রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক রূপান্তর যেভাবে হতে পারে - Gono television | বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল।
রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক রূপান্তর যেভাবে হতে পারে

রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক রূপান্তর যেভাবে হতে পারে

Oplus_131072

মতামত
বিশ্লেষণ
রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক রূপান্তর যেভাবে হতে পারে
রাষ্ট্র পরিচালনায় সরাসরি জনগণকে অন্তর্ভুক্ত করার উপায় হলো যূথবদ্ধ নাগরিক গণতন্ত্র। এ ধরনের গণতন্ত্রেই জনগণের সমষ্টিগত স্বার্থ বেশি সুরক্ষা পায়। রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক রূপান্তর কীভাবে হতে পারে, তা নিয়ে লিখেছেন মির্জা হাসান ও খলিলউল্লাহ্
রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক রূপান্তর যেভাবে হতে পারে
বেশ কয়েক মাস ধরে সংস্কার আর নির্বাচন নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে তর্কবিতর্ক চলছে। ‍বিএনপি চাইছে ন্যূনতম সংস্কার করে নির্বাচন। আর এনসিপিসহ বেশ কিছু রাজনৈতিক দলের চাওয়া হলো ব্যাপক আকারে সংস্কারের পর নির্বাচন। আমরা মনে করি, সংস্কার আর নির্বাচন দ্বান্দ্বিক কোনো বিষয় নয়। এ রকম অবস্থায় আমাদের দরকার গণতন্ত্রের মূল ধারণাটা বোঝা এবং বর্তমানে প্রচলিত গণতন্ত্রের প্রায়োগিক বিকল্পগুলো খোঁজা।

দার্শনিক জ্যঁ-জ্যাক রুশো তৎকালীন ইংল্যান্ডে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে তাঁর সোশ্যাল কন্ট্রাক্ট বইয়ে বলেছিলেন, ‘ইংরেজ জনগণ নিজেদের স্বাধীন ভেবে সুখ পায়। হ্যাঁ, তারা স্বাধীন, তবে তা শুধু ভোটের সময়। কিন্তু পুরোনো প্রার্থীর বদলে নতুন আরেকজন প্রার্থী নির্বাচিত হয়ে যাওয়ার পরপরই এই জনগণ আবারও শিকলে বন্দী হয়ে পড়ে। এর বাইরে তাদের আর কোনো ভূমিকা থাকে না।’

রুশো এর বাইরে জনগণের সাধারণ ইচ্ছার বহিঃপ্রকাশের কথা বলেছিলেন; অর্থাৎ জনগণের সমষ্টিগত ক্ষমতার চর্চা। এটাকে বলা হয় যূথবদ্ধ বা সামষ্টিক নাগরিকদের প্রত্যক্ষ গণতন্ত্র। এটাই হলো গণতন্ত্রের প্রকৃত রূপ। অর্থাৎ জনগণের সার্বভৌমত্বের বহিঃপ্রকাশ। গণতন্ত্রের অন্য ধারণাগুলো হচ্ছে এই প্রকৃত রূপ বাস্তবায়নের উপায় বা পদ্ধতি। যেমন নির্বাচন, প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্র, ডেলিবারেটিভ বা আলোচনাপ্রসূত গণতন্ত্র, গণভোট ইত্যাদি।

আমাদের দেশে প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্রে ‘জনগণ সকল ক্ষমতার উৎস’ মুখে বললেও বাস্তবে এটা যে অন্তঃসারশূন্য কথা, সেটা আমরা সবাই জানি। ভোটের পর জনগণের আর কোনো ক্ষমতা থাকে না। তাই রাষ্ট্র পরিচালনায় সরাসরি জনগণকে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। আর এটা করার উপায় হলো যূথবদ্ধ নাগরিক গণতন্ত্র। এ ধরনের গণতন্ত্রেই জনগণের সমষ্টিগত স্বার্থ বেশি সুরক্ষা পায়।
গণতন্ত্রের আদি রূপে ফেরত
প্রাচীন গ্রিস, বিশেষ করে খ্রিষ্টপূর্ব ষষ্ঠ শতকের এথেন্সে গণতন্ত্রের যে ধারা আমরা দেখি, সেখানেও জনগণের যূথবদ্ধ ক্ষমতাচর্চার কথাই বলা হয়েছিল। এথেন্সে খ্রিষ্টপূর্ব ৩২২ সাল, অর্থাৎ অ্যারিস্টোটলের মৃত্যু পর্যন্ত যূথবদ্ধ গণতন্ত্রের প্রয়োগ হতে দেখা যায়। কিন্তু কালক্রমে জনসংখ্যা বৃদ্ধি, রাষ্ট্রের কর্মপরিধি এবং কাজের জটিলতা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে জনগণের সরাসরি ক্ষমতা প্রয়োগের সুযোগ আর থাকেনি। তাই প্রতিনিধি বাছাইয়ের মাধ্যমে ক্ষমতা প্রয়োগ তথা প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্রের ধারণা জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। অর্থাৎ ভোটের মাধ্যমে আমরা একজন সংসদ সদস্যকে নির্বাচিত করছি, যিনি আমাদের প্রতিনিধি হয়ে আমরা যেটুকু ক্ষমতা তাঁকে দিয়েছি, তা চর্চা করবেন। উদ্দেশ্য ছিল তাঁকে দিয়ে আমাদের মতো জনগণের স্বার্থে সেই ক্ষমতার চর্চা করানো। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেছে, তাঁরা অনেক ক্ষেত্রেই সেই ক্ষমতার চর্চা আসলে নিজেদের ব্যক্তি ও গোষ্ঠীস্বার্থেই করে থাকেন।

বিষয়টা এমন দাঁড়িয়েছে, কোনো এক ব্যক্তি নিজের কারখানা বড় হয়ে যাওয়ার কারণে নিজে আর সেটা দেখাশোনা করতে পারছেন না। তাই একজন ম্যানেজার নিয়োগ করলেন। নিয়োগ পেয়ে ম্যানেজার মালিককে বলছেন, ‘আমি এই কারখানা আমার খেয়ালখুশিমতো চালাব, আপনার আর কিছু বলার নেই। পাঁচ বছর পর এসে দেখে যাবেন সব ঠিক আছে কি না। না থাকলে আমাকে বদল করে নতুন ম্যানেজার নিয়োগ দেবেন।’

প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্রের অবস্থা অনেকটাই এই মালিক–ম্যানেজার সম্পর্কের মতো দাঁড়িয়েছে। রাষ্ট্রের সার্বভৌম ক্ষমতার মালিক জনগণ তাদের বাছাই করা প্রতিনিধিদের সার্বক্ষণিক চেক অ্যান্ড ব্যালান্সের মধ্যে রাখতে পারছে না। সারা দুনিয়াতেই প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্রের এই সমস্যা চলছে। পৃথিবীজুড়ে এখন এর প্রতিকার নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা হচ্ছে। আর তাই গণতন্ত্রের আদি রূপে ফিরে যাওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে, অর্থাৎ জনগণের যূথবদ্ধ ক্ষমতাচর্চার ধারণায় ফিরে যাওয়া।

■ আমাদের দেশে প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্রে ‘জনগণ সকল ক্ষমতার উৎস’ মুখে বললেও বাস্তবে এটা যে অন্তঃসারশূন্য কথা, সেটা আমরা সবাই জানি। ■ রাজনীতিবিদেরা যখন ক্ষমতায় থাকেন, তখন তাঁদের একটা সীমাবদ্ধ পরিসরের মধ্যে রাখতে হবে, যেন তাঁরা স্বেচ্ছাচারী হয়ে উঠতে কিংবা গোষ্ঠীতন্ত্র তৈরি করতে না পারেন।
এ ধারণার মূল বিষয় হলো রাজনীতিবিদেরা যখন ক্ষমতায় থাকেন, তখন তাঁদের একটা সীমাবদ্ধ পরিসরের মধ্যে রাখতে হবে যেন তাঁরা স্বেচ্ছাচারী হয়ে উঠতে না পারেন কিংবা গোষ্ঠীতন্ত্র তৈরি করতে না পারেন। আর তাই যূথবদ্ধ জনগণের সরাসরি অংশগ্রহণ জরুরি, অর্থাৎ রুশোর সেই ‘জনগণের সাধারণ ইচ্ছা’ ধারণার প্রয়োগ। এর মাধ্যমে জনগণ রাষ্ট্রব্যবস্থায় তাদের অগ্রাধিকার বাস্তবায়ন করতে পারবে।

এ ধরনের গণতন্ত্রকে শাসনব্যবস্থার কেন্দ্রে নিয়ে আসার মানে এই নয় যে গণতন্ত্রের অন্য পদ্ধতিগুলো বাতিল হয়ে যাবে। অর্থাৎ নির্বাচন, প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্র, প্রত্যক্ষ গণতন্ত্র, যেমন গণভোট, আলোচনাপ্রসূত গণতন্ত্র ইত্যাদি একই সঙ্গে অবশ্যই কার্যকর থাকবে। তবে এগুলো জনগণের ক্ষমতা প্রয়োগের পদ্ধতি হিসেবেই শুধু থাকবে, দার্শনিক বা নৈতিক ভিত্তি হিসেবে নয়।

গণতন্ত্রের দার্শনিক ভিত্তি: সুযোগের সমতা বনাম ফলাফলের সমতা
প্রচলিত প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্রের দার্শনিক ভিত্তি মূলত সুযোগের সমতা সৃষ্টি করা। এটি ব্যক্তিকেন্দ্রিক উদারনীতি দর্শনেরও মূল বিবেচ্য। সংসদীয় বা প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্রে এর বহিঃপ্রকাশ দেখা যায় বিভিন্ন দাবিদাওয়ার মধ্য দিয়ে। যেমন বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের সমান সুযোগ থাকবে, ফ্লোর ক্রসিং বা সংসদে দলের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার সুযোগ থাকবে, স্পিকার নিরপেক্ষ থাকবে, দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ থাকবে ইত্যাদি। আর আর্থসামাজিক ক্ষেত্রে ধনী-গরিব, নারী-পুরুষ, সুস্থ-প্রতিবন্ধী, ক্ষমতাবান-প্রান্তিক ইত্যাদি সব মানুষকে সমান সুযোগ দিতে হবে।

কিন্তু শুধু সমান সুযোগের ধারণায় সমস্যা হলো এতে বিদ্যমান সামাজিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতার ভারসাম্যকে বিবেচনা করা হয় না। অথচ প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্রে আমরা যে প্রক্রিয়ার কথাই বলি না কেন, ক্ষমতার এই ভারসাম্যই মূলত রাষ্ট্রের নীতি নির্ধারণ করে। তাই এমন এক ব্যবস্থা দরকার, যেখানে সমাজের অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সামাজিক, ও আমলাতান্ত্রিক এলিটরা চাইলেই রাষ্ট্রকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নিতে পারবেন না।

প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্র এবং এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এলিটদের এই আর্থসামাজিক অসম ক্ষমতা কমানো সম্ভব নয়। এর জন্য প্রয়োজন ফলাফলের সমতা। গণতন্ত্রের এই দার্শনিক ধারণা অনুযায়ী সমাজের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে সমান সুযোগের পরিবর্তে সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে বেশি সুবিধা দিতে হবে। তাহলেই শুধু সমতা নিশ্চিত হবে। বিদ্যমান ব্যবস্থায় সবাইকে একই পাল্লায় মাপা হয়। অর্থাৎ সুস্থ-প্রতিবন্ধী সবার জন্য একই ব্যবস্থা। তাই এখানে সবার সমান অধিকারপ্রাপ্তি নিশ্চিত হয় না।

বিপরীতে যূথবদ্ধ নাগরিকদের প্রত্যক্ষ গণতন্ত্রে সমান সুযোগের পরিবর্তে ফলাফলের সমতার ওপর জোর দিয়ে প্রয়োজনীয় প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা সৃষ্টি করা হয়। এর মাধ্যমে সমাজের প্রান্তিক জনগোষ্ঠী সরাসরি রাষ্ট্রীয় নীতি নির্ধারণে ভূমিকা রাখার পাশাপাশি রাষ্ট্রের চেক অ্যান্ড ব্যালান্স নিশ্চিত করতে ভূমিকা রাখতে পারে। ফলে এলিটদের অসম ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণ বা কমানোর সুযোগ থাকে।

সংস্কার উদ্যোগের ধারণাগত ঘাটতি যেখানে
বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের নেতৃত্বে আমরা রাষ্ট্র ও রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলো সংস্কারের ‘তোড়জোর’ দেখতে পাচ্ছি। এসব সংস্কারের মাধ্যমে জোরালো ‘চেক অ্যান্ড ব্যালান্স’ তৈরি করার চেষ্টা করা হচ্ছে। কিন্তু কমিশনগুলো তাদের সুপারিশ দিয়েছে বিদ্যমান নির্বাচনকেন্দ্রিক প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্রের ভিত্তিতে। ক্ষমতার ভারসাম্যের জন্য যেসব চেক অ্যান্ড ব্যালান্স পদ্ধতি সুপারিশ করা হয়েছে, সেখানে নির্বাচিত রাজনীতিবিদেরাই মূল দায়িত্ব পালন করবেন। ধরেই নেওয়া হয়েছে, রাজনীতিবিদেরা প্রয়োজনমতো নিজেদের চেক অ্যান্ড ব্যালান্সের মধ্যে রাখতে নিজেরাই চেষ্টা করবেন এবং এ বিষয়ে তাঁদের যথেষ্ট ও আবশ্যকীয় আগ্রহ আছে। কিন্তু এই অনুমান অনেকাংশেই ভুল। কেন ভুল, তার অনেক উদাহরণ বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে আমরা দেখেছি।

কমিশনগুলোর সুপারিশে ব্যক্তি ও সমষ্টি—দুভাবেই জনগণের সরাসরি অংশগ্রহণের কথা বলা হয়েছে। কিন্তু তা করা হয়েছে খুবই দুর্বল ও ন্যূনতম জায়গা থেকে। কমিশনগুলোর সুপারিশ দেখলে মনে হয় চেক অ্যান্ড ব্যালান্সকে শুধু রাষ্ট্রের মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিলেই চলবে।

বিশ্বব্যাপী অভিজ্ঞতার আলোকে বলা যায়, প্রতিনিধিত্বমূলক ও দলকেন্দ্রিক গণতন্ত্রে রাজনৈতিক এলিটরা নিজেদের চেক অ্যান্ড ব্যালান্স করার বদলে একধরনের অশুভ আঁতাত তৈরি করে সুবিধা ভাগাভাগি করে থাকেন। কারণ, এ ব্যবস্থায় অলিগার্কি বা গোষ্ঠীতন্ত্র সৃষ্টি হবেই। যেহেতু রাজনৈতিক এলিটরা সংখ্যায় কম, তাই তাঁরা নিজেদের মধ্যে সহজেই বোঝাপড়া করতে পারেন। আবার তাঁদের সমষ্টিগত সক্ষমতাও বেশি। যেমন সংসদ সদস্যদের শুল্কবিহীন গাড়ি আমদানির নীতি। এসব ক্ষেত্রে রাজনৈতিক এলিটদের মধ্যে একধরনের বোঝাপড়া রয়েছে। তাই ক্ষমতাসীন কিংবা বিরোধী দল—দুই পক্ষের সংসদ সদস্যরাই এর বিরুদ্ধে নীরব থাকেন।

আমাদের রাজনৈতিক ইতিহাসে এ ধরনের ‘পারভার্স কনসেনসাস’ বা বিকৃত ঐকমত্যের অভাব নেই। শুধু বাংলাদেশ নয়, যুক্তরাষ্ট্রসহ গণতন্ত্রের জন্য সুবিদিত অন্য দেশেও গোষ্ঠীতন্ত্র তৈরি হয়। কিন্তু কমিশনগুলোর সুপারিশে এসব রাজনৈতিক বাস্তবতা এবং এর সঙ্গে রাজনীতিবিদদের যেসব প্রণোদনা জড়িয়ে রয়েছে, সেগুলো আমলে নেওয়া হয়নি।

সংস্কারের সুপারিশে কমিশনগুলো বলেছে, বিভিন্ন আর্থসামাজিক প্রেক্ষাপট থেকে আসা ব্যক্তি, যাঁরা রাজনৈতিকভাবে দলনিরপেক্ষ, তাঁরা সংসদের প্রস্তাবিত উচ্চকক্ষে সদস্য হিসেবে মনোনীত হবেন। সংসদের উচ্চকক্ষের সদস্যদের মনোনয়নের কাজটাও করবেন নির্বাচিত রাজনীতিবিদেরাই।

কিন্তু জনগণের নেতৃত্বে চেক অ্যান্ড ব্যালান্সের যে আলাপ তোলা হয়েছে, সে ক্ষেত্রে এই ব্যবস্থা খুব বেশি কাজে আসবে না। এর কারণ হলো বাংলাদেশের বাস্তবতায় দেখা যাবে, যেসব ব্যক্তি রাজনৈতিক দলগুলোর আশীর্বাদ পাবেন, তাঁরাই শুধু উচ্চকক্ষে ঢুকতে পারবেন। ফলে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলের নীতির বিরুদ্ধে তাঁরা যেতে চাইবেন না। আর তাঁরা যদি সত্যিই দলনিরপেক্ষ হন, তাহলে তাঁদের ভয়ভীতি দেখিয়ে কিংবা নানা ধরনের সুবিধা দিয়ে দলে ভেড়ানো হবে। ফলে আবারও শুধু এলিটরাই রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রণ করবে। এটা ঠেকাতে হলে রাষ্ট্রে জনগণের সামষ্টিক ও সরাসরি প্রতিনিধিত্বের ব্যবস্থা করতে হবে।

সংস্কার কমিশনগুলোর মূল মনোযোগ ছিল রাজনৈতিক অঙ্গনে একচেটিয়া ক্ষমতা ঠেকানো। কিন্তু একচেটিয়া ক্ষমতা ঠেকাতে হলে চেক অ্যান্ড ব্যালান্সের ক্ষমতা রাষ্ট্র ও সমাজে ছড়িয়ে দিতে হবে। তা না হলে এর সুফল পাওয়া যাবে না। আমরা চাই এই ব্যবস্থার সম্পূরক হিসেবে সাংবিধানিকভাবে জনগণের সামষ্টিক ক্ষমতা থাকুক। তাহলে আইনি-বেআইনি সব ধরনের অনিয়ম রোধ করা সম্ভব। তাই জনগণকে শক্তিশালী করতে চাইলে প্রয়োজন রাষ্ট্রের ভেতর-বাইরে বেশ কিছু চেক অ্যান্ড ব্যালান্স পদ্ধতি চালু করা।

যূথবদ্ধ নাগরিক গণতন্ত্রের বাস্তবায়ন যেভাবে
আমাদের প্রস্তাব হলো, রাষ্ট্র ও সমাজের মধ্যে মেলবন্ধন সৃষ্টি করে চেক অ্যান্ড ব্যালান্স তৈরি করতে হবে। সে ক্ষেত্রে বিভিন্ন ক্ষেত্রে স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে—এমন স্থায়ী সাংবিধানিক কমিশন প্রতিষ্ঠা করতে হবে (সংস্কার কমিশনগুলোর সঙ্গে গুলিয়ে ফেলা যাবে না); যেমন শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, শ্রম, আদিবাসী, নারী ইত্যাদি। কিন্তু বর্তমানে মানবাধিকার কমিশন, দুর্নীতি দমন কমিশন বা সরকারি কর্ম কমিশনের মতো যেসব সাংবিধানিক কমিশন রয়েছে, এমন হলে চলবে না। এগুলোকে আরও বেশি ক্ষমতা দিতে হবে। বর্তমান ব্যবস্থায় ক্ষমতাসীন সরকারই নির্ধারণ করে, এসব কমিশনের নেতৃত্বে কারা থাকবে। তাই এ ব্যবস্থার পরিবর্তন করে কমিশন গঠনে যূথবদ্ধ নাগরিকদের ভূমিকা রাখার সুযোগ রাখতে হবে।

অন্যদিকে বিভিন্ন শ্রেণি–পেশা, লিঙ্গ ও নৃতাত্ত্বিক গোষ্ঠীর ভিত্তিতে সংগঠন গড়ে তুলতে হবে। যেমন কৃষক, শ্রমিক, নারী, আইনজীবী, সাংবাদিক, ক্ষুদ্র জাতিসত্তার নাগরিক, ডাক্তার, প্রকৌশলী, প্রতিবন্ধী ও অন্য প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর এসব সংগঠন নির্বাচনের মাধ্যমে নিজেদের প্রতিনিধি বাছাই করবে। তারপর তাঁদের জায়গা করে দিতে হবে সংসদের উচ্চকক্ষে। পাশাপাশি এমন ব্যবস্থা থাকতে হবে, যদি উচ্চকক্ষে মনোনীত এসব সংগঠনের প্রতিনিধিরা স্বেচ্ছাচারী হয়ে ওঠেন কিংবা গোষ্ঠীতন্ত্রের অংশ হয়ে যান, তাহলে সদস্যরা ভোটের মাধ্যমে ঐকমত্য গঠন করে সেসব প্রতিনিধিকে বাতিল করতে পারবেন।

একই সঙ্গে স্থানীয় পর্যায়ে প্রয়োজন সাংবিধানিক কর্তৃত্বসম্পন্ন নাগরিক পরিষদ গঠন। বর্তমানে ইউনিয়ন পর্যায়ে ওয়ার্ড সভা ও উন্মুক্ত বাজেট মিটিংয়ের মতো জনকেন্দ্রিক রাজনৈতিক কাঠামো আমাদের দেশে রয়েছে। এগুলোকে সহজেই ঢেলে সাজিয়ে আরও বেশি সাংবিধানিক ও আইনি কর্তৃত্ব দিয়ে নাগরিক পরিষদে রূপান্তর করা যায়। ‍উপজেলা পর্যায়েও এমন নাগরিক পরিষদ তৈরি করতে হবে। এরপর এসব নাগরিক পরিষদকে স্থায়ী সাংবিধানিক ক্ষমতাসম্পন্ন স্থানীয় সরকার কমিশনের কাছে দায়বদ্ধ করতে হবে। মোদ্দাকথা হলো, এলিটরা যেন রাষ্ট্রের জবাবদিহি প্রতিষ্ঠানগুলো কুক্ষিগত করতে না পারেন, সে ব্যবস্থা করতে হবে। আর সেজন্যই রাষ্ট্রের সমান্তরালে সমাজ তথা জনগণের যূথবদ্ধ ক্ষমতাকে সাংবিধানিক ও আইনি স্বীকৃতি দিতে হবে।

● ড. মির্জা হাসান বিআইজিডির জ্যেষ্ঠ গবেষক
খলিলউল্লাহ্ প্রথম আলোর জলবায়ু প্রকল্প ব্যবস্থাপক
* মতামত লেখকদের নিজস্ব


খন্দকার শাহ্ মাইনুল হোসেন বিল্টুর মতো নেতা আর আসবে না: হাজী মোঃ রাকিব হাসান গফুর

 

রাকিবুল ইসলাম রঞ্জু:

 

সাভার আশুলিয়া ও ঢাকা জেলার রাজনীতিতে খন্দকার শাহ্ মাইনুল হোসেন বিল্টুর অবদান ও আদর্শের কথা স্মরণ করে বিশেষ মন্তব্য করেছেন সাভার থানা জিয়া মঞ্চের সভাপতি ও আসন্ন বিরুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হাজী মোঃ রাকিব হাসান গফুর। তিনি বলেন, সময়ের আবর্তে এই অঞ্চলে অনেক নেতারই আসা-যাওয়া হবে, কিন্তু ঢাকা জেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি ও সাভার পৌর বিএনপির সভাপতি, মরহুম খন্দকার শাহ্ মাইনুল হোসেন বিল্টুর মতো জনদরদী ও ত্যাগী নেতা আর দ্বিতীয় কেউ আসবে না।

 

সাভার-আশুলিয়ার রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়ে গণ টেলিভিশনের সাথে আলাপকালে, হাজী মোঃ রাকিব হাসান গফুর বলেন, “নেতৃত্বের পরিবর্তন একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। অনেক নেতা অতীতে এসেছেন এবং ভবিষ্যতেও আসবেন। কিন্তু বিল্টু ভাইয়ের যে বলিষ্ঠ নেতৃত্ব এবং সাধারণ মানুষের প্রতি যে ভালোবাসা ছিল, তা সত্যিই বিরল। জনগণের হৃদয়ে তিনি যে স্থান করে নিয়েছেন, তা অন্য কারও পক্ষে অর্জন করা প্রায় অসম্ভব।”

 

তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, জনগণের আস্থার প্রতীক হিসেবে খন্দকার শাহ্ মাইনুল হোসেন বিল্টু যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করে গেছেন, তা বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের রাজনীতিকদের জন্য অনুসরণীয় হয়ে থাকবে। বিল্টুর অভাব সাভার ও আশুলিয়ার আপামর জনসাধারণ সবসময় অনুভব করবে বলে তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন।

খন্দকার শাহ্ মাইনুল হোসেন বিল্টুর মতো নেতা আর আসবে না: হাজী মোঃ রাকিব হাসান গফুর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আসন্ন ফিফা বিশ্বকাপকে সামনে রেখে আর কয়েক দিনের মধ্যেই চূড়ান্ত দল ঘোষণা করবে ব্রাজিল। এই মধ্যে প্রাথমিক দলও ঘোষণা করেছে দলটির কোচ কার্লো আনচেলত্তি। তবে সবকিছু ছাপিয়ে ব্রাজিল শিবিরে সবচেয়ে আলোচিত নাম এখন নেইমার। দীর্ঘ চোটের পর মাঠে ফিরলেও তার ফিটনেস ও ধারাবাহিকতা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে দল নির্বাচন নিয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন ব্রাজিলের কোচ কার্লো আনচেলত্তি। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, নাম বা জনপ্রিয়তার ভিত্তিতে নয়—ফিটনেস ও ফর্মের ভিত্তিতেই গড়া হবে বিশ্বকাপ স্কোয়াড।

 

আগামী ১৮ মে বিশ্বকাপের চূড়ান্ত দল ঘোষণা করবে ব্রাজিল। এর আগে ফিফার কাছে ৫৫ জনের প্রাথমিক তালিকা পাঠানো হয়েছে, যেখানে নেইমারের নামও রয়েছে বলে দেশটির গণমাধ্যমে জানা গেছে। তবে চূড়ান্ত দলে জায়গা পেতে হলে তাকে শতভাগ ফিট ও ম্যাচ ফিটনেসে থাকতে হবে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন কোচ।

 

রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আনচেলত্তি বলেন, নেইমার নিঃসন্দেহে অসাধারণ প্রতিভা এবং ব্রাজিলের গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়। তবে চোট ও শারীরিক অবস্থার বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়েই সিদ্ধান্ত নিতে হবে। তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে নেইমার উন্নতি করেছে এবং নিয়মিত খেলছে, কিন্তু চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে সব দিক খতিয়ে দেখা হবে।

 

ব্রাজিল কোচ আরও জানান, নেইমার শুধু সমর্থকদের কাছেই নয়, ড্রেসিংরুমেও অত্যন্ত জনপ্রিয় একজন খেলোয়াড়। তবে দল গঠনের ক্ষেত্রে আবেগ নয়, প্রয়োজন হবে বাস্তব মূল্যায়ন। খেলোয়াড়দের মতামত স্বাভাবিক বিষয় হলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কোচ হিসেবেই তিনি নেবেন।

 

তিনি বলেন, দলের ভেতরের পরিবেশ ইতিবাচক এবং কোনো ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা নেই। খেলোয়াড় হিসেবে কার পারফরম্যান্স কেমন, সেটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

 

নেইমারের সাম্প্রতিক ফর্ম নিয়েও ইতিবাচক ইঙ্গিত দিয়েছেন আনচেলত্তি। তার মতে, শেষ কয়েকটি ম্যাচে নেইমারের ফিটনেস ও গতি আগের চেয়ে ভালো হয়েছে। তবে প্রতিটি ম্যাচ ও পরিস্থিতি আলাদা, তাই ধারাবাহিকতা বজায় রাখা জরুরি।

 

সবশেষে ব্রাজিল কোচ জানান, নেইমারকে দলে রাখা বা না রাখার সিদ্ধান্তে কোনো চাপ নেই। পুরো প্রক্রিয়াটি হবে পেশাদার বিশ্লেষণের ভিত্তিতে। তিনি বলেন, নিখুঁত দল গঠন করা সম্ভব নয়, তবে লক্ষ্য থাকবে এমন একটি স্কোয়াড তৈরি করা যেখানে ভুলের পরিমাণ সর্বনিম্ন থাকে।

বিশ্বকাপ স্কোয়াডে কঠোর অবস্থানে আনচেলত্তি, চাপে নেইমার!

হামের টিকাদান ক্যাম্পেইনে বাদ পড়া শিশুদের দ্রুত টিকার আওতায় আনা হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। বুধবার (১৩ মে) সকালে সচিবালয়ে সিনোভ্যাক ফাউন্ডেশন থেকে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়কে ৩ লাখ ৮০ হাজার ডোজ পোলিও ভ্যাকসিন অনুদান অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

 

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আমরা এখন এলাকায় মাইকিংয়ের ব্যবস্থা করছি, যারা ভ্যাকসিন পায়নি বা টার্গেটেড এরিয়ার বাইরে যেসব শিশুরা আছে তাদের টিকা দেওয়ার ব্যবস্থা করছি। যাতে একটা বাচ্চাও হাম টিকা থেকে বাদ না পড়ে।

 

তিনি জানান, যাদের টিকা দেওয়া হয়েছে তাদের শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরি হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। ধীরে ধীরে সংক্রমন কমবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

 

স্বাস্থ্যমন্ত্রী অভিযোগ করে বলেন, বিগত দুই সরকার টিকা সংগ্রহ, টিকাদান ও ভিটামিন ‘এ’ ক্যাম্পেইন পরিচালনায় ব্যর্থ হয়েছে। সরকার এখন হাম নিয়ন্ত্রণে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে তদন্তের পর যাদের গাফিলতির প্রমাণ মিলবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

 

তিনি আরও বলেন, আমরা পোলিও ভ্যাকসিনও দেওয়া শুরু করবো। এটাতেও কোনো অসুবিধা হবেনা। আগামী জুন মাসের মধ্যে আমরা ভিটামিন ‘এ’ সম্পূর্ণ পেয়ে যাবো এবং বছরে দুইবার করে ভিটামিন ‘এ’ দেওয়ার কার্যক্রমও আমরা চালিয়ে যাবো।

হামের টিকাদান ক্যাম্পেইনে বাদ পড়া শিশুদের দ্রুত টিকার আওতায় আনা হবে

এবারের ঈদুল আজাহায় কম খরচে ঈদ বিনোদন: ঘুরে আসুন ধামরাইয়ের ‘আলাদিন’স পার্ক’ থেকে

 

রাকিবুল ইসলাম রঞ্জু:

 

ঈদের ছুটিতে ঢাকার খুব কাছেই পরিবার-পরিজন নিয়ে আনন্দময় সময় কাটাতে চান? তবে হাতে সময় কম এবং বাজেটও সীমিত? আপনার জন্য সেরা গন্তব্য হতে পারে ধামরাইয়ে অবস্থিত নান্দনিক থিম পার্ক ‘আলাদিন’স পার্ক’।

যান্ত্রিক শহরের কোলাহল ছেড়ে সবুজে ঘেরা পরিবেশে দিনভর মেতে উঠতে এখানে রয়েছে আধুনিক সব রাইড ও বিনোদনের ব্যবস্থা।

পার্কটি সাজানো হয়েছে ছোট-বড় সবার পছন্দের কথা মাথায় রেখে। এখানকার প্রধান আকর্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে:

রোমাঞ্চকর রাইড: ক্যাটারপিলার, ড্রাগন কোস্টার, বুল ফাইট এবং ডাবল ডেকোর ক্যারোসেল।

ওয়াটার পার্ক: গরমের স্বস্তি পেতে আছে বিশাল ওয়াটার কিংডম। মিউজিকের তালে কৃত্রিম ঢেউ আর ওয়াটার স্লাইডে মেতে ওঠার সুযোগ।

প্রাকৃতিক সৌন্দর্য: ছবি তোলার জন্য রয়েছে চমৎকার সব স্পট, কৃত্রিম ঝরনা এবং সুনিবিড় সবুজ বাগান।

বাজেট নিয়ে দুশ্চিন্তার কোনো কারণ নেই। আলাদিন’স পার্কের প্যাকেজগুলো বেশ সাশ্রয়ী:

টিপস: ঈদের সময় ভিড় এড়াতে সকাল সকাল পৌঁছে যাওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে। এতে প্রতিটি রাইড আয়েশ করে উপভোগ করা যাবে।

যেভাবে যাবেন:

ঢাকা থেকে ধামরাইয়ের দূরত্ব খুব বেশি নয়।

বাসে: গাবতলী বা সাভার থেকে মানিকগঞ্জ বা ধামরাইগামী যেকোনো বাসে উঠে ‘নজরুল ইসলাম ফিলিং স্টেশন’ বা ‘কালামপুর’ বাস স্ট্যান্ডে নামতে হবে। সেখান থেকে অটো বা রিকশায় সরাসরি পার্কে যাওয়া যায়।

নিজস্ব পরিবহন: ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক দিয়ে সাভার পার হয়ে ধামরাইয়ের কালামপুর মোড় থেকে কিছুটা ভেতরেই পার্কটির অবস্থান।

এই ঈদে যান্ত্রিকতা ভুলে পরিবার বা বন্ধুদের সাথে সস্তায় দারুণ কিছু স্মৃতি তৈরি করতে ধামরাইয়ের এই পার্কটি হতে পারে আপনার প্রথম পছন্দ। আজই পরিকল্পনা সেরে ফেলুন!

এবারের ঈদুল আজাহায় কম খরচে ঈদ বিনোদন: ঘুরে আসুন ধামরাইয়ের ‘আলাদিন’স পার্ক’ থেকে

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও সাবেক গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন মারা গেছেন। বুধবার (১৩ মে) সকাল ১০টার দিকে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

 

হাসপাতাল ও পারিবারিক সূত্র জানায়, ৮৩ বছর বয়সী এই প্রবীণ রাজনীতিবিদ দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় ভুগছিলেন। শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় গত কয়েকদিন ধরে তিনি হাসপাতালে নিবিড় পর্যবেক্ষণে ছিলেন।

 

ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে চট্টগ্রাম-১ আসন থেকে মোট ৬ বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি ১৯৭৩, ১৯৮৬, ১৯৯৬, ২০০৮, ২০১৪ এবং ২০১৮ সালের নির্বাচনে বিজয়ী হয়েছিলেন।

 

রাজনৈতিক জীবনে তিনি সরকারের গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন।

সাবেক মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন মারা গেছেন

তিলোত্তমা ঢাকা। দুই কোটির বেশি মানুষের আবাস। এই মহানগরে যারা বসবাস করেন, একেক এলাকায় তাদের উপলব্ধি একেক রকম। শীত-গ্রীষ্ম-বর্ষা, ঋতু পরিবর্তন হলেও সড়কের করুণ চেহারা বদলায় না। শুকনো মৌসুমে ধুলোর রাজ্য আর বাকিসময় কাদাপানিতে চলাচল দায়।

 

অথচ এই পথের দু’পাশেই কয়েকটি স্কুল-কলেজ, মসজিদ আর গণ কবরস্থান। কিছুদূর এগুলেই দক্ষিণখান থানা। খানাখন্দের সড়ক ধরে কয়েক হাজার মানুষ যাতায়াত করে প্রতিদিন।

 

সড়ক নিয়ে প্রশ্ন করলে একজন বাসিন্দা বলেন, এই এলাকার রাস্তার অবস্থা অনেক করুণ। একটু বৃষ্টি হলেই পানি উঠে যায়।

 

একই চিত্র এয়ারপোর্ট রোডের পশ্চিমের এলাকা বাউনিয়ায়। ২০১৬ সালে সিটি করপোরেশনে অন্তর্ভুক্ত হয়েছিলো এই এলাকা। কিন্তু বছরজুড়ে সড়ক খোড়াখুড়ি আর সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় নাকাল স্থানীয়রা।

 

দক্ষিণখান ও উত্তরখানসহ ডিএনসিসিতে নতুন যুক্ত হওয়া ১৮টি ওয়ার্ডের উন্নয়নে ২০২২ সালে একটি প্রকল্প নেয়া হয়। কিন্তু আজও তা শেষ করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ।

 

এত এত সমস্যা যখন, সমাধানের দায়িত্ব কার? কী বলবেন নগর অভিভাবক?

 

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন বলেন, ধীর গতি মাঝেমাঝে হয় না, সেটি আমি অস্বীকার করবো না। এখনে বিশাল একটা ফান্ডের প্রয়োজন রয়েছে। ফান্ড সমস্যা নিয়ে মোকাবিলা করছি। আশা করছি, অচিরেই সমস্যা কেটে যাবে।

 

তবে, ডিএনসিসির নতুন এলাকাগুলোতে উন্নয়ন তরান্বিত করতে নগরবাসিকে হোল্ডিং ট্যাক্স ও রাজস্ব পরিশোধের আহ্বান জানান ডিএনসিসি প্রশাসক।

Qডিএনসিসির ২০২২ সালে নেয়া প্রকল্প শেষ হয়নি আজও

জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম। এসময় তিনি স্পিকারকে তার বিয়ের আমন্ত্রণপত্র পৌঁছে দেন। মঙ্গলবার (১২ মে) রাতে সাদিক কায়েমের ফেসবুক পেজে এ তথ্য জানানো হয়।

 

ওই পোস্টে বলা হয়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম।

 

এসময় তিনি স্পিকারকে তার বিয়ের আমন্ত্রণপত্র পৌঁছে দেন। স্পিকার জীবনের নতুন অধ্যায়ের জন্য শুভকামনা ও দোয়া জানিয়েছেন। পাশাপাশি ডাকসুর বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়ে তিনি সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন। আগামীর বাংলাদেশের রোল মডেলে উন্নীত হোক ডাকসু এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

স্পিকারকে বিয়ের দাওয়াত দিলেন সাদিক কায়েম

ভূমি এবং পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন বলেছেন, বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার একটি অপরাধমুক্ত ও সুখী-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে বদ্ধপরিকর। বিশেষ করে চট্টগ্রামের হাটহাজারী ও বায়েজিদ এলাকাকে যেকোনো মূল্যে অপরাধমুক্ত করা হবে।

 

তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের স্পষ্ট বার্তা—অপরাধীর কোনও দল নেই। দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয় এমন কোনও কাজে কেউ জড়িত হলে তাকে বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না।

 

মঙ্গলবার (১২ মে) চট্টগ্রাম জেলার হাটহাজারী পৌরসভা প্রাঙ্গণে অতিদরিদ্র ও অসহায় পরিবারের মাঝে বিনামূল্যে ভিজিএফ (চাল) বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলাল উদ্দীন এসব কথা বলেন।

 

প্রতিমন্ত্রী তার নির্বাচনি এলাকার ভোটারদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, হাটহাজারীর ইতিহাসে আপনারা আমাকে সর্বোচ্চ ভোটে নির্বাচিত করেছেন। আমার দায়বদ্ধতা এই এলাকার প্রতিটি মানুষের প্রতি। আমরা গত ১৭ বছর শুধু ফ্যাসিস্টদের বিরুদ্ধে নয়, বরং সমাজের অন্যায়, দুর্নীতি ও দুবৃত্তায়নের বিরুদ্ধে লড়াই করেছি। মানুষের ভোটাধিকার ও মৌলিক অধিকার ফিরিয়ে আনাই ছিল আমাদের সংগ্রামের মূল লক্ষ্য।

 

দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে কঠোর নির্দেশনা দিয়ে তিনি বলেন, আন্দোলনের দোহাই দিয়ে কেউ যদি কোনও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়ান, তবে সাধারণ মানুষের ক্ষেত্রে আইন যেভাবে প্রয়োগ হয়, আপনাদের ক্ষেত্রে তা ১০ গুণ বেশি শক্তিশালীভাবে প্রয়োগ করতে আমি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অনুরোধ জানাব। জনগণের ভোগান্তির কারণ যেন দল বা অঙ্গসংগঠনের কেউ না হন।

 

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উদ্দেশ্যে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আপনারা কোনও তদবির শুনবেন না। অপরাধী যে-ই হোক, আইনানুগ ব্যবস্থা নিন। যদি আমার কোনও লোক অপরাধীর পক্ষে সুপারিশ করে, তবে সরাসরি আমাকে জানাবেন; আমি তার বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেব।

 

অনুষ্ঠানে হাটহাজারী উপজেলা ও পুলিশ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিগণ উপস্থিত ছিলেন।

দলের কেউ অপরাধে জড়ালে আইন হবে ১০ গুণ বেশি কঠোর

মাদক বিক্রি ও সেবনের সঙ্গে কোনো পুলিশ সদস্য জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির।

 

মঙ্গলবার (১২ মে) দুপুরে রাজারবাগ পুলিশ লাইনসে পুলিশ সপ্তাহ ২০২৬ উপলক্ষ্যে আয়োজিত মাদক নিয়ন্ত্রণ ও অস্ত্র উদ্ধারে সফলতার স্বীকৃতি হিসেবে আইজিপি ব্যাচ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা জনান।

 

আইজিপি বলেছেন, মাদক আমাদের যুবসমাজ ও জাতির ভবিষ্যতের জন্য বড় একটি চ্যালেঞ্জ। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় বাংলাদেশ পুলিশ দক্ষতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে। তবে পুলিশ বাহিনীর কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে মাদক সেবন বা মাদক ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে তাকে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না।

 

তিনি আরও বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছরে পুলিশ বাহিনীকে একটি পেটোয়া বাহিনী হিসেবে ব্যবহার করার কারণে আমরা জনবিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিলাম। সেখান থেকে আমরা ধীরে ধীরে ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হচ্ছি এবং পুলিশ বাহিনীতে শৃঙ্খলা ফিরে আসছে।

মাদক বিক্রি ও সেবনে কোনো পুলিশ সদস্য জড়িত থাকলে কঠোর ব্যবস্থা: আইজিপি

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে মার্কেট, বিপণিবিতান ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খোলা রাখার নতুন সময় নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতি।

 

মঙ্গলবার (১২ মে) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

 

এতে বলা হয়ে, আজ ১২ মে থেকে ঈদুল আজহা পর্যন্ত মার্কেট, বিপণিবিতান ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসমূহ রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা থাকবে।

 

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, আমাদের আবেদনের প্রেক্ষিতে বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতিকে অবহিত করেন যে, ১২ মে থেকে ঈদুল আজহা পর্যন্ত মার্কেট, বিপণিবিতান ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসমূহ রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা রাখার সময় বর্ধিত করা হয়েছে।

 

তবে কোনো আলোকসজ্জা ও অতিরিক্ত বিদ্যুৎ ব্যবহার করা যাবে না বলেও সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায় দোকান মালিক সমিতি।

শপিংমল-দোকানপাট খোলা রাখা নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত মালিক সমিতির

সীমান্তে কাঁটাতার-মানুষ হত্যা করে বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে লাভ নেই: ভারতকে নাহিদ

ভারতের উদ্দেশে এনসিপির আহবায়ক ও বিরোধীদলীয় চিপ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেছেন, সীমান্তে কাঁটাতার দিয়ে, মানুষ হত্যা করে বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে লাভ নেই।

 

মঙ্গলবার (১২ মে) বিকেলে রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে ন্যাশনাল ওলামা অ্যালায়েন্স আয়োজিত ‘শাপলা গণহত্যা; বিচারহীনতার এক যুগ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।

 

নাহিদ ইসলাম বলেন, প্রতিবেশী দেশে মুসলিমদের নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। অথচ বাংলাদেশে মাদরাসার ছাত্ররাই মন্দির পাহারা দিয়েছিল।

 

শাপলা চত্ত্বরে হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে এনসিপি আহ্বায়ক বলেন, এই হত্যাকাণ্ডের জন্য যারা দায়ী, তাদের যদি বিচারের আওতায় আনা হতো, তাহলে জুলাই আসতো না। সেই সাহসে ফ্যাসিবাদী সরকার চব্বিশে আরেকটি গণহত্যার সুযোগ পায়।

 

এই আলোচনা সভায় এনসিপি নেতা ইসহাক সরকার বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া সেদিন নেতাকর্মীদের মাঠে নামার আহ্বান জানিয়েছিলেন। তবে বিএনপির বামপন্থী নেতাদের কারণে সেদিন হেফাজতের আন্দোলন সফল হয়নি।

সীমান্তে কাঁটাতার-মানুষ হত্যা করে বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে লাভ নেই: ভারতকে নাহিদ

র‌্যাবের চৌকস অভিযানে জীপসহ প্রায় ১১ হাজার ইয়াবার চালান আটক

জামালপুর হামলা পাল্টা হামলার মধ্য দিয়ে জেলার সানন্দবাড়ী তে থমথমে অবস্থা বিরাজমান।

error: আপনি নিউজ চুরি করার চেষ্টা করছেন। বিশেষ প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন ০১৭৬৭৪৪৪৩৩৩
%d