রংপুরের পীরগঞ্জ থানার তদন্ত ওসি হিসাবে যোগদান করলেন তাজুল ইসলাম - Gono television | বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল।
রংপুরের পীরগঞ্জ থানার তদন্ত ওসি হিসাবে যোগদান করলেন তাজুল ইসলাম

রংপুরের পীরগঞ্জ থানার তদন্ত ওসি হিসাবে যোগদান করলেন তাজুল ইসলাম

রংপুরের পীরগঞ্জ থানার তদন্ত ওসি হিসাবে যোগদান করলেন তাজুল ইসলাম।

“মোঃ শাওন মিয়া, পীরগঞ্জ, রংপুর”

রংপুরের পীরগঞ্জ থানায় তদন্ত ওসি হিসাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন পুলিশ পরিদর্শক মোঃ তাজুল ইসলাম। তিনি গত ১৫ জুলাই আনুষ্ঠানিক ভাবে নতুন দায়িত্বে যোগদান করেন।এর আগে তিনি একই থানায় অপারেশন ওসি হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছেন। গত বছরের ১৫ ডিসেম্বর তিনি পীরগঞ্জ থানায় অপারেশন ওসি হিসাবে যোগদান করেন। পরবর্তীতে পুলিশ প্রশাসনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাকে তদন্ত ওসি হিসাবে দায়িত্ব প্রদান করা হয়।

নতুন দায়িত্ব গ্রহণের পর তদন্ত ওসি তাজুল ইসলাম বলেন,”আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা,‌অপরাধ‌ দমন ও নিরপেক্ষ ও দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে সর্বোচ্চ পুলিশি সেবা প্রদান করাই হবে আমার মূল লক্ষ্য। জনগণের আস্থা অর্জনে সততা, পেশাদারিত্ব ও আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবো ।”

তিনি পীরগঞ্জ উপজেলা বাসির সহযোগিতা কামনা করে বলেন, পুলিশ ও জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে অপরাধমুক্ত, নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।


মানিকগঞ্জে নবীণ বরণ অনুষ্ঠানে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী

 

আতিকুর রহমান আশিক

মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি

 

 

মানিকগঞ্জে নবীণ বরণ অনুষ্ঠানে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা বলেছেন, “ দেশপ্রেমিক মানুষের মূল লক্ষ্য থাকে দেশকে এগিয়ে নেওয়া। দেশপ্রেম ছাড়া কোনো জাতি বা রাষ্ট্রের উন্নয়ন সম্ভব নয়। একজন প্রকৃত দেশপ্রেমিক মানুষ কখনো দুর্নীতিবাজ হতে পারে না।”

 

রোজ রবিবার(২৬ জুলাই) মানিকগঞ্জের সরকারি দেবেন্দ্র কলেজে স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের নবীনবরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

 

মন্ত্রী বলেন, “দেশ ভালো থাকলে তবেই আমরা ভালো থাকব। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান আমাদের দেশপ্রেমের শিক্ষা দিয়েছেন। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া শিখিয়েছেন অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপসহীন থাকতে। অন্যায়ের সঙ্গে কখনো আপস করা যাবে না; সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করতে হবে। আর প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান মানবিক, সামাজিক ও জনবান্ধব রাষ্ট্র গঠনের দিকনির্দেশনা দিয়েছেন।”

 

তিনি আরও বলেন, “বিগত সময়ে দেশের কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন হয়নি। এখন দেশকে এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ এসেছে। দেশপ্রেম, সততা এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান এই তিনটি আদর্শ ধারণ করতে পারলে আমরা কখনো পথভ্রষ্ট হব না এবং দেশকে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে এগিয়ে নিতে সক্ষম হব।”

 

সরকারি দেবেন্দ্র কলেজের অধ্যক্ষ ড. মাহফিল খান অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন।

 

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মানিকগঞ্জের জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানা, জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট জামিলুর রশিদ খান এবং পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সারওয়ার আলম।

 

এছাড়া বক্তব্য দেন জেলা ছাত্রদলের সভাপতি আব্দুল খালেক শুভ, সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল রহমান খান এবং ইসলামী ছাত্রশিবিরের জেলা সভাপতি মাহবুবুর রহমান।

 

অনুষ্ঠানে কলেজের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

 

এর আগে মন্ত্রী কলেজ ভবনে শহীদ জিয়া, মুক্তিযুদ্ধ এবং জুলাই স্মৃতি কর্নার ফিতা কেটে উদ্বোধন করেন।

মানিকগঞ্জে নবীণ বরণ অনুষ্ঠানে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী 

নীলফামারীতে দৈনিক মজুরি ভিত্তিক কর্মচারীদের মানববন্ধন

স্টাফ রিপোর্টার

সাইদুল ইসলাম

সরকারি প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘদিন ধরে কর্মরত দক্ষ দৈনিক মজুরি ভিত্তিক ও মাস্টার রোল কর্মচারীদের বিনা কারণে চাকরিচ্যুত এবং আউটসোর্সিং প্রক্রিয়ায় হস্তান্তরের প্রতিবাদে মানববন্ধন ও সড়ক লিপি প্রদান করেছে বাংলাদেশ দৈনিক মজুরি ভিত্তিক কর্মচারী সমিতি নীলফামারী জেলা শাখা। রোববার (২৬ জুলাই) সকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয় পরে সংগঠনের পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে সরকারের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। মানববন্ধনে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ দৈনিক মজুরি ভিত্তিক কর্মচারী সমিতির রংপুর বিভাগীয় যুগ্ন আহবায়ক তহমিনা বেগম, জেলা আহ্বায়ক আব্দুল কাদের, যুগ্ন আহ্বায়ক শহিদার রহমান ও জাহেনুর রহমান। বক্তারা বলেন, সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘদিন ধরে দক্ষতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে

দায়িত্ব পালন করে আসা দৈনিক মজুরি ভিত্তিক ও মাস্টাররোল কর্মচারীদের বিনা কারণে চাকরিচ্যুত করা হচ্ছে। একই সঙ্গে তাদের পরিবর্তে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে জনবল নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, যা দীর্ঘদিনের কর্মীদের প্রতি অবিচার। তারা আরও বলেন, দৈনিক ভিত্তিক সাময়িক শ্রমিক নিয়োজিতকরণ নীতিমালা-২০২৫ বাতিল করে দীর্ঘদিন ধরে কর্মরত কর্মচারীদের বয়স শিথিলের মাধ্যমে নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানে স্থায়ী নিয়োগ দেওয়ার দাবি জানাচ্ছেন তারা। দাবি পূরণে সরকারের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করছেন বক্তারা।

নীলফামারীতে দৈনিক মজুরি ভিত্তিক কর্মচারীদের মানববন্ধন 

মোঃ সাহাজুদ্দিন সরকার,

ক্রাইম রিপোর্টার, গাজীপুর ।

 

গাজীপুর মহানগরের কাশিমপুরে সংবাদ সংগ্রহে যাওয়ার পথে এক সাংবাদিকের ওপর পরিকল্পিত নৃশংস হামলা, হত্যাচেষ্টা এবং সংবাদ সংগ্রহের মূল্যবান সরঞ্জাম লুটের অভিযোগ উঠেছে।

 

হামলায় গুরুতর আহত হন দৈনিক জনবানী জাতীয় পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার, চ্যানেল এস টেলিভিশনের কাশিমপুর প্রতিনিধি এবং কাশিমপুর থানা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক জনাব মোঃ জামাল আহম্মেদ প্রধানিয়া। একই ঘটনায় আহত হন তাঁর সহকর্মী সাংবাদিক মো. ইমরুল ইসলাম।

ভুক্তভোগী সাংবাদিকের লিখিত অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২৩ জুলাই ২০২৬ বিকেল প্রায় ২টার দিকে মোটরসাইকেলে সংবাদ সংগ্রহের উদ্দেশ্যে দক্ষিণ পানিশাইল পালাশ হাউজিং এলাকায় পৌঁছালে পূর্বপরিকল্পিতভাবে ১০ থেকে ১২ জন অজ্ঞাত ব্যক্তি তাদের পথরোধ করে।

 

অভিযোগে বলা হয়েছে, হামলাকারীদের হাতে লোহার রড, গ্যাস লাইনের পাইপ, হকি স্টিক, শক্ত বাঁশের লাঠি ও কাঠের বাটাম ছিল। কোনো ধরনের কথা বলার সুযোগ না দিয়ে তারা দুই সাংবাদিককে এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করে। এতে শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত লাগে।

অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, এক হামলাকারী লোহার রড দিয়ে সাংবাদিক জামাল আহমেদের মাথায় আঘাত করার চেষ্টা করলে তিনি আত্মরক্ষার জন্য হাত বাড়িয়ে দিলে তাঁর বাম হাতের কব্জির হাড় ভেঙে যায়। অপর একজন হকি স্টিক দিয়ে মাথায় আঘাতের চেষ্টা করলে সেটি ডান কাঁধে আঘাত হানে এবং কাঁধের হাড় ভেঙে যায়।

 

এতেই ক্ষান্ত হয়নি হামলাকারীরা। অভিযোগ অনুযায়ী, তারা জোরপূর্বক সাংবাদিকের ব্যবহৃত Tecno Camon 50 Ultra (12/256GB) ও Vivo Y21d (8/128GB) মডেলের দুটি স্মার্টফোন ছিনিয়ে নেয়। মোবাইল দুটিতে গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ-সংক্রান্ত তথ্য, ব্যক্তিগত ডাটাবেজ এবং পেশাগত নথি সংরক্ষিত ছিল।

 

এছাড়াও একটি ট্রাভেল ব্যাগ নিয়ে যায় হামলাকারীরা। ব্যাগে ছিল দৈনিক জনবানী ও চ্যানেল এস এর অফিসিয়াল প্রেস আইডি কার্ড, দুটি অফিসিয়াল বুম, একটি কর্ডলেস মাইক্রোফোন, একটি Panasonic AG-CX350 4K ভিডিও ক্যামেরা (লেন্সসহ), নগদ ১৮ হাজার টাকা, গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র এবং সংবাদ সংগ্রহের বিভিন্ন সরঞ্জাম। অভিযোগ অনুযায়ী, লুট হওয়া সরঞ্জামের মূল্য কয়েক লাখ টাকা।

হামলার সময় সাংবাদিকদের চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা হত্যার হুমকি দিয়ে তিনটি প্রাইভেটকারে করে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।

 

সিসিটিভি ফুটেজ ঐ এলাকার প্রত্যেকটা বাড়ির সামনে ক্যামেরাগুলোতে সংরক্ষিত আছে। এবং মারধরের ভিডিও গুলো জরিপ অফিসের সামনের সিসিটিভি ক্যামেরায় সংরক্ষিত আছে।

পরবর্তীতে সহকর্মীরা জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করলে কাশিমপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহত সাংবাদিককে উদ্ধার করে।

 

জরুরি ভিত্তিতে শহীদ তাজউদ্দীন আহম্মেদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। সেখানে তিনি ২৩ জুলাই থেকে ২৫ জুলাই ২০২৬ পর্যন্ত চিকিৎসাধীন ছিলেন। হাসপাতালের চিকিৎসা নথিও অভিযোগের সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়েছে।

সাংবাদিক জামাল আহম্মেদ অভিযোগে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তিনি সততা, নিষ্ঠা ও পেশাদায়িত্বে সঙ্গে সাংবাদিকতা করে আসছেন।

 

সংবাদ সংগ্রহে গিয়ে এ ধরনের সশস্ত্র হামলা শুধু তাঁর ব্যক্তিগত নিরাপত্তার ওপর আঘাত নয়; এটি স্বাধীন সাংবাদিকতা, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং সত্য প্রকাশের অধিকারকে ভয়ভীতি প্রদর্শনের একটি গুরুতর প্রচেষ্টা। তিনি হামলাকারীদের দ্রুত শনাক্ত করে গ্রেপ্তার, লুট হওয়া মালামাল উদ্ধার এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

 

এ ঘটনায় সাংবাদিক সমাজে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। গণমাধ্যমকর্মীদের ভাষ্য, পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সাংবাদিকদের ওপর ধারাবাহিক হামলা, নির্যাতন ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে সংবাদকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের সাংবিধানিক ও নৈতিক দায়িত্ব।

সাংবাদিক নেতারা বলেন, সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন করতে গিয়ে যদি সাংবাদিকদের জীবন ঝুঁকির মুখে পড়ে, তবে তা শুধু একজন ব্যক্তির ওপর হামলা নয়; বরং জনগণের তথ্য জানার অধিকার এবং মুক্ত গণমাধ্যমের ওপর আঘাত। তারা অবিলম্বে দোষীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার আহ্বান জানান, যাতে ভবিষ্যতে কোনো সাংবাদিকের ওপর হামলার দুঃসাহস কেউ না দেখায়।

 

এ বিষয়ে কাশিমপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

কাশিপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃমোল্লা খালিদ জানান, অভিযোগের বিষয়ে আমাদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দিক থেকে তদন্ত ও পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

গাজীপুরের কাশিমপুরে সাংবাদিকের উপর সন্ত্রাসী হামলা।

 

মোঃ সাইদুল ইসলাম হেলাল

বিশেষ প্রতিনিধিঃ

পরিবেশ ও মানবাধিকার বিষয়ে সাংবাদিকদের দক্ষতা ও সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে নওগাঁ জেলা পযার্য়ের পরিবেশবাদী সাংবাদিকদের প্রশিক্ষণ শুরু হয়েছে। রোববার বেলা ১১টায় নওগাঁ শহরের বই পট্টি এলাকায় অবস্থিত আয়োজন হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্টের কনফারেন্স রুমে ডাসকো ফাউন্ডেশনের আয়োজনে দুই দিন ব্যাপি এ প্রশিক্ষণ শুরু হয়। এসময় ডাসকো ফাউন্ডেশনের প্রোগ্রাম ম্যানেজার NETZ -সারা খাতুন, টেকনিক্যাল কোঅর্ডিনেটর NETZ- মনিরুজ্জামান, টেকনিক্যাল অফিসার তামান্না জেবিন, নওগাঁ পরিবেশ উন্নয়ন সংস্থার নির্বাহী পরিচালক বৃক্ষ প্রেমী মাহমুদুন নবী বেলাল, সময় টিভির এমআর রকি, ডিবিসির সাজু, সাইদুল ইসলাম হেলাল, সহ পরিবেশ বিষয়ক কর্মশালায় স্থানীয় প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় কর্মরত গণমাধ্যম কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। প্রশিক্ষণ কর্মশালায় জলবায়ু পরিবর্তন ও অর্থনৈতিক উন্নয়নমূলক কার্যক্রমের ফলে সৃষ্ট পরিবেশ ও মানবাধিকার লঙ্ঘন সম্পর্কে এবং ন্যায়সঙ্গত রূপান্তর এবং স্থানীয় সিভিল সোসাইটি সংগঠনসমূহকে শক্তিশালী করণের বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।

 

মোঃ সাইদুল ইসলাম হেলাল

বিশেষ প্রতিনিধিঃ

মোবাইল নং- ০১৭২৪২৫৫৭০৬

তারিখঃ ২৬-৭-২০২৬

নওগাঁয় পরিবেশবাদী সাংবাদিক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত 

 

সংবাদদাতা: জিয়াউর রহমান জিয়া,

শ্যামনগর উপজেলা প্রতিনিধি,

“দৈনিক আমাদের দেশ”

 

*শ্যামনগর, সাতক্ষীরা:* সাতক্ষীরা-৪ আসনের সদ্য বহিষ্কৃত সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের পদত্যাগের দাবিতে শ্যামনগরে বিক্ষোভ মিছিল ও কুশপুত্তলিকা দাহ করেছে সর্বস্তরের জনগণ।

 

আজ সোমবার ২৬ জুলাই ২০২৬ সকাল ১১টায় শ্যামনগর বাবলাতলা মোড় থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়। মিছিলটি উপজেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে ৪ রাস্তার মোড়ে গিয়ে সমাবেশে মিলিত হয়।

 

মিছিলে শ্যামনগরের শিক্ষক, আইনজীবী, ব্যবসায়ী, ছাত্র-জনতা ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। বিক্ষোভকারীরা ভোট চোরের পদত্যাগ চাই, গাজী নজরুলের পদত্যাগ চাই সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।

 

সমাবেশ শেষে বক্তারা সদ্য বহিষ্কৃত এমপি গাজী নজরুল ইসলামের নামে কুশপুত্তলিকা দাহ করেন। এসময় বক্তারা বলেন, জনগণের সাথে প্রতারণা ও অনৈতিক কাজের কারণে যাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে, তার সংসদ সদস্য পদে থাকার কোনো নৈতিক অধিকার নেই। অবিলম্বে তার পদত্যাগ করতে হবে।

 

বক্তারা আরও বলেন, শ্যামনগরবাসী আর কোনো দুর্নীতিবাজ ও বিতর্কিত জনপ্রতিনিধিকে মেনে নেবে না। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন তারা।

 

পুরো কর্মসূচিতে শ্যামনগরের সর্বস্তরের জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা যায়।

শ্যামনগরে সদ্য বহিষ্কৃত এমপি গাজী নজরুলের পদত্যাগের দাবিতে কুশপুত্তলিকা দাহ ও বিক্ষোভ

বরিশালের গৌরনদীতে হরিসেনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য সরবরাহ করা টিফিনের রুটির ভেতর থেকে ধারালো ব্লেড উদ্ধারের ঘটনায় খাদ্য উৎপাদন ও সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান টঙ্গীর কোকোলা ফুড প্রোডাক্ট লিমিটেডের কারখানা পরিদর্শন করেছে তদন্ত কমিটি।

 

শনিবার (২৫ জুলাই) দুপুর থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত তদন্ত কমিটির সদস্যরা কারখানার বিভিন্ন সেকশন ঘুরে দেখেন এবং আলামত সংগ্রহ করেন।

 

এ সময় উপস্থিত ছিলেন গৌরনদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইব্রাহীম, তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক গৌরনদী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সেকেন্দার শেখ, কমিটির সদস্য উপজেলা মেডিকেল অফিসার সৌভিক সরকার, উপজেলা স্যানিটারি ইন্সপেক্টর শংকর কুমার দাশ এবং কমিটির সদস্যসচিব উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এ কে এম নুরুল আলম মৃধা।

 

পরিদর্শন শেষে তদন্ত কমিটির সদস্যরা বলেন, গত ২২ জুলাই বরিশাল জেলার গৌরনদী উপজেলার হরিসেনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের টিফিনের রুটির ভেতরে ব্লেড পাওয়া যায়। এ ঘটনায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি জানাজানি হলে ঘটনার কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত কার্যক্রমের অংশ হিসেবে খাদ্য উৎপাদন ও সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানে সরেজমিন পরিদর্শন করা হয়েছে। এ সময় প্রতিষ্ঠান থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। বিস্তারিত তদন্ত শেষে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে।

 

অপরদিকে কারখানার ব্যবস্থাপক আব্দুজ জাহের বলেন, আন্তর্জাতিক মান নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতির মাধ্যমে কোকোলা ফুড প্রোডাক্ট খাদ্যপণ্য উৎপাদন করে। চলমান উৎপাদন পদ্ধতিতে কোনোভাবেই খাবারের ভেতরে এ ধরনের ধারালো ব্লেড যাওয়ার সুযোগ নেই। উক্ত ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটন করে মূল অপরাধীদের শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।

 

উল্লেখ্য, গত ২২ জুলাই বরিশালের গৌরনদী হরিসেনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির এক ছাত্রী টিফিন খাওয়ার সময় রুটি ছিঁড়তে গিয়ে ভেতরে একটি ধারালো ব্লেড দেখতে পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে অবহিত করে।

স্কুলের টিফিনের রুটিতে ব্লেড, টঙ্গীতে কারখানা পরিদর্শনে তদন্ত কমিটি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

মানিকগঞ্জে নবীণ বরণ অনুষ্ঠানে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী

 

আতিকুর রহমান আশিক

মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি

 

 

মানিকগঞ্জে নবীণ বরণ অনুষ্ঠানে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা বলেছেন, “ দেশপ্রেমিক মানুষের মূল লক্ষ্য থাকে দেশকে এগিয়ে নেওয়া। দেশপ্রেম ছাড়া কোনো জাতি বা রাষ্ট্রের উন্নয়ন সম্ভব নয়। একজন প্রকৃত দেশপ্রেমিক মানুষ কখনো দুর্নীতিবাজ হতে পারে না।”

 

রোজ রবিবার(২৬ জুলাই) মানিকগঞ্জের সরকারি দেবেন্দ্র কলেজে স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের নবীনবরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

 

মন্ত্রী বলেন, “দেশ ভালো থাকলে তবেই আমরা ভালো থাকব। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান আমাদের দেশপ্রেমের শিক্ষা দিয়েছেন। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া শিখিয়েছেন অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপসহীন থাকতে। অন্যায়ের সঙ্গে কখনো আপস করা যাবে না; সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করতে হবে। আর প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান মানবিক, সামাজিক ও জনবান্ধব রাষ্ট্র গঠনের দিকনির্দেশনা দিয়েছেন।”

 

তিনি আরও বলেন, “বিগত সময়ে দেশের কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন হয়নি। এখন দেশকে এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ এসেছে। দেশপ্রেম, সততা এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান এই তিনটি আদর্শ ধারণ করতে পারলে আমরা কখনো পথভ্রষ্ট হব না এবং দেশকে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে এগিয়ে নিতে সক্ষম হব।”

 

সরকারি দেবেন্দ্র কলেজের অধ্যক্ষ ড. মাহফিল খান অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন।

 

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মানিকগঞ্জের জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানা, জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট জামিলুর রশিদ খান এবং পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সারওয়ার আলম।

 

এছাড়া বক্তব্য দেন জেলা ছাত্রদলের সভাপতি আব্দুল খালেক শুভ, সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল রহমান খান এবং ইসলামী ছাত্রশিবিরের জেলা সভাপতি মাহবুবুর রহমান।

 

অনুষ্ঠানে কলেজের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

 

এর আগে মন্ত্রী কলেজ ভবনে শহীদ জিয়া, মুক্তিযুদ্ধ এবং জুলাই স্মৃতি কর্নার ফিতা কেটে উদ্বোধন করেন।

মানিকগঞ্জে নবীণ বরণ অনুষ্ঠানে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী 

রংপুরের পীরগঞ্জ থানার তদন্ত ওসি হিসাবে যোগদান করলেন তাজুল ইসলাম।

“মোঃ শাওন মিয়া, পীরগঞ্জ, রংপুর”

রংপুরের পীরগঞ্জ থানায় তদন্ত ওসি হিসাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন পুলিশ পরিদর্শক মোঃ তাজুল ইসলাম। তিনি গত ১৫ জুলাই আনুষ্ঠানিক ভাবে নতুন দায়িত্বে যোগদান করেন।এর আগে তিনি একই থানায় অপারেশন ওসি হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছেন। গত বছরের ১৫ ডিসেম্বর তিনি পীরগঞ্জ থানায় অপারেশন ওসি হিসাবে যোগদান করেন। পরবর্তীতে পুলিশ প্রশাসনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাকে তদন্ত ওসি হিসাবে দায়িত্ব প্রদান করা হয়।

নতুন দায়িত্ব গ্রহণের পর তদন্ত ওসি তাজুল ইসলাম বলেন,”আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা,‌অপরাধ‌ দমন ও নিরপেক্ষ ও দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে সর্বোচ্চ পুলিশি সেবা প্রদান করাই হবে আমার মূল লক্ষ্য। জনগণের আস্থা অর্জনে সততা, পেশাদারিত্ব ও আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবো ।”

তিনি পীরগঞ্জ উপজেলা বাসির সহযোগিতা কামনা করে বলেন, পুলিশ ও জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে অপরাধমুক্ত, নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।

রংপুরের পীরগঞ্জ থানার তদন্ত ওসি হিসাবে যোগদান করলেন তাজুল ইসলাম

নীলফামারীতে দৈনিক মজুরি ভিত্তিক কর্মচারীদের মানববন্ধন

স্টাফ রিপোর্টার

সাইদুল ইসলাম

সরকারি প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘদিন ধরে কর্মরত দক্ষ দৈনিক মজুরি ভিত্তিক ও মাস্টার রোল কর্মচারীদের বিনা কারণে চাকরিচ্যুত এবং আউটসোর্সিং প্রক্রিয়ায় হস্তান্তরের প্রতিবাদে মানববন্ধন ও সড়ক লিপি প্রদান করেছে বাংলাদেশ দৈনিক মজুরি ভিত্তিক কর্মচারী সমিতি নীলফামারী জেলা শাখা। রোববার (২৬ জুলাই) সকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয় পরে সংগঠনের পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে সরকারের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। মানববন্ধনে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ দৈনিক মজুরি ভিত্তিক কর্মচারী সমিতির রংপুর বিভাগীয় যুগ্ন আহবায়ক তহমিনা বেগম, জেলা আহ্বায়ক আব্দুল কাদের, যুগ্ন আহ্বায়ক শহিদার রহমান ও জাহেনুর রহমান। বক্তারা বলেন, সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘদিন ধরে দক্ষতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে

দায়িত্ব পালন করে আসা দৈনিক মজুরি ভিত্তিক ও মাস্টাররোল কর্মচারীদের বিনা কারণে চাকরিচ্যুত করা হচ্ছে। একই সঙ্গে তাদের পরিবর্তে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে জনবল নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, যা দীর্ঘদিনের কর্মীদের প্রতি অবিচার। তারা আরও বলেন, দৈনিক ভিত্তিক সাময়িক শ্রমিক নিয়োজিতকরণ নীতিমালা-২০২৫ বাতিল করে দীর্ঘদিন ধরে কর্মরত কর্মচারীদের বয়স শিথিলের মাধ্যমে নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানে স্থায়ী নিয়োগ দেওয়ার দাবি জানাচ্ছেন তারা। দাবি পূরণে সরকারের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করছেন বক্তারা।

নীলফামারীতে দৈনিক মজুরি ভিত্তিক কর্মচারীদের মানববন্ধন 

মোঃ সাহাজুদ্দিন সরকার,

ক্রাইম রিপোর্টার, গাজীপুর ।

 

গাজীপুর মহানগরের কাশিমপুরে সংবাদ সংগ্রহে যাওয়ার পথে এক সাংবাদিকের ওপর পরিকল্পিত নৃশংস হামলা, হত্যাচেষ্টা এবং সংবাদ সংগ্রহের মূল্যবান সরঞ্জাম লুটের অভিযোগ উঠেছে।

 

হামলায় গুরুতর আহত হন দৈনিক জনবানী জাতীয় পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার, চ্যানেল এস টেলিভিশনের কাশিমপুর প্রতিনিধি এবং কাশিমপুর থানা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক জনাব মোঃ জামাল আহম্মেদ প্রধানিয়া। একই ঘটনায় আহত হন তাঁর সহকর্মী সাংবাদিক মো. ইমরুল ইসলাম।

ভুক্তভোগী সাংবাদিকের লিখিত অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২৩ জুলাই ২০২৬ বিকেল প্রায় ২টার দিকে মোটরসাইকেলে সংবাদ সংগ্রহের উদ্দেশ্যে দক্ষিণ পানিশাইল পালাশ হাউজিং এলাকায় পৌঁছালে পূর্বপরিকল্পিতভাবে ১০ থেকে ১২ জন অজ্ঞাত ব্যক্তি তাদের পথরোধ করে।

 

অভিযোগে বলা হয়েছে, হামলাকারীদের হাতে লোহার রড, গ্যাস লাইনের পাইপ, হকি স্টিক, শক্ত বাঁশের লাঠি ও কাঠের বাটাম ছিল। কোনো ধরনের কথা বলার সুযোগ না দিয়ে তারা দুই সাংবাদিককে এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করে। এতে শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত লাগে।

অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, এক হামলাকারী লোহার রড দিয়ে সাংবাদিক জামাল আহমেদের মাথায় আঘাত করার চেষ্টা করলে তিনি আত্মরক্ষার জন্য হাত বাড়িয়ে দিলে তাঁর বাম হাতের কব্জির হাড় ভেঙে যায়। অপর একজন হকি স্টিক দিয়ে মাথায় আঘাতের চেষ্টা করলে সেটি ডান কাঁধে আঘাত হানে এবং কাঁধের হাড় ভেঙে যায়।

 

এতেই ক্ষান্ত হয়নি হামলাকারীরা। অভিযোগ অনুযায়ী, তারা জোরপূর্বক সাংবাদিকের ব্যবহৃত Tecno Camon 50 Ultra (12/256GB) ও Vivo Y21d (8/128GB) মডেলের দুটি স্মার্টফোন ছিনিয়ে নেয়। মোবাইল দুটিতে গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ-সংক্রান্ত তথ্য, ব্যক্তিগত ডাটাবেজ এবং পেশাগত নথি সংরক্ষিত ছিল।

 

এছাড়াও একটি ট্রাভেল ব্যাগ নিয়ে যায় হামলাকারীরা। ব্যাগে ছিল দৈনিক জনবানী ও চ্যানেল এস এর অফিসিয়াল প্রেস আইডি কার্ড, দুটি অফিসিয়াল বুম, একটি কর্ডলেস মাইক্রোফোন, একটি Panasonic AG-CX350 4K ভিডিও ক্যামেরা (লেন্সসহ), নগদ ১৮ হাজার টাকা, গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র এবং সংবাদ সংগ্রহের বিভিন্ন সরঞ্জাম। অভিযোগ অনুযায়ী, লুট হওয়া সরঞ্জামের মূল্য কয়েক লাখ টাকা।

হামলার সময় সাংবাদিকদের চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা হত্যার হুমকি দিয়ে তিনটি প্রাইভেটকারে করে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।

 

সিসিটিভি ফুটেজ ঐ এলাকার প্রত্যেকটা বাড়ির সামনে ক্যামেরাগুলোতে সংরক্ষিত আছে। এবং মারধরের ভিডিও গুলো জরিপ অফিসের সামনের সিসিটিভি ক্যামেরায় সংরক্ষিত আছে।

পরবর্তীতে সহকর্মীরা জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করলে কাশিমপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহত সাংবাদিককে উদ্ধার করে।

 

জরুরি ভিত্তিতে শহীদ তাজউদ্দীন আহম্মেদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। সেখানে তিনি ২৩ জুলাই থেকে ২৫ জুলাই ২০২৬ পর্যন্ত চিকিৎসাধীন ছিলেন। হাসপাতালের চিকিৎসা নথিও অভিযোগের সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়েছে।

সাংবাদিক জামাল আহম্মেদ অভিযোগে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তিনি সততা, নিষ্ঠা ও পেশাদায়িত্বে সঙ্গে সাংবাদিকতা করে আসছেন।

 

সংবাদ সংগ্রহে গিয়ে এ ধরনের সশস্ত্র হামলা শুধু তাঁর ব্যক্তিগত নিরাপত্তার ওপর আঘাত নয়; এটি স্বাধীন সাংবাদিকতা, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং সত্য প্রকাশের অধিকারকে ভয়ভীতি প্রদর্শনের একটি গুরুতর প্রচেষ্টা। তিনি হামলাকারীদের দ্রুত শনাক্ত করে গ্রেপ্তার, লুট হওয়া মালামাল উদ্ধার এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

 

এ ঘটনায় সাংবাদিক সমাজে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। গণমাধ্যমকর্মীদের ভাষ্য, পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সাংবাদিকদের ওপর ধারাবাহিক হামলা, নির্যাতন ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে সংবাদকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের সাংবিধানিক ও নৈতিক দায়িত্ব।

সাংবাদিক নেতারা বলেন, সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন করতে গিয়ে যদি সাংবাদিকদের জীবন ঝুঁকির মুখে পড়ে, তবে তা শুধু একজন ব্যক্তির ওপর হামলা নয়; বরং জনগণের তথ্য জানার অধিকার এবং মুক্ত গণমাধ্যমের ওপর আঘাত। তারা অবিলম্বে দোষীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার আহ্বান জানান, যাতে ভবিষ্যতে কোনো সাংবাদিকের ওপর হামলার দুঃসাহস কেউ না দেখায়।

 

এ বিষয়ে কাশিমপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

কাশিপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃমোল্লা খালিদ জানান, অভিযোগের বিষয়ে আমাদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দিক থেকে তদন্ত ও পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

গাজীপুরের কাশিমপুরে সাংবাদিকের উপর সন্ত্রাসী হামলা।

 

মোঃ সাইদুল ইসলাম হেলাল

বিশেষ প্রতিনিধিঃ

পরিবেশ ও মানবাধিকার বিষয়ে সাংবাদিকদের দক্ষতা ও সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে নওগাঁ জেলা পযার্য়ের পরিবেশবাদী সাংবাদিকদের প্রশিক্ষণ শুরু হয়েছে। রোববার বেলা ১১টায় নওগাঁ শহরের বই পট্টি এলাকায় অবস্থিত আয়োজন হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্টের কনফারেন্স রুমে ডাসকো ফাউন্ডেশনের আয়োজনে দুই দিন ব্যাপি এ প্রশিক্ষণ শুরু হয়। এসময় ডাসকো ফাউন্ডেশনের প্রোগ্রাম ম্যানেজার NETZ -সারা খাতুন, টেকনিক্যাল কোঅর্ডিনেটর NETZ- মনিরুজ্জামান, টেকনিক্যাল অফিসার তামান্না জেবিন, নওগাঁ পরিবেশ উন্নয়ন সংস্থার নির্বাহী পরিচালক বৃক্ষ প্রেমী মাহমুদুন নবী বেলাল, সময় টিভির এমআর রকি, ডিবিসির সাজু, সাইদুল ইসলাম হেলাল, সহ পরিবেশ বিষয়ক কর্মশালায় স্থানীয় প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় কর্মরত গণমাধ্যম কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। প্রশিক্ষণ কর্মশালায় জলবায়ু পরিবর্তন ও অর্থনৈতিক উন্নয়নমূলক কার্যক্রমের ফলে সৃষ্ট পরিবেশ ও মানবাধিকার লঙ্ঘন সম্পর্কে এবং ন্যায়সঙ্গত রূপান্তর এবং স্থানীয় সিভিল সোসাইটি সংগঠনসমূহকে শক্তিশালী করণের বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।

 

মোঃ সাইদুল ইসলাম হেলাল

বিশেষ প্রতিনিধিঃ

মোবাইল নং- ০১৭২৪২৫৫৭০৬

তারিখঃ ২৬-৭-২০২৬

নওগাঁয় পরিবেশবাদী সাংবাদিক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত 

 

সংবাদদাতা: জিয়াউর রহমান জিয়া,

শ্যামনগর উপজেলা প্রতিনিধি,

“দৈনিক আমাদের দেশ”

 

*শ্যামনগর, সাতক্ষীরা:* সাতক্ষীরা-৪ আসনের সদ্য বহিষ্কৃত সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের পদত্যাগের দাবিতে শ্যামনগরে বিক্ষোভ মিছিল ও কুশপুত্তলিকা দাহ করেছে সর্বস্তরের জনগণ।

 

আজ সোমবার ২৬ জুলাই ২০২৬ সকাল ১১টায় শ্যামনগর বাবলাতলা মোড় থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়। মিছিলটি উপজেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে ৪ রাস্তার মোড়ে গিয়ে সমাবেশে মিলিত হয়।

 

মিছিলে শ্যামনগরের শিক্ষক, আইনজীবী, ব্যবসায়ী, ছাত্র-জনতা ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। বিক্ষোভকারীরা ভোট চোরের পদত্যাগ চাই, গাজী নজরুলের পদত্যাগ চাই সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।

 

সমাবেশ শেষে বক্তারা সদ্য বহিষ্কৃত এমপি গাজী নজরুল ইসলামের নামে কুশপুত্তলিকা দাহ করেন। এসময় বক্তারা বলেন, জনগণের সাথে প্রতারণা ও অনৈতিক কাজের কারণে যাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে, তার সংসদ সদস্য পদে থাকার কোনো নৈতিক অধিকার নেই। অবিলম্বে তার পদত্যাগ করতে হবে।

 

বক্তারা আরও বলেন, শ্যামনগরবাসী আর কোনো দুর্নীতিবাজ ও বিতর্কিত জনপ্রতিনিধিকে মেনে নেবে না। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন তারা।

 

পুরো কর্মসূচিতে শ্যামনগরের সর্বস্তরের জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা যায়।

শ্যামনগরে সদ্য বহিষ্কৃত এমপি গাজী নজরুলের পদত্যাগের দাবিতে কুশপুত্তলিকা দাহ ও বিক্ষোভ

বরিশালের গৌরনদীতে হরিসেনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য সরবরাহ করা টিফিনের রুটির ভেতর থেকে ধারালো ব্লেড উদ্ধারের ঘটনায় খাদ্য উৎপাদন ও সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান টঙ্গীর কোকোলা ফুড প্রোডাক্ট লিমিটেডের কারখানা পরিদর্শন করেছে তদন্ত কমিটি।

 

শনিবার (২৫ জুলাই) দুপুর থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত তদন্ত কমিটির সদস্যরা কারখানার বিভিন্ন সেকশন ঘুরে দেখেন এবং আলামত সংগ্রহ করেন।

 

এ সময় উপস্থিত ছিলেন গৌরনদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইব্রাহীম, তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক গৌরনদী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সেকেন্দার শেখ, কমিটির সদস্য উপজেলা মেডিকেল অফিসার সৌভিক সরকার, উপজেলা স্যানিটারি ইন্সপেক্টর শংকর কুমার দাশ এবং কমিটির সদস্যসচিব উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এ কে এম নুরুল আলম মৃধা।

 

পরিদর্শন শেষে তদন্ত কমিটির সদস্যরা বলেন, গত ২২ জুলাই বরিশাল জেলার গৌরনদী উপজেলার হরিসেনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের টিফিনের রুটির ভেতরে ব্লেড পাওয়া যায়। এ ঘটনায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি জানাজানি হলে ঘটনার কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত কার্যক্রমের অংশ হিসেবে খাদ্য উৎপাদন ও সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানে সরেজমিন পরিদর্শন করা হয়েছে। এ সময় প্রতিষ্ঠান থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। বিস্তারিত তদন্ত শেষে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে।

 

অপরদিকে কারখানার ব্যবস্থাপক আব্দুজ জাহের বলেন, আন্তর্জাতিক মান নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতির মাধ্যমে কোকোলা ফুড প্রোডাক্ট খাদ্যপণ্য উৎপাদন করে। চলমান উৎপাদন পদ্ধতিতে কোনোভাবেই খাবারের ভেতরে এ ধরনের ধারালো ব্লেড যাওয়ার সুযোগ নেই। উক্ত ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটন করে মূল অপরাধীদের শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।

 

উল্লেখ্য, গত ২২ জুলাই বরিশালের গৌরনদী হরিসেনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির এক ছাত্রী টিফিন খাওয়ার সময় রুটি ছিঁড়তে গিয়ে ভেতরে একটি ধারালো ব্লেড দেখতে পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে অবহিত করে।

স্কুলের টিফিনের রুটিতে ব্লেড, টঙ্গীতে কারখানা পরিদর্শনে তদন্ত কমিটি

ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলায় নিজ বসতবাড়ির ছাদে টবে গাঁজা গাছ চাষের অভিযোগে অংকন দে (২৯) নামে এক বরখাস্ত পুলিশ কনস্টেবলকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অভিযানে তার বাড়ি থেকে তিনটি গাঁজা গাছ জব্দ করা হয়েছে।

 

শনিবার (২৫ জুলাই) বিকেলে উপজেলার টবগী ইউনিয়নের মুলাইপত্তন এলাকার ৮ নম্বর ওয়ার্ডে মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়

 

গ্রেপ্তার অংকন দে উপজেলার টবগী ইউনিয়নের মুলাইপত্তন ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত নিরঞ্জন দে (তপন)-এর ছেলে।

 

পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে অংকন দের বসতঘরের বাথরুমের ছাদে টবে লাগানো তিনটি গাঁজা গাছ উদ্ধার করা হয়। পরে সেগুলো জব্দ করে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

 

স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, অংকন দে আগে বাংলাদেশ পুলিশের কনস্টেবল হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ইয়াবাসহ আটক হওয়ার একটি ঘটনায় তিনি সাময়িক বরখাস্ত হন। এরপর থেকে নিজ এলাকায় অবস্থান করছিলেন।

 

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ওসি মো. মনিরুজ্জামান বলেন, অভিযানে উদ্ধার হওয়া তিনটি গাঁজা গাছ জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। তিনি জানান, মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে।

ইয়াবা মামলায় বরখাস্ত কনস্টেবল বাড়িতেই করছিলেন গাঁজার চাষ, গাছসহ গ্রেপ্তার

চট্টগ্রামের আনোয়ারায় কাঁচি দিয়ে নির্মমভাবে মা-বাবাকে হত্যার আলোচিত জোড়া হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। ঘটনার মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই নিহত দম্পতির একমাত্র ছেলে রমিরাজ দাশ (৩১)-কে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত কাঁচিটিও উদ্ধার করেছে পুলিশ।

রবিবার (২৬ জুলাই) সংবাদ সম্মেলনে আনোয়ারা থানা পুলিশের পক্ষ থেকে এসব তথ্য জানানো হয়।

 

পুলিশ জানায়, পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বাবা-মায়ের সঙ্গে রমিজাজ দাশের বিরোধ চলছিল। ঘটনার দিন দুপুরে বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে সে ঘরে থাকা কাঁচি দিয়ে প্রথমে তার মা কল্পনা দাশ গুপ্ত-কে এলোপাতাড়ি আঘাত করে। মাকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে বাবা স্বপন দাশ গুপ্ত-কেও একই কাঁচি দিয়ে গলা ও পেটে আঘাত করে। ঘটনাস্থলেই মা মারা যান। গুরুতর আহত বাবাকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

 

ঘটনার পর অভিযুক্ত ছেলে নিজ কক্ষে অবস্থান করছিল। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে আটক করে। জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার কথা স্বীকার করলে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত কাঁচিটি উদ্ধার করা হয়।

 

পুলিশের দাবি, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, পারিবারিক কলহ ও মানসিক ক্ষোভ থেকেই এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। অভিযুক্তকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

 

আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জুনায়েত চৌধুরী বলেন, এঘটনায় নিহত স্বপন দাশ গুপ্তের ভাই তপন দাশ গুপ্ত (৫৭) আনোয়ারা থানায় লিখিত এজহার দায়েরের পর ঘাতক ছেলের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এবং পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

 

উল্লেখ্য গত শনিবার (২৫ জুলাই) দুপুরে উপজেলার হাইলধর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব গুজরা এলাকার চৈতন্য মহাজন বাড়িতে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।

 

কাঁচি দিয়ে মা-বাবাকে হত্যা করে ছেলে, রহস্য উদঘাটন পুলিশের

কারাগারে নিজের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার আবেদন জানিয়ে আদালতে বক্তব্য দিয়েছেন সাবেক ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। তিনি বলেছেন, বর্তমানে তার বিরুদ্ধে ৯৮টি মামলা রয়েছে এবং তিনি ৯৯ দিন রিমান্ডে ছিলেন।

রোববার (২৬ জুলাই) ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪-এর বিচারক রবিউল আলমের আদালতে হাজির করা হলে শুনানির একপর্যায়ে কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে এসব কথা বলেন পলক।

 

তিনি আদালতকে বলেন, ‘ঘাড়ে আঘাতের কারণে চিকিৎসক আমাকে হেলমেট না পরার নির্দেশ দিয়েছেন। আমার বিরুদ্ধে ৯৮টি মামলা রয়েছে। ৯৯ দিন রিমান্ডে ছিলাম। বর্তমানে তিনটি মামলার বিচার চলছে। আইসিটি ট্রাইব্যুনালের একটি মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ চলছে।’

 

সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর কথা উল্লেখ পলক বলেন, ‘১৫ দিনে মাত্র আধা ঘণ্টা পরিবারের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ পাই। আইনজীবীদের সঙ্গে প্রতি দুই সপ্তাহে অন্তত দুই দিন, প্রতিদিন তিন ঘণ্টা করে বিশেষভাবে কথা বলার অনুমতি চাই।’

এদিন জুলাই আন্দোলনের সময় ঢাকার মোহাম্মদপুরে মালবাহী ট্রাকচালক মো. হোসেন হত্যা মামলায় অভিযোগ গঠন শুনানির জন্য পলকসহ অন্য আসামিদের আদালতে হাজির করা হয়।

 

শুনানিতে পলকের আইনজীবী ফারজানা ইয়াসমিন রাখি ‘প্রিভিলেজড কমিউনিকেশন’ সুবিধা চেয়ে আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত কারাবিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে অন্য আসামিদের সময়ের আবেদন মঞ্জুর করে অভিযোগ গঠনের শুনানির জন্য আগামী ১৩ আগস্ট দিন ধার্য করেন।

 

মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ মোট ৩৪ জনকে আসামি করা হয়েছে।

 

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই জুলাই আন্দোলনের সময় ঢাকার মোহাম্মদপুরে গুলিবিদ্ধ হয়ে মালবাহী ট্রাকচালক মো. হোসেন নিহত হন। এ ঘটনায় সাজ্জাদ ও শাহিন নামে আরও দুই ব্যক্তি আহত হন।

 

পরে নিহতের স্ত্রী মোছা. রীনা বেগম ২০২৪ সালের ৩১ আগস্ট শেখ হাসিনাসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। তদন্ত শেষে একই বছরের ২৩ নভেম্বর মোহাম্মদপুর থানার উপপরিদর্শক মো. আকরামুজ্জামান আদালতে ৩৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

 

শেখ হাসিনা বাদে অপর আসামিরা হলেন- আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাসান মাহমুদ, সাবেক মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাবেক প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, সাবেক সংসদ সদস্য সাদেক খান, নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালি আসিফ ইনান, আসিফ আহম্মেদ, তারেকুজ্জামান রাজিব, শেখ বজলুর রহমান, নুর মোহাম্মদ সেন্টু, তোফায়েল সিদ্দিক ওরফে তুহিন, রহমান মিয়া ওরফে এ কে এম অহিদুর রহমান, পলাশ, ওলিউর রহমান, খলিলুর রহমান, ইমন, এস এম রিয়াজুল হক তামিম, মাসুদুর রহমান বিপ্লব, আব্দুস সাত্তার ভূইয়া ওরফে এম এ সাত্তার, পারভেজ ওরফে গোলডেন পারভেজ, সুমন মিয়া ওরফে কাইল্লা সুমন, মিলন হোসেন, সোহেল ওরফে ভূইয়া সোহেল ওরফে বুনিয়া সোহেল, সলিম উল্লাহ সলু, ইরফান, মুহাম্মদ বদিউল আলম ওরফে বদিউজ্জামান, ফুরকান হোসেন, শাহজাহান খান, সাজ্জাদ হোসেন, ফারুক হোসেন অভি, নাইমুল হাসান রাসেল।

‘আমার বিরুদ্ধে ৯৮টি মামলা, ৯৯ দিন রিমান্ডে ছিলাম’

র‌্যাবের চৌকস অভিযানে জীপসহ প্রায় ১১ হাজার ইয়াবার চালান আটক

জামালপুর হামলা পাল্টা হামলার মধ্য দিয়ে জেলার সানন্দবাড়ী তে থমথমে অবস্থা বিরাজমান।

পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের ও আদালতে মিথ্যা হলফনামা দেয়ার অভিযোগে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কেবিন ক্রু খাদিজা সুলতানা শিমুর বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

 

বুধবার (১৫ জুলাই) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২-এর বিচারক মো. জাকির হোসাইন এ আদেশ দেন। আদালতের আদেশে বলা হয়েছে, শিমুর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর ১৩ ধারা এবং দণ্ডবিধির ১৮১, ১৮২ ও ১৯৩ ধারায় মামলা করা হবে। আদালত নিজেই এ মামলার বাদী হয়েছেন।

 

আদালতের নথি অনুযায়ী, খাদিজা সুলতানা শিমু মামলার বাদী হয়ে বেসরকারি একটি এয়ারলাইন্সের কর্মকর্তা মো. ওমর ফারুক চৌধুরীর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনের বিভিন্ন ধারায় উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলা করেন।

 

তদন্ত শেষে উত্তরা পশ্চিম থানার তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে জানান, অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি। প্রতিবেদনে বলা হয়, মামলার এজাহারে উল্লেখ করা ফেসবুক লিংক, ডিজিটাল আলামত ও অন্যান্য তথ্য যাচাই করে ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি প্রচারের কোনো প্রমাণ মেলেনি। ফলে ওই কর্মকর্তাকে মামলা থেকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়।

একই সঙ্গে তদন্ত কর্মকর্তা প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, ওমর ফারুক আগে শিমুর বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন দিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে আদালতে মামলা করেছিলেন। সেই মামলার দায় এড়াতেই শিমু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত বিভিন্ন লিংক উল্লেখ করে তার বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি ছড়ানোর অভিযোগ এনে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, হয়রানিমূলক ও মিথ্যা মামলা করেছেন বলে প্রাথমিক তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে। এ কারণে শিমুর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর ১৩ ধারায় আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার আবেদনও করেন তদন্ত কর্মকর্তা।

 

পরে গত ৯ জুলাই আদালত তদন্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করে ওমর ফারুককে মামলা থেকে অব্যাহতি দেন। আদালতের আদেশে বলা হয়, শিমু ক্ষতিসাধনের উদ্দেশ্যে আদালতে মিথ্যা মামলা দায়ের করেছেন এবং হলফ করে মিথ্যা সাক্ষ্য দিয়েছেন। মামলার নথিতে তার দেয়া হলফনামাও সংযুক্ত রয়েছে। এসব বিবেচনায় আদালত নিজেই বাদী হয়ে তার বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন ও দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়েরের নির্দেশ দেন।

 

তদন্তে যা উঠে এসেছে পুলিশের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, তদন্তকালে রেকর্ড, ডিজিটাল আলামত, ফেসবুক লিংক ও ফরেনসিক তথ্য যাচাই করে ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি প্রচারের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

 

তদন্তে আরও উঠে আসে, শিমু বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কেবিন ক্রু এবং ওমর ফারুক একটি বেসরকারি এয়ারলাইন্সের এয়ারক্রাফট মেইনটেন্যান্স কর্মকর্তা। ফেসবুকে পরিচয়ের পর তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

 

প্রতিবেদনে বলা হয়, বিয়ের আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন সময়ে ওমর ফারুকের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী নেয়ার অভিযোগে ওমর ফারুক আদালতে পৃথক মামলা করেন। এরপর সেই মামলার দায় থেকে নিজেকে রক্ষা করতেই শিমু পর্নোগ্রাফি আইনে অভিযোগ দায়ের করেন বলে তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে।

 

ওমর ফারুকের আগের মামলা গত ২০ জুলাই ওমর ফারুক চৌধুরী শিমুর বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন, ‘হানি ট্র্যাপ’ ও ব্ল্যাকমেইলের মাধ্যমে প্রায় ২২ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ঢাকার আদালতে মামলা করেন। আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে উত্তরা পশ্চিম থানাকে তদন্তের নির্দেশ দেন। পরে তিনি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষের কাছেও লিখিত অভিযোগ করেন।

 

সেই মামলায় অভিযোগ করা হয়, ২০২৪ সালে ফেসবুকে পরিচয়ের পর শিমু তাকে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন সময়ে টাকা নেন। জন্মদিনে দেড় লাখ টাকা মূল্যের একটি হীরার আংটিসহ বিয়ের খরচের জন্য মোট ২১ লাখ ৭৪ হাজার ৫১১ টাকা নেয়ার পরও বিয়ে না করে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে মামলায় দাবি করা হয়।

পর্নোগ্রাফি আইনে কেবিন ক্রু শিমুর বিরুদ্ধে মামলার নির্দেশ আদালতের

error: আপনি নিউজ চুরি করার চেষ্টা করছেন। বিশেষ প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন ০১৭৬৭৪৪৪৩৩৩
%d