মালয়েশিয়ার মিনি ঢাকা কোতারায়া থেকে ৩৫৪ জন বাংলাদেশিকে আটক করেছে মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগ। - Gono television | বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল।
মালয়েশিয়ার মিনি ঢাকা কোতারায়া থেকে ৩৫৪ জন বাংলাদেশিকে আটক করেছে মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগ।

মালয়েশিয়ার মিনি ঢাকা কোতারায়া থেকে ৩৫৪ জন বাংলাদেশিকে আটক করেছে মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগ।

মালয়েশিয়ার মিনি ঢাকা কোতারায়া থেকে ৩৫৪ জন বাংলাদেশিকে আটক করেছে মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগ।

মো:নুরুল ইসলাম সুজন কুয়ালালামপুর মালয়েশিয়া।।

 

২৫০০ জন বিদেশিকে তল্লাশি করে ৪৭২ জনকে আটক করেছে মালশশিয়া ইমিগ্রেশন ভিভাগ।তাদের মধ্যে ৩৬৪ জনই বাংলাদেশি।

 

 

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরের ব্যস্ত লেবুহ পুডু ও জালান সিলাংয়ের কোতারায়া বাংলা মার্কেট এলাকায় এই মেগা অভিযানে চালানো হয়।

 

বিদেশি নাগরিকদের উপস্থিতি ও সন্দেহজনক অবৈধ ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড নিয়ে পাওয়া অভিযোগের ভিত্তিতে স্থানীয় সময় বেলা ১১টার দিকে শুরু হয় মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগের ‘সমন্বিত মেগা আইন প্রয়োগ অভিযান’।

 

কয়েক ঘণ্টার অভিযানে ১৮ থেকে ৬২ বছর বয়সী ৪৭২ বিদেশিকে আটক করা হয়। তাদের মধ্যে ৪৩৯ পুরুষ ও ৩৩ নারী।

 

আটকদের জাতীয়তা বিশ্লেষণেও বাংলাদেশিদের আধিক্য স্পষ্ট। ৩৬৪ বাংলাদেশির পর মিয়ানমারের ৫৭, ফিলিপাইনের ৯, নেপালের ৮, ইন্দোনেশিয়ার ৭, পাকিস্তানের ৭, ভারতের ৬, চীনের ৩, জিম্বাবুয়ে ও সৌদি আরবের একজন করে নাগরিক আটক হয়েছেন।

 

শনাক্তকৃত অপরাধগুলোর মধ্যে ছিল বৈধ পরিচয়পত্র না থাকা, ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও অবস্থান করা এবং অভিবাসন আইনের অধীনে অন্যান্য বিভিন্ন অপরাধ।

 

অভিযানে অংশ নেন ৩৩৭ কর্মকর্তা ও সদস্য। এর মধ্যে অভিবাসন বিভাগের ২১৮ জন। বাকি ১১৯ জন ছিলেন কুয়ালালামপুর সিটি হল, অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য ও জীবনযাত্রার ব্যয় মন্ত্রণালয়, জাতীয় নিবন্ধন বিভাগ ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সদস্য।

 

অভিবাসন বিভাগের পরিচালক হামশা ইঞ্জাউ বলেন, সপ্তাহান্তে বিভিন্ন রাজ্য থেকে বিপুলসংখ্যক বিদেশি কুয়ালালামপুরে আসেন। তাদের অনেকের বৈধ ভ্রমণ নথি ও কাজের অনুমতি রয়েছে। তবে এবারের অভিযানে তল্লাশি করা ২ হাজার ৫০০ বিদেশির মধ্যে ৪৭২ জনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

 

আটক সবাইকে পরবর্তী তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থার জন্য বুকিত জলিল ইমিগ্রেশন ডিটেনশন ডিপোতে পাঠানো হয়েছে।


মালয়েশিয়া এনসিপি-ডায়াস্পোরা অ্যালায়েন্স এর বিশেষ উঠান বৈঠক।

মো:নুরুল ইসলাম সুজন কুয়ালালামপুর মালয়েশিয়া।।

 

১১ই সেপ্টেম্বর ২০২৬ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টায় এনসিপি-ডায়াস্পোরা অ্যালায়েন্স মালয়েশিয়া চ্যাপ্টারের এর উদ্যোগে এক বিশেষ উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

 

এনসিপি মালয়েশিয়ার যুগ্ম সচিব জনাব মুশফিক আহমেদ এর সঞ্চালনায়

উক্ত উঠান বৈঠকে প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় নাগরিক পার্টি(NCP)র যুগ্ম সদস্য সচিব জনাব ফরিদুল হক এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি(NCP)র যুগ্ম সদস্য সচিব এবং গ্লোবাল ডায়াস্পোরা অ্যালায়েন্সের সম্পাদক জনাব আলাউদ্দিন মোহাম্মদ।

 

আজকের উঠান বৈঠক ছিলো একটি ব্যতিক্রমধর্মী প্রোগ্রাম।

এখানে মালয়েশিয়া এনসিপির বিভিন্ন আঞ্চলিক কমিটির নেতৃবৃন্দ সহ বিভিন্ন সামাজিক ব্যক্তিত্ব উপস্থিত ছিলেন।

উপস্থিত আমন্ত্রিত অতিথিরা এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের কাছে দেশ গঠনে,নতুন বন্দোবস্ত বাস্তবায়নে,দেশের অবকাঠামো উন্নয়নে এনসিপির পরবর্তী ভাবনা ভিশন সম্পর্কে বিভিন্ন প্রশ্ন রাখেন।

 

আজকের অনুষ্ঠানের প্রধান দুই আলোচক সবার প্রশ্নের চুলচেড়া বিশ্লেষণ করেন।

প্রশ্নোত্তর পর্বে প্রবাসীরা কেন এনসিপির সঙ্গে যোগদান করবে?

 

এই প্রশ্নের জবাবে ফরিদুল হক বলেন—

 

“প্রবাসীরা এনসিপির সঙ্গে যোগদান করবে একটি সমৃদ্ধ, কল্যাণমুখী ও মর্যাদাপূর্ণ বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যাশায়। এমন একটি বাংলাদেশ, যে বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে তারা গর্ববোধ করবে এবং ভবিষ্যতে নির্ভয়ে ও সম্মানের সঙ্গে দেশে ফিরে আসতে পারবে। তারা চায়, তাদের আগামী প্রজন্ম যেন একটি নিরাপদ, সুন্দর ও সম্ভাবনাময় বাংলাদেশে বেড়ে উঠতে পারে।

 

প্রবাসীরা এনসিপির সঙ্গে থাকবে, কারণ তারা বিশ্বাস করে—এনসিপির নেতৃত্বে রাষ্ট্রের সংস্কার, মৌলিক পরিবর্তন এবং কাঠামোগত সংস্কারের মাধ্যমে একটি দুর্নীতিমুক্ত, জবাবদিহিমূলক ও ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।

 

প্রবাসীরা আরও চায়, তাদের প্রতি রাষ্ট্রের যে দীর্ঘদিনের অবহেলা ও বৈষম্য রয়েছে, তার অবসান হোক। প্রবাসীদের অধিকার, সম্মান ও মর্যাদা নিশ্চিত হোক এবং দেশের অর্থনীতি ও উন্নয়নে তাদের অবদান যথাযথ স্বীকৃতি পাক।

 

এই প্রত্যাশা থেকেই প্রবাসীরা এনসিপির সঙ্গে যুক্ত হবে—একটি নতুন, বৈষম্যহীন, দুর্নীতিমুক্ত ও মর্যাদাপূর্ণ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে।”

 

ফরিদুল হক তাঁর বক্তব্যে বলেন—

 

“প্রধানমন্ত্রীকে দশবার ‘মাননীয়’ বলতেও আমরা রাজি আছি, যদি তিনি সত্যিকার অর্থে দেশে দুর্নীতি বন্ধ করতে পারেন, অনিয়ম বন্ধ করতে পারেন এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদের চুরি-লুটপাট বন্ধ করতে পারেন।

 

একজন প্রধানমন্ত্রীর সত্যিকার কাজ হবে দেশের অনিয়ম ও দুর্নীতি দূর করা, সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা এবং দেশকে উন্নতি ও সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া।

মালয়েশিয়া এনসিপি-ডায়াস্পোরা অ্যালায়েন্স এর বিশেষ উঠান বৈঠক।

মালয়েশিয়া বাংলাদেশ হাইকমিশনে ৫ বছরে সাড়ে চার’শ অভিযোগের মধ্যে , ৩৩০টির সমাধান।

 

 

 

মো:নুরুল ইসলাম সুজন কুয়ালালামপুর মালয়েশিয়া।।

 

 

 

সংসারের স্বচ্ছলতা ফেরাতে প্রিয় মানুষদের সঙ্গ ছেড়ে প্রতিবছর লাখ লাখ বাংলাদেশি বিদেশে পাড়ি জমালেও সবার ভাগ্য পরিবর্তন হয় না। মালয়েশিয়ায় বৈধভাবে কলিং ভিসায় গিয়ে হাজার হাজার বাংলাদেশি নিয়োগ-সংক্রান্ত ঋণের বোঝা, বকেয়া বেতন, অভিবাসন ও ভিসা-সংক্রান্ত জটিলতা, এবং দেশে ফেরত পাঠানোর পরও নানা সমস্যার মধ্য দিয়ে দিন পার করেন।

 

 

 

দেশটিতে ২০২২ সালে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত হাইকমিশন বেতন, ভিসা নবায়নসহ বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে প্রায় ৪৫০ টির মত অভিযোগ পেয়েছে। এর মধ্যে ৩৩০ টির অধিক অভিযোগ নিয়োগকর্তা ও কর্মীদের মধ্যে মধ্যস্থতা এবং মালয়েশিয়ার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও অন্যান্য অংশীজনের সহযোগিতার মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব হয়েছে জানিয়েছে দূতাবাস।

 

 

 

গত ৮ সেপ্টেম্বর মালয়েশিয়ার পেনাংয়ে Responsible Business Alliance—RBA আয়োজিত “From Commitment to Action: Best Practices of Human Rights Due Diligence Across Supply Chain” শীর্ষক প্যানেল আলোচনায় মালয়েশিয়ায় অভিবাসী কর্মীদের সুরক্ষায় Best Practices তুলে ধরে বাংলাদেশ হাইকমিশন।

 

 

 

এসময় বাংলাদেশ হাইকমিশনের ডেপুটি হাইকমিশনার মোসাম্মত শাহানারা মনিকা অভিবাসী কর্মীদের দৃষ্টিভঙ্গি এবং তাদের বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে বলেন, কর্মী, নিয়োগকর্তা, মালয়েশিয়ার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এবং অন্যান্য অংশীজনের মধ্যে সমন্বয় করে অভিযোগের সমাধান, ক্ষতিপূরণ ও প্রতিকার নিশ্চিতকরণ, কল্যাণমূলক সহায়তা এবং মর্যাদাপূর্ণভাবে দেশে ফেরত পাঠানোর ক্ষেত্রে হাইকমিশন কাজ করছে বলেও জানান তিনি।

মালয়েশিয়া বাংলাদেশ হাইকমিশনে ৫ বছরে সাড়ে চার’শ অভিযোগের মধ্যে , ৩৩০টির সমাধান

মালয়েশিয়ায় অবৈধভাবে বসবাসরত বাংলাদেশিদের জন্য বাংলাদেশ হাইকমিশনের বিশেষ বার্তা।

মো:নুরুল ইসলাম সুজন কুয়ালালামপুর মালয়েশিয়া।।

 

‘মাইগ্র্যান্ট রিপেট্রিয়েশন প্রোগ্রাম ২’-এর মাধ্যমে নথিবিহীন বিদেশিদের দেশে ফেরার সুযোগ দিচ্ছে মালয়েশিয়া সরকার। মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত ভিসাহীন বাংলাদেশিদের দেশে ফিরে যেতে তাগিদ দিয়েছে কুয়ালালামপুরে বাংলাদেশ হাইকমিশন।

 

মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগের ফেসবুক পেজে রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) বিকালে বাংলাদেশ হাইকমিশনের প্রথম সচিব (প্রেস) তরিকুল ইসলাম এক ভিডিও বার্তায় এ আহ্বান জানান।

 

ভিডিও বার্তায় তরিকুল ইসলাম বলেন, “আপনারা হয়তো জানেন, অনিয়মিত বা নথিবিহীন বিদেশি অভিবাসীদের জন্য বর্তমানে মালয়েশিয়া সরকারের ইমিগ্রেশন বিভাগের একটি বিশেষ কর্মসূচি চালু রয়েছে। এর নাম ‘মাইগ্র্যান্ট রিপেট্রিয়েশন প্রোগ্রাম ২’ বা ‘বিআরএম ২.০’। এই কর্মসূচির আওতায় মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত অনিয়মিত বা নথিবিহীন বিদেশি নাগরিক বা কর্মীরা আইনসম্মতভাবে ও নিরাপদে নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।

 

“প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে যারা এই কর্মসূচির আওতায় দেশে ফিরতে চান, তাদের সহজ প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করতে হবে। প্রথমত, বৈধ ও মেয়াদযুক্ত বাংলাদেশি পাসপোর্ট থাকতে হবে। যাদের বৈধ পাসপোর্ট নেই বা পাসপোর্টের মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে গেছে, তারা বিকল্প হিসেবে বাংলাদেশ হাইকমিশন থেকে একটি ট্রাভেল পারমিট বা টিপি নেবেন।

 

“এরপর দেশে ফেরার জন্য বৈধ ও নিশ্চিত বিমান টিকিট সংগ্রহ করতে হবে। মালয়েশিয়ার সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, টিকিটের যাত্রার তারিখ ইমিগ্রেশনে অ্যাপয়েন্টমেন্টের কমপক্ষে পাঁচ দিন পর এবং ১৪ দিনের মধ্যে হতে হবে।”

 

আবেদনকারীকে নির্ধারিত ইমিগ্রেশন অফিসে নিজে উপস্থিত হয়ে আবেদন করতে হবে জানিয়ে তরিকুল ইসলাম বলেন, “কোনো প্রতিনিধি বা তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে আবেদন করা যাবে না। আবেদনের সময় সঙ্গে রাখতে হবে—মূল পাসপোর্ট অথবা ট্রাভেল পারমিট, পাসপোর্টের বায়োডাটা পৃষ্ঠার কপি, সংশ্লিষ্ট ইমিগ্রেশন পাসের কপি, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে পুরোনো ও নতুন উভয় পাসপোর্ট এবং বাংলাদেশে ফেরার বৈধ ও নিশ্চিত বিমান টিকিট।

 

“সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, নির্ধারিত ফি ও প্রযোজ্য জরিমানা ইমিগ্রেশন বিভাগের অনুমোদিত পেমেন্ট পদ্ধতিতে পরিশোধ করতে হবে। আবেদন করার আগে সর্বশেষ ফি ও শর্তাবলি ইমিগ্রেশন বিভাগের কাছ থেকে নিশ্চিত করে নিতে হবে।”

 

অনিয়মিত বাংলাদেশিদের সতর্ক করে তরিকুল ইসলাম বলেন, “মনে রাখবেন, বিআরএম ২.০-এর আবেদন করতে কোনো দালাল, প্রতিনিধি বা তৃতীয় পক্ষকে টাকা দেওয়ার প্রয়োজন নেই। কেউ বিশেষ সুবিধা দেওয়ার কথা বলে টাকা চাইলে সতর্ক থাকুন। নিজের আবেদন নিজেই করুন এবং সরকারি নির্দেশনা অনুসরণ করুন।

 

“ভাই ও বোনেরা, আপনারা যদি এই কর্মসূচির আওতায় আইনসম্মতভাবে এবং নিরাপদে দেশে ফিরতে চান, তাহলে শেষ মুহূর্তের জন্য অপেক্ষা না করে সংশ্লিষ্ট ইমিগ্রেশন অফিস ও বাংলাদেশ হাইকমিশনের সঙ্গে যোগাযোগ করে সর্বশেষ তথ্য জেনে নিন।”

মালয়েশিয়ায় অবৈধভাবে বসবাসরত বাংলাদেশিদের জন্য বাংলাদেশ হাইকমিশনের বিশেষ বার্তা।

ইতালিতে জনপ্রিয় বাংলাদেশী অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনের ওপর হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন ছাত্রদল সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব।

 

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) গভীর রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক স্টাটাসে তিনি এ প্রতিবাদ জানান।

 

ফেসবুক স্টাটাসে রাকিবুল ইসলাম রাকিব বলেন, ইতালির ভেনিসে জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা আজমেরী হক বাঁধনের ওপর নিষিদ্ধ সন্ত্রাসী সংগঠন ছাত্রলীগ-যুবলীগের সন্ত্রাসী হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। একজন নারী তথা জুলাই যোদ্ধাকে বিদেশের মাটিতে একা পেয়ে এ ধরনের কাপুরুষোচিত সন্ত্রাসী হামলা প্রমাণ করে, ছাত্রলীগ-যুবলীগের সন্ত্রাসীদের সামান্যতম অনুশোচনা হয়নি। সেহেতু এ সন্ত্রাসীদের জন্য আমাদের মনেও কখনও সামান্যতম সহানুভূতি জাগ্রত হবে না। কঠোর হাতে দমন করা হবে, জুলাই গণহত্যার বিচার নিশ্চিত করা হবে।

অভিনেত্রী বাঁধনের ওপর হামলায় ছাত্রদল সভাপতি রাকিবের কড়া প্রতিবাদ

নেপালে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪৭২ জনে দাঁড়িয়েছে। এ ছাড়া এখনো প্রায় ১৪০০ মানুষ নিখোঁজ রয়েছে। তাদের সন্ধানে তৃতীয় দিনও উদ্ধারকারী দলগুলো অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে উদ্ধারকাজ এগোলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

 

নেপালি পুলিশ এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। খবর হিন্দুস্তান টাইমসের

 

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুধবার (২৬ আগস্ট) নেপালের ভোতেকোশি ও ত্রিশূলী নদী অঞ্চলে ভয়াবহ বন্যার ঢল ও ভূমিধসের পর এই বিপর্যয় ঘটে। এতে বাড়িঘর, সড়ক, সেতুসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।এ ছাড়া বৃহস্পতিবার রাত পর্যন্ত নেপালে থাকা ২৯০ জন ভারতীয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তবে ৮৪ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়াদের মধ্যে ত্রিশূলী-১ প্রকল্পের ৬৩ জন কর্মী এবং তামিলনাড়ুর ২১ জন রয়েছেন।

 

নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল জানিয়েছেন, বন্যার পর প্রায় ৩০০ ভারতীয় পর্যটক নিখোঁজ হয়েছেন। নেপাল ট্যুরিজম বোর্ডের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এখনো ১৭৮ জন ভারতীয় নিখোঁজ রয়েছেন।

 

নেপাল ও তিব্বতে মিলিয়ে মোট ৮২৬ জন নিখোঁজ থাকার খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ বিদেশিদের মধ্যে ভারত ছাড়াও অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য, মালয়েশিয়া, নেদারল্যান্ডস, পর্তুগাল, দক্ষিণ আফ্রিকা, দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক রয়েছেন।

 

নতুন বন্যার সতর্কতা চীনের

 

নেপালে ভয়াবহ বন্যার ক্ষত কাটিয়ে ওঠার আগেই নতুন করে বন্যার আশঙ্কার কথা জানিয়েছে চীন।

 

চীনের পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নেপালে ছোচেন খোলা ও পুরেপু সাংপো নদীর মিলনস্থলের কাছে একটি প্রাকৃতিক বাঁধের কারণে জলাধার বা ‘ব্যারিয়ার লেক’ তৈরি হয়েছে।

নেপালে ভয়াবহ বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪৭২, নিখোঁজ ১৪০০

নেপালের চারিদিকে ধ্বংসস্তূপ। দেশটির রসুয়া জেলার ফ্ল্যাশ ফ্লাডের আতঙ্ক ছড়িয়েছে ভারতের বিহারে। হাই এলার্টে গোটা বিহার। চলছে মাইকিং, মানুষজনকে সতর্ক করা হচ্ছে। ভোতে কোশি নদী হয়ে, ত্রিসুলী ও গণ্ডক নদী ধরে বিহারে প্রবেশ করতে পারে তিব্বতের পানি।

 

রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরী হাই লেভেল টিম গঠন করে সব সরকারি কর্মকর্তাদের সতর্ক থাকার বার্তা দিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী নদীর চারদিকে নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন। নদীর বাঁধ এবং বাঁধের চারপাশ বুধবার এবং বৃহস্পতিবার নজরদারি জোরদারের নির্দেশ দেন তিনি। বিশেষ করে রাতে নাইট পেট্রোলিং বাড়ানোর প্রতি জোর দেয়া হয়েছে।

গন্ডক নদীর পাশে থাকা পশ্চিম চম্পারন, পূর্ব চম্পারণ, মোজাফফরনগর, বৈশালী, গোপালগঞ্জ, সারণ জেলা প্লাবিত হতে পারে এমন আশঙ্কায় জেলা প্রশাসনকে হাই এলার্টে রাখা হয়েছে। রাজ্যের সব সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে।

 

নেপাল থেকে গণ্ডক নদীতে হয়ে বিহারে প্রবেশ করবে পানি। প্রশাসনের আশঙ্কা আর মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই একসঙ্গে সাড়ে তিন লাখ কিউসেক পানি পাহাড়ি ঢাল বেয়ে নেমে আসবে।

নিহত বেড়ে ১৬০ পাহাড়ি ঢলে বিপর্যস্ত নেপাল, বিহারে ঢুকে পড়ছে পানি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ভূল্লীতে শত্রুতার জেরে পুকুরে বিষ প্রয়োগে লক্ষাধীক টাকার মাছ নিধনের অভিযোগ

 

মোঃ আশরাফুল ইসলাম

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি

 

ঠাকুরগাঁও জেলার ভূল্লী উপজেলায় পুকুরে বিষ প্রয়োগ করে মাছ মেরে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। এতে পুকুরের মালিক মোঃ আব্দুল কাদেরের আনুমানিক তিন লক্ষ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভূল্লী এলাকার বাসিন্দা মোঃ আব্দুল কাদেরের একটি পুকুরে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ চাষ করা হচ্ছিল। সম্প্রতি অজ্ঞাত ব্যক্তিরা পুকুরের পানিতে বিষ প্রয়োগ করে বলে অভিযোগ করেন তিনি। এরপর পুকুরের পানিতে বিপুলসংখ্যক মাছ মরে ভেসে ওঠে। এতে মাছের বাজারমূল্য ও চাষের অন্যান্য খরচ মিলিয়ে তাঁর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

 

ক্ষতিগ্রস্ত পুকুরের মালিক মোঃ আব্দুল কাদের বলেন, পুকুরে মাছ চাষ করে তিনি আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার আশা করেছিলেন। কিন্তু বিষ প্রয়োগের কারণে মাছ মারা যাওয়ায় তিনি বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছেন। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

 

স্থানীয়রা জানান, পুকুরে বিষ প্রয়োগ করে মাছ নিধনের মতো ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের পাশাপাশি জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।

 

ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে পুকুরে বিষ প্রয়োগের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত পুকুরের মালিক ও স্থানীয়রা।

ভূল্লীতে শত্রুতার জেরে পুকুরে বিষ প্রয়োগে লক্ষাধীক টাকার মাছ নিধনের অভিযোগ।

শরণখোলায় নিখোঁজের তিন দিন পর বাড়ির পাশের খালে মিললো শিশুর লাশ, আটক ৫

 

বিশেষ প্রতিনিধি: মামুন হাওলাদার

 

 

 

শরণখোলা নিখোঁজের তিন দিন পর উদ্ধার হয়েছে রাফি আকন (৯) নামে এক শিশু শিক্ষার্থীর মরদেহ। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকালে বাড়ির পাশের একটি খাল থেকে ভাসমান অবস্থায় দেখতে পায় এলাকাবাসী পরবর্তীতে থানায় খবর দিলে মরদেহটি উদ্ধার করে পুলিশ। ময়না তদন্তের জন্য মরদেহটি বাগেরহাট মর্গে পাঠানো হয়েছে।

 

 

গত শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) বিকাল থেকে নিখোঁজ ছিল শিশুটি। ঘটনাটি ঘটেছে শরণখোলা উপজেলার দক্ষিণ আমড়াগাছিয়া গ্রামে। শিশুটি দক্ষিণ আমড়াগাছিয়া গ্রামের জসিম আকন ও লাকি বেগম দম্পত্তির ছেলে। মা-বাবার বিচ্ছেদের পর বাবা ও দাদা-দাদীর কাছে থাকতো রাফি। সে স্থানীয় দক্ষিণ আমড়াগাছিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়তো।

 

 

এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য এক নারীসহ সন্দেহভাজন পাঁচ জনকে আটক করার কথা জানিয়েছে পুলিশ।

 

শিশুর বাবা জসিম আকন অভিযোগ করে বলেন, রাফি নিখোঁজ হওয়ার পর বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করে না পেয়ে থানায় জিডি করা হয়। আমার ছেলে সাঁতার জানতো, খালে পড়ে মারা যাওয়ার কথা নয়। তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে ফেলে রাখা হয়েছে। আমার ছেলে হত্যায় জড়িতদের শাস্তি চাই।

 

 

শরণখোলা থানার অফিসার ইনচার্জ রোকেয়া খানম বলেন, ময়না তদন্তের জন্য মরদেহটি জেলা হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। তদন্ত রিপোর্ট পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে পাঁচ জনকে আটক করা হয়েছে।

 

 

মেরেলগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহমুদ খাঁন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বলেছেন, শিশুটির শরীরে আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে এটি একটি হত্যাকাণ্ড। ময়না তদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর আসল কারণ বেরিয়ে আসবে। সন্দেহভাজন আটকদের জিজ্ঞসাবাদ করা হবে।

শরণখোলায় নিখোঁজের তিন দিন পর বাড়ির পাশের খালে মিললো শিশুর লাশ, আটক ৫

যৌতুকের দাবিতে গৃহবধূকে হত্যার অভিযোগে, নীলফামারীতে স্বজনদের সংবাদ সম্মেলন

 

স্টাফ রিপোর্টার

মাইদুল ইসলামঃ

 

যৌতুকের দাবিতে গৃহবধূ নাছরিন নাহারকে নির্যাতনের পর শ্বাসরোধে হত্যা করে মরদেহ ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখার অভিযোগ উঠেছে স্বামী ও স্বজনদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার, সুষ্ঠু তদন্ত এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে নীলফামারীতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন নিহতের পরিবারের সদস্যরা।

 

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২ টায় নীলফামারী প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এতে নিহত নাছরিন নাহারের বাবা মো. আব্দুল জব্বার লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। এ সময় নিহতের মা, ভাইসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

 

লিখিত বক্তব্যে আব্দুল জব্বার বলেন, নাছরিনের প্রথম স্বামী হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়ার পর ২০২২ সালের ১২ ডিসেম্বর নীলফামারীর ফকিরগঞ্জ লালপাড়ার মৃত আব্দুল মজিদের ছেলে আব্দুল মান্নানের সঙ্গে তার দ্বিতীয় বিয়ে হয়। বিয়ের সময় মেয়ের সুখ-শান্তির কথা বিবেচনা করে উপহারসামগ্রীর পাশাপাশি নগদ পাঁচ লাখ টাকা দেওয়া হয়।

 

তবে বিয়ের পর থেকেই মান্নানের প্রথম স্ত্রীর ছেলে ও তার স্বজনরা নাছরিনের ওপর যৌতুকের জন্য শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালিয়ে আসছিলেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। এর আগেও কয়েক দফা নির্যাতনের পর নাছরিনকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়। পরে স্থানীয়ভাবে আপস-মীমাংসার মাধ্যমে বিষয়টির সমাধান করা হয়। কিন্তু কিছুদিন পর আবারও নাছরিনের পরিবারের কাছে তিন লাখ টাকা যৌতুক দাবি করা হয়।

 

আব্দুল জব্বারের অভিযোগ, গত ২৬ আগস্ট তিন লাখ টাকা যৌতুক এনে দেওয়ার জন্য নাছরিনকে বাবার বাড়িতে পাঠানোর চেষ্টা করেন তার স্বামী ও স্বজনরা। এতে নাছরিন রাজি না হলে তাকে বেধড়ক মারধর করা হয়। একপর্যায়ে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে তাকে হত্যা করা হয়। পরে ঘটনাটি আত্মহত্যা হিসেবে দেখাতে নাছরিনের মরদেহ ওড়না দিয়ে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে রেখে আসামিরা পালিয়ে যান বলে অভিযোগ পরিবারের।

 

পরিবারের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে খবর দেওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। সুরতহাল ও ময়নাতদন্ত শেষে নাছরিনের দাফন সম্পন্ন হয়।

 

এ ঘটনায় ২৭ আগস্ট নীলফামারী সদর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ১১(ক) ধারায় জিআর-৩৩৯/২৬ নম্বর মামলা (জিআর-৩৩৯/২৬) দায়ের করা হয়েছে, যা বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন। তবে মামলার আসামিগণ এখনো পলাতক রয়েছেন।

 

সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিক, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে ৬ দফা দাবি তুলে ধরা হয়।

 

এ সময় নীলফামারী জেলার সকল প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

যৌতুকের দাবিতে গৃহবধূকে হত্যার অভিযোগে, নীলফামারীতে স্বজনদের সংবাদ সম্মেলন

ঠাকুরগাঁওয়ে ডিবির অভিযানে ২৬০ ইয়াবাসহ তিনজন গ্রেপ্তার

 

মোঃ আশরাফুল ইসলাম

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি:

 

ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈলে মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে ২৬০ পিস ইয়াবাসহ এক নারী ও দুই পুরুষকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে উপজেলার কাচোর ইউনিয়নের কাটিহার বাজার এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

 

জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) সূত্রে জানা গেছে, রোববার দিবাগত রাতে ডিবির একটি চৌকস দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রাণীশংকৈল থানাধীন ৫ নম্বর কাচোর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাটিহার বাজার এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করে।

 

অভিযানটি কাটিহার বাজারস্থ জনৈক আনসারুল ইসলামের বসতবাড়িতে পরিচালনা করা হয়। এ সময় মাদকদ্রব্য সংরক্ষণ ও বিক্রির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে মোছা. লিলি আক্তার (৪২), মো. নয়ন আলী (২৮) ও মো. রওশন জামিল (২৬)কে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের কাছ থেকে মোট ২৬০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে।

 

গ্রেপ্তার মোছা. লিলি আক্তার ও মো. নয়ন আলী কাটিহার এলাকার বাসিন্দা। লিলি আক্তারের পিতার নাম মৃত মোহাম্মদ আনসারুল ইসলাম এবং নয়ন আলীর পিতার নাম মো. আনসারুল ইসলাম। অপর গ্রেপ্তার মো. রওশন জামিলের পিতার নাম মো. আব্বাস ওরফে ডাবলু। তিনি রাণীশংকৈল উপজেলার রাজোর এলাকার বাসিন্দা।

 

ডিবি পুলিশ জানায়, মাদকদ্রব্যের বিরুদ্ধে চলমান অভিযানের অংশ হিসেবে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ওই অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে ইয়াবা উদ্ধারের পাশাপাশি মাদক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

 

ঠাকুরগাঁও জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) অফিসার ইনচার্জ (ওসি) গোলাম রসুল বলেন, মাদকদ্রব্যের বিরুদ্ধে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। মাদক ব্যবসা, সরবরাহ ও সংরক্ষণের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে। মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও সহযোগিতার আহ্বান জানান তিনি।

 

এ ঘটনায় গ্রেপ্তার তিনজনের বিরুদ্ধে রাণীশংকৈল থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। পরে সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে গ্রেপ্তারদের বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হয়েছে।

 

ডিবি পুলিশ আরও জানায়, ঠাকুরগাঁও জেলার বিভিন্ন এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান ও গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। মাদকদ্রব্যের বিস্তার রোধ এবং মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণে এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে পরিচালনা করা হবে।

ঠাকুরগাঁওয়ে ডিবির অভিযানে ২৬০ ইয়াবাসহ তিনজন গ্রেপ্তার

মালয়েশিয়ার মিনি ঢাকা কোতারায়া থেকে ৩৫৪ জন বাংলাদেশিকে আটক করেছে মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগ।

মো:নুরুল ইসলাম সুজন কুয়ালালামপুর মালয়েশিয়া।।

 

২৫০০ জন বিদেশিকে তল্লাশি করে ৪৭২ জনকে আটক করেছে মালশশিয়া ইমিগ্রেশন ভিভাগ।তাদের মধ্যে ৩৬৪ জনই বাংলাদেশি।

 

 

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরের ব্যস্ত লেবুহ পুডু ও জালান সিলাংয়ের কোতারায়া বাংলা মার্কেট এলাকায় এই মেগা অভিযানে চালানো হয়।

 

বিদেশি নাগরিকদের উপস্থিতি ও সন্দেহজনক অবৈধ ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড নিয়ে পাওয়া অভিযোগের ভিত্তিতে স্থানীয় সময় বেলা ১১টার দিকে শুরু হয় মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগের ‘সমন্বিত মেগা আইন প্রয়োগ অভিযান’।

 

কয়েক ঘণ্টার অভিযানে ১৮ থেকে ৬২ বছর বয়সী ৪৭২ বিদেশিকে আটক করা হয়। তাদের মধ্যে ৪৩৯ পুরুষ ও ৩৩ নারী।

 

আটকদের জাতীয়তা বিশ্লেষণেও বাংলাদেশিদের আধিক্য স্পষ্ট। ৩৬৪ বাংলাদেশির পর মিয়ানমারের ৫৭, ফিলিপাইনের ৯, নেপালের ৮, ইন্দোনেশিয়ার ৭, পাকিস্তানের ৭, ভারতের ৬, চীনের ৩, জিম্বাবুয়ে ও সৌদি আরবের একজন করে নাগরিক আটক হয়েছেন।

 

শনাক্তকৃত অপরাধগুলোর মধ্যে ছিল বৈধ পরিচয়পত্র না থাকা, ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও অবস্থান করা এবং অভিবাসন আইনের অধীনে অন্যান্য বিভিন্ন অপরাধ।

 

অভিযানে অংশ নেন ৩৩৭ কর্মকর্তা ও সদস্য। এর মধ্যে অভিবাসন বিভাগের ২১৮ জন। বাকি ১১৯ জন ছিলেন কুয়ালালামপুর সিটি হল, অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য ও জীবনযাত্রার ব্যয় মন্ত্রণালয়, জাতীয় নিবন্ধন বিভাগ ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সদস্য।

 

অভিবাসন বিভাগের পরিচালক হামশা ইঞ্জাউ বলেন, সপ্তাহান্তে বিভিন্ন রাজ্য থেকে বিপুলসংখ্যক বিদেশি কুয়ালালামপুরে আসেন। তাদের অনেকের বৈধ ভ্রমণ নথি ও কাজের অনুমতি রয়েছে। তবে এবারের অভিযানে তল্লাশি করা ২ হাজার ৫০০ বিদেশির মধ্যে ৪৭২ জনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

 

আটক সবাইকে পরবর্তী তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থার জন্য বুকিত জলিল ইমিগ্রেশন ডিটেনশন ডিপোতে পাঠানো হয়েছে।

মালয়েশিয়ার মিনি ঢাকা কোতারায়া থেকে ৩৫৪ জন বাংলাদেশিকে আটক করেছে মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগ।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সংগ্রহশালায় রাখা মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর বিতর্কিত ছবি ভেঙে দিয়েছেন আবু তৈয়ব হাবিলদার নামে সাবেক এক শিক্ষার্থী। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সংগ্রহশালায় গিয়ে ফ্রেম ভেঙে ছবিটি ছিঁড়ে ফেলেন তিনি।

 

আবু তৈয়ব ডাকসু নির্বাচনের আলোচিত ও বয়োজ্যেষ্ঠ ভিপি (সহ-সভাপতি) প্রার্থী ছিলেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০০১-০২ শিক্ষাবর্ষের উর্দু বিভাগের ছাত্র। ছবিটি স্থাপনের পর থেকেই বিভিন্ন মহল থেকে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।

 

ছবি ভাঙার আগে আবু তৈয়ব হাবিলদার বলেন, ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতার সূত্রটা জিন্নাহ তৈরি করে দিয়েছে। কার্জন হলে ছাত্র-ছাত্রীদের সামনে বলে যে, পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা উর্দু হবে, বাংলা হবে না। আমাদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক ছাত্র প্রতিবাদ করেছিলেন। তারা বলেছিলেন, জিন্নাহ সাহেব আপনার এই সিদ্ধান্ত আমরা মানি তিনি বলেন, ‘ভাষা আন্দোলনের মূল নায়ক হিসেবে প্রিন্সিপাল আবুল কাসেম ১১ মার্চ ১৯৪৮ শুরু করেছিলেন এবং উনার নেতৃত্বে হরতাল পালন হয়েছিল। সেখানে অনেক ছাত্র গ্রেপ্তার হয়েছিলেন, দুই হাজারের ওপরে। সেই জিন্নাহ ডাকসুতে স্থান পেতে পারে না।’

 

না।’

ডাকসুতে থাকা জিন্নাহর সেই ছবি ছিঁড়ে ফেললেন ছাত্রনেতা তৈয়ব হাবিলদার

সারাদেশে চিকিৎসার নামে প্রতারণা ও ভুয়া চিকিৎসকদের দৌরাত্ম্য দিন দিন বাড়ছে। বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের (বিএমডিসি) আইন, স্বাস্থ্য অধিদফতরের তদারকি এবং আদালতের রায়, সবকিছুকে পাশ কাটিয়েই চলছে এসব অনিয়ম। তবে বিএমডিসি ও স্বাস্থ্য অধিদফতরের দাবি, লোকবল ঘাটতির কারণে ভুয়া চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে তারা ব্যবস্থা নিতে পারছে না।

 

অন্যদিকে জ্যেষ্ঠ আইনজীবীদের অভিযোগ, আইন ও সক্ষমতার পুরোটা ব্যবহার করছে না তদারকি প্রতিষ্ঠানগুলো। কর্তৃপক্ষের আন্তরিকতা থাকলে ফৌজদারি অপরাধ করা এসব ভুয়া চিকিৎসকদের শেকড় সমূলে উৎপাটন করা সম্ভব।

 

যমুনা টেলিভিশনের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, দেশে প্রায় ১০ হাজার ভুয়া চিকিৎসক কোনো ধরনের শিক্ষাগত যোগ্যতা বা বিএমডিসির সনদ ছাড়াই দিনের পর দিন চিকিৎসার নামে মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করছেন।

দেশজুড়ে চিকিৎসার নামে প্রতারণা ও ভুয়া ডাক্তারদের দৌরাত্ম্য, নেই তদারকি

পঞ্চগড়ে গভীর রাতে বিএনপির দু’পক্ষের সংঘর্ষে জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদকসহ উভয় পক্ষের ১৫ নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে এ ঘটনা ঘটে।

 

জানা যায়, রোববার জেলা বিএনপি আয়োজিত একটি মতবিনিময় সভা ছিলো। সেখানে, বোদা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আসাদুল্লাহ আসাদের বক্তব্যকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

 

পুলিশ জানায়, রাতে তেঁতুলিয়া বাসস্ট্যান্ড থেকে একটি মিছিল বের করে পঞ্চগড়-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার নওশাদ জমিরের সমর্থকরা। মিছিলটি এমআর কলেজ মোড়ে পৌঁছালে, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদের সমর্থকদের সাথে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়। ইট-পাটকেল ও লাঠির আঘাতে উভয়পক্ষের সদস্যরা আহত হন। পরে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয় পুলিশ।

 

আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

পঞ্চগড়ে গভীর রাতে বিএনপির দু’পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ১৫

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় যুবদল নেতার ফোন না ধরায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া-ঢাকা রেলপথে চলাচলকারী তিতাস কমিউটার ট্রেনের ম্যানেজার ও বুকিং ক্লার্ককে মারধর করার অভিযোগ উঠেছে।

 

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে এই ঘটনা ঘটে।

 

ভুক্তভোগীরা হলেন, তিতাস কমিউটার ট্রেনের টিকেট কাউন্টার ম্যানেজার মহিউদ্দিন আহমেদ সজীব ও বুকিং ক্লার্ক মো. কাউসার হোসেন।

 

ভূক্তভোগীদের অভিযোগ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক নাজমুল হুদা সানি দীর্ঘদিন ধরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া স্টেশনে তিতাস কমিউটার ট্রেনের এজেন্টশীপ নেওয়ার জন্য চেষ্টা করছেন। কিন্তু ট্রেনের ইজারাদার প্রতিষ্ঠান তাতে সাড়া দিচ্ছে না। সকালে যুবদল নেতা সানি বুকিং ক্লার্ক মো. কাউসার হোসেনকে ফোন করে তার পরিচিত এক ব্যক্তিকে দুটি টিকেট দেওয়ার কথা বলেন।

 

পরে বুকিং ক্লার্ক কাউসার স্টাফ রুম থেকে টিকিট কাউন্টারে আসার পথে স্টেশন এলাকায় অজ্ঞাত কয়েকজন ব্ল্যাকার টিকিটের জন্য তাকে মারধর ও হেনস্তা করে। এর কিছুক্ষণ পর আবারও ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক বেশ কয়েকবার ওই বুকিং সহকারীকে ফোন দেয়। কিন্তু তিনি ফোন ধরেননি। এতে যুবদল নেতা নাজমুল হুদা সানি রেলওয়ে স্টেশনে এসে তিতাস কমিউটার ট্রেনের কাউন্টারে গিয়ে ক্ষুব্ধ হয়।

 

তারা আরও অভিযোগ করেন, এক পর্যায়ে কাউন্টারে থাকা বুকিং সহকারী ও ম্যানেজারকে চড় থাপ্পড় মারেন। এ ঘটনার পর কাউন্টারের লোকজন নিরাপত্তহীনতায় সার্বিক কার্যক্রম বন্ধ করে দেন। প্রায় দেড় ঘন্টা পর কাউন্টারের কার্যক্রম ফের শুরু হয়। এতে তিতাস কমিউটার ট্রেনের যাত্রীরা টিকেটের জন্য দুর্ভোগে পড়েন।

 

এ বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপপরিদর্শক মো. শাহ আলম মিয়া বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ভূক্তভোগীরা ফাঁড়িতে এসেছেন। লিখিত অভিযোগ অনুযায়ী হামলাকারীদের সনাক্ত করে পরবর্তী প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

 

তবে মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক নাজমুল হুদা সানি মুঠোফোনে জানান, মূলত তিতাস কমিউটার ট্রেনের কাউন্টারের লোকজন অতিরিক্ত দামে কালোবাজারিদের কাছে টিকেট বিক্রি করছিল। স্টেশনে থাকা একজনের মাধ্যমে জানতে পেরে বিষয়টির খোঁজ খবর নিতে স্টেশনে গিয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছিলাম। কিন্তু কাউকে মারধর করা হয়নি, অভিযোগটি ভিত্তিহীন।

যুবদল নেতার ফোন না ধরায় ট্রেনের টিকিট কাউন্টার স্টাফকে মারধরের অভিযোগ

আগামীকাল মঙ্গলবার থেকে শিল্প কারখানায় চাহিদামাফিক বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সরবরাহের আশ্বাস মিলেছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

 

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে ২০টি ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতাদের বৈঠক শেষে এক ব্রিফিংয়ে এমনটা জানান সংগঠনের নেতারা।

 

এফবিসিসিআই প্রশাসক ফজলুল হক বলেন, ব্যবসায়িক সংগঠনগুলো সরকারের ওপর আস্থা রাখতে চায়। একইসঙ্গে, সরকারের পক্ষ থেকে যেসব পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, তার সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা চায়।

 

অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেন, ২০২৮ সালের আগে নতুন আরেকটি এফএসআরসি চালু নিয়ে কাজ শুরু হয়েছে। এটি এবং আগের দুটি সহ সরকারের মোট ৫টি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল চালুর পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানান তিনি। আরও বলেন, এর পাশাপাশি স্থলভাগে এলএনজি টার্মিনালের পরিকল্পনাও করছে সরকার।

কাল থেকে কারখানায় চাহিদানুযায়ী মিলবে গ্যাস-বিদ্যুৎ, ব্যবসায়ীদের আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর

র‌্যাবের চৌকস অভিযানে জীপসহ প্রায় ১১ হাজার ইয়াবার চালান আটক

জামালপুর হামলা পাল্টা হামলার মধ্য দিয়ে জেলার সানন্দবাড়ী তে থমথমে অবস্থা বিরাজমান।

পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের ও আদালতে মিথ্যা হলফনামা দেয়ার অভিযোগে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কেবিন ক্রু খাদিজা সুলতানা শিমুর বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

 

বুধবার (১৫ জুলাই) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২-এর বিচারক মো. জাকির হোসাইন এ আদেশ দেন। আদালতের আদেশে বলা হয়েছে, শিমুর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর ১৩ ধারা এবং দণ্ডবিধির ১৮১, ১৮২ ও ১৯৩ ধারায় মামলা করা হবে। আদালত নিজেই এ মামলার বাদী হয়েছেন।

 

আদালতের নথি অনুযায়ী, খাদিজা সুলতানা শিমু মামলার বাদী হয়ে বেসরকারি একটি এয়ারলাইন্সের কর্মকর্তা মো. ওমর ফারুক চৌধুরীর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনের বিভিন্ন ধারায় উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলা করেন।

 

তদন্ত শেষে উত্তরা পশ্চিম থানার তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে জানান, অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি। প্রতিবেদনে বলা হয়, মামলার এজাহারে উল্লেখ করা ফেসবুক লিংক, ডিজিটাল আলামত ও অন্যান্য তথ্য যাচাই করে ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি প্রচারের কোনো প্রমাণ মেলেনি। ফলে ওই কর্মকর্তাকে মামলা থেকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়।

একই সঙ্গে তদন্ত কর্মকর্তা প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, ওমর ফারুক আগে শিমুর বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন দিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে আদালতে মামলা করেছিলেন। সেই মামলার দায় এড়াতেই শিমু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত বিভিন্ন লিংক উল্লেখ করে তার বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি ছড়ানোর অভিযোগ এনে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, হয়রানিমূলক ও মিথ্যা মামলা করেছেন বলে প্রাথমিক তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে। এ কারণে শিমুর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর ১৩ ধারায় আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার আবেদনও করেন তদন্ত কর্মকর্তা।

 

পরে গত ৯ জুলাই আদালত তদন্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করে ওমর ফারুককে মামলা থেকে অব্যাহতি দেন। আদালতের আদেশে বলা হয়, শিমু ক্ষতিসাধনের উদ্দেশ্যে আদালতে মিথ্যা মামলা দায়ের করেছেন এবং হলফ করে মিথ্যা সাক্ষ্য দিয়েছেন। মামলার নথিতে তার দেয়া হলফনামাও সংযুক্ত রয়েছে। এসব বিবেচনায় আদালত নিজেই বাদী হয়ে তার বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন ও দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়েরের নির্দেশ দেন।

 

তদন্তে যা উঠে এসেছে পুলিশের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, তদন্তকালে রেকর্ড, ডিজিটাল আলামত, ফেসবুক লিংক ও ফরেনসিক তথ্য যাচাই করে ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি প্রচারের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

 

তদন্তে আরও উঠে আসে, শিমু বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কেবিন ক্রু এবং ওমর ফারুক একটি বেসরকারি এয়ারলাইন্সের এয়ারক্রাফট মেইনটেন্যান্স কর্মকর্তা। ফেসবুকে পরিচয়ের পর তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

 

প্রতিবেদনে বলা হয়, বিয়ের আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন সময়ে ওমর ফারুকের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী নেয়ার অভিযোগে ওমর ফারুক আদালতে পৃথক মামলা করেন। এরপর সেই মামলার দায় থেকে নিজেকে রক্ষা করতেই শিমু পর্নোগ্রাফি আইনে অভিযোগ দায়ের করেন বলে তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে।

 

ওমর ফারুকের আগের মামলা গত ২০ জুলাই ওমর ফারুক চৌধুরী শিমুর বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন, ‘হানি ট্র্যাপ’ ও ব্ল্যাকমেইলের মাধ্যমে প্রায় ২২ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ঢাকার আদালতে মামলা করেন। আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে উত্তরা পশ্চিম থানাকে তদন্তের নির্দেশ দেন। পরে তিনি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষের কাছেও লিখিত অভিযোগ করেন।

 

সেই মামলায় অভিযোগ করা হয়, ২০২৪ সালে ফেসবুকে পরিচয়ের পর শিমু তাকে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন সময়ে টাকা নেন। জন্মদিনে দেড় লাখ টাকা মূল্যের একটি হীরার আংটিসহ বিয়ের খরচের জন্য মোট ২১ লাখ ৭৪ হাজার ৫১১ টাকা নেয়ার পরও বিয়ে না করে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে মামলায় দাবি করা হয়।

পর্নোগ্রাফি আইনে কেবিন ক্রু শিমুর বিরুদ্ধে মামলার নির্দেশ আদালতের

error: আপনি নিউজ চুরি করার চেষ্টা করছেন। বিশেষ প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন ০১৭৬৭৪৪৪৩৩৩
%d