
পাঁচ দিনের সরকারি সফরে দক্ষিণ সুদান ও আবেই গেছেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান।
শনিবার (৮ আগস্ট) তিনি ঢাকা ত্যাগ করেন। আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
আইএসপিআর জানায়, সফরকালে সেনাবাহিনী প্রধান দক্ষিণ সুদান ও আবেইতে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে মোতায়েনরত বাংলাদেশি কন্টিনজেন্ট পরিদর্শন করবেন।
এ ছাড়া সফরে উভয় স্থানের রাষ্ট্রীয় ও মিশনসংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ এবং মতবিনিময় করবেন সেনাপ্রধান।
সফর শেষে জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানের দেশে ফেরার কথা রয়েছে।

আসন্ন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী অংশগ্রহণ করবে বলে জানিয়েছে দলটি।
শনিবার (৮ আগস্ট) সন্ধ্যায় রাজধানীর মগবাজারে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আমিরে জামায়াত ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের বৈঠক এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
বৈঠকে দলের সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ারসহ পরিষদের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। শনিবার রাতে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এতে বলা হয়, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে। এ লক্ষ্যে রোববার (৯ আগস্ট) ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ বৈঠক আহ্বান করা হয়েছে। বিরোধীদলের প্রার্থী দেয়ার বিষয়টি ১১ দলীয় ঐক্যের ওই বৈঠকে চূড়ান্ত করা হবে।
এছাড়া দেশের বিরাজমান সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি, সংবিধান সংস্কার ইস্যু ও ১১ দলীয় ঐক্য ঘোষিত রাজনৈতিক কর্মসূচিসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয় বলে জানানো হয়েছে।

কুমিল্লার দেবিদ্বারে সকাল থেকে নিখোঁজ এক গৃহবধূকে হত্যার পর মরদেহ টুকরা করে ১১টি পলিথিনের প্যাকেটে ভরে বস্তাবন্দী করে ঘরের পেছনে লুকিয়ে রাখার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে লাইলী বেগম (৩৫) নামে এক ভাড়াটিয়াকে স্থানীয়রা আটক করে মারধরের পর পুলিশে সোপর্দ করেছেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে লাইলী হত্যার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
শনিবার (৮ আগস্ট) সন্ধ্যায় দেবিদ্বার পৌর এলাকার ছোট আলমপুর মোহনা আবাসিক এলাকায় দেবিদ্বার দক্ষিণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশে মফিজুল ইসলাম ভূঁইয়ার মালিকানাধীন বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত ফরিদা বেগম (৫৫) দেবিদ্বার পৌর এলাকার ফতেহাবাদ ভূঁইয়াবাড়ির মফিজুল ইসলাম ভূঁইয়ার (৬৫) স্ত্রী। মফিজুল ইসলাম চট্টগ্রামে জাহাজে চাকরি করেন। দুই মেয়ের বিয়ে হয়ে যাওয়ায় ফরিদা বেগম বাড়িতে একাই থাকতেন। বাড়ির একটি ঘর লাইলী আক্তারের কাছে ভাড়া দেওয়া ছিল।
স্থানীয়রা জানান, প্রায় ৩০ বছর আগে মোহনা আবাসিক এলাকায় বাড়ি তৈরি করে সেখানে বসবাস শুরু করেন ফরিদা বেগম ও তার পরিবার। ফরিদার দুই মেয়ে রাবেয়া বসরী ও মরিয়ম আক্তারের বিয়ে হয়ে গেছে। শনিবার সকালে ছোট মেয়ে মরিয়ম আক্তার বাবার বাড়িতে এসে মাকে দেখতে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।
স্বজনেরা জানান, ডায়াবেটিসের কারণে ফরিদা বেগম প্রতিদিন হাঁটতে বের হতেন। তাই সকালে তাকে বাড়িতে না পেয়ে প্রথমে আত্মীয়স্বজনের বাড়িসহ আশপাশে খোঁজ নেওয়া হয়। পরে এলাকায় মাইকিং করা হয়। স্বজনদের দাবি, নিখোঁজের বিষয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি করতে গেলে পুলিশ তা নেয়নি।
এর মধ্যে বিকেলে ফরিদা বেগমের বোনের ছেলে মামুন বাড়ির পেছনে কয়েকটি পলিথিনের প্যাকেট দেখতে পান। পরে সেগুলোর মধ্যে ফরিদার খণ্ডিত মরদেহ রয়েছে বলে শনাক্ত করে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। সন্ধ্যায় বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের ভাষ্য, হত্যার পর ঘটনা আড়াল করতে মরদেহটি টুকরা করে ১১টি পলিথিনে প্যাকেট করা হয়। পরে প্যাকেটগুলো বস্তায় ভরে ঘরের পেছনে ফেলে রাখা হয়।
ঘটনার পর বিক্ষুব্ধ স্থানীয়রা ফরিদার বাসার ভাড়াটে লাইলী বেগমকে আটক করেন। তাকে মারধরের পর বিদ্যুতের খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য নেওয়ার চেষ্টা করলে সেখানেও বিক্ষুব্ধ লোকজন অবস্থান নেন। প্রায় এক ঘণ্টা পর বিপুলসংখ্যক পুলিশ গিয়ে লাইলীকে থানায় নিয়ে যায়।
পুলিশ জানিয়েছে, লাইলী বেগমকে জিজ্ঞাসাবাদে তিনি ফরিদা বেগমকে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। এ সময় তিনি তার স্বামী আবুল কালাম আজাদ, রবিউল, সোহেল ও ইমনসহ আরও কয়েকজনের নাম বলেছেন বলে পুলিশ দাবি করেছে।
দেবিদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, পলিথিনে মোড়ানো ফরিদা বেগমের টুকরা করা মরদেহের কয়েকটি প্যাকেট উদ্ধার করা হয়েছে। তবে মরদেহের মাথা ও পা এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
ওসি আরও বলেন, আটক লাইলী বেগমকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আরও চারজনের নাম পাওয়া গেছে। তাদের বিষয়ে যাচাই-বাছাই চলছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের আটকেও পুলিশ চেষ্টা করছে।

গাজীপুরের শ্রীপুরে চলন্ত ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়ে এক প্রেমিক যুগলের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (৮ আগস্ট) সন্ধ্যায় ঢাকা-ময়মনসিংহ রেলপথের শ্রীপুর উপজেলার রাজাবাড়ি ইউনিয়নের ইজ্জতপুর রেলওয়ে স্টেশনের উত্তর আউটার সিগন্যাল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলো মোছা. রিনা আক্তার (২৫) উপজেলার ৬ নং বরমী ইউনিয়নের পাইটালবাড়ি গ্রামের মো. সিদ্দিক মিয়ার কন্যা। ও প্রেমিক আল আমিন। প্রেমিকের বিস্তারিত তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি। নিহত রিনা স্থানীয় আরবেলা ফ্যাশন কারখানার শ্রমিক ছিলেন। প্রেমিক আল আমিন স্থানীয় হ্যামস গার্মেন্টসের শ্রমিক ছিলেন।
স্থানীয় বাসিন্দা রত্না বেগম জানান, দুপুরের পর থেকে দুজন রেলপথ ধরে হাঁটাহাঁটি, গল্প ও খুনসুটি করছিলেন এবং দীর্ঘ সময় সেখানে বসে সময় কাটান। হঠাৎ সন্ধ্যার দিকে তাঁদের মৃত্যুর খবর পাই।
স্থানীয় বাসিন্দা লিপি বেগম বলেন, বিকাল ৫টার দিকে রেলপথে হাঁটাহাঁটি করার সময় দুজন ছেলে ডাকাডাকি করে জানায় সিগন্যালের পাশে দুজন মানুষের লাশ রেলপথে পড়ে আছে। এরপর আশপাশের লোকজন গিয়ে দুজনের মরদেহ দেখতে পায়।
নিহত রিনা আক্তারের ভাই সুমন বলেন, পূর্বের স্বামীর ঘর থেকে চলে এসে প্রেমিক আল আমিনকে বিয়ে করে বোন। বিয়ের পর থেকে তাদের সঙ্গে তেমন যোগাযোগ নাই। কী কারণে আত্মহত্যা করছে তা বলতে পারবো না।
স্থানীয় বাসিন্দা জহিরুল ইসলাম সিরাজী বলেন, বিকালের দিকে এক ছেলে এক মেয়ে ময়মনসিংহগামী কমিউটার আপ-ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দেয়। এরপর ট্রেনের নিচে পড়ে তাদের মরদেহ অনেক দূর নিয়ে যায়। মরদেহের অংশ ছিঁড়ে ছিঁড়ে রেলপথের প্রায় ৫০০ মিটার সড়ক জুড়ে পড়ে রয়েছে।
জয়দেবপুর রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এস আই ফারুক হোসেন জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল এসে মরদেহ উদ্ধারের কাজ চলছে। এবিষয়ে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

ফেসবুকে ল্যাপটপ বিক্রির বিজ্ঞাপন দিয়ে যশোরে আসা এক যুবককে ফাঁদে ফেলে আপত্তিকর ছবি তুলে ভয়ভীতি দেখিয়ে মোটরসাইকেল, ল্যাপটপ ও টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে ‘হানি ট্র্যাপ’ চক্রের তিন সদস্যকে আটক করেছে পুলিশ।
শনিবার (৮ আগস্ট) রাতে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল থেকে তাদের আটক করা হয়।
আটকরা হলেন, যশোর শহরের শংকরপুর এলাকার আলোচিত রাজা এবং তার দুই সহযোগী বৃষ্টি ও জারা।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি নড়াইলের কালিয়া এলাকার এক যুবক ফেসবুকে ল্যাপটপ বিক্রির বিজ্ঞাপন দেন। বিজ্ঞাপন দেখে রাজা ওই যুবকের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং ল্যাপটপটি কিনবেন জানিয়ে তাকে যশোরে আসতে বলেন। পরে ওই যুবক ল্যাপটপ নিয়ে যশোরে এলে রাজা তাকে একটি ঘরে নিয়ে আটকে রাখেন বলে অভিযোগ।
সেখানে বৃষ্টি ও জারাকে ব্যবহার করে ওই যুবকের সঙ্গে আপত্তিকর ছবি তোলা হয়। পরে এসব ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে তার কাছ থেকে একটি মোটরসাইকেল ও ল্যাপটপ নিয়ে নেওয়া হয়। একই সঙ্গে তার পরিবারের সদস্যদের ফোন করে টাকা আদায় করা হয়। একপর্যায়ে যুবককে ছেড়ে দেওয়া হয়।
পরে পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি জানতে পেরে ওই যুবককে উদ্ধার করে থানায় অভিযোগ করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে কোতোয়ালি থানার এসআই আল আমিন ঘটনাটি তদন্ত শুরু করেন। তদন্তের একপর্যায়ে শনিবার রাতে যশোর জেনারেল হাসপাতালে অভিযান চালিয়ে প্রথমে রাজাকে আটক করা হয়। পরে একই স্থান থেকে বৃষ্টি ও জারাকেও আটক করা হয়।
কোতোয়ালি থানার এসআই আল আমিন জানান, এ ঘটনায় ভুক্তভোগী যুবক থানায় মামলা করবেন। মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। পাশাপাশি এই চক্রের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পুলিশের দাবি, চক্রটি নারীদের ব্যবহার করে বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে মানুষকে ফাঁদে ফেলত। পরে আপত্তিকর ছবি বা ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে টাকা ও মূল্যবান সামগ্রী হাতিয়ে নেওয়া হতো। আটক তিনজনের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগে একাধিক মামলা রয়েছে এবং এর আগেও তারা আটক হয়েছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ।

বাবা হোর্হে মেসির মৃত্যুতে শোকাহত লিওনেল মেসি যখন পরিবারের পাশে থাকতে আর্জেন্টিনায়, তখন মাঠে নেমে বন্ধুর পাশে দাঁড়ালেন রদ্রিগো দে পল। নিজের জার্সির নিচে মেসির ১০ নম্বর জার্সি পরে খেলতে নেমেছিলেন ইন্টার মায়ামির এই আর্জেন্টাইন তারকা। গোল করেই সেই জার্সি প্রকাশ করেন এবং আবেগঘনভাবে মেসির প্রয়াত বাবাকে শ্রদ্ধা জানান।
শনিবারের দিনটি মেসি পরিবারের জন্য ছিল অত্যন্ত কঠিন। আর্জেন্টিনার রোজারিওতে ৬৮ বছর বয়সে মারা গেছেন মেসির বাবা হোর্হে মেসি। বেশ কিছুদিন ধরেই অসুস্থ ছিলেন তিনি। বাবার মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর ইন্টার মায়ামির কাছ থেকে ছুটি নিয়ে পরিবারের পাশে থাকতে রোজারিওতে ফিরে যান মেসি।
এ কারণে লিগস কাপের গ্রুপ পর্বে মনতেরের বিপক্ষে ম্যাচে ইন্টার মায়ামির হয়ে খেলতে পারেননি আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। মেসির অনুপস্থিতিতে দলকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেওয়ার দায়িত্ব নিতে হয় অন্যদের। সেই দায়িত্বের অন্যতম একজন ছিলেন তাঁর ঘনিষ্ঠ বন্ধু দে পল।
ম্যাচে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলছিল ইন্টার মায়ামি। একপর্যায়ে বক্সের বাইরে থেকে বজ্রগতির এক শটে দারুণ গোল করে দলকে এগিয়ে দেন দে পল।
গোল করার পরই নিজের জার্সি খুলে ফেলেন তিনি। তখন প্রকাশ পায় আসল চমক। নিজের জার্সির নিচে তিনি পরে ছিলেন মেসির বিখ্যাত ১০ নম্বর জার্সি। গোল করার পর সেই জার্সি দেখিয়ে মেসি ও তাঁর পরিবারের প্রতি ভালোবাসা ও সমবেদনা জানান দে পল।
মেসির কঠিন সময়ে তাঁর পাশে থাকার এটি ছিল দে পলের আবেগঘন এক বার্তা। মাঠের বাইরেও দুজনের বন্ধুত্ব বেশ গভীর। আর্জেন্টিনা জাতীয় দল থেকে শুরু করে ইন্টার মায়ামি—দুই জায়গাতেই মেসির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে দে পলের।
মেসি, লুইস সুয়ারেজ ও জার্মান বেরতেরামে না থাকায় মনতেরের বিপক্ষে ইন্টার মায়ামির জন্য ম্যাচটি আরও কঠিন হয়ে উঠেছিল। সেই পরিস্থিতিতে ৩২ বছর বয়সী দে পল সামনে থেকে দায়িত্ব নেন। গোল করে দলকে যেমন এগিয়ে দেন, তেমনি বন্ধুর পরিবারের কঠিন সময়েও পাশে থাকার বার্তা দেন।
মেসির জীবনের গুরুত্বপূর্ণ মানুষ হোর্হে মেসির মৃত্যুর পর ফুটবল বিশ্বের অনেকেই শোক প্রকাশ করেছেন। দে পলের এই শ্রদ্ধা যেন সেই শোকের মধ্যেই বন্ধুত্বের আরেকটি গভীর উদাহরণ হয়ে থাকল।
মেসি যখন রোজারিওতে বাবাকে শেষ বিদায় জানাতে পরিবারের সঙ্গে, তখন তাঁর হয়ে মাঠে লড়লেন দে পল। আর গোলের পর মেসির ১০ নম্বর জার্সি দেখিয়ে জানিয়ে দিলেন—কঠিন সময়ে বন্ধুকে তিনি একা হতে দেবেন না।

ওসির কান্ড। ভেঙ্গে গেল শিক্ষিকার সংসার? তদন্ত নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন
স্টাফ রিপোর্টার
জেলা নীলফামারী
(০৮/আগস্ট/২৬ইং)
বিবাহ বিচ্ছেদের কাগজ আজও হাতে পানি স্ত্রী। অথচ রংপুরের তারাগঞ্জ থানার ওসি একদল ফোর্স নিয়ে গিয়ে তালাক হয়ে গেছে জানিয়ে সেই স্ত্রীকে স্বামীর বাড়ি হতে জোড়পূর্বক বের করে দিয়েছিলেন। এমন বাস্তবতার ঘটনাটি ঘটেছে রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলায়। ভুক্তভোগী সেই নারী পুলিশের ওসির বিরুদ্ধে পুলিশের
মহাপরিদর্শক (আইজিপি)
ও রংপুর রেঞ্জের ডিআইজির নিকট লিখিত অভিযোগ করেছেন সচেতন মহল বলেছেন। দাম্পত্য জীবনে থানার ওসির এমন আচরণ কোনভাবে কাম্য নয়। এখানে তিনি একপক্ষ অবলম্বন করে হয়তো আর্থিক ফায়দা লুটে ওই নারীর দাম্পত্য জীবনকে ধুলোয় মিশিয়ে দিয়েছেন। অভিযোগে জানা যায়, নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার কাশীরাম বেলপুকুর ইউনিয়নের কিসমত ডাঙ্গি হেডপাড়া গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা মৃত মাহাতাব উদ্দিন সরকারের মেয়ে একটি স্কুলের শিক্ষিকা মমতা বেগমের সঙ্গে পারিবারিকভাবে ২০২৩ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি বিয়ে হয়ে রংপুর জেলার তারাগঞ্জ উপজেলার আলমপুর ইউনিয়নের ভীমপুর ডাঙ্গাপাড়া গ্রামের আব্দুস সাত্তার ভম্বলের ছেলে আতিকুল ইসলামের সঙ্গে। বিয়ের পর তাদের দাম্পত্য জীবন সুখের ছিল। শিক্ষিকার স্বামী আতিকুল ঢাকায় একটি বেসরকারি ব্যাংকে চাকরি করেন। শিক্ষিকা মমতা স্বামীর তারাগঞ্জ বাড়ি হতেই যাতায়াতের মাধ্যমে স্কুলে চাকরি করতেন। স্বামীর বাড়ির বসত ঘর মেরামত ও নতুন করে তিনি (মমতা) সাজিয়ে তুলেন কিন্তু হঠাৎ করে গত ২০২৫ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর মমতার শ্বশুরবাড়ির লোকজন মমতাকে জানায়, তোমার স্বামী আতিকুল তোমাকে তালাক দিয়েছে তুমি শ্বশুর বাড়ি হতে বের হয়ে যাও। তালাক কিসের কারনে হল আমি তো কিছুই জানিনা বা তালাকের কোন নোটিশ হাতে পেলাম না। তাহলে তালাক হয় কেমন করে এমন প্রশ্ন তুললে মমতাকে শ্বশুরবাড়ির লোকজন বিশেষ করে মেজ ভাসুর ও তার ভাসুরের স্ত্রী শারীরিক নির্যাতন করতে থাকে। এমনকি স্বামীর সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করতে গিয়েও মমতা ব্যর্থ হয়। বাধ্য হয় মমতা তারাগঞ্জ থানার তৎকালীন অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এম এ ফারুক এর সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করে সহযোগিতা চায়। কিন্তু ওসি সহযোগিতা না করে মমতাকে শ্বশুরবাড়ি হতে বের হয়ে যেতে বলেন। মমতা শশুর বাড়িতে নির্যাতন সহ্য করে অবস্থান করেন। এ অবস্থায় পরের দিন ( ২০২৫ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর ) বিকালে তারাগঞ্জ থানার উক্ত ওসি একদল ফোর্স নিয়ে মমতার শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে হাজির হয়ে মমতাকে বাড়ি ছাড়া নির্দেশ দেন। মমতা রাজি না হলে ওসি জানায় তালাক হয়ে গেছে আপনি বাড়ি ছাড়েন। এখানেও মমতা প্রতিবাদ করে জানান কিভাবে তালাক হয় আমি কোন তালাকের নোটিশ পাইনি। আমার স্বামীকে নিয়ে আসেন আমি তার মুখে জানতে চাই। ওসি কোন কথার কর্ণপাত না করে মহিলা পুলিশের সহযোগিতায় রাত সাড়ে ৮ টার দিকে মমতাকে জোরপূর্বক শ্বশুরবাড়ির হতে বের করে তারা থানায় নিয়ে আসেন এ সময় ওসি মমতা বেগমের মোবাইল ফোনটিও কেড়ে নেন। পরে ভয়ভীতি দেখিয়ে মমতার আত্মীয়-স্বজনকে ডেকে এনে মমতাকে তার বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে দেন। অভিযোগ উঠেছে তালাকের আইনগত প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হওয়ার আগেই তারাগঞ্জ থানার তৎকালীন অফিসার ইনচার্জ (ওসি) পুলিশ সদস্যদের নিয়ে ওই শিক্ষিকাকে স্বামীর বাড়ি থেকে বের করে আনলেন কি করে। পরে এ ঘটনায় রংপুর রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ে অভিযোগ করা হলে তদন্ত প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ভুক্তভোগী ও কয়েকজন সাক্ষী। ভুক্তভোগী শিক্ষিকা মোছাঃ মমতা বেগমের দাবি, তারাগঞ্জ থানার তৎকালিন ওসি পুলিশ নিয়ে তার স্বামীর বাড়িতে যান সেখানে তাকে বলা হয়,”তোমার স্বামী তোমাকে তালাক দিয়েছে, তুমি এই বাড়ি থেকে বের হয়ে যাও। না হলে তোমাকে গ্রেফতার করা হবে।”এরপর মহিলা পুলিশ দিয়ে তাকে বাড়ি থেকে জোরপূর্বক বের করে থানায় নেওয়া হয়। যাওয়ার সময় তার মোবাইল ফোনও নিয়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। মমতা বেগমের ভাষ্য, তিনি ওসিকে বারবার জানান যে তিনি কোন তালাকনামার নোটিশের কপি পান নি এবং তার সামনেও স্বামী তাকে তালাক দেননি। তিনি আরো বলেন, প্রচলিত আইন অনুযায়ী তালাক কার্যকর হওয়ার আগ পর্যন্ত নির্দিষ্ট সময় স্বামীর বাড়িতে থাকার অধিকার রয়েছে। এরপরও তাকে জোরপূর্বক বাড়ি ছাড়তে বাধ্য করা হয়। সরজমিন অনুসন্ধানে গেলে ইউনিয়ন বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক মোঃ মশিউর রহমান বলেন, পুলিশ শিক্ষিকাকে ভয় দেখিয়ে থানায় নিয়ে যায়। পরে তার পরিবারের সদস্যদের ডেকে লিখিত নিয়ে তাকে বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। যা সেই ওসি অন্যায় ভাবে করেছে। তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর এসআই মাসুদ আলমপুর ইউনিয়নের বিএনপি নেতা মোঃ মশিউর রহমানকে তাকে শ্বশুরবাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার জন্য পাঠানো হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি। মমতা জানাই, ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে ১ অক্টোবর পর্যন্ত তার স্বামীর বাড়ির শয়ন কক্ষটি তালাবদ্ধ ছিল। তিনি দুইদিন এক রাত বারান্দায় বসে ছিলেন। নিজের কক্ষের তালা খুলে দেওয়ার জন্য ওই ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য দেলোয়ার হোসেন এবং থানার তৎকালীন ওসির কাছে ফোন করে সহযোগিতা চাইলেও কেউ তাকে সহযোগিতা করেনি বলে মমতা অভিযোগ করেন। মমতার অভিযোগ, পহেলা অক্টোবর ২০২৫ তারিখে তারাগঞ্জ থানার তৎকালীন ওসি নিজে পুলিশ সদস্যদের একটি বহর নিয়ে তার শ্বশুর বাড়িতে যান এবং তাকে জোরপূর্বক সেখান থেকে বের করে নিয়ে আসেন। মমতা বেগমের অভিযোগ, তার পক্ষে যেসব সাক্ষী ছিলেন, তদন্তের সময় তাদেরকে ডাকা হয়নি। ফলে ঘটনার প্রকৃত তথ্য তদন্তে উঠে আসেনি। একই গ্রামের বাসিন্দা আরজিনা বেগম বলেন, মহিলা পুলিশ দিয়েই শিক্ষিকাকে বাড়ি থেকে নিয়ে যাওয়া হয়। স্থানীয় ইউপি সদস্য দেলোয়ার হোসেন বলেন,”মেয়েটি বলছিল, সে কোন তালাকের কাগজ পায়নি এবং স্বামী তার সামনে তালাক দেয়নি। অন্যদিকে ছেলের দাবি ছিল, সে তালাক দিয়েছে। এ অবস্থায় আমার করার তেমন কিছুই ছিল না।”তবে শিক্ষিকা মমতা বেগম অভিযোগ করেন, ওই ইউপি সদস্য এবং তার স্বামীর মেজ ভাই ও ভাবি সহ পরিবারের কয়েকজন সদস্যের পরামর্শেই তাকে নির্যাতন করা হয় এবং পুলিশ এসে তাকে থেকে জোরপূর্বক বের করে দেয়। এ বিষয়ে মমতা বেগমের বড় ভাসুর আখতারুল এর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “ওসি নিয়ে গেছে। এ বিষয়ে আমরা কোন কথা বলতে চাই না।” এ ঘটনা রংপুর রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন মমতা বেগম। অভিযোগের পর একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তবে তদন্তের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। তার অভিযোগ, তদন্ত কমিটি ঘটনাস্থলে না গিয়ে অফিসে বসেই সাক্ষ্য গ্রহণ করেছে। সাক্ষীদের আলাদাভাবে জিজ্ঞাসাবাদ না করে একসঙ্গে বসিয়ে বক্তব্য নেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। ইউনিয়ন বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক মোঃ মশিউর রহমান ও অভিযোগ করেন, তার বক্তব্য যথাযথভাবে লিপিবদ্ধ করা হয়নি। তিনি বলেন,”আমার জীবনেও এ ধরনের সাক্ষ্য গ্রহণেও দেখিনি ওসির দোষ ঢাকতে চারজনকে একসঙ্গে বসিয়ে স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে। আমি যা বলেছি, তা পুরোপুরি তদন্ত কমিটি লিপিবদ্ধ করেনি। শিক্ষিকা মমতা স্বামীর বাড়ি ছেড়ে যেতে চাইনি। অথচ তারা মেয়েটিকে নির্যাতন করে উল্টো মিথ্যা অজুহাত দেয় মেয়েটা আত্মহত্যা করবে। তিনি আরো বলেন,”যদি পুলিশ ঐদিন মেয়েটিকে (মমতা বেগম) বাড়ি থেকে জোর করে বের করে নিয়ে না যেত তাহলে হয়তো তার সংসারটা টিকে যেতো। এখানে ওসির সঙ্গে মমতার স্বামীর মেজ ভাই ও তার ফুটচাল করে। এ বিষয়ে তারাগঞ্জ থানার সাবেক অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এম এ ফারুক অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন,”মমতা যে অভিযোগ করেছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা তার শ্বশুরবাড়ির লোকজন আমাকে জানায়, হে আত্মহত্যা করতে চাইছে। এজন্য আমি তাকে উদ্ধার করে পরিবারের সদস্যদের হাতে তুলে দেই। তাকে ভয়-ভীতি দেখিয়ে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ সঠিক নয়” অন্যদিকে স্কুল শিক্ষিকা মমতা বেগমের স্বামী মোঃ আতিকুল ইসলাম (আতিক) বলেন,”আমি মমতা বেগমকে তালাক দিয়েছি। তিনি এ বিষয়ে আর কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি। এ ব্যাপারে রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি আমিনুল ইসলামের সঙ্গে কথা বলা হলে তিনি বলেন ওই ওসিকে তারাগঞ্জ থানা হতে প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। তার বিরুদ্ধে তদন্ত করা হয়েছিল। তদন্ত কমিটি ওসিকে নির্দোষ হিসাবে প্রতিবেদন দেয়। তবে শিক্ষিকা মমতা বেগম তদন্ত প্রতিবেদনে প্রত্যাখ্যান করে পুনরায় তদন্তের জন্য আবেদন করেছেন। আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছি। এদিকে এ ঘটনাকে ঘিরে এলাকাজুড়ে নানা আলোচনা চলছে। আইনজীবীদের মতে পারিবারিক বিরোধ ও তালাক সংক্রান্ত বিষয়ে পুলিশের ভূমিকা অবশ্যই আইনের সীমার মধ্যে থাকতে হবে। কোন পক্ষের আইনগত অধিকার ক্ষুন্ন হয়েছে কি না, তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া জরুরী বিষয়ে তারাগঞ্জ থানার সাবেক ও সি এম এ ফারুকের ভূমিকা নিরপেক্ষ ছিল না। এদিকে শিক্ষিকার তালাকের নোটিশ নিয়ে রহস্য দেখা দিয়েছে। সৈয়দপুর উপজেলার ষ
কাশীরামবেলপুকুর সাব পোস্ট অফিসে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, একটি রেজিস্ট্রি চিঠি মমতা বেগমের নামে এসেছিল কিন্তু চিঠিটি মমতা বেগম গ্রহণ না করায় তা প্রাপকের নিকট ফেরত পাঠানো হয় এই চিঠির বিষয়টি তদন্ত করতে মমতা বেগম রংপুর বিভাগীয় পোস্টমাস্টার জেনারেলের নিকট আবেদন করেন। আবেদনের প্রেক্ষিতে একটি তদন্ত টিম গঠন করে তা তদন্ত করা হয়। তদন্ত করেন নীলফামারী সৈয়দপুর উপবিভাগ পোস্ট অফিস পরিদর্শক মোঃ মঞ্জুর রহমান। তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয় উক্ত পোস্ট অফিসের ডাক পিয়ন চিঠির প্রাপক মমতার বেগমের সাথে দেখা না করেই নোটিশ লিখে দেন প্রাপক চিঠি গ্রহণ করেননি। এতে প্রমাণিত হয় মমতা বেগমের শ্বশুরবাড়ির লোকজন পোস্ট অফিসের ডাক পিয়নের সাথে আঁতাত করে তালাকের চিঠি বিলি করাননি। যাতে করে ৯০ দিন অতিবাহিত হলে তারা কার্যকর হয়ে যাবে। এ ঘটনায় তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী উক্ত ডাক পিয়ন কে চাকুরি হতে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। মমতা বেগম জানান, তিনি আজ পর্যন্ত তালাকের নোটিশ হাতে পাননি। অথচ তারাগঞ্জ থানার তৎকালীন ও সীতাকে তালাক হয়েছে জানিয়ে হেনস্তা করে শ্বশুরবাড়ি হতে বের করে আনেন। মমতা বেগম সেই ওসির কঠোর শাস্তি দাবী করেন।


Leave a Reply