বোয়িং-বিমান চুক্তি আজ, ৩৫ হাজার কোটি টাকায় কেনা হবে ১৪টি উড়োজাহাজ - Gono television | বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল।
বোয়িং-বিমান চুক্তি আজ, ৩৫ হাজার কোটি টাকায় কেনা হবে ১৪টি উড়োজাহাজ

বোয়িং-বিমান চুক্তি আজ, ৩৫ হাজার কোটি টাকায় কেনা হবে ১৪টি উড়োজাহাজ

 

দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি করতে যাচ্ছে সরকার। ৩৫ হাজার কোটি টাকায় আমেরিকান বোয়িং কোম্পানির ১৪টি জাহাজ কিনবে রাষ্ট্রীয় সংস্থা বিমান।

 

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সন্ধ্যায় রাজধানীর একটি হোটেলে আনুষ্ঠানিক এই চুক্তি সই হবে।

 

প্রস্তাবিত এই চুক্তির আওতায় বিমান মোট ১৪টি নতুন উড়োজাহাজ কিনবে। এর মধ্যে রয়েছে ৮টি বোয়িং ৭৮৭-১০ ড্রিমলাইনার, ২টি বোয়িং ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনার, ৪টি বোয়িং ৭৩৭-৮ ম্যাক্স জেট।

 

বিমানের পক্ষে সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও কাইজার সোহেল আহমেদ এবং বোয়িংয়ের পক্ষে তাদের একজন প্রতিনিধি চুক্তিতে সই করবেন।

 

অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা, প্রতিমন্ত্রী এম রাশিদুজ্জামান মিল্লাত এবং মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন উপস্থিত থাকবে।


 

বর্তমান সরকার শ্রমিকদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, নারী-পুরুষের সমান মজুরি নিশ্চিতেও আমরা বদ্ধপরিকর।

 

মহান মে দিবস উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) গণমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে তিনি এসব কথা বলেন।

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) মোট ৩৯ কনভেনশন এবং একটি প্রোটোকল অনুস্বাক্ষর করেছে। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার সঙ্গে নিবিড় ও সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার বিষয়ে বাংলাদেশ সরকার বদ্ধপরিকর। সে লক্ষ্যেই বিগত ঈদুল ফিতরে দেশের সব শ্রমিকের বেতন, বোনাস ও অন্যান্য সুবিধাদি সময়মতো পরিশোধের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও এ ধারা অব্যাহত রাখা হবে।

 

মে দিবসে এ বছরের প্রতিপাদ্য ‘সুস্থ শ্রমিক, কর্মঠ হাত, আসবে এবার নব প্রভাত।’ এ প্রতিপাদ্যের অন্তর্নিহিত প্রেরণাকে ধারণ করেই বিশ্বের সব দেশের সঙ্গে বাংলাদেশেও পালিত হচ্ছে মহান মে দিবস।

 

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, মহান মে দিবস এবং জাতীয় পেশাগত স্বাস্থ্য ও সেইফটি দিবস ২০২৬ উপলক্ষে বাংলাদেশসহ বিশ্বের সব শ্রমজীবী-কর্মজীবী মানুষের প্রতি জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা এবং অভিনন্দন। ১৮৮৬ সালের মে মাসে ৮ ঘণ্টা কর্মদিবসসহ শ্রমিকের ন্যায্য অধিকার আদায় করতে গিয়ে আমেরিকার শিকাগো শহরের ‘হে মার্কেটে’ যারা জীবন দিয়েছেন এবং সেই থেকে আজ পর্যন্ত বিশ্বের দেশে দেশে শ্রমজীবী-কর্মজীবী মানুষ যারা নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় হতাহত হয়েছেন তাদের প্রত্যেককে গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করছি।

 

তারেক রহমান বলেন, শ্রমজীবী-কর্মজীবী মানুষই যেকোনো দেশের উন্নয়ন, সমৃদ্ধি আর অগ্রযাত্রার প্রধান অবলম্বন। শ্রমিকের নিরলস পরিশ্রমেই গড়ে ওঠে শিল্প, কৃষি, অবকাঠামো ও সমৃদ্ধ অর্থনীতি। তাই তাদের জীবনমান উন্নয়ন, ন্যায্য অধিকার নিশ্চিতকরণ, নিরাপদ কর্মপরিবেশ সৃষ্টি এবং সামাজিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠা বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকারের প্রধানতম অঙ্গীকার। শ্রমবান্ধব নীতি, কর্মসংস্থান সম্প্রসারণ এবং কল্যাণমূলক উদ্যোগের মাধ্যমে শ্রমজীবী মানুষের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন নিশ্চিত করা সম্ভব।

 

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বিশ্বাস করতেন শ্রমিকের দুটো হাত রাষ্ট্র এবং সমাজের সমৃদ্ধি ও উন্নয়নের চাবিকাঠি। শ্রমজীবী-কর্মজীবী মানুষের কল্যাণের কথা ভেবেই শহীদ জিয়া নানা যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন। তার প্রবর্তিত নীতি ও সংস্কার শ্রমিক কল্যাণের ভিতকে শক্তিশালী করেছে। বিদেশে, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে শ্রমবাজার তৈরি করেছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। সেই প্রবাসী শ্রমিকরা বর্তমানে বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম ভিত্তি।

 

তিনি বলেন, বিএনপি যতবার ক্ষমতায় এসেছে, শ্রমজীবী-কর্মজীবী মানুষের কল্যাণে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে। দেশে শ্রম আইন সংস্কার ও আধুনিকীকরণ, বেতন ও মজুরি কমিশন গঠন, গার্মেন্টস শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ, বাস্তবায়ন ও তাদের বোনাস প্রদানের ব্যবস্থা গ্রহণ, শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশন গঠন, গার্মেন্টস শ্রমিকদের সন্তানদের চিকিৎসা ও তাদের লেখাপড়ার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে বাংলাদেশের শ্রমিক সমাজের ভাগ্যোন্নয়নে যথাযথ কর্মসূচি বিএনপি সরকারই গ্রহণ করেছিল।

 

তিনি আরও বলেন, আমাদের দেশে সবচেয়ে বেশি শ্রমিক রয়েছে পোশাক শিল্পে। এই শিল্পে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের অবদান অবিস্মরণীয়। পোশাক শ্রমিকদের কল্যাণে দেশ আজ ক্রমবর্ধমান অগ্রগতির দিকে ধাবিত হচ্ছে।

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার বিশ্বাস শ্রমিকের নিরাপত্তা, মর্যাদা ও কল্যাণ নিশ্চিত হলেই সমৃদ্ধ স্বনির্ভর গণতান্ত্রিক মানবিক বাংলাদেশ বিনির্মাণ সম্ভব হবে। সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে কাঙ্খিত বাংলাদেশ গঠনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী।

দেশের বাজারে আরও কমলো স্বর্ণের দাম

রাজশাহীর চারঘাটে স্বামীকে বেঁধে রেখে স্ত্রীকে তুলে নিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বুধবার (২৯ এপ্রিল) চারঘাট মডেল থানায় একটি মামলা হয়েছে।

এর আগে মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) রাত ১টার দিকে উপজেলার সরদহ রেলস্টেশনে এ ঘটনা ঘটে। ট্রেনে পপকর্ন বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করেন এই দম্পতি।

 

 

পুলিশ ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা গেছে, নাটোর সদর উপজেলার ওই দম্পতি প্রতিদিনের মতো মঙ্গলবার বিকেলে ট্রেনে পপকর্ন বিক্রির জন্য বাড়ি থেকে বের হন। ঢাকা থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জগামী ‘ঢাকা মেইল’ ট্রেনে পপকর্ন বিক্রি শেষে রাত প্রায় ১টার দিকে তারা সরদহ স্টেশনে নামেন। পরে স্টেশনসংলগ্ন একটি চায়ের দোকানে বসে বিস্কুট খাচ্ছিলেন তারা। এ সময় এক ব্যক্তি লাঠি ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালাহামলাকারী প্রথমে স্বামীকে লাঠি দিয়ে আঘাত করে গুরুতর আহত করে এবং তাকে একটি পরিত্যক্ত দোকানের পাশে বেঁধে রাখে। এরপর তার স্ত্রীকে স্টেশনসংলগ্ন জঙ্গলে নিয়ে ধর্ষণ করে। এ সময় তাদের পপকর্ন বিক্রির টাকা ছিনিয়ে নিয়ে যায় বলেও অভিযোগ করেছেন তারা।

 

ভুক্তভোগীর স্বামী জানান, তিনি চিৎকার করলে প্রায় ৪৫ মিনিট পর আশপাশের লোকজন এসে তাকে উদ্ধার করে। পরে তিনি জঙ্গল থেকে তার স্ত্রীকে উদ্ধার করেন। স্থানীয়দের মাধ্যমে অভিযুক্তের নাম আশরাফুল ইসলাম বলে জানতে পারেন। আশরাফুল চারঘাট উপজেলার হলিদাগাছীর বাসিন্দাএ বিষয়ে সরদহ স্টেশনের মাস্টার ইকবাল কবির বলেন, ‘রাতে যখন ঘটনাটি ঘটে তখন স্টেশনে তিনজন স্টাফ দায়িত্বে ছিলেন। তারা বিষয়টি পরে জেনেছেন। পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত করছে।’

 

চারঘাট মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মালেক জানান, এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। অভিযুক্তকে গ্রেফতারে অভিযান চলছে।।য়।

রেলস্টেশনে স্বামীকে বেঁধে রেখে স্ত্রীকে তুলে নিয়ে ধর্ষণ

রাজধানীর কামরাঙ্গীরচর ও কেরানীগঞ্জ এলাকায় অভিযান চালিয়ে উগ্রবাদী সংগঠনের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে দুটি আগ্নেয়াস্ত্র, গুলি, জিহাদি বই, ড্রোনসহ বিস্ফোরক দ্রব্য ও সামরিক পোশাক উদ্ধার করা হয়েছে।পুলিশের দাবি, তারা বাংলাদেশের অখণ্ডতা, সংহতি, জননিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব বিপন্ন করার পরিকল্পনা করছিলেন।

 

গ্রেপ্তার চারজন হলেন মো. ইমরান চৌধুরী (২৯), মো. মোস্তাকিম চৌধুরী (২৫), রিপন হোসেন শেখ (২৮) ও আবু বক্কর (২৫)। ইমরান ও মোস্তাকিম আপন ভাই এবং তাদের গ্রামের বাড়ি হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলায়। রিপনের বাড়ি নওগাঁর রাণীনগর উপজেলায় এবং আবু বক্করের বাড়ি রাজধানীর কামরাঙ্গীরচরের রূপনগর এলাকায়।

 

গত সোমবার দিবাগত রাত থেকে মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত পৃথক অভিযানে তাদের আটক করা হয়। মামলার এজাহার অনুযায়ী, সোমবার দিবাগত রাত ৩টা ৫ মিনিটে কামরাঙ্গীরচরের তারা মসজিদ-সংলগ্ন কয়লাঘাট এলাকার একটি বাসা থেকে ইমরানকে গ্রেপ্তার করা হয়। মঙ্গলবার সকাল পৌনে ৬টার দিকে কেরানীগঞ্জের জিয়ানগর এলাকা থেকে মোস্তাকিমকে এবং সকাল ৮টা ৫৫ মিনিটে কামরাঙ্গীরচরের রসুলপুর শিকসন ব্রিজ-সংলগ্ন এলাকা থেকে রিপন ও আবু বক্করকে গ্রেপ্তার করা হয়।

 

পুলিশ সূত্র জানায়, গ্রেপ্তারকৃতরা মিয়ানমারকেন্দ্রিক রোহিঙ্গাদের সশস্ত্র সংগঠন আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মির (আরসা) সঙ্গে জড়িত বলে প্রাথমিকভাবে সন্দেহ করা হচ্ছে। তারা রাজধানীতে সংঘবদ্ধ হয়ে বিভিন্ন স্থানে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড ও গুপ্ত হামলার পরিকল্পনা করেছিলেন। এ লক্ষ্যে অস্ত্র, গুলি, ড্রোন ও অন্যান্য সরঞ্জাম সংগ্রহ করেন তারা। উদ্ধার করা সামরিক পোশাকগুলো আরসার বলে পুলিশের ধারণা। তবে ডিবির আরেকটি সূত্র জানায়, পাকিস্তানভিত্তিক সশস্ত্র সংগঠন তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তানের (টিটিপি) সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

 

বুধবার সন্ত্রাসবিরোধী আইনে কামরাঙ্গীরচর থানায় পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করে চারজনকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

 

বিকেলে ডিএমপি সদর দপ্তরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘তারা বিভিন্ন সন্ত্রাসী সংগঠনের সঙ্গে জড়িত থেকে সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালিয়ে আসছিলেন। রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলেই তাদের কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।’ উগ্রবাদীরা হঠাৎ মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে কি না—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘মাথাচাড়া দিচ্ছে এমনটি বলব না, আমি শুধু বলব যারা এসব কাজের সঙ্গে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অতীতেও ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আগামী দিনে যারা জড়াবে, তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

রাজধানীতে জঙ্গি সন্দেহে চারজন গ্রেপ্তার, অস্ত্র-ড্রোন-জিহাদি বই উদ্ধার

প্রতিবেদনঃ ওমর ফারুক

রাজধানীতে কিছুদিন পর পরই ঘটছে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যার ঘটনা। এতে আতঙ্কিত হয়ে পড়ছে নগরবাসী। আন্ডারওয়ার্ল্ডেও নতুন করে উত্তেজনা শুরু হয়েছে। চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের পর কারাগারে থাকা পাঁচ শীর্ষ সন্ত্রাসী জামিনে বেরিয়ে আসার পর রাজধানীতে আধিপত্য বিস্তারের লড়াই চলছে এবং সন্ত্রাসী গ্রুপগুলো চাঁদাবাজি ও খুনাখুনিতে জড়াচ্ছে বলে অনেকের ধারণা।

 

এ ছাড়া রাজধানীর বাইরেও হত্যাকাণ্ডের ঘটনা দিন দিন বেড়ে যাচ্ছে বলে পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্যেই প্রমাণ মিলছে।

 

পুলিশের পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৩ সালে সারা দেশে হত্যাকাণ্ডের মামলা হয়েছিল তিন হাজার ২৩টি। ২০২৪ সালে সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় তিন হাজার ৪৪২টিতে। আর গত বছর তা তিন হাজার ৭৮৬টিতে পৌঁছায়।

 

চলতি বছরের প্রথম তিন মাসেই (জানুয়ারি থেকে মার্চ) রাজধানীতে ৬১টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে জানুয়ারিতে ২১টি, ফেব্রুয়ারিতে ১৬টি এবং মার্চে ২৪টি খুনের ঘটনা ঘটে। এপ্রিলের প্রথম ২৮ দিনেই অন্তত ১৫টি খুনের ঘটনা ঘটেছে। আর গত জানুয়ারি থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত সারা দেশে ৮৫৪টি খুনের ঘটনা ঘটেছে।

 

এর মধ্যে জানুয়ারিতে ২৮৭টি, ফেব্রুয়ারিতে ২৫০ ও মার্চে ৩১৭টি হত্যা মামলা হয়। চলতি মাসেও দেশের বিভিন্ন স্থানে কয়েকটি চাঞ্চল্যকর হত্যার ঘটনা ঘটে। এসবের মধ্যে গত মঙ্গলবার রাতে রাজধানীর নিউমার্কেট এলাকায় প্রকাশ্যে গুলি করে শীর্ষ সন্ত্রাসী খন্দকার নাঈম আহমেদ টিটনকে হত্যা করা হয়। এই ক্রমবর্ধমান খুনের ঘটনা আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির নাজুক দশাকেই তুলে ধরছে বলে মানবাধিকারকর্মীরা মনে করছেন।

 

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, টিটন গত মঙ্গলবার রাতে আজিমপুরের দিক থেকে নিউমার্কেটের দিকে দ্রুত হেঁটে যাচ্ছিলেন।

 

এ সময় পেছন দিক থেকে মাস্ক পরা এক সন্ত্রাসী গিয়ে তাকে লক্ষ্য করে প্রথমে দুটি গুলি ছোড়ে। পরে আবার দৌড়ে তার কাছে গিয়ে আরও দুটি গুলি করে। এতে তিনি পড়ে যান। পরে আবার তার সামনে গিয়ে মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে গুলি করে। এ সময় লোকজন চিৎকার দিলে ওই দুর্বৃত্ত আরেকটি ফাঁকা গুলি করে দৌড়ে গিয়ে অপেক্ষায় থাকা সঙ্গীর মোটরসাইকেলের পেছনে বসে। এরপর তারা সামনের দিকে চলে যায়।

 

এ সময় রাস্তা দিয়ে অনেক মানুষ চলাচল করছিল। প্রকাশ্যে গুলির ঘটনা দেখে তারা দিগ্বিদিক দৌড়াতে শুরু করে। একই রকম দৃশ্য দেখা যায় গত বছর ১০ নভেম্বর সকাল ১০টার দিকে পুরান ঢাকার ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজের সামনে। সেখানে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হয় সন্ত্রাসী তারিক সাইদ মামুনকে। সেখানে দুজন মাস্ক পরা ব্যক্তি খুব কাছ থেকে তাকে গুলি করে হত্যা করে। কয়েক শ মানুষের মধ্য থেকে মামুনের পিছু নিয়ে গুলি করতে থাকে সন্ত্রাসীরা। এমন ভয়ংকর ঘটনার পর হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে এমন তথ্য পাওয়া যায়নি।

 

এর আগে ২০২৩ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর রাত ১০টার দিকে রাজধানীর তেজগাঁও শিল্পাঞ্চলের সিটি পেট্রল পাম্প ও বিজি প্রেসের মাঝামাঝি এলাকার মূল সড়কে যানজটে আটকে ছিলেন সেই মামুন। ওই দিন ১০-১২ জনের একটি দল প্রকাশ্যে ভিড়ের মধ্যে মামুনের গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি শুরু করে। একপর্যায়ে মামুন গাড়ি থেকে নেমে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন। তখন তাকে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয়। মামুন তখন প্রাণে বেঁচে গিয়েছিলেন। তবে তাকে লক্ষ্য করে ছোড়া গুলিতে ভুবন চন্দ্র শীল নামে একজন মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হন। এভাবেই রাজধানীতে ঘটে চলেছে প্রকাশ্যে হত্যাকাণ্ড।

 

গত বছরের ডিসেম্বরে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদীকেও রাজধানীর বুকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হয়েছিল। অনেক হত্যাকারী আবার নির্বিঘ্নে দেশের বাইরে পালিয়ে যাওয়ারও সুযোগ পাচ্ছে। ওসমান হাদীর দুই হত্যাকারী ভারতে গ্রেপ্তারের পর এ চিত্র সামনে এসেছে।

 

পুলিশ অবশ্য বলছে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে। এ জন্য পুলিশের নানামুখী প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে। ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার এস এন মো. নজরুল ইসলাম বলেন, ‘পুলিশ সজাগ রয়েছে। সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারে জোর তৎপরতা চালানো হচ্ছে।’

 

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এই ঘটনাগুলো সন্ত্রাসী গ্রুপের মধ্যে ঘটছে, যেখানে সাধারণ মানুষের ভয় পাওয়ার কিছু নেই।’

 

আইন ও সালিশ কেন্দ্রের সিনিয়র সমন্বয়কারী আবু আহমেদ ফয়জুল কবির বলেন, ‘সম্প্রতি দেশে গুলি করে হত্যার ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এসব ঘটনায় হতাহত হওয়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ও অস্বস্তি তৈরি হচ্ছে। নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্ব। কিন্তু মানুষ যখন নিরাপত্তাহীনতায় ভোগে তখন তারা আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তোলে।’

 

তিনি আরও বলেন, ‘গুলির ঘটনা শুধু অপরাধ নয়, এটি সমাজে ভয় ও অনিশ্চয়তা বাড়ায়। তাই দ্রুত অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীকে আরও সক্রিয় ও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে।’

 

সূত্র মতে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের পর দেশের কারাগারগুলো থেকে অনেক শীর্ষ সন্ত্রাসী জামিনে বেরিয়ে যান। এদের মধ্যে কিলার আব্বাস, পিচ্চি হেলাল, সানজিদুল ইসলাম ওরফে ইমন, খন্দকার নাঈম আহমেদ ওরফে টিটন এবং খোরশেদ আলম ওরফে ফ্রিডম রাসুর নাম উল্লেখযোগ্য। জেল থেকে বেরিয়েই তারা পুরনো আধিপত্য ফিরে পেতে মরিয়া হয়ে ওঠেন। জেল থেকে যারা বেরিয়ে এসেছে তাদের মধ্যে গত মঙ্গলবার রাজধানীতে খুন হলো টিটন।

৩ মাসে ৮৫৪ খুন, ঢাকাতেই ৬১ জন

 

পিতা আবুল বাশারের মৃত্যুর পরও প্যারোলে মুক্তি পাননি নিষিদ্ধ সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের বরিশাল মহানগরের ১৫ নং ওয়ার্ডের সভাপতি আহসান শাহরুখ। ফলে বাবার লাশ নিয়ে জেলগেটে যেতে হয়েছে স্বজনদের। বাবা-ছেলের শেষবারের মতো দেখা হয়েছে বরিশাল জেলগেটে।

 

বুধবার সকাল সাড়ে ১১টায় আহসান শাহরুখের পিতা আবুল বাশার মারা যান। এর আগে চলতি মাসেই পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হন আহসান শাহরুখ।

 

শাহরুখের স্বজন ও বন্ধু আল আমিন জানান, এ নিয়ে তিনবার আহসান শাহরুখকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শেষবার ওসি সাহেব সালাম দিতে বলেছেন জানিয়ে শাহরুখকে নিয়ে গেছেন। ছেলের চিন্তায় আবুল বাশারের এই মৃত্যু হয়েছে। আমরা প্যারোলে মুক্তির জন্য জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গেলে রাজনৈতিক মামলার কথা শোনার পর এক ঘণ্টা পর্যন্ত কেউ কোনো সহযোগিতা করেননি। শাহরুখের ভাই অনেক কাঁদছিলেন, তাতেও কারও মন গলেনি। পরে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের সঙ্গে জোর করে দেখা করলে তিনি বলেন, প্যারোলে মুক্তি দেওয়া সম্ভব নয়, জেলগেটে দেখা করতে হবে। এরপর জেলগেটে লাশ নিয়ে যাই। সেখানেও তিনজনের বেশি যেতে দেওয়া হয়নি। একটি লাশের খাট ধরতেও চারজন লাগে, অথচ আমাদের জেলগেটে তিনজন যেতে দেওয়া হয়েছে।

 

প্যারোলে মুক্তির আবেদনকারী আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. মিজানুর রহমান মিন্টু বলেন, প্যারোলে মুক্তির জন্য আবেদন করেছিলাম। তবে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক প্যারোলে মুক্তি দেওয়া সম্ভব নয় জানিয়ে জেলগেটে দেখা করতে বলেছেন। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ ঘটনার বেশ কয়েকটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে।

 

এ বিষয়ে জানতে বরিশালের জেলা প্রশাসক মো. খায়রুল আলম সুমনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

 

তবে বরিশালের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট উপমা ফারিসা বলেন, আমার কাছে প্যারোলে মুক্তির একটি আবেদন আসে। আবেদনটি জেলা প্রশাসক বরাবর ছিল। বিষয়টি আমি জেলা প্রশাসককে জানাই। তিনি অফিসে না থাকায় আবেদনটি হোয়াটসঅ্যাপে পাঠাই। তিনি আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে জেলগেটে দেখা করার সিদ্ধান্ত দেন। পুরো বিষয়টিতে তিনিই সিদ্ধান্ত নেন। পরে আমি সিদ্ধান্তের বিষয়টি স্বজনদের জানিয়ে দিই।

প্যারোলে মুক্তি মেলেনি, ছাত্রলীগ নেতা শাহরুখ মৃত বাবার লাশ দেখলেন জেলগেটে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, যত সময় পর্যন্ত দেশে বিদ্যমান সংবিধান আছে আমরা তার বিরুদ্ধে আন্দোলন করতে পারি কিন্তু কোনো পরিবর্তনের বিদ্রোহ করবো না। একজন নাগরিক হিসেবে এইটাই আমার দায়িত্ব।

 

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে তিনি এসব কথা বলেন। অধিবেশনে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ সভাপতিত্ব করেন।

 

জামায়াত আমির বলেন, ১৯৪৭ সালের সীমারেখাকে সম্মান করি, কারণ সেটিই বর্তমান বাংলাদেশের ভিত্তি। তবে নদী রক্ষা করতে না পারায় কিছু জমি হারানোর কথাও উল্লেখ করেন। তিনি দাবি করেন, ১৯৭০ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ বিপুল ভোট পেলেও সেই জনমতের যথাযথ সম্মান দেয়নি। পাকিস্তান সরকার যেমন ভোটের ফল অস্বীকার করেছিল, তেমনি আওয়ামী লীগও পরে সেই ভোটের মূল্যায়ন করতে ব্যর্থ হয়েছে বলে মন্তব্য করেন।

 

তিনি আরও বলেন, যে ভোটের সম্মান পাকিস্তানি সরকার না দেখানোর কারণে অনিবার্য হয়ে উঠলো মুক্তিযুদ্ধ। তারাই সেই ভোটটাকে আবার গলা টিপে হত্যা করলেন।

 

এছাড়া বাকশাল ও ১৯৭২ সালের সংবিধান নিয়েও জামায়াত আমির সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, পরবর্তীতে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সংবিধানে পরিবর্তন এনেছেন, তাই বর্তমান প্রেক্ষাপটে ৭২-এর সংবিধানে ফেরার প্রশ্ন তোলাও যৌক্তিক নয়।

 

তিনি আরও বলেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের গল্প শুনতে শুনতে এই মানুষগুলো ক্লান্ত। এখন আর গল্প শুনতে চায় না, তারা পদক্ষেপ দেখতে চায়। নির্বাচনের সময় আমরা কথা দিয়েছিলাম, কে সরকারে আসবে না আসবে, তা আল্লাহ তায়ালা নির্ধারণ করবেন। আমরা যদি সেই সুযোগ পাই, আমাদের প্রথম পদক্ষেপ হবে তিস্তা নদীতে প্রথম কোদাল কোপ দেওয়া। এখান থেকেই কাজ শুরু করবো।

 

জামায়াত আমির বলেন, সারা বাংলাদেশ কমবেশি ঘোরার সুযোগ হয়েছে। সত্যি বলতে, তিস্তাপাড়ের মানুষগুলোর মতো এত দুর্ভাগ্যপীড়িত মানুষ আমি দেশের আর কোথাও দেখিনি।

 

তিনি বলেন, আমি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে আমার কৃষক পিতাকে স্মরণ করি। তিনি ছিলেন একজন সাধারণ গ্রামের কৃষক। আমি কোনো বিলাসবহুল পরিবেশে জন্ম নেইনি; আমি অভুক্ত মানুষের সংগ্রাম দেখেই বড় হয়েছি। চৈত্র আর কার্তিক মাসে মানুষের কষ্ট সবচেয়ে বেশি হতো। তখন মানুষ বাংলা মাস নিয়েই বেশি কথা বলতো, এখন আমরা অনেকটাই ইংরেজিমুখী হয়ে গেছি।

 

চাঁদাবাজ কোনো দলের হতে পারে না বলে উল্লেখ করেন বিরোধীদলীয় নেতা। তিনি বলেন, এরা দলের নাম ভাঙানো বর্ণচোরা। এদের শনাক্ত করে এই সংসদ থেকে আমরা শপথ নেই, যেকোনো মূল্যে বাংলাদেশ থেকে চাঁদাবাজি নির্মূল করবো। দখলবাজির কারণে বিভিন্ন জায়গায় ইন-ফাইটে অনেক মূল্যবান জীবন ঝরে গেছে, আমি তাদের জন্য দুঃখ প্রকাশ করছি।

সংবিধানের বিরুদ্ধে আন্দোলন করতে পারি কিন্তু বিদ্রোহ করবো না: জামায়াত আমির

 

বর্তমান সরকার শ্রমিকদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, নারী-পুরুষের সমান মজুরি নিশ্চিতেও আমরা বদ্ধপরিকর।

 

মহান মে দিবস উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) গণমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে তিনি এসব কথা বলেন।

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) মোট ৩৯ কনভেনশন এবং একটি প্রোটোকল অনুস্বাক্ষর করেছে। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার সঙ্গে নিবিড় ও সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার বিষয়ে বাংলাদেশ সরকার বদ্ধপরিকর। সে লক্ষ্যেই বিগত ঈদুল ফিতরে দেশের সব শ্রমিকের বেতন, বোনাস ও অন্যান্য সুবিধাদি সময়মতো পরিশোধের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও এ ধারা অব্যাহত রাখা হবে।

 

মে দিবসে এ বছরের প্রতিপাদ্য ‘সুস্থ শ্রমিক, কর্মঠ হাত, আসবে এবার নব প্রভাত।’ এ প্রতিপাদ্যের অন্তর্নিহিত প্রেরণাকে ধারণ করেই বিশ্বের সব দেশের সঙ্গে বাংলাদেশেও পালিত হচ্ছে মহান মে দিবস।

 

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, মহান মে দিবস এবং জাতীয় পেশাগত স্বাস্থ্য ও সেইফটি দিবস ২০২৬ উপলক্ষে বাংলাদেশসহ বিশ্বের সব শ্রমজীবী-কর্মজীবী মানুষের প্রতি জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা এবং অভিনন্দন। ১৮৮৬ সালের মে মাসে ৮ ঘণ্টা কর্মদিবসসহ শ্রমিকের ন্যায্য অধিকার আদায় করতে গিয়ে আমেরিকার শিকাগো শহরের ‘হে মার্কেটে’ যারা জীবন দিয়েছেন এবং সেই থেকে আজ পর্যন্ত বিশ্বের দেশে দেশে শ্রমজীবী-কর্মজীবী মানুষ যারা নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় হতাহত হয়েছেন তাদের প্রত্যেককে গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করছি।

 

তারেক রহমান বলেন, শ্রমজীবী-কর্মজীবী মানুষই যেকোনো দেশের উন্নয়ন, সমৃদ্ধি আর অগ্রযাত্রার প্রধান অবলম্বন। শ্রমিকের নিরলস পরিশ্রমেই গড়ে ওঠে শিল্প, কৃষি, অবকাঠামো ও সমৃদ্ধ অর্থনীতি। তাই তাদের জীবনমান উন্নয়ন, ন্যায্য অধিকার নিশ্চিতকরণ, নিরাপদ কর্মপরিবেশ সৃষ্টি এবং সামাজিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠা বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকারের প্রধানতম অঙ্গীকার। শ্রমবান্ধব নীতি, কর্মসংস্থান সম্প্রসারণ এবং কল্যাণমূলক উদ্যোগের মাধ্যমে শ্রমজীবী মানুষের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন নিশ্চিত করা সম্ভব।

 

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বিশ্বাস করতেন শ্রমিকের দুটো হাত রাষ্ট্র এবং সমাজের সমৃদ্ধি ও উন্নয়নের চাবিকাঠি। শ্রমজীবী-কর্মজীবী মানুষের কল্যাণের কথা ভেবেই শহীদ জিয়া নানা যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন। তার প্রবর্তিত নীতি ও সংস্কার শ্রমিক কল্যাণের ভিতকে শক্তিশালী করেছে। বিদেশে, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে শ্রমবাজার তৈরি করেছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। সেই প্রবাসী শ্রমিকরা বর্তমানে বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম ভিত্তি।

 

তিনি বলেন, বিএনপি যতবার ক্ষমতায় এসেছে, শ্রমজীবী-কর্মজীবী মানুষের কল্যাণে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে। দেশে শ্রম আইন সংস্কার ও আধুনিকীকরণ, বেতন ও মজুরি কমিশন গঠন, গার্মেন্টস শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ, বাস্তবায়ন ও তাদের বোনাস প্রদানের ব্যবস্থা গ্রহণ, শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশন গঠন, গার্মেন্টস শ্রমিকদের সন্তানদের চিকিৎসা ও তাদের লেখাপড়ার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে বাংলাদেশের শ্রমিক সমাজের ভাগ্যোন্নয়নে যথাযথ কর্মসূচি বিএনপি সরকারই গ্রহণ করেছিল।

 

তিনি আরও বলেন, আমাদের দেশে সবচেয়ে বেশি শ্রমিক রয়েছে পোশাক শিল্পে। এই শিল্পে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের অবদান অবিস্মরণীয়। পোশাক শ্রমিকদের কল্যাণে দেশ আজ ক্রমবর্ধমান অগ্রগতির দিকে ধাবিত হচ্ছে।

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার বিশ্বাস শ্রমিকের নিরাপত্তা, মর্যাদা ও কল্যাণ নিশ্চিত হলেই সমৃদ্ধ স্বনির্ভর গণতান্ত্রিক মানবিক বাংলাদেশ বিনির্মাণ সম্ভব হবে। সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে কাঙ্খিত বাংলাদেশ গঠনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী।

 

দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি করতে যাচ্ছে সরকার। ৩৫ হাজার কোটি টাকায় আমেরিকান বোয়িং কোম্পানির ১৪টি জাহাজ কিনবে রাষ্ট্রীয় সংস্থা বিমান।

 

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সন্ধ্যায় রাজধানীর একটি হোটেলে আনুষ্ঠানিক এই চুক্তি সই হবে।

 

প্রস্তাবিত এই চুক্তির আওতায় বিমান মোট ১৪টি নতুন উড়োজাহাজ কিনবে। এর মধ্যে রয়েছে ৮টি বোয়িং ৭৮৭-১০ ড্রিমলাইনার, ২টি বোয়িং ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনার, ৪টি বোয়িং ৭৩৭-৮ ম্যাক্স জেট।

 

বিমানের পক্ষে সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও কাইজার সোহেল আহমেদ এবং বোয়িংয়ের পক্ষে তাদের একজন প্রতিনিধি চুক্তিতে সই করবেন।

 

অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা, প্রতিমন্ত্রী এম রাশিদুজ্জামান মিল্লাত এবং মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন উপস্থিত থাকবে।

বোয়িং-বিমান চুক্তি আজ, ৩৫ হাজার কোটি টাকায় কেনা হবে ১৪টি উড়োজাহাজ

সামাজিকযোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক প্রচার হওয়া চট্টগ্রামে জলাবদ্ধতার খবরটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, বানোয়াট, কাল্পনিক বলে দাবি করেছেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি বলেছেন, ২০২৪ সালের ছবি প্রচার করে একটি অপপ্রচার চালানো হয়েছিল বলে জানান তিনি।

 

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে তিনি এসব কথা বলেন। অধিবেশনে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ সভাপতিত্ব করেন।

 

প্রতিমন্ত্রী বলেন, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ সবাইকে নিয়ে গতকাল এবং আজকে দুপুর পর্যন্ত সেখানে ঘুরেছি। মাঝে মাঝে রাস্তার মধ্যে নেমে সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা এইটুকু বলেছে, ‘যে খবরে এবং সামাজিকযোগাযোগ মাধ্যমের নিউজে প্রধানমন্ত্রী নগরবাসীর কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছেন, এতে তারা খুব আনন্দিত ও খুশি হয়েছে।’

 

তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত বড় মনের পরিচয় দিয়েছেন, আমাদের একজন সংসদ সদস্য খবরের উপর ভিত্তি করেই উনি দুঃখ প্রকাশ করেছেন। এটা নগরবাসী খুবই পজেটিভ নিয়েছে, এবং তারা বলেছে, ‘আজ থেকে এক বছর আগে দুই বছর আগে যে পরিমাণ জলাবদ্ধতা হতো এখন সেটি নেই।’

 

প্রতিমন্ত্রী জানান, চট্টগ্রাম নগরীতে ৫৭টি খালের মধ্যে ৩৬টি খাল ১২ হাজার কোটি টাকার প্রকল্পে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ও সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ারিং ব্রিগেড বাস্তবায়ন করছে। এর মধ্যে ৩০টি খালের কাজ শেষ হয়েছে, আর ৬টির কাজ চলমান।

 

তিনি আরও বলেন, এসব খালের কাজে কিছু স্থানে বাঁধ দেওয়ায় হঠাৎ ২২০ মিলিমিটার অতিবৃষ্টিতে প্রবর্তনা মোড়সহ কয়েকটি স্থানে জলজট সৃষ্টি হয়। তবে তা জলাবদ্ধতা ছিল না; ৩–৪ ঘণ্টার মধ্যেই সিটি করপোরেশন, সিডিএ ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের যৌথ উদ্যোগে পানি নিষ্কাশন করা হয়েছে।

 

প্রতিমন্ত্রী জানান, মেয়রের নেতৃত্বে একটি সমন্বিত কমিটি গঠন করা হয়েছে, যা ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত ব্যবস্থা নেবে। পাশাপাশি চলমান ৬টি খালের কাজ আপাতত বন্ধ রেখে আগামী ৫ দিনের মধ্যে বাঁধ অপসারণ করে পানির প্রবাহ স্বাভাবিক করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

 

এছাড়াও বড় ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে আসন্ন বর্ষা মৌসুমে চট্টগ্রামে জলাবদ্ধতার আশঙ্কা নেই বলেও জানান তিনি।

চট্টগ্রামে জলাবদ্ধতার খবর ভিত্তিহীন, বানোয়াট ও কাল্পনিক, দাবি প্রতিমন্ত্রীর

মহান মে দিবস উপলক্ষে সাভার পৌর ৯ নং ওয়ার্ডবাসী ও দেশবাসীকে কাউন্সিলর পদপ্রার্থী মঞ্জুর শুভেচ্ছা।

রাকিবুল ইসলাম রঞ্জু :

মহান মে দিবস ও আন্তর্জাতিক শ্রমিক সংহতি দিবস উপলক্ষে সাভার পৌরসভার ৯ নং ওয়ার্ডের সর্বস্তরের জনগণসহ দেশবাসীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন সাভার পৌর ৯ নং ওয়ার্ড বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাভার পৌর যুবদলের সাবেক সহ-সভাপতি,

তরুণ সমাজসেবক ও সাভার পৌরসভার ৯ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদপ্রার্থী মোঃ মনজুরুল ইসলাম (মঞ্জু)।

 

আজ এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, “মে দিবস শ্রমজীবী মানুষের অধিকার আদায়ের সংগ্রামের এক ঐতিহাসিক দিন। ১৮৮৬ সালের এই দিনে আমেরিকার শিকাগো শহরে শ্রমিকরা তাদের ন্যায্য দাবি আদায়ের জন্য আত্মত্যাগ করেছিলেন। তাদের সেই ত্যাগের বিনিময়েই আজ শ্রমিকরা বিশ্বজুড়ে সম্মান ও অধিকার পাচ্ছেন।” তিনি আরও বলেন:

“সাভারের ৯ নং ওয়ার্ড একটি শ্রমিক অধ্যুষিত এলাকা। এই এলাকার উন্নয়ন এবং খেটে খাওয়া মেহনতি মানুষের পাশে থাকাই আমার মূল লক্ষ্য। আমি মনে করি, শ্রমিকদের ঘাম ও শ্রমই আমাদের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি। আমি সকল শ্রমিক ভাই-বোনদের জানাই লাল সালাম ও বিনম্র শ্রদ্ধা।”

 

মোঃ মনজুরুল ইসলাম (মঞ্জু) প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন যে, মালিক-শ্রমিক সুসম্পর্ক বজায় রাখার মাধ্যমে সাভার তথা পুরো দেশ সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাবে। আসন্ন সাভার পৌরসভা নির্বাচনে ৯ নং ওয়ার্ডকে একটি আধুনিক, পরিচ্ছন্ন ও বৈষম্যহীন ওয়ার্ড হিসেবে গড়ে তুলতে তিনি সকলের দোয়া ও সমর্থন কামনা করেন।

মহান মে দিবস উপলক্ষে সাভার পৌর ৯ নং ওয়ার্ডবাসী ও দেশবাসীকে কাউন্সিলর পদপ্রার্থী মঞ্জুর শুভেচ্ছা।

অর্থ আ’ত্ম’সাৎ ও জা’ল চেকের মাধ্যমে প্র’তার’ণার অভিযোগে ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির নেতা হাবিবুল ইসলাম বাবলু স্ত্রী সহ ঢাকায় আটক

 

মোঃ আশরাফুল ইসলাম

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি

ঠাকুরগাঁও শিল্পপতি বাবলু স্ত্রীসহ ঢাকায় গ্রেফতার

অর্থ আত্মসাৎ ও জাল চেকের মাধ্যমে প্রতারণার অভিযোগে ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির অর্থনৈতিক বিষয়ক সম্পাদক ও রাজ্জাক গ্রুপের চেয়ারম্যান হাবিবুল ইসলাম বাবলু এবং তার স্ত্রী আইরিন আক্তারকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

 

২৯ এপ্রিল রাতে রাজধানীর গুলশান এলাকা থেকে গুলশান থানা পুলিশের একটি দল তাদের গ্রেফতার করে। গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দাউদ হোসেন গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

 

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার জামালপুর ইউনিয়নের শীবগঞ্জ পূর্বপারপুগী এলাকার বাসিন্দা মো. আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে হাবিবুল ইসলাম বাবলু এবং তার স্ত্রী আইরিন আক্তার।

 

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, তাদের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ ও জাল চেকের মাধ্যমে প্রতারণার অভিযোগে মামলা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট মামলার ভিত্তিতেই অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

অর্থ আ’ত্ম’সাৎ ও জা’ল চেকের মাধ্যমে প্র’তার’ণার অভিযোগে ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির নেতা হাবিবুল ইসলাম বাবলু স্ত্রী সহ ঢাকায় আটক

মালয়েশিয়ার অনথিভুক্ত অভিবাসীদের সাধারন ক্ষমা 2.0 চালু।১ মে ২০২৬ থেকে ৩১ মে ২০২৭ পর্যন্ত দেশে ফিরে যাওয়ার সুযোগ।

 

মো:নুরুল ইসলাম সুজন মালয়েশিয়া।।

মালয়েশিয়ার অনথিভুক্ত অভিবাসীদের জন্য,সরকার, প্রোগ্রাম রিপ্যাট্রিয়াসি মাইগ্রান ২.০ -এর মেয়াদ বাড়িয়ে ৩১ মে ২০২৭ পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে।

৩০ এপ্রিল ২০২৬ বৃহস্পতিবার দেশটির অভিবাসন বিভাগের এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

 

এর ফলে আরও বেশি মানুষ স্বেচ্ছায় বৈধভাবে নিজ দেশে ফেরার সুযোগ পাবেন।

 

ইমিগ্রেশন বিভাগ জানিয়েছে, কর্মসূচিটি ব্যাপক সফল হওয়ায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এতে অবৈধ অভিবাসীরা আইনি ঝামেলা ছাড়াই সহজ প্রক্রিয়ায় দেশে ফিরতে পারছেন।

 

২০২৫ সালের ১৯ মে থেকে ২০২৬ সালের ২৯ এপ্রিল পর্যন্ত, পিআরএম ২.০ -১১২টি দেশের অবৈধ অভিবাসীদের ২,৫৪,১৮৬টি নিবন্ধন নথিভুক্ত করেছে এবং মোট ১২৭ মিলিয়ন রিঙ্গিত রাজস্ব সংগ্রহ করেছে, যা দেশের অভিবাসন ব্যবস্থাপনায় স্বেচ্ছামূলক সম্মতি পদ্ধতির কার্যকারিতা প্রমাণ করে।

 

উল্লেখ্য যে, অভিবাসী প্রত্যাবাসন কর্মসূচি হলো অবৈধ অভিবাসীদের জন্য একটি স্বেচ্ছামূলক প্রত্যাবর্তন ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা, যা অভিবাসন আইন মেনে চলার কাঠামোর মধ্যে বাস্তবায়িত হয়। এই কর্মসূচির অধীনে, জড়িত ব্যক্তিরা নির্ধারিত শর্ত সাপেক্ষে বিচার থেকে অব্যাহতি পান এবং অপরাধ অনুযায়ী জরিমানার সম্মুখীন হন। যথা, বৈধ পাস ছাড়া প্রবেশ ও অবস্থান অথবা মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার অপরাধের জন্য ৫০০.০০ রিঙ্গিত এবং পাসের শর্ত লঙ্ঘনের অপরাধের জন্য ৩০০.০০ রিঙ্গিত জরিমানা। আবেদনকারীদের নিজ দেশে প্রত্যাবাসন সম্পন্ন করার জন্য একটি অস্থায়ী নথি হিসেবে প্রতিটি বিশেষ পাস ইস্যু করার জন্য ২০.০০ রিঙ্গিত ফি প্রদান করতে হয়।

 

অবৈধ অভিবাসীদের মধ্যে স্বেচ্ছামূলক সম্মতি প্রসারিত করার পাশাপাশি সংগঠিত উপায়ে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়াকে দ্রুততর করতে এবং জাতীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সম্পদের ব্যবস্থাপনাকে সর্বোত্তম করতে এই সম্প্রসারণটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

 

একই সাথে, জেআইএম দেশব্যাপী সমন্বিত অভিযান, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ এবং পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে ব্যাপক ও নিরন্তরভাবে আইন প্রয়োগকারী কার্যক্রম জোরদার করতে থাকবে, যাতে অভিবাসন আইন লঙ্ঘনকারী যেকোনো ব্যক্তি, যার মধ্যে তাদের নিয়োগকর্তা বা সুরক্ষাকারী পক্ষও অন্তর্ভুক্ত, তাদের শনাক্ত, গ্রেপ্তার, বিচার এবং নির্বাসিত করা যায়।

 

এই প্রসঙ্গে, আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের পূর্বে সকল অবৈধ অভিবাসীকে অবিলম্বে আইনি পথে নিজ নিজ অবস্থার সমাধান করতে এগিয়ে আসার জন্য আহ্বান জানানো হচ্ছে।

মালয়েশিয়ার অনথিভুক্ত অভিবাসীদের সাধারন ক্ষমা 2.0 চালু

যশোরে মধ্যরাতে যুবলীগের মিছিল, আটক ৫

যশোর শহরে মধ্যরাতে যুবলীগের ব্যানারে মিছিল ও সমাবেশ করার অভিযোগে পাঁচজনকে আটক করেছে পুলিশ। বুধবার (২৯ এপ্রিল) মধ্যরাত পর্যন্ত শহরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।আটকরা হলেন: শহরের কাজীপাড়া এলাকার আনসার আলীর ছেলে সৈয়দ তৌফিক জাহান, একই এলাকার নুরল আলমের ছেলে শফিকুল ইসলাম সুজন, মৃত লোকমানের ছেলে বাবলু শেখ, শহিদুল ইসলামের ছেলে সোহান হোসেন এবং ষষ্টিতলা এলাকার সৈয়দ আহমদের ছেলে আনোয়ার হোসেন বাবু।

কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুম খান জানান, মঙ্গলবার সকালে ও রাতে আওয়ামী লীগের একটি ফেসবুক পেজে যশোরে যুবলীগের দুটি কর্মসূচি পালনের দাবি করে ভিডিও প্রকাশ করা হয়। ভিডিওতে শহরের গরীবশাহ রোডে মিছিল ও বিভিন্ন স্লোগান দিতে দেখা যায়। একই পেজে আরও একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে যুবলীগের কর্মসূচি দাবি করা বিষয়টি জেলা পুলিশের নজরে আসে। এরপর বুধবার মধ্যরাতে পুলিশ বাদী হয়ে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দায়ের করে। এরপর পুলিশ সুপারের নির্দেশে একাধিক দল মাঠে নেমে অভিযান চালিয়ে পাঁচজনকে আটক করা হয়।

 

ওসি আরও জানান, আটকরা গোপনে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের বিভিন্ন কর্মে জড়িত ছিলেন। যুবলীগের মিছিলের সঙ্গেও তাদের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে এবং জড়িত অন্যদের গ্রেফতার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

যশোরে মধ্যরাতে যুবলীগের মিছিল, আটক ৫

 

চাঁপাইনবাবগঞ্জের নয়ালাভাঙ্গায় একটি কবরস্থান থেকে ১০ রাউন্ড গুলি, দুটি ম্যাগজিনসহ একটি দেশীয় তৈরি বন্দুক উদ্ধার করেছে র‍‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)।বুধবার (২৯ এপ্রিল) রাতে শিবগঞ্জ উপজেলার নয়ালাভাঙ্গা ইউনিয়নের বাবুপুর মিরাটুলি এলাকায় একটি পারিবারিক কবরস্থান থেকে এসব গুলি ও বন্দুক উদ্ধার করে র‍্যাব-৫, সিপিসি-১ চাঁপাইনবাবগঞ্জ ক্যাম্পের একটি টহল দল।

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সকালে প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে র‍্যাব জানায়, স্থানীয়দের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে বাবুপুর মিরাটুলি এলাকায় কবরস্থানের পাশে সন্দেহজনক একটি ব্যাগের খোঁজ পায় র‍্যাব সদস্যপরে ঘটনাস্থলে পৌঁছে ব্যাগটি তল্লাশি করে একটি দেশীয় তৈরি বন্দুক, দুটি ম্যাগাজিন ও ১০ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। তবে এ ঘটনায় কাউকে আটক করা যায়নি বলে জানায় র‍্যাব।

উদ্ধারকৃত অস্ত্র ও গুলি আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য শিবগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তে গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত রয়েছে বলে জানায় র‍্যাব-৫, সিপিসি-১ চাঁপাইনবাবগঞ্জ ক্যাম্প।

কবরস্থানে বন্দুকসহ ১০ রাউন্ড গুলি উদ্ধার

প্রতিবেদনঃ ওমর ফারুক

রাজধানীর ডেমরার আমুলিয়া এলাকায় একটি কেমিক্যাল গুদামে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ৪টি ইউনিট কাজ করছে। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে এই অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়।

 

 

ফায়ার সার্ভিস কন্ট্রোল রুম থেকে জানানো হয়, আমুলিয়া এলাকায় একটি কেমিক্যাল গুদামে আগুন লাগার খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। বর্তমানে ৪টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

 

তাৎক্ষণিকভাবে আগুন লাগার কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সম্পর্কে কিছু জানা যায়নি। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবরও পাওয়া যায়নি।

ডেমরায় কেমিক্যাল গুদামে আগুন, নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ৪ ইউনিট

র‌্যাবের চৌকস অভিযানে জীপসহ প্রায় ১১ হাজার ইয়াবার চালান আটক

জামালপুর হামলা পাল্টা হামলার মধ্য দিয়ে জেলার সানন্দবাড়ী তে থমথমে অবস্থা বিরাজমান।

error: আপনি নিউজ চুরি করার চেষ্টা করছেন। বিশেষ প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন ০১৭৬৭৪৪৪৩৩৩
%d