মিনায় পৌঁছাচ্ছেন লাখো হজযাত্রী, ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক’ ধ্বনিতে মুখরিত মক্কা - Gono television | বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল।
মিনায় পৌঁছাচ্ছেন লাখো হজযাত্রী, ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক’ ধ্বনিতে মুখরিত মক্কা

মিনায় পৌঁছাচ্ছেন লাখো হজযাত্রী, ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক’ ধ্বনিতে মুখরিত মক্কা

সৌদি আরবে শুরু হয়েছে পবিত্র হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা। আজ সোমবার (২৫ মে) ভোর থেকে ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক’ ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে উঠেছে পবিত্র মক্কা নগরী।

 

বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আসা লাখো মুসলমান এখন তাঁবুর শহর হিসেবে পরিচিত মিনাতে সমবেত হচ্ছেন। আজ দুপুর পর্যন্ত হাজিদের মিনায় পৌঁছানোর প্রক্রিয়া চলবে বলে জানিয়েছে সৌদি গেজেট।

 

হজযাত্রীরা ৮ জিলহজ থেকে মিনায় অবস্থান করে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করবেন। এই দিনটি ‘ইয়াওমুত তারভিয়া’ নামে পরিচিত। সৌদি হজ কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী এর আগেই অনেক দেশের হাজি, বিশেষ করে বাংলাদেশি হাজিরা মিনায় পৌঁছে যান।

 

এরপর ৯ জিলহজ (মঙ্গলবার) হাজিরা রওনা হবেন আরাফাতের উদ্দেশে। সেখানে তারা জোহর ও আসরের নামাজ একত্রে আদায় করবেন এবং সূর্যাস্ত পর্যন্ত অবস্থান করবেন। এই অবস্থানকেই হজের মূল রুকন হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

 

সূর্যাস্তের পর হাজিরা মুজদালিফায়ের উদ্দেশে যাত্রা করবেন এবং সেখানে রাতযাপন শেষে পরদিন মিনায় ফিরে শয়তানকে কঙ্কর নিক্ষেপ, পশু কোরবানি ও মাথা মুণ্ডনসহ হজের গুরুত্বপূর্ণ বিধান পালন করবেন।

 

বিশ্বজুড়ে প্রায় ১৮ লাখ মুসলমান এবারের হজে অংশ নিচ্ছেন। চলতি বছর বাংলাদেশ থেকে প্রায় ৭৮ হাজারের বেশি হজযাত্রী পবিত্র এ ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালন করছেন।


যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটনে হোয়াইট হাউসের কাছে গোলাগুলির ঘটনায় এক সন্দেহভাজন ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের সিক্রেট সার্ভিস জানিয়েছে, নিরাপত্তা চৌকির কাছে এসে ওই ব্যক্তি কর্মকর্তাদের লক্ষ্য করে গুলি চালালে পাল্টা গুলিতে তিনি নিহত হন। খবর, সিএনএন’র।

 

স্থানীয় সময় শনিবার (২৩ মে) সন্ধ্যা ৬টার কিছু আগে হোয়াইট হাউস কমপ্লেক্সের বাইরে একটি নিরাপত্তা চেকপয়েন্টের কাছে ঘটনাটি ঘটে। প্রাথমিক তদন্তের বরাত দিয়ে সিক্রেট সার্ভিসের এক মুখপাত্র জানান, সন্দেহভাজন ব্যক্তি আচমকা কর্মকর্তাদের দিকে গুলি ছোড়েন।

 

পরে সিক্রেট সার্ভিস সদস্যরা পাল্টা গুলি চালালে ওই ব্যক্তি আহত হন। তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

 

ঘটনায় একজন পথচারীও গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। তবে তিনি সন্দেহভাজনের গুলিতে নাকি পাল্টাপাল্টি গোলাগুলির সময় আহত হয়েছেন, তা এখনও নিশ্চিত নয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ওই পথচারীর অবস্থা আশঙ্কাজনক।

 

ঘটনায় সিক্রেট সার্ভিসের কোনো সদস্য আহত হননি। এ সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউসের ভেতরে অবস্থান করছিলেন এবং তিনি নিরাপদ আছেন বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

 

ঘটনার পরপরই হোয়াইট হাউস এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। সংবাদকর্মীদের প্রায় ৪০ মিনিটের জন্য লকডাউনে রাখা হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, তারা টানা বহু রাউন্ড গুলির শব্দ শুনেছেন।

 

মার্কিন সংবাদমাধ্যমের সাংবাদিকরা জানান, সিক্রেট সার্ভিস সদস্যরা ‘শটস ফায়ারড’ বলে চিৎকার করে সাংবাদিকদের দ্রুত হোয়াইট হাউস ব্রিফিং রুমে আশ্রয় নিতে বলেন। পরে অস্ত্রধারী নিরাপত্তা সদস্যদের হোয়াইট হাউসের নর্থ লনে টহল দিতে দেখা যায়।

 

এদিকে ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই) পরিচালক কাশ প্যাটেল জানিয়েছেন, এফবিআই ঘটনাস্থলে রয়েছে এবং তদন্তে সিক্রেট সার্ভিসকে সহায়তা করছে।

 

ঘটনার কিছুক্ষণ আগে হোয়াইট হাউসের চিফ অব স্টাফ শুশি উইলস, অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সকে হোয়াইট হাউস ত্যাগ করতে দেখা যায়।

 

উল্লেখ্য, এর এক মাসেরও কম সময় আগে হোয়াইট হাউস করেসপন্ডেন্টস ডিনারের সময় একই ধরনের গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। সেই ঘটনায় অভিযুক্ত কোল টমাস অ্যালেন ট্রাম্পকে হত্যাচেষ্টাসহ একাধিক অভিযোগ অস্বীকার করে আদালতে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন।

অহোয়াইট হাউসের কাছে গোলাগুলি, সিক্রেট সার্ভিসের গুলিতে সন্দেহভাজন নিহত

নেপালের গণঅভ্যুত্থানের পর- অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে এনসিপির আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ক সেলের উপপ্রধান আলাউদ্দীন মোহাম্মদ।

 

মো:নুরুল ইসলাম সুজন।।

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম সদস্য সচিব এবং ইনস্টিটিউট ফর পলিসি, গভার্নেন্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের নির্বাহী পরিচালক আলাউদ্দীন মোহাম্মদ বলেছেন, দক্ষিণ এশিয়ার তরুণদের মাঝে অসন্তোষ বাড়ছে এবং তারা বিভিন্ন গণআন্দোলন ও সামাজিক প্রতিরোধের মাধ্যমে নিজেদের দাবি ও প্রত্যাশা প্রকাশ করছে।

 

নেপালের কাঠমান্ডু ইউনিভার্সিটির স্কুল অব ম্যানেজমেন্টের পলিসি ল্যাবের উদ্যোগে ‘দক্ষিণ এশিয়ায় সাম্প্রতিক গণঅভ্যুত্থান : অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও গভর্নেন্সের প্রেক্ষিত’ শীর্ষক একটি আলোচনা সভায় বুধবার এনসিপির আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ক সেলের উপপ্রধান আলাউদ্দীন মোহাম্মদ এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থী, গবেষক ও শিক্ষকবৃন্দের সক্রিয় অংশগ্রহণে দক্ষিণ এশিয়ার সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতা নিয়ে প্রাণবন্ত আলোচনা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন পলিসি ল্যাবের সিনিয়র রিসার্চ ফেলো সহকারী অধ্যাপক ড. লাল বাহাদূর পুন এবং প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সহকারী অধ্যাপক ড. রাম নারায়ণ শ্রেষ্ঠ।

 

প্রধান আলোচক আলাউদ্দীন মোহাম্মদ তাঁর বক্তব্যে বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জিত হলেও সেই প্রবৃদ্ধির সুফল সমভাবে বণ্টিত হচ্ছে না। সুশাসনের ঘাটতি, দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও জবাবদিহিতার অভাবে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো ক্রমেই দুর্বল হয়ে পড়ছে।

 

আলাউদ্দীন মোহাম্মদ আরও বলেন, রাষ্ট্রীয় সংস্কার কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন এবং তরুণদের আকাঙ্ক্ষাকে গুরুত্ব না দিলে দক্ষিণ এশিয়ার সামাজিক অস্থিরতা ও রাষ্ট্রগঠনসংক্রান্ত সংকটের দীর্ঘমেয়াদি সমাধান সম্ভব হবে না।

 

আলোচনায় অংশগ্রহণকারী বক্তারা সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন কাঠামো গড়ে তোলা, অর্থনৈতিক উন্নয়নের প্রচলিত ধারা পুনর্বিবেচনা এবং জাতীয় ঐক্য সুদৃঢ় করার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন।

নেপালের গণঅভ্যুত্থানের পর- অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে এনসিপির আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ক সেলের উপপ্রধান আলাউদ্দীন মোহাম্মদ।

প্রবাসীদের ভালোবাসায় সিক্ত মাসুদ সাঈদী এমপি

কুয়ালালামপুরে Istanbul Hotel & Resort Limited-এর সংবর্ধনা ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

 

মোঃ সুজন, মালয়েশিয়া প্রতিনিধিঃ পিরোজপুর-১ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য এবং Istanbul Hotel & Resort Limited-এর মাননীয় চেয়ারম্যান জনাব মাসুদ সাঈদী এমপি মহোদয়ের মালয়েশিয়া আগমন উপলক্ষে কুয়ালালামপুরে এক আন্তরিক ও সৌহার্দ্যপূর্ণ সংবর্ধনা ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সফর সঙ্গী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইস্তানবুল রিসোর্ট এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডি.এম. ইমদাদুল হক।

 

সোমবার (১৮ মে ২০২৬) সন্ধ্যা ৭টায় মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে অবস্থিত আল রাওশা রেস্টুরেন্টে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত প্রবাসী বাংলাদেশী শেয়ারহোল্ডার, ব্যবসায়ী, শুভাকাঙ্ক্ষী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ অংশগ্রহণ করেন। পুরো অনুষ্ঠানজুড়ে ছিল আন্তরিকতা, ভ্রাতৃত্ববোধ এবং দেশের উন্নয়ন ও ভবিষ্যৎ বিনিয়োগ সম্ভাবনা নিয়ে আশাবাদী আলোচনা।

 

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন Istanbul Hotel & Resort Limited-এর সম্মানিত পরিচালক (প্রশাসন) জনাব মোঃ হাফিজুর রহমান এবং পরিচালক (সেলস অ্যান্ড মার্কেটিং) জনাব মোঃ আবু তাইব রাশেদ। সভায় সভাপতিত্ব করেন ড. অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ বেলাল হোসেন।

 

অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন Istanbul Hotel & Resort Limited-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডি. এম. এমদাদুল হক, তিনি তাঁর বক্তব্যে আন্তর্জাতিক মানের হালাল ট্যুরিজম, পর্যটন শিল্পে আধুনিক বিনিয়োগ, প্রবাসী বাংলাদেশীদের সম্পৃক্ততা এবং দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে প্রতিষ্ঠানটির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও সম্ভাবনা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, দেশের পর্যটন শিল্পকে বিশ্বমানে উন্নীত করতে হলে সমন্বিত পরিকল্পনা, দক্ষ ব্যবস্থাপনা এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ইতিবাচক ব্র্যান্ডিং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

 

বক্তারা তাঁদের বক্তব্যে উল্লেখ করেন, বর্তমানে বিশ্বব্যাপী হালাল ট্যুরিজম একটি সম্ভাবনাময় খাত হিসেবে দ্রুত বিকাশ লাভ করছে। বাংলাদেশেও এ খাতের অপার সম্ভাবনা রয়েছে। সঠিক পরিকল্পনা ও প্রবাসীদের বিনিয়োগ নিশ্চিত করা গেলে দেশের অর্থনীতি, কর্মসংস্থান এবং আন্তর্জাতিক পর্যটন শিল্পে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। এ ক্ষেত্রে Istanbul Hotel & Resort Limited একটি আধুনিক ও সময়োপযোগী উদ্যোগ হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে বলেও তারা মন্তব্য করেন।

 

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাননীয় চেয়ারম্যান মাসুদ সাঈদী এমপি মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত প্রবাসী বাংলাদেশীদের আন্তরিক ভালোবাসা, সহযোগিতা ও অংশগ্রহণের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, প্রবাসীরা দেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি। তাঁদের শ্রম, মেধা ও বিনিয়োগ দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। তিনি সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে দেশের উন্নয়ন, বিনিয়োগ সম্প্রসারণ এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ইতিবাচক ভাবমূর্তি তুলে ধরার লক্ষ্যে একসাথে কাজ করার আহ্বান জানান।

 

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের পর্যটন খাতকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে হলে পরিকল্পিত বিনিয়োগ, আধুনিক ব্যবস্থাপনা এবং প্রবাসীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে Istanbul Hotel & Resort Limited দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে হালাল ট্যুরিজম বিকাশে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

অনুষ্ঠানের শেষপর্যায়ে অতিথিদের সম্মানে নৈশভোজের আয়োজন করা হয়। এ সময় অতিথিরা একে অপরের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং ভবিষ্যতে দেশের উন্নয়ন ও আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ সম্প্রসারণে একসঙ্গে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

 

উল্লেখ্য, অনুষ্ঠানের আয়োজক ছিলেন Istanbul Hotel & Resort Limited-এর মালয়েশিয়া প্রবাসী শেয়ারহোল্ডারগণ।

কুয়ালালামপুরে আগমনে উপলক্ষে মাসুদ সাঈদী এমপিকে সংবর্ধনা জানানো হয়।

ক্ষমতায় আসার পর থেকেই ভারতের সীমান্ত সুরক্ষা এবং অনুপ্রবেশকারীদের বিষয়ে একাধিকবার কঠোর বার্তা দিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের নবনির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেছেন, তার মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল, সিপিএম বা কংগ্রেসের চেয়ে বাংলাদেশের জামাতিদের ‘চিড়বিড়ানি’ বা অস্বস্তি অনেক বেশি বেড়ে গেছে।

 

সোমবার (১৮ মে) সন্ধ্যায় কলকাতার ভবানীপুর ও ক্যামাক স্ট্রিটে আয়োজিত ধন্যবাদ জ্ঞাপন অনুষ্ঠানে তিনি অনুপ্রবেশকারীদের ফেরত পাঠানো এবং রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা নিয়ে তীব্র হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন।

 

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী বলেন, সীমান্ত সুরক্ষিত করা, অ-ভারতীয়দের দরজা দেখিয়ে দেওয়া এবং অনুপ্রবেশকারীদের হটিয়ে যেখান থেকে এসেছিল সেই রাস্তা দিয়ে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হবে।

 

নিজেকে সাধারণ মানুষের ‘ভাই’ হিসেবে উল্লেখ করে শুভেন্দু সাফ জানিয়ে দেন, তিনি ভয় পাওয়ার বা মাথা নোয়ানোর লোক নন এবং বিজেপি যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, এই মুখ্যমন্ত্রী তা পূরণ করবে। তার সরকারের কাছে সবার আগে রাষ্ট্র ও দেশ রক্ষা। ইতোমধ্যে ভোটার তালিকা থেকে অনুপ্রবেশকারীদের নাম বাতিল করা হয়েছে এবং এখন তাদের প্রত্যর্পণের সময় চলে এসেছে। এর আগে প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠকের পরই তিনি ঘোষণা করেছিলেন, ৪৫ দিনের মধ্যে বিএসএফ-কে সীমান্তে কাঁটাতার দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় জমি দেওয়া হবে।

 

সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও কড়া বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। গত রোববার (১৭ মে) কলকাতার পার্ক সার্কাসে বিক্ষোভকারীদের হঠাতে গিয়ে পুলিশের ওপর ইট-পাথর ছোড়ার ও হামলার ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই ৪০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সোমবার পার্ক সার্কাসে দাঁড়িয়ে এবং আহত তিন পুলিশকর্মীর সঙ্গে দেখা করে শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট জানিয়ে দেন, পুলিশের ওপর হামলা, ভাঙচুর, গুন্ডামি, তোলাবাজি কিংবা সিন্ডিকেটরাজ কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। এই ধরনের অশান্তির ঘটনায় রাজ্য সরকারের নীতি হবে ‘জিরো টলারেন্স’। আসানসোলের পুলিশ ফাঁড়িতে ভাঙচুরের প্রসঙ্গ টেনে তিনি হুঁশিয়ারি দেন, যারা এই ক্ষতি করেছে তাদের গ্রেফতার করে ‘২০০ শতাংশ উসুল’ বা ক্ষতিপূরণ আদায় করা হবে।

আমি মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর বাংলাদেশে জামাতিদের ‘চিড়বিড়ানি’ বেড়ে গেছে: শুভেন্দু

মালয়শিয়া রাষ্ট্র সংস্কার, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন ও প্রবাসীদের ভাবনা শীর্ষক আলোচনা সভা।

 

মো:নুরুল ইসলাম সুজন মালয়েশিয়া। রাষ্ট্র সংস্কার, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন এবং প্রবাসীদের ভূমিকা ও ভাবনা নিয়ে এক গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা ১৭ মে ২০২৬ তারিখে কুয়ালালামপুরের রাধুনী বিলাস রেস্টুরেন্ট-এ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সভায় সভাপতিত্ব করেন এনসিপি ডায়াস্পোরা এলায়েন্স মালয়েশিয়া চ্যাপ্টারের আহবায়ক ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হক। প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আলাউদ্দীন মোহাম্মদ, কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব ও ডায়াস্পোরা সেল সম্পাদক।

 

আলোচনা সভায় বক্তারা রাষ্ট্র সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা, গণভোটের রায়ের যথাযথ বাস্তবায়ন এবং দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় প্রবাসী বাংলাদেশিদের সক্রিয় অংশগ্রহণের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তারা বলেন, একটি জবাবদিহিমূলক, গণতান্ত্রিক ও জনগণকেন্দ্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় দেশ-বিদেশে বসবাসরত সকল নাগরিকের ঐক্যবদ্ধ ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

 

প্রধান আলোচক আলাউদ্দীন মোহাম্মদ তার বক্তব্যে বলেন, প্রবাসীরা শুধু দেশের অর্থনীতির চালিকাশক্তিই নন, বরং রাষ্ট্র গঠন ও গণতান্ত্রিক চেতনা বিকাশেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারেন। তিনি রাষ্ট্র সংস্কার কার্যক্রমে প্রবাসীদের মতামত ও অংশগ্রহণকে আরও গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান।

 

সভাপতির বক্তব্যে ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হক বলেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়নের মাধ্যমে জনগণের প্রত্যাশা পূরণ এবং একটি কার্যকর রাষ্ট্র কাঠামো গড়ে তোলা সময়ের দাবি। তিনি সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে দেশ ও জাতির কল্যাণে কাজ করার আহ্বান জানান।

 

যুগ্ম সচিব মুসফিক আহমেদ চৌধুরীর সঞ্চালনায় সভায় মালয়েশিয়া এনসিপির সদস্য সচিব আলম রওশন, মালয়েশিয়া বাংলাদেশ ফোরাম এসোসিয়েশন এর সাধারণ সম্পাদক এমডি রুহুল আমিন সরকার, সিআইপিসহ প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

মালয়শিয়া রাষ্ট্র সংস্কার, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন ও প্রবাসীদের ভাবনা শীর্ষক আলোচনা সভা।

দীর্ঘ চার বছর ধরে গণধর্ষণ করার পর বিচার না পেয়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন ভারতের রাজস্থানের যোধপুর জেলার এক তরুণী। এই নির্মম ঘটনার বিচার চাইতে পুলিশের ধারস্থ হন সেই তরুণীর ছোট বোন। এরপর বিচার না পেয়ে ক্ষোভে এবং অভিমানে ওই তরুণীর ছোট বোনও আত্মহত্যার পথ বেছে নেন। মাত্র দুই মাসের ব্যবধানে দুই বোনের এমন মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় পুরো এলাকায় চরম উত্তেজনা ও তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

 

স্থানীয় মারওয়ার রাজপুত সম্প্রদায়ের মানুষ ও সাধারণ জনতা এই ঘটনার প্রতিবাদে এবং দায়ীদের শাস্তির দাবিতে রাজপথে নেমে এসেছেন।

 

মামলার বিবরণ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার সূত্রপাত চার বছর আগে। যোধপুরের একটি স্থানীয় ‘ই-মিত্র’ (ডিজিটাল সেবা) কেন্দ্রের অপারেটর মহিপাল নামের এক যুবক গোপনে ওই বড় বোনের কিছু আপত্তিকর ভিডিও ধারণ করেন। পরে সেই ভিডিওর সূত্র ধরে মহিপাল ও তার সহযোগীরা তরুণীকে দীর্ঘ চার বছর ধরে ব্ল্যাকমেইল করে আসছিল। তারা ওই পরিবারের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি তরুণীকে দলবদ্ধভাবে ধর্ষণ করে। এই মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে গত ২০ মার্চ বড় বোন আত্মহত্যা করেন।

 

বড় বোনের মৃত্যুর পর গত ১১ এপ্রিল ছোট বোন বাদী হয়ে মহিপাল, শিবরাজ, গোপালসহ আটজনের বিরুদ্ধে থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। সে সময় তিনি পুলিশকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন, দ্রুত অপরাধীদের গ্রেপ্তার ও বিচার করা না হলে তিনিও নিজের জীবন শেষ করে দেবেন।

 

অভিযোগ রয়েছে, মামলা করার পরও আসামিরা দমে যায়নি; বরং তারা ছোট বোনকেও নানাভাবে যৌন নিপীড়ন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সেই ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিতে থাকে। আসামিরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াত এবং পুলিশ তাদের কিছুই করতে পারবে না বলে অহংকার করত। অবশেষে গত শুক্রবার প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে ওই তরুণী স্থানীয় একটি পানির ট্যাংকের ওপর উঠে পড়েন। সেখানে আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়ে তিনি বিষপান করেন। পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।

 

এই ঘটনার পর যোধপুরজুড়ে ক্ষোভের আগুন জ্বলে উঠেছে। নিহতের মরদেহ যে হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে, তার বাইরে রাজপুত সমাজের শত শত মানুষ জড়ো হয়ে তীব্র বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। মারওয়ার রাজপুত সোসাইটির সভাপতি হনুমান সিং খাংটা অভিযোগ করে বলেন, পুলিশ শুরু থেকেই আসামিদের আড়াল করার চেষ্টা করেছে। পুলিশের এই চরম গাফিলতি ও নিষ্ক্রিয়তার কারণেই আজ দুটি নিরীহ প্রাণ ঝরে গেল।

 

বিক্ষুব্ধ জনতা ও নিহতের পরিবার অবিলম্বে সব আসামির গ্রেপ্তার এবং দায়িত্বে অবহেলাকারী পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে উচ্চপর্যায়ের ও সুষ্ঠু তদন্তের লিখিত আশ্বাস পাওয়ার পর পরিবারটি মরদেহের ময়নাতদন্তের অনুমতি দেয়।

 

যোধপুরের পুলিশ সুপার (এসপি) পিডি নিত্যা গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, মূল অভিযুক্ত মহিপালসহ দুজনকে ইতিমধ্যে আটক করা হয়েছে এবং তাদের আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তারের প্রক্রিয়া চলছে। বাকি আসামিদের ধরতেও অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এ ছাড়া ঘটনায় পুলিশের কোনো গাফিলতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে একটি বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে আশ্বাস দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।

চার বছর ধরে ব্ল্যাকমেইল ও গণধর্ষণ: বিচার না পেয়ে ২ বোনের আত্মহত্যা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

পবিত্র ঈদুল আজহার ছুটিতে নাড়ির টানে বাড়ির উদ্দেশে বের হওয়া ঘরমুখো মানুষের চাপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শিল্পাঞ্চল আশুলিয়ার গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়েছে। সোমবার (২৫ মে) বিকেলে আশুলিয়ায় ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক ও নবীনগর-চন্দ্রা সড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে প্রায় ১১ কিলোমিটার সড়কে যানজটের সৃষ্টি হওয়ায় ভোগান্তিতে পড়ে ঘরমুখো মানুষরা।

 

ঈদের ছুটিতে একযোগে সবাই গ্রামের উদ্দেশে রাস্তায় নেমে এলে অতিরিক্ত যানবাহনের চাপে এবং যত্রতত্র গাড়ি থামিয়ে যাত্রী উঠনামা করানোয় এই যানজটের সৃষ্টি হয়।

 

সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে বিকেলে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নবীনগর ও নবীনগর-চন্দ্রা সড়কের নবীনগর থেকে বাইপাইল এবং জিরানী থেকে বাড়ইপাড়া পর্যন্ত সড়কে তীব্র যানজটের খবর পাওয়া গেছে।

 

এ সময় ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নবীনগর-চন্দ্রা সড়কের বাইপাইল পর্যন্ত প্রায় ৮ কিলোমিটার সড়কে যানজটের সৃষ্টি হয় এবং নবীনগর-চন্দ্রা সড়কের জিরানী থেকে বাড়ইপাড়া পর্যন্ত ৩ কিলোমিটার সড়কে যানজট সৃষ্টি হয়।

 

সাভার পরিবহনের যাত্রী মুন্না হোসেন বলেন, আমি গাবতলী থেকে বিকেল ৪টার দিকে রওনা হয়েছি চন্দ্রা যাওয়ার উদ্দেশে।

কিন্তু সাড়ে ৫টার দিকে আশুলিয়ার বাইপাইলে এসে যানজটে বসে আছি বলে জানান তিনি।

 

সেলফী পরিবহনের চালক মো. মারুফ বলেন, দুপুরের পর থেকে সড়কে যাত্রীদের চাপ বেড়েছে। তাই বাসের চাপও বৃদ্ধি পেয়েছে। জাহাঙ্গীরনগর বিশমাইল এলাকায় মহাসড়কের ওপর যত্রতত্রভাবে গাড়ি থামিয়ে যাত্রী উঠানামা করায় যানজটের শুরু হয়। সেখানে দীর্ঘক্ষণ আটকে থেকে নবীনগর পার হতেই আধাঘণ্টার ওপর সময় চলে গেছে।

 

এদিকে মহাসড়কের যানজটের প্রভাব পড়েছে আশাপাশের সংযোগ সড়কেও। এতে করে মানুষ প্রয়োজনীয় কাজেও যেতে না পারায় ক্ষোভ প্রকাশ করে। এ ছাড়া দীর্ঘক্ষণ যানজটে আটকে থেকে শিশু, বৃদ্ধসহ সাধারণ যাত্রীরা গরমে অতিষ্ঠ হয়ে পড়ে। ঈদযাত্রার প্রথম দিনেই এমন ভোগান্তিতে পড়ে হতাশ সাধারণ যাত্রীরা।

 

সাভার হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ শাহজাহান বলেন, বিভিন্ন স্থানে গাড়ি থামিয়ে যাত্রী ওঠানোর কারণে যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা থেকে যানজট শুরু হয়ে বাইপাইল পর্যন্ত গেছে। তবে যানজট নিরসনে পুলিশ বিভিন্ন পয়েন্টে কাজ করে যাচ্ছে বলে জানান তিনি।

দুই মহাসড়কে তীব্র যানজট সৃষ্টি, থেমে থেমে চলছে গাড়ি

বিচার বিভাগ নিয়ে বিএনপি আবারও আ. লীগের পথেই হাঁটছে বলে মন্তব্য করেছেন এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ এমপি। তিনি বলেন, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় বিলুপ্ত করে আইন মন্ত্রণালয়ের অধীনে এনে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা হরণ করা হয়েছে।

 

সোমবার (২৫ মে) বিকেলে ঝিনাইদহ শহরের পায়রা চত্বরে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর উপর হামলা, এনসিপি ও ছাত্রদলের পাল্টাপাল্টি মামলা ও গ্রেফতারের বিষয়ে সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।

 

বিচার বিভাগের আলাদা সচিবালয় প্রতিষ্ঠার কথা উল্লেখ করে হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, ৫ আগস্টের পরে আমরা বিচার বিভাগের স্বাধীনতার পথে ধাবিত হচ্ছিলাম। এখন বিচারকদের পোস্টিং, প্রমোশন কে নিয়ন্ত্রণ করে বিএনপি বিচারকদের স্বাধীনতা হরণ করেছে। সেটির মহড়া আমরা ঝিনাইদহে দেখতে পাচ্ছি। এই কর্মকাণ্ডকে আমরা যদি বিশ্লেষণ করি আমাদের মনে হয় না— বিচারকদের রায় বিচারালয়ে বসে হয়। আমাদের মনে হয়— ঢাকা থেকে সেটি রিমোট কন্ট্রোলে পরিচালিত হয়।

 

তিনি আরও বলেন, পুলিশ তো কোন দলের হওয়ার কথা ছিলো না। পুলিশ হওয়ার কথা বাংলাদেশের জনগণের। আইনগত বিষয় পুলিশ আইনগতভাবে সমাধান করবে। আমরা দেখলাম, আ.লীগ আমলে সরকার দলীয় আদেশের অপেক্ষায় থেকে পুলিশ যেভাবে পেটুয়া বাহিনীর কাজ করতো একইভাবে পুলিশ পেটুয়া বাহিনীরা ভূমিকায় অবতীর্ণ হচ্ছে।

 

পুলিশের একাংশ অসহায় উল্লেখ করে তিনি বলেন, পুলিশকে পোস্টিং-প্রমোশন ও পদায়নের ভয় দেখিয়ে সরকার তাদেরকে আবারও লাঠিয়াল বাহিনী হিসেবে ব্যবহার করতে চাচ্ছে। পুলিশ ভাইদের কাছে আহ্বান জানাবো, আপনারা পেশায় মেধা, দক্ষতা ও ট্রেনিং এর মধ্য দিয়ে এসেছেন। আপনারা ৫ আগস্ট ও জুলাইয়ের কথা মনে রাখুন। বাংলাদেশের জনগণের বিরুদ্ধে গিয়ে আ. লীগের দল দাস হয়ে পুলিশের যে পরিণতি হয়েছিল আমরা বিশ্বাস করি আপনারা পুলিশকে সেইদিকে ঠেলে দেবেন না।

বিচার বিভাগ নিয়ে বিএনপি আ. লীগের পথেই হাঁটছে: হাসনাত আব্দুল্লাহ

ঠাকুরগাঁওয়ে সাংবাদিক মামুনকে যুবদল নেতার হুমকির প্রতিবাদে মানববন্ধন

 

মোঃ আশরাফুল ইসলাম

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধিঃ

 

ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার সাংবাদিক আল মামুন জীবনকে হত্যার হুমকি ও অশ্লীল ভাষায় গালিগালা’জ করার প্রতিবাদে ভানোর ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক জুয়েল রানাকে গ্রেফতারে’র দাবিতে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন কর্মসূচী পালন করেছেন স্থানীয় সাংবাদিক ও সুধীসমাজ।

 

সোমবার (২৫মে) দুপুরে উপজেলার চৌরাস্তায় বালিয়াডাঙ্গী প্রেস ক্লাবের আয়োজনে ঘণ্টাব্যাপী এই কর্মসূচী পালিত হয়।

বিক্ষোভ ও মানববন্ধন কর্মসূচীতে বক্তব্য দেন বালিয়াডাঙ্গী প্রেস ক্লাবের সভাপতি হারুন অর রশিদ, সাধারণ সম্পাদক এস এম মশিউর রহমান, সাবেক সভাপতি জুলফিকার আলী শাহ, প্রবীণ সাংবাদিক এন এম নুরুল ইসলাম, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ইলিয়াস আলী, সাংবাদিক রাজিউর রহমান জেহাদ রাজু, বাংলানিউজ২৪-এর প্রতিনিধি রাসেল রানা মেহেদী।

 

এছাড়া আরও বক্তব্য দেন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন স্বাধীন সমাজকল্যাণ পরিষদের সভাপতি মোহাম্মদ উল্লাহ রায়হান দুলু, বালিয়াডাঙ্গী প্রেস ক্লাবের সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুর রহমান, সহ-সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক নুরনবী, সাংবাদিক হাসান আলী, জিয়াউর রহমান ও আব্দুল মোমেন সহ অন্যান্যরা।

 

বক্তারা জানান, ভানোর ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক জুয়েল রানা গত ১১ মে পুলিশের মাদকবিরোধী অভিযানে মাদকসহ আটক হন। পরদিন ১২ মে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দিয়ে তাকে আদালতে প্রেরণ করে পুলিশ।

 

এই খবরটি সাংবাদিক আল মামুন জীবন তার পত্রিকা ও ব্যক্তিগত ফেসবুক পেজে প্রকাশ করেন। পরবর্তীতে জামিনে মুক্তি পেয়ে গত ১৯ মে দুপুরে মুঠোফোনে সাংবাদিক আল মামুন জীবনকে হত্যার হুমকি দেন এবং তার বাবা-মাকে উদ্দেশ্য করে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করেন জুয়েল রানা। এই ঘটনার পর থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলেও পুলিশ এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি।

ঠাকুরগাঁওয়ে সাংবাদিক মামুনকে যুবদল নেতার হুমকির প্রতিবাদে মানববন্ধন

হাজরাপুর ইউনিয়নে তরুণদের আস্থার প্রতীক চেয়ারম্যান প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার সাইমুম সিরাজ

 

মুজাহিদ শেখ,স্টাফ রিপোর্টারঃ

 

মাগুরা সদর উপজেলার ৫নং হাজরাপুর ইউনিয়ন পরিষদের আগামী নির্বাচনে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হিসেবে ব্যাপক আলোচনায় এসেছেন তরুণ ছাত্রনেতা ইঞ্জিনিয়ার কাজী সাইমুম সিরাজ। দীর্ঘদিন ধরে মাঠপর্যায়ের রাজনীতি ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় থাকায় বর্তমানে তিনি এলাকার তরুণ প্রজন্মের কাছে প্রথম পছন্দ ও আস্থার প্রতীক হয়ে উঠেছেন।

 

ইঞ্জিনিয়ার কাজী সাইমুম সিরাজ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের রাজনীতির সাথে দীর্ঘকাল ধরে সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত। তিনি ২০১২ সালে হাজরাপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি পদপ্রার্থী ছিলেন। পরবর্তীতে ২০১৭ সালে ঢাকা মহানগর পশ্চিম ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাকালীন সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক এবং বর্তমানে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সহ-সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। বিগত সরকারের আমলে একাধিক রাজনৈতিক মামলার শিকার হলেও রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রামে তিনি সর্বদা অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন।

 

বিশেষ করে, ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের এই শিক্ষার্থী সাধারণ ছাত্রদের সাথে নিয়ে ঢাকার রাজপথে একদফা আন্দোলনে সক্রিয় নেতৃত্ব দেন। আন্দোলন চলাকালে পুলিশি হামলায় টিয়ারশেল ও রাবার বুলেটে তিনি গুরুতর আহত হন। ৫ আগস্টের পর থেকে তিনি আহত জুলাই যোদ্ধাদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনে নিরলস কাজ করছেন। বর্তমানে তিনি সামাজিক সংগঠন “আমরা জুলাই যোদ্ধা”-র কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক এবং মাগুরা জেলা কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

 

শিক্ষাজীবনে অত্যন্ত মেধাবী সাইমুম সিরাজ এসএসসি ও ডিপ্লোমা শেষে ২০২৪ সালে বিএসসি ইন সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং সম্পন্ন করেন এবং বর্তমানে এমএসসিতে অধ্যয়নরত আছেন।

 

হাজরাপুর ইউনিয়নকে একটি আধুনিক ও বৈষম্যহীন মডেল ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করে ইঞ্জিনিয়ার কাজী সাইমুম সিরাজ বলেন:

 

“আমি সাধারণ মানুষকে সাথে নিয়ে এলাকার উন্নয়ন করতে চাই। দরিদ্র শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থান, ইউনিয়ন পরিষদকে হয়রানিমুক্ত করা, নাগরিক সেবা দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া, কৃষি উন্নয়ন, মাদকমুক্ত সমাজ গঠন এবং ধর্মীয় ও সামাজিক সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠাই আমার মূল লক্ষ্য। ঝিনাইদহ-মাগুরা মহাসড়ক ঘিরে শিল্প-কারখানা ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি, খাল-নদী খনন এবং কারিগরি শিক্ষার মাধ্যমে বেকারত্ব দূর করতে আমি বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ নেব। ইউনিয়নবাসীর সেবা করার জন্য আমি সবার দোয়া ও একটিবার সুযোগ কামনা করছি।”

 

 

এলাকার সাধারণ ভোটার ও তরুণদের মতে, একজন উচ্চশিক্ষিত, পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির এবং রাজপথের লড়াকু সৈনিক হিসেবে কাজী সাইমুম সিরাজ হাজরাপুর ইউনিয়নের কাঙ্ক্ষিত উন্নয়নে সবচেয়ে যোগ্য নেতৃত্ব হতে পারেন।

হাজরাপুর ইউনিয়নে তরুণদের আস্থার প্রতীক চেয়ারম্যান প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার সাইমুম সিরাজ

সাভার পৌরবাসী সহ দেশবাসীকে ঈদুল আযহার শুভেচ্ছা জানালেন যুবদল নেতা লিটন মিয়া

 

রাকিবুল ইসলাম রঞ্জু:

 

পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে সাভার পৌরবাসী তথা সমগ্র দেশবাসীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও ঈদ মোবারক জানিয়েছেন সাভার পৌর যুবদল নেতা মোঃ লিটন মিয়া। এক শুভেচ্ছা বার্তায় তিনি বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর সুখ, শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করেন।যুবদল নেতা মোঃ লিটন মিয়া বলেন:

“ঈদুল আযহা আমাদের মাঝে ত্যাগের মহিমা নিয়ে হাজির হয়। এই উৎসবের মূল শিক্ষাই হলো মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে নিজের ভেতরের অহংকার ও স্বার্থকে বিসর্জন দেওয়া। সাম্য, মৈত্রী ও ত্যাগের এই আদর্শকে বুকে ধারণ করে আমাদের সবাইকে এগিয়ে যেতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, ঈদের আনন্দ যেন ধনী-দরিদ্র নির্বিশেষে সাভারের প্রতিটি ঘরে ঘরে ছড়িয়ে পড়ে, এটাই তাঁর প্রত্যাশা। দেশের চলমান পরিস্থিতিতে সবাইকে স্বাস্থ্যসচেতন থেকে এবং আশেপাশের অসহায় ও দুস্থ মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করার আহ্বান জানান তিনি।

পরিশেষে, সাভার পৌর যুবদলের সর্বস্তরের নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়ে সবার সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করেন এই যুবনেতা। ঈদ মোবারক!

সাভার পৌরবাসী সহ দেশবাসীকে ঈদুল আযহার শুভেচ্ছা জানালেন যুবদল নেতা লিটন মিয়া

দেশে হাম ও এর আনুষঙ্গিক উপসর্গের প্রকোপ আশঙ্কাজনক রূপ ধারণ করেছে। মহামারি আকার ধারণ করা এই রোগে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে আরও ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। সেই সঙ্গে এই সময়ে আরও ১ হাজার ২২৪ জনের দেহে হাম ও এর উপসর্গ পাওয়া গেছে।

 

সোমবার (২৫ মে) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

 

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, হাম এবং হামের উপসর্গ নিয়ে এখন পর্যন্ত সারা দেশে ৫৪৫ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে নিশ্চিতভাবে হামে মৃত্যু হয়েছে ৮৭ শিশুর। আর হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ৪৫৮ শিশু।

 

একই সময়ে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়েছে (পরীক্ষায় প্রমাণিত) ৮ হাজার ৭১৯ শিশু। আর হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে এসেছে ৬৪ হাজার ৯৪০ শিশু। আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি। এ বিভাগের হাম ও উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে ২৩১ শিশুর ও আক্রান্ত ৩৬ হাজার ৭০৬ শিশু।

 

এই হিসাব গত ১৫ মার্চ সকাল ৮টা থেকে ২৫ মে সকাল ৮টা পর্যন্ত সময়ের।

 

চিকিৎসকদের মতে, হাম একটি অত্যন্ত ছোঁয়াচে রোগ। সঠিক সময়ে টিকা না নেওয়া এবং সচেতনতার অভাবে এই রোগের সংক্রমণ দ্রুত ছড়াচ্ছে। হঠাৎ তীব্র জ্বর, শরীরে লালচে র‍্যাশ বা দানা দানা ওঠা, কাশির মতো উপসর্গ দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে যোগাযোগ করার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

 

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে ইতোমধ্যে টিকাদান জোরদার এবং আক্রান্ত এলাকাগুলোতে বিশেষ নজরদারির ব্যবস্থা করা হচ্ছে। একই সাথে শিশুদের সুরক্ষায় অভিভাবকদের আরও সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ।

দেশে হামের ভয়াবহ রূপ, গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ১৭ মৃত্যু

বর্তমান সরকারের ১০০ দিনের কাজে অগ্রগতি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেছেন, সরকারের গৃহীত পদক্ষেপের কারণে শিল্প-কারখানার শ্রমিকরা শান্তিপূর্ণ, আনন্দঘন ও উৎসবমুখর পরিবেশে ঈদ উদযাপনের সুযোগ পাচ্ছেন।

 

আজ সোমবার (২৫) প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ে বর্তমান সরকারের ১০০ দিনের কার্যক্রম নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান তিনি।

 

মাহদী আমিন বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকারের মন্ত্রিসভা ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে চলতি মাসের ২৪ মে পর্যন্ত মোট ১০টি কেবিনেট সভা সম্পন্ন করেছে। এসব সভায় সর্বসম্মতিক্রমে ৬০টি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। তারমধ্যে ৩৭টি সিদ্ধান্ত অর্থাৎ প্রায় ৬২ শতাংশ এরইমধ্যে বাস্তবায়িত হয়েছে এবং অবশিষ্ট ২৩টি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় রয়েছে।

 

তিনি আরও বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন তাদের সময়কার সরকার দেশে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা বিকাশ নিশ্চিত করেছে। সেই ধারাবাহিকতায় বর্তমান সরকারও গণমাধ্যম ও সাংবাদিকদের জন্য সর্বোচ্চ স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছে।

 

মাহদী আমিন বলেন, এ নজিরবিহীন স্বাধীনতার সুযোগ নিয়ে একটি গোষ্ঠী উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে নৈরাজ্য সৃষ্টির অপচেষ্টা চালাচ্ছে এবং বিভিন্ন ধরনের অপপ্রচারে লিপ্ত রয়েছে।

 

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদসহ রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গকে নিয়ে বিভ্রান্তিকর প্রচারণা, অশোভন আচরণ ও অশালীন কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সামাজিক অস্থিতিশীলতা তৈরির যে প্রয়াস চলছে, তা গণতান্ত্রিক পরিবেশ ও রাষ্ট্রীয় শৃঙ্খলার জন্য ক্ষতিকর বলেও অভিমত প্রকাশ করেন তিনি।

 

তিনি বলেন, সরকার একদিকে মানবাধিকার, বাকস্বাধীনতা ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে, যার প্রতিফলন গত ১০০ দিনের উদার ও সহিষ্ণুতার নতুন মানদণ্ডে বারবার প্রতীয়মান হয়েছে। অন্যদিকে বাকস্বাধীনতার নামে অপপ্রচার, বিদ্বেষ বা বিষেদগারের যে রাজনীতি একটি গোষ্ঠীর অপকৌশলে পরিণত হয়েছে, সেই চর্চা গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্খার সাথে সাংঘর্ষিক।

 

মাহদী আমিন বলেন, দেশের ব্যবসা বাণিজ্য ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন গতি আনতে টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া পর্যন্ত ইকোনমিক করিডোর বাস্তবায়নের প্রস্তুতি শুরু করা হয়েছে। আগামী ১৬ ডিসেম্বরের মধ্যে উদ্বোধনের লক্ষ্য নিয়ে দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনালের কাজও।

 

তিনি আরও বলেন, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় সরকার বদ্ধপরিকর। এরইমধ্যে কুষ্টিয়ার মেহেরপুরে ৯ বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের দায়ে এক আসামিকে আদালত মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন। মাত্র ২৯ কার্যদিবসের মধ্যে এ মামলার রায় ঘোষণায় দেশের বিচার ব্যবস্থার দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এক বিরল নজির হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এছাড়া দীর্ঘদিনের বিচারহীনতার সংস্কৃতি ভেঙে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে। এক দশক পর আলোচিত তনু হত্যা মামলার প্রথম আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রিমান্ডে নেওয়ার মাধ্যমে সত্য উদঘাটনের পথ আরও সুগম হয়েছে। একইভাবে ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার আসামিকে ভারতে দ্রুত শনাক্ত করা হয়েছে এবং দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে।

 

মাহদী আমিন বলেন, এখন ভুক্তভোগীরা প্রধানমন্ত্রীর কাছে যান না; বরং প্রধানমন্ত্রীই জনগণের দুয়ারে পৌঁছে যাচ্ছেন। তিনি মানুষের কথা শুনছেন, দুঃখ-কষ্টে পাশে দাঁড়াচ্ছেন এবং সাহস ও সহমর্মিতার হাত বাড়িয়ে দিচ্ছেন। এই পরিবর্তন কেবল প্রশাসনিক নয়, এটি মানবিক ও জনমুখী রাজনীতির এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এখানে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ ক্ষমতাধর ব্যক্তি জনগণের সমস্যা থেকে বিচ্ছিন্ন নন বরং তিনি সরাসরি দেশের সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে অনুভূতিশীল নেতৃত্বের পরিচয় দিচ্ছেন।

 

মাহদী আমিন বলেন, বাংলাদেশি পাসপোর্টে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হচ্ছে। আবারও যুক্ত করা হচ্ছে ‘ইসরায়েল ব্যতীত’ শব্দবন্ধ, যা ক্ষমতাচ্যুত ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে বাদ দেওয়া হয়েছিল। জাতীয় স্বার্থ, ইসলামী মূল্যবোধ ও জনগণের অনুভূতির প্রতি সম্মান জানিয়ে বিএনপি সরকার এই শব্দবন্ধ পুনর্বহালের উদ্যোগ নিয়েছে।

 

তিনি বলেন, ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করার উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, যা দেশের অগ্রযাত্রায় একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে। উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে অর্থনৈতিক খাত, ব্যাংকিং, ও সামগ্রিক রাষ্ট্র কাঠামোর সংস্কারের মাধ্যমে শৃঙ্খলা ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠার জন্য।

 

দেশের মানুষের প্রকৃত অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া এবং দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা পৌঁছে দিতে বহুল আলোচিত এস আলম গ্রুপের ৪ হাজার ২৬৪ কোটি টাকার স্থাবর সম্পদ সফলভাবে জব্দ করা হয়েছে। পাশাপাশি সরকার সফলভাবে ৯০ দশমিক ৬৬ মিলিয়ন ডলারের বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ করে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের অর্থনীতির দৃঢ় ও সক্ষম অবস্থানের প্রমাণ দিয়েছে। বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনতে ১০টি দেশের মধ্যে এরইমধ্যে ৩টি দেশের সঙ্গে ঐতিহাসিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে এবং বাকি দেশগুলোর সঙ্গে চুক্তির প্রক্রিয়াও চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক আস্থা বৃদ্ধি পাবে এবং বিদেশি বিনিয়োগ আরও সম্প্রসারিত হবে বলে আশা করা যাচ্ছে বলেও জানান মাহদী আমিন।

 

মাহদী আমিন বলেন, গত মাসেই দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স এসেছে, যা এই গণতান্ত্রিক সরকারের প্রতি প্রবাসী বাংলাদেশিদের আস্থা ও বিশ্বাসের প্রতিফলন। প্রবাসীদের পাঠানো মাসিক রেমিট্যান্স ইতোমধ্যেই প্রায় ৩.৭৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।

 

বন্ধ কলকারখানা পুনরায় চালু এবং অর্থনীতিতে নতুন গতি সঞ্চারের লক্ষ্যে ৬০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ তহবিল ঘোষণা করা হয়েছে, যার মাধ্যমে ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে বলেও জানান তিনি।

সরকারের ১০০ দিনের কাজের অগ্রগতি তুলে ধরলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা

সাতক্ষীরা কালীগঞ্জে চরম বিদ্যুৎ সংকট

গরমে অতিষ্ঠ জনজীবন, দুর্ভোগে সাধারণ মানুষ

 

প্রতিবেদনেঃ মোঃ ওমর ফারুক

Kaliganj Upazila উপজেলার তারালী, তেঁতুলিয়া, রাজাপুর, ঘুশুড়ি সহ বেশিরভাগ এলাকায় তীব্র বিদ্যুৎ সংকটে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। প্রচণ্ড গরমের মধ্যে দিনের পর দিন ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন সাধারণ মানুষ। দিন হোক কিংবা গভীর রাত— কোনো সময়ই ঠিকমতো বিদ্যুৎ থাকছে না বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর।

স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ মানুষ সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে রয়েছেন। গরমে রাতভর ঘুমাতে পারছেন না অনেকেই। বিশুদ্ধ পানি সংগ্রহ, মোবাইল চার্জ, ফ্যান চালানো এমনকি নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজেও দেখা দিয়েছে চরম দুর্ভোগ।

শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, দোকানপাট ও অনলাইনভিত্তিক কাজেও নেমে এসেছে স্থবিরতা। সাধারণ মানুষের প্রশ্ন— কেন এই চরম বিদ্যুৎ সংকট? কেন বারবার আশ্বাস দিলেও বাস্তবে মিলছে না নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সেবা?

এলাকাবাসীর ক্ষোভ, শুধু উন্নয়নের গল্প আর আশ্বাসের বক্তব্য দিলেই হবে না, বাস্তবেও তার প্রতিফলন দেখতে চায় জনগণ। জনপ্রতিনিধিদের জনগণের দুর্ভোগ বুঝে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

কালীগঞ্জবাসীর প্রত্যাশা, দ্রুত এই বিদ্যুৎ সংকটের স্থায়ী সমাধান করে জনদুর্ভোগ কমাতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

সাতক্ষীরা কালীগঞ্জে চরম বিদ্যুৎ সংকট

বিরুলিয়া ইউনিয়নবাসীকে সাভার থানা জিয়া মঞ্চের সভাপতি ও চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী রাকিব হাসান গফুরের ঈদুল আযহার শুভেচ্ছা

 

রাকিবুল ইসলাম রঞ্জু:

 

পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে সাভারের বিরুলিয়া ইউনিয়নবাসীসহ দেশবাসীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও মোবারকবাদ জানিয়েছেন সাভার থানা জিয়া মঞ্চের সভাপতি এবং আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিরুলিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হাজী মোঃ রাকিব হাসান গফুর।

আজ এক শুভেচ্ছা বার্তায় তিনি এই অভিনন্দন জানান।

হাজী মোঃ রাকিব হাসান গফুর বলেন, “ঈদুল আযহা আমাদের মাঝে ত্যাগের মহিমা ও ধৈর্যের শিক্ষা নিয়ে হাজির হয়। আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে নিজের প্রিয় বস্তুকে উৎসর্গ করার মাধ্যমেই এই ঈদের প্রকৃত সার্থকতা নিহিত। কোরবানির এই মহান আদর্শকে ধারণ করে আমাদের সমাজের হিংসা, বিদ্বেষ ও বৈষম্য ভুলে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।”

 

তিনি আরও বলেন, “আমি বিরুলিয়া ইউনিয়নের প্রতিটি মানুষের সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করি। পবিত্র এই দিনে আমরা যেন সবাই মিলে একটি মানবিক, সুশৃঙ্খল ও মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে এগিয়ে আসি। ঈদুল আযহা সবার জীবনে বয়ে আনুক অনাবিল আনন্দ ও অনাবিল শান্তি। ঈদ মোবারক।”

 

শুভেচ্ছা বার্তায় তিনি বিরুলিয়া ইউনিয়নের সর্বস্তরের মানুষের কাছে দোয়া ও সমর্থন কামনা করেন এবং সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ও সুশৃঙ্খলভাবে ঈদ উদযাপনের আহ্বান জানান।

বিরুলিয়া ইউনিয়নবাসীকে সাভার থানা জিয়া মঞ্চের সভাপতি ও চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী রাকিব হাসান গফুরের ঈদুল আযহার শুভেচ্ছা

র‌্যাবের চৌকস অভিযানে জীপসহ প্রায় ১১ হাজার ইয়াবার চালান আটক

জামালপুর হামলা পাল্টা হামলার মধ্য দিয়ে জেলার সানন্দবাড়ী তে থমথমে অবস্থা বিরাজমান।

error: আপনি নিউজ চুরি করার চেষ্টা করছেন। বিশেষ প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন ০১৭৬৭৪৪৪৩৩৩
%d