রাজধানীর নর্দায় বাস দুর্ঘটনায় নিহত ১ - Gono television | বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল।
রাজধানীর নর্দায় বাস দুর্ঘটনায় নিহত ১

রাজধানীর নর্দায় বাস দুর্ঘটনায় নিহত ১

রাজধানীর নর্দায় এক বাসে অন্য বাসের ধাক্কায় একজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ১২ জন। বুধবার (২৭ মে) সকাল ৬টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

 

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল ৬টার দিকে নর্দা এলাকায় আকাশ পরিবহনের একটি বাসকে পেছন থেকে ধাক্কা দিয়ে উলটে যায় ঢাকা-বরিশাল রুটে চলাচল করা ইসলাম পরিবহনের একটি বাস। এতে আকাশ পরিবহনের বাসটির পেছন দিকের ডান পাশের অংশ দুমড়েমুচড়ে যায়। দুর্ঘটনায় ওই বাসটির এক যাত্রী নিহত এবং অন্তত ১২ জন আহত হন। এ ছাড়া ইসলাম পরিবহনের বাসটি আইল্যান্ডের ওপর উল্টে যায়।

 

সোয়া ৬টার দিকে দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে একজনের লাশ উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিস। এ ছাড়া অন্তত ১২ জনকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। তাদের উদ্ধার করে কুর্মিটোলা ও বারিধারা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

 

আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর। দুর্ঘটনার পর সড়কের দুই পাশে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়েছে।


সিলেটের ওসমানীনগরে দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে হতাহতদের আর্থিক সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে সরকার। দুর্ঘটনায় নিহত প্রত্যেকের পরিবারকে ৫ লাখ টাকা, পঙ্গুত্ব বরণকারীদের ৩ লাখ টাকা এবং চিকিৎসাধীন আহতদের ১ লাখ টাকা করে অনুদান দেওয়া হবে।

 

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে হতাহতদের এই আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।

 

শনিবার (৮ আগস্ট) সকালে সিলেটের ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এই দুর্ঘটনায় চিকিৎসাধীন আহতদেরকে দেখতে যান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। এ সময় তিনি আহতদের চিকিৎসার খোঁজখবর নেন এবং আহতদের যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দেন।

 

হতাহতদের আর্থিক সহায়তা প্রদানের ঘোষণা আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, বিআরটিএর মাধ্যমে নির্ধারিত একটি ফরম হাসপাতালের পরিচালকের কাছে দেওয়া হয়েছে। ওই ফরম যথাযথভাবে পূরণ করে জমা দেওয়ার পর সংশ্লিষ্টরা সরকারি অনুদানের টাকা পাবেন।

 

এদিকে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে দুর্ঘটনা কমাতে যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিযোগিতামূলকভাবে গাড়ি চালানো বন্ধে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলেও জানান মন্ত্রী। বিশেষ করে সকালে মহাসড়ক ফাঁকা থাকায় চালকদের বেপরোয়া গতি ও অহেতুক প্রতিযোগিতার বিষয়ে নজরদারি বাড়ানোর কথা জানান তিনি।

 

গতকাল ৭ আগস্ট সকালে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ওসমানীনগরের কাশিকাপন এলাকায় দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে ৯ জন নিহত হন। মহাসড়কে ইউনিক পরিবহন ও বেঙ্গল পরিবহনের দুটিঘটনাস্থলেই সাতজনের মৃত্যু হয়, পরে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও দুজনের মৃত্যু হয়।

 

নিহতরা সবাই ছিলেন ইউনিক পরিবহনের যাত্রী। এ ছাড়া দুই বাসের অন্তত ২৪ জন যাত্রী আহত হন। তাদের মধ্যে ১৪ জন বর্তমানে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

সিলেটে বাস দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবার পাবে ৫ লাখ টাকা

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা অনন্যা পরিবহনের যাত্রীবাহী একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে অটোরিকশা ও সাইকেলকে ধাক্কা দিয়েছে। এতে দুইজন নিহত ও দুইজন গুরুতর আহত হয়েছেন।

 

শনিবার (০৮ আগস্ট) ভোরে পৌরসদরের বরাটিয়া চৌরাস্তা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটনা ঘটে।

 

নিহতরা হলেন- উপজেলার বাহাদিয়া গ্রামের আবদুল মান্নানের ছেলে মো. সেলিম মিয়া (৩৫) ও বর্ষাগাতী গ্রামের মাহতাব উদ্দিনের ছেলে উজ্জল মিয়া। তারা দুজনই অটোরিকশা যাত্রী ছিলেন বলে জানা গেছে।

 

আহতরা হলেন- পৌরসদরের বরাটিয়া গ্রামের সিরাজুল হকের ছেলে রেনু মিয়া ও পাকুন্দিয়া এলাকার রইছ উদ্দিনের ছেলে ছোটন মিয়া।

 

পুলিশ ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, ভোরে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা অনন্যা পরিবহনের একটি বাস উপজেলার বরাটিয়া চৌরাস্তা এলাকায় নিয়ন্ত্রণ হারায়। এ সময় বাসটি রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও একটি সাইকেলকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে অটোরিকশাটি দুমড়েমুচড়ে যায়। দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই সেলিম মিয়া নামে এক অটোরিকশাযাত্রী নিহত হন। এ সময় সাইকেল আরোহী এবং অটোরিকশার চালক ও অপর এক যাত্রী গুরুতর আহত হন। পরে তাদের উদ্ধার করে দ্রুত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় আহত তিনজনকে কিশোরগঞ্জ শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে উজ্জল মিয়া নামে অপর একজন মারা যান।

 

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, অনন্যা পরিবহনের চালক সম্ভবত ঘুমন্ত অবস্থায় গাড়ি চালাচ্ছিলেন।

 

পাকুন্দিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. বায়োজিদ বলেন, হাসপাতালে আনার আগেই একজন মারা যান। আহত তিনজনের মধ্যে একজনের নাম পরিচয় পাওয়া যায়নি। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য কিশোরগঞ্জ শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

 

পাকুন্দিয়া থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম আরিফুর রহমান দুর্ঘটনায় দুইজন নিহত হওয়ার তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

 

তিনি বলেন, একজন ঘটনাস্থলেই মারা গেছেন, কিশোরগঞ্জ নেওয়া হলে সেখানে আরও একজন মারা যান। দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি জব্দ করা হয়েছে। চালক পলাতক রয়েছে। ঘটনায় পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

কিশোরগঞ্জে অটোরিকশা-সাইকেলে বাসের ধাক্কা, নিহত ২

নাটোরের গুরুদাসপুরে যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে গরুবাহী নছিমনের মুখোমুখি সংঘর্ষে তিনজন নিহত হয়েছেন। শনিবার (৮ আগস্ট) সকাল ৯টার দিকে বনপাড়া-হাটিকুমরুল মহাসড়কের হাজিরহাট গ্যাসপাম্প সংলগ্ন এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।

 

নিহতরা হলেন, পার্শ্ববর্তী বড়াইগ্রাম উপজেলার লক্ষীকোল এলাকার আব্দুর রহমান (৭০), ধামানিয়াপাড়া মহল্লার আক্কাস আলী (৫৮) এবং তার ছোট ভাই জাহাঙ্গীর হোসেন (৪৮)।

 

বনপাড়া হাইওয়ে থানার ওসি মোঃ মনিরুজ্জামান জানান, কয়েকজন ব্যবসায়ী নছিমনে করে গরু নিয়ে সিরাজগঞ্জের চান্দাইকোনা হাটের উদ্দেশ্যে যাচ্ছিলেন। পথে হাজিরহাট গ্যাসপাম্প সংলগ্ন এলাকায় ঢাকা থেকে রাজশাহীগামী আরআর পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে নছিমনটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে নছিমনটি দুমড়ে মুচড়ে গিয়ে গরু ব্যবসায়ী আব্দুর রহমান ঘটনাস্থলেই মারা যান।

 

তিনি আরও জানান, গুরুতর আহত আক্কাস আলীকে বড়াইগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয় এবং পথে তার ছোট ভাই জাহাঙ্গীর মারা যান।

 

দুর্ঘটনায় বাসটির সামনের কাচ ভেঙে দুমড়েমুচড়ে গেলেও বাসের কোনো যাত্রী হতাহত হয়নি। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে হাইওয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহতদের মরদেহ ও দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে বলেও জানায় পুলিশ।

নাটোরে বাস-নছিমনের মুখোমুখি সংঘর্ষে তিনজন নিহত

ভোরে ছেলেকে মাদ্রাসায় যাওয়ার জন্য গাড়িতে তুলে দিয়েছিলেন বাবা। কে জানত, সেটিই হবে ছেলের শেষ যাত্রা। কয়েক ঘণ্টা পর সড়ক দুর্ঘটনায় ছেলের মৃত্যুর খবর পেয়ে ছুটে আসতে হবে বাবাকে। দুপুরে সিলেটের শেরপুর হাইওয়ে থানায় ছেলের লাশ দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। কিছুক্ষণ পরপর জ্ঞান হারাচ্ছিলেন বাবা-মা দুজনই।

 

নিহত আরমান হোসেন রাহিম (১৫) কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা। তার বাবা রফিকুল ইসলাম সিলেটে রাজমিস্ত্রির কাজ করেন। দুই ছেলের মধ্যে রাহিম বড়। ছোটবেলা থেকেই ধর্মীয় শিক্ষার প্রতি আগ্রহ ছিল তার। শাহপরান (রহ.) মাদ্রাসায় পড়াশোনা করে দুই বছর আগে কোরআনের হাফিজ হন তিনি।

 

রাহিম সিলেটে ষষ্ঠ শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেছিলেন। পরে গত বছর তাকে ঢাকার একটি মাদ্রাসায় সপ্তম শ্রেণিতে ভর্তি করা হয়। মাদ্রাসায় যাওয়ার জন্য শুক্রবার ভোরে বাবার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে ইউনিক পরিবহনের একটি বাসে ওঠেন তিনি। কিন্তু ঢাকায় আর পৌঁছানো হয়নি রাহিমের।

 

শুক্রবার সকালে সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের ওসমানীনগর উপজেলার কাশিকাপন এলাকায় দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে রাহিমসহ অন্তত নয়জন নিহত হন। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে রাহিমের বাবা সিলেট থেকে শেরপুর হাইওয়ে থানায় ছুটে যান। তার মা কুমিল্লা থেকে সেখানে আসেন।

 

দুপুরে থানায় ছেলের লাশ দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন রফিকুল ইসলাম ও তার স্ত্রী। বারবার জ্ঞান হারাচ্ছিলেন তারা। সেখানে উপস্থিত লোকজন তাদের সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করছিলেন।

 

রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমার দুই ছেলের মধ্যে রাহিম বড়। সে শাহপরান মাদ্রাসা থেকে হাফিজি শেষ করে। ঢাকার একটি মাদ্রাসায় সপ্তম শ্রেণিতে পড়ত। ভোরে তাকে গাড়িতে তুলে দিলাম, সেটাই শেষ যাত্রা হবে ভাবিনি।’

 

রাহিমের স্বজনেরা জানান, পড়াশোনার পাশাপাশি ধর্মীয় শিক্ষাতেও তার আগ্রহ ছিল। পরিবারের আশা ছিল, পড়াশোনা শেষ করে তিনি ভালো কিছু করবেন। কিন্তু একটি সড়ক দুর্ঘটনা মুহূর্তেই সেই স্বপ্ন শেষ করে দিয়েছে।

ভোরে ছেলেকে গাড়িতে তুলে দিলাম, সেটাই শেষ যাত্রা হবে ভাবিনি’

সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে দুটি বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে অন্তত ৯ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে কিশোরগঞ্জের জনপ্রিয় বাউলশিল্পী পেহেলী ভৈরবী রয়েছেন। আহতদের মধ্যে একজনকে আইসিইউতে ভর্তি করা হয়েছে।

 

শুক্রবার (৭ আগস্ট) সকাল সাতটার দিকে ওসমানীনগর উপজেলার কাশিকাপন এলাকায় ইউনিক পরিবহন ও বেঙ্গল পরিবহনের দুটি বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই আটজন নিহত হন। পরে আহতদের সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর আরও এক শিশুর মৃত্যু হয়।

 

হাসপাতাল ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নিহত ৯ জনের মধ্যে চারজনের পরিচয় নিশ্চিত করা হয়েছে। তারা হলেন সিলেট নগরের সোবহানীঘাট এলাকার উত্তম রায়ের ছেলে সপ্তম রায় প্রীতম (২২), ঢাকার বিক্রমপুরের জাহাঙ্গীর শেখের মেয়ে খোজাইফা (৪), কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরের ঠিকাদার সাইফুল ইসলাম এবং কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলার বাউলশিল্পী পেহেলী ভৈরবী। তারা সবাই ইউনিক পরিবহনের যাত্রী ছিলেন।

পরিবার ও স্বজনদের সূত্রে জানা গেছে, পেহেলী ভৈরবী সিলেটে একটি বাউল গানের অনুষ্ঠান শেষে বাড়ি ফিরছিলেন।

 

ওসমানীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম মোস্তফা বলেন, সকাল সাড়ে সাতটার দিকে দয়ামীর বাজারসংলগ্ন কাশিকাপন এলাকায় দুর্ঘটনাটি ঘটে। সংঘর্ষের পর ইউনিক পরিবহনের বাসটি সড়কের পাশের খাদে পড়ে যায়। দুর্ঘটনায় দুই বাসের বেশ কয়েকজন যাত্রী আহত হন। তাদের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

 

সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল উমর রাশেদ মুনির বলেন, হাসপাতালে একটি শিশুকে মৃত অবস্থায় আনা হয়। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও একটি শিশুর মৃত্যু হয়। মোট ১৬ জনকে হাসপাতালে আনা হয়েছে। তাদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় আইসিইউতে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। অন্য চারজন প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন।

 

এদিকে সিলেটের জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মামুন হাসপাতালে গিয়ে আহতদের খোঁজখবর নেন। তিনি বলেন, আহতদের যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কাজ করছে। আহত ও নিহত ব্যক্তিদের পরিবারের জন্য সরকারি সহায়তা পৌঁছে দিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সিলেটে সড়ক দুর্ঘটনায় বাউলশিল্পী ভৈরবী নিহত

 

বাগেরহাট-খুলনা মহাসড়কে ট্রাকের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে শেখ শাহরিয়ার সৈকত (৩৮) নামে এক মোটরসাইকেলচালক নিহত হয়েছেন।

 

শুক্রবার (৭ আগস্ট) বিকেল তিনটার দিকে বাগেরহাট সদর উপজেলার ষাটগম্বুজ ইউনিয়নের শ্রীঘাট ফুলবাড়িয়া ব্রিজসংলগ্ন এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

 

নিহত শেখ শাহরিয়ার সৈকত বাগেরহাট সদর উপজেলার রঘুনাথপুর গ্রামের শহিদুল ইসলামের ছেলে।

 

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাগেরহাট থেকে খুলনাগামী একটি মোটরসাইকেলের সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে মোটরসাইকেলচালক সৈকত সড়কে ছিটকে পড়ে মাথা, মুখ ও বুকে গুরুতর আঘাত পান।

 

খবর পেয়ে বাগেরহাট ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের কর্মীরা তাকে উদ্ধার করে বাগেরহাট ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

বাগেরহাট ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার শেখ মামুনুর রশিদ জানান, খবর পাওয়া মাত্রই দল পাঠিয়া আহত চালককে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়। দুর্ঘটনার পর মহাসড়কে কিছুক্ষণ যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন উঠলেও পরবর্তীতে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে।

 

দুর্ঘটনার পরপরই ট্রাকটি ফেলে চালক পালিয়ে যায়। তবে ট্রাক ও মোটরসাইকেলটি জব্দ করা হয়েছে।

 

বাগেরহাট সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সামসুল আরেফিন বলেন, ঘটনার পরপরই পুলিশ গিয়ে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করেছে। ঘাতক ট্রাক ও ক্ষতিগ্রস্ত মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করে থানায় আনা হয়েছে। পলাতক ট্রাকচালককে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। এ বিষয়ে আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

বাগেরহাট-খুলনা মহাসড়কে প্রাণ গেল মোটরসাইকেল চালকের

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়েছে। ফলাফলের বিস্তারিত তথ্যে দেখা যায়, এবার ময়মনসিংহ বোর্ডে সবেচেয়ে বেশি পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিল। আর সবচেয়ে কম অনুপস্থিতি ছিল চট্টগ্রাম বোর্ডে।

 

সোমবার (১০ আগস্ট) সব বোর্ডের ফলের পরিসংখ্যান থেকে এ তথ্য জানা যায়। এবার গড় পাশের হার ৬২.২৫ শতাংশ। ২০২৪ সালে পাশের হার ছিল ৬৮.৪৫ শতাংশ।

 

পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, অনুপস্থিত শিক্ষার্থী সবচেয়ে বেশি ছিল ময়মনসিংহ বোর্ডে। ৪৫৮৫ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিতে আসেননি এই বোর্ডে। চট্টগ্রাম আছে এই তালিকায় সবার শেষে, ৪৬৩ জন অনুপস্থিত ছিলেন এবারের পরীক্ষায়।

 

দিনাজপুর বোর্ডে শিক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিলেন দ্বিতীয় সর্বোচ্চ, ২৯৪২ জন পরীক্ষা দেননি। তিনে আছে রাজশাহী বোর্ড, অনুপস্থিত ২৯০৮ জন।

 

এরপরের ৬টি স্থান দখল করে আছে যথাক্রমে যশোর (২৮৬৭), ঢাকা (২৬০৪), বরিশাল (২৪৪৩), কুমিল্লা (১৩৯০), সিলেট (৬০৭) ও চট্টগ্রাম (৪৬৩)।

 

উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা শুরু হয় ২১ এপ্রিল। সাধারণ বোর্ডের লিখিত পরীক্ষা শেষ হয় ২০ মে। মাদ্রাসা বোর্ডের দাখিল ও কারিগরি বোর্ডের এসএসসি ভোকেশনাল পরীক্ষা শেষ হয় ২৪ মে।

সর্বোচ্চ পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ময়মনসিংহে, সর্বনিম্ন চট্টগ্রামে

চলতি বছর এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার প্রকাশিত ফলে এ বছর সব বোর্ডে তুলনামূলক ইংরেজি এবং গণিতে সর্বোচ্চ সংখ্যক শিক্ষার্থী ফেল করেছে। অপরদিকে সর্বোচ্চ সংখ্যক শিক্ষার্থী কৃতকার্য হয়েছে আইসিটি বিষয়ে।

 

সোমবার (১০ আগস্ট) সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ করেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

 

ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এ বছর ঢাকা বোর্ডে ইংরেজি এবং গণিতে যথাক্রমে ৭৮.৪০ এবং ৮২.৮৫ শতাংশ শিক্ষার্থী কৃতকার্য হয়েছে। রাজশাহী বোর্ডে ইংরেজি এবং গণিতে যথাক্রমে ৭৪.৭ এবং ৭৭.১৭, কুমিল্লা বোর্ডে ইংরেজি এবং গণিতে যথাক্রমে ৮১.২৯ এবং ৮১.৭৫ শতাংশ, যশোর বোর্ডে ইংরেজি এবং গণিতে যথাক্রমে ৭১.৮৪ এবং ৮৩.৩৪ শতাংশ, চট্টগ্রাম বোর্ডে ইংরেজি এবং গণিতে যথাক্রমে ৭২.২৭ এবং ৮০.০৫ শতাংশ, বরিশাল বোর্ডে ইংরেজি এবং গণিতে যথাক্রমে ৬৯.২৪ এবং ৭৭.৯৮ শতাংশ, সিলেট বোর্ডে ইংরেজি এবং গণিতে যথাক্রমে ৬৯.১১ এবং ৭৫.৯৬ শতাংশ, দিনাজপুর বোর্ডে ইংরেজি এবং গণিতে যথাক্রমে ৭২.৯১ এবং ৭১.০৫ শতাংশ।

ময়মনসিংহ বোর্ডে ইংরেজি এবং গণিতে যথাক্রমে ৬৬.৬৪ এবং ৬৯.৬১ শতাংশ, মাদ্রাসা বোর্ডে ইংরেজি এবং গণিতে যথাক্রমে ৭৯.২১ এবং ৬৯.৯৭ শতাংশ, কারিগরি বোর্ডে ৯৪.৭৯ এবং ৭০.৯২ শতাংশ শিক্ষার্থী কৃতকার্য হয়েছেন। অপরদিকে আইসিটিতে সব বোর্ডে সর্বেচ্চ সংখ্যক শিক্ষার্থী কৃতকার্য হয়েছে।

 

এবার পরীক্ষায় গড় পাশের হার কমে দাঁড়িয়েছে ৬২.২৫ শতাংশে। জিপিএ-৫ পেয়েছে এক লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ শিক্ষার্থী। অথচ ২০২৫ সালের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলে সারা দেশে গড় পাশের হার ছিল ৬৮.৪৫ শতাংশ এবং মোট জিপিএ-৫ পেয়েছিল এক লাখ ৩৯ হাজার ৩২ শিক্ষার্থী।

 

এছাড়া ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে গড় পাশের হার ৬৪.০৫ শতাংশ। যা গত বছর ছিলে ৬৮ দশমিক ০৪ শতাংশ। অর্থাৎ পাশের হার ৩ দশমিক ৯৯ শতাংশ কমেছে।

এ বছর এসএসসিতে সব থেকে বেশি ফেল করেছে ইংরেজি ও গণিতে

২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ হয়েছে। দেশের নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ড মিলিয়ে এবার গড় পাসের হার ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ।

 

সোমবার (১০ আগস্ট) সকালে ফল প্রকাশ করেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন।

 

এবার এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় মোট ১৮ লাখ ৫৭ হাজার ৩৪৪ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। তাদের মধ্যে ছাত্র ৯ লাখ ৩০ হাজার ৩০৫ জন এবং ছাত্রী ৯ লাখ ২৭ হাজার ৩৯ জন।

 

নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে পরীক্ষার্থী ছিল ১৪ লাখ ১৮ হাজার ৩৯৮ জন। এর মধ্যে ছাত্র ৬ লাখ ৬৭ হাজার ৩০৫ এবং ছাত্রী ৭ লাখ ৫১ হাজার ৯৩ জন।

 

মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে দাখিল পরীক্ষায় অংশ নেয় ৩ লাখ ৪ হাজার ২৮৬ জন। তাদের মধ্যে ছাত্র ১ লাখ ৬১ হাজার ৪৯১ এবং ছাত্রী ১ লাখ ৪২ হাজার ৭৯৫ জন। কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এসএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষার্থী ছিল ১ লাখ ৩৪ হাজার ৬৬০ জন। এর মধ্যে ছাত্র ১ লাখ ১ হাজার ৫০৯ এবং ছাত্রী ৩৩ হাজার ১৫১ জন।

 

সারা দেশে ৩ হাজার ৮৮৫টি কেন্দ্রে ৩০ হাজার ৬৬৬টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা এবার এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অংশ নেয়।

 

অনলাইনে ফল দেখার নিয়ম

 

পরীক্ষার্থীরা শিক্ষা বোর্ডগুলোর অভিন্ন ওয়েবসাইট eduboardresults.gov.bd এবং educationboardresults.gov.bd-এ গিয়ে ফল দেখতে পারবে। সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইট থেকেও ফল সংগ্রহ করা যাবে।

 

শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকেও ফলাফল জানতে পারবে। প্রতিষ্ঠানগুলোকে ওয়েবসাইটের ‘রেজাল্ট’ কর্নারে গিয়ে বোর্ড ও প্রতিষ্ঠানের ইআইআইএন ব্যবহার করে ফলাফল ডাউনলোড করে প্রকাশ করতে বলা হয়েছে।

 

এসএমএসে ফল

 

মোবাইল ফোনে এসএমএসের মাধ্যমেও ফল জানা যাবে। এ জন্য মেসেজ অপশনে গিয়ে লিখতে হবে:

 

SSC <স্পেস> বোর্ডের প্রথম তিন অক্ষর <স্পেস> রোল নম্বর <স্পেস> ২০২৬

এরপর সেটি ১৬১৪০ নম্বরে পাঠাতে হবে।

উদাহরণ: SSC DHA 123456 2026

এ ছাড়া ১৬২২২ নম্বরেও এসএমএসের মাধ্যমে ফল সংগ্রহ করা যাবে।

পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন ১১–১৭ আগস্ট

 

ফলাফলে অসন্তুষ্ট পরীক্ষার্থীরা আগামী ১১ আগস্ট থেকে ১৭ আগস্ট পর্যন্ত খাতা পুনর্নিরীক্ষণের জন্য আবেদন করতে পারবে। এ-সংক্রান্ত বিস্তারিত নির্দেশনা সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে।

 

কোনো শিক্ষা বোর্ড, শিক্ষা মন্ত্রণালয় বা পত্রিকা কার্যালয়ে সরাসরি গিয়ে ফলাফল সংগ্রহ করা যাবে না।

এসএসসি ও সমমানের ফল প্রকাশ, পাসের হার ৬২.২৫ শতাংশ

সৌদিতে সোফা কারখানার আগুনে নিহতদের মধ্যে নওগাঁ- আত্রাইয়ের ১৩ জন

 

মোঃ সাইদুল ইসলাম হেলাল

বিশেষ প্রতিনিধিঃ

রিয়াদে বাংলাদেশ দূতাবাসের বরাতে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় রাত দেড়টায় বলেছে, ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ঘটনাস্থলে ১৬ জন মারা যাওয়ার তথ্য দিয়েছেন ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকর্মীরা। আগুনে পুড়ে যাওয়ায় মৃতদেহ শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

 

 

সৌদি আরবের রিয়াদে একটি সোফা কারখানায় আগুনে দগ্ধ হয়ে নওগাঁর আত্রাই উপজেলার ১০ জনের মৃত্যুর খবর দিয়েছে স্হানীয় প্রশাসন। পাশের নাটোর জেলার নলডাঙ্গা উপজেলার আরও তিন প্রবাসী নিহত হয়েছেন।

 

রোববার স্হানীয় সময় দুপুর ২টার দিকে রিয়াদের শিফা থানাধীন মুসা সানাইয়া শিল্প এলাকায় এ আগুন লাগে।

 

রিয়াদে বাংলাদেশ দূতাবাসের বরাতে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় রাত দেড়টায় বলেছে, ভয়াবহ এ অগ্নিকাণ্ডে ঘটনাস্থলে ১৬ জন মারা যাওয়ার তথ্য দিয়েছেন ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকর্মীরা। আগুনে পুড়ে যাওয়ায় মৃতদেহ শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

 

 

মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. শরীফুল ইসলামের পাঠানো বার্তায় বলা হয়, “স্থানীয় ফায়ার সার্ভিস এখনো উদ্ধার কাজ পরিচালনা করছে। অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে যাওয়ায় মৃতদেহসমূহ শনাক্ত করা দুরূহ হয়ে পড়েছে।”

 

দূতাবাসের কর্মকর্তাদের ঘটনাস্থলে গিয়ে কাজ করার তথ্য দিয়ে তিনি বলেন, “নিহতদের নাম পরিচয় শনাক্তে তারা স্থানীয় সৌদি কর্তৃপক্ষের সাথে নিবিড় যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছে।”

 

এর আগে নিহতদের স্বজনদের বরাতে স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রিতিনিধিরা বলছেন, রোববার দুপুরের দিকে ওই সোফা কারখানায় আগুন লাগে। এতে অন্তত ১৭ জনের মৃত্যু হয়। বাংলাদেশি ছাড়াও অন্য দেশের নাগরিক আছে কিনা সেটা অবশ্য স্বজনরা বলতে পারেননি।

 

 

রাত ১টার দিকে সৌদি দূতাবাসের কাউন্সেলর (শ্রম) মুহাম্মদ রেজায়ে রাব্বীর বরাতে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা শরীফুল বলেছিলেন, সৌদির কারখানায় মৃত্যুর প্রকৃত সংখ্যা তখনও তারা নিশ্চিত হতে পারেননি। প্রকৃত সংখ্যা পাওয়া গেলে তা জানিয়ে দেওয়া হবে।

 

শরীফুল বলেন, শ্রম কাউন্সেলরসহ দূতাবাসের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে রয়েছেন।

 

দুর্ঘটনার বিষয়ে নিহতের স্বজনদের বরাতে নাটোরের খাজুরা ইউপি চেয়ারম্যান সোহরাব হোসেন বলেন, সৌদি আরবের সময় দুপুর ২টার দিকে সোফা কারখানায় সবাই ঘুমিয়ে ছিলেন। তাদের একজন চুল কাটাতে বাইরে গিয়েছিলেন। তিনি ফিরে এসে আগুন দেখে চিৎকার করলে স্থানীয়রা ফায়ার সার্ভিস ও প্রশাসনে খবর দেয়। ফায়ার সার্ভিস এসে আগুন নিয়ন্ত্রণের পরে ১৭ জনের মরদেহ শোয়া অবস্থায় উদ্ধার করে।

 

এদিকে রাত সোয়া ১টার দিকে আত্রাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, রাত সাড়ে ১০টার দিকে সাতজনের মৃত্যুর বিষয়টি জানা গিয়েছিল। পরে ১০ জনের মৃত্যুর বিষয়টি জানা যায়। এখনও উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। তবে এই মৃত্যুর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

 

নওগাঁ জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, এখনও পর্যন্ত ১০ জনের মৃত্যুর বিষয়টি জানা গেছে। ইউএনও খোঁজ নিতে বের হয়েছেন।

 

আত্রাইয়ের ইউএনও বলেন, নিহতদের মধ্যে উপজেলার গন্ডগোহালী গ্রামের চারজন, বিষা গ্রামের দুজন এবং পারকাসুন্দা গ্রামের একজনের মৃত্যুর খবর প্রথমে পাওয়া যায়। পরে আরও মৃত্যুর খবর আসে।

 

আত্রাই উপজেলার নিহতদের প্রাথমিক ভাবে তালিকা পাওয়া যায়।

১. মো. জালাল — পিতা: মৃত তমেজ উদ্দিন — গ্রাম: পারকাসুন্দা, পাঁচুপুর ইউনিয়ন।

২. মো. সুমন হোসেন — পিতা: বাদল — গ্রাম: ডুবাই, বিশা ইউনিয়ন।

৩. মো. হাসিবুল হাসান শুভ — পিতা: চঞ্চল — গ্রাম: ডুবাই, বিশা ইউনিয়ন।

৪. মো. মোহন প্রামাণিক — পিতা: গুফফার প্রামাণিক — গ্রাম: গন্ডগোহালী, কালিকাপুর ইউনিয়ন।

৫. মো. সুমুন প্রামাণিক — পিতা: গুফফার প্রামাণিক — গ্রাম: গন্ডগোহালী, কালিকাপুর ইউনিয়ন।

৬. মো. রুবেল হোসেন — পিতা: জান্নার — গ্রাম: গন্ডগোহালী, কালিকাপুর ইউনিয়ন।

৭. মো. কলিউদ্দিন প্রামাণিক — পিতা: ফজলু — গ্রাম: গন্ডগোহালী, কালিকাপুর ইউনিয়ন।

৮. মো. সাগর হোসেন — পিতার নাম: উল্লেখ নেই — গ্রাম: সাধনগর, বিশা ইউনিয়ন।

৯. মো. ফরিদ শেখ — পিতা: ময়েন শেখ — গ্রাম: উদনপৈ, শাহগোলা ইউনিয়ন।

১০. মো. মজিদুল ইসলাম — পিতা: মজনু মিয়া — গ্রাম: মাদবপুর, বিশা ইউনিয়ন।

১১.সোহেল রানা,পিতা- অজ্ঞাত, সাং ডুবাই, বিশা ইউনিয়ন।

১২।মো.মিনহাজ, পিতা- অজ্ঞাত, সাং মধ্যেবোয়ালিয়া, পাচুপুর ইউনিয়ন।

১৩।মো. মহিদুল ইসলাম, পিতা- অজ্ঞাত,সাং খরসতী, বিশা ইউনিয়ন।

 

উপজেলাজুড়ে এমন মৃত্যুর খবরে গ্রামে গ্রামে শোকবিহ্বল হয়ে পড়েছেন সবাই। নিহতের গ্রামের বাড়িতে শোকাতুর হয়ে পড়েছেন স্বজনরা।

 

 

অপরদিকে ওই সোফা কারখানায় লাগা আগুনে নিহতদের মধ্যে নাটোরের নলডাঙ্গার খাজুরা এলাকার তিন বাসিন্দা থাকার তথ্য দিয়েছেন খাজুরা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. সোহরাব হোসেন।

নিহতদের স্বজনদের বরাতে তিনি এ খবর দেন।

 

নিহতরা হলেন- খাজুরা শ্রীপুরপাড়া এলাকার গোলাম রাব্বানীর ছেলে সাব্বির হোসেন সোহাগ, দিঘীর পাড় এলাকার জাকের হোসেনের ছেলে শামীম হোসেন এবং মহিষডাঙ্গা এলাকার আসলাম আলীর ছেলে রবিউল আওয়াল হৃদয়।

ইউপি চেয়ারম্যান বলেন, “একসাথে এতগুলো প্রবাসী ভাইয়ের চিরতরে হারিয়ে যাওয়া খুবই শোকের ও বেদনার।”

 

এই দিকে ক্ষতিপূরণ দেবে বলছে মন্ত্রণালয়

 

এ দুর্ঘটনার খবর জানার পর থেকে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় জরিয়াদে বাংলাদেশ দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করা শুরু করে। তাদের মাধ্যমে দুর্ঘটনাস্থল ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছে।

 

নিহত প্রবাসীদের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও বলেছে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়।

 

পাশাপাশি নিহতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার তথ্যও দেন মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা শরীফুল।

 

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের এ নির্দেশ দিয়েছেন বলে তুলে ধরেন তিনি।

 

নিহত ও আহতদের পরিবারের জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের সরকারি সহায়তা দেওয়ার কথাও বলেছেন মন্ত্রী।

 

প্রবাসী বাংলাদেশি শ্রমিকের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক।

 

নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে শোক বার্তায় তিনি বলেন, “জীবিকার তাগিদে সুদূর সৌদি আরবে কর্মরত আমাদের এই প্রবাসী ভাইদের এমন অকাল ও মর্মান্তিক মৃত্যু অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। দেশের অর্থনীতিতে তাদের অবদান অপরিসীম। তাদের এই আকস্মিক প্রয়াণে আমি গভীর শোকাহত এবং নিহতের শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করছি।”

 

রিয়াদে বাংলাদেশ দূতাবাসও এ ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করছে বলে জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা।

 

নওগাঁর জেলা প্রশাসক বলেন, সৌদি আরবে কর্মরত এই প্রবাসীদের এমন মৃত্যু অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। দেশের অর্থনীতিতে তাদের অবদান অপরিসীম। তাদের এই আকস্মিক প্রয়াণে তিনি গভীর শোকাহত। নিহতদের শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি তিনি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেন।

 

মোঃ সাইদুল ইসলাম হেলাল

বিশেষ প্রতিনিধিঃ

মোবাইল নং- ০১৭২৪২৫৫৭০৬

তারিখঃ ১০-৮-২০২৬

সৌদিতে সোফা কারখানার আগুনে নিহতদের মধ্যে নওগাঁ- আত্রাইয়ের ১৩ জন

দীর্ঘ অপেক্ষার পর অবশেষে প্রকাশ হতে যাচ্ছে এসএসসি-২০২৬ পরীক্ষার ফলাফল। সোমবার (১০ আগস্ট) সব শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটে ফলাফল প্রকাশ করা হবে বলে আগেই জানিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। লিখিত পরীক্ষা শেষ হওয়ার ৮২ দিন পর এবার ফলাফল প্রকাশ হতে যাচ্ছে। এর আগে করোনার সময়ে ফলাফল প্রকাশ দেরিতে হলেও এতটা দেরি হয়নি। ফলে এবার ফলাফল প্রকাশে ভেঙে যাচ্ছে গত ২০ বছরের রেকর্ড।

 

শিক্ষক-অভিভাবকরা বলছেন, ফল প্রকাশে এমন বিলম্বে ফলপ্রার্থী প্রায় সাড়ে ১৮ লাখ শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের উদ্বেগে দিন কাটছে। তাদের অনেকে ট্রমায় ভুগছেন। এছাড়া ফল বিপর্যয়সহ নানান নেতিবাচক তথ্য ছড়িয়ে পড়ায় আতঙ্কে রয়েছেন শিক্ষক-অভিাবকরা।

 

শিক্ষাবিদরা মনে করছেন, ফল প্রকাশের এমন দেরিতে শিক্ষাপঞ্জিও এলোমেলো হয়ে পড়তে পারে। তারা বলছেন, দেরিতে ফল প্রকাশের কারণে উচ্চমাধ্যমিকে ভর্তিতেও দেরি হবে। এতে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির আগেই তিনমাসের সেশনজটে পড়তে যাচ্ছেন শিক্ষার্থীরা। যার প্রভাব পড়বে এইচএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতিতেও। পর্যাপ্ত প্রস্তুতি না নিয়েই তাদের এইচএসসি পরীক্ষায় বসতে বাধ্য করা হবে। এতে শিখন ঘাটতি বাড়বে এবং নাম-সর্বস্ব ডিগ্রি অর্জন করে শিক্ষাজীবন শেষ করবেন অনেক শিক্ষার্থী।

 

চলতি বছরের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হয় ২১ এপ্রিল। লিখিত পরীক্ষা শেষ হয় ২০ মে। পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর সচিবালয়ে এক ব্রিফিংয়ে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন পাবলিক পরীক্ষাগুলোর ফল প্রকাশের সময়সীমা কমিয়ে আনার ঘোষণা দেন। ওইদিন শিক্ষামন্ত্রী ঘোষণা দিয়েছিলেন, ২০ জুলাইয়ের মধ্যে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হবে।

কিন্তু পরে আবার শিক্ষামন্ত্রী বিভিন্ন গণমাধ্যমকে জানান, ২০ জুলাই ফল প্রকাশ করা সম্ভব হচ্ছে না। ফল এখনো প্রস্তুত হয়নি। পূর্বঘোষিত সময়ে ফল প্রকাশ না করায় পরীক্ষার্থী-অভিভাবকদের মনে নানান প্রশ্ন দেখা দেয়। সন্দেহ-সংশয় দানা বাঁধতে শুরু করে। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানা আলোচনা-সমালোচনা শুরু হলে, ১০ আগস্ট ফল প্রকাশ করা হবে বলে জানানো হয়। সে অনুযায়ী সোমবার ফল প্রকাশ করতে যাচ্ছে শিক্ষা বোর্ডগুলো। এতে ২০ বছরের রেকর্ড ভাঙছে, যেটি কি না হতে যাচ্ছে সবচেয়ে দেরিতে ফল প্রকাশের রেকর্ড।

 

কেনো এতো দেরি এবার?

 

চলতি বছর ২১ এপ্রিল এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা শুরু হয়। ২০ মে লিখিত পরীক্ষা শেষ হয়। সে হিসাবে ২০ জুলাইয়ের মধ্যে এসএসসির ফল প্রকাশের কথা ছিল। শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনও ২০ জুলাইয়ের মধ্যে ফল প্রকাশের ঘোষণা দিয়েছিলেন। একই সঙ্গে এসএসসি ও এইচএসসির মতো পাবলিক পরীক্ষার ফল প্রকাশের সময়সীমা আরও কমিয়ে আনার উদ্যোগের কথা জানান মন্ত্রী।

 

মন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী ২০ জুলাইয়ের মধ্যে ফল প্রস্তুতের কথা জানান শিক্ষা বোর্ডগুলোর চেয়ারম্যানরাও। গত ১১ জুলাই ঢাকা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান জাগো নিউজকে জানিয়েছিলেন, তারা সব প্রস্তুতি শেষ করেছেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয় অনুমোদন দিলেই ফল প্রকাশ করা হবে। অথচ এর এক সপ্তাহ পর বোর্ড চেয়ারম্যান ২০ জুলাই ফল প্রকাশ করা হচ্ছে না বলে জানান।

 

বিষয়টি নিয়ে খোঁজ নিয়ে দুই ধরনের তথ্য পাওয়া যায়। বোর্ড চেয়ারম্যানসহ কর্মকর্তারা প্রকাশ্যে এক ধরনের কারণ জানান। আবার নাম প্রকাশ না করে ভিন্ন তথ্য জানান বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক শাখার কর্মকর্তারা।

 

প্রকাশ্যে বোর্ড কর্মকর্তারা জানান, অতিবৃষ্টি ও বন্যার কারণে এইচএসসি পরীক্ষা ঘিরে ঝামেলার কারণে ফল প্রকাশের প্রস্তুতি নিতে পারেননি তারা। এতে সংকটের তৈরি হয়েছে।

 

আর নাম প্রকাশ না করে ফল বিপর্যয়ের ইঙ্গিত করে বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, ভুল-ত্রুটি ও ‘ফল সমন্বয়’ করার জন্য প্রস্তুতিতে সময় লেগেছে। প্রথম দফায় কাজ শেষ হলেও তা পুনরায় আবার প্রস্তুত করা হয়। যদিও ফল বিপর্যয়ের এমন গুঞ্জন ও অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ঢাকা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান।

 

নিয়ম অনুযায়ী- এসএসসি পরীক্ষা শেষে ফল প্রকাশ করা হবে। সেটা জুলাইয়ের আগেই শেষ করতে হবে। কারণ শিক্ষাপঞ্জি অনুযায়ী, জুলাই থেকে একাদশ শ্রেণির শিক্ষাবর্ষ শুরু হয়। তার আগেই এসএসসি পাস করাদের আবেদন, ভর্তি শেষ করার কথা।

 

অথচ এবার এসএসসির ফল প্রকাশ করতেই আগস্টের ১০ তারিখ অর্থাৎ, এক মাস ১০ দিন পিছিয়ে পড়েছে শিক্ষার্থীরা। আবেদন ও ভর্তি শেষ করতে আরও দেড় থেকে দুইমাস লাগতে পারে। সেক্ষেত্রে ক্লাস শুরু হতে পারে অক্টোবরে। অর্থাৎ, একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীরা ক্লাস শুরুর আগেই তিন মাসের সেশনজটে পড়বেন।

 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইআর) অধ্যাপক মজিবুর রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, ‘পাবলিক পরীক্ষাগুলোর কারণে আমাদের শিক্ষার্থীদের জীবন থেকে প্রায় এক থেকে দেড় বছর সময় নষ্ট হচ্ছে। এসএসসির পর বিরতি এবং অলস সময়। এইচএসসির পরও ফল পেতে তাদের অপেক্ষায় থাকতে হয়। এ গ্যাপ (বিরতি) কমাতে পারলে আরও কম সময়ে শিক্ষার্থীদের ডিগ্রি শেষ হবে।

এসএসসির ফল প্রকাশ আজ, ভাঙছে ২০ বছরের রেকর্ড

নীলফামারীতে জেলা পুলিশের কিট প্যারেড অনুষ্ঠিত শৃঙ্খলা, পরিচ্ছন্নতা ও পেশাদারিত্বের উপর গুরুত্বআরোপ

 

স্টাফ রিপোর্টার

মাইদুল ইসলাম

পুলিশ সদস্যের শৃঙ্খলা, পরিছছ্চ্ছন্নতা, পোশাকের সঠিক ব্যবহার ও পেশাদারিত্ব নিশ্চিত করতে নীলফামারী জেলা পুলিশের উদ্যোগে কিট প্যারেড অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার (৯ আগস্ট) সকাল ৯ টায় নীলফামারী পুলিশ লাইন্সের ড্রিল শেডে অনুষ্ঠিত এ কিট প্যারেডে জেলা পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের অফিসার ও ফোর্স সদস্যরা অংশগ্রহণ করেন। কিড প্যারেডে অভিবাদন গ্রহণ ও পুলিশ সদস্যের কিট সামগ্রী পরিদর্শন করেন নীলফামারীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার

(প্রশাসক ও অর্থ) মোহসিন। এই সময় তিনি পুলিশ সদস্যদের ব্যবহৃত কিট সামগ্রীর মান, যথাযথ ব্যবহার ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা পর্যবেক্ষণ করেন। পরিদর্শনের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট সদস্যদের জিএস মার্ক প্রদান করা হয়। এছাড়াও যেসব পুলিশ সদস্যের কিট সামগ্রী পাওনা রয়েছে, তাদের সংশ্লিষ্ট অফিস থেকে প্রয়োজনীয় কিট সামগ্রী সংগ্রহ করার নির্দেশ দেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার। কিট পরিদর্শন শেষে পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশ্যে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্যে তিনি বলেন, দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে শৃঙ্খলা ও পেশাদারিত্ব বজায় রাখার কোন বিকল্প নেই। ড্রেস রুলস যথাযথভাবে মেনে পোশাক পরিধান, নিয়মিত পিটি-প্যারেডে অংশগ্রহণ, স্বাস্থ্য সচেতনতা,

পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং খেলাধুলার মাধ্যমে শারীরিক দক্ষতা ধরে রাখার উপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। একই সঙ্গে জনগণের সেবায় আরও আন্তরিকতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের জন্য পুলিশ সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহসিন। কিট প্যারেডে সরকারি পুলিশ সুপার (প্রবিঃ) জ্যোতির্ময় ঘোষ, সহকারী পুলিশ সুপার (প্রবিঃ) মোঃ আবদুল্লাহ আল মাহমুদ খান, আরআই, পুলিশ লাইন্স নীলফামারী সহ জেলা পুলিশের বিভিন্ন পথ মর্যাদার সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

নীলফামারীতে জেলা পুলিশের কিট প্যারেড অনুষ্ঠিত শৃঙ্খলা, পরিচ্ছন্নতা ও পেশাদারিত্বের উপর গুরুত্বআরোপ 

ভূল্লী দারাজগাঁওয়ে বিয়ের দাবিতে এসএসসি পরীক্ষার্থী সুমাইয়ার অনশন

 

মোঃ আশরাফুল ইসলাম

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি:

 

ঠাকুরগাঁওয়ে ভূল্লী উপজেলার দেবীপুর ইউনিয়নে দারাজগাঁও খাঁনবাড়ী গ্রামে সাকিব নামে এক যুবকের বাড়ীতে বিয়ের দাবিতে সুমাইয়া নামে এক এসএসসি পরীক্ষার্থী অনশন করতেছে।

রবিবার দুপুর থেকে প্রেমিক সাকিবের বাড়ীতে বিয়ের দাবিতে অনশন করেন সুমাইয়া।

প্রেমিক সাকিব দেবীপুর ইউনিয়নের দারাজগাঁও খাঁনবাড়ী এলাকার বাসিন্দা ধুকরু মোহাম্মদ এর ছেলে।

জানা যায়, বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে প্রেমিকা সুমাইয়ার সাথে দীর্ঘদিন থেকে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন সাকিব।

এই সুযোগে প্রেমিকা সুমাইয়াকে নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরতে নিয়ে যাইতো সাকিব।

হঠাৎ করে যোগাযোগ বন্ধ করে দিলে আজ তার বাড়ীতে বিয়ের দাবিতে অনশন করেন সুমাইয়া।

এ সময় তাকে মারধর করে বাড়ী থেকে বের করে দেওয়ার চেষ্টা করেন সাকিবের পরিবারের সদস্যরা।

ভূল্লী দারাজগাঁওয়ে বিয়ের দাবিতে এসএসসি পরীক্ষার্থী সুমাইয়ার অনশন

গাইবান্ধায় আদিবাসী ফোরাম ও বাগদাফার্ম ভূমি উদ্ধার কমিটির বিক্ষোভ সমাবেশ

 

শাহ্ পারভেজ সংগ্রাম,গাইবান্ধা প্রতিনিধি

সাহেবগঞ্জ-বাগদাফার্মে সাঁওতাল হত্যা, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের বিচার, ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ, বাপ-দাদার জমি ফেরত এবং তিন ফসলি জমিতে ইপিজেড (EPZ) নির্মাণ বন্ধের দাবিতে গাইবান্ধায় বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

 

আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস উপলক্ষে রোববার (৯ আগস্ট) দুপুর ১২টায় গাইবান্ধা পাবলিক লাইব্রেরি মিলনায়তনে সাহেবগঞ্জ-বাগদাফার্ম ভূমি উদ্ধার সংগ্রাম কমিটি, জাতীয় আদিবাসী পরিষদ, বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম, আদিবাসী-বাঙালি সংহতি পরিষদ, সামাজিক সংগ্রাম পরিষদ গাইবান্ধা, এএলআরডি, কাপেং ফাউন্ডেশন এবং আদিবাসী উন্নয়ন সংস্থা-ঘোড়াঘাটের যৌথ উদ্যোগে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

ড. ফিলিমনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন,খাদিজা আক্তার, সাধারণ সম্পাদক, ভূমি উদ্ধার সংগ্রাম কমিটি,ওয়ানলাল সুপার, আহ্বায়ক,কাপেং ফাউন্ডেশন ও কাপেং প্রতিনিধি রবীন্দ্র নাথ মার্ডী, সভাপতি, জাতীয় আদিবাসী পরিষদ,সিরাজুল ইসলাম বাবু, আহ্বায়ক, আদিবাসী-বাঙালি সংহতি পরিষদ, গাইবান্ধাপ্রভাস চ্যাটার্জী, সহ-সভাপতি, সাহেবগঞ্জ-বাগদাফার্ম ভূমি উদ্ধার সংগ্রাম কমিটি নয়মি মার্ডী, সাধারণ সম্পাদক, জাতীয় আদিবাসী পরিষদ, গাইবান্ধা,স্বপন টুডু, সদস্য, আদিবাসী-বাঙালি সংহতি পরিষদ প্রতিনিধি, বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম।

 

সমাবেশে বক্তারা সাহেবগঞ্জ-বাগদাফার্মে সংঘটিত সাঁওতাল হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা, লুণ্ঠিত মালামালের ক্ষতিপূরণ দেওয়া এবং সাঁওতালদের পৈতৃক জমি ফিরিয়ে দেওয়ার জোর দাবি জানান। বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, রক্তভেজা তিন ফসলি জমিতে কোনো ধরনের ইপিজেড নির্মাণ করতে দেওয়া হবে না। অবিলম্বে ভূমিদস্যু ও হামলাকারীদের গ্রেফতারপূর্বক দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তারা।

গাইবান্ধায় আদিবাসী ফোরাম ও বাগদাফার্ম ভূমি উদ্ধার কমিটির বিক্ষোভ সমাবেশ

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) গণিত বিভাগের শিক্ষার্থী নেয়ামত উল্লাহর ওপর হামলার প্রতিবাদ এবং হামলাকারীদের বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেছেন বিভাগের শিক্ষার্থীরা। বুধবার (৯ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীরা সন্ত্রাসী হামলার নিন্দা জানিয়ে বিচার দাবি করেন। এ সময় কর্মসূচিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সহকারী প্রক্টর বাধা দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন শিক্ষার্থীরা।

 

মানববন্ধনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’, ‘সন্ত্রাসীদের ঠিকানা, এই ক্যাম্পাসে হবে না’, ‘সন্ত্রাসীদের কালো হাত, ভেঙে দাও গুঁড়িয়ে দাও’, ‘শিক্ষা-সন্ত্রাস একসাথে চলে না’ এবং ‘ক্যাম্পাসে সন্ত্রাস চলে, প্রশাসন কী করে?’—সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।

 

তারা বলেন, গত ৪ আগস্ট সংঘটিত হামলায় গণিত বিভাগের শিক্ষার্থী নেয়ামত উল্লাহ গুরুতর আহত হন। প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এবং পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হামলার শিকার হন তিনি। এতে তার চোয়াল ভেঙে যায় এবং সাতটি দাঁত স্থানচ্যুত হয়। বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

মানববন্ধনে শিক্ষার্থীরা বলেন, একজন শিক্ষার্থীকে নির্মমভাবে মারধর করে গুরুতর আহত করা হয়েছে। হাসপাতালে নেওয়ার পরও তিনি রেহাই পাননি। তারা হামলার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান।

 

কর্মসূচি চলাকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর ড. মো. নঈম আক্তার সিদ্দিকী মানববন্ধনে বাধা দেন। এ নিয়ে উপস্থিত শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। তারা বলেন, আহত সহপাঠীর বিচার দাবিতে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করতে এসেও বাধার মুখে পড়তে হয়েছে

।শিক্ষার্থীরা আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দায়িত্ব শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। কিন্তু হামলার ঘটনার পরও দোষীদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ব্যবস্থা না নেওয়ায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে সহকারী প্রক্টর ড. মো. নঈম আক্তার সিদ্দিকীর বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

 

মানববন্ধন থেকে নেয়ামত উল্লাহর দ্রুত সুস্থতা কামনা করা হয় এবং হামলার ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়। দাবি আদায় না হলে আগামীতে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়ারও ঘোষণা দেন তারা।

 

উল্লেখ্য, গত ৪ আগস্ট জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ইউজিসি চেয়ারম্যানের সফরকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট উত্তেজনা ও হামলার ঘটনায় বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী ও সাংবাদিক আহত হন। এর মধ্যে গণিত বিভাগের শিক্ষার্থী নেয়ামত উল্লাহ গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। তার চোয়াল ভেঙে গেছে। মুখমণ্ডলের কয়েকটি স্থানে গুরুতর আঘাত লেগেছে বলে সহপাঠীরা জানিয়েছেন।

 

জবি ছাত্রের ওপর হামলার প্রতিবাদে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ, প্রশাসনের বাধা

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষে স্নাতক (সম্মান) ও বিবিএ প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষার সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে। আগামী ১৫ নভেম্বর দুপুর ১২টা থেকে অনলাইনে ভর্তি আবেদন শুরু হবে। আবেদন করা যাবে ১০ ডিসেম্বর রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত। পাঁচটি ইউনিটে ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া হবে। পরীক্ষা শুরু হবে আগামী বছরের ১ জানুয়ারি থেকে।

 

আজ রবিবার (৯ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীনের সভাপতিত্বে একাডেমিক কাউন্সিলের ৮০তম সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। উপাচার্যের অফিস কনফারেন্স রুমে বিশেষ এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

 

এবারও ২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষে স্নাতক (সম্মান) ও বিবিএ প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষা পাঁচটি ইউনিটে অনুষ্ঠিত হবে। বিজ্ঞান ও লাইফ অ্যান্ড আর্থ সায়েন্স অনুষদভুক্ত ইউনিট-A, কলা ও আইন অনুষদভুক্ত ইউনিট-B, বিজনেস স্টাডিজ অনুষদভুক্ত ইউনিট-C, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদভুক্ত ইউনিট-D এবং চারুকলা অনুষদভুক্ত ইউনিট-E-এর মাধ্যমে পরীক্ষা নেওয়া হবে।

 

সব ইউনিটের পরীক্ষা সকাল ১০টা থেকে ১১টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে। ভর্তি পরীক্ষা হবে MCQ পদ্ধতিতে। এবার সব ইউনিটের পরীক্ষা বিভাগীয় শহর ঢাকায় অনুষ্ঠিত হবে।

 

ইউনিট-A-এর পরীক্ষা হবে ১ জানুয়ারি ২০২৭ (শুক্রবার)। ইউনিট-E-এর পরীক্ষা হবে ৮ জানুয়ারি (শুক্রবার)। ইউনিট-B-এর পরীক্ষা হবে ১৫ জানুয়ারি (শুক্রবার)। ইউনিট-C-এর পরীক্ষা হবে ২২ জানুয়ারি (শুক্রবার)। সর্বশেষ ইউনিট-D-এর পরীক্ষা হবে ২৩ জানুয়ারি (শনিবার)।

 

ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে শিক্ষার্থীদের ২০২৩ অথবা ২০২৪ সালে এসএসসি বা সমমান এবং ২০২৬ সালে এইচএসসি বা সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে।

 

বিজ্ঞান ও লাইফ অ্যান্ড আর্থ সায়েন্স অনুষদভুক্ত ইউনিট-A-এ আবেদনের জন্য এসএসসি ও এইচএসসি বা সমমান পরীক্ষায় মোট জিপিএ কমপক্ষে ৭.০০ থাকতে হবে। তবে কোনো পরীক্ষায় জিপিএ ৩.০০-এর কম হলে আবেদন করা যাবে না।

 

কলা ও আইন অনুষদভুক্ত ইউনিট-B-এর জন্য দুই পরীক্ষায় মোট জিপিএ কমপক্ষে ৬.০০ থাকতে হবে। কোনো একটি পরীক্ষায় জিপিএ ২.৭৫-এর কম হলে আবেদন করা যাবে না।

 

বিজনেস স্টাডিজ অনুষদভুক্ত ইউনিট-C-এর ক্ষেত্রে এসএসসি ও এইচএসসি বা সমমান পরীক্ষায় মোট জিপিএ কমপক্ষে ৬.৫০ থাকতে হবে। কোনো পরীক্ষায় জিপিএ ৩.০০-এর কম হলেও আবেদনযোগ্যতা থাকবে না।সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদভুক্ত ইউনিট-D-এর জন্য দুই পরীক্ষায় মোট জিপিএ কমপক্ষে ৬.০০ থাকতে হবে। কোনো পরীক্ষায় জিপিএ ২.৭৫-এর কম হওয়া যাবে না।

 

চারুকলা অনুষদভুক্ত ইউনিট-E-তে আবেদনের জন্য দুই পরীক্ষায় মোট জিপিএ কমপক্ষে ৫.৫০ থাকতে হবে। কোনো পরীক্ষায় জিপিএ ২.৫০-এর কম হলে আবেদন করা যাবে না। ভর্তি কার্যক্রম সুষ্ঠু ও সমন্বিতভাবে পরিচালনার জন্য কেন্দ্রীয় ভর্তি কমিটি এবং ইউনিটভিত্তিক ভর্তি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

 

এ ছাড়া ২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষে স্নাতক (সম্মান) ও বিবিএ প্রথম বর্ষের একাডেমিক কার্যক্রম শুরুর তারিখও নির্ধারণ করা হয়েছে। আগামী ৪ এপ্রিল ২০২৭ থেকে নতুন শিক্ষাবর্ষের ক্লাস শুরু হবে।

 

বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নির্ধারিত সময় অনুযায়ী অনলাইন আবেদন, ভর্তি পরীক্ষা এবং পরবর্তী ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন করতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

 

সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. সাবিনা শরমীন, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগের চেয়ারম্যান, বিভিন্ন ইনস্টিটিউটের পরিচালক, বহিঃসদস্য এবং সংশ্লিষ্ট শিক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন। সভা সঞ্চালনা করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো. শেখ গিয়াস উদ্দিন।

জবির ভর্তি পরীক্ষার তারিখ নির্ধারণ, আবেদন শুরু ১৫ নভেম্বর

র‌্যাবের চৌকস অভিযানে জীপসহ প্রায় ১১ হাজার ইয়াবার চালান আটক

জামালপুর হামলা পাল্টা হামলার মধ্য দিয়ে জেলার সানন্দবাড়ী তে থমথমে অবস্থা বিরাজমান।

পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের ও আদালতে মিথ্যা হলফনামা দেয়ার অভিযোগে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কেবিন ক্রু খাদিজা সুলতানা শিমুর বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

 

বুধবার (১৫ জুলাই) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২-এর বিচারক মো. জাকির হোসাইন এ আদেশ দেন। আদালতের আদেশে বলা হয়েছে, শিমুর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর ১৩ ধারা এবং দণ্ডবিধির ১৮১, ১৮২ ও ১৯৩ ধারায় মামলা করা হবে। আদালত নিজেই এ মামলার বাদী হয়েছেন।

 

আদালতের নথি অনুযায়ী, খাদিজা সুলতানা শিমু মামলার বাদী হয়ে বেসরকারি একটি এয়ারলাইন্সের কর্মকর্তা মো. ওমর ফারুক চৌধুরীর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনের বিভিন্ন ধারায় উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলা করেন।

 

তদন্ত শেষে উত্তরা পশ্চিম থানার তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে জানান, অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি। প্রতিবেদনে বলা হয়, মামলার এজাহারে উল্লেখ করা ফেসবুক লিংক, ডিজিটাল আলামত ও অন্যান্য তথ্য যাচাই করে ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি প্রচারের কোনো প্রমাণ মেলেনি। ফলে ওই কর্মকর্তাকে মামলা থেকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়।

একই সঙ্গে তদন্ত কর্মকর্তা প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, ওমর ফারুক আগে শিমুর বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন দিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে আদালতে মামলা করেছিলেন। সেই মামলার দায় এড়াতেই শিমু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত বিভিন্ন লিংক উল্লেখ করে তার বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি ছড়ানোর অভিযোগ এনে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, হয়রানিমূলক ও মিথ্যা মামলা করেছেন বলে প্রাথমিক তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে। এ কারণে শিমুর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর ১৩ ধারায় আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার আবেদনও করেন তদন্ত কর্মকর্তা।

 

পরে গত ৯ জুলাই আদালত তদন্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করে ওমর ফারুককে মামলা থেকে অব্যাহতি দেন। আদালতের আদেশে বলা হয়, শিমু ক্ষতিসাধনের উদ্দেশ্যে আদালতে মিথ্যা মামলা দায়ের করেছেন এবং হলফ করে মিথ্যা সাক্ষ্য দিয়েছেন। মামলার নথিতে তার দেয়া হলফনামাও সংযুক্ত রয়েছে। এসব বিবেচনায় আদালত নিজেই বাদী হয়ে তার বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন ও দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়েরের নির্দেশ দেন।

 

তদন্তে যা উঠে এসেছে পুলিশের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, তদন্তকালে রেকর্ড, ডিজিটাল আলামত, ফেসবুক লিংক ও ফরেনসিক তথ্য যাচাই করে ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি প্রচারের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

 

তদন্তে আরও উঠে আসে, শিমু বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কেবিন ক্রু এবং ওমর ফারুক একটি বেসরকারি এয়ারলাইন্সের এয়ারক্রাফট মেইনটেন্যান্স কর্মকর্তা। ফেসবুকে পরিচয়ের পর তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

 

প্রতিবেদনে বলা হয়, বিয়ের আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন সময়ে ওমর ফারুকের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী নেয়ার অভিযোগে ওমর ফারুক আদালতে পৃথক মামলা করেন। এরপর সেই মামলার দায় থেকে নিজেকে রক্ষা করতেই শিমু পর্নোগ্রাফি আইনে অভিযোগ দায়ের করেন বলে তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে।

 

ওমর ফারুকের আগের মামলা গত ২০ জুলাই ওমর ফারুক চৌধুরী শিমুর বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন, ‘হানি ট্র্যাপ’ ও ব্ল্যাকমেইলের মাধ্যমে প্রায় ২২ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ঢাকার আদালতে মামলা করেন। আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে উত্তরা পশ্চিম থানাকে তদন্তের নির্দেশ দেন। পরে তিনি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষের কাছেও লিখিত অভিযোগ করেন।

 

সেই মামলায় অভিযোগ করা হয়, ২০২৪ সালে ফেসবুকে পরিচয়ের পর শিমু তাকে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন সময়ে টাকা নেন। জন্মদিনে দেড় লাখ টাকা মূল্যের একটি হীরার আংটিসহ বিয়ের খরচের জন্য মোট ২১ লাখ ৭৪ হাজার ৫১১ টাকা নেয়ার পরও বিয়ে না করে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে মামলায় দাবি করা হয়।

পর্নোগ্রাফি আইনে কেবিন ক্রু শিমুর বিরুদ্ধে মামলার নির্দেশ আদালতের

error: আপনি নিউজ চুরি করার চেষ্টা করছেন। বিশেষ প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন ০১৭৬৭৪৪৪৩৩৩
%d