
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে সেপটিক ট্যাংকে নেমে প্রাণ গেল ৪ জনের।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে বিশেষ প্রতিনিধি- হেলাল উদ্দিন।
গত ২০ মে বুধবার
সরাইল উপজেলার কালিকচ্ছ ইউনিয়নের গলানিয়া গ্রামে নির্মাণাধীন একটি ভবনের সেপটিক ট্যাংকে কাজ করতে গিয়ে একে একে চার জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে ২ জন শ্রমিক, অপর একজন একই গ্রামের বাসিন্দা,আরেকজন পার্শ্ববর্তী গ্রাম ধর্মতীর্থের বাসিন্দা। বুধবার বিকেলে ৩টায় উক্ত ঘটনা ঘটে। উক্ত হৃদয়বিদারক ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
নিহতদের স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে গলানিয়া গ্রামের আকাশ-বাতাস।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গলানিয়া গ্রামের একটি নির্মাণাধীন ভবনের সেপটিক ট্যাংক পরিষ্কার করতে কয়েকজন শ্রমিক সেখানে যান।
প্রথমে একজন শ্রমিক ট্যাংকের ভিতরে প্রবেশ করেন। কিছু সময় পার হলেও সে বাহিরে ফিরে না আসায় অন্য একজন শ্রমিক তাকে দেখতে ভেতরে প্রবেশ করে সেও ফিরে আসেনি।তাদের দুজনের না ফেরা দেখে বাড়ির মালিক আলী মিয়া আরেকজনকে ডেকে এনে তাকে ভেতরে ঢুকে অবস্থা দেখতে বলে। সেও ভেতর ঢুকে আর ফিরে আসেনি।ডাকাডাকি করে কোন সাড়া না পাওয়ায় পার্শ্ববর্তী বাড়ির অপর একজন,যে সদ্য জমি থেকে ধান কেটে এসে বাসায় বিশ্রাম করছিল তাকে ডেকে উক্ত ট্যাঙ্কির ভেতরে পাঠায়। সে ঢুকার পর তারও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। এক এক করে ৪ জনই নি:শব্দ।
দীর্ঘ সময় পার হয়ে গেলেও ভেতর থেকে কোনো সাড়া শব্দ না পেয়ে ভবনের মালিক আলী মিয়া স্থানীয় লোকজনকে খবর দেন এবং তাৎক্ষণিকভাবে বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সকে খবর দেওয়া হয়।
খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন।
প্রথমে সরাইল ফায়ার সার্ভিসের শাখা এসে ব্রাহ্মনবাড়িয়ার ফায়ার সার্ভিসের সহযোগিতা চাইলে সেখান থেকে তারা এসে দুটি ইউনিটই উদ্ধার কাজ করে। তবে সেপটিক ট্যাংকের প্রবেশপথ অত্যন্ত সরু হওয়ায় উদ্ধারকর্মীরা প্রথমদিকে ভিতরে প্রবেশ করতে পারেননি। পরে দেয়ালের একটি অংশ ভেঙে ট্যাংকের ভিতরে পৌঁছান তারা। সেখানে গিয়ে চারজনেরই নিথর দেহ দেখতে পান উদ্ধারকারীরা। পরে একে একে মরদেহগুলো বাইরে আনা হয়।
নিহতরা হলেন—
১. ইমাম হোসেন, গলানিয়া।
২. সমশের মিয়া, গলানিয়া।
৩. মোঃ হৃদয় মিয়া, গলানিয়া।
৪. আরমান, ধর্মতীর্থ।
তাদের মৃত্যু নিয়ে শুরু হয় ধোয়াশা।
কেউ বলছে বিশাক্ত গ্যাসে আবার স্থানীয় অনেকে জানান, সেপটিক ট্যাংকের ভিতরে বিদ্যুতের একটি সচল লাইন ছিল। এ কারণে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে তাদের মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষ করে একজনের পর আরেকজন উদ্ধার করতে গিয়ে ভিতরে প্রবেশ করে তাৎক্ষণিক সাড়া না দেওয়ায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট বলেই ধারণা করছেন স্থানীয়রা।
ঘটনার পরপরই শত শত মানুষ ঘটনাস্থলে ভিড় করেন। স্বজন হারানো পরিবারগুলোর কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। নিহতদের অনেকেই পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন বলে জানা গেছে। হঠাৎ এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে পরিবারগুলো দিশেহারা হয়ে পড়েছে।
এ বিষয়ে অদ্য ২১ মে সরাইল থানার পুলিশ সুত্রে জানাযায়, প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে আজ এবং এ বিষয়ে এখনও কোন মামলা করেনি।
স্থানীয় সুত্রে জানাযায়, আজ বাদ মাগরিব গলানিয়া ঈদগাহ মাঠে তাদের একসাথে জানাযা হয়।
Leave a Reply