
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) গণিত বিভাগের শিক্ষার্থী নেয়ামত উল্লাহর ওপর হামলার প্রতিবাদ এবং হামলাকারীদের বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেছেন বিভাগের শিক্ষার্থীরা। বুধবার (৯ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীরা সন্ত্রাসী হামলার নিন্দা জানিয়ে বিচার দাবি করেন। এ সময় কর্মসূচিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সহকারী প্রক্টর বাধা দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন শিক্ষার্থীরা।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’, ‘সন্ত্রাসীদের ঠিকানা, এই ক্যাম্পাসে হবে না’, ‘সন্ত্রাসীদের কালো হাত, ভেঙে দাও গুঁড়িয়ে দাও’, ‘শিক্ষা-সন্ত্রাস একসাথে চলে না’ এবং ‘ক্যাম্পাসে সন্ত্রাস চলে, প্রশাসন কী করে?’—সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।
তারা বলেন, গত ৪ আগস্ট সংঘটিত হামলায় গণিত বিভাগের শিক্ষার্থী নেয়ামত উল্লাহ গুরুতর আহত হন। প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এবং পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হামলার শিকার হন তিনি। এতে তার চোয়াল ভেঙে যায় এবং সাতটি দাঁত স্থানচ্যুত হয়। বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
মানববন্ধনে শিক্ষার্থীরা বলেন, একজন শিক্ষার্থীকে নির্মমভাবে মারধর করে গুরুতর আহত করা হয়েছে। হাসপাতালে নেওয়ার পরও তিনি রেহাই পাননি। তারা হামলার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান।
কর্মসূচি চলাকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর ড. মো. নঈম আক্তার সিদ্দিকী মানববন্ধনে বাধা দেন। এ নিয়ে উপস্থিত শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। তারা বলেন, আহত সহপাঠীর বিচার দাবিতে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করতে এসেও বাধার মুখে পড়তে হয়েছে
।শিক্ষার্থীরা আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দায়িত্ব শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। কিন্তু হামলার ঘটনার পরও দোষীদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ব্যবস্থা না নেওয়ায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে সহকারী প্রক্টর ড. মো. নঈম আক্তার সিদ্দিকীর বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
মানববন্ধন থেকে নেয়ামত উল্লাহর দ্রুত সুস্থতা কামনা করা হয় এবং হামলার ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়। দাবি আদায় না হলে আগামীতে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়ারও ঘোষণা দেন তারা।
উল্লেখ্য, গত ৪ আগস্ট জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ইউজিসি চেয়ারম্যানের সফরকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট উত্তেজনা ও হামলার ঘটনায় বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী ও সাংবাদিক আহত হন। এর মধ্যে গণিত বিভাগের শিক্ষার্থী নেয়ামত উল্লাহ গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। তার চোয়াল ভেঙে গেছে। মুখমণ্ডলের কয়েকটি স্থানে গুরুতর আঘাত লেগেছে বলে সহপাঠীরা জানিয়েছেন।
Leave a Reply