স্টাফ রিপোর্টার নওগাঁঃ
নওগাঁর মান্দা উপজেলায় নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে শাহ আলম যোগদানের পর পরই বদলে যেতে শুরু করে পুরো উপজেলার দৃশ্যপট। এতে সর্ব মহলে প্রশংসিত হতে শুরু করেন তিনি। উপজেলায় নানামুখি কল্যাণকর কাজের মাধ্যমে তিনি পরিচিতি লাভ করেন মানবতার ফেরিওয়ালা হিসেবে। তিনি মান্দা উপজেলায় যোগদানের পর থেকে মাত্র ৮ মাসে তাঁর কর্মদক্ষতা, সততা এবং জনসেবার মানদন্ডের জন্য ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছেন। উপজেলার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজে তার সক্রিয় অংশগ্রহণ, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে তার কঠোর অবস্থান তাকে সবার কাছে প্রিয় করে তুলেছেন। বিশেষ করে সেবায় তার অসামান্য অবদান উল্লেখযোগ্য। তার তত্ত্বাবধানে ভূমি সংক্রান্ত সেবা গ্রহণ সহজ ও হয়রানিমুক্ত হয়েছিল। নামজারি, জমা খারিজ, খাসজমি বন্দোবস্তসহ বিভিন্ন ভূমি সেবায় তিনি স্বচ্ছতা ও গতিশীলতা এনেছিলেন। যা সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জনে সাহায্য করেছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহ আলম মিয়া উপজেলায় যোগদানের পর থেকেই তিনি উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের বেহাল ও জরাজীর্ণ গ্রামীণ রাস্তাঘাটগুলো পরিদর্শন করে দ্রুত সেই রাস্তাগুলো মেরামতের পদক্ষেপ গ্রহণ করছেন। বিশেষ করে জনসাধারণের ভোগান্তি দূরীকরণে উপজেলার বিভিন্ন বেহাল রাস্তাঘাটগুলো সরেজমিনে গিয়ে পরিদর্শন করার কর্মকান্ড ইতোমধ্যেই উপজেলাবাসীর মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। শুধু রাস্তাঘাটই নয়, উপজেলার প্রতিটি খাতের সার্বিক উন্নয়নে তার ছোঁয়া লেগেছে।
বিশেষ করে উপজেলার যে সকল উন্নয়ন বঞ্চিত গ্রামগুলোতে কোন ইউএনও কখনোই যাননি, সেই সকল অবহেলিত এলাকায় তিনি গিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকে নানা সমস্যার কথা শুনছেন এবং দ্রুতই সেই সমস্যাগুলো সমাধানের চেষ্টা করছেন। এমন নানাবিধ জনকল্যাণ ও উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডের জন্য উপজেলাবাসীর প্রশংসা কুড়াচ্ছেন তিনি। এছাড়া ভ্রাম্যমাণ অভিযানের মাধ্যমে বাজার মনিটরিংয়ে মুখ্য ভূমিকা রেখে চলেছেন তিনি। শুনতেন স্থানীয়দের নানা সমস্যার কথা। বিগত সময়ের চেয়ে বর্তমান ইউএনও’র সময়ে সকল উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডের সঠিক বাস্তবায়নের মাধমে উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে শুরু করে শহরের সকল স্থানের দৃশ্যপট পাল্টে গেছে এমনটিই বলছেন উপজেলাবাসী।৪
সাবাই হাটের বাসিন্দা মোঃ হাবিবুর রহমান বলেন-
কখনোও কোনো ইউএনও গ্রামের কোন সমস্যা বা রাস্তা ঘাট দেখতে আসেননি। কিন্তু বর্তমান ইউএনও নিজে গ্রামে এসে রাস্তার বেহালদশা দেখে গেছেন এবং গ্রামবাসীদের নানা সমস্যার কথা শুনেছেন। এটি আমাদের জন্য অনেক বড় প্রাপ্তি। আমরা আশাবাদি তার মানবিক উন্নয়নের ছোঁয়া যেন অব্যাহত থাকে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহ আলম জানান, জনসেবার জন্য প্রশাসন। জনগনের জন্য দেওয়া সরকারের সকল সুযোগ-সুবিধা উপজেলার প্রতিটি অঞ্চলের প্রতিটি মানুষের দৌরগোড়ায় পৌছে দিতেই সরকার আমাকে সেবক হিসেবে নিয়োগ করেছেন। তাই যতদিন এই উপজেলায় সেবক হিসেবে আমি দায়িত্ব পালনে নিযুক্ত ছিলাম ততদিন আমি মানুষের কল্যাণে ও এলাকার অবকাঠামোগত উন্নয়নমূলক কাজের মাধ্যমে উপজেলার দৃশ্যপটে আমূল পরিবর্তন আনতে চেষ্টা করেছি। আর ভালো কাজের মাধ্যমে আমি উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের প্রতিটি মানুষের মাঝে প্রশাসন সম্পর্কে পজেটিভ ধারণার সৃষ্টি করতে চেষ্টা করেছি।
তিনি আরো বলেন- একটি অঞ্চলের সার্বিক উন্নয়নের প্রধান শর্ত হচ্ছে উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা। উপজেলার কিছু কিছু প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলের গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থার এখনোও বেহাল দশা। বড় ধরনের আর্থিক বরাদ্দ না থাকার কারণে অনেক গ্রামীণ মেঠোপথকে এখনোও আধুনিকায়ন করা সম্ভব হয়ে ওঠেনি। তবুও প্রতিবছরই অল্প অল্প করে গ্রামীণ চলাচলের পথকে আধুনিকায়নের কাজ চলমান রাখা হয়েছে। উপজেলার অধিকাংশ গ্রামীণ রাস্তাগুলোকে ভোগান্তির হাত থেকে রক্ষা করার পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। দ্রুতই সেই প্রকল্পগুলো সঠিক ভাবে বাস্তবায়নের মাধ্যমে স্ব স্ব এলাকার বাসিন্দারা ভোগান্তির হাত থেকে রেহাই পাবেন। যে কোন ভোগান্তি থেকে উপজেলাবাসীকে মুক্ত করে উন্নত সেবা দিতে উপজেলা প্রশাসন বদ্ধ পরিকর। পুরো উপজেলাকে একটি মডেল উপজেলা হিসেবে বিনির্মাণ করতে চেষ্টা করেছি।
উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের জন্য তিনি উপজেলার সকল শ্রেণি পেশার মানুষের কাছ থেকে গঠনমূলক সার্বিক সহযোগিতা পেয়েছেন বলেও জানান তিনি। এরই মধ্যো নওগাঁর মান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মানবতার ফেরিওয়ালা (ইউএনও) মো. শাহ আলম মিয়ার আকস্মিক পদোন্নতি ও বদলির খবর শুনে মান্দা উপজেলাজুড়ে যেন এক ধরণের শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তাঁর বিদায়ে মান্দাবাসীর মনে এক অপ্রত্যাশিত শূন্যতা ও গভীর বেদনা তৈরি হয়েছে। তাঁর জনসেবামূলক কাজ এবং জনসাধারণের প্রতি তাঁর আন্তরিকতা ছিল সর্বজনবিদিত।
উপজেলার অনেকের মুখে মুখে বলতে শুনা গেছে (ইউএনও) শাহ আলম মিয়া শুধুমাত্র একজন সরকারি কর্মকর্তা ছিলেন না, তিনি ছিলেন মান্দার মানুষের একজন প্রকৃত বন্ধু ও শুভাকাঙ্ক্ষী। যিনি সব সময় সকলের পাশে দাঁড়িয়েছেন এবং উপজেলার উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করেছেন। তাঁর প্রতি মানুষের এই ভালোবাসা স্বতঃস্ফূর্ত এবং অপ্রতিরোধ্য। বদলীর বিষয়ে ইউএনও শাহ আলম মিয়া টাইমস নিউজকে বলেন, সরকারি চাকরির এটাই নিয়ম, আপনারা অনুসৃত হবেন না। আমি যেখানেই থাকি না কেন, মান্দা উপজেলাবাসী আমার প্রতি যে ভালোবাসা দেখিয়েছেন তা কোন দিন ভুলতে পারবো না। আমি আপনাদের সকল উপজেলা বাসীর নিরাপদ ও সুস্থতা এবং দীর্ঘায়ু কামনা করি। আমিও সকল উপজেলা বাসীর কাছে আমার এবং আমার পরিবারের জন্য দোয়া কামনা করি।
Leave a Reply