
যৌতুকের দাবিতে গৃহবধূকে হত্যার অভিযোগে, নীলফামারীতে স্বজনদের সংবাদ সম্মেলন
স্টাফ রিপোর্টার
মাইদুল ইসলামঃ
যৌতুকের দাবিতে গৃহবধূ নাছরিন নাহারকে নির্যাতনের পর শ্বাসরোধে হত্যা করে মরদেহ ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখার অভিযোগ উঠেছে স্বামী ও স্বজনদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার, সুষ্ঠু তদন্ত এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে নীলফামারীতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন নিহতের পরিবারের সদস্যরা।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২ টায় নীলফামারী প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এতে নিহত নাছরিন নাহারের বাবা মো. আব্দুল জব্বার লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। এ সময় নিহতের মা, ভাইসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
লিখিত বক্তব্যে আব্দুল জব্বার বলেন, নাছরিনের প্রথম স্বামী হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়ার পর ২০২২ সালের ১২ ডিসেম্বর নীলফামারীর ফকিরগঞ্জ লালপাড়ার মৃত আব্দুল মজিদের ছেলে আব্দুল মান্নানের সঙ্গে তার দ্বিতীয় বিয়ে হয়। বিয়ের সময় মেয়ের সুখ-শান্তির কথা বিবেচনা করে উপহারসামগ্রীর পাশাপাশি নগদ পাঁচ লাখ টাকা দেওয়া হয়।
তবে বিয়ের পর থেকেই মান্নানের প্রথম স্ত্রীর ছেলে ও তার স্বজনরা নাছরিনের ওপর যৌতুকের জন্য শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালিয়ে আসছিলেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। এর আগেও কয়েক দফা নির্যাতনের পর নাছরিনকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়। পরে স্থানীয়ভাবে আপস-মীমাংসার মাধ্যমে বিষয়টির সমাধান করা হয়। কিন্তু কিছুদিন পর আবারও নাছরিনের পরিবারের কাছে তিন লাখ টাকা যৌতুক দাবি করা হয়।
আব্দুল জব্বারের অভিযোগ, গত ২৬ আগস্ট তিন লাখ টাকা যৌতুক এনে দেওয়ার জন্য নাছরিনকে বাবার বাড়িতে পাঠানোর চেষ্টা করেন তার স্বামী ও স্বজনরা। এতে নাছরিন রাজি না হলে তাকে বেধড়ক মারধর করা হয়। একপর্যায়ে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে তাকে হত্যা করা হয়। পরে ঘটনাটি আত্মহত্যা হিসেবে দেখাতে নাছরিনের মরদেহ ওড়না দিয়ে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে রেখে আসামিরা পালিয়ে যান বলে অভিযোগ পরিবারের।
পরিবারের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে খবর দেওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। সুরতহাল ও ময়নাতদন্ত শেষে নাছরিনের দাফন সম্পন্ন হয়।
এ ঘটনায় ২৭ আগস্ট নীলফামারী সদর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ১১(ক) ধারায় জিআর-৩৩৯/২৬ নম্বর মামলা (জিআর-৩৩৯/২৬) দায়ের করা হয়েছে, যা বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন। তবে মামলার আসামিগণ এখনো পলাতক রয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিক, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে ৬ দফা দাবি তুলে ধরা হয়।
এ সময় নীলফামারী জেলার সকল প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
Leave a Reply