বিশ্বকাপ থেকে বাদ পড়ার ২ মাসের মাথায় ডাচ রেফারির আকস্মিক মৃত্যু - Gono television | বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল।
বিশ্বকাপ থেকে বাদ পড়ার ২ মাসের মাথায় ডাচ রেফারির আকস্মিক মৃত্যু

বিশ্বকাপ থেকে বাদ পড়ার ২ মাসের মাথায় ডাচ রেফারির আকস্মিক মৃত্যু

বিশ্বকাপের রেফারি প্যানেল থেকে বাদ পড়ার দুই মাসের মাথায় ডাচ রেফারি রব ডিপেরিঙ্কের আকস্মিক মৃত্যু হয়েছে। মাত্র ৩৮ বছর বয়সে এই আন্তর্জাতিক রেফারির চলে যাওয়ার খবরে ফুটবল বিশ্বে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সম্প্রতি লন্ডনে একটি আইনি জটিলতায় জড়িয়ে বিশ্বকাপ থেকে বাদ পড়লেও পরবর্তীতে সেই মামলা থেকে তিনি অব্যাহতি পেয়েছিলেন। তবে তার মৃত্যুর সঠিক কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

 

ডাচ ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (কেএনভিবি) এক শোকবার্তায় ডিপেরিঙ্কের মৃত্যুকে একটি বড় ধাক্কা হিসেবে অভিহিত করেছে। সংস্থাটি জানায়, তার এই অকাল প্রয়াণে তারা স্তম্ভিত ও গভীরভাবে মর্মাহত।

 

এবারের বিশ্বকাপের ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) প্যানেলে অন্তর্ভুক্ত ছিলেন ডিপেরিঙ্ক। কিন্তু গত এপ্রিলে লন্ডনের মেট্রোপলিটন পুলিশ তাকে একটি অভিযোগে গ্রেপ্তার করলে গত মে মাসে ফিফা তাকে বিশ্বকাপের রেফারি তালিকা থেকে সরিয়ে দেয়। সে সময় তিনি লন্ডনে ক্রিস্টাল প্যালেস ও ফিওরেন্তিনার মধ্যকার কনফারেন্স লিগের ম্যাচে দায়িত্ব পালন করতে অবস্থান করছিলেন। তবে পরবর্তীতে পর্যাপ্ত প্রমাণের অভাবে পুলিশি মামলাটি খারিজ হয়ে যায় এবং তিনি নির্দোষ প্রমাণিত হন।

 

আইনি জটিলতা ও বিশ্বকাপ থেকে বাদ পড়া নিয়ে মৃত্যুর আগে ডাচ পত্রিকা ‘ডি টেলেগ্রাফ’-কে একটি সাক্ষাৎকার দিয়েছিলেন ডিপেরিঙ্ক। সে সময় তিনি চরম মানসিক যাতনা প্রকাশ করে বলেছিলেন, ‘মিথ্যা অভিযোগের কারণে আমি ব্যক্তিগতভাবে প্রচণ্ড আঘাত পেয়েছি। আমি শুরু থেকেই তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করেছি এবং ফিফা ও উয়েফাকে সব স্পষ্ট করেছিলাম। কিন্তু এত কিছুর পরও ফিফা আমাকে বিশ্বকাপ থেকে সরিয়ে দেওয়ায় আমি ভীষণ হতাশ হয়েছি।’

 

আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে দীর্ঘ অভিজ্ঞতাসম্পন্ন এই রেফারি ডাচ ঘরোয়া লিগ ছাড়াও ইউরোপীয় ফুটবলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। নির্দোষ প্রমাণিত হওয়ার পরও ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় আসর থেকে বাদ পড়ার শোক কাটিয়ে ওঠার আগেই তার এই না ফেরার দেশে চলে যাওয়াকে একটি ট্র্যাজিক ঘটনা হিসেবে দেখছেন ফুটবল সংশ্লিষ্টরা।


কানসাস সিটির অ্যারোহেড স্টেডিয়ামে আবার সেই রূপকথার মতো শেষ মুহূর্তের উল্লাস আর বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের রাজকীয় প্রত্যাবর্তন। নির্ধারিত ৯০ মিনিট ১-১ সমতায় শেষ হওয়ার পর অতিরিক্ত সময়ের ১১৩ মিনিট পর্যন্ত ১০ জনের সুইজারল্যান্ড রক্তক্ষয়ী প্রাচীর গড়ে আটকে রেখেছিল বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের। সবাই যখন চরম শঙ্কা নিয়ে পেনাল্টি টাইব্রেকারের দিকে তাকাচ্ছিল, তখনই গোল করলো আলভারেজ ও লাওতারো।

 

পুরো টুর্নামেন্টে ছন্দহীন থাকা আর একাদশে জায়গা নেওয়া নিয়ে ওঠা সব সমালোচনা এক শটে উড়িয়ে দিয়ে ১১৪তম মিনিটে ২৫ গজ দূর থেকে এক চোখধাঁধানো রকেট শটে আলবিসেলেস্তাদের ২-১ গোলে এগিয়ে দেন এই অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ ফরোয়ার্ড। এরপর অতিরিক্ত সময়ের যোগ করা সময়ে শেষ কফিনে শেষ পেরেকটি ঠুকে দেন লাওতারো মার্তিনেজ। সুইজারল্যান্ডকে ৩-১ ব্যবধানে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে পৌঁছে গেল লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা।

 

আজকের এই মহাকাব্যিক জয়ের ফলে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের মেগা মঞ্চে আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হতে যাচ্ছে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ইংল্যান্ড। এর আগে প্রথমার্ধের ১০ মিনিটে মেসির কর্নার থেকে ম্যাক আলিস্টারের হেডে আর্জেন্টিনা এগিয়ে গেলেও, ৬৭ মিনিটে ড্যান এনদোয়ের গোলে সমতায় ফিরেছিল সুইজারল্যান্ড। ৭২ মিনিটে ব্রিল এমবোলো লাল কার্ড পেয়ে মাঠ ছাড়লে ১০ জনের দলে পরিণত হয় সুইসরা। কিন্তু সেই ১০ জনের সুইস দুর্গ ভাঙতে অতিরিক্ত সময়ের প্রথমার্ধ পর্যন্ত ঘাম ঝরাতে হয় স্কালোনির শিষ্যদের।

 

অবশেষে ১১৪ মিনিটে ২৫ গজ দূর থেকে আলভারেজের সেই অবিশ্বাস্য দূরপাল্লার দূরপাল্লার গোল কানসাস সিটিতে উপস্থিত কোটি আর্জেন্টাইন সমর্থককে ভাসায় চরম আনন্দের বন্যায়। ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজার ঠিক আগ মুহূর্তে সুইসদের অল-আউট আক্রমণের সুযোগ নিয়ে পাল্টা আক্রমণে ৩-১ গোলের নিশ্চিত সিলমোহর একে দেন লাওতারো মার্তিনেজ। এই নাটকীয় জয়ে আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্নযাত্রা অবিচল রইল এবং কানসাস সিটি থেকে এখন নিউ ইয়র্কের মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ইংল্যান্ডকে উড়িয়ে ফাইনালের টিকিট কাটার নতুন মিশনে পা রাখল স্কালোনির শিষ্যরা।

আলভারেজ–মার্তিনেজের গোলে সেমিফাইনালে বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা

খেলা তখন অতিরিক্ত সময়ে গড়িয়েছে। কেপ ভার্দের বিপক্ষে রাউন্ড অব সিক্সটিনে স্নায়ুক্ষয়ী লড়াইয়ে শেষ মুহূর্তের ট্যাকলটা করতে গিয়েই পকেট থেকে রেফারি বের করেছিলেন হলুদ কার্ড। গনজালো মন্টিয়েলের হয়তো তখন কার্ডের কথা ভাবার সময় ছিল না, লক্ষ্য ছিল একটাই—দলকে কোয়ার্টার ফাইনালে তোলা। কিন্তু সেই একটি হলুদ কার্ডই এখন আর্জেন্টিনার এই রাইট-ব্যাকের জন্য রূপ নিয়েছে এক অদৃশ্য খাঁচায়।

 

 

 

কালড় কানসাস সিটির অ্যারোহেড স্টেডিয়ামে সুইজারল্যান্ডের মুখোমুখি হচ্ছে আর্জেন্টিনা। সেমিফাইনালের টিকিট কাটার এই লড়াইয়ে মন্টিয়েল প্রথম একাদশে থাকবেন কি না, তা নিয়ে লিওনেল স্কালোনি শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত ভাববেন।

 

 

 

তবে তিনি খেলুন কিংবা বদলি হিসেবে নামুন—একটা অদৃশ্য সতর্কবার্তা তার মাথার ওপর ঝুলছে। সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে আরেকটি হলুদ কার্ড দেখলেই স্বপ্নভঙ্গের বেদনায় পুড়তে হবে মন্টিয়েলকে। আর্জেন্টিনা যদি সেমিফাইনালে চলেও যায়, নিষেধাজ্ঞার খাঁড়ায় পড়ে সাইডবেঞ্চে বসে থাকতে হবে ২৮ বছর বয়সী এই ডিফেন্ডারকে।

 

 

 

ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, নকআউট পর্বের শুরু (শেষ ৩২) থেকে কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত কোনো খেলোয়াড় যদি দুটি ভিন্ন ম্যাচে দুটি হলুদ কার্ড দেখেন, তবে পরবর্তী ম্যাচের জন্য তিনি নিষিদ্ধ হবেন। কোয়ার্টার ফাইনাল শেষ হওয়ার পর এই কার্ডের হিসাব মুছে যায়। সেমিফাইনালে ফ্রেশ কার্ড নিয়ে নামার সুযোগ থাকে।

 

 

 

কিন্তু মন্টিয়েলের সমস্যা হলো, তিনি অলরেডি শেষ ষোলোতেই একটা কার্ড হজম করে বসে আছেন। কোয়ার্টার ফাইনালের বৈতরণী পার হওয়ার ম্যাচে মন্টিয়েলকে তাই খেলতে হবে ‘পায়ে বরফ আর মাথায় বরফ’ বেঁধে।

 

 

 

চলতি বিশ্বকাপে মন্টিয়েলের ভূমিকা আর্জেন্টিনার জন্য বেশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। আলজেরিয়ার বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে প্রথমার্ধের পরই তাঁকে তুলে নাহুয়েল মোলিনাকে নামিয়েছিলেন স্কালোনি। কিন্তু মিশরের বিপক্ষে ম্যাচে আবার মোলিনার জায়গায় নেমে খানিটা জাদুকরী মুহূর্ত উপহার দেন রিভার প্লেটের এই রাইট-ব্যাক; তাঁর পাস থেকেই এসেছিল লিওনেল মেসির সেই সমতাসূচক গোলটি।

 

 

 

স্কালোনির দলের এখন একমাত্র অগ্রাধিকার সুইজারল্যান্ডকে হারিয়ে সেমিফাইনালে পা রাখা, যেখানে প্রতিপক্ষ হতে পারে নরওয়ে অথবা ইংল্যান্ড। দলের লক্ষ্য অর্জনে মাঠে কেউ গা বাঁচিয়ে খেলবেন না, এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু মন্টিয়েল ভালো করেই জানেন তার বর্তমান পরিস্থিতি।

 

 

 

আলবিসেলেস্তেদের রক্ষণভাগ সামলানোর পাশাপাশি তাঁকে সামলাতে হবে নিজের আবেগকেও। অ্যারোহেড স্টেডিয়ামের সবুজ গালিচায় কি মন্টিয়েল পারবেন হলুদ কার্ডের ফাঁদ এড়িয়ে আর্জেন্টিনাকে স্বপ্নের সেমিফাইনালে নিয়ে যেতে? সে উত্তর মাঠের লড়াইয়ের জন্য তোলা থাকুক।

হাত-পা-মাথায় ‘বরফ বেঁধে’ খেলতে হবে মন্টিয়েলকে

শুক্রবার (১০ জুলাই) উত্তর আমেরিকা থেকে দেশে ফেরার পর ভূমধ্যসাগর উপকূলের আলামেইন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বাইরে জড়ো হন অসংখ্য সমর্থক। খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফকে স্বাগত জানাতে সেখানে সৃষ্টি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ। অধিনায়ক মোহাম্মদ সালাহর ছবি সংবলিত ব্যানারে লেখা ছিল, ‘ধন্যবাদ’।

 

এবারের বিশ্বকাপে ইতিহাস গড়েছে মিশর। চারবারের চেষ্টায় প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে জয়ের স্বাদ পায় দলটি। পাশাপাশি প্রথমবারের মতো নিশ্চিত করে শেষ ষোলোর টিকিট।

 

বিমানবন্দর থেকে ছাদখোলা বাসে করে নিউ আলামেইন শহর প্রদক্ষিণ করেন খেলোয়াড়রা। সড়কের দুই পাশে দাঁড়িয়ে থাকা হাজারো সমর্থকের উদ্দেশে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান তারা। শনিবার দেশটির প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ ও কর্মকর্তাদের রাষ্ট্রীয় সংবর্ধনা দেওয়ার কথা রয়েছে।

 

সমর্থকদের হাতে প্রধান কোচ হোসাম হাসানের বড় বড় ছবিও দেখা যায়, যেগুলোতে ফিলিস্তিনের পতাকা জড়ানো ছিল। বিশ্বকাপ চলাকালে ফিলিস্তিনের প্রতি তার প্রকাশ্য সমর্থনের স্বীকৃতি হিসেবেই এমন আয়োজন করা হয়েছে। টুর্নামেন্টজুড়ে তিনি একাধিকবার মাঠে ফিলিস্তিনের পতাকা বহন করেন এবং সংবাদ সম্মেলনেও ফিলিস্তিনিদের অধিকারের পক্ষে বক্তব্য দেন।

 

শেষ ষোলোয় লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ২-০ গোলে এগিয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত ৩-২ ব্যবধানে হেরে যায় মিশর। ম্যাচের শেষ ১১ মিনিটে টানা তিন গোল হজম করে বিদায় নিতে হলেও বিশ্বকাপে এটিই দেশটির ইতিহাসের সেরা সাফল্য। গ্রুপ পর্বে নিউজিল্যান্ডকে হারানোর পর শেষ ৩২-এ অস্ট্রেলিয়াকে টাইব্রেকারে পরাজিত করে প্রথমবারের মতো শেষ ষোলোয় জায়গা করে নিয়েছিল ফারাওরা।

আর্জেন্টিনার কাছে হেরে বিদায়, মিশর দলকে বরণ করলেন হাজারো সমর্থক

২০২৬ বিশ্বকাপে ফাইনাল ম্যাচ পরিচালনার সুযোগ আছে ইংল্যান্ডের রেফারি মাইকেল অলিভারের সামনে। তবে ইংল্যান্ড কিংবা আর্জেন্টিনা ফাইনালে উঠলে সেই সুযোগ থেকে বঞ্চিত হবেন ৪১ বছর বয়সী এই ইংলিশ রেফারি। এমনকি তার স্বদেশি রেফারি অ্যান্থনি টেলরও আর্জেন্টিনা ফাইনাল খেললে সেই ম্যাচটি পরিচালনার সুযোগ পাবেন না।

 

স্বার্থের সংঘাত এড়াতে এবং নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে রেফারিদের সাধারণত নিজ দেশের ম্যাচ পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয় না। এর পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে আর্জেন্টিনা এবং ইংল্যান্ডের ম্যাচেও দুই দেশের রেফারিদের দায়িত্ব না দেওয়ার নীতি অনুসরণ করে আসছে ফিফা।

 

এর পেছনে রয়েছে ৪৪ বছর পুরোনো এক রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট। ১৯৮২ সালে সংগঠিত ফকল্যান্ডস যুদ্ধের কারণে আর্জেন্টিনা সংশ্লিষ্ট ম্যাচে ইংল্যান্ডের কোনো রেফারিকে কিংবা ইংল্যান্ড সংশ্লিষ্ট ম্যাচে আর্জেন্টিনার কোনো রেফারিকে দায়িত্ব দেয় না বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা।

 

ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে ১৯৮২ সালে যুক্তরাজ্য ও আর্জেন্টিনার মধ্যে যুদ্ধ হয়েছিল। সেই সংঘাতে আর্জেন্টিনার ৬৪৯ জন সামরিক সদস্য নিহত হন। বিষয়টি এখনো দুই দেশের মধ্যে সংবেদনশীল রাজনৈতিক ইস্যু হিসেবে বিবেচিত হয়।

 

এ কারণে আর্জেন্টিনা যদি বিশ্বকাপ ফাইনালে ওঠে তাহলে ইংল্যান্ডের রেফারি হিসেবে মাইকেল অলিভারকে সেই ম্যাচ পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হবে না। একইভাবে ইংল্যান্ডও ফাইনালে খেললে আর্জেন্টাইন কোনো রেফারিকে দায়িত্ব দেওয়া হয় না।

 

এর আগেও একই কারণে কাতার বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচ পরিচালনার সুযোগ হারিয়েছিলেন অ্যান্থনি টেলর। ২০২২ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা ফাইনালে ওঠায় এই ইংলিশ রেফারি সেই পরিচালনার দায়িত্ব থেকে ছিটকে যান।

 

এবারের বিশ্বকাপে অলিভার ইতোমধ্যে ছয়টি ম্যাচ পরিচালনা করেছেন। আগামী ১১ জুলাই লস অ্যাঞ্জেলসে অনুষ্ঠেয় স্পেন ও বেলজিয়ামের মধ্যকার কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচটিও তিনি পরিচালনা করবেন। এর মধ্য দিয়ে বিশ্বকাপের ৭টি ম্যাচে রেফারির দায়িত্ব পালনের মাইলফলক স্পর্শ করবেন তিনি, যা কোনো ইংলিশ রেফারির জন্য সর্বোচ্চ।

আর্জেন্টিনা ফাইনালে উঠলেই ‘বদলে যাবে’ রেফারি!

বিশ্বকাপ মানেই আনন্দ আর উন্মাদনা। কথার লড়াই। আর এ যুগে এসে ফেসবুকে মেনশন করে পোস্ট দেওয়া আর কমেন্ট যুদ্ধে নিজের দলকে সবার উঁচুতে রাখার প্রানপণ চেষ্টা চলতেই থাকে। তবে বাংলাদেশে এখানেই থেমে নেই; উন্মাদনার আড়ালে কথা কাটাকাটি, মারামারি ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেই চলেছে। এমনকি সংঘর্ষে প্রাণও যাচ্ছে অনেকের। সমর্থকদের বাগ্‌বিতণ্ডা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাল্টাপাল্টি মন্তব্য, পতাকা টাঙানো কিংবা খেলা দেখাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ—সব মিলিয়ে এবারের বিশ্বকাপে ইতোমধ্যে অন্তত ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। বাংলাদেশ থেকে ১২ হাজার কিলোমিটার (প্রায় ৮,২০০ থেকে ৮,৬০০ মাইল) দূরত্বের এই খেলা নিয়ে দেশের আহতও হয়েছেন শতাধিকের বেশি মানুষ।

 

নিহতদের মধ্যে তিনজন ছুরিকাঘাতে, তিনজন পতাকা টাঙাতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে, একজন সড়ক দুর্ঘটনায়, একজন ল্যাম্পপোস্ট ভেঙে, একজন স্ট্রোকে, একজন কিশোরদের ফুটবল খেলা নিয়ে সংঘর্ষে এবং সর্বশেষ একজন আর্জেন্টিনা সমর্থকদের আঘাতে প্রাণ হারিয়েছেন।

 

সর্বশেষ গতকাল মঙ্গলবার রাতে কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের ধনপুর এলাকায় আর্জেন্টিনা-মিশর ম্যাচকে কেন্দ্র করে সমর্থকদের সংঘর্ষে মো. শরিফুল ইসলাম (৩২) নিহত হন। তিনি মিশরের সমর্থক ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, আর্জেন্টিনা সমর্থক হিসেবে পরিচিত দুই ব্যক্তি তার মাথায় আঘাত করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

 

এ ছাড়া গতকাল মিসরের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার নাটকীয় জয়ের পর অতিরিক্ত উচ্ছ্বাস প্রকাশ করতে গিয়ে ঝিনাইদহের শৈলকুপা পৌরসভার বালিয়াডাঙ্গা গ্রামের রসুল উদ্দীন (৪০) নামের এক ভ্যানচালকের মৃত্যু হয়। তিনি এলাকায় আর্জেন্টিনা ও ফুটবল তারকা লিওনেল মেসির একনিষ্ঠ সমর্থক হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

 

একই রাতে দেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষ

গতকাল রাতে চট্টগ্রামের মীরসরাইয়ে আর্জেন্টিনা-মিশর ম্যাচ ঘিরে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে দুজন আহত হন। গুরুতর আহত ব্রাজিল সমর্থক মাঈনুদ্দিন মিঠুকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া গতকাল রাতে টাঙ্গাইলের মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়েও একই ম্যাচকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সহকারী প্রক্টরসহ অন্তত ১০ জন আহত হন। সংঘর্ষ চলাকালে একাডেমিক ভবনে ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে।

 

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়েও গতকাল রাতে দুই বিভাগের শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষে কয়েকজন আহত হন। ঘটনাস্থলের ভিডিও ধারণ করতে গেলে কয়েকজন সাংবাদিকের ওপর হামলা, হুমকি এবং মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটে। এ ছাড়া ঝিনাইদহের কালীগঞ্জেও গতকাল আর্জেন্টিনা-ব্রাজিল সমর্থকদের সংঘর্ষে মামুন হোসেন (২২) নামে এক যুবক আহত হন।

 

টানা কয়েকদিনের সংঘর্ষ

গত ৬ জুলাই বগুড়ার শিবগঞ্জে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা সমর্থকদের ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে এইচএসসি পরীক্ষার্থী জয় কুমার ও বিশাল কুমার গুরুতর আহত হন। এর আগে ২৯ জুন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে বড় পর্দায় ফুটবল ম্যাচ দেখার সময় ধূমপানকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর, এক সহকারী প্রক্টরসহ কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হন।

 

এ ছাড়া গত ২৮ জুন হবিগঞ্জ সদর উপজেলার রাজিউড়া ইউনিয়নের উচাইল স্কুলবাড়ি মাঠে বড় পর্দায় খেলা দেখানোকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে অন্তত ২০ জন আহত হন। গত ২২ জুন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে বড় পর্দায় খেলা দেখা নিয়ে সংঘর্ষ ও মারধরের ঘটনায় এক শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এ ছাড়া ১৮ জুন চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে ফুটবল খেলা নিয়ে তুচ্ছ বিরোধে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষে নারীসহ অন্তত ১০ জন আহত হন।

 

আগের প্রাণহানির ঘটনাগুলো

বিশ্বকাপ শুরুর পর গত ১ জুলাই একই দিনে ঢাকার আদাবর, সিলেটের জকিগঞ্জ ও ঢাকার আশুলিয়ায় তিনটি পৃথক ঘটনায় তিনজন নিহত হন। রাজধানীর আদাবরে বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা দেখার সময় বাঁশি বাজানোকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া বিরোধের জেরে দুই পক্ষের সংঘর্ষে আবুল বাশার বাদশা নামে বিএনপির এক নেতা নিহত হন।

 

আশুলিয়ায় ফুটবল ম্যাচ নিয়ে বিরোধের জেরে কিশোর নাহিদ হাসানকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করে মাটিচাপা দেওয়া হয়। সিলেটের জকিগঞ্জে ফুটবল খেলার উল্লাসকে কেন্দ্র করে চাচাতো ভাইয়ের ছুরিকাঘাতে নিহত হন আলম আহমদ। এ ছাড়া গত শুক্রবার নড়াইল সদরে কিশোরদের ফুটবল খেলা নিয়ে বিরোধে মোস্তফা কাজী নামে এক বৃদ্ধকে কুপিয়ে ও হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করা হয়।

 

পতাকা টাঙাতে গিয়ে তিন মৃত্যু

বিশ্বকাপের পতাকা টাঙাতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। ১৯ জুন ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে ব্রাজিলের পতাকা টাঙাতে গিয়ে মাহিন শেখ নামে এক স্কুলছাত্র মারা যান। ১৫ জুন চট্টগ্রামে আর্জেন্টিনার পতাকা টাঙাতে গিয়ে রামহরি বৈষ্ণবের মৃত্যু হয়। ৯ জুন মানিকগঞ্জ সদরে ব্রাজিলের পতাকা টাঙানোর সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যান ফয়সাল নামে এক যুবক।

 

আরও কয়েকটি প্রাণহানির ঘটনা

গত ১৩ জুন ভোলায় বিশ্বকাপ উপলক্ষে মোটরসাইকেল শোভাযাত্রায় অংশ নিয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় এক যুবকের মৃত্যু হয়। গত শুক্রবার চট্টগ্রাম নগরীর হালিশহরে ল্যাম্পপোস্ট ভেঙে মাহিদুল ইসলাম নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়। একই দিন বরগুনার তালতলীতে ফুটবল ম্যাচের অনুশীলনের সময় স্ট্রোক করে মারা যান খোকন কর্মকার।

 

এ ব্যাপারে টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার (এসপি) মুহম্মদ শামসুল আলম সরকার বলেন, খেলাকে খেলা হিসেবেই নেওয়া উচিত। এখানে অতিরঞ্জনের কিছু নেই। সকলের সচেতন করতে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। সুশীল সমাজের এগিয়ে আসতে হবে। যারা বোঝে না, তাদের বোঝানো দরকার।

 

বিশ্বকাপে সংঘটিত হওয়া সহিংসতা নিয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষক মুহম্মদ আসাদুজ্জামান সাদী দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, এখানে গা ভাসিয়ে দেওয়া যাবে না। ফুটবল বিশ্বকাপকে শুধু বিনোদনের উপকরণ হিসেবেই নিতে হবে। এ খেলা নিয়ে অতিরিক্ত বাড়াবাড়ি ও আবেগতাড়িত হওয়া যাবে না। আবেগ ভালো কিছু বয়ে আনে না। যখন আমরা অতি আবেগ দেখিয়ে পারস্পারিক বিতর্কে জড়াব, তখন সমাজে, বন্ধু বন্ধু, এমনকি কাছের মানুষের সঙ্গে সহিংসতা ঘটছে। সকলকে আবেগ থেকে বেরিয়ে এসে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

উন্মাদনার আড়ালে ট্র্যাজেডি: ১২ হাজার কিলোমিটার দূরের খেলা নিয়ে বাংলাদেশে মৃত্যু ১২

৪৮ দল নিয়ে শুরু হওয়া বিশ্বকাপে এখন টিকে আছে আটটি দল। একদিন বিরতির পর আজ (বৃহস্পতিবার) থেকে ফিফার এই মেগা ইভেন্টের কোয়ার্টার ফাইনাল শুরু হবে। নতুন এই রাউন্ডে নামার আগে দুর্ভাবনায় আছে ৮ দলের অন্তত ১৮ ফুটবলার। কারণ আরেকটি হলুদ কার্ড দেখলেই দল সেমিফাইনালে উঠলে খেলতে পারবেন না তারা।

 

এই তালিকায় আছে আর্জেন্টিনা, ফ্রান্স, স্পেন ও ইংল্যান্ডের মতো অন্যতম ফেভারিট দলগুলোও। তবে কিছুটা বেশি দুশ্চিন্তা করতে হচ্ছে ইংল্যান্ড ও মরক্কোকে। কারণ দুটি দলেরই চারজন করে ফুটবলার নকআউট রাউন্ডে একটি হলুদ কার্ড দেখেছেন। ফলে কোয়ার্টার ফাইনালে বেশ সতর্কতার সঙ্গে খেলতে হবে তাদের। এ ছাড়া সুইজারল্যান্ড ও ফ্রান্সের তিন জন করে এবং স্পেন, বেলজিয়াম, আর্জেন্টিনা ও নরওয়ের একজন করে হলুদ কার্ড দেখেন।

 

এই বিশ্বকাপের আগে অবশ্য হলুদ কার্ডজনিত নিষেধাজ্ঞায় পরিবর্তন এনেছিল ফিফা। কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত পৌঁছাতে একটি দলকে পাঁচটি ম্যাচ খেলতে হয়। ফিফার আগের নিয়ম অনুযায়ী– ওই সময়ের মধ্যে যেকোনো দুটি ম্যাচে হলুদ কার্ড পেলেই পরবর্তী ম্যাচে নিষিদ্ধ হন সংশ্লিষ্ট খেলোয়াড়। ৩২ দলের পরিবর্তে ২০২৬ বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করে ৪৮টি দল। ফলে নকআউট পর্বে একটি বাড়তি রাউন্ড যোগ হয়েছে। ফিফা মনে করছে, বাড়তি এই রাউন্ডের কারণে ফুটবলারদের নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকি অনেক বেড়ে যাবে।

 

আগের নিয়মে কোনো পরিবর্তন না আনা হলে সেমিফাইনালের মতো গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে তারকা খেলোয়াড়দের হারানোর আশঙ্কা করে ফিফা। কারণ, সেমিফাইনাল পর্যন্ত পৌঁছাতে এবার খেলোয়াড়দের ছয়টি ম্যাচ খেলতে হচ্ছে। তাই ২০২৬ বিশ্বকাপে চালু হয় নতুন কার্ড নীতি। গ্রুপ পর্বে পাওয়া সব হলুদ কার্ড নকআউট পর্ব শুরুর আগে বাতিল (রিসেট) হয়ে গেছে। এরপর কোয়ার্টার ফাইনাল শেষে আবারও হলুদ কার্ডের হিসাব শুরু হয়।

 

বিশ্বকাপের নিয়ম অনুযায়ী, ভিন্ন দুই ম্যাচে দুটি হলুদ কার্ড পেলে খেলোয়াড়কে স্বয়ংক্রিয়ভাবে এক ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ হতে হয়। ফলে শেষ ৩২ কিংবা শেষ ষোলোর ম্যাচে যারা ইতোমধ্যে একটি হলুদ কার্ড পেয়েছেন তারা আবারও সতর্কবার্তা পেলে, সংশ্লিষ দল সেমিফাইনালে উঠলে তারা ম্যাচটি খেলতে পারবেন না। যেহেতু কোয়ার্টার ফাইনালের পর হলুদ কার্ডের তালিকা আবার নতুন করে শুরু হয়, তাই হলুদ কার্ডের সংখ্যার কারণে কোনো খেলোয়াড় ফাইনালে নিষিদ্ধ হবেন না। কেবল সেমিফাইনালে লাল কার্ড পেলেই ফাইনালে খেলতে পারবেন না তিনি।

 

লাল কার্ড পাওয়া খেলোয়াড় স্বয়ংক্রিয়ভাবে এক ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ হবেন। আবার সহিংস আচরণের ক্ষেত্রে মাত্রা অনুসারে আরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার অধিকার রাখে ফিফার শৃঙ্খলা কমিটি। প্রসঙ্গত, আজ (৯ জুলাই) থেকে ১২ জুলাই পর্যন্ত কোয়ার্টার ফাইনাল, ১৪-১৫ জুলাই সেমিফাইনাল, ১৮ জুলাই তৃতীয় স্থান নির্ধারণী এবং ১৯ জুলাই অনুষ্ঠিত হবে মেগা আসরের ফাইনাল।

 

নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকিতে যে ১৮ ফুটবলার

ইংল্যান্ড : জুড বেলিংহ্যাম, নিকো ও’রাইলি, ডেক্লান রাইস, মার্ক গেয়ি

 

মরক্কো : ইসা দিওপ, আশরাফ হাকিমি, রেদোয়ান হালহাল, বিলাল এল খানুস

 

ফ্রান্স : মানু কোনে, মাইকেল ওলিসে, ব্রাডলি বারকোলা

 

সুইজারল্যান্ড : গ্রানিত জাকা, ডেনিস জাকারিয়া, মিরো মুহাইম

 

আর্জেন্টিনা : গঞ্জালো মন্টিয়েল

 

স্পেন : ফেররান তোরেস

 

বেলজিয়াম : ব্র্যান্ডন মেচেলে

 

নরওয়ে : অ্যা

ন্তোনিও নুসা

 

বিশ্বকাপে নিষেধাজ্ঞার শঙ্কায় আর্জেন্টাইন তারকাসহ ১৮ ফুটবলার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

মিথ্যা ও কুরুরুচিপূর্ণ মন্তব্যের প্রতিবাদে নীলফামারীতে পরিবহন শ্রমিকদের মানববন্ধন

মাইদুল ইসলাম

স্টাফ রিপোর্টার

জেলা নীলফামারী: নীলফামারী জেলা বাস মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়ন (রেজি, নং রাজ-২২০) সৈয়দপুরভিত্তিক নেতৃবৃন্দদের বিরুদ্ধে মিথ্যা বানোয়াট ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য, চাঁদাবাজি এবং শ্রমিক নির্যাতনের অভিযোগে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার

(১৪ জুলাই) দুপুরে শহরের চৌরঙ্গী মোড়ে এ কর্মসূচির আয়োজন করে নীলফামারী জেলা বাস মিনিবাস ও কোর্স পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের

(রেজি.নং রাজ ৩৪৪৬) শ্রমিকরা। এ সময় বক্তব্য দেন জেলা বাস মিনিবাস ও কোর্স পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি নুর আলম, সাধারণ সম্পাদক মাসুদ রানা মানিক, জেলা শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক জামিয়ার রহমান এবং সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপের অর্থ সম্পাদক আবু তাহের প্রমুখ। বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, সৈয়দপুরভিত্তিক নীলফামারী জেলা বাস মিনিবাস শ্রমিক দীর্ঘ ৪৮ বছর ধরে জেলার পরিবহন খাতে প্রভাব বিস্তার করে আসছে। এ সময় বিভিন্নভাবে জেলার বাস মিনিবাস ও কোর্স পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের হয়রানি ও নির্যাতন করা হয়েছে বলেও তারা দাবি করেন। তাদের ভাষ্য, মালিক ও শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষার উদ্দেশ্যে জেলা কেন্দ্রীয় নীলফামারী জেলা বাস মিনিবাস ও কোর্স পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়ন গঠন করা হয়েছে। নতুন এই সংগঠনকে নিয়ে মিথ্যা, বানোয়াট ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করা হচ্ছে, যা কোনভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। বক্তারা আরো হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ভবিষ্যতে কেউ যদি

সংগঠনটির নেতৃবৃন্দ বা শ্রমিকদের সম্পর্কে মিথ্যা, বানোয়াট ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেন, তাহলে শ্রমিকরা প্রচলিত আইনের আওতায় আইনানুগ ব্যাবস্থা গ্রহণ করবেন।

মিথ্যা ও কুরুরুচিপূর্ণ মন্তব্যের প্রতিবাদে নীলফামারীতে পরিবহন শ্রমিকদের মানববন্ধন 

নীলফামারী জেলা পুলিশ সুপার ফরহাদ হোসেন খানের নেতৃত্বে সাইবার অপরাধ দমনে সক্রিয় নীলফামারী জেলা পুলিশ

মাইদুল ইসলাম

স্টাফ রিপোর্টার

নীলফামারীতে পুলিশ সুপার মোঃ ফরহাদ হোসেন খানের নেতৃত্বে ভিসা প্রতারণা, অনলাইন ক্যাসিনো,থাই জুয়াসহ বিভিন্ন সাইবার অপরাধের বিরুদ্ধে ব্যাপক অভিযান পরিচালনা করছে জেলা পুলিশ। চলতি বছরে জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ফাইবার নিরাপত্তা আইনে ২২ মামলা দায়ের করা হয়েছে। এসব মামলায় ৬১ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এছাড়া আরও প্রায় ২০০ জনকে অজ্ঞাত আসামী করে তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার

(ক্রাইম এন্ড অপস) এ বি এমন ফয়জুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, নীলফামারী সদর, সৈয়দপুর ও কিশোরগঞ্জ উপজেলায় ধারাবাহিক অভিযানে ছয় মাসে ২২টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলাগুলোতে ৮১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। অনলাইন ভিত্তিক ভিসা প্রতারণা, অবৈধ ক্যাসিনো পরিচালনা এবং থাই জুয়ার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে নগদ অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে এসব মামলা করা হয়েছে। জেলা পুলিশের অভিযানে বিভিন্ন স্থান থেকে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং অপরাধচক্রের অন্যান্য সদস্যদের সনাক্ত তদন্ত চলছে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এ বি এম ফয়জুল ইসলাম বলেন,”পুলিশ সুপার মোঃ ফরহাদ হোসেন খানের সার্বিক দিকনির্দেশনায় নীলফামারী জেলা পুলিশ মাদক, জুয়া অনলাইন ক্যাসিনো, ভিসা

প্রতারণাসহ সকল ধরনের সাইবার অপরাধ দমনে জিরো টলারেস নীতি অনুসরণ করেছে। এসব অপরাধ পুরোপুরি নির্মূল করা কঠিন হলেও কঠোর অভিযান ও গোয়েন্দা তৎপরতার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণে রাখার সর্বোচ্চ চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।”

তিনি আরো বলেন, সাধারণ মানুষকে অনলাইন প্রতারণা, অবৈধ ক্যাসিনো ও তাই জুয়ার মতো অপরাধ সম্পর্কে সচেতন হতে হবে। জেলা পুলিশ অপরাধ দমনে যেমন কঠোর অবস্থানে রয়েছে, তেমনি জনসচেতনতামূলক আগামীতে কার্যক্রম ও অব্যাহত থাকবে।

নীলফামারী জেলা পুলিশ সুপার ফরহাদ হোসেন খানের নেতৃত্বে সাইবার অপরাধ দমনে সক্রিয় নীলফামারী জেলা পুলিশ 

নগদ টাকার লেনদেনের ঝুঁকি কমাতে পীরগঞ্জে পূবালী ব্যাংক পিএলসির বাংলা কিউআর বুথ উদ্বোধন।

 

মোঃআশরাফুল ইসলাম

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি:

 

বাংলাদেশ সরকারের ‘ক্যাশলেস বাংলাদেশ’ বিনির্মাণ উদ্যোগ এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ঠাকুরগাঁও জেলার পীরগঞ্জে পূবালী ব্যাংক পিএলসি শাখার উদ্যোগে বাংলা কিউআর (Bangla QR) বুথ উদ্বোধন করা হয়েছে।

 

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) উপজেলার হায়দার আলী মার্কেট প্রাঙ্গণে আনুষ্ঠানিকভাবে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। এর মাধ্যমে সাধারণ গ্রাহকদের আধুনিক ডিজিটাল ব্যাংকিং সেবার আওতায় এনে নিরাপদ, দ্রুত ও স্বচ্ছ আর্থিক লেনদেনে উৎসাহিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

 

 

উদ্বোধন উপলক্ষে পূবালী ব্যাংক পিএলসি, পীরগঞ্জ শাখার আয়োজনে একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের করা হয়। র‌্যালিটি পীরগঞ্জের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে পুনরায় হায়দার আলী মার্কেটে এসে শেষ হয়।

 

পরে অতিথিরা ফিতা কেটে ও বেলুন উড়িয়ে বাংলা কিউআর বুথের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। র‌্যালিতে ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পাশাপাশি স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ অংশ নেন।

 

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পীরগঞ্জ সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মোহাম্মদ বদরুল হুদা। বিশেষ অতিথি ছিলেন পূবালী ব্যাংক পিএলসির ঠাকুরগাঁও শাখার উপ-মহাব্যবস্থাপক ও শাখা প্রধান মো. আব্দুর রাজ্জাক। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক মো. ইমদাদুর রহমান, মো. জিল্লুর রহমান জুয়েল ও মো. রুহুল আমিন। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন ঠাকুরগাঁও জেলার পীরগঞ্জ ব্যবসায়ী সমিতি, সভাপতি মো. হাবিবুর রহমান জীবনসহ পূবালী ব্যাংক পিএলসির বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

 

 

প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রফেসর মোহাম্মদ বদরুল হুদা বলেন, বর্তমান সময়ে ডিজিটাল লেনদেন আধুনিক অর্থনীতির অন্যতম ভিত্তি। একটি স্মার্ট ও প্রযুক্তিনির্ভর বাংলাদেশ গড়ে তুলতে নগদ লেনদেনের বিকল্প হিসেবে ক্যাশলেস ব্যবস্থার সম্প্রসারণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাংলা কিউআর ব্যবস্থার মাধ্যমে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী থেকে বড় প্রতিষ্ঠান—সবাই দ্রুত, সহজ, নিরাপদ ও স্বল্প ব্যয়ে ডিজিটাল লেনদেন করতে পারবেন।

তিনি আরও বলেন, ক্যাশলেস লেনদেন আর্থিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে। পাশাপাশি কর ও ভ্যাট ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার পাশাপাশি অর্থপাচার ও দুর্নীতি প্রতিরোধেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তিনি ব্যবসায়ীদের ডিজিটাল লেনদেনে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান এবং সাধারণ মানুষকে প্রযুক্তিনির্ভর আর্থিক সেবা ব্যবহারে উৎসাহিত করেন।

 

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পূবালী ব্যাংক পিএলসির ঠাকুরগাঁও শাখার উপ-মহাব্যবস্থাপক ও শাখা প্রধান মো. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, এক দেশ, এক কিউআর লেনদেন—বাংলা কিউআর এই স্লোগানকে ধারণ করে বাংলাদেশ সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংক একটি ক্যাশলেস বাংলাদেশ গড়ে তোলার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। সেই উদ্যোগকে সফল করতে পূবালী ব্যাংক পিএলসি দেশব্যাপী ধারাবাহিকভাবে ক্যাশলেস ক্যাম্পেইন পরিচালনা করছে।

 

তিনি বলেন, এই ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে পীরগঞ্জ শাখার উদ্যোগে এ ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন করা হয়েছে। উপজেলার সব শ্রেণি-পেশার মানুষের কাছে ডিজিটাল লেনদেনের সহজ পদ্ধতি পৌঁছে দেওয়া এবং আধুনিক ব্যাংকিং সেবায় তাদের উদ্বুদ্ধ করাই এ কর্মসূচির মূল লক্ষ্য।

 

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংকের ক্যাশলেস বাংলাদেশ বাস্তবায়ন কর্মসূচিতে পূবালী ব্যাংক অগ্রণী ভূমিকা রাখতে বদ্ধপরিকর। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও)-এর নির্দেশনায় দেশের প্রতিটি জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন, ওয়ার্ড এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলে এই ক্যাম্পেইন পরিচালিত হচ্ছে। বাংলাদেশ সম্পূর্ণ ক্যাশলেস না হওয়া পর্যন্ত এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

 

মো. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ক্যাশলেস অর্থনীতির অন্যতম বড় সুবিধা হলো কাগজের নোট ছাপাতে সরকারের বিপুল ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে। ফলে সেই অর্থ দেশের উন্নয়ন ও উৎপাদনশীল খাতে বিনিয়োগ করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে ডিজিটাল লেনদেনের প্রসারের মাধ্যমে আর্থিক কার্যক্রম আরও নিরাপদ, স্বচ্ছ ও গতিশীল হবে এবং স্মার্ট বাংলাদেশ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

 

তিনি জানান, পূবালী ব্যাংক পিএলসি শুধু শহরাঞ্চলেই নয়, গ্রামাঞ্চলের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, দোকানদার ও সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় ক্যাশলেস ব্যাংকিং সেবা পৌঁছে দিতে নিরলসভাবে কাজ করছে। ব্যাংকের লক্ষ্য হলো প্রতিটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান—এমনকি ছোট চায়ের দোকান ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের কাছেও বাংলা কিউআরভিত্তিক ডিজিটাল লেনদেনের সুবিধা পৌঁছে দেওয়া। এর মাধ্যমে নগদ অর্থের ব্যবহার কমিয়ে নিরাপদ, স্বচ্ছ ও আধুনিক লেনদেন ব্যবস্থা সবার জন্য সহজলভ্য করা সম্ভব হবে।

 

আরও বক্তব্য রাখেন পূবালী ব্যাংক পিএলসি, পীরগঞ্জ শাখা প্রধান পরেশ চন্দ্র রায়। তিনি বলেন, বাংলা কিউআর ব্যবহারের মাধ্যমে গ্রাহকরা খুব সহজে, দ্রুত ও নিরাপদভাবে অর্থ লেনদেন করতে পারবেন। এতে নগদ অর্থ বহনের ঝুঁকি কমবে এবং ব্যবসায়ীদের লেনদেন আরও স্বচ্ছ ও সহজ হবে।

 

তিনি আরও বলেন, পূবালী ব্যাংক পিএলসি গ্রাহকদের আধুনিক ব্যাংকিং সেবার সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে নিরলসভাবে কাজ করছে। বাংলা কিউআর ব্যবহারে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের ডিজিটাল লেনদেনে উৎসাহিত করাই এ কার্যক্রমের মূল উদ্দেশ্য। তিনি সকল ব্যবসায়ী ও গ্রাহককে বাংলা কিউআর ব্যবহার করে ক্যাশলেস লেনদেনে অভ্যস্ত হওয়ার আহ্বান জানান।

 

অনুষ্ঠানে উপস্থিত স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলেন, বর্তমানে মানুষ নিরাপদ, দ্রুত ও ঝামেলামুক্ত আর্থিক সেবা প্রত্যাশা করে। ক্যাশলেস লেনদেন সেই প্রত্যাশা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীরা সহজেই গ্রাহকদের কাছ থেকে ডিজিটালভাবে অর্থ গ্রহণ করতে পারবেন এবং আরও বেশি মানুষ আনুষ্ঠানিক ব্যাংকিং সেবার আওতায় আসবেন।

 

এ সময় আরেক ব্যবসায়ী নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য স্মার্টফোনের দাম সহনীয় করার বিষ

নগদ টাকার লেনদেনের ঝুঁকি কমাতে পীরগঞ্জে পূবালী ব্যাংক পিএলসির বাংলা কিউআর বুথ উদ্বোধন।

ডিমলা উপজেলায় শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক সুরক্ষায় বিভিন্ন উপকরণ বিতরণ

মাইদুল ইসলাম

স্টাফ রিপোর্টার: নীলফামারীর ডিমলা উপজেলায় বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) অর্থায়নে বিভিন্ন মাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষা উপকরণ, অতি দরিদ্র নারীদের মাঝে সেলাই মেশিন, শারীরিক প্রতিবন্ধীদের হুইলচেয়ার, আর্থিকভাবে অসচ্ছল পরিবারের মাঝে আর্থিক সহায়তা এবং যাত্রীদের মধ্যে স্বাস্থ্য সুরক্ষা বিষয়ক উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে। মঙ্গলবার

(১৪ জুলাই) উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গনে আয়োজিত এর বিতরণ সভা অনুষ্ঠিত হয় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নীলফামারী জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ নায়িরুজামান। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য সিলিং ফ্যান, উঁচু-নিচু বেঞ্চ ও খেলাধুলার বিভিন্ন সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া অতি দরিদ্র নারীদের আত্মকর্মসংস্থানের লক্ষে সেলাই মেশিন শারীরিক প্রতিবন্ধীদের চলাচলের সুবিধার্থে হুইলচেয়ার, আর্থিকভাবে অসচ্ছল পরিবারের সদস্যদের মাঝে নগদ আর্থিক সহায়তা এবং ছাত্রীদের স্বাস্থ্য সচেতনতা ও নিরাপদ স্বাস্থ্য ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্য সুরক্ষা বিষয়ক উপকরণ বিতরণ করা হয়। প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজামান বলেন, সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রমের মূল লক্ষ্য হলো সমাজের সকল শ্রেণী পেশার মানুষের

জীবনমান উন্নয়ন করা। শিক্ষা, স্বাস্থ্য,নারীর ক্ষমতায়ন ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। এসব সহায়তা মানুষের জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ প্রেমিকা রাখবে। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ ইমরানুজ্জামান। এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) রওশন কবির , উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান, শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং স্থানীয় গণমাধ্যম ব্যক্তিবর্গ। অনুষ্ঠান শেষে প্রধান অতিথি বিভিন্ন শ্রেণী পেশার উপকারভোগীদের হাতে শিক্ষা উপকরণ, সেলাই মেশিন,

হুইলচেয়ার, আর্থিক সহায়তা এবং স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রী তুলে দেন উপস্থিত উপকারভোগীরা সরকারের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে সংশ্লিষ্টদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

ডিমলা উপজেলায় শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক সুরক্ষায় বিভিন্ন উপকরণ বিতরণ 

ইউক্রেনের প্রধানমন্ত্রী ইউলিয়া সভিরিদেঙ্কো পদত্যাগ করেছেন। দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সরকারের কার্যক্রমে নতুন গতি আনতে মন্ত্রিসভায় ব্যাপক রদবদলের উদ্যোগ নেওয়ার পর তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন।

মঙ্গলবার ইউক্রেনের পার্লামেন্ট প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগপত্র গ্রহণ করে। এর ফলে নতুন প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভা গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সরকার পুনর্গঠনের মাধ্যমে যুদ্ধকালীন প্রশাসনকে আরও কার্যকর ও দক্ষ করার লক্ষ্য রয়েছে বলে জানিয়েছে প্রেসিডেন্টের কার্যালয়।

ইউলিয়া সভিরিদেঙ্কো দায়িত্ব পালনকালে দেশের অর্থনীতি, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং যুদ্ধকালীন প্রশাসনিক কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তবে নতুন পরিস্থিতির আলোকে সরকারে পরিবর্তন আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

নতুন প্রধানমন্ত্রী কে হবেন, সে বিষয়ে শিগগিরই আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হতে পারে।

পদত্যাগ করলেন প্রধানমন্ত্রী

বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনের পরিবর্তনের দাবি জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মূখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।

 

আজ মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের ভেরিফাইড একাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ দাবি জানান।

 

ফেসবুক পোস্টে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী লিখেছেন, ‌‌দেশের অর্থনীতি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা খাতকে গতিশীল করতে অর্থমন্ত্রী, স্বাস্থ্যমন্ত্রী, শিক্ষামন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী-এই চারজনকেই পরিবর্তন করা উচিত।

 

 

 

প্রসঙ্গত, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া ও জলাবদ্ধতার মধ্যে এইচএসসি পরীক্ষা চালিয়ে যাওয়া সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনের পদত্যাগের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলছে সরব আলোচনা। এর মধ্যে এই দাবিতে রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন কলেজের শিক্ষার্থীরা আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে।

 

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ ৪ মন্ত্রীর পরিবর্তন চাইলেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

জামালপুর সদর উপজেলার রশিদপুর ইউনিয়নের পাকুল্যা ভাঙ্গুনী ঘাট থেকে গজারীআটা ভাঙা ব্রিজ পর্যন্ত প্রায় আড়াই কিলোমিটার গ্রামীণ সড়কের ইট তুলে বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে একটি প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে। সড়কটি পাকা করার কথা বলে সংসদ-সদস্যকে দিয়ে উদ্বোধন করিয়ে ইট তুলে নেওয়া হলেও পরে জানা যায়, ওই সড়কের কোনো উন্নয়ন প্রকল্পই ছিল না। এতে কয়েকটি গ্রামের হাজারো মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।

 

স্থানীয়রা জানান, কয়েক বছর আগে সড়কটিতে ইটের সলিং নির্মাণ করা হয়। এতে পাকুল্যা, গজারীআটা, গুপীনাথপুর, হাটুভাঙ্গা, ডুয়াইলপাড়াসহ আশপাশের গ্রামের মানুষের যাতায়াত সহজ হয়। প্রায় দুই মাস আগে ঠিকাদার পরিচয়ে একটি চক্র সড়কটি পাকা করার কথা বলে পুরো সড়কের ইট খুলে নিয়ে যায়। তখন সংসদ-সদস্যসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে উদ্বোধন হওয়ায় প্রথমে কেউ সন্দেহ করেননি।

 

পরে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) থেকে জানা যায়, ওই সড়ক পাকা করার কোনো প্রকল্প বা দরপত্রই হয়নি। একইভাবে সদর উপজেলার আরও দুটি গ্রামীণ সড়ক থেকেও ইট তুলে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। ইট তুলে নেওয়ার পর সড়কজুড়ে বড় বড় গর্ত ও কাদার সৃষ্টি হয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই পানি জমে চলাচল প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে।

 

পাকুল্যা গ্রামের সাইদুর রহমান বলেন, রাস্তা বেহালের কারণে কৃষিপণ্য সময়মতো বাজারে নিতে না পারায় ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন কৃষকরা। জামালপুর এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী রোজদিদ আহম্মেদ বলেন, সদর উপজেলার তিনটি সড়ক থেকে ইট তুলে নেওয়ার ঘটনায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধির পক্ষ থেকে মামলা করা হয়েছে।

 

সংসদ-সদস্য অ্যাডভোকেট শাহ মো. ওয়ারেছ আলী মামুন যুগান্তরকে বলেন, প্রতারক চক্র উন্নয়ন কাজের কথা বলে তাকে উদ্বোধনে নিয়ে যায়। পরে প্রকৃত ঘটনা জানতে পেরে তার উদ্যোগে মূল হোতা আবদুল মান্নানসহ ১১ জনকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয় এবং মামলা করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তিনি জানান, দ্রুত দরপত্র আহ্বান করে সড়কটি সংস্কারের ব্যবস্থা করা হবে।

এমপিকে দিয়ে উদ্বোধন পরে সড়কের ইট বিক্রি

সোমবার (১৩ জুলাই) দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের বন্যা সংক্রান্ত হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

 

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বন্যাকবলিত এলাকায় বর্তমানে ১ লাখ ৫৫ হাজার ৩১১টি পরিবার পানিবন্দি রয়েছে। খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, বান্দরবান, কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ এই সাত জেলায় মোট ৬ লাখ ৯ হাজার ৪১১ জন মানুষ বন্যা ও পাহাড়ি ঢলের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

 

প্রাণ হারানো ৫৪ জনের মধ্যে ৩১ জনই মারা গেছেন কক্সবাজারে। এছাড়া চট্টগ্রামে ১৩, বান্দরবানে ৬, রাঙামাটিতে ৩ ও মৌলভীবাজারে ১ জনের মৃত্যু হয়েছে।

 

ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় সরকারিভাবে ১ হাজার ৪২টি আশ্রয়কেন্দ্র চালু করা হয়েছে। এসব কেন্দ্রে ইতোমধ্যে ৩৮ হাজার ৪২২ জন আশ্রয় নিয়েছেন বলে জানিয়েছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়।

বন্যা ও পাহাড় ধসে সাত জেলায় প্রাণহানি বেড়ে ৫৪

সোমবার বিকেল সাড়ে ৫টার ছোট চণ্ডীপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন—উপজেলার ছোট চণ্ডীপুর গ্রামের বাসিন্দা সবিতা রাণী (৩৩) ও তার মেয়ে পল্লবী রাণী (১৫)।

 

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে নিজ বাড়ির একটি কক্ষে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না প্যাঁচানো অবস্থায় মা ও মেয়েকে ঝুলতে দেখেন প্রতিবেশীরা। তখন তারা দরজা ভেঙে ঘরে ঢুকে দুজনকে নিচে নামিয়ে পুলিশে খবর দেন।

 

পার্বতীপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ওয়াদুদ আলী জানান, প্রতিবেশীরা দরজা ভেঙে ঘরে ঢুকে মা ও মেয়েকে ঝুলন্ত অবস্থা থেকে উদ্ধার করে মাটিতে নামিয়ে রাখেন। তবে কী কারণে এ ঘটনা ঘটেছে, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। লাশ দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

একই ঘরে মা-মেয়ের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করল প্রতিবেশীরা

বিয়ের দাওয়াত খেয়ে ক্যাম্পাসে ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের এনভায়রনমেন্টাল সাইন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী মো. জাহিদ হাসান। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের ছাত্র ।

সোমবার বিকেল ৫টার দিকে টাঙ্গাইলের সাগরদিঘী এলাকায় সিএনজি চালিত অটোরিকশা ও মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত জাহিদের বাড়ি টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলার ভারই গ্রামে।

 

‎পারিবারিক ও ক্যাম্পাস সূত্রে জানা যায়, জাহিদ টাঙ্গাইলে একটি বিয়ের দাওয়াত শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিরছিলেন। সাগরদিঘী নামক স্থানে তাকে বহনকারী সিএনজি অটোরিকশার সাথে মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এ সময় জাহিদ সিএনজির সামনের সিটে বসা ছিলেন। সংঘর্ষের ফলে তিনি বুকে প্রচণ্ড আঘাত পান এবং ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

 

‎তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মোশারফ হোসেন। উপাচার্যের অনুমোদনক্রমে বিশ্ববিদ্যালয় পরিবহন প্রশাসন থেকে জাহিদের জানাজায় অংশ নেওয়ার জন্য শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সুবিধার্থে একটি বিশেষ বাস দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

বিয়ে বাড়ি থেকে ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী নিহত

র‌্যাবের চৌকস অভিযানে জীপসহ প্রায় ১১ হাজার ইয়াবার চালান আটক

জামালপুর হামলা পাল্টা হামলার মধ্য দিয়ে জেলার সানন্দবাড়ী তে থমথমে অবস্থা বিরাজমান।

error: আপনি নিউজ চুরি করার চেষ্টা করছেন। বিশেষ প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন ০১৭৬৭৪৪৪৩৩৩
%d