বিমানবন্দরে হাজিদের ১৫০ লাগেজ কেটে মালামাল চুরির বিষয়টি অসত্য: বিমান প্রতিমন্ত্রী - Gono television | বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল।
বিমানবন্দরে হাজিদের ১৫০ লাগেজ কেটে মালামাল চুরির বিষয়টি অসত্য: বিমান প্রতিমন্ত্রী

বিমানবন্দরে হাজিদের ১৫০ লাগেজ কেটে মালামাল চুরির বিষয়টি অসত্য: বিমান প্রতিমন্ত্রী

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া দেশে ফেরা হাজিদের ১৫০টি লাগেজ কেটে মালামাল চুরির অভিযোগ সম্পূর্ণ অসত্য বলে দাবি করেছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।

 

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) সকালে সচিবালয়ের তথ্য অধিদফতরের সম্মেলন কক্ষে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সমসাময়িক ইস্যুতে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে তিনি এ দাবি করেন।

 

প্রতিমন্ত্রী বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর তাৎক্ষণিক তদন্তে বিমানবন্দরের সিসিটিভি ও বডি অন ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনা করে কোনো ধরনের মিসহ্যান্ডলিংয়ের প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

 

বিমান প্রতিমন্ত্রী বলেন, গত পরশুদিন রাতের বেলা হাজীরা ফিরেছে। যাদের লাগেজগুলি কাটা হয়েছে এবং ১৫০টি লাগেজ থেকে মালামাল চুরি হয়েছে, এ সংক্রান্ত বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করা হয়েছে এবং প্রধানমন্ত্রীকে ট্যাগ করে। প্রধানমন্ত্রী এ ব্যাপারে আমাদের সঙ্গে সঙ্গে নির্দেশনা প্রদান করেন।

 

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, প্রায়শই এরকম সোশ্যাল মিডিয়ায় আমাদেরকে বিভিন্নভাবে বিভ্রান্ত করা হয়, যেটা আপনাদের সহযোগিতায় আমরা তার সত্যতা যাচাই করে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদটি পরিবেশন আপনাদের মাধ্যমেই করতে পারি। এবং তাতে করে বিভ্রান্তি নিরসন হয়। সেই প্রেক্ষিতে আমরা একটা বিবৃতি আপনাদেরকে দিতে চাই, সেই ঘটনার প্রেক্ষিতে।

 

প্রতিমন্ত্রী জানান, অভিযোগ ছড়িয়ে পড়ার পরই বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ ও বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সকে অভ্যন্তরীণ তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়। পরে সিসিটিভি ও বডি অন ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনা করে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই একটি প্রতিবেদন দেওয়া হয়।

 

তিনি বলেন, তদন্তে দেখা গেছে মোট ৮৩৬টি লাগেজের মধ্যে ২১টি ব্যাগ ছেঁড়া বা কাটা অবস্থায় পাওয়া গেছে। তবে এটি কোনো চুরি বা ইচ্ছাকৃত মিসহ্যান্ডলিংয়ের কারণে ঘটেছে এমন প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

 

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, নিয়ম অনুযায়ী কোনো হাজী বা যাত্রী মূল চেকিং লাগেজের ভেতরে কোনো অবস্থাতেই জমজমের পানি বা যথাযথ সিলগালা না করে লিকুইড প্রসাধন সামগ্রী বহন করতে পারবেন না। এটা একটা নিয়ম। লাগেজ স্ক্যানিংয়ের সময় ধরা পড়লে নিয়ম অনুযায়ী বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ লাগেজ কেটে বা খুলে তা বাজেয়াপ্ত করে থাকে। আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী ডিক্লারেশন ব্যতীত নগদ টাকা বা মানিব্যাগ বুকিং লাগেজে দেওয়া নিষিদ্ধ। ঢাকা বিমানবন্দরে সিসিটিভি ফুটেজ পর্যবেক্ষণ করে কোনো ধরনের মিসহ্যান্ডলিংয়ের প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

 

তিনি দাবি করেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া তথ্যটি বিভ্রান্তিকর এবং জনমনে ভুল ধারণা তৈরি করেছে। সরকার এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থা বিষয়টি দ্রুত যাচাই করে সঠিক তথ্য প্রকাশ করেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

 

এ ঘটনায় বিমানবন্দর ব্যবস্থাপনায় কোনো অনিয়ম বা চুরির প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে তিনি পুনরায় জোর দিয়ে জানান।


রাজধানীর পল্লবীতে বহুল আলোচিত শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা মামলার রায় ঘোষণার জন্য আগামী রোববরা (৭ জুন) ধার্য করেছেন আদালত। মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের পক্ষ থেকে আসামীদের মৃত্যুদণ্ড চাওয়া হয়েছে।

 

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালত রায় ঘোষণার এ দিন ধার্য় করেন। এর আগে সকালে আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুনকে আদালতে হাজির করা হয়।

 

মামলায় রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামি পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে রায়ের দিন ধার্য করেন আদালত। এর আগে গত সোমবার (১ জুন) আদালত আসামি সোহেল ও তার স্ত্রী স্বপ্নার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন। গতকাল আত্মপক্ষ সমর্থন শুনানিতে আসামিরা নিজেরদের নির্দোষ দাবি করেন। মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে মোট ১৭ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে।

 

গত ২৪ মে ট্রাইব্যুনাল দুই আসামির বিরুদ্ধে দাখিল করা অভিযোগপত্র আমলে নেয়। এর আগে একই দিনে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আশরাফুল হকের আদালতে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক অহিদুজ্জামান অভিযোগপত্র জমা দেন। পরে মামলাটি বিচারের জন্য ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়।

 

মামলার সূত্রে জানা যায়, রামিসা পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল। গত ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ঘর থেকে বের হলে স্বপ্না তাকে কৌশলে রুমের ভেতরে নেয়। ওইদিন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রামিসাকে স্কুলে যাওয়ার জন্য খোঁজাখুঁজি করতে থাকেন তার মা। একপর্যায়ে আসামির রুমের সামনে শিশুটির জুতা দেখতে পান তিনি।

 

ডাকাডাকির পর কোনও সাড়াশব্দ না পেয়ে রামিসার বাবা-মা এবং অন্যান্য ফ্ল্যাটের লোকজন দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে আসামির শয়নকক্ষের মেঝেতে রামিসার মস্তকবিহীন মরদেহ এবং মাথা রুমের ভেতরে একটি বড় বালতির মধ্যে দেখতে পান। জাতীয় জরুরী সেবা ৯৯৯ এর মাধ্যমে কল পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে স্বপ্নাকে হেফাজতে নেয়। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়নগঞ্জ জেলার ফতুল্লা থানার সামনে থেকে সোহেল রানাকে গ্রেপ্তারে সক্ষম হয় পুলিশ।

রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলার রায় রোববার

রাজধানীর মিরপুরে ৭৫ বছর বয়সী নূর জাহান বেগমের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনা সম্প্রতি দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, জীবনের শেষ সময়ে তিনি একাকিত্ব ও অবহেলার মধ্যে দিন কাটাচ্ছিলেন, যদিও তার সন্তানরা সবাই উচ্চশিক্ষিত ও প্রতিষ্ঠিত।

 

জানা গেছে, নূর জাহান বেগমের এক ছেলে সরকারের একজন যুগ্ম-সচিব, আরেক ছেলে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষক এবং তার মেয়ে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত। এমন একটি পরিবারের সদস্য হয়েও তার করুণ পরিণতি সমাজে বাবা-মায়ের প্রতি সন্তানের দায়িত্ব ও কর্তব্য নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।

 

ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে। অনেকেই প্রবীণ বাবা-মায়ের প্রতি সন্তানের নৈতিক ও আইনি দায়িত্ব পালনের বিষয়টি সামনে আনছেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে আবারও আলোচনায় এসেছে ‘পিতা-মাতার ভরণপোষণ আইন, ২০১৩’ এবং এর বাস্তব প্রয়োগের বিষয়টি।

 

কী বলছে পিতা-মাতার ভরণপোষণ আইন?

 

পিতা-মাতার ভরণপোষণ আইন, ২০১৩ অনুযায়ী, প্রত্যেক সন্তানের দায়িত্ব তার পিতা-মাতার ভরণপোষণ নিশ্চিত করা। একাধিক সন্তান থাকলে পারস্পরিক আলোচনা ও সমন্বয়ের মাধ্যমে তারা এ দায়িত্ব পালন করবে।

 

আইনে আরও বলা হয়েছে, সন্তানদের পিতা-মাতার সঙ্গে একই স্থানে বসবাস নিশ্চিত করার চেষ্টা করতে হবে। কোনো সন্তান তার পিতা বা মাতাকে, কিংবা উভয়কে, তাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে বৃদ্ধাশ্রম বা অন্য কোনো স্থানে থাকতে বাধ্য করতে পারবে না।

 

এ ছাড়া পিতা-মাতার শারীরিক সুস্থতা, নিয়মিত খোঁজখবর নেওয়া, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও পরিচর্যার দায়িত্বও সন্তানের ওপর বর্তায়।

 

যদি পিতা-মাতা সন্তানদের থেকে আলাদা বসবাস করেন, সেক্ষেত্রে সন্তানদের নিয়মিত তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে হবে এবং নিজের আয়-উপার্জনের সামর্থ্য অনুযায়ী যুক্তিসঙ্গত পরিমাণ অর্থ ভরণপোষণের জন্য প্রদান করতে হবে।

 

আইনে আরও উল্লেখ রয়েছে, পিতা-মাতার অনুপস্থিতিতে দাদা-দাদী কিংবা নানা-নানীর ভরণপোষণের দায়িত্বও সন্তানদের ওপর বর্তাবে। এ ধরনের ভরণপোষণও আইন অনুযায়ী পিতা-মাতার ভরণপোষণের সমতুল্য হিসেবে গণ্য হবে।

 

আইন অমান্য করলে কী শাস্তি?

 

আইনের বিধান অনুযায়ী, কোনো সন্তান যদি ভরণপোষণ সংক্রান্ত দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয় বা আইন লঙ্ঘন করে, তাহলে তা অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে।

 

এ অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ ১ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে। অর্থদণ্ড পরিশোধে ব্যর্থ হলে সর্বোচ্চ ৩ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া যেতে পারে।

 

এছাড়া কোনো সন্তানের স্ত্রী, স্বামী, সন্তান বা নিকটাত্মীয় যদি পিতা-মাতা, দাদা-দাদী কিংবা নানা-নানীর ভরণপোষণে বাধা সৃষ্টি করেন বা অসহযোগিতা করেন, তাহলে তাদেরও একই অপরাধে সহায়তাকারী হিসেবে গণ্য করা হবে এবং একই ধরনের শাস্তির আওতায় আনা যাবে।

 

আইন অনুযায়ী, এ ধরনের অপরাধ আমলযোগ্য, জামিনযোগ্য এবং আপোষযোগ্য হিসেবে বিবেচিত হবে।

 

নতুন করে আলোচনায় আইনটির প্রয়োগ

 

নূর জাহান বেগমের মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে আবারও প্রশ্ন উঠেছে, দেশে বিদ্যমান এই আইন কতটা কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে। অনেকেই মনে করছেন, শুধু নৈতিক দায়িত্ব নয়, আইনগত বাধ্যবাধকতার বিষয়েও সচেতনতা বাড়ানো জরুরি, যাতে কোনো প্রবীণ বাবা-মাকে জীবনের শেষ সময়ে অবহেলা ও একাকিত্বের শিকার হতে না হয়।

পিতা-মাতার ভরণপোষণ আইন-২০১৩ অবহেলা করলে ১ লাখ টাকা জরিমানা, ৩ মাস কারাদণ্ড

পাবনা সদরে প্রেমের সম্পর্কের টানাপোড়েনের জেরে রিয়া (১৫) নামের নবম শ্রেণীর এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। পরে নিহতের মরদেহ গুম করার উদ্দেশ্যে প্লাস্টিকের বস্তায় ভরে পদ্মা নদীতে ফেলে দেওয়া হয়।

 

আজ বুধবার (৩ জুন) বিকেলে পাবনা জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রেজিনুর রহমান।

 

নিহত রিয়া পাবনা সদরের ভাঁড়ারা ইউনিয়নের পূর্ব রাঘবপুর এলাকার বাসিন্দা প্রামাণিকের মেয়ে। সে স্থানীয় মাওলানা কসিম উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণীর ছাত্রী ছিল।

 

এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় প্রধান অভিযুক্তসহ তিনজনকে ইতিমধ্যে আটক করেছে পুলিশ। আটক ব্যক্তিরা হলেন- পূর্ব রাঘবপুর এলাকার মৃত কাশেম উদ্দিনের ছেলে নাইম (প্রধান অভিযুক্ত), একই এলাকার শফিক শেখের ছেলে ইয়াসিন শেখ এবং শিমুল প্রামাণিকের ছেলে তুহিন প্রামাণিক।

 

পুলিশ জানায়, আজ বুধবার সকালে পাবনা সদরের ভাঁড়ারা ইউনিয়নের পিরপুর এলাকায় পদ্মার চরে কৃষকেরা কাজ করতে যাওয়ার সময় নদীর তীরে আটকে থাকা একটি নৌকার পাশে প্লাস্টিকের বস্তা ভাসতে দেখেন। সন্দেহ হলে স্থানীয়রা বস্তাটি খুলে ওই কিশোরীর মরদেহ দেখতে পান এবং তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

 

সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রেজিনুর রহমান জানান, প্রেমের সম্পর্কের জেরে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে। মরদেহ উদ্ধারের পর দ্রুত অভিযান চালিয়ে জড়িত প্রধান অভিযুক্তসহ তিনজনকে আটক করা হয়েছে।

 

তিনি আরও জানান, এই ঘটনায় এখনো ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো মামলা দায়ের করা হয়নি। লিখিত এজাহার পাওয়ার সাথে সাথেই মামলাটি নথিভুক্ত করা হবে। ঘটনার নেপথ্যে অন্য কোনো কারণ বা আরও কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

স্কুলছাত্রী রিয়ার বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার, গ্রেপ্তার ৩

রাজধানীর বিভিন্ন থানায় দায়ের করা সাতটি মামলার মধ্যে একটিতে জামিন পেয়েছেন সাবেক মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. দীপু মনি। একই সঙ্গে বাকি ছয় মামলায় তাকে কেন জামিন দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।

 

বুধবার (০৩ জুন) বিচারপতি মো. খায়রুল আলম ও বিচারপতি শেখ আবু তাহেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

 

আদালত সূত্রে জানা গেছে, সংশ্লিষ্ট মামলাগুলোর বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের শুনানি শেষে এ আদেশ দেওয়া হয়। রুলের জবাব নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দিতে বলা হয়েছে।

 

ডা. দীপু মনি আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন। আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রী, শিক্ষামন্ত্রী এবং সমাজকল্যাণমন্ত্রীর দায়িত্বেও ছিলেন।

 

ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ১৯ আগস্ট রাতে রাজধানীর বারিধারা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

 

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, তার বিরুদ্ধে হত্যা, সহিংসতায় উসকানি, দুর্নীতি এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগসহ বিভিন্ন অভিযোগে ৩৮টির বেশি মামলা রয়েছে। এসব মামলার তদন্ত ও বিচারিক কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

এক মামলায় জামিন পেলেন দীপু মনি

যশোরের বেনাপোল বাজারে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর গাড়ীবহরে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় চারজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

 

বুধবার (০৩ জুন) দুপুর সোয়া ১টার দিকে এ হামলা চালানো হয়।

 

আহতদের মধ্যে রয়েছেন ছাত্রশক্তি নেতা খান মিফতাহুল মোস্তাফিজ অমিত, তাসকিন আহমেদ তাজিম এবং যুবশক্তি নেতা রুপম আহসান অর্নব।

 

তবে হামলার সময় গাড়িতে থাকা এনসিপির মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, যুগ্ম সদস্য সচিব ফরিদুল হকসহ দলের অন্যান্য নেতারা নিরাপদে রয়েছেন বলে জানিয়েছে দলটি।হামলার ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে কারা জড়িত ছিল এবং হামলার কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যায়নি। এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকেও কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর গাড়ীবহরে হামলার অভিযোগ

রাজধানীর বারিধারা এলাকার নয়ানগর নতুন বাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। ইউনিভার্সিটি অব ইনফরমেশন টেকনোলজি অ্যান্ড সায়েন্সেস (ইউআইটিএস) ক্যাম্পাসের সামনের অংশে আগুনের সূত্রপাত হলে মুহূর্তেই এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

 

বুধবার (৩ জুন) প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আগুন লাগার পর বাজারের ব্যবসায়ী ও স্থানীয়রা দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যান।

 

পরে খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একাধিক ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে।

 

ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা প্রায় দেড় থেকে দুই ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্ন প্রচেষ্টা চালিয়ে আগুনের তীব্রতা কমিয়ে আনতে সক্ষম হন।

 

তাদের দ্রুত ও সমন্বিত অভিযানের ফলে আগুন আশপাশের স্থাপনায় ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি অনেকটাই কমে যায়। অগ্নিকাণ্ডের কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করছে বলে জানা গেছে।

 

এ ঘটনায় স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিলেও আগুন নিয়ন্ত্রণে আসায় স্বস্তি ফিরে এসেছে এলাকায়। ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে পরবর্তী ঝুঁকি এড়াতে ঘটনাস্থল পর্যবেক্ষণ অব্যাহত রাখা হয়েছে।

রাজধানীর বারিধারায় আগুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

টাঙ্গাইলে দুই গ্রামবাসীর সংঘর্ষ, ভাঙচুর, হামলা ও ঘরবাড়িতে আগুন দেয়ার ঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষে একজন নিহত ও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে। নিহত কালাম তালুকদার (৬৫) জগৎপুরা গ্রামের হাবিবুর রহমান তালুকদারের ছেলে।

 

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার দিকে ভূঞাপুর উপজেলার জগৎপুরা ও গোপালপুর উপজেলার গোল পেঁচা এলাকায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ভূঞাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. ফাতেমা নিহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এদিকে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

 

জানা যায়, দোকানে বাকি খাওয়াকে কেন্দ্র করে গোপালপুর উপজেলার গোল পেঁচা ও ভূঞাপুর উপজেলার জগৎকুড়া গ্রামের মধ্যে গত ২২ এপ্রিল দফায় দফায় সংঘর্ষ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এরই জের ধরে বিকালে পুনরায় সংঘর্ষে জড়ায় দুটি গ্রামের লোকজন।

 

দেশীয় অস্ত্রসহকারে চলে দফায় দফায় সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা। সংঘর্ষে কালাম তালুকদারসহ অনেকেই আহত হন। পরে তাদের ভূঞাপুর হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. ফাতেমা কালামকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত অন্যান্যদের টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

 

ভূঞাপুর থানার উপ-পরিদর্শক মো.আসলাম উদ্দিন বলেন, সংঘর্ষের ঘটনায় নিহত কালামের সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করা হয়েছে। ময়না তদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হবে।

টাঙ্গাইলে দুই গ্রামবাসীর সংঘর্ষ : একাধিক বাড়ি ঘরে আগুন, একজনের মৃত্যু

নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও সিটি কর্পোরেশনের ৬নং ওয়ার্ড বিএনপির আহবায়ক ওকিল উদ্দিন ভূঁইয়ার উপর যুবদল কর্মীদের হামলার ঘটনা ঘটেছে।

 

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) দুপুরে নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের কার্যালয় প্রাঙ্গনে জেলা যুবদলের সদস্য সচিব মশিউর রহমান রনির অনুসারী যুবদল কর্মীরা এই হামলা করেন। এসময় বিএনপি নেতা ওকিল উদ্দিন ভূঁইয়াকে ব্যাপক মারধর করা হয়। সেই সঙ্গে তার পড়নে থাকা জামা কাপড় ছিঁড়ে ফেলা হয়। পরে অন্যরা এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

 

উপস্থিত বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদত বার্ষিকী উপলক্ষে নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের উদ্যোগে নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। কর্মসূচির মধ্যে ছিলো, স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচি, বৃক্ষ মেলা, বই মেলা, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা ও জিয়াউর রহমানের দুর্লভ আলোকচিত্র প্রদর্শনী।

 

আর এই কর্মসূচি উপলক্ষ্যে জেলা পরিষদে নারায়ণগঞ্জ বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা আসেন। আর এই কর্মসূচির উদ্বোধন অনুষ্ঠান চলাকালে জেলা যুবদলের সদস্য সচিব মশিউর রহমান রনি ও বিএনপি নেতা ওকিল উদ্দিন ভূঁইয়ার তর্ক বিতর্কে ঘটনা ঘটে। আর এই তর্ক বিতর্কের জের ধরে ওকিল উদ্দিন ভূঁইয়াকে কার্যালয় প্রাঙ্গনে একা পেয়ে ব্যাপক মারধর করা হয়। পরে অন্যরা এগিয়ে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

 

বিএনপি নেতা ওকিল উদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, অনুষ্ঠানের শুরুতে মশিউর রহমান রনির সাথে আমার তর্ক বিতর্ক হয়। পরে জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ সহ অন্যান্য নেতারা একত্রে বসে আমাদের মিলিয়ে দেন। এরপর আমি জেলা পরিষদের কার্যালয় প্রাঙ্গনে আসার সাথে সাথেই আমার ওপর অতর্কিতভাবে হামলা করা হয়। আমি এই ঘটনায় মামলা দায়ের করবো।

 

তবে এ বিষয়ে জেলা যুবদলের সদস্য সচিব মশিউর রহমান রনি বলেন, প্রথমে আমাদের দুইজনের মাঝে একটা ভুল বুঝাবুঝি হয়েছিলো। পরে আমরা এ বিষয়ে উভয়পক্ষ মিলে সমাধান করি। কিন্তু অতি উৎসাহী কিছু কর্মী কার্যালয় প্রাঙ্গনে গিয়ে এই ঘটনা ঘটায়। তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। যুবদল থেকে বহিস্কার করে দেয়া হয়েছে।

নারায়ণগঞ্জে বিএনপি নেতার ওপর যুবদলের হামলা

জ্বালানি তেল ও বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রতিবাদে রাজধানীতে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।

 

আজ বৃহস্পতিবার (০৪ জুন) বিকেলে জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরীর উদ্যোগে বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেট থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি বের হয়। মিছিলটি পল্টন ও কাকরাইল মোড় ঘুরে শান্তিনগরে গিয়ে শেষ হয়।

 

জ্বালানি তেল ও বিদ্যুতের দাম বাড়ানো সরকারের গণবিরোধী সিদ্ধান্ত বলে আখ্যা দিয়েছেন দলটির নেতারা।

 

বিক্ষোভ সমাবেশে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘দুই বছর দাম না বাড়ানোর আশ্বাস দিলেও মাত্র তিন মাসের মাথায় মূল্যবৃদ্ধি করে সরকার জনগণের সঙ্গে করা প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছে।’

 

তিনি অবিলম্বে এ সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি জানান এবং তা না হলে সরকারকে জনগণের ক্ষোভের মুখে পড়তে হতে পারে বলেও হুশিয়ারি দেন।

 

বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্তকে ‘গণবিরোধী’ আখ্যা দিয়ে জামায়াত সেক্রেটারি বলেন, ‘ গ্রাহক পর্যায়ে ছয়টি স্লটে যেভাবে দাম বাড়ানো হয়েছে, তাতে প্রান্তিক ও দরিদ্র মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়বে। বিদ্যুৎ সেক্টরে সিস্টেম লস ও ক্যাপাসিটি চার্জের নামে হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাট ও দুর্নীতি বন্ধ না করে, সাধারণ মানুষের পকেট কেটে সেই টাকা ভরাট করার চেষ্টা চলছে।’

 

তিনি বলেন, ‘আমরা আইএমএফ বা বিশ্বব্যাংকের গোলাম নই। তাদের কথায় বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধি করে জনগণের দুঃখ-কষ্ট বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। সারা বিশ্ব যখন নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে ঝুঁকছে, সরকার সেদিকে কোনো পদক্ষেপ না নিয়ে সাধারণ মানুষের ওপর বোঝার ওপর শাকের আঁটি চাপিয়ে দিচ্ছে।’

 

সমাবেশ শেষে বায়তুল মোকাররম থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি পল্টন ও কাকরাইল মোড় ঘুরে শান্তিনগরে গিয়ে শেষ হয়।

 

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) সংবাদ সম্মেলন করে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর ঘোষণা দেয়। পাইকারি ও খুচরা—উভয় পর্যায়েই বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়েছে। পাইকারি পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম গড়ে ১৯ দশমিক ৮৫ শতাংশ, সঞ্চালন চার্জ ২৩ দশমিক ৯৬ শতাংশ ও গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম গড়ে ১৬ দশমিক ৬৮ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। নতুন দাম জুন থেকে কার্যকর।

জ্বালানি তেল ও বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রতিবাদে জামায়াতের বিক্ষোভ

জলবায়ু পরিবর্তনের ক্রমবর্ধমান ঝুঁকি মোকাবিলায় সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বিশ্ব পরিবেশ দিবস ২০২৬ উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (৪ জুন) দেওয়া এক ফেসবুক বার্তায় তিনি এ আহ্বান জানান।

 

ফেসবুক বার্তায় তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত বর্তমানে সমগ্র মানবজাতির জন্য অন্যতম বড় বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, তাপদাহ, অনিয়মিত বৃষ্টিপাত, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, আকস্মিক বন্যা, খরা এবং জীববৈচিত্র্যের অবক্ষয় বিশ্বব্যাপী পরিবেশ ও অর্থনীতির ওপর গভীর প্রভাব ফেলছে।

 

তিনি উল্লেখ করেন, বৈশ্বিক গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণে বাংলাদেশের অবদান খুবই কম হলেও ভৌগোলিক অবস্থান, উচ্চ জনঘনত্ব এবং জলবায়ু-সংবেদনশীল অর্থনীতির কারণে দেশটি জলবায়ু ঝুঁকির মুখে রয়েছে।

 

তিনি লেখেন, Climate Risk Index 2026 অনুযায়ী বাংলাদেশ উচ্চ জলবায়ু ঝুঁকির সম্মুখীন। লবণাক্ততা বৃদ্ধি, কৃষি উৎপাদন হ্রাস, জলবায়ুজনিত বাস্তুচ্যুতি এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্রমবর্ধমান তীব্রতা আমাদের উন্নয়ন অগ্রযাত্রার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

 

তারেক রহমান বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনা (NAP), জাতীয়ভাবে নির্ধারিত অবদান (NDC), উপকূলীয় সুরক্ষা, সামাজিক বনায়ন, দুর্যোগ প্রস্তুতি এবং প্রকৃতি-ভিত্তিক সমাধানকে গুরুত্ব দিতে হবে।

 

তিনি জানান, পরিবেশ সংরক্ষণ ও জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। পাশাপাশি ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন ও পুনঃখননের উদ্যোগ নেওয়ার কথাও উল্লেখ করেন।

 

কৃষিখাতকে জলবায়ু-সহিষ্ণু ও আধুনিক ভিত্তিতে পুনর্গঠনের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, গবেষণা, উদ্ভাবন, প্রশিক্ষণ ও সম্প্রসারণ কার্যক্রমকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।

 

বার্তায় নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি, সবুজ শিল্পায়ন, পরিবেশবান্ধব নগরায়ণ, উন্নত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, গণপরিবহন উন্নয়ন এবং পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির প্রসারের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

 

সবশেষে তারেক রহমান বলেন, পরিবেশ সচেতনতা, দায়িত্বশীল আচরণ এবং সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে একটি সবুজ, নিরাপদ ও জলবায়ু-সহনশীল বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।

 

সব শেষে তিনি বিশ্ব পরিবেশ দিবস ২০২৬ উপলক্ষে গৃহীত সকল কর্মসূচির সার্বিক সাফল্য কামনা করেন।

জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

প্রান্তিক গ্রাহকদের ভোগান্তির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে আবাসিকে ৭৫ ইউনিট পর্যন্ত (লাইফলাইন) বিদ্যুতের বাড়তি দাম প্রত্যাহার করে নিয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)।

 

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বিইআরসির এক বিজ্ঞপ্তিতে বিদ্যুতের বাড়তি দাম প্রত্যাহারের বিষয়টি জানানো হয়েছে।

 

এর আগে বুধবার (৩ জুন) পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে বিদ্যুতের নতুন দাম ঘোষণা করে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। যেখানে আবাসিক গ্রাহকদের প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম ৪ টাকা ৬৩ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৫ টাকা ৩২ পয়সা নির্ধারণ করা হয়। সেই সঙ্গে প্রথম ধাপে ৭৫ ইউনিট পর্যন্ত ব্যবহারকারীদের জন্য প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম ৫ টাকা ২৬ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৬ টাকা ১৮ পয়সা করা হয়।

 

আবাসিকে ৭৫ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুতের বর্ধিত মূল্য প্রত্যাহারের বিষয়ে বিইআরসির বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থা ও কোম্পানিগুলো বুধবার বিদ্যুতের খুচরা মূল্যহার পুনর্নির্ধারণ সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তিতে অন্তর্ভুক্ত আবাসিক লাইফ লাইন (০-৫০ ইউনিট) এবং আবাসিক প্রথম ধাপের (০-৭৫ ইউনিট) পুনর্নির্ধারিত মূল্যহার পুনর্বিবেচনার জন্য আবেদন করে।

 

এর প্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার এ বিষয়ে শুনানি শেষে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন আইন, ২০০৩ এর ধারা ২২(খ) ও ৩৪ এ প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এবং বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন বিদ্যুৎ বিতরণ (খুচরা) ট্যারিফ প্রবিধানমালা, ২০১৬ এর প্রবিধান ১৩(৩) অনুসারে আবাসিক লাইফ লাইন (০-৫০ ইউনিট) এবং আবাসিক প্রথম ধাপের (০-৭৫ ইউনিট) বর্ধিত মূল্যহার কার্যকর না করে পূর্বের মূল্যহার বহাল রাখা হলো।

 

ফলে সব বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থা ও কোম্পানির আবাসিক গ্রাহক-শ্রেণির লাইফ লাইন (০-৫০ ইউনিট) এর এনার্জি রেট বা চার্জ প্রতি কিলোওয়াট ৪ টাকা ৬৩ পয়সা এবং প্রথম ধাপের (০-৭৫ ইউনিট) এনার্জি রেট বা চার্জ ৫ টাকা ২৬ পয়সা জুন, ২০২৬ থেকে বহাল থাকবে।

 

তবে বিদ্যুতের খুচরা মূল্যহার পুনর্নির্ধারণের বিষয়ে বুধবার জারি করা বিইআরসির অন্যান্য আদেশ অপরিবর্তিত থাকবে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ রয়েছে।

বিদ্যুতের বাড়তি দাম প্রত্যাহার করল বিইআরসি

বন্ধ ও লোকসানি সরকারি কারখানাগুলোতে নতুন বিনিয়োগ আনার লক্ষ্যে দেশব্যাপী রোড শো আয়োজনের পরিকল্পনা করেছে সরকার। দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে নেওয়া এ উদ্যোগের প্রস্তুতি চলতি মাসের মধ্যেই সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

 

বৃহস্পতিবার (০৪ জুন) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ‘শিল্প মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বন্ধ কারখানা চালু ও ব্যবস্থাপনা’–সংক্রান্ত এক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

 

বৈঠকে শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন বিভিন্ন সরকারি কারখানার বর্তমান অবস্থা, উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ থাকার কারণ এবং সেগুলো পুনরায় চালুর সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে লোকসানে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোকে কীভাবে টেকসই ও লাভজনক করা যায়, সে বিষয়েও মতবিনিময় করা হয়।

 

সভাসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, প্রস্তাবিত রোড শো কর্মসূচির মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের কাছে বন্ধ ও অলাভজনক কারখানাগুলোর সম্ভাবনা, অবকাঠামোগত সুবিধা এবং ব্যবসায়িক সুযোগ তুলে ধরা হবে। এর মাধ্যমে বেসরকারি ও বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ানোর চেষ্টা করা হবে।প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি হাসান শিপলু বলেন, বৈঠকে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা কারখানাগুলোর বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ, আর্থিক অবস্থা এবং সম্ভাব্য পুনরুদ্ধার পরিকল্পনা উপস্থাপন করেন। এসব প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম পুনরায় সচল করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েও আলোচনা হয়।

 

তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত ও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনার মাধ্যমে বন্ধ শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো পুনরুজ্জীবিত করা এবং লোকসানি সংস্থাগুলোকে লাভজনক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।

 

সভায় আরও জানানো হয়, কারখানাগুলোর পুনর্গঠন ও পুনরায় চালুর বিষয়ে বিশেষজ্ঞ কমিটির সুপারিশ পর্যালোচনার কাজ চলছে। সুপারিশগুলো চূড়ান্ত হওয়ার পর সেগুলোর ভিত্তিতে পরবর্তী কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণ করা হবে।

 

বৈঠকে বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তারসহ শিল্প মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বন্ধ কারখানা চালু করতে রোড শো আয়োজনের সিদ্ধান্ত সরকারের

চাঁপাইনবাবগঞ্জের তিন উপজেলায় পৃথক বজ্রপাতের ঘটনায় তিন নারীসহ ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বিকেলে বৃষ্টির সময় জেলার সদর, শিবগঞ্জ ও নাচোল উপজেলায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

 

নিহতরা হলেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার আতাহার গ্রামের রাব্বিলের ছেলে আব্দুল্লাহ, শিবগঞ্জ উপজেলার চকনরেন্দ্র গ্রামের আব্দুর রবের স্ত্রী মাহমুদা আক্তার, রানীবাড়ি বাজারপাড়ার আবুল কাশেমের মেয়ে সাদিয়া খাতুন, মোবারকপুর ইউনিয়নের শিকারপুর দক্ষিণপাড়ার ফিটু আলীর ছেলে মেসবাউল, নাচোল উপজেলার লাহাবাড়ি গ্রামের সুমিয়ারা বেগম এবং একই উপজেলার নেজামপুর ইউনিয়নের গোসাইপুর গ্রামের শাফিউলের ছেলে হাসান আলি লালু।

 

এ বিষয়ে শিবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মতিউর রহমান বলেন, শিবগঞ্জ উপজেলার নিহত তিনজন বাড়ির পাশের আমবাগানে আম কুড়ানোর সময় আকস্মিক বজ্রপাত হলে ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু হয়।

 

এদিকে, শিবগঞ্জ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেন, নিহত তিন পরিবারের প্রত্যেককে তাৎক্ষণিকভাবে ২৫ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।

 

অন্যদিকে, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একরামুল হোসাইন বলেন, আতাহার এলাকায় বৃষ্টির মধ্যে মাঠ থেকে গরু আনতে গিয়ে বজ্রপাতে গুরুতর আহত হয় আব্দুল্লাহ। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে।

 

নাচোল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুকোমল চন্দ্র দেবনাথ বলেন, নাচোল উপজেলার লাহাবাড়ি এলাকায় মাঠে ঘাস কেটে বাড়ি ফেরার পথে বজ্রপাতে সুমিয়ারা বেগমের মৃত্যু হয়। এদিকে আমকুড়াতে গিয়ে বজ্রপাতে নাচোল উপজেলার গোসাইপুর গ্রামের হাসান আলি লালুর মৃত্যু হয়।

 

এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন জানায়, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর ও নাচোল উপজেলার নিহত পরিবারগুলোকে ২৫ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জে বজ্রপাতে ৬ জনের মৃত্যু

সাতক্ষীরা জেলা পরিষদের প্রশাসক হলেন সাবেক এমপি হাবিবুল ইসলাম হাবিব

 

মো: তুহিন হোসেন সাতক্ষীরা জেলা প্রতিনিধি :

 

 

সাতক্ষীরা জেলা পরিষদের পূর্ণকালীন প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক ও সাতক্ষীরা-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য হাবিবুল ইসলাম হাবিব। স্থানীয় সরকার বিভাগের এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তাকে এ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (০৪ জুন) স্থানীয় সরকার বিভাগের জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে দেশের বিভিন্ন জেলা পরিষদে প্রশাসক নিয়োগের অংশ হিসেবে হাবিবুল ইসলাম হাবিবকে সাতক্ষীরা জেলা পরিষদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, দায়িত্ব পালনকালে তিনি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের সব ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারবেন। পাশাপাশি বিধি অনুযায়ী ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা ভোগ করবেন।

জেলা পরিষদের প্রশাসক নিয়োগকে ঘিরে কয়েক মাস ধরে সাতক্ষীরার রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা চলছিল। এর মধ্যেই বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হাবিবুল ইসলাম হাবিবের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ে। খবরটি ছড়িয়ে পড়ার পর বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা তাকে অভিনন্দন জানাতে শুরু করেন।

তবে তখনো আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন প্রকাশ না হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়। হাবিবুল ইসলাম হাবিবের মেয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে লেখেন, তার জানা মতে তখনো জেলা পরিষদের প্রশাসক নিয়োগের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি।

পরে বৃহস্পতিবার সরকারি প্রজ্ঞাপন জারির পর বিষয়টি নিশ্চিত হলে পরিবার ও সমর্থকদের মধ্যে উচ্ছ্বাস দেখা যায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তাকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে অসংখ্য পোস্ট দিতে দেখা যায় দলীয় নেতাকর্মীদের।

হাবিবুল ইসলাম হাবিব দীর্ঘদিন ধরে সাতক্ষীরার রাজনীতিতে সক্রিয়। তিনি বিএনপির কেন্দ্রীয় প্রকাশনাবিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন। সর্বশেষ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি সাতক্ষীরা-১ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও বিজয়ী হতে পারেননি। তবে নির্বাচনের পরও দলীয় কর্মকাণ্ড ও নির্বাচনী এলাকার সঙ্গে তার যোগাযোগ অব্যাহত ছিল।

রাজনৈতিক জীবনে নানা প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে হয়েছে তাকে। ২০০২ সালে কলারোয়ায় তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী শেখ হাসিনার গাড়িবহরে হামলার ঘটনায় করা মামলায় তিনি অভিযুক্ত হন। পরে ওই মামলায় আদালতের রায়ে তাকে বিভিন্ন ধারায় সাজা দেওয়া হয়। দীর্ঘ সময় কারাভোগের পর ২০২৪ সালের ৩ সেপ্টেম্বর তিনি জামিনে মুক্তি পান।

দীর্ঘ রাজনৈতিক ও আইনি অধ্যায়ের পর এবার স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ একটি পদে দায়িত্ব পেলেন হাবিবুল ইসলাম হাবিব। তার নিয়োগে জেলা বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা গেছে।

সাতক্ষীরা জেলা পরিষদের প্রশাসক হলেন সাবেক এমপি হাবিবুল ইসলাম হাবিব

নিখোঁজের দুই দিন পর ঘরের মেঝের নিচে মিলল বৃদ্ধা মায়ের মরদেহ, হত্যার অভিযোগ ছেলের বিরুদ্ধে

 

মাইদুল ইসলাম: (জেলা প্রতিনিধি নীলফামারী)

যে ঘরে জীবনের শেষ আশ্রয় খুঁজেছিলেন এক অসহায় বৃদ্ধা মা, সেই ঘরের মেঝের নিচে দুই দিন পর মিলল তার নিথর দেহ। নীলফামারী কিশোরগঞ্জ উপজেলায় হৃদয়বিদারক এ ঘটনায় এলাকায় শোক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বুধবার (৩জ জুন) মধ্যরাতে উপজেলার বড়ভিটা ইউনিয়নের উত্তর বড় ভিটা ময়দান পাড়া এলাকায় ঘরের মেঝে খুরে মারুফা বেগম ( ৬০) নামের এক বৃদ্ধার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তিনি ওই এলাকার মৃত আশরাফ আলীর স্ত্রী এবং তিন সন্তানের জননী। স্বজন ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মারুফা বেগম তার বড় ছেলে জুয়েল মিয়ার সঙ্গে বাড়িতে বসবাস করতেন। ছোট ছেলে লাভিন চাকরির কারণে ঢাকায় থাকতেন। গত সোমবার হঠাৎ করেই নিখোঁজ হয়ে যান মা মারুফা বেগম। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোন সন্ধান পাননি। নিখোঁজের দুইদিন পর রহস্যজনক ঘটনা সূত্রপাত হয়। বুধবার লাভিন নিয়ার স্ত্রী ঘর গোছানোর সময় বিছানার তোশকের নিচে রক্তের দাগ এবং ঘরের মেঝেতে অস্বাভাবিক ফাটল দেখতে পান। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে লাভিন মিয়াকে জানানো হলে তিনি থানায় খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ঘরের ভেতরে রক্তের চিহ্ন ও মেঝের ফাটল দেখে সন্দেহ প্রকাশ করে। পরে ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় মেঝে খুঁরে উদ্ধার করা হয় মারুফা বেগমের মরদেহ। এ দৃশ্য দেখে স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে নেমে আসে সোখের ছায়া। নিহতের ছোট ছেলে লাভিন মিয়া অভিযোগ করে বলে, ” আমি ঢাকা থেকে এসে জানতে পারি, আমার মায়ের সঙ্গে বড় ভাইয়ের স্ত্রীর ঝগড়া হয়েছিল। এরপর ভাবী রাগ করে বাবার বাড়িতে চলে যান। ঐদিন থেকেই মা নিখোঁজ ছিলেন। পরে ঘরের ভেতর রক্তাক্ত ও মেঝেতে ফাটল দেখে পুলিশকে জানাই। আমার মা নিখোঁজ হওয়ার পর থেকেই বড় ভাই জুয়েল আত্মগোপন হয়েছে। আমার

দৃঢ় ধারণা, সে-ই আমার মাকে হত্যা করে ঘরের মেঝেতে পুঁতে রেখেছে।” এ বিষয়ে কিশোরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লুৎফর রহমান বলেন, ” ” “নিহতের ছোট ছেলে থানায় এসে বিষয়টি জানালে আমরা ঘটনাস্থলে যাই। ঘরের ভেতরে রক্তের চিহ্ন মেঝেতে ফাটল দেখতে পেয়ে ফায়ার সার্ভিসে সহযোগিতায় মেঝে ঘুরে মরদেহ উদ্ধার করা হয়।” তিনি আরো বলেন,” মারুফা বেগম দুইদিন ধরে নিখোঁজ ছিলেন। ঘটনাটি

গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে হত্যার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন এবং জড়িতদের গ্রেপ্তার করা হবে।” একজন মায়ের এমন মর্মান্তিক পরিণতি পুরো এলাকাকে নিস্তব্ধ করে দিয়েছে। যে সন্তানকে বুকে আগলে মানুষ করেছেন, সেই সন্তানের বিরুদ্ধেই উঠেছে হত্যার অভিযোগ-এ ঘটনায় স্থানীয়দের মাঝে গভীর ক্ষোভ ও বেদনার সৃষ্টি হয়েছে।

নিখোঁজের দুই দিন পর ঘরের মেঝের নিচে মিলল বৃদ্ধা মায়ের মরদেহ, হত্যার অভিযোগ ছেলের বিরুদ্ধে

র‌্যাবের চৌকস অভিযানে জীপসহ প্রায় ১১ হাজার ইয়াবার চালান আটক

জামালপুর হামলা পাল্টা হামলার মধ্য দিয়ে জেলার সানন্দবাড়ী তে থমথমে অবস্থা বিরাজমান।

error: আপনি নিউজ চুরি করার চেষ্টা করছেন। বিশেষ প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন ০১৭৬৭৪৪৪৩৩৩
%d