২৮ বছরেও পূর্ণাঙ্গ ভূমির অধিকার মেলেনি আদিবাসী জনগোষ্ঠীর - Gono television | বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল।
২৮ বছরেও পূর্ণাঙ্গ ভূমির অধিকার মেলেনি আদিবাসী জনগোষ্ঠীর

২৮ বছরেও পূর্ণাঙ্গ ভূমির অধিকার মেলেনি আদিবাসী জনগোষ্ঠীর

 

২৮ বছরেও পূর্ণাঙ্গ ভূমির অধশপার্বত্য শান্তি চুক্তির ২৮ বছরের বেশি সময়ে আদিবাসী জনগোষ্ঠী কাঙ্ক্ষিত ও পূর্ণাঙ্গ ভূমির অধিকার পায়নি। পাহাড়ের একাধিক সূত্র বলছে, আদিবাসীরা নিজেদের পরিচয়ের স্বীকৃতি পাননি। অভাব, অবহেলা, বঞ্চনার মধ্য দিয়ে কাটছে জীবন। একসময়ের শান্ত পাহাড় এখন অশান্ত। বিভিন্ন গোষ্ঠীর রক্তচক্ষুর সামনে বাস করতে হচ্ছে তাদের।

 

পার্বত্যাঞ্চলের এই পরিবেশে আগামীকাল রোববার পালন করা হবে আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস-২০২৬। জাতিসংঘের এবারের দিবসটির প্রতিপাদ্য, ‘আদিবাসী ধাত্রীদের সম্মান: অধিকার এগিয়ে নেওয়া, সাংস্কৃতিক ধারাবাহিকতা নিশ্চিতকরণ এবং আন্তঃপ্রজন্মের কল্যাণ প্রচার’।

 

দেশের বিশেষায়িত তিন জেলা বান্দরবার, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ির পার্বত্যাঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর তৎকালীন সশস্ত্র গোষ্ঠী পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির সঙ্গে সেই সময়ের আওয়ামী লীগ সরকারের পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। দীর্ঘ ২৮ বছরে পাহাড়ে শান্তি আসেনি। ক্ষুধা, দারিদ্র্য, অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে চলছে তাদের জীবন। দীর্ঘ সময়েও আদিবাসীদের সাংবিধানিক স্বীকৃতি মেলেনি।

 

আবেদন নিষ্পত্তি হয়নি, পরের জমিতে বাস

রাঙামাটির লংগদু উপজেলার ঘনমোড় মৌজার শিলকাটা গ্রামের জ্ঞান লাল চাকমা ২০১৬ সালের ১৭ অক্টোবর খাগড়াছড়িতে পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন অফিসে তার পাঁচ একর বসতভিটা ফেরত চেয়ে আবেদন করেছিলেন। বর্তমানে ওই জমিতে পুনর্বাসন করা লোকজন বসবাস করছেন। বিরোধ নিস্পত্তি না হওয়ায় জ্ঞান লালকে পরিবার-পরিজন নিয়ে বাঘাইছড়ি উপজেলার দেবাছড়ি গ্রামে অন্যের ভূমিতে বসবাস করতে হচ্ছে।

 

জমি হারিয়ে উদ্বাস্তু জীবন

কৃষক ন্যালশন চাকমা পাহাড়ে অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলার পাবলাখালি থেকে পাশ্ববর্তী দেশে শরনার্থীর জীবন কাটিয়ে সম্প্রতি নিজ ভূমে ফিরে আসেন। তবে নিজের জমিজমা ফেরত পাননি। তিনি বর্তমানে একই উপজেলার সাজেক ইউনিয়নের বাঘাইহাট এলাকায় পরিবার নিয়ে উদ্বাস্তুর মতো জীবন কাটাচ্ছেন। জ্ঞান লাল ও ন্যালশনের মতো আরো অনেক পবিবার বসতভিটা হারিয়ে উদ্বাস্তুর মতো জীবনযাপন করছেন।

 

আদিবাসী ফেরামের কর্মসূচি

বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের উদ্যোগে আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস উপলক্ষে রোববার সকাল ১০টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে র‌্যালি, আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন ফোরামের কেন্দ্রীয় কমিটির কার্যনির্বাহী সদস্য জগদীশ চন্দ্র বর্মন।

 

অতিথি হিসেবে থাকবেন মানবাধিকার কর্মী ও নারী অধিকার কর্মী খুশী কবির, বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের সংসদ সদস্য (নাটোর-নওগাঁ) আন্না মিনজ, সাবেক সংসদ সদস্য ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির সহসভাপতি উষাতন তালুকদার, অধ্যাপক ড. সুকোমল বড়ুয়া, টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান, সাবেক সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ জাসদের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক প্রধান, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম, এএলআরডির নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদা প্রমুখ।

 

এ ছাড়া খাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটি, বান্দরবান— তিন পার্বত্য জেলার আদিবাসীরা দিবসটি পালন উপলক্ষে শোভাযাত্রা ও সমাবেশ এবং সাংস্কৃতিক আয়োজন করেছেন। চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, খুলনা, ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল সিলেট, রাজশাহী, দিনাজপুর, রংপুরসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় দিবসটি পালন করা হবে।

 

ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশনের কার্যকারিতা নেই

জানা গেছে, পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির অন্যতম শর্ত ছিল আদিবাসীদের ঐতিহ্যগত ভূমিস্বত্ব নিশ্চিত করে ভূমি অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া। এ লক্ষে ভূমি সমস্যা সমাধানে ১৯৯৯ সালে পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন গঠন করে সরকার। পরবর্তীতে ২০০১ সালে এ কমিশনের আইনটি সংশোধনী আকারে জাতীয় সংসদে পাস হলে কমিশন পুর্নগঠিত হয়। এতে সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত একজন বিচারপতিকে চেয়ারম্যান করে ৯ সদস্যর সমন্বয়ে কমিশন গঠন করা হয়েছিল। তবে পার্বত্য চুক্তির কিছু ধারা সাংঘর্ষিক হওয়ায় আইন সংশোধনে দীর্ঘ ১৬ বছর লেগে যায় কমিশনের। পরে ২০১৬ সালে পার্বত্য ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন আইন জাতীয় সংসদে সংশোধনী আকারে পাস হয়। এ কমিশনে তিন বছর মেয়াদে ইতোমধ্যে পাঁচজন চেয়ারম্যান পরিবর্তন হয়েছেন। এ কমিশনে যষ্ঠ চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি মুহাম্মদ আব্দুল হাফিজ।

 

ভারত ফেরত শরণার্থীরা ভূমি ফিরে পাননি

পার্বত্য চুক্তি স্বাক্ষরের পর ভারত থেকে ফিরে আসা উপজাতীয় শরণার্থী এবং অভ্যন্তরীণ উদ্বাস্তুদের চিহ্নিত ও পুনর্বাসনের লক্ষে উপজাতীয় শরণার্থী ও অভ্যন্তরীণ উদ্বাস্তু বিষয়ক টাস্কফোর্স কমিটি গঠন করে সরকার। কমিটিতে ইতোমধ্যে পাঁচজন চেয়ারম্যান পরিবর্তন হয়েছেন। সর্বশেষ ষষ্ঠ চেয়ারম্যান হিসেবে সিনিয়র সচিব পদমর্যাদায় সুদত্ত চাকমা চলতি বছরে ১০ ফেব্রুয়ারি পদত্যাগ করায় বর্তমানে পদটি শূন্য রয়েছে। অভ্যন্তরীন উদ্ধাস্তু হিসেবে ৮০ হাজারের অধিক পরিবার তালিকার মধ্যে সীমাবদ্ধ রয়েছে। ভারত প্রত্যাগত প্রায় ৩৭ হাজার পরিবারকে ২০ দফা প্যাকেজের মাধ্যমে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। তারা নিয়মিত রেশন পেলেও অনেকেই নিজেদের ভিটেমাটি ফেরত পাননি।

 

টাস্কফোর্স কমিটির সদস্য সন্তোষিত চাকমা বকুল বলেন, বর্তমানে টাস্কফোর্সের চেয়ারম্যান পদটি খালি। এর আগে কমিটির ২৮টি বৈঠক হয়েছিল। তবে কোনো সিদ্ধান্তের বাস্তবায়ন হয়নি। ১৯৯৭ সাল থেকে এ পর্ষন্ত এক পক্ষীয়ভাবে পাহাড়িদের ওপর হামলা, ঘরবাড়িতে অগ্নিসংযোগসহ ২৯টি ঘটনা সংগঠিত হয়েছে। এসব ঘটনার কারণে জানমালের নিরাপত্তাহীনতার অভাব ছাড়াও উপরন্তু উদ্ধাস্তু হওয়া লোকজন তাদের নিজদের জমি ফেরত পাননি।

 

সন্তোষিত চাকমার মতে, জাতিসংঘের ঘোষিত আদিবাসী ঘোষনাপত্র বাস্তবায়ন, পার্বত্য চুক্তি যথাযথ বাস্তবায়ন ও আদিবাসী হিসেবে সাংবিধানিক স্বীকৃতি মিললে এ অঞ্চলের আদিবাসীদের অস্তিত্ব ও তাদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে। জাতীয় মানবধিকার কমিশনের সাবেক সদস্য নিরূপা দেওয়ান বলেন, আদিবাসীদের জীবন-জীবিকার মধ্যে ভূমি অধিকার জড়িত। ভূমি অধিকার হচ্ছে সমষ্টিক অধিকার। যুগ যুগ ধরে প্রথাগত রীতিনীতির ভিত্তিতে আদিবাসীরা এ ভূমি অধিকার ভোগ করে আসছে। কিন্তু এ ভূমি অধিকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে।


দুই সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে প্রতিদিনই বেঁচে থাকার লড়াই করছেন রেহানা বেগম (২৯)। ঘর ভাড়ার টাকা পরিশোধে বিক্রি করতে হয়েছে মাথার চুল। এখন ঠাঁই হয়েছে খুলনার মংলা রামপাল উপজেলার সন্তোষপুর এলাকার রেল লাইনের পাশে।

 

এলাকাবাসীর সহযোগিতায় বাঁশ-খুটি দিয়ে ঘর তুললেও নেই চালে ছাউনি। রোদে পুড়ে ও বৃষ্টিতে ভিজে চলে রেহানা ও তার শিশু দুই সন্তানের জীবন। স্বামীর নির্যাতন, দারিদ্র্য আর অনিশ্চয়তাকে সঙ্গী করেই রেললাইনের পাশে কাটে তাদের দিন।

 

বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার সন্তোষপুর গ্রামের এই নারী এখন চার বছরের ছেলে রোহান ও তিন বছরের মেয়ে আলোমতিকে নিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন রেললাইনের পাশে। রেহানা বেগম তিন ভাই-বোনের মধ্যে সবার বড়। তার ছোট বোন মানসিক প্রতিবন্ধী। বৃদ্ধ বাবা অন্যের বাড়িতে কাজ করে যা উপার্জন করেন, তা দিয়েই কোনোভাবে চলে তার সংসার। নিত্যদিনের অভাবে রেহানাকে বাবার রোজগারে অনেক সময় ভাগ বসাতে হয়।

 

রেহানার স্বামী জাফর আলী মাদকাসক্ত বলে অভিযোগ রয়েছে। রেহানার ভাষ্য, স্বামী মাদক কেনার টাকার জন্য প্রায়ই তাকে মারধর করেন। কখনো ভিক্ষা করে বা মানুষের কাছ থেকে সাহায্য নিয়ে যে টাকা পান, সেটিও স্বামী নিয়ে যান।

 

সংসারে অভাব এতটাই প্রকট যে কিছুদিন আগে দুই সন্তানকে নিয়ে একটি ভাড়া বাসায় উঠেছিলেন রেহানা। কিন্তু ভাড়া পরিশোধ করতে না পারায় সেখান থেকেও চলে আসতে হয় তাকে। পরে মানুষের কাছ থেকে পাওয়া টাকা এবং নিজের মাথার চুল বিক্রি করে মোট ৩ হাজার ৫০০ টাকা জোগাড় করে বাড়িভাড়া পরিশোধ করেন। যার মধ্যে নিজের চুল মাত্র ১ হাজার টাকায় বিক্রি করতে বাধ্য হন তিনি।

 

এখন তার ঠিকানা রেললাইনের পাশে। স্থানীয় কয়েকজন মানুষের সহায়তায় বাঁশের খুঁটি দিয়ে একটি ঘরের কাঠামো তৈরি হয়েছে। কিন্তু টিন কেনার সামর্থ্য না থাকায় ছাউনি দেওয়া সম্ভব হয়নি। ফলে খোলা আকাশের নিচেই দুই সন্তানকে নিয়ে বসবাস করতে হচ্ছে তাকে।

 

রেহানা বেগম বলেন, ‘দুই সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে সব কষ্ট সহ্য করি। ঘর নেই, খাবারও নেই। মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে চেয়ে যা পাই, তা দিয়েই সন্তানদের মুখে খাবার তুলে দিই। স্বামী মাদক খেয়ে আমাকে মারধর করে। শেষ পর্যন্ত ঘরের ভাড়া দিতে নিজের চুলও বিক্রি করতে হয়েছে। আমার আর কিছু চাওয়ার নেই—সন্তান দুটোকে নিয়ে একটু নিরাপদে থাকতে চাই।’

 

তিনি আরও বলেন, ‘যখন খুব ক্ষুধা লাগে, তখন আর পেছনে তাকানোর সুযোগ থাকে না। কখনো কখনো বাধ্য হয়ে খালের পানি পান করি। মানুষের কাছ থেকে খাবার চেয়ে এনে খাই, সেই কাপড়ই পরি। মানুষ আমার জন্য একটা ঘর বানিয়ে দিয়েছে, কিন্তু এখনো ছাউনি দিতে পারিনি। এভাবেই চলছে আমার জীবন।’

 

সরেজমিনে দেখা যায়, সন্তোষপুর গ্রামের প্রবেশমুখে রেললাইনের পাশে বাঁশের খুঁটি দিয়ে তৈরি একটি অসম্পূর্ণ ঘর। সেখানে রেহানার দুই ছোট সন্তানকে নিয়ে থাকার চেষ্টা। পাশেই তার ছোট বোনও অবস্থান করছেন। ঘরের ওপর কোনো টিন নেই। চারপাশে নেই পর্যাপ্ত বেড়া। বৃষ্টি এলে সেখানে থাকা আরও কঠিন হয়ে পড়ে।

 

স্থানীয়রা জানান, রেহানার মতো অসহায় একজন নারীর দুই সন্তান নিয়ে এভাবে বসবাস অত্যন্ত মানবেতর। তার জন্য একটি নিরাপদ ঘর, নিয়মিত খাদ্য সহায়তা এবং সন্তানদের ভবিষ্যতের জন্য প্রয়োজনীয় সহযোগিতা জরুরি।

ঘর ভাড়া পরিশোধে অসহায় মায়ের মাথার চুল বিক্রি

সিলেটের ওসমানীনগরে দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে হতাহতদের আর্থিক সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে সরকার। দুর্ঘটনায় নিহত প্রত্যেকের পরিবারকে ৫ লাখ টাকা, পঙ্গুত্ব বরণকারীদের ৩ লাখ টাকা এবং চিকিৎসাধীন আহতদের ১ লাখ টাকা করে অনুদান দেওয়া হবে।

 

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে হতাহতদের এই আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।

 

শনিবার (৮ আগস্ট) সকালে সিলেটের ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এই দুর্ঘটনায় চিকিৎসাধীন আহতদেরকে দেখতে যান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। এ সময় তিনি আহতদের চিকিৎসার খোঁজখবর নেন এবং আহতদের যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দেন।

 

হতাহতদের আর্থিক সহায়তা প্রদানের ঘোষণা আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, বিআরটিএর মাধ্যমে নির্ধারিত একটি ফরম হাসপাতালের পরিচালকের কাছে দেওয়া হয়েছে। ওই ফরম যথাযথভাবে পূরণ করে জমা দেওয়ার পর সংশ্লিষ্টরা সরকারি অনুদানের টাকা পাবেন।

 

এদিকে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে দুর্ঘটনা কমাতে যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিযোগিতামূলকভাবে গাড়ি চালানো বন্ধে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলেও জানান মন্ত্রী। বিশেষ করে সকালে মহাসড়ক ফাঁকা থাকায় চালকদের বেপরোয়া গতি ও অহেতুক প্রতিযোগিতার বিষয়ে নজরদারি বাড়ানোর কথা জানান তিনি।

 

গতকাল ৭ আগস্ট সকালে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ওসমানীনগরের কাশিকাপন এলাকায় দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে ৯ জন নিহত হন। মহাসড়কে ইউনিক পরিবহন ও বেঙ্গল পরিবহনের দুটিঘটনাস্থলেই সাতজনের মৃত্যু হয়, পরে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও দুজনের মৃত্যু হয়।

 

নিহতরা সবাই ছিলেন ইউনিক পরিবহনের যাত্রী। এ ছাড়া দুই বাসের অন্তত ২৪ জন যাত্রী আহত হন। তাদের মধ্যে ১৪ জন বর্তমানে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

সিলেটে বাস দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবার পাবে ৫ লাখ টাকা

গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলায় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে যুবদল নেতার ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত শিবিরকর্মী সালাউদ্দিন (২৬) মারা গেছেন।

 

শনিবার (৮ আগস্ট) সকাল ৭টা ৪০ মিনিটে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তার মৃত্যু হয়। গত ২১ জুন বিকাল ৩টার দিকে বোনারপাড়া চৌরাস্তা মোড়ে হামলার ঘটনায় তিনি গুরুতর আহত হন। হামলার পর ৪৯ দিন চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি।

 

নিহত সালাউদ্দিন সাঘাটা উপজেলার বোনারপাড়া ইউনিয়নের শিমুলতাইড় গ্রামের বাসিন্দা। তিনি ওই গ্রামের হাবিবুর রহমানের ছেলে।

 

সাঘাটা উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সাংগঠনিক সেক্রেটারি সহকারী অধ্যাপক এনামুল হক সরকার ও উপজেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি সাজেদুর রহমান সাদা সালাউদ্দিনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

 

স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা গেছে, সাঘাটা উপজেলার কচুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি গঠন নিয়ে সম্প্রতি বিরোধের সৃষ্টি হয়। এ নিয়ে উপজেলা চত্বরে বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক হাবিবুল্লাহর সঙ্গে বোনারপাড়া ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক মুকুল মিয়ার কথা কাটাকাটি হয়। পরে স্থানীয় নেতাদের হস্তক্ষেপে বিষয়টি মীমাংসা করা হয়। এরপর সংশ্লিষ্টরা উপজেলা চত্বর থেকে চলে যান।

 

অভিযোগ রয়েছে, উপজেলা চত্বরে ওই ঘটনার কয়েক মিনিট পর বোনারপাড়া-সাঘাটা সড়কের উপজেলা সংলগ্ন বোনারপাড়া চৌমাথা এলাকায় অবস্থান করছিলেন বোনারপাড়া ইউনিয়ন ছাত্রশিবিরের সভাপতি সাইফুল্লাহ ও শিবিরকর্মী সালাউদ্দিন।

 

এ সময় বোনারপাড়া ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক মুকুল মিয়া, তার ছোট ভাই পলাশ, বোনারপাড়া ওয়ার্ড বিএনপির সদস্য রবিউল ইসলাম, যুবদল নেতা আশরাফ, মোনারুলসহ ১০ থেকে ১৩ জনের একটি দল তাদের ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ উঠেছে।

 

অভিযোগ অনুযায়ী, হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে সালাউদ্দিনের গলায় আঘাত করেন। এতে তিনি গুরুতর আহত হয়ে রাস্তায় পড়ে যান। একই ঘটনায় শিবির নেতা সাইফুল্লাহও গুরুতর আহত হন।

 

পরে স্থানীয়রা দুজনকে উদ্ধার করে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক সাইফুল্লাহকে মৃত ঘোষণা করেন। গুরুতর আহত সালাউদ্দিনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

 

বগুড়ায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় সালাউদ্দিনের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকায় নেওয়া হয়। পরে ইবনে সিনা হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছিল। সেখানে ৪৯ দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করার পর শনিবার সকালে তার মৃত্যু হয়।

 

সাঘাটা উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সাংগঠনিক সেক্রেটারি সহকারী অধ্যাপক এনামুল হক সরকার বলেন, দীর্ঘ ৪৯ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর শনিবার সকালে সালাউদ্দিন মারা গেছেন। তার মৃত্যুতে পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

যুবদল নেতার ছুরিকাঘাতে আহত শিবিরকর্মীর মৃত্যু

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে স্কুল ছাত্রীকে লাথি মারার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার ঘটনায় এবার ভুক্তভোগী ছাত্রীকেই ট্রান্সফার সার্টিফিকেট (টিসি) দিয়ে বিদ্যালয় থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

 

ভুক্তভোগী ছাত্রী সোনারগাঁ উপজেলার কাঁচপুরের ওমর আলী উচ্চবিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী। তার বাবা একটি পোশাক কারখানায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন। অন্যদিকে, অভিযুক্ত কিশোরের বাড়ি কাঁচপুরের রায়েরটেক এলাকার বাসিন্দা।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, স্কুলড্রেস পরা দুই ছাত্রী শীতলক্ষ্যা নদীর পাড়ের ওয়াকওয়ে এলাকায় হাঁটছিল। এ সময় এক কিশোর পেছন থেকে এক ছাত্রীকে পরপর লাথি মারে। ঘটনাটি মোবাইল ফোনে ধারণ করা হয়। পরে সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

 

ভুক্তভোগী ছাত্রীর বাবা বলেন, ‘আমার মেয়েকে লাথি মারার ঘটনাটি প্রায় এক মাস আগের। কিন্তু স্কুলের সময় বাইরে যাওয়ার অভিযোগে শিক্ষকরা বিচার করে আমার মেয়েকেই টিসি দিয়ে দিয়েছে।’

স্কুলছাত্রীকে লাথির ভিডিও ভাইরাল, ভুক্তভোগী দুই শিক্ষার্থীকেই টিসি

সরকার নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দিলে দেশে ফিরে বিচারের মুখোমুখি হতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। তিনি দুই বছর ধরে নিজ দেশ থেকে নির্বাসনে রয়েছেন। রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সাকিব জানান, দেশে ফিরে একটি বিদায়ী সিরিজেও অংশ নিতে চান তিনি।

 

২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকে আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য সাকিব যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন। সেখান থেকেই সাকিব বলেন, ‘সরকার যদি আমাকে নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দেয়, তাহলে আমি দেশে ফিরে আদালতের বিচারপ্রক্রিয়াসহ যা যা করার প্রয়োজন, সবই করতে প্রস্তুত। আমি জানি, আমি কোনো অন্যায় করিনি।’

 

সাকিব বর্তমানে ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট খেলতে শ্রীলঙ্কায় রয়েছেন। সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, দেশে ফিরতে না পারলেও আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে বিদায় নিতে খুব বেশি দেরি করতে চান না। সাকিব বলেন, ‘এখনও বিভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ খেলছি। ভালো লাগছে, খেলাটাও উপভোগ করছি। কিন্তু বয়স তো আর আমার পক্ষে নেই। তাই অবসর নেওয়ার জন্য খুব বেশি অপেক্ষা করতে চাই না।’

 

সাক্ষাৎকারে সাকিব জানান, ২০২৪ সালের শেষ দিকে একবার সরকারের নিরাপত্তার আশ্বাস পেয়ে দেশে ফেরার উদ্দেশ্যে বিমানে উঠেছিলেন। কিন্তু যাত্রাপথেই তাকে ফিরে যেতে বলা হয়। তার ভাষ্য, বিমানবন্দরের লাউঞ্জ থেকে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে তিনি যাত্রা শুরু করেছিলেন। কিন্তু পরে দুবাইয়ে নেমে জানতে পারেন, বাংলাদেশে আর যেতে পারবেন না। সেখান থেকেই তিনি আবার নিউইয়র্কে ফিরে যান।

 

সাকিব বলেন, ‘১২ ঘণ্টার মধ্যে কী পরিবর্তন হয়েছিল, সেটা আজও জানি না। পরে শুনলাম ফেসবুকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা পোস্ট করার কারণে নাকি আমাকে আসতে দেওয়া হয়নি। এটি দেশে না ঢুকতে দেওয়ার কেমন মানদণ্ড, তা আমার মাথায় আসে না।’

 

সম্প্রতি শেখ হাসিনার সঙ্গে ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেওয়া নিয়েও কথা বলেন সাকিব। তিনি জানান, সেখানে তিনি কেবল দেশের শান্তি ও উন্নতির কথাই বলেছেন এবং এ নিয়ে তার কোনো অনুশোচনা নেই।

 

শেখ হাসিনার সঙ্গে ডিসেম্বর মাসে দেশে ফেরার সম্ভাবনা নিয়েও প্রশ্ন করা হলে সাকিব বলেন, ‘ক্যাপ্টেন যা বলবেন, আমরা তাই অনুসরণ করব। আমার মনে হয় উনারাই সঠিক সিদ্ধান্ত নেবেন এবং তাদের দেওয়া নির্দেশনাই আমরা মেনে চলব।’

 

বর্তমানে নিজের বিরুদ্ধে দুটি মামলা সক্রিয় রয়েছে বলে জানান সাকিব। একটি ২০২৪ সালের আন্দোলনের সময় একজন নিহত হওয়ার ঘটনায়, অন্যটি দুর্নীতির অভিযোগে। হত্যা মামলার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এটি হাস্যকর একটি মামলা। যেদিন ঘটনাটি ঘটেছে, সেদিন আমি টরন্টোতে একটি ম্যাচ খেলছিলাম।’

 

তিনি আরও জানান, তদন্তের অংশ হিসেবে প্রায় দেড় বছর ধরে তার ব্যাংক হিসাব জব্দ রয়েছে। তবে কোন ব্যাংকে হিসাব রয়েছে বা কত অর্থ জব্দ আছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত বলতে চাননি।

 

সাকিব বলেন, গত দুই বছরে তিনি বাংলাদেশে থাকা তার বাবা-মায়ের সঙ্গে দেখা করতে পারেননি। তার দাবি, তার বাবা-মাও দেশ ছাড়তে পারেননি।

 

দেশে ফেরার বিষয়ে তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে আলোচনায় বসতেও আগ্রহী বলে জানিয়েছেন। তবে এ বিষয়ে রয়টার্সের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলেও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কোনো তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। সূত্র-রয়টার্স

নিরাপত্তা পেলে দেশে ফিরে বিচারের মুখোমুখি হতে প্রস্তুত সাকিব

সাভারে পুলিশি অভিযানের সময় পাঁচতলা ভবনের ছাদ থেকে নিচে পড়ে মনোয়ারুল হোসেন বকশী (২৯) নামে এক ছাত্রদল নেতার মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (৭ আগস্ট) দুপুরে সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল আলম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) দিবাগত রাত ১২টার দিকে সাভারের বিপিএটিসি স্টাফ কোয়ার্টারে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।

 

নিহত মনোয়ারুল সাভারের বাংলাদেশ পাবলিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন ট্রেনিং সেন্টারের (বিপিএটিসি) গার্ড জাফরের ছেলে এবং সাভার থানা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি ছিলেন।

 

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রংপুর জেলার পীরগঞ্জ থান এলাকায় প্রেমের সম্পর্কের জের ধরে শাহারিয়ার কবির সৌমি নামের এক তরুণ মিম নামের এক কিশোরীকে নিয়ে সাভারে তার মামা মনোয়ারুলের বাসায় চলে আসে। এই ঘটনায় কিশোরীর পরিবার পীরগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে। জিডির সূত্র ধরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় পীরগঞ্জ থানা পুলিশের একটি দল বৃহস্পতিবার রাতে সাভার মডেল থানায় পৌঁছায়। পরবর্তীতে সাভার মডেল থানা পুলিশকে সাথে নিয়ে রাত ১১টার দিকে বিপিএটিসি স্টাফ কোয়ার্টারের বাসায় যৌথ অভিযান চালায় পুলিশ।

 

তবে পুলিশ পৌঁছানোর আগেই ভাগ্নে ও তার প্রেমিকা ওই বাসা থেকে কেটে পড়ে। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে মামা মনোয়ারুল দৌড়ে ছাদে আত্মগোপনের চেষ্টা করেন। এ সময় পুলিশও তাকে খুঁজতে ছাদে গেলে তিনি হঠাৎ পাঁচতলা ভবনের ছাদ থেকে নিচে পড়ে যান।

 

স্থানীয় বাসিন্দা ও নিহতের পরিবারের সদস্যরা পুলিশের বিরুদ্ধে ধাওয়া দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন। প্রতিবেশী রাসেল মনি ও ঢাকা জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সুজন শিকদার জানান, রাতে ভাগ্নেকে না পেয়ে পুলিশ জোরপূর্বক মনোয়ারুলকে ধাওয়া করে। পুলিশের তাড়া খেয়ে প্রাণ বাঁচাতে গিয়ে তিনি ছাদ থেকে পড়ে যান। মনোয়ারুল নিচে পড়ে যাওয়ার পরপরই উপস্থিত পুলিশ সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে বলে তারা দাবি করেন। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় মনোয়ারুলকে উদ্ধার করে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

 

অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া পীরগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) কনক রঞ্জন বর্মণ মুঠোফোনে জানান, ভিকটিমের বাবাকে নিয়ে তারা সাভার মডেল থানার পুলিশসহ রাতে বিপিএটিসির ওই বাসায় যান। সেখানে ঢুকে কেবল মনোয়ারুলের বাবা-মাকে পান। বাসার ভেতরে আর কেউ ছিল না। তবে কয়েক মিনিট পরেই বাইরে একটি বিকট শব্দ শুনে নিচে গিয়ে এক যুবককে পড়ে থাকতে দেখেন তারা। এরপরই তারা ঘটনাস্থল থেকে চলে আসেন।

 

অন্যদিকে, ঘটনার সময় উপস্থিত সাভার মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুল হাইয়ের সঙ্গে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে ফোনে পাওয়া যায়নি।

 

ঘটনার বিষয়ে সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল আলম জানান, পীরগঞ্জ থানা পুলিশ আসামি গ্রেপ্তারে সাভারে এলে স্থানীয় থানার একটি দল তাদের সহযোগিতা করতে যায়। পীরগঞ্জ থানা পুলিশ ভবনের ভেতরে ঢোকার পর এক যুবক ছাদ থেকে পড়ে মারা যান। সাভার মডেল থানা পুলিশ সেই সময় ভবনের বাইরে ও নিচে অবস্থান করছিল বলে দাবি করেন তিনি। এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা তদন্তে ইতিমধ্যেই পাঁচ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

পুলিশের ধাওয়া খেয়ে ছাদ থেকে পড়ে ছাত্রদল নেতা নিহতের অভিযোগ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

শ্রমিক ছাটাই নির্যাতন বন্ধ করে,ছাটাইকৃত শ্রমিকদের কাজে পুনর্বহাল,বন্ধকৃত কারখানা চালু , হয়রানী মূলক মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও ত্রিপক্ষীয় চুক্তি বাস্তবায়নের দাবী করেছে বাংলাদেশ গার্মেন্টস এন্ড শিল্প শ্রমিক ফেডারেশন।

 

রাকিবুল ইসলাম রঞ্জু:

 

০৮ই আগস্ট ২০২৬ ইং তারিখ রোজ শনিবার,বেলা ১১.০০ ঘটিকায় ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় কার্যালয় এক জরুরী সভা অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ গার্মেন্টস এন্ড শিল্প শ্রমিক ফেডারেশন এর কেন্দ্রীয় সভাপতি , বিশিষ্ট শ্রমিক নেতা মোঃ রফিকুল ইসলাম সুজন।সভায় বক্তব্য রাখেন সুমাইয়া ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক,বাংলাদেশ গার্মেন্টস এন্ড শিল্প শ্রমিক ফেডারেশন, মোঃ আবু কালাম ,সহ সাধারন সম্পাদক,বাংলাদেশ গার্মেন্টস এন্ড শিল্প শ্রমিক ফেডারেশন, শিক্ষা ও সমাজ কল্যান সম্পাদক, রাশিদা আক্তার,বাংলা গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের সাভার আশুলিয়া থানা কমিটির সভাপতি মোঃ আলী আকবর খান,সাজিয়া রহমান, মাহমুদা হোসেন মিলি , হাসিনা খানম প্রমুখ।

 

সভায় সভাপতির বক্তব্যে রফিকুল ইসলাম সুজন বলেন পোশাক শিল্পের সংকট সমাধানে গ্যাস, বিদ্যুৎ সংকটের কারনে শ্রমিক ছাটাই, কর্মচ্যুত বেড়েই চলছে। মালিক -শ্রমিক উভয়েই হতাশ। উক্ত সমস্যার সমাধানে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন,দ্রব্যমুল্যের উর্দ্ধোগতি,শ্রমিক- কর্মচারীর ক্রয় ক্ষমতার নাগালের বাহিরে। অবিলম্বে দ্রব্যমুল্য নিয়ন্ত্রন, শ্রমিকদের মাঝে ব্যপক অসন্তোষ বিরাজমান করছে। অবিলম্বে মজুরী বোর্ড গঠন করে শ্রমিকদের পূর্ণমজুরী নির্ধারন এর দাবি, শ্রমিক – কর্মচারীদের বকেয়া বেতন -ভাতা, ছাটাইকৃত শ্রমিকদের কাজে পুর্নবহাল, হয়রানী মূলক মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার, ত্রিপক্ষীয় চুক্তি বাস্তবায়ন করতে হবে।

 

তিনি আরো বলেন সাভারের আশুলিয়ায় অবস্থিত এ্যালিয়েন্স নীট কম্পোজিট লিঃ এর বে আইনীভাবে ৫৬৫ জন ছাটাইকৃত শ্রমিকদের অবিলম্বে কাজে পুর্নবহালের দাবি করেন,বকেয় বেতন ,ভাতা পরিশোধ করতে হবে এবং বেক নীট লিঃ,তান্যাম ডিজাইন লিঃ (লুসাকা গ্রুপ), এর ১৪০ জন শ্রমিককে সাময়িক বরখাস্তর তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানাই। অবিলম্বে সাময়িক বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহার পূর্বক কাজে পুর্নবহালের দাবী জানাই।

 

তিনি আরো বলেন গাজীপুরে লিথী গ্রুপের ০৫টি কারখানার ৩৫০০জন শ্রমিককে সমস্যা সমাধানের দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের দাবী জানাই। ম্যাক্সন্স স্পিনিং মিলস, ত্রিপক্ষীয় চুক্তি মোতাবেক বন্ধ কারখানা চালু, হয়রানী মুলক মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার, বকেয়া বেতন -ভাতা পরিশোধ না করা হলে শ্রমিক – কর্মচারীগন বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষনা করা হবে। প্রাইড গ্রুপ,রিজাইনকৃত ও ছাটাইকৃত শ্রমিকদের বকেয়া বেতন – ভাতা পরিশোধ করতে হবে।,বেক্সিমকো গ্রুপ বন্ধ কারখানা চালু কর, বকেয়া বেতন – ভাতা পরিশোধ কর,

 

বক্তারা বলেন বেলকুচি নীটিং এন্ড ডায়িং, সহ সকল কারখানার শ্রমিক – কর্মচারীদের সকল বকেয়া বেতন -ভাতা পরিশোধ, শ্রমিকদের রেশনিং চালু, শ্রমিক ছাটাই- নির্যাতন,বিভিন্ন শিল্প অঞ্চলের চলমান শ্রম অসন্তোষ দ্রুত নিরসন,মামলা- হামলা বন্ধ,বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে শ্রমিক কর্মচারীদের নামে হয়রানী মুলক মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার দাবী জানান।দাবী বাস্তবায়ন না হলে যে প্রতিষ্ঠানের মালিক শ্রমিক -কর্মচারীদের বকেয়া বেতন- ভাতা পরিশোধ না করেন বৃহত্তর আন্দোলন কর্মসূচির মাধ্যমে দাবি বাস্তবায়ন করা হবে।

শ্রমিক ছাটাই নির্যাতন বন্ধ করে,ছাটাইকৃত শ্রমিকদের কাজে পুনর্বহাল,বন্ধকৃত কারখানা চালু , হয়রানী মূলক মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও ত্রিপক্ষীয় চুক্তি বাস্তবায়নের দাবী করেছে বাংলাদেশ গার্মেন্টস এন্ড শিল্প শ্রমিক ফেডারেশন

বাবা হোর্হে মেসির মৃত্যুতে শোকাহত লিওনেল মেসি যখন পরিবারের পাশে থাকতে আর্জেন্টিনায়, তখন মাঠে নেমে বন্ধুর পাশে দাঁড়ালেন রদ্রিগো দে পল। নিজের জার্সির নিচে মেসির ১০ নম্বর জার্সি পরে খেলতে নেমেছিলেন ইন্টার মায়ামির এই আর্জেন্টাইন তারকা। গোল করেই সেই জার্সি প্রকাশ করেন এবং আবেগঘনভাবে মেসির প্রয়াত বাবাকে শ্রদ্ধা জানান।

 

শনিবারের দিনটি মেসি পরিবারের জন্য ছিল অত্যন্ত কঠিন। আর্জেন্টিনার রোজারিওতে ৬৮ বছর বয়সে মারা গেছেন মেসির বাবা হোর্হে মেসি। বেশ কিছুদিন ধরেই অসুস্থ ছিলেন তিনি। বাবার মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর ইন্টার মায়ামির কাছ থেকে ছুটি নিয়ে পরিবারের পাশে থাকতে রোজারিওতে ফিরে যান মেসি।

 

এ কারণে লিগস কাপের গ্রুপ পর্বে মনতেরের বিপক্ষে ম্যাচে ইন্টার মায়ামির হয়ে খেলতে পারেননি আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। মেসির অনুপস্থিতিতে দলকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেওয়ার দায়িত্ব নিতে হয় অন্যদের। সেই দায়িত্বের অন্যতম একজন ছিলেন তাঁর ঘনিষ্ঠ বন্ধু দে পল।

 

ম্যাচে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলছিল ইন্টার মায়ামি। একপর্যায়ে বক্সের বাইরে থেকে বজ্রগতির এক শটে দারুণ গোল করে দলকে এগিয়ে দেন দে পল।

 

গোল করার পরই নিজের জার্সি খুলে ফেলেন তিনি। তখন প্রকাশ পায় আসল চমক। নিজের জার্সির নিচে তিনি পরে ছিলেন মেসির বিখ্যাত ১০ নম্বর জার্সি। গোল করার পর সেই জার্সি দেখিয়ে মেসি ও তাঁর পরিবারের প্রতি ভালোবাসা ও সমবেদনা জানান দে পল।

 

মেসির কঠিন সময়ে তাঁর পাশে থাকার এটি ছিল দে পলের আবেগঘন এক বার্তা। মাঠের বাইরেও দুজনের বন্ধুত্ব বেশ গভীর। আর্জেন্টিনা জাতীয় দল থেকে শুরু করে ইন্টার মায়ামি—দুই জায়গাতেই মেসির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে দে পলের।

 

মেসি, লুইস সুয়ারেজ ও জার্মান বেরতেরামে না থাকায় মনতেরের বিপক্ষে ইন্টার মায়ামির জন্য ম্যাচটি আরও কঠিন হয়ে উঠেছিল। সেই পরিস্থিতিতে ৩২ বছর বয়সী দে পল সামনে থেকে দায়িত্ব নেন। গোল করে দলকে যেমন এগিয়ে দেন, তেমনি বন্ধুর পরিবারের কঠিন সময়েও পাশে থাকার বার্তা দেন।

 

মেসির জীবনের গুরুত্বপূর্ণ মানুষ হোর্হে মেসির মৃত্যুর পর ফুটবল বিশ্বের অনেকেই শোক প্রকাশ করেছেন। দে পলের এই শ্রদ্ধা যেন সেই শোকের মধ্যেই বন্ধুত্বের আরেকটি গভীর উদাহরণ হয়ে থাকল।

 

মেসি যখন রোজারিওতে বাবাকে শেষ বিদায় জানাতে পরিবারের সঙ্গে, তখন তাঁর হয়ে মাঠে লড়লেন দে পল। আর গোলের পর মেসির ১০ নম্বর জার্সি দেখিয়ে জানিয়ে দিলেন—কঠিন সময়ে বন্ধুকে তিনি একা হতে দেবেন না।

মেসির জার্সি পরে মাঠে নেমেছিলেন দে পল, গোল করে উৎসর্গ করলেন মেসির প্রয়াত বাবাকে

 

২৮ বছরেও পূর্ণাঙ্গ ভূমির অধশপার্বত্য শান্তি চুক্তির ২৮ বছরের বেশি সময়ে আদিবাসী জনগোষ্ঠী কাঙ্ক্ষিত ও পূর্ণাঙ্গ ভূমির অধিকার পায়নি। পাহাড়ের একাধিক সূত্র বলছে, আদিবাসীরা নিজেদের পরিচয়ের স্বীকৃতি পাননি। অভাব, অবহেলা, বঞ্চনার মধ্য দিয়ে কাটছে জীবন। একসময়ের শান্ত পাহাড় এখন অশান্ত। বিভিন্ন গোষ্ঠীর রক্তচক্ষুর সামনে বাস করতে হচ্ছে তাদের।

 

পার্বত্যাঞ্চলের এই পরিবেশে আগামীকাল রোববার পালন করা হবে আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস-২০২৬। জাতিসংঘের এবারের দিবসটির প্রতিপাদ্য, ‘আদিবাসী ধাত্রীদের সম্মান: অধিকার এগিয়ে নেওয়া, সাংস্কৃতিক ধারাবাহিকতা নিশ্চিতকরণ এবং আন্তঃপ্রজন্মের কল্যাণ প্রচার’।

 

দেশের বিশেষায়িত তিন জেলা বান্দরবার, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ির পার্বত্যাঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর তৎকালীন সশস্ত্র গোষ্ঠী পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির সঙ্গে সেই সময়ের আওয়ামী লীগ সরকারের পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। দীর্ঘ ২৮ বছরে পাহাড়ে শান্তি আসেনি। ক্ষুধা, দারিদ্র্য, অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে চলছে তাদের জীবন। দীর্ঘ সময়েও আদিবাসীদের সাংবিধানিক স্বীকৃতি মেলেনি।

 

আবেদন নিষ্পত্তি হয়নি, পরের জমিতে বাস

রাঙামাটির লংগদু উপজেলার ঘনমোড় মৌজার শিলকাটা গ্রামের জ্ঞান লাল চাকমা ২০১৬ সালের ১৭ অক্টোবর খাগড়াছড়িতে পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন অফিসে তার পাঁচ একর বসতভিটা ফেরত চেয়ে আবেদন করেছিলেন। বর্তমানে ওই জমিতে পুনর্বাসন করা লোকজন বসবাস করছেন। বিরোধ নিস্পত্তি না হওয়ায় জ্ঞান লালকে পরিবার-পরিজন নিয়ে বাঘাইছড়ি উপজেলার দেবাছড়ি গ্রামে অন্যের ভূমিতে বসবাস করতে হচ্ছে।

 

জমি হারিয়ে উদ্বাস্তু জীবন

কৃষক ন্যালশন চাকমা পাহাড়ে অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলার পাবলাখালি থেকে পাশ্ববর্তী দেশে শরনার্থীর জীবন কাটিয়ে সম্প্রতি নিজ ভূমে ফিরে আসেন। তবে নিজের জমিজমা ফেরত পাননি। তিনি বর্তমানে একই উপজেলার সাজেক ইউনিয়নের বাঘাইহাট এলাকায় পরিবার নিয়ে উদ্বাস্তুর মতো জীবন কাটাচ্ছেন। জ্ঞান লাল ও ন্যালশনের মতো আরো অনেক পবিবার বসতভিটা হারিয়ে উদ্বাস্তুর মতো জীবনযাপন করছেন।

 

আদিবাসী ফেরামের কর্মসূচি

বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের উদ্যোগে আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস উপলক্ষে রোববার সকাল ১০টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে র‌্যালি, আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন ফোরামের কেন্দ্রীয় কমিটির কার্যনির্বাহী সদস্য জগদীশ চন্দ্র বর্মন।

 

অতিথি হিসেবে থাকবেন মানবাধিকার কর্মী ও নারী অধিকার কর্মী খুশী কবির, বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের সংসদ সদস্য (নাটোর-নওগাঁ) আন্না মিনজ, সাবেক সংসদ সদস্য ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির সহসভাপতি উষাতন তালুকদার, অধ্যাপক ড. সুকোমল বড়ুয়া, টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান, সাবেক সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ জাসদের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক প্রধান, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম, এএলআরডির নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদা প্রমুখ।

 

এ ছাড়া খাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটি, বান্দরবান— তিন পার্বত্য জেলার আদিবাসীরা দিবসটি পালন উপলক্ষে শোভাযাত্রা ও সমাবেশ এবং সাংস্কৃতিক আয়োজন করেছেন। চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, খুলনা, ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল সিলেট, রাজশাহী, দিনাজপুর, রংপুরসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় দিবসটি পালন করা হবে।

 

ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশনের কার্যকারিতা নেই

জানা গেছে, পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির অন্যতম শর্ত ছিল আদিবাসীদের ঐতিহ্যগত ভূমিস্বত্ব নিশ্চিত করে ভূমি অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া। এ লক্ষে ভূমি সমস্যা সমাধানে ১৯৯৯ সালে পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন গঠন করে সরকার। পরবর্তীতে ২০০১ সালে এ কমিশনের আইনটি সংশোধনী আকারে জাতীয় সংসদে পাস হলে কমিশন পুর্নগঠিত হয়। এতে সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত একজন বিচারপতিকে চেয়ারম্যান করে ৯ সদস্যর সমন্বয়ে কমিশন গঠন করা হয়েছিল। তবে পার্বত্য চুক্তির কিছু ধারা সাংঘর্ষিক হওয়ায় আইন সংশোধনে দীর্ঘ ১৬ বছর লেগে যায় কমিশনের। পরে ২০১৬ সালে পার্বত্য ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন আইন জাতীয় সংসদে সংশোধনী আকারে পাস হয়। এ কমিশনে তিন বছর মেয়াদে ইতোমধ্যে পাঁচজন চেয়ারম্যান পরিবর্তন হয়েছেন। এ কমিশনে যষ্ঠ চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি মুহাম্মদ আব্দুল হাফিজ।

 

ভারত ফেরত শরণার্থীরা ভূমি ফিরে পাননি

পার্বত্য চুক্তি স্বাক্ষরের পর ভারত থেকে ফিরে আসা উপজাতীয় শরণার্থী এবং অভ্যন্তরীণ উদ্বাস্তুদের চিহ্নিত ও পুনর্বাসনের লক্ষে উপজাতীয় শরণার্থী ও অভ্যন্তরীণ উদ্বাস্তু বিষয়ক টাস্কফোর্স কমিটি গঠন করে সরকার। কমিটিতে ইতোমধ্যে পাঁচজন চেয়ারম্যান পরিবর্তন হয়েছেন। সর্বশেষ ষষ্ঠ চেয়ারম্যান হিসেবে সিনিয়র সচিব পদমর্যাদায় সুদত্ত চাকমা চলতি বছরে ১০ ফেব্রুয়ারি পদত্যাগ করায় বর্তমানে পদটি শূন্য রয়েছে। অভ্যন্তরীন উদ্ধাস্তু হিসেবে ৮০ হাজারের অধিক পরিবার তালিকার মধ্যে সীমাবদ্ধ রয়েছে। ভারত প্রত্যাগত প্রায় ৩৭ হাজার পরিবারকে ২০ দফা প্যাকেজের মাধ্যমে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। তারা নিয়মিত রেশন পেলেও অনেকেই নিজেদের ভিটেমাটি ফেরত পাননি।

 

টাস্কফোর্স কমিটির সদস্য সন্তোষিত চাকমা বকুল বলেন, বর্তমানে টাস্কফোর্সের চেয়ারম্যান পদটি খালি। এর আগে কমিটির ২৮টি বৈঠক হয়েছিল। তবে কোনো সিদ্ধান্তের বাস্তবায়ন হয়নি। ১৯৯৭ সাল থেকে এ পর্ষন্ত এক পক্ষীয়ভাবে পাহাড়িদের ওপর হামলা, ঘরবাড়িতে অগ্নিসংযোগসহ ২৯টি ঘটনা সংগঠিত হয়েছে। এসব ঘটনার কারণে জানমালের নিরাপত্তাহীনতার অভাব ছাড়াও উপরন্তু উদ্ধাস্তু হওয়া লোকজন তাদের নিজদের জমি ফেরত পাননি।

 

সন্তোষিত চাকমার মতে, জাতিসংঘের ঘোষিত আদিবাসী ঘোষনাপত্র বাস্তবায়ন, পার্বত্য চুক্তি যথাযথ বাস্তবায়ন ও আদিবাসী হিসেবে সাংবিধানিক স্বীকৃতি মিললে এ অঞ্চলের আদিবাসীদের অস্তিত্ব ও তাদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে। জাতীয় মানবধিকার কমিশনের সাবেক সদস্য নিরূপা দেওয়ান বলেন, আদিবাসীদের জীবন-জীবিকার মধ্যে ভূমি অধিকার জড়িত। ভূমি অধিকার হচ্ছে সমষ্টিক অধিকার। যুগ যুগ ধরে প্রথাগত রীতিনীতির ভিত্তিতে আদিবাসীরা এ ভূমি অধিকার ভোগ করে আসছে। কিন্তু এ ভূমি অধিকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে।

২৮ বছরেও পূর্ণাঙ্গ ভূমির অধিকার মেলেনি আদিবাসী জনগোষ্ঠীর

দুই সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে প্রতিদিনই বেঁচে থাকার লড়াই করছেন রেহানা বেগম (২৯)। ঘর ভাড়ার টাকা পরিশোধে বিক্রি করতে হয়েছে মাথার চুল। এখন ঠাঁই হয়েছে খুলনার মংলা রামপাল উপজেলার সন্তোষপুর এলাকার রেল লাইনের পাশে।

 

এলাকাবাসীর সহযোগিতায় বাঁশ-খুটি দিয়ে ঘর তুললেও নেই চালে ছাউনি। রোদে পুড়ে ও বৃষ্টিতে ভিজে চলে রেহানা ও তার শিশু দুই সন্তানের জীবন। স্বামীর নির্যাতন, দারিদ্র্য আর অনিশ্চয়তাকে সঙ্গী করেই রেললাইনের পাশে কাটে তাদের দিন।

 

বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার সন্তোষপুর গ্রামের এই নারী এখন চার বছরের ছেলে রোহান ও তিন বছরের মেয়ে আলোমতিকে নিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন রেললাইনের পাশে। রেহানা বেগম তিন ভাই-বোনের মধ্যে সবার বড়। তার ছোট বোন মানসিক প্রতিবন্ধী। বৃদ্ধ বাবা অন্যের বাড়িতে কাজ করে যা উপার্জন করেন, তা দিয়েই কোনোভাবে চলে তার সংসার। নিত্যদিনের অভাবে রেহানাকে বাবার রোজগারে অনেক সময় ভাগ বসাতে হয়।

 

রেহানার স্বামী জাফর আলী মাদকাসক্ত বলে অভিযোগ রয়েছে। রেহানার ভাষ্য, স্বামী মাদক কেনার টাকার জন্য প্রায়ই তাকে মারধর করেন। কখনো ভিক্ষা করে বা মানুষের কাছ থেকে সাহায্য নিয়ে যে টাকা পান, সেটিও স্বামী নিয়ে যান।

 

সংসারে অভাব এতটাই প্রকট যে কিছুদিন আগে দুই সন্তানকে নিয়ে একটি ভাড়া বাসায় উঠেছিলেন রেহানা। কিন্তু ভাড়া পরিশোধ করতে না পারায় সেখান থেকেও চলে আসতে হয় তাকে। পরে মানুষের কাছ থেকে পাওয়া টাকা এবং নিজের মাথার চুল বিক্রি করে মোট ৩ হাজার ৫০০ টাকা জোগাড় করে বাড়িভাড়া পরিশোধ করেন। যার মধ্যে নিজের চুল মাত্র ১ হাজার টাকায় বিক্রি করতে বাধ্য হন তিনি।

 

এখন তার ঠিকানা রেললাইনের পাশে। স্থানীয় কয়েকজন মানুষের সহায়তায় বাঁশের খুঁটি দিয়ে একটি ঘরের কাঠামো তৈরি হয়েছে। কিন্তু টিন কেনার সামর্থ্য না থাকায় ছাউনি দেওয়া সম্ভব হয়নি। ফলে খোলা আকাশের নিচেই দুই সন্তানকে নিয়ে বসবাস করতে হচ্ছে তাকে।

 

রেহানা বেগম বলেন, ‘দুই সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে সব কষ্ট সহ্য করি। ঘর নেই, খাবারও নেই। মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে চেয়ে যা পাই, তা দিয়েই সন্তানদের মুখে খাবার তুলে দিই। স্বামী মাদক খেয়ে আমাকে মারধর করে। শেষ পর্যন্ত ঘরের ভাড়া দিতে নিজের চুলও বিক্রি করতে হয়েছে। আমার আর কিছু চাওয়ার নেই—সন্তান দুটোকে নিয়ে একটু নিরাপদে থাকতে চাই।’

 

তিনি আরও বলেন, ‘যখন খুব ক্ষুধা লাগে, তখন আর পেছনে তাকানোর সুযোগ থাকে না। কখনো কখনো বাধ্য হয়ে খালের পানি পান করি। মানুষের কাছ থেকে খাবার চেয়ে এনে খাই, সেই কাপড়ই পরি। মানুষ আমার জন্য একটা ঘর বানিয়ে দিয়েছে, কিন্তু এখনো ছাউনি দিতে পারিনি। এভাবেই চলছে আমার জীবন।’

 

সরেজমিনে দেখা যায়, সন্তোষপুর গ্রামের প্রবেশমুখে রেললাইনের পাশে বাঁশের খুঁটি দিয়ে তৈরি একটি অসম্পূর্ণ ঘর। সেখানে রেহানার দুই ছোট সন্তানকে নিয়ে থাকার চেষ্টা। পাশেই তার ছোট বোনও অবস্থান করছেন। ঘরের ওপর কোনো টিন নেই। চারপাশে নেই পর্যাপ্ত বেড়া। বৃষ্টি এলে সেখানে থাকা আরও কঠিন হয়ে পড়ে।

 

স্থানীয়রা জানান, রেহানার মতো অসহায় একজন নারীর দুই সন্তান নিয়ে এভাবে বসবাস অত্যন্ত মানবেতর। তার জন্য একটি নিরাপদ ঘর, নিয়মিত খাদ্য সহায়তা এবং সন্তানদের ভবিষ্যতের জন্য প্রয়োজনীয় সহযোগিতা জরুরি।

ঘর ভাড়া পরিশোধে অসহায় মায়ের মাথার চুল বিক্রি

ওসির কান্ড। ভেঙ্গে গেল শিক্ষিকার সংসার? তদন্ত নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন

 

স্টাফ রিপোর্টার

জেলা নীলফামারী

(০৮/আগস্ট/২৬ইং)

বিবাহ বিচ্ছেদের কাগজ আজও হাতে পানি স্ত্রী। অথচ রংপুরের তারাগঞ্জ থানার ওসি একদল ফোর্স নিয়ে গিয়ে তালাক হয়ে গেছে জানিয়ে সেই স্ত্রীকে স্বামীর বাড়ি হতে জোড়পূর্বক বের করে দিয়েছিলেন। এমন বাস্তবতার ঘটনাটি ঘটেছে রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলায়। ভুক্তভোগী সেই নারী পুলিশের ওসির বিরুদ্ধে পুলিশের

মহাপরিদর্শক (আইজিপি)

ও রংপুর রেঞ্জের ডিআইজির নিকট লিখিত অভিযোগ করেছেন সচেতন মহল বলেছেন। দাম্পত্য জীবনে থানার ওসির এমন আচরণ কোনভাবে কাম্য নয়। এখানে তিনি একপক্ষ অবলম্বন করে হয়তো আর্থিক ফায়দা লুটে ওই নারীর দাম্পত্য জীবনকে ধুলোয় মিশিয়ে দিয়েছেন। অভিযোগে জানা যায়, নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার কাশীরাম বেলপুকুর ইউনিয়নের কিসমত ডাঙ্গি হেডপাড়া গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা মৃত মাহাতাব উদ্দিন সরকারের মেয়ে একটি স্কুলের শিক্ষিকা মমতা বেগমের সঙ্গে পারিবারিকভাবে ২০২৩ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি বিয়ে হয়ে রংপুর জেলার তারাগঞ্জ উপজেলার আলমপুর ইউনিয়নের ভীমপুর ডাঙ্গাপাড়া গ্রামের আব্দুস সাত্তার ভম্বলের ছেলে আতিকুল ইসলামের সঙ্গে। বিয়ের পর তাদের দাম্পত্য জীবন সুখের ছিল। শিক্ষিকার স্বামী আতিকুল ঢাকায় একটি বেসরকারি ব্যাংকে চাকরি করেন। শিক্ষিকা মমতা স্বামীর তারাগঞ্জ বাড়ি হতেই যাতায়াতের মাধ্যমে স্কুলে চাকরি করতেন। স্বামীর বাড়ির বসত ঘর মেরামত ও নতুন করে তিনি (মমতা) সাজিয়ে তুলেন কিন্তু হঠাৎ করে গত ২০২৫ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর মমতার শ্বশুরবাড়ির লোকজন মমতাকে জানায়, তোমার স্বামী আতিকুল তোমাকে তালাক দিয়েছে তুমি শ্বশুর বাড়ি হতে বের হয়ে যাও। তালাক কিসের কারনে হল আমি তো কিছুই জানিনা বা তালাকের কোন নোটিশ হাতে পেলাম না। তাহলে তালাক হয় কেমন করে এমন প্রশ্ন তুললে মমতাকে শ্বশুরবাড়ির লোকজন বিশেষ করে মেজ ভাসুর ও তার ভাসুরের স্ত্রী শারীরিক নির্যাতন করতে থাকে। এমনকি স্বামীর সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করতে গিয়েও মমতা ব্যর্থ হয়। বাধ্য হয় মমতা তারাগঞ্জ থানার তৎকালীন অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এম এ ফারুক এর সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করে সহযোগিতা চায়। কিন্তু ওসি সহযোগিতা না করে মমতাকে শ্বশুরবাড়ি হতে বের হয়ে যেতে বলেন। মমতা শশুর বাড়িতে নির্যাতন সহ্য করে অবস্থান করেন। এ অবস্থায় পরের দিন ( ২০২৫ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর ) বিকালে তারাগঞ্জ থানার উক্ত ওসি একদল ফোর্স নিয়ে মমতার শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে হাজির হয়ে মমতাকে বাড়ি ছাড়া নির্দেশ দেন। মমতা রাজি না হলে ওসি জানায় তালাক হয়ে গেছে আপনি বাড়ি ছাড়েন। এখানেও মমতা প্রতিবাদ করে জানান কিভাবে তালাক হয় আমি কোন তালাকের নোটিশ পাইনি। আমার স্বামীকে নিয়ে আসেন আমি তার মুখে জানতে চাই। ওসি কোন কথার কর্ণপাত না করে মহিলা পুলিশের সহযোগিতায় রাত সাড়ে ৮ টার দিকে মমতাকে জোরপূর্বক শ্বশুরবাড়ির হতে বের করে তারা থানায় নিয়ে আসেন এ সময় ওসি মমতা বেগমের মোবাইল ফোনটিও কেড়ে নেন। পরে ভয়ভীতি দেখিয়ে মমতার আত্মীয়-স্বজনকে ডেকে এনে মমতাকে তার বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে দেন। অভিযোগ উঠেছে তালাকের আইনগত প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হওয়ার আগেই তারাগঞ্জ থানার তৎকালীন অফিসার ইনচার্জ (ওসি) পুলিশ সদস্যদের নিয়ে ওই শিক্ষিকাকে স্বামীর বাড়ি থেকে বের করে আনলেন কি করে। পরে এ ঘটনায় রংপুর রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ে অভিযোগ করা হলে তদন্ত প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ভুক্তভোগী ও কয়েকজন সাক্ষী। ভুক্তভোগী শিক্ষিকা মোছাঃ মমতা বেগমের দাবি, তারাগঞ্জ থানার তৎকালিন ওসি পুলিশ নিয়ে তার স্বামীর বাড়িতে যান সেখানে তাকে বলা হয়,”তোমার স্বামী তোমাকে তালাক দিয়েছে, তুমি এই বাড়ি থেকে বের হয়ে যাও। না হলে তোমাকে গ্রেফতার করা হবে।”এরপর মহিলা পুলিশ দিয়ে তাকে বাড়ি থেকে জোরপূর্বক বের করে থানায় নেওয়া হয়। যাওয়ার সময় তার মোবাইল ফোনও নিয়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। মমতা বেগমের ভাষ্য, তিনি ওসিকে বারবার জানান যে তিনি কোন তালাকনামার নোটিশের কপি পান নি এবং তার সামনেও স্বামী তাকে তালাক দেননি। তিনি আরো বলেন, প্রচলিত আইন অনুযায়ী তালাক কার্যকর হওয়ার আগ পর্যন্ত নির্দিষ্ট সময় স্বামীর বাড়িতে থাকার অধিকার রয়েছে। এরপরও তাকে জোরপূর্বক বাড়ি ছাড়তে বাধ্য করা হয়। সরজমিন অনুসন্ধানে গেলে ইউনিয়ন বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক মোঃ মশিউর রহমান বলেন, পুলিশ শিক্ষিকাকে ভয় দেখিয়ে থানায় নিয়ে যায়। পরে তার পরিবারের সদস্যদের ডেকে লিখিত নিয়ে তাকে বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। যা সেই ওসি অন্যায় ভাবে করেছে। তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর এসআই মাসুদ আলমপুর ইউনিয়নের বিএনপি নেতা মোঃ মশিউর রহমানকে তাকে শ্বশুরবাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার জন্য পাঠানো হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি। মমতা জানাই, ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে ১ অক্টোবর পর্যন্ত তার স্বামীর বাড়ির শয়ন কক্ষটি তালাবদ্ধ ছিল। তিনি দুইদিন এক রাত বারান্দায় বসে ছিলেন। নিজের কক্ষের তালা খুলে দেওয়ার জন্য ওই ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য দেলোয়ার হোসেন এবং থানার তৎকালীন ওসির কাছে ফোন করে সহযোগিতা চাইলেও কেউ তাকে সহযোগিতা করেনি বলে মমতা অভিযোগ করেন। মমতার অভিযোগ, পহেলা অক্টোবর ২০২৫ তারিখে তারাগঞ্জ থানার তৎকালীন ওসি নিজে পুলিশ সদস্যদের একটি বহর নিয়ে তার শ্বশুর বাড়িতে যান এবং তাকে জোরপূর্বক সেখান থেকে বের করে নিয়ে আসেন। মমতা বেগমের অভিযোগ, তার পক্ষে যেসব সাক্ষী ছিলেন, তদন্তের সময় তাদেরকে ডাকা হয়নি। ফলে ঘটনার প্রকৃত তথ্য তদন্তে উঠে আসেনি। একই গ্রামের বাসিন্দা আরজিনা বেগম বলেন, মহিলা পুলিশ দিয়েই শিক্ষিকাকে বাড়ি থেকে নিয়ে যাওয়া হয়। স্থানীয় ইউপি সদস্য দেলোয়ার হোসেন বলেন,”মেয়েটি বলছিল, সে কোন তালাকের কাগজ পায়নি এবং স্বামী তার সামনে তালাক দেয়নি। অন্যদিকে ছেলের দাবি ছিল, সে তালাক দিয়েছে। এ অবস্থায় আমার করার তেমন কিছুই ছিল না।”তবে শিক্ষিকা মমতা বেগম অভিযোগ করেন, ওই ইউপি সদস্য এবং তার স্বামীর মেজ ভাই ও ভাবি সহ পরিবারের কয়েকজন সদস্যের পরামর্শেই তাকে নির্যাতন করা হয় এবং পুলিশ এসে তাকে থেকে জোরপূর্বক বের করে দেয়। এ বিষয়ে মমতা বেগমের বড় ভাসুর আখতারুল এর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “ওসি নিয়ে গেছে। এ বিষয়ে আমরা কোন কথা বলতে চাই না।” এ ঘটনা রংপুর রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন মমতা বেগম। অভিযোগের পর একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তবে তদন্তের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। তার অভিযোগ, তদন্ত কমিটি ঘটনাস্থলে না গিয়ে অফিসে বসেই সাক্ষ্য গ্রহণ করেছে। সাক্ষীদের আলাদাভাবে জিজ্ঞাসাবাদ না করে একসঙ্গে বসিয়ে বক্তব্য নেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। ইউনিয়ন বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক মোঃ মশিউর রহমান ও অভিযোগ করেন, তার বক্তব্য যথাযথভাবে লিপিবদ্ধ করা হয়নি। তিনি বলেন,”আমার জীবনেও এ ধরনের সাক্ষ্য গ্রহণেও দেখিনি ওসির দোষ ঢাকতে চারজনকে একসঙ্গে বসিয়ে স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে। আমি যা বলেছি, তা পুরোপুরি তদন্ত কমিটি লিপিবদ্ধ করেনি। শিক্ষিকা মমতা স্বামীর বাড়ি ছেড়ে যেতে চাইনি। অথচ তারা মেয়েটিকে নির্যাতন করে উল্টো মিথ্যা অজুহাত দেয় মেয়েটা আত্মহত্যা করবে। তিনি আরো বলেন,”যদি পুলিশ ঐদিন মেয়েটিকে (মমতা বেগম) বাড়ি থেকে জোর করে বের করে নিয়ে না যেত তাহলে হয়তো তার সংসারটা টিকে যেতো। এখানে ওসির সঙ্গে মমতার স্বামীর মেজ ভাই ও তার ফুটচাল করে। এ বিষয়ে তারাগঞ্জ থানার সাবেক অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এম এ ফারুক অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন,”মমতা যে অভিযোগ করেছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা তার শ্বশুরবাড়ির লোকজন আমাকে জানায়, হে আত্মহত্যা করতে চাইছে। এজন্য আমি তাকে উদ্ধার করে পরিবারের সদস্যদের হাতে তুলে দেই। তাকে ভয়-ভীতি দেখিয়ে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ সঠিক নয়” অন্যদিকে স্কুল শিক্ষিকা মমতা বেগমের স্বামী মোঃ আতিকুল ইসলাম (আতিক) বলেন,”আমি মমতা বেগমকে তালাক দিয়েছি। তিনি এ বিষয়ে আর কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি। এ ব্যাপারে রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি আমিনুল ইসলামের সঙ্গে কথা বলা হলে তিনি বলেন ওই ওসিকে তারাগঞ্জ থানা হতে প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। তার বিরুদ্ধে তদন্ত করা হয়েছিল। তদন্ত কমিটি ওসিকে নির্দোষ হিসাবে প্রতিবেদন দেয়। তবে শিক্ষিকা মমতা বেগম তদন্ত প্রতিবেদনে প্রত্যাখ্যান করে পুনরায় তদন্তের জন্য আবেদন করেছেন। আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছি। এদিকে এ ঘটনাকে ঘিরে এলাকাজুড়ে নানা আলোচনা চলছে। আইনজীবীদের মতে পারিবারিক বিরোধ ও তালাক সংক্রান্ত বিষয়ে পুলিশের ভূমিকা অবশ্যই আইনের সীমার মধ্যে থাকতে হবে। কোন পক্ষের আইনগত অধিকার ক্ষুন্ন হয়েছে কি না, তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া জরুরী বিষয়ে তারাগঞ্জ থানার সাবেক ও সি এম এ ফারুকের ভূমিকা নিরপেক্ষ ছিল না। এদিকে শিক্ষিকার তালাকের নোটিশ নিয়ে রহস্য দেখা দিয়েছে। সৈয়দপুর উপজেলার ষ

কাশীরামবেলপুকুর সাব পোস্ট অফিসে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, একটি রেজিস্ট্রি চিঠি মমতা বেগমের নামে এসেছিল কিন্তু চিঠিটি মমতা বেগম গ্রহণ না করায় তা প্রাপকের নিকট ফেরত পাঠানো হয় এই চিঠির বিষয়টি তদন্ত করতে মমতা বেগম রংপুর বিভাগীয় পোস্টমাস্টার জেনারেলের নিকট আবেদন করেন। আবেদনের প্রেক্ষিতে একটি তদন্ত টিম গঠন করে তা তদন্ত করা হয়। তদন্ত করেন নীলফামারী সৈয়দপুর উপবিভাগ পোস্ট অফিস পরিদর্শক মোঃ মঞ্জুর রহমান। তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয় উক্ত পোস্ট অফিসের ডাক পিয়ন চিঠির প্রাপক মমতার বেগমের সাথে দেখা না করেই নোটিশ লিখে দেন প্রাপক চিঠি গ্রহণ করেননি। এতে প্রমাণিত হয় মমতা বেগমের শ্বশুরবাড়ির লোকজন পোস্ট অফিসের ডাক পিয়নের সাথে আঁতাত করে তালাকের চিঠি বিলি করাননি। যাতে করে ৯০ দিন অতিবাহিত হলে তারা কার্যকর হয়ে যাবে। এ ঘটনায় তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী উক্ত ডাক পিয়ন কে চাকুরি হতে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। মমতা বেগম জানান, তিনি আজ পর্যন্ত তালাকের নোটিশ হাতে পাননি। অথচ তারাগঞ্জ থানার তৎকালীন ও সীতাকে তালাক হয়েছে জানিয়ে হেনস্তা করে শ্বশুরবাড়ি হতে বের করে আনেন। মমতা বেগম সেই ওসির কঠোর শাস্তি দাবী করেন।

ওসির কান্ড। ভেঙ্গে গেল শিক্ষিকার সংসার? তদন্ত নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন

গাইবান্ধায় বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ,সরজমিনে বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শন

 

শাহ্ পারভেজ সংগ্রাম,গাইবান্ধা প্রতিনিধি

গাইবান্ধার ৩ উপজেলার বন্যা কবলিত বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেছেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ। আজ শনিবার দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত নৌ পথে সরেজমিনে সদরের চিথুলিয়া- দিগড় , ফুলছড়ির জিগাবাড়ী ও উড়িয়া এবং সুন্দরগঞ্জের শ্রীপুর ও লাল-চামার এলাকার বন্যা ও নদীভাঙন কবলিত বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেন তিনি।

 

এরপর ফুলছড়িতে নদী ভাঙ্গন এলাকা পরিদর্শন কালে দক্ষিণ কাবিলপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত পথসভায় স্থানীয়দের উদ্দেশ্য তিনি বক্তব্য রাখেন।

 

বক্তব্যতে তিনি অতীতের ফ্যাসিষ্ট সরকার কে দায়ী করে বলেন, ফ্যাসিস্ট সরকার এ এলাকায় নদীভাঙন রোধে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেয়নি। নদী ভাঙ্গন রোধের নামে শুধু লুটপাট চালিয়েছে। ফলে এ অঞ্চলের মানুষের বাড়িঘর, ফসলি জমি ও বিভিন্ন স্থাপনা হুমকির মুখে পড়েছে।

 

তিনি বলেন, নদী ভাঙ্গন যেখানেই হবে সেখানেই জরুরী ভিত্তিতে জিও ব্যাগ দেওয়া হবে। গাইবান্ধার বন্যা কবলিত এলাকা গুলোতে একটিতে এক হাজার কোটি ও অপর আরেকটিতে আটশো কোটি টাকার প্রকল্প বাস্তবায়ন করলে এই জেলায় নদী ভাঙ্গন থাকবে না।

 

তিনি আরো বলেন, আগামী চার বছরের ভিতরে পানি সম্পদ মন্ত্রনায় ৯৬ টি প্রকল্প হাতে নিয়েছে। এর মধ্যে গাইবান্ধায় দুটি বৃহৎ প্রকল্প রয়েছে । যা অতিদ্রুত টেন্ডারের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হবে।

 

এছাড়া জরুরি ভিত্তিতে আটান্নটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে তাৎক্ষণিকভাবে জিও ব্যাগ দিয়ে ভাঙ্গন রোধ করার জন্য। সেই সাথে আগামী দু এক দিনের ভিতরে জিও ব্যাগ দিয়ে আপদ কালীন নদী ভাঙ্গন রোধ করার জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন প্রতিমন্ত্রী। পাশাপাশি সরকারের নানা উন্নয়নমুলক কর্মকান্ড ও ভবিষ্যত পরিকল্পনা তুলে ধরেন।

 

এসময় উপস্থিত ছিলেন ফুলছড়ি-সাঘাটা-৫ আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুল ওয়ারেছ, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান মোল্লা, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিদ্রোহ কুমার কুন্ড, জেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক মাহমুদুন নবী টিটুল। এছাড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাগন ও স্থানীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

গাইবান্ধায় বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ,সরজমিনে বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শন

গ্রাম্য চিকিৎসকের ব্যক্তিগত ক্লিনিকে পাইলসের অপারেশন, টেবিলেই রোগীর মৃত্যু

 

সংবাদদাতা: ইয়াছিন মোড়ল

 

সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার নুরনগর ইউনিয়নে গ্রাম্য চিকিৎসক গোলাম মোস্তফার ব্যক্তিগত ক্লিনিকে পাইলসের অপারেশন করাতে গিয়ে আলমগীর হোসেন (৫০) নামে এক রোগীর মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (৮ আগস্ট) সকাল ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

 

নিহত আলমগীর হোসেন নুরনগর ইউনিয়নের ভবানীপুর গ্রামের মৃত মোবারক আলীর ছেলে। তিনি পেশায় একজন রাজমিস্ত্রি ছিলেন।

 

নিহতের স্বজন ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আলমগীর হোসেন দীর্ঘদিন ধরে পাইলসের সমস্যায় ভুগছিলেন। শনিবার সকালে প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য গ্রাম্য চিকিৎসক গোলাম মোস্তফার ব্যক্তিগত ক্লিনিকে গেলে তাকে পাইলসের অপারেশনের জন্য প্রস্তুত করা হয়। পরে অপারেশন চলাকালীন অপারেশন টেবিলেই তার মৃত্যু হয় বলে স্বজন ও স্থানীয়রা জানান।

 

স্থানীয়দের ধারণা, অ্যানেস্থেশিয়ার (অচেতন করার ওষুধ) পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বা ভুল প্রয়োগের কারণে তার মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ময়নাতদন্ত ও তদন্তের পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ স্পষ্ট হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

 

নিহতের চাচাতো ভাই মিজানুর রহমান অভিযোগ করে বলেন, চিকিৎসক গোলাম মোস্তফার ভুল চিকিৎসার কারণেই আলমগীরের মৃত্যু হয়েছে বলে তারা মনে করছেন। অপারেশনের পর আলমগীরের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়।

 

শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ফারজানা জানান, আলমগীর হোসেনকে হাসপাতালে নিয়ে আসার আগেই তার মৃত্যু হয়েছে। হাসপাতালে আনার সময় তিনি জীবিত ছিলেন না বলেও জানান ওই চিকিৎসক।

 

রোগীর মৃত্যুর খবর পেয়ে শ্যামনগর থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে।

 

পুলিশ নিহতের মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেছে। পাশাপাশি শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে মৃত ব্যক্তির চিকিৎসা-সংক্রান্ত তথ্য ও প্রয়োজনীয় প্রতিবেদন সংগ্রহের কার্যক্রমও পরিচালনা করা হয়েছে।

 

এ ঘটনায় চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সত্যতা, রোগীর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং চিকিৎসায় কোনো ধরনের অবহেলা বা ভুল হয়েছিল কি না—তা তদন্ত ও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পরই নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হবে।

গ্রাম্য চিকিৎসকের ব্যক্তিগত ক্লিনিকে পাইলসের অপারেশন, টেবিলেই রোগীর মৃত্যু

গাইবান্ধায় ৫০ পিস ইয়াবাসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার ডিবি পুলিশ

 

শাহ্ পারভেজ সংগ্রাম,গাইবান্ধা প্রতিনিধি

গাইবান্ধায় মাদকবিরোধী অভিযানে ৫০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ মো. আমিনুল ইসলাম ওরফে রায়হান (২৮) নামে এক মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ।

 

শুক্রবার (৭ আগস্ট) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে গাইবান্ধা সদর পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের পুরাতন বাজারের পানপট্টি এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

 

পুলিশ জানায়, গাইবান্ধার পুলিশ সুপারের সার্বিক দিকনির্দেশনায় এবং জেলা গোয়েন্দা শাখার অফিসার ইনচার্জের নেতৃত্বে ডিবি পুলিশের একটি চৌকস দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালায়। এ সময় পুরাতন বাজারের পানপট্টিতে রানা মিয়ার পানের দোকানের সামনের গলি থেকে আমিনুল ইসলাম ওরফে রায়হানকে আটক করা হয়। পরে তার পরিহিত থ্রি-কোয়ার্টার প্যান্টের ডান পকেট থেকে সাদা পলিথিনে মোড়ানো হালকা কমলা রঙের ৫০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।

 

গ্রেপ্তারকৃত আমিনুল ইসলাম ওরফে রায়হান গাইবান্ধা সদর উপজেলার সবুজপাড়া এলাকার মো. আব্দুর রহমান ওরফে ইদ্রিস আলীর ছেলে।

 

পুলিশ আরও জানায়, উদ্ধার করা ইয়াবাগুলো বিধি মোতাবেক জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় গাইবান্ধা সদর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৩৬(১) ধারার সারণির ১০(ক) অনুযায়ী মামলা হয়েছে। মামলা নম্বর-২০, তারিখ-৭ আগস্ট ২০২৬।

 

পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এ ঘটনায় এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।

গাইবান্ধায় ৫০ পিস ইয়াবাসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার ডিবি পুলিশ 

সিলেটের ওসমানীনগরে দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে হতাহতদের আর্থিক সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে সরকার। দুর্ঘটনায় নিহত প্রত্যেকের পরিবারকে ৫ লাখ টাকা, পঙ্গুত্ব বরণকারীদের ৩ লাখ টাকা এবং চিকিৎসাধীন আহতদের ১ লাখ টাকা করে অনুদান দেওয়া হবে।

 

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে হতাহতদের এই আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।

 

শনিবার (৮ আগস্ট) সকালে সিলেটের ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এই দুর্ঘটনায় চিকিৎসাধীন আহতদেরকে দেখতে যান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। এ সময় তিনি আহতদের চিকিৎসার খোঁজখবর নেন এবং আহতদের যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দেন।

 

হতাহতদের আর্থিক সহায়তা প্রদানের ঘোষণা আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, বিআরটিএর মাধ্যমে নির্ধারিত একটি ফরম হাসপাতালের পরিচালকের কাছে দেওয়া হয়েছে। ওই ফরম যথাযথভাবে পূরণ করে জমা দেওয়ার পর সংশ্লিষ্টরা সরকারি অনুদানের টাকা পাবেন।

 

এদিকে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে দুর্ঘটনা কমাতে যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিযোগিতামূলকভাবে গাড়ি চালানো বন্ধে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলেও জানান মন্ত্রী। বিশেষ করে সকালে মহাসড়ক ফাঁকা থাকায় চালকদের বেপরোয়া গতি ও অহেতুক প্রতিযোগিতার বিষয়ে নজরদারি বাড়ানোর কথা জানান তিনি।

 

গতকাল ৭ আগস্ট সকালে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ওসমানীনগরের কাশিকাপন এলাকায় দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে ৯ জন নিহত হন। মহাসড়কে ইউনিক পরিবহন ও বেঙ্গল পরিবহনের দুটিঘটনাস্থলেই সাতজনের মৃত্যু হয়, পরে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও দুজনের মৃত্যু হয়।

 

নিহতরা সবাই ছিলেন ইউনিক পরিবহনের যাত্রী। এ ছাড়া দুই বাসের অন্তত ২৪ জন যাত্রী আহত হন। তাদের মধ্যে ১৪ জন বর্তমানে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

সিলেটে বাস দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবার পাবে ৫ লাখ টাকা

ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসায় শিবিরের প্রবেশে বাধা, ভেতরে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা

র‌্যাবের চৌকস অভিযানে জীপসহ প্রায় ১১ হাজার ইয়াবার চালান আটক

জামালপুর হামলা পাল্টা হামলার মধ্য দিয়ে জেলার সানন্দবাড়ী তে থমথমে অবস্থা বিরাজমান।

পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের ও আদালতে মিথ্যা হলফনামা দেয়ার অভিযোগে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কেবিন ক্রু খাদিজা সুলতানা শিমুর বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

 

বুধবার (১৫ জুলাই) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২-এর বিচারক মো. জাকির হোসাইন এ আদেশ দেন। আদালতের আদেশে বলা হয়েছে, শিমুর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর ১৩ ধারা এবং দণ্ডবিধির ১৮১, ১৮২ ও ১৯৩ ধারায় মামলা করা হবে। আদালত নিজেই এ মামলার বাদী হয়েছেন।

 

আদালতের নথি অনুযায়ী, খাদিজা সুলতানা শিমু মামলার বাদী হয়ে বেসরকারি একটি এয়ারলাইন্সের কর্মকর্তা মো. ওমর ফারুক চৌধুরীর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনের বিভিন্ন ধারায় উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলা করেন।

 

তদন্ত শেষে উত্তরা পশ্চিম থানার তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে জানান, অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি। প্রতিবেদনে বলা হয়, মামলার এজাহারে উল্লেখ করা ফেসবুক লিংক, ডিজিটাল আলামত ও অন্যান্য তথ্য যাচাই করে ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি প্রচারের কোনো প্রমাণ মেলেনি। ফলে ওই কর্মকর্তাকে মামলা থেকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়।

একই সঙ্গে তদন্ত কর্মকর্তা প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, ওমর ফারুক আগে শিমুর বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন দিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে আদালতে মামলা করেছিলেন। সেই মামলার দায় এড়াতেই শিমু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত বিভিন্ন লিংক উল্লেখ করে তার বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি ছড়ানোর অভিযোগ এনে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, হয়রানিমূলক ও মিথ্যা মামলা করেছেন বলে প্রাথমিক তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে। এ কারণে শিমুর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর ১৩ ধারায় আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার আবেদনও করেন তদন্ত কর্মকর্তা।

 

পরে গত ৯ জুলাই আদালত তদন্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করে ওমর ফারুককে মামলা থেকে অব্যাহতি দেন। আদালতের আদেশে বলা হয়, শিমু ক্ষতিসাধনের উদ্দেশ্যে আদালতে মিথ্যা মামলা দায়ের করেছেন এবং হলফ করে মিথ্যা সাক্ষ্য দিয়েছেন। মামলার নথিতে তার দেয়া হলফনামাও সংযুক্ত রয়েছে। এসব বিবেচনায় আদালত নিজেই বাদী হয়ে তার বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন ও দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়েরের নির্দেশ দেন।

 

তদন্তে যা উঠে এসেছে পুলিশের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, তদন্তকালে রেকর্ড, ডিজিটাল আলামত, ফেসবুক লিংক ও ফরেনসিক তথ্য যাচাই করে ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি প্রচারের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

 

তদন্তে আরও উঠে আসে, শিমু বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কেবিন ক্রু এবং ওমর ফারুক একটি বেসরকারি এয়ারলাইন্সের এয়ারক্রাফট মেইনটেন্যান্স কর্মকর্তা। ফেসবুকে পরিচয়ের পর তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

 

প্রতিবেদনে বলা হয়, বিয়ের আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন সময়ে ওমর ফারুকের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী নেয়ার অভিযোগে ওমর ফারুক আদালতে পৃথক মামলা করেন। এরপর সেই মামলার দায় থেকে নিজেকে রক্ষা করতেই শিমু পর্নোগ্রাফি আইনে অভিযোগ দায়ের করেন বলে তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে।

 

ওমর ফারুকের আগের মামলা গত ২০ জুলাই ওমর ফারুক চৌধুরী শিমুর বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন, ‘হানি ট্র্যাপ’ ও ব্ল্যাকমেইলের মাধ্যমে প্রায় ২২ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ঢাকার আদালতে মামলা করেন। আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে উত্তরা পশ্চিম থানাকে তদন্তের নির্দেশ দেন। পরে তিনি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষের কাছেও লিখিত অভিযোগ করেন।

 

সেই মামলায় অভিযোগ করা হয়, ২০২৪ সালে ফেসবুকে পরিচয়ের পর শিমু তাকে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন সময়ে টাকা নেন। জন্মদিনে দেড় লাখ টাকা মূল্যের একটি হীরার আংটিসহ বিয়ের খরচের জন্য মোট ২১ লাখ ৭৪ হাজার ৫১১ টাকা নেয়ার পরও বিয়ে না করে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে মামলায় দাবি করা হয়।

পর্নোগ্রাফি আইনে কেবিন ক্রু শিমুর বিরুদ্ধে মামলার নির্দেশ আদালতের

error: আপনি নিউজ চুরি করার চেষ্টা করছেন। বিশেষ প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন ০১৭৬৭৪৪৪৩৩৩
%d