
রাজধানীর বকশীবাজারে সরকারি মাদ্রাসায়-ই-আলিয়ায় ছাত্রশিবিরের প্রবেশে বাধা দিতে রাস্তায় ব্যারিকেড দিয়েছে পুলিশ। শনিবার (৮ আগস্ট) দুপুর ১২টার পর পূর্বঘোষণা অনুযায়ী, হলের ‘বৈধ সাধারণ শিক্ষার্থী’ ও ছাত্রশিবিরের নেতারা সম্মিলিতভাবে আবাসিক হলে উঠতে যাওয়ার পথে বকশীবাজার রোডে এ ব্যারিকেড দেওয়া হয়।
একই সময়ে মাদ্রাসার ভেতরে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের অবস্থান করতে দেখা গেছে। জানা গেছে, ব্যারিকেডের কারণে বকশীবাজার রোড দিয়ে কোনো যানবাহন মাদ্রাসার ভেতরে প্রবেশ করতে পারছে না। তবে মাদ্রাসা থেকে যানবাহন বের হতে পারছে।
বিস্তারিত আসছে…

ছাত্রদল, জকসু, ছাত্রশিবির, ছাত্রশক্তিসহ কয়েকটি পক্ষের মধ্যে সংঘাতের পর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) আজ বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সব ধরনের সভা-সমাবেশ ও মিছিল নিষিদ্ধ করেছে প্রশাসন। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক ক্লাস-পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। সে জন্য কড়া নিরপত্তার ব্যবস্থা নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবেশপথে কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রত্যেক শিক্ষার্থীর পরিচয়পত্র দেখে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে দিচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি। পাশাপাশি আশপাশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর প্রচুর সদস্যও মোতায়েন রয়েছে। পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি ও কড়া নিরাপত্তায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে ক্যাম্পাসে।
একই স্থান ও প্রায় একই সময়ে তিনটি পৃথক সংগঠনের কর্মসূচি ঘোষণার প্রেক্ষাপটে সম্ভাব্য আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিবেচনায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে সতর্ক রয়েছে প্রশাসন। বুধবার (৫ আগস্ট) রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ নাসির উদ্দীন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ৬ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের একই স্থানে ও একই সময়ে তিনটি সংগঠন কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে। এ পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিবেচনায় পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে সকল ধরনের সভা-সমাবেশ ও মিছিল নিষিদ্ধ করা হলো।
ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) আজ দুপুর ১২টায় শহীদ রফিক ভবনের সামনে অ্যাম্বুলেন্স হস্তান্তর কর্মসূচির আয়োজন করেছে। আহত ও অসুস্থ শিক্ষার্থীদের চিকিৎসা সহায়তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। এর আগে প্রশাসনকে স্মারকলিপি দেবেন নেতারা।
এরপর একই স্থান ও সময়ে ‘ঐক্যবদ্ধ জগন্নাথ’ ব্যানারে সোহরাওয়ার্দী কলেজের শিক্ষার্থীদের হামলার প্রতিবাদে একটি বিক্ষোভ মিছিলের ঘোষণা দেওয়া হয়। এ কর্মসূচিতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়ে প্রচারণাও চালানো হয়েছে।
আর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল শহীদ রফিক ভবনের সামনে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল কর্মসূচি ঘোষণা করে। সংগঠনটির আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল ও সদস্য সচিব শামসুল আরেফিন স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে শিক্ষার্থী ও ছাত্রদল নেতাকর্মীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে এ কর্মসূচির কথা উল্লেখ করা হয়।
এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বলেছে, একই স্থানে ও কাছাকাছি সময়ে একাধিক কর্মসূচি পালনের ঘোষণার কারণে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে। এ কারণে ক্যাম্পাসে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সাময়িকভাবে সব ধরনের সভা-সমাবেশ ও মিছিল নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, এ সিদ্ধান্তের বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল ক্রিয়াশীল ছাত্রসংগঠনকে অবহিত করা হয়েছে এবং পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে। এরইমধ্যে আজ সকাল থেকে শিক্ষার্থীদের পরিচয়পত্র থেকে ক্যাম্পাসে যেতে দিচ্ছে প্রশাসন।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ-জকসুর স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ও বিশ্ববিদ্যালয় ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক মো. নূর মোহাম্মদের ওপর ফের হামলার ঘটনা ঘটেছে। আজ বুধবার (৫ আগস্ট) পুরান ঢাকার সোহরাওয়ার্দী সরকারি কলেজের সামনে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় তিনি সহপাঠীদের সঙ্গে অবস্থান করছিলেন। হামলায় তার নারী সহপাঠীরাও আক্রান্ত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
সহপাঠীদের অভিযোগ, ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা নূর মোহাম্মদকে কাঠ দিয়ে মারধর করেন। এতে তিনি আহত হন। পরে সহপাঠীরা তাকে উদ্ধার করে ন্যাশনাল মেডিকেল হাসপাতালে নিয়ে যান। বর্তমানে তিনি হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে জানিয়েছেন তার সহপাঠীরা।
ইনকিলাব মঞ্চের কেন্দ্রীয় সদস্যসচিব ও ডাকসুর মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক ফাতিমা তাসনিম জুমা এক ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক নূর মোহাম্মদের ওপর হামলা করেছে ছাত্রদল।
জকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) আব্দুল আলিম আরিফ এক পোস্টে লিখেছেন, ‘ছাত্রদল কি এখন গুন্ডা পোষা শুরু করেছে? সোহরাওয়ার্দী কলেজ ছাত্রদলের কর্মীরা জকসুর স্বাস্থ্য ও পরিবেশ সম্পাদক নূর মোহাম্মদসহ নারী শিক্ষার্থীদের ওপর অতর্কিত হামলা চালিয়েছে। প্রসাশনকে বলব, হামলাকারীদের এখনই বিচারের আওতায় আনুন। নইলে আজ যারা অন্যের ওপর হামলা করছে, কাল তারাই আপনার ওপরও হামলা করবে।’

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের আত্মত্যাগ ও অবদান স্মরণে ‘মাইলস ফর ম্যাট্রিস’ স্লোগানে সরকারি তিতুমীর কলেজ শাখা ইসলামী ছাত্রশিবিরের উদ্যোগে ‘রান ফর ভিক্টোরি ২.০’ শীর্ষক ম্যারাথন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থী অংশ নেন।
বুধবার (৫ আগস্ট) ভোর সাড়ে ৬টায় সরকারি তিতুমীর কলেজের প্রধান ফটক থেকে ম্যারাথনটি শুরু হয়। নির্ধারিত রুট অনুযায়ী অংশগ্রহণকারীরা কলেজের প্রধান ফটক থেকে গুলশান-১ পর্যন্ত দৌড়ে পুনরায় কলেজ গেটে ফিরে আসেন।
ম্যারাথন চলাকালে অংশগ্রহণকারীরা জুলাই আন্দোলনের বিভিন্ন স্লোগান দেন। এতে পুরো কর্মসূচিতে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়।
আয়োজকরা জানান, জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ দিবস ও ঐতিহাসিক ঘটনাকে ঘিরে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে ভবিষ্যতেও এ ধরনের সচেতনতামূলক ও ইতিবাচক কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।
ম্যারাথন শেষে সরকারি তিতুমীর কলেজ শাখা ইসলামী ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি সোহেল রানা বলেন, ‘এটি আমাদের দ্বিতীয় বিজয়ের আয়োজন। আমাদের প্রত্যাশার তুলনায় অনেক বেশি অংশগ্রহণকারী এতে যুক্ত হয়েছেন। দেশের বিভিন্ন স্থানে নানা ধরনের বিশৃঙ্খলা দেখা গেলেও তিতুমীর ক্যাম্পাসে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। অন্যান্য রাজনৈতিক সংগঠনের সঙ্গে আমাদের সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও এই সহাবস্থান ও সম্প্রীতি অটুট থাকবে বলে আমরা আশা করি।’
কলেজ শাখার সভাপতি খাদেমুল ইসলাম বলেন, ‘তিতুমীর কলেজের পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে আমরা এই ম্যারাথনের আয়োজন করেছি। জুলাইয়ের চেতনা ও আকাঙ্ক্ষাকে নতুন প্রজন্মের মধ্যে উজ্জীবিত রাখাই ছিল এ আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য। আমরা ক্যাম্পাসে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান বজায় রেখেছি এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত রাখতে চাই।’
তিনি আরও বলেন, ‘এই দিনটিকে আমরা এমন একটি ঐতিহাসিক দিন হিসেবে স্মরণ করি, যেদিন শেখ হাসিনাকে দেশ ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছিল। সেই প্রেক্ষাপট ও স্মৃতিকে ধারণ করেই আজকের এই প্রতীকী ম্যারাথনের আয়োজন করা হয়েছে।’

পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার ছোটবাইশদিয়া বিজনেস ম্যানেজমেন্ট ইনস্টিটিউট (বিএম) কলেজে এইচএসসি-২০২৬ পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়নের কাজে সদ্য পরীক্ষা দেওয়া চার শিক্ষার্থীকে ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে কলেজের এক প্রভাষকের বিরুদ্ধে।
ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর বিষয়টি নিয়ে শুরু হয়েছে আলোচনা-সমালোচনা। পরীক্ষার্থীদের ভাষ্যমতে, মোট ১০০টি উত্তরপত্রের কোড নম্বর তাঁরা পূরণ করেছেন। তবে বিষয়টিকে গুরুতর অনিয়ম হিসেবে দেখছে বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক।
রোববার (২ আগস্ট) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কলেজে গিয়ে দেখা যায়, চারজন শিক্ষার্থী একসঙ্গে বসে এইচএসসি পরীক্ষার উত্তরপত্রের কোড নম্বর পূরণ করছেন। এই কাজ করিয়েছেন কলেজের বাংলা বিভাগের প্রভাষক মো. রিপন হোসাইন, যিনি সম্প্রতি এনটিআরসিএর মাধ্যমে নিয়োগ পেয়েছেন।
জানা গেছে, বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ বিভাগের (বিএমটি) পাঠানো একটি চিঠির মাধ্যমে বাংলা বিষয়ের (বিষয় কোড-২১৮১১) উত্তরপত্র পাঠানো হয়েছে ছোটবাইশদিয়া বিজনেস ম্যানেজমেন্ট ইনস্টিটিউটের বাংলা বিভাগের প্রভাষক রিপনের কাছে। গত ৪ জুলাই স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে জানানো হয়, পরীক্ষক কোড-১৪০৫-এর আওতায় তাঁর কাছে মোট ৩৫০টি উত্তরপত্র পাঠানো হয়েছে। চিঠিতে আরও বলা হয়, আগামী ৬ আগস্টের মধ্যে এসব উত্তরপত্র জমা দিতে হবে।
অভিযোগ ছিল, তিনি নিজে মূল্যায়ন না করিয়ে এ কাজে ব্যবহার করেন চার শিক্ষার্থী— আনিম, সিফাত, ইভান ও তানভিরকে। এদের মধ্যে আনিম, সিফাত ও ইভান এ বছর ওই কলেজ থেকেই দ্বাদশ শ্রেণির ফাইনাল পরীক্ষা দিয়েছেন। আর তানভির ছিলেন হিসাববিজ্ঞান বিষয়ে কেজ্যুয়াল (অনিয়মিত) পরীক্ষার্থী।
পরীক্ষার্থী সিফাত জানান, কলেজের শিক্ষক রিপন স্যার তাঁদের এসব খাতায় কোড নম্বর পূরণের কাজ করতে বলেছেন।
আরেক পরীক্ষার্থী আনিম বলেন, তাঁরা কলেজের কাছেই ছিলেন, স্যার ডেকে নিয়ে খাতার কোড পূরণ করতে বলেছেন এবং তাঁরা সেটাই করেছেন। তবে পরীক্ষার্থী হয়ে একই বোর্ডের উত্তরপত্র মূল্যায়নে অংশ নেওয়া নিয়মসম্মত কি না, এমন প্রশ্ন এড়িয়ে গিয়ে তিনি দাবি করেন, তাঁরা শুধু কোড ভরাট করেছেন, প্রকৃত মূল্যায়ন করেননি।
ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর থেকে প্রভাষক মো. রিপন হোসাইনের মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। সোমবার কলেজের অফিস কক্ষে গিয়েও তাঁকে পাওয়া যায়নি, ফলে এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
রাঙ্গাবালী উপজেলা শিক্ষা অফিসের সুপারভাইজার অনাধি কুমার বাহাদুর বলেন, উত্তরপত্র মূল্যায়নকারীকে কিছু ক্ষেত্রে কোড নম্বর পূরণ করতে হয়, সম্ভবত সে কাজেই শিক্ষার্থীদের সহায়তা নেওয়া হয়েছে। তদন্ত করে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়ে বলা সম্ভব হবে।
তবে বিষয়টিকে গুরুতর অনিয়ম হিসেবে দেখছে বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড। বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রকৌশলী মো. আবুল কালাম আজাদ এনপিবি নিউজকে বলেন, যাকে উত্তরপত্র মূল্যায়নের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, শুধু তিনিই তা করতে পারবেন অন্য কোনো শিক্ষকও তা মূল্যায়ন করতে পারবেন না। নির্ধারিত ব্যক্তির পরিবর্তে অন্য কেউ মূল্যায়ন করেছেন এমন প্রমাণ বা অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হলে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি। আর শিক্ষার্থীদের দিয়ে উত্তরপত্র মূল্যায়ন করানোর প্রশ্নই ওঠে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দেন এই কর্মকর্তা।

চায়ের দোকানে বন্ধুদের নিয়ে ধূমপান ও আড্ডার ফাঁকে উচ্চ মাধ্যমিক (এইচএসসি) পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়নের সময় প্রায় এক বস্তা খাতাসহ এক শিক্ষককে আটক করেছে সিলেট মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড।
গতকাল শনিবার (১ আগস্ট) রাত সাড়ে ১১টার দিকে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) প্রধান ফটকসংলগ্ন একটি চায়ের টং দোকান থেকে এসব উত্তরপত্র জব্দ করেন শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক বিলকিস ইয়াসমিন।
অভিযুক্ত ওই শিক্ষকের নাম ইকবাল হোসেন সোহান। তিনি সিলেট মেট্রোসিটি উইমেন্স কলেজের প্রাক-প্রভাষক এবং শাবিপ্রবির বাংলা বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের সাবেক শিক্ষার্থী।
বিষয়টি নিশ্চিত করে সিলেট শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. আনোয়ার হোসেন জানান, এ ঘটনায় তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী তিন কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া ঘটনাটি শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে জানানোর পাশাপাশি জালালাবাদ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শনিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে শিক্ষক ইকবাল তার সাবেক সহপাঠী ও বন্ধুদের নিয়ে ওই চায়ের দোকানে বসে খাতা মূল্যায়ন করছিলেন। বস্তা থেকে খাতা বের করে তার সঙ্গে থাকা দুই বন্ধুকে উত্তরপত্র দেখতে দেখা যায়। এ সময় সেখানে শাবিপ্রবি শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি আইরিন লিনজাও উপস্থিত ছিলেন। এর আগের দিন শুক্রবার রাতেও একই দোকানে বসে চারজন মিলে চা-সিগারেট খাওয়ার ফাঁকে খাতা মূল্যায়ন করেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। পরীক্ষকদের এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।
খাতা জব্দের সময় পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক বিলকিস ইয়াসমিন কৈফিয়ত চাইলে অভিযুক্ত ইকবাল দাবি করেন, খাতা দেখার সময় শেষ হয়ে আসায় তাড়াহুড়ো করে বন্ধুদের নিয়ে উত্তরপত্র না কেটে শুধু কোড নম্বর মেলাচ্ছিলাম।
সেখানে উপস্থিত শাবিপ্রবির সাবেক শিক্ষার্থী আইরিন লিনজা নিজের সম্পৃক্ততা অস্বীকার করে বলেন, আমি খাতা মূল্যায়নে অংশ নিইনি। ইকবাল আমার বন্ধু, তাই সেখানে উপস্থিত ছিলাম।
ঘটনার পরপরই শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান এবং অভিযুক্ত শিক্ষককে স্থানীয় জালালাবাদ থানায় নিয়ে যান।
জালালাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামসুল হাবিব জানান, শিক্ষা বোর্ডের পক্ষ থেকে থানায় একটি জিডি করা হয়েছে। বর্তমানে অভিযুক্ত শিক্ষককে বোর্ডের জিম্মায় রাখা হয়েছে।

যশোরের চৌগাছায় দ্বাদশ শ্রেণির এক ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে আরাফাত হোসেন রাব্বি নামের এক ছাত্রদল নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার রাত আনুমানিক ৯টার দিকে নির্যাতনের শিকার ওই শিক্ষার্থীর লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে পুলিশ অভিযুক্তকে আইনানুগ প্রক্রিয়ায় হেফাজতে নেয়।
গ্রেপ্তারকৃত ২২ বছর বয়সী আরাফাত হোসেন রাব্বি স্থানীয় চৌগাছা সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
মামলার বিবরণ ও এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী কলেজছাত্রী তার জাতীয় পরিচয়পত্র সংক্রান্ত কাজের সহযোগিতার জন্য প্রতিবেশী সম্পর্কের মামাতো ভাই রাব্বির দ্বারস্থ হয়েছিলেন। শনিবার সাপ্তাহিক ছুটির দিন হওয়ায় উপজেলা নির্বাচন কার্যালয়ের কার্যক্রম বন্ধ ছিল। তবে বিষয়টি অবগত থাকা সত্ত্বেও সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রাব্বি ওই শিক্ষার্থীকে নিয়ে চৌগাছা শহরের উদ্দেশ্যে রওনা হন। পরবর্তীতে বিভিন্ন অজুহাতে ছাত্রীকে ভুল বুঝিয়ে চৌগাছা পৌরসভার আওতাধীন এক পরিচিত ব্যক্তির বাসায় নিয়ে যান রাব্বি। সেখানে তাকে শারীরিক নির্যাতন ও ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
ঘটনার পর অসুস্থ হয়ে পড়া ওই শিক্ষার্থী পরবর্তীতে নিজ বাড়িতে ফিরে গিয়ে পুরো বিষয়টি তার মা-বাবার কাছে প্রকাশ করেন। ঘটনা জানার পর পরিবারের পক্ষ থেকে তাকে নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে থানায় উপস্থিত হন এবং লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগটি পাওয়ার পরপরই চৌগাছা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুস সাত্তারের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত রাব্বিকে আটক করতে সক্ষম হয়।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে চৌগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুনুর রশীদ জানান, ভুক্তভোগী পরিবারের লিখিত এজাহারের ভিত্তিতেই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে আগামীকাল (রোববার) যশোর আদালতে সোপর্দ করা হবে এবং ঘটনার বিষয়ে অন্যান্য প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।


Leave a Reply