির সহযোগী অধ্যাপক নাদের হাশেমি বলেন, এই লাল পতাকা শিয়া ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব হুসাইন ইবনে আলীর আত্মত্যাগের প্রতীক। তিনি ছিলেন নবী হযরত মুহাম্মদ (স.) এর নাতি, যিনি সপ্তম শতকে কারবালার যুদ্ধে নিহত হন।

হাশেমি আরও বলেন, এই ঘটনা শিয়া মুসলমানদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় প্রতীক। ইসলামিক প্রজাতন্ত্র এটি ব্যবহার করে খামেনেইয়ের মৃত্যুকে সেই ঐতিহাসিক ঘটনার সঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টা করছে।

ইমাম রেজার মাজারের লাল পতাকা খামেনির কফিন

ভেনেজুয়েলায় শক্তিশালী ভূমিকম্পে স্ত্রী ও দুই সন্তানকে হারিয়েছেন আর্জেন্টাইন ফুটবলার লুকাস ত্রেহো । ৭৪ ঘণ্টার টানা অনুসন্ধানের পর উদ্ধারকারীরা ধ্বংসস্তূপ থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করেন। বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। খবর গালফ নিউজের।

 

৩৮ বছর বয়সী ত্রেহো বুধবার (২৪ জুন) দেশটিতে আঘাত হানা জোড়া ভূমিকম্পে প্লায়া গ্রান্দেতে তাদের অবস্থানরত অ্যাপার্টমেন্ট ভবন ধসে পড়ার পর থেকে স্ত্রী ইয়ানিনা মারানেল্লা এবং দুই সন্তান অ্যারন ও আইনহোয়ার খোঁজে মরিয়া হয়ে অনুসন্ধান চালাচ্ছিলেন।

 

ডিফেন্ডার ত্রেহো তখন নিজের ক্লাবের হয়ে লিগ ম্যাচের প্রস্তুতির জন্য রাজধানী কারাকাসে অবস্থান করছিলেন। পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে সাহায্যের আবেদন জানান।

 

তিনি লিখেছিলেন, প্লায়া গ্রান্দেতে আমাদের ভবনটি ধসে পড়েছে। আমার পরিবারের কোনো খবর জানি না। দয়া করে তাদের জন্য প্রার্থনা করুন এবং কেউ তাদের দেখে থাকলে এই বার্তাটি শেয়ার করুন। আমি বিশ্বাস করতে চাই, তারা সেখানে ছিল না।

 

গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার (২৮ জুন) গভীর রাতে উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপ থেকে তার স্ত্রী ও দুই সন্তানের মরদেহ উদ্ধার করেন।

 

ত্রেহোর ক্লাব দেপোর্তিভো লা গুয়ারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে তাদের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে। ক্লাবটি জানায়, লুকাস ত্রেহোর স্ত্রী ইয়ানিনা মারানেল্লা এবং সন্তান অ্যারন ও আইনহোয়া ত্রেহোর মর্মান্তিক মৃত্যুতে আমরা গভীর শোক প্রকাশ করছি। তাদের আত্মার শান্তি কামনা করছি এবং লুকাস ও তার পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছি।

 

ত্রেহোর আরেকটি ক্লাব মারিতিমো দে লা গুয়ারাও সমবেদনা জানিয়ে জানায়, ৭৪ ঘণ্টার অনুসন্ধান শেষে তার পরিবারের সদস্যদের মৃত অবস্থায় পাওয়া গেছে।

 

এদিকে, আর্জেন্টাইন গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, অনুসন্ধান অভিযানে সহায়তা করতে ত্রেহোর বাবা ও ভাই ভেনেজুয়েলায় যান।

 

পরিবারের মরদেহ উদ্ধারের কয়েক ঘণ্টা আগেও ত্রেহো স্ত্রী ও সন্তানদের একটি ছবি সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করেছিলেন। তখনও তাদের জীবিত উদ্ধারের আশা ছিল। চলতি বছরের শুরুতে স্বামীর জন্মদিনে ইয়ানিনা এক বার্তায় লিখেছিলেন, পরিবার হিসেবে তোমাকে পাওয়া আমাদের জন্য আশীর্বাদ। তোমাকে পাশে পেলে সবকিছুই সহজ এবং আরও সুন্দর হয়ে ওঠে।

 

এদিকে, ৭.২ ও ৭.৫ মাত্রার বিরল জোড়া ভূমিকম্পের পর ভেনেজুয়াজুড়ে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের প্রভাব মোকাবিলায় কাজ চলছে। জাতিসংঘের অভিবাসন সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, এ দুর্যোগে প্রায় ৬৭ লাখ ৬০ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন। এখন পর্যন্ত প্রায় ১,৫০০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজদের সন্ধানে এখনও উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

ভেনেজুয়েলার ভূমিকম্পে স্ত্রী ও দুই সন্তান হারালেন আর্জেন্টাইন ফুটবলার লুকাস ত্রেহো

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

৫ দিনেও মিলেনি নিখোঁজ রাজীব খাঁ সন্ধান।

 

বিশেষ প্রতিনিধি: মামুন হাওলাদার

 

গত শুক্রবার থেকে নিখোঁজ রয়েছেন রাজীব খাঁ (২৫) নামে এই যুবক, তিনি শরণখোলা উপজেলার দক্ষিণ আমড়াগাছিয়ার বাসিন্দা রাজ্জাক খাঁ ছেলে তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায় তিনি শুক্রবার বিকেল থেকে নিখোঁজ রয়েছেন কয়েক দিন ধরে আত্মীয় স্বজনের কাছে খবরাখবর নিলাম কিন্তু কোথাও পাইনি, নিখোঁজের সময় তার সঙ্গে একটি অটোব্যান ছিল পরিবার কিস্তিতে টাকা তুলে একটা অটোব্যান কিনে দিয়েছিল বাবা মা ও স্ত্রী সন্তান নিয়ে এক সঙ্গে ছিলেন কিন্তু হঠাৎ করে নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে পরিবারের মধ্যে আহাজারি শুরু হয়ে , সন্তান হারা মা বলেছে আমার ছেলে নিখোঁজ তার সাথে যোগাযোগ নেই তিনি বেঁচে আছেন নাকি মারা গিয়েছেন তা আমি জানি না আমার কাছে টাকা নাই কিভাবে তাকে খুঁজে বের করবো থানায় গেলে তো টাকা লাগবে আপনারা একটু সাহায্য করুন… আমার কিস্তি রয়েছে কিভাবে কিস্তি টাকা দিবো… তার সঙ্গে থাকা গাড়ি ও নিখোঁজ মনে হয় কেউ আমার ছেলেকে মেরে গাড়ি নিয়ে গেছে।

৫ দিনেও মিলেনি নিখোঁজ রাজীব খাঁ সন্ধান।

নীলফামারীতে এমইপি গ্রুপের ইলেক্ট্রিয়ানদের সাথে মতবিনিময় সভা হয়েছে

স্টাফ রিপোর্টার

মাইদুল ইসলাম:

দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় ইলেকট্রিক ব্যান্ড এমইপি গ্রুপের ইলেক্ট্রিশিয়ানদের সাথে মতবিনিময় সভা হয়েছে। সোমবার

(১৯ জুলাই ২০২৬ইং) দুপুরে ১২টার দিকে স্থানীয় বাগান বাড়িতে রিসোর্টে এ মতবিনিময়ে সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে নীলফামারী অঞ্চলের দেড়শতাধিক ইলেকট্রিশিয়ান অংশগ্রহণ করেন মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কোম্পানিটির ডিভিশনাল সেলস ম্যানেজার মোঃ শফিকুল ইসলাম শিপন। সভাপতিত্ব করেন নীলফামারীর পরিবেশক জাহানুর সরকার। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সৈয়দপুর টেরিটরি সেলস ম্যানেজার মোঃ আশরাফুজ্জামান। সাথে আরও উপস্থিত ছিলেন নীলফামারীর শিক্ষা প্রকৌশলীর সহকারী প্রকৌশলী মোঃ আহসান হাবিব। নীলফামারী ইলেকট্রিশিয়ান সমিতির সভাপতি প্রোগ্রামে শুরুতেই পবিত্র কুরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে মতবিনিময় সভার আনুষ্ঠানিকতা শুরু করে। পরবর্তীতে প্রজেক্টর এর মাধ্যমে এমইপি গ্রুপের বিভিন্ন পণ্যের বৈশিষ্ট্য, মাসিক ও বার্ষিক ব্যবসায়িক পলিসি এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা উপস্থাপন করা হয়। উপস্থিত ব্যবসায়ীরা আগ্রহের সাথে উপস্থাপনা পর্যবেক্ষণ করেন। এরপর টেরিটোরি ম্যানেজার আশরাফুজ্জামানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় কোম্পানির ব্যবসায়িক নীতিমালা, পণ্যের গুণগত মান, বাজারের সম্ভাবনা এবং ব্যবসায়ী সম্প্রসারণের বিভিন্ন দিক নিয়ে অংশগ্রহণকারী ইলেকট্রিকশিয়াদের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ মতবিনিময় করেন। ভবিষ্যতেও এমইপি গ্রুপের সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্ক আরো সুদূর রাখার প্রত্যায় ব্যক্ত করেন ব্যবসায়ীরা। প্রধান অতিথি মোঃ শফিকুল ইসলাম শিপন তার বক্তব্যে বলেন,”এমইপি গ্রুপ গ্রাহকের চাহিদা ও সময়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে

উন্নতমানের পণ্য উৎপাদনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। গুণগত মান বজায় রাখা এবং ব্যবসায়ীদের

সরবানতোক সহযোগিতা প্রদানই আমাদের প্রধান অঙ্গীকার। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ইলেকট্রিক পণ্যের বাজার সম্প্রসারণ এবং ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পারস্পরিক আস্থা ও দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার লক্ষ্যে

এমইপি গ্রুপ ভবিষ্যতে ও দেশের বিভিন্ন জেলায় এ ধরনের সহযোগিতা সম্মেলনের আয়োজন অব্যাহত রাখবে বলে জানান তিনি। সর্বশেষে সেরা বিক্রেতাদের মাঝে সম্মাননা ও পুরস্কার তুলে দেন অতিথিবিন্দু পাশাপাশি অনুষ্ঠিত রাফেল ড্র এর বিজয়ীদের পুরস্কৃত করা হয়।

নীলফামারীতে এমইপি গ্রুপের ইলেক্ট্রিয়ানদের সাথে মতবিনিময় সভা হয়েছে

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে ৫০ পিস ইয়াবা সহ ৬ জন মাদকসেবিকে আটক করেছে ডিবি পুলিশ

 

শাহ্ পারভেজ সংগ্রাম, গাইবান্ধা প্রতিনিধি

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার নাকাইহাট বাজার এলাকায় জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের অভিযানে ছয়জনকে আটক করা হয়েছে। এ সময় ৫০ পিস ইয়াবাসহ মাদক সেবনের বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

 

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শনিবার সকালে নাকাইহাট বাজার সংলগ্ন কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের একটি পরিত্যক্ত গোডাউনের অফিস কক্ষে অভিযান চালায় ডিবি পুলিশের একটি দল। অভিযানের সময় ঘটনাস্থল থেকে ছয়জনকে আটক করা হয়। তবে তাদের একজন সহযোগী জানালা দিয়ে পালিয়ে যেতে সক্ষম হন।

 

অভিযানে উদ্ধার করা আলামতের মধ্যে রয়েছে ৫০ পিস ইয়াবা, ইয়াবা সেবনের ১০টি ফয়েল পেপার, ৬টি পাইপ এবং ৬টি প্লাস্টিকের কর্ক। পরে আইনানুগ প্রক্রিয়ায় এসব আলামত জব্দ করা হয়।

 

এ ঘটনায় আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে গোবিন্দগঞ্জ থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, পলাতক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে এবং ঘটনার পর এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে ৫০ পিস ইয়াবা সহ ৬ জন মাদকসেবিকে আটক করেছে ডিবি পুলিশ 

গাইবান্ধার খোলাহাটিতে মাদক, জুয়া ও বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

 

শাহ্ পারভেজ সংগ্রাম,গাইবান্ধা প্রতিনিধি

গাইবান্ধা সদর উপজেলার খোলাহাটী ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে মাদক, জুয়া ও বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ বিষয়ক এক বিশেষ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (২০জুলাই) বিকেলে ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে আয়োজিত এই সভায় খোলাহাটী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাসুম হক্কানীর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন,সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সবুজ কুমার বসাক।বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক রফিকুল ইসলাম ও গাইবান্ধা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন।

 

সভায় বক্তারা সমাজ থেকে মাদক, জুয়া এবং বাল্যবিবাহের মতো সামাজিক ব্যাধি দূর করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। তরুণ প্রজন্মকে মাদকের হাত থেকে রক্ষা করতে এবং আইনি পদক্ষেপের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর জোর দেওয়া হয়।

 

অনুষ্ঠানে খোলাহাটী ইউনিয়নের বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, স্থানীয় ইউপি সদস্য এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

গাইবান্ধার খোলাহাটিতে মাদক, জুয়া ও বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

তিনটি নিষ্পাপ সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে বাঁচতে চান শাহানা আক্তার সাথী

 

“আমি মরতে চাই না… আমার তিনটি সন্তান এখনও খুব ছোট। ওদের জন্য আমাকে বাঁচতেই হবে…”

এই আর্তনাদ আজ ক্যান্সারে আক্রান্ত শাহানা আক্তার সাথীর।

 

তিনি নর্দান ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যান্ড টেকনোলজির একজন শিক্ষার্থী। অথচ জীবনের সবচেয়ে সুন্দর সময়টাতেই তিনি লড়ছেন ফোর স্টেজ ক্যান্সারের মতো ভয়াবহ রোগের বিরুদ্ধে।

একজন মায়ের সবচেয়ে বড় পরিচয় তার সন্তান। শাহানা আক্তার সাথীরও রয়েছে তিনটি ফুটফুটে সন্তান। প্রতিদিন তারা মায়ের মুখের দিকে তাকিয়ে থাকে, আশা করে মা আবার সুস্থ হয়ে তাদের বুকে জড়িয়ে নেবেন। কিন্তু নির্মম বাস্তবতা হলো, জীবন বাঁচানোর এই লড়াইয়ে চিকিৎসার ব্যয় বহন করতে গিয়ে পরিবার আজ অসহায়।

 

ক্যান্সারের সঙ্গে যুদ্ধ শুধু একজন মানুষের নয়, এটি একটি পরিবারের যুদ্ধ। আর এই যুদ্ধে আজ শাহানা একা নন, যদি আমরা সবাই তার পাশে দাঁড়াই।

হয়তো আপনার এক কাপ চায়ের দাম, একটি দিনের ছোট্ট খরচ, অথবা সামান্য কিছু অর্থ একজন মায়ের চিকিৎসার জন্য আশার আলো হয়ে উঠতে পারে। আপনার সহযোগিতায় তিনটি নিষ্পাপ শিশু তাদের মাকে ফিরে পেতে পারে।

 

আসুন, মানবতার ডাকে সাড়া দিই। যে যার সামর্থ্য অনুযায়ী সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিই। সাহায্য করতে না পারলেও অন্তত এই আবেদনটি শেয়ার করুন, যেন আরও অনেক হৃদয়বান মানুষের কাছে পৌঁছে যায়।

সহায়তা পাঠানোর বিকাশ (পার্সোনাল): 01734-830142

 

একজন মাকে বাঁচানো মানে শুধু একটি জীবন বাঁচানো নয়, তিনটি শিশুর ভবিষ্যৎ, স্বপ্ন আর আশ্রয়কে বাঁচিয়ে রাখা।

আসুন, শাহানা আক্তার সাথীর পাশে দাঁড়াই। কারণ মানবতাই মানুষের সবচেয়ে বড় পরিচয়।

 

সাদিয়া আফরিন, গণ টেলিভিশন, খুলনা।

তিনটি নিষ্পাপ সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে বাঁচতে চান শাহানা আক্তার সাথী

ভারতের পার্লামেন্ট অভিমুখে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) পদযাত্রাকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে রাজধানী নয়াদিল্লি।

 

সোমবার (২০ জুলাই) পুলিশের অনুমতি না থাকা সত্ত্বেও সেখানে জড়ো হয় ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলনকারীরা।

 

এ সময় আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে নিরাপত্তা বাহিনী কাঁদানে গ্যাসের শেল ব্যবহার করেছে। একই সঙ্গে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেন্ট্রাল দিল্লির কিছু অংশে মোবাইল ইন্টারনেটও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

 

মেডিকেল কলেজগুলোর জাতীয় প্রবেশিকা পরীক্ষা—নিটটের কথিত অনিয়মের বিরুদ্ধে এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে এই ‘চলো সংসদ’ পদযাত্রার ডাক দেওয়া হয়। যন্তর-মন্তর বিক্ষোভস্থলে জড়ো হওয়া প্রধানত তরুণদের এই জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ লাঠি ও ডান্ডাও ব্যবহার করেছে। পার্লামেন্টের দিকে অগ্রসর হওয়ার সময় বিক্ষোভকারীরা ব্যারিকেড ভেঙে ফেলার চেষ্টা করলে কিছু আন্দোলনকারী এবং পুলিশ সদস্য সামান্য আহত হয়েছেন।

 

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সিজেপি তার সমর্থকদের ‘শান্ত থাকার’ আহ্বান জানিয়েছে। দলটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এমনকি আপনাদের যদি নির্দিষ্ট কিছু জায়গায় আটকে দেওয়া হয়, তবুও শান্ত থাকুন এবং শান্তি বজায় রাখুন। আমরা কেবল শান্তি ও ভালোবাসা দিয়ে এতে জয়ী হব।

 

পুলিশ রোববার এই আন্দোলনের অনুমতি দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল এবং বড় ধরনের জমায়েত নিষিদ্ধ করেছিল। তারা সতর্কও করেছিল, এই নিষেধাজ্ঞা অমান্যকারী যে কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

 

এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে পুলিশ জানায়, পূর্বানুমতিসহ যন্তর-মন্তরের নির্ধারিত বিক্ষোভস্থল ছাড়া অন্য কোথাও প্রতিবাদ পদযাত্রা, মিছিল, বিক্ষোভ এবং পাঁচ বা ততোধিক ব্যক্তির সমাবেশ কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। দিল্লি পুলিশ সকল নাগরিককে আইনকে শ্রদ্ধা করার, যে কোনো অননুমোদিত সমাবেশ বা মিছিলে অংশগ্রহণ করা থেকে বিরত থাকার এবং জনশান্তি, নিরাপত্তা ও সুরক্ষা বজায় রাখতে সহযোগিতা করার আহ্বান জানাচ্ছে।

 

দিল্লি মেট্রো স্টেশনগুলোতে বিশৃঙ্খলা

 

নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত দিল্লির পাঁচটি মেট্রো স্টেশন বন্ধ ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ। স্টেশনগুলো হলো—রাজীব চক, জনপথ, প্যাটেল চক, কেন্দ্রীয় সচিবালয় এবং সেবা তীর্থ।

এগুলো বন্ধ করে দেওয়ার পর বেশ কয়েকটি মেট্রো স্টেশনে তীব্র বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। এর ফলে শত শত যাত্রী আটকা পড়েন অথবা তাদের গন্তব্যে পৌঁছানোর জন্য দীর্ঘ পথ ব্যবহারে বাধ্য হন। দিল্লির অন্যতম ব্যস্ত ইন্টারচেঞ্জ মেট্রো স্টেশন রাজীব চকে যাত্রীদের বন্ধ প্রবেশ ও বাহির পথের গেটগুলোর কাছে ভিড় করতে দেখা গেছে।

 

সিজেপির বিক্ষোভ

 

ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের ‘পরজীবী’ এবং ‘তেলাপোকা’ মন্তব্যকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া বিতর্কের পর গত মে মাসে অভিজিৎ দিপকে একটি ব্যঙ্গাত্মক ডিজিটাল সংগঠন হিসেবে ককরোচ জনতা পার্টি চালু করেছিলেন। মাত্র কয়েক দিনের মধ্যে এটি ইন্টারনেট দুনিয়ায় ঝড় তোলে এবং বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে লাখ লাখ অনুসারী অর্জন করে। এটি বিভিন্ন বিরোধী রাজনৈতিক নেতা, অধিকারকর্মী, শিল্পী এবং ক্রীড়াবিদদের সমর্থনও আকর্ষণ করে।

 

৩০ বছর বয়সি দিপকে, যিনি গত দুই বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছিলেন, তিনি প্রশ্নপত্র ফাঁসসহ প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষাগুলোতে কথিত অনিয়মের পর শিক্ষা খাতে সংস্কারের দাবিতে দিল্লির বিক্ষোভের নেতৃত্ব দিতে জুনে ভারতে ফিরে আসেন। পরে তার সঙ্গে যোগ দেন অধিকারকর্মী সোনম ওয়াংচুক, যিনি গত ২৮ জুন যন্তর-মন্তরে আমরণ অনশনে বসেন।

 

তবে ৫৯ বছর বয়সি ওয়াংচুককে তার স্বাস্থ্যগত অবস্থার কথা উল্লেখ করে গত শনিবার পুলিশ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সোমবার (২০ জুলাই) হাসপাতাল থেকে দেওয়া এক হাতে লেখা নোটে ওয়াংচুক বলেন, সরকার যদি শিক্ষা ব্যবস্থায় কথিত প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং অন্যান্য ব্যর্থতার দায় স্বীকার করে অথবা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের এমপি ও নেতারা যদি তাকে আশ্বাস দেন যে তারা পার্লামেন্টে এই বিষয়টি উত্থাপন করবেন, তবেই কেবল তার অনশন ভাঙবে।

রণক্ষেত্র দিল্লি, বন্ধ ইন্টারনেট

লাঠি, কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করেও ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) সংসদ অভিযান থামাতে পারেনি দিল্লি পুলিশ। পুলিশের বাধা কাটিয়েই সোমবার দুপুরে সংসদ ভবনের কাছে পৌঁছে যান বিক্ষোভকারীরা।

 

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, বিক্ষোভকারীদের মিছিল এগিয়ে আসতেই নিরাপত্তার কারণে সংসদের প্রধান ফটক বন্ধ করে দেওয়া হয়।

 

খবরে বলা হয়, সোমবার থেকেই সংসদের বাদল অধিবেশন শুরু হয়েছে। সংসদ ভবনে প্রধানমন্ত্রী, কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা সদস্যরাসহ বিভিন্ন দলের সংসদ সদস্যরা উপস্থিত রয়েছেন।

 

এই পরিস্থিতিতে সিজেপির সংসদ অভিযান নিয়ে আগে থেকেই সতর্ক ছিল দিল্লি পুলিশ। সংসদ ভবনের দিকে যাওয়ার পথে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে শ্রমশক্তি ভবনের কাছে লাঠিচার্জ করে পুলিশ। কাঁদানে গ্যাসের শেলও ছোড়া হয়। তার পরেও অবশ্য বিক্ষোভকারীদের একাংশ সংসদ ভবনের দিকে এগোতে থাকেন।

 

বেশ কয়েক জন বিক্ষোভকারীকে আটক করে পুলিশ। তাদের বাসে উঠিয়ে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। সিজেপি নেতাদের অভিযোগ, শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে দমনমূলক আচরণ করেছে পুলিশ।

 

সোমবার (২০ জুলাই) ভারতের পার্লামেন্টের বর্ষাকালীন অধিবেশন শুরুর দিনে লং মার্চের উদ্দেশ্যে যন্তর মন্তরে হাজার হাজার শিক্ষার্থী ও অ্যাক্টিভিস্ট একত্রিত হন। আন্দোলনকারীদের পদযাত্রা রুখতে পুরো এলাকা ব্যারিকেড দিয়ে ঘিরে ফেলে দিল্লি পুলিশ। মোতায়েন করা হয় শত শত নিরাপত্তা কর্মী।

 

সকালে সেন্ট্রাল দিল্লির বিক্ষোভস্থল থেকে মিছিল নিয়ে তারা পার্লামেন্টের দিকে এগোতে চাইলে পুলিশ বাধা দেয়। বেশকিছু স্থানে বসানো নিরাপত্তা ব্যারিকেড ভেঙে ফেলার চেষ্টা করলে পুলিশের সঙ্গে তীব্র ধস্তাধস্তি শুরু হয়। এতে বেশ কয়েকজন আন্দোলনকারী ও পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।

 

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্যমতে, প্রায় ২০ হাজার মানুষ (যাদের অধিকাংশই ছাত্র-যুবক) সোমবারের কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছিল।

 

এক বিবৃতিতে দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, পরিস্থিতি পেশাদারত্বের সঙ্গে সামাল দেওয়া হচ্ছে। কোনো ধরনের গুজবে কান না দেওয়ার জন্য সাধারণ মানুষকে অনুরোধ জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

 

ভারতের প্রধান বিচারপতির একটি মন্তব্যের প্রতিক্রিয়া হিসেবে গত মে মাসে ৩০ বছর বয়সি অভিজিৎ দীপকে নামে এক ব্যক্তি সিজেপি গঠন করেন, যা অতি দ্রুত সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে ওঠে এবং বিরোধী রাজনৈতিক দল, শিল্পী ও সুশীল সমাজের সমর্থন লাভ করে।

 

এর আগে গত শনিবার পুলিশ অনশনরত ৫৯ বছর বয়সি প্রখ্যাত জলবায়ু ও শিক্ষা আন্দোলনকর্মী সোনম ওয়াংচুককে অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে যন্তর মন্তর থেকে হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করায় আজ সোমবারের কর্মসূচিতে বাড়তি উত্তেজনা যোগ হয়।

বাধা পেরিয়ে সংসদ ভবনের কাছে ককরোচ পার্টির সদস্যরা, উত্তপ্ত দিল্লি

দেশের প্রকৃত উপকারভোগীদের কাছে ফ্যামিলি কার্ডের সুবিধা কার্যকর, স্বচ্ছ ও নির্ভুলভাবে পৌঁছে দিতে একটি নির্ভুল ও গ্রহণযোগ্য তথ্যভান্ডার গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

 

সোমবার (২০ জুলাই) প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে সারাদেশে পর্যায়ক্রমে ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম সম্প্রসারণের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন কৌশল নিয়ে বৈঠকে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।

 

বৈঠকে, কর্মসূচির অগ্রগতি এবং দেশব্যাপী সম্প্রসারণের রূপরেখা নিয়ে আলোচনা হয়। এছাড়া, ধাপে ধাপে সারাদেশে ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম বিস্তারের লক্ষ্যে বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা গ্রহণ, আধুনিক প্রযুক্তির সর্বোত্তম ব্যবহার এবং সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয় ও সংস্থার মধ্যে কার্যকর সমন্বয় নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী।

 

এছাড়া তথ্য সংগ্রহ, যাচাই-বাছাই এবং উপকারভোগী নির্বাচন প্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতেও সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেন তিনি।

ফ্যামিলি কার্ডের সুবিধা নিশ্চিতে নির্ভুল তথ্যভাণ্ডার গড়ার ওপর গুরুত্বারোপ প্রধানমন্ত্রীর

চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার গোয়ালপাড়া গ্রামের স্কুলছাত্রী মরিয়মকে (১০) ধর্ষণ ও হত্যার দায়ে অভিযুক্ত একমাত্র আসামি আবুল হোসেন ওরফে ফটিককে মৃত্যুদণ্ড এবং ২ লাখ টাকা জরিমানা করেছেন আদালত।

 

সোমবার (২০ জুলাই) শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনাল চুয়াডাঙ্গার বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) মো. মোক্তাগীর আলম আসামির উপস্থিতিতে এই রায় ঘোষণা করেন।

 

আসামি আবুল হোসেনের বাড়ি পার্শ্ববর্তী গয়েশপুর গ্রামে। আদালতে তিনি ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। আদালত ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালের ২১ ডিসেম্বর গোয়ালপাড়া গ্রামের মরিয়ম খাতুন কয়েকজন শিশুকে সাথে নিয়ে মাঠে শাক তুলতে যায়। এ সময় শাক তুলে দেওয়ার কথা বলে আসামী মরিয়মকে একটি ভুট্টাখেতের ভেতর নিয়ে যায় এবং ধর্ষণ শেষে হত্যা করে।

 

এ ঘটনায় তদন্ত শেষে পুলিশ অভিযুক্ত আবুল হোসেনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

 

চুয়াডাঙ্গার নারী ও শিশু আদালতের পিপি এমএম শাহজাহান মুকুল জানান, ‘৩১জন স্বাক্ষীর স্বাক্ষ্যগ্রহণ শেষে এই রায় ঘোষণা করেন আদালত।’ আদালতের রায়ে বাদী ও রাষ্ট্রপক্ষ সন্তষ্টি প্রকাশ করেন। এমন বিচার অব্যাহত থাকলে দেশে ধর্ষণ হত্যা নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ ও হত্যা মামলার আসামির মৃত্যুদণ্ড

নোয়ালীর সেনবাগে বন্ধুদের সঙ্গে বাইরে গিয়ে ফুটবল খেলা দেখা ও দেরিতে বাড়ি ফেরাকে কেন্দ্র করে স্ত্রীর সঙ্গে ঝগড়ার পর মো. আলাউদ্দিন ওরফে রায়হান (২৭) নামে এক যুবক আত্মহত্যা করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। আজ সোমবার ভোরে উপজেলার কেশারপাড় গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। রায়হান ওই বাড়ির কুয়েতপ্রবাসী আব্দুল বারেকের ছেলে।

 

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রায়হান সৌদি আরবপ্রবাসী ছিলেন। প্রায় এক বছর আগে দেশে ফেরেন তিনি। পাঁচ-ছয় মাস আগে বিয়ে করেন। রোববার দিবাগত রাতে স্থানীয় কানকিরহাট বাজারে বন্ধুদের সঙ্গে আর্জেন্টিনা-স্পেনের বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা দেখতে যান। খেলা শেষে ভোররাতে বাড়ি ফেরেন তিনি।

 

বাইরে গিয়ে খেলা দেখা ও দেরিতে বাড়ি ফেরাকে কেন্দ্র করে স্ত্রী মারজাহান আক্তার মমতাজের (১৮) সঙ্গে তার ঝগড়া হয়। একপর্যায়ে সোমবার সকালে স্ত্রী বাবার বাড়িতে চলে যাওয়ার কথা বলে ঘর থেকে বেরিয়ে যান। তখন রায়হান স্ত্রীকে আত্মহত্যার হুমকি দেন। ঘর থেকে বের হয়ে কিছু দূর যাওয়ার পর স্ত্রী আবার ফিরে আসেন এবং স্বামী রায়হানকে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। খবর পেয়ে দুপুর ১২টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।

 

সেনবাগ থানার ওসি আবদুর রহিম সরকার বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে।

 

বেগমগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এ এন এম ইমরান খান বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পারিবারিক কলহের জেরে রায়হান আত্মহত্যা করেছেন। বিষয়টি নিয়ে পুলিশ তদন্ত করছে।

বন্ধুদের নিয়ে বাইরে ফুটবল খেলা দেখা নিয়ে স্ত্রীর সঙ্গে ঝগড়া, যুবকের আত্মহত্যা

র‌্যাবের চৌকস অভিযানে জীপসহ প্রায় ১১ হাজার ইয়াবার চালান আটক

জামালপুর হামলা পাল্টা হামলার মধ্য দিয়ে জেলার সানন্দবাড়ী তে থমথমে অবস্থা বিরাজমান।

পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের ও আদালতে মিথ্যা হলফনামা দেয়ার অভিযোগে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কেবিন ক্রু খাদিজা সুলতানা শিমুর বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

 

বুধবার (১৫ জুলাই) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২-এর বিচারক মো. জাকির হোসাইন এ আদেশ দেন। আদালতের আদেশে বলা হয়েছে, শিমুর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর ১৩ ধারা এবং দণ্ডবিধির ১৮১, ১৮২ ও ১৯৩ ধারায় মামলা করা হবে। আদালত নিজেই এ মামলার বাদী হয়েছেন।

 

আদালতের নথি অনুযায়ী, খাদিজা সুলতানা শিমু মামলার বাদী হয়ে বেসরকারি একটি এয়ারলাইন্সের কর্মকর্তা মো. ওমর ফারুক চৌধুরীর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনের বিভিন্ন ধারায় উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলা করেন।

 

তদন্ত শেষে উত্তরা পশ্চিম থানার তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে জানান, অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি। প্রতিবেদনে বলা হয়, মামলার এজাহারে উল্লেখ করা ফেসবুক লিংক, ডিজিটাল আলামত ও অন্যান্য তথ্য যাচাই করে ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি প্রচারের কোনো প্রমাণ মেলেনি। ফলে ওই কর্মকর্তাকে মামলা থেকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়।

একই সঙ্গে তদন্ত কর্মকর্তা প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, ওমর ফারুক আগে শিমুর বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন দিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে আদালতে মামলা করেছিলেন। সেই মামলার দায় এড়াতেই শিমু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত বিভিন্ন লিংক উল্লেখ করে তার বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি ছড়ানোর অভিযোগ এনে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, হয়রানিমূলক ও মিথ্যা মামলা করেছেন বলে প্রাথমিক তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে। এ কারণে শিমুর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর ১৩ ধারায় আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার আবেদনও করেন তদন্ত কর্মকর্তা।

 

পরে গত ৯ জুলাই আদালত তদন্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করে ওমর ফারুককে মামলা থেকে অব্যাহতি দেন। আদালতের আদেশে বলা হয়, শিমু ক্ষতিসাধনের উদ্দেশ্যে আদালতে মিথ্যা মামলা দায়ের করেছেন এবং হলফ করে মিথ্যা সাক্ষ্য দিয়েছেন। মামলার নথিতে তার দেয়া হলফনামাও সংযুক্ত রয়েছে। এসব বিবেচনায় আদালত নিজেই বাদী হয়ে তার বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন ও দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়েরের নির্দেশ দেন।

 

তদন্তে যা উঠে এসেছে পুলিশের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, তদন্তকালে রেকর্ড, ডিজিটাল আলামত, ফেসবুক লিংক ও ফরেনসিক তথ্য যাচাই করে ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি প্রচারের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

 

তদন্তে আরও উঠে আসে, শিমু বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কেবিন ক্রু এবং ওমর ফারুক একটি বেসরকারি এয়ারলাইন্সের এয়ারক্রাফট মেইনটেন্যান্স কর্মকর্তা। ফেসবুকে পরিচয়ের পর তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

 

প্রতিবেদনে বলা হয়, বিয়ের আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন সময়ে ওমর ফারুকের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী নেয়ার অভিযোগে ওমর ফারুক আদালতে পৃথক মামলা করেন। এরপর সেই মামলার দায় থেকে নিজেকে রক্ষা করতেই শিমু পর্নোগ্রাফি আইনে অভিযোগ দায়ের করেন বলে তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে।

 

ওমর ফারুকের আগের মামলা গত ২০ জুলাই ওমর ফারুক চৌধুরী শিমুর বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন, ‘হানি ট্র্যাপ’ ও ব্ল্যাকমেইলের মাধ্যমে প্রায় ২২ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ঢাকার আদালতে মামলা করেন। আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে উত্তরা পশ্চিম থানাকে তদন্তের নির্দেশ দেন। পরে তিনি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষের কাছেও লিখিত অভিযোগ করেন।

 

সেই মামলায় অভিযোগ করা হয়, ২০২৪ সালে ফেসবুকে পরিচয়ের পর শিমু তাকে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন সময়ে টাকা নেন। জন্মদিনে দেড় লাখ টাকা মূল্যের একটি হীরার আংটিসহ বিয়ের খরচের জন্য মোট ২১ লাখ ৭৪ হাজার ৫১১ টাকা নেয়ার পরও বিয়ে না করে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে মামলায় দাবি করা হয়।

পর্নোগ্রাফি আইনে কেবিন ক্রু শিমুর বিরুদ্ধে মামলার নির্দেশ আদালতের

error: আপনি নিউজ চুরি করার চেষ্টা করছেন। বিশেষ প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন ০১৭৬৭৪৪৪৩৩৩
%d